তথ্যবিচিত্র
৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে ২০৫০ সালের মধ্যে পানির চাহিদা
তারিখ: 31 - 01 - 2021


পৃথিবীর ৪ বিলিয়ন মানুষ বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভোগে। এ অবস্থাতে ২০৫০ সালের মধ্যে পানির চাহিদা আরও ৫০ শতাংশ বেড়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাংসদ সাবের হোসেন চৌধুরী। শনিবার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা, একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ৩দিনের আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন-২০২১-এর সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সম্মেলনের শেষ দিনে পানি ও জলবায়ু: তৃণমূল উদ্ভাবন এবং সমাধান শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তৃণমূলের উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিগত সমাধানের ওপর জোর দেন নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, কৃষিক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পানির অপরিহার্যতার বিষয়টি উল্লেখ করে, বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনের জন্য পানির উৎসগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, দুষ্প্রাপ্যতার কারণে ভবিষ্যতে পানি এবং পানির উৎসই রাষ্ট্রীয় সংঘাতের কারণ দাঁড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে মানুষের উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়নের ওপরও জোর দেন সরকারের এই নীতি নির্ধারক।নদীমাতৃক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অনন্য ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য এবং নদী ও পানির সঙ্গে এর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর পরিচালক-আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সালেমুল হক।

তিনি বলেন, বদ্বীপ আকৃতির বাংলাদেশের বেশির ভাগ অংশ জুড়েই রয়েছে পানি। তবে, ধীরে ধীরে ভূপৃষ্ঠের ওপরে পানির উৎসব কমে যাওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে। এমনকি, খরাপ্রবণ রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল কৃষিকাজের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।’ বর্ষা মৌসুম এলেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় আর এ জন্য অপরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন সালেমুল হক।

এদিকে, কনফারেন্সে অংশ নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ড রাষ্ট্রদূত নাথালি শিউআখ্ বলেন, পানি মৌলিক প্রাকৃতিক সম্পদ যা দুটি দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মহামারি কোভিড-১৯ থেকে শিক্ষা নিয়ে, বিভিন্ন দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া অভিন্ন পানির উৎসগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনারও তাগিদ দেন নাথালি।

অন্যদিকে, আলোচনায় অংশ নিয়ে যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের আসন্ন জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের এশিয়া প্যাসিফিক ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক দূত কেন ও`ফ্লেহার্টি বলেন, টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যুক্তরাজ্য সকল দেশকে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি। যুক্তরাজ্য আগামী ৫ বছরের জন্য ১১.৪ বিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দ রেখে যার অর্ধেক পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে অভিযোজন খাতে বলে উল্লেখ করেন তিনি ।

সম্মেলনের আলোচনায় অংশ নিয়ে নেপালের প্রাক্তন পানিসম্পদমন্ত্রী ও শিক্ষাবিদ ডা. দীপক গাওয়ালী বলেন, স্থানীয় সম্প্রদায় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করেন। তৃণমূলে বাঁশ ও কাঠের তৈরি বাঁধ বা রাবার ড্যামের উদ্ভাবনকে পানির মতো প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য যথাযথ বলেও মন্তব্য করেন ডা. দীপক। এদিকে, পানি সংকট নিরসনে চীন কীভাবে তৃণমূলের উদ্ভাবনকে কাজে লাগিয়েছে তা উল্লেখ করে তিয়ানজিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা কেন্দ্রের পরিচালক, অধ্যাপক লিয়ান ঝিং বলেন, চীনে বন্যার ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তৃণমূলের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের উদাহরণ দিতে গিয়ে বাংলাদেশ পানি জাদুঘরের কথাও তুলে ধরেন লিয়ান। সেই সঙ্গে, যে কোনো নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে তৃণমূলের আবিষ্কার ও উদ্ভাবনগুলোকে বিবেচনায় নেয়ার তাগিদ দেন চীনের এই গবেষক।

শেষে ষষ্ঠবারের মতো আয়োজিত আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন-২০২১ এর সমাপনী বক্তব্য রাখেন একশনএইড বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির। তিনি বলেন, ৩ দিনের সম্মেলনের আলোচনা একটি উপলব্ধিতে উপনীত হয়েছে। তা হলো ভূমি কেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আমাদের পানি কেন্দ্রিক চিন্তার প্রসারতা বাড়াতে হবে। আর নারীরা যেহেতু গৃহস্থালির পানির উৎস ব্যবস্থাপনা করেন, তাই পানিসম্পদের ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন ফারাহ্ কবির।

তিন দিনের এই সম্মেলন শুরু হয় ২৭ জানুয়ারি বিকেল ৪টায়। একশনএইড আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ পরিষদের সদস্য ইব্রাহিম খলিল আল-জায়েদ, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ড. বুশরা নিশাত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনের শেষ দিনের আলোচনায়। এর আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার, জল, জলবায়ু ও পরিবেশ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন ড. আইনুন নিশাত, ড. সারাহ আহমেদসহ দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞরা। জলবায়ু, প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গত ছয় বছর ধরে আন্তর্জাতিক এই পানি সম্মেলনের আয়োজন করে আসছে একশনএইড বাংলাদেশ।

স্বাধীন বাংলা ডট কম
প্রকাশক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ ( সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় )
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
সম্পাদক ও প্রকাশক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)