বিজ্ঞাপন
জামালপুরে টমেটোর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি


শীত কালীন সবজীর আবাদের মধ্যে টমাটোর বাম্পার ফলনে জামালপুরে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। চলতি মৌসুমে যমুনা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের অববাহিকায় এবার আবাদকৃত টমেটোর ফলন ভাল হওয়ার কারণে ইসলামপুর দেওয়ানগঞ্জ, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহসহ ঐতিহ্যবাহী নান্দিনা ও মহেষপুর কালীবাড়ী বাজার ব্যাপক টমেটোর আমদানি দেখা মিলছে। দেশের নানা প্রান্ত থেকে পাইকাররা নান্দিনা বাজারে এসে তাদের চাহিদা মত টমেটো ক্রয় করে গন্তব্য স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এবার টমেটোর ফলন ভাল এবং টমাটোর দাম বেশী পাওয়ায় কারণে এই অঞ্চলের কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষকরা জানায় ভাল ফলন এবং বেশী দাম বিক্রির কারণে লাভবান হবেন তারা।


জামালপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার সদর উপজেলায় এক হাজার ৩শ‘ হেক্টর জমিতে টমেটোর আবাদ হয়েছে। লক্ষীরচর, তুলশীরচর, রানাগাছা, শরিফপুর, নরুন্দি, ইটাইল ইউনিয়নে উদয়ন, উন্নয়ন, দিগন্ত, রূপসী, বিউটিফুল, লাভলী, ব্র্যাকের আবিষ্কৃত ১৭৩৬, সফল, কোহিনুর মঙ্গলসুপার ও মঙ্গলরাজা টমেটো চাষ হয়েছে। এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় বাজার নান্দিনা বাজার। এ বাজারে গিয়ে দেখা যায় প্রতিমণ টমেটো পাইকারী বিক্রি হচ্ছে এক হাজার দুই’শ টাকা থেকে এক হাজার পঁচ’শ টাকা। নান্দিনা ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বলেন, গত বছর এ সময় এই টমেটোর বাজার মূল্য ছিল ছয়’শ থেকে আট’শ টাকা মণ দরে এবার ১২শ থেকে ১৫শ টাকায় টমোটো বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নান্দিনা বাজার থেকে প্রতিদিন প্রায় তিন থেকে চার’শ ট্রাক, লেগুনাশহ কয়েকশত যানবাহন নান্দিনা বাজার থেকে টমেটো বুঝাই করে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাচ্ছে। নান্দিনার কৃষক আবদুর রহিম, ফজলুল হক জানায় এবার এই অঞ্চলে এবার এই অঞ্চলে বন্যা হয়েছে।

বন্যা হওয়ার ফলে মাটিতে প্রচুর পরিমাণে পলি জম্মেছে। তাই পলি মাটির উর্বরতা শক্তি অনেক গুন বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এই অঞ্চলে প্রচুর টমেটোর ফলন বেড়ে গেছে। ঢাকা থেকে আগত পাইকার রফিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, সুলতান আকন্দ এরা বলেন, গত বছর এ সময় নান্দিনা বাজারে টমেটো অনেক কম ছিল। এবার টমেটোর আমদানি অনেক বেশী হলেও দামও বেশী। তিনি আরও বলেন, এই এলাকার টমেটো দেখতে খুবই সুন্দর এবং খেতে ও বেশ সুস্বাদু। দাম বেশী হলেও এই এলাকার টমেটো ঢাকায় নিয়ে গেলে দ্রুত বিক্রি হয়ে যায়। জামালপুর সদর উপজেলার তুলশির চর গ্রামের কৃষক মকছেদ মিয়া বলেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে টমেটো আবাদ করেছেন। এবার টমেটো চাষে প্রতিষেধক মূলক বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ষ্প্রে করতেও হয়। কিন্তু এবার টমেটো আবাদে কীট-পতঙ্গ খুব একটা আক্রমণ করেনি। তাই কোনো কীটনাশক এর ব্যাবহার প্রয়োজন হয়নি তার। এতে তাঁর বিঘা প্রতি প্রায় বত্রিশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তার এ পর্যন্ত টমোটো প্রায় বিক্রি হয়েছে আশি হাজার টাকার মতন।

এখনো প্রায় অর্ধেকেরও বেশী জমিতে টমেটো রয়ে গেছে। যদি কোন বিপর্যয় না ঘটে তাহলে বাকী টমেটো আরও আশি-নব্বই হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। তাই মকছেদ মিয়া খুব খুশি। জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিধ মো: আমিনুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলে ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলে লক্ষীর চর, তুলসীর চর, রানাগাছা, শরীফপুর, নরুন্দি, ইটাইল ইউনিয়নে এবার প্রচুর টমেটোর চাষ হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে একজন চাষি পাঁচ মেট্রিক টন করে টমেটো উৎপাদন করবে এবং খরচ বাদে প্রতি হেক্টরে এক লাখ ২০ হাজার থেকে একলাখ চল্লিশ হাজার টাকা করে লাভ করতে পারবেন। তবে টমেটো একবারে যদি পেঁকে যায় তখন টমেটো দ্রুত বিক্রি করতে হয়। এবার এ পর্যন্ত টমেটো চাষ করে অনেক কৃষকের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে বলে উল্লেখ করেন।

স্বাধীন বাংলা ডট কম
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ ( সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় )
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)