| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রমজানের ইতিকাফে

 ইতিকাফ পবিত্র রমজানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ আমল। এটি রমজান মাসের সামগ্রিক কল্যাণ ও প্রভূত সৌভাগ্য-বরকত লা

ভের বলিষ্ঠ সহায়কশক্তি। এ ইবাদত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য স্বেচ্ছায় পালনীয়। পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া।
আল্লামা ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়্যাহ (রহ.) লিখেছেন, ‘ইতিকাফের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্থিব মোহনীয়তার সব জাল ছিঁড়ে আল্লাহর সঙ্গে পরিপূর্ণ ও গভীর প্রেমময় সম্পর্ক স্থাপন করা। রমজানের পবিত্র মাসে আল্লাহর ঘরে নির্জনবাস ও ইতিকাফের মাধ্যমে হৃদয় ও আত্মার এমন অভাবনীয় উৎকর্ষ সাধিত হয় যে, মানুষের হৃদয়ে তখন আল্লাহর স্মরণ ও তার প্রতি গভীর প্রেম-ভালোবাসা ছাড়া দ্বিতীয় অন্যটি আর স্থান পায় না। মহান প্রতিপালকের ধ্যান-চিন্তা ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা-ভাবনায় সে উৎসাহবোধ করে না। তার হৃদয়ের সব অনুভূতি তখন আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও সহায়ক হয়ে থাকে। মাখলুকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতার পরিবর্তে আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ঐকান্তিকতা সৃষ্টি হয়। কবরের নিঃসঙ্গ অন্ধকারে যেখানে কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না, সেখানে এ সম্পর্ক এক মহামূল্যবান পাথেয়রূপে কাজে আসবে। এই হলো ইতিকাফের উদ্দেশ্য ও রমজানুল মুবারকের শেষ ১০ দিনের সঙ্গে একে সম্পৃক্ত করার গভীর তাৎপর্য ও রহস্য।’ (জাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা : ১৮৭)


ইতিকাফের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) বলেন, ‘মসজিদের ইতিকাফ হচ্ছে হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পবিত্রতা ও চিত্তের নিষ্কলুষতা। চিন্তার পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতা। ফিরিশতাকুলের গুণাবলি অর্জন এবং লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য, কল্যাণ লাভসহ সব ধরনের ইবাদতের সুযোগ লাভের সর্বোত্তম উপায়। এজন্য রাসুল (সা.) নিজে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করেছেন এবং তার বিবিগণসহ সব সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই এই সুন্নতের ওপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমল করেছেন।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা : ২/৪২)


আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাসুল (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন রীতিমতো ইতিকাফ পালন করেছেন। তার ইন্তিকালের পর তার স্ত্রীরা পুণ্যের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)


রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ হচ্ছে সুন্নাতে মুআক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মসজিদের মুসল্লিদের পক্ষ থেকে বা মহল্লার মধ্য থেকে কোনো এক ব্যক্তি ইতিকাফ করলে তা সব মুসল্লি বা মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে।
২০তম রমজানে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে থেকে ২৯-৩০ তারিখ যেদিন ঈদের চাঁদ দেখা যাবে, সেদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। যিনি ইতিকাফ করেন, তাঁকে মুতাকিফ বলা হয়ে থাকে। ইতিকাফ যেকোনো সময় করা যায়। যখনই কেউ ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থান করে, তখনই তা ইতিকাফ বলে গণ্য হবে। তবে ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগে থেকে শাওয়াল তথা ঈদের চাঁদ উদিত হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করা সুন্নাত।


ইতিকাফ শুরু হওয়ার পর প্রাকৃতিক প্রয়োজন এবং ফরজ গোসলের প্রয়োজন ছাড়া মসজিদের চৌহদ্দি থেকে বের হওয়া যায় না। অবশ্য খাবার পানির ব্যবস্থা করার কেউ না থাকলে সে জন্য বের হওয়া যায়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত হয় এমন মসজিদে নিয়ত সহকারে ইতিকাফ পালন করতে হয়।
ইতিকাফ চলাকালে চুপ করে বসে থাকা কিংবা অলসতা-উদাসীনতায় সময় নষ্ট করা উচিত নয়। বরং তাসবিহ, কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ইত্যাদি ইবাদতে ব্যতিব্যস্ত থাকা চাই। ইতিকাফের ফজিলত বর্ণনা করে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ পালন করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরাহর সমমান সাওয়াব দেওয়া হবে।’ (বায়হাকি)


আত্মশুদ্ধি, শুদ্ধাচার, হৃদয়ের নিষ্কলুষতা, পবিত্রতা অর্জন ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ইতিকাফের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তা ছাড়া রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত ‘লাইলাতুল কদর’ সন্ধান করাও ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রমজানের ইতিকাফে
                                  

 ইতিকাফ পবিত্র রমজানের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ আমল। এটি রমজান মাসের সামগ্রিক কল্যাণ ও প্রভূত সৌভাগ্য-বরকত লা

ভের বলিষ্ঠ সহায়কশক্তি। এ ইবাদত প্রত্যেক মুসলমানের জন্য স্বেচ্ছায় পালনীয়। পবিত্র রমজান মাসের শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কিফায়া।
আল্লামা ইবনু কায়্যিমিল জাওযিয়্যাহ (রহ.) লিখেছেন, ‘ইতিকাফের একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে পার্থিব মোহনীয়তার সব জাল ছিঁড়ে আল্লাহর সঙ্গে পরিপূর্ণ ও গভীর প্রেমময় সম্পর্ক স্থাপন করা। রমজানের পবিত্র মাসে আল্লাহর ঘরে নির্জনবাস ও ইতিকাফের মাধ্যমে হৃদয় ও আত্মার এমন অভাবনীয় উৎকর্ষ সাধিত হয় যে, মানুষের হৃদয়ে তখন আল্লাহর স্মরণ ও তার প্রতি গভীর প্রেম-ভালোবাসা ছাড়া দ্বিতীয় অন্যটি আর স্থান পায় না। মহান প্রতিপালকের ধ্যান-চিন্তা ছাড়া অন্য কোনো চিন্তা-ভাবনায় সে উৎসাহবোধ করে না। তার হৃদয়ের সব অনুভূতি তখন আল্লাহর নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ ও সহায়ক হয়ে থাকে। মাখলুকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও আন্তরিকতার পরিবর্তে আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ও ঐকান্তিকতা সৃষ্টি হয়। কবরের নিঃসঙ্গ অন্ধকারে যেখানে কোনো বন্ধু ও সাহায্যকারী থাকবে না, সেখানে এ সম্পর্ক এক মহামূল্যবান পাথেয়রূপে কাজে আসবে। এই হলো ইতিকাফের উদ্দেশ্য ও রমজানুল মুবারকের শেষ ১০ দিনের সঙ্গে একে সম্পৃক্ত করার গভীর তাৎপর্য ও রহস্য।’ (জাদুল মাআদ, পৃষ্ঠা : ১৮৭)


ইতিকাফের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) বলেন, ‘মসজিদের ইতিকাফ হচ্ছে হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পবিত্রতা ও চিত্তের নিষ্কলুষতা। চিন্তার পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতা। ফিরিশতাকুলের গুণাবলি অর্জন এবং লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য, কল্যাণ লাভসহ সব ধরনের ইবাদতের সুযোগ লাভের সর্বোত্তম উপায়। এজন্য রাসুল (সা.) নিজে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করেছেন এবং তার বিবিগণসহ সব সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই এই সুন্নতের ওপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমল করেছেন।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা : ২/৪২)


আয়েশা (রা.) বলেন, ‘মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রাসুল (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন রীতিমতো ইতিকাফ পালন করেছেন। তার ইন্তিকালের পর তার স্ত্রীরা পুণ্যের এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছেন।’ (বুখারি, মুসলিম)


রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফ হচ্ছে সুন্নাতে মুআক্কাদা আলাল কিফায়া। অর্থাৎ মসজিদের মুসল্লিদের পক্ষ থেকে বা মহল্লার মধ্য থেকে কোনো এক ব্যক্তি ইতিকাফ করলে তা সব মুসল্লি বা মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে।
২০তম রমজানে সূর্যাস্তের কিছুক্ষণ আগে থেকে ২৯-৩০ তারিখ যেদিন ঈদের চাঁদ দেখা যাবে, সেদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করাকে ইতিকাফ বলে। যিনি ইতিকাফ করেন, তাঁকে মুতাকিফ বলা হয়ে থাকে। ইতিকাফ যেকোনো সময় করা যায়। যখনই কেউ ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অবস্থান করে, তখনই তা ইতিকাফ বলে গণ্য হবে। তবে ২০ রমজানের সূর্যাস্তের আগে থেকে শাওয়াল তথা ঈদের চাঁদ উদিত হওয়া পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করা সুন্নাত।


ইতিকাফ শুরু হওয়ার পর প্রাকৃতিক প্রয়োজন এবং ফরজ গোসলের প্রয়োজন ছাড়া মসজিদের চৌহদ্দি থেকে বের হওয়া যায় না। অবশ্য খাবার পানির ব্যবস্থা করার কেউ না থাকলে সে জন্য বের হওয়া যায়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাত হয় এমন মসজিদে নিয়ত সহকারে ইতিকাফ পালন করতে হয়।
ইতিকাফ চলাকালে চুপ করে বসে থাকা কিংবা অলসতা-উদাসীনতায় সময় নষ্ট করা উচিত নয়। বরং তাসবিহ, কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ ইত্যাদি ইবাদতে ব্যতিব্যস্ত থাকা চাই। ইতিকাফের ফজিলত বর্ণনা করে রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন ‘যে ব্যক্তি রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ পালন করবে, তাকে দুটি হজ ও দুটি ওমরাহর সমমান সাওয়াব দেওয়া হবে।’ (বায়হাকি)


আত্মশুদ্ধি, শুদ্ধাচার, হৃদয়ের নিষ্কলুষতা, পবিত্রতা অর্জন ও মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ ইতিকাফের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তা ছাড়া রমজানের শেষ ১০ দিনের ইতিকাফে হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত ‘লাইলাতুল কদর’ সন্ধান করাও ইতিকাফের অন্যতম উদ্দেশ্য। মহান আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

কোরআন তেলাওয়াতে চিন্তা, ভাবনা ও গভীর অভিনিবেশ
                                  

পবিত্র রমজান মাস একদিকে যেমন সিয়াম-কিয়াম ও দান-সদকার মাস, অন্যদিকে তেমন এটা কোরআনেরও মাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে কোরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)
কোরআনে আরো বলা হয়েছে, ‘আমি একে নাজিল করেছি শবে-কদরে।’ (সুরা ক্বদর, আয়াত: ০১) আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি একে নাযিল করেছি। এক বরকতময় রাতে, নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। (সুরা দুখান, আয়াত: ০৩)


