ইসলামী জগত
ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
তারিখ: 16 - 10 - 2020


বিশ্বের যেখানেই মুসলমানদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে আমরা মর্মাহত হই। সর্বশেষ দিল্লির ঘটনা আমাদের বেদনাহত করেছে। একজন মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে যে দেশেরই হোক না কেন। হজরত নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, `মুমিনদের পরস্পরের ভালোবাসা, অনুগ্রহ, হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার উদাহরণ হচ্ছে একটি দেহ বা শরীরের মতো। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ আহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন সারাদেহের সব অঙ্গই নিদ্রাহীন হয়ে পড়ে এবং কষ্ট-যন্ত্রণায় জরাগ্রস্ত ও কাতর হয়ে পড়ে` (সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম)। মুমিনদের পারস্পরিক বন্ধন সম্পর্কে হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত- এক হাদিসে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, `এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য প্রাচীরের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্ত গাঁথুনিতে ধরে রাখে। উদাহরণ দেখাতে গিয়ে নবী করিম (সা.) তার এক হাতের আঙুলকে অপর হাতের আঙুলের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেখালেন` (সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম)।

যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এটাই ইসলামের শিক্ষা। মহানবী (সা.) মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে ইসলাম প্রচার করেছেন। অথচ বিরোধী মক্কাবাসী তার এবং তার (সা.) অনুসারীদের ওপর নির্মম অত্যাচার করে। এর প্রতিবাদে তিনি (সা.) যুদ্ধে জড়িত হননি। অত্যাচারের সীমা যখন ছাড়িয়ে যায়, তখন তিনি (সা.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান। তারপরও মক্কার সেই বিরোধীরা মদিনায় গিয়ে আক্রমণ করে। তখন তিনি (সা.) আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে নির্দেশিত হন- `যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের (আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধ করার) অনুমতি দেওয়া হলো। কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে` (সুরা হাজ : ৪০)। ফলে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ করা হয়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেন। তবে বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িত নয় কিংবা বৃদ্ধ, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়নি। এমনকি মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআন এবং মহানবী (সা.) সব ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ রীতি অনুযায়ী ধর্মকর্ম পালনের শিক্ষা দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেন- জেনে রাখ, যে ব্যক্তি কোনো অঙ্গীকারবদ্ধ অমুসলমানের ওপর জুলুম করবে, তার অধিকার খর্ব করবে, তার ওপর সাধ্যাতীত কোনো কিছু চাপিয়ে দেবে বা তার অনুমতি ব্যতীত তার কোনো বস্তু নিয়ে নেবে, আমি পরকালে বিচার দিবসে তার বিপক্ষে অবস্থান করব (আবু দাউদ)। মহানবীর (সা.) মৃত্যুর অল্পদিন আগে বিদায় হজের সময় বিরাট ইসলামী সমাগমকে সম্বোধন করে তিনি (সা.) উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, `হে মানবমণ্ডলী, তোমাদের আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব থেকে কোনোমতেই শ্রেষ্ঠ নয়। তেমনি একজন আরবের ওপর একজন অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। একজন সাদা চামড়ার মানুষ একজন কালো চামড়ার মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, কালোও সাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করতে বিচার্য বিষয় হবে, কে আল্লাহ ও বান্দার হক কতদূর আদায় করল। এর দ্বারা আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি সর্বাপেক্ষা বেশি ধর্মপরায়ণ` (বায়হাকি)। এই মহান শব্দগুলো ইসলামের উচ্চতম আদর্শ ও শ্রেষ্ঠতম নীতিমালার একটি দিক উজ্জ্বলভাবে চিত্রায়িত করেছে। শতধাবিভক্ত একটি সমাজকে অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের সমতাভিত্তিক সমাজে ঐক্যবদ্ধ করার কী অসাধারণ উদাত্ত আহ্বান। যারা সামাজিক পরিমণ্ডলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, রক্তপাত ঘটায়, ধ্বংসযজ্ঞ এবং নৈতিকতা-বর্জিত ইসলামিক কর্মকাণ্ড চালায়, তারা যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, তারা সন্ত্রাসী। কেননা কোনো ধর্মেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের স্থান নেই। বিশ্বাসের স্বাধীনতা হচ্ছে সব মানুষের মৌলিক অধিকার। ইসলাম ধর্মের বিধানমতে, `ধর্ম` হচ্ছে নিজ পছন্দের একটি বিষয়। এ ধর্ম একটি সুস্পষ্ট ও শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম গ্রহণের পরেও চাইলে কেউ এটা ত্যাগ করতে পারে, কোনো জোর নেই; তবে এর বিচার সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিজ হাতেই করেন। ধর্মে যদি বল প্রয়োগের বিধান থাকত, তাহলে হজরত রাসুল করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের পর অমুসলমানদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য বাধ্য করতেন এবং মক্কায় বসবাসের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি! এতে প্রমাণিত হয়, ধর্মের জন্য বল প্রয়োগ ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামের আদর্শ হলো শত্রুর সঙ্গেও বন্ধুসুলভ আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।

মুসলিম আজ শত দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়ার কারণে পরস্পরের মাঝেও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। বিভেদ বা সংঘাত নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং একক নেতৃত্বের অধীনে থেকে জীবন অতিবাহিত করার শিক্ষাই পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ঐক্য প্রতিষ্ঠাই ইসলামের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ইসলাম সর্বত্র যে মার খাচ্ছে, এর প্রধান কারণই হচ্ছে মুসলমানদের মাঝে কোনো ঐক্য নেই, নেই কোনো একক নেতৃত্ব। সমগ্র বিশ্বকে পরিচালনা করার মতো নেই কোনো ইসলামী নেতা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম ঐক্যের বিকল্প নেই।

স্বাধীন বাংলা ডট কম
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ ( সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় )
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০। ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০ ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com