৭ শাবান ১৪৪১, ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ২ এপ্রিল , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মসজিদে আযান, ইকামত, জামাত ও জুমা অব্যাহত থাকবে: ইফা

দেশের বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকের পর করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। সোমবার সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা তুলে ধরেন।

ইফার আগারগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়ে রোববার দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে জরুরি সভায় মিলিত হন। এতে তারা নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করেন। এছাড়াও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি, পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি আব্দুল হালীম বোখারী প্রমুখের কাছ থেকে ই-মেইলে প্রাপ্ত মতামত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৈরী করা নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও জনগণ চরম উদ্বিগ্ন।এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা আবশ্যক।

শুরুতে তওবা ইস্তেগফার ও দোয়া করার করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, পৃথিবীতে যা কিছু হয় আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়। এ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। এজন্য কয়েকটি দোয়াও উল্লেখ করা হয়।
এরপর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, রোগ ও ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সতর্কতা অবলম্বন তাওয়াক্কুল পরিপন্থী নয়। বরং নবীজীর (সা) সুন্নত।

মসজিদের ব্যাপারে বলা হয়, মসজিদে নিয়মিত আযান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। তবে জুমআ ও জামাতে মুসল্লিগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে অর্থাৎ যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন, যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন, যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, বয়োঃবৃদ্ধ, দুর্বল, মহিলা ও শিশু, যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিতরা মসজিদে যাবেন না। আর যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তাদেরও মসজিদে না আসার অবকাশ আছে। যারা জুমআ ও জামাতে যাবেন তারা সকলেই যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। ওযু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নাত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পড়া, জীবাণুনাশক দ্বারা মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিস্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল নির্দেশনা মেনে চলবেন। হঠাৎ হাঁচি-কাশি এসে গেলে টিস্যু বা বাহু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন।

খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটির করণীয় হিসেবে বলা হয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা, জামাত সংক্ষিপ্ত করা, জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, বর্তমান সংকটকালে দরসে হাদীস, তাফসির ও তা’লীম স্থগিত রাখা, ওযুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখা, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো, ইশরাক, তিলাওয়াত, যিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে করা, ঢাকাসহ দেশের কোন মসজিদে যদি কোন বিদেশী মেহমান অবস্থানরত থাকেন তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষন করে সত্ত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন ও জানাযার ব্যাপারে বলা হয়, হাদিসের বর্ণানুযায়ী মহামারিতে মৃত মুমিন ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা লাভ করেন। করোনায় মৃত ব্যক্তির কাফন, জানাযা ও দাফন যথাযথ মর্যাদার সাথে করা জরুরি। করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফনে সহযোগিতা করুন। তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ বা কোনরূপ অসহযোগিতা করা শরীয়তবিরোধী ও অমানবিক।

দান-সাদকা করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, হাদিস শরীফে আছে দান-সাদকা দ্বারা বালা মছিবত দূর হয়। এই সংকটকালীন সময়ে আল্লাহর রহমত লাভের উদ্দেশ্যে দুস্থ ও অসহায়দের বেশি বেশি দান-সাদকা করুন। নিম্ন আয়ের মানুষের নিকট খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। ।

গুজব সৃষ্টি না করা এবং আলেমদের এ আহ্বান আন্তরিকতার সাথে ব্যাপক প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারী/শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে আহ্বান জানানো হয়।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুমের মুহতামিম মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, শায়খ যাকারিয়া (র.) ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, জাতীয় মুফতি বোডের সদস্য সচিব মুফতি মোঃ নূরুল আমীন, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী, জামেয়া রহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক, চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোঃ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আল আযহারী, ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলী, দারুল উলূম রামপুরার মুহতামিম মুফতি ইয়াহ্ইয়া মাহমুদ, জামিয়াতুল উলুমের মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হাসান, বায়তুল উলূম ঢালকানগর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাফর আহমাদ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ, মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসন জামে মসজিদের খতিব শায়খ আহমাদুল্লাহ, তেজগাঁও জামেয়া ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান ও মুফাসসির ড. মাওলানা আবু ছালেহ পাটোয়ারী, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম, চকবাজার শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, বড় কাটরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম মাদানী, শামসুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি শারাফাত হোসাইন, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন আলেমের সঙ্গে বৈঠক করে কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল ইফা।

 

 
মসজিদে আযান, ইকামত, জামাত ও জুমা অব্যাহত থাকবে: ইফা
                                  

দেশের বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকের পর করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। সোমবার সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা তুলে ধরেন।

ইফার আগারগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়ে রোববার দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে জরুরি সভায় মিলিত হন। এতে তারা নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করেন। এছাড়াও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি, পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি আব্দুল হালীম বোখারী প্রমুখের কাছ থেকে ই-মেইলে প্রাপ্ত মতামত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৈরী করা নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও জনগণ চরম উদ্বিগ্ন।এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা আবশ্যক।

শুরুতে তওবা ইস্তেগফার ও দোয়া করার করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, পৃথিবীতে যা কিছু হয় আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়। এ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। এজন্য কয়েকটি দোয়াও উল্লেখ করা হয়।
এরপর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, রোগ ও ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সতর্কতা অবলম্বন তাওয়াক্কুল পরিপন্থী নয়। বরং নবীজীর (সা) সুন্নত।

মসজিদের ব্যাপারে বলা হয়, মসজিদে নিয়মিত আযান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। তবে জুমআ ও জামাতে মুসল্লিগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে অর্থাৎ যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন, যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন, যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, বয়োঃবৃদ্ধ, দুর্বল, মহিলা ও শিশু, যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিতরা মসজিদে যাবেন না। আর যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তাদেরও মসজিদে না আসার অবকাশ আছে। যারা জুমআ ও জামাতে যাবেন তারা সকলেই যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। ওযু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নাত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পড়া, জীবাণুনাশক দ্বারা মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিস্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল নির্দেশনা মেনে চলবেন। হঠাৎ হাঁচি-কাশি এসে গেলে টিস্যু বা বাহু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন।

খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটির করণীয় হিসেবে বলা হয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা, জামাত সংক্ষিপ্ত করা, জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, বর্তমান সংকটকালে দরসে হাদীস, তাফসির ও তা’লীম স্থগিত রাখা, ওযুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখা, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো, ইশরাক, তিলাওয়াত, যিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে করা, ঢাকাসহ দেশের কোন মসজিদে যদি কোন বিদেশী মেহমান অবস্থানরত থাকেন তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষন করে সত্ত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন ও জানাযার ব্যাপারে বলা হয়, হাদিসের বর্ণানুযায়ী মহামারিতে মৃত মুমিন ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা লাভ করেন। করোনায় মৃত ব্যক্তির কাফন, জানাযা ও দাফন যথাযথ মর্যাদার সাথে করা জরুরি। করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফনে সহযোগিতা করুন। তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ বা কোনরূপ অসহযোগিতা করা শরীয়তবিরোধী ও অমানবিক।

