| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষিজগৎ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’

 আমন ও বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী তিনটি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এগুলো হলো রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান ৯০ ও বোনা আমনের জাত ব্রি ধান ৯১ এবং বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান ৯২। ব্রি ধান ৯০-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি পাঁচ টন। এ ফলন আমন মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে হেক্টরে এক থেকে ১.৪ টন বেশি।

ব্রি ধান ৯১-এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২.৩৭ টন যা স্থানীয় জাত ফুলকরির চেয়ে ১.৫ টন বেশি। আর বোরো জাত ব্রি ধান ৯২-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টর প্রতি ৯.৩ টন ফলন দিতে সক্ষম। জাতীয় বীজ বোর্ডের বুধবারের সভায় নতুন এ জাতগুলো চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, নতুন উদ্ভাবিত জাত ব্রি ধান ৯০-এ আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর দানার আকৃতি ব্রি ধান ৩৪-এর মতো হালকা সুগন্ধযুক্ত। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার। এ জাতের গড় জীবনকাল ১১৭ দিন, যা ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে ২১ দিন আগাম। এর চাষাবাদের জন্য সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের মতোই, তবে ইউরিয়া সারের পরিমাণ এতে কিছুটা কম প্রয়োজন হয়। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.২ শতাংশ এবং প্রোটিন ১০.৩ শতাংশ।

এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ১২.৭ গ্রাম। ব্রি ধান ৯০ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর কা- শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া ও ফুল প্রায় এক সঙ্গে ফোটে বিধায় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। এর গড় ফলন পাঁচ টন হলেও উপযুক্ত পরির্চযায় এটি সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। আশা করা হচ্ছে, নতুন উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুঁড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে। নতুন উদ্ভাবিত অপর বোনা আমনের জাতটি হলো ব্রি ধান ৯১। এ জাতের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো, এর পাতা গাঢ় সবুজ রঙের ও ডিগপাতা খাড়া।

গাছের চারা বেশ লম্বা ও দ্রুত বর্ধনশীল। এ জাতের ধানগাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। এটি মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলঙ্গেশন গুণ সম্পন্ন অর্থাৎ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিু। এ জাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরে হেলে পড়লেও গাছের কা- শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। এটি মুড়ি ফসল হিসেবে চাষ উপযোগী। এর গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন যা স্থানীয় জলি আমন ধানের জাতের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগাম। এর এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৬ গ্রাম। এর ভাত ঝরঝরে ও সাদা। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা জলি আমনের জাতের মধ্যে আছে মানিকগঞ্জ অঞ্চলে দীঘা, দুধবাওয়াইলা, ঝিঙ্গাশাইল, ভেপা; ফরিদপুর অঞ্চলে বাইল্যা দীঘা, খইয়ামটর এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ফুলকুড়ি, কাইত্যা বাগদার ইত্যাদি। এসব স্থানীয়জাত থেকে ব্রি ধান ৯১ হেক্টরে অন্তত এক টন ফলন বেশি দেয়।

এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে মোট ধান উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী অপর জাতটি ব্রি ধান ৯২। এ ধান চাষে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করেও ব্রি ধান ২৯-এর সমান ফলন পাওয়া যায়। সেজন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে যেখানে পানির স্তর নিচে নেমে যায় সেখানে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। ড. মো. শাহজাহান কবীর আরো জানান, ব্রি ধান ৯২ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯-এর সমান অর্থাৎ ১৫৬-১৬০ দিন। এ জাতের কা- শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া। এ ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতার উপরে থাকে। এর চাল লম্বা ও সোজা। এ জাত হেক্টরে গড়ে ৮.৪ টন ফলন দেয়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরে ৯.৩ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৭ সেন্টিমিটার। এ জাতের গাছের কা- শক্ত। তাই গাছ লম্বা হলেও হেলে পড়ে না। এর দানা লম্বা ও চিকন। এর পাতা হালকা সবুজ রঙের।

ডিগপাতা খাড়া এবং ব্রি ধান ২৯-এর চেয়ে প্রশস্ত। এ ধান পাকার সময় কা- ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩.৪ গ্রাম। এ জাতের ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬ ভাগ। ব্রির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
                                  

 আমন ও বোরো মৌসুমে চাষের উপযোগী তিনটি নতুন উচ্চ ফলনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। এগুলো হলো রোপা আমনের প্রিমিয়াম কোয়ালিটি জাত ব্রি ধান ৯০ ও বোনা আমনের জাত ব্রি ধান ৯১ এবং বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী জাত ব্রি ধান ৯২। ব্রি ধান ৯০-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি পাঁচ টন। এ ফলন আমন মৌসুমের জনপ্রিয় জাত ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে হেক্টরে এক থেকে ১.৪ টন বেশি।

ব্রি ধান ৯১-এর হেক্টর প্রতি গড় ফলন ২.৩৭ টন যা স্থানীয় জাত ফুলকরির চেয়ে ১.৫ টন বেশি। আর বোরো জাত ব্রি ধান ৯২-এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.৩ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় এ জাত হেক্টর প্রতি ৯.৩ টন ফলন দিতে সক্ষম। জাতীয় বীজ বোর্ডের বুধবারের সভায় নতুন এ জাতগুলো চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীরসহ কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় বীজ বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানান, নতুন উদ্ভাবিত জাত ব্রি ধান ৯০-এ আধুনিক উচ্চ ফলনশীল ধানের সব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। উচ্চমাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর দানার আকৃতি ব্রি ধান ৩৪-এর মতো হালকা সুগন্ধযুক্ত। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১১০ সেন্টিমিটার। এ জাতের গড় জীবনকাল ১১৭ দিন, যা ব্রি ধান ৩৪-এর চেয়ে ২১ দিন আগাম। এর চাষাবাদের জন্য সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের মতোই, তবে ইউরিয়া সারের পরিমাণ এতে কিছুটা কম প্রয়োজন হয়। এ ধানে অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৩.২ শতাংশ এবং প্রোটিন ১০.৩ শতাংশ।

এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন ১২.৭ গ্রাম। ব্রি ধান ৯০ জাতের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর কা- শক্ত, সহজে হেলে পড়ে না এবং ধান পাকার পরও গাছ সবুজ থাকে। এ জাতের ডিগপাতা খাড়া ও ফুল প্রায় এক সঙ্গে ফোটে বিধায় দেখতে খুব আকর্ষণীয় হয়। এর গড় ফলন পাঁচ টন হলেও উপযুক্ত পরির্চযায় এটি সাড়ে পাঁচ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। আশা করা হচ্ছে, নতুন উদ্ভাবিত এ জাত স্থানীয় জাত চিনিগুঁড়া এবং চিনি আতপের বিকল্প হিসেবে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণ করবে। নতুন উদ্ভাবিত অপর বোনা আমনের জাতটি হলো ব্রি ধান ৯১। এ জাতের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য হলো, এর পাতা গাঢ় সবুজ রঙের ও ডিগপাতা খাড়া।

গাছের চারা বেশ লম্বা ও দ্রুত বর্ধনশীল। এ জাতের ধানগাছের গড় উচ্চতা ১৮০ সেন্টিমিটার এবং সহজে হেলে পড়ে না। এটি মধ্যম মাত্রার স্টেম ইলঙ্গেশন গুণ সম্পন্ন অর্থাৎ পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এটি বাড়তে পারে এবং এটি জলমগ্নতা সহিু। এ জাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পরে হেলে পড়লেও গাছের কা- শক্তভাবে দাঁড়াতে পারে। এটি মুড়ি ফসল হিসেবে চাষ উপযোগী। এর গড় জীবনকাল ১৫৬ দিন যা স্থানীয় জলি আমন ধানের জাতের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগাম। এর এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৬ গ্রাম। এর ভাত ঝরঝরে ও সাদা। এ জাতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম হয়। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে চাষ করা জলি আমনের জাতের মধ্যে আছে মানিকগঞ্জ অঞ্চলে দীঘা, দুধবাওয়াইলা, ঝিঙ্গাশাইল, ভেপা; ফরিদপুর অঞ্চলে বাইল্যা দীঘা, খইয়ামটর এবং কুমিল্লা অঞ্চলে ফুলকুড়ি, কাইত্যা বাগদার ইত্যাদি। এসব স্থানীয়জাত থেকে ব্রি ধান ৯১ হেক্টরে অন্তত এক টন ফলন বেশি দেয়।

এ জাত দেশের এক মিটার উচ্চতার গভীর পানির বন্যাপ্রবণ অঞ্চলে পাঁচ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারলে মোট ধান উৎপাদন প্রায় পাঁচ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া বোরো মৌসুমের পানি সাশ্রয়ী অপর জাতটি ব্রি ধান ৯২। এ ধান চাষে তুলনামূলক কম পানি ব্যবহার করেও ব্রি ধান ২৯-এর সমান ফলন পাওয়া যায়। সেজন্য বরেন্দ্র অঞ্চলে শুকনো মৌসুমে যেখানে পানির স্তর নিচে নেমে যায় সেখানে এটি চাষ করে সুফল পাওয়া যাবে। ড. মো. শাহজাহান কবীর আরো জানান, ব্রি ধান ৯২ জাতের জীবনকাল ব্রি ধান ২৯-এর সমান অর্থাৎ ১৫৬-১৬০ দিন। এ জাতের কা- শক্ত, পাতা হালকা সবুজ এবং ডিগপাতা চওড়া। এ ধানের ছড়া লম্বা ও ধান পাকার সময় ছড়া ডিগপাতার উপরে থাকে। এর চাল লম্বা ও সোজা। এ জাত হেক্টরে গড়ে ৮.৪ টন ফলন দেয়। তবে উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে হেক্টরে ৯.৩ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের পূর্ণ বয়স্ক গাছের গড় উচ্চতা ১০৭ সেন্টিমিটার। এ জাতের গাছের কা- শক্ত। তাই গাছ লম্বা হলেও হেলে পড়ে না। এর দানা লম্বা ও চিকন। এর পাতা হালকা সবুজ রঙের।

ডিগপাতা খাড়া এবং ব্রি ধান ২৯-এর চেয়ে প্রশস্ত। এ ধান পাকার সময় কা- ও পাতা সবুজ থাকে। এ জাতের এক হাজারটি পুষ্ট ধানের ওজন প্রায় ২৩.৪ গ্রাম। এ জাতের ধানে ভাত ঝরঝরে করার উপাদান অ্যামাইলোজের পরিমাণ ২৬ ভাগ। ব্রির বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, নতুন জাত তিনটি কৃষক পর্যায়ে জনপ্রিয় হবে এবং সামগ্রিকভাবে ধান উৎপাদন বাড়বে।

রংপুরে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
                                  

 বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিউট (বিনা) কর্তৃক উদ্ভাবিত আউশ ধানের আন্তবর্তিকালীন পরিচর্যা ও আমন মৌসুমের জাত পরিচিতি ও চাষাবাদ কৌশল শীর্ষক কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয় । শুক্রবার দিনব্যাপী রংপুর বিনা উপকেন্দ্রের ট্রেনিং হলে আয়োজন করা হয়।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপপরিচালক ড, মোঃ সরওয়ারুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিনা মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ কামরুজ্জামান, কৃষি মন্ত্রণালয় মনিটরিং কর্মকর্তা শেখ আনসার আলী ,বিনা রংপুর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোঃ তানজিলুর রহমান মন্ডল।

অনুষ্ঠনের সভাপতিত্ত্ব করেন অত্র উপকেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনিস্টিটিঁউট বিনা কর্তৃক উদ্ভাবিত “বিনাসরিষা-১৭” আমন মৌসুমে স্বল্প জীবনকালীন ও উচ্চফলনশীল হওয়ায় আগাম আমন ধান কর্তনের খুব সহজেই রবি ফসল করতে পারবে ফলে শস্য নিবিড়তা বৃদ্ধি পাবে ।

বিনা উপকেন্দ্র রংপুর তাজহাট এর মাধ্যমে পরিবর্তিত আবহাওয়া উপযোগী বিভিন্ন ফল ও ফসলের জাত উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়নে, রংপুর জেলার বিনা উপকেন্দ্র ট্রেনিং হলে ১০০ জন কৃষক-কৃষানীর অংশগ্রহণে আউশ ও আমন মৌসুমে বিনা উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প জীবনকালীন সরিষার জাত বিনাধান-১৯, বিনাধান-৭, বিনাধান-১১, বিনাধান-১৫, বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭ ও বিনাধান-২০, এর প্রচার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

উৎপাদন খরচের সঙ্গে শ্রমের মূল্য যোগ করে ধানের মণ হওয়া উচিত ১২শ টাকা: বারকাত
                                  

উৎপাদন খরচের সঙ্গে শ্রমের মূল্য যোগ করে এবার ধানের দাম প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে কৃষকের সেই দাম প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। আসন্ন বাজেট নিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অর্থনীতি সমিতির প্রস্তাব তুলে ধরার সময় এই আহ্বান জানান। এবার বোরো ধান আবাদ করে উৎপাদন খরচ উঠছে না বলে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। মাঠের পাকা ধানে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

বারকাত বলেন, এবছর বোরো ধানে কৃষকের প্রকৃত লোকসান হবে কমপক্ষে ৫০০ টাকা। এ নিয়ে সরকারের চিন্তিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। এবার বোরো ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৪০ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত রয়েছে সরকারের। কিন্তু সরকারি কেনায় দেরি হওয়ায় ৫০০-৬০০ টাকায় দালালদের কাছে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন অনেক কৃষক। অর্থনীতির অধ্যাপক বারকাত বলেন, বর্তমানে প্রতিমন বোরো ধান উৎপাদনে ৬০০ টাকার বেশি উৎপাদন খরচের যে হিসাবটি দেওয়া হয়, তা সংশ্লিষ্ট কৃষাণ ও কৃষাণীর পারিশ্রমিক বাদ দিয়ে করা হয়। ওই পারিশ্রমিক হিসাব করলে আরও বেশি। তাই বোরো ধানের বিক্রয় মুল্য এক হাজার ২০০ টাকা করা উচিৎ। সরকারকে তিনি বলেন, সরকারিভাবে সংগ্রহের ক্রয়মূল্য শুধু উৎপাদন খরচের তুলনায় কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়ালেই হবে না। নিশ্চিত করতে হবে, প্রকৃত কৃষকই যেন ঝামেলা ছাড়াই ওই বাজারমূল্য পান। কৃষকদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা এবং কৃষিঋণ মওকুফের সুপারিশও করেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি।

দেশকে খাদ্যে স্বয়সম্পূর্ণ রাখতে হলে একজন কৃষক যখন উৎপাদনে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন, তখন তার জন্য স্বল্পসুদে পারলে বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো কারণে ফসল মার খেলে বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে ফসল নষ্ট হয়ে গেলে, ওই ঋণ মওকুফ করে দিতে হবে। আগামী অর্থবছরের জন্য অর্থমন্ত্রীর আভাসের চেয়ে দ্বিগুণ অঙ্কের বাজেটের প্রস্তাব দিয়ে তার অর্থ সংস্থানে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বড় তিনটি ক্ষেত্র দেখান তিনি। এই তিনটি হচ্ছে- পাচার হওয়া ও কালো টাকা উদ্ধার এবং সম্পদ কর। এই তিনটি নতুন উৎস থেকেই সরকার মোট ৯৫ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে পারেন। আর এ টাকা দিয়ে প্রতি বছর তিনটি পদ্মা সেতু করা সম্ভব, বলেছেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ১২ লাখ ৪০ হাজার ৯০ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেন তিনি। আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে আগামি অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটের অঙ্ক সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকা হতে পারে বলেও আভাস দিয়েছেন তিনি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম বাজেটে কর না বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়ানোর নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের কথা বলে আসছেন মুস্তফা কামাল। অর্থনীতি সমিতি তাদের প্রস্তাবিত বিশাল বাজেটে রাজস্ব আয় ধরেছে ১০ লাখ ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬৯ শতাংশ প্রত্যক্ষ কর ও ৩১ শতাংশ পরোক্ষ কর। মোট বাজেট বরাদ্দের প্রায় ৮১ শতাংশের জোগান আসবে রাজস্ব আদায় থেকে। অর্থপাচার রোধ, কালো টাকা উদ্ধার ও সম্পদ করসহ রাজস্ব আদায়ের আরও নতুন উৎস দেখিয়ে বারকাত বলেন, আমাদের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের ২০টি নতুন উৎস নির্দিষ্ট করেছি, যা আগে ছিল না। ২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ঘাটতির এই বিকল্প বাজেটে অর্থায়নে কোনো বৈদেশিক ঋণের প্রয়োজন হবে না বলে দাবি করেন তিনি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে কমপক্ষে ৫ লাখ ভ্যাট লাইসেন্সধারীকে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছে অর্থনীতি সমিতি। এনবিআর ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে বাংলাদেশের ভ্যাট লাইসেন্সধারীর সংখ্যা প্রায় ৯ লাখ। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে বড়জোর ১ লাখ লাইসেন্সধারীর কাছ থেকে বর্তমানে ভ্যাট আদায় হয়। খেলাপি ঋণের প্রসঙ্গে জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান বারকাত করেন, অভ্যাসগত ঋণ খেলাপিদের মোকাবেলার জন্য সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে তাদের পূর্ণউদ্যমে চালু শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ঠিক হবে না। সমস্যাটি জটিল, তবে সমাধান সম্ভব বলে মনে করি। বিকল্প বাজেটে খাতওয়ারি বরাদ্দে শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে মোট ২ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে অর্থনীতি সমিতি। এরপর রয়েছে জনপ্রশাসন, পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাত। কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে ১ লাখ ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে কমপক্ষে ২ লাখ বিঘা খাস জমি বন্দোবস্ত এবং ২০ হাজার জলাহীন প্রকৃত মৎস্যজীবী পরিবারের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ হাজার বিঘা খাস জলাশয় বন্দোবস্ত দেওয়ার সুপারিশ করেছে সমিতি। ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ ও বীমার ব্যবস্থার পাশাপাশি চলতি বোরো মৌসুমে সঙ্কটে পড়া কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছে তারা। কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিয়ে অর্থনীতির অধ্যাপক বারকাত বলেন, দেশে প্রতিবছর ৩০ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, কিন্তু তার মধ্যে ২০ লাখ মানুষেরই কর্মসংস্থান হয় না। কর্মসংস্থান বাড়ানো ও বেকারত্ব কমাতে ‘জাতীয় কর্মসংস্থান পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কোষ’ গঠন, যুবকদের উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবক হতে উৎসাহিত করতে স্টার্ট আপ পুঁজি সরবরাহ এবং শিক্ষাখাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫% বরাদ্দের প্রস্তাব দেন বারকাত।

তামাকে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, তামাকের ওপর শুল্কারোপের ক্ষেত্রে কয়েক স্তরবিশিষ্ট মূল্যস্তর বাতিল করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের উপর কমপক্ষে ৬০ টাকা আবগারি শুল্ক, প্রতি ২৫ শলাকার বিড়ির উপর ১৫ টাকা আবগারি শুল্ক, আর প্রতি ১০০ গ্রাম ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্যের ওপর ১৫০ টাকা আবগারি শুল্ক আরোপ করা হোক। নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে দরিদ্র নারীদের সরকারিভাবে ক্ষুদ্র-অনুদান, প্রশিক্ষণ, গার্মেন্টসসহ কর্মজীবী নারীদের আবাসন ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, একশভাগ নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ৪ গুণ বাড়ানো, ক্রীড়া খাতে নারীদের জন্য বরাদ্দ ৪ গুণ বাড়ানো, মাধ্যমিক স্কুলে মেয়েদের বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ ৩ গুণ বাড়ানো এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বরাদ্দ ৩০ গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে অর্থনীতি সমিতি। তাদের আরও কয়েকটি সুপারিশ হচ্ছে- ব্যক্তি পর্যায়ে করহার কমিয়ে ৩ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে রাখা, বছরে কমপক্ষে ১ কোটি টাকা আয়কর দেওয়ার যোগ্য মানুষের সংখ্যা ৫০ হাজারে বাড়ানো, প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্দিষ্ট উপখাতভিত্তিক কমপক্ষে ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা ইত্যাদি। বারকাত বলেন, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালের বাজেট।

আসন্ন অর্থবছরের বাজেট হতে হবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন আমাদের ‘স্বাধীনতার ঘোষণার’ সঙ্গে সম্পূর্ণ সাযুজ্যপূর্ণ, বাজেট হতে হবে আমাদের ১৯৭২ এর মূল সংবিধানের সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতিপূর্ণ। স্বাগত বক্তব্যে অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের বিকল্প বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ফল। তাও সমিতির গুটিকয়েক ব্যক্তির। আর সরকার যে খসড়া বাজেট আগামি জুন মাসে সংসদে উত্থাপন করবে, তা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দেশি-বিদেশি পরামর্শকসহ কয়েক হাজার কর্মকর্তার যৌথ কর্মকা-।

 

কুড়িগ্রামে তিন কেজি ধানের দামে ১ কেজি লবণ
                                  

 চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ধানের ভালো ফলন দেখে কৃষকের যেমন আনন্দে মন ভরে গিয়েছিল ঠিক ফসল ঘরের তোলার সময় ধানের দাম না থাকায় কৃষকরা যেন নির্বাক হয়ে পড়েছে। ৩ কেজি ধানের মুল্যে ১ কেজি লবণ মিললেও এক মণ ধানে মিলছে না ১ কেজি মাংস কিংবা মাছ। জানা গেছে, কুড়িগ্রামের চিলমারীতে চলতি বোরো মৌসুমে ফলন বেশ ভালো হয়েছিল।

ফলন দেখে কৃষকরাও বেশ খুশি ছিল, ছিল নানান স্বপ্ন, ছিল বুক ভরা আশা। কিন্তু আশা আর স্বপ্ন বিলিন করে দিয়েছে ধানের নিন্ম দাম। ধানের দাম নিয়ে অখুশি হয়ে পড়েছে কৃষক। উজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ধান প্রতি মন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। অথচ এক কেজি গরুর মাংসের দাম ৫৪০ টাকা খাশির মাংস ৭০০ টাকা এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৪শত টাকা থেকে ১২শত টাকা। কৃষক নজির হোসেন বলেন, ৬০ শতক জমির ধান চাষ ও সার বাবদ খরচ যা হয়েছে এখন ধান কাটতে শ্রমিককে দিতে বাকিটাও প্রায় শেষ। এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে মণ প্রতি প্রায় দেড়শত টাকা পর্যন্ত। কৃষক হোসেন আলী বলেন, ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মুল্য দিতেই মুলধন শেষ এছাড়াও ধানে দাম না থাকায় কেউ জমি বর্গা নিতেই চাচ্ছেনা।

খয়বার হোসেন নামের একজন কৃষক বলেন, কৃষকেরা ধান বিক্রি করতে গেলে দাম পান না। কিন্তু কিনতে গেলে দাম চড়া। গরু বিক্রি করতে গেলে দাম কমে যায়। অথচ এখন এক মণ ধান বিক্রি করেও এক কেজি গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে না। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে ৬হাজার ৮শত ৪০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৩৭ হাজার ৬শত ৭৫ মেঃটন ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ খালেদুর রহমান বলেন, এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই এছাড়াও আমরা কৃষকদের বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছে যেন তারা ক্ষতির মুখে না পড়ে এবং লোকসান হলেও তা পুষিয়ে নিতে পারে।

সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক
                                  

কৃষকদের ধানের নায্য দাম দিতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু করেছেন নাটোরের জেলা প্রশাসক মো. শাহিরিয়াজ। মঙ্গলবার দুপুরে নাটোর সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের দস্তানাবাদ গ্রামে খাদ্য বিভাগ ও কৃষিবিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ধান কিনেন জেলা প্রশাসক।

 

প্রথমদিনে এখান থেকে ৯৬ মেট্রিক টন ধান কেনা হয়। কৃষি বিভাগ ধানের গুনগত মানের প্রত্যায়ন দিলেই কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ধান। বর্তমান বাজারে ৫ থেকে ৬ শ টাকা মণ বিক্রি হলেও সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৪০ টাকা মণে ধান বিক্রি করে খুশী কৃষকরা।

 

জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ জানান, মধ্যসত্ত্বভোগীরা যাতে সুবিধা গ্রহণ না করতে পারে সে জন্য কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হচ্ছে। তবে উত্পাদনের চেয়ে কেনার লক্ষ্য মাত্রা খুবই কম। তাই কেনার লক্ষ্য বৃদ্ধির জন্য তিনি সরকারের কাছে আবেদন করবেন বলে জানান।

 

চলতি মৌসুমে নাটোর জেলায় ৬১ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উত্পাদন হয়েছে। আর সরকারীভাবে নাটোর জেলায় ২ হাজার ১১৫ মেট্রিক টন ধান এবং ১৪ হাজার ২০৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ করা হবে।

নওগাঁর আত্রাইয়ে বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহের উদ্বোধন
                                  

 নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর আত্রাইয়ে বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকরা হয়েছে। 

গতকাল মোঙ্গলবার সকাল ১১টায় আত্রাই খাদ্য গুদামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ছানাউল ইসলাম প্রধান অতিথি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ¦ এবাদুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আত্রাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরুন্নবী,উপজেলা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) নুরুজ্জামান, আত্রাই চাল কল মালিক গ্রুফ সভাপতি অহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক হেলালুজ্জামান হেলাল, আত্রাই মডেল প্রেস ক্লাব সভাপতি একেএম কামাল উদ্দিন টগর,সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা পারভীন েিপ্রাপ্রাইটার শলা, আরিফ অটো রাইসমিল প্রোপ্রাইটার আন্জু ইসলাম বারনী তল, মহাদিঘী, হাসনা হেনা রাইস মিল প্রোপ্রাইটার হারুন অর- রশীদ, সুমি রাইস মিল প্রোপ্রাইটার আবুবক্কর সিদ্দিক জাত-আমরুল,কাজেম চাল কল প্রোপ্রাইটার সাইদুর রহমান বাবু, কাজী পাড়া, মোঃ আজিমুদ্দিন প্রধান শিক্ষক আত্রাই পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় ও চাল কল মালিক জগদাশ বাজার, উপজেলা যুব লীগ সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সাবেক উপজেলা ছাত্র লীগ সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম চঞ্চল সহ আত্রাই চাল কল মালিক গ্রুফ এর সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নুরু-ন্নবী জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ম্টে ২২৪৫ মেঃটন সিদ্ধ চাল প্রতিকেজিঃ ৩৬টাকা এবং ২৭৬ মেঃটন আতব চাল প্রতি কেজিঃ
৩৫টাকা দরে ১৪ মে থেকে ক্রয় শুরু হয়েছে তাহা আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত সরকারী ভাবে প্রতিটি মিল মালিকেরে অনুলে বরাদ্ধ অনুসারে ক্রয় করা হবে।

রংপুর জেলার এবার ২৫ হাজার ১ শত ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ হাজার ৯ শত ৯৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে
                                  

সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, রংপুর :

 রংপুর জেলার আট উপজেলায় এবার ২৫ হাজার ১ শত ৯০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৭শত ২৬ মেট্রিক টন আতপ চাল ও ৩ হাজার ৯ শত ৯৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য গুদামে সংগ্রহ অভিযানের আনুষ্টানিক উদ্ধোধন করেন রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরিক) জাকির হোসেন। বক্তব্য রাখেন রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রইচ উদ্দিন সরকার, রংপুর জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক তহিদুর রহমান টুটুল, রংপুর জেলা মিল মালিক সমিতির সভাপতি হাসান আলী মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, রংপুর সদর উপজেলা চাউলকল মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক সামছুল আলম বাবু প্রমুখ।


রংপুর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রইচ উদ্দিন সরকার জানান, এবার রংপুর জেলার কাউনিয়া, গংগাচড়া, তারাগঞ্জ, বদরগঞ্জ, পীরগঞ্জ, মিঠাপুকুর, পীরগাছা ও রংপুর সদও উপজেলায় ২৫ হাজার ১শত ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ হাজার ৯ শত ৯৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। এছাড়াও আতপ চাল গংগ্রহ করা হবে ৭ শত ২৬ মেট্রিক টন।


সংগ্রহ অভিযানের লক্ষে জেলা খাদ্য বিভাগ ৮শত ৯৪ জন ডিলারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। রংপুর সদর উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৪ শত ৮০ মেট্রিক টন, চাল ৪ হাজার ৬ শত ৮৪ মেট্রিক টন। বদরগঞ্জ উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৫ শত ২৩ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহ করা হবে ২ হাজার ১ শত ৩৫ মেট্রিক টন। মিঠাপুকুর উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ১ হাজার ৩৮ মেট্রিক টন, চাল সংগ্রহ করা হবে ৫ হাজার ১ শত ৮৫ মেট্রিক টন।

পীরগঞ্জ উপজেলায় ধন সংগ্রহ করা হবে ৬ শত ৯১ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহ করা হবে ৫ হাজার ৩ শত ৯১ মেট্রিক টন। তারাগঞ্জ উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ২ শত ৪৫ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহ করা হবে ২ হাজার ৩ শত ৭৯ মেট্রিক টন। গংগাচড়ায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৩ শত ৪৩ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহ করা হবেগ ১ হাজার ২ শত ৯৪ মেট্রিক টন। কাউনিয়ায় ধান সংগ্রহ করা হবে ২ শত ৩৩ মেট্রিক ও চাল ১ হাজার ৪ মেট্রিক টন। পীরগাছা উপজেলায় ধান সংগ্রহ করা হবে ৪ শত ৮৪৫ মেট্রিক টন ও চাল সংগ্রহ করা হবে ২ হাজার ২ শত ১৮ মেট্রিক টন।

দিনাজপুরে পূনর্ভবা নদীর বুকে চাষ হচ্ছে বোরো ধান!
                                  

 দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার পূনর্ভবা নদীর উপর দিয়ে ছুটে চলত একসময় নৌকা। ষাট-এর দশকের ভাটিয়ালী গানের সুরে পাল তোলা নৌকা নিয়ে ছুটে চলা ভরা যৌবনা উত্তাল পূনর্ভবা নদীর বুকে এখন দোল খাচ্ছে সবুজ ধানক্ষেত। আশির দশক থেকে ক্রমেই যৌবন হারাতে থাকে এ নদী। এখন এসে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে নদীটির আর হারানোর কিছুই নেই। সেই অতীতে পূনর্ভবা নদীতে ঢেউয়ের তালে তালে চলাচল করতো অসংখ্য নৌকা। ভাটিয়ালী আর পল্লীগীতি গানের সুরে মাঝিরা নৌকা নিয়ে ছুটে চলতো কেন্দ্রিক ব্যবসা কেন্দ্রগুলোতে। এ নদীকে ঘিরে বিভিন্ন স্তানে গড়ে ওঠা বড় বড় হাটবাজার সমূহে ব্যবসার জন্য ধান, পাট, আলু, বেগুন, সরিষা, কালাই ও গমসহ নান কৃষিপণ্য নিয়ে সওদাগররা নৌকার পাল তুলে মাঝিরা ছুটে চলতেন।

অসংখ্য মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবন জীবিকার রাস্তা খুঁজে পেয়েছিল। নদীর পানি দিয়ে কৃষক দুই পাড়ের উর্বরা জমিতে ফসল ফলাতো। সে এক নয়নাভিরাম দৃশ্য। জীবিকার সন্দানে নদী সংলগ্ন ও আশপাশ এলাকার অসংখ্য জেলে পরিবারের বসতী গড়ে উঠেছিল। ছোট বড় নানা প্রজাতির মাছের অফুরন্ত উৎস ছিল এ নদী। মাছ পাওয়া যেত সারা বছর। জীবিকার জন্য মাছের আশায় জেলেরা রাতদিন ডিঙ্গি নৌকায় জাল-দড়ি নিয়ে চোষে বেড়াতেন নদীর এ প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ধরা পড়তো প্রচুর মাছ।

সেই সোনালি দিন শেষে হয়ে গেছে অনেক আগেই। সময় গড়িয়ে চলার সাথে সাথে সেই ভরা যৌবনা পূনর্ভবা নদী এখন মরাখালে পরিণত হওয়ায় পূনর্ভবা কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অসংখ্য হাটবাজার এখন হয়েছে বিরাণ অঞ্চল, কৃষি জমিগুলো পরিণত হয়েছে ধূ ধূ প্রান্তরে, জেলে পরিবারগুলো হয়ে গেছে বিলীন আর সে সময়ের ব্যবসা-বাণিজ্যের উৎসগুলো হয়ে গেছে প্রায় বন্ধ। এসবই এখন কালের সাক্ষী। ঐতিহ্যের দিক থেকে এ জেলার নদ-নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল পূনর্ভবা নদী। ভৌগোলিকভাবে নদীটি ছিল চমৎকার অবস্থানে। নদীটি কোনদিন খনন ও ড্রেজিং করা হয়নি এমনকি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তেমন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

সরকারের নজর না দেয়ার সুযোগে এক শ্রেণির দখলবাজ নদীটির অনেক স্থান দখলে নিয়ে খুশিমত ভরাট করে ফেলেছে। কেউ কেউ বর্জ্য ফেলে দূষণ ও ভরাট অব্যাহত রেখেছে। অনেকে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র থেকে বালু উত্তোলন ও পাড় কেটে মাটি বিক্রিয় প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে। অপরদিকে পাানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়জুর রহমান বলেন, আমরা সরকারের নিকট নদী খনন ও ড্রেজিং এর জন্য প্রয়োজনীয় কাজগপত্র পাঠিয়েছি। শীঘ্রই নদী খননের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা শুরু হচ্ছে আজ
                                  

 কৃষি ব্যবস্থা যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা। রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইন্সটিটিশনে এ মেলার উদ্বোধন করবেন কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক। উদ্যোক্তারা বলছেন, এর ফলে দেশীয় কৃষির সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরার পাশাপাশি আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা যাবে। ‘যান্ত্রিকীকরণই গড়বে আধুনিক ও লাভজনক কৃষি’ এ প্রতিপাদ্যে তিন দিনের এ মেলার উদ্যোক্তা কৃষি মন্ত্রণালয়। মেলায় স্টলগুলোতে যাতে নতুন নতুন প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী থাকবে।

জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, খাদ্যশস্য, ফল ও শাকসবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। কৃষির এই উন্নয়ন অভিযাত্রায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, সামগ্রিক উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে কৃষিজমির পরিমাণ দিন দিন কমছে। গ্রাম থেকে মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কৃষি শ্রমিকের অভাবজনিত সংকট নিরসন এবং ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনায় খরচ কমাতে বিভিন্ন স্তরে লাগসই কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কৃষি উন্নয়নের অব্যাহত সাফল্যকে টেকসই করতে লাগসই কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি করে দেশের উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলের জন্য শতকরা ৭০ ভাগ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য শতকরা ৫০ ভাগ হারে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কৃষিযন্ত্রের প্রসার ঘটেছে এবং ফসলের উৎপাদন ব্যয়ও কমেছে। শেখ হাসিনা বলেন, উৎপাদন মধ্যবর্তী সময় হ্রাস পাওয়ায় একই জমিতে অতিরিক্ত একটি বা দুটি ফসল চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রয়োজনের সময়ে কৃষি শ্রমিকের অভাবজনিত সংকট নিরসন করাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কারণে কৃষকদের কাছে কৃষিযন্ত্র ক্রমান্বয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, ফসল উৎপাদন, সংগ্রহ ও সংগ্রহোত্তর বিভিন্ন স্তরে অপচয় কমিয়ে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার আরো বাড়াতে হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এখন সময়ের দাবি। আমাদের মত দেশে যেখানে কৃষি জমির আয়তন খুবই ছোট, সেখানেও কম্বাইন হারভেষ্টার ব্যবহার শুরু হয়েছে, আবার রাইস ট্রান্সপ্লান্টার দিয়ে ধানের চারা রোপণও করা হচ্ছে।

ব্যবহৃত হচ্ছে বীজবপন যন্ত্র। তিনি বলেন, কৃষি কাজে এ ধরণের যন্ত্রপাতি ব্যবহারের আরও সুযোগ রয়েছে। এ কাজে সময়ানুবর্তিতা, দ্রুতগতির জন্য কৃষি যান্ত্রিকীকরণ হলে মোট উৎপাদন বেড়ে যাবে, উৎপাদন খরচ কমে যাবে, বাণিজ্যিক চাষাবাদ উৎসাহিত হবে, শ্রমিক সংকটেরও সমাধান হবে। সর্বোপরি জমির ব্যবহার আরও নিবিড়তর হবে এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধি পাবে, ফলে গ্রামে বসবাস করা কৃষক, তাদের সমাজ ও পল্লী অঞ্চলের সামগ্রীক উন্নয়ন ঘটবে।

 

বরিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
                                  

 দিগন্তজোড়া পাকা বোরো ফসলের মাঠ। ফলনও হয়েছে আশাতীত কিন্তু ধানের বাজার মূল্য উৎপাদন খরচের অর্ধেক হওয়ায় মহাবিপাকে পড়েছেন চাষী। মাঠজুড়ে উঠতি পাকা ধান কালবৈশাখীর সাথে বৃষ্টির আশঙ্কা আর ধানের মূল্য কম থাকায় ধান কাটতে শ্রমিকের অনীহায় শ্রমিক সংকটের কারণে দিশেহারা হয়ে পরেছে বরিশাল জেলার বোরো চাষিরা। আগৈলঝাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে নয় হাজার ছয়শ’ ছয় হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হলেও বিভিন্ন সড়ক উন্ন্য়ন কাজের জন্য সেচ বিঘœ হওয়ায় ১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ কম হয়েছে।

প্রতি হেক্টরে সাত দশমিক পাঁচ মেট্টিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ক্রপ কাটিং করে দেখা গেছে। এতে প্রতি হেক্টরে পাঁচ মেট্টিক টন চাল উৎপাদন হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বৃষ্টির পানিতে ইউরিয়ার আধিক্য থাকায় বাম্পার ফলন হলেও কিছু জমিতে ব্যাকটেরিয়াল লিপ ব্রাইট বা পাতা মরা রোগ (বিএলবি) দেখা দিয়েছিলো। এতে অন্তত পাঁচ হেক্টর জমি আক্রান্ত হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষীদের গৃহীত ব্যবস্থায় তার ক্ষতি থেকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা। সব কিছুর পরেও চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ফলেছে। সূত্রে আরও জানা গেছে, ফসলের বাম্পার ফলন হলেও উৎপাদিত ধানের বাজার মূল্য কম হওয়ায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কৃষকরা তাদের ক্ষেতের পাকা ধান ঘরে তুলতে পারছেন না। বাজার ব্যবস্থার মনিটরিং না থাকায় কৃষক তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

ধানের দাম কমতে থাকায় ক্রমান্বয়ে জমির মুল মালিকরা ধান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। নির্ভর হয়ে পরছে বর্গা চাষির ওপর। ক্ষুদ্র ও বর্গা চাষিরা মৌসুমের শুরুতেই মহাজনদের কাছ থেকে দাদনের টাকা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেন। ফসল বিক্রির পর তাদের দাদনের টাকা পরিশোধ করার কথা। বর্তমানে ফসলের বাজার মূল্য অত্যন্ত কম হওয়ায় ওই ফসল বিক্রি করে দাদনের টাকা পরিশোধে মহাচিন্তায় পরেছেন বর্গাচাষীরা। উঠতি মৌসুমে বর্তমানে ধানের বাজার মূল্য প্রতি মন পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ টাকা। চাষীরা জানান, প্রতিবছরের ন্যায় এবারও ফসল কাটার জন্য গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, শরনখোলা, মোড়লগঞ্জ জেলার ধানকাটা শ্রমিকরা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আসলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। যারা এসেছেন তারা বাজারে ধানের দাম কম ও জমিতে কাঁদা-পানির কারণে ধান কাটতে অনীহা প্রকাশ করে ইতোমধ্যে চলে গেছেন। তাই পাকা ধান ঘরে তুলতে দিশেহারা হয়ে পরেছেন অধিকাংশ উপজেলার বোরো চাষীরা। গৌরনদীর গেরাকুল গ্রামের চাষী হেলাল মিয়া জানান, তার ২০ শতক জমির পাকা ধান কেটে পারে তুলেছে পাঁচজন শ্রমিক। যাদের প্রত্যেককে চারশ’ টাকা করে মজুরি দিতে হয়েছে। নসিমনযোগে কাঁটা ধান বাড়িতে আনতে আরও চারশ’ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। সবমিলিয়ে তিনি যে ধান পেয়েছেন তা বর্তমান বাজারমূল্যে ধানকাটা শ্রমিক ও নসিমন ভাড়াও উঠবেনা। সেখানে ধান উৎপাদনের খরচতো বাদই।

সূত্রমতে, উফশি, হাইব্রীড জাতের ধান প্রতিমন স্থানীয় বাজারমূল্য পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচশ’ টাকা আর ব্রী-২৯ জাতের ধানের বাজার মূল্য প্রতিমন সাড়ে পাঁচশ’ থেকে ছয়শ’ টাকা। যা চাষীদের উৎপাদন খরচের অর্ধেক। ধানের বাজার মূল্য কম হওয়া, শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল পরিবেশের কারনসহ সবমিলিয়ে উঠতি পাকা ফসল ঘরে তুলতে না পেরে বরিশালের কৃষকরা চরম হতাশায় রয়েছেন। অন্যদিকে বর্গা ও ক্ষুদ্র চাষীরা মহাজনদের দাদনের ধান ও সুদের টাকা পরিশোধের মহাদুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

চাষীরা জানান, সরকারীভাবে বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং করে চাষীদের কাছ থেকে সরকারের খাদ্য মন্ত্রণালয় সরাসরি ধান ও চাল ক্রয় করলে চাষীরা উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পেয়ে উপকৃত হতে পারেন। ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে চাষীদের বঞ্চিত হবার সত্যতা স্বীকার করে জেলার দশ উপজেলার নির্বাহী অফিসাররা বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। সরকার চাষীদের স্বার্থ চিন্তা করে অবশ্যই একটা ব্যবস্থা করবেন বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

চাঁদপুরে সবুজের মাঝে চোখ জুড়ানো বেগুনি রঙের ধানক্ষেত
                                  
 
 
চাঁদপুর  প্রতিনিধি:
 
সবুজের মধ্যে বেগুনের রঙ। আচার্য না! চারদিকে সবুজ ধান ক্ষেত থাকলেও মাঝখানে এক টুকরো জমিতে বেগুনি রঙের ধান গাছ মানুষের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কৃষকের আগ্রহে সবুজের মধ্যে রঙ্গিন ধানক্ষেত।
 
চলতি বোরো মৌসুমে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শাহাপুর গ্রামে সোনালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন জমিতে কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী বেগুনি রঙের ধানের আবাদ করে সবার নজর কেড়েছেন।
 
সবুজ ধানের বেষ্টনির মধ্যে বেগুনি এই ধান ক্ষেতটি দেখলে মনে হতে পারে কোন আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধানের ছবি। আসলে এর কোনটিই নয়, এটি এমন একটি ধানের জাত, যার পাতা ও কান্ডের রঙ বেগুনী। শুধু ধান গাছ নয় এর চালের রং ও বেগুনী। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এই ধানের পরিচিতি বেগুনী রঙের ধান/ রঙ্গিন ধান।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, কৃষক আক্তারুজ্জামান পাটওয়ারী নিজ উদ্যোগে আগ্রহের বসে এই ধান চাষাবাদ করেছেন। ভিন্ন রঙের ধান ক্ষেতটি সড়কের পাশে হওয়ায় পথচারিদের দৃষ্টি কেড়েছে। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত বয়স্ক ধানগাছে ফুল অবস্থায় রয়েছে।
 
এসর্ম্পকে কৃষক আক্তারুজ্জামন পাটওয়ারী এ প্রতিনিধিকে জানান, তার এক আত্মীয়ের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে ২৫ শতাংশ জমিতে এই ধানের আবাদ করেছি। শুনেছি তিনি চীন থেকে এই বীজ সংগ্রহ করেছেন। এখন পর্যন্ত ধানক্ষেতের অবস্থা ভালো। গাছ থেকে ধানের ছড়া বের হতে শুরু করেছে। মাত্র দুই কেজি ধানবীজ দিয়ে চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপন করি। আশাকরি অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন হবে।
 
এবিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূরে আলম জানান, ওই কৃষক নিজ উদ্যোগে বীজ সংগ্রহ করে রঙ্গিন ধান আবাদ করেছে। আমরা বেগুনি রংয়ের ধানক্ষেতটি পর্যবেক্ষন করে দেখেছি। এর ফলন কি রকম হবে তা জানতে ধান কাটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। ফলন ভালো হলে ভবিষ্যতে এই ধানের আবাদ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। 
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেগুনি রঙের এই ধান বিদেশী জাত নয়, দেশীয় শুক্রানু প্রাণরস (জার্মপাজম)। মাঠ পর্যায়ের অবস্থা বিবেচনায় ধানটির জীবনকাল ১৪৫ থেকে ১৫৫ দিন এবং ফলন একরে ৫৫ থেকে ৬০ মণ। যা আনুমানিক শতাংশে ২০ কেজি (৪ থেকে ৫ টন প্রতি হেক্টরে) হতে পারে। এই ধানের চাল হবে বেগুনি ও সুস্বাধু।
নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ
                                  

চট্টগ্রামের শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবে অনুষ্ঠিত নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শুক্রবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহীন গলফ ও কাউন্ট্রি ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও বিএএফ জহুরুল হক ঘাঁটির এয়ার অফিসার কমান্ডিং- এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ মফিদুর রহমান, বিএসপি, বিইউপি, এনডিইউ, এএফডব্লিউসি, পিএসসি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান।

প্রধান অতিথি এবং বিশেষ অতিথি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। নভোএয়ারের পৃষ্ঠপোষকতায় শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাব এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে।

দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টে ৪টি বিভাগে প্রায় ১৯৩ গলফার অংশ নেন। টুর্নামেন্টের বিজয়ী হিসেবে ক্যাপ্টেন মনজুরুল হোসেন খান, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট আর এম সালমান আলী, আনোয়ার সাজ্জাদ লিপন, লেডিস উইনার হিসেবে মিসেস ফেরদৌসী সালেহ এবং জুনিয়র উইনার হিসেবে মাহিবা মাহাসিন উদ্দিন পুরস্কার গ্রহণ করেন।

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শাহীন গলফ এন্ড কান্ট্রি ক্লাবসহ অন্যান্য গলফ ক্লাব ও নভোএয়ারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নভোএয়ার সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকেই দেশের ক্রীড়ান্নোয়নে গলফ ছাড়াও ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, হকি খেলাসহ অন্যান্য খেলাধুলার উন্নয়নে কাজ করে আসছে। সূচনালগ্ন থেকেই নভোএয়ার বিভিন্ন গলফ টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

লাভের আশায় আগাম সবজি চাষ বগুড়ায় (ভিডিওসহ)
                                  
বেশি লাভের আশায় আগাম শীতকালীন সবজি চাষে আগ্রহ বেড়েছে বগুড়ার ধুনট উপজেলার কৃষকদের মধ্যে।

এ বছর বৃষ্টি কম হওয়ায় উঁচু জমিতে শীতকালীন বিভিন্ন জাতের সবজির চারা রোপণ ও পরিচর্যায় কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে উপজেলার কৃষি পরিবারগুলো।

উপজেলায় শীতকালীন সবজীর মধ্য চাষ হচ্ছে বাঁধাকটি, ফুলকপি, শিম, টমেটো, বেগুন।

ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের ক্ষুদ্র পিরহাটি গ্রামের রহমত আলী বাঁধাকপি চাষ করেছেন।

তিনি পেশায় একজন তেল ব্যবসায়ী। বছরে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে ধুনট উপজেলার অলোয়া মোজার ৫২ শতক জমি লিজ নিয়ে সবজি আবাদ করেছেন।

তিনি ধারনা করছেন বাজার এবং আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে লাভবান হবেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের পর্যবেক্ষক সুকান্ত কুমার মোদক বলেন, এ বছর আবহাওয়া ঠিক থাকলে বাঁধাকপির বাম্পার ফলন হবে।

রহমতের মতো এ উপজেলার অনেকেই এ রকম আশা নিয়ে তাদের জমিতে বাঁধাকপি চাষ করেছেন।

এদিকে এ উপজেলায় শিম, টমেটো ও বেগুনেরও বাম্পার ফলন হয়েছে।

উপজেলার মধুপুর গ্রামের টমেটো চাষি বাবলু শেখ বলেন, “আমি প্রতি বছর টমেটোর আবাদ করি। শেষ সময়ে ছেলেকে নিয়ে গাছের পরিচর্যা করছি।

“এ বছর ৫২ শতাংশ জমিতে টমেটো আবাদ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং বাজার ঠিক থাকলে ভালো দাম পাবো।”

স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বায়োটেকনোলজি ব্যবহারে এগোচ্ছে বাংলাদেশ: মতিয়া
                                  

কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, স্বাস্থ্য সম্মত নিরাপদ সবজির ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বায়োটেকনোলজি বা জীবপ্রযুক্তিবিদ্যার ব্যবহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সাথে মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে আফগানিস্তানের স্টাডি ট্যুর দলের সদস্যসহ এফএও এর এক প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষকদের উদ্ভাবনী চিন্তার ফলে এখন দেশের জমি সাড়ে তিন ফসলি। যার ফলে আমাদের খাদ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সুলভ মূল্যে ওষুধ এবং প্রতিষেধকের নিশ্চয়তার সম্ভাবনা বৃব্ধি পাবে।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, দেশ ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা মা ও শিশু স্বাস্থ্যসহ প্রাথমিকে শিশু ভর্তির হার শতভাগ ও ঝড়ে পরার হার হ্রাস করেছে এবং বছরের প্রথম দিন সকল শিশুদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দিচ্ছে। ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নের্তৃত্ব দেন আফগানিস্তানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের কৃষি সেচ ও লাইভ স্টকের উপ-মন্ত্রী এইচ ই হামদুল্লাহ হামদরদ। প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে মতিয়া চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ, দূরদর্শী ও অগ্রসর চিন্তার নেতৃত্বের ফলে কৃষির আধুনিকায়নে আমরা বিশ্বের অনেক দেশের থেকেই এগিয়ে আছি।

বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা ও দক্ষতা দিয়ে ক্ষতিকারক পোকার প্রতিরোধক জিন সন্নিবেশ করে নতুন বেগুনের জাত উদ্ভাবন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানীরা পাটের জিনোম এবং পাটের কান্ড পঁচা রোগের জন্য দায়ী ছত্রাকের জিনোম সিকোয়েন্সে সক্ষম হয়েছে। যার ফলে ভবিষ্যতে মজবুত আঁশযুক্ত পাট বা কান্ড পঁচা রোগ প্রতিরোধী জাতের উদ্ভাবন সহজতর হবে। কৃষিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে মোকাবেলা করে খাদ্য উৎপাদন বহাল রাখতে জীবপ্রযুক্তির জ্ঞান অর্জনের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সাক্ষাৎ কালে হামদুল্লাহ হামদরদ কৃষিসহ সবক্ষেত্রে তারা বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানসহ বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্র নানা দিক পরিদর্শনে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

‘ড্রাগন-স্ট্রবেরি’ কৃষিপণ্যের তালিকায় নতুন
                                  

দেশের কৃষিপণ্যের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হচ্ছে বিদেশি ফল ড্রাগন ও স্ট্রবেরি। বিদেশি ফল হলেও এগুলো বাংলাদেশের মানুষের কাছেও এখন বেশ মুখরোচক। তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব ফল বাণিজ্যিকভাবে চাষবাস হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি শুমারিতে মোট ১২৬টি ফসল বা কৃষিপণ্যের তালিকায় গাঁজা, আফিম, ধুতরা ও সিনকোনা ছিল। কিন্তু সরকার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করায় এবার এসব পণ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। আর নতুন করে সেখানে যুক্ত হচ্ছে ড্রাগন ও স্ট্রবেরি।


সূত্র জানায়, পরিসংখ্যান আইন ২০১৩ অনুযায়ী জনশুমারি ও অর্থনৈতিক শুমারির পাশাপাশি কৃষি (শস্য, মৎস ও প্রাণিসম্পদ) শুমারির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। পঞ্চমবারের মতো কৃষি (শস্য, মৎস ও প্রাণিসম্পদ) শুমারি হবে ২০১৮ সালে। ২০১৯ সালের এপ্রিলের মধ্যেই তথ্য-সংগ্রহের কার্যক্রম শুরু হবে। এই শুমারিতে নেশা জাতীয় পণ্য বাদ দেওয়া হবে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৭, ১৯৮৩-৮৪, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে কৃষি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘কৃষি শুমারি-২০১৮’ প্রকল্পের পরিচালক ও যুগ্ম-সচিব জাফর আহাম্মদ খান বলেন, সর্বশেষ কৃষি শুমারিতে গাঁজা, আফিম, ধুতরা ও সিনকোনা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব নেশাজাতীয় দ্রব্যকে কোনোভাবেই আমরা কৃষিপণ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারি না।


তিনি বলেন, কৃষিতে নানা ধরনের ভিন্নতা এসেছে। নতুন নতুন কৃষিপণ্য যোগও হয়েছে। ফলে এখন কৃষি পণ্যের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৭০টি। যেটা সর্বশেষ কৃষি শুমারিতে ছিলো মাত্র ১২৬টি।
জানা যায়, ১৭০টি কৃষিপণ্যকে মোটা দাগে ৮টি উপখাতে ভাগ করা হয়েছে। এসব উপখাত হচ্ছে- দানা, ডাল, তৈল বীজ, আঁশ, শাক, মসলা, ফল, ফুল জাতীয় ইত্যাদি পণ্য। তবে পরবর্তী শুমারিতে জাতীয় কৃষিপণ্যের মধ্যে শুধু তামাক, চা, পান ও সুপারি রাখা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, আগামি ২০১৯ সালের এপ্রিল-মে মাসের মধ্যে শুমারির তথ্য সংগ্রহ কাজ সম্পন্ন হবে। দেশের সব খানা এবং কৃষি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান থেকে তথ্য সংগ্রহ করবেন কর্মীরা।

মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পাকা ধান ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত
                                  

এস.এম ইকবাল, চাঁদপুর :

অব্যাহত বর্ষণে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে মারাত্বক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ময়লা-আবর্জনায় ও জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় খালগুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে। খালগুলো দিয়ে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতে না পারাই এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ। উপরন্তু জলাবদ্ধতার কারণে পাকা বোরো ধান ও সবজির  মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। 

জানা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে উপজেলার কলাকান্দা, মিলারচর, মাথাভাঙ্গা, পাঁচআনী, নাউরী, হলদিয়া, লুধুয়া, একলাশপুর, জোড়খালী, শিকিরচর, ছেংগারচর, কেশাইরকান্দি, জীবগাঁও, পাঠান বাজার, ঝিনাইয়া, মরাধন, ইসলামাবাদ, অলিপুর, নয়াকান্দি, সুজাতপুর ঠাকুরচর, রুহিতার পাড়, হানির পাড়,বদুরপুর, বাগানবাড়ী, নিশ্চিন্তপুর, দুর্গাপুর, লবাইরকান্দি, ইসলামাবাদ, ফতেহপুরসহ প্রকল্পের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চলে কয়েক দিনের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতায় কারণে আউশ ধানের বীজতলা ও রোপা আউশ, বগি পাট, আখ, ফল ও কাঠ গাছের বাগান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, মৎস্য খামার তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও আবাদ করতে না পারায় কৃষক পরিবারগুলো হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছে। 

কৃষকরা প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা না পাওয়ায় এ সেচ প্রকল্পকে তাদের জন্য অভিশাপ মনে করছেন। হানির পাড় গ্রামের আলী আজম বলেন, ‘জানি না এহন আমরা কি করুম, হুদিনাকালে পানি পাই না, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিয়ে জইম্মা সব ফসল তলাইয়া যায়। ফসল করতে গিয়া টাকা শেষ হইয়া যায়। ক্ষতির কারণে ফসল পাই না। এমনে আর কত দিন চলুম’। একই গ্রামের সাহেব আলী বলেন, ছেংগারচর বাজার এলাকায় মানুষ পানি সরার খালটি আবর্জনা দিয়ে একেবারে বন্ধ করে রাখায় আমাদের এলাকার পানি সরতে পারছে না। প্রকল্পটি তৈরি হওয়ার পর থেকে আমরা বর্ষা আসলেই বৃষ্টির পানিতে ডুবে যাই। আমাদের চাষের জমি তলিয়ে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। পাউবো কর্তৃপক্ষকে এ জলাবদ্ধতার ব্যাপারে জানালেও এ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেয় নাই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: সালাউদ্দিন জানান, ময়লা-আবর্জনায় ও জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় খালগুলো ভরাট হয়ে পানি চলাচল করতে পারছে না। বিলের পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানিতে পাকা বোরো ধান ও সবজির ক্ষতি হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের ব্যবস্থা না নিলে বোরো উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না।


   Page 1 of 5
     কৃষিজগৎ
উচ্চ ফলনশীল ধানের ৩ টি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে ‘ব্রি’
.............................................................................................
রংপুরে কৃষক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
উৎপাদন খরচের সঙ্গে শ্রমের মূল্য যোগ করে ধানের মণ হওয়া উচিত ১২শ টাকা: বারকাত
.............................................................................................
কুড়িগ্রামে তিন কেজি ধানের দামে ১ কেজি লবণ
.............................................................................................
সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক
.............................................................................................
নওগাঁর আত্রাইয়ে বোরো সিদ্ধ চাল সংগ্রহের উদ্বোধন
.............................................................................................
রংপুর জেলার এবার ২৫ হাজার ১ শত ৯০ মেট্রিক টন চাল ও ৩ হাজার ৯ শত ৯৮ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে
.............................................................................................
দিনাজপুরে পূনর্ভবা নদীর বুকে চাষ হচ্ছে বোরো ধান!
.............................................................................................
জাতীয় কৃষি যন্ত্রপাতি মেলা শুরু হচ্ছে আজ
.............................................................................................
বরিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলনেও হাসি নেই কৃষকের মুখে
.............................................................................................
চাঁদপুরে সবুজের মাঝে চোখ জুড়ানো বেগুনি রঙের ধানক্ষেত
.............................................................................................
নভোএয়ার কাপ গলফ টুর্নামেন্টের বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ
.............................................................................................
লাভের আশায় আগাম সবজি চাষ বগুড়ায় (ভিডিওসহ)
.............................................................................................
স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে বায়োটেকনোলজি ব্যবহারে এগোচ্ছে বাংলাদেশ: মতিয়া
.............................................................................................
‘ড্রাগন-স্ট্রবেরি’ কৃষিপণ্যের তালিকায় নতুন
.............................................................................................
মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্পে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পাকা ধান ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত
.............................................................................................
সেচ কাজে প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকরা
.............................................................................................
সেচের পানির অভাবে ফরিদগঞ্জ ও মতলবে ষোল’শ একর জমির ফসল বিনষ্টের আশংকা
.............................................................................................
চাল-পেঁয়াজের দাম কমছে না
.............................................................................................
জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ শুরু ২৪ ফেব্রুয়ারি
.............................................................................................
সাড়ে ৫ লাখ কৃষককে ৫৯ কোটি টাকার বীজ-সার দেবে সরকার
.............................................................................................
লিচু পল্লিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানিরা
.............................................................................................
চলনবিলে কৃষকের কান্না
.............................................................................................
বছরে ৫ কোটি টাকার লিচু উৎপন্ন হয় মাগুরায়
.............................................................................................
‘হাওরবাসীর পাশে থাকতেন নিয়াজ উদ্দিন পাশা’
.............................................................................................
ডুমুরিয়ায় বোরো ধান ক্ষেতে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ
.............................................................................................
দক্ষিণাঞ্চলে চলছে বর্ষার আমেজ, ফসলের জন্য আশীর্বাদ
.............................................................................................
মাগুরায় গমের ভালো ফলনের আশা কৃষি বিভাগের
.............................................................................................
৩৩ কোটিতে আড়াইশ কোটি টাকার ফসল
.............................................................................................
ছাদে বাগান
.............................................................................................
হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি
.............................................................................................
কপি চাষে স্বাবলম্বী কৃষক
.............................................................................................
বার্ড ফ্লু কী, কিভাবে বাঁচবেন
.............................................................................................
শিবপুরে শিমের পচন রোগে কৃষক দিশেহারা
.............................................................................................
হাতের মুঠোয় কৃষিসেবা
.............................................................................................
দুটি ভেড়া বদলে দিয়েছে রিমার ভাগ্য
.............................................................................................
কৃষি খাতের উন্নয়ন ও উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে: কৃষিমন্ত্রী
.............................................................................................
কাউখালীতে ছাড়িয়ে যাবে আমনের লক্ষ্যমাত্রা
.............................................................................................
টবে গোলাপের চাষ
.............................................................................................
বন্যা সহিঞ্চু বিআর ৫২ জাতের ধান উদ্ভাবন ফলনও ভালো
.............................................................................................
বিশ্ববাজারে কমলেও দেশীয় বাজারে গমের দাম ঊর্ধ্বমুখী
.............................................................................................
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য পূরণে কৃষিতে ব্যাপক হারে যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ
.............................................................................................
রংপুর বিভাগের আগাম আলুর আবাদ বাড়ছে
.............................................................................................
খেঁজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত রাণীনগরের গাছিরা
.............................................................................................
মানিকগঞ্জে কচি ডাবের ব্যাপক সমারোহ
.............................................................................................
কমলা আর মাল্টা চাষে স্বাবলম্বী পাহাড়িরা
.............................................................................................
পার্বত্যাঞ্চলের কৃষকেরা তামাক ছেড়ে তুলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে
.............................................................................................
পেশা পাল্টাচ্ছেন রেশম চাষীরা
.............................................................................................
কৃষকদের তথ্যসংবলিত পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ
.............................................................................................
কৃষকরা সচেতন হওয়ায় কমে আসছে ইউরিয়া সার ব্যবহার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]