| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ


বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক মুসলমান। মুসলমান নারী ও পুরুষ কোরআন ও হাদিস অনুসরণ করে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভের চেষ্টা করে। ইসলাম ধর্মে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলাদেশের নারীরা পথ হারাচ্ছে। সমানাধিকারের নামে তারা সমাজ ও সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষরা নারীর তত্ত্বাবধায়ক; এ কারণে যে আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।’ তাই সমানাধিকার কিংবা নারী স্বাধীনতার নাম দিয়ে উচ্ছৃ´খল আচরণ করা কোন মুসলিম নারীর জন্য শোভনীয় নয়। তবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পুরুষরাও সীমা লংঘন করতে পারবে না। সূরা বাকারায় আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা তোমাদের জন্য আবরণ এবং তোমরা তাদের জন্য আবরণ’। তাই সংসারে নারী-পুরুষকে সংযম ও সহনশীলতা এবং ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে হবে।


স্ত্রী হল সংসারের রানী। স্বামী পেশাগত কারণে ঘরের বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। এ সময় স্ত্রীর দায়িত্ব হচ্ছে সংসার দেখাশুনা করা। স্বামী বাইরে থেকে ফিরলে তাকে সাদরে হাসিমুখে বরণ করে নিতে হবে। স্ত্রীর হাসিমাখা মুখ দেখে স্বামীর সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। স্ত্রী নিজে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং স্বামীকেও ইবাদত করতে সাহায্য করবে। তবে নফল এবাদত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্বামীর অনুমতি নেবে। স্ত্রী যদি স্বামীর কথায় কর্ণপাত না করে তাহলে তাকে বুঝাতে হবে। প্রয়োজনে তাকে প্রতীকী শাস্তি দেয়া যাবে। তবে ধর্মের দোহাই দিয়ে তাকে শারীরিক বা মানসিকভাবে গুরুতর শাস্তি দেয়া যাবে না। নারী একদিকে গৃহবধূ, অন্যদিকে সেবাদানকারিণী। তাই স্বামী অসুস্থ হলে তাকে সেবা করতে হবে। প্রয়োজনে তার কাছে রক্ষিত সম্পদও ব্যয় করতে হবে। হজরত ইয়াকুব নবী ১৮ বছর কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত থাকলে তার স্ত্রী রহিমা তাকে সুষ্ঠুুভাবে সেবা করেন। রাসূল (সা.) বলেন, নারীর জন্য জিহাদ হল তার স্বামীর সেবা করা।


সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছে তাদের ব্যবহার কর।’ তাই বলে পুরুষদের স্বৈরাচারী হওয়ার সুযোগ নেই। একজন স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রীর চোখে ভালো হতে হবে। একজন ব্যক্তির চোখে ভালো হতে হলে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তার চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হবে; এটাই স্বাভাবিক। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নারীদের প্রতি কল্যাণকামী হও। তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম (তিরমিজি)। স্বামী তার স্ত্রীর প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখবে, তবে কেউ চাহিদা পূরণে অক্ষম হলে তাকে এজন্য হেয় করা যাবে না।


স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলেই সংসার। স্বামীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন স্ত্রীর প্রাথমিক দায়িত্ব। এ দায়িত্বে অবহেলা করলে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মাধ্যমে সংসারে শান্তির সুবাতাস বয়ে যায়। স্ত্রী কোন কাজে ভুল করলে তাকে অন্যের সামনে হেয় করা যাবে না, ঠিক তেমনিভাবে স্বামীর সামর্থ্যরে বাইরে তার কাছে কিছু চাওয়া যাবে না। শুধু ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্যই এ নিয়ম নয়, হিন্দু ধর্মেও কঠোরভাবে স্বামীর সেবা করার কথা বলা হয়েছে। স্বামী কিসে সন্তুষ্ট হন তা ভেবে দেখতে হবে। তার মেজাজ-মর্জি বুঝে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। মে ২০১২ বোম্বে হাইকোর্ট বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত এক মামলায় নির্দেশ দেন ‘সীতা তার স্বামী রামের সঙ্গে বনবাসেও গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ১৪ বছর কাটিয়েছেন। সব স্ত্রীর উচিত সীতার আদর্শ অনুসরণ করা। স্ত্রীকে হতে হবে সীতার মতোই পতিপরায়ণ।’ যারা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাচ্ছেন তারা জানেন কী ওইসব দেশে যে কোন মুসলিম দেশের চেয়ে বেশি পরিমাণে নারী নির্যাতন হচ্ছে? তাই পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে গা না ভাসিয়ে ইসলামের ছায়াতলে এসে আমাদের মা-বোনেরা স্বামীর সেবায় রত হলে তাদের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির ব্যবস্থা হবে। ইনশাআল্লাহ।

স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ
                                  


বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক মুসলমান। মুসলমান নারী ও পুরুষ কোরআন ও হাদিস অনুসরণ করে দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভের চেষ্টা করে। ইসলাম ধর্মে পুরুষকে নারীর অভিভাবক হিসেবে স্থান দেয়া হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাবে বাংলাদেশের নারীরা পথ হারাচ্ছে। সমানাধিকারের নামে তারা সমাজ ও সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘পুরুষরা নারীর তত্ত্বাবধায়ক; এ কারণে যে আল্লাহ তাদের একের উপর অন্যকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে।’ তাই সমানাধিকার কিংবা নারী স্বাধীনতার নাম দিয়ে উচ্ছৃ´খল আচরণ করা কোন মুসলিম নারীর জন্য শোভনীয় নয়। তবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পুরুষরাও সীমা লংঘন করতে পারবে না। সূরা বাকারায় আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা তোমাদের জন্য আবরণ এবং তোমরা তাদের জন্য আবরণ’। তাই সংসারে নারী-পুরুষকে সংযম ও সহনশীলতা এবং ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে আল্লাহর অনুগ্রহ লাভ করতে হবে।


স্ত্রী হল সংসারের রানী। স্বামী পেশাগত কারণে ঘরের বাইরে কাজে ব্যস্ত থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। এ সময় স্ত্রীর দায়িত্ব হচ্ছে সংসার দেখাশুনা করা। স্বামী বাইরে থেকে ফিরলে তাকে সাদরে হাসিমুখে বরণ করে নিতে হবে। স্ত্রীর হাসিমাখা মুখ দেখে স্বামীর সারা দিনের ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। স্ত্রী নিজে আল্লাহর ইবাদত করবে এবং স্বামীকেও ইবাদত করতে সাহায্য করবে। তবে নফল এবাদত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনে স্বামীর অনুমতি নেবে। স্ত্রী যদি স্বামীর কথায় কর্ণপাত না করে তাহলে তাকে বুঝাতে হবে। প্রয়োজনে তাকে প্রতীকী শাস্তি দেয়া যাবে। তবে ধর্মের দোহাই দিয়ে তাকে শারীরিক বা মানসিকভাবে গুরুতর শাস্তি দেয়া যাবে না। নারী একদিকে গৃহবধূ, অন্যদিকে সেবাদানকারিণী। তাই স্বামী অসুস্থ হলে তাকে সেবা করতে হবে। প্রয়োজনে তার কাছে রক্ষিত সম্পদও ব্যয় করতে হবে। হজরত ইয়াকুব নবী ১৮ বছর কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত থাকলে তার স্ত্রী রহিমা তাকে সুষ্ঠুুভাবে সেবা করেন। রাসূল (সা.) বলেন, নারীর জন্য জিহাদ হল তার স্বামীর সেবা করা।


সূরা বাকারার ২২৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে ‘তোমাদের স্ত্রীরা হল তোমাদের শস্যক্ষেত্র। তোমরা যেভাবে ইচ্ছে তাদের ব্যবহার কর।’ তাই বলে পুরুষদের স্বৈরাচারী হওয়ার সুযোগ নেই। একজন স্বামীকে অবশ্যই তার স্ত্রীর চোখে ভালো হতে হবে। একজন ব্যক্তির চোখে ভালো হতে হলে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। তার চাহিদার দিকে খেয়াল রাখতে হবে; এটাই স্বাভাবিক। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা নারীদের প্রতি কল্যাণকামী হও। তোমাদের মধ্যে সে-ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম (তিরমিজি)। স্বামী তার স্ত্রীর প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখবে, তবে কেউ চাহিদা পূরণে অক্ষম হলে তাকে এজন্য হেয় করা যাবে না।


স্বামী-স্ত্রী দু’জনে মিলেই সংসার। স্বামীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন স্ত্রীর প্রাথমিক দায়িত্ব। এ দায়িত্বে অবহেলা করলে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। শ্রদ্ধা আর ভালোবাসার মাধ্যমে সংসারে শান্তির সুবাতাস বয়ে যায়। স্ত্রী কোন কাজে ভুল করলে তাকে অন্যের সামনে হেয় করা যাবে না, ঠিক তেমনিভাবে স্বামীর সামর্থ্যরে বাইরে তার কাছে কিছু চাওয়া যাবে না। শুধু ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের জন্যই এ নিয়ম নয়, হিন্দু ধর্মেও কঠোরভাবে স্বামীর সেবা করার কথা বলা হয়েছে। স্বামী কিসে সন্তুষ্ট হন তা ভেবে দেখতে হবে। তার মেজাজ-মর্জি বুঝে তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। মে ২০১২ বোম্বে হাইকোর্ট বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত এক মামলায় নির্দেশ দেন ‘সীতা তার স্বামী রামের সঙ্গে বনবাসেও গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ১৪ বছর কাটিয়েছেন। সব স্ত্রীর উচিত সীতার আদর্শ অনুসরণ করা। স্ত্রীকে হতে হবে সীতার মতোই পতিপরায়ণ।’ যারা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাচ্ছেন তারা জানেন কী ওইসব দেশে যে কোন মুসলিম দেশের চেয়ে বেশি পরিমাণে নারী নির্যাতন হচ্ছে? তাই পাশ্চাত্য সংস্কৃতিতে গা না ভাসিয়ে ইসলামের ছায়াতলে এসে আমাদের মা-বোনেরা স্বামীর সেবায় রত হলে তাদের ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তির ব্যবস্থা হবে। ইনশাআল্লাহ।

মুরব্বিদের প্রতি আচরণ
                                  

মানবিক গুণাবলির মধ্যে নির্মল আচরণ একটি অন্যতম গুণ। সমাজে নিয়ম-শৃ´খলা, প্রেম-প্রীতি ও শ্রদ্ধা-সম্মানের এই মহৎ গুণে সুখ-শান্তি নেমে আসে। ইসলামে তাই মুরব্বিদের প্রতি সৎ আচরণ প্রদর্শনের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সৎ স্বভাব বা সৎ আচরণের মাধ্যমেই আমরা জীবনের প্রতিটি কর্মক্ষেত্র সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি। পরিবারের সদস্য হিসেবে আদব রক্ষা করা যেমন সবার উচিত, তেমনি আচরণের মাধ্যমেই মুরব্বিদের মর্যাদা ও সম্মান প্রদর্শন করা সবার কর্তব্য। মানুষের উত্তম স্বভাব এবং নিষ্ঠাচার পার্থিব বা পারলৌকিক জীবনকে করে সৌন্দর্যম-িত। পারস্পরিক সম্পর্ক এবং নিষ্ঠতা নির্ভর করে মানুষের আচরণের ওপর। সৎ আচরণই মানুষকে মহান ও মহীয়ান করে তোলে।


পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে আমরা একত্রে বসবাস করি এবং সমাজে-সংসারে মুরব্বিরাই নেতৃস্থানীয়। পিতা-মাতা, বয়োজ্যেষ্ঠ ভ্রাতা-ভগ্নি, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরাই মুরব্বি শ্রেণীর পর্যায়ভুক্ত। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তাদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে মুরব্বিদের আদেশ-নিষেধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া কিংবা তাদের নির্দেশমতো চলার পথকে অনুসরণ করা সৎ আচরণের নামান্তর মাত্র। বয়োজ্যেষ্ঠ মুরব্বিদের প্রতি শ্রেণীমতো আদব ও সম্মান প্রদর্শন করা ইসলামের বিধান রয়েছে। প্রত্যেক মানুষেরই উচিত শিশুদের মুরব্বিদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের শিক্ষা দেওয়া। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোঁধ ও সম্মান প্রদর্শনের কারণেই পরিবার, সমাজ ও জীবনের সব ক্ষেত্র হয় কল্যাণময়। তাই সমাজ-সংসারের আদব রক্ষার জন্য মুরব্বিদের প্রতি ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্টতা এবং নমনীয়তা দেখাতে হবে।