দান-সাদকা করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, হাদিস শরীফে আছে দান-সাদকা দ্বারা বালা মছিবত দূর হয়। এই সংকটকালীন সময়ে আল্লাহর রহমত লাভের উদ্দেশ্যে দুস্থ ও অসহায়দের বেশি বেশি দান-সাদকা করুন। নিম্ন আয়ের মানুষের নিকট খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। ।

গুজব সৃষ্টি না করা এবং আলেমদের এ আহ্বান আন্তরিকতার সাথে ব্যাপক প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারী/শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে আহ্বান জানানো হয়।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুমের মুহতামিম মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, শায়খ যাকারিয়া (র.) ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, জাতীয় মুফতি বোডের সদস্য সচিব মুফতি মোঃ নূরুল আমীন, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী, জামেয়া রহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক, চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোঃ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আল আযহারী, ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলী, দারুল উলূম রামপুরার মুহতামিম মুফতি ইয়াহ্ইয়া মাহমুদ, জামিয়াতুল উলুমের মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হাসান, বায়তুল উলূম ঢালকানগর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাফর আহমাদ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ, মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসন জামে মসজিদের খতিব শায়খ আহমাদুল্লাহ, তেজগাঁও জামেয়া ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান ও মুফাসসির ড. মাওলানা আবু ছালেহ পাটোয়ারী, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম, চকবাজার শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, বড় কাটরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম মাদানী, শামসুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি শারাফাত হোসাইন, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন আলেমের সঙ্গে বৈঠক করে কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল ইফা।

 

 
আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সব শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বিবৃতি
                                  

মানবিক, ধর্মীয় ও বয়স বিবেচনায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে শীর্ষ উলামাগণ বলেন, বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নানান জটিল ও কঠিন রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন। যেকোন সময়ে তার এই মরণঘাতি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছি আমরা। দেশ জাতির এ কঠিন মুহূর্তে তার প্রতি সদয় হওয়া সময়ের দাবী। তাই আমরা রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানের কাছে আল্লামা সাঈদীর আশু মুক্তি দাবী করছি।

তারা বলেন, ক্ষমতা কোনো দিন চিরস্থায়ী নয়। সামান্য একটি ভাইরাস দিয়ে আল্লাহ তায়ালা গোটা দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। দুনিয়ার বড় শক্তিগুলোকে মানবিক হতে শিখিয়েছে। সেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমাদের ফরিয়াদ বর্ষীয়ান এ মুফাসসিরে কোরআনকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন। আমাদের সরকার ও রাষ্ট্র বর্ষীয়ান এ মুফাসসিরের প্রতি সদয় হয়ে তাকে মুক্তি দিন। মহান আল্লাহ তার গজব ‘করোনা ভাইরাস’ থেকে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে রক্ষা করুন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হজুর, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব শর্ষীনার ছোট পীর মাওঃ শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওঃ আঃ মোমেন নাছেরী,টেকের হাটের পীর সাহেব মাওঃ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুফতি মাওলনা আবদুর রহমান চৌধুরী, নেজামে ইসলামীর মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মাওঃ হাফেজ আবুল হোসাইন, মুফতি মাওঃ নাসির উদ্দীন খান, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির আধ্যাত্মিক গুরু শাইখ নুরুল হুদা ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী আল্লামা মুস্তাক ফয়েজী, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব মাওলানা ফয়জুল্লাহ আশরাফী, বেফাকের কেন্দ্রিয় উস্তাদ মুফতি বাহউদ্দীন, মুসলিম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শায়েখ মাওলানা রহমান আজিজ হবিগঞ্জী, খতিব পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সালেহ, মুফাসসির পরিষদের কেন্দ্রিয় নেতা মাওলানা জাকির হোসাইন, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের সহ সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী,গণসভা আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা বনী ইয়ামিন,কাসেমী পরিষদের আমীর শায়খ আবু বকর কাসেমী প্রমুখ

করোনা মোকাবেলায় আল্লামা শফীর পাঁচ পরামর্শ
                                  

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইমাম-খতিবদের উদ্দেশ্যে ৫টি পরামর্শ দিয়েছেন দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। গতকাল বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্যতম একটি মুসলিম প্রধান দেশ। দেশে তিন লাখের অধিক মসজিদ রয়েছে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। মসজিদে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করেন। আল্লাহ তায়ালার দরবারে কান্নাকাটি করেন। মসজিদের সঙ্গে রয়েছে তাদের আত্মিক সম্পর্ক। কারণ মসজিদ হলো সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। আল্লাহর দৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান মসজিদ। তাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও মুতাওয়াল্লীদের সমীপে ছয়টি পরামর্শ প্রদান করা হলো। আশা করছি,পরামর্শগুলো যথাযথ আমলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

এক. আমাদের দেশের জনগণ করোনাভাইরাস ইস্যুতে এখনো পরিপূর্ণ সচেতন নন। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ তোয়াক্কা করছেন না। অথচ এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাাহমুখী হওয়া। কারণ তওবা ইসতেগফার ও কান্নাকাটির মাধ্যমে আল্লাহর আজাব ও গজব থেকে আমরা বাঁচতে পারব। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে বিশেষ মুনাজাত করুন। তওবা ইসতেগফার করুন। সুন্নাহসম্মত দোয়ার আমল করুন।

দুই. বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা হলে ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ মিলে হলেও নামাজের জামাত কায়েম করতে হবে। মসজিদ বন্ধ করা যাবে না। তবে সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে আদায় করার প্রতি মুসল্লিদের তাকিদ দিন। আর সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব আমল চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

তিন. দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে দিনমজুর ও সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষ। তাই ইমাম খতিব, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীলগণ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন। সমাজের বিত্তশালীদের সঙ্গে পরামর্শ করে অসহায় মানুষদের হাতে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিন।

চার. মসজিদে মসজিদে অজুর আগে হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করুন। ফরজ নামাজ ও জুমার বয়ানে সংক্ষিপ্ত আকারে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা করুন। গুজব, কানকথা, ভিত্তিহীন ও তথ্যহীন আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। বিদেশ ফেরত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মসজিদে না এসে তাদের ঘরে নামাজ আদায়ের নির্দশে দিন।

পাঁচ. প্রত্যেক মহল্লার ইমাম ও সচেতন উলামায়ে কেরাম প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে দোয়া ইউনুস, কোরআন খতম ও রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়ার আমল করুন। "লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।" এই আয়াত সবাইকে বেশি বেশি পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন এবং ঘর থেকে বের হওয়ার আগে "বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআস মিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।` উক্ত দোয়াটি নিয়মিত পড়তে বলুন।

৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত
                                  

বুধবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী শুক্রবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ।

করোনার কারণে মসজিদ বন্ধ হবে না
                                  

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সারা দেশের মসজিদগুলো আপাতত বন্ধ হচ্ছে না। মসজিদগুলো খোলাই থাকবে। জামাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও জুমার নামাজও চলবে।

তবে করোনা সংক্রমণ থেকে নিজের সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কেউ যেন মসজিদে না যান, সে ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। পাশাপাশি মসজিদে নামাজের জামাতে মুসল্লি সীমিত রাখতে বলেছে সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটি।

 

বুধবার ইফার মহাপরিচালক (ডিজি) আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে ৪টি নির্দেশনা দেয়া হয়। এগুলো হল- ১. করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে এবং মানুষের ব্যাপক মৃত্যুঝুঁকি থেকে সুরক্ষার জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সব ধরনের জনসমাগম বন্ধের পাশাপাশি মসজিদগুলো জুমা ও জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি সীমিত রাখতে হবে। ২. মসজিদ বন্ধ থাকবে না, তবে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না করে কেউ মসজিদে আসবেন না। ৩. সরকার ও বিশেষজ্ঞদের সর্তকতার জন্য যে সব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে- তা মেনে চলার জন্য জনগণকে অনুরোধ করা হল। ৪. সবাই অপরাধমূলক কাজ-কর্ম থেকে বিরত হয়ে ব্যক্তিগতভাবে তওবা, ইস্তিগফার ও কুরআন তেলাওয়াত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়।

কোন প্রক্রিয়ায় মসজিদে নামাজের জামাতে মুসল্লি সীমিত রাখতে হবে তার কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে। একই সাথে করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না হয়ে মসজিদে আসা যাবে না। তবে কীভাবে সুরক্ষা নিশ্চিত করে মুসল্লিরা মসজিদে যাবেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো পরামর্শ নেই।

জুমার নামাজ: যা করতে বললেন আজহারী
                                  

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ তালিকায় সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, ইরান, ইরাক, মালয়েশিয়ার নাম রয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেন না ছড়ায় সেজন্যই এমন সিদ্ধান্ত। কারণ মসজিদে অসংখ্য মানুষের জমায়েত হয়। তাই এখান থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর শঙ্কা রয়েছে ।

এদিকে বাংলাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়লেও মসজিদে নামাজ পড়ার ব্যাপারে এখনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। এ নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত আছেন। আবার কেউ সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রাখছেন। আজ শুক্রবারের জুমার নামাজ পড়া নিয়ে অনেকেই ভয়ে আছেন। তাদের ভয় দূর করার জন্য জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে ইমাম ও মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। করোনার সংক্রমণ না ছড়িয়ে কীভাবে জামায়াতবদ্ধ হয়ে নামাজ আদায় করা যায় সে ব্যাপারে দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

নিরাপদে থাকার অনুরোধ জানিয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, বাংলাদেশ জনবহুল একটি দেশ হওয়ায় এখানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়লে সেটা সামাল দেয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মত যেহেতু এখনো রাষ্ট্রীয়ভাবে জুমার নামাজ বন্ধের ঘোষণা আসেনি, তাই নামাজে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মেনে চলার চেষ্টা করা যায়।’

এক্ষেত্রে সম্মানিত খতীব মহোদয়গণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আলোচনা ও খুতবা সংক্ষিপ্ত করতে হবে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে চিকিৎসকদের গাইডলাইন শেয়ার করতে হবে। ইসলামে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব নিয়ে মসজিদে আলোকপাত করা যায়। তাওবা, ইস্তিগফার ও পাপের জন্য সিজদায় কাঁদতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

মসজিদ কতৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডেটল বা সেভলন দিয়ে মসজিদের ফ্লোর মুছে রাখুন। ওজু খানায় সাবান রাখুন। এতে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে।’

সবশেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে জনপ্রিয় এই ইসলামি বক্তা বলেন, ‘নিকটবর্তী মসজিদে জুমার সালাত আদায় করুন। সঙ্গে করে মাস্ক, টিস্যু ও জায়নামাজ নিয়ে যান। আপাতত মুসাফাহা করা থেকে বিরত থাকুন। জ্বর, কাশি, সর্দি ইত্যাদিতে আক্রান্ত থাকলে ঘরে জোহরের নামাজ পড়ুন। এক্ষেত্রে মসজিদে যাওয়ার দরকার নেই।’

রাসূল (সা.) রোগ সংক্রমণ ও মহামারী নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন
                                  

ছোঁয়াচে রোগ বা রোগের সংক্রমণ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে। আমরা বাস্তবেও দেখতে পাই যে, রোগীর কাছে, বা চারপাশে থেকেও অনেক মানুষ সুস্থ রয়েছেন। আবার অনেক সতর্কতার পরেও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন বিভিন্ন রোগে। বস্তুত শুধু রোগজীবাণুর সংক্রমনেই যদি রোগ হতো তাহলে আমরা সকলেই অসুস্থ হয়ে যেতাম; কারণ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন প্রকারের রোগজীবাণু আমাদের দেহে প্রবেশ করছে। রোগজীবাণুর পাশাপাশি মানুষের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, রোগ জীবাণুর কর্মক্ষমতা ইত্যাদি অনেক কিছুর সমন্বয়ে মানুষের দেহে রোগের প্রকাশ ঘটে।

আবূ হুরাইরা (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বললেন, সংক্রমনের অস্তিত্ব নেই। তখন এক বেদুঈন বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আমার উটগুলো হরিনীর ন্যায় সুস্থ থাকে। এরপর একটি চর্মরোগে আক্রান্ত উট এগুলোর মধ্যে প্রবেশ করার পরে অন্যান্য উটও আক্রান্ত হয়ে যায়। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) বলেন, তাহলে প্রথম উটটিকে কে সংক্রমিত করল? (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৬১, ২১৭৭; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৪২। পাশাপাশি সংক্রমনের বিষয়ে সতর্ক হতেও রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, অসুস্থকে সুস্থের মধ্যে নেয়া হবে না (রুগ্ন উট সুস্থ উটের কাছে নেবে না)। (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৭৭; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৪২-১৭৪৩) ‘যদি তোমরা শুনতে পাও যে, কোনো জনপদে প্লেগ বা অনুরূপ মহামারীর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে তবে তোমরা তথায় গমন করবে না। আর যদি তোমরা যে জনপদে অবস্থান করছ তথায় তার প্রাদুর্ভাব ঘটে তবে তোমরা সেখান থেকে বের হবে না। (বুখারী, আস-সহীহ ৫/২১৬৩; মুসলিম, আস-সহীহ ৪/১৭৩৮, ১৭৩৯) এভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ) প্রায় দেড় হাজার বৎসর পূর্বে সংক্রমন প্রতিরোধে বিচ্ছিন্নকরণ (য়ঁধৎধহঃরহব) ব্যবস্থার নির্দেশনা প্রদান করেন।

মুমিন বিশ্বাস করেন যে, সকল বিষয়ের ন্যায় রোগের ক্ষেত্রেও আল্লাহর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এজন্য সংক্রমনের ভয়ে অস্থির বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পাশাপাশি যে সব রোগের বিস্তারে সংক্রমন একটি উপায় বলে নিশ্চিত জানা যায় সে সকল রোগের বিস্তার রোধের ও সংক্রমন নিয়ন্ত্রনের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মানবজাতির প্রতি কোরআনের উপদেশ
                                  

সুরা লোকমান : প্রথম পর্ব
কোরআনের অনুসারীরা সুপথপ্রাপ্ত
ইরশাদ হয়েছে, ‘তারাই (কোরআনের অনুসারীরা) তাদের প্রতিপালকের নির্দেশিত পথে আছে এবং তারাই সফলকাম।’
(সুরা : লোকমান, আয়াত : ৫)
অসার কথা-কাজ পরিহার করো
ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করতে অসার বাক্য ক্রয় করে এবং আল্লাহর পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করে। তাদের জন্যই রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ৬)
কোরআন থেকে বিমুখ হয়ো না
ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন তার কাছে আমার আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন সে দম্ভভরে মুখ ফিরিয়ে নেয়, যেন সে শুনতেই পায়নি, যেন তার কান দুটি বধির; অতএব তাদের মর্মন্তুদ শাস্তির সংবাদ দাও।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ৭)
কৃতজ্ঞতা সুফল বয়ে আনে
ইরশাদ হয়েছে, ‘... যে কৃতজ্ঞতা আদায় করে সে তার নিজের জন্যই তা করে। আর কেউ অস্বীকার করলে আল্লাহ তো অভাবমুক্ত, প্রশংসার্হ।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১২)
সন্তানকে দ্বিন শেখাও
ইরশাদ হয়েছে, ‘স্মরণ করো, যখন লোকমান উপদেশচ্ছলে তার ছেলেকে বলেছিল, হে বৎস! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক কোরো না। নিশ্চয়ই শিরক চরম জুলুম।’ (সুরা : লোকমান, আয়াত : ১৩)

পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া ও মসজিদে কালেকশন প্রসঙ্গ
                                  

 উবায়দুল্লাহ আসআদ কাসেমি: জৈনক ব্যক্তি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের ইফতা বিভাগে জানতে চেয়েছেন, বাজার-ঘাটে কিছু লোক ভিক্ষা চায়,তা হলে কি ইসলাম ভিক্ষা করার অনুমতি প্রদান করে? আরো কিছু লোক মসজিদেও চাঁদা কালেকশন করে, এমন করা কি বৈধ আছে? জানিয়ে বাধিত করবেন!
এ প্রশ্নের উত্তরে দারুল ইফতা জানিয়েছে, যে ব্যক্তির কাছে একদিন সকাল-সন্ধ্যার খাদ্যের ব্যবস্থা রয়েছে, তাকে ইসলাম ভিক্ষাবৃত্তি থেকে নিষেধ করে।
হজরত সাহল ইবনুল হানজালিয়া রা. থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তির কাছে একদিনের সকাল-সন্ধ্যার খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে, তারপরেও যদি সে ভিক্ষাবৃত্তি করে, তা হলে সে যেন জাহান্নামের আগুন একত্র করছে।


ইমামে আজম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ বলেন; এমন ব্যক্তির জন্য ভিক্ষাবৃত্তি করা বৈধ নয়। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে; যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভিক্ষাবৃত্তি করে, যেমন সে জাহান্নামের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ একত্র করছে। এখন তার ইচ্ছা; বেশি একত্র করুক বা স্বল্প করুক। ( মিশকাতুল মাসাবিহ)
অন্যদিকে ইসলাম সম্পদশালী ব্যক্তিদেরকে নির্দেশ প্রদান করেছে, তারা যেন অভাবগ্রস্ত লোকদের অবস্থার অনুসন্ধান করেন এবং তাদের প্রয়োজন পূরণের চিন্তা করেন।
অতএব, রাস্তাঘাট এবং হাটে-বাজারে যেসব লোক পেশাদারী হিসাবে ভিক্ষাবৃত্তি করে থাকে, ভিক্ষাবৃত্তিকে তারা পেশা বানিয়েছে, তাদেরকে ভিক্ষা না দিলে কোনো পাপ হবে না। আর যদি আলামত-নিদর্শন দ্বারা বোঝা যায় যে, সে সত্যিই অভাবগ্রস্ত ব্যক্তি ভিক্ষা করছে, তা হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে সাহায্য করা উচিত।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, হে আদম সন্তান! তুমি ব্যয় করো, আমি তোমার উপর ব্যয় করবো। কুরআনে কারিমের আয়াতেও আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ভিক্ষুককে তাড়িয়ে দিও না। আর যদি কিছু দেয়ার তৌফিক না থাকে, তা হলে ন¤্রতার সাথে ওজর পেশ করো।


মসজিদের নিজের জন্য ভিক্ষা করা বৈধ নয়, অবশ্য কোনো কল্যাণের কাজে চাঁদা উত্তোলনের লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধকরণ হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া অথবা নেহায়েত অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য অন্য ব্যক্তি মানুষকে অবহিত করলে এর বৈধতা রয়েছে। কিন্তু মসজিদে এমন চাঁদা উঠানো, যাতে মানুষের ঘাড়ের উপর দিয়ে যেতে হয় এবং নামাজি এবং তেলাওয়াতকারীদের ইবাদতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয় অথবা নামাজির সম্মুখ দিয়ে অতিক্রম করতে হয়, বৈধ নয়। এমন চাঁদা মসজিদের দরজায় করার অবকাশ রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা-ই ভালো জানেন।

নবীজী রজব মাসে যে দোয়া বেশি পড়তেন
                                  

আল্লাহতায়ালা কুরআনুল কারিমে চারটি মাসকে হারাম ঘোষণা করেছেন। তার মধ্যে রজব মাসও আশহুরে হুরুমের অন্তর্ভূক্ত। তাছাড়া এ মাসটি ‘শাহরুল্লাহ’ বা আল্লাহর মাস হিসেবেও পরিচিত।


হাদিসে হজরত মুহাম্মদ সা. বলেন, ১২ মাসে বছর। তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত। তিনটি মাস ধারাবাহিক, আর তা হচ্ছে- জিলক্বদ, জিলহজ ও মহররম। আর চতুর্থ মাসটি হল- রজব, যা জমাদিউস সানি ও শা’বান মাসের মর্ধবর্তী মাস। (বুখারি)
রজব ও শা’বান মাস পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তাস্বরুপ। অত্যধিক ফজিলত ও মর্যাদার কারণে রজব ও শা’বান মাসজুড়ে প্রিয়নবি সা. নির্দিষ্ট এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন। যাতে রজব ও শা’বান মাসের বরকত ও পবিত্র রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধির আবেদন ফুটে উঠেছে।
বরকতময় দোয়াটি হলো- اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শা’বান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত (হায়াত দিন) পৌঁছে দিন।’
রজব ও শা’বান মাসে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দোয়াটি বেশি বেশি পড়তেন। যা মুসলিম উম্মাহর জন্য অনুকরণীয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।


এ দোয়ার তাগিদ ও শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যই হচ্ছে- মুসলিম উম্মাহ যেন রমজানের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত-বন্দেগির জন্য নিজেকে তৈরি করে নিতে পারে। আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সব কাজে বরকত লাভ করতে পারে।

 

২২ মার্চ পবিত্র শবে মেরাজ
                                  

দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি রজব মাস গণনা শুরু হবে। সে হিসেবে আগামী ২২ মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মেরাজ পালন করা হবে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইসলাম ধর্মমতে লাইলাতুল মেরাজ বা মেরাজের রাত, যা সচরাচর শবে মেরাজ হিসাবে আখ্যায়িত হয়, হচ্ছে যে রাতে ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং স্রষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন। অনেক মুসলমান এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদযাপন করেন। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কারণ এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ নামায, মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক (ফরজ) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ(সা:)।

ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী মুহাম্মাদের (সা:) নবুওয়াত প্রকাশের একাদশ বৎসরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত ইসলামের নবী মুহাম্মাদ প্রথমে কাবা শরিফ থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত বায়তুল মুকাদ্দাস বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি বোরাক নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায় তিনি আল্লাহ`র সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন।

ইসলাম সমাজে শান্তি বজায় রাখতে যেসব স্বভাব ত্যাগ করতে বলে
                                  

ইসলামে অন্যকে উপহাস, তিরস্কার, মন্দ নামে ডাকা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ ধরনের মন্দ স্বভাব-আচরণে মানুষ মানসিকভাবে খুব কষ্ট পায়। তাই এ ধরনের বদ-অভ্যাস অবশ্যই পরিহার করতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমাদের পুরুষরা যেন পরস্পরকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে ভালো হতে পারে, তোমাদের নারীরা যেন পরস্পরকে উপহাস না করে, কেননা উপহাসকারীর চেয়ে সে ভালো হতে পারে, তোমরা পরস্পরকে দোষারোপ করবে না, মন্দ নামে ডাকবে না, মুমিন হওয়ার পর মন্দ নামে ডাকা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, আর যাঁরা এ কাজ থেকে বিরত হবে না তারাই অবিচারকারী।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১১)

উপরোক্ত আয়াতে কাউকে উপহাস করা, কারো দোষত্রুটি বর্ণনা করা কিংবা মন্দ নামে ডাকতে নিষেধ করা হয়েছে। উপহাস বলতে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, অপমান করা ইত্যাদি। যাতে ব্যক্তির মনে আঘাত লাগে। সমাজে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব ও হানাহানি।


তেমনি মানুষকে মন্দ নামে ডাকতে বারণ করা হয়েছে। কাউকে লাঞ্ছিত করতে, অপমান করতে বা অতীতের কোনো অপরাধ, দোষত্রুটির জের ধরে কাউকে ডাকা উচিত নয়। এতে মানুষ অন্তরে আঘাত পায়। তা ছাড়া অন্যরা অবজ্ঞাবশত মন্দ নামে ডাকতে শুরু করে। কেউ কোনো অপরাধ করে তা থেকে তওবা করে ফিরে এলে, তাকে অতীত অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাকে সম্বোধন করা উচিত নয়; বরং একজন মুমিনের কাছে অপর মুমিনের এ অধিকারটুকু প্রাপ্য, তাকে সুন্দর নামে ডাকা হবে।
মুমিন হিসেবে অপর মুমিনের প্রতি অহেতুক কু ধারণা পোষণ করা যাবে না। প্রমাণ ছাড়া কারো প্রতি মন্দ ধারণা পোষণ করা ইসলামের শিষ্টাচারের বহির্ভূত কাজ। বরং অন্যের প্রতি অবান্তর কু ধারণা পোষণ করা গুনাহ বা পাপ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা, তোমরা বেশি বেশি অহেতুক ধারণা পোষণ থেকে বেঁচে থাকো, কেননা কিছু কিছু ধারণা পাপতুল্য।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)


ইসলামের দৃষ্টিতে গিবত একটি সামাজিক অপরাধ। গিবত হলো, কারো অনুপস্থিতিতে এমন কিছু বলা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পাবে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জানো, গিবত কী? সাহাবারা বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। গিবত হলো তোমার ভাই সম্পর্কে এমন কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞেস করা হলো, আমি যা বলি তা আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকলে? রাসুল (সা.) বলেন, তোমার কথা তার মধ্যে বিদ্যমান থাকলেই তা গিবত। আর তোমার কথা তার মধ্যে বিদ্যমান না থাকলে তা তো অপবাদ।’ (সহিহ মুসলিম)
অন্যের গিবত বা পরনিন্দা করা জঘন্যতম গুনাহ। কোরআনে গিবত বা পরনিন্দাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার মতো ঘৃণ্য বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পরের গোপন বিষয় জানতে ওত পেতে থেকো না, একে অপরের গিবত কোরো না, তোমাদের কেউ কি নিজের মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে? অথচ তা তোমরা ঘৃণা কোরো, তাই আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও দয়ালু।’ (সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)


কারো অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা একটি ব্যাধি। এতে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মমতাবোধ নষ্ট হয়। এই মন্দ স্বভাবের কারণে দুনিয়া ও আখেরাতে সে অপদস্থ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ওই সব লোকের দুর্ভোগ! যাঁরা পশ্চাতে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা করে।’ (সুরা : হুমাজা, আয়াত : ১)


তবে ইসলামি শরিয়ত কিছু ক্ষেত্রে সমালোচনার অনুমতি দিয়েছে। অত্যাচারী মন্দ স্বভাবের কথা বলে নিপীড়িত মানুষের বিচার চাইলে। পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তির পাপকর্ম সম্পর্কে সমাজের লোকদের সতর্ক করার জন্য বা শক্তি প্রয়োগ করে তাকে প্রতিরোধের জন্য তার অবস্থার বর্ণনা করা, মুফতির কাছে ফতোয়ার অবস্থার পুরো বিবরণ প্রদান করা, কেউ পঙ্গু, কানা বা অন্ধ বা এ ধরনের কোনো নামে পরিচিত হলে তাকে এ নাম দিয়ে পরিচয় দেওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে তা গিবত বলে ধরা হবে না।


কাউকে মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করার অর্থ হলো অপবাদ দেওয়া। এটি গিবতের চেয়ে মারাত্মক গুনাহ। বিশেষত কোনো সতী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ রটানো অনেক বড় গুনাহ। আল্লাহ বলেন, ‘যারা সতী-সাধ্বী সরল ও ঈমানদার নারীদের ব্যাপারে অপবাদ রটায় তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশপ্ত, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি।’ (সুরা : নূর, আয়াত : ২৩)
দুনিয়ায় তাদের কঠিন শাস্তির একটি হলো, অপবাদের বিষয়টি প্রমাণিত হলে তাদের ৮০টি বেত্রাঘাত করা হবে। এরপর কখনো তার কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না। আর আখেরাতে শাস্তি তো আছেই।

কোরআনের অমূল্য উপদেশ মানবজাতির প্রতি
                                  

 সুরা : ত্বহা : চতুর্থ পর্ব
কিয়ামতের দিন অপরাধীরা অন্ধ হয়ে উঠবে
ইরশাদ হয়েছে, ‘যেদিন শিঙায় ফুৎকার দেওয়া হবে এবং সেদিন আমি অপরাধীদের দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করব।’
(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১০২)
শেষ বিচারের দিন মানুষ কোনো শব্দ করতে পারবে না
ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন তারা আহ্বানকারীর অনুসরণ করবে, এই ব্যাপারে এদিক-ওদিক করতে পারবে না। দয়াময়ের সামনে সব শব্দ স্তব্ধ হয়ে যাবে। সুতরাং মৃদু পদধ্বনি ছাড়া তুমি কিছুই শুনবে না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১০৮)
পরকালে সামান্যসংখ্যক মানুষই সুপারিশ করতে পারবে
ইরশাদ হয়েছে, ‘দয়াময় যাকে অনুমতি দেবেন এবং যার কথা তাঁর পছন্দ হবে, সে ছাড়া কারো সুপারিশ সেদিন কোনো কাজে আসবে না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১০৯)
আল্লাহ মানুষের জ্ঞানের ঊর্ধ্বে
ইরশাদ হয়েছে, ‘তাদের সামনে-পেছনে যা কিছু আছে তা তিনি অবগত। কিন্তু তারা জ্ঞান দ্বারা তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না।’ (সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১১০)
কোরআন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো
ইরশাদ হয়েছে, ‘এভাবে আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি আরবি ভাষায়। তাতে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি সতর্কবাণী, যাতে তারা ভয় করে অথবা তা হয় তাদের জন্য উপদেশ।’
(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১১৩)

সিজদার যত উপকারিতা
                                  

মুফতি সাইফুল ইসলাম: নামাজ মুসলিম জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন মুসলিম কিছুতেই নামাজকে এড়িয়ে যেতে পারেন না। ইমান আনার পর ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয়টিই হচ্ছে নামাজ। পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করা হয়েছেÑ‘নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করা মুমিনদের ওপর ফরজ।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১০৩)


ইসলামের পরিভাষায় ফরজ মানেই হচ্ছে অবশ্যকরণীয়। যা না করে কোনো উপায় নেই। নামায এমন একটি ইবাদত, যেখানে বান্দা ও তার প্রভুর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হয়। একাগ্রচিত্তে নামায আদায়কারী একজন মানুষ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে কোনো খারাপ কাজের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত হতে পারেন না। কারণ তাঁর মধ্যে কাজ করে একটু পরই মহান রবের সঙ্গে কথোপকথনের মধুময় মুহূর্তের অনুভূতি। মহাগ্রন্থ আল-কোরআনে অন্তত ৮২ জায়গায় নামাজের কথা বলা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর জীবনের শেষ আদেশও ছিল এই নামাজ।


মুসলিম জীবনের এই নামাজের ইহকালীন ও পরকালীন অনেক উপকারিতা ও ফজিলতের পাশাপাশি আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায়ও উঠে এসেছে মানবদেহের জন্য এর অভাবনীয় উপকারিতার কথা। আমরা নামাজের রুকনগুলোর বৈজ্ঞানিক উপকারিতার বিষয়ে পর্যায়ক্রমে আলোকপাত করার চেষ্টা করব। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আমরা কথা বলব নামাজের সিজদায় মানবদেহের বৈজ্ঞানিক উপকারিতা নিয়ে। আমেরিকার ওয়াশিংটন ডিসির একজন চিকিৎসক মুসলিম সমাজে নামাজের এত গুরুত্বের কারণ অন্বেষণ করতে গিয়ে আবিষ্কার করেন যে মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হচ্ছে হার্ট, যা সারা শরীরে পাম্প করার মাধ্যমে রক্তের প্রবাহ চালু রাখে। প্রতিনিয়ত সারা শরীর থেকে পাম্পিং করে হার্ট রক্ত টেনে আনে এবং আবার তা সারা শরীরে ছড়িয়ে দেয়। আর মানবদেহে হার্টের অবস্থান থেকে বেশি অংশই হার্টের নিচের দিকে হওয়ায় বুক, পেট, কোমর ও পায়ের দিকে খুব সহজেই রক্তের প্রবাহ সৃষ্টি হয় ও চালু থাকে। এমনকি কখনো কখনো খুব বেশি সময় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে শরীরের নিম্নাংশে অতিরিক্ত রক্তপ্রবাহের কারণে অসুবিধারও সৃষ্টি হয়। আরো লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, মানুষ সাধারণত দাঁড়িয়ে, বসে বা শুয়ে থেকে সময় অতিবাহিত করে থাকে। এর মধ্যে শোয়ার সময় সারা শরীর হার্টের সমান্তরাল পজিশনে এলেও মাথার দিক তখনো হার্ট থেকে নিচে অবস্থান করে না। কিন্তু একজন মুসলিম যখন নামায আদায় করেন তখন তিনি প্রতিবার সিজদা করার সময় তাঁর দেহের মাথাসহ ওপরের অংশ হার্টের নিচে অবস্থান করে থাকে। আর ঠিক ওই সময়টায় হার্ট মানবদেহের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মাথায় পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত করে থাকে। পাঠকবৃন্দ! আমরা যাঁরা নামায আদায়ে অভ্যস্ত, তাঁরা একটু খেয়াল করলে অনুভব করতে পারব যে সিজদা করার সময় আমাদের মাথাটা কিঞ্চিৎ গরম ও ভারি অনুভূত হয়। আর সাধারণত সিজদায় বেশি সময় অবস্থান করা হয় না অতএব বেশি পরিমাণ রক্তপ্রবাহের চাপও খুব বেশি সময় ধরে হয় না। যার ফলে মস্তিষ্কে রক্তের মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টির অবস্থা হওয়ারও সুযোগ থাকে না। এভাবে একজন নামাজি প্রতি ওয়াক্ত নামাজে অনেকবার, দিনে অন্তত পাঁচবার যখন দেহের এই ব্যায়ামটুকু করেন, তখন তিনি স্বাভাবিকভাবেই অন্য আরো অনেকের তুলনায় অনেকাংশে সুস্থতা অনুভব করেন। তাঁর দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তিসহ স্মরণশক্তিও বেনামাজিদের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
নামাজি ব্যক্তির চেহারায় অন্যান্যের তুলনায় বেশি লাবণ্য পরিলক্ষিত হয়। তার কারণ সিজদা করার সময় মুখের প্রতিটি শিরায় যথেষ্ট পরিমাণে রক্তের প্রবাহ সৃষ্টি হয়। যার অভাবে যাঁরা নামায আদায় করেন না তাঁদের চেহারায় একধরনের কালচে আভা দৃষ্টিগোচর হয়ে থাকে।
এ ছাড়া সিজদার সময় নিতম্ব, হাঁটু, টাখনু ও কনুইয়ের ওপর ঝোঁকানো (ঋষবীরড়হ) হয়ে থাকে। যখন নলা ও রানের পেছনের পেশি, কোমর ও উদরের পেশি চেপে যায়, তখন কাঁধের জোড়ার পেশিগুলো এর বাইরের দিক থেকে টান লাগে। এর সঙ্গে সঙ্গে মাথার পেছনের অঙ্গগুলোও চেপে যায়। এর সবগুলোই শরীরতত্ত্ববিদ্যার ভাষায় দেহের জন্য খুবই উপকারী বলে প্রমাণিত।


মহিলা নামাজিরা সিজদা করার সময় তাঁদের বুক হাঁটুর সঙ্গে মিলিয়ে রাখেন। যেটি শরীরতত্ত্ববিদদের ভাষায় গর্ভাশয়ের সর্বোত্তম চিকিৎসা।
লাখো কোটি শুকরিয়া সেই মহান রবের, যিনি আমাদের এত এত সুন্দর সুন্দর আমল দিয়ে নিজেদের দুনিয়া ও আখিরাতের জীবনকে সুচারুরূপে সাজিয়ে নেয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক ও অনুবাদক ফকিরের বাজার, নেত্রকোনা।

জুমার দিনের আদব-শিষ্টাচার
                                  

 সপ্তাহের অন্য কোনো দিনের চেয়ে জুমাবারের গুরুত্ব বেশি। জুমার দিনকে সাপ্তাহিক ঈদের দিন বলা হয়েছে। জুমার দিনের সওয়াব ও মর্যাদা ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার মতো। এ দিন ইসলামের ইতিহাসে বড় বড় ও মহৎ কিছু ঘটনা ঘটেছে। জুমার গুরুত্ব আল্লাহ তাআলার কাছে এতোখানি যে, কোরআনে ‘জুমা’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরাও নাজিল করা হয়েছে।
সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন হওয়ার কারণে জুমার দিনের বিশেষ কিছু আদব ও শিষ্টাচার রয়েছে। কিছু জুমার আগে, কিছু মসজিদের, কিছু খুতবার সময়ের আর কিছু নামাজের আগে-পরের।

সেগুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা-
এক. জুমার দিন গোসল করা। যাদের উপর জুমা ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল (সাঃ) ওয়াজিব করেছেন (বুখারি, হাদিস নং: ৮৭৭, ৮৭৮)।
পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ ও চুল কাঁটা একটি ভালো কাজ।
দুই. জুমার নামাজের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা। (বুখারি, হাদিস নং: ৮৮০)
তিন. মিস্ওয়াক করা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১০৯৮; বুখারি, হাদিস নং: ৮৮৭)
চার. গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বুখারি, হাদিস নং: ৮৮৩)
পাঁচ. উত্তম পোশাক পরিধান করে জুমা আদায় করা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১০৯৭)
ছয়. মুসুল্লিরা ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিজি, হাদিস নং:৫০৯, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১১৩৬)
সাত. মনোযোগ সহ খুতবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস নং: ৯৩৪, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫৭)
আট. আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া। (বুখারি, হাদিস নং:৮৮১, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৫০)
নয়. পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩৪৫)
দশ. জুমার দিন ফজরের নামাজে ১ম রাকাতে সুরা সাজদা (সুরা নং ৩২) আর ২য় রাকাতে সুরা দাহর (সুরা নং : ৭৬) পড়া। (বুখারি, হাদিস নং: ৮৯১, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৭৯)
এগারো. সুরা জুমা ও সুরা মুনাফিকুন দিয়ে জুমার নামায আদায় করা। অথবা সুরা আলা ও সুরা গাশিয়া দিয়ে জুমা আদায় করা। (মুসলিম, হাদিস নং: ৮৭৭)
বারো. জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দুরুদ পড়া। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ১০৪৭)
তেরো. এ দিন বেশি বেশী দোয়া করা।। (বুখারি, হাদিস নং: ৯৩৫)
চৌদ্দ. মসজিদে মুসুল্লিদের মাঝে ফাঁক করে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। (বুখারি, হাদিস নং:৯১০)
পনের. মুসুল্লিদের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ৩৪৩)
ষোল. কাউকে উঠিয়ে দিয়ে, সেখানে বসার চেষ্টা না করা। (বুখারি, হাদিস নং: ৯১১, মুসলিম, হাদিস নং: ২১৭৮)
সতের. খুতবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দুই রাকাত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা। (বুখারি, হাদিস নং: ৯৩০)
আঠারো. জুমার দিন নামাজের আগে মসজিদে জিকর বা কোনো শিক্ষামুলক হালকা না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা, যদিও এটা কোনো শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ১০৮৯)
উনিশ. কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। (নাসায়ি, হাদিস নং: ৭১৪, বুখারি, হাদিস নং: ৯৩৪)
বিশ. মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা। (বুখারি, হাদিস নং: ৮৫৩)
একুশ. ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়াগা বদল করে বসা। (আবু দাউদঃ ১১১৯)
বাইশ. ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ১১১০, ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১১৩৪)
তেইশ. খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। (আবু দাউদ, হাদিস নং: ১১০৮)
চব্বিশ. জুমার দিন সুরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তাআলা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। (হাকেম, হাদিস নং: ২/৩৬৮, বায়হাকি, হাদিস নং: ৩/২৪৯)
পঁচিশ. জুমার আযান দেওয়া। অর্থাৎ ইমাম মিম্বরে বসার পর যে আযান দেওয়া হয় তা।(বুখারি, হাদিস নং: ৯১২)
ছাব্বিশ. জুমার ফরজ নামায আদায়ের পর মসজিদে ৪ রাকাত সুন্নাত আদায় করা। (বুখারি, হাদিস নং: ১৮২, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৮১)
সাতাশ. যেখানে জুমার ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হল ঐ একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোনো কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা। (মুসলিম, হাদিস নং: ৭১০, বুখারি, হাদিস নং: ৮৪৮)
আটাশ. খুতবার সময় খতিবের কোনো কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরিক হওয়া জায়েজ। (বুখারি, হাদিস নং: ১০২৯, মুসলিম, হাদিস নং: ৮৯৭)
ঊনত্রিশ. হানাফি আলেমগন বলেছেন, ভিড় প্রচ- হলে সামনের মুসুল্লির পিঠের ওপর সেজদা দেওয়া জায়েজ। (আহমাদ, হাদিস নং: ১/৩২)। প্রয়োজনে পায়ের ওপরও দিতে পারবে। (আর রাউদুল মুরবি)
ত্রিশ. ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবিহ-তাহলিল, তাওবা-ইস্তিগফার ও কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত থাকা।

 

কানটার জবাব দিবেন একাধিক মসজিদের আযান শুনলে?
                                  

 আজান আরবি শব্দ। أَذَان‎‎ (অথবা আযান হিসেবে উচ্চারণ করা হয় যেমন: আফগানিস্তান, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, ভারত, ইরান, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, এবং তুর্কমেনিস্তান, ইজান হিসেবে উচ্চারণ করা হয় তুরস্ক, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, উজবেকিস্তান আযান হিসেবে উচ্চারণ করা হয়।
মুয়াজ্জিন কর্তৃক প্রার্থনার উদ্দেশ্য দিনের নির্ধারিত সময়ে ৫ বার আহবান করাকে আযান বলা হয়। সংজ্ঞা: ‘আজান’ অর্থ, ঘোষণা ধ্বনি (الإعلام)।
পারিভাষিক অর্থ, শরীআত নির্ধারিত আরবি বাক্য সমূহের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে উচ্চকণ্ঠে সালাতে আহবান করাকে ‘আজান’ বলা হয়। ১ম হিজরি সনে আযানের প্রচলন হয়।ʾ
আজান শব্দের মূল অর্থ দাড়ায় أَذِنَ ডাকা,আহবান করা। যার মূল উদ্দেশ্য হল অবগত করানো। এই শব্দের আরেকটি বুৎপত্তিগত অর্থ হল ʾআজুন। (أُذُن), যার অর্থ হল ‘শোনা’।
পবিত্র কুরআনে মোট পাঁচ স্থানে أذان শব্দটি এসেছে। এর মাহাত্ম্য হচ্ছে আমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরজ করা হয়েছে। তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
অনেক সময় একই সাথে বিভিন্ন মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে, সে ক্ষেত্রে কখনো দেখা যায় কোনো মসজিদের আযান প্রায় শেষের দিকে আবার কোনো মসজিদের আযান শুরুর দিকে, এ ক্ষেত্রে কোনটার জবাব দিব আমরা?
একই সাথে যদি বিভিন্ন মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসে, তখন শুধু মহল্লার মসজিদের আজানের নিয়তে জবাব দিলে যথেষ্ট হয়ে যাবে, আর যদি ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আযান হতে থাকে, তখন সে ক্ষেত্রে প্রথম আজানের জবাব দেওয়াই উত্তম, চাই সেটা মহল্লার মসজিদ হোক বা না হোক।
সূত্র: রদ্দুল মুহতার ১/৩৯৬ মাকতাবায়ে আশরাফিয়া। আহসানুল ফতুয়া ২/২৯২ মাকতাবায়ে থানবী। ফতোয়ায়ে আলমগীরী ১/৫৭ মাকতাবায়ে জাকারিয়া। মুফতি জিয়াউদ্দিন গালিব।

 


   Page 1 of 42
     ইসলামী জগত
মসজিদে আযান, ইকামত, জামাত ও জুমা অব্যাহত থাকবে: ইফা
.............................................................................................
আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সব শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বিবৃতি
.............................................................................................
করোনা মোকাবেলায় আল্লামা শফীর পাঁচ পরামর্শ
.............................................................................................
৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
করোনার কারণে মসজিদ বন্ধ হবে না
.............................................................................................
জুমার নামাজ: যা করতে বললেন আজহারী
.............................................................................................
রাসূল (সা.) রোগ সংক্রমণ ও মহামারী নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন
.............................................................................................
মানবজাতির প্রতি কোরআনের উপদেশ
.............................................................................................
পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া ও মসজিদে কালেকশন প্রসঙ্গ
.............................................................................................
নবীজী রজব মাসে যে দোয়া বেশি পড়তেন
.............................................................................................
২২ মার্চ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
ইসলাম সমাজে শান্তি বজায় রাখতে যেসব স্বভাব ত্যাগ করতে বলে
.............................................................................................
কোরআনের অমূল্য উপদেশ মানবজাতির প্রতি
.............................................................................................
সিজদার যত উপকারিতা
.............................................................................................
জুমার দিনের আদব-শিষ্টাচার
.............................................................................................
কানটার জবাব দিবেন একাধিক মসজিদের আযান শুনলে?
.............................................................................................
জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর দেহ-অঙ্গ দান প্রসঙ্গে ইসলাম যা বলে
.............................................................................................
অত্যাচারীদের পরিণাম যেমন হবে
.............................................................................................
সুখী ও ভালোবাসাময় দাম্পত্য জীবনের কিছু পাথেয়
.............................................................................................
দ্রুত বিয়ে করতে কার্যকরী ৭ আমল
.............................................................................................
পাখিদের প্রতি নবীজীর ভালোবাসা
.............................................................................................
মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে রনি দাসের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
মসজিদ আবাদ হোক শিশুদের অংশগ্রহণে
.............................................................................................
কোরআন শরিফের কপি বেশ পুরোনো হলে যা করতে হবে
.............................................................................................
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলাম
.............................................................................................
আল্লাহ অঙ্গীকার ভঙ্গকারীকে কঠিন শাস্তি দেবেন
.............................................................................................
যেভাবে কাজা নামাজ আদায় করতে হয়
.............................................................................................
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে সুস্থ থাকা সম্ভব : মার্কিন গবেষণা
.............................................................................................
যেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর মেহমানদারি
.............................................................................................
যে সময়ে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ
.............................................................................................
১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
শিশু নির্যাতন রোধে ইসলামের নির্দেশনা
.............................................................................................
যে সাতটি অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে
.............................................................................................
আজানের সময় করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
ছোটমনিদের জন্য ইসলামিক আলোচনা
.............................................................................................
শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবে ‘র‌্যাগিং প্রথা’ বন্ধ হলে
.............................................................................................
‘নিজের মন্দকাজ যদি তোমাকে পীড়া দেয়, তবেই তুমি মুমিন’
.............................................................................................
শিক্ষকের মর্যাদা দানে ইসলামের উৎসাহ
.............................................................................................
আল্লাহ শাস্তি দেবেন অবৈধভাবে পণ্যের মূল্য বাড়ালে
.............................................................................................
মহানবী (সা.)-এর উম্মত নয় বড়দের অসম্মানকারী
.............................................................................................
গাছের পাতার মতো গুনাহ ঝরে যে আমলে
.............................................................................................
জুয়া-বাজি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম
.............................................................................................
আমাকে অপরাধ-জীবন থেকে ইসলাম রক্ষা করেছে
.............................................................................................
নফল নামাজ পড়া যখন মাকরুহ
.............................................................................................
গিবত করা যায় যেসব মানুষের
.............................................................................................
যে পাঁচটি ভুল জুমার দিনে কাম্য নয়
.............................................................................................
নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম
.............................................................................................
মুসলিমদের ঐক্য জরুরি বিশ্বশান্তির জন্য
.............................................................................................
মুসলমানরা সাহায্য চাইবে একমাত্র আল্লাহর কাছে, কোন পরাশক্তির কাছে নয়
.............................................................................................
আরবি মাসগুলোর নামের অর্থ ও নামকরণের কারণ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD