বৃহস্পতিবার , ১৬ রবিঃ আউয়াল ১৪৪১ | ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে সময়ে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ

নামাজ প্রাপ্ত বয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। যেকোনো অবস্থায় নামাজ পড়তে হয়। অসুস্থ হলে শোয়া অবস্থায় নামাজ আদায়ের সুযোগ রেখেছে ইসলাম। তবে অনেক সময় নামাজ কিছু মুহূর্তের জন্য ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরন রয়েছে।

সেগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ-
♦ অবশ্যই নামাজ শরিয়ত সমর্থিত কোনো অপারগতা ছাড়া আদায়কারীর জন্য নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ নেই। (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩৩)
♦ আপন মা-বাবা ডেকে থাকলে, নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ আছে। (বুখারি, হাদিস: ৪/৪০৪)
♦ নামাজ আদায়কারী নামাজে থাকাকালীন যদি লক্ষ্য করেন, কোনো অন্ধ কূপ অথবা কোনো গর্তের যাচ্ছে এবং কূপে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৫)
♦ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি যদি কাউকে চুরি করতে দেখেন, তখন নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। তবে চুরির জিনিস নূন্যতম এক দিরহাম সমপরিমাণ মূল্যের হতে হবে। জিনিসটি নামাজ আদায়কারী অথবা অন্য কারো হলেও নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। (বুখারি, হাদিস : ৪/৪১২)
♦ কেউ ব্যক্তি নামাজ আদায় করছেন, এমন অবস্থায় যদি কোনো নির্যাতিত ব্যক্তি নামাজ আদায়কারীর প্রতি সাহায্যের আবেদন করে আওয়াজ করেন; আর নামাজ আদায়কারী যদি মনে করেন তাকে জুলুম-অত্যাচার থেকে বাঁচাতে পারবেন, তখন নামাজ ভেঙে দেওয়া আবশ্যক। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৫)
♦ সফররত ব্যক্তি যদি চোরের ভয়ে শঙ্কিত হন, তবে নামাজ বিলম্ব করা জায়েজ। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৩)
♦ অনুরূপভাবে ফিকাহবিদরা বলেন, সফররত ব্যক্তি নামাজে থাকাকালীন যদি যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন নামাজ ভেঙে দিতে পারবেন।

যে সময়ে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ
                                  

নামাজ প্রাপ্ত বয়স্ক ও মানসিকভাবে সুস্থ প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। যেকোনো অবস্থায় নামাজ পড়তে হয়। অসুস্থ হলে শোয়া অবস্থায় নামাজ আদায়ের সুযোগ রেখেছে ইসলাম। তবে অনেক সময় নামাজ কিছু মুহূর্তের জন্য ছেড়ে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরন রয়েছে।

সেগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ-
♦ অবশ্যই নামাজ শরিয়ত সমর্থিত কোনো অপারগতা ছাড়া আদায়কারীর জন্য নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ নেই। (সুরা মুহাম্মদ, আয়াত: ৩৩)
♦ আপন মা-বাবা ডেকে থাকলে, নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ আছে। (বুখারি, হাদিস: ৪/৪০৪)
♦ নামাজ আদায়কারী নামাজে থাকাকালীন যদি লক্ষ্য করেন, কোনো অন্ধ কূপ অথবা কোনো গর্তের যাচ্ছে এবং কূপে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাহলে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৫)
♦ নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি যদি কাউকে চুরি করতে দেখেন, তখন নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। তবে চুরির জিনিস নূন্যতম এক দিরহাম সমপরিমাণ মূল্যের হতে হবে। জিনিসটি নামাজ আদায়কারী অথবা অন্য কারো হলেও নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। (বুখারি, হাদিস : ৪/৪১২)
♦ কেউ ব্যক্তি নামাজ আদায় করছেন, এমন অবস্থায় যদি কোনো নির্যাতিত ব্যক্তি নামাজ আদায়কারীর প্রতি সাহায্যের আবেদন করে আওয়াজ করেন; আর নামাজ আদায়কারী যদি মনে করেন তাকে জুলুম-অত্যাচার থেকে বাঁচাতে পারবেন, তখন নামাজ ভেঙে দেওয়া আবশ্যক। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৩৫)
♦ সফররত ব্যক্তি যদি চোরের ভয়ে শঙ্কিত হন, তবে নামাজ বিলম্ব করা জায়েজ। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৩)
♦ অনুরূপভাবে ফিকাহবিদরা বলেন, সফররত ব্যক্তি নামাজে থাকাকালীন যদি যানবাহন ছেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন নামাজ ভেঙে দিতে পারবেন।

১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
                                  

বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার (৩০ অক্টোবর) থেকে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে। পাশাপাশি আগামি ১০ নভেম্বর রোববার সারাদেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হবে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মসচিব ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান। এক বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। সভায় ওয়াকফ প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ আবদুল হামিদ জমাদ্দার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মীর মোঃ নজরুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) মো. খলিলুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নুরুল ইসলাম, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক (প্রশাসন/অর্থ) মো. জহিরুল ইসলাম মিয়া, সিনিয়র উপ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. জসীম উদ্দিন, ঢাকা জেলার এডিসি (জেনারেল) মো. শাহিদুজ্জামান, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাহ মোঃ মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আবদুর রহমান, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মোঃ হারুন অর রশিদ,বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ নেয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১৪৪১ হিজরি সালের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়গুলো, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান হতে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, আজ ২৯ সফর ১৪৪১ হিজরি, ১৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ২৯ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। এমতাবস্থায়, আগামীকাল ১৪ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ, ৩০ অক্টোবর ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ বুধবার থেকে ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাস গণনা করা হবে।

শিশু নির্যাতন রোধে ইসলামের নির্দেশনা
                                  

প্রতি বছর বাংলাদেশে শিশু নির্যাতনের হার বাড়ছে। চলতি বছর গড়ে মাসিক শিশু নির্যাতনের হার ২০ শতাংশ বেড়েছে। এমনটাই জানিয়েছে শিশুবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা চাইল্ড রাইটস অ্যাডভোকেসি কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ (সিআরএসিবি)।


এবছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত গড়ে ৪৫৭ জন করে মোট ৩ হাজার ৬৫৩ শিশু বিভিন্ন রকম সহিংসতার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৩৮১ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়। এক বছরের ব্যবধানে মাসিক গড়ে শিশুসহিংসতা বেড়েছে ২০শতাংশ।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৬৯৭ শিশু। এ ছাড়া ধর্ষণচেষ্টার শিকার ১০৪ জন। অন্যদিকে এ সময়ের ভেতর যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ১৬১ শিশু। এ ছাড়া হত্যার শিকার ২৮৫, আত্মহত্যা ১৩৩, অপহরণের শিকার ১৪৫, নিখোঁজ ১০৪, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৯০, শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৯২ জন শিশু। এর বাইরেও পানিতে ডুবে নিহত হয়েছে ৩৯৫ শিশু। (বাংলানিউজ, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯)


শিশু নির্যাতন দমনে দেশের আইন
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় আইনে (নারী ও শিশু আইন ১৯৯৫; সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০) ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদ-। তবে তার প্রমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
শিশু নির্যাতন সম্পর্কে মহানবী (সা.)-এর ভাষ্য
ইসলাম শিশু ও নারী নির্যাতন দমনে শাস্তির নির্দেশনা আরও কঠোর। বিশেষত শিশু নির্যাতনকে ইসলাম জঘন্য ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা করেছে। কারণ শিশুর প্রতি স্নেহ-মমতা ও ভালোবাসাই ইসলামের মৌলিক শিক্ষা। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ছোটকে স্নেহ করে না সে আমার অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৯৪৩)
শিশুর সঙ্গে স্নেহশীল আচরণ ইসলামের মৌলিক সৌন্দর্য। নিজের সন্তানের সঙ্গে সুন্দর আচরণ না করায় মহানবী (সা.) এক পিতাকে ভর্ৎসনা করেন। শিশুরা ভুল করলে প্রহার করা ও বকাঝকার বদলে সুন্দর আচরণ ও উত্তম উপদেশ দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। মায়া-আদরের মাধ্যমে শিশুকে শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও এই নীতি অনুসরণ করতেন। আনাস (রা.) তার শৈশবের দীর্ঘ ১০ বছর রাসুল (সা.)-এর সেবায় কাটিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কোনো কাজে আপত্তি করে তিনি কখনো বলেননি ‘এমন কেন করলে বা এমন কেন করলে না’।” (মুসলিম, হাদিস: ২৩০৯)


শিশু ধর্ষণ সম্পর্কে যা বলে ইসলাম
ধর্ষণ ইসলামি আইনশাস্ত্রের ভাষায় এক ধরনের ‘ব্যভিচার’। তবে যেহেতু ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির অনিচ্ছায় ঘটে থাকে, তাই সে শাস্তির আওতার বাইরে। ধর্ষণকারী যদি বিবাহিত হয়, তাহলে ইসলামি আইনে তার শাস্তি ‘রজম’ বা পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা। আর অবিবাহিত হলে এক শ বেত্রাঘাত।
অন্যদিকে শিশু নির্যাতনকে ইসলামে ভয়াবহ ‘সন্ত্রাস’ ও বিশৃঙ্খলা অভিহিত করা হয়েছে। ইসলামি আইনে শিশুর ধর্ষণকারীর আরও কঠোর শাস্তির বিধান করা হয়েছে।


শিশু নির্যাতন ‘চরম সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা’র অন্তর্ভুক্ত
মিসরের দারুল ইফতা শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন ও সহিংসতাকে কোরআনে বর্ণিত ‘ইহরাব’ ও ‘ফাসাদ ফিল আরদ’ (চরম সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা)-এর অন্তর্ভুক্ত বলেছে। এর শাস্তি মৃত্যুদ- বলেও তারা মত দিয়েছে। তারা পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের সঙ্গে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ধ্বংসাত্মক কাজ করে বেড়ায় তাদের শাস্তি হলো, তাদের হত্যা করা হবে অথবা ক্রুশবিদ্ধ করা হবে বা বিপরীত দিক থেকে হাত-পা কেটে ফেলা হবে কিংবা তাদের দেশান্তর করা হবে। দুনিয়ায় এটাই তাদের লাঞ্ছনা এবং পরকালে তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি।’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৩৩)
দারুল ইফতার ফতোয়ায় বলা হয়েছে, এই আয়াত বিশ্লেষণ করলে শাস্তির যেসব কারণ পাওয়া যায়, তার সবগুলো শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন ও সহিংসতার মধ্যে প্রমাণিত হয়। যেমনÑআল্লাহর নির্দেশ অমান্য করা, দুর্বলের প্রতি অত্যাচার, সমাজে ভয় ছড়ানো, সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট করা, মানুষের জীবন ও সম্পদের প্রতি হুমকি তৈরি, মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা ইত্যাদি। যেহেতু পূর্বসূরি ফকিহরা এই আয়াতের আওতাধীন অপরাধীদের ক্ষেত্রে ‘তাজির’ তথা শাস্তি প্রয়োগে রাষ্ট্রীয় আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগকারী সংস্থার স্বাধীনতা রয়েছে বলে মত দিয়েছেন, তাই শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন বন্ধেও রাষ্ট্র কর্তৃক দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তির বিধান করতে পারেন। তবে তা করতে হবে মৃত্যুদ- নিশ্চিত করার পর।


প্রচলিত আইন ও ইসলামি আইনের মৌলিক পার্থক্য
প্রচলিত আইন শুধু অপরাধের শাস্তির কথা বলে আর ইসলামি আইন অপরাধপ্রবণতা বন্ধের জোর দাবি জানায়। শিশুর প্রতি যৌন নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে ইসলাম প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ও সচেতনতার পাশাপাশি উপযুক্ত পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার কথা বলেছে। পাশাপাশি বলেছে সামাজিক প্রতিবাদ ও ন্যায়ের পথে আহ্বানের কথা। সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়া অশ্লীলতা যৌন সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। অথচ পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতার নিকটবর্তী হয়ো না।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৫৫)

যে সাতটি অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে
                                  

কিছু অপরাধ-অভ্যাস মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। ডেকে আনে সীমাহীন গুনাহ। অভ্যাসগুলো পার্থিব ও অপার্থিব-সবক্ষেত্রেই পরিত্যাজ্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বরাবরই সে ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকতে সবাইকে সতর্ক করেছেন।


আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা
আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত যারা ইমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে শিরকের সঙ্গে মিশ্রিত করেনি’-[সুরা আনআম ৬/৮২]; এ আয়াত অবতীর্ণ হলে আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর সাহাবিগণ বললেন, ‘আমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে জুলম করেনি?’ তখন আল্লাহ তাআলা এ আয়াত অবতীর্ণ করেন, ‘নিশ্চয়ই র্শিক হচ্ছে অধিকতর জুল্ম।’ [সুরা লুকমান: ৩১/১৩] (বুখারি, হাদিস: ৩৩৬০, ৩৪২৮)


জাদু-টোনা করা
জাদুটোনা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ। তাই তা শিক্ষা করা বা জাদুকরদের বিশ্বাস করা হারাম। হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে-‘আমরা তোমাদের জন্য পরীক্ষাস্বরূপ। সুতরাং তোমরা কুফরি কোরো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১০২)
এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, জাদু শিক্ষা করা কুফরি। (ফতহুল বারি: ১০/২২৫)


অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা
অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা করা গোটা মানবতাকে হত্যার নামান্তর। তা যে পদ্ধতিতেই হোক। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো প্রাণের বিনিময় অথবা জমিনে বিশৃঙ্খলা করা ব্যতীত কাউকে হত্যা করল সে যেন সব মানুষকে হত্যা করল...।’ (সুরা : মায়েদা, আয়াত: ৩২)


সুদের লেনদেন করা
সুদ ইসলাম ধর্মে একটি জঘন্য হারাম হিসেবে সাব্যস্ত। মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে বান্দাকে সতর্ক করেছেন। এর প্রভাবে দুনিয়ায় অশান্তি সৃষ্টি হয়। এ কারণেই পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদাররা! আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমাদের যে সুদ বাকি আছে তা ছেড়ে দাও, যদি তোমরা ঈমানদার হও। যদি তোমরা তা না করো, তবে আল্লাহ ও তার রাসুল (সা.)-এর সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত: ২৭৮-২৭৯)


এতিমের মাল (অন্যায়ভাবে) ভক্ষণ করা
পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই যারা এতিমদের ধনসম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করে, তারা তো তাদের পেটে আগুন খাচ্ছে; আর অচিরেই তারা প্রজ¦্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : নিসা, আয়াত: ১০)


রণাঙ্গন থেকে পলায়ন করা
যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের ভয়ে রণাঙ্গন থেকে পলায়ন একটি জাঁতি ধ্বংস করে দেয়। এ কারণে মহান আল্লাহ মুমিনদের উদ্দেশে বলেন, ‘হে মুমিনরা, যখন তোমরা কাফির বাহিনীর মুখোমুখি হও, তখন তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন কোরো না (পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কোরো না)।’ (সুরা আনফাল, আয়াত: ১৫)
যারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে পলায়ন না করে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তাদের সাহায্য করেন। যার উদাহরণ বদর যুদ্ধ।


সতীসাধ্বী নারীকে অপবাদ দেওয়া
মিথ্যা অপবাদ দেওয়া কবিরা গুনাহ। যদি কেউ কোনো মুমিন সতী নারীর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করে এবং তা প্রমাণ করতে না পারে, তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে অপবাদদাতা নিজেই ৮০ বেত্রাঘাত সাজার দ-প্রাপ্ত হয়ে যায়। তা ছাড়া এই ধরনের অপরাধ মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। (বুখারি, হাদিস: ২৭৬৬)

আজানের সময় করণীয় ও বর্জনীয়
                                  

পৃথিবীর সবচেয়ে সুমধুর ধ্বনির নাম আজান-এটি মুসলিম-অমুসলিম-নির্বিশেষে কোটি মানুষের উপলব্ধি। তা হবে না কেন? এ আযান তো সৃষ্টির প্রতি মহান সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তার আহ্বান। একজন মানুষকে যখন তার মহান মালিকের প্রতি আহ্বান করা হয়, তার উপলব্ধি তখন কেমন হতে পারে? তাই আজানের আওয়াজ শুধু মুসলমানের অন্তরেই নাড়া দেয় না, বরং তা অমুসলিমের অন্তরকেও আকর্ষণ করে। যুগে যুগে যার  উদাহরণ রয়েছে। হ্যাঁ, হিংসুক ও নিন্দুকের কথা ভিন্ন। আল্লাহর ভাষায়, ‘যার অন্তরে আল্লাহ মোহর মেরে দেন, সে (হেদায়েতের) আলো থেকে বঞ্চিত হবেই। তাই ইসলামে আজানের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আযান শুনে আজানের জবাব দেওয়ারও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আযান শ্রবণকারীরও মৌখিকভাবে আজানের উত্তর দেওয়া সুন্নত। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন তোমরা আযান শুনবে, এর জবাবে মুয়াজ্জিনের অনুরূপ তোমরাও বলবে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬১১)

আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি
আজানের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি হলো, মুয়াজ্জিন প্রত্যেকটি বাক্য বলে থামার পর শ্রোতা ওই বাক্যটি নিজেও অনুরূপভাবে বলবে। কিন্তু মুয়াজ্জিন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময় শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুউওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ’ বলবে। এটাই বিশুদ্ধ অভিমত। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৩৮৫)
তবে কোনো কোনো বর্ণনায় ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলার সময়ও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। (কিতাবুদ দোয়া, তাবারানি, হাদিস: ৪৫৮)

আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউমের জবাব
ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন কিতাবের বর্ণনামতে, ফজরের আজানে ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’-এর জবাবে ‘সাদাকতা ও বারারতা’ পড়বে। কিন্তু হাদিস ও সুন্নাহে এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। তাই বিশুদ্ধ মতানুসারে এর জবাবেও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আসসালাতু খাইরুম মিনান নাউম’ বলাই উত্তম। কেননা হাদিস শরিফে এসেছে, আজানের জবাবে তোমরাও মুয়াজ্জিনের অনুরূপ বলবে। (তাকরিরাতে রাফেয়ি: ১/৪৭ আহসানুল ফাতাওয়া: ১০/২০৬)

প্রচলিত কিছু ভুল
এক. কেউ কেউ আজানে ‘আল্লাহু আকবার’-এর জবাবে ‘জাল্লা জালালুহু’ পড়ে থাকে। এটি সুন্নাহপরিপন্থী। (ইমদাদুল আহকাম: ১/৪১৬)
দুই. অনেকেই আজানের সময় জবাব দিতে গিয়ে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’-এর জবাবে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ বলে থাকে। এটিও উচিত নয়। কেননা এ সময় দরুদ পড়ার নির্দেশ নেই। বরং তখনো মুয়াজ্জিনের অনুরূপ ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলাই সুন্নাত। (আলবাহরুর রায়েক: ১/২৭৩, আহসানুল ফাতাওয়া: ২/২৭৮)

এই দরুদ পাঠ করবে আযান শেষ হওয়ার পর।
তিন. আমাদের দেশে আজানে ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ’ বলার সময় অনেকেই বৃদ্ধাঙুলে চুমু খেয়ে চোখে মুছে থাকে। কেউ কেউ আবার সঙ্গে ‘কুররাত আইনি’-এ দোয়াও পড়ে থাকে। অথচ ইসলামি শরিয়তে এর কোনো প্রমাণ নেই। সুতরাং এটি বর্জনীয়। (আল মাকাসিদুল হাসানা, পৃষ্ঠা-৬০৬, ইমদাদুল ফাতাওয়া: ৫/২৫৯)
চার. প্রসিদ্ধ আছে, আজানের জবাব না দিলে বা আজানের সময় কথা বললে বেঈমান হয়ে যায় কিংবা বেঈমান অবস্থায় মারা যাওয়ার ভয় আছে-এরূপ কোনো বর্ণনা হাদিসের কিতাবে নেই। সুতরাং এটি ভ্রান্ত বিশ্বাস। (ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ৫/৪৩০)

যারা আজানের জবাব দেবে না
নামাজ আদায়কারী, পানাহার অবস্থায়, ইস্তিনজাকারী, স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত, মহিলাদের ঋতুকালীন ইত্যাদি সময়। তবে অনেক আলেমের মতে, আজানের পরক্ষণেই যদি উল্লিখিত কাজ থেকে অবসর হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আজানের জবাব দিয়ে দেওয়া উত্তম। কোরআন তেলাওয়াতকারী তেলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭)

জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব
জুমার দ্বিতীয় আজানের সময় যখন খতিব সাহেব মিম্বরে উপবিষ্ট থাকেন, তখন ফেকাহবিদদের নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব মৌখিক না দেওয়াটাই উত্তম। তা সত্ত্বেও কেউ দিতে চাইলে মনে মনে জবাব দিতে পারে। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/২৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ২/৫৮)

আজানের সময় দুনিয়াবি কথা ও কাজে লিপ্ত থাকা
আজানের সময় চুপ থাকা সুন্নত। একান্ত প্রয়োজন না হলে সাধারণ দ্বিনি ও দুনিয়াবি কথা বা কাজে লিপ্ত থাকা অনুচিত। বক্তৃতা বা সেমিনার চলাকালে আযান হলে সাময়িক তা স্থগিত রাখবে। ওয়াজ বা কোনো দ্বিনি মাহফিল চলাকালেও তা সাময়িক বন্ধ রেখে সবাইকে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। মনে রাখতে হবে, একজন আজানের জবাব দিলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যায় না। কেননা আজানের জবাব দেওয়া শ্রবণকারী সব মুসলমানের জন্য সুন্নত। আর আজানের জবাব দেওয়া সুন্নতে কেফায়া নয়। (ফাতহুল কাদির: ১/২৪৮, রদ্দুল মুহতার: ১/৩৯৯, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ৫/৪২৭)

রেডিও-টেলিভিশনের আজানের জবাব
মুয়াজ্জিনের আযান রেডিও-টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নাত। রেকর্ড করা হলে তার জবাব দেওয়া সুন্নাত নয়। (বাদায়েউস সানয়ে : ১/৬৪৬, আপকে মাসায়েল আওর উনকা হল: ১/১৭০)

আজানের পর দোয়া
আজানের পর দরুদ শরিফ ও দোয়া পাঠ করা সুন্নাত। হাদিস শরিফে এর ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আজানের পর আল্লাহুম্মা রাব্বা হাজিহিদ...’ এ দোয়াটি পাঠ করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত।’ (বুখারি, হাদিস : ৬১৪) অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘তোমরা মুয়াজ্জিনের অনুরূপ শব্দে আজানের জবাব দাও, অতঃপর দরুদ পাঠ করো, এরপর আমার জন্য বেহেশতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানের জন্য দোয়া করো, আশা করি, আল্লাহ তাআলা আমাকেই সে স্থান দান করবেন। যে ব্যক্তি এ দোয়া করবে, তার জন্য আখিরাতে আমার সুপারিশ অবধারিত।’ (মুসলিম, হাদিস : ৩৮৪)
আজানের পর হাত তুলে মুনাজাত
আজানের পর দরুদ শরিফ পড়ে একটি বিশেষ দোয়া পড়ার কথা হাদিস শরিফে রয়েছে, তবে আজানের পর হাত তুলে দোয়া পড়া ও মুনাজাত করার কথা হাদিসে নেই। (ফয়জুল বারি : ২/১৬৭, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ১৬/২০৮)

একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব
আজানের মতো মুসল্লিদের একামতের জবাব দেওয়াও মুস্তাহাব। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/৫৭) একামতের জবাবও আজানের অনুরূপ। শুধু একামতের মধ্যে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’-এর জবাবে’ ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলবে। হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘একবার হজরত বেলাল (রা.) একামত দিচ্ছিলেন, তখন নবী করিম (সা.)-ও তাঁর সঙ্গে আজানের অনুরূপ উত্তর দিয়েছেন, তবে ‘ক্বাদ ক্বামাতিস সালাহ’ বলার সময় বলেন, ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’। (আবু দাউদ, হাদিস: ৫২৮)
লেখক: ফতোয়া গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

 

ছোটমনিদের জন্য ইসলামিক আলোচনা
                                  

রমযান হল ইসলামিক বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, যে মাসে বিশ্বব্যাপী মুসলিমগণ ইসলামিক উপবাস সাওম পালন করে থাকে। রমযান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম। রমযান মাস চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে ২৯এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী¯তীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয় অথবা ত্রিশ দিনে হয়ে থাকে যা নির্ভরযোগ্য হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।


তাহলে একটু জেনে নেই লাইলাতুল কদর সম্পআরবিতে লাইলাতুল কদর। এর অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত বা পবিত্র রজনী। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো-ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। ইসলাম ধর্ম অনুসারে, এ রাতে ইসলামের মহানবী, মুহাম্মদের অনুসারীদের সম্মান বৃদ্ধি করা হয় এবং মানবজাতির ভাগ্য পুনর্র্নিধারণ করা হয়। তাই মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত পুণ্যময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। কুরানের বর্ণনা অনুসারে, আল্লাহ এই রাত্রিকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন এবং এই একটি মাত্র রজনীর উপাসনা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও অধিক সওয়াব অর্জিত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর মাহে রমজানে এই মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল কদর মুসলিমদের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে বলে তারা বিশ্বাস করে। যাকাত ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীকে প্রতিবছর স্বীয় আয় ও সম্পত্তির একটি নির্দিষ্ট অংশ, যদি তা ইসলামি শরিয়ত নির্ধারিত সীমা (নিসাব পরিমাণ) অতিক্রম করে তবে, গরীব-দুঃস্থদের মধ্যে বিতরণের নিয়মকে যাকাত বলা হয়। সাধারণত নির্ধারিত সীমাতিক্রমকারী সম্পত্তির ২.৫ শতাংশ (২.৫%) অংশ বছর শেষে বিতরণ করতে হয়। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে হজ্জ্ব এবং যাকাতই শুধু শর্তসাপেক্ষ যে, তা সম্পদশালীদের জন্য ফরয বা আবশ্যিক হয। উল্লেখ্য, নিসাব পরিমাণ হলেই যাকাত কোনো ব্যক্তির উপর ওয়াজিব হয় এবং তখন তার উপর `যাকাত` নামক ফরয বর্তায়; অর্থাৎ যাকাত আদায় করা ফরয। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআনে "যাকাত" শব্দের উল্লেখ এসেছে ৩২ বার। স্বাধীন, পূর্ণবয়স্ক মুসলমান নর-নারীর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকলে কতিপয় শর্তসাপেক্ষে তার উপর যাকাত ফরয হয়ে থাকে। যেমন:


১. সম্পদের উপর পূর্ণ মালিকানা
সম্পদের উপর যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য সম্পদের মালিকানা সুনির্দিষ্ট হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ সম্পদ, মালিকের অধিকারে থাকা, সম্পদের উপর অন্যের অধিকার বা মালিকানা না থাকা এবং নিজের ইচ্ছামতো সম্পদ ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ অধিকার থাকা। যেসকল সম্পদের মালিকানা সুসস্পষ্ট নয়, সেসকল সম্পদের কোনো যাকাত নেই, যেমন: সরকারি মালিকানাধীন সম্পদ। অনুরূপভাবে জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য ওয়ক্ফকৃত সম্পদের উপরেও যাকাত ধার্য হবে না। তবে ওয়াক্ফ যদি কোনো ব্যক্তি বা গোত্রের জন্য হয়, তবে তার উপর যাকাত দিতে হবে।
২. সম্পদ উৎপাদনক্ষম হওয়া
যাকাতের জন্য সম্পদকে অবশ্যই উৎপাদনক্ষম, প্রবৃদ্ধিশীল হতে হবে, অর্থাৎ সম্পদ বৃদ্ধি পাবার যোগ্যতাই যথেষ্ট। যেমন: গরু, মহিষ, ব্যবসায়ের মাল, নগদ অর্থ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ক্রীত যন্ত্রপাতি ইত্যাদি মালামাল বর্ধনশীল। অর্থাৎ যেসকল মালামাল নিজের প্রবৃদ্ধি সাধনে সক্ষম নয়, সেসবের উপর যাকাত ধার্য হবে না, যেমন: ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালামাল, চলাচলের বাহন ইত্যাদি।
৩. নিসাব পরিমাণ সম্পদ
যাকাত ফরয হওয়ার তৃতীয় শর্ত হচ্ছে শরিয়ত নির্ধারিত সীমাতিরিক্ত সম্পদ থাকা। সাধারণ ৫২.৫ তোলা রূপা বা ৭.৫ তোলা স্বর্ণ বা উভয়টি মিলে ৫২.৫ তোলা রূপার সমমূল্যের সম্পদ থাকলে সে সম্পদের যাকাত দিতে হয়। পশুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ বিভিন্ন ৪. মৌলিক প্রয়োজনাতিরিক্ত সম্পদ থাকা
সারা বছরের মৌলিক প্রয়োজন মিটিয়ে যে সম্পদ উদ্ধৃত থাকবে, শুধু তার উপরই যাকাত ফরয হবে। এপ্রসঙ্গে আল-কুরআনে উল্লেখ রয়েছে:
লোকজন আপনার নিকট (মুহাম্মদের [স.] নিকট) জানতে চায়, তারা আল্লাহর পথে কী ব্যয় করবে? বলুন, যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। আল্লাহ এভাবেই তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট বিধান বলে দেন।
অপ্রাপ্তবয়স্ক ও পাগলের যাকাত: সম্পদের মালিক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিংবা পাগল হলে, তার যাকাত তার আইনানুগ অভিভাবককে আদায় করতে হবে।
যৌথ মালিকানাধীন সম্পত্তির যাকাত: কোনো সম্পদে যৌথ মালিকানা থাকলে সম্পদের প্রত্যেক অংশীদার তাঁর স্ব স্ব অংশের উপরে যাকাত দিবেন, যদি তা নিসাব পরিমাণ হয় বা তার অতিরিক্ত হয়। অর্থাৎ সম্পদের স্বীয় অংশের মূল্য অন্যান্য সম্পদের সাথে যোগ করে হিসাব করে যদি দেখা যায় তা নিসাব পরিমাণ হয়েছে বা অতিক্রম করেছে, তবে যাকাত দিতে হবে।
নির্ধারিত যাকাত: যাকাত নির্ধারিত হওয়াসত্ত্বেয় পরিশোধের আগেই সম্পদের মালিকের মৃত্যু হলে তার উত্তরাধিকারগণ অথবা তার তত্ত্বাবধায়ক তার সম্পত্তি থেকে প্রথমে যাকাত বাবদ পাওনা ও কোনো ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করবেন। এরপর অবশিষ্ট সম্পত্তি, উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বন্টিত হবে।
তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্বে ন্যস্ত সম্পদের যাকাত: মালিকের পক্ষ থেকে নিয়োগকৃত আইনানুগ তত্ত্বাবধায়কের কাছে সম্পত্তি ন্যস্ত থাকলে মালিকের পক্ষে ওই তত্ত্বাবধায়ক সে যাকাত পরিশোধ করবেন।
বিদেশস্থ সম্পদের যাকাত: যাকাত ওয়াজিব হবার জন্য সম্পত্তি নিজ দেশে থাকা শর্ত নয়। বরং সম্পত্তি অন্য দেশে থাকলেও তার উপর যাকাত দিতে হবে। তবে ওই দেশ ইসলামি রাষ্ট্র হলে এবং দেশের সরকার যাবতীয় সম্পদের উপর যাকাত দিলে তা আর আলাদা করে দিতে হবে না।
যাকাত বন্টনের কিছু নির্দিষ্ট খাত আছে। এই খাতগুলো সরাসরি ক্বোরআন দ্বারা নির্দ্দিষ্ট, এবং যেহেতু তা আল্লাহ`র নির্দেশ, তাই এর বাইরে যাকাত বণ্টন করলে যাকাত, ইসলামি শরিয়তসম্মত হয় না।
মুসলমান ফকির (যার কিছুই নেই)
মুসলমান মিসকীন (যার নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই)
যাকাত আদায়ে নিযুক্ত কর্মচারী (যার অন্য জীবিকা নেই)
(অমুসলিমদের) মন জয় করার জন্য
ক্রীতদাস (মুক্তির উদ্দেশ্যে)
ধনী সম্পদশালী ব্যক্তি যার সম্পদের তুলনায় ঋণ বেশী
(স্বদেশে ধনী হলেও বিদেশে) আল্লাহর পথে জেহাদে রত ব্যক্তি
মুসাফির (যিনি ভ্রমণকালে অভাবে পতিত)
কাবাঘরে প্রথম হজ্জ আদায় করেন ইসলামের নবি আদম ; তারপর নূহ সহ অন্য ইসলামের অন্যান্য নবী-রাসূল এ দায়িত্ব পালন করেন। ইব্রহিম এর সময় থেকে হজ্জ ফরয বা আবশ্যক ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত করা হয়। হিজরি সনের ১২তম মাস হলো জিলহজ্জ মাস। ইসলামের বর্ণনা অনুসারে এই সময়ই ¯্রষ্টা ইব্রাহিম কে হজ্জ ফরজ হওয়ার কথা ঘোষণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।


কোনো কোনো বর্ণনায় আছেঃ এ আদেশের পর ইব্রাহিম আবু কোবাইস পাহাড়ে আরোহণ করে দুই কানে অঙ্গুলি রেখে ডানে-বামে এবং পূর্ব-পশ্চিমে মুখ ফিরিয়ে ঘোষণা করেছিলেনঃ লোক সব, তোমাদের পালনকর্তা নিজের গৃহ নির্মাণ করেছেন এবং তোমাদের ওপর এই গৃহের হজ্জ ফরজ করেছেন। তোমরা সবাই পালনকর্তার আদেশ পালন করো"। এই বর্ণনায় আরো উল্লেখ আছে যে ইব্রাহিম এর ঘোষণা ¯্রষ্টার পক্ষ থেকে বিশ্বের সবখানে পৌঁছে দেওয়া হয়। হজ্জ-এর বিভিন্ন আচার-কায়দা ইব্রাহিম এর জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিভিন্ন ইসলামিক বর্ননায় উল্লেখ আছে ইব্রাহিম ¯্রষ্টার নির্দেশে তাঁর ¯তীর বিবি হাজেরাকে নির্জন মরুভূমিতে রেখে এসেছিলেন। সেখানে, ক্বাবা শরীফের অদূরে, বিবি হাজেরা নবজাত শিশু ইসমাইলকে নিয়ে মহাবিপদে পড়েছিলেন। সাহায্যের জন্য কাকেও না পেয়ে তিনি পানির খোঁজে সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করেছিলেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই হজ¦কালে মুসলিমদের জন্য সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যে হাঁটার নিয়ম রয়েছে।


ইসলামিক বর্ননায় উল্লেখ আছে  বেহেশত বা স্বর্গ থেকে আদম ও হাওয়া কে যখন পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন, এতে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে উভয়ে আরাফাত ময়দানে এসে মিলিত হন। এই ঘটনার কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হজে¦র একটি অংশ হিসেবে মুসলিমরা আরাফাতের ময়দানে এসে উপস্খিত হয়ে ¯্রষ্টার কাছে কান্নাকাটি করে ইবাদতে মগ্ন হন।
মক্কা বিজয়-এর দ্বিতীয় বছরে ইসলামের নবি মুহম্মাদ তাঁর জীবনের সর্বশেষ হজ্জ পালন করেন। এটি বিদায় হজ্জ নামে মুসলিমদের কাছে পরিচিত। এর পূর্ববর্তী বৎসরে তিনি হজ্জ করেন নি। মক্কা বিজয়ের পরবর্তী বছরে ইসলামের প্রথম খলীফা আবুবকর এর নেতৃত্বে হজ্জ সম্পাদিত হয়। পরবর্তী বৎসরে মুহম্মাদ হজ্জের নেতৃত্ব দান করেন। বিদায় হজ্জ-এর মাধ্যমে তিনি মুসলিমদের জন্য আদর্শরূপে হজ্জ পালনের নিয়মাবলি উল্লেখ এবং প্রদর্শন করেন। এই হজের সময় তিনি আরাফাতের ময়দান-এ যে ভাষণ প্রদান করেন তা মুসলিমদের কাছে বেশ তাৎপর্যপূর্ন। ইসলামি সূত্রানুযায়ী আর্থিক এবং শারীরিক সামর্থ্য ছাড়াও নারীদের জন্য তৃতীয় একটি শর্তের উল্লেখ করা হয়, সেটি হলো হজ্জে যাওয়ার জন্য নারীকে স্বীয় স্বামী বা যার সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ের অনুমতি নেই, অর্থাৎ কখনো ওই ব্যক্তির সঙ্গে ওই মহিলার বিয়ে বৈধ হবে না, যেমন পিতা, ভ্রাতা, ছেলে প্রমুখ কয়েকজন নির্দিষ্ট আত্মীয় পুরুষকে সঙ্গে নিতে হয়। একে মাহরাম বলা হয়। যাদের মাহরামনেই তাদের হজ্জে যাওয়ার ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। মাহরেম ব্যতীত হজের জন্য নারীদের সৌদী আরবের ভিসা প্রদান করা হয় না। ইসলামে মাহরাম ব্যতীত হজ্জ করা হলে বা মাহরাম আছে এমন মহিলার সঙ্গে হজে¦র সফর সঠিক হিসেবে ধরা না। এক্ষত্রে উল্লেখ রয়েছে যে, যদি মাহরাম ব্যতীত হজ করতে যায় তা হলে হজ হয়ে যাবে, কিন্তু মাহরাম ব্যতীত সফরের জন্য গুনাহগার বা পাপী হবে।

শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবে ‘র‌্যাগিং প্রথা’ বন্ধ হলে
                                  

র‌্যাগিং শব্দের প্রচলিত অর্থ পরিচয়পর্ব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুরোনো শিক্ষার্থীদের সখ্য গড়ে তোলার জন্য যে আনুষ্ঠানিক পরিচিতি প্রথা সেটাকেই র‌্যাগিং বলে অভিহিত করা হয়। এটি আসলে গ্রিক কালচার। সপ্তম-অষ্টম শতকে খেলার মাঠে টিম স্পিরিট নিয়ে আসার জন্য র‌্যাগিংয়ের প্রচলন শুরু হয়।


র‌্যাগ শব্দটি মূলত ইংরেজি র‌্যাগিং থেকেই এসেছে। ইউরোপে র‌্যাগিয়ের প্রচলন ঘটে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি। ১৮২৮ থেকে ১৮৪৫ সালের দিকে র‌্যাগ সপ্তাহের প্রচলন ঘটে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ইউরোপ-আমেরিকায় এর যাত্রা হলেও বর্তমানে ভারতীয় উপমহাদেশেই এর ব্যবহার সর্বাধিক। এ উপমহাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিং শুরু হয় ষাটের দশকে। এরপর আশির দশকের শেষ দিকে তা ভারতে ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিংয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায় নব্বইয়ের দশকে।
র‌্যাগিং একটি অমানবিক প্রথা


বাংলাদেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রসিকতার ছলে র‌্যাগিংয়ের নামে যে প্রথা চলছে, তা এককথায় টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতনের মতো। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর ক্যাম্পাসে প্রথম পা রেখেই র‌্যাগিং নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন নবীন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা, জাহাঙ্গীরনগর, শাহজালাল এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যলয়ে এ অবস্থা চরম নাজুক। এ নির্যাতনে পিছিয়ে নেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ভুক্ত সরকারি কলেজগুলোও।


র‌্যাগিংয়ের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। যেমন কান ধরে ওঠবস করানো, রড দিয়ে পেটানো, পানিতে চুবানো, উঁচু ভবন থেকে লাফ দেওয়ানো, সিগারেটের আগুনে ছ্যাঁকা দেওয়া, গাছে উঠানো, ভবনের কার্নিশ দিয়ে হাঁটানো, মুরগি হয়ে বসিয়ে রাখা, ব্যাঙ দৌড়ে বাধ্য করা, সিগারেট-গাঁজা-মদ্যপানে বাধ্য করা, অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করানো, সবার সম্মুখে নগ্ন করে নাচানো, যৌন অভিনয়ে বাধ্য করা, ছেলেমেয়ে হাত ধরা বা জোর করে আলিঙ্গন করতে বাধ্য করা, অপরিচিত মেয়ে অথবা ছেলেকে প্রকাশ্যে প্রেমের প্রস্তাব দিতে বাধ্য করা, ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে যৌন হয়রানি করা, দিগম্বর করা, ম্যাচের কাঠি দিয়ে রুম অথবা মাঠের মাপ নেওয়া, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাপ নেওয়া, শীতের মধ্যে পানিতে নামিয়ে নির্যাতন করা, পুরোনো শিক্ষার্থীদের থুতু মাটিতে ফেলে নতুনদের তা চাটতে বলা, বড় ভাইদের পা ধরে সালাম করা, গালাগাল করা, নজরদারি করা, নিয়মিত খবরদারি করা ইত্যাদি।র‌্যাগিং হচ্ছে একজন অনভিজ্ঞ ছাত্রকে ভিতু ও হীনমন্য করে তোলার অপপ্রয়াস। র‌্যাগিংয়ের মতো অমানবিক আচরণের কারণে অন্যের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞার সৃষ্টি হয়, যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পরিবেশকে অনিরাপদ করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় পড়াকালীন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে জানি, র‌্যাগিংয়ের মতো অপদস্থ ও নির্যাতনমূলক আচরণে অনেক শিক্ষার্থী আতঙ্কে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়। কেউ কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে অনেকে আত্মহত্যারও চেষ্টা করে। তাছাড়া আজ যে শিক্ষার্থী র‌্যগিংয়ের শিকার হচ্ছে, সে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে আগামীতে এর চেয়ে বেশি মাত্রায় র‌্যাগিং করার পরিকল্পনা করবে এবং নতুন ছাত্রছাত্রীরা আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের ওপর চড়াও হবে- এটাই স্বাভাবিক। ফলে এ অপসংস্কৃতি দিন দিন বৃদ্ধি পেতেই থাকবে।


র‌্যাগিং মুমিনের কাজ নয়
ইসলামের সঠিক শিক্ষার অভাবে ও নৈতিকতার পতনের কারণে র‌্যাগিংয়ের মতো একটি অনৈসলামিক প্রথা ব্যাপকতা লাভ করেছে। ছোট ও নবীনের প্রতি আগ্রাসী ও নিষ্ঠুর আচরণ এবং প্রভুত্বের মনোভাব কোনোভাবেই ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। বড়র কাছে ছোটর প্রাপ্য স্নেহ ও ভালোবাসা। আর ছোটর কাছে বড়র প্রাপ্য শ্রদ্ধা ও মান্যতা। ইসলাম মানুষকে এ শিক্ষাই প্রদান করে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সে আমাদের দলভুক্ত নয়, যে আমাদের ছোটকে স্নেহ করে না, আমাদের বড়কে শ্রদ্ধা করে না।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১৯১৯)


কাজেই মানবসমাজে ছোট-বড়র মাঝে স্নেহ-ভালোবাসা এবং ভক্তি-শ্রদ্ধার সম্পর্কই বাঞ্ছনীয়। নতুন কোনো জায়গায় বা প্রতিষ্ঠানে যারা আসে তারা সংকোচ, নিঃসঙ্গতা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকে। এ অবস্থায় প্রয়োজন পুরোনোদের সহযোগিতাপূর্ণ দয়ার্দ্র আচরণ। এর পরিবর্তে ঠাট্টা-বিদ্রুপের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত করা নিঃসন্দেহে নির্দয়তা ও অমানবিকতা। এটা কোনো মুসলমানের কাজ নয়। ইসলামে মুসলমানের যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছে, তা হচ্ছে ‘মুসলমান হচ্ছে সেই ব্যক্তি, যার মুখ ও হাতের ক্ষতি থেকে অন্যান্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (বোখারি, হাদিস: ১০)


অন্য হাদিসে এরশাদ হয়েছে, ‘মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার ওপর না জুলুম করতে, না তাকে অসহায় অবস্থায় পরিত্যাগ করতে পারে এবং না তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারে। কোনো লোকের নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছজ্ঞান করবে। প্রত্যেক মুসলমানের জীবন, ধনসম্পদ ও মানসম্মান প্রত্যেক মুসলমানের সম্মানের বস্তু। এর ওপর হস্তক্ষেপ করা হারাম।’ (মুসলিম, হাদিস: ৬৭০৬)
বন্ধ হোক র‌্যাগিংয়ের কুপ্রথা
অতএব, আমাদের ছাত্র-শিক্ষকের কর্তব্য, মানবিকতা পরিপন্থি রীতিনীতিগুলোকে সাহসিকতা ও দৃঢ়তার সঙ্গে বর্জন করা। আমরা র‌্যাগিংয়ের নামে চলতে থাকা অসভ্যতা চাই না। র‌্যাগিং নামক অপসংস্কৃতিকে সমূলে উৎপাটন করতে হলে সরকারের উচিত কঠোর আইন প্রণয়ন করে অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা। এ অপরাধে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেই র‌্যাগিং নামক অপকর্মটি বন্ধ হতে বাধ্য।

 

‘নিজের মন্দকাজ যদি তোমাকে পীড়া দেয়, তবেই তুমি মুমিন’
                                  

আল্লাহর নেয়ামতরাজি অসংখ্য-অগণিত। প্রত্যেক মানুষের জীবন তার অনুগ্রহ-অনুকম্পায় স্নাত। নেয়ামত পেয়ে মানুষ আনন্দিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। আর এটি আল্লাহরও ভীষণ পছন্দনীয়। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘অবশ্যই আল্লাহ তার বান্দার কাছে তার দেওয়া নেয়ামতের চিহ্ন দেখতে ভালোবাসেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৮১৯)
নেয়ামতকে যদি কেউ নিজের অর্জন মনে করে, নিজের যোগ্যতার স্মারক মনে করে কিংবা নিজের অধিকার মনে করে পুলক অনুভব করে, তাহলে এটাই হবে আত্মমুগ্ধতা। আত্মমুগ্ধতায় বিনয় ও কৃতজ্ঞতাবোধের ছোঁয়া থাকে না। আল্লাহ তাআলা আমাদের এমন মুগ্ধতা থেকে বারণ করেছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘...তুমি উল্লসিত হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ উল্লসিতদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা কাসাস, আয়াত: ৭৬)


তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো, আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের কথা মাথায় রেখে কৃতজ্ঞতার সিজদায় লুটিয়ে পড়া। হাদিসে এসেছে, ‘এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ইমান কী জিনিস? তিনি জবাবে বলেন, তোমার ভালো কাজ যখন তোমাকে আনন্দিত করবে আর তোমার মন্দ কাজ যখন তোমাকে পীড়া দেবে তখনই তুমি মুমিন।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ২২১৬৬)


আত্মমুগ্ধতা সম্পর্কে মহানবী (সা.) আমাদের এভাবে সতর্ক করেছেন, ‘তিনটি বিষয় মারাত্মক ধ্বংসাত্মক : এক. অত্যধিক কৃপণতা, দুই. প্রবৃত্তির অনুসরণ, তিন. নিজেকে নিয়ে মুগ্ধতা।’ (শুআবুল ঈমান, বায়হাকি, হাদিস ৭৩১; তাবারানি, হাদিস: ৫৪৫২)


এই মুগ্ধতা যে কতটা ধ্বংসাত্মক হতে পারে, তার একটি নমুনা স্বরূপ চৌদ্দ শ বছর আগের একটি ঘটনা উল্লেখ করা যায়। তবু পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হওয়ার কারণে যেন আমাদের কাছে তা চিরনতুন।
‘মক্কা বিজয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরবের দূর-দূরাঞ্চল থেকে বিভিন্ন গোত্রের লোকেরা এসে ইসলাম কবুল করতে থাকে। যাদের অন্তরে ইসলামের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ বর্তমান ছিল, তারা এ দৃশ্য দেখে যারপরনাই অস্থির হয়ে ওঠে। তাদের ভেতরে বিদ্বেষের আগুন দাউ দাউ করে জ¦লে ওঠে।


হুনাইনের অধিবাসী হাওয়াজিন ও সাকিফ নামক দুইটি গোত্র এদিকে খুবই অগ্রগামী ছিল। তারা এমনিতেই ছিল যুদ্ধবাজ জাতি; তদুপরি ইসলামের অগ্রগতি দেখে তারা আরো অস্থির হয়ে পড়ে। তারা মালিক ইবনে আওফ নামক ব্যক্তিকে সর্দার মনোনীত করে এবং মুসলমানদের মোকাবেলা করার জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। তারা আরো বহু গোত্রকে নিজেদের সঙ্গী বানিয়ে নেয়।


যুদ্ধক্ষেত্র হুনাইন উপত্যকা শত্রুদের আগে থেকেই পরিচিত ছিল। এই সুযোগ তারা ভালোভাবেই লুফে নেয়। দেশটি পর্বতময়। পূর্ব পরিচিত থাকার দরুন শত্রু সেনারা পাহাড়ের আড়ালে উপযুক্ত জায়গায় লুকিয়ে থাকে। পাহাড়ে অবস্থানের দরুন তাদের এই লুকিয়ে থাকার কাজটি অত্যন্ত কার্যকর হয়েছিল।
মুসলিম সেনাবাহিনীর পুরোভাগ হুনাইন উপত্যকায় প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শত্রু সেনারা তাদের লুকিয়ে থেকে তীর-ধনুকের সাহায্যে মুসলিম সেনাদের অতর্কিতে আক্রমণ করে বিপর্যস্ত করে ফেলে। মুসলমানরা সামনে আসামাত্র দুশমনরা আশপাশের পাহাড় থেকে এলোপাতাড়ি তীর নিক্ষেপ করতে শুরু করে। এ পরিস্থিতির জন্য মুসলমানরা মোটেও প্রস্তুত ছিল না। এর ফলে মুসলমানদের সৈন্যদলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।


এই যুদ্ধে হাওয়াজিন ও বনু সাকিফ ছাড়াও বনু জুশাম, বনু সাদ, হিলাল গোত্র মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেয়। এ যুদ্ধে তারা পরিবার-পরিজনকেও সঙ্গে নিয়ে আসে। তাদের মোট সংখ্যা ছিল ২৪ থেকে ২৮ হাজার। এদের সেনাসংখ্যা ছিল চার হাজার।
হাওয়াজিনের এই যুদ্ধাভিযান প্রতিহত করার জন্য নবী (সা.) ১২ থেকে ১৪ হাজার সাহাবির এক বাহিনী নিয়ে মক্কা থেকে বের হয়ে হুনাইন উপত্যকায় উপস্থিত হন। এর আগে কোনো যুদ্ধে মুসলমানদের সেনাসংখ্যা এত বেশি ছিল না। এবার সেনাদলের কলেবর নিয়ে তাদের অনেকের মধ্যে কিছুটা অহংবোধ ও আত্মমুগ্ধ-মনোভাব জাগ্রত হয়। কেউ কেউ জয়ের ব্যাপারে অতি আশাবাদী হয়ে যান।


আল্লাহর ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে নিজেদের সংখ্যা বৃদ্ধির ওপর এতটা নির্ভরশীল হওয়া ঈমানি শক্তির দুর্বলতারই প্রকাশ। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির কারণ হলো, মক্কা বিজয়ের পর সদ্য মুসলমান হওয়া কয়েক শ সাহাবিও ওই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। উৎসাহ-উদ্দীপনার মাত্রা তাদের মধ্যে একটু বেশিই ছিল।


সুতরাং এ যুদ্ধে মুসলমানরা যাতে সঠিক শিক্ষা পায়, সে জন্য আল্লাহর ইচ্ছায় তারা যুদ্ধের শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। মুসলমান বাহিনী যখন এক সংকীর্ণ গিরিপথ অতিক্রম করছিল, তখন হাওয়াজিনের তীরন্দাজ বাহিনী অকস্মাৎ তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে মুসলমানরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। পরে আল্লাহর বিশেষ রহমতে আবার তারা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। আত্মমুগ্ধতা কত ভয়াবহ বিপদ ঢেকে আনতে পারে, হুনাইনের যুদ্ধ তার জ¦লন্ত প্রমাণ।

শিক্ষকের মর্যাদা দানে ইসলামের উৎসাহ
                                  

শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত মানুষ রূপে গড়ে ওঠার পেছনে বাবা-মা’র যেমন অবদান থাকে; শিক্ষকেরও তেমন থাকে বৃহৎ ভূমিকা। আল্লাহ তাআলা শিক্ষকদের আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন। তাদের সম্মানে ভূষিত করেছেন। ফলে মুসলিমসমাজে শিক্ষকমাত্রই বিশেষ মর্যাদা ও সম্মানের ব্যক্তি।


শিক্ষাকে যাবতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হলে, শিক্ষকের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম। বলতে গেলে এর বিকল্প নেই। পবিত্র কোরআনে নাজিলকৃত প্রথম আয়াতে জ্ঞানার্জন ও শিক্ষাসংক্রান্ত কথা বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘পড়! তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন একবিন্দু জমাট রক্ত থেকে। পড়! আর তোমার প্রতিপালক পরম সম্মানিত। যিনি কলমের দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।’ (সুরা আলাক, আয়াত: ১-৫)
প্রিয়নবী মুহাম্মদ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য আদব-শিষ্টাচার শেখো। এবং যার কাছ থেকে তোমরা জ্ঞান অর্জন করো, তাকে সম্মান করো।’ (আল-মুজামুল আওসাত, হাদিস: ৬১৮৪)
সমাজে শিক্ষকদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখার ঐতিহ্য ও রীতি বেশ প্রাচীন। শিক্ষা অনুযায়ী মানবচরিত্র ও কর্মের সমন্বয় সাধনই হচ্ছে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর তাগিদ। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর পরে, রাসূলের পরে ওই ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা মহানুভব যে জ্ঞানার্জন করে ও পরে তা প্রচার করে।’ (মিশকাত শরিফ)
জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) একবার তার সওয়ারিতে (বাহন) ওঠার জন্য রেকাবে (সিঁড়িতে) পা রাখলেন। তখন ইবনে আব্বাস (রা.) রেকাবটি শক্ত করে ধরলেন। এ সময় জায়েদ ইবনে সাবেত (রা.) বললেন, হে রাসুল (সা.)-এর চাচাতো ভাই, আপনি হাত সরান। উত্তরে ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, না, আলেম ও বড়দের সঙ্গে এমন সম্মানসূচক আচরণই করতে হয়। (আল ফকিহ ওয়াল-মুতাফাক্কিহ: ২/১৯৭)


খেলাফতের যুগেই ইসলাম প্রত্যেকের জন্য শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে। শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে তখন শিক্ষকের জন্য সম্মানজনক পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করা হয়েছিল। যদিও দ্বীনি শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষকরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জ্ঞান বিতরণ করতেন।
আর তারা যেহেতু নিজেদের জীবিকার পেছনে ব্যতিব্যস্ত সময় পার না করে, শান্ত-সৌম্য মস্তিষ্কে জ্ঞান বিতরণের পবিত্র কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন, তাই তৎকালীন খেলাফত ব্যবস্থা বা সরকার তাদের সম্মানে অভিষিক্ত করেছিলেন। তাদের জ্ঞান বিতরণের এ মহৎ কাজকে সম্মান জানিয়ে তাদের পরিবার-পরিজনের যাবতীয় আর্থিক খরচ বহন করেছিলেন। যেন জীবনের তাগিদে শিক্ষকদের ভিন্ন কোনো পথে পা বাড়াতে না হয়।
উমর (রা.) ও উসমান (রা.) তাদের শাসনামলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তারা শিক্ষক ও ধর্মপ্রচারকদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করেছিলেন। আবদুর রহমান ইবনুল জাওজি (রহ.) তার বিখ্যাত ‘সিরাতুল উমরাইন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন, হজরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হজরত ওসমান ইবনে আফ্ফান (রা.)-এর যুগে মুয়াজ্জিন, ইমাম ও শিক্ষকদের সরকারি ভাতা দেওয়া হতো। (কিতাবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা: ১৬৫)


উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-ও তার যুগে ইয়াজিদ ইবনে আবি মালেক ও হারেছ ইবনে ইউমজিদ আশারি (রহ.)-কে ওই অঞ্চলে দ্বীন শেখানোর কাজে নিযুক্ত করেছিলেন। বিনিময়ে তাদের জন্য সম্মানজনক পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করা হয়েছিল। অবশ্য ইয়াজিদ (রহ.) তা গ্রহণ করলেও হারেছ (রহ.) তা গ্রহণ করেননি। (কিতাবুল আমওয়াল, পৃষ্ঠা: ২৬২)
বস্তুত ইতিহাসে যুগ যুগ ধরে ইসলাম ও ইসলামের মনীষীরা শিক্ষক ও গুরুজনদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। নিঃস্বার্থভাবে জ্ঞান বিতরণের দীক্ষাও দিচ্ছেন নিরন্তর ভাবে।

আল্লাহ শাস্তি দেবেন অবৈধভাবে পণ্যের মূল্য বাড়ালে
                                  

উপমহাদেশে মানুষের খাবার আয়োজনে পেঁয়াজ নিত্যনৈমত্তিক প্রয়োজনীয় উপাদান। এখানকার প্রতিটি অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি রান্নার পদ পেঁয়াজ বিনে চলেই না। কিন্তু হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে তরতর করে। এতে সাময়িক অসুবিধায় পড়েছে অসংখ্য গৃহকর্তী। পেঁয়াজের এই উচ্চ দামের প্রধান কারণ অবশ্য ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা। এতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে বেশি মূল্য লাভের আশায় শত শত টন পেঁয়াজ অবৈধভাবে মজুদ করে রেখেছেন। বিভিন্ন স্থান থেকে মজুদকৃত পেঁয়াজ উদ্ধারও করা হয়েছে। এই ‘ব্যবসায়ী’রা অধিক মুনাফা আদায়ের জন্য আরও বিভিন্ন রকম প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তারা সবসময়ের মতো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ক্রেতাদের ঝামেলায় ফেলতে চাচ্ছেন।

সবাই যখন একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে ওঠে, তখন তারা অপকৌশলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে আনন্দ-অনুভব করেন। ফলে পেঁয়াজের মূল্য বাজারে হঠাৎ করে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করে। সুযোগসন্ধানী মজুদদার ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীরা পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস মজুদ করে রেখে, তারা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। এতে করে তারা ক্রেতাদের কষ্ট দিয়ে অবৈধ ও অযাচিত আনন্দ অনুভব করে। অথচ অধিক মুনাফার প্রত্যাশায় পণ্য মজুদ করা ইসলামে সম্পূর্ণ অবৈধ। অসাধু ব্যবসায়ীরা হয়তো মনে করতে পারে, এভাবে তারা অল্প দিনে লাভবান ও বিত্তশালী হয়ে যাবেন।

বস্তুত এ ধরনের অবৈধ ও অভিশপ্ত সম্পদ আয় করে সুখ পাওয়া যায় না। ভোক্তাদের জিম্মি করে অর্থ-কড়ি উপার্জন ঘৃণ্য ও সভ্যতাবিবর্জিত। উপরন্তু এগুলো পরকালে জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি খাদ্য গুদামজাত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে, আল্লাহ তাকে দুরারোগ্য ব্যাধি ও দারিদ্র্য দ্বারা শাস্তি দেন।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২২৩৮) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (সংকট তৈরি করে) খাদ্যশস্য গুদামজাত করে সে অপরাধী।’ (মুসলিম শরিফ, হাদিস: ১৬০৫) এ প্রসঙ্গে মহানবী (সা.) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিনের খাবার মজুদ রাখে, সে আল্লাহ-প্রদত্ত নিরাপত্তা থেকে বেরিয়ে যায়।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস: ২০৩৯৬)
আল্লামা ইবনে হাজর হাইতামি (রহ.) গুদামজাত করে মূল্য বৃদ্ধি করাকে কবিরা গুনাহ বলে উল্লেখ করেছেন। (নিহায়াতুল মুহতাজ: ৩/৪৫৬)
গুদামজাত করে কিংবা অন্য কোনোভাবে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি করলে, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। অনেকে আবার বেশ দুর্ভোগেও পড়ে।
তবে গুদামজাত পণ্য যদি মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় বস্তু না হয় কিংবা এসব পণ্য চাহিদার অতিরিক্ত হয় বা গুদামজাতকারী বর্ধিত মুনাফা অর্জনের অভিলাষী না হয়, তাহলে পণ্য মজুদ রাখা অবৈধ নয়।


ব্যবসার লক্ষ্যই হলো মুনাফা লাভ। ইসলামে তা নিষিদ্ধ নয়। ইসলাম ব্যবসায়ীকে মুনাফা থেকে বঞ্চিত করে না। সাধারণভাবে ব্যবসা করা ও মুনাফা অর্জন বৈধ। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছেন।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত: ২৭৫)
তবে ইসলামে জালিয়াতি, ধোঁকাবাজি, ভেজাল মেশানো ও দালালি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। জিম্মি করে বা তার অজ্ঞতার সুযোগে অধিক মুনাফা অর্জন সম্পূর্ণ হারাম।
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বর্ধিত মুনাফা অর্জনের প্রচেষ্টা একটি সামাজিক অপরাধ। সামাজিকভাবেই এ ধরনের অপরাধগুলোর প্রতিরোধ করা চাই। বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা যেতে পারে। প্রয়োজনে আইন প্রণয়ন করতে পারে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) তার শাসনামলে যেমনটি করেছিলেন।


পেঁয়াজের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করতে বুধবার (২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর পলাশী বাজার পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। এছাড়াও চট্টগ্রামে উপজেলা প্রশাসন ও খুলনায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন বাজার ও গোডাউনে অভিযান চালিয়েছেন। তাদের এসব প্রচেষ্টা সাধুবাদযোগ্য।

 

 

মহানবী (সা.)-এর উম্মত নয় বড়দের অসম্মানকারী
                                  

 বিশ্ব প্রবীণ দিবস আজ। জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর এ দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। প্রবীণদের প্রতি সম্মান দেখানো সব সমাজেরই রীতি। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, দায়দায়িত্ব এবং তাদের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট থাকতে ইসলাম সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে। সাধারণত বয়স্ক-প্রবীণ বা বড় ও শ্রদ্ধাভাজনদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনে কেউ কার্পণ্য করে না। প্রবীণদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা ও সম্মান প্রদর্শন করা মুসলমানদের রীতি-ঐতিহ্য। প্রবীণদের প্রতি সম্মানসূচক ব্যবহার সমাজে শৃঙ্খলা ও আদর, মায়া-শান্তির পরিবেশ বজিয়ে রাখে। প্রবীণদের শ্রদ্ধা এবং নবীনদের স্নেহ করা রাসুল (সা.)-এর সুন্নত। হাদিসে রাসুল (সা.) এ সম্পর্কে বলেন, ‘যারা ছোটদের স্নেহ করে না এবং বড়দের সম্মান করে না তারা আমার দলের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৪২)


মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া উচিত। এটা মহানবীর শিক্ষা। এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘মানুষের সঙ্গে তাদের পদমর্যাদা অনুযায়ী আচরণ করো।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৪২)


প্রবীণদের কল্যাণ-সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যিক
বাস্তবিকভাবে পারিবারিক, সামাজিক ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রবীণদের অবদান অনস্বীকার্য। পরিবারের গঠন, উন্নয়ন ও সমাজের কল্যাণে কর্মময় জীবন ব্যয় করেÑএকসময়ে তারা বার্ধক্যে উপনীত হন। তখন প্রবীণদের সার্বিক কল্যাণ ও সুরক্ষা করা সমাজের আবশ্যিক কর্তব্য। কিন্তু বাস্তবে তাদের প্রতি সেবাযতœ ও সুযোগ-সুবিধার গুরুত্ব নেহাত কম।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের এক তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখের মতো প্রবীণ রয়েছেন। তাদের মধ্যে শতকরা ৮৮ ভাগ প্রবীণের কোনো না কোনো সন্তান পরিবারের বাইরে থাকেন। শতকরা ২০ জন হয় একাকী পরিবার-পরিজনহীন অথবা কেবল স্বামী-স্ত্রী মিলে বসবাস করেন। শতকরা ৫৯ জন প্রবীণ নারী বিধবা এবং ছেলে-সন্তানের মা। তারা ছেলে-সন্তানের সঙ্গে থাকেন না। নানা দুরবস্থার মধ্য দিয়ে তাদের জীবন কাটে। (তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৬ আগস্ট, ২০১৪)


পিতা-মাতাকে প্রাপ্য মর্যাদা না দিলে বিশৃঙ্খলা
অন্যদিকে সন্তানরা বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে প্রাপ্য মর্যাদা না দেওয়ার ফলে পারিবারিক শান্তি বিঘিœত হচ্ছে ও পরিবারপ্রথা হুমকির মুখে পড়ছে। বিভিন্ন ধরনের সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
অথচ পবিত্র কোরআনে (সন্তানদের শিক্ষামূলক) বলা হয়েছে, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে সামর্থ্য দাও, যাতে আমি তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। আমার প্রতি ও আমার পিতা-মাতার প্রতি তুমি যে অনুগ্রহ করেছ, তার জন্য এবং যাতে আমি সৎকাজ করতে পারি, যা তুমি পছন্দ করো।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত: ১৫)


মা-বাবার জন্য বৃদ্ধাশ্রম নয়
প্রসঙ্গত, আমাদের সমাজে একটি বিষয় ইদানীং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। সেটা হলো, বয়স্ক পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা। অথচ সন্তানেরা বেশ সামর্থ্যবান ও বিত্তশালী। প্রবীণেরা বৃদ্ধাশ্রমে যদিও খাওয়া-পরা সবকিছুই সঠিকভাবে পেয়ে থাকেন, কিন্তু নিজের আপনজনদের ছেড়ে একাকিত্ব জীবন যে কত কষ্ট ও বিষাদের তা বলাইবাহুল্য। অথচ ইসলামের বিধানে প্রবীণেরা ভালোবাসা, সেবাযতœ ও শ্রদ্ধা পাওয়ার অত্যধিক যোগ্য ও অধিকারী।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আমি মানুষকে পিতা-মাতার প্রতি সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি।’ (সুরা লোকমান, আয়াত: ১৪)
আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, সন্তানের ওপর পিতা-মাতার দায়িত্ব কী? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তারা উভয়েই তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। (ইবনে মাজাহ, পৃষ্ঠা নং: ২৬০)


হাদিসের সারমর্ম হচ্ছে, তাদের আনুগত্য ও সেবাযতœ জান্নাতে নিয়ে যায় এবং তাদের সঙ্গে অসৎ আচরণ ও তাদের অসন্তুষ্টি জাহান্নামে পৌঁছে দেয়।
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, পিতা-মাতার সন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পিতা-মাতার অসন্তুষ্টির মধ্যেই আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিহিত। (তিরমিজি, হাদিস: ২/১২)


অন্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করেন, আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ কোনটি? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘সময় মতো নামাজ পড়া।’ তিনি আবার প্রশ্ন করলেন, এরপর কোনো কাজটি সর্বাধিক প্রিয়? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।’ (বুখারি, হাদিস: ১/৭৬)
এ হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয়, দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ নামাজের পরে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় কাজ হলো পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।


পিতা-মাতা অমুসলিম হলেও সদ্ব্যবহার করতে হবে
অনেকে ধারণা করে থাকেন, পিতা-মাতার আনুগত্য ও সদ্ব্যবহারের জন্য তাদের অত্যন্ত নেককার ও সৎ ব্যক্তি হতে হবে, এমন ধারণা আদৌ ঠিক নয়। এমনকি যদি কারো পিতা-মাতা অমুসলিম হয়, তাহলে তাদের সঙ্গেও সদ্ব্যবহার করার জন্য ইসলাম জোর নির্দেশ দিয়েছে।
এ ব্যাপারে ইমাম বুখারি (রহ.) একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার মা অমুসলিম অবস্থায় আমার নিকট আসলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমার মা আমার নিকট দেখা করতে আসেন, আমি কি তার সঙ্গে সদাচরণ করতে পারবো? রাসুল (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ! তার সঙ্গে তুমি অবশ্যই সদ্ব্যবহার করো।’ (বুখারি হাদিস: ২/৮৮৪)


মা-বাবার সেবা ও সংগ্রাম-জিহাদের অবস্থান
ইসলামে পিতা-মাতার খেদমত-সেবা ও তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব এত বেশি যে, জিহাদ বা সংগ্রাম ফরজে কেফায়ার স্তরে থাকা পর্যন্ত পিতা-মাতার অনুমতি ছাড়া সন্তানের জন্য জিহাদে অংশগ্রহণ করা জায়েজ নয়।
বুখারি শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, একজন ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেন, আমি জিহাদে অংশ নিতে চাই, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পিতা-মাতা জীবিত কী আছেন? সে বললো, হ্যাঁ! রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি পিতা-মাতার সেবাযতেœ আত্মনিয়োগ করো। (বুখারি, হাদিস: ৮৮৩)
তাদের প্রতি কখনো অবজ্ঞা-অযতœ ও অবহেলা নয়
পুরো জীবন-যৌবন ব্যয় করে যারা সন্তানের ভবিষ্যত গড়েন, তাদের অনেকেই এক কালে ভীষণ একা ও অপাঙক্তেয় হয়ে পড়েন। সন্তানের অবহেলা, অবজ্ঞা ও অযতœ তাদের চরম কষ্টে ফেলে দেয়। বিষাদক্লিষ্টতা ও দুঃখভরা মনে দিনমান অতিবাহিত করতে হয়।
অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, সন্তানের অসহায়ত্বের সময় যেভাবে পিতা-মাতা তাকে স্নেহভরে সযতেœ প্রতিপালন করেছেন, পিতা-মাতার অসহায়ত্ব বা বৃদ্ধাবস্থায় তাদের সেভাবে লালন-পালন করা সন্তানের অবশ্য কর্তব্য।


এ মহৎ দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা অমানবিক, ইসলাম ও সভ্যতাবিবর্জিত কাজ। যারা এমন কাজ করে তাদের কোথাও ক্ষমা নেই। এমন কাজের কারণে পরকালে কঠিন শাস্তি পেতে হবে, আর দুনিয়াতেও নিজের বার্ধক্যাবস্থায় আরো চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
ইসলাম পিতা-মাতা, আত্মীয়স্বজন ও সর্বস্তরের প্রবীণদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও তাদের অসহায়ত্বের সময় সেবাযতœ করার তাগিদ দিয়েছে। একজন সুস্থ বিবেক ও মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন মানুষ তার বৃদ্ধ পিতা-মাতা এবং তার আত্মীয়-পরিজন ও অন্যান্য প্রবীণদের কখনো অবহেলা বা উপেক্ষা করতে পারে না। তাই আসুন, সব প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও যতœবান হই।

গাছের পাতার মতো গুনাহ ঝরে যে আমলে
                                  

 আল্লাহর জিকির করার অনেক বাক্য-কালেমা রয়েছে। তবে এমন চারটি বাক্য রয়েছে, যা আল্লাহ আল্লাহ তাআলার কাছে অতি প্রিয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা চারটি বাক্য নির্বাচন করেছেন- সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ও আল্লাহু আকবার। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৮০১২)


এ চারটি বাক্যের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা বর্ণনা করি, তার প্রশংসা করি, তার একত্ববাদের স্বীকারোক্তি দেই এবং তার বড়ত্ব-স্তুতি বর্ণনা করি। এ চারটি বাক্য মানুষের গুনাহগুলো ঝরিয়ে দেয় যেমন শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়। দিলেন, কোনো পাতা পড়লো না। তিনি আবার ঝাঁকি দিলেন; এবারও কোনো পাতা পড়লো না। তবে তৃতীয়বার ঝাঁকি দেওয়ার পর অনেকগুলো পাতা ঝররো। তখন নবীজী (সা.) বললেন, ‘নিশ্চয় সুবহানাল্লাহ, আলহামদু লিল্লাহ, লা- ইলা-হা ইল্লাহ ও আল্লাহু আকবার বলা- বান্দার গুনাহ ঝরিয়ে দেয়, যেমন (শীতকালে) গাছ তার পাতা ঝরায়।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৫৩৪)


বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত নফল ইবাদত করা অনেকের পক্ষে হয়তো সম্ভব হয় না। কিন্তু যে কোনো জায়গায়, যে কোনো মুহূর্তে আল্লাহর প্রশংসায় তার জিকির করা অনেক সহজ। কোনো সময়ক্ষেপণ হয় না, কাজেও ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। এ ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত বাক্য দুইটি অন্তত নিয়মিত পড়তে পারি। এতে আমাদের অজ্ঞাতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন গুনাহ আল্লাহ মাফ করে দেবেন।

জুয়া-বাজি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম
                                  

 সম্প্রতি ‘ক্যাসিনো-তত্ত্ব’কে কেন্দ্র করে জুয়া শব্দটি নতুনভাবে আলোচিত হচ্ছে। বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি সরকার-কর্তৃক নিষিদ্ধ। সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে কিছু অসাধু ব্যক্তি জুয়ার আসর জমিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। বলা বাহুল্য, মদ-জুয়া জাতীয় সবকিছু সামাজিক, পারিবারিক, আর্থিক ও নৈতিক সঙ্কট তৈরি করে। মানুষকে বহুবিধ ক্ষতির সম্মুখীন করে।


জুয়ার ইতিহাস বেশ প্রাচীন
ইসলামপূর্ব জাহেলি যুগেও জুয়া খেলার প্রচলন ছিল। তখন লোকেরা জুয়া-বাজি ইত্যাদিতে ভীষণ অভ্যস্ত ছিল। প্রায় সময় লোকেরা তাদের পরিবার ও সম্পদের ওপর বাজি ধরতো। হেরে গিয়ে চিন্তাক্লিষ্ট ও হতাশাগ্রস্ত হতো। সে দেখতো তার সম্পদ অন্যের হাতে। ফলে বিজয়ীর সঙ্গে বিরোধ, শত্রুতা ও ক্ষোভ-দ্বন্ধ শুরু হতো। (জাদুল মাসির, খ-: ০২, পৃষ্ঠা: ৪১৮)

জুয়ার যে পদ্ধতি জাহেলি যুগে প্রসিদ্ধ ছিল
জাহেলি যুগে দশ জনে সমান অঙ্ক দিয়ে একটা উট ক্রয় করতো, সেই উটের গোশত ভাগ-বাটোয়ারার জন্য জুয়ার তীর ব্যবহার করা হতো। ১০টি তীরের ৭টিতে কম-বেশি করে বিভিন্ন অংশ লেখা থাকতো এবং তিনটিতে কোনো অংশই লেখা থাকত না (এক প্রকার লটারী)। ফলে তিনজন কোনো অংশ পেত না এবং অন্য সাত জন তাদের প্রচলিত নিয়মে কম-বেশি অংশ পেত। এভাবে তারা দশ জনের টাকায় কেনা উট সাত জনে ভাগ করে নিত। বাকি তিনজন শূন্য হাতে ফিরে যেতো। (মুহাররামাতুন ইস্তাহানা বিহান্নাস, পৃষ্ঠা: ৫২)
জুয়ার বিভিন্ন ধরন ও রকম
বর্তমানে জুয়া-বাজির জন্য বিভিন্ন রকমের আসর বসে বিভিন্ন দেশে। কোথাও হাউজি আবার কোথাও সবুজ টেবিল নামে পরিচিত। ফুটবল ও অন্যান্য খেলাধুলার প্রতিযোগিতায়ও বাজি ধরা হয়। প্রাচীন পদ্ধতি ছাড়াও জুয়ার আরও বহু নতুন নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়েছে। যেমন- ফ্লাস, পাশা, বাজি রেখে ঘোড় দৌড়, তাস খেলা, চাক্কি ঘোরানো ও রিং নিক্ষেপ ইত্যাদি।
এগুলোর সবই হারাম। জুয়া হারাম হওয়ার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, শুধু নাম পরিবর্তনের কারণে বস্তু ও মূল প্রকৃতি এবং হুকুম পরিবর্তন হয় না। কাজেই প্রাচীনকালে প্রচলিত জুয়া সম্পর্কে যে হুকুম প্রযোজ্য ছিল, আধুনিককালের সব ধরনের জুয়ার ক্ষেত্রেও সেসব হুকুম সাব্যস্ত হবে।

‘ক্যাসিনো-সংস্কৃতি’ নতুন কিছু নয়

ক্যাসিনো ইটালিয়ান শব্দ। ক্যাসিনো বলতে বোঝায় যেখানে জুয়া, নাচ, গান ও বিভিন্ন খেলাধুলার সংমিশ্রণ থাকে। ১৬৩৮ সালে ইতালির ভেনিসে সর্বপ্রথম জুয়ার মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসা শুরু হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানা গেছে।

জুয়া সম্পর্কে বাংলাদেশের আইন
বাংলাদেশে জুয়া-বাজি ইত্যাদি নিষিদ্ধ। ১৮৬৭ সালে প্রণীত বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন দেশে এখনো প্রযোজ্য। আইন অনুযায়ী, কোনো ঘর-বাড়ি, স্থান বা তাঁবু জুয়ার আসর হিসেবে ব্যবহৃত হলে তার মালিক বা রক্ষণাবেক্ষণকারী, জুয়ার ব্যবস্থাপক বা এতে কোনো সাহায্যকারী তিন মাসের কারাদ- বা অনূর্ধ্ব ২০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন।
এধরনের কোনো ঘরে তাস-পাশা, কাউন্টার বা যেকোনো সরঞ্জামসহ কোনো ব্যক্তিকে ক্রীড়ারত (জুয়ারত) বা উপস্থিত দেখতে পাওয়া গেলে, তিনি এক মাস পর্যন্ত কারাদ- অথবা ১০০ টাকা অর্থদ- বা উভয় দ-ে দ-িত হতে পারেন।
পুলিশ জুয়া-সামগ্রীর খোঁজে যেকোনো সময় (বলপ্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবেন বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। (এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রহমানও রেসকোর্স ময়দানকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ঘোষণা করার সময়েই এ দেশে সব রকমের রেস জুয়া বন্ধের কথা বলেছিলেন।)

ইসলাম জুয়াকে যেভাবে দেখে
জুয়াকে আরবিতে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়। এমন খেলাকে ‘আল-কিমার’ ও আল-মায়সির’ বলা হয়, যা লাভ ও ক্ষতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। অর্থাৎ যার মধ্যে লাভ বা ক্ষতি কোনোটাই স্পষ্ট নয়। ইসলামের আবির্ভাবের আগে ও নবী করিম (সা.)-এর আগমনের সময় তৎকালীন মক্কায় নানা ধরনের জুয়ার প্রচলন ছিল। তিনি সবগুলোকে নিষিদ্ধ করেছেন।
ইসলামে জুয়া-বাজি ইত্যাদি স্পষ্ট হারাম
জুয়া সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট বর্ণনা এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শর ঘৃণ্য বস্তু, শয়তানের কাজ। সুতরাং তোমরা তা বর্জন করো, তাহলেই তোমরা সফলকাম হতে পারবে। শয়তান তো মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে চায় এবং তোমাদের আল্লাহর স্মরণ ও নামাজ আদায়ে বাধা দিতে চায়। তবে কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না।’ (সুরা মায়িদা, আয়াত: ৯০-৯১)
কোরআনে মদ ও জুয়াকে ঘৃণ্য বস্তু এবং শয়তানের কাজ বলা হয়েছে। এগুলো থেকে দূরে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। মদ-জুয়ার মাধ্যমে পরস্পর শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। উপরন্তু এগুলোর মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামাজ ও আল্লাহতায়ালার স্মরণ থেকে বিমুখ রাখে। মদ-জুয়া হারাম হওয়ার বিষয়টি অস্বীকারের কোনো সুযোগ নেই।

জুয়া সম্পর্কে হাদিসে যা বলা হয়েছে
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা মদ, জুয়া ও বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন।’ (বায়হাকি, হাদিস: ৪৫০৩; মিশকাত, হাদিস: ৪৩০৪)
আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, জুয়ায় অংশগ্রহণকারী, খোঁটাদাতা ও মদ্যপায়ী জান্নাতে যাবে না।’ (দারেমি, হাদিস: ৩৬৫৩; মিশকাত, হাদিস: ৩৪৮৬)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কেউ লাত-উজ্জার শপথ ইত্যাদি বললে, তবে সে যেন সঙ্গে সঙ্গে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে। আর কেউ যদি অন্যকে প্রস্তাব দেয়, এসো আমরা জুয়া খেলি; সে যেন (জরিমানাস্বরুপ) দান-সদকা করে। (বুখারি, হাদিস: ৪৮৬০; মুসলিম, হাদিস: ১৬৪৭; তিরমিজি, হাদিস: ১৫৪৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২০৯৬)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, নবী (সা.) যখন (মক্কা) এলেন, তখন কাবাঘরে প্রবেশ করতে অস্বীকৃতি জানান। কেননা কাবা ঘরের ভেতরে মূর্তি ছিল। তিনি নির্দেশ দিলে মূর্তিগুলো বের করে ফেলা হয়। (এক পর্যায়ে) ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)-এর প্রতিকৃতি বের করে আনা হয়। উভয় প্রতিকৃতির হাতে জুয়া খেলার তীর ছিল। তখন নবী (সা.) বললেন, আল্লাহ! ধ্বংস করুন। আল্লাহর কসম! অবশ্যই তারা জানে যে, [ইবরাহিম ও ইসমাইল (আ.)] তীর দিয়ে অংশ নির্ধারণের ভাগ্য পরীক্ষা কখনো করেননি। এরপর নবী (সা.) কাবাঘরে প্রবেশ করেন এবং ঘরের চারদিকে তাকবির বলেন। তবে ঘরের ভেতরে সালাত আদায় করেননি। (বুখারি, হাদিস: ১৫০৩)
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, ‘বলা হতো, উটের জুয়াড়িরা কোথায়? তখন দশজন প্রতিযোগী একত্র হতো এবং জুয়ার উটটির ক্রয়মূল্য হিসেবে দশটি উটশাবক নিৰ্দ্ধারণ করতো। তারা জুয়ার পাত্রে তীর স্থাপন করে সেটিকে চক্কর দেয়াতো, তাতে একজন বাদ পড়ে নয়জন অবশিষ্ট থাকতো। এভাবে প্রতি চক্করে একজন করে বাদ পড়ে শেষে মাত্র একজন অবশিষ্ট থাকতো এবং সে বিজয়ী হিসেবে তার শাবকসহ অন্যান্যের নয়টি শাবকও লাভ করতো। এতে নয়জনের প্রত্যেকে একটি করে শাবক লোকসান দিতো। এটাও একপ্রকার জুয়া।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নম্বর: ১২৭১)
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, ‘তীর নিক্ষেপে বাজিধরা জুয়ার অন্তর্ভুক্ত।’ (ফাতহুল কাদির, হাদিস: ১২৭২)
ফুদাইল ইবনে মুসলিম (রহ.) তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন, ‘আলী (রা.) বাবুল কাসর থেকে বের হলে তিনি দাবা-পাশা খেলোয়াড়দের দেখতে পান। তিনি তাদের কাছে গিয়ে তাদের ভোর থেকে রাত পর্যন্ত আটক রাখেন। তাদের মধ্যে কতককে তিনি দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন। (বর্ণনাকারী বলেন, যারা অর্থের আদান-প্রদানের ভিত্তিতে খেলেছিল, তিনি তাদের রাত পর্যন্ত আটক রাখেন, আর যারা এমনি খেলেছিল তাদেরকে দুপুর পর্যন্ত আটক রাখেন।) তিনি নির্দেশ দিতেন, লোকজন যেন তাদের সালাম না দেয়।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস: ১২৮০)
জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম
সব ধরনের জুয়া-বাজি ইসলামে অবৈধ। জুয়া-বাজি থেকে প্রাপ্ত সবকিছু হারাম। হারাম ভোগ করে ইবাদত-বন্দেগি করলে, আল্লাহ তাআলা তা কবুল করেন না। তাই মুসলমান হিসেবে সব

ধরনের জুয়া-বাজি থেকে দূরে থাকা আবশ্যক।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, প্রত্যন্ত গ্রামেও বসছে জুয়ার আসর। কৃষক, তরুণ, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছেন মরণনেশা জুয়ায়। এসব আসরে উড়ছে লাখ লাখ টাকা। মাদকের মতোই জুয়ার গ্রাস এখন দৃশ্যমান। এমতাবস্থায় অনৈতিক এসব কর্মকা- বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়াকে সাধুবাদ জানাতে হয়।

 

আমাকে অপরাধ-জীবন থেকে ইসলাম রক্ষা করেছে
                                  

 নীল চোখের শ্মশ্রুম-িত প্রৌঢ়-ব্যক্তি। নাম রবি মায়েস্ত্রেসি। আট বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর আগে তার জীবন কেটেছে অপরাধ-জগতের অন্ধকারে। নতুন জীবনে তার অভিষেক কেমন ছিল, পরবর্তীকালে কোনো বিপত্তির মুখোমুখি হয়েছেন কিনাÑএসব নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বহু সাংস্কৃতিক ও বহুভাষিক সংবাদমাধ্যম এসবিএসডটকম.এইউর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। পাঠকদের তার সেই আলোচনার সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।


জন্ম ও বেড়ে ওঠা
আমার জন্ম ১৯৮১ সালে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। আমার যখন সাত বছর বয়স, তখন আমরা আমেরিকায় চলে যাই।তখন আমার বাবা-মা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন। বাবা তখন নুমিয়া ও নিউ ক্যালেডোনিয়ায় হোটেল-ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
আর মায়ের আমেরিকায় কিছু বন্ধু-বান্ধব ছিল। আমরা ছুটিতে গিয়েছিলাম। মায়ের তখন একটি কাজ জুটেছিল। কিছুদিন পর মা পুনরায় বিয়ে করেন।
আমরা নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে থাকতাম। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, তখন টিভিতে দেখা অভিনয়ের মতো কিছু ঘটেছিল। ছোট ছেলে-মেয়েরা সবাই কেমন ক্ষিপ্ত-মাতাল ও উন্মত্ত হয়ে যাচ্ছিল। এটি হয়তো আমার জন্য অনেক আনন্দের ছিল। তবে ‘ভুল ধরনে’র আনন্দ ছিল।


ধর্ম আমার বেড়ে ওঠার অংশ ছিল। এখনো মনে পড়ে, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন মা আমাকে প্রার্থনা করতে উৎসাহ দিতেন। তিনি আমাকে গির্জায় নিয়ে যেতেন। কখনো আমরা ক্যাথলিক কোনো গির্জার কাছে যেতাম। আবার কখনো পেন্টিকোস্টালে যেতাম। তবে আমি যুবক থাকাকালীন প্রার্থনা করা বা এখানের বাইরে কিছু নিয়ে ভেবেছিÑএমন কথা মনে করতে পারছি না।আমার যখন ১৬ বছর বয়স, তখন আমরা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসি। মা তখন বলেননি আমরা আমেরিকা থেকে কেন ফিরে যাচ্ছি। তবে আমি মনে করি, ফিরে যাওয়ার কারণ ছিলাম আমি নিজেই। কেননা, ভবঘুরে হয়ে আমি যেসব ছেলেপুলের সঙ্গে চলছিলাম, সেটা আমার ভুল পথ ছিল।
একদিন মা আমাকে বললেন, আমরা ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছি। কিন্তু টিকিটে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল যে, এটা শুধু যাওয়ার টিকিট। মা বুঝতে পেরেছিলেন, আমাকে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়াই তার একমাত্র উপায়।


মন্দ-অপরাধের গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া
অস্ট্রেলিয়ায় এসে কয়েক বছর আমি ঘোরাফেরা করি। আমার বন্ধুদের সঙ্গে আমেরিকায় ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। না পেরে খুব বেশি হতাশাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমি এখানকার স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সিস্টেম ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যেই আমি বাদ পড়ি।
পরে মার্কেটিংয়ের একটি কাজ পেয়েছিলাম। ঘরে ঘরে গিয়ে কাজটি করতে হতো। কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই স্কুল ছেড়ে এ ধরনের কাজে লেগে গিয়েছিলাম। পরে একটি ব্যাংক ও সেন্টারলিঙ্কে কাজ করেছি। এই দুইটি ভালো কাজ ছিল। তবে মদ্যপান আমার জীবন-পটভূমিতে সবসময় ছিল। এ ছাড়া সাপ্তাহিক ছুটিতে বাইরে গিয়ে আমি পার্টি করতাম।
একটি বিষয় আমি পর্যবেক্ষণ করেছি, বিনোদনের জন্য আপনি যখন ড্রাগ নেবেন, তখন এগুলো আপনার জীবনে কিছু একটা ঘটিয়ে বসবে। পরে এগুলো বিনোদনমূলক আর থাকে না।


আমার সমস্যা ছিল যেখানে
২২ বছর বয়সে আমি বিয়ে করি। আমি আমার বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সারাটা সময় ড্রাগ নিয়েছি। এমনকি যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে, তখনও আমি মদপান করেছি। তখন আমি পুরো নাকাল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি প্রচলিত জীবনে ব্যর্থ হয়েছি। জীবনটা ভালোভাবে উপভোগ করতে ও কাটাতে পারি না। ফলে মাদক ও অপরাধ আমার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল।


এভাবে আমি নিজেকে হারিয়ে ফেলি। খারাপ, অসাধু কাজ ও অপরাধে নিজের অস্তিত্ব বিলীন করতে থাকি। একসময় অপরাধ-জগতের উদাহরণ হয়ে উঠি। ড্রাগ-সম্পৃক্ত যেকোনো কিছুতে নিজেকে জড়ানো ছিল আমার জন্য স্বাভাবিক। সুন্দর ও আনন্দের জীবন কাটানো আমার জন্য অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। জীবন নিয়ে আমি তৃপ্ত ও খুশি হতে পারছিলাম না।
২০০৭ সালে আমি গ্রেফতার হই। মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য আমাকে ১০ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। সত্যি কথা বলতে, সেই সময়টা আমার জন্য খুব ভালো ছিল। গ্রেফতারের সময় আমার শরীর- স্বাস্থ্য ভালো ছিল না। কারণ আমি টানা দুই-তিন রাত জেগে থাকতাম। কখনো এরচেয়ে বেশি হতো। পার্টি-ফূর্তি ইত্যাদিতে লিপ্ত থাকতাম। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করতাম না। কিন্তু যখন গ্রেফতার হলাম, তখন ঠিকমতো খাবার ও ঘুম পেয়ে আবার সুস্থ হয়ে উঠতে এটি আমার জন্য আশীর্বাদ ছিল।
জেল-জীবন আমার চোখ খুলে দেয়। কিন্তু যখন কারাগার থেকে বের হলাম, তখন আমি সরাসরি আগের অন্ধকার জগতে ফিরে যাই। সামান্য বিরতিও নেইনি। এক মুহূর্তও আমার মনে হয়নি যে, আমি এদের সঙ্গে চলিনি। কারণ এই লোকদের সঙ্গেই ঠিক আগে আমি একই ধরনের কাজ করে এসেছি।


পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন
কখনো আমার মতো মানুষদের জীবনে ভিন্নতা দেখা দেয়। খারাপ কাজে আসক্ত থাকার পর আমি হঠাৎ নিজের আধ্যাত্মিক যতœ-চর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠি। নিজের ব্যক্তিত্ব ও আমার চরিত্রের প্রতি নজর দিতে শুরু করি। বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমি নিজের কাছে সবচেয়ে খারাপ রূপে পরিণত হয়েছি।
আমি পুরোনো অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে শুরু করি। নিজের কাছে ও অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সৎ হয়েই এমনটা আরম্ভ করি। আমি গোল্ড কোস্টের ব্যাপটিস্ট গির্জায় যাওয়া-আসা শুরু করি। এই অঞ্চলের অভাবীদের পানাহার করানো সঙ্গে নিজেকে জড়িত করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাবার রান্না করে তাদের জন্য নিয়ে যেতাম। এই জাতীয় কাজগুলো করে আমি বুঝতে পারছিলাম যে, নিজেকে পরিবর্তন করা এত কঠিন নয়। আমি চাইলে পরিবর্তন করতে পারবো।


যেসব লোক ধর্মানুরাগী এবং সৎনিষ্ঠ কাজে জড়িতÑতাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করাটা আমার জন্য ভালো দিক ছিল। কেননা আমি ধর্মহীন যাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, তারা একে অপরের প্রতি সত্যই খারাপ-মন্দ আচরণ করতো। মাদকাসক্তি, মাদক বিক্রি, মাদক ও লেনদেন সংক্রান্ত কাজের জন্য একে অপরের আর্থিক এবং বিভিন্ন ক্ষতি করায় অভ্যস্ত ছিল। মূলত এটি ছিল ‘নিকষ আঁধারির মাঝে আলো হারিয়ে যাওয়া’র নামান্তর।
আমি ইশ্বরের প্রতি বিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিকভাবে খ্রিস্টধর্মে আমি তৃপ্তি-সন্তুষ্টি বোধ করিনি। কিন্তু জীবনের অন্য দিকে আমি এমন ছিলাম যে, সর্বদা কোরআন পড়তে ও কোনো একটি মসজিদে যেতে চাইতাম।


একদিন আমার খুব খারাপ দিন কাটছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল, কারও কাছে আমার যাওয়া দরকার। এর কয়েক সপ্তাহ আগে মুহাম্মদ নামের এক ক্যাব ড্রাইভারের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। তার ফোন নম্বর আমার কাছে ছিল। তাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করলাম, আমি কি তোমার সঙ্গে মসজিদে যেতে পারি? তিনি আমাকে কারণ জিজ্ঞাসা করলে আমি বলি, ‘দেখুন, আমার দিকনির্দেশনা প্রয়োজন। সাহায্যও দরকার।’
সেদিন সন্ধ্যায় গাড়িতে করে তিনি আমাকে নিয়ে গেলেন। মসজিদে গিয়ে আমি একজন ইমামের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার ভাইয়েরা সেখানে কিভাবে প্রার্থনা করে তা দেখেছি। এটি আমার ভেতরে আলোর অনুভূতি জাগিয়ে তুলে। সেখান থেকে বাড়ি ফিরে আসার পর আমার আত্মীয়তার আবেশ অনুভূত হচ্ছিলো।


এটি আমার পুরো জীবন বদলে দিয়েছে
আমি যেদিন কালেমা শাহাদাত পড়েছিলাম, সেই রাতে আমার সবকিছু বদলে যায়। ড্রাগ ব্যবহারে আমার আর কোনো ইচ্ছে থাকলো না। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি পাঁচ বছরের জন্য পরিচ্ছন্ন হয়ে গেছি। এটি আমার পুরো জীবনটাই বদলে দিয়েছে।
আমি নিজেকে রূপান্তর করার জন্য এক বছর আগে যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, যে উপায়-নিয়ম এবং নিজের কাছে নিজে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি হওয়ার প্রচেষ্টায় ছিলাম, কালেমায়ে শাহাদাত আমাকে সেটি দিয়েছে।


ইসলামের প্রতি আমার আগ্রহ ও আকৃষ্টের একটি কারণ ছিল, যে মুসলিমদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল তাদের ব্যক্তিত্ব ও আচরণের শক্তি। তারা কখনো ড্রাগ ও মদ্য-পানীয় ব্যবহার করেনিÑএ বিষয়টি সত্যই আমাকে আকৃষ্ট করেছিল। আমি যেভাবে জীবনযাপন করছিলাম, এটি তার বিপরীত ও সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। আমার মনেও হয়েছিল, চরিত্রের এমন প্রভাব-শক্তি থাকা প্রয়োজন। একজন যুবক হিসেবে এমন প্রভাবের প্রতি খুব আকৃষ্ট হয়েছিলাম।
ইসলামচর্চা ও অনুসরণের জন্য আমার পক্ষে তখন ভালো কোনো ব্যবস্থা ছিল না। আমি সব ধর্মতত্ত্বের সঙ্গে একমত হয়ে বিশ্বাস করি যে, কোরআন হলো আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ ধর্মগ্রন্থ। এখন বাইবেল ও এর আগের ধর্মগ্রন্থগুলোর প্রতি আমার নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ আমি জেনেছি, তাতে সত্য রয়েছে। একজন ‘সুবিধাবাদী’ খ্রিস্টান হিসেবে এই গ্রন্থগুলোর প্রতি আগে আমার বিশ্বাস ছিল কিনা আমার জানা নেই।


আমি বলতে চাই, আমার জীবনের ৯৯% মানুষ আমার সমর্থক ছিলেন। কেউ ভাবতেও পারেনি যে, আমার পরিবর্তন হতে পারে। তারা আমার ধর্মতত্ত্বের সঙ্গে একমত হোক বা না হোক; কিন্তু আমি বিশ্বাস করি, তারা আমার জীবনের পরিবর্তিত রূপ দেখে নিশ্চয়ই খুশি।

ইসলামে আমি দীক্ষিত হওয়ার তিন মাস পর আমার মা ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হন। আমি জীবনে ইতিবাচক যেকোনো কাজ করেছি, আমার মা তাতে বড় সমর্থক ছিলেন। এখনও আমি যেমন বিশ্বাস করি, তিনি ঠিক তেমন বিশ্বাস করেন। আমি যেমন ইসলাম চর্চা ও অনুসরণ করি, তিনিও আমার মতোই অনুশীলন করেন।
ছয় বছর আগে আমি গোল্ড কোস্ট থেকে ব্রিসবেনে চলে আসি। স্ল্যাক ক্রিক মসজিদটি আমার স্থানীয় মসজিদ। তবে আমি হল্যান্ড পার্কের মসজিদে প্রচুর সময় ব্যয় কাটিয়েছি। সেখানে ইমামের কাছ থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সব মসজিদের মতো এই মসজিদেও প্রত্যেকে একে অপরের সহযোগী ও বন্ধু-বাৎসল্য।


ভালোর সঙ্গে খারাপ
একসময় আমাকে সন্ত্রাসী বলা হয়েছিল। কিন্তু এটি আমার জন্য ‘হাঁসের পিঠে জল’র মতো। কিন্তু যদি দুর্বল ও সাধারণ কাউকে অযথা এমনটি বলা হয়, তাহলে আমার রাগ লাগে। যদি আমার ব্যাপারে বলা হয়, অসঙ্গত হলেও মেনে নেওয়া যায়। কারণ আমি নীল চোখের একজন অস্ট্রেলিয়ান। শরীরে ক্রস-ট্যাটু ইত্যাদির কারণে ভিন্ন রকম লাগতে পারে।
জীবনে প্রথমবার যখন আমার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়, তখন ভিন্ন রকম একটি অনুভূতি কাজ করে। এটি অদ্ভুত রকমের অনুভূতি যে, কেউ আপনাকে ঘৃণা করবে আপনার কোনো কাজ কিংবা অন্য কিছুর কারণে নয়; বরং আপনার বিশ্বাসের কারণে। অথচ তারা আপনাকে না জেনে আপনার প্রতি ঘৃণা পোষণ করে।
এখন আমি কমিউনিটির প্রচার-উন্নয়নে কাজ করি। আমি এমন লোকদের খোঁজ করি, যাদের প্রতি সহায়তা করা জরুরি। ‘আপনার যদি কিছু দরকার হয়, তবে আমাদের খবর দিন’ কথার বিপরিতে সরাসরি নিজে খোঁজ নিয়ে সহায়তা করাই আমার কাছে মূল্যবান। বাইরে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলতে এবং আমার কাজ সম্পর্কে জানাতে ও সহায়তা দিতে আমার সুখ লাগে।

 

নফল নামাজ পড়া যখন মাকরুহ
                                  

দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ। এতে মোট সতেরো রাকাত নামাজ (ফরজ) রয়েছে। এ ছাড়া বাকি নামাজগুলো ওয়াজিব, সুন্নতে মুআক্কাদা ও নফলে বিভক্ত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে-পরে নির্ধারিত নফল নামাজ রয়েছে।


কিছু নফল নামাহ হলো- তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত ও আউওয়াবিনের নামাজ। এ ছাড়া আরও কিছু অনির্ধারিত নফল নামাজ রয়েছে। তবে কিছু সময়ে নফল নামাজ আদায় করা মাকরুহ। সে সময়গুলো উল্লেখ করা হলো

    • ফজর উদয় হওয়ার পর দুই রাকাত সুন্নত থেকে অতিরিক্ত পড়া মাকরুহ। (মুসলিম, হাদিস: ১১৮৫)
    • ফজর নামাজের পর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত নফল বা সুন্নত নামাজ পড়া মাকরুহ। (বুখারি, হাদিস: ৫৫১)
    • আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। (বুখারি, হাদিস: ৫৫১)
    •  ইমাম যখন জুমার খুতবার জন্য বের হন, তখন থেকে ফরজ নামাজ থেকে ফারেগ হওয়া পর্যন্ত নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। (কানযুল উম্মাল: ২১২১২)
    • ইকামাতের সময়। (মুসলিম, হাদিস: ১১৬০)
    • তবে ফজরের সুন্নতের অত্যধিক গুরুত্বের কারণে ইকামাতের পরও মসজিদের কোনো কোণে তা আদায় করতে বলা হয়েছে; যদি দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার পুরোপুরি সম্ভাবনা থাকে। (মুসলিম, হাদিস: ১১৯৩; বুখারি, হাদিস: ১০৯৩)
    • সময় যদি এত কম হয় যে, সুন্নত পড়তে গেলে ফরজ নামাজ শেষ হয়ে যাবে; তাহলে সুন্নত পড়া মাকরুহ।
    • খুব ক্ষুধা এবং খানার প্রতি তীব্র চাহিদা হলে ওই অবস্থায় নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। কেননা এর ফলে খাবারের সঙ্গেই মন লেগে থাকবে; নামাজের সঙ্গে নয়। (মুসলিম, হাদিস: ৮৬৯)
    • মল-মূত্রের বেগ হলে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৬৯)
    • এমন কোনো বস্তুর উপস্থিতিতে, যে বস্তু নামাজ থেকে বিমুখকারী এবং খুশু-খুজুতে ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী। (মুসলিম, হাদিস: ৮৬৯)
    • ঈদের নামাজের আগে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ।
    • ঈদের নামাজের পর ঘরেও কোনো নামাজ নেই, ঈদগাহেও নেই। (ইবনে মাজাহ: ১২৮৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ২/১৭৮, ১৭৯; মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৩১৬২)
    • আরাফার ময়দানে, বিশেষ করে হজযাত্রীদের জন্য জোহর আর আসরের মধ্যবর্তী সময়ে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। মুজদালিফায় বিশেষ করে হজযাত্রীদের জন্য মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে। (মুসলিম, হাদিস: ১২৩৭; বুখারি, হাদিস: ১৫৬২; নাসায়ি, হাদিস: ৬৫৪)

     

 

গিবত করা যায় যেসব মানুষের
                                  

কোনো ব্যক্তি যদি এমন হয় যে ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানুষ তাকে অনুসরণ করে, অথচ তার চিন্তাচেতনার মধ্যে ভ্রান্তি আছে, এমন ব্যক্তির অনিষ্টতা ও ভ্রান্তি বিষয়ে তুলে ধরা কি গিবত হবে?
কোনো ব্যক্তি যদি ধর্মীয় ক্ষেত্রে মানুষের কাছে অনুসরণীয় ব্যক্তি হয়, আর তার দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাচেতনা ভ্রান্ত হয়, তাহলে মানুষের সামনে তার ভ্রান্ত চিন্তা তুলে ধরা যাবে, যাতে মানুষ ওই ব্যক্তির বিভ্রান্তিপূর্ণ চিন্তাচেতনার শিকার হয়ে পথভ্রষ্ট না হয়। এটা শরিয়তের দৃষ্টিতে গিবত হবে না। বরং মানুষের দ্বিনের হেফাজতের জন্য ভারসাম্য বজায় রেখে ঝগড়া-বিবাদ থেকে বেঁচে থেকে, পরিবেশ-পরিস্থিতি ও সর্বসাধারণের কল্যাণের প্রতি লক্ষ করে সেই ব্যক্তির বিভ্রান্তিমূলক চিন্তাধারা সম্পর্কে আলোচনা করা এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রয়োজন।


ইমাম নববী (রহ.) ‘রিয়াজুস সালেহিন’ কিতাবে এবং ইমাম গাজ্জালি (রহ.) ‘ইহইয়া’ কিতাবে লিখেছেন, ধর্মীয় উদ্দেশ্যে একজন মৃত বা জীবিত ব্যক্তির গিবত করা বৈধ, বিশেষত যখন এ ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকে না। আর ছয় স্থানে এই বৈধতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চতুর্থ নম্বর হলো, কোনো ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে মুসলমানদের হেফাজত করা এবং তাদের নসিহত করা। আর পঞ্চম নম্বর হলো, যদি সেই ব্যক্তি নিজেই নিজের বিদআত প্রকাশ করে, তাহলে শুধু ততটুকুই মানুষের সামনে বলা যাবে, যতটুকু ওই ব্যক্তি প্রকাশ করেছে। এর বেশি তার কোনো দোষত্রুটি নিয়ে আলোচনা করবে না। এ ছাড়া এ বিষয়ে প্রমাণ রয়েছে, মাওসুয়াহ ফিকহিয়া কুয়েতিয়্যাহর ৩১ নম্বর খ-ের ৩৩৫ ও ৩৩৬ পৃষ্ঠায়। আদুররুল মুখতারেও এ সম্পর্কিত প্রমাণ রয়েছে। (খ- : ৯, পৃষ্ঠা-৫৮৬ ও ৫৮৬, মাকতাবায়ে জাকারিয়া, দেওবন্দ)


ফকিহ আবুল লাইস সমরকন্দি ‘তাম্বিহুল গাফিলিন’ কিতাবে লিখেছেন, গিবত চার ধরনের। এর মধ্যে একটি বৈধ মুবাহ তথা শরিয়ত কর্তৃক অনুমোদিত। আর তা হলো, যে ব্যক্তি নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে বলে অথবা বিদআতের সঙ্গে জড়িত। সুতরাং যদি ফাসেকের ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে কিছু বলে, তা গিবত তো হবেই না, বরং বক্তব্যদাতাকে বিশেষ সম্মান দান করবে। [ফতোয়া দেওয়ার তারিখ : ৭ এপ্রিল ২০১৯] (সংক্ষেপিত)


যে ছয়টি কারণে গিবত করা জায়েজ
এক. জুলুম থেকে নিজে বাঁচতে, অন্যকে বাঁচাতে জালিমের ব্যাপারে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে একে প্রতিহত করতে পারবে।
দুই. খারাপ কাজ বন্ধ করার জন্য সাহায্য চাইতে এমন ব্যক্তির কাছে গিবত করতে পারবে, যে তা বন্ধ করার ক্ষমতা রাখে।
তিন. কোনো বিষয় সম্পর্কে ইসলামি বিধান জানতে গিবত করে মূল বিষয় উপস্থাপন করা জায়েজ আছে। যেমন এ কথা বলা যে অমুক ব্যক্তি আমাকে আঘাত করেছে, আমার জন্য কি তাকে আঘাত করা জায়েজ? ইত্যাদি।
চার. সাধারণ মুসলমানদের ধোঁকা ও প্রতারণা থেকে বাঁচাতে গিবত করা জায়েজ। যেমনÑসাক্ষ্য সম্পর্কে, হাদিস ও ইতিহাস বর্ণনাকারী সম্পর্কে, লেখক, বক্তা প্রমুখ সম্পর্কে জনসমক্ষে বলা বৈধ, যাতে মানুষ তার ধোঁকা ও মিথ্যাচার থেকে বাঁচতে পারে।
পাঁচ. প্রকাশ্যে যদি কেউ গর্হিত কাজ করে, তাহলে তার অপকর্ম এমন ব্যক্তির কাছে বর্ণনা করা যায়, যারা এর দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে পারে। যেমনÑকেউ প্রকাশ্যে মদ খায়, তাহলে মানুষের সামনে তার সম্পর্কে বলা জায়েজ। যেন এমন খারাপ কাজ করতে ভবিষ্যতে কেউ সাহস না করে।
ছয়. কারো পরিচয় প্রকাশ করতে তার গিবত করা যায়, যদি সে এই নামে প্রসিদ্ধ হয়। যেমনÑকেউ কানা। তার পরিচয় দেওয়া দরকার। কিন্তু কানা বললেই সবাই চিনে ফেলে। তখন কানা বলা বাহ্যিক দৃষ্টিতে গিবত হলেও এটা বলা বৈধ। এতে গিবতের গুনাহ হবে না। (তাফসিরে রুহুল মাআনি : ১৪/২৪২, সুরা : হুজরাত, আয়াত : ১২)

 


   Page 1 of 40
     ইসলামী জগত
যে সময়ে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ
.............................................................................................
১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
শিশু নির্যাতন রোধে ইসলামের নির্দেশনা
.............................................................................................
যে সাতটি অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে
.............................................................................................
আজানের সময় করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
ছোটমনিদের জন্য ইসলামিক আলোচনা
.............................................................................................
শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবে ‘র‌্যাগিং প্রথা’ বন্ধ হলে
.............................................................................................
‘নিজের মন্দকাজ যদি তোমাকে পীড়া দেয়, তবেই তুমি মুমিন’
.............................................................................................
শিক্ষকের মর্যাদা দানে ইসলামের উৎসাহ
.............................................................................................
আল্লাহ শাস্তি দেবেন অবৈধভাবে পণ্যের মূল্য বাড়ালে
.............................................................................................
মহানবী (সা.)-এর উম্মত নয় বড়দের অসম্মানকারী
.............................................................................................
গাছের পাতার মতো গুনাহ ঝরে যে আমলে
.............................................................................................
জুয়া-বাজি ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম
.............................................................................................
আমাকে অপরাধ-জীবন থেকে ইসলাম রক্ষা করেছে
.............................................................................................
নফল নামাজ পড়া যখন মাকরুহ
.............................................................................................
গিবত করা যায় যেসব মানুষের
.............................................................................................
যে পাঁচটি ভুল জুমার দিনে কাম্য নয়
.............................................................................................
নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম
.............................................................................................
মুসলিমদের ঐক্য জরুরি বিশ্বশান্তির জন্য
.............................................................................................
মুসলমানরা সাহায্য চাইবে একমাত্র আল্লাহর কাছে, কোন পরাশক্তির কাছে নয়
.............................................................................................
আরবি মাসগুলোর নামের অর্থ ও নামকরণের কারণ
.............................................................................................
গুনাহ মুছে দেয় ‘তাহিয়্যাতুল অজু’র নামাজ
.............................................................................................
সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্
.............................................................................................
আকিকা কী ও তার হুকুম কী?
.............................................................................................
হজের পর হাজিদের করণীয়
.............................................................................................
শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে বিবাদ নিষ্পত্তি
.............................................................................................
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ
.............................................................................................
আরাফার দিবসে করণীয় আমল
.............................................................................................
জুমু‘আর দিনের বিধান
.............................................................................................
দৈনন্দিন কাজে সুন্নাতের চর্চা
.............................................................................................
সাদাকার সওয়াব কি শুধু ধনীরাই পাবে?
.............................................................................................
জাহেলী যুগে কৃতকর্মের পরিণাম
.............................................................................................
যে বিষয়ে হজযাত্রীদের জানা জরুরি
.............................................................................................
বড় ইবাদত পড়াশোনা ও অধ্যয়ন
.............................................................................................
স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ
.............................................................................................
মুরব্বিদের প্রতি আচরণ
.............................................................................................
তাওহিদের মর্মবাণী
.............................................................................................
নফল নামাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মা-বাবার সেবা করা
.............................................................................................
হজের সফরে যে ভূল থেকে দূরে থাকতে হবে
.............................................................................................
অজু ছাড়া ভুলক্রমে নামাজ পড়লে করণীয়
.............................................................................................
দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিভিন্ন আমল
.............................................................................................
যে সাহাবি ইসলামে প্রথম চিকিৎসক ছিলেন
.............................................................................................
হাসি-রসিকতা করেও মিথ্যা বলা পাপ
.............................................................................................
যাদের ওপর হজ ফরজ
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যে ভেজাল মেশানো জঘন্য অপরাধ
.............................................................................................
ঘুমের কারণে ফজর নামাজ পড়তে না পারলে যা করতে হবে
.............................................................................................
দিবাগত রাত পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
জাকাত দিতে হয় যেসব সম্পদের
.............................................................................................
রমাজনের শেষ ১০ দিনে আমলের বিশেষ গুরুত্ব
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]