বৃহস্পতিবার , ১৬ রবিঃ আউয়াল ১৪৪১ | ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সৌদি থেকে খালি হাতে ফিরলেন ২১৫ বাংলাদেশী

রাত দেড়টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে আসছেন পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি। তবে স্বাভাবিকভাবে অবস্থায় নেই তিনি। হুইল চেয়ারে বসে আছেন তিনি। তাকে ঠেলে নিয়ে আসছেন আরেকজন। বাইরে অপেক্ষমাণ অসংখ্য মানুষ। সবার চোখ পড়লো হুইল চেয়ার বসা ব্যক্তির ওপর। কাচা পাকা চুল। হয়তো বেশ কিছু দিন হলো কামানো হয়নি, তাই মুখজুড়ে ছোট ছোট দাঁড়ি গজিয়েছে। মোটাসোটা শরীর। চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।

গেট পার হতেই এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলো তার। ভালো করে কথা বলতেও পারছেন না। অনেকটা কেঁপে কেঁপে বললেন, নাম ইলিয়াস আলী। বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসার। সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারে সুখ আনতে বছর দুয়েক আগে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন।

এই বয়সে কেন বিদেশ? প্রশ্ন ছিল ইলিয়াস আলীর কাছে। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, আশা ছিল ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করব। এজন্য তো টাকা লাগবে? সংসারের অভাব অনটন দূর হবে। তাই বিদেশ গিয়েছিলাম। কিন্তু সে স্বপ্ন তো পূরণ হলো না। ঋণ করে বিদেশ গেলাম। দালাল বলেছিল, ভালো বেতনে কাজ দেবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তা পাইনি। এখন খালি হাতে দেশে ফিরতে হলো। কীভাবে ঋণ ফেরত দেব? ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কীভাবে চালাব?

কান্নায় ভেঙে পড়েন পঞ্চাশোর্ধ ইলিয়াস আলী। প্রবাস ফেরত বাংলাদেশী, যারা নানা সমস্যায় দেশে ফিরছেন প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খাবারের প্যাকেট দিচ্ছিলেন ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। একটি প্যাকেট ইলিয়াস আলীর হাতেও তুলে দিলেন একজন। এই ফাঁকে কথা হচ্ছিল তার সাথে। সৌদি আরবে যাওয়া, সেখান ফেরত আসাসহ নানা বিষয়ে।

ইলিয়াস আলী জানান, সৌদি আরবে গিয়ে কাজ পাইনি। যে কোম্পানিতে কাজ করার কথা ছিল তাদের দেখা মেলেনি। ফলে এখানে সেখানে কাজ করেছি। আকামা হয়নি। আকামার জন্য দুই দফায় টাকা দিয়েছি ২১ হাজার রিয়াল। এরইমধ্যে মাস ছয়েক আগে ডান পাটা অবশ হয়ে গেল। চলাফেরা করতে পারি না। যে জায়গায় কাজ করি, সেই কফিল (নিয়োগকর্তা) বললেন, আকামা করতে ২৭ হাজার রিয়াল লাগবে। এই পা নিয়ে আমি এখানে থেকে কী করব। পরে ধরা দেই। এক সপ্তাহ জেলে ছিলাম। এরপর দেশে এলাম। কথাগুলো বলার সময় চোখে পানি চলে আসে তার। চোখ মুছতে মুছতে তিনি আরো বলেন, যা কিছু রোজগার হয়েছে, দেশে পাঠিয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া আর সংসারের খরচের জন্য।

বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন ইলিয়াস আলীসহ হতভাগ্য ৮৬ বাংলাদেশী। তাদের সাথেই ছিলেন বাহারউদ্দিন। তিনি ইলিয়াস আলীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাড়ি সিলেটের কানাইঘাটে। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ ইলিয়াস আলীকে সহযোগিতা করছেন। হুইল চেয়ার ঠেলে বিমানবন্দরের গেট পার করেছেন।

এরপর রাত দেড়টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইটে দেশে আসে আরো ১২৯জন প্রবাসী। সব মিলে এক রাতেই ফিরলেন ২১৫ জন সৌদি প্রবাসী।

কথা হলো বাহার উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, ২৬ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। কন্সট্রাকশনের কাজ করতেন। মাঝখানে ছয়বার দেশে ঘুরে গেছেন। এইবার সৌদি আরবে যাওয়ার পর আর আকামা লাগেনি। ফলে অবৈধ হয়ে যান তিনি। আকামা করাতে নিয়োগকর্তাকে ৯০০ রিয়াল দিয়েছিলেন। কিন্তু, আকামা করে দেয়নি। ফলে অবৈধভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাজ করতেছিলেন বাহার উদ্দিন। রাস্তা থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। জেলখানাতে গিয়ে পরিচয় হয় একই জেলার ইলিয়াস আলীর সাথে। তিনিসহ একই জেলখানায় থাকা আরো কয়েকজন বাংলাদেশী ফিরেছেন একসাথে।

বাহার উদ্দিনের ভাষ্য, অনেক বছর সৌদি আরবে ছিলাম। জীবনে এমন পরিস্থিতি কখনো সৌদি আরবে দেখিনি। সেখানকার পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে। বৈধ-অবৈধ দেখছে না। রাস্তা থেকে ধরে সোজা জেলে। এরপর পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে।

বিমানবন্দরে কথা হয়, টাঙ্গাইলের মো. জাহেদ আলী ও শাহাবুল, রংপুরের মো. সাজু, কিশোরগঞ্জের আসান, সিলেটের কামাল আহমেদ, মাছুম, শাবলু, হবিগঞ্জের কালাম, গাজীপুরের হারুণ ও ইমরান, লক্ষীপুরের আলাউদ্দিন, কুড়িগ্রামের কোবেল আলী, কুমিল্লার ইব্রাহিম, মাদারীপুরের জুলহাস, কিশোরগঞ্জের সোহরাব, যশোরের শাহ আলম, চাঁদপুরের সেলিমসহ সৌদি আরব থেকে ফেরা কমপক্ষে ৪০ জনের সাথে।

রাত সোয়া ১১টার দিকে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলেও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে বিমানবন্দর থেকে বের হতে থাকেন রাত পৌনে ১২টার পর থেকে। এক এক করে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন হতভাগ্য এসব বাংলাদেশী। যারা এক বুক স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সংসারের অভাব অনটন দূর করবেন, স্ত্রী সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাবেন। ভালভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুঁনেছিলেন। কিন্তু, ওইসব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে তাদের জীবনে এখন ঘোর অমানিশা। এক বুক হতাশা নিয়ে একেবারেই খালি হাতে দেশে ফিরলেন তারা।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেকে ৩-৫ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এদের কারো আকামা ছিল, কারোর বা আকামা হয়নি। রাস্তা থেকে উভয়কেই পুলিশ ধরে জেলে পুরেছিল। এরপর কিছুদিন জেল খেটে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

জেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে দেয়া হয়েছে অনেককে। তাই তারা যে দেশে ফিরেছেন এটাও অনেকের স্বজনদের অজানা। তারা যখন ফেরেন, তখন বিমানবন্দরের বাইরের গেটে শত শত মানুষের ভিড়। তারা অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন দেশ থেকে স্বজনরা ফিরবেন বলে। কিন্তু, বুধবার রাতে সৌদি আরব থেকে ফেরা লোকদের মধ্যে দুই একজন বাদে বাকিদের কারোরই স্বজন উপস্থিত ছিলেন না বিমানবন্দরে। বেশির ভাগই ছিলেন ক্ষুধার্ত। ব্রাক মাইগ্রেশনের এক প্যাকেট খাবার ও পানি পেয়ে পাশে বসেই খেয়ে নিয়েছেন তারা। মধ্যরাত। তাই বিমাবন্দরের ভেতরেই সকাল হওয়ার অপেক্ষা এক কোণায় বসে থাকতে দেখা যায় অনেককে।

সৌদি ফেরাদের বেশির ভাগের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। যেন রাজ্যের দুঃখ-কষ্টগুলো ফুটে উঠেছে তাদের চেহারায়। তাদের কেউ জমিজমা বিক্রি করে আবার কেউ ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। স্বজনদের কাছে ফিরে যাচ্ছেন এক বুক হতাশা নিয়ে। কিভাবে সংসার চলবে, কিভাবেই বা ঋণের বোঝা দূর করবেন এই টেনশন তাদের মনে।

বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে সৌদি আরব থেকে ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ফেরত এসেছে। যাদের বেশির ভাগই আকামা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

সৌদি থেকে খালি হাতে ফিরলেন ২১৫ বাংলাদেশী
                                  

রাত দেড়টা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে আসছেন পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি। তবে স্বাভাবিকভাবে অবস্থায় নেই তিনি। হুইল চেয়ারে বসে আছেন তিনি। তাকে ঠেলে নিয়ে আসছেন আরেকজন। বাইরে অপেক্ষমাণ অসংখ্য মানুষ। সবার চোখ পড়লো হুইল চেয়ার বসা ব্যক্তির ওপর। কাচা পাকা চুল। হয়তো বেশ কিছু দিন হলো কামানো হয়নি, তাই মুখজুড়ে ছোট ছোট দাঁড়ি গজিয়েছে। মোটাসোটা শরীর। চোখে মুখে চিন্তার ছাপ।

গেট পার হতেই এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলো তার। ভালো করে কথা বলতেও পারছেন না। অনেকটা কেঁপে কেঁপে বললেন, নাম ইলিয়াস আলী। বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসার। সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারে সুখ আনতে বছর দুয়েক আগে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। প্রায় চার লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরব গিয়েছিলেন।

এই বয়সে কেন বিদেশ? প্রশ্ন ছিল ইলিয়াস আলীর কাছে। সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, আশা ছিল ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করব। এজন্য তো টাকা লাগবে? সংসারের অভাব অনটন দূর হবে। তাই বিদেশ গিয়েছিলাম। কিন্তু সে স্বপ্ন তো পূরণ হলো না। ঋণ করে বিদেশ গেলাম। দালাল বলেছিল, ভালো বেতনে কাজ দেবে। কিন্তু সেখানে গিয়ে তা পাইনি। এখন খালি হাতে দেশে ফিরতে হলো। কীভাবে ঋণ ফেরত দেব? ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া কীভাবে চালাব?

কান্নায় ভেঙে পড়েন পঞ্চাশোর্ধ ইলিয়াস আলী। প্রবাস ফেরত বাংলাদেশী, যারা নানা সমস্যায় দেশে ফিরছেন প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও খাবারের প্যাকেট দিচ্ছিলেন ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা। একটি প্যাকেট ইলিয়াস আলীর হাতেও তুলে দিলেন একজন। এই ফাঁকে কথা হচ্ছিল তার সাথে। সৌদি আরবে যাওয়া, সেখান ফেরত আসাসহ নানা বিষয়ে।

ইলিয়াস আলী জানান, সৌদি আরবে গিয়ে কাজ পাইনি। যে কোম্পানিতে কাজ করার কথা ছিল তাদের দেখা মেলেনি। ফলে এখানে সেখানে কাজ করেছি। আকামা হয়নি। আকামার জন্য দুই দফায় টাকা দিয়েছি ২১ হাজার রিয়াল। এরইমধ্যে মাস ছয়েক আগে ডান পাটা অবশ হয়ে গেল। চলাফেরা করতে পারি না। যে জায়গায় কাজ করি, সেই কফিল (নিয়োগকর্তা) বললেন, আকামা করতে ২৭ হাজার রিয়াল লাগবে। এই পা নিয়ে আমি এখানে থেকে কী করব। পরে ধরা দেই। এক সপ্তাহ জেলে ছিলাম। এরপর দেশে এলাম। কথাগুলো বলার সময় চোখে পানি চলে আসে তার। চোখ মুছতে মুছতে তিনি আরো বলেন, যা কিছু রোজগার হয়েছে, দেশে পাঠিয়েছি। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া আর সংসারের খরচের জন্য।

বুধবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেন ইলিয়াস আলীসহ হতভাগ্য ৮৬ বাংলাদেশী। তাদের সাথেই ছিলেন বাহারউদ্দিন। তিনি ইলিয়াস আলীর পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাড়ি সিলেটের কানাইঘাটে। তিনি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর থেকে অসুস্থ ইলিয়াস আলীকে সহযোগিতা করছেন। হুইল চেয়ার ঠেলে বিমানবন্দরের গেট পার করেছেন।

এরপর রাত দেড়টার দিকে সৌদি এয়ারলাইন্সের আরেকটি ফ্লাইটে দেশে আসে আরো ১২৯জন প্রবাসী। সব মিলে এক রাতেই ফিরলেন ২১৫ জন সৌদি প্রবাসী।

কথা হলো বাহার উদ্দিনের সাথে। তিনি বলেন, ২৬ বছর সৌদি আরবে ছিলেন। কন্সট্রাকশনের কাজ করতেন। মাঝখানে ছয়বার দেশে ঘুরে গেছেন। এইবার সৌদি আরবে যাওয়ার পর আর আকামা লাগেনি। ফলে অবৈধ হয়ে যান তিনি। আকামা করাতে নিয়োগকর্তাকে ৯০০ রিয়াল দিয়েছিলেন। কিন্তু, আকামা করে দেয়নি। ফলে অবৈধভাবে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কাজ করতেছিলেন বাহার উদ্দিন। রাস্তা থেকে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। জেলখানাতে গিয়ে পরিচয় হয় একই জেলার ইলিয়াস আলীর সাথে। তিনিসহ একই জেলখানায় থাকা আরো কয়েকজন বাংলাদেশী ফিরেছেন একসাথে।

বাহার উদ্দিনের ভাষ্য, অনেক বছর সৌদি আরবে ছিলাম। জীবনে এমন পরিস্থিতি কখনো সৌদি আরবে দেখিনি। সেখানকার পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে। বৈধ-অবৈধ দেখছে না। রাস্তা থেকে ধরে সোজা জেলে। এরপর পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশে।

বিমানবন্দরে কথা হয়, টাঙ্গাইলের মো. জাহেদ আলী ও শাহাবুল, রংপুরের মো. সাজু, কিশোরগঞ্জের আসান, সিলেটের কামাল আহমেদ, মাছুম, শাবলু, হবিগঞ্জের কালাম, গাজীপুরের হারুণ ও ইমরান, লক্ষীপুরের আলাউদ্দিন, কুড়িগ্রামের কোবেল আলী, কুমিল্লার ইব্রাহিম, মাদারীপুরের জুলহাস, কিশোরগঞ্জের সোহরাব, যশোরের শাহ আলম, চাঁদপুরের সেলিমসহ সৌদি আরব থেকে ফেরা কমপক্ষে ৪০ জনের সাথে।

