২৪ জিলক্বদ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জুলাই , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি বলেছেন, কৃষককে কৃষিকাজ করে লাভবান হতে হলে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। স্বল্প সময়ে স্বল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে হবে। একই সাথে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ করতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সম্প্রতি ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। এদেশের কৃষি উন্নত দেশের কৃষির মতো আধুনিক যন্ত্র নির্ভর হবে। কৃষিতে বহুমুখী ফসল উৎপাদন হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে কৃষক ও দেশ লাভবান হবে।

কৃষিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুলাই) সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান। এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইকবাল আখতার মিয়া,পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কৃষি প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। এদেশের উপযোগী কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারে ও বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রপাতিকেও এদেশের উপযোগী করতে পারে। তাতে কৃষকেরা যেমন কম দামে কৃষি যন্ত্রপাতি পাবে, তেমনি অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। 

উল্লেখ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫২ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সিডার, পাওয়ার থ্রেসার, মেইজ শেলার, ড্রায়ার, পাওয়ার স্প্রেয়ার, পটেটো ডিগার প্রভৃতি রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এসব যন্ত্রপাতি কীভাবে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা বা সংযোজন করা যায় তা নিয়ে এ সভায় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সাথে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এসময় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরিতে তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি বান্ধব এ সরকার সবসময় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু যেমন এদেশের কৃষককে উন্নত জীবন দিতে সচেষ্ট ছিলেন তেমনি তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হলো টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিকে অধিক লাভজনক, আধুনিকীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ করা। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষির বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই তা করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
                                  

স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক, এমপি বলেছেন, কৃষককে কৃষিকাজ করে লাভবান হতে হলে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে। যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। স্বল্প সময়ে স্বল্প জমিতে অধিক ফসল ফলাতে হবে। একই সাথে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের অপচয় রোধ করতে হবে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সরকার কৃষির যান্ত্রিকীকরণে সম্প্রতি ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হলে কৃষিক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। এদেশের কৃষি উন্নত দেশের কৃষির মতো আধুনিক যন্ত্র নির্ভর হবে। কৃষিতে বহুমুখী ফসল উৎপাদন হবে। কৃষিপণ্য রপ্তানির মাধ্যমে কৃষক ও দেশ লাভবান হবে।

কৃষিমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ( ১৬ জুলাই) সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির প্রতিনিধি দলের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন। সভাটি সঞ্চালনা করেন কৃষি সচিব মোঃ নাসিরুজ্জামান। এসময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রসারণ) মোঃ হাসানুজ্জামান কল্লোল, অতিরিক্ত সচিব (গবেষণা) কমলারঞ্জন দাশ, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. ইকবাল আখতার মিয়া,পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কৃষি প্রকৌশলীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গরুত্বারোপ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে। এদেশের উপযোগী কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করতে পারে ও বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রপাতিকেও এদেশের উপযোগী করতে পারে। তাতে কৃষকেরা যেমন কম দামে কৃষি যন্ত্রপাতি পাবে, তেমনি অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে। 

উল্লেখ্য, কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৩ হাজার ২০ কোটি টাকার ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৫২ হাজার কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হবে। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টার, সিডার, পাওয়ার থ্রেসার, মেইজ শেলার, ড্রায়ার, পাওয়ার স্প্রেয়ার, পটেটো ডিগার প্রভৃতি রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এসব যন্ত্রপাতি কীভাবে স্থানীয়ভাবে তৈরি করা বা সংযোজন করা যায় তা নিয়ে এ সভায় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সাথে আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও আলোচনার মাধ্যমে এ ব্যাপারে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এসময় বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি তৈরিতে তাদের সক্ষমতা তুলে ধরে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কৃষি বান্ধব এ সরকার সবসময় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বঙ্গবন্ধু যেমন এদেশের কৃষককে উন্নত জীবন দিতে সচেষ্ট ছিলেন তেমনি তাঁর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের এখন মূল লক্ষ্য হলো টেকসই কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষিকে অধিক লাভজনক, আধুনিকীকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণ করা। কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও কৃষির বহুমুখীকরণের মাধ্যমেই তা করা সম্ভব। সে লক্ষ্যেই সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

৩ ধরনের গাছ লাগানোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
                                  

প্রাকৃতিক পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণে তিন ধরনের গাছ লাগানোর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশব্যাপী এক কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশব্যাপী এক কোটি বৃক্ষের চারা রোপণের এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

কর্মসূচি উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সারা বাংলাদেশে বনায়নে যেন সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিজে বৃক্ষরোপণ করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তার স্মরণে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমরা এই পদক্ষেপ প্রতিবছরই নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশে বনায়ন সৃষ্টি। আমি যখন ৯৬ সালে সরকার গঠন করি তখন মাত্র সাত ভাগ বনায়ন ছিল। আজ প্রায় ১৭ ভাগের উপরে আমরা করতে পেরেছি। আমাদের লক্ষ্য সারা বাংলাদেশে ২৫ ভাগ বনায়ন করব। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি।’

‘এর বাইরে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেই ৮৪ সালে আমরা কাজ শুরু করি। ৮৪ থেকে শুরু করে আমরা প্রতিবছর পহেলা আষাঢ় সমগ্র বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণ করি। আমাদের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের ওপর দায়িত্ব থাকে। কৃষকলীগ এই উদ্যোগটা নেয় এবং সকল সহযোগী সংগঠন মিলে আমরা বৃক্ষরোপণ করি’, যোগ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা মনে করি আমাদের দেশের প্রাকৃতিক পরিবেশটা রক্ষা হওয়া দরকার। পাশাপাশি দেশের মানুষের পুষ্টির দরকার। আমরা তাদের খাদ্য এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার কথা চিন্তা করি। আমি নির্দেশনা দিয়েছি শুরু থেকেই যে তিনটা গাছ লাগাতে হবে। একটা ফলের গাছ। একটা কাঠের জন্য যেটা আর্থিক সচ্ছলতা আনবে। আরেকটা ভেষজ গাছ। অর্থাৎ যে গাছ দিয়ে নানা ধরনের ওষুধ তৈরি হয়, সেটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এই ধরনের গাছ।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ আমি লাগিয়েছি একটা চালতা গাছ, তেঁতুল গাছ আর একটা ছাতিয়ান গাছ। ছাতিয়ান গাছ খুব বড় হয়। এর কাণ্ড খুব মোটা হয় এবং কাঠ হিসেবে খুব ভালো। সেজন্য ওটা লাগানো হয়েছে। আর তেঁতুলের শক্তি শরীরের জন্য খুবই উপকারী। এটা যেমন কারও যদি প্রেসার থাকে সে প্রেসারের জন্য ভালো। তা ছাড়া এমনিতে শরীর ঠান্ডা রাখা। তেঁতুল অনেক কাজে লাগে।’

দেশ থেকে তেঁতুলের জাতটা আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তবে এটার চাহিদা আছে। আর ফুচকা-চটপটি তো সবার খেতে ভালো লাগে। সে জন্য তেঁতুল সবসময় দরকার। সে জন্য আমি তেঁতুল গাছের ওপর একটু জোর দিয়েছি। আর চালতাটাও। চালতার পাতাগুলো যেমন সুন্দর দেখতে ফুল আরও সুন্দর। চালতার আবার অনেকগুণ রয়েছে। ডালে চালতা দিয়ে খেতে তো এমনি মজা লাগে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সবাইকে আহ্বান করব, যে যেখানে আপনার যতটুকু জায়গা আছে একটা গাছ লাগান। অথবা যারা শহরে থাকেন ছাদে বা বারান্দায় একটা টবে গাছ লাগান। যেভাবেই হোক একটু গাছ লাগালে ভালো লাগবে। মনটাও ভালো লাগবে। আর কিছুটা আপনার নিজের সচ্ছলতা আসবে আর নিজের হাতে লাগানো একটা গাছের একটা কাঁচামরিচ খেলেও কিন্তু ভালো লাগে। কাজেই সেইভাবে আমি আহ্বান করব- আসুন আমরা সবাই মিলে গাছ লাগাই। আমাদের দেশটা একটা বদ্বীপ, এই দেশটাকে আমরা রক্ষা করি এবং দেশটাকে উন্নত করি।’

‘দেশের জন্য, জাতির জন্য কাজ করা এটা আমার পিতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছ থেকে শিখেছি। যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে চলো। সৎ পথে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করো। জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ এই বাংলাদেশকে আমরা ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে আমরা গড়ে তুলব’ যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাস আমাদের সকল অগ্রযাত্রা সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছে। আমি আশা করি, জনগণ এ থেকে বেরোতে পারবে, আবার আমরা এগিয়ে যাব। এই সমস্যা শুধু বাংলাদেশের না, বিশ্বব্যাপী। কাজেই সবাই যেন এই সমস্যা কাটিয়ে তুলতে পারে।’

দেশে একদিনে মৃত্যু ৩৯, শনাক্ত ২,৭৩৩
                                  

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩১ জন পুরুষ ও ৮ জন মহিলা এবং ১৮ জন ঢাকা বিভাগের ও বাকিরা অন্যান্য বিভাগের। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হলো ২ হাজার ৪৯৬ জনের। একই সময়ে নতুন করে আরও ২ হাজার ৭৩৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্ত হলেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জন। 

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে জানানো হয়, দেশের মোট ৮০টি পরীক্ষাগারে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ১৩ হাজার ৫৪৮ জনের এবং ১২ হাজার ৮৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলো। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২ হাজার ৭৩৩ জন। ফলে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩২৩ জন। সেই সময়ে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃত্যু হলো ২ হাজার ৪৯৬ জনের।

এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯৪০ জন। আর এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯৬৩ জন।

বরাবরের মতো করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মুখে মাস্ক পরা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

রিজেন্ট-জেকেজি স্বাস্থ্যখাতে লাগামছাড়া দুর্নীতির ছোট উদাহরণ মাত্র : টিআইবি
                                  

রিজেন্ট ও জেকেজির হাতে করোনা শনাক্তের পরীক্ষা ও চিকিৎসাকে ঘিরে যে ন্যক্কারজনক জালিয়াতির ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে তাকে স্বাস্থ্যখাতে লাগামছাড়া দুর্নীতির খুবই ছোট উদাহরণ বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তাই এই দুই ঘটনার দৃশ্যমান অভিযুক্তদের আটক বা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাকেই যথেষ্ট ভেবে নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগলে, মূল সমস্যার কোনো সমাধান হবেনা বলা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের যোগসাজশে মানুষের জীবন মৃত্যু নিয়ে এমন ভয়াবহ দুর্নীতি হয়েছে, তাদের গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে টিআইবি।

রিজেন্ট ও জেকেজি কাণ্ডের মূল হোতাদের আটকের ঘটনাকে এসব দুর্নীতির তদন্তের প্রথম পদক্ষেপ আখ্যায়িত করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘দেশে কোভিড-১৯ মহামারী ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে একের পর এক দুর্নীতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও সাগরচুরির অভিযোগ উঠেছে স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। তার মধ্যে মাত্র দু’টি ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পেলাম যে, প্রত্যক্ষ কর্ণধারদের আটক করা হয়েছে এবং তাকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিরাট অর্জন হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। আমরা অবশ্যই এই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানাই। কিন্তু এখনই একে বিরাট সাফল্য বলে মানতে পারছিনা। যে প্রক্রিয়ায় আলোচ্য দু’টি প্রতিষ্ঠান এই জালিয়াতি করার সুযোগ পেয়েছে তাতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতাবানদের একাংশের যোগসাজশের বিষয়টি একরকম নিশ্চিত করেই বলা যায়। অভিযুক্তদের শুধু ‘প্রতারক’ হিসেবে প্রচার করে পেছনে থাকা প্রভাবশালী, যারা তাদের এই সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে কিনা সে প্রশ্ন একেবারে অবান্তর বলা যাচ্ছে না।’

এই দুই আলোচিত ঘটনা নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর এবং মন্ত্রণালয়ের পাল্টাপাল্টি দোষারোপ এবং একে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টায় এই শংকা আরো প্রবল হচ্ছে- এমন মন্তব্য করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বেশ কদিন হলো এই অভিযোগের বিষয় দু’টি সামনে এসেছে। এতোদিনে তো উচিত ছিলো কি প্রক্রিয়ায়, কিভাবে, কোন যোগ্যতার ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করা হয়েছিলো তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়া, কোনো কর্তৃপক্ষের কতোটুকু দায়িত্বে অবহেলা ছিলো তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু তা না করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় একের পর এক দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্য করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করে চলেছে।

গণমাধ্যমে সংবাদ হয়েছে, কর্মকর্তারা ‘মন্ত্রীর অনুরোধে’ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় উপস্থিত ছিলেন, অধিদপ্তর বলছে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ‘মৌখিক নির্দেশনায়’ তারা চুক্তি করেছে। আর মন্ত্রী জানিয়েছেন ‘তিনি অনেক চুক্তিতে সাক্ষর করেন, সব পড়ে দেখেন না’। এই যদি হয় জনস্বার্থে সরাসরি সংশ্লিষ্ট সরকারের অন্যতম প্রধান একটি বিভাগের চালচিত্র তাহলে আমাদের আতঙ্কিত না হয়ে উপায় থাকে না। মহামারীর এই ভয়াবহ সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এমন লাগামছাড়া, ছন্নছাড়া অবস্থা রীতিমতো অপরাধমূলক, কারণ এতো শুধু দুর্নীতির মহোৎসব নয়, মানুষের জীবন-মৃত্যু এর সাথে সরাসরি জড়িত।’

স্বাস্থ্যখাতের এই যথেচ্ছ দুর্নীতির দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে এবং টিআইবি মনে করে এখানে কাউকে ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরই মধ্যে এন-৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারি, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে অ্যাপ তৈরীর প্রস্তাবনার মতো জালিয়াতির ঘটনা প্রায় ধামাচাপা পড়ে গেছে আর অভিযুক্তরাও বহাল তবিয়তে আছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ‘গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হলো, তদন্ত হলো। কিন্তু কি ব্যবস্থা নেয়া হলো? পদোন্নতি দিয়ে আরো দায়িত্বশীল পদে বদলি করাটা কি শাস্তি? নাকি শুধু কালো তালিকাভুক্ত করাটাই যথেষ্ট? এদের জন্য যে বহু চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেন তার জবাব কে দেবে? মানুষ স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হচ্ছেন সে জন্য কে জবাবদিহি করবে? বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বহির্বিশ্বের দরজা যে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অনুদানের টাকা, ঋণের টাকা, জনগণের করের টাকা এভাবে যথেচ্ছ লুটপাটের সুযোগ কাদের দেওয়া হচ্ছে, কারা সুযোগ নিচ্ছে ও দিচ্ছে এবং কিসের বিনিময়ে সেটা জানার অধিকার দেশের জনগণের আছে।’

রিজেন্ট ও জেকেজি কেলেঙ্কারি দিয়ে দুর্নীতির অন্যসব অভিযোগ থেকে জনগণের মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা হচ্ছে কিনা- এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন একটি সংস্কৃতি দাঁড়িয়ে গেছে যে, দুর্নীতির অভিযোগে হাতেগোনা দুই একজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলো তৎপর হয়। অথচ দুর্নীতির মহাসমুদ্রে এইসব চুনোপুটিরা ডুবে থাকা হিমশৈলের চূড়ামাত্র, দৃশ্যপট থেকে যাদের সরিয়ে দেয়ায় দুর্নীতির পিছনের মূল সংঘবদ্ধ চক্রটির কোন ক্ষতি হয়না, বরং তাদের হাতেই দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়। চুনোপুঁটি নিয়ে টানাটানির সুযোগে বড় বড় রুই কাতলারা আড়ালেই থেকে যায়, আর দুর্নীতির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হয়। তাই শুধু দুই তিনজন অভিযুক্তকে আটকেই এই ঘটনার সমাপ্তি না টেনে বরং তাদের ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠার পেছনের প্রভাবশালী কুশীলব, সুরক্ষাদাতা, সমর্থনদাতা এবং সুবিধাভোগীদেরও অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে অবস্থান ও পরিচয় নির্বিশেষে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে, এমনটাই প্রত্যাশা করে দেশবাসী। এটা না হলে দুর্নীতির মূলোৎপাটন কখনোই সম্ভব হবে না।

কোভিড টেস্টের ফল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর নির্দেশ
                                  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে করোনাভাইরাস বিষয়ক দুটি নতুন নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। এর একটি হলো- করোনারোগীর শনাক্তের ফল এখন থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানাতে হবে। আর দ্বিতীয়টি হলো- ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীয় ব্যক্তিদের নমুনা বাড়িতে গিয়ে সংগ্রহ করতে হবে।

বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পৃথক দুটি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এবং কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ফোকাল পয়েন্ট শামীমা নাসরিন।

এতে বলা হয়, কমিটির ১৪তম সভার সুপারিশের ভিত্তিতে জানানো হয় যে, করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ থেকে ফলাফল প্রাপ্তি পর্যন্ত অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। সুতরাং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) দ্রুত ফল পাঠানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। তাই নমুনা টেস্টের ফল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আইইডিসিআরে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হলো।

অপর একটি চিঠিতে বলা হয়, দেশে প্রবীণ ব্যক্তিরা করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শারীরিক ও অন্যান্য কারণে তারা নমুনা সংগ্রহের স্থান পর্যন্ত যেতে পারেন না। এতে দেশের প্রবীণরা আরো ঝুঁকিতে পড়ছেন। তাই ৫০ থেকে ৬০ বছরের বয়সীদের নমুনা বাড়িতে গিয়ে সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

অবশ্য ৬০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী: করোনার ভুয়া সনদ নিয়ে কেউ ইতালি যাননি
                                  

রিজেন্ট ও জেকেজিকাণ্ডে দেশে তোলপাড় চলছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে সমালোচনা হয়েছে বর্হিবিশ্বেও। এমনকি যাত্রীদের কাছে করোনার ভুয়া রিপোর্ট পাওয়ার পর বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটকে এয়ারপোর্ট থেকেই ফেরত পাঠিয়েছে ইতালি। এছাড়া দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে বাংলাদেশে করোনার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে। তবে এত কিছুর পরও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলছেন, করোনার জাল সার্টিফিকেট নিয়ে কেউ ইতালি যাননি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতালি যাওয়া যাত্রীদের কারো কারো কাছে করোনাভাইরাসের ভুয়া ‘নেগেটিভ’ সার্টিফিকেট ছিল, কিছু গণমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবরটি সঠিক নয়। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যারা ইতালি গিয়েছিলেন তারা কেউই রিজেন্ট হাসপাতাল কিং জেকেজির কাছে নমুনা পরীক্ষা করাননি। সুতরাং সেই সার্টিফিকেটগুলো যথার্থ ছিল। তাছাড়া ইতালি কিন্তু তাদের দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে করোনার সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করে দেয়নি।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ইতালি যাওয়া একটি ফ্লাইটের বেশকিছু যাত্রীর শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত করা হয়, যদিও তাদের কাছে নেগেটিভ সার্টিফিকেট ছিল। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইতালি সরকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করার পাশপাশি বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ও যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো ট্রানজিট ফ্লাইটে বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিকও বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে ঢুকতে পারবে না।

চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা জাতীয় ওলামা পরিষদের
                                  

দেশের অর্থনীতি এবং এতিম-গরীবের হক রক্ষায় কুরবানীর পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণের দাবি জানিয়ে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জাতীয় ওলামা পরিষদের ব্যানারে দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমগণ। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

এতে বারিধারা মাদরাসার মুহতামিম আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এই দেশে রফতানি শিল্পের মধ্যে পাট, চা ও চামড়া অন্যতম। কিন্তু দেশ যখন অর্থনীতিতে অগ্রসর হচ্ছিল, এই তিনটা গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতকেই ধ্বংস করতে কুচক্রী মহল ওঠেপড়ে লেগেছে, যাতে এ দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। এখন গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটা শিল্পকে রক্ষার জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ জরুরী।

মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর) এর সভাপাতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন, আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী। উপস্থিত ছিলেন, মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা বশীর আহমদ, মাওলানা গোলাম মুহিউদ্দীন ইকরাম, হাফেজ মাওলানা আলী আকবর, মুফতি নেসার আহমদ, মাওলানা নাজমুল হাসান প্রমুখ। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মাওলানা মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসে তৎপরত সিন্ডিকেট চক্রকে প্রতিহত করে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করুন। দেশের অর্থনীতিকে রক্ষার জন্য চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরী। অন্যথায় গত বৎসরের মতো লাখ লাখ চামড়া বিনষ্ট হওয়ার মতো ঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে এবং দেশের বিপুল সংখ্যক এতিম, গরীব ও নি:স্ব মানুষ বঞ্চিত হবে।

কুরবানীর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের দাবিতে জাতীয় উলামা পরিষদের পক্ষে আগামী ১৭ জুলাই শুক্রবার বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে গণসমাবেশ এবং পরদিন ১৮জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচী ঘোষণা করে তিনি কর্মসূচী সর্বাত্মকভাবে সফলের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস বলেন, চামড়া শিল্পকে ধ্বংসের লক্ষ্যে বিদেশী এজেন্ট যারা বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রগতি চায় না, তারাই পেছন থেকে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী চাইলে দুই দিনের মধ্যেই চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে সঙ্কটের সমাধান হয়ে যেতে পারে।

সভাপতির বক্তব্যে মধুপুরের পীর বলেন, কুরবানীতে আপনার কাছে গরীবদের জন্য কোন সাহায্য-সহযোগিতা নয়, বরং চামড়ার ন্যায্য মূল্যটা নির্ধারণ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এটা এতীম-গরীবদের জন্য অনেক বেশি সহযোগিতা হবে। তাছাড়া এতে দেশের অর্থনীতিও রক্ষা হবে।

তিনি বলেন, কুরবানী মৌসুমে পশু যবাই করা হয় ওয়াজিব বিধান পালনের জন্য। কুরবানীর পশুর গোশত গরীব-মিসকীনদের মাঝেও বিলি-বণ্টন করা হয়। কুরবানীর চামড়ার সম্পূর্ণ টাকাও গরীবরাই পেয়ে থাকেন। সুতরাং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ অনুরোধ, আল্লাহর বিধান কুরবানী পালন নির্বিঘ্ন করুন এবং গরীবের হক্ব আত্মসাতে সক্রিয় সিণ্ডিকেট চক্র প্রতিহত করে চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করুন।

