শুক্রবার , ১০ মাঘ ১৪২৬, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, ২৮ জমাঃ আউয়াল ১৪৪১ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  
Share Button
   উপসম্পাদকীয়
কৃষির পাশাপাশি শিল্প উন্নয়ন এবং কৃষক ফেডারেশনকথা
  তারিখ: 16 - 11 - 2019

সারা বিশ্বে সবার আগে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে কৃষিকে। কোন দেশ বা দেশের প্রধান পাওয়া যাবে না, কৃষি বা কৃষককে গুরুত্ব দিচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন, কৃষির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। কেন বললেন? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেেেখছি- এক শ্রেণির পর নির্ভরশীল আমলাদের তথ্যের উপর ভিত্তি করে প্রধানমন্ত্রী এসব অমূলক কথা বলছেন। তিনি না বুঝেই হয়তো বলেছেন- আমাদের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর, কিন্তু এককভাবে এই কৃষিনির্ভর না থেকে কৃষির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিল্পের উন্নয়ন করা অপরিহার্য। আর সে উন্নয়ন করতে পারলে আমাদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে, রফতানি বৃদ্ধি পাবে, দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন হবে।
আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই- কৃষি নির্ভর থেকেও শিল্প উন্নয়নে নিবেদিত থাকা যায়। আপনি চাইলে পরীক্ষা করার জন্য হলেও আমাকে দায়িত্ব দিয়ে দেখতে পারেন। কৃষিকে শক্তিশালী করার ক্ষমতা আছে বাংলাদেশের। সেই শক্তি কাজে লাগালে কৃষির পাশপাশি শিল্পও উন্নত হবে বলে আমি মনে করি।
যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- আমাদের লক্ষ রাখতে হবে খাদ্য উৎপাদন যেন কোনোভাবে হ্রাস না পায়। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটাও আমাদের লক্ষ্য। কারণ পৃথিবীতে খাদ্য চাহিদা কোনোদিন কমবে না, এটা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, কাজেই সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা শিল্পাঞ্চলগুলো (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) বিশেষভাবে করে দিচ্ছি। যাতে করে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। কেননা পরিবেশ রক্ষার দিকেও আমাদের বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে। একদিকে তিনি আমলাদের তথ্যে বিভ্রান্ত বক্তব্য দিচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীবন-জীবিকার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, আমি মনে করি সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেপজা যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে। সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসছে এবং বিনিয়োগ হচ্ছে। বাংলাদেশ এখন সমগ্র বিশ্বের কাছে বিনিয়োগের সব থেকে আকর্ষণীয় স্থান। যে কারণে বেপজার পাশাপাশি সরকার সারা দেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে। আমাদের জনসংখ্যার একটি বড় অংশই কর্মক্ষম যুবক শ্রেণি। যাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা আরও দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারি। এর অংশ হিসেবে একেবারে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত আমরা কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা করেছি এবং বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আজকের তরুণদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সময়োপযোগী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে। দেশের কর্মক্ষম এই নবীন জনগোষ্ঠীর কারণেও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম একটি আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এ দিকটায় আমাদের লক্ষ রাখতে হবে। দীর্ঘদিন বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পার হয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হওয়ায় এবং গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত আছে বলেই বিনিয়োগের ক্ষেত্রটা আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
মানুষের মুক্তির জন্য তিনি ভাবছেন বিধায়ই দেশে-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য সরকার নানারকম সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে জানিয়ে বলছেন- বেপজায় যারা বিনিয়োগ করে তারা বিশেষ সুবিধা যেমন পেয়ে থাকে, তেমনি এখানকার শ্রমিকরাও ভালো বেতন পায়।
জাতীয় কৃষক ফেডারেশন(বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মান্নান আজাদ, শেখ হাবিব খোকন সহ বরেণ্য কৃষক সংগঠকদের নেতত্বাধীন বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের পরবর্তী নামকরণ) সাধারণসম্পাদক হিসেবে বলবো- এত কিছুর পরও বাস্তবতা হলো- কৃষক তাঁর ন্যয্য হিস্যা পাচ্ছে না। শেষ জীবনে চিকিৎসাহীন নির্মম মৃত্যুবরণ করছেন। এমন একটা পরিস্থিতিতে পল্লী উন্নয়নে নিবেদিত থাকার সুবাদে জেনেছি- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (১৯৯৬-২০০১) মেয়াদে থাইল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প চালু করেছিলেন। গ্রামের একটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা লাভ করে এ প্রকল্প। বহুমুখী দারিদ্র্য দূরীকরণ টেকসই ও সুষম উন্নয়ন, বৈষম্য নিরসনের পূর্বশর্ত। সরকার দারিদ্র্য ও অসমতা দূরীকরণের লক্ষ্যে এসডিজি-১ সহ অন্যান্য এসডিজিসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য স্থির করেছে। দেশের ২ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রামীণ পরিবারের ৮৪ শতাংশ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারী যাদের জমির পরিমাণ ৫ থেকে ২৩৫ শতাংশ। দেশের মোট কৃষিজ উৎপাদনের ৭০ শতাংশ উৎপাদন করে এই পরিবারগুলো। সংখ্যাগরিষ্ঠ এই গ্রামীণ পরিবারগুলো নিজেদের ও দেশের খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলস ভূমিকা পালন করছে। তাই, অধিক পরিমাণে খাদ্য উৎপাদন ও স্থায়িত্বশীল কৃষির জন্য একটি সঠিক উপায় হতে পারে দরিদ্র পরিবারগুলোর কৃষিজমির সর্বোত্তম ব্যবহার। এ কাজে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারীদের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা দিতে এইসব ক্ষুদ্র খামারে আরও অধিক বিনিয়োগ সরকারের একটি নীতিগতকৌশল। এ অঙ্গীকারের আলোকে বর্তমান সরকার স্থানীয় সম্পদ, বিশেষত: মানব সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার তথা জীবিকায়নের মাধ্যমে প্রতিটি বাড়িকে অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরকার দেশের লাখ লাখ প্রান্তিক গ্রামীণ পরিবার, যারা ৫ থেকে ১০০ শতাংশ জমির মালিক তাদেরকে সংগঠিত করে সঞ্চয়ে উৎসাহ প্রদান, সদস্য সঞ্চয়ের বিপরীতে সমপরিমাণ অর্থ বোনাস প্রদান, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করাসহ বহুমুখী কর্মকা- পরিচালনায় বিনিয়োগ করেছে। সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা, অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনায় পুঁজি গঠনে সহায়তা প্রদান, আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রমসহ বহুমুখী কর্মকা- পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের ৬৪টি জেলার ৪৯০টি উপজেলায় ৪৫০৩টি ইউনিয়নের ৪০৫২৭টি ওয়ার্ডে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতি ওয়ার্ডের একটি গ্রামে ৬০টি গরিব পরিবারের সমন্বয়ে একটি গ্রাম উন্নয়ন সমিতি গঠন করে তাদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত সদস্যরা হলো প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক। এদেরকে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি গ্রুপ নিজেদের সুবিধা বা পছন্দ অনুযায়ী এবং যে এলাকায় যে ধরনের জীবিকা গ্রহণ করা সম্ভব তারা সেটা করতে পারে। এদের দুই-তৃতীয়াংশ মহিলা। বর্তমানে দেশে কৃষি উন্নয়ন ও গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনে একটি উল্লেখযোগ্য ও অভিনব সংযোজন হলো শেখ হাসিনার স্বপ্ন প্রসূত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প বাস্তবায়ন। আন্তর্জাতিক টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ আমাদের দারিদ্র্যের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে। দূর করতে হবে ক্ষুধা ও পুষ্টিহীনতা। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সহজ হচ্ছে, কারণ এটি একটি সমন্বিত খামার উন্নয়ন প্রকল্প। এর মাধ্যমে একটি বাড়িতে দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। নির্বাচিত একটি বাড়ির জমিতে বিভিন্ন শাক-সবজি, ধানসহ অন্যান্য ফসল, পুকুরে মাছ, গোয়ালে গরু, ঘরে ছাগল, হাঁস-মুরগি, বাড়ির চারপাশে বনজ, ফলদ, ঔষধি গাছপালা রোপণ ইত্যাদি প্রত্যেকটি সেক্টরে সহযোগিতা দেয়া হয়ে থাকে। সেখানে এগুলোর পাশাপাশি বাড়িতে ছেলেমেয়েদের জন্য লেখাপড়া, বাড়িতে বেকার পুরুষদের জন্য ছোটখাটো ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে এবং মহিলাদের জন্য তাদের উপযোগী কাজ যেমন সেলাই, বাঁশ-বেতের কাজসহ অন্যান্য আরও অনেক ধরনের আয় বর্ধনমূলক কাজে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়। সমিতির সদস্যরা যে বাধ্যতামূলক সঞ্চয় করছে, সরকারের পক্ষ থেকে ঠিক সমপরিমাণ অর্থ সমিতিগুলোকে দিয়ে তহবিল গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকার ঘূর্ণায়মান ঋণ হিসেবে সমপরিমাণ টাকা দিচ্ছে প্রতিটি সমিতিকে। প্রকল্পের ওয়েবসাইটে প্রদত্ত তথ্য অনুসারে মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ হচ্ছে ৫৮৯ কোটি টাকা এবং সরকারের মেচিং ফান্ড ৫৮৯ কোটি টাকা। তাছাড়া সরকারের অনুদান হচ্ছে ৮২২ কোটি টাকা। তাতে মোট জমাকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে এ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৭১ হাজার ২১৯টি সমিতি গঠন করা হয়েছে। এ সমিতির মাধ্যমে ৩৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৭টি পরিবার স্বাবলম্বী হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৭০ লাখ পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে চলছে কার্যক্রম। সরকারী অনুদান এবং সঞ্চিত জমার সঙ্গে উৎসাহ বোনাস, ব্যাংক মুনাফা ও আবর্তক তহবিলসহ সর্বমোট ৩ হাজার ১৮৫ কোটি টাকার একটি স্থায়ী পুঁজি গঠন করে দেয়া হয়েছে যা দিয়ে সদস্যগণ নিজেদের মধ্যে নিজেরাই সমঝোতার ভিত্তিতে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। শেখ হাসিনা দেশ থেকে দারিদ্র্য হটানোর যে অঙ্গীকার করেছেন তা বাস্তবায়নে এই প্রকল্পের সুবিধা কাজে লাগবে। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বাস্তবায়নাধীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তাপ্রসূত ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্য বিমোচনের মধ্য দিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ইতোমধ্যে গ্রামীণ দেশের গ্রামসমূহে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড বৃদ্ধি পেয়েছে স্বাবলম্বী হয়েছে প্রকল্প এলাকার প্রান্তিক মানুষ। প্রকল্পের উন্নয়নমূলক এ কর্মকান্ড চলমান রাখার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, যা উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ সুবিধা প্রদান করবে।
এমন নিবেদিত দেশ চাই, শেষ চাই দুর্নীতির। যে কারণে আজ জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা নিবেদন করেছেন- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় গৃহীত কার্যক্রমের স্থায়িত্ব প্রদান ও দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন- ২০১৪’ পাস হয়। উক্ত আইনের আওতায় গঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে। ২০২১ সালে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের সকল কার্যক্রম, সম্পদ, দায় ইত্যাদি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে স্থানান্তরিত হতে থাকবে। প্রকল্পের সমিতিগুলো পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের আওতায় নিবন্ধিত হবে। এই ব্যাংকের মালিক যৌথভাবে গ্রামের সমিতিভুক্ত প্রান্তিক আয়ের নারী-পুরুষ ও সরকার। প্রাথমিকভাবে ১০০ উপজেলায় নিজস্ব ভবনে চালু করা হয় এই ব্যাংকের শাখা। ভবিষ্যতে ৪৮৫টি উপজেলায় এর শাখা খোলা হবে এবং কার্যক্রম চলবে। পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের বিশেষত্ব হলো ক্ষৃদ্র সঞ্চয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ক্ষুদ্র ঋণের ওপর নয়। এটি ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংক। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ও ভূমিহীন কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে এ ব্যাংক দক্ষ সেবাকর্মী তৈরির ব্যবস্থা নেবে। প্রতিটি বাড়িতে উন্নত খামারে রূপান্তরিত করে উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করবে এবং দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। তাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং দারিদ্র্য নিরসন হবে।
বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণে বর্তমান সরকার কাজ করছে। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের অর্জিত সফলতার আলোকে আগামী তিন বছরের মধ্যে ভিক্ষুক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে এ প্রকল্পের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে সরকার। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে দেশে ৮২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। বর্তমানে দেশে দরিদ্র মানুষের হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশ। বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোন দেশে এখন পর্যন্ত এমন দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচী সৃষ্টি হয়নি। সঠিকভাবে পরিচালনা এবং সমিতিভুক্ত সদস্যদের যথাযথ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এক সময় প্রতিটি সমিতি আর্থিকভাবে এতটাই স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে যে ঋণের জন্য অন্য কারও নিকট দ্বারস্থ হতে হবে না। এখন পর্যন্ত ৩৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৭টি পরিবার এ প্রকল্পের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছে এবং দেড় কোটির বেশি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সুফল পাচ্ছে। আশা করা যায়, ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্প ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক গ্রামীণ দরিদ্র্য মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে টেকসই কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং দারিদ্র্য দূর করে দেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানের একটি গুণগত উত্তরণ নিশ্চিত করবে। প্রত্যয়ে পথ চলি-কথা বলি রোজ। যে কথার সূত্রতায় আমি বলতে চাই- দেশ গড়তে আন্তরিকতার কোন বিকল্প নাই। কৃষি বিপ্লবের নতুন সূচকে কঠিনতর সময়কে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যেতে তৈরী হতে হবে সবাইকে। কৃষির পাশাপাশি শিল্প উন্নয়ন হোক, কেটে যাক কষ্টসময়...


মোমিন মেহেদী

 





         
   আপনার মতামত দিন
     উপসম্পাদকীয়
জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও পরিবেশের ক্ষতির কারণে তামাক টেকসই উন্নয়নের অন্তরায়
.............................................................................................
কৃষির পাশাপাশি শিল্প উন্নয়ন এবং কৃষক ফেডারেশনকথা
.............................................................................................
কৃষির পাশাপাশি শিল্প উন্নয়ন এবং কৃষক ফেডারেশনকথা
.............................................................................................
ঈদ এবং মাদক... ওরা বানায় : আমরা সেবন করি
.............................................................................................
নুসরাত কেন চলে যাবে...
.............................................................................................
এই দেশের সড়কে কে নিরাপদ?
.............................................................................................
রাজনীতির হঠাৎ হাওয়ার চমক
.............................................................................................
রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে
.............................................................................................
ওজোনস্তরের নতুন দুঃসংবাদ
.............................................................................................
বিজ্ঞান গবেষণা ও বাংলাদেশ
.............................................................................................
বিশ্ব আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার চাই
.............................................................................................
চীনা ‘ইউয়ান’, ভারতীয় ‘রুপী’, তুর্কী ‘লিরা’ সবার দাম কমছে
.............................................................................................
এখনো নিয়মিত মৃত্যু সড়কে কে দায় নেবে
.............................................................................................
মাঠের লড়াইয়ে লক্ষ্য হোক জয়
.............................................................................................
একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশায়
.............................................................................................
আর কত রক্ত ঝড়বে জাতির বিবেকের?
.............................................................................................
হুমকিতে নয়, আলোচনায়ই সমাধান
.............................................................................................
বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব বাংলা নববর্ষ
.............................................................................................
প্রশ্ন ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং অবিচার...
.............................................................................................
ভাষাশ্রদ্ধায় আসুন উচ্চারণ করি ‘বিজয় বাংলাদেশ’
.............................................................................................
চার বছরের উন্নয়ন অগ্রগতি ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই বড় চ্যালেঞ্জ
.............................................................................................
শিক্ষা ধ্বংসে বইয়ের বোঝা-সৃজনশীল এবং ফাঁসতন্ত্র
.............................................................................................
প্রশ্নফাঁস আর কোচিংবাণিজ্যে শিক্ষার অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ
.............................................................................................
প্রশ্ন ফাঁসের দায় কে নেবে?
.............................................................................................
মায়ের ভাষার অবহেলা কেন করছি আমরা?
.............................................................................................
সবাই জেগে উঠুক ভেজালের বিরুদ্ধে
.............................................................................................
নির্বাচন কমিশনের কর্মক্ষমতা ও ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ
.............................................................................................
প্রশ্ন ফাঁস ও শিক্ষার দৈন্যদশা রোধ সম্ভব
.............................................................................................
মশা আর মাছি ধুলার সঙ্গে বেশ আছি!
.............................................................................................
বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণক্ষমতা বাড়াতে হবে
.............................................................................................
প্যারাডাইস পেপার্স : সারাবিশ্বে সমস্যা ও সমাধান
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর অগ্নিগর্ভ ভাষণ : ইউনেস্কোর স্বীকৃতি
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও পূনর্বাসনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী
.............................................................................................
নিরাপদ পথ দিবস চাই
.............................................................................................
রোহিঙ্গা গণযুদ্ধের সূচনা হোক, স্বাধীন হোক আরকান
.............................................................................................
দর্শনহীন শিক্ষার ফল ব্লু হোয়েল সংস্কৃতি
.............................................................................................
সাবধানে চালাবো গাড়ী, নিরাপদে ফিরবো বাড়ী
.............................................................................................
বন্ধুদেশের ঋণের বোঝা এবং নতুন প্রজন্মের ভাবনা
.............................................................................................
চালে চালবাজী : সংশ্লিষ্টদের চৈতন্যোদয় হোক
.............................................................................................
৫ প্রস্তাবে বাংলাদেশে সংকট : দুর্ভিক্ষ আসন্ন
.............................................................................................
ভুখা মানুষের স্বার্থে সরকারকে কঠোর হতে হবে
.............................................................................................
রোহিঙ্গা তরুণের চিঠি এবং আমাদের করণীয়
.............................................................................................
ষোড়শ সংশোধনী বাতিল প্রসঙ্গে অনেকের অভিমত
.............................................................................................
তরুন প্রজন্মের সৈনিকেরা জেগে উঠলে কোন অপশক্তিই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করতে পারবে না
.............................................................................................
আদর্শ সংবাদ ও সাংবাদিকতা
.............................................................................................
নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সাহসী হতে হবে
.............................................................................................
পাবনা বইমেলা সাহিত্যকে সম্মৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে
.............................................................................................
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো...
.............................................................................................
ক্ষণজন্মা কিংবদন্তী মাদার বখশ
.............................................................................................
গ্রামীণ মানুষের সম্পদ বাড়ছে না, ঋণ বাড়ছে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]