রাত সোয়া ১১টার দিকে তারা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামলেও ইমিগ্রেশন কার্যক্রম শেষ করে বিমানবন্দর থেকে বের হতে থাকেন রাত পৌনে ১২টার পর থেকে। এক এক করে বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসেন হতভাগ্য এসব বাংলাদেশী। যারা এক বুক স্বপ্ন নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সংসারের অভাব অনটন দূর করবেন, স্ত্রী সন্তানদের মুখে হাসি ফুটাবেন। ভালভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন বুঁনেছিলেন। কিন্তু, ওইসব স্বপ্ন দুঃস্বপ্ন হয়ে তাদের জীবনে এখন ঘোর অমানিশা। এক বুক হতাশা নিয়ে একেবারেই খালি হাতে দেশে ফিরলেন তারা।
তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রত্যেকে ৩-৫ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এদের কারো আকামা ছিল, কারোর বা আকামা হয়নি। রাস্তা থেকে উভয়কেই পুলিশ ধরে জেলে পুরেছিল। এরপর কিছুদিন জেল খেটে ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

জেল থেকে সরাসরি বিমানে তুলে দেয়া হয়েছে অনেককে। তাই তারা যে দেশে ফিরেছেন এটাও অনেকের স্বজনদের অজানা। তারা যখন ফেরেন, তখন বিমানবন্দরের বাইরের গেটে শত শত মানুষের ভিড়। তারা অপেক্ষা করছেন বিভিন্ন দেশ থেকে স্বজনরা ফিরবেন বলে। কিন্তু, বুধবার রাতে সৌদি আরব থেকে ফেরা লোকদের মধ্যে দুই একজন বাদে বাকিদের কারোরই স্বজন উপস্থিত ছিলেন না বিমানবন্দরে। বেশির ভাগই ছিলেন ক্ষুধার্ত। ব্রাক মাইগ্রেশনের এক প্যাকেট খাবার ও পানি পেয়ে পাশে বসেই খেয়ে নিয়েছেন তারা। মধ্যরাত। তাই বিমাবন্দরের ভেতরেই সকাল হওয়ার অপেক্ষা এক কোণায় বসে থাকতে দেখা যায় অনেককে।

সৌদি ফেরাদের বেশির ভাগের চোখে মুখে হতাশার ছাপ। যেন রাজ্যের দুঃখ-কষ্টগুলো ফুটে উঠেছে তাদের চেহারায়। তাদের কেউ জমিজমা বিক্রি করে আবার কেউ ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। স্বজনদের কাছে ফিরে যাচ্ছেন এক বুক হতাশা নিয়ে। কিভাবে সংসার চলবে, কিভাবেই বা ঋণের বোঝা দূর করবেন এই টেনশন তাদের মনে।

বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্রাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে সৌদি আরব থেকে ২০ হাজারেরও বেশি শ্রমিক ফেরত এসেছে। যাদের বেশির ভাগই আকামা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ গ্রেফতার করে দেশে পাঠিয়ে দিয়েছে।

‘আবরার হত্যাকারীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতো, ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিলো’
                                  

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারের হত্যাকারীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছিলো। তারা ক্যাম্পাসে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছিলো বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

আজ (১৩ নভেম্বর) আবরার হত্যায় ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আবরারকে শিবির সন্দেহ করা ছিলো অনেক কারণের মধ্যে একটি মাত্র কারণ। ওরা (আসামিরা) উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়েছিলো। ছোটখাটো বিষয়ে কেউ একটু দ্বিমত পোষণ করলে, সালাম না দিলে, কেউ এদের বিরুদ্ধে কথা বললে- ওরা র‌্যাগিংয়ের নামে অন্যদেরকে আতঙ্কিত করে রাখার জন্য এ কাজগুলো করে আসছিলো।”

“একজনের উপর নির্যাতন করে যাতে বাকিরা তাদেরকে যথাযথভাবে সালাম দেয়, ভয় করে চলে। এরকম ভয়ের রাজত্ব কায়েম করার জন্য যে দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়া সেটির অংশ হিসেবে উচ্ছৃঙ্খল ছেলেগুলো এই হত্যাকাণ্ড করেছে,” যোগ করেন ডিএমপি কর্মকর্তা।

তিনি আরও বলেন, “হল প্রশাসন বা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আরেকটু সতর্ক হলে, যদিও সেটি তদন্তের অংশ হিসেবে সেভাবে আসেনি, তারপরও পারিপার্শ্বিক বিবেচনায় এবং সমস্ত ঘটনা প্রবাহ বিশ্লেষণ করে হল প্রশাসনের এক ধরনের ব্যর্থতা আমরা দেখেছি।”

তার মতে, “এরা রাজনৈতিক পরিচয়কে শেল্টার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এরা অছাত্রসুলভ জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলো। তাদের কর্তৃত্ববাদী আচরণকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য, রাজনৈতিক পরিচয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে আমরা তদন্তে পেয়েছি।”

“আমরা তদন্তে আরও পেয়েছি মোটামুটি রাত ১০টার পর থেকে তার (আবরার) উপর নির্যাতন শুরু হয়” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ডাক্তার এসে তিনটার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করে। এতো দীর্ঘ সময় তাকে পেটানো হচ্ছিলো। তাকে হয়তো ওই সময় হাসপাতালে নিয়ে গেলে এই নৃশংস পরিণতি হতো না।”

মুজিব বর্ষে ঘরে ঘরে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো: প্রধানমন্ত্রী
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, `সরকার ২০২১ সাল নাগাদ সকল উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়নের মাধ্যমে সারাদেশের ঘরে ঘরে আলো জ্বালতে সক্ষম হবে।` বুধবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৭টি নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, `২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়কে আমরা মুজিব বর্ষ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। ইনশাল্লাহ, মুজিব বর্ষ উদযাপনের মধ্যে আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হব। কেউ অন্ধকারে থাকবে না, সব ঘরেই আলো জ্বলবে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য মতে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উদ্বোধন এবং উপজেলাগুলোতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ফলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা এখন হয়েছে ২২ হাজার ৫৬২ মেগাওয়াট। পাশাপাশি দেশের ৪৬১টি উপজেলার মধ্যে ২৩৪টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন করা হলো। আরো ১২৭টি উপজেলায় শিগগিরই শতভাগ বিদ্যুতায়ন সম্ভব হবে, যেগুলো এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া, বাকি একশ’ উপজেলায় আগামী ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ উদযাপনকালে বিদ্যুতায়ন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `আমরা একটি লক্ষ্য স্থির করেছি- ২০২০ সালে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী আমরা উদযাপন করবো। জাতির পিতার জন্মদিন ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি পালন শুরু করে পরবর্তী ২০২১ সালের ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত এক বছর এই কর্মসূচি চলবে। তখন আর একটি ঘরেও অন্ধকার থাকবে না। আলোকিত করাই আমাদের কাজ এবং সেটাই আমরা করে যাচ্ছি। যেখানে বিদ্যুতের গ্রীড লাইন পৌঁছেনি সেসব প্রত্যন্ত পাহাড়ি, হাওড় এবং চরাঞ্চলে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে সারাদেশে এই বিদ্যুতায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।`

বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনগণকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, `বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমাদের যে খরচ হয় এর চাইতে অনেক কম অর্থে আমরা তা সরবরাহ করে যাচ্ছি।` তিনি এ সময় বিএনপি আমলে দেশে বিদ্যমান ভয়াবহ লোড শেডিংয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সকলকে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `২১ বছর পর সরকার গঠন করে ১৯৯৬ সালে সরকার দেশে বিদ্যুৎ পেয়েছিল মাত্র ১৬শ’ মেগাওয়াট। পরবর্তী ৫ বছরে তা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৩শ’ মেগাওয়াট করে রেখে গেলেও ২০০১ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরবর্তী ৫বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন এক মেগাওয়াটও বাড়াতে পারেনি। উপরন্তু, তা কমিয়ে ৩ হাজার ২শ’ মেগাওয়াটে নিয়ে আসে। ২০০৯ সালের সরকার গঠনের পর থেকে বিদ্যুৎকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়াসহ একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে সরকার বিদ্যুৎকে আজকের পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।`

তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে অনুরোধ করবো এই বিদ্যুৎ ব্যবহারে আপনারা সাশ্রয়ী হবেন। বিদ্যুৎ অপচায় যেন না হয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে মিতব্যয়ী হলে আপনাদের বিদ্যুতের বিলটাও কম আসবে। এই দেশ আমাদের এবং এই দেশের প্রতিটি সম্পদ জনগণের। কাজেই এই সম্পদকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। আসুন সকলে মিলে দেশকে গড়ে তুলি। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `খাদ্য নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। এখন খাদ্য পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তা নিশ্চিত করারও পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। অর্থাৎ একটা মানুষের জীবনে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ যে মৌলিক বিষয়গুলো প্রয়োজন হয় সে চাহিদাগুলো সম্পূর্ণভাবে পূরণের কর্মসূচিই আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি, যার সুফলটা পাচ্ছে দেশের জনগণ।` তিনি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এই কারণে যে, তারা আমাদের বার বার ভোট দিয়েছেন এবং সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন। আর সে কারণেই আজকে দেশের উন্নয়নটা আমরা করতে পারছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, `একশ’ শিল্পাঞ্চল (বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল) আমরা গড়ে তুলছি। যেখানে ব্যাপকভাবে কর্মসংস্থান হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, দেশের চাহিদাও মিটবে এবং বিদেশেও আমরা রপ্তানি করতে পারবো। ফলে দেশের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা অব্যাহত রাখার জন্য চাষের জমি সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘চাষের জমি আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে কারণ আমাদের যে জনসংখ্যা তাদেরকে আমরা প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করতে চাই। ভিক্ষা চেয়ে, হাত পেতে চলতে চাই না, নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে নিজের খাদ্য নিজেরা উৎপাদন করে আমরা সরবরাহ করতে চাই। আমরা আত্মমর্যাদা নিয়ে বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। যেটা আমাদের জাতির পিতা শিখিয়ে গেছেন।’

ডেপুটি স্পিকার ফজলে বাব্বি মিয়া, প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানী এবং খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মো. শহীদুজ্জামান সরকার গণভবনের অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, বেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, আইসিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব আহমেদ কায়কাউস অনুষ্ঠানে দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন।

বাসস

প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারীদের বেতন ১৩তম গ্রেডে
                                  

 সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বিরাজমান বেতন বৈষম্য নিরসন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সব প্রধান ‘শিক্ষক জাতীয় বেতন স্কেল, ২০১৫’ এর ১১তম গ্রেডে (১২৫০০-৩০২৩০ টাকা) এবং সব সহকারী শিক্ষক ১৩তম গ্রেডে (১১০০০-২৬৫৯০ টাকা) বেতন পাবেন। নতুন কাঠামোতে সহকারী শিক্ষকেরা বেতন গ্রেডে একধাপ এগিয়ে গেলেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকরা বেতন বৈষম্য নিরসনে আন্দোলন করে আসছিলেন। এই দাবিতে আসন্ন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষাও বয়কটের হুমকি দিয়েছিলেন তারা। বেতন বৈষম্য নিরসনে গত ২৮ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। বেতন বৈষম্য নিরসন করে গত ৭ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের বাস্তবায়ন-১ অধিশাখা থেকে এ-সংক্রান্ত চিঠি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। অর্থ বিভাগের এই চিঠির পর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনের কোনো বৈষম্য থাকলো না। ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলে বর্তমানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বেতন ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা (গ্রেড-১১) এবং প্রশিক্ষণবিহীন প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১১৩০০-২৪৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪) ছিল। অর্থ বিভাগ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন উভয় ক্ষেত্রেই প্রধান শিক্ষকের বেতন স্কেল ১২৫০০-৩০২৩০ টাকা (গ্রেড-১১) নির্ধারণ করে দিয়েছে।

অপরদিকে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল ছিল ১০২০০-২৪৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪) এবং প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকের বেতন স্কেল ছিল ৯৭০০-২৩৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৫) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন সহকারী শিক্ষকের উভয় ক্ষেত্রেই বেতন স্কেল ১১০০০-২৬৫৯০ টাকা (গ্রেড-১৩)-তে উন্নীত করেছে অর্থ বিভাগ। চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের মঞ্জুরি আদেশ জারির তারিখ থেকে শিক্ষকদের উন্নীত বেতন গ্রেড কার্যকর হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) মো. বদরুল হাসান বাবুল বলেন, শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসন করতে অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণ বিহীনদের ১৩তম গ্রেড হওয়ায় বর্তমান অবস্থায় প্রায় ১২ বছর চাকরি করে এই গ্রেডে আসতো। এতে তারা ১২ বছর এগিয়ে থাকলো।

সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সংসদে তোপের মুখে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
                                  

 বিদেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সংসদে তোপের মুখে পড়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী মো. ইমরান আহমেদ। সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ নিয়ে তাকে একের পর এক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এ সময় তাকে বিরোধী দলের একাধিক এমপি বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের ওপরে যৌন নির্যাতনের বিষয়ে প্রশ্ন করেন। স্বাধীন দেশের মানসম্মান রক্ষায় সৌদি আরবে নারী শ্রমিক না পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ও কাজী ফিরোজ রশীদের আক্রমণাত্মক প্রশ্ন করেন।

এছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বহিষ্কৃত এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানোর বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন। সম্পৃরক প্রশ্ন করতে গিয়ে তারা এ বিরোধিতা করেন। এমপিরা দাবি করেন, বাংলাদেশ এখন আর তলাবিহীন ঝুঁড়ি নয় যে, নারীদের সম্ভ্রমহানির জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে। এর পরিবর্তে বেশি করে পুরুষ শ্রমিক পাঠানোর কথা বলেন তারা। নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানো বন্ধের দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে প্রথমেই প্রশ্ন করতে গিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সৌদি আরবে বিশেষ করে নারী গৃহকর্মীদের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টসহ নানা ধরনের নির্যাতন করা হয়। এটা স্বীকৃত। এই অত্যাচারের কারণে অনেক নারীকর্মী সুযোগ পেলেই পালিয়ে যাচ্ছে, জেলখানায় যায় এবং অনেক কিছু হচ্ছে। এজন্য বহির্বিশ্বে থেকে আমাদের অনেক প্রশ্ন আসছে। মন্ত্রীদের কাছে আমার প্রশ্ন এই যে নারী কর্মীরা পাঠাচ্ছি তাদের সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট থেকে বাঁচানোর জন্য, তাদের ইজ্জত সম্মানের সঙ্গে চাকরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো রকম উদ্যোগ নিয়েছেন কি না? সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক পাঠানোর ব্যাপারে মন্ত্রী বলছেন যে- শিক্ষা দিয়ে নারীদের পাঠানো হবে। কিন্তু সৌদি আরবকে তো কন্ট্রোল করতে আপনি এখান থেকে পারবেন না। আর ওরা কিভাবে এটা কন্ট্রোল করে সেটা আপনি, আমি, অনেকেই জানি। আমরা বিভিন্ন সময় গিয়েছি, দেখেছি।

আমার অনুরোধ থাকবে এই সমাজজীবনকে বাঁচানোর জন্য, আদব-কায়দা এই দেশের মান মর্যাদা ঐতিহ্য রক্ষার্থে আমাদের নারী শ্রমিক না পাঠিয়ে পুরুষ শ্রমিক পাঠান। এতে দেশের মান বাঁচবে। আমাদের মান ইজ্জত বাঁচবে, পারিবারিক পরিবেশও সুন্দর থাকবে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। আর না হলে আমরা দাসের বাংলাদেশ পরিণত হব। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মন্ত্রী বললেন রিক্রুটিং এজেন্ট বিদেশে লোক পাঠায়। তাহলে ওঁদের দায়িত্বটা কী? প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্বটা কী? আমাদের মা বোনদের আমরা পাঠিয়ে দিচ্ছি, ওখান থেকে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে, নানান রকম অন্যায় অত্যাচারের শিকার হয়ে তারা লাশ হয়ে ফিরে আসে। এ পর্যন্ত ছয় থেকে সাতশ লাশ এসেছে এবং তাদের সবারই লেখা থাকে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু। ওখানে পোস্টমর্টেম যে হয় সেটাও বাংলাদেশের অ্যাম্বাসি দেখে না। একই রকমের পোস্টমর্টেম করে তারা। তিনি বলেন, এভাবে আমাদের মা বোনদের নিয়ে ব্যবসা করতে পারি না। এটা স্বাধীন দেশ। আমাদের সম্মান, ইজ্জত আছে। মাত্র কয়েকটি টাকার জন্য আমরা এ কাজ করতে পারি না। আমাদের দেশটা এখন আর অত গরিব না। আমরা তো তলাবিহীন ঝুড়ি না। কেন নারী পাঠাতে হবে? বন্ধ করুন অবিলম্বে। আপনি দেখেন নাই একেক জন নারী ফিরে আসে আর তাদের কীভাবে অন্যায় অত্যাচার করা হয়। আপনাদের ঘরে মা বোন নেই? কেন আমরা কয়েকটা টাকার জন্য ওদের পাঠাবো? নারীদের পাঠানো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। আমাদের মন্ত্রী কোন খবর রাখেন না। সেখানে নারী রীতিমত বেচাকেনা হচ্ছে। বাজার বসে কে কত দাম দিয়ে কিনে নিয়ে যাবেন। ওঁরা কোন খবর রাখবেন না কেন? সুতরাং আমার ছোটপ্রশ্ন মন্ত্রী, এটা বন্ধ করবেন কি না? এই টাকা আমাদের প্রয়োজন নাই। মা-বোনদের পাঠিয়ে দিয়ে দেশ বিক্রির টাকার প্রয়োজন নেই। আমরা আমাদের ইজ্জত বিক্রি করতে পারি না। জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, বিদেশে নারী শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হন মন্ত্রী ও মন্ত্রণালয় কিছুই জানে না, এটা সঠিক নয়। সংসদের বিরোধী দলীয় এমপিদের এ ইস্যুতে বক্তব্য শুনে আমার মনে হয়েছে অভিযোগ করার জন্য অভিযোগ এবং রাজনৈতিক মাঠে দেয়া বক্তব্যের মতো।

মন্ত্রী বলেন, বিদেশে নারীকর্মী পাঠানো রিক্রুট এজেন্সিদের মধ্যে অনিয়মের কারণে ১৬০টির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তিনটি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে কোটি টাকার বেশি। এ ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশীয় রিক্রুট এজেন্সিদের কাউন্টার পার্ট রয়েছে সৌদিতে, সেখানকার দায়িত্বরতদের বিস্তারিত জানাতে হচ্ছে মন্ত্রণালয়কে।

সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
                                  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের আরও ২৩টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে আজ বুধবার সাতটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টায় তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করবেন।

বিপিডিবি পরিচালক (জনসংযোগ) সাইফুল হাসান চৌধুরী বলেন, সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র হলো ৩০০ মেগাওয়াটের আনোয়ারা পাওয়ারপ্লান্ট, ১১৩ মেগাওয়াট রংপুর পাওয়ারপ্লান্ট, ১১০ মেগাওয়াটের কর্ণফুলী পাওয়ারপ্লান্ট, ১০৫ মেগাওয়াটের শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র, ৫৪ মেগাওয়াটের পটিয়া পাওয়ারপ্লান্ট, ৮ মেগাওয়াটের তেঁতুলিয়া পাওয়ারপ্লান্ট এবং ১০০ মেগাওয়াটের গাজীপুর পাওয়ারপ্লান্ট। তিনি বলেন, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুতের উৎপাদন ২৪ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ড (বিআরইবি) সূত্র জানায়, শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসা ২৩ টি উপজেলা হলো, বগুড়া জেলার গাবতলী, শ্রীপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলা, চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলা, ফরিদপুর জেলার মধুখালী, নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা, গাইবান্দা জেলার ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ি উপজেলা, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও নবীগঞ্জ উপজেলা, ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ ও মহেশপুর উপজেলা, কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলা, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া উপজেলা, নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা ও মহোনগঞ্জ উপজেলা, পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানী উপজেলা। অন্যদের মধ্যে গণভবনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

 

সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী
                                  

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্মেলন এবং নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক সভায় যোগদানের উদ্দেশ্যে গত সোমবার রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আজ বুধবার থেকে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে অনুষ্ঠিতব্য অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্মেলনে ৩৯ সদস্যের বাংলাদেশ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামী ১৭-১৯ নভেম্বর নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্য ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বিষয়ক মন্ত্রীর সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়ার সাথে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান আমদানি-রপ্তানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ বাণিজ্য সম্মেলন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গত ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৮০৪ দশমিক ৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে ৫৯৬ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে। অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিউজিল্যান্ডেও বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির প্রচুর সুযোগ রয়েছে। গত অর্থ বছরে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ ৯১.৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্য রপ্তানি করেছে, একই সময়ে ২৪১.৮৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুল্যের পণ্য আমদানি করেছে। বাংলাদেশের সামগ্রীক আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বিবেচনায় অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সাথে বাণিজ্য ও বিনিযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রীর এ সফরের মাধ্যমে উভয় দেশের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টিপু মুনশি আগামী ২০ নভেম্বর দেশে ফিরবেন বলে জানা গেছে।

 

সম্প্রচারের অপেক্ষায় ১১টি বেসরকারি টিভি: সংসদে তথ্যমন্ত্রী
                                  

বর্তমানে বিশ্বের ১৪টি দেশে বিটিভি সম্প্রচার হচ্ছে এবং আইপিটিভির মাধ্যমে বিশ্বের সবদেশেই বিটিভি দেখার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। পাশাপাশি ১১টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সম্প্রচারের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সহিদুজ্জামান সরকার এবং আহসানুল ইসলামের (টিটো) প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

ড. হাছান মাহমুদ জানান, বাংলাদেশের বাইরে ভারত, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, ভুটান, শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস, কিরগিস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমিনিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাকিস্তানে বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্প্রচার হচ্ছে। এ ছাড়া আইপিটিভির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই বিটিভি দেখার সুযোগ রয়েছে। আহসানুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৪৫টি বেসরকারি চ্যানেলকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণ সম্প্রচারে আছে ৩০টি। এ ছাড়া ১১টি চ্যানেল সম্প্রচারের অপেক্ষায় আছে এবং ৩টি ফ্রিকোয়েন্সি পায়নি। মন্ত্রীর তথ্য থেকে জানা গেছে অপক্ষায় থাকা টিভি চ্যানেলগুলো হলো- আব্দুল্লাহ আল মামুন কৌশিকের চ্যানেল ২১, মামুনুর রশীদ কিরণের গ্লোব মাল্টিমিডিয়া লিমিটেড, নুর মোহাম্মদের উৎসব, মোহাম্মদ সাইফুল আলমের রংধনু, ধানাদ ইসলাম দীপ্তর তিতাস, তানভির আবিরের খেলা টিভি, জিনাত চৌধুরীর আমার টিভি, মুহম্মদ শফিকুর রহমানের সিটিজেন টিভি, তানজিয়া সিরাজের প্রাইম টিভি, শীলা ইসলামের স্পাইস টিভি ও আবুল বাশার মোহাম্মদ রকিবুল বাসেতের টিভি টুডে।

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর অপর এক প্রশ্নরে উত্তরে হাছান মাহমুদ জানান, সম্প্রচার আইন ২০১৮ (খসড়া) মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন করা হয়েছে। ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই আইনের আওতায় সম্প্রচার কমিশন গঠন হলে স্যোশ্যাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমের সম্প্রচার নিবিড়ভাবে তদারকি করা সম্ভব হবে।

দুই বছরের মধ্যে পর্যটন উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
                                  

 বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মোঃ মাহবুব আলী এমপি বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশের পর্যটন উন্নয়নের মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন করা হবে। তিনি বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পর্যটন ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ গুলোকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা হবে। গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম এ- হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উল্লেখ্য, পর্যটন সম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা দানের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৭ সালে এ বিভাগটি প্রতিষ্ঠা হলেও ২০০৮ সালে এর শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। পর্যটন প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক অপরূপ সৌন্দর্যের পাশাপাশি আমাদের রয়েছে বর্ণিল লোক উৎসব, লালবাগ কেল্লা সহ নানা পুরাকীর্তি। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি একটি শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে, রয়েছে মুক্তিযুদ্ধেও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধের পর সারা পৃথিবী বাংলাদেশকে চিনে ছিল বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ হিসাবে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে এখনো আমাদের পর্যটন পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং হয়নি। এখন সময় এসেছে আমাদের পর্যটন খাতের বিকাশের জন্য পর্যটন পণ্যগুলোর ব্র্যান্ডিং করার। মাহবুব আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সব কিছুতেই গুণগত পরিবর্তন এসেছে। দেশ এখন সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলছে। দেশের এই অপ্রতিরোধ্য উন্নয়ন অভিযাত্রায় ভূমিকা রাখতে পর্যটন খাতের বিকাশ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যটনের উন্নয়নের জন্য দরকার আমাদের সকলের সমন্বিত উদ্যোগ। পর্যটনের উন্নয়নে আমাদের অঙ্গীকার থাকতে হবে। আমাদের পরিশ্রম করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সফল হতে হলে কষ্ট করার কোন বিকল্প নেই। পর্যটনের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে এরকম কোন কাজ সহ্য করা হবে না। উগ্রবাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বর্তমানে দেশের আইন-শৃঙ্খলার প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল, মেট্রোরেল নির্মাণ- এর সবই আমাদের নাগরিকদের সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি পর্যটকদেরও সেবা প্রদান করবে। এই মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে তা পর্যটকদেরকে বাংলাদেশ ভ্রমণে উৎসাহিত করবে। তিনি বলেন, সিলেটের বিছানাকান্দির পাশে একটি গ্রামকে পর্যটন গ্রামে রূপান্তরিত করা হবে।

ওই গ্রামে পর্যটকেরা যাতে স্বচ্ছন্দে দেশীয় নাগরিকদের সাথে একত্রে বসবাস করতে পারে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেখানকার অবকাঠামোগত সুবিধা নির্মাণে সরকার সহযোগিতা করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম এ- হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এর পরিচালক তৌফিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিজম এ- হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আফজাল হোসেন।

 

অধিকাংশ ভিসিই লুটপাটে ব্যস্ত: মান্না
                                  

দু-একজন ব্যতিক্রম থাকতে পারে, কিন্তু অধিকাংশ উপাচার্যই (ভিসি) বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা-পয়সা লুটপাটে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নামকরা, এরা এক একটা টেন্ডারবাজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির গুন্ডা কারা, তাকে রক্ষা করতে যায় কে? যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের গুন্ডারা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে নাগরিক ছাত্র ঐক্য আয়োজিত ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলা’র প্রতিবাদে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা। মান্না বলেন, আপনারা জানেন দীর্ঘদিন যাবৎ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

তাদের যে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে সে সম্পর্কে তারা জানতে চাই। কারণ উন্নয়ন প্রকল্প যথাযথ নয়, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে না। এখানে লুটপাট চলছে। তাদের জিজ্ঞাসা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। সবশেষে গতকালকে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা আমরা আপনারা দেখেছেন। অভ্যুত্থান মানে কী সেটা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি জানেন না। অভ্যুত্থান উনি দেখেন নাই। সেটার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে জনতার অভ্যুত্থানকে নিয়ে অপমান করেছেন। কয়েকজন গুন্ডা গিয়ে অন্তত চারজন শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে। অজ ছাত্রদের আহত করেছে। তারপরে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি যদি বলেন, এটা ছাত্রদের অভ্যুত্থান। তাহলে এর চেয়ে লজ্জার কোনো ব্যাপার থাকে না।

তিনি বলেন, এখন যারা ক্ষমতায় আছেন তারা সব বলে বেড়াচ্ছেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান করছেন। তাহলে শুদ্ধি অভিযানের শুরুতে তো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর চাকরি চলে যাওয়া উচিত। তাহলে যাচ্ছে না কেন? গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের চাকরি যায় না। সবাই দাবি করছে, কিন্তু তার চাকরি যায় না। অবশেষে ছাত্ররা এমন সর্বাত্মক আন্দোলন করলো যে, তাকে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে হয়েছে। অপেক্ষা করেন, জাহাঙ্গীরনগরের এই ভিসিকে রাতের অন্ধকারে বোরখা পরে পালিয়ে যেতে হবে সেদিন বেশি দূরে নয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মীজানুর রহমানের কথা উল্লেখ করে মান্না বলেন, এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিজের খায়েশ প্রকাশ করে বলেছেন, উনি নাকি যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান।

একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর কীভাবে যুবলীগের চেয়ারম্যান হতে চান? কী মধু আছে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে? নাগরিক ঐক্যের এই আহ্বায়ক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, জাহাঙ্গীরনগরের ভিসির পদত্যাগ চাই, এমন অপবাদের মুখে যে সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আছে তাদের পদত্যাগ চাই। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিয়োগ দিল যে মন্ত্রণালয়, তার মন্ত্রী- ওঁর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নাই। মানববন্ধনে নাগরিক ছাত্র ঐক্যের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশন বসছে আজ
                                  

একাদশ জাতীয় সংসদের পঞ্চম অধিবেশন আজ বৃহস্পতিবার বসছে। এদিন বিকাল সোয়া ৪টায় সংসদের বৈঠক শুরু হবে। বৈঠকের আগে অনুষ্ঠেয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদসহ আলোচ্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। অধিবেশনের শুরুতে সভাপতিম-লীর সদস্য মনোনয়ন ও শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। এরপর হবে প্রশ্নোত্তর। এদিন পানিসম্পদ, আইন, জনপ্রশাসন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সরকারি কর্মকমিশন সচিবালয়ের প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি দিবস হওয়ায় কোনও বিল উঠবে না বা পাস হবে না। তবে দুটি বিলের বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সভাপতিরা রিপোর্ট উত্থাপন করবেন। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখা, নার্সিং ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, কোল্ড স্টোরেজ, লঞ্চ ঘাট নির্মাণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নিষ্পত্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে সংসদ অধিবেশন উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে সব ধরনের অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, অন্যান্য ক্ষতিকারক ও দূষণীয় দ্রব্য বহন এবং সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পঞ্চম অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৬ অক্টোবর এই অধিবেশন আহ্বান করেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় এ অধিবেশন দুই সপ্তাহের মতো চলতে পারে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে। অধিবেশনের পর জানুয়ারি মাসে নতুন বছরের প্রথম তথা সংসদের শীতকালীন অধিবেশন বসবে। সংবিধানের বিধানমতে, সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যবর্তী বিরতি ৬০ দিনের বেশি হতে পারবে না। সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর শেষ হয়।

প্রবাসে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
                                  

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদাকে প্রবাসেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার করে নেওয়ার এবং সেই দেশেই ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে প্রবাসে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ অনুরোধ জানান। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন তিনি।

ইমরান আহমদ বলেন, এনআইডি পেলে কী লাভ তা সবার জানা। ভোট দেওয়া নাগরিকের অধিকার। ভোটার হতে পারলে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবে, তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সিইসির উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রবাসে মালয়েশিয়াতে অনেক বাংলাদেশির যথাযথ কাগজপত্র নেই। তারা বিপদে আছেন। আপনারা তাদের ভোটার করার ক্ষেত্রে কাগজপত্রের বিষয়ে একটু নমনীয় থাকবেন। ভোটাররা যাতে প্রবাসে থেকে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করবেন।

অনুষ্ঠানে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, ভিডিও কনফারেন্সের ওপারে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাই কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিমা কোম্পানিগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে নজর দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
                                  

 মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকেও নজর দিতে বিমা কোম্পানির মালিকদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ১৫তম আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্রবিমা সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠান তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,বিমা কোম্পানির মালিকদের প্রতি আমার একটু অনুরোধ থাকবে শুধু মুনাফা অর্জনের দিকে না তাকিয়ে সমাজের প্রতি যে একটা দায়বদ্ধতা আছে সেদিকে একটু বিশেষভাবে আপনারা দৃষ্টি দেবেন। এটাই আমরা চাই।

বিমাশিল্পকে মানবিক কল্যাণে কাজে লাগানো একান্তভাবে অপরিহার্য মন্তব্য করে তিনি উৎপাদন এবং অর্থনীতিকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে কোম্পানিগুলোকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের কথাও বলেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একসময় আলফা ইন্সুইরেন্স কোম্পানিতে চাকরি নিয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সুবাদে আমি বলব আমিও এই পরিবারেরই একজন সদস্য। স্বাধীনতার পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জাতির পিতা বিমাশিল্পের উন্নয়নে ১৯৭৩ সালে দেশের একমাত্র অ্যাকচুয়ারি শাফাত আহমেদ চৌধুরীকে লন্ডন থেকে দেশে ডেকে আনেন এবং কন্ট্রোলার অব ইন্সুরেন্স পদে নিয়োগ দেন বলেও জানান তিনি। দেশের মানুষের বিমা করার অভ্যাস কম মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা হল বাস্তবতা।

এমনকি আমিও একসময় জীবন বীমা করে.. তারপর সেই কাগজটা সেটা যে কোথায় হারাল তা আর খুঁজে পাই না। বিমার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা মনে করি ঝুঁকি কমিয়ে আর্থিক নিশ্চয়তা প্রদান বিমা করে থাকে। জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিতে নিরাপত্তা দেয় বিমা। পাশাপাশি দেশের পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগ খাতের জন্য তহবিল সৃষ্টিতেও সহায়তা করে। ধনী, দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য মূলত বিমাটা প্রয়োজন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিমার গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমা প্রবর্তনের লক্ষ্যে প্রবাসীকর্মী বিমা নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এতে প্রায় ১২ মিলিয়ন কর্মীর বিমা ঝুঁকি গ্রহণ সম্ভব হবে। এ বিমার আওতায় একজন প্রবাসী কর্মী সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকার বিমা সুবিধা পাবেন। পিতা-মাতার অবর্তমানে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার জন্য ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা’ প্রবর্তনের কাজ চলছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমা দাবি নিষ্পত্তি সমস্যা থেকে এ শিল্পকে রক্ষার পাশাপাশি গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য গ্রহণ করা বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। গত দুই বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার বিমা দাবি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় থাকায় দাবি নিষ্পত্তির হার আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রম তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের দেশের মানুষ ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসছে।

আমরা ইতোমধ্যে যে দারিদ্র্যের হার ৪১ ভাগ ছিল সেটাকে কমিয়ে ২১ ভাগে নামিয়ে এনেছি। আমাদের লক্ষ্য এটা আরও কমিয়ে ১৬/১৭ ভাগে নামিয়ে আনব। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগের পাশাপাশি বিমা কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো.আসাদুল ইসলাম, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটির চেয়ারম্যান মো. শফিকুর রহমান পাটোয়ারী, বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

যথাসময়েই সিটি করপোরেশন নির্বাচন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
                                  

 ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ দেশের অন্য সিটির নির্বাচনও যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মো. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব নির্বাচনই যথা সময়ে করতে সরকার বদ্ধপরিকর। গতকাল রোববার সচিবালয়ে চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন যথা সময়ে করার জন্য আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। শুধু ঢাকা নয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনও যথা সময়ে করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। যদি কোনো দুর্যোগ না হয়। ইভিএম নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। তারপরও ঢাকার দুই সিটির নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে শোনা যাচ্ছে- এতে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন করার জন্য অনেক আগ থেকেই চেষ্টা করছে নির্বাচন কমিশন। সক্ষমতা অর্জন করা সাপেক্ষে তারা সে বিষয়ে ব্যবস্থা করবে। এখানে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই। এটা নির্বাচন কমিশনই দেখবে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনা রাষ্ট্রদূত কিছু বলেছেন কিনা জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তারাও চায় মিয়ানমারের সঙ্গে বিষয়টা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক।

তার চায় যে, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সম্পর্ক অক্ষুণœ রেখেই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হোক। আমরাও সেটা চাই। বাংলাদেশ-চীন যৌথ অর্থায়নে ৩৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন, কিন্তু চীন সরকার সময় মতো অর্থছাড় না দেয়ায় অনেক প্রকল্প আটকে আছে এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, যে প্রকল্পগুলো আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করিনি। তবে আমার মন্ত্রাণলয়ের যে প্রকল্পগুলো পেনডিং রয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। এগুলো তারা দ্রুত নিষ্পত্তির অঙ্গীকার করেছে।

সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন সেনাপ্রধান
                                  

 বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ৪ দিনের সরকারি সফরে আজ সোমবার চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানানো হয়েছে।

সফরকালে সেনা প্রধান চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং পিপলস লিবারেশন আর্মি গ্রাউন্ড ফোর্স এর কমান্ডারসহ উধর্¡তন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। পাশাপাশি তিনি চীন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদর্শনী পর্যবেক্ষণ করবেন।

এছাড়াও তিনি চীন অলিম্পিক কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথেও সাক্ষাৎ করবেন। সফরকালে তিনি চীনের একাধিক সামরিক ও অসামরিক স্থাপনা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। সফর শেষে সেনাবাহিনী প্রধানের আগামী ৯ নভেম্বর দেশে ফেরার কথা।

স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না: গণপূর্ত মন্ত্রী
                                  

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে কোন প্রকার অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। এ লক্ষ্যে কমিটির সকলকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর।

জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথমেই দেশবাসীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১৮ সহস্রাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০১ সালে জামায়ত বিএনপি ক্ষমতায় এসেই সকল কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়ে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা গ্রহণের অধিকারটুকু কেড়ে নেয়।

শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে পুনরায় সকল কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। গতকাল শনিবার পিরোজপুরে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন। সভায় পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহ আলম, পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ফারুক আলম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল হক, ইউএনও সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর সিকদার। মন্ত্রী এর আগে স্বরূপকাঠি পৌর গোরস্থান ও শ্মশান ঘাটের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন শেষে পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে যোগ দেন।


   Page 1 of 384
     জাতীয়
সৌদি থেকে খালি হাতে ফিরলেন ২১৫ বাংলাদেশী
.............................................................................................
‘আবরার হত্যাকারীরা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করতো, ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিলো’
.............................................................................................
মুজিব বর্ষে ঘরে ঘরে জ্বলবে বিদ্যুতের আলো: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রধান শিক্ষকদের ১১তম, সহকারীদের বেতন ১৩তম গ্রেডে
.............................................................................................
সৌদিতে নারী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সংসদে তোপের মুখে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
.............................................................................................
সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সম্মেলনে যোগ দিতে অস্ট্রেলিয়া গেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
সম্প্রচারের অপেক্ষায় ১১টি বেসরকারি টিভি: সংসদে তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
দুই বছরের মধ্যে পর্যটন উন্নয়নে মাস্টার প্ল্যান: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
অধিকাংশ ভিসিই লুটপাটে ব্যস্ত: মান্না
.............................................................................................
একাদশ সংসদের পঞ্চম অধিবেশন বসছে আজ
.............................................................................................
প্রবাসে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করার আহ্বান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
.............................................................................................
বিমা কোম্পানিগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতার দিকে নজর দিতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
.............................................................................................
যথাসময়েই সিটি করপোরেশন নির্বাচন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী
.............................................................................................
সরকারি সফরে চীন যাচ্ছেন সেনাপ্রধান
.............................................................................................
স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না: গণপূর্ত মন্ত্রী
.............................................................................................
দেশে উৎপাদিত পণ্য সমবায় সমিতির মাধ্যমে বিপণনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
দুর্নীতিকে বিনাশ না করলে স্বাধীনতা অর্থবহ হবে না: গণপূর্তমন্ত্রী
.............................................................................................
স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি করা কঠিন হবে : ভূমিমন্ত্রী
.............................................................................................
স্বয়ংক্রিয় ভূমি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতি করা কঠিন হবে : ভূমিমন্ত্রী
.............................................................................................
সুযোগ ও সামর্থ্যরে সমন্বয়ের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হবে: স্পিকার
.............................................................................................
২০২০ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ
.............................................................................................
সরকার শিশুদের নিরাপদ দেশ উপহার দিতে চায়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত সমাধানে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
.............................................................................................
২০২১ সালের মধ্যে ৫১টি জেলা ম্যালেরিয়ামুক্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
এ বছর ৪ হাজার ৫শ’ ডাক্তার নিয়োগ দেয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ন্যাম যোগদান সম্মেলনে শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
সিলেট থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হবে এপ্রিলে: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
আমরা দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করব: মোজাম্মেল হক
.............................................................................................
বাংলাদেশ-নেপাল বাণিজ্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধার গার্ড অব অনার প্রত্যাখ্যান: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি
.............................................................................................
জাপান থেকে সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি
.............................................................................................
বন্ধুত্ব রক্ষার নামে স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে দেশ বিরোধী চুক্তি হচ্ছে: আনু মুহাম্মদ
.............................................................................................
ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান যেনো ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানে পরিণত না হয়: গণপূর্ত মন্ত্রী
.............................................................................................
সব উপজেলায় ‘অ্যান্টি-ভেনম’ সরবরাহ করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে গণমাধ্যম: স্পিকার
.............................................................................................
সাংবাদিকদের চাকরি রক্ষা করবে ‘সম্প্রচার আইন’: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
অনেক সংস্থা জরিপে শুধু খারাপ দিকগুলো তুলে ধরে নিম্ন গতি দেখায়: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
সরকারের অপসারণ ছাড়া দেশে সুশাসন আসবে না: আব্বাস
.............................................................................................
ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমে আসবে, আশা পরিকল্পনামন্ত্রীর
.............................................................................................
নিরাপদ খাদ্য নিয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা চালানোর আহ্বান খাদ্যমন্ত্রীর
.............................................................................................
নার্সদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
.............................................................................................
বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্কে বিশ্বাস করে বাংলাদেশ: নৌপ্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................
শক্তিশালী নেতৃত্ব বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল করে তুলেছে: আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
ভোলায় আত্মরক্ষার্থেই পুলিশ গুলি ছুড়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
সব উপজেলায় কমিউনিটি ভিশন সেন্টার স্থাপন করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ক্যাসিনো সংশ্লিষ্টতায় যার নাম-ই আসুক, ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
আজ জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস
.............................................................................................
শিশুশ্রম মুক্ত দেশ গঠনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে সরকার: শ্রম প্রতিমন্ত্রী
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]