আল্লাহ তাআলা কোরআনকে এমন এক আলো হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, যা কখনো নির্বাপিত হয় না। এটা এমন এক প্রোজ্জ্বল প্রদীপ যার প্রভা কখনো দূরীভূত হয় না। এটা মানুষকে সুপথ দেখায়, বিভ্রান্ত করে না। এটা এমন এক মর্যাদাবান কিতাব যার ধারক-বাহকরা কখনো পরাজিত হয় না। এই পবিত্র কোরআন হলো ঈমানের খনি এবং জ্ঞানের ফোয়ারা। আল্লাহ তাআলা একে আলেমদের তৃষ্ণা নিবারণ এবং ফিকাহবিদদের হৃদয়ের বসন্ত বানিয়ে দিয়েছেন। এটা এমন এক ওষুধ যার মাধ্যমে অন্তরের রোগ দূর হয়ে যায়।


কোরআন হল আল্লাহর সুদৃঢ় রজ্জু, প্রজ্ঞাময় উপদেশ, সঠিক পথনির্দেশ। এতে রয়েছে আমাদের পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনা। এটি আমাদের মাঝে পার্থক্যরেখা টেনে দেবে। এটিই সত্য কিতাব। এটি কোন খেল-তামাশার বিষয় নয়। আল্লাহ তাআলা একে সত্য সহকারে অবতীর্ণ করেছেন। এর উপর যে আমল করবে তাকে প্রতিদান দেয়া হবে। এর মাধ্যমে যে বিচারকার্য পরিচালনা করবে সে ন্যায়বিচার করবে। যে এর প্রতি আহ্বান জানাবে সে সঠিক পথ প্রাপ্ত হবে। যে এর মাধ্যমে হেদায়েত তালাশ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে মর্যাদাবান করবেন। যে এ ছাড়া অন্য কিছুর মাধ্যমে হেদায়েত তালাশ করবে আল্লাহ তাআলা তাকে লাঞ্ছিত করবেন। আল্লাহ তাআলা কুরআনের মাধ্যমে অনেক জাতিকে মর্যাদাশীল করেন আর অনেক জাঁতি কোরআন ছেড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেয়ামতের দিন কোরআন তার ধারক-বাহক এর জন্য সুপারিশকারী হবে। রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কিতাবের একটি হরফ যে ব্যক্তি পাঠ করবে তার জন্য এর সাওয়াব আছে। আর সাওয়াব হয় তার দশগুণ হিসেবে। আমি বলি না যে, ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। [তিরমিজি, ২৯১০]


আল্লাহ তাআলার এ কিতাব নিশ্চয়ই জীবনের জন্য এক আধ্যাত্বিক প্রত্যাবর্তনস্থল এবং হেদায়েতের আলোকপ্রদীপ। যে এ কিতাব পাঠ করে না এবং এর উপর আমল করে না সে জীবিত নয়, বরং মৃত। যদিও সে কথা বলে, কাজ-কর্ম করে বা চলাফেরা করে। আর যে এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে না সে আকাশে থাকুক বা সমুদ্রের তলদেশে থাকুক পথভ্রষ্ট হবেই, সুপথ প্রাপ্ত হবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, যে ব্যাক্তি মৃত ছিল, যাকে আমি পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলোক দিয়েছি, সে ব্যাক্তি কি ঐ ব্যাক্তির মতো যে অন্ধকারে রয়েছে এবং সেখান থেকে আর বের হবার নয়? (আল আনআম, আয়াত: ১২২)


কোরআনবিহীন মানুষের জীবন, পানি আর বাতাসবিহীন জীবনের মতো। বরং যেন মনে-প্রাণে, ভাবে-অনুভবে শুধু শূন্যতা আর শূন্যতা। এ সময়ই প্রয়োজন কোরআনি ওষুধ। কোরআনই এসবের শেফা। আল্লাহ তাআলা বলেন, আর আমি নাজিল করি কুরআন, যা মুমিনদের জন্য শেফা ও রহমত। (আল-ইসরা, আয়াত: ৮২)
আর যদি আমি এটাকে করতাম অনারবী ভাষায় কোরআন তবে তারা অবশ্যই বলত, ‘এর আয়াতগুলো বিশদভাবে বিবৃত হয়নি কেন? ভাষা অনারবীয়, অথচ রাসূল আরবীয়! বলুন, ‘এটি মুমিনদের জন্য হেদায়াত ও শেফা।’ আর যারা ইমান আনে না তাদের কানে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন এদের (অন্তরের) উপর অন্ধত্ব তৈরী করবে। (ফুসসিলাত, আয়াত: ৪৪)
কোরআন মানুষের জন্য শেফা। মানুষের আত্মিক ও দৈহিক আরোগ্য লাভের মাধ্যম। জীবনের পথ-পরিক্রমা সংকীর্ণ হয়ে গেলে এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অনুসন্ধানকারী পথ হারালে এই কুরআনই সঙ্গ দেয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন পথে আলো বিলিয়ে যায় এ কুরআন। কুরআনই হল মানুষের সর্বোত্তম বন্ধু, যা আলোচনা ও পুনরাবৃত্তিতে বিরক্ত হয় না। এতে শুধু সাজ-সজ্জা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।


মুমিন যখন কোরআন তেলাওয়াত করে তখন তার অন্তর এবং সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ শান্তি ও প্রশান্তিতে ছেয়ে যায়। এর মাধ্যমে তার অন্তরাত্মা উন্নত হয়। সে কিছুরই পরোয়া করে না। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এই আয়াতই তেলাওয়াত করে সে, হে নবী আপনি বলে দিন, আমাদের কাছে কিছুই পৌঁছবে না, যা আল্লাহ আমাদের জন্য রেখেছেন তা ছাড়া। (সুরা তাওবা ৯:৫১)
এর মাধ্যমে মন্দ কাজের কুমন্ত্রণা এবং দুর্বলতা বাষ্পে পরিণত হয়। আসলে মানুষ বাস্তবতার চেয়ে সন্দেহের মাধ্যমে বেশি পরীক্ষিত হয় এবং বাস্তব জীবনে পরাজিত হওয়ার আগেই মনে-প্রাণে পরাজিত হয়ে যায়।


একশ্রেণীর মুসলমান তার প্রভূর কিতাব কোরআনুল কারিমের প্রতি অবহেলা করে। এমনকি কেউ কেউ পবিত্র কোরআন খতম করে কিন্তু এর কোনো অর্থই সে বুঝতে পারে না। আরেকশ্রেণীর মুসলমান পবিত্র কোরআনকে শুধু বিশুদ্ধরূপে পাঠ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। আরেক শ্রেণীর মুসলমান পবিত্র কোরআন খুলে এবং বন্ধ করে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে। পাঠ করে নির্লজ্জ বেসুরা সুরে। কেউ কেউ শোক-সমাবেশ ও বিভিন্ন মাহফিলে একে পুনরাবৃত্তি করে। কেউ কেউ এর মাধ্যমে মাল কামাই করতে চাই। আর কেউ কেউ এর মাধ্যমে তাবিজ বানিয়ে ঘাড়ে ঝুলিয়ে রাখে, কেউবা বুকে লাগিয়ে রাখে।
কোরআনের আয়াত নিয়ে চিন্তা, ভাবনা ও গভীর মনোনিবেশ দুনিয়া এবং আখেরাতে বান্দার জন্য অধিক উপকারী, মুক্তি ও সৌভাগ্যের জন্য অধিক নিকটবর্তী। এর মাধ্যমে বান্দা ভালো-মন্দ বুঝতে পারে। এর মাধ্যমে তার অন্তরে দুনিয়ার দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয় এবং বিভিন্ন জাতির মাঝে তাকে উপস্থিত করা হয় এবং ঐসব ঘটনা তাকে স্মরণ করানো হয়, যা তাদের মাঝে ঘটেছে। অতঃপর সে দেখে নূহ আ. এর জাতির পানির নিচে নিমজ্জিত হওয়া, আদ এবং সামুদ জাতির বজ্রাঘাতে মৃত্যু হওয়া। ফেরাউন পানির নিচে নিমজ্জিত হওয়া এবং কারুনের মাটির নিচে দেবে যাওয়া সম্পর্কে জানতে পারে।


অনেক উপদেশসমৃদ্ধ আয়াত আমরা তেলাওয়াত করছি, অনেক ঘটনাবলী শুনছি, অনেক সুরা পাঠ করছি- কিন্তু এগুলো ডান কান দিয়ে ঢুকছে আর বাম কান দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। আমাদের মধ্যে কে আছে, যে সুরা আল হাক্কা তেলাওয়াতের সময় দু’ফোঁটা তপ্ত অশ্রু ঝরায়? সুরা জিলযালের তেলাওয়াত শুনে কার অন্তরাত্মা কেঁপে ওঠে? কে তওবা করে যখন সে সুরা আল-কিয়ামাহ পড়ে? আমাদের অন্তরে কি মরিচা ধরে গেল? আমাদের অন্তরে কি পাথর চেপে বসল? যদি এই কোরআন পাহাড়ের ওপর অবতীর্ণ হত, তবে পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তাআলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের অন্তর নিষ্ঠুর হয়ে গেছে। কোরআনের ভাষায়- ‘তা পাথরের মতো অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে খসে পড়তে থাকে! আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন।’ (সুরা বাকারা ২:৭৪)


কঠোর এবং গাফেল হৃদয় থেকে আমরা আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

মাহে রমজানের সওগাত
                                  


আজ ১৭ রমযান, ঐতিহাসিক বদর দিবস। হিজরী দ্বিতীয় বর্ষের রমযান মাসের এই দিনে বদর প্রান্তরে ইসলামের প্রথম সম্মুখ যুদ্ধে মহান রাববুল আলামীন সরাসরি সাহায্য দানের মাধ্যমে মুসলমানদের বিজয় দান করেন। তাই এ দিবসকে ইয়াওমূল ফুরকান বা সত্য মিথ্যার পার্থক্যের দিন বলা হয়। সত্যপথের অনুসারী অল্প সংখ্যক রোযাদার মুসলমান বিশাল অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত মিথ্যার অনুসারী কাফের মুশরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে সত্য মিথ্যার চির পার্থক্য সূচিত হয়ে যায়।


মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর অনুসারীরা মক্কা থেকে মদীনায় হিযরত করে মদীনায় শান্তিতে অবস্থান করবে, চতুর্দিকে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাবে, মুহাম্মদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে এটা কাফের কুরাইশ বাহিনী কখনোই চায়নি। কোন মুসলমান পেলেই কোন কারণ ছাড়াই শুধু ঈমান আনার অপরাধে তার ওপর অত্যাচারের খড়গ চালাতো। নির্মম নির্যাতনের স্টিমরোলার চালিয়ে হত্যা করতে বিবেকে বিন্দুমাত্র নাড়া দিতো না। এদিকে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ও তার বাহিনী সিরিয়া থেকে বিভিন্ন রসদ সামগ্রী নিয়ে মক্কায় ফিরতে ছিল। মহানবী (সাঃ) তাঁর সাহাবাদেরকে কুরাইশদের গতিরোধ করার জন্য নির্দেশ দেন। মুসলমানরা বের হয়েছে এ সংবাদ মক্কায় পৌঁছার সাথে সাথে তারা রণশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মদীনায় আক্রমণ ও মুসলমানদের নিশ্চিহ্ন করার লক্ষ্যে বদর প্রান্তরে এসে জড়ো হয়। এদিকে আবু সুফিয়ানও তার দল রাস্তা পরিবর্তন করে নিরাপদে পৌঁছে যায়। মহানবী (সাঃ)-এর সাথে জনবল ছিল মাত্র ৩শ’ ১৩ জন। এদের ৭০ জন মুহাজির ও বাকিরা আনসার।

অপরদিকে কাফের, কুরাইশ বাহিনীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার। তন্মধ্যে ১০০ জন অশ্বারোহী, ৭০০ জন উস্ট্রারোহী ও বাকিরা পদব্রজী ছিল। মূলত: মুসলমানদের যুদ্ধ উদ্দেশ্য ছিল না বরং কাফেরদের ব্যবসায়ী কাফেলাকে ধরা উদ্দেশ্য ছিল। রাসুল (সাঃ) যখন কাফেরদের বের হবার কথা জানতে পারলেন তখন সাহাবাদের সংঘবদ্ধ করে বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার সাথে ওয়াদা করেছেন দু’টি দলের একটি হয়তো ব্যবসায়ী কাফেলা অথবা অন্যটি সৈন্যবাহিনী। সাহাবাগণ রসুলুল্লাহ (সাঃ)-এর বিচলিত অবস্থা দেখে বললেন যে, হে রাসূল (সাঃ) আপনি আমাদেরকে ধৈর্যশীল, যুদ্ধের ময়দানে দৃঢ় অবস্থানকারী, আনুগত্যশীল, সাহসী, অকুতভয় ও নির্দেশ বাস্তবায়নে আপোসহীন ও দ্রুতগামী পাবেন। নবী করিম (সাঃ) মুহাজির ও আনসারদের কথা শুনে খুশি হয়ে বললেন- তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর।

আমি আল্লাহ তা’আলার শপথ করে বলছি আমার এমন মনে হচ্ছে যে, আমি যেন মুশরিক জাতির হত্যাযজ্ঞ লক্ষ্য করছি। অতঃপর নবী করীম (সাঃ) সাহাবীদের নিয়ে বদর কূপের নিকট পৌঁছেন। কুরাইশরা অপর প্রান্তে অবস্থান করলো। রাতে আল্লাহ তা’আলা এমন বৃষ্টিবর্ষণ করেন যা কাফিরদের জন্য বিরাট বিপদ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তারা সম্মুখে অগ্রসর হতে পারেনি। অপরদিকে মুসলমানদের জন্য সুবিধা হয়। সম্মুখ যুদ্ধ শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে ফরিয়াদ করতে থাকেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দোয়ায় বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! এ কঠিন মুহূর্তে আপনি আমাকে সাহায্য করুন, যার প্রতিশ্রুতি আপনি আমাকে দিয়েছেন, হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রদত্ত ওয়াদা ও প্রতিশ্রুতির শপথ করে বলছি, যদি আপনি বিজয়ী না করেন, তাহলে এ পৃথিবীতে আপনার ইবাদত করার কেউ থাকবে না।

মহান রাববুল আলামীন রসুলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবাদের ডাকে সাড়া দিলেন। যা আল-কুরআনের সূরা আল আনফালের ১২-১৪ আয়াতে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন, ‘‘আর স্মরণ করুন সেই সময়ের কথা, যখন আপনার রব ফেরেশতাদের কাছে এ মর্মে প্রত্যাদেশ পাঠালেন যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সাথে আছি। তোমরা পরস্পরে ঈমানদারদের মনোবল ও সাহস বৃদ্ধি করো। আর আমি অচিরেই কাফেরদের অন্তকরণে ভয়-ভীতি সৃষ্টি করবো। তোমরা কাফিরদের ঘাড়ে আঘাত কর এবং জোড়ায় জোড়ায় আঘাত কর।’’ অন্যত্র বলা হয়েছে- ‘‘আর আল্লাহ এমন সৈন্যবাহিনী দিয়ে তোমাদের সাহায্য করেছেন যা তোমরা দেখ নাই।’’ রাসূল (সাঃ)-এর উৎসাহব্যাঞ্জক কথা শুনে উমাইর ইবনে হুমাম (রাঃ) হাতের খেজুর ফেলে দিয়ে বলতে লাগলেন, আমি কি শহীদ হলে জান্নাতে যাবো। রসুল (সাঃ) উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। একথা শুনে উমাইর (রাঃ) খেজুর রেখে দিয়ে বললেন, আমি যদি জীবিত থাকি এবং খেজুরগুলো খেতে থাকি, তাহলে আমার জীবন দীর্ঘ হয়ে যাবে। এ বলেই তিনি খেজুর নিক্ষেপ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে শাহাদাত বরণ করলেন। যুদ্ধে কাফের কুরাইশ বাহিনী শোচনীয় পরাজয় বরণ করে এবং তারা যুদ্ধের ময়দান ছেড়ে পলায়ন করে। ৭০ জন কাফের নিহত ও ৭০ জন বন্দি হয়। অপরদিকে মুসলমানদের মধ্য হতে ১৪ জন শহীদ হন।


বদর যুদ্ধের মাধ্যমে সত্য মিথ্যার পার্থক্য সুনিশ্চিত হয়েছে। এটি ছিল একটি অসম যুদ্ধ। যুদ্ধে অল্পসংখ্যক সৈন্যবাহিনী বেশি সংখ্যক সৈন্যবাহিনীর ওপর বিজয় অর্জন করেছিল। সূরা আলে ইমরানের ১৩নং আয়াতে আল্লাহ উভয় দলের পরিচয় তুলে ধরে বলেছেন, ‘‘এদের মধ্যকার একটি দল আল্লাহর রাস্তায় সংগ্রাম করে আর অপর দল ছিল কাফির।’’

লেথক: মুহাম্মদ আলতাফ হোসেন

 

কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে মুসলিম হলেন মার্কিন যাজক
                                  

পবিত্র কোরআন শরীফের অনুবাদ করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এক মার্কিন যাজক। মার্কিন ওই যাজকের নাম স্যামুয়েল আর্ল শ্রপশায়ার। মঙ্গলবার সৌদি গণমাধ্যম সাবাককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানান তিনি। খবর দ্য নিউ আরবের।

সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন যাজক স্যামুয়েল বলেন, সৌদি আরবে যাওয়ার পর বন্ধুত্বপূর্ণ আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১১ সালে প্রথমবার যখন তিনি সৌদির জেদ্দায় কোরআনের অনুবাদ করতে যান তখন মার্কিন গণমাধ্যমগুলোতে মুসলমানদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, শিগগিরই আমি বুঝতে পারি মার্কিন মিডিয়ায় আমি যা দেখেছি, শুনেছি তার সঙ্গে এখানকার (সৌদি) বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন।

‘আমি এখানে অনেক ভালো মানুষ দেখতে পাই, যারা মুসলিম কিংবা অমুসলিম সেটা বিবেচনা না করে কেবল মানুষ হিসেবে সবার সঙ্গে ভালো আচরণ করে। আর এটা ইসলামের প্রতি ভালোলাগা তৈরি করে দিয়েছে,’ বলেন সাবেক ওই যাজক।

আর এরপর আরো ইসলাম ও কোরআন সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে একপর্যায়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন স্যামুয়েল।

আরো পড়ুন: গণনার শেষ পর্যন্ত ধৈর্য রাখুন: মমতা

বর্তমানে সৌদি আরবেই আছেন সাবেক ওই যাজক। শান্তি ও সংহতির জন্য মুসলমানদের কণ্ঠস্বর নামে অলাভজনক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি এবং সেখানে কাজ করছেন।

সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব ছোট-বড় সবার ওপর
                                  

পবিত্র রমজানের ইবাদতের মধ্যে সদকাতুল ফিতর আদায় করা একটি অন্যতম ইবাদত। মূলত রোজা অবস্থায় অবচেতনভাবে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে যায়, যেসব ত্রুটির কারণে রোজা ভঙ্গ না হলেও দুর্বল হয়ে পড়ে, হাদিসে সদকাতুল ফিতরকে তার কাফফারা বা ক্ষতিপূরণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সদকাতুল ফিতর আরবি বাক্য। সদকা মানে দান, আর ফিতর মানে রমজানের সমাপন। ইসলামি পরিভাষায় একে জাকাতুল ফিতরও বলা হয়ে থাকে। সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

হজরত ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বোখারি)।

সকাতুল ফিতরের অন্তর্নিহিত আরেকটি তাৎপর্য হলো- ঈদের আনন্দে দরিদ্রজনদেরও অন্তর্ভুক্ত করে নেওয়া। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (স) সদকাতুল ফিতরকে অপরিহার্য করেছেন, অনর্থক অশালীন কথা ও কাজে রোজার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণের জন্য এবং নিঃস্ব লোকের আহার জোগানোর জন্য। (আবু দাউদ শরিফ)।

এ বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছরও সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা ছিল। তবে সর্বোচ্চ ফিতরা ছিল ২ হাজার ৩১০ টাকা। এক কেজি ৬৫০ গ্রাম গম বা আটা অথবা খেজুর, কিশমিশ, পনির বা যবের মধ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো একটি পণ্যের ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের বাজারমূল্য ফিতরা হিসেবে গরিবদের মধ্যে বিতরণ করা যায়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ বছর ফিতরার জন্য নির্ধারিত ওজনের আটার দাম ৭০ টাকা, যবের দাম ৫০০ টাকা, কিশমিশ ১৩২০ টাকা, খেজুর ১৬৫০ টাকা এবং পনিরের কেজি ১৯৮০ টাকা ধরে ফিতরার অঙ্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগ থেকে সংগৃহীত আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনিরের সর্বোচ্চ বাজারমূল্যের ভিত্তিতে ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী এসব পণ্যের যে কোনো একটি পণ্য বা এর বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে। পণ্যগুলোর স্থানীয় মূল্যে পরিশোধ করলেও ফিতরা আদায় হবে। তবে বেশি সম্পদশালী এবং কম সম্পদশালী নির্বিশেষে সবাই গম বা সর্বনিম্ন দামের পণ্য দ্বারা সদকাতুল ফিতর আদায় করার বিষয়টি বিবেকবর্জিত এবং হাদিস ও শরিয়তের নির্দেশনারও পরিপন্থি। এটা দায়সারা আমল বলে প্রতীয়মান হয়।

ফিতরা ওয়াজিব হয় ঈদের দিন সুবহে সাদিক থেকে। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক- এমন ব্যক্তির জন্য নিজের এবং নিজের নাবালেগ সন্তানের পক্ষ থেকে সদাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা সমমূল্যের নগদ অর্থ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় বিদ্যমান থাকলে তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। স্ত্রী ও প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ফিতরা তারা নিজেরাই আদায় করবে। তবে অন্য কেউ আদায় করে দিলেও তা জায়েজ।

ইসলামি শরিয়তের হুকুম অনুযায়ী ঈদের দিন ফজরের নামাজের আগে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করলে তারও ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব। আর এক ব্যক্তির ফিতরা এক মিসকিনকে দেওয়া উত্তম। রোজা কবুলের জন্য সদকাতুল ফেতরা দেওয়া আবশ্যক।

হজরত জারির (রা) থেকে বর্ণিত হজরত রাসুলুল্লাহ (স) এরশাদ করেন, রমজানের রোজা সদকাতুল ফিতর আদায় করার পূর্ব পর্যন্ত আসমান-জমিনের মাঝে ঝুলন্ত থাকে। (আত তারগিব ওয়াত তারহিব)। রোজা-সংক্রান্ত মাসআলা ছুটে যাওয়া রোজার কাজা সম্ভব না হলে মৃত্যুর আগে ফিদয়া দেওয়ার অসিয়ত করে যাওয়া আবশ্যক। অসিয়ত না করে গেলে ওয়ারিশরা যদি মৃতের পক্ষ থেকে ফিদয়া আদায় করে, তবে আশা করা যায়, দয়াময় প্রভু তা কবুল করবেন। তবে মৃত ব্যক্তি অসিয়ত না করে গেলে সে ক্ষেত্রে মিরাসের যৌথ সম্পদ থেকে ফিদয়া আদায় করা যাবে না। একান্ত কেউ দিতে চাইলে প্রাপ্তবয়স্ক ওয়ারিশরা তাদের অংশ থেকে দিতে পারবেন।

নাজাতের মাস রমজান
                                  

হিজরি সনের সর্বাধিক, সম্মানিত, সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ, সর্বোত্তম ও বরকতময় মাস হলো রমজান মাস। এ মাসের প্রতিটি মুহূর্তে রহমত-বরকত আল্লাহর পক্ষ থেকে তার সৃষ্টির জন্য আসমান থেকে অবিরত ধারায় নামতে থাকে। রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের এ মাস। এ মাসে রয়েছে মুমিনদের জন্য সিয়ামের মতো মহানিয়ামতপূর্ণ ইবাদত। এ মাসেই নাজিল হয়েছে মানবতার মুক্তিসনদ আল কুরআন। এ মাসে রয়েছে সেই মহিমান্বিত রজনী, যে রজনী কি না হাজার মাসের থেকেও উত্তম। তা ছাড়া সিয়ামের মধ্যে রয়েছে ইফতার, সাহরি, তারাবিহ প্রভৃতির মতো বরকতপূর্ণ সব বিষয়। অন্য দিকে, সিয়াম পালনের মাধ্যমে আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন, সহমর্মিতা, ভ্রাতৃত্ববোধ প্রভৃতি অনুশীলন বা সাধনায় আত্মনিয়োগ করার মহাসুযোগ।
রমজান মাস শুরুর আগ থেকেই অর্থাৎ মধ্য শাবান থেকে সমগ্র মুসলিম বিশ্বে সাজসাজ রব পড়ে যায় রমজানকে স্বাগত জানানোর জন্য। মুসলিম দেশগুলোর কর্ণআরো আগ থেকেই সতর্ক হয়ে যান বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে। যেন রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক না হয়ে যায়, খাদ্যদ্রব্যের সরবরাহ ঠিক থাকে প্রভৃতি বিষয়ে। আমরা দেখতে পাই সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের নমনীয়তা কমনীয়তা বিরাজ করে। সমাজে শান্তির একটি ফল্গুুধারা বইতে থাকে। ‘রোজা’ শব্দটি আরবি ভাষার শব্দ নয়। এটি ফারসি শব্দ। এর শাব্দিক অর্থ উপবাস। এর আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘সাওম’। যার আভিধানিক অর্থ বিরত রাখা, বারণ করা বা ফিরিয়ে রাখা। শরিয়তের পরিভাষায়, ‘সুবহে সাদিক থেকে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত নিয়তসহকারে কোনো প্রকার পানাহার এবং যৌনাচার থেকে বিরত থাকার নাম সাওম বা রোজা।’ ‘আরবি বছরের নবম মাস হলো পবিত্র রমজান মাস। ‘রমজান শব্দটি আরবি ‘রমজ’ ধাতু থেকে গৃহীত হয়েছে। ‘রমজ’ শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে, ক. রমজ অর্থ জ্বলন বা দহন। একজন রোজাদার রোজা রাখার কারণে ক্ষুধার তীব্রতায় পেট জ্বলতে থাকে, তাই বলা হয় রোজাদার দগ্ধ হয়। খ. আরবি ‘আরোমাদাউ’ শব্দের অর্থ উত্তাপের তীব্রতা। আরবি মাসের নাম নির্ধারণকালে যে মাসে সূর্যের তাপ প্রখর ও তীব্র হয়েছিল সে মাসের নামকরণ করা হয়েছে ‘রমজান’। গ. এই মাসের নেক আমলগুলো বান্দার গুনাহখাতা জ্বালিয়ে ভস্ম করে দেয়, তাই এই মাসের নামকরণ করা হয়েছে রমজান। ঘ. যেমনিভাবে সূর্যের তাপে বালুকারাশি উত্তপ্ত হয়ে থাকে, তেমনি এই মাসে সৎ উপদেশ বাণী শ্রবণে ও পারলৌকিক চিন্তা ভাবনায় বান্দার হৃদয় উত্তাপ ও উচ্ছ্বাস গ্রহণ করে থাকে। তাই এই মাসকে রমজান মাস বলা হয়’। (কুরতুবি; উদ্ধৃত: সিয়াম ও রমজান মুহাম্মদ আবু তাহের সিদ্দিকী সম্পাদিত, পৃ. ৯৯) রোজা উম্মতে মুহাম্মাদির ওপর ফরজ করা হয়েছে। অবশ্য পবিত্র কুরআন থেকে জানা যায়, আমাদের পূর্ববর্তী নবীদের উম্মতের ওপরও রোজা ফরজ ছিল। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের ঘোষণাÑ
‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন করে তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপরও ফরজ করা হয়েছিল। সম্ভবত এর ফলে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারবে।’ (বাকারা: ১৮৩ আয়াত)
ওই আয়াতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’।
তাকওয়া: ‘তাকওয়া’ শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ হলো সাবধানী বা সতর্ক হওয়া, ভয় করা, পরহেজ করা, বেঁচে চলা প্রভৃতি। শরিয়তের পরিভাষায় তাকওয়া শব্দের অর্থ হচ্ছে ‘আল্লাহ তা’আলার প্রতি শ্রদ্ধামিশ্রিত ভয়ে এবং রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নাহ বা পদ্ধতি অনুসারে কোনো নিষিদ্ধ ও গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে ‘মনের স্বতঃস্ফূর্ত প্রবল ইচ্ছা’। আর যার মধ্যে তাকওয়া গুণ বর্তমান আছে তিনিই হলেন মুত্তাকি। 
তাকওয়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ রা: বলেছেন, ‘তাকওয়ার অর্থ হচ্ছেÑ আল্লাহর আদেশের আনুগত্য করা, তার নাফরমানি না করা, আল্লাহকে স্মরণ করা, তাকে ভুলে না যাওয়া এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা ও তার কুফরি না করা।’ (সাপ্তাািহক আদ্দাওয়াহ, ১০-২-১৯৯৪, সৌদি আরব)
আমাদের দেশে তাকওয়ার ব্যাপারে অনেক ভুল বোঝাবুঝি আছে। কিছু লোক আছে যারা ইসলামের ফরজ, ওয়াজিব ও হারাম কাজ সম্পর্কে ভালোভাবে ওয়াকিবহাল নন, তারা বিশেষ কিছু সুন্নত ও নফল কাজ করে নিজেদের মোত্তাকি এবং অন্যদের মোত্তাকি নয় বলে মনে করেন। তারা হাতে তসবিহ, মাথায় টুপি-পাগড়ি, মুখে লম্বা দাঁড়ি, গায়ে লম্বা জামা এবং প্রস্রাব-পায়খানায় ঢিলা ব্যবহার করাকে তাকওয়ার মাপকাঠি মনে করেন। অথচ এগুলো সুন্নত ও মোস্তাহাবের বেশি কিছু নয়।
কিন্তু ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ইসলামের অগণিত ফরজ-ওয়াজিব রয়েছে যেগুলো তারা পালন করেন না এবং সেগুলোর খবরও রাখেন না। যেমন, পর্দাহীনতা, সুদ, ঘুষ, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের প্রতিরোধ, দাওয়াতে দ্বীন, দ্বীন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব প্রভৃতি পালনের ব্যাপারে তারা উদাসীন।
পক্ষান্তরে, যারা এসব কাজ করেন এবং সেজন্য জান-মাল উৎসর্গ করেন তাদের তারা মোত্তাকি বলতে নারাজ। অথচ তারাই সত্যিকারের অর্থে মোত্তাকি।
নিয়ত : রোজার ক্ষেত্রে নিয়ত করা জরুরি। এ নিয়ত হবে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে। নিয়ত ছাড়া রোজা পালন হবে না। নিয়ত করার উত্তম সময় হলো সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিকের আগ পর্যন্ত। যদি ভুলক্রমে নিয়ত না করা হয় তবে দুপুরের আগ পর্যন্ত সময়ে করলেও হবে। অবশ্য রাতে ঘুমাবার পর নিয়ত আদায় হয়ে যাবে, কারণ সাহরি তো রোজা রাখার উদ্দেশ্যেই খাওয়া হয়। তবে মৌখিক নিয়ত করাই ভালো। অনেকেই মনে করেন নিয়ত করার পর কিছু খাওয়া জায়েজ নয়, এমন ধারণা ভুল। নিয়ত করার পরও সুবহে সাদেক পর্যন্ত হালাল জিনিস অবশ্যই খাওয়া জায়েজ।
তারাবি : ‘তারাবি’ অর্থ বিশ্রাম করা। দীর্ঘ কেরাত ও অধিক রাকাত আছে এ নামাজের মধ্যে। এ নামাজের মধ্যে বিশ্রাম নিয়ে আবার পড়তে হয় বলে একে তারাবি বলে। প্রতি চার রাকাত দীর্ঘ নামাজের পর বিশ্রাম নিতে হয়। ইমাম মালেক ছাড়া অন্যান্য ইমামরা সবাই তারাবি নামাজ ২০ রাকাত বলেছেন এবং সে মতো আমল করেছেন, তবে ৮ ও ১২ রাকাতের মতও আছে।
তারাবি নামাজকে সালাতুল কেয়াম বলা হয়। অবশ্য তাহাজ্জুদসহ রাতের নফল, সুন্নাত প্রভৃতি নামাজ ও কেয়ামুল লাইলের অন্তর্ভুক্ত।
এ নামাজ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে সালাতুল কেয়াম পড়ে আল্লাহ তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেন। (বোখারি ও মুসলিম)
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আল্লাহ তার অতীত ও ভবিষ্যতের গুনাহগুলো মাফ করে দেন’। (বোখারি ও মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ সা: আরো বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করেছেন এবং আমি তোমাদের জন্য রমজানের সালাতুল কেয়ামকে সুন্নাত করেছি। যে রমজান মাসে ঈমান ও সওয়াবের নিয়তে রোজা রাখে ও সালাতুল কেয়াম আদায় করে তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। নাসাঈর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘তারা সদ্য নবজাত শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়।’ (তিরমিজি নাসাঈ, আবু দাউদ, ইবনু মাজা)
সাহরি: ‘সাহরি’ উর্দু ভাষার একটি শব্দ। বাংলা ভাষায় শব্দটি বহুল প্রচলিত। রোজা রাখার জন্য ভোর রাতে যে খাবার খাওয়া হয় আরবি ভাষায় তাকে ‘সুহুর,’ ‘সাহুর’ বা ‘সাহার’ বলে। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সুবহে সাদেকের আগে যে হালাল খাদ্য গ্রহণ করা হয় তার মধ্যে অনেক সওয়াব, কল্যাণ ও বরকত রয়েছে। হজরত আনাস ইবন মালেক রা: থেকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা শেষ রাতের খানা খাও। তাতে বরকত রয়েছে।’ (বোখারি-মুসলিম)
অন্যত্র হজরত ইবনে ওমর রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও ফেরেশতারা সাহরি গ্রহণকারীর জন্য প্রার্থনা করেন।’ (তাবারানি ও ইবনে হিব্বান)
আহলে কিতাবরাও রোজা রাখে কিন্তু তারা সাহরি খায় না। এ বিষয়টি আমাদের ও তাদের মধ্যে পার্থক্য হিসেবে রাসূলুল্লাহ সা: উল্লেখ করেছেন। আমর ইবনে আস রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: এরশাদ করেছেন আমাদের এবং আহলে কিতাবের মধ্যে পার্থক্য হলো সাহরি খাওয়া। আর আমাদের তো প্রভাত উদয়ের আগ পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি রয়েছে। (মুসলিম)
সাহরি খাওয়ার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সম্বন্ধে বলতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা দিনে রোজার জন্য সাহরি খাবারের সাহায্য নাও এবং রাতে নামাজের জন্য দুপুরে নিদ্রাবিহীন বিশ্রাম গ্রহণ কর।’
সাহরি ত্যাগ না করা জন্য রাসূলুল্লাহ সা: জোর দিয়ে বলেছেন, ‘এটা বরকতময়, আল্লাহ তোমাদের তা দান করেছেন, তোমরা তা ত্যাগ করো না।’ (নাসাঈ)
সাহরি খাওয়ার মধ্যে বিশেষ বরকত নিহিত। হজরত সালমান রা: থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তিন জিনিসে বরকত রয়েছে। সেগুলো হলো, জামাআত, সায়িদ নামক খাবার ও সাহরি।’ (তাবরানি)
সাহরি খাওয়ার ফজিলত সম্বন্ধে বর্ণনা করতে গিয়ে হজরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস রা: বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘খাবার হালাল হলে তিন ব্যক্তির খানায় কোনো হিসাব নেয়া হবে না, ইনশা আল্লাহ।’ ১. রোজাদার; ২. সাহরি বা শেষ রাতের খাবার গ্রহণকারী এবং ৩. আল্লাহর পথের মুজাহিদ বা সৈনিক।’ (বাজজার)
সাহরি খাওয়ার সময়ের ব্যাপারে আল্লাহ তা’আলা নিজেই বলেছেন, তোমরা সেই পর্যন্ত পানাহার করো যে পর্যন্ত না রাতের কালো রেখার বুক চিরে সোবহে সাদিক বা প্রভাতের সাদা রেখা পরিষ্কার ফুটে ওঠে এবং রাত পর্যন্ত সিয়াম পালন করো।’ (সূরা বাকারা: ১৮৭ আয়াত)
ইফতার : আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দিনে সাওম পালন করে সূর্যাস্তের পর খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের নাম ইফতার। সূর্যাস্তের পরপরই ইফতার করা সুন্নাত। এ ব্যাপারে হজরত আবু হোরায়রা থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আমার কাছে সে ব্যক্তি অতি প্রিয় যে তাড়াতাড়ি ইফতার করে।’ (তিরমিজি, ইবনে খোজায়মা ও ইবনে হিব্বান)
আবু হোরায়রা রা: থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘দ্বীন ততক্ষণ জয়ী থাকবে যতকাল লোকেরা শিগগিরই ইফতার করবে। কেননা ইহুদি ও নাসারাগণ দেরিতে ইফতার করে।’ (আবু দাউদ, ইবনে মাজা)
সাহল বিন সা’দ রা: থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘যে পর্যন্ত লোকেরা অবিলম্বে ও দ্রুত ইফতার করবে, সে পর্যন্ত তারা কল্যাণের মধ্যে থাকবে। (বোখারি ও মুসলিম)
ইফতার কি দিয়ে করতে হবে সে বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘তোমরা খেজুর দিয়ে ইফতার করো, কেননা তাতে বরকত রয়েছে। যদি খেজুর না থাকে তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করো। পানি পাক ও পবিত্র।’
রাসূলুল্লাহ সা: নিজেই ইফতার করতেন কি দিয়েÑ সে বিষয়ে হজরত আনাস রা: বলেছেন, ‘রাসূলুল্লাহ সা: আধা-পাকা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আধা-পাকা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি তাও না পেতেন, তাহলে কয়েক অঞ্জলি পানি দিয়ে ইফতার করতেন।’
অন্য রোজাদারকে ইফতার করানোতে রয়েছে বেশুমার ফজিলত। জায়েদ বিন খালেদ রা: থেকে বর্ণিতÑ রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায় তার জন্য রয়েছে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব। তবে ওই রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো কিছু ঘাটতি হবে না।’ (আব্বাস ইবনে মাজাহ, নাসাঈ, তিরমিজি)
হজরত সালমান ফার্সি রা: থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, ‘ যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, তার গুনাহ মাফ হয় এবং দোজখ থেকে নিজ গর্দান মুক্ত হয়, তার জন্য রোজাদারের সমান সওয়াব রয়েছে। তবে রোজাদারের পুরস্কার থেকে কোনো কিছু হ্রাস করা হবে না। সাহাবায়ে কেরাম প্রশ্ন করেনÑ ইয়া রাসূলুল্লাহ, রোজাদারকে ইফতার করানো সামর্থ্য আমাদের প্রত্যেকের নেই। উত্তরে রাসূলুল্লাহ সা: বলেছেন, আল্লাহ ওই ব্যক্তিকে একই সওয়াব দেবেন যিনি এক চুমুক দুধ, একটু খেজুর কিংবা পানি দিয়ে কাউকে ইফতার করান। যে ব্যক্তি রোজাদারকে পানি পান করায় আল্লাহ তাকে আমার হাউজ থেকে পানি পান করাবেন এবং বেহেশতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।’ (ইবনে খোজায়মা)
আমরা ইফতার করার সময় যে দোয়া পড়ি তা হলো ‘হে আল্লাহ! আমি কেবলমাত্র তোমার জন্যই রোজা রেখেছি এবং কেবলমাত্র তোমার প্রদত্ত রিজিক দিয়েই ইফতার করছি।’ (আবূ দাউদ) 

‘যে ব্যক্তি ঈমান (বিশ্বাস) ও পরকালের আশায় রোজা রাখবে, আল্লাহ তার বিগত দিনের গোনাহ মাফ করে দেবেন’
                                  

তাওবা আল্লাহ তাআলার পছন্দনীয় কাজ। আল্লাহ চান বান্দা তাওবা করে তার পথে ফিরে আসুক। রমজানে তাওবার গুরুত্ব আরো বেড়ে যায়। হাদিস শরিফে এসেছে, রমজানের রোজাই গোনাহ মাফের মাধ্যম। শরিয়তে যেভাবে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছে, সেভাবে রোজা রাখলে রোজাই বান্দার জন্য তাওবা বলে গণ্য হবে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমান (বিশ্বাস) ও পরকালের আশায় রোজা রাখবে, আল্লাহ তার বিগত দিনের গোনাহ মাফ করে দেবেন।’

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, রমজান মাসে করণীয় কাজ চারটি। দুটি বান্দা করবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য। আর দুটি করবে নিজের কল্যাণে। প্রথম দুটি কাজ হলো, ‘লা ইলাহা ইল্লাহ’র সাক্ষ্য দেওয়া। তথা লা ইলাহা ইল্লাহর জিকির বেশি বেশি করা। আল্লাহর কাছে তাওবা করা। গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া। বাকি দুটি কাজ হলো জান্নাত প্রার্থনা করা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া। এই চারটি কাজ রমজানে বেশি করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মুমিন বান্দা সব সময় তার ভুলের জন্য তাওবা করবে। কোনো পাপ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে অনুতপ্ত হবে এবং তাওবা করবে। তবে রমজানে যেহেতু আল্লাহ বান্দার প্রতি বেশি অনুগ্রহশীল হন, তাই রমজানে বেশি বেশি তাওবা করা ও ক্ষমা করা উচিত। শুধু মুখে তাওবা শব্দের উচ্চারণকে প্রকৃত তাওবা বলে না। তাওবা বলা হয় অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং ভবিয্যতে এমন কাজ না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা। আল্লাহর নিকট তা থেকে আশ্রয় চাওয়া এবং সাহায্য চাওয়া।

পরিচালক, শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, ঢাকা।

ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা
                                  

চলতি বছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৭০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ৪২ টাকা দরে আটার বাজার মূল্য অনুযায়ী ফিতরার সর্বনিম্ন হার নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসলামি শরিয়া মতে, আটা, খেজুর, কিশমিশ, পনির ও যবের মূল্য অনুযায়ী ফিতরা নির্ধারণ করা হয়। সর্বনিম্ন ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম ও সর্বোচ্চ ৩ কেজি ৩শ গ্রাম পরিমাণের বাজার মূল্য অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয় ফিতরার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন হার।