সরকার আর শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না: শিক্ষামন্ত্রী
                                  

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, বিভিন্ন বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা অনেকেই চাহিদা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না এবং কোনো কারিগরি শিক্ষা না থাকায় তারা বেকার থেকে যাচ্ছেন। সরকার আর এ ধরণের শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না। বৃধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে এক অনলাইন আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিমাণ শিক্ষার্থী অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করছেন, চাকরির বাজারে সে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে কিনা সেটিও ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি বিবেচনায় সরকার শিক্ষার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে অবস্থান করছি। এর আগের তিনটি শিল্প বিপ্লবের আমরা কোনো সুযোগ নিতে পারিনি। কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে দেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আমরা এর সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে চাই। পরিবর্তিত শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে আমাদের বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে।

দক্ষ মানব সম্পদের চেয়ে কোনো সম্পদই বড় নয় উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরি করতে যুব সমাজকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করাসহ শিল্পের সাথে সংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, দেশ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে শ্রমবাজারের পূর্বাভাস দেয়া, কারিকুলাম যুগোপযোগীকরণ, প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান মানোন্নয়ন, ইন্ডাস্ট্রি স্কিল কাউন্সিল গঠনসহ ন্যাশনাল টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড.আহমদ কায়কাউস-এর সভাপতিত্বে এ অনলাইন আলোচনা সভায় সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। ইউএনবি

ঈদের আগে ৫, পরে ৩ দিন গণপরিবহন বন্ধ
                                  

চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহার পাঁচ দিন আগে থেকে এবং ঈদের তিনদিন পর পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গণপরিবহন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

এমন নির্দেশনার চিঠি পাওয়ার কথা গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। আজ বুধবার সচিবালয়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে লঞ্চ, ফেরি, স্টিমার চলাচল ও যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ কর্মপন্থা নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠকের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে এবং ঈদের পরে তিনদিন গণপরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন আমরা পেয়েছি। মিটিং করে সেই আলোকেই আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ঈদে বাড়ি যেতে চায় তাদের ঈদের পাঁচ দিন আগেই যেতে হবে। যারা আসতে চায় তাদের তিন দিন পরেই আসতে হবে।’

অপরদিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, করোনা প্রতিরোধের লক্ষ্যে আসন্ন ঈদের সময় জনগণের চলাচল সীমাবদ্ধ করতে ঈদুল আজহার পাঁচ দিন আগে থেকে ও ঈদের তিনদিন পর পর্যন্ত গণপরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যানের কাছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট দেশে ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

দেশে একদিনে মৃত্যু আরও ৩৩, শনাক্ত ২৪৫৭
                                  

দেশে একদিনে করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ রোগে আরও ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ২ হাজার ৪৫৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩ হাজার ৫৩৩ জন এবং সুস্থ হয়ে উঠেছে ১ হাজার ৭৯৬ জন।

আজ বুধবার দুপুর আড়াইটায় মহাখালী থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। আর গত ১৮ মার্চ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। এরপর থেকে দিনে দিনে এর সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি
                                  

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবজনিত প্রেক্ষাপটে উন্মুক্ত স্থানে বড় পরিসরে ঈদের জামাত পরিহার করে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ জারিকৃত নির্দেশাবলি অনুসরণপূর্বক শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত খোলা মাঠ/ঈদগাহে আদায় না করে মসজিদে আদায় করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব অপরিবর্তিত থাকায় আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ আদায় সংক্রান্ত বিষয় দেশের শীর্ষ স্থানীয় আলেম ওলেমা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে ১২ জুলাই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভার আয়োজন করা হয়।

উক্ত সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জামাত অনুষ্ঠানের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থবিধি অনুসরণপূর্বক নিম্নবর্ণিত শর্তসাপেক্ষে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত মসজিদে আদায়ের জন্য আহ্বান জানানো হলো।

শর্তগুলো হলো-

ক.বর্তমানে সারা বিশ্বসহ বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিজনিত ওজরের কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এবছর ঈদুল আজহার জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত আদায় করা যাবে।

খ. ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

গ. প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

ঘ. করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

ঙ. মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

চ. ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ছ. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে এবং এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে।

জ. শিশু, বৃদ্ধ, যে কোনো ধরনের অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করবেন না।

ঝ. সর্বসাধারণের সুরক্ষার নিমিত্ত স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।

ঞ. করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ কল্পে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

ট. করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা হলো।

ঠ. খতিব, ইমাম, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার অনুরোধ করা হলো এবং

ড. পশু কোরবানির ক্ষেত্রে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের  নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটি উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবেন।

বাংলাদেশ বিমানকে কোটি টাকা জরিমানা করল সৌদি আরব
                                  

স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী উড়োজাহাজে জীবানুনাশক স্প্রে না করায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে সাড়ে ৪ লাখ রিয়াল জরিমানা করেছে সৌদি আরব। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ এক কোটি টাকারও বেশি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ঘটনায় এ জরিমানা করেছে সৌদি আরব।

গত শনিবার এ ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে বিমানের পরিচালক (প্রশাসন) জিয়াউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে জানানো হয়ে।

এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপক গ্রাউন্ড সার্ভিস ( এয়ারপোর্টে সার্ভিসেস) মো. গোলাম সারওয়ারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটিকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যেন না ঘটে, সেজন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে ১১ হাজার হাসপাতাল!
                                  

