জাতীয়
বছরে ১০০ কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার
তারিখ: 04 - 08 - 2016


মো: শরিফুল ইসলাম রানা: প্রতিবছর দেশ থেকে অন্তত ১০০ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ পাচার হচ্ছে বলে র‌্যাব ও পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। দেশি-বিদেশি অনেক চক্র এ বিষ পাচার করছে। পুলিশ-র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকা অনুযায়ী ১২৭টি গ্রুপ এর সঙ্গে জড়িত। ওষুধ তৈরির মূল্যবান উপাদান সাপের বিষ বৈধপথে রফতানির সুযোগ নেই বাংলাদেশে।  মূল্যবান ওষুধ তৈরির জন্য ভারত ও ইউরোপের একাধিক দেশে বিষ পাচার করছে তারা। সূত্র মতে, বনাঞ্চল ও সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী বিভিন্ন চক্রও পাচারের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থা এসব গ্রুপের তালিকা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তালিকামতে, এই চক্রের শীর্ষে রয়েছে ফেনীর আজিজুল গ্রুপ, সীমান্ত এলাকা বেনাপোলের মোরশেদ গ্রুপ ও বাদশা গ্রুপ। এ ছাড়া সাতক্ষীরার ফেন্সি বজলু গ্রুপ, যশোরের রহিম বেপারী গ্রুপ, কুমিল্লার জুলহাস গ্রুপ, মতিন গ্রুপ, দিনাজপুরের হিলির আবদুর রাজ্জাক গ্রুপ, ড্যানি গ্রুপ ও ঢাকার মহাখালীর রসুল গ্রুপ অবৈধভাবে সাপের বিষ সংগ্রহ ও পাচারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের সহায়তা করছে ভারত, পাকিস্তান, ফ্রান্স, থাইল্যান্ড, মিয়ানমারের একাধিক গ্রুপ। অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ‘সাপের খামার ব্যবস্থাপনায় বিধিমালা ২০১৬’ চূড়ান্ত হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকে বিধিটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোও হয়ছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সাপের বিষ পাচার রোধে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেসব পাচারকারী সক্রিয় রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চক্রের কয়েকজনকে আটক করেছে। বিষ পাচার রোধে স্থল ও আকাশপথে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীর লালবাগ থেকে আনুমানিক ৪৫ কোটি টাকা বাজারমূল্যের সাপের বিষসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করে র‌্যাব। তারও কিছুদিন আগে সিলেটে ৪৬ কোটি টাকার বিষসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানান, সাপুড়েদের দিয়ে বিষ সংগ্রহ করা হয়। মাঝেমধ্যে ভারত থেকেও সাপের বিষ এনে উন্নত দেশে পাচার করা হয়। এক পাউন্ড বিষ পাচার করতে পারলে অন্তত কোটি টাকা পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ২২ আগস্ট রাতে যশোরে একটি প্রাইভেট কার থেকে প্রায় ৬৮ কোটি টাকা মূল্যের ১২ পাউন্ড সাপের বিষ জব্দ করা হয়। এগুলো ভারত থেকে এনেছিল বাংলাদেশের একটি চক্র। বিষের চালানটি ফ্রান্সে পাঠানোর কথা ছিল। পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের ধরতে না পারলেও গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এ চালানটি পাচারের মূল কাজ করছিলেন ফ্রান্সে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী। তাঁর নাম মোরশেদ আলম, বাড়ি বেনাপোল। তিনি আওয়ামী লীগের এক নেতার ছোট ভাই। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, মোরশেদের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে অন্তত ২৫ জন। বিষের চালানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ফ্রান্সে নেওয়ার কথা ছিল। সাপের বিষ পাচারকারীদের মাঠ পর্যায়ের একেকটি গ্রুপে অন্তত ১০ জন সদস্য রয়েছেন। বিভিন্ন এলাকা বিশেষ করে বনাঞ্চল থেকে সাপের বিষ সংগ্রহ করেন তারা। পরে কয়েক হাত ঘুরে তা যায় মূল পাচারকারীদের কাছে। ভারতসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে তা পাচার করে মূল চক্রগুলো।  ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, একাধিক বিদেশি চক্রের সদস্য ঢাকায় আছে। তাদের ধরতে গোয়েন্দাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। বাণিজ্যিকভাবে সাপের বিষ উৎপাদন ও তা রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও সরকার তা কাজেই লাগাতে পারছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) রপ্তানি তালিকায় সাপের বিষের নাম থাকলেও নানা জটিলতায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না ব্যুরো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাই বড় কারণ। ইতিমধ্যে অবশ্য বেশ কয়েকজন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মদদদাতারা আড়ালেই রয়ে গেছে। চাহিদা মিটিয়ে সাপের বিষ রফতানি করে বছরে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। এতে সাপের বিষের পাচারও বন্ধ হবে। ওষুধ উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোতে সাপের বিষ একটি মূল্যবান কাঁচামাল। এর মধ্যে কোবরা (গোখরা) সাপের বিষে বিষাক্ত রাসায়নিক উপাদান পটাশিয়াম সায়ানাইডের পরিমাণ অনেক বেশি, যা থেকে সাপে কামড়ানোর চিকিৎসার প্রতিষেধক তৈরি হয়। এ ছাড়া ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতেও গোখরা সাপের বিষ একটি মূল্যবান উপাদান। তবে সাপের বিষের ব্যবহার নেই বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পে।

স্বাধীন বাংলা ডট কম
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ ( সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় )
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)