এ সম্পর্কে পবিত্র কোরআন মজিদে বলা হয়েছে :
’মানুষের সঙ্গে ভদ্রোচিত আলাপ করো। অন্য শ্রেণীর লোকের প্রতি অবজ্ঞা ভরে বিদ্রƒপ করো না।’ আমাদের প্রিয় নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যারা মুরব্বিদের শ্রদ্ধা এবং ছোটদের আহ্লাল করে না, সে আমার উম্মত নয়।’ তিনি আরও বলেছেন :যে যুবক কোনো বৃদ্ধের প্রতি তার বাঁর্ধক্যের কারণে সম্মান প্রদর্শন করবেন, আল্লাহতায়ালা সেই যুবকের শেষ বয়সে তার প্রতি সম্মানকারী লোক পয়দা করবেন। সম্মানবোঁধ এবং আচরণের ক্ষেত্রে এই মহান বাণী আমরা সামনে রেখে বলতে পারি, মুরব্বিদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া, বয়োবৃদ্ধকে পিতার মতো সম্মান দেখানো মানবিক মূল্যবোঁধেরই পরিচয় বহন করে। এ সম্পর্কে রাসূলে করিম (সা.) আরও বলেছেন : তিনটি বিষয় বা আচরণের দ্বারা মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নত ও মজবুত হয়। তা হলো- কারও সঙ্গে সাক্ষাৎ হলেই সালাম দেবে, মজলিসে এলে বসার স্থান দেবে এবং তিনি যে নামে সম্বোধন করলে খুশি হন সেই নামে তাকে সম্বোধন করবে। তিনি আরও
বলেছেন :মানুষের আচার-আচরণ ও নিষ্ঠাচারে মোমিনের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মুরব্বিদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ফুটিয়ে তোলার জন্য সবার সঙ্গে নম্র ব্যবহার ও সদালাপী হতে হবে। হজরত নবী করিম (সা.) এইরকম আচরণকারীর জন্য দোজখ থেকে নাজাত পাওয়ার এবং আল্লাহর বন্ধুত্ব লাভের সুসংবাদ দিয়েছেন। একবার এক সম্মানিত ব্যক্তি তার কাছে এলে তিনি নিজে চাদর বিছিয়ে দিয়ে বলেছেন :তোমাদের নিকট কোনো সম্প্রদায়ের মুরব্বিলোক এলে তাকে যথাযথ সম্মান করো। সম্মান করা ইমানের অঙ্গ। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, আল্লাহতায়ালা ভদ্রতা ও নম্রতাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন এবং তিনি বিনয়ীকে যা দান করেন, গর্বিতকে তা প্রদান করেন না।


সত্যিকারভাবে মানুষের মর্যাদা পারস্পরিক সৎ আচরণের ওপর নির্ভর করে। নির্ভর করে অন্য একজন মানুষের সৎ আচরণের ওপর একে অপরের ভেদাভেদ ভুলে যাওয়া, শ্রেণী-বৈষম্য দূরীকরণ, জলসা-বৈঠকে, সভা-সমাবেশে, চাকর-বাকর ও নিঃস্ব-দিনমজুরের প্রতি সৎ আচরণ এবং যথাযথ সম্মান প্রদর্শন সৌজন্যবোঁধের পরিচয় বহন করে। কারও সঙ্গে তাচ্ছিল্য বা অবজ্ঞা করা কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণ করা ইসলামের পরিপন্থী।

তাওহিদের মর্মবাণী
                                  

ঈমান ও ইসলামে কোনো উত্তরাধিকারিত্ব চলে না। পিতা অমুসলিম কিন্তু ছেলে মুসলিম কিংবা পিতা মুসলিম কিন্তু ছেলে অমুসলিম, এতে কোনো বৈচিত্র্য নেই। ইব্রাহিম আ: ছিলেন একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহতে বিশ্বাসী পক্ষান্তরে তাঁর পিতা ছিলেন মূর্তি পূজারীগণের পুরোহিত। নূহ আ: ছিলেন আল্লাহর রাসূল কিন্তু তাঁর ছেলে ছিল অবিশ্বাসী। বিশ্বমানবের কাছে এ দু’টি উদাহরণে প্রমাণ হয় ইসলাম-ঈমানে পরিবারতন্ত্র চলে না। পরিবারভুক্ত যেকেউ ভিন্ন বিশ্বাসের ফলে অন্য ধর্মাবলম্বী হতে পারে। আবু জাহল ছিল কাফের সরদার তার ছেলে ইকরিমা ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ মুসলিম। মুনাফিক নেতা আবদুল্লাহ ইবন উবায় ইবন সলুলের ছেলে ছিলেন একজন বিদগ্ধ মুসলিম। একান্নভুক্ত হওয়া, পরিবারের সদস্য হওয়া ও মাতা পিতা মুসলিম হওয়া মুমিন হওয়ার পরিচায়ক নয়।


মুসলিম হওয়ার মাপকাঠি হলো বিশ্বাস : যারা একক ও অদ্বিতীয় আল্লাহতে বিশ্বাসী তারা হলো মুসলিম। যারা আল্লাহতে বিশ্বাসী নয় তারা কাফির বা নাস্তিক। আল্লাহতে বিশ্বাস আছে কিন্তু আল্লাহর সাথে অন্যান্য বস্তুকে অংশীদার মনে করে তারা মুশরিক বা অংশীবাদি। মুমিন-মুসলিম হওয়ার ক্ষেত্রে আরো কিছু বিষয়ে দৃঢ?বিশ্বাস রাখতে হয়, তা হলো মুহাম্মদ সা:কে মানতে হয় আল্লাহর রাসূল বা দূত হিসেবে। মুহাম্মাদ সা:-এর ওপর নাজিলকৃত গ্রন্থ হলো আল্লাহর কালাম। এ গ্রন্থ মানবজাতিকে বুঝানোর জন্য আল্লাহ তায়ালা মুহাম্মাদ সা:কে মনোনীত করেছেন। তিনি মানবসমাজের সদস্য হলেও তাঁর কাজকর্ম আল্লাহর নির্দেশে পরিচালিত হতো। তাঁর দ্বারা নাবুওয়াতের সিংহদ্বার চিরতরে রুদ্ধ হয়ে গেছে। তিনি খাতামুন নাবিয়্যিন, তাঁর পরে ঐশীবাণী নিয়ে জগতে আর কেউ আসবেন না। এ ছাড়া তাঁর আগে অসংখ্য নবী-রাসূলকে আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সুপথে পরিচালিত করার জন্য জগতে পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা সবাই ছিলেন মানুষ। মরণের পর মানুষকে কিয়ামতকালে আবার উঠানো হবে। ভালো-মন্দের বিচার হবে। মুমিন-মুসলিমগণ জান্নাতে যাবে আর অবিশ্বাসী কাফিররা জাহান্নামের চির-অধিবাসী হবে। মোটামুটি এ বিষয়গুলো যারা বিশ্বাস করে তারা হলো মুমিন বা মুসলিম। যারা এগুলো মানে না তারা হলো কাফির বা অবিশ্বাসী। এগুলোকে মেনেও যারা আল্লাহর সার্বভৌমত্ব মানে না, যারা বিভিন্ন অবতারে বিশ্বাসী, এগুলোর পূজা করে এ আশা নিয়ে যে, এদের সন্তুষ্টি লাভ করলে বিভিন্ন কার্যসিদ্ধি হবে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ইবাদতের মতো নানান দেব-দেবীর পূজা করে, এদের সম্মান করে তারা হলো মুশরিক।


শিরকের বিপরীত হলো তাওহিদ বা একত্ববাদ : আল্লাহর একত্ববাদে ব্যত্যয় ঘটলেই শিরকের সৃষ্টি হয়। আল্লাহর একত্ববাদ তিন ধরনের। এক. গোটা জগতের লালনপালনকারী ও সৃষ্টিকর্তা হিসেবে তাঁকে বিশ্বাস করা। দুই. ইবাদতের উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহকে বিশ্বাস করা। তিন. আল্লাহর গুণাবলি কুরআন ও হাদিসে যেভাবে বর্ণিত হয়েছে ঠিক সেভাবে তা ইয়াকিন করা এবং আল্লাহর সমপরিমাণ কোনো গুণ সৃষ্টিজগতের মাঝে নিহিত আছে বলে মনে না করা। আল্লাহকে রব মানা, তাঁকে ইলাহ হিসেবে জ্ঞান করা এবং তাঁর গুণাবলিকে যথাযথ সংরক্ষণ করলে শিরক হতে বাঁচা যায়, কুরআন নাজিলের সময়কার মক্কার মুশরিকদের বিশ্বাস ছিল বিশ্বজগতের প্রতিপালক হলেন আল্লাহ। আল্লাহতে বিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তারা তাঁর সাথে অন্যান্যের শরিক করত। যেমন মুশরিকদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন : বলুন, ‘কে তোমাদেরকে আকাশ ও পৃথিবী হতে রিজক দান করেন অথবা শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি কার কর্তৃত্বাধীন, কে জীবিতকে মৃত হতে নির্গত করে এবং কে মৃতকে জীবিত হতে নির্গত করে এবং কে সব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করে? তখন তারা বলবে আল্লাহ।’ (সূরা ইউনুস : ৩১) অনুরূপ সূরা জুমার ৩৮ নম্বর আয়াত এবং সূরা মুমিনুনের ৮৪-৮৯ আয়াতের প্রতি লক্ষ করলে দেখা যায় অংশীবাদি মুশরিকেরা ও আসমান জমিনের সৃষ্টিকর্তা ও পালনকর্তা হিসেবে আল্লাহকে স্বীকার করে।


মহান আল্লাহকে বিশ্বজগতের নিয়ন্তা হিসেবে মান্য করাই যথেষ্ট নয়, সেই সাথে এ আকিদা পোষণ করতে হবে যে, সব ধরনের ইবাদতের একমাত্র উপযুক্ত হলেন তিনিই। তিনি ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করা যাবে না। কারো সন্তুষ্টি বিধানের জন্য কোনো কাজ করা এবং অসন্তুষ্টি হতে মুক্তিলাভের উদ্দেশ্যে তার প্রতি বিনয়াবনত হওয়া ও ‘ইবাদত’ গায়রুল্লাহর কাছে এমনভাবে দাঁডড়য়ে কিছু চাওয়া যেভাবে আল্লাহর কাছে চাওয়া হয়, গায়রুল্লাহর নামে মান্নত করা, বায়তুল্লাহর তাওয়াফের মতো অন্য কোনো কিছুর তাওয়াফ করা, কবরস্থ ওলি-আবদালের কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করা এসব হলো আল্লাহর ইবাদতে শিরকের নামান্তর। সোজা কথায় বহু খোদা মানার প্রবণতা।


আল্লাহর গুণাবলিকে ঠিক সেভাবে অন্য কারো মাঝে রয়েছে বলে জ্ঞান করার নাম হলো, আল্লাহর বৈশিষ্ট্যে শিরক করা। যেমন আলিমূল গায়িব এটি কেবল আল্লাহ তায়ালার গুণ, দূর থেকে কিংবা পাশে থেকে সবার আর্তনাদ শোনার ক্ষমতা, জগতের সর্বত্রে তিনি বিরাজমান, মহাবিশ্বের সব কিছু তিনি সমানভাবে জানেন ও দেখেন, ইচ্ছেমতো তিনি এতে পরিবর্তনসাধন করতে পারেন ইত্যাদি কোনো শক্তি যদি কোনো নবী, ওলি বা বস্তুর জন্য মান্য করা হয় তাহলে সেটি হয় আল্লাহর গুণে কাউকে শরিক মনে করা।


আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই : সব নবী রাসূলের প্রধান সেøাগান ছিল আল্লাহ একক, তিনি অদ্বিতীয়, কোনো ক্ষেত্রেই তাঁর কোনো অংশীদার নেই। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহÑ আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, এ দাওয়াত ছিল সব দাওয়াতের মূল। সর্বপ্রথম মানব হজরত আদম আ:কে সম্মান না করার ফলে জান্নাত থেকে বিতাডড়ত ইবলিস তার সহযাত্রী করার জন্য শিরকের মিশন নিয়ে অবতীর্ণ হয়। ছলে-বলে-কৌশলে সে তার কাজ চালায়। আদম-হাওয়াকে জান্নাত থেকে বের করতে সক্ষম হয়। তাঁর প্রথম দুই সন্তানের মাঝে বিবাদ-বিসংবাদের সূত্রপাত ঘটায়। নূহ আ:-এর ছেলেকে বিভ্রান্ত করে। ইয়াগুস, ইয়াউক ও নসর ইত্যাদি প্রতিমার পূজায় প্ররোচিত করে। হজরত ইব্রাহিম আ: মূর্তিপূজার বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে অগ্নিকু-ে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন। মূসা আ: তূর পাহাড়ে আল্লাহর কিতাব আনতে গিয়ে ফিরে এসে দেখেন তাঁর জাতির অনেক মানুষ গোবৎসের পূজায় লিপ্ত হয়ে শিরকে লিপ্ত। যুগে যুগে নবীরা শিরকের বিরুদ্ধে লড়েন এবং একমাত্র এক আল্লাহর ইবাদতের প্রতি মানুষকে আহ্বান জানান।
শিরকের উৎপত্তি : গায়রুল্লাহর প্রতি অতি ভক্তি হতে শিরকের উৎপত্তি হয়। পূর্বেকার কোনো মহান বুজুর্গ বা অসাধারণ ব্যক্তিত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য তাদের ছবি ও ভাস্কর্য নির্মাণ করা হতো। প্রথম দিকে হয়তো তাদের অবদানকে স্মরণ রাখার জন্য তাদের ছবি সংরক্ষণ করা হয়। কিন্তু কালান্তরে ভক্তির সীমা এমনপর্যায়ে চলে যায় যে, ধীরে ধীরে তাদের মূর্তি তৈরি করে পূজা করা শুরু হয়। ইবলিস এ ব্যাপারে নানা কল্পকাহিনী রটিয়ে মানুষকে ভক্তির এমন স্তরে নিয়ে যায় যা কেবল আল্লাহর জন্যই নির্ধারিত। আল্লাহর সমমানের ভক্তি প্রদর্শন করার পর আল্লাহ আর গায়রুল্লাহর মাঝে কোনো তফাত থাকে না। গায়রুল্লাহর সম্মান যখন আল্লাহর পর্যায়ে নিয়ে আসা হয় তখন আর বাকি থাকে কী? জ্ঞাতসারে হোক আর অজ্ঞাতসারে শিরকের দুয়ার খুলে যায় কোনো কাজে কেউ অভ্যস্ত হয়ে গেলে তার অন্তরে হিদায়তের আলো না থাকলে সে ওই কাজকে যথার্থ প্রমাণ করার জন্য নানান যুক্তির পেছনে দৌড়ায়। দেখুন মক্কার শিরকপন্থীদের যখন বলা হতো তোমরা এগুলোর উপাসনা করো কেন তখন তারা বলতো : ‘এগুলো আল্লাহর কাছে আমাদের সুপারিশকারী।’ (সূরা ইউনুস : ১৮)। তারা বলে, ‘আমরা তো এদের পূজা এজন্য করি যে, ওরা আমাদেরকে আল্লাহর সান্নিধ্যে এনে দেবে’। (সূরা : জুমার ৪)


ঈমান-ইসলামের বিনিময় : ঈমানের বিনিময় হলো জান্নাত। ঈমানের ওপর অবিচল থাকা বড়ই কঠিন। এতে রয়েছে পরীক্ষার পর পরীক্ষা। সব পরীক্ষায় উৎরে গেলে জান্নাত অবধারিত। তবে আল্লাহ তায়ালা ঈমানের সাথে আমলকেও জুডড়য়ে দিয়েছেন। ঈমান-আমলের ফলে জান্নাতের যে পুরস্কার তা অকল্পনীয়। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল বিভিন্ন বর্ণনা ভঙ্গিতে তা উল্লেখ করেছেন। তা জবান দিয়ে বয়ান ও কলম দিয়ে লিখে শেষ করার নয়। এখানে শুধু আল-কুরআনের কিছু উদ্ধৃতি টানা হলো। ইরশাদ হচ্ছে : ‘যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য রয়েছে ফিরদাউসের উদ্যান। তথায় তারা স্থায়ী হবে, তা হতে স্থানান্তর কামনা করবে না।’ (সূরা কাহফ : ১০৭) ‘যারা ইমান ও সৎকর্ম করে তারাই সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, তাদের প্রতিপালকের কাছে আছে তাদের পুরস্কার স্থায়ী জান্নাত, যার নিম্নদেশে নদী প্রবাহিত সেখানে তারা চিরস্থায়ী হবে।


কুফর ও শিরকের পরিণতি : মহান আল্লাহর অস্তিত্বের অসংখ্য নিদর্শন রয়েছে। বিবেকবান মানুষ সামান্য একটু চিন্তা করলেই আল্লাহর অস্তিত্বের বহু উপকরণ পাবে। উম্মি বা পড়ালেখা না জানা ব্যক্তির উচ্চাঙ্গের গ্রন্থ রচনা দূরে থাক, সাধারণ গ্রন্থ রচনা করার মতো শক্তিও তো থাকার কথা নয়। আল-কুরআনের সাথে প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ার মতো একটি পঙ্ক্তি আজো রচনার কোনো দুঃসাহসিকতা কেউ দেখাতে পারেনি। মুহাম্মাদ সা: ছিলেন উম্মি। তাঁর সত্য হওয়ার প্রমাণ এটুকুই তো যথেষ্ট। এ ছাড়া আরো হাজারও প্রমাণ রয়েছে। তার পরও আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ইমান না আনার কোনো কারণ থাকতে পারে না।


আল্লাহ ও রাসূলকে স্তর অনুযায়ী মানতে হবে। আল্লাহ হলেন সৃষ্টিকর্তা, একমাত্র উপাস্য আর রাসূল হলেন তাঁর গোলাম। রাসূলের দেখানো পথেই আল্লাহকে মানতে হবে। রাসূল প্রেমের আতিশয্যে তাঁকে আল্লাহর স্তরে নিয়ে গেলে তা হবে শিরক। কুফর ও শিরকের পরিণাম চিরস্থায়ী জাহান্নাম। শিরক এমন মহাপাপ যার কোনো ক্ষমা নেই। ইরশাদ হচ্ছে : আল্লাহ তাঁর শরিক করার অপরাধ ক্ষমা করেন না।’ (সূরা নিসা : ৪৮)


কাফির মুশরিকদেরকে সৃষ্টির নিকৃষ্ট অভিহিত করে তাদের পরিণতি সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে : ‘তাহলে কিতাবদের মাঝে যারা কুফরি করে তারাও মুশরিকেরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। (সূরা : বাইয়্যিনা : ৬)। মুমিন হওয়ার পরও কথায় কাজে মুশরিক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিরকে আক্রান্ত হলে সকল ইবাদত-বন্দেগি নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি তিনি নবী রাসূল হলেও একই কথা। এজন্য আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসূলকে উদ্দেশ করে বলেন : ‘তুমি আল্লাহর শরিক স্থির করলে তোমার কাজ নিষ্ফল হবে। (সূরা : জুমার : ৬৫)

নফল নামাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মা-বাবার সেবা করা
                                  

 মা-বাবার সম্মান তুলনাহীন। ইসলাম মা-বাবাকে সর্বোচ্চ অধিকার দিয়েছে। সর্বাধিক সম্মানে ভূষিত করেছে। ইসলামের বিধানমতে, মহান আল্লাহ তাআলার পরেই মাতা-পিতার স্থান। কোরআন-হাদিসে মা-বাবার অধিকার আদায়ে প্রচুর আলোচনা এসেছে। এমনকি নফল নামাজের চেয়েও মা-বাবার সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।


আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন, তিনি ব্যতীত অন্য কারও ইবাদত না করতে এবং মাতা-পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের উফ্ (বিরক্তিও অবজ্ঞামূলক কথা) বলবে না এবং তাদের ধমক দেবে না; তাদের সঙ্গে সম্মানসূচক কথা বলবে। মমতাবশে তাদের প্রতি ন¤্রতার ডানা প্রসারিত করো এবং বলো, ‘হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো, যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ২৩-২৪)


মা-বাবার সেবা নফল ইবাদতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ কীভাবেÑএ বিষয়ে আবু হুরায়রা (রা.) থেকে একটি চমৎকার হাদিস রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জুরাইজ (বনি ইসরাঈলের একজন ওলি) তার ইবাদতখানায় ইবাদতে ব্যস্ত থাকতেন। (একবার) তার মা তার কাছে এলেন। হুমাইদ (রহ.) বলেন, ‘আমাদের কাছে আবু রাফি এমনভাবে বিষয়টি ব্যক্ত করেন, যেমনভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) তার মায়ের ডাকের আকার আবু হুরায়রা (রা.)-এর কাছে ব্যক্ত করেছেন। কিভাবে তিনি তার হাত তার ভ্রুর ওপর রাখছিলেন। এরপর তার দিকে মাথা উঁচু করে তাকে ডাকছিলেন। বলেন, হে জুরাইজ! আমি তোমার মা, আমার সঙ্গে কথা বলো। এই কথা এমন অবস্থায় বলছিলেন, যখন জুরাইজ নামাজে মশগুল ছিলেন।


তখন তিনি মনে মনে বলতে লাগলেন, হে আল্লাহ! (একদিকে) আমার মা, আর (অন্যদিকে) আমার নামাজ, (আমি কী করি?)। বর্ণনাকারী বলেন, অবশেষে তিনি তার নামাজকে অগ্রাধিকার দিলেন। এবং তার মা ফিরে গেলেন। পরে তিনি দ্বিতীয়বার এলেন এবং বলেন, হে জুরাইজ! আমি তোমার মা, তুমি আমার সঙ্গে কথা বলো। তিনি বলেন, হে আল্লাহ! আমার মা, আমার নামাজ। তখন তিনি তার নামাজে মশগুল রইলেন। তখন তার মা বলেন, হে আল্লাহ! এই জুরাইজ আমারই ছেলে। আমি তার সঙ্গে কথা বলতে চাইছিলাম। সে আমার সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকার করল। হে আল্লাহ! তার মৃত্যু দিয়ো না, যে পর্যন্ত না তাকে ব্যভিচারিণীর অপবাদ দেখাও।


তখন মহানবী (সা.) বলেন, যদি তার মা তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো বিপদের জন্য বদদোয়া করতেন, তাহলে অবশ্যই সেই বিপদে পতিত হতো। নবী করিম (সা.) বলেন, এক মেষ রাখাল জুরাইজের ইবাদতখানায় (মাঝেমধ্যে) আশ্রয় নিত। তিনি বলেন, এরপর গ্রাম থেকে এক নারী বের হয়েছিল। ওই রাখাল তার সঙ্গে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। এতে ওই নারী গর্ভবতী হয়ে পড়ে এবং একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেয়। তখন লোকেরা তাকে জিজ্ঞাসা করল, এই (সন্তান) কোথা থেকে? সে উত্তর দিল, এই ইবাদতখানায় যে বাস করে, তার থেকে।


তিনি বলেন, এরপর তারা শাবল-কোদাল ইত্যাদি নিয়ে এলো এবং চিৎকার করে ডাক দিল। তখন জুরাইজ নামাজে মশগুল ছিলেন। কাজেই তিনি তাদের সঙ্গে কথা বললেন না। তিনি বলেন, এরপর তারা তার ইবাদতখানা ধ্বংস করতে লাগল। তিনি এ অবস্থা দেখে নিচে নেমে এলেন। এরপর তারা বলল, এই নারীকে জিজ্ঞাসা করো (সে কী বলছে)। তিনি বলেন, তখন জুরাইজ মুচকি হেসে শিশুটির মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন, তোমার পিতা কে? তখন শিশুটি বলল, আমার পিতা সেই মেষ রাখাল।
যখন তারা ওই শিশুর মুখে এ কথা শুনতে পেল, তখন বলল, আমরা তোমার ইবাদতখানার যেটুকু ভেঙে ফেলেছি তা সোনা-রুপা দিয়ে পুনর্নির্মাণ করে দেব। তিনি বলেনÑনা, বরং তোমরা মাটি দ্বারাই আগের মতো নির্মাণ করে দাও। এরপর তিনি তার ইবাদতকক্ষে উঠে গেলেন। (মুসলিম, হাদিস নং: ৬২৭৭)

হজের সফরে যে ভূল থেকে দূরে থাকতে হবে
                                  

 গতকাল থেকে পবিত্র হজের ফ্লাইট শুরু । বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৭টায় ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে হজের প্রথম ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।
হজ ইসলামের অন্যতম রুকন বা স্তম্ভ। মুসলিম উম্মাহর ঐক্য-সংহতি ও সাম্য-ভ্রাতৃত্বের প্রতীক। হজে আর্থিক ও কায়িক শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। অন্য কোনো ইবাদতে একসঙ্গে এমন সমন্বয় পাওয়া যায় না। প্রতিবছর হজ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ সৌদি গমন করেন। হজ আদায়ের পবিত্র ও শ্বাশ্বত এই মিছিলে শরিফ হন বাংলাদেশিরাও। তাই হজ সফরের আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আয়োজন।


ভুল করে অনেকে হজে গিয়ে মুসাফিরের নামাজ পড়ে। অথচ মক্কা-মিনা-মদিনা মিলিয়ে কেউ যদি ১৫ দিন বা তার বেশি থাকার নিয়ত করে, তাহলে মাসআলা হলো- সে মুকিম গণ্য হবে। তাই কোনো হাজি এমন করলে, মক্কা-মদিনা, ও মিনা-মুজদালিফা এবং আরাফায় চার রাকাতবিশিষ্ট ফরজ নামাজ চার রাকাতই পড়তে হবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ৬৮৭)
মিনায় অবস্থানের সময়সীমা ১২ বা ১৩ তারিখ। এ সময়টা সেখানে থাকতে হয়। এর মধ্যে কোনো দিন যদি শুক্রবার হয়, তাহলে মিনায় জুমার নামাজ পড়তে হবে। (তাতারখানিয়া, পৃষ্ঠা: ৫৫৩)


হজে গিয়ে অনেক নারী শরীর আবৃত রাখলেও চেহারা খোলা রাখেন। অথচ মাসআলা হলো, চেহারা দেখানো যাবে না; তবে বোরকার নেকাব চেহারার সঙ্গে লাগিয়ে রাখবে না। এর জন্য এমন কিছু ব্যবহার করতে হবে, যাতে করে নেকাব চেহারার সঙ্গে না লেগে থাকে।


মসজিদুল হারামে নামাজ আদায়ের সওয়াব এক লাখেরও বেশি। তাই দেখা যায়, অনেক নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেই মসজিদুল হারামে গিয়ে থাকেন। এ কারণে নারীদের যাতায়াত সহজ করতে গিয়ে প্রচুর ভিড় হয়। ফলে কখনো এমনও হয় যে, তারা হাজারো পুরুষের ধাক্কা খাচ্ছে কিংবা ধাক্কা লেগে যাচ্ছে। হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, ‘নারীরা মসজিদে নামাজ পড়ার চেয়ে ঘরে নামাজ পড়া উত্তম।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ২৬৫৯৮)


ফিকাহবিদরা এ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে বলেছেন, কোনো মহিলা হজ-ওমরাহতে এসে ঘরে নামাজ পড়লে এক লাখের চেয়ে বেশি সাওয়াব পাবে।
হজে গিয়ে এক শ্রেণির হাজি সেলফি আসক্তিতে পুরো মেতে ওঠেন। অনেকে ছবি-ভিডিও করতে গিয়েও অনেক সময় নষ্ট করেন। অথচ এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অনুচিত।
ইহরাম খোলার (ভঙ্গ করার) সময় অনেক পুরুষ দাড়ি মু-ায়। এমন কাজ করে এধরনের লোকেরা ১০০ বার হজ করলেও তাদের হজ কবুল হবে না।
‘তালবিয়া’ বা ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক...’ পড়া ব্যক্তিগত আমল। তাই সবাই যার যার ‘তালবিয়া’ পড়বে। অনেকে লিডারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তালবিয়া পড়তে থাকেন। যদিও এভাবে পড়লে কোনো অসুবিধা নেই। তবে নিজেরা তালবিয়া শিখে নেওয়াই শ্রেয়।


আরাফা ও মুজদালিফা¬Ñদুই জায়গাতেই অবস্থান করতে হয়। তবে এ দুই জায়গারর মাঝখানে ৫ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ময়দান রয়েছে। ময়দানটিতে অনেক শৌচাগার ও গাছপালা আছে। এসব দেখে অনেক হাজি জায়গাটাকে মুজদালিফা মনে করেন এবং এখানে অবস্থানও করেন। অথচ জায়গাটি আরাফার ও মুজদালিফাÑকোনোটার অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং এটি ভিন্ন একটা ময়দান। এখানে হজের কোনো আমল-কাজ নেই। মাগরিব- এশা এখানে একসঙ্গে পড়া জায়েজ নেই। রাতে অবস্থান করাও জায়েজ নেই। বাদ ফজর এখানে অবস্থান করলে ‘মুজদালিফায় অবস্থান’ও আদায় হবে না। যারা পায়দল আরাফা থেকে মুজদালিফায় যান, তাদের অনেকে এ ভুলটা করে বসেন। এতে তাদের ওপর নির্ঘাত ‘দম’ ওয়াজিব হয়ে যায়। কিন্তু তারা অজ্ঞতার কারণে ‘দম’ আদায় করে না; ফলে তাদের হজ হয় না।


কোরবানি ব্যাংকের মাধ্যমে আদায় করা উচিত নয়। কারণ এতে কখনো কখনো হাজি ১০ তারিখে বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে হাজি সাহেবের কংকর মারা হয় না। অন্যদিকে কোরবানি হয়ে যায়। আবার কখনো এমনো হয় যে, কোরবানি সম্পন্ন হওয়ার আগে মাথা মু-ানো হয়ে যায়। আর এ উভয় ভুলের কারণে তামাত্তু ও কিরান হজ আদায়কারীর ওপর দম ওয়াজিব হয়ে যায়। কারণ ১০ তারিখের দিন এই তিনটি কাজে তাদের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরিÑএক. বড় শয়তানের প্রতীকী স্তম্ভে কংকর মারা। দুই. কোরবানি আদায় করা। তিন. মাথা মু-ানো। (এ জন্য নিজেরা বা বিশ্বস্ত লোক পাঠিয়ে কোরবানির ব্যবস্থা করা জরুরি।)

 

অজু ছাড়া ভুলক্রমে নামাজ পড়লে করণীয়
                                  

 অজু ছাড়া নামাজ হয় না; বিষয়টি আমার জানা আছে। কিন্তু কখনো কখনো নামাজ শেষে আমার মনে পড়ে যে, আমি অজু ছাড়া নামাজ পড়েছি। এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? অজু করে নতুনভাবে আবার নামাজ পড়বো?


এ ক্ষেত্রে আপনার ওপর ওয়াজিব (আবশ্যক করণীয়) হলো, অজু করে পুনরায় নামাজ আদায় করা। ফিকাহবিদরা এ অভিমতের ওপর ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন। কারণ পবিত্রতা নামাজ শুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত। হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের কারো যদি অজু ভেঙে যায়, তাহলে পুনরায় অজু করার আগ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা তার নামাজ কবুল করেন না।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৬৯৫৪; মুসলিম, হাদিস নং: ২২৫)


আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘পবিত্রতা ছাড়া কোনো নামাজ কবুল করা হয় না।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ২২৪)
প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ও ফিকাহবিদ ইমাম শরফ আন-নববি (রহ.) বলেন, ‘অজুহীন ব্যক্তির জন্য নামাজ পড়া হারাম; এ ব্যাপারে আলেম-উলামারা একমত হয়েছেন। তারা এ ব্যাপারেও ঐকমত্য প্রকাশ করেছেন যে, এমন ব্যক্তির নামাজ শুদ্ধ হবে না; অজু না থাকা সম্পর্কে সে অবগত থাকুক কিংবা অজ্ঞ হোক। কিংবা অজু না থাকার কথা ভুলে গিয়ে থাকুক। তবে সে যদি একদম অজ্ঞ হয় কিংবা পুরোপুরি ভুলে গিয়ে থাকে, তাহলে তার কোনো গুনাহ হবে না।

আর যদি তার অজু না-থাকার বিষয়টি ও অজু ছাড়া নামাজ হারাম হওয়ার বিষয়টি জেনেও সে নামাজ পড়ে এবং পড়ে থাকলে পুনরায় আদায় না করে, তাহলে সে জঘন্য গুনাহে লিপ্ত।’ (আল-মাজমু, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ৭৯)

দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিভিন্ন আমল
                                  

 ইসলামে ইবাদতের পরিধি সীমাহীন বিস্তৃত। মুমিনের প্রতিটি কর্ম আল্লাহর কাছে ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। তবে শর্ত হলো, আল্লাহর হুকুম মোতাবেক ও রাসুল (সা.) এর সুন্নত-পদ্ধতিতে হতে হবে। সব ধরনের নেক আমল বা ইবাদত কী কী সংক্ষিপ্ত পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব নয়।

কোন কোন ধরনের ইবাদত রয়েছে এবং কীভাবে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ করলেও ইবাদতের সওয়াব পাওয়া যাবে তা জানার জন্য ইমাম মুনজিরির লিখিত ‘আত-তারগিব ওয়াত তারহিব’ পড়া যেতে পারে। তবে কোনো বিজ্ঞ আলেমের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন সম্ভব হলে অধিক ফলপ্রসূ হবে বলে আশা করা যায়।

এছাড়াও ইমাম নববি (রহ.) কর্তৃক সংকলিত অনবদ্য হাদিসগ্রন্থ ‘রিয়াদুস সালেহিন’ও অধ্যয়নে থাকতে পারে। বিশেষত রিয়াদুস সালেহিনের ‘ফাযায়েল অধ্যায়’ একজন মুমিনের জন্য অসাধরণ ও চমৎকার জীবনযাপনের রসদ যোগাবে। গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ রয়েছে বেশ কয়েকটি। শায়খ আবু বকর আল-জাজায়েরির ‘মিনহাজুল মুসলিম’ গ্রন্থটিও অন্যন্য। এটি একজন মুমিনের পার্থিব জীবনকে গোছালো, শৃঙ্খল ও ভারসাম্যপূর্ণ করার চমৎকার দিক-নির্দেশক।

দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক আমল করার ক্ষেত্রে পাঠকের অন্তত কিছুটা হলেও ধারণা থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই নূন্যতম কিছু আমলের ধারা-নির্ঘণ্ট বর্ণনা করা হলো।

দৈনিক পালনীয় নেক আমল
ক্স পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। ক্স নামাজের জন্য ওযু করা। ক্স ওযু ও নামাজের সময় মিসওয়াক করা। ক্স জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা। ১। সুন্নত নামাজগুলো আদায় করা (ইশরাকের নামাজ, তাহাজ্জুদের নামাজ, বিতিরের নামাজ)। ২। সকাল-সন্ধ্যার জিকির-আযকার। ৩। রাত-দিনের জিকির-আযকার (ঘরে প্রবেশের দোয়া, ঘর থেকে বের হওয়ার দোয়া, মসজিদে প্রবেশ ও মসজিদ থেকে বের হওয়ার দোয়া, টয়লেটে প্রবেশ ও টয়লেট থেকে বের হওয়ার দোয়া, পানাহারের দোয়া, ফরজ নামাজের শেষে পঠিতব্য দোয়া ইত্যাদি)। ক্স ইমামের সঙ্গে আজানের শব্দাবলি উচ্চারণ।

সাপ্তাহিক নেক আমল
১. জুমার নামাজ আদায়। ২. জুমাবার দিনে বা রাতে সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। ৩. জুমাবার দিনে বা রাতে বেশি বেশি দুরুদ শরিফ পড়া। ৪. সোমবার ও বৃহস্পতিবারে রোজা রাখা।

মাসিক নেক আমল
১. প্রত্যেক মাসের তিনদিন রোজা রাখা (উত্তম হচ্ছে ‘বিযে’র দিনগুলোতে বা চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোজা রাখা)।

বাৎসরিক বা মৌসুমি নেক আমল
১. রমজানের রোজা রাখা। ২. মসজিদে গিয়ে জামাতের সঙ্গে তারাবির নামাজ আদায় করা।৩. দুই ঈদের নামাজ আদায় করা। ৪. সামর্থ্যবান হলে হজ আদায় করা। ৫. সামর্থ্যবান হলে জাকাত আদায় করা। ৬. রমজানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করা। ৭. শাওয়ালের ছয় রোজা রাখা। ৮. আশুরার রোজা রাখা এবং সঙ্গে একদিন আগে বা পরে আরও একটি রোজা রাখা। ৯. আরাফার দিন রোজা রাখা।
১০. জিলহজের প্রথম দশদিন বেশি বেশি নেক আমল করা ইত্যাদি।

বিশেষ কোনো সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এমন আমল
এছাড়াও আরো কিছু আমল রয়েছে, যেগুলো বিশেষ কোনো সময়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও সম্পৃক্ত নয়। বরং যেকোনো সময় আমলগুলো করা যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু আমল অন্তরকেন্দ্রিক আমল। আর কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমল। যেমন- ১. মাকরুহ ওয়াক্ত ছাড়া অন্য যেকোনো সময়ে নফল নামাজ আদায় করা। ২. নফল রোজা রাখা। ৩. নফল উমরা আদায় করা। আল্লাহ্র জিকির করা। ৪. কোরআন তেলাওয়াত করা। ৫. দুরুদ পড়া। ক্স দোয়া করা। ৬. ইস্তিগফার করা। ৭. পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা। ৮. আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা। ৯. দান-সদকা করা। ১০. অসহায়কে সাহায্য করা। ১১. মুসলমানদের মাঝে সালামের প্রচলন করা। ১২. সচ্চরিত্রবান হওয়া। ১৩. জিহ্বা পবিত্র রাখা। ১৪. আল্লাহ্কে ভালবাসা। ১৫. আল্লাহকে ভয় করা। ১৬. আল্লাহর কাছে আশা-প্রত্যাশা করা। ১৭. আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল-ভরসা করা। ১৮. আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ১৯. আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখা। ২০ আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া ইত্যাদি।

বিশেষ প্রেক্ষাপটকেন্দ্রিক আমল
আবার এমন কিছু আমল আছে, যেগুলো বিশেষ কোনো প্রেক্ষাপটকেন্দ্রিক; প্রেক্ষাপট পাওয়া গেলে সেসব আমল পালন করা শরিয়তসম্মত। যেমন- রোগী দেখতে যাওয়া, জানাযার নামাজ আদায় করা, হাঁচির উত্তর দেয়া, সালামের উত্তর দেয়া, দাওয়াত দিলে গ্রহণ করা, ইস্তিখারার নামাজ আদায় করা, তওবার নামাজ আদায় করা, সূর্য গ্রহণ ও চন্দ্র গ্রহণের নামাজ আদায় করা, বৃষ্টির নামাজ আদায় করা, বিবদমান দুইপক্ষের মাঝে মীমাংসা করা, দৃষ্টি অবনত রাখা, কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা, কষ্ট ও বিপদ-মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করা ইত্যাদি।

দৈনিক চারটি আমল
আমাদের পূর্ববর্তী পুণ্যবান বা ‘সালফে সালেহিন’ একদিনে চারটি আমল পালন করাকে মুস্তাহাব মনে করতেন। সেগুলো হচ্ছে- ক্স রোজা রাখা। ক্স গরিব-দুঃখীকে খাওয়ানো বা তাদের সদকা দেওয়া। ক্স মৃতের জানাজার নামাজে শরিক হওয়া। ক্স রোগী দেখতে যাওয়া ও সেবা-শশ্রুষা করা। এসব প্রসঙ্গে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘এগুলো যে ব্যক্তির মাঝে একত্র হবে, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০২৮)

 

যে সাহাবি ইসলামে প্রথম চিকিৎসক ছিলেন
                                  

 সাহাবি আল-হারিস ইবনে কালদাহ (রা.)। অনেক ইতিহাসবিদ তাকে ‘তাবিবুল আরব’ বা ‘আরবের চিকিৎসক’ বলেন। তার পুরো নাম আবু ওয়ায়েল আল-হারিস ইবনে কালদাহ ইবনু আমর ইবনু আলাজ আস-সাক্বাফি

সৌদি আরবের তায়েফে জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ইয়েমেনে তৎকালীন চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করেন। এছাড়াও ইরানের গুন্দেশাপুরে চিকিৎসাশাস্ত্রের তালিম নেন। জাহেলি যুগে জীবন-যৌবন কাটালেও সবশেষে ইসলামের পরশে ধন্য হন। জীবনসায়াহ্নে রাসুল (সা.), চার খলিফা ও অসংখ্য সাহাবায়ে কেরামের সান্নিধ্য-সৌরভে দিন গুজরান করেন।
রোগের রকমফের নির্ণয় করে তিনি চিকিৎসার পথ বের করেছিলেন। ইরানের গুন্দেশাপুরে চিকিৎসাবিদ্যায় বিজ্ঞ হওয়ার পাশাপাশি বাদ্য-যন্ত্র বাজানোর ক্ষেত্রেও পারদর্শী হয়ে ওঠেন।

ইসলাম গ্রহণের আগে আল-হারিস ইবনে কালদাহ

ভিটে-বাড়ি তায়েফ হলেও ইয়েমেন ও ইরানে তার যাতায়াত ছিল নিয়মিত। চিকিৎসা ও বাদ্য-যন্ত্র চালানোর বিভিন্ন শিক্ষা নিতেই তিনি ছুটে যেতেন এই দুই দেশে। এতে করে তিনি তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। এমনকি তার চিকিৎসার ধরন দেখে অন্যরা অভিভূত হয়ে যেত। ইরানের লোকজন তার জ্ঞান-অভিজ্ঞান ও দক্ষতা-পারঙ্গমতার কথা সে কালেই স্বীকৃতি দেন। এমনকি ইসলামের আবির্ভাবের আগেই আরব ব-দ্বীপে তার সুনাম-সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
ইরানের থাকাকালীন তিনি বিভিন্ন মানুষের চিকিৎসা করতেন। সে সূত্রে এক ধনাঢ্যশালীর চিকিৎসার বিনিময়ে অঢেল অর্থ-সম্পদ লাভ করেন। এরপর জন্মভূমিতে ফিরে চিকিৎসাচর্চা অব্যাহত রাখেন। ফলে তিনি এমন দক্ষতা ও পারদর্শীতার পরিচয় দেন, যার নজির খুব একটা পাওয়া যায় না। ফলে খুব অল্প সময়ে চারিদিকে তার পরিচয়-খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।
ইসলাম গ্রহণের পর তিনি
মক্কায় ইসলামের আবির্ভাব ও তায়েফে আল-হারিসের উত্থান একই সময়ে হয়েছিল। তবে আল-হারিস কখন ইসলাম গ্রহণ করেন, এ সম্পর্কে ইতিহাস-উৎসে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। কিন্তু চিকিৎসাক্ষেত্রে তার অবদান ও দক্ষতার কারণে তিনি আলোচিত হন বেশ।
এক বর্ণনায় আছে, সাহাবি সাআদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) মক্কায় খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন রাসুল (সা.) সাহাবি আল-হারিস (রা.)-কে তার শশ্রুষায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন।

কিসরার সঙ্গে তার কথোপকথন
পারস্যের রাজা কিসরার সঙ্গে আল-হারিস (রা.) এর দারুণ এক মৌন বাকযুদ্ধ রয়েছে। একবার কিসরা অসুস্থ হয়ে আল-হারিস (রা.)-কে তার দরবারে ডেকে পাঠান। আল-হারিস (রা.) যখন কিসরার দরবারে পৌঁছেন, তখন ভেতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। অনুমতি পেয়ে প্রবেশের পর কিসরা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, কে তুমি? তিনি বললেন, আমি আল-হারিস ইবনে কালদাহ আস-সাকাফি। কিসরা জিজ্ঞেস করলেন, তোমার পেশা কী? বললেন, চিকিৎসা। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি আরবি? বললেন, হ্যাঁ আমি কৌলিন ও পুরোদুস্তর আরবি। তখন কিসরা বললেন- মূর্খতা, দুর্বল স্মৃতিশক্তি ও নিম্ন মানের খাবার খেয়ে আরবরা আবার চিকিৎসাক্ষেত্রে কী করবে? আল-হারিস (রা.) সঙ্গে সঙ্গে বলে ওঠলেন, মহামান্য বাদশাহ! আরবদের যদি এতোই দুর্বলতা থাকে, তাহলে দরকার ছিলো এমন একজনের যে মূর্খতা দূর করবে, বক্রতা শুধরাবে, শরীর সোজা করবে ও মগজ-মস্তিষ্ক সুস্থির করবে। কেননা জ্ঞানী ব্যক্তি এগুলো নিজের পক্ষ থেকেই বুঝতে পারে।
তার এ বক্তব্য শোনে কিসরা হতভম্ব হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আরবদের কোন চরিত্রে প্রশংসা করতে চাচ্ছো? তাদের কোন মতাদর্শ ও গুণ তোমাকে অবাক করেছে? বললেন- মহামান্য বাদশাহ! তাদের উদার-প্রশস্ত হৃদয়, উন্নত মানের বংশ-মর্যাদা, বিশুদ্ধ ভাষা ও উৎকৃষ্ট বাচনভঙ্গি রয়েছে। ধনুক থেকে তীর যেভাবে বের হয়, তাদের মুখ থেকে বাক্যবাণও সেভাবে নিঃসৃত হয়। তাদের ভাষা বসন্তের নির্মল বায়ুর চেয়েও স্বচ্ছ-স্বাদু। জলপ্রপাতের ¯্রােতধারার চেয়েও নরোম-কোমল।
কিসরা ও তার মাঝে আরো বহুক্ষণ আলাপ-আলোচনা হয়। কথার জাদুতে তিনি কিসরাকে বিমুগ্ধ ও অভিভূত করে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত কিসরা তার কথা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন।

আল-হারিস (রা.)-এর মৃত্যু
আল-হারিস (রা.) এর মৃত্যুর নির্দিষ্ট দিন-তারিখের ক্ষেত্রে ইতিহাসবেত্তাদের মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, ইসলামের প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর (রা.) এর যেদিন মৃত্যু হয়, সেদিনই তিনি বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। জনৈক ইহুদি নারী তার খাবারে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন।


আবার কেউ কেউ বলেন, তিনি মুআবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) এর যুগে মৃত্যু বরণ করেন। তারা দলিল দেন, হজরত মুআবিয়া (রা.) তাকে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করেছিলেন বলে বর্ণনা রয়েছে। কিন্তু প্রথম পক্ষ বলেন, হজরত মুআবিয়া (রা.) তাকে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) এর যুগে প্রশ্নগুলো করেছিলেন।

হাসি-রসিকতা করেও মিথ্যা বলা পাপ
                                  

 সভা-মঞ্চে শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণে কিংবা কথায় রং ধরাতে অনেকে মিথ্যা বলেন। আবার কেউ কেউ স্বাভাবিক হাসি-রসিকতায় মিথ্যার বেসাতি সাজান। তারা মনে করেন, এভাবে মিথ্যা বলা বৈধ। অথচ রসিকতা করেও মিথ্যা বলা হারাম।


আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি রসিকতা করি ঠিক, তবে সত্য ব্যতীত কখনো মিথ্যা বলি না।’ (তাবরানি ফিল মুজামুল কাবির, খ-: ১২, পৃষ্ঠা: ৩৯১; সহিহ আল-জামে, হাদিস নং: ২৪৯৪)
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, একবার সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘হে আল্লাহ রাসুল, আপনি তো আমাদের সঙ্গে রসিকতা করেন। তিনি বললেন, ‘আমি সত্য ছাড়া ভিন্ন কিছু বলি না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৯০)


আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা (রহ.) বলেন, রাসুল (সা.)-এর সাহাবিগণ বলেছেন যে, তারা রাসুল (সা.) সঙ্গে কোনো সফরে ছিলেন। তখন তাদের একজন ঘুমিয়ে পড়লে অন্য কেউ তার তীর নিয়ে নেয়। পরে লোকটি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে ভয় পেয়ে যায়। এ দৃশ্য দেখে সবাই হেসে দেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘তোমরা হাসলে কেন?’ তারা বলল, কিছু হয়নি। তবে আমি তার তীরটি নিয়েছিলাম আর এতেই সে ঘাবড়ে গেছে। রাসুল (সা.) বললেন, ‘কোনো মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমকে ভয় দেখানো বৈধ নয়।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫০০৪, আহমদ, হাদিস নং: ২২৫৫৫, সহিহ আল-জামে, হাদিস নং: ৭৬৫৮)


অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমারা অন্য কারো আসবাবপত্র ইচ্ছায় বা রসিকতা করে ধরবে না। কেউ কারো কিছু ধরে থাকলে, তার উচিত তাকে তা ফেরৎ দেওয়া।’ (আবু দাউদ, হাদিস নং: ৫০০৩, তিরমিজি, হাদিস নং: ২১৬০, সহিহ আল-জামে, হাদিস নং: ৭৫৭৮)

যাদের ওপর হজ ফরজ
                                  

হজ মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও সাম্যের সপ্রতিভ প্রতীক। এটি ইসলামের অন্যতম স্তম্ভও বটে। অন্য কোনো ইবাদতে যা একসঙ্গে পাওয়া না গেলেও হজে আর্থিক ও কায়িক শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ পবিত্র হজ পালনে সৌদি গমন করেন। সেখানে গিয়ে তারা আল্লাহপ্রেমের পাঠ চুকিয়ে রাসুলপ্রেমের ষোলকলা পূর্ণ করেন। মহা সৌভাগ্য ও পুণ্যের এই মিছিলে বাংলাদেশি হাজিরাও শামিল হন।


স্বাভাবিকভাবে ‘হজ’ অর্থ মহৎ কাজের ইচ্ছে করা। পারিভাষিকভাবে হজ বলে, হজের নিয়তসহ ইহরাম ধারণ করে নির্দিষ্ট দিনে আরাফার ময়দানে অবস্থান করা ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করা। (ফাতাওয়া শামি, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৪)
আর ‘ওমরাহ’ অর্থ পরিদর্শন করা। ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করা, এরপর তাওয়াফ ও সাঈ করে মাথা মু-ন করে ইহরামমুক্ত হওয়াকে ওমরাহ বলে। (ফাতহুল বারি, খ-: ৩, পৃষ্ঠা: ৫৯৭)
হজের সওয়াব ও ফজিলত
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি, খ-: ১, পৃষ্ঠা: ২০৬)


হজ না আদায়ের অশুভ পরিণতি
রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বলেছেন, ‘হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করা ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার নামান্তর।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১৬৭)

হজের সময় ও নির্ধারিত স্থান
হজের নির্দিষ্ট সময় শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন। বিশেষত ৮ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এ পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজের নির্ধারিত স্থানÑকাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফা। (আসান ফিকাহ, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ২৫১)

হজের যত প্রকার
এক. ইফরাদ
শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজের সব আমল সম্পন্ন করা।
দুই. তামাত্তু
শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওমরাহর কাজ সমাপ্ত করা। এরপর মাথা মু-ন করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া। অতঃপর ওই সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজের সব আমল সম্পাদন করা।
তিন. কিরান
একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই (একই) ইহরামেই ওমরাহ ও হজ পালন করা। এ তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো ‘কিরান।’ কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে হজে তামাত্তুই উত্তম। (ফাতাওয়া শামি, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ৫২৯)

হজ ফরজ কার ওপর
প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে নারীদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শর্ত। (ফাতাওয়া শামি, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ৪৫৫)
মাহরাম: যাদের সঙ্গে কখনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায় না, তারাই মাহরাম। যেমনÑপিতা, পুত্র, আপন ও সৎভাই, দাদা-নানা, আপন চাচা ও মামা, ছেলে বা নাতি, জামাতা, শ্বশুর, দুধভাই, দুধ ছেলে প্রমুখ। তবে একা একা দুধভাইয়ের সঙ্গে এবং যুবতি শাশুড়ির জামাতার সঙ্গে যাওয়া নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ৪৬৪)
হজ ফরজ হওয়ার শর্ত
হজ ফরজ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে। এক. মুসলিম হওয়া। দুই. বিবেকবান হওয়া, পাগল না হওয়া। তিন. বালেগ হওয়া, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া। চার. আজাদ বা স্বাধীন হওয়াÑঅর্থাৎ কারো গোলাম বা দাস না হওয়া। পাঁচ. দৈহিক ও আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়া।

হজ ফরজ হয়েছে কিনা জানবেন যেভাবে
হজ ও জাকাতের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য রয়েছে। তাই কারো ওপর জাকাত ফরজ না হয়েও তার ওপর হজ ফরজ হতে পারে। হজ ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য হলো, জাকাতের সম্পর্ক নির্ধারিত নিসাবের সঙ্গে। হজের সম্পর্ক মক্কায় আসা-যাওয়ার খরচের সঙ্গে। সুতরাং স্থাবর সম্পত্তির কিছু অংশ বিক্রয় করে কেউ যদি হজ আদায় করতে সক্ষম হয় এবং হজ থেকে ফিরে এসে বাকি সম্পত্তি দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে, তাহলে তার ওপর হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ১৫২; আহসানুল ফাতাওয়া, খ-: ৪, পৃষ্ঠা: ৫১৬)
একইভাবে ব্যবসায়ীর দোকানে যে পরিমাণ পণ্য আছে, তার কিছু অংশ বিক্রয় করলে যদি হজ করা সম্ভব হয় এবং ফিরে এসে যদি বাকি পণ্য দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা যায়, তাহলে তার ওপরও হজ ফরজ। (ইমদাদুল আহকাম, খ-: ২, পৃষ্ঠা: ১৫৩)

নিজের হজ আগে, পরে অন্যের হজ
মনে রাখতে হবে যে আগে নিজের হজ আদায় করবে। পরে মাতা-পিতার চিন্তা করবে। সামর্থ্য থাকলে তাঁদের নিয়ে একসঙ্গে হজ করবে। অন্যথায় আগে নিজের ফরজ আদায় করবে। (রহিমিয়া, খ-: ৮, পৃষ্ঠা: ২৮২)
অনেকে মনে করে সন্তানের বিয়ে আগে দিতে হয়। তারপর হজ আদায় করতে হয়। অথচ এ কথা ইসলামসমর্থিত নয়। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তানের বিয়েও খুবই জরুরি। তাই বলে সন্তানের বিয়ের জন্য হজে বিলম্ব করা যাবে না। (রহিমিয়া, খ-: ৮, পৃষ্ঠা: ২৭৬)

হজ ফরজ হওয়ার পর করণীয়
হজ যে বছর ফরজ হয়, ওই বছরই আদায় করে নেওয়া উচিত। অহেতুক কারণে বিলম্ব করা গুনাহ। একবার হজ ফরজ হলে তা আর কখনো মাফ হয় না। (আহসানুল ফাতাওয়া, খ-: ৪, পৃষ্ঠা: ৫২৮) মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের ইচ্ছে করে, সে যেন তা দ্রুত আদায় করে নেয়। কেননা মানুষ কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনো সম্পদ খরচ হয়ে যায়, কখনো সমস্যার সম্মুখীন হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস, নং: ২০৭)

হজে যাওয়ার আগে মানুষের অধিকার
হজে যাওয়ার প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর করণীয় হলো, মানুষের অধিকারের প্রতি যতœবান হওয়া। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা। ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়া। তাওবা-ইস্তিগফার করা। এমন সফরসঙ্গী নির্বাচন করা, যিনি নেককার ও সহযোগিতাকারী। বেশি বেশি কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির করা। হজের মাসআলা-মাসায়েল শেখা। (ফাতাওয়া আলমগিরি, খ-: ১, পৃষ্ঠা: ২২০)

নিয়ত হতে হবে বিশুদ্ধ
হজে যাওয়ার সময় নিয়ত বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। মহান আল্লাহর হুকুম পালনার্থে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ করছিÑএমন নিয়ত করতে হবে। লোকে হাজি বলবে, সম্মান দেখাবে, প্রসিদ্ধি অর্জন হবে, ব্যবসা ভালো জমবে, নির্বাচনে ভালো করা যাবেÑএ ধরনের মনোভাব নিয়ে হজ করলে সাওয়াব তো হবেই না; বরং লৌকিকতার কারণে গুনাহ হবে। (মুসলিম, হাদিস নং: ১৯০৫)

যাবতীয় খরচ হালাল হতে হবে
হজের সার্বিক কাজে যেসব টাকা খরচ করা হবে, তা হালাল হতে হবে। হজের মধ্যে হারাম টাকা খরচ করাও হারাম। যে হজে হারাম টাকা খরচ করা হয়, সে হজ কবুল হয় না। (রদ্দুল মুহতার, খ-: ৩, পৃষ্ঠা: ৫১৯)

ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যে ভেজাল মেশানো জঘন্য অপরাধ
                                  

 ভেজাল পণ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যে সয়লাব হয়ে গেছে দেশ। অথচ খাদ্যে ভেজাল মেশানো সমাজবহির্ভূত, অনৈতিক ও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। ইসলামে এমন অমানবিক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও চরমভাবে নিন্দিত। কারণ এতে প্রতারণা-ধোঁকাবাজি, অবৈধ পন্থায় অন্যের অর্থ উপার্জন, ভেজালমিশ্রিত খাদ্য বিক্রয়ের সময় মিথ্যা কথা ও মিথ্যা কসম করা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া এবং শারিরীকভাবে অন্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করা ইত্যাদি জড়িত থাকে।


পণ্যে ভেজাল মেশানো প্রতারণা
খাদ্যে ভেজাল দেওয়া মানে ক্রেতার প্রতারণা করা। ইসলামে ধোঁকাবাজি, চালচতুরি ও প্রতারণা ইত্যাদি নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণনা করেন, একবার রাসুল (সা.) বাজারে এক খাদ্যস্তুপের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি খাদ্যস্তুপের ভিতরে হাত প্রবেশ করিয়ে দেখলেন ভেতরের খাদ্যগুলো আর্দ্র-ভেজা। তিনি খাদ্য বিক্রেতার নিকট জানতে চাইলেন, এটি কেমন কথা? সে বলল, বৃষ্টিতে ভিজে গেছে হে আল্লাহর রাসুল! রাসুল (সা.) বললেন, তাহলে তুমি খাদ্যগুলো উপরে রাখোনি কেন, যাতে মানুষ দেখতে পেত। অতপর নবী (সা.) বললেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতারণা করবে, সে আমার উম্মত নয়।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০২)
খাদ্যে ভেজাল দিয়ে যে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করা হয়, তা অবৈধ পন্থায় অর্জিত। অবৈধ পন্থায় অন্যের সম্পদ ভোগ নিষিদ্ধ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮)


যারা খাদ্যে ভেজাল মেশায় তাদের ইবাদত কবুল হয় না
খাদ্যে ভেজাল দাতাদের ইবাদত কবুল হয় না। কারণ রুজি-রুটি হালাল হওয়া ইবাদত কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। অথচ ভেজাল দাতাদের উপার্জিত অর্থ অবৈধ বা হারাম। হারাম খাদ্যের মাধ্যমে যে রক্ত-মাংস তৈরি হবে, সে রক্ত-মাংসের শরীরের মাধ্যমে কৃত কোনো ইবাদত কবুল হয় না। এ প্রসঙ্গে আবু হুরায়রাহ (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘এক ব্যক্তি দীর্ঘ সফরে থাকা অবস্থায় এলোমেলো চুল ও ধূলো-মলিন দেহ নিয়ে আকাশের দিকে দুই হাত তুলে দোয়া করে বলে, হে আমার রব! বলে দোয়া করে, অথচ সে যা খায় তা হারাম। যা পান করে, তা হারাম। যা পরিধান করে, তা হারাম এবং হারামের দ্বারাই সে পুষ্টি অর্জন করে। তবে তার মুনাজাত কীভাবে কবুল হতে পারে!’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০১৫)


যে খাদ্য-পণ্যে ভেজাল দেয় সে মহাপাপী
যেসব ব্যবসায়ী খাদ্যে ভেজাল তৈরি করে, তারা মহাপাপী। তাদের সম্পর্কে নবী (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় কেয়ামতের দিন ব্যবসায়ীদের মহাপাপীরূপে ওঠানো হবে, তবে যারা সততার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করেছে তারা ছাড়া।’ (তিরমিজি, হাদিস নং: ১২১০)
খাদ্যে ভেজাল দেওয়ার একটি সহজ অর্থ হলো- সত্যের সঙ্গে মিথ্যার সংমিশ্রণ। ভালোর সঙ্গে মন্দের মিশেল। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা সত্যের সঙ্গে অসত্যের মিশ্রণ ঘটাবে না। জেনেশুনে সত্য গোপন করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৪২)


মিথ্যা কসমকারী বিক্রেতাদের সঙ্গে আল্লাহ কথা বলবেন না
আমাদের বাজার-ঘাটে সাধরণত দেখা যায়, যারা খাদ্যে ভেজাল মেশান, তারা অনেক সময় মিথ্যা কসম করেন। পণ্য বিক্রি করতে শপথ করে বলেন, ‘আল্লাহর কসম! এটি একদম খাঁটি’ ইত্যাদি। এভাবে মিথ্যা কসম করে পণ্য বিক্রয়কারী সম্পর্কে হাদিসে ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, ‘কেয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলবেন না। তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না ও তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন হলো, যে তার ব্যবসায়িক পণ্য মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রয় করে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ১০৬)


সত্যিকারের মুমিন অন্যকে কষ্ট দেয় না
যারা খাদ্যে ভেজাল মেশান, তারা মানুষের ও দেশের ক্ষতিকারক-দুশমন। কারণ খাদ্যে ভেজাল মেশালে শুধুমাত্র মানুষের মানসিক ও আর্থিক ক্ষতিই হয় না; বরং ক্ষেত্রবিশেষে মানুষ ফরমালিন, কার্বাইড ইত্যাদি বিষাক্ত কেমিক্যালযুক্ত খাবার খেয়ে বিভিন্ন জটিল অসুখে আক্রান্ত হতে পারেনা। আবার অনেক সময় অভাবী ও অসহায় মানুষ চিকিৎসা না করতে পেরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তেও পারেন।
আবু হুরায়রাহ (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘মুসলমান তাকে বলা হবে ওই ব্যক্তিকে, যার মুখ ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে এবং মুমিন হলো ওই ব্যক্তি, যার পক্ষ থেকে অন্য মানুষের প্রাণ ও সম্পদের কোনো শঙ্কা না থাকে। (বুখারি, হাদিস নং: ১০; মুসলিম, হাদিস নং: ৪০)


শুধুমাত্র আইন প্রণয়ন করে বা শাস্তির বিধান করে খাদ্য-ভেজাল রোধ সম্ভব নয়। এজন্য দরকার মানুষের নৈতিকতাবোধ এবং পরকালীন জবাবদিহিতার বোধ জাগ্রত করা। একজন সত্যিকারের মুমিন খাদ্যে ভেজাল মেশাতে পারে না। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য খাইয়ে মানুষকে অসুস্থ করতে পারে না। অন্যকে কষ্ট দিতে পারে না।

ঘুমের কারণে ফজর নামাজ পড়তে না পারলে যা করতে হবে
                                  

 কেউ ঘুমিয়ে থাকার কারণে ফজরের নামাজ যদি সময় মতো আদায় করতে না পারে, তাহলে বেলা ওঠে যাওয়ার পর ফরজের কাজা আদায় করতে হবে নাকি স্বাভাবিক ফরজ আদায় করলে হবে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।


প্রশ্নের সমাধান দুই ধরনের-

এক. ফজরের নামাজের জন্য নির্দিষ্ট সময় হলো সুবহে সাদিক থেকে সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত। কেননা, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘ফজরের নামাযের সময় শুরু হয় ফজর বা উষার উদয় থেকে শুরু করে সূর্যোদয় পর্যন্ত।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ৬১২)
আর পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১০৩)


সুতরাং ঘুম বা ভুলে যাওয়ার কারণে ফজর নামাজ ছুটে গেলে তার ওপর কাজা করা ওয়াজিব। কেননা, রাসুলুল্লাহ বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে ভুলে যায় বা সে সময় ঘুমিয়ে থাকায় তা ছুটে যায়, তাহলে তার কাফফারা হলো সে যখনই তা মনে করবে, তখনই (সঙ্গে সঙ্গে) নামাজ আদায় করে নেবে।’ (মুসলিম, হাদিস নং: ৬৮৪)


দুই. ইচ্ছাকৃতভাবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নামাজ আদায় না করা কবিরা গুনাহ। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেসব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন।’ (সুরা মাউন, আয়াত: ৪-৫)

দিবাগত রাত পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’
                                  

যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আজ শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর বা শবে কদর পালিত হবে। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানের কাছে শবে কদরের রাত হাজার রাতের চেয়ে পুণ্যময়। মহান আল্লাহ ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হাজার রাতের চেয়েও উত্তম’ পবিত্র শবে কদর সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বরকতময় ও পুণ্যময় রজনী। পবিত্র শবেকদরের রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ আল্লাহ’র নৈকট্য ও রহমত লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগী করবেন। পবিত্র রমজান মাসে লাইলাতুল কদরে পবিত্র আল কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ শনিবার দিবাগত রাতে মসজিদসহ বাসা-বাড়িতে এবাদত বন্দেগিতে মশগুল থাকবেন।

এ রাতে মুসলমানগণ নফল নামাজ আদায়, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আসকার, দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও আখেরি মোনাজাত করবেন। পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে আগামীকাল রোববার সরকারি ছুটি। এ উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সকল মসজিদে রাতব্যাপী ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের আয়োজন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারি পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন গতকাল শুক্রবার বলেন, শনিবার দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। তিনি বলেন, এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শনিবার বাদ জোহর (বেলা দেড়টায়) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়াজ পেশ করবেন মিরপুর বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব ড. মুফতি আবদুল মুকিত আযহারী। জাতীয় মসজিদসহ দেশের সব মসজিদেই তারাবীর নামাজের পর থেকে ওয়াজ মাহফিল, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন থাকবে। পবিত্র শবে কদর উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বাংলাদেশ বেতার ও বেসরকারি রেডিওসমূহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করবে। এ ছাড়া সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হবে।

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
                                  

পবিত্র জুমাতুল বিদা, অর্থাৎ রমজান মাসের শেষ শুক্রবার আজ। দিনটি মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য ব্যাকুল থাকেন মুমিন মুসলমানরা। দয়াময় রবের দরবারে হাজিরা দিয়ে বিগলিত চিত্তে মাগফিরাত কামনা করেন।

ইসলামের সূচনাকালে মদিনায় যখন রমজানে রোজার বিধান নাজিল হয়, তখন থেকেই প্রতিবছর রমজানের শেষ জুমাকে বিশেষ গুরুত্বসহকারে আদায় করে আসছে মুসলিম উম্মাহ। পাশাপাশি এই একই দিন বিশ্বব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস। আল কুদস বা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়তম স্থানগুলোর একটি, যেখানে রয়েছে মুসলমানদের প্রথম কেবলা মসজিদুল আকসা।

বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেম শুধু মুসলমান নয়, বিশ্বের ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও প্রিয় ও পবিত্র স্থান। নবী মুহম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র মেরাজ গমনকালে মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় করেন। তিনি ছিলেন নামাজে অংশগ্রহণকারী সব নবী-রাসুলের ইমাম। এ ছাড়া বনি ইসরাইলের নবী-রাসুলরা যেমন হজরত মুসা, দাউদ, সোলায়মান এবং ঈসা (আ) এর দ্বীন প্রচারের কেন্দ্র ছিল এই ফিলিস্তিন ভূমি।

হজরত ইবরাহিম (আ) এর মাজার এখনো ফিলিস্তিনের আল-খলিল শহরে রয়েছে। হাজারো নবী-রাসুলের স্মৃতিচিহ্ন বুকে নিয়ে অবস্থান করছে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে আল কুদস, মসজিদুল আকসা এবং আশপাশের এলাকাগুলো। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, আল কুদসের গুরুত্ব ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে কত বেশি। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী চক্র সাম্প্রদায়িক ইহুদি জায়নিস্টদের ইন্ধন জুগিয়ে ফিলিস্তিনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মুসলমানদের বর্বরোচিতভাবে শহর ও গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করছে।

ফিলিস্তিন জবরদখলদার সাম্প্রদায়িক ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে চলেছে। প্রতিবাদ করে আসছে বিশ্ববাসী। ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ী হওয়ার পর ইমাম খোমেনি ফিলিস্তিন ইস্যুকে ইসলামিকরণ করেন এবং পবিত্র জুমাতুল বিদায় আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস পালনের আহ্বান জানান। আজ বিশ্বের নানা দেশে দিবসটি পালিত হবে।

পৃথিবী থেকে জালিম দখলদাররা উচ্ছেদ হোক, শান্তিকামী জনগণ নাজাত পাক আর বায়তুল মুকাদ্দাস মুক্ত হোক, আমরাও এ কামনা করি মাবুদ মাওলার দরবারে। রোজাসংক্রান্ত মাসআলা এক রোজার পরিবর্তে এক ফিদয়া ফরজ হয়। এক ফিদয়া হলো, কোনো মিসকিনকে দুই বেলা পেট ভরে খাবার খাওয়ানো অথবা এর মূল্য প্রদান করা।

জাকাত দিতে হয় যেসব সম্পদের
                                  

জাকাত আরবি শব্দ। জাকাতের অর্থ পবিত্রতা, ক্রমবৃদ্ধি ও আধিক্য ইত্যাদি। পারিভাষিকভাবে ধনীদের অর্থ-সম্পদে আল্লাহর নির্ধারিত অংশকে জাকাত বোঝায়। জাকাত সম্পদকে পবিত্র করে। বিত্তশালীদের পরিশুদ্ধ করে। দারিদ্র্য মোচন করে ও উৎপাদন বৃদ্ধি করে। অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে সমাজে শান্তি আনয়ন করে।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়টি হচ্ছে জাকাত। ঈমানের পর নামাজ ও তার পরই জাকাতের স্থান। পবিত্র কোরআনের ৩২ জায়গায় জাকাতের কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে ২৮ জায়গায় নামাজ ও জাকাতের কথা একত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।


যেসব সম্পদে জাকাত ফরজ
সব ধরনের সম্পদে জাকাত ফরজ হয় না। শুধু সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা, পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ব্যবসার পণ্যে জাকাত ফরজ হয়।
সোনা-রুপার অলংকার সব সময় বা কালেভদ্রে ব্যবহৃত হোক কিংবা একেবারেই ব্যবহার না করা হোক, সর্বাবস্থায় তার জাকাত দিতে হবে। (আবু দাউদ শরিফ : ১/২৫৫; নাসায়ি, হাদিস : ২২৫৮)


অলংকার ছাড়া সোনা-রুপার অন্য সামগ্রীর ওপরও জাকাত ফরজ। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক : ৭০৬১)
মৌলিক প্রয়োজন থেকে উদ্বৃত্ত টাকা-পয়সা নিসাব পরিমাণ হলে এবং এক বছর স্থায়ী হলে বছর শেষে তার জাকাত আদায় করা ফরজ। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৯১)
ব্যাংক ব্যালান্স, ফিক্সড ডিপোজিট, বন্ড, শেয়ার সার্টিফিকেট ইত্যাদিও নগদ টাকা-পয়সার মতোই। এসবের ওপরও জাকাত ফরজ।
হজ ও ঘরবাড়ি নির্মাণের উদ্দেশ্যে জমানো টাকার জাকাত
হজের উদ্দেশ্যে কিংবা ঘরবাড়ি নির্মাণ, ছেলে-মেয়ের বিয়েশাদি ইত্যাদি প্রয়োজনের জন্য যে অর্থ সঞ্চয় করা হয়, তাতেও জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ১০৩২৫)


দোকানপাটে যা কিছু বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা থাকে, তা বাণিজ্যিক পণ্য। এর মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত আদায় করা ফরজ। (সুনানে আবু দাউদ : ১/২১৮)
ব্যবসার নিয়তে কোনো কিছু ক্রয় করলে তা স্থাবর সম্পত্তি হোক, যেমনÑজমিজমা, ফ্ল্যাট কিংবা অস্থাবর সম্পত্তি যেমনÑমুদিসামগ্রী, কাপড়-চোপড়, অলংকার, নির্মাণসামগ্রী, গাড়ি, ফার্নিচার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, হার্ডওয়্যার সামগ্রী, বই-পুস্তক ইত্যাদি, তা বাণিজ্যিক পণ্য বলে গণ্য হবে এবং মূল্য নিসাব পরিমাণ হলে জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭১০৩)


যদি সোনা-রুপা, টাকা-পয়সা কিংবা বাণিজ্যিক পণ্যের মধ্যে কোনোটি পৃথকভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকে, কিন্তু এসবের একাধিক সামগ্রী এ পরিমাণ রয়েছে, যা একত্র করলে সাড়ে ৫২ তোলা রুপার সমমূল্য বা তার চেয়ে বেশি হয়, তাহলে এ ক্ষেত্রে সব সম্পদ হিসাব করে জাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস : ৭০৮১)
দোকানের পণ্যের জাকাত
দোকানের ডেকোরেশন, আলমারি, তাক ইত্যাদি মূল্যের ওপর জাকাত ফরজ নয়, বরং সেল বা বিক্রি করার জন্য যেসব পণ্য বিদ্যমান, তার মূল্য যদি নিসাব পরিমাণ হয়, তাহলে তাতে জাকাত ফরজ হবে। জাকাত হিসাব করার পদ্ধতি হলোÑবছরের একটা সময় দিন-তারিখ নির্ধারণ করে দোকানে বিদ্যমান পণ্যের মূল্যের হিসাব করে দেখা গেল, পাঁচ লাখ টাকার পণ্য আছে। অতঃপর ওই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর আবার আনুমানিক পণ্যের মূল্য ধরে দেখা গেল, শুরুতে যেই পরিমাণ সম্পদ ছিল, তা নিসাব পরিমাণ। আবার এক বছর অতিবাহিত হওয়ার পর যে পণ্য আছে, তা-ও নিসাব পরিমাণ, তাহলে সমুদয় সম্পদের আড়াই শতাংশ জাকাত দিতে হবে। (তাতারখানিয়া : ৩/১৬৯, হিন্দিয়া : ১/১৮০, দুররুল মুখতার : ৩/১৮২)


ব্যাংকে সঞ্চয়কৃত টাকার জাকাত
কোনো ব্যক্তি সঞ্চয়ের জন্য যদি ব্যাংকে টাকা জমা রাখে, তাহলে ঋণমুক্ত অবস্থায় যেদিন তার জমাকৃত টাকা নিসাব পরিমাণ হবে, সেদিন থেকে এক বছর পূর্ণ হলে ওই টাকার ওপর জাকাত দিতে হবে। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/২৭০; মাহমুদিয়া : ৩/৫৭)
বর্তমানে গাড়ি বা দোকান ভাড়া নেওয়ার সময় মোটা অঙ্কের টাকা অ্যাডভান্স রাখতে হয়, অ্যাডভান্সের এই টাকা গাড়ি বা দোকানের মালিকের হয়ে যায় না। বরং যিনি ভাড়া নিচ্ছেন, তার মালিকানায় এ টাকা রয়ে যায়। তাই নিসাবের পরিমাণ হলে ওই টাকাসহ জাকাত দিতে হবে। দোকান বা বাড়ি ভাড়া গ্রহণকারী ব্যক্তির জন্য ওই টাকার জাকাত আদায় করা জরুরি। (আদদুররুল মুখতার : ৩/১৮৪; ফাতাওয়া দারুল উলুম : ৬/৭৭, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/২৬১)

রমাজনের শেষ ১০ দিনে আমলের বিশেষ গুরুত্ব
                                  

 ইবাদত-বন্দেগি ও পুণ্য অর্জনের মাস রমজান। এ মাসকে তিন ধাপে ভাগ করা হয়। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দশক। শেষ দশকে ইবাদতের সবিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শেষ দশকের গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিস বর্ণিত হয়েছে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, ‘যখন রমজানের শেষ ১০ রাত আসত, তখন রাসুল (সা.) কোমরে কাপড় বেঁধে নেমে পড়তেন (বেশি বেশি ইবাদতের প্রস্তুতি নিতেন) এবং রাত জেগে থাকতেন। আর পরিবার-পরিজনকেও তিনি জাগিয়ে দিতেন।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১০৫৩)


শেষ দশকের সূচনা হয় ইতিকাফ দ্বারা। রমজানের পুরোপুরি রহমত ও বরকত লাভের জন্য ইতিকাফের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রিয় নবী (সা.) ইতিকাফ করেছেন, সাহাবায়ে কেরামও করেছেন, তাই ইতিকাফ করা সুন্নাত। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘ইন্তেকাল পর্যন্ত রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করেছেন, এরপর তাঁর স্ত্রীরাও ইতিকাফ করেছেন।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১৮৬৮; মুসলিম, হাদিস নং: ২০০৬)


এ সময় তিনি আল্লাহর ইবাদতে মসজিদে নির্জন বাস করতেন। তার ইতিকাফের জন্য মসজিদে একটি তাঁবু পাতা হতো। ইতিকাফকালীন তিনি রোগী দেখতে বের হতেন না, জানাজায় যেতেন না এবং নারীদের সঙ্গ ত্যাগ করতেন। প্রাকৃতিক প্রয়োজনের মতো জরুরি কিছু ছাড়া তিনি তাঁর ইতিকাফস্থল ত্যাগ করতেন না।
ইতিকাফের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে শাহ ওয়ালি উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি (রহ.) লিখেছেন, ‘মসজিদের ইতিকাফ হচ্ছে হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পবিত্রতা, চিত্তের নিষ্কলুষতা এবং চিন্তার পরিচ্ছন্নতা ও বিশুদ্ধতা। ফেরেশতাকুলের গুণাবলি অর্জন এবং লাইলাতুল কদরের সৌভাগ্য লাভসহ সব ধরনের ইবাদতের সুযোগ লাভের সর্বোত্তম উপায়। এজন্য রাসুল (সা.) নিজে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ইতিকাফ পালন করেছেন এবং তার বিবিরাসহ সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই এই সুন্নতের ওপর মৃত্যু অবধি আমল করেছেন।’ (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা : ২/৪২)
রমজানের শেষ দশকেই রয়েছে পবিত্র শবেকদর। শবেকদর হাজার মাস অপেক্ষাও উত্তম। অর্থাৎ এক হাজার মাস ইবাদত করলে যে সাওয়াব হতে পারে, এই রাতের ইবাদতে তার চেয়েও বেশি সাওয়াব পাওয়া যাবে। এ রাতের কারণেই পুরো রমজান তাৎপর্য ও ফজিলতপূর্ণ হয়েছে। আর পবিত্র কোরআনও অবতীর্ণ হয়েছে এই শবেকদরে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় রজনীতে। অবশ্যই আমি সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয় স্থিরকৃত হয়।’ (সুরা দুখান, আয়াত : ৩-৪)


রমজানের বিগত দিনগুলো যাদের অবহেলায় কেটে গেছে, এখনো সময় আছে নিজেকে শুধরে নেওয়ার। মুক্তির অবারিত সুযোগ পেয়েও নিজেদের মুক্ত করে নিতে পারল না, তাদের চেয়ে হতভাগা আর কে হতে পারে?


   Page 1 of 38
     ইসলামী জগত
স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ
.............................................................................................
মুরব্বিদের প্রতি আচরণ
.............................................................................................
তাওহিদের মর্মবাণী
.............................................................................................
নফল নামাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মা-বাবার সেবা করা
.............................................................................................
হজের সফরে যে ভূল থেকে দূরে থাকতে হবে
.............................................................................................
অজু ছাড়া ভুলক্রমে নামাজ পড়লে করণীয়
.............................................................................................
দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিভিন্ন আমল
.............................................................................................
যে সাহাবি ইসলামে প্রথম চিকিৎসক ছিলেন
.............................................................................................
হাসি-রসিকতা করেও মিথ্যা বলা পাপ
.............................................................................................
যাদের ওপর হজ ফরজ
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যে ভেজাল মেশানো জঘন্য অপরাধ
.............................................................................................
ঘুমের কারণে ফজর নামাজ পড়তে না পারলে যা করতে হবে
.............................................................................................
দিবাগত রাত পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
জাকাত দিতে হয় যেসব সম্পদের
.............................................................................................
রমাজনের শেষ ১০ দিনে আমলের বিশেষ গুরুত্ব
.............................................................................................
ইতিকাফকারীর করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রমজানের ইতিকাফে
.............................................................................................
কোরআন তেলাওয়াতে চিন্তা, ভাবনা ও গভীর অভিনিবেশ
.............................................................................................
মাহে রমজানের সওগাত
.............................................................................................
কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে মুসলিম হলেন মার্কিন যাজক
.............................................................................................
সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব ছোট-বড় সবার ওপর
.............................................................................................
নাজাতের মাস রমজান
.............................................................................................
‘যে ব্যক্তি ঈমান (বিশ্বাস) ও পরকালের আশায় রোজা রাখবে, আল্লাহ তার বিগত দিনের গোনাহ মাফ করে দেবেন’
.............................................................................................
ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা
.............................................................................................
রমজান মাসে ইসলাম গ্রহণকরীর সিয়ামের বিধান
.............................................................................................
আল্লাহর পথে ১ দিনের রোযার প্রতিদান
.............................................................................................
নারীদের জন্য রোজা পালনে যা করণীয়
.............................................................................................
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত লড়াইয়ের নির্দেশ
.............................................................................................
ল্যাপল্যান্ডের মুসলমানরা ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন!
.............................................................................................
রমজান ইবাদতময় করে তুলতে করণীয়
.............................................................................................
রোজার জরুরি কিছু মাসআলা
.............................................................................................
ইসলামে শিশু শিক্ষার গুরুত্ব ও পথ-নির্দেশনা
.............................................................................................
আল্লাহর কাছে চাইলেই পাওয়া যায়
.............................................................................................
আল্লাহ, আল্লাহর রাসূল ও দীনের বিধি-বিধানের উপর ঈমান আনার নির্দেশ
.............................................................................................
রমজানে করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, আজ থেকে রোজা
.............................................................................................
রাসূল (সা)-এর প্রতি ভালবাসা পোষণ ঈমানের অংশ
.............................................................................................
পোশাক নিয়ে গর্ব শাস্তির সমক্ষিন করবে
.............................................................................................
কোরআন মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে
.............................................................................................
ঝড়-তুফানের সময় কী করবেন
.............................................................................................
ইসলামের অন্যতম রুকন সালাতের বিবরণ
.............................................................................................
রমজানের প্রস্তুতি উপলক্ষে ৮টি নির্দেশনা
.............................................................................................
জুমার দ্বিতীয় আজানের জবাব দিতে হয়?
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রম ও শ্রমিক
.............................................................................................
ঈমান ও তার বৈশিষ্ট্যসমূহের বিবরণ
.............................................................................................
জেনে-বুঝে স্বেচ্ছায় আমার উপর মিথ্যা আরোপ
.............................................................................................
মিথ্যা ও মনগড়া হাদীস বর্ণনার ভয়াবহ পরিণাম
.............................................................................................
নিয়মিত সৎকর্ম আল্লাহর নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয়
.............................................................................................
রমজান উপলক্ষে চালু মসজিদুল হারামের কোরআন অ্যাপ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]