হালনাগাদ লাইসেন্স না থাকার পরও কেন রিজেন্ট হাসপাতালকে করোনা চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হল তা নিয়ে চলছে বিস্তর সমালোচনা। অথচ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, দেশের চার ভাগের তিন ভাগ হাসপাতালই চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের মাধ্যমে। এই সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। অবাক করা এই তথ্য উঠে এসেছে খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নথি থেকেই। তবে এ নিয়ে অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের মধ্যে তেমন কোনো বিকার নেই।

অধিদপ্তরের হিসেব মতে, সারা দেশে প্রায় ১৫ হাজার হাসপাতাল চিকিৎসা দিচ্ছে। এর মধ্যে ২০১৯-২০ পর্যন্ত লাইসেন্স নবায়ন করা আছে মাত্র ৪ হাজার ১৫৯টির। বাকি সব হাসপাতাল চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে। তবে অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, লাইসেন্স নবায়ন করার ৩ হাজার আবেদন তাদের কাছে জমা আছে। শিগগিরই যাচাই-বাছাই শেষে হাসপাতালগুলোর কাছে হালনাগাদ কাগজপত্র সরবরাহ করা হবে।

অবাক করা বিষয় হল, লাইসেন্স নবায়ন না করে দেশের নামকরা বেশ কয়েকটি হাসপাতাল দিব্যি চলছে। এর মধ্যে আছে বারডেম, হলি ফ্যামিলি, শাহাবুদ্দিন মেডিকেল, আনোয়ার খান মর্ডানের মতো হাসপাতাল। তবে এ নিয়ে তারা কেউই গণমাধ্যমে কোনো কথা বলতে রাজি নন। তাদের কারো প্রতিক্রিয়া শুনে মনে হয়েছে, বছরের পর বছর এভাবেই চলে আসছে দেশের হাসপাতালগুলো। রিজেন্টের প্রতারণার প্রেক্ষিতে বিষয়টি উঠে না আসলে হয়তো এ নিয়ে কেউ কর্ণপাতই করতো না।

এ নিয়ে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সংগঠন বিপিএমসিএ-এর সভাপতি ডা. মুবিন খান বলেন, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ যেভাবে বেড়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লোকবল সেভাবে বাড়েনি। তাতে করে হাজার হাজার হাসপাতালের লাইসেন্স নবায়ন করার ইস্যুটি তার ঠিকমতো হ্যান্ডেল করতে পারছে না। অনেকেই হয়তো আবেদন করেছে, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকছে সেই আবেদন। তবে আমি মনে করি, দুপক্ষেরই দ্রুত লাইসেন্স নবায়ন করা উচিত।

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৩ জনের মৃত্যু
                                  

করোনা ভাইরাসে দেশে গত একদিনে ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল দুই হাজার ৪২৪ জনে। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও তিন হাজার ১৬৩ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল এক লাখ ৯০ হাজার ৫৭ জনে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ হাজার ৯১০ জন। এখন পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছেন এক লাখ তিন হাজার ২২৭ জন।

করোনাভাইরাস বিষয়ে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুলেটিনে বরাবরের মতোই ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

বন্যাকবলিত ১৭ জেলা
                                  

দেশের চার অঞ্চলে একসঙ্গে চলমান বন্যা দ্রুতগতিতে বিস্তার লাভ করছে। ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ জেলায় শুরু হয়েছে বন্যা। রোববার পর্যন্ত ১১ জেলা ছিল বন্যাকবলিত। বর্তমানে দেশের ১৪টি নদী ২২ স্থানে প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার উপরে। আজ দুপুরের মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের আরও কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার উপরে চলে যেতে পারে।


এতে এ দুই অঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং আপার মেঘনা অববাহিকার নদ-নদীতে পানি বাড়ছে। এর মধ্যে প্রথম দুই অববাহিকায় আগামী তিন দিন আপার মেঘনা নদী অববাহিকায় আগামী ২৪ ঘণ্টা বন্যার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। তবে আশার দিক হচ্ছে, তিস্তা ও ধরলা নদীতে পানির সমতল হ্রাস পেতে পারে। এতে কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় মানুষ চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। অনেকে ইতোমধ্যে বাড়িঘর ছেড়ে গরু-ছাগল নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢলে মুহুরি নদীর ৬ স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর ১২ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) সোমবার এক বুলেটিনে বলেছে, বর্তমানে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, নাটোর, রাজবাড়ী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা এবং ফেনী জেলায় বন্যা চলছে। এসব জেলার মধ্যে প্রথম তিনটিতে বন্যার পানি নামা শুরু করতে পারে। শেষের চার জেলায় বন্যার পানি নাও বাড়তে পারে। কিন্তু বাকিগুলোয় বানের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদী মানিকগঞ্জের আরিচা, পদ্মা নদী মুন্সীগঞ্জের ভাগ্যকূল ও মাওয়া এবং কুশিয়ারা নদী শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর, শেরপুরে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। পানি বাড়ছে দক্ষিণ-পূর্ব পার্বত্য অঞ্চলের নদী সাঙ্গু, হালদা, মুহুরি এবং মাতামুহুরিতে। এ কারণে বান্দরবান ও কক্সবাজারসহ আশপাশের জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

সংস্থাটির বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, ১৪ নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার উপরে। এগুলো হচ্ছে : ধরলা, তিস্তা, ঘাগট, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, আত্রাই, পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পুরাতন সুরমা, মুহুরি, গুড় এবং সোমেশ্বরী। সংস্থাটি সারা দেশে ১০১ স্থানে নদীর প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে। এগুলোর মধ্যে এ মুহূর্তে অন্তত ২২ স্থানে বিপৎসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে নদী। ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭৮ স্থানে পানিপ্রবাহ বেড়েছে।

