| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় মসজিদুল হারামে ২১শ’ লকার

কালো গিলাফ ও সবুজ গম্বুজের ভালোবাসায় আপ্লুত হয় প্রতিটি মুমিন। সামর্থ্য সাপেক্ষে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আল্লাহপ্রেমের পাঠ নিতে ও রাসুলপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করতে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালন করেন।
প্রতি বছর যেসব মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনে যান, তারা স্বাভাবিকতই মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে হাজির হন। অনেক সময় তারা মসজিদে যাওয়ার সময় বিভিন্ন জিনিসপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যান। নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে জিনিসপত্র নিয়ে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই তাদের মূল্যবান ও যেকোনে জিনিস হেফাজতের জন্য মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষ দুই হাজার এক শ লকারের ব্যবস্থা করেছে। তবে এই সেবা দিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্তৃপক্ষ নামমাত্র ও সৌজন্যতামূলক মূল্য নির্ধারণ করেছে।
মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় নির্ধারিত লকার
লকারব্যবস্থায় ১৫৫ জন্য কর্মী
মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গন পর্যবেক্ষণ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর জাকি বিন ঘালি আল-হুজালি বলেন, প্রাঙ্গন দেখভালের বিষয়টি মসজিদুল হারামের প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। এতে চার শিফটে ১৫৫ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। তারা সব ধরনের বিষয়াদি লক্ষ্য রাখেন। সেখানে কেনাকাটা, ভিক্ষাবৃত্তি, চুল কাটা, অনুমতি ছাড়া ভাড়াটে হুইলচেয়ার ব্যবহার ছাড়াও আরো অন্যান্য বিষয়াদি তৈরি হচ্ছে কিনা সেদিকে তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। নেতিবাচক কোনো কিছু নজরে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন।
মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গনে স্থাপিত লকারের সেবা নিচ্ছেন এক ওমরাহ পালনার্থী
সাত স্থানে ২১শ’ লকার
মসজিদুল হারামের সাতটি স্থানে লকারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি দিতে ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। সাত স্থানের প্রত্যেকটিতে আটটি করে মেশিন রয়েছে। প্রতিটি মেশিনে ২৮ থেকে ৩৪টি লকার রয়েছে। সেগুলোতে ২৬০ থেকে ৩০০টি করে বক্স রয়েছে। প্রতিটি মেশিনের কাছে দুইজন নিরাপত্তা রক্ষী ও সুপারভাইজার রয়েছে।
মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় সারি সারি লকার
বক্সগুলোতে মুসল্লিদের জিনিসপত্র তিনটি শিফটে যতেœর সঙ্গে রক্ষাণাবেক্ষন করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে সবগুলোর যথাযথ দেখাশোনা করা হয়।
নথি সংরক্ষণে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
মসজিদুল হারামের আঙিনায় অবস্থিত লকারের সাতটি নির্দিষ্ট স্থানে মুসল্লিদের জিনিসপত্র হেফাজতের জন্য স্বয়ংক্রিয় নথিভুক্তের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে মুসল্লি নিজেই জিনিসপত্র লকারে রাখার আগে নথিভুক্ত করতে পারেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত নম্বর গ্রহণ করেন এবং নম্বরটি দেখিয়ে নথিভুক্ত জিনিসপত্র ফেরত নিয়ে যান।
মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় সারি সারি লকার
নিরাপত্তাব্যবস্থা
ওমরাহ ও হজ পালনার্থীর কিংবা মুসল্লির লাগেজ দীর্ঘদিন থেকে গেলে, বাক্সটি পাঁচ দিন পর নীল রঙের সংকেত দেয়। এতে ইঙ্গিত করা হয় যে, বাক্সটি বন্ধ করার পর থেকে আর খোলা হয়নি। তখন সেখানকার নির্ধারিত বিশেষ কমিটি আসবাবসামগ্রীগুলো সরিয়ে নির্দিষ্ট অন্য বক্সে রাখেন এবং মালিক ফিরে আসা পর্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে রক্ষা করেন।

মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় মসজিদুল হারামে ২১শ’ লকার
                                  

কালো গিলাফ ও সবুজ গম্বুজের ভালোবাসায় আপ্লুত হয় প্রতিটি মুমিন। সামর্থ্য সাপেক্ষে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আল্লাহপ্রেমের পাঠ নিতে ও রাসুলপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করতে পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালন করেন।
প্রতি বছর যেসব মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনে যান, তারা স্বাভাবিকতই মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে হাজির হন। অনেক সময় তারা মসজিদে যাওয়ার সময় বিভিন্ন জিনিসপত্র সঙ্গে করে নিয়ে যান। নিরাপত্তা ও অন্যান্য কারণে জিনিসপত্র নিয়ে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি নেই। তাই তাদের মূল্যবান ও যেকোনে জিনিস হেফাজতের জন্য মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর প্রেসিডেন্সি কর্তৃপক্ষ দুই হাজার এক শ লকারের ব্যবস্থা করেছে। তবে এই সেবা দিতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কর্তৃপক্ষ নামমাত্র ও সৌজন্যতামূলক মূল্য নির্ধারণ করেছে।
মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় নির্ধারিত লকার
লকারব্যবস্থায় ১৫৫ জন্য কর্মী
মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গন পর্যবেক্ষণ বিভাগের পরিচালক প্রফেসর জাকি বিন ঘালি আল-হুজালি বলেন, প্রাঙ্গন দেখভালের বিষয়টি মসজিদুল হারামের প্রেসিডেন্সি বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। এতে চার শিফটে ১৫৫ জন কর্মী দায়িত্ব পালন করেন। তারা সব ধরনের বিষয়াদি লক্ষ্য রাখেন। সেখানে কেনাকাটা, ভিক্ষাবৃত্তি, চুল কাটা, অনুমতি ছাড়া ভাড়াটে হুইলচেয়ার ব্যবহার ছাড়াও আরো অন্যান্য বিষয়াদি তৈরি হচ্ছে কিনা সেদিকে তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। নেতিবাচক কোনো কিছু নজরে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন।
মসজিদুল হারামের প্রাঙ্গনে স্থাপিত লকারের সেবা নিচ্ছেন এক ওমরাহ পালনার্থী
সাত স্থানে ২১শ’ লকার
মসজিদুল হারামের সাতটি স্থানে লকারগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এগুলোর নিরাপত্তা ও নজরদারি দিতে ক্যামেরাও স্থাপন করা হয়েছে। সাত স্থানের প্রত্যেকটিতে আটটি করে মেশিন রয়েছে। প্রতিটি মেশিনে ২৮ থেকে ৩৪টি লকার রয়েছে। সেগুলোতে ২৬০ থেকে ৩০০টি করে বক্স রয়েছে। প্রতিটি মেশিনের কাছে দুইজন নিরাপত্তা রক্ষী ও সুপারভাইজার রয়েছে।
মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় সারি সারি লকার
বক্সগুলোতে মুসল্লিদের জিনিসপত্র তিনটি শিফটে যতেœর সঙ্গে রক্ষাণাবেক্ষন করা হয়। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে সবগুলোর যথাযথ দেখাশোনা করা হয়।
নথি সংরক্ষণে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা
মসজিদুল হারামের আঙিনায় অবস্থিত লকারের সাতটি নির্দিষ্ট স্থানে মুসল্লিদের জিনিসপত্র হেফাজতের জন্য স্বয়ংক্রিয় নথিভুক্তের ব্যবস্থা রয়েছে। এতে মুসল্লি নিজেই জিনিসপত্র লকারে রাখার আগে নথিভুক্ত করতে পারেন। স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রকাশিত নম্বর গ্রহণ করেন এবং নম্বরটি দেখিয়ে নথিভুক্ত জিনিসপত্র ফেরত নিয়ে যান।
মসজিদুল হারামে মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় সারি সারি লকার
নিরাপত্তাব্যবস্থা
ওমরাহ ও হজ পালনার্থীর কিংবা মুসল্লির লাগেজ দীর্ঘদিন থেকে গেলে, বাক্সটি পাঁচ দিন পর নীল রঙের সংকেত দেয়। এতে ইঙ্গিত করা হয় যে, বাক্সটি বন্ধ করার পর থেকে আর খোলা হয়নি। তখন সেখানকার নির্ধারিত বিশেষ কমিটি আসবাবসামগ্রীগুলো সরিয়ে নির্দিষ্ট অন্য বক্সে রাখেন এবং মালিক ফিরে আসা পর্যন্ত নিপুণতার সঙ্গে রক্ষা করেন।

রাসুল (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সবচেয়ে ভালো মানুষ
                                  

 আমাদের প্রিয়নবী মুহাম্মাদ (সা.) সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ; এটা সর্বজনবিদিত। আর সাধারণত জাঁতি হিসেবে মুসলমানরা সবচেয়ে ভালো মানুষ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যই তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে। তোমরা সৎকাজের আদেশ করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ইমান আনবে।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১১০)
তবে প্রিয় নবী (সা.) বিভিন্ন প্রসঙ্গে কিছু বিশেষ গুণের অধিকারী মানুষকেও সবচেয়ে ভালো মানুষ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ওইসব গুণ অর্জনের লক্ষ্যে আমাদেরও সেইসব ভালো মানুষদের চেনে রাখা উচিত। নিম্নে তাদের সম্পর্কে কয়েকটি হাদিস বিধৃত হলো-
এক. সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর সান্নিধ্য ও সাহচর্য লাভের চেয়ে বড় সৌভাগ্যের বিষয় আর কী হতে পারে? সেজন্য এই শ্রেষ্ঠ উম্মতের শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম হলেন সাহাবায়ে কেরাম। তাদের পর তাবেঈন এবং তবে তাবেঈন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো হলো আমার যুগের লোকজন। এরপর তাদের পরবর্তী লোকজন এবং তারপর ওদের পরবর্তী লোকজন।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২৫৩৩)
দুই. উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমাদের মধ্যে সেই সবচেয়ে ভালো; যে কোরআন শিখে এবং শেখায়।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৪৭৩৯)
তিন. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে মানুষের উপকার করে, সেই সবচেয়ে ভালো মানুষ।’ (সুনানে দারাকুতনি)
চার. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বল, ‘তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বাধিক উত্তম, যে তার পরিবারের নিকট ভালো। বস্তুত তোমাদের মধ্যে আমি আমার পরিবারের জন্য সবচেয়ে ভালো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদি নং: ১৯৭৭)
অর্থাৎ পরিবারের অধিকার আদায় করে এবং যথাযোগ্য পন্থায় তাদের সঙ্গে ব্যবহার করে।
পাঁচ. আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘সঙ্গী হিসেবে আল্লাহ তায়ালার নিকট সেই উত্তম; যে নিজ সঙ্গীদের কাছে ভালো এবং প্রতিবেশী হিসেবে আল্লাহ তায়ালার নিকট সেই শ্রেষ্ঠ; যে আপন প্রতিবেশীর কাছে ভালো।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৪৪)
অর্থাৎ তাদের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে ত্রুটি করে না এবং তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে থাকে।
ছয়. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘ইসলামের বিবেচনায় তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক উত্তম ব্যক্তি সেই; যে সুন্দর চরিত্রের অধিকারী। যখন তাদের মাঝে দ্বীনের জ্ঞান বিদ্যমান থাকে।’ (আল আদাবুল মুফরাদ; ইমাম বোখারি, হাদিস নং: ২৮৫)
সাত. আবু বাকরাহ (রা.) বলেন, জনৈক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.) এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, সবচেয়ে ভালো (সৌভাগ্যবান) মানুষ কে? রাসুল (সা.) বলেন, যে দীর্ঘ জীবন লাভ করে এবং পুণ্যকাজ করে। ওই সাহাবি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে সবচেয়ে খারাপ মানুষ কে? রাসুল (সা.) বলেন, যে দীর্ঘ জীবন পায়, আর মন্দকাজ করে যায়। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং: ২৩২৯)
আট. ইরবাজ ইবনে সারিয়া (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) এর নিকট বসা ছিলাম। ইত্যবসরে জনৈক বেদুইন এসে নবীজিকে বলল, আপনি আমার পাওনা উটের ঋণ পরিশোধ করুন! রাসুল (সা.) তাকে প্রাপ্তবয়স্ক একটি উট (যার মূল্যমান বেশি) দিয়ে দিলেন। লোকটি বলে উঠলো, আমি তো আপনাকে কমবয়সী উট (যার মূল্যমান কম) দিয়েছিলাম! প্রতিউত্তরে রাসুল (সা.) বলেন, লোকদের মধ্যে সেই সবচেয়ে ভালো; যে ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ভালো। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ২২৮৬)
অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবহার দেখায় এবং যা ধার করেছিলো সাধ্যমত তার চেয়ে ভালো কিছু পরিশোধ করে।

 

নিউজিল্যান্ডের রেডিও-টেলিভিশন আযান সম্প্রচার আজ
                                  

 নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার এক সপ্তাহ পূর্ণ হবে আজ। সেদিন নিউজিল্যান্ডের সরকারি বেতার ও টেলিভিশনে জুমার নামাজের আযান সরাসরি সম্প্রচার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে এমনটা করা হচ্ছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে।
পাশাপাশি নিহতদের স্মরণে ওইদিন দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে, ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন। সংবাদমাধ্যম ‘নিউজিল্যান্ড হ্যারাল্ড’ খবরটি জানিয়েছে।
জানা গেছে, কোনো নৃশংস ঘটনার পর নিউজিল্যান্ডে সাধারণত এক মিনিটের নীরবতা পালন করা হয়ে থাকে। তাবে ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে ভয়াবহ ও বর্বরোচিত হামলার কারণে এবার দুই মিনিটের নীরবতা পালন করা হবে।
এছাড়াও মঙ্গলবার ভয়াবহ এই ঘটনার পর প্রথমবারের মতো অধিবেশন বসেছে নিউজিল্যান্ড সংসদে। কিন্তু দেশীয় নিয়মে ভিন্নতা এনে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সংসদ অধিবেশন শুরু করা হয়।
এর আগে মর্মান্তিক এ সন্ত্রাসী কর্মেকা-ের পর প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা শোকাবিদ্ধ হৃদয়ে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, সহমর্মিতা জানাতে তিনি কালো পোশাকের সঙ্গে হিজাবের মতো করে মাথায় কালো ওড়না জড়িয়েছেন। তার চোখ দুইটি অশ্রু ছলোছলো। এছাড়াও সহানুভূতি প্রকাশমূলক বক্তব্যের শুরুতে তাকে ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলতে দেখা গেছে।
শুক্রবার ক্রাইস্টচার্চে জুমার নামাজ শুরুর ঠিক ১০ মিনিট পর অন্তত দুই বন্দুকধারী দু’টি মসজিদে গিয়ে সেজদারত মুসল্লিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। উভয় মসজিদেই তখন অন্তত ৩শ’ মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।হামলাকারী দু’জন সামরিক পোশাক পরে মসজিদ দু’টিতে ঢোকে। এরপর স্বয়ংক্রিয় রাইফেল তাক করে নির্বিচারে গুলি করতে থাকে। একজন হামলাকারী তার মাথায় ক্যামেরা স্থাপন করে তা লাইভস্ট্রিম করে। হামলার ভয়াবহতা ভিডিও গেমসের চেয়েও বর্বরোচিত দেখা গেছে। হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৮) অস্ট্রেলিয়ান বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের মৌলবাদী মানসিকতার লোক ছিল বলেও জানা গেছে।
শনিবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে কারাগারের সাদা শার্ট এবং হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে হাজির করা হলে কাঠগড়ায় ব্রেন্টন হাতের আঙুল দিয়ে একটি চিহ্ন দেখিয়েছেন, যা ‘ডযরঃব ংঁঢ়ৎবসধপরংঃ ড়ৎ ঢ়ড়বিৎ- শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ব’ বর্ণবাদের প্রতীক বলে জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দিয়ে শনিবার (১৬ মার্চ) স্থানীয় সময় সকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। তখন আদালত আত্মপক্ষ সমর্থনে আনার জন্য কোনো আবেদন ছাড়াই পুলিশের হেফাজতে ব্রেন্টনকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। একইসঙ্গে মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামি ০৫ এপ্রিল। এ দিন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চ আদালতে তাকে হাজির করা হবে।

 

বিবিচিনি শাহি মসজিদ
                                  

সবুজে আবৃত চল্লিশ ফুট উঁচু এক টিলা। এর ওপর দাঁড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক বিবিচিনি শাহি মসজিদ। বরগুনার এই মসজিদটি বয়স পেরিয়েছে প্রায় সাড়ে তিন শ বছর। প্রাচীনতার সাক্ষী এই মসজিদটিতে মোগল নির্মাণশৈলী ও স্থাপত্যরীতির ছাপ দেদীপ্যমান।
মসজিদের আশপাশের পরিবেশ-প্রকৃতি হৃদয়ছোঁয়া। দক্ষিণাঞ্চলের ইসলাম প্রচারের কেন্দ্র হিসেবে অবহিত করা হয় এ মসজিদকে। বরগুনার বেতাগী উপজেলা সদর---সেখান থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে বিবিচিনি ইউনিয়ন। সেখানেই অবস্থিত এই মসজিদটি। জানা গেছে, মসজিদটি দেখতে বছরজুড়ে পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এখানে সমাগম করেন।
কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম ঐতিহাসিক প্রাচীন এই মসজিদটি অনেকদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংস্কার পাচ্ছে না। রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে ব্যাপক অবহেলা। ফলে মসজিদটি প্রাচীন সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
নির্মাণকালের সাত-সতেরো
ইতিহাস থেকে জানা যায়, হজরত শাহ নেয়ামত উল্লাহ নামের এক সাধক ছিলেন। ষোড়শ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ধর্ম প্রচারের জন্য তিনি পারস্য থেকে দিল্লিতে আসেন। সে সময়ে মোগল স¤্রাট শাহজাহানের ছেলে বঙ্গ দেশের সুবাদার শাহ সুজা এই মহান সাধকের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। এরপর তিন-চার বছর কেটে যায় তার দিল্লিতে। কিন্তু শাহ সুজার আগ্রহে ১৬৫৯ সালে কয়েকজন শিষ্যকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বেতাগীর এই গ্রামে আসেন। শাহ সুজার অনুরোধেই এই গ্রামে তিনি এক গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদ নির্মাণ করেন।
নির্মাণবৈশিষ্ট্য ও অন্যান্য
মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৩ ফুট, প্রস্থ ৩৩ ফুট। দেয়ালগুলো ছয় ফুট চওড়া। উচ্চতা প্রায় ২৫ ফুট। উত্তর ও দক্ষিণ পাশে তিনটি করে খিলান আকৃতির প্রবেশপথ রয়েছে। তবে মূল প্রবেশদ্বার একটি। ইট-গাঁথুনি ধূসর বর্ণের। ইটের দৈর্ঘ্য ১২ ইঞ্চি, প্রস্থ ১০ ইঞ্চি এবং চওড়া ২ ইঞ্চি। ইদানিংকালে এ ধরনের আকৃতির ইট নিতান্তই অলীক ও আলাদা।
মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের ওঠানামার জন্য মসজিদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে সিঁড়ি রয়েছে। দক্ষিণ পাশের সিঁড়িটি ৪৮ ফুট (২১ ধাপবিশিষ্ট) দীর্ঘ এবং পূর্ব পাশেরটি ৪৬ ফুট (২৫ ধাপবিশিষ্ট) লম্বা। মসজিদে আসা-যাওয়ার একমাত্র সড়কটি বহুদিন ধরে ব্যবহারের অনুপযোগী। পূর্ব সিঁড়িটির অবস্থাও নাজুক। মসজিদের প্রবেশদ্বারের মূল ফটক সংস্কার করা হলেও প্রবেশপথ এখনো অপরিসর। অনেক সময় মুসল্লি ও পর্যটকদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় এর কারণে।
মসজিদটিতে যাওয়া-আসার জন্য যে সিঁড়ি রয়েছে, তাও দেবে গেছে। এতে ওঠানামায় মুসল্লি ও পর্যটকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। ছবি: সংগৃহীত
মসজিদের পাশের কবর
বিবিচিনি মসজিদের পাশে তিনটি কবর রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, কবরগুলো শাহ নেয়ামত উল্লাহ, তার দুই মেয়ে চিনিবিবি ও ইছাবিবির। স¤্রাট আওরঙ্গজেবের রাজত্বকালে ১৭০০ সালে শাহ নেয়ামত উল্লাহ ইন্তেকাল করেন।
অসম্পূর্ণ সংস্কার ও অবহেলিত রক্ষণাবেক্ষণ
ঐতিহ্যের সাক্ষী হিসেবে টিকে রয়েছে এই শৈল্পিক মসজিদ-স্থাপত্য। দীর্ঘদিন অরক্ষিত ও জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকার পর প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর এটি উদ্ধার করে। ১৯৮৫ সালে মসজিদটির দেয়ালের কিছুকিছু অংশের পলেস্তারা খসে যায়। তখন উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে মেরামত করা হয়। এরপর ১৯৯২ সালে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে ঐতিহাসিক নিদর্শনের তালিকাভুক্ত করে। মসজিদটি দেখাশোনার জন্য প্রতœতত্ত্ব বিভাগ একজন অস্থায়ী তত্ত্বাবধায়কও নিয়োগ করে।
পরবর্তীতে কিছুটা সংস্কারকাজ করা হয়। কিন্তু তাতে রয়েছে অযতœ আর অবহেলার ছাপ। মসজিদের পুরনো কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে হুবুহু মিল রেখে এ সংস্কার করা হয়। মসজিদের ভেতরে অবাধে বাতাস চলাচলের পথগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়। কোনো রকম করে বৈদ্যুতিক বাতি ও পাখা স্থাপন করা হয়।
কিছুটা সংস্কারকাজ হলেও তাতে রয়েছে অযতœ আর অবহেলার ছাপ।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে, পরবর্তীকালে ১৯৯৩ সালে মসজিদের আরো সৌন্দর্য বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ ও সংস্কারের জন্য প্রতœতত্ত্ব বিভাগ এক কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিলেও আজও তা আলোর মুখ দেখেনি।
মুসল্লি ও পর্যটকদের দুর্ভোগ
দীর্ঘদিন শোচনীয় অবস্থায় রয়েছে মসজিদের সামনের রাস্তাটি। বিশুদ্ধ পানি, অজু ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরা বিভিন্ন সমস্যা ও অসুবিধায় পড়েন। এছাড়াও মসজিদের টিলার চারপাশের মাটি কেটে সে জমিতে চাষাবাদ করছে এলাকার কিছু লোকজন। এতে মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
মসজিদটিতে যাওয়া-আসার জন্য যে সিঁড়ি রয়েছে, তাও দেবে গেছে। এতে ওঠানামায় মুসল্লি ও পর্যটকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। অন্যদিকে পর্যটকরা থাকার জন্য ডাকবাংলো বা এ ধরনের কিছু নেই। তবু পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে প্রায় সময়।
যেভাবে যাওয়া যায়
বরগুনা থেকে বাসযোগে বেতাগি। এরপর মোটরসাইকেল অথবা রিক্সাযোগে গন্তব্যস্থল। বরিশাল থেকে বাস যোগেও সরাসরি এই দর্শনীয় স্থানে যাওয়া যায়।

 

সময় মতো ঋণ ও অন্যের হক আদায় করুন
                                  

ঋণ ও অন্যের অধিকার আদায় ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দুইটি বিধান। তাই অপর মুসলমানের প্রত্যেকটি অধিকার যথাযথ পালন করতে হবে। ঋণ নিলে তা নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করে দেওয়া অত্যাবশ্যক। লেনদেন বা ঋণ বিষয়ে ইসলাম আমাদের বারেবারে সতর্ক করেছে। কোনো মানুষের ধন-সম্পদ অবৈধ পন্থায় ভোগ না করতেও সতর্ক করেছে। অন্যের প্রাপ্য আদায় করে দেওয়া এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করা ইবাদতও বটে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের সম্পদ ভোগ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)
একজন মুসলমানের ওপর অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য হলো, অন্যের সকল হক-অধিকার পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রদান করা। পাশাপাশি সে ঋণ ও অধিকার নিয়ে খামখেয়ালি বা গড়িমসি, অনাধিকার চর্চা করা এবং প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন না করা। রাসুল (সা.) বলেন, ‘ধণী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) গড়িমসি করা জুলুম।’ (বুখারি ও মুসলিম শরিফ)
ধনী-সামর্থ্যবান ব্যক্তি গ্রহনযোগ্য কারণ ছাড়া ঋণ আদায়ে অবহেলা করা হারাম। এটি প্রতিপক্ষের প্রতি অন্যায়। এমন কার্যকলাপের কারণে একালে ও পরকালে লজ্জিত হতে হবে।
ইসলাম ঋণ ও লেনদেনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। অনেক বড় মান-মর্যাদা দিয়েছ। একজন ফিকহ শাস্ত্রজ্ঞ এটিকে ‘দ্বীনের অর্ধেক’ বলেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) রাসুল (সা.) সম্পর্কে বর্ণনা করেন, ঋণগ্রস্ত মৃত ব্যক্তির লাশ (জানাজার জন্য) হাজির করা হলে রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করতেন, ‘সে কি অপরিশোধিত কোনো ঋণ রেখে গেছে? যদি বলা হতো, তিনি পরিশোধ করে গেছেন, তাহলে তিনি তার (জানাজা) নামাজ পড়াতেন। অন্যথায় বলতেন, তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ে নাও।’ (বুখারি ও মুসলিম)
আমাদের মাঝে এমনও আছে যারা ঋণ নিয়ে খুব উদাস মনোভাব পোষণ করেন।ঋণদাতার অধিকারের প্রতিও সজাগ দৃষ্টি রাখে না। রাসুল (স.) বলেন, ‘আল্লাহর রাস্তায় প্রাণ উৎসর্গকারী শহিদের ঋণ ব্যতিত তার অন্য সব গুনাহ ক্ষমা করা হবে।’
হাশরের ময়দানে ঋণদাতাকে তার প্রতিপক্ষের নেক আমল দিয়ে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যের প্রতি অন্যায়-নিপীড়ন করেছে বা কারো অধিকার হরণ করেছে, সে অর্থ-কড়ি দিয়ে তা পরিশোধের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আগে যেন মিটিয়ে দেয়, অন্যথায় তার প্রতিদান হিসেবে প্রতিপক্ষের নেক আমল ঋণদাতাকে দেয়া হবে, এমনকি তার কাছে ঋণ-সমপরিমান নেক আমল না থেকে থাকে, তবে ঋণদাতার বদ আমল প্রতিপক্ষের ঘাড়ে তুলে দেয়া হবে।’ (বুখারি শরিফ)
অন্য মুসলমান ভাই থেকে ঋণ গ্রহণকালে তা যথাযথ সময়ে পরিশোধের মনোভাব তৈরি করতে হবে। লেনদেন প্রদানে শুদ্ধ ও সুন্দর নিয়্যত থাকবে। হৃদয়ে সুস্পষ্ট সংকল্প করতে হবে। এর দ্বারা আল্লাহ তার জন্য পরিশোধের পথ-পাথেয় যোগাবেন। সকল বাধা-বিপত্তি দূর করে দেবেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ গ্রহণ করে এবং তা আদায়ের পূর্ণ ইচ্ছে রাখে; আল্লাহ তায়ালা তার পক্ষ থেকে তা আদায়ের ব্যবস্থা করেন। আর যে তা গ্রহণ করে বিনাশের ইচ্ছে করে; আল্লাহ তায়ালা তাকে ধ্বংস করে দেন।’ (বোখারি)
অন্য দিকে আল্লাহ তাআলা ঋণদাতাকে তার প্রতিপক্ষের প্রতি সদয় হতে বলেছেন। ইচ্ছে থাকার পরও ঋণ প্রদানে অক্ষম হলে তাকে সময় দিতে হবে। ‘যদি ঋণগ্রহীতা অভাবগ্রস্ত হয়, তবে তার স্বচ্ছলতা আসা পর্যন্ত সময় দেওয়া উচিত। আর যদি ক্ষমা করে দাও, তবে তা খুবই উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৮০)
ঋণ গ্রহণের পর কোনো বিপদাপদে মুখোমুখি হয়ে যদি কেউ নিজ দুর্বলতা অবলীলায় স্বীকার করে। তার ঋণ মাফ করার প্রত্যর্পণের দায়িত্ব নিয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি মানুষদের ঋণ দিতেন, পরে যখন ঋণ গ্রহীতাকে অপারগ দেখতেন, তিনি তার ছেলেদের ডেকে বলে দিতেন, অমুক ব্যক্তির কাছে দেনা দাবি করো না। হয়তো এর মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের মাফ করে দিবেন। পরে আল্লাহ তাকে মাফ করে দিয়েছেন।’ (বুখারি ও মুসলিম শরিফ)
ঋণ আদায়ে অক্ষম ব্যক্তির প্রতি করুণা-অনুকম্পা করার ধরুন আল্লাহর রহমতের অংশীদার হওয়া যায়। এমন বান্দাকে আল্লাহ তাআলা তাকে মহান প্রতিদানে ভূষিত করবেন। পবিত্র কোরআনে এই মর্মে আয়াতও রয়েছে।
তাই আসুন, অন্যের ঋণ আদায়ে সজাগ হই। অপরের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকি নিরন্তর। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দিন।

আমিন।

মসজিদে নববীর খুতবা

এবার সাইকেল চালিয়ে হজযাত্রায় চার কেনিয়ান
                                  

সাইকেল চালিয়ে হজে যাওয়ার চেষ্টা ইদানীং বাড়ছে। গত বছর নয়জন ব্রিটিশ নাগরিক এভাবে ইংল্যান্ড থেকে সৌদি গিয়ে পবিত্র হজব্রত পালন করেন। ইন্দোনেশীয় একটি পরিবারও হজের উদ্দেশ্যে সাইকেলযাত্রা শুরু করেছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে। সে ধারাবাহিকতায় চার কেনিয়ান নাগরিকও সাইকেল চালিয়ে হজের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছেন।
সাইকেলে হজযাত্রায় প্রত্যাশী দলের সদস্যদের প্রত্যেকেই পুরুষ। তারা হলেন মোহাম্মদ জহির (দলপতি), ওসমান ইদরিসা, মোহাম্মদ সালিম ও আনোয়ার মানসুর।
কেনিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে তারা ইথিওপিয়া ও উত্তর সুদান অতিক্রম করবেন। এরপর ফেরিতে করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে সৌদির জেদ্দা বন্দরে পৌঁছবেন। সেখান থেকে তারা পবিত্র হজ পালনে মক্কায় পৌঁছবেন।
তাদের আশা, দৈনিক ১০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রমের মাধ্যমে তারা ৪৫ দিনের ভেতর মক্কায় গিয়ে পৌঁছুতে পারবেন।
তাদের সফরের সার্বিক তথ্য জানাতে তারা ‘পেডাল টু হজ’ নামে একটি ওয়েবসাইট খুলেছেন। সেখানে তারা তাদের কর্মপরিধি, যাত্রালক্ষ্য ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য তথ্য সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। তাতে বলা হয়েছে, ‘পেডাল টু হজ’ গ্রুপে চারজন সাইক্লিস্ট রয়েছেন। কেনিয়াতে মৌলিক শিক্ষায় সামর্থ্য রাখে না, এমন শিশুদের শিক্ষার জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য তারা এভাবে হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
দলটি আশা করছে, সবকিছু ঠিক থাকলে জুনের ১০ তারিখে তারা কেনিয়া থেকে হজের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সে লক্ষ্যে তারা নিজেদের প্রস্তুতও করেছেন। টানা পঁয়তাল্লিশ দিন দীর্ঘ সাইকেল ভ্রমণ করে নিজেদের ঝালিয়ে নিয়েছেন। পাহাড়ি এলাকায় সাইকেল নিয়ে কসরত করে মোটামুটি প্রস্তুতি নিয়েছেন।
এই যাত্রায় তারা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে নির্মাণাধীন ‘আল-ফুরকান টাওয়ার’ প্রকল্পের জন্য তহবিল সংগ্রহ করবেন। এরপর অবশিষ্ট অর্থ দিয়ে তারা কেনিয়ার নামাঙ্গা ও মাইলি তিশায় ‘আল-ফুরকান ইনস্টিটিউট ইন কেনিয়া’ (এটিআই) পরিচালনার জন্য ভবণ নির্মাণ করবেন। সে জন্য তাদের প্রয়োজন আড়াই লাখ মার্কিন ডলার। তারা আশা করছেন, এ যাত্রায় তারা নির্দিষ্ট ও কাক্সিক্ষত অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত ‘আল-ফুরকান ইনস্টিটিউট’টি কেনিয়ার ধর্মীয় শিক্ষা ও জাগতিক শিক্ষার মিশেলে তৈরি যুগোপযোগী একটি শিক্ষানিকেতন। এখানে শিক্ষার্থীদের আবাসিক থাকার ব্যবস্থা এবং তাদের যাবতীয় খরচ বহন করার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় সব রকম সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে নির্মাণাধীন ‘আল-ফুরকান টাওয়ার’
আফ্রিকা থেকে সাইকেলযাত্রায় পবিত্র হজ পালনে রওনা হতে যাওয়া এটি প্রথম কাফেলা। কেনিয়ার নাইরোবি থেকে মক্কা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার মাইল পথ অতিক্রম করতে হবে তাদের। তারা গন্তব্যস্থল ও পথঘাটের মানচিত্র ইত্যাদিও সংগ্রহ করেছেন।
সাইকেলে হজযাত্রায় প্রত্যাশী চার কেনিয়ানের সংক্ষিপ্ত পরিচয়-
মোহাম্মদ জহির
তিনি ‘পেডাল টু হজ ২০১৯’র প্রতিষ্ঠাতা ও মাহাদুদ দাওয়াহ্ সংগঠনের সদস্য। কেনিয়ার মুম্বাসাতে জন্মগ্রহণ করলেও নাইরোবি বেড়ে ওঠেন এবং স্থায়ী নিবাস গড়ে তোলেন। এর আগে অনেক দাতব্য ইভেন্টের প্রতি তার সমর্থন ও সক্রীয়তা দেখা গেছে। তার সবচেয়ে বড় নিবেদন ও কর্ম হলো ‘আল-ফারুকান ইনস্টিটিউট’র অভাবগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বাত্মক সহায়তা। তিনি তার সাইক্লিং দক্ষতার ক্ষেত্রে হাশিম ‘জুজু’ ও কেনিয়ান প্রশিক্ষক আবদি ইউসুফের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
মোহাম্মদ সালিম
মুম্বাসায় জন্মগ্রহণকারী সালিম একজন ফুটবল খেলোয়াড় ও উৎসাহী সাঁতারু হিসেবে তার স্পোর্টিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার জন্য ‘পেডাল টু হজ ২০১৯’র প্রচারাভিযানের সময় তিনি পেশাদার সাইক্লিংয়ের সুইচ তৈরি করেন। পবিত্র হজযাত্রার আগে নির্ধারিত দীর্ঘ সড়কে সালিমের পারফর্ম অব্যাহত ছিল। তিনি তার বন্ধু মোহাম্মদ জহিরের অনুপ্রেরণায় এবং সাইক্লিং কোচ হাশিম ‘জুজু’র প্রশিক্ষণে এ যাত্রায় যেতে প্রবল উৎসাহী হয়ে ওঠেন।
ওসমান ইদরিসা দিন্দা
ওসমান ইদরিসা দিন্দা একজন পেশাদার বাইক মেকানিক। সাইক্লিংজগতে তিনি দীর্ঘ পনের বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন। সাইক্লিংয়ের মাধ্যমে স্বতঃস্ফুর্ত আত্মযতœ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা তৈরি হয় বলে তিনি এটি খুবই পছন্দ করেন। ওসমান তার দৃঢ়চেতা মনোভাব, পেশাদার কর্মনীতি ও আত্মিক ব্যবহারের মাধ্যমে দলের মনোভাব চাঙ্গা করতে সদা তৎপর।
আনোয়ার মানসুর
আনোয়ার মনসুরের জন্ম মুম্বাসায়। ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি সাইক্লিংয়ের পেশা গ্রহণ করেন। কারণ তিনি তরুণ সাঁতারুদের কোচ এবং স্থানীয় বান্দারি সুইমিং ক্লাবের কোচিং সহকারী হিসাবে পার্টটাইম চাকরিতে নিয়োগ হয়েছিলেন। বর্তমানে আনোয়ার পেশাগত ক্যারিয়ার হিসেবে সাইক্লিংয়ে যুক্ত রয়েছেন। তিনি ‘টিম আরবিক কেনিয়া’র অধীনে সাইক্লিং করছেন। ‘হজ পেডাল’র সঙ্গে হজ সম্পন্ন করা ও আল-ফুরকানের অভাবগ্রস্ত শিশুদের শিক্ষাকে সমর্থন করা তার সর্বোচ্চ লক্ষ্য।

ঘুষ গ্রহণের মামলায় নাজমুল হুদাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
                                  

যমুনা সেতুর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের মামলার তদন্তে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ে সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুদকের সহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি তার ধানমন্ডির বাসার ঠিকানায় তলবি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল বলে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছিলেন।
২০০৮ সালের ১৮ জুন প্রাক্তন যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদা ও তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট সিগমা হুদার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, যমুনা বহুমুখী সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মর্গানেট ওয়ান লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের কাছ থেকে ২০০৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১৯টি চেকের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। এ ঘটনায় রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলা করেন দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।
সম্প্রতি নাজমুল হুদা দম্পতির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের দেওয়া মামলায় স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে দুদকের আপিলে গত ৬ ডিসেম্বর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনানি শেষে এ সংক্রান্ত ওই আবেদন খারিজ করে দেন। এরপর রিভিউ আবেদনও তাদের আপিল খারিজ হয়ে যায়। রিভিউ আবেদন খারিজের আদেশের কপি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদকের চেয়ারম্যান ও নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়। এর ফলে ঘুষ গ্রহণের ওই মামলাটি তদন্তে আর কোনো বাধা নেই বলে জানায় দুদক।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ঘুষ গ্রহণ মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, যমুনা সেতুর পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মর্গানেট ওয়ান লিমিটেডকে নিযুক্ত করা হয়। যোগাযোগমন্ত্রী থাকার সময় নাজমুল হুদা ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মাসে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা তার স্ত্রীর মালিকানায় পরিচালিত ‘খবরের অন্তরালে’পত্রিকার হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বলেন। টাকা দেওয়া না হলে ওই প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি নিয়োগ বাতিল করে কালো তালিকাভুক্ত করার হুমকি দেওয়া হয়। নিরুপায় হয়ে ব্যাপক ব্যবসায়িক ক্ষতি বিবেচনা করে মাসিক ২৫ হাজার টাকা উৎকোচ প্রদানের প্রস্তাব করলে নাজমুদ হুদা দম্পতি তাতে রাজি হন।
পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মর্গানেট ওয়ান লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পরিচালকের কাছ থেকে ২০০৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ১৯টি চেকের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন।
এর আগে ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অপর এক মামলায় শেষ পর্যন্ত নাজমুল হুদার চার বছরের সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। ওই মামলায় ৬ জানুয়ারি তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেন।

আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক পরিধানে ইসলাম কী বলে?
                                  

সুন্দর ও মার্জিত পোশাক পরিধানের নির্দেশ প্রদান করেছে ইসলাম। এমন পোশাক পরিধান করা যাবে না, যা পরিধান করলেও মনে হবে না যে, তার শরীরে পোশাক নেই। আবার এমন পাতলা পোশাকও পরিধান করা যাবে না, যা পরিধারন করার পরও মানুষের শরীর অঙ্গগুলো দেখা যাবে।

এ কারণেই ইসলামে আঁটসাঁট তথা টাইট-ফিটিং ও পাতলা পোশাক পরিধান করা নিষেধ। আর তা যদি মেয়েদের ক্ষেত্রে হয় তবে তা তো একেবারেই হারাম তথা নিষিদ্ধ। কারণ মেয়েদের জন্য পর্দা পালন করা ফরজ ইবাদত।

আঁটসাঁট পোশাক পরিধানে ইসলামের নির্দেশনা

ইসলামে হিজাব তথা পর্দার প্রথম দিক হলো তা মেয়েদের সর্বাঙ্গ আবৃত করে রাখে। আর দ্বিতীয়ত মেয়েদের এ পোশাক হতে হবে অবশ্যই ঢিলেঢালা ও স্বাভাবিক। আঁটসাঁট কিংবা পাতলা কাপড় পরিধান করতে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন-
‘দুনিয়ার অনেক সুবসনা ও সজ্জিতা নারী আখেরাতে বসনহীনা (উলঙ্গ বলে বিবেচিত) হবে।’ (বুখারি, মুয়াত্তা, তিরমিজি)

অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

‘দুই শ্রেণীর দোজখবাসীকে আমি এখনো দেখিনি। ( অর্থাৎ পরবর্তী সময়ের সমাজে এদের দেখা যাবে)-
> এক শ্রেণী হলো- ওই সব নারী, যারা পোশাক পরিধান করেও উলঙ্গ। যারা নিজেরা পথচ্যুত এবং অন্যদেরকেও পথচ্যুত করবে। এদের মাথা হবে উটের পিঠের চুটির মতো ঢং করে বাঁকানো। এরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি জান্নাতের খুশবুও তারা পাবে না।
> দ্বিতীয় শ্রেণী হলো- ওই সব পুরুষ, যারা সমাজে দাপট দেখিয়ে চলে, তাদের হাতে থাকে বাঁকানো লাঠি বা আঘাত করার মতো হাতিয়ার। যা দিয়ে তারা মানুষকে মারধর করে বা কষ্ট দেয়।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)

প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উল্লেখিত হাদিস দু’টি থেকে এ কথা সুস্পষ্ট যে, পাতলা কিংবা আঁটসাঁট পোশাক পরিধান করা উলঙ্গতা ভিন্ন আর কিছুই নয়।

পাতলা ও আঁটসাঁট পোশাকে যেমন পর্দা পালনে অবহেলা করা থেকে সতর্ক করা হয়েছে। তেমনি এর ভয়াবহতা ও সামাজিক ক্ষতিও সুস্পষ্ট। আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক মানুষ বেহায়াপনায় জড়িয়ে তোলে। এ পোশাক পরিধানের এ আচরণ সমাজকেও কুলষিত করে তোলে। আর এ কারণেই আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক পরিধানকারীদের ভোগ করতে হবে কঠিন শাস্তি।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর নারী-পুরুষ সবাইকে আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক পরিধান করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। উভয়কে শালিন পোশাক পরিধানের পাশাপাশি পর্দা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ইবাদত কবুলে যেসব শর্ত
                                  

ইবাদত-বন্দেগি ও নেক আমলের সময় ইবাদত কবুলের শর্তগুলো অবশ্যই খেয়াল করা চাই। যদি কোনো একটি শর্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তাহলে ইবাদত কবুল হয় না।

ইবাদত কবুলের শর্তগুলো হলো :

নিয়ত শুদ্ধ করা
ইবাদতে মগ্ন হওয়ার আগে নিয়ত শুদ্ধ করতে হবে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কিয়ামতের দিন হবে, আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের বিচারের উদ্দেশে আবির্ভূত হবেন। তখন প্রতিটি জাঁতি ভয়ে নতজানু হয়ে পড়বে। বান্দাদের মধ্যে প্রথমে ডাকা হবে কোরআনের বাহক, আল্লাহর পথে শহীদ ও সম্পদশালী ব্যক্তিকে। ক্বারীর উদ্দেশে আল্লাহ বলবেন, আমি কি তোমাকে তা শিখায়নি, যা আমার রাসূলের ওপর নাজিল করেছিলাম? বলবে, জি, হে আমার রব! অল্লাহ তাআলা বলবেন, সুতরাং তুমি যা শিখেছো তা কী আমল করেছো? সে বলবে, আমি দিন-রাতের নানা প্রহরে নামাজে কোরআন তিলাওয়াত করেছি। অল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। ফেরেশতারাও তার উদ্দেশে বলবে, তুমি মিথ্যা বলেছো। তাকে লক্ষ্য করে অল্লাহ বলবেন, বরং তোমার অভিপ্রায় ছিল লোকেরা তোমাকে ক্বারী বলে ডাকবে। আর তা তো তোমাকে বলা হয়েছেই। ফলে তুমি দুনিয়াতেই তোমার প্রতিদান পেয়ে গেছো। তুমি দুনিয়াতেই তোমার প্রতিদান পেয়ে গেছো।’ (হাদিসের পরের অংশে রয়েছে, এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ২৩৮৬)

সুন্নত পদ্ধতিতে ইবাদত করা
আমল কবুল হওয়ার জন্য রাসুল (সা.) এর অনুকরণ ও অনুসরণ প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির মনগড়া বা বিদআতি পদ্ধতিতে ইবাদত করলে তা কবুল হয় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো বিধান তালাশ করে, কষ্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং পরকালেও সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৮৫)
এ বিষয়ে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে এমন ইবাদাত করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা পরিত্যাজ্য হিসাবে গণ্য হবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৪৫৯০)
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘এবং রাসুল তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর, আর যা থেকে সে তোমাদের নিষেধ করে তা থেকে বিরত হও।’ (সুরা হাশর, আয়াত :০৭)

শিরক মুক্ত থাকা
শিরক সকল ভাল আমল নষ্ট করে দেয়। কোন প্রকার শিরকের সাথে সম্পৃক্ত থাকা যাবে না। শিরকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আমল কবুল হয় না। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আপনার প্রতি এবং আপনার পূর্ববর্তীদের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে, যদি আল্লাহর শরীক স্থির করেন, তবে আপনার আমল নিষ্ফল হবে এবং আপনি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।” (সূরা জুমার, আয়াত : ৬৫)

হালাল উপার্জন করা
আমল কবুল হওয়ার জন্য হালাল উপার্জন শর্ত। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র। তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন। তিনি মুমিনদের সেই আদেশই দিয়েছেন, যে আদেশ তিনি দিয়েছিলেন রাসুলগণের।’
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ তোমরা পবিত্র বস্তু-সামগ্রী আহার কর, যেগুলো আমি তোমাদেরকে রুজি হিসেবে দান করেছি।’ অতঃপর রাসুল (সা.) এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন, যে দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলি-ধুসরিত ক্লান্ত-শ্রান্ত বদনে আকাশের দিকে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে প্রার্থনা করে ডাকছে : হে আমার প্রভু, হে আমার প্রভু অথচ সে যা খায় তা হারাম, যা পান করে তা হারাম, যা পরিধান করে তা হারাম এবং হারামের দ্বারা সে পুষ্টি অর্জন করে। বোলো তার প্রার্থনা কিভাবে কবুল হবে?’ (মুসলিম, হাদিস নং : ২৩৯৩)
আল্লাহ তাআলা আমলগুলো কবুলন করে নিন। আমাদের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিন।

 

দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন
                                  
বান্দা আল্লাহকে ডাকলে আল্লাহ তাআলা সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দেন। যারা তার কাছে দোয়া করে, তাদের প্রতি তিনি খুশি হন। যারা আল্লাহর কাছে দোয়া করে না, আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হন।
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর আমার বান্দা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে; আমি তো কাছেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৬)
অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও নীরবে। নিশ্চয়ই তিনি সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা আরাফ, আয়াত : ৫৫)
আল্লাহর চেয়ে উত্তম দাতা ও সাহায্যকারী আর কেউ নেই। একমাত্র তিনিই বান্দার সব অভাব-অভিযোগ পূরণ করতে পারেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর দয়া ও রহমত চাও। কেননা আল্লাহ তায়ালা চাইলে তিনি খুশি হন।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৫৭১)
আল্লাহ তাআলার রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। তিনিই অসহায়ের একমাত্র সহায়। সব বিপদাপদ থেকে রক্ষাকারী। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয়, যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভূত করে দেয়?’ (সুরা নমল : ৬২)।
অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা ভয় এবং আশা নিয়ে আল্লাহকে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।’ (সুরা আরাফ : ৫৬)
আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দোয়া মোমিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান এবং জমিনের নুর।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৪৬৫)
যারা আল্লাহকে ডাকে কিংবা আল্লাহর কাছে কিছু চায়, আল্লাহ তাদের হাতকে কখনও খালি ফেরত দেন না। সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার অনেক লজ্জা ও আত্মমর্যাদা আছে। সুতরাং যখন মানুষ চাওয়ার জন্য তাঁর কাছে দুই হাত উত্তোলন করে, তখন তিনি সেই হাত দুটিকে ব্যর্থ ও খালি ফেরত দিতে লজ্জা বোধ করেন।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৩২১)
 
দোয়ার মাধ্যমে সম্মান বৃদ্ধি পায়
আল্লাহর কাছে চাওয়ার উত্তম পদ্ধতি হলো দোয়া করা। দোয়ার মাধ্যমে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া অপেক্ষা কোনো জিনিসই অধিক ফজিলত ও সম্মানের নেই।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩৩৭)
মানুষের যা কিছু প্রয়োজন, তা আল্লাহর কাছেই চাইতে হবে। তবে একে অপরের কাছে দোয়া চাইতে কোনো নিষেধ নেই। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি আমার বান্দার সঙ্গে তেমন ব্যবহার করি, আমার প্রতি সে যেমন ধারণা রাখে আর সে যখন আমাকে ডাকে, তখন আমি তার সঙ্গেই থাকি।’ (মুসলিম, হাদিস নং : ৬৮২৯)
 
দোয়া করার আগে করণীয়
হালাল খাবার খাওয়া, দোয়া করার আগে পাকপবিত্র হওয়া, নিয়ত ঠিক করা, আদবের সঙ্গে বসা, হারাম জিনিস বর্জন করা জরুরি।
 
দোয়া কবুলের বিশেষ সময়
দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হলো জুমার রাত, আরাফাতের দিন, ইফতারের আগ মুহূর্ত, বাইতুল্লাহ তাওয়াফের সময়, শেষ রাতে তাহাজ্জুদের পর, শবেকদরের রাতে ইত্যাদি। আল্লাহ কবুল করেন বাবা-মা, শিক্ষক, মুসাফির, বুজুর্গ, মজলুম ব্যক্তি ইত্যাদির দোয়া দ্রুত কবুল করেন।
 
 
 
 
অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয়া হারাম
                                  

সভ্য মানুষ অন্যকে গালি দেয় না। অশ্রাব্য ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলে না। ক্রোধে অগ্নিশর্মা হলেও মার্জিত শব্দ ব্যবহার করে। ভদ্র ও সংযতভাবে শোকজ করে। কিন্তু কিছু মানুষ রাগের অতিশয্যে হুঁশ-জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। অন্যকে অশ্লীল ও শ্রুতিকটূ বাক্যবাণে নাজেহাল করে। গাল-মন্দ করে ভাবমূর্তি নষ্ট করে।
ইসলামে অন্যকে গালি দেয়া সম্পূর্ণ হারাম। যেকোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেয়ার অনুমতি নেই। হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয়।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ এবং স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে।(সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৮)
যার মধ্যে চারটি অভ্যাস আছে তাকে হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে। এগুলোর কোনো একটি পাওয়া গেলেও সে মুনাফিক হিসেবে ধর্তব্য হবে। হাদিসের আলোকে সেগুলো হলো, ‘যখন তাকে বিশ্বাস করা হয়, সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। কথা বললে, মিথ্যা বলে। অঙ্গিকার করলে ভঙ্গ করে এবং বিবাদ-বিতর্কে উপনীত হলে অন্যায় পথ অবলম্বন করে। (বুখারি, হাদিস নং : ৩৪; মুসলিম, হাদিস নং : ১০৬)
অন্য হাদিসে আছে, মুমিন কখনো দোষারোপকারী, অভিশাপদাতা, অশ্লীলভাষী ও গালিগালাজকারী হয় না। (তিরমিজি, হাদিস নং : ২০৪৩)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি [আল্লাহর অবাধ্যাচরণ] এবং তার সঙ্গে লড়াই ঝগড়া করা কুফরি।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৬০৪৫, ৭০৭৬; তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৩)
অন্য এক হাদিসে আছে, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মা’কে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের বাবা-মা’কে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালি-গালাজ করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালি-গালাজ করে থাকে। আর সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মা-কেও গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৯৭৩, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯০২)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার (কোনো মুসলিম) ভাইয়ের সম্মান নষ্ট করেছে অথবা কোনো বিষয়ে জুলুম করেছে, সে যেন আজই (দুনিয়াতে) তার কাছে (ক্ষমা চেয়ে) হালাল করে নেয়-ওইদিন আসার আগে, যেদিন দিনার ও দিরহাম কিছুই থাকবে না। তার যদি কোনো নেক আমল থাকে, তবে তার জুলুমের পরিমাণ অনুযায়ী তা থেকে নিয়ে নেওয়া হবে। আর যদি তার কোনো নেকি না থেকে, তবে তার সঙ্গীর পাপরাশি তার (জালেমের) ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ২৪৪৯, ৬৫৩৪; মুসনাদ আহমাদ, হাদিস নং: ৯৩৩২)
আল্লাহ তাআলা আমাদের গালমন্দ ও অশ্লীল বাক-বিনিময় থেকে রক্ষা করুন। মার্জিত ভাষা ও শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহারের তাওফিক দান করুন।

 

কেয়ামতের দিন নবি-রাসুলরাও কি ভীত থাকবেন?
                                  

মুক্তির জন্য শিরকমুক্ত ঈমান এবং নেক আমলের বিকল্প নেই। হাশরের ময়দানে শুধু মানুষই নয় বরং প্রত্যেক নবি-রাসুলও আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকবে। কেউ জানেন না সে দিন আল্লাহ তাআলা কার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করবেন।

যদিও হাদিসে এসেছে, হাশরের দিন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেজদা থেকে মাথা ওঠাতে বলবেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। অতঃপর তিনি বিচারকার্য শুরু করার সুপারিশ করবেন। আর সেই সঙ্গে মানুষের বিচারকার্য শুরু হবে।

সে (হাশরের) দিন যার আমলনামা ভালো হবে সে হবে সফল। হাশরের ময়দানে নবি-রাসুলরা কতটা ভয়াবহ সময় কাটাবে তা প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস থেকেই সুস্পষ্ট।

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন এ আয়াত নাজিল হয়-
وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ
(হে রাসুল!) আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দেরকে সতর্ক করুন।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৪)
তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন-
> হে কুরাইশ দল! (তোমরা আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতের ধারায়) নিজেদের আত্মাকে প্রস্তুত কর। আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো কাজে আসতে পারব না।
> হে বনি আবদে মানাফ! আমি আল্লাহর কাছে তোমাদের কোনো উপকার করতে পারব না।
> হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র আব্বাস! আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোনো উপকার করতে পারব না।
> হে রাসুলের ফুফু সাফিয়্যাহ! আমি আল্লাহর কাছে আপনার কোনো কাজে আসব না।
> হে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কন্যা ফাতেমা! তুমি আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আমি আল্লাহর কাছে তোমার কোনো কাজে আসব না।’ (বুখারি)

সতর্কবার্তা ঘোষণা করার পরেই আল্লাহ তাআলা পরবর্তী আয়াতে প্রিয়নবিকে এ কথাগুলোও ঘোষণা করার নির্দেশ দেন-

‘আর মুমিনদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে, তাদের প্রতি তোমার বাহুকে অবনত কর। তারপর যদি তারা তোমার অবাধ্য হয়, তাহলে বল, তোমরা যা কর, নিশ্চয় আমি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর তুমি মহাপরাক্রমশালী পরম দয়ালু (আল্লাহর) উপর তাওয়াক্কুল কর। যিনি তোমাকে দেখেন যখন তুমি (নামাজে) দণ্ডায়মান হও এবং সেজদাকারীদের মধ্যে তোমার ওঠা-বসা। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা মহাজ্ঞানী।’ (সুরা শুআরা : আয়াত ২১৫-২২০)

আল্লাহর একত্ববাদ ও ইবাদতে যদি প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নিজ বংশধর, চাচা, ফুফু ও কন্যার ব্যাপারে এমন ঘোষণা দেন তবে অন্যান্য মুসলমান কিভাবে আল্লাহর নাফরমানি করে প্রিয়নবির শাফায়াত লাভের আশা করতে পারে।

উল্লেখিত হাদিসের আলোকে এ কথা সুস্পষ্ট যে মানুষ যখন শিরকমুক্ত ঈমান ও ইবাদতে একনিষ্ঠ থাকবে। তার মুক্তি সহজ ও নিরাপদ হবে। পরকালে যে সব জিনিসের শাফায়াতের কথা ঘোষণা করা হয়েছে তাও লাভ হতে পারে।

শিরকমুক্ত ঈমান ও নেক আমল-ইবাদত ছাড়া প্রিয়নবির উম্মতের দোহাই দিয়ে পরকালে পার হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। যেখানে সব নবি-রাসুলরাও নাফসি নাফসি করবে।

সুতরাং কুরআনের ঘোষণা, জাহান্নামের আগুন থেকে তুমি নিজে বেঁচে থাক এবং তোমার পরিবার পরিজনকে বাঁচাও।’- এ নির্দেশের ওপর আমল করা জরুরি।

প্রিয়নবির প্রতি উম্মতের শিক্ষার জন্য যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক কর।’ সে আলোকে কুরআন-সুন্নাহর দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী আমল করা জরুরি। তবেই সম্ভব পরকালের সফলতা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে শিরকমুক্ত ঈমান লাভ ও তার ইবাদত-বন্দেগিতে নিজেদের নিয়োজিত করার তাওফিক দান করুন। হাশরের ময়দানে হাদিসে ঘোষিত সব ধরনের শাফায়াত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

মিন্টুকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ
                                  

ঋণ জালিয়াতি ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক সামছুল আলম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

এর আগে তিনি আজ (সোমবার) সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩১ অক্টোবর ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা মিন্টুকে তলব করে মাল্টিমোড গ্রুপের অ্যাকর টাওয়ারের অফিসের ঠিকানায় নোটিশ পাঠায় দুদক।

চিঠিতে বলা হয়, প্রকৃত তথ্য গোপন করে একাধিক ভুয়া অডিট প্রতিবেদন ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে জমা দিয়ে ঋণ নেয়া, শত শত কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি, বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তার সহযোগিতায় সন্দেহজনক লেনদেন ও বিদেশে অর্থপাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে নুনের ছিটা দিবেন না -আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী
                                  

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর ও ঢাকা মহানগর সভাপতি আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, গত রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাইয়্যাতুল উলইয়্যার শোকরানা মাহফিলে ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরের হৃদয়গ্রাহী ঘটনা নিয়ে গুরুতরভাবে সত্যের পরিপন্থী কিছু বক্তব্য এসেছে। যেটা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনাকাক্সিক্ষত ও সত্যের অপলাপ ছাড়া কিছু নয়। 
গতকাল সোমবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শোকরিয়া মাহফিলের অনুষ্ঠানে একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, “২০১৩ সালের ৫ই মে সম্পর্কে অনেক মিথ্যাচার করা হয়েছে। বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে এবং হচ্ছে। কেউ আজ পর্যন্ত হতাহতের সঠিক তালিকা দিতে পারেনি। ২/১ জনের নাম বলা হয়েছিল, আমরা ইনকোয়ারী করে দেখেছি, উনি বেঁচে আছেন, মাদরাসায় শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। সব অপপ্রচারই ভুল ও মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। তাই আমি বলব, এসব মিথ্যাচারে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। আমি মনে করি, যারা এসব মিথ্যাচার ছড়ায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত”।
আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, ৫ই মে’র শাপলা চত্বর ট্রাজেডির বাস্তবতা ও সত্য ঘটনাবিরোধী এমন বক্তব্যের আমি তীব্র প্রতিবাদ করছি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উলামায়ে কেরাম ও হেফাজত নেতৃবৃন্দের সমাবেশে এমন বক্তব্য তাদের সাথে তামাশার সামিল। এমন বক্তব্যে দেশের আলেম সমাজ, হেফাজত কর্মী ও কোটি কোটি তাওহিদী জনতা মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছেন।
আল্লামা কাসেমী আরো বলেন, ৫ই মে ঘুমন্ত, পরিশ্রান্ত ও অভুক্ত লাখ লাখ হেফাজত নেতাকর্মী ও আলেমের উপর শাপলা চত্বরে রাষ্ট্রীয় বাহিনী মারণাস্ত্র হাতে যেভাবে নিষ্ঠুরতার সাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, টেলিভিশন লাইভে দেশবাসীর পাশাপাশি সমগ্র বিশ্ববাসীও দেখেছে। সেদিন যে অসংখ্য উলামায়ে কেরাম ও হেফাজত কর্মী হতাহত হয়েছেন, তাজা রক্ত ঝরেছে, তার ভিডিও চিত্র ও অসংখ্য প্রমাণ এখনো বিদ্যমান আছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা নিহতদের তালিকাও প্রকাশ করেছে। দেশী-বিদেশী গণমাধ্যম এই নিয়ে অনেক তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। স্বজনহারা অসংখ্য পরিবারের এখনো কান্না থামেনি। পত্রিকায় প্রকাশিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেখা গেছে, ৫ই মে রাতে শাপলা চত্বরে দেড় লাখের অধিক গ্রেনেড, বুলেট, টিয়ার সেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর হেফাজত আমীর সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, শাপলা ট্রাজেডি নিয়ে বাস্তবতার বিপরীত এবং দেশের আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো বক্তব্য দিবেন না। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ই মে শাপলা চত্বরে আলেমদের উপরে যে নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতা চালানো হয়েছে, সেই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে আহত ও নিহতদের ক্ষতিপূরণ দেবেন এবং দোষীদের শাস্তি দেবেন এবং হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করবেন। আমরা তখন থেকেই এই দাবি জানিয়ে আসছি।

মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন সম্মেলন
                                  

বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনুল। কুরআনুল কারিম-এর ওপর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন। সাওত আল-উম্মাহর ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইউরোপের অন্যতম শিল্পোন্নত দেশ জার্মানি। দেশটির অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামী ২৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক কুরআন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ২৪ নভেম্বর থেকে ৩ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। এ সম্মেলনের থিম হলো ‘কুরআন অধ্যয়নে ঐতিহ্যগত ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি’।

কুরআনের আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশ থেকে গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন বলে সম্মেলন কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন।

এ সম্মেলনে কুরআন অধ্যয়ন সম্পর্কে মুসলিম ও অমুসলিম গবেষকরা তাদের মতামত তুলে ধরবেন। এ অনুষ্ঠনের মাধ্যমে কুরআনের ব্যাপক প্রচার ও প্রচারণা হবে বলেও মনে করেন তারা।

পেট ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন
                                  

খাওয়া-দাওয়া বা অনিয়ম কিংবা বদ হজমের কারণে অনেক সময় পেট ব্যথা হয়। পেট ব্যথা যে কারণেই হোক তা মানুষের জন্য মারাত্মক অস্বস্থির কারণ। তাই কোনো কারণে যদি মানুষের পেট ব্যথা হয় তবে তা থেকে মুক্ত থাকতে চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

চিকিৎসাগ্রহণ ছাড়াও পেট ব্যথাসহ যে কোনো ব্যথা থেকে মুক্ত থাকতে রয়েছে কুরআন ও হাদিসের কার্যকরী আমল। যে আমলে মানুষ পেট ব্যথাসহ যাবতীয় ব্যথা থেকে হেফাজত থাকা সম্ভব।

পেট ব্যথা থেকে মুক্ত থাকতে কুরআনুল কারিমের একটি আয়াত তুলে ধরা হলো। যা নিয়মিত পাঠ করলে পেট ব্যথা থেকে বেঁচে থাকা যায়। আর তাহলো-

 

উচ্চারণ : লা ফিহা গাওলুওঁ ওয়া লা হুম আনহা ইয়ুংযাফুন।’ (সুরা আস-সাফ্ফাত : আয়াত ৪৭)

 

আমল

যে ব্যক্তি পেটের ব্যথায় কাতর কিংবা পেট ব্যথায় আক্রান্ত হয়, সে ব্যক্তি প্রতিদিন প্রত্যেক নামাজের পর ৫ বার এ আয়াতটি পড়বে।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রতিদিন নিয়মিত এ ছোট্ট আমলটি করার মাধ্যমে পেট ব্যথা থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।


   Page 1 of 34
     ইসলামী জগত
মুসল্লিদের জিনিসপত্র রক্ষায় মসজিদুল হারামে ২১শ’ লকার
.............................................................................................
রাসুল (সা.)-এর দৃষ্টিতে যারা সবচেয়ে ভালো মানুষ
.............................................................................................
নিউজিল্যান্ডের রেডিও-টেলিভিশন আযান সম্প্রচার আজ
.............................................................................................
বিবিচিনি শাহি মসজিদ
.............................................................................................
সময় মতো ঋণ ও অন্যের হক আদায় করুন
.............................................................................................
এবার সাইকেল চালিয়ে হজযাত্রায় চার কেনিয়ান
.............................................................................................
ঘুষ গ্রহণের মামলায় নাজমুল হুদাকে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদ
.............................................................................................
আঁটসাঁট ও পাতলা পোশাক পরিধানে ইসলাম কী বলে?
.............................................................................................
ইবাদত কবুলে যেসব শর্ত
.............................................................................................
দোয়া করলে আল্লাহ খুশি হন
.............................................................................................
অশ্রাব্য ভাষায় গালি দেয়া হারাম
.............................................................................................
কেয়ামতের দিন নবি-রাসুলরাও কি ভীত থাকবেন?
.............................................................................................
মিন্টুকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ
.............................................................................................
আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতার ক্ষতবিক্ষত হৃদয়ে নুনের ছিটা দিবেন না -আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী
.............................................................................................
মুনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে কুরআন সম্মেলন
.............................................................................................
পেট ব্যথায় যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিলেন আইরিশ সঙ্গীতশিল্পী ও’কনোর
.............................................................................................
`ধীরে ধীরে ইসলাম ধর্মের প্রতি আমি দুর্বল হয়ে যাচ্ছিলাম`
.............................................................................................
চাশতের নামাজের ফজিলত
.............................................................................................
যে মসজিদ রিয়াদের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে
.............................................................................................
পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ইসলামের গুরুত্ব
.............................................................................................
কওমী সনদের স্বীকৃতি আর হেফাজত আন্দোলন এক নয় : আল্লামা শফী
.............................................................................................
মেগানের রান্নার বই মুসলিম নারীদের সঙ্গে
.............................................................................................
মায়ের অভ্যাসকে শ্রদ্ধা জানাতে...
.............................................................................................
৩২ বছরের সাধনায় কোরআন লিখলেন এক নারী
.............................................................................................
প্রথম সুদমুক্ত ব্যাংকিং সেবা চালু ইউরোপে
.............................................................................................
মুসলিম থিয়েটার চালু হলো কানাডায়
.............................................................................................
তাহাজ্জুদের নামাজ মর্যাদা বৃদ্ধি করে
.............................................................................................
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ছাতা মসজিদুল হারামের আঙ্গিনায় তৈরি
.............................................................................................
যেসব মুসলিম নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন
.............................................................................................
ইসলামি সংগ্রহ ইউরোপের বিখ্যাত ৫টি জাদুঘরে
.............................................................................................
মুচকি হাসিতে সদকার সওয়াব
.............................................................................................
পরাক্রমশালী মন্ত্রীও রেহাই পেলেন না
.............................................................................................
দেশে ফিরেছেন ১ লাখ ৬ হাজার হাজি
.............................................................................................
আল্লাহর প্রিয় দুটি বাক্য
.............................................................................................
আশুরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে ভূমিকম্প
.............................................................................................
এক মুসলিম লন্ডনে ৩০০ গৃহহীনকে খাবার দেন
.............................................................................................
প্রথম বিসমিল্লাহ লেখেন কে
.............................................................................................
৪৩ ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন সাড়ে ১৫ হাজার হাজি
.............................................................................................
মিজাবে রহমত
.............................................................................................
ইসলামের নির্দেশনা সড়কের নিরাপত্তায়
.............................................................................................
‘রুহ’ অমীমাংসিত বিষয়
.............................................................................................
রিপ্লেসমেন্ট হজযাত্রী বাড়ানোর দাবি হজ এজেন্সিগুলোর
.............................................................................................
সৌদি আরবে আরও ৩ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু
.............................................................................................
কী আছে কাবার ভেতরে?
.............................................................................................
হজযাত্রী রিপ্লেসমেন্টে কমবে বিমানের অবিক্রিত টিকিট
.............................................................................................
নিবন্ধনের পরেও হজে যেতে অপারগ ৫০০০ যাত্রী
.............................................................................................
হজ ফরজ হওয়ার শর্ত
.............................................................................................
‘বিমান এমডি প্রতি হজ ফ্লাইটে ১০০ আসন কম দেখিয়েছেন’
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]