রমজান মাসে ইসলাম গ্রহণকরীর সিয়ামের বিধান
                                  

 রমজান বিষয়ক ফতোয়া:

না তাকে পিছনের সিয়াম আদায় করতে হবে না। কেননা সে তখন কাফের ছিল। আর কাফের থাকাকালীন সময়ে যে নেক কাজ অতিবাহিত হয়ে গেছে তাকে তা আদায় করতে হবে না। আল্লাহ তা আলা বলেন:
“যারা কাফির তাদের বলে দাও যদি তোমরা কুফরির অবসান ঘটাও তাহলে তিনি তোমাদের অতীতে যা কিছু গেছে তা ক্ষমা করে দিবেন” সূরা আনফাল : ৩৮
দ্বিতীয়ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে তাদের কাউকে অতীতের সালাত, সিয়াম, যাকাত আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়নি।


কিন্তু কথা থেকে যায় সে রমজানের দিনের মধ্যবর্তী সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে তাহলে তাকে কি খাওয়া- দাওয়া, যৌন-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকতে হবে, না কাজা আদায় করতে হবে, এ ব্যাপারে উলামাদের মধ্যে মতভেদ আছে।

তবে বিশুদ্ধতম মত হল তাকে দিনের বাকি সময়টা খাওয়া- দাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কাজা আদায় করতে হবে না। কেননা দিনের শুরুতে যখন সিয়াম ওয়াজিব হওয়ার সময় এসেছে তখন তার উপর তা ওয়াজিব হয়নি।

তার মাসয়ালাটা ঐ কিশোরের মত যে দিনের মধ্যবর্তী সময়ে বালেগ হয়েছে। তাকে বিরত থাকতে হবে। কাজা করতে হবে না।

আল্লাহর পথে ১ দিনের রোযার প্রতিদান
                                  

                                                               আল হাদিস

আবূ সাঈদ আলখুদরী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাআহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: “যে বান্দা আল্লাহর রাস্তায় একদিন মাত্র রোযা রাখবে সেই বান্দার চেহারাকে আল্লাহ্ (ঐ রোযার বিনিময়ে) জাহান্নাম থেকে সত্তর বছরের পথ পরিমাণ দূরত্বে রাখবেন।” [বুখারী: ২৮৪০, মুসলিম: ১১৫৩, তিরমিযী, নাসাঈ]

নারীদের জন্য রোজা পালনে যা করণীয়
                                  

পবিত্র মাহে রমজানে আল্লাহ তা`আলা শুধুমাত্র পুরুষের জন্যই ফরয করেননি মাখলুকাতের সকল দ্বীনদার মুসলমান বালেগ নর-নারী উপর রোজা ফরয করেছেন। এই রোজা পালনে নারীদের কিছু করণীয় রয়েছে। যা পালন করা আমাদের একান্ত আবশ্যকীয় কর্তব্য। চলুন জেনেনি নারীদের কি করণী।

১। কোনো মেয়ে যদি বালেগ হওয়ার পর লজ্জার কারণে রোজা না রাখে, তাবে তাকে খালেছ ভাবে তাওবা পালন করতে হবে এবং ভাংতি রোজাগুলো ক্বাজা পালন এবং প্রতি দিনের বদলে একজন করে মিসকিন খাওয়ানো আবশ্যক। মহান আল্লাহর হুকুম পালনে লজ্জা-দ্বিধা করা ঠিক নয়।

২। কোনো নারী ঋতুস্রাব বা সন্তান প্রসবকালীন ইদ্দত সন্ধ্যায় অথবা রাতে বন্ধ হয়ে যায় রাতেই ঐ মহিলাকে রোজার নিয়্যত করতে হবে। গোসল করার আগেই ফজরের সময় হলেও রোজা শুদ্ধ হবে।

৩। যদি কোনো মহিলার আগামীকাল ভোরে ঋতুস্রাব হবে তবুও সে রোজা রাখার নিয়্যতে সাহরি খাবে, যতক্ষণ না পর্যন্ত সে স্রাব দেখে। ঋতুস্রাব দেখার পরই কেবলমাত্র সে রোজা ভঙ্গ করতে পারবে।

৪। রমজানের রাজা চলাকালে যে সকল মহিলার ঋতুস্রাব দেখা দিবে তা স্বাভাবিকভাবে শেষ হতে দেয়া উচিত। অতিরিক্ত ছাওয়াবের আশায় ওষুধ বা অন্য কোনো উপায়ে ঋতুস্রাবকালীন সময়কে কমানো বা ঋতুস্রাব বন্ধ করা ঠিক নয়।

ইসলামি শরীয়তে রোজার সময় ঋতুস্রাব কারণে রোজা ভঙ্গ করলে পরবর্তী সময়ে তা ক্বাযা পালন করার বিধান।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে হযরত মুয়াযাহ বিনতে আব্দুল্লাহ আল-আদাবি (রা.) বলেন, আমি আয়েশা (রা.)কে বলি- ঋতুবর্তী মহিলা কেন রোজা ক্বাযা করে, সালাত ক্বাযা করে না? তিনি বললেন তুমি কি হারুরি? আমি বললাম না, কিন্তু আমি জিজ্ঞাসা করছি, তিনি বললেন, আমাদের এমন হতো, অতপর আমাদেরকে শুধু সাওম বা রোজা ক্বাযার নির্দেশ দেয়া হতো, সালাত ক্বাযার নির্দেশ দেয়া হতো না। (বুখারি, মুসলিম)

(হারুরি হচ্ছে খারেজি সম্প্রদায়ের একটি গ্রুপ। কুফার নিকটে অবস্থিত হারুরা শহরে তাদের বসতি, তাদের মধ্যে দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি ও কঠোরতা ছিল অত্যধিক। এজন্য তাদেরকে হারুরি বলা হতো)

তিরমিযি শরিফে বর্ণিত আছে হযরত আয়েশা (রা.) আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসুল (স.) এর যুগে যখন ঋতুবর্তী হতাম, অতপর পবিত্র অর্জন করতাম, তিনি আমাদেরকে সওম বা রোজা ক্বাযার নির্দেশ দিতেন, কিন্তু সিয়াম ক্বাযার নির্দেশ দিতেন না। এ হাদিস অনুযায়ীও ঋতুবর্তী মহিলা সিয়ামের ক্বাযা পালন করবে, নামাজের ক্বাযা করবে না। (তিরমিজি)

ক. যদি কোনো মহিলার ৪০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে নিফাস বন্ধ হয়ে যায়, সেদিন থেকেই গোসল করে পবিত্র হয়ে রোজা পালন করবে এবং নামাজ আদায় শুরু করবে।

এছাড়া কোনো মহিলার যদি ৪০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও নিফাসের রক্ত দেখা দেয়, ইহা নিফাস বলে গণ্য হবে না। অতএব গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে রোজা ও নামাজ শুরু করতে হবে।

ব্যতিক্রম: নিফাসের সময়ের সঙ্গে যদি হায়েজের সময় সংযুক্ত হয় তবে ইহাকে হায়েজ মনে করতে হবে। সেক্ষেত্রে রোজা থেকে বিরত থাকবে এবং ইদ্দত পূর্ণ করে পবিত্র হয়ে রোজা পালন করবে।

খ. গর্ভস্থিত সন্তানের শারীরিক গঠনের কোনো একটি অঙ্গ অর্থাৎ হাত, পা, মাথা ইত্যাদি গঠনের পর গর্ভপাত হলে, গর্ভপাতের পর নিফাস মনে করতে হবে এবং ইদ্দতপূর্ণ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রোযা রাখবে না।

গ. আর যদি গর্ভস্থিত সন্তানের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হওয়ার পূর্বে গর্ভপাত হয়, তখন গর্ভপাতের পরবর্তী সময়ে স্রাব নিফাস বলে গণ্য হবে না বরং মোস্তাহাযাহ বলে গণ্য হবে। আর এক্ষেত্রে সক্ষম হলে রোজা পালন করতে হবে। আর যদি গর্ভপাতের ফলে অসুস্থ্য হয়ে যায় তবে তা ভিন্ন কথা। নিফাস ব্যতিত রক্তস্রাবে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

ঘ. গর্ভবতী ও স্তন্যদায়িনী মহিলা রোজা ভাঙ্গতে পারবে। যদি রোজা পালনের কারণে তার নিজের বা শিশু সন্তানের ক্ষতি বা জীবন বিপন্ন হওয়ার আশংকা থাকে। পরবর্তী সময়ে তাকে একদিনের বদলে একদিন ঐ রোজা ক্বাযা পালন করতে হবে।

এ ব্যাপারে রসুল (স.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মুসাফিরদের জন্য রোজা রাখতে বারণ করেছেন এবং নামাজের অংশ বিশেষ ছাড় দিয়েছেন, আর গর্ভবর্তী ও স্তন্যদানকারীর জন্য রোজা পালনের বাধ্য বাধকতা শিথিল করেছেন। অর্থাৎ পরবর্তীতে ক্বাযা আদায় করতে হবে। (তিরমিজি)

ঙ. যে সব মহিলার উপর রোজা ফরয করা হয়েছে, তার সম্মতিতে রমজানের দিনে স্বামী-স্ত্রীতে যৌনকার্য সংঘটিত হলে, উভয়ের উপর একই হুকুম কার্যকরী হবে (ক্বাযা করতে হবে ও কাফ্ফারা দিতে হবে)। আর স্বামী যদি জোর করে সহবাস করে তাহলে স্ত্রী শুধু ক্বাযা আদায় করবে, কাফ্ফারা দিতে হবে না। তবে স্বামীকে বিরত রাখার চেষ্টা করতে হবে। যে সব পুরুষ লোক নিজেদেরকে সংযত রাখতে পারে না, তাদের স্ত্রীদের উচিত দুরে দুরে থাকা এবং রমজান দিবসে সাজ-সজ্জা না করা উত্তম।

আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত লড়াইয়ের নির্দেশ
                                  

                                                                        আল হাদিস

 আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)- এর ইন্তেকালের পর আবুবকর (রা)-খলীফা নির্বাচিত হলে। তাঁর খেলাফতের প্রথম ভাগে কতিপয় আরবগোত্র বিদ্রোহ ঘোষণাসহ যাকাত দিতে অস্বীকার করে। এতে তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণার সংকল্প করলেন। তখন উমর (রা) আবুবকর (রা)-কে বললেন, আপনি তাদের বিরুদ্ধে কিভাবে জিহাদ করবেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, জনগণ “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই” একথা না বলা পর্যন্ত আমি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আদিষ্ট হয়েছি।

সুতরাং যে ব্যক্তি ঐ কথা স্বীকার করবে, তার জান ও মাল আমার হাত থেকে নিরাপদ করলো। তবে আইনের দাবি ভিন্ন। (অর্থাৎ ইসলামের বিধান অনুযায়ী) দন্ড পাওয়ার যোগ্য কোন অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই সেই দন্ড ভোগ করতে হবে এবং তাঁর প্রকৃত বিচারের ভার আল্লাহর উপর ন্যস্ত। ওমর (রা)-এর এ কথায়, আবুবকর (রা) বললেন, “আল্লাহর শপথ যারা সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করেছে, আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়াই করবো। কেননা, যাকাত হলো মালের হক (যেমন সালাত দেহের হক)।

আল্লাহর কসম! যদি তারা ছাগলের একটি বাচ্চা দিতেও অস্বীকার করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ (সা)-কে প্রদান করতো; আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই লড়াই করবো। এরপর ওমর (রা) বললেন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আবু বকরের অন্তর লড়াইয়ের জন্য খুলে দিয়েছেন। অবশেষে আমি বুঝতে পারলাম যে, এটাই (আবু বকরের সিদ্ধান্তই) যুক্তিযুক্ত ও সঠিক।
(বুখারী-কিতাবুয যাকাত)

ল্যাপল্যান্ডের মুসলমানরা ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন!
                                  

ধৈর্য ও সহিঞ্চুতার বারতা নিয়ে রমজান আসে। পানাহার বর্জনের এই পরীক্ষায় সবার কষ্ট একরকম হয় না। কোনো কোনো দেশের মানুষ ১০ ঘণ্টারও কম রোজা রাখেন, আবার কোনো কোনো দেশের রোজাদারেরা রোজা রাখেন দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা!


যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, ডেনমার্ক, বেলারুশ, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, কাজাকিস্তান, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরিতে রোজা রাখার সময় প্রায় ১৯ ঘণ্টা।
আবার মাত্র ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট রোজা রাখছেন আর্জেন্টিনার মুসলিম বাসিন্দারা। এছাড়াও ১০ ঘণ্টা রোজা রাখছেন অস্ট্রেলিয়ার মুসলিমরা। ১১ঘণ্টার কাঁটায়ও রয়েছে সবচেয়ে কম সময় উপবাস থেকে রোজা রাখছেন আর্জেন্টিনার পার্শ্ববর্তী দেশ ব্রাজিল।


পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ৯-২১ ঘণ্টার মাঝামাঝিতেও পানাহার বর্জনের পরীক্ষা দেন অনেকেই। সে দেশগুলো হলো- মধ্যপ্রাচ্যের মিশরে প্রায় ১৬ ঘণ্টা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিস্তিন ও ইয়েমেনে ১৫ ঘণ্টা, কাতার ১৪ ঘণ্টা ৪০ মিনিট এবং কুয়েত, ইরাক, জর্দান, আলজেরিয়া, মরক্কো, লিবিয়া ও সুদানে ১৪ ঘণ্টা। পাশাপাশি এশিয়ার পাকিস্তানে প্রায় ১৫ ঘণ্টা ও ভারতীয় মুসলমানরা ১৪ ঘণ্টা ১৬ মিনিট রোজা রেখে উপবাস থাকেন।
এছাড়াও ফ্রান্সে ১৭ ঘণ্টা ১১ মিনিট, ইতালিতে ১৭ ঘণ্টা, কানাডায় পৌনে ১৫ ঘণ্টা, ফিলিপাইনসে সোয়া ১৪ ঘণ্টা, মালয়েশিয়ায় ১৩ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, সিঙ্গাপুর ১৩ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট এবং কেনিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় সোয়া ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখতে হয়।
এর মধ্যে বেশ দীর্ঘ সময় রোজা রাখছেন পৃথিবীর উত্তরাঞ্চলের মুসলমানরা। বিশেষত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর (১. আইসল্যান্ড ২. সুইডেন ৩. নরওয়ে ৪. ডেনমার্ক ৫. ফিনল্যান্ড) অধিবাসীরা।
তাদের রোজার দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ ঘণ্টা। আবার আইসল্যান্ড ও গ্রীনল্যান্ডে বসবাসরত মুসলমানদের রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য গড়ে ২১ ঘণ্টা।


ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত স্ক্যান্ডিনেভিয়ান এর নর্ডিক অঞ্চলের একটি দেশ ফিনল্যান্ড। জীবনযাত্রার মান যথেষ্ট উন্নত হওয়ায় নানা দিক থেকে বিশ্বের মানুষের মাঝে আজ বেশ আলোচিত একটি দেশ এটি। শীতপ্রধান এ দেশটির মোট জনসংখ্যা পঞ্চাশ লাখের মতো। এর মধ্যে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ শতাংশ মুসলমান।


ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা এবারের রোজায় ২২ ঘণ্টারও অধিক সময় রোজা রাখছেন। রাজধানী হেলসিংকি সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে বসবাসরত রোজাদাররা রোজা রাখেন ২২ ঘণ্টা ১২ মিনিট। এটিই হলো- ফিনল্যান্ডের রোজার সবচেয়ে কম সময়। অন্যান্য এলাকায় রোজার সময় আরও বেশি।
ফিনল্যান্ডের সবচেয়ে উত্তরের শহর ল্যাপল্যান্ড এলাকায় বসবাসরত মুসলামানরা সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রোজা রাখেন। সেখানে রাত আসে মাত্র ৫৫ মিনিটের জন্য। তাদের প্রতিদিনকার রোজার দৈর্ঘ্য হয় ২৩ ঘণ্টারও বেশি।
রাজধানী থেকে উত্তর দিকের শহরগুলোতে রোজার সময় বেড়ে যায়। ফিনল্যান্ডের উত্তরদিকের বৃহত্তম শহর উলু। সেখানকার রেজাদারগণ ২৩ ঘণ্টা (৭ মিনিট কম) রোজা রাখেন। দেশের উত্তরের অন্যান্য শহরগুলোতে ১ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ইফতার ও সাহরি সম্পন্ন করতে হয় রোজাদারদের।
এতো দীর্ঘ সময় রোজা রাখা অনেকটা অসাধ্য হওয়ায় সেখানকার ইসলামিক স্কলাররা ফাতাওয়া দিয়েছেন পার্শবর্তী কোনো মুসলিম দেশের সময় অনুপাতে রোজা রাখতে। কিন্তু ফিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন। আর ইফতার করছেন মাত্র ১ ঘণ্টার জন্য।
ফিনল্যান্ডে বসবাস করেন নানা দেশীয় মুসলমান। ইরাক, সোমালিয়া, তুরস্ক, থাইল্যান্ডের অনেক মুসলমান এখানে বসবাস করেন।
তাতারিদের মাধ্যমে দেশটিতে ইসলাম প্রবেশ করলেও নব্বইয়ের দশকের শুরুতে শরণার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মুসলমানদের সংখ্যাও বাড়তে থাকে ফিনল্যান্ডে।
এক সময় ফিনল্যান্ডে সবধরনের ইসলামি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছিল। ১৯২৫ সালে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলামি জলসা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মাঝে ফিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম কোনো ইসলামি জলসার অনুমোদন দেয়।
দীর্ঘতম দিনের বিষয়টি মাথায় রেখে ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা তাদের পার্শ্ববর্তী দেশের সময় অনুযায়ী রোজা পালন করেন। ১৮ ঘণ্টারও বেশি সময় রোজার দৈর্ঘ্য হলে ফিনল্যান্ডের অধিকাংশ মুসলমান পার্শ্ববর্তী দেশের সময়ের সঙ্গে মিল করে রোজা রাখেন।
ফিনল্যান্ডের ল্যাপল্যান্ডে বসবাসরত মুসলমানরা তাদের রোজার সময় নির্ধারণ করেন সবচেয়ে কাছের মুসলিম দেশ তুরস্কের সময় অনুযায়ী। গতবছর এক ফতোয়ায় তাদেরকে মক্কা অথবা নিকটতম মুসলিম দেশের রোজার সময় অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এ বছর তাদের অনেকেই সেই ফতোয়াকে অনুসরণ করছেন।
-‘আল মিসরি আল ইয়াউম’ ও ‘কল্লা ওয়া দাল্লা’ ওয়েস অবলম্বনে

রমজান ইবাদতময় করে তুলতে করণীয়
                                  

 রমজানে বিশেষ কিছু নির্দিষ্ট আমল রয়েছে। সাহরি, ইফতার ও তারাবি এর অন্যতম। তবে এসব ছাড়াও আরো প্রচুর আমল রয়েছে। যা বছরের অন্য সময়ের মতো রমজানেও করা যায়। বস্তুত রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগাতে সবার প্রচেষ্টা থাকা উচিত। রমজানে সহজে যেসব আমল করা যায়, সেগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা-


তাহাজ্জুদের নামাজ আদায়


মহানবী (সা.) বলেন, ‘যে রমজান মাসে ইমান ও সওয়াবের আশায় (ইবাদতের মাধ্যমে) রাত জাগরণ করবে তার অতীতের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১৭৩)
কোরআন তিলাওয়াত হোক অধিক পরিমাণে
রমজানে যেহেতু প্রতিটি ইবাদতের সওয়াব ৭০ গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাই এ মাসে যথাসাধ্য বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলিম ও মুমিনের ওপর আবশ্যক। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজা ও কোরআন কিয়ামতের দিন মানুষের জন্য সুপারিশ করবে...।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ৬৬২৬)
দান-সদকায় প্রাণবন্ত
এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত সাহাবি ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি দানশীল। আর রমজানে তাঁর বদান্যতা আরো বেড়ে যেত। (মুসলিম, হাদিস নং: ৩২০৮)


রোজাদারদের ইফতার করানো
রোজাদারকে ইফতার করালে রোজার সমান সওয়াব। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে রোজা পালনকারীর অনুরূপ সওয়াব লাভ করবে, তবে রোজা পালনকারীর সওয়াব থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করা হবে না।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২২৩০২)


দোয়া করা বেশি বেশি
মহান আল্লাহ রোজার বিধান বর্ণনা করার পর বলেছেন, ‘আমার বান্দারা যখন আমার সম্পর্কে তোমাকে প্রশ্ন করে, আমি তো কাছে আছি। প্রার্থনাকারী যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে, আমি তার প্রার্থনায় সাড়া দিই।’ (সুরা আল-বাকারা, আয়াত : ১৮৬) তাই রোজা পালনকারী আল্লাহর কাছে অধিক পরিমাণে দোয়া প্রার্থনা করবে।

তাওবা-ইস্তিগফার করা
সর্বদা তাওবা করা ওয়াজিব, বিশেষ করে এ মাসে তো বটেই। এ মাসে তাওবার অনুকূল অবস্থা বিরাজ করে। শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়, জাহান্নাম থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়া হয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়েও তার পাপ ক্ষমা করাতে পারেনি, তার নাক ধুলায় ধূসরিত হোক।’ (জামেউল উসুল, হাদিস নং: ১৪১০)

মিসওয়াক করা
মিসওয়াকের প্রতি রাসুল (সা.) অশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। হাদিসে এসেছে, ‘মিসওয়াক মুখের জন্য পবিত্রকারী এবং রবের সন্তুষ্টি আনয়নকারী।’ (ইবনে খুজাইমাহ, হাদিস নং: ১৩৫)
পরস্পর কোরআন শোনানো
রমজান মাসে একজন অন্যকে কোরআন শোনানো একটি উত্তম আমল। এটিকে দাওর বলা হয়। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, জিবরাইল (আ.) রমজানের রাতে মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং রাসুল (সা.) তাঁকে কোরআন শোনাতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং: ১৯০২)

সামর্থ্য থাকলে ওমরাহ পালন করা
এ মাসে একটি ওমরাহ পালন করলে একটি হজ আদায়ের সমান সওয়াব হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে ওমরাহ পালন করা আমার সঙ্গে হজ আদায় করার সমতুল্য।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৮৬৩)

শবে কদর তালাশ করা
রমজান মাসে এমন একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। সবার উচিত ওই রাতের সন্ধান করা। ওই রাত সম্পর্কে কোরআনের ঘোষণা হলো, ‘কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।’ (সুরা কদর, আয়াত : ৪)

রোজার জরুরি কিছু মাসআলা
                                  

 প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। তবে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থমস্তিষ্কসম্পন্ন, মুকিম (মুসাফির নয়), সুস্থদেহি হতে হবে। রোজা রাখার ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে।
পাঠকদের জন্য রোজার কিছু গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বর্ণনা করা হলো-


রোজা অবস্থায় টুথপেস্ট, টুথ পাউডার, মাজন বা কয়লা দিয়ে দাঁত মাজা মাকরুহ। রোজা অবস্থায় ইনহেলার ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। কোনো ব্যক্তি যদি হাঁপানি অথবা অ্যাজমার কারণে ইনহেলার ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, তাহলে রোজা ভাঙার অনুমতি আছে। তবে ওই রোজা পরে কাজা করতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে শামি : ২/৩৯৫)
রোজার কথা স্মরণ থাকা অবস্থায় কুলি করার সময় যদি পানি গলার ভেতর চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (দুররে মুখতার : ১/১৫০)


কোনো কারণে রোজা ভেঙে গেলেও দিনের বেলায় পানাহার করা যাবে না। সারা দিন রোজাদারের মতো থাকা ওয়াজিব। (হিদায়া : ১/১৮৫)
কানে তেল বা ওষুধ প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। তবে গোসল করার সময় যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে কানে পানি প্রবেশ করে, তাহলে রোজা ভাঙবে না। (রদ্দুল মুহতার : ২/৩৯৬)


পায়খানার রাস্তায় ডুশ ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যাবে। এতে শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। কাফফারা ওয়াজিব হবে না। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)
ভুলক্রমে পানাহার করলে রোজা ভঙ্গ হবে না। (বুখারি : ১৯৩৩)


রোজা অবস্থায় চোখে সুরমা বা শরীরে তেল, আতর ইত্যাদি ব্যবহার সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। এমনকি যদি সুরমা ব্যবহারের পর থুথু কিংবা শ্লেষ্মায় রং পরিলক্ষিত হয়, তবু রোজার কোনো ক্ষতি হবে না। (ফাতহুল কাদির : ৪/৩২৭)

 

ইসলামে শিশু শিক্ষার গুরুত্ব ও পথ-নির্দেশনা
                                  

শিশুদের ইসলামিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা হলে, একদিন তারাই এই জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। শিশুদের মন-মানসিকতায় ইসলামের প্রতি মহব্বত, তৌহিদ, রেসালত, কিয়ামত, পরকাল, ফেরেশতা, কবরের জগৎ, নবি-রসুল, সাহাবাদের প্রতি মহব্বত এই সংক্রান্ত যাবতীয় চেতনায় উজ্জীবিত করে তোলাই মূলত ইসলামী শিক্ষা।

সর্বোপরি আরো একটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে শেখানো সেটা হলো আদব বা ভদ্রতা। রসুল [সা.] বলেন কোনো পিতা তার সন্তানকে এর থেকে উত্তম উপঢৌকন প্রদান করতে পারেন না, তিনি তাকে যে উত্তম শিক্ষা প্রদান করেন। [তিরমিজী ]

হজরত ইবনে আব্বাস [রা.] বর্ণনা করেন রসুল [সা.] বলেন শিশুর যখন কথা ফুটতে শুরু করবে তখন সর্ব প্রথম তাকে কলেমা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ শেখাবে, আর মৃত্যুকালেও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর তালকিন দেবে। কেননা যার প্রথম বাক্য এবং শেষ বাক্য হবে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ সে যদি হাজার বছরও বেঁচে থাকে তাহলে তাকে কোনো গোনাহ ও পাপের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না।

হজরত আলী [রা.] হতে বর্ণিত রসুল [সা.] বলেছেন, তোমরা নিজ নিজ সন্তানদের তিনটি স্বভাবের অনুসারী করে গড়ে তোলো ১. তাদের নবি [সা.]-এর প্রতি ভালোবাসা শিক্ষা দাও। ২. নবি [সা.]-এর বংশধরদের প্রতি ভালোবাসা শিক্ষা দাও। ৩. তাদের মধ্যে পবিত্র কোরান তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলো। কেননা পবিত্র কোরানের ধারক ও বাহকরাই সেদিন আম্বিয়া কেরাম এবং সাধু সজ্জনদের সঙ্গে আরশের ছায়ায় অবস্থান করবে, যেদিন আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না। [তিবরানী]

শিশু শিক্ষার বিষয়টিকে ইসলাম বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। তাই একজন মুসলমান হিসেবে, ইসলামের একজন অনুসারী হিসেবে নিজেদের শিশু সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করতে হবে আমাদের। শিশুদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত না করতে পারলে, একদিকে যেমন সামাজিকভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে তেমনি জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে আল্লাহ মহানের দরবারে।

কারণ শিশু সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলাকে প্রত্যেক অভিভাবকের জন্য আবশ্যক দায়িত্ব হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসলাম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিজ নিজ শিশু সন্তানদের ইসলামী সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার তওফিক দান করুন।

লেখক: মাওলানা মিরাজ রহমান


   Page 1 of 37
     ইসলামী জগত
দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রমজানের ইতিকাফে
.............................................................................................
কোরআন তেলাওয়াতে চিন্তা, ভাবনা ও গভীর অভিনিবেশ
.............................................................................................
মাহে রমজানের সওগাত
.............................................................................................
কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে মুসলিম হলেন মার্কিন যাজক
.............................................................................................
সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব ছোট-বড় সবার ওপর
.............................................................................................
নাজাতের মাস রমজান
.............................................................................................
‘যে ব্যক্তি ঈমান (বিশ্বাস) ও পরকালের আশায় রোজা রাখবে, আল্লাহ তার বিগত দিনের গোনাহ মাফ করে দেবেন’
.............................................................................................
ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা
.............................................................................................
রমজান মাসে ইসলাম গ্রহণকরীর সিয়ামের বিধান
.............................................................................................
আল্লাহর পথে ১ দিনের রোযার প্রতিদান
.............................................................................................
নারীদের জন্য রোজা পালনে যা করণীয়
.............................................................................................
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত লড়াইয়ের নির্দেশ
.............................................................................................
ল্যাপল্যান্ডের মুসলমানরা ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন!
.............................................................................................
রমজান ইবাদতময় করে তুলতে করণীয়
.............................................................................................
রোজার জরুরি কিছু মাসআলা
.............................................................................................
ইসলামে শিশু শিক্ষার গুরুত্ব ও পথ-নির্দেশনা
.............................................................................................
আল্লাহর কাছে চাইলেই পাওয়া যায়
.............................................................................................
আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও দীনের বিধি-বিধানের উপর ঈমান আনার নির্দেশ
.............................................................................................
রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, আজ থেকে রোজা
.............................................................................................
রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালবাসা পোষণ ঈমানের অংশ
.............................................................................................
পোশাক নিয়ে গর্ব শাস্তির সমক্ষিন করবে
.............................................................................................
কোরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে
.............................................................................................
ঝড়-তুফানের সময় কী করবেন
.............................................................................................
ইসলামের অন্যতম রুকন সালাতের বিবরণ
.............................................................................................
রমজানের প্রস্তুতি উপলক্ষে ৮টি নির্দেশনা
.............................................................................................
জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব দিতে হয়?
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিক
.............................................................................................
ঈমান ও তার বৈশিষ্ট্যসমূহের বিবরণ
.............................................................................................
জেনে-বুঝে স্বেচ্ছায় আমার উপর মিথ্যা আরোপ
.............................................................................................
মিথ্যা ও মনগড়া হাদীস বর্ণনার ভয়াবহ পরিণাম
.............................................................................................
নিয়মিত সৎকর্ম আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয়
.............................................................................................
রমজান উপলক্ষে চালু মসজিদুল হারামের কোরআন অ্যাপ
.............................................................................................
৫৫ লাখ মুসল্লির ওমরাহ পালন চলতি মৌসুমে
.............................................................................................
জুমার দিনের আদব-শিষ্টাচার
.............................................................................................
অধিক প্রশ্ন এবং নবীদের সাথে বিরোধ ধ্বংসের কারণ
.............................................................................................
অসৎকর্মের ইচ্ছার পর না করলে সওয়াব, করলে একটি গোনাহ্
.............................................................................................
প্রচেষ্টা, সংগ্রাম, সাধনা
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবেবরাত
.............................................................................................
অজু-গোসলের পর শরীর মোছা সম্পর্কে শরিয়তের বিধান
.............................................................................................
আল্লাহর রহমত তাঁর ক্রোধের উপর বিজয়ী
.............................................................................................
ঘুমের পূর্বে সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়া
.............................................................................................
দ্বীন-ধর্মীয় প্রজ্ঞা লাভের উপায়
.............................................................................................
সর্ববৃহৎ মসজিদের উদ্বোধন ফিজিতে
.............................................................................................
স্বপ্ন সম্পর্কে মিথ্যা বলা ইসলামে হারাম
.............................................................................................
সব ধর্মের মানুষের জন্য উন্মুক্ত দুবাইয়ের ‘কোরআন পার্ক’
.............................................................................................
মেঘের গর্জন ও বজ্রপাতে যে দোয়া পড়তে হয়
.............................................................................................
যেসব কারণে মিথ্যা বলার অনুমতি রয়েছে?
.............................................................................................
মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় মসজিদুল হারামে ২১শ’ লকার
.............................................................................................
রাসুল (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সবচেয়ে ভালো মানুষ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]