দেশের ভেতরে ও বাইরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এই বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানিই এই বন্যার কারণ। এফএফডব্লিউসি এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, দেশের ভেতরে ১৫টি স্থানের গত ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টিপাত রেকর্ডে দেখা যায়, ১৫তম স্থানে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬০ মিলিমিটার। এটি হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড দেখা যায় লালাখালে ১৬০ মিলিমিটার। এ ছাড়া পঞ্চগড়, নোয়াখালী, টেকনাফ, ঠাকুরগাঁও, জাফলং, শেরপুর-সিলেট, ডালিয়া, ছাতক, শেওলা, দিনাজপুর, পরশুরাম, চাঁদপুর বাগান, সাতক্ষীরা সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে দেশের বাইরে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর মধ্যে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৮৪ মিলিমিটার আর আসামের শিলচরে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সিকিমে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কমেছে। যে কারণে তিস্তা ও ধরলায় বন্যার পানিপ্রবাহ হ্রাসের আশা করছেন বন্যা বিশেষজ্ঞরা।


বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. একেএম সাইফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, দ্বিতীয় ধাপের এই বন্যা প্রথম ধাপের তুলনায় আরও আগ্রাসী। কেননা, উজানে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। আরও অন্তত এক সপ্তাহ ধরে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস আছে। জনগণকে রক্ষায় ত্রাণ ও পুনর্বাসনে নজর দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

ঘরে বসে অনলাইনে দেয়া যাবে ভ্যাটের টাকা
                                  

প্রতি মাসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রিটার্ন দাখিলের পাশাপাশি মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) টাকা পরিশোধ করে থাকে। এখন থেকে অনলাইনে ভ্যাটের টাকা ব্যাংক হিসাব থেকে সরাসরি সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া যাবে। সেলক্ষ্যে আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার ভ্যাট ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ওইদিন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।


ইতোমধ্যে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের আওতায় ই-পেমেন্ট মডিউল তৈরি করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি তিনটি ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যবস্থাটি গ্রাহক পর্যায়ে পরীক্ষামূলক যাচাই-বাছাই (ইউজার এক্সসেপটেন্স টেস্ট,ইউএটি) করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়ায় আনুষ্ঠিকভাবে এটি চালু করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কাজী মোস্তাফিজুর রহমান সোমবার বলেন, এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভ্যাটের আওতায় নিবন্ধিত ব্যক্তি নিজস্ব ব্যাংক হিসাব হতে সরাসরি ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কসহ যে কোন প্রদেয় কর সহজে, ঝুঁকিমূক্ত অবস্থায় এবং কম সময়ে সরকারি কোষাগারে পরিশোধ করতে পারবেন। ই-পেমেন্ট ব্যবস্থায় করদাতার কোন ধরনের হয়রানি থাকবে বলে তিনি জানান।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বর্তমানে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এনবিআর। মূলত নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়, যা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। তবে ভ্যাট কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন সম্পন্ন না হওয়ায় এ আইনের পুরোপুরি সুফল মিলছে না বলে মনে করেন ব্যবসায়ীসহ ভ্যাট বিশেষজ্ঞরা। ই-পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হলে নতুন আইনের ভাল সুফল পাওয়া যাবে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ই-পেমেন্টের সুযোগ পাবে। মোট ভ্যাটের ৩০ শতাংশ এসব প্রতিষ্ঠান থেকে আসে। পরে যোগ্য সব প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে।

এর আগে গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইনে মাসিক ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। তবে অনলাইনে পেমেন্ট বা ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ ছিল না। দরপত্রসহ পদ্ধতিগত জটিলতার কারণে এ কাজে দেরি হয়েছে। এখন সফটওয়্যারের কাজ সম্পূর্ণ হওয়ায় রিটার্নের সঙ্গে ভ্যাটের টাকাও জমা দেওয়া যাবে।

এনবিআর সূত্র বলছে, ই-পেমেন্ট বা অনলাইনে ভ্যাট দেওয়ার জন্য প্রাথমিকভাবে এইচএসবিসি,প্রাইম ও মিডল্যান্ড ব্যাংকের তিনটি শাখায় কার্যক্রম চালানো হয়েছে। এতে ভ্যাট পরিশোধে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। এখন পর্যায়ক্রমে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ প্রক্রিয়ার আওতায় আনা সম্ভব হবে। এ পদ্ধতির আওতায় ভ্যাট পরিশোধের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাটের চালানের কপি বাংলাদেশ ব্যাংক, সিজিএ ও ভ্যাট অফিসে চলে যাবে। এক কপি যাবে ভ্যাটদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে। এতে ভ্যাটের হিসাবে আরও স্বচ্ছতা আসবে এবং ফাঁকির সুযোগ বন্ধ হবে।

অন্যদিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্যাট রিফান্ডের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্যও কাজ চলছে। প্রকল্পের আওতায় কিছু সফটওয়্যার সেভাবে সাজানো হচ্ছে। এটাও ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভ্যাট অটোমেশনের বড় সংস্কার হিসেবে ভাবা হচ্ছে রিফান্ডকেও। অর্থাৎ ভ্যাটদাতারা নিয়ম অনুযায়ী যে রেয়াত সুবিধা পান, তা ফেরত পাওয়া। এটা এখনও ম্যানুয়াল বা প্রচলিত প্রথায় ফেরত পান ব্যবসায়ীরা। এতে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে চেক অটোমেটিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। এর জন্য অফিসে আসতে হবে না। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এটা হলে অংশীজনরা যেমন উপকৃত হবেন, পাশাপাশি সরকারও লাভবান হবে বলে জানান তিনি।

ভ্যাট অনলাইনের আওতায় এ পর্যন্ত নিবন্ধন নিয়েছে এক লাখ ৬৬ হাজার প্রতিষ্ঠান। মাসে গড়ে একশ’ থেকে দেড়শ’ প্রতিষ্ঠান নতুন নিবন্ধন নিচ্ছে। তবে নিবন্ধন নিলেও সবাই মাসিক রিটার্ন জমা দেয় না। গড়ে প্রতি মাসে ৪২ হাজারের মত প্রতিষ্ঠান রিটার্ন দাখিল করে। অনলাইনের বাইরেও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে এখনও রিটার্ন জমা নেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয়। এক মাসের রিটার্ন পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে জমা দিতে হয়। তা না হলে জরিমানা ও সুদ নেওয়ার নিয়ম রয়েছে আইনে। তবে করোনার কারণে আগামী কয়েক মাস সুদ মওকুফ করেছে সরকার।
বাসস


   Page 1 of 441
     জাতীয়
স্থানীয়ভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
৩ ধরনের গাছ লাগানোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
দেশে একদিনে মৃত্যু ৩৯, শনাক্ত ২,৭৩৩
.............................................................................................
রিজেন্ট-জেকেজি স্বাস্থ্যখাতে লাগামছাড়া দুর্নীতির ছোট উদাহরণ মাত্র : টিআইবি
.............................................................................................
কোভিড টেস্টের ফল ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জানানোর নির্দেশ
.............................................................................................
পররাষ্ট্রমন্ত্রী: করোনার ভুয়া সনদ নিয়ে কেউ ইতালি যাননি
.............................................................................................
চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা জাতীয় ওলামা পরিষদের
.............................................................................................
সরকার আর শিক্ষিত বেকার তৈরি করতে চায় না: শিক্ষামন্ত্রী
.............................................................................................
ঈদের আগে ৫, পরে ৩ দিন গণপরিবহন বন্ধ
.............................................................................................
দেশে একদিনে মৃত্যু আরও ৩৩, শনাক্ত ২৪৫৭
.............................................................................................
আসন্ন ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি
.............................................................................................
বাংলাদেশ বিমানকে কোটি টাকা জরিমানা করল সৌদি আরব
.............................................................................................
মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সে চলছে ১১ হাজার হাসপাতাল!
.............................................................................................
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় ৩৩ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
বন্যাকবলিত ১৭ জেলা
.............................................................................................
ঘরে বসে অনলাইনে দেয়া যাবে ভ্যাটের টাকা
.............................................................................................
বেড়েই চলেছে সংক্রমণ, স্কুলে ফেরার ঝুঁকিতে কোটি শিশু
.............................................................................................
যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম আর নেই
.............................................................................................
ঈদুল আজহার ছুটি ৩ দিনই, থাকতে হবে কর্মস্থলে
.............................................................................................
দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩,০৯৯
.............................................................................................
দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৪৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৬৬
.............................................................................................
ঈদ উপলক্ষে আজ টিসিবির পণ্য বিক্রি শুরু
.............................................................................................
এ সময় জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন: হাছান মাহমুদ
.............................................................................................
কোরবানির চামড়া নিয়ে এবারো বিশৃঙ্খলার শঙ্কা
.............................................................................................
বিমানে আবুধাবি ও দুবাইগামী যাত্রীদের ‘করোনামুক্ত’ সনদ লাগবে
.............................................................................................
মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরছেন ১৫ লাখ প্রবাসী!
.............................................................................................
দেশে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আরও ৩০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৬৮৬
.............................................................................................
তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে, খুলে দেয়া হয়েছে ৪৪টি জলকপাট
.............................................................................................
কুয়েত থেকে দেশে ফেরার আশঙ্কায় আড়াই লাখ বাংলাদেশী
.............................................................................................
বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা বাংলাদেশের সামনে?
.............................................................................................
কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত ঢাকা নারায়ণগঞ্জ গাজীপুর চট্টগ্রামে পশুর হাট নয়
.............................................................................................
ঈদুল আযহার পর বাড়তে পারে করোনার সংক্রমণ, আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের
.............................................................................................
বায়ুবাহিত করোনা সংক্রমণে কী করণীয়?
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৩৭ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ২৯৪৯
.............................................................................................
কোয়ারেন্টিনের উদ্দেশ্যে হজক্যাম্পে নেয়া হল ইতালি ফেরতদের
.............................................................................................
দেশের অধিকাংশ এলাকার উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে
.............................................................................................
সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
চোর ধরে আমরাই হয়ে যাচ্ছি চোর : প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর বৃদ্ধি পেতে পারে
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৪১ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৩৬০
.............................................................................................
পরিবারের উপার্জন সংকটে লাখো শিশু ক্ষুধার্ত, বাড়ছে শিশু শ্রম
.............................................................................................
১২৫ বাংলাদেশী যাত্রীকে ইতালি প্রবেশে বাধা, একই বিমানে ফেরত
.............................................................................................
দুবাই থেকে ফিরলেন আরো ১৫৩ জন বাংলাদেশী
.............................................................................................
আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার বিল জাতীয় সংসদে পাস
.............................................................................................
করোনায় মৃত প্রবাসীর পরিবার পাবে ৩ লাখ টাকা করে: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশে করোনায় আরও ৪৬ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩,৪৮৯
.............................................................................................
`মাস্ক পরুন, নিরাপদ থাকুন`
.............................................................................................
বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
সাত দেশ ছাড়া সব দেশের ফ্লাইট বাংলাদেশে নিষিদ্ধ
.............................................................................................
শুল্ক কমিয়ে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত সরকারের
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD