ঢাকা, সোমবার , ১৩ আশ্বিন ১৪২৭ , ২৮ সেপ্টেম্বর , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

  
Share Button
   সংবাদ বিজ্ঞপ্তি
প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুন সংরক্ষণে কাজ করছে সরকার: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী
  তারিখ: 05 - 09 - 2020

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণে প্রকৃতির পরিচ্ছন্নতাকর্মী শকুনের অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু দিন দিন এই উপকারী পাখিটি প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। বিলুপ্তপ্রায় এ শকুনকে বাঁচাতে গণসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার শকুন সংরক্ষণে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এটি সফল করতে নিজ নিজ স্থান থেকে আমাদের সকলকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আজ (৫ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস ২০২০ উপলক্ষে বন অধিদপ্তর আয়োজিত অনলাইন সেমিনারে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বন মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন কারণে ৯৯ শতাংশ শকুন বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে ২শত ৬০ টি শকুন আছে। তাই সরকার শকুনের সংখ্যা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। শকুন সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে দেশব্যাপী শকুনের জন্য ক্ষতিকারক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেশব্যাপী শকুনের খাদ্য প্রাণীর চিকিৎসায় কিটোটিফেনও নিষিদ্ধকরণ বিষয়ে চিন্তা ভাবনা চলছে। তিনি জানান, ২০১৩ সালে ‘বাংলাদেশ জাতীয় শকুন সংরক্ষণ কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। ২০১৪ সালে দেশের দু’টি অঞ্চলকে শকুনের জন্য নিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে দশ বছর মেয়াদি (২০১৬-২০২৫) বাংলাদেশ শকুন সংরক্ষণ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের শকুন রক্ষা করার জন্য দীর্ঘমেয়াদী কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। এই কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দিয়েই শকুন সংরক্ষণে বর্তমানে সকল ধরণের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বন মন্ত্রী আরো বলেন, ২০১৫ সালে শকুনের প্রজননকালীন সময়ে বাড়তি খাবারের চাহিদা মেটানোর জন্য হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে ও সুন্দরবনে দু’টি ফিডিং স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। ২০১৬ সালে অসুস্থ ও আহত শকুনদের উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দিনাজপুরের সিংড়ায় একটি শকুন উদ্ধার ও পরির্চযা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত ৯৩টি হিমালয়ান গ্রিফন প্রজাতির শকুন উদ্ধার, পরিচর্যার পর পুনরায় প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৯ সালে বাংলাদেশে ৭ম ও ৮ম আঞ্চলিক পরিচালনা কমিটির সভায় শকুন সংরক্ষণে বিভিন্ন কার্যকরী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ার শকুন সংরক্ষণের জন্য একটি মাইকফলক।

পরিবেশ মন্ত্রী আরো বলের, শকুনের আবাসস্থলের দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ ও শকুনের নিরাপদ এলাকার ব্যবস্থাপনার জন্য স্থানীয় জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে শকুন সংরক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দলগুলোর সহায়তায় মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের ফলে হবিগঞ্জের রেমা-কালেঙ্গায় ২০১৪ সালে শকুনের প্রজনন সফলতা ছিল ৪৪ শতাংশ, যা ২০২০ সালে বৃদ্ধি পেয়ে ৫৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বলে আমি মনে করি।

আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনলাইন ওয়েবিনারে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মোঃ আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপ-মন্ত্রী হাবিবুন নাহার, এমপি; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি ও অতিরিক্ত সচিব(প্রশাসন) ড. মো: বিল্লাল হোসেন, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো, গ্লোবাল থ্রেটেন্ড স্পিসিজ অফিসার এবং রয়্যাল সোসাইটি ফর দ্য প্রটেকশন অব দ্য বার্ডস এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্রিস বাউডেন এবং আন্তর্জাতিক পাখি গবেষক ড. এনাম উল হক প্রমূখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) এর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ রকিবুল আমীন।

তথ্যসূত্র: দীপংকর বর,

সিনিয়র তথ্য অফিসার,
পরিবেশ, বন ওজলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়





         
   আপনার মতামত দিন

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
সম্পাদক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমেদ
নির্বাহী সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আকরাম খাঁন
সহঃ সম্পাদক: হোসাইন আহমদ চৌধুরী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD