| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম

 নিউজিল্যান্ডের আন-নুর মসজিদের প্রাঙ্গনে জুমার নামাজ আদায়ের দৃশ্য।
‘সিজদায়ে সাহু’ মানে ভুলের সিজদা। নামাজে কোনো ওয়াজিব ভুলক্রমে ছেড়ে দিলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তখন সিজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব। সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামাজে পূর্ণতা আনা হয়।

সিজদায়ে সাহু কখন, কেন ও কীভাবে দেবে এর সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলী।

♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ কেউ ইচ্ছে করে ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। নামাজও নষ্ট হয়ে যাবে। পুনরায় আদায় করতে হবে। সিজদায়ে সাহু দ্বারা তখন নামাজ পূর্ণ হবে না।
♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ ভুলক্রমে ছুটে গেলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৩৮৬, আবু দাউদ, হাদিস: ৮৭৪, আল-মুজামুল আওসাত: ৭৮০৮)
♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাত বা যেকোনো এক রাকাতে সুরায়ে ফাতিহা পড়তে গেলে অথবা সেরূপ নফল ও বিতরের যেকোনো রাকাতে ভুলক্রমে সুরায়ে ফাতিহা পড়া না হলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৩)
♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাতে কেরাত পড়া ভুলে গেলে, শেষ দুই রাকাতে তা পড়ে নেবে। তবে সিজদায়ে সাহু দেবে। (মুসলিম: ৮৯৫, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/৪০৯)
♦ ফরজের দুই রাকাত বা এক রাকাতে কিরাত মেলাতে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি: ১২৪৩)
♦ কেউ যদি এক সিজদা করে পরের রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তখন ওই রাকাত দুই সিজদা দিয়ে সম্পন্ন করে ছুটে যাওয়া সিজদাও এর সঙ্গে মিলিয়ে নেবে। শেষে সিজদায়ে সাহু করবে, এতে করে নামাজ হয়ে যাবে। (প্রাগুক্ত)

♦ যদি তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠক ভুলে যায়, তা ফরজ নামাজ হোক বা নফল নামাজ, সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৮২)

♦ তাশাহহুদ পড়তে ভুলে গেলে, সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি, হাদিস: ১২৪৩)
♦ বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (বায়হাকি, হাদিস: ৪০৪২,)
♦ প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের সঙ্গে দরুদ ইত্যাদি পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৫)

সাহু সিজদা যেভাবে দেবে
সাহু সিজদা যার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, সে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে এক সালাম ফেরাবে। এরপর তাকবির বলে নামাজের মতো দুইটি সিজদা করে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবে। সালামের আগে সিজদা করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে তা মাকরুহে তানজিহি। (মুসনাদে আহমদ: ১৮১৮৮, বুখারি, হাদিস: ১১৫০, ১১৫৩, তিরমিজি, হাদিস: ৩৬১)

 

নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম
                                  

 নিউজিল্যান্ডের আন-নুর মসজিদের প্রাঙ্গনে জুমার নামাজ আদায়ের দৃশ্য।
‘সিজদায়ে সাহু’ মানে ভুলের সিজদা। নামাজে কোনো ওয়াজিব ভুলক্রমে ছেড়ে দিলে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। তখন সিজদায়ে সাহু দেওয়া ওয়াজিব। সিজদায়ে সাহুর মাধ্যমে নামাজে পূর্ণতা আনা হয়।

সিজদায়ে সাহু কখন, কেন ও কীভাবে দেবে এর সংক্ষিপ্ত নিয়মাবলী।

♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ কেউ ইচ্ছে করে ছেড়ে দিলে গুনাহগার হবে। নামাজও নষ্ট হয়ে যাবে। পুনরায় আদায় করতে হবে। সিজদায়ে সাহু দ্বারা তখন নামাজ পূর্ণ হবে না।
♦ নামাজের কোনো ওয়াজিব কাজ ভুলক্রমে ছুটে গেলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ৩৮৬, আবু দাউদ, হাদিস: ৮৭৪, আল-মুজামুল আওসাত: ৭৮০৮)
♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাত বা যেকোনো এক রাকাতে সুরায়ে ফাতিহা পড়তে গেলে অথবা সেরূপ নফল ও বিতরের যেকোনো রাকাতে ভুলক্রমে সুরায়ে ফাতিহা পড়া না হলে, সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৩)
♦ ফরজের প্রথম দুই রাকাতে কেরাত পড়া ভুলে গেলে, শেষ দুই রাকাতে তা পড়ে নেবে। তবে সিজদায়ে সাহু দেবে। (মুসলিম: ৮৯৫, মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ১/৪০৯)
♦ ফরজের দুই রাকাত বা এক রাকাতে কিরাত মেলাতে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি: ১২৪৩)
♦ কেউ যদি এক সিজদা করে পরের রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, তখন ওই রাকাত দুই সিজদা দিয়ে সম্পন্ন করে ছুটে যাওয়া সিজদাও এর সঙ্গে মিলিয়ে নেবে। শেষে সিজদায়ে সাহু করবে, এতে করে নামাজ হয়ে যাবে। (প্রাগুক্ত)

♦ যদি তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজে প্রথম বৈঠক ভুলে যায়, তা ফরজ নামাজ হোক বা নফল নামাজ, সিজদায়ে সাহু দিতে হবে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৮২)

♦ তাশাহহুদ পড়তে ভুলে গেলে, সাহু সিজদা দিতে হবে। (নাসায়ি, হাদিস: ১২৪৩)
♦ বিতর নামাজের তৃতীয় রাকাতে রুকুর আগে কুনুত পড়তে ভুলে গেলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (বায়হাকি, হাদিস: ৪০৪২,)
♦ প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের সঙ্গে দরুদ ইত্যাদি পড়ে ফেলে, তাহলে সাহু সিজদা দিতে হবে। (মুসলিম, হাদিস: ৮৯৫)

সাহু সিজদা যেভাবে দেবে
সাহু সিজদা যার ওপর ওয়াজিব হয়েছে, সে শেষ বৈঠকে তাশাহহুদ পড়ে ডান দিকে এক সালাম ফেরাবে। এরপর তাকবির বলে নামাজের মতো দুইটি সিজদা করে বসে যাবে এবং তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়ায়ে মাসুরা পড়ে সালাম ফেরাবে। সালামের আগে সিজদা করলে নামাজ হয়ে যাবে। তবে তা মাকরুহে তানজিহি। (মুসনাদে আহমদ: ১৮১৮৮, বুখারি, হাদিস: ১১৫০, ১১৫৩, তিরমিজি, হাদিস: ৩৬১)

 

মুসলিমদের ঐক্য জরুরি বিশ্বশান্তির জন্য
                                  

 বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। রোববার সকাল ৭টায় জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের ধর্ম, দাওয়াহ ও গাইডেন্স বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখের সঙ্গে এক বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক সুদৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। সৌদি মন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নে বিচক্ষণ নেতৃত্বর প্রশংসা করেন। সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে ‘কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল কোরআন মেমোরাইজেশন কন্টেস্টে’ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছয় দিনের সফরে গেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। রোববার সকালে সৌদি আরবে পৌঁছান তিনি। মক্কা শরিফের পবিত্র মসজিদুল হারামে (৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক কোরআন মেমোরাইজেশন কন্টেস্টের ৪১তম প্রতিযোগিতা চলছে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন।
বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় মুসলমানদের মাঝে ঐক্য প্রতিষ্ঠা হওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
রোববার সকাল ৭টায় জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের ধর্ম, দাওয়াহ ও গাইডেন্স বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আল শেখের সঙ্গে এক বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন অনেক সুদৃঢ় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।
সৌদি মন্ত্রী এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও উন্নয়নে বিচক্ষণ নেতৃত্বর প্রশংসা করেন।
সৌদি সরকারের আমন্ত্রণে ‘কিং আবদুল আজিজ ইন্টারন্যাশনাল কোরআন মেমোরাইজেশন কন্টেস্টে’ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ছয় দিনের সফরে গেছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। রোববার সকালে সৌদি আরবে পৌঁছান তিনি।
মক্কা শরিফের পবিত্র মসজিদুল হারামে (৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক কোরআন মেমোরাইজেশন কন্টেস্টের ৪১তম প্রতিযোগিতা চলছে। এতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ১৫০টি দেশের প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন।
আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন মাধ্যমে বান্দার মান-মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। সে জন্যে বিভিন্ন রোগ-বালাই দিয়ে পরীক্ষাও করেন। আবার কখনো এমন হয় যে, আল্লাত তাআলা বান্দার জন্য জান্নাতে উচ্চ মর্যাদার আসন নির্ধারণ করে রেখেছেন, কিন্তু বান্দা নিজের আমলের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছতে সক্ষম নয়। তাই বিভিন্ন ছোট-খাটো পরীক্ষার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে সে মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেন।
একদিন রাসুল (সা.) আয়েশার (রা.) কাছে গেলেন। দেখলেন আয়েশা কপালে একটি জলপট্টি দিয়ে আছেন এবং ব্যথার প্রকোপে কাঁপছেন। রাসুল (সা.) জিজ্ঞেস করেন, ‘কী হয়েছে তোমার আয়েশা?’ বলেন, ‘জ¦র হয়েছে। আল্লাহ দ্রুত আরোগ্য দান করুন।’ রাসুল (সা.) বলেন, ‘জ¦রকে মন্দ বোলো না। এটি বনি আদমের গুনাহকে এভাবে দূর করে দেয়, যেভাবে আগুন শুকনো লাকড়িকে জ¦ালিয়ে শেষ করে দেয়।’ (মুসলিম, হাদিস: ২৫৭৫)
আরেকবার নবী (সা.) প্রচ- জ¦রে কাঁপছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) নবী (সা.)-এর কাছে এলেন। তখন রাসুল (সা.) বললেন, ‘মুমিন যখন কোনো (বিপদ) কষ্টে আক্রান্ত হয়, তখন আল্লাহ বিনিময়ে তার গুনাহগুলো (ঝরিয়ে দেন) মাফ করে দেন; যেমন (শীতকালে) গাছের পাতা ঝরে পড়ে।’ (মুসলিম, হাদিস: ৫৬৪৭)
ইবনে হিব্বান রাসুলের একটি হাদিস বর্ণনা করেছে যে, তিনি বলেন, ‘বান্দার জন্য আল্লাহর দরবারে একটা স্থান নির্ধারিত রয়েছে, কিন্তু বান্দা নিজের আমলের মাধ্যমে সে স্থানে পৌঁছতে সক্ষম নয়। এজন্য আল্লাহ তাআলা বান্দার অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন পরীক্ষা ফেলেন, যাতে নিজের মর্যাদার আসনে পৌঁছুতে পারে।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ১৬৯/৭)
আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘কোনো রোগ আমার কাছে জ¦রের চেয়ে অধিক প্রিয় নয়। কেননা জ¦র শরীরের প্রতিটি অঙ্গ ও জোড়ায় পৌঁছে যায়। আর আল্লাহ তাআলা সে অনুপাতে সওয়াব দিয়ে থাকেন।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং: ৫০৩)
ড. মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-আরিফির লেখা অবলম্বনে

মুসলমানরা সাহায্য চাইবে একমাত্র আল্লাহর কাছে, কোন পরাশক্তির কাছে নয়
                                  

 উহুদ যুদ্ধে সাহাবীগণ (রা.) ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন, যা আমরা সকলেই জানি। এ যুদ্ধ সমাপ্তির পর কুরাইশ সর্দার আবু সুফিয়ান অতি উচ্চকন্ঠে বলতে লাগলো- ‘তোমাদের মধ্যে মোহাম্মদ আছে কি?’ এ কথা শোনার পর হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) তাঁর সঙ্গীদের কোন জবাব না দেয়ার জন্য বললেন। এর পর আবু সুফিয়ান জিজ্ঞেস করলো, ‘তোমাদের মধ্যে ইব্নে আবি কুহাফা (হযরত আবু বকর) আছে কি?’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তাঁর কথার প্রতিউত্তর দিও না।’ এর পরে আবু সুফিয়ান পুনরায় প্রশ্ন করলো, ‘তোমাদের মধ্যে উমর ইব্নে খাত্তাব আছে কি?’ এর পর নিজে নিজেই শুরু করলো, ‘এরা সকলেই নিহত হয়েছে।

জীবিত থাকলে অবশ্যই প্রতিউত্তর দিত।’ আবু সুফিয়ানের এমন কথা শুনে উমর (রা.) আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে বললেন, ‘হে আল¬াহ্র দুশমন, তুই মিথ্যে কথা বলছিস্। আল্লা তায়ালা তাঁদেরকে এখনও বাঁচিয়ে রেখেছেন, যারা তোকে চরমভাবে শাস্তি দেবেন।’ এ কথা শোনার পর আবু সুফিয়ান হোবলের জয়ধ্বনি দিতে লাগলো- ‘জয় হোবল! জয় হোবল!!’ -এর পর আল¬াহ্র নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) বললেন, ‘উমর জবাব দাও।’ সাহাবীগণ বললেন, ‘আমরা কি বলবো?’ তিনি বললেন, ‘বলো, ‘আল্লাহ্ সর্বোচ্চ এবং মহান।’ -(ছহীহ্ বুখারী: ৪০৪৩)।


আজ পৃথিবীর বাতিলপন্থী ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কাছ থেকে বড় বড় হুঙ্কার আসছে, আঘাত আসছে এবং অন্যায়ভাবে মুসলিম দেশগুলোর ওপর তারা মিথ্যা ও বানানো অজুহাত তুলে একেকটি মুসলমান অধ্যুষিত দেশ আক্রমণ করে ম্যাসাকার করে দিয়ে বিশ্ব দরবারে মুচকি হাসছে এবং তাদেরকে মৌণ সমর্থন জানাচ্ছে সৌাদ আরবসহ কিছু মুসলিম দেশ। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ইরাকের ওপর সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের ভিত্তিতে আক্রমণ করে ধ্বংস করে দেয়া হলো সে দেশটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ ঐতিহাসিক নিদর্শন। এ আক্রমণে হাজার হাজার আদম সন্তানকে সম্পূর্ণ বিনাদোষে ও বিনা অপরাধে হত্যা করা হলো এবং আহত হলো অগণিত ইরানবাসী। কিন্তু বড়ই দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, বিশ্বের কোনো একটি মুসলিম দেশ ও ঈঙ্গ-মার্কিনীদের ওই জঘন্যতম অপকর্মের প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি, প্রতিরোধতো দূরের কথা। সালিশী প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ নেয়নি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।


বিশ্বের বুকে ইসরায়েল একটি অতি ছোট্ট রাষ্ট্র। এ রাষ্ট্রটি সম্পূর্ণভাবে মার্কিনীদের প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ, সাহায্য ও সহযোগীতা নিয়ে প্যালেস্টাইনীদের ওপর একের পর এক জঘন্যতম আঘাত হেনে যাচ্ছে। তারা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে প্যালেস্টাইনে বসবাসকারী মুসলিমদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে কিন্তু বড়ই দুঃখের বিষয় কোনো মুসলিম দেশ ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করেনি বা একটু গ্রহণযোগ্য কোনো প্রতিবাদও জানাচ্ছে না। এখানে জাতিসংঘ নির্বাক। মার্কিনীদের কাজই হলো প্রতিটি দেশের সঙ্গে বৈরীভাব সৃষ্টি করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে অস্ত্র বিক্রিী করা। তারা প্রতিটি দেশে শত্রুতার বীজ বপণ করে রাখে এবং তা আস্তে আস্তে পুর্ণতা লাভ করে। বিরাট এক মহীরূপে পরিণত হয়। সৌদি আরবের পাশের দেশগুলোর সাথে শত্রুতার বীজ বপণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই সব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বৈরীভাব আছে বলেই তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রী করতে সক্ষম হয়েছে। আমার প্রশ্ন হলো- সৌদি আরবসহ মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলো কাদের সাথে যুদ্ধ করছে এবং ধ্বংস হচ্ছে কারা? মুসলিমরা মুসলিম মারছে! হায়রে! কবে তাদের বোধোদয় হবে!!


আমার লেখার শুরুতে একটি হাদীস বর্ণনা করেছি। ওই হাদীসটি বর্ণনা করার পেছনে আমার একটি উদ্দেশ্য আছে এবং তা হলো ওই হাদীস থেকে মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যত ক্ষমতাধর বা শক্তিধর রাষ্ট্রই হোক না কেন তাদের অন্যায়-অত্যাচার এবং অনৈতিকতার বিরুদ্ধে কাউকে না কাউকে প্রতিবাদ করতে হবে। যেমন, হযরত উমর (রা.) করেছিলেন। হযরত ওমর (রা.) আবু সুফিয়ানের জবাব দিয়েছিলেন অতি কঠিন ভাষায়। আজ মুসলমানদের ভয় কিসের? অভাব কিসের? আমার মনে হচ্ছে মুসলমানদের অভাব হচ্ছে ঈমানের এবং আল¬াহ্ ও তাঁর রাসূল (সা.) এর প্রতি বিশ্বাসের অভাব....। এ প্রসঙ্গে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) তাঁর মৃত্যুকালে উম্মতের উদ্দেশ্যে বলেছেন- তা প্রতিটি উম্মতের মেনে চলা একান্তভাবে উচিত ও কর্তৃব্য। তিনি বলেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি বস্তু রেখে গেলাম, তোমরা যতদিন এ দু’টি বস্তুকে দৃঢ়তার সাথে অবলম্বন করে চলবে ততদিন তোমরা বিভ্রান্ত হবে না। এ বস্তুর একটি হলো- আল¬াহ্র কিতাব আল্ কোরআন, অপরটি হলো আমার সুন্নাত।’ ওপরের হাদীসের মর্মার্থ হলো, ‘কোরআন্ এবং হাদীসই মুসলমানদের একমাত্র অবলম্বন এবং চলার পথে পাথেয়।’


আজ মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে মহান সৃষ্টিকর্তা যে অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন, যদি তারা তাঁর ঈমানের সাথে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারতো তবে ইহুদী ও নাসারারা মুসলমানদের পায়ের তলায় এসে গড়াগড়ি করতো। মক্কা নগরী দুনিয়ার মানুষের কাছে মহাপবিত্র স্থান এবং এ নগরীতেই জন্মগ্রহণ করেছেন বিশ্ব জাহানের মুক্তির দূত বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)। তাঁর মৃত্যুর আগে তিনি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে গিয়েছেন। তিনি বিশ্বে সাম্যের বাণী প্রচার করে একটি আধুনিকতম রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তাঁর তিরোধানের পর খেলাফয়ে রাশিদীন বিশ্ব ইতিহাসে স্বর্ণের যুগ। দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমরের শাসনামলে পৃথিবীর অর্ধেক তিনি শাসন করেছেন। খলিফা উমর (রা.) সম্পর্কে আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের দু’টি লাইন উলে¬খ করছি- ‘অর্ধ পৃথিবী করেছে শাসন ধূলায় তখতে বসি/খেজুর পাতার প্রাসাদ তোমার বারে বারে গেছে খসি/তুমি পরনিকো নুয়ে....।’
বর্তমানে সৌদি আরব যারা শাসন করছে তারা কতটুকু ইসলামিক প্রেমিক এবং কতটুকু র্কোআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ী দেশ চালাচ্ছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়। যারা আজকে সৌদি রাজপরিবার, তারা বিলাসিতায় আর আধুনিকতায় এত ব্যস্ত, যা আল্লাহ ও নবী (সা.) এর নির্দেশিত পথ নয়। তারা নবী (সা.) আদর্শ হতে যে কত শত শত মাইল দূরে অবস্থান করছে তা একমাত্র রাব্বুল আল্-আমিনই ভাল জানেন। তাদের সাথে পাশের মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর সাথে সাপে-নেউলে সম্পর্ক। সৌদি আরব বা অন্য অমুসলিম অধুষ্যিত দেশগুলো অন্য মুসলিম অধুষ্যিত দেশে সামরিকভাবে আক্রমণ করে নিরীহভাবে আক্রমণ করে নিরীহ ও নিরপরাধ আদম সন্তানদের নির্বিচারে হত্যা করছে। অথচ বিশ্বের কোনো একটি দেশ তাদের এই সীমাহীন অপরাধের প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ করছে না। পবিত্র র্কোআন এর সূরা মায়িদা’র ৩২ নং আয়াতে মহান আল্লাহ্পাক বলেন, ‘এ কারণেই আমি বণী ইসরায়েলের প্রতি এক বিধান দিলাম যে, নরহত্যার বিনিময়ে অথবা দুনিয়ার ধ্বংসাত্মক কাজ করার অপরাধ ব্যতীত কেউ কাউকে হত্যা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষকে হত্যা করলো। আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলে সে যেন দুনিয়ার সব মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো।’ এ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, -‘এবং তারা আল্লাহর সাথে কোন ইলাহ্কে ডাকে না। আল্লাহ্ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ব্যতিরেকে কাউকে হত্যা করো না এবং ব্যভিচার করো না। আর যারা এগুলো করবে তারা মহাপাপী। কেয়ামতের দিনে তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং সেখানে সে অপমানিত অবস্থায় চিরকাল থাকবে। তবে তারা নয়; যারা তওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে।’ -(সূরা: আল্-ফুরকানঃ আয়াত নং ৬৮)।


মহানবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) ধ্বংসাত্মক বস্তু হতে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন। সেগুলো হলো- ‘যে প্রাণ হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন তা হত্যা করো না; তবে হক প্রতিষ্ঠায় হত্যার বদলে হত্যা হলে হত্যার বদলায় হত্যা হলে স্বতন্ত্র কথা।’ -(বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ ও নাসায়ী)। নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যদি দু’জন মুসলমান তলোয়ার দ্বারা একে অন্যের মোকাবেলা করে তখন হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়ই জাহান্নামে যাবে।’ সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করেন, ‘ইয়া রাসুল (সা.)! হত্যাকারীর কথা তো বুঝলাম সে জাহান্নামে যাবে; কিন্তু নিহত ব্যক্তি জাহান্নামে যাবে কেন?’ তিনি বললেন, ‘কেননা সে তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা করতে চেয়েছিল।’ -(বুখারী ও মুসলিম)। এ সম্পর্কে হযরত মোহাম্মদ (সা.) আরও বলেন, ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম মানুষ হত্যার বিচার করা হবে।’ অন্য এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘একজন ঈমানদার ব্যক্তিকে হত্যা করা আল্লাহর কাছে পৃথিবী ধ্বংস করার চাইতেও মারাত্মক অপরাধ।’ -( নাসায়ী, বায়হাকি ও তিরমিযি)। নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ‘অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে অপরাধের একটি অংশ হযরত আদম (আ.) এর প্রথম পুত্রের আমল নামায় লেখা হবে, কেননা সে সর্বপ্রথম হত্যার প্রচলন করেছে।’ -(বুখারী ও মুসলিম)। কোন চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমকে যে হত্যা করবে সে জান্নাতের সুঘ্রাণ পাবে না। অথবা জান্নাতের সুঘ্রাণ চলি¬শ বছরের পথের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যাবে না।’-(বুখারী)। হযরত মুয়াবিয়া (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল (সা.) বলেছেন, ‘সর্বপ্রকার গুনাহ্গারকে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু যে ব্যক্তি কাফের হয়ে মারা গেল, কিংবা যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোন মমিন বান্দাকে হত্যা করলো তাকে নয়।’
সৌদি আরবসহ কিছু মুসলিম নামধারী রাষ্ট্রগুলোর কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, তারা চরমভাবে মহান আল¬াহ্র সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে। আজ তারা তাদের রাজতন্ত্র বা রাজত্ব রক্ষার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ বন্ধু¡র আসনে বসিয়েছে। তারা মনে করছে, তাদেরকে রক্ষা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মতোন দেশগুলো! মুসলিমরা তো একমাত্র আল¬াহ্ ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় পাবে না বা কোন পরাশক্তির কাছে নিজেদের ধর্ম-কর্ম বিসর্জন দিয়ে সাহায্যের জন্য বসে থাকবে না বা চুক্তিবদ্ধও হবে না। এ সম্পর্কে সূরা মোহাম্মদের ৭ নং আয়াত প্রযোজ্য, আল্লাহ পাক বলেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা যদি আল্লাহ তায়ালার সাহায্য কামনা কর; তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা’কে অবিচল রাখবেন। আর যারা কুফর অবলম্বন করছে, তাদের জন্য আছে ধ্বংস। আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দিয়েছেন। তা এ জন্য যে, তারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তা পছন্দ করেছিল। অতএব, আল্লাহ তাদের কর্ম নিস্ফল করে দিয়েছেন।’
সূরা মায়িদার ৫১ নং আয়াতে মহান রাব্বুল আল্ আমিন বলেন, ‘হে মুমিনগণ তোমরা ইহুদী ও খ্রিষ্টানদের সাথে কখনো বন্ধুত্ব করো না, তারা পরস্পর পরস্পরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে কেউ তাদের সাথে বন্ধুত্ব করলে সে তাদেরই একজন হবে, আমি সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করি না।’ এ সম্পর্কে সহীহ্ বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, আব্দুল¬াহ্ ইব্নে সালাম (রা.) রাসুলুল¬াহ্ (সা.)-কে বলেন, হে আল¬াহ্র রাসূল ইহুদীরা অপবাদ এবং কুৎসা রটনাকারী সম্প্রদায়। আপনি তাদেরকে আমার সমন্ধে জিজ্ঞেস করার পূর্বে যদি তারা আমার ইসলাম গ্রহণ করার বিষয়ে জেনে ফেলে তাহলে তারা আপনার কাছে আমার কুৎসা রটনা করবে।’ এর পর ইহুদীরা এলে এবং আব্দুল¬্ াইব্নে সালাম (রা.) ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন রাসূল (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমাদের মধ্যে আব্দুল¬াহ্ ইব্নে সালাম কেমন লোক?’ তারা বললো, ‘তিনি আমাদের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট এবং সর্বোৎকৃষ্ট ব্যক্তির পুত্র, তিনি আমাদের নেতা এবং আমাদের নেতার পুত্র।’ হযরত মোহাম্মদ (সা.) বললেন, ‘আচ্ছা যদি আব্দুল¬াহ্ ইব্নে সালাম ইসলাম গ্রহণ করে নেয়; তাহলে;তোমাদের অভিমত কি হবে?’ তারা বললো, ‘এর থেকে আল্লাহ তাকে রক্ষা করুন।’ তখন আব্দুল¬াহ্ (রা.) তাদের সামনে বের হয়ে আসলেন এবং তিনি বললেন, ‘আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।’ তখন তারা বললো, -‘সে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোক এবং সর্বোনিকৃষ্ট লোকের পুত্র।’ তারা তার দোষচর্চা এবং কুৎসা রটনায় লেগে গেল। তখন আব্দুল¬াহ ইব্নে সালাম (রা.) বললেন, ‘আমি এটারই আশঙ্কা করেছিলাম, হে আল্লাহর রাসূল!’


এ প্রসঙ্গে পবিত্র র্কোআনের সূরা মমিন এর ৪ ও ৫ নং আয়াত প্রযোজ্য, ‘আল্লাহ আয়াতে শুধু তারাই বিতর্ক সৃষ্টি করে যারা কুফর অবলম্বন করেছে। অতএব নগরে নগরে আয়িশী পরিভ্রমণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে। তাদের পূর্বে নুহের সম্প্রদায় এবং তাদের ওপর বহু দল অস্বীকার করেছিল। প্রত্রেক জাতি নিজ নিজ রাসূলকে গ্রেফতার করার অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা মিথ্যাকে আশ্রয় করে বিতর্কে প্তি হয়েছেল, তার মাধ্যমে সত্যকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। পরিণামে আমি তাদেরকে পাকড়াও করেছি। অতএব আমার শাস্তি কেমন (কঠোর) ছিল।’ মহান সৃষ্টিকর্তা তার নির্ধারিত দিন সম্পর্কে পবিত্র র্কোআনের সূরা বাকারা এর ১৩৫ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘-এবং তারা বলে, তোমরা ইহুদী বা খ্রিষ্টান হয়ে যায়; তবে সঠিক পথ পেয়ে যাবে। বলে দাও, বরং আমার তেকা মিল¬াতে ইব্রাহীম মেনে চলবো; যিনি যথাযথ সরল পথের ওপর ছিলেন। তিনি সে সব লোকের অর্ন্তভূক্ত ছিলেন না, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরীক করতো।’ এ সম্পর্কে পবিত্র র্কোআনের সূরা হজ্জ্ব এর ৭৮ নং আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন, ‘-এবং তোমরা আল্লাহর পথে জিহাদ করো, যেভাবে জিহাদ করা উচিত। তিনি তোমাদেরকে মনোনীত করেছেন। তিনি দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের ওপর কোনো সঙ্কীর্ণতা আরোপ করেননি। নিজের পিতা ইব্রাহীমের দ্বীনকে দৃঢ়ভাবে আকঁড়ে ধরো। সে পূর্বেই তোমাদের নাম রেখেছে ‘মু স লি ম’ এবং কিতাবেও যাতে রাসূল তোমাদের জন্য স্বাক্ষী হতে পারেন, আর তোমরা স্বাক্ষী হতে পারো অন্যান্য মানুষের জন্য।


পবিত্র ক্কাবা শরীফের প্রতি বিশ্বের প্রতিটি নর-নারীর অধিকার রয়েছে। বিশ্ব মুসলিমের মান-সমমান ও মর্যাদা রক্ষার জন্য প্রতিটি মুসলমানের অবশ্যই কর্তব্য ও দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্যে সৌদি রাজপরিবারকে প্রতিটি মুসলিমের পক্ষ হতে নোটিশ দিতে হবে যে, তোমরা যদি আল্লাহ এবং তার রাসূলের পথে ফিরে না আসো, তবে তোমাদেরকে শাস্তি পেতে হবে। ঐ পবিত্র ভূমিতে ইসলামবিরোধী কোনো কার্যকলাপ কোনো মুসলমান বরদাস্ত করবে না, করতে পারে না এবং তাদেরকে হুুশিয়ারী করে দেওয়ার দায়িত্ব প্রত্যেকটি মুসলমানের। আমরা জানি, নবী আর আসবেন না, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) সর্বশেষ নবী। এ কথা পবিত্র র্কোআনপাকে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেছেন। ইসলাম ধর্মই শেষ এবং আল¬াহ প্রেরিত ধর্ম এবং নবী যখন আর আসবেন না তাই পবিত্র র্কোআন ও হাদীসের বাণীগুলো প্রতিটি মুসলমানের দ্বারাই প্রচারিত হতে থাকবে। তাই আসুন, ইসলামবিরোধী ও মানবতাবিরোধী সকল কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রতিটি মুসলমান নর-নারী রুখে দাঁড়ায়। সম্পর্কে রাব্বুল আল্আমিন সূরা আন্আম এর ১০৪ নং আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্য থেকে এমন একটি দল থাকা উচিত, যারা ন্যায়ের আদেশ দেবে, আর অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে; এরাই হচ্ছে সাফল্যমন্ডিত।’ এ সম্পর্কে একই সূরার ১১০ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, ‘তোমরাই সর্বোত্তম জাতি, সমগ্র মানব জাতির জন্যই তোমাদের বের করে আনা হয়েছে, তোমরা দুনিয়ার মানুষদের সৎ কাজের আদেশ দেবে এবং অসৎ কাজ হতে বিরত রাখবে; আর তোমরা নিজেরাও আল্লাহর ওপর ঈমান আনবে, তাহলে কিতাবধারীরা যদি ঈমান আনতো তাহলে এটা তাদের জন্য কতই না ভালো হতো! ওদের মধ্যে কিছু বিশ্বাসী আছে কিন্তু বেশীরভাগই সত্যত্যাগী।’

আরবি মাসগুলোর নামের অর্থ ও নামকরণের কারণ
                                  

 ইসলামের আগমনের আগে আরবের সমষ্টিগত কোনো তারিখ ছিল না। সে সময় তারা প্রসিদ্ধ ঘটনা অবলম্বনে বছর ও মাস গণনা করতো। আল্লাহর নবী ইবরাহিম (আ.)-এর সন্তানরা কাবা শরিফ নির্মিত হওয়ার আগে তার আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার ঘটনা অবলম্বনে তারিখ নির্ধারণ করতো।
কাবা শরিফ নির্মাণের পর তারা বিক্ষিপ্ত হওয়া পর্যন্ত এর আলোকেই সাল গণনা করতেন। তারপর বনু ইসমাঈলের যারা হেজাজের তেহামা অঞ্চল থেকে বেরিয়ে অন্যত্র চলে যেত, তখন সেই গোত্র বেরিয়ে যাওয়ার দিন থেকে তারিখ গণনা করত। যারা তেহামাতে রয়ে যেত তারা বনি জায়েদ গোত্রের জুহাইনা, নাহদ ও সাদের চলে যাওয়ার দিন থেকে সাল গণনা করত। কাব বিন লুআইয়ের মৃত্যু পর্যন্ত এ ধারা চলমান ছিল। পরে তার মৃত্যুর দিন থেকে নতুনভাবে সাল গণনা শুরু হয়। এটি চলতে থাকে হস্তী বাহিনীর ঘটনা পর্যন্ত। ওমর (রা.) হিজরি নববর্ষের গোড়াপত্তন করার আগ পর্যন্ত আরবে ‘হস্তীবর্ষ’ই প্রচলিত ছিল। (আল-কামেল লিইবনিল আসির: ১/৯)
মহররম
ইসলামের আগমনের আগে আরবদের নিকট এই মাসে কোনো ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ ও রক্তপাত করা হারাম এবং অবৈধ ছিল। তাই এই মাসকে মুহররমুল হারাম নামকরণ হয়েছে।
সফর
সফর শব্দটি সিফর থেকে নির্গত। এর অর্থ শূন্য হওয়া, জাহেলি যুগে সফর মাসে লোকেরা যুদ্ধের জন্য বের হয়ে গেলে ঘর শূন্য হয়ে যেত, তাই সফরের মাসের নাম সফর রাখা হয়েছে।
রবিউল আউয়াল
এই মাসের সময়কালে প্রকৃতিতে বসন্ত থাকে। ফসলভূমি ছুঁয়ে যায় বসন্তের আবহ। তাই এ মাসের নামকরণ হয়েছে রবিউল আউয়াল।
রবিউস সানি
এই মাসের নামের অর্থ দ্বিতীয় বসন্ত। বসন্তের শেষার্ধে পড়ার কারণে রবিউল আখের বা শেষ বসন্তও বলা হয়।
জুমাদাল উলা
জুমাদা শব্দটি এসেছে জুমুদ থেকে। এর অর্থ জমে যাওয়া বা স্থবির হওয়া। যখন এই মাসের নাম রাখা হয়, তখন ঠান্ডার  মৌসুম আরম্ভ হয়। কেননা শীতলাবহের কারণে তরল প্রদার্থ ও অন্যান্য প্রায় জিনিস জমাট বেঁধে যায়। এজন্য এই মাসের নাম জুমাদাল উলা (প্রথম) রাখা হয়।
জুমাদাল উখরা
এই মাসের সময়কালে শৈত্যপ্রবাহের প্রচন্ডতায় পানি পর্যন্ত জমে যেত। তাই এই মাসের নাম এভাবে রাখা হয়েছে।
রজব
রজব শব্দটির অর্থ সম্মান করা। আরববাসী এ মাসকে সম্মান করতো এবং শাহরুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর মাস বলতো, তাই এ মাসের নাম রজব বা সম্মানিত মাস রাখা হয়।
শাবান
শাবান শা’ব শব্দ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। এর অর্থ হলো বের হওয়া, শাখা-প্রশাখা হওয়া, প্রকাশ হওয়া, বিদীর্ণ হওয়া। যেহেতু এ মাসে বিপুল কল্যাণ প্রকাশিত হয়, মানুষের রিজিক উৎপাদন ও বণ্টিত হয় এবং তকদিরের ফয়সালাগুলোও বণ্টন করে দেওয়া হয়-তাই এ মাসের নাম শাবান রাখা হয়েছে।
রমজান
রমজান শব্দের মূল অর্থ হচ্ছে জ্বালানো-পোড়ানো। যেহেতু এই মাসে মুমিনের গুনাহগুলো জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ভষ্ম করে দেওয়া হয়, তাই এ মাসের নাম রমজান রাখা হয়।
শাওয়াল
শাওয়াল শব্দটি শাওল ধাতু থেকে নির্গত, অর্থ বাইরে গমন করা। এখানে আরববাসী নিজ ঘরবাড়ি থেকে ভ্রমণে বের হতো। তাই এর নামকরণ হয় শাওয়াল।
জিলকদ
‘জিল’ অর্থ ওয়ালা আর ‘কাদাহ’ অর্থ বসা, যেহেতু এ মাসও সম্মানিত একটি মাস। তাই আরবরা এ মাসে যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতো। সে হিসেবে এ মাসের নামকরণ।
জিলহজ
জিলহজ শব্দটি হয়তো হাজ্জ থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থ একবার হজ করা অথবা শব্দটি হিজ থেকে নেওয়া হয়েছে। অর্থ বছর। যেহেতু এই মাস বছরের শেষাংশে আসে এবং এর দ্বারাই পূর্ণ বছরের সমাপ্তি ঘটে, তাই এই মাসের নামকরণ হয়েছে জিলহজ।

গুনাহ মুছে দেয় ‘তাহিয়্যাতুল অজু’র নামাজ
                                  

 সাক্ষাতে অভিবাদন জানানো ইসলামের সৌন্দর্য। মুমিনরা একে-অন্যকে সালাম-মুসাফাহার মাধ্যমে অভিবাদন জানায়। অনুরূপ আমলের মাধ্যমেও কিছু বিষয়কে অভিবাদন জানানো হয়। মসজিদে প্রবেশ করে ‘তাহিয়্যাতুল অজু’র দুই রাকাত নামাজ আদায় মসজিদকে অভিবাদন জানানোর মাধ্যম। আবার তাওয়াফের মাধ্যমে পবিত্র কাবাঘরকে অভিবাদন জানানো হয়। এরকম অনেক অভিবাদন রয়েছে।
‘তাহিয়্যাতুল অজু’র নামাজ কী?
পবিত্রতার জন্য আমরা অজু করি। এই অজুরও অভিবাদন-পদ্ধতি রয়েছে। প্রিয়নবী (সা.) আমাদের তা শিখিয়েছেন। এটি রাসুল (সা.) সুন্নত। তাহিয়্যাতুল অজু বা অজুর অভিবাদন হলো দুই রাকাত নামাজ। এ নামাজের মাধ্যমে বান্দার গুনাহ মাফ হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
‘তাহিয়্যাতুল অজু’র মাধ্যমে গুনাহ মাফ হয়
ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)। একদিন তিনি অজুর পানি চাইলেন। অজু শুরু করে-তিনবার সুন্দর করে দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন। তারপর তিন বার কুলি করলেন। নাকে পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার করলেন। এরপর তিন বার চেহারা ধুলেন। দুই হাতের কনুই পর্যন্ত ভালোভাবে তিনবার ধুলেন। তারপর মাথা মাসেহ করলেন এবং টাখনু পর্যন্ত পা তিনবার ধৌত করলেন। এরপর বললেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এভাবে (সুন্দর করে) অজু করবে, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে, যাতে (দুনিয়ার) কোনো খেয়াল করবে না, তার পেছনের সকল (ছগিরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৫৯; মুসলিম, হাদিস: ২২৬)
‘তাহিয়্যাতুল অজু’র মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি পায়
নামাজের মাধ্যমে শুধু গুনাহই মাফ হয় না। বরং এ আমলের দ্বারা মর্যাদাও বৃদ্ধি পায়। একদিন ফজরের নামাজের সময় বেলাল (রা.)-কে নবী (সা.) বললেন, ‘বেলাল! আমাকে বল দেখি, ইসলামে দাখেল হওয়ার পর থেকে তোমার কোন্ আমলটি তোমার কাছে (সওয়াবের আশার দিক থেকে) সবচেয়ে উত্তম বলে মনে হয়? কারণ, আমি জান্নাতে আমার সামনে সামনে তোমার জুতার আওয়াজ শুনেছি।’
বেলাল (রা.) বললেন, ‘তেমন কোনো আমল আমার নেই; যার দ্বারা আমি (বিপুল সওয়াবের) আশা করতে পারি। তবে দিবা-রাত্রির যখনই অজু করি; তখনই সেই অজুর মাধ্যমে যে কয় রাকাত সম্ভব হয়, নামাজ আদায় করি।’ (বুখারি, হাদিস: ১১৪৯; মুসলিম, হাদিস: ২৪৫৮)
অন্যান্য আমলের পাশাপাশি এই আমলেও যত্ন নেওয়া উত্তম। মাফ হয় ও মর্যাদা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাসুল (সা.)-এর সুন্নতের উপরও আমল হয়। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

 

সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্
                                  

সকল সার্বভৌমত্ব ও ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ্তায়ালা এবং তিনি তাঁর বান্দা হযরত আদম (আ.)কে দুনিয়ার বাদশা করে এ ধরাধামে পাঠিয়েছেন। মানব জাতিকে মহান সৃষ্টিকর্তা অন্য সব সৃষ্টি থেকে বেশী প্রাধান্য দিয়েছেন, যার প্রমাণ আদি মানব হযরত আদম (আ.) কে সৃষ্টি করার পর সকল ফেরেস্তাকে আদেশ করেছিলেন আদমকে সেজদা করতে। সকল ফেরেস্তা আদমকে সেজদা করলেও একমাত্র ইবলিস আদমকে সেজদা করা থেকে বিরত থেকে আল্লাহ্পাকের অভিশপ্ত হয়ে বেহেস্ত থেকে বিতাড়িত হয়ে ওই দিন ইবলিস আদম জাতিকে ক্ষতি করার জন্য আল্লাহ্ কাছে ফরিয়াদ করে এবং আল্লাহ্ তার ফরিয়াদ মঞ্জুর করেন এবং এ সময় আল্লাহ্ রাব্বুল আল আমিন ইবলিসকে বলেছিলেন- ‘তুই আদম জাতের কোন ক্ষতি করতে পারবি না, যারা আমার কাছে সাহায্য চাইবে।’ মূল কথা হলো- শয়তান যতই আদম সন্তানের ক্ষতি করতে চেষ্টা করুক না কেন শয়তান তা পারবে না। যারা আল্লাহ্ কাছে বাঁচার জন্য সাহায্য চাইবে, শয়তান ওই বান্দার সামান্যতম ক্ষতি করতে পারবে না।
আল্লাহ্পাক তাঁর সৃষ্টি আদম জাতিকে এ ধরাধামে পাঠিয়েছেন পরীক্ষার জন্য যে, বান্দা কতটুকু তাঁর বাধ্য থাকে বা অবাধ্যতা প্রদর্শন করে ধৃষ্টতা দেখায় তার জন্য। মূলত: একজন সত্যিকার মুসলমানের জন্য দুনিয়া একটা খেলাঘর মাত্র। মানুষ কতদিন আর বেঁচে থাকে! বড়জোর ১০০ বছর বা তার সামান্য একটু বেশী। তবে তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। মৃত্যু কেউ ঠেকাতে পারেনি এবং পারবেও না। এখানে পবিত্র র্কোআনের সূরা আন্ নূর এর ৫৫ নং আয়াত প্রযোজ্য। আল্লাহ্তায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ইমান আনে এবং নেক কাজ করে, তাদের সাথে আল্লাহ্তায়ালা ওয়াদা করেছেন, তিনি জমীনে তাদের অবশ্যই খেলাফত দান করবেন- যেমনিভাবে তিনি তাদের আগের লোকদের খেলাফত দান করেছিলেন, যে জীবনবিধান তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন তাও তাদের জন্য সুদূর করে দেবেন। তাদের ভীতিজনক অবস্থার পর তিনি তাদের অবস্থাকে শান্তিতে বদলে দেবেন, (তবে এ জন্যে শর্ত হচ্ছে) তারা শুধু আমারই গোলামী করবে। আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না ও এর পরও যে (এবং যারা) তার নেয়ামতের নাফরমানী করবে তারাই গুনাহ্গার (বলে পরিগণিত হবে)।’
মানুষ একমাত্র আল্লাহ্রই ইবাদত করবে এবং বান্দার যা চাওয়ার তা একমাত্র আল্লাহ্র কাছেই চাইবে। মানুষের চিন্তা করা উচিত যে, তারা কোথায় ছিল, কোথায় আছে এবং কোথায় যাবে এবং পেছনে কে কলকাঠি নাড়ছেন। ওই মহাপ্রভূ আল্লাহ্ই সব কিছু করছেন এবং তার নির্দেশ ছাড়া গাছের পাতাও নড়ে না। এ সম্পর্কে আল্লাহ্পাক বলেন, ‘(হে নবী), তুমি বলো, হে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আল-াহ্, তুমি যাকে ইচ্ছে তাকে সাম্রাজ্য দান করো, আবার যার কাছ থেকে চাও তা কেড়েও নিয়ে যাও, যাকে ইচ্ছে তুমি বিনা হিসেবে জীবনোপকরণ দান করো।’ -(সূরা আল্ ইমরান, আয়াত নং ২৬ এবং ২৭)
মহান আল্লাহ্তায়ালা আদম সন্তানকে একটা উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করে এ দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। এ আদম জাত পৃথিবীর খলিফা। আদম জাতের পূর্বে মহান আল্লাহ্পাক জ¦ীন জাতিকে সৃষ্টি করে এ ধরাধামে পাঠাবার পরে তারা আল্লাহ্র অবাধ্য হয়ে যায়। আল্লাহ্তায়ালা মনুষ্য জাতিকে সৃষ্টি করে পৃথিবীতে পাঠিয়ে তাদেরকে সত্য ও সঠিক পথে পরিচালিত করার জন্য যুগে যুগে নবী ও রাসুল প্রেরণ করেন। তিনি যুগে যুগে এবং প্রত্যেক জাতিকে তাঁর পথে নেবার জন্য পাঠিয়েছেন বলে পবিত্র র্কোআন ও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। নবী ও রাসূলের সঠিক সংখ্যা কত তার কোন প্রমাণ নেই। তবে আমরা সাধারণত: যা জানি তা হলো, ১ লাখ বা দু’লাখ ২৪ হাজার পয়গম্বর এ দুনিয়ায় আগমণ করেছেন। এসব নবী ও রাসুলগণ মানুষ জাতিকে মহান আল্লাহ্পাক সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিয়েছেন। পৃথিবীর আদি মানব ও মানবী হযরত আদম ও হাওয়া। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে অগণিত নবী ও রাসূল মানব জাতিকে হেদায়েতের জন্য আগমণ করেছেন। তবে সর্বশেষ নবী ও ধর্মপ্রচারক হলেন হযরত মোহাম্মদ (সা:)। আল্লাহ্পাক তাকে মহাগ্রন্থ র্কুআন উপহার দিয়েছেন। এ পবিত্র র্কোআনের মাধ্যমে নবী (সা.) মানুষ জাতিকে সত্য ও সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন। পবিত্র র্কোআন হচ্ছে মহান আল্লাহ্পাকের নিজের কথা বা বাণী। সূরা আল বাকারা এর ২৫৫ নং আয়াতে আল্লাহ্তায়ালা তাঁর নিজের এবং তাঁর ক্ষমতা সম্পর্কে এরশাদ করেন, ‘মহান আল্লাহ্তায়ালা, তিনি ছাড়া দ্বিতীয় কোন ইলাহ্ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, তিনি অনাদি, অনন্তকালব্যাপী বিরাজমান। তাঁকে তন্দ্রা অথবা নিদ্রা স্পর্শ করে না। আকাশসমূহ ও জমীনে যা কিছু আছে তার সব কিছুরই একচ্ছত্র মালিকানা তাঁরই। কে এমন আছে যে, তাঁর দরবারে বিনা অনুমতিতে কিছু সুপারিশ পেশ করবে? তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব কিছুই তিনি জানেন। তাঁর জানা বিষয়সমুহের কোন কিছুই (তাঁর সৃষ্টির) কারো জ্ঞানের সীমা, পরিসীমার আয়ত্ত্বতাধীন হতে পারে না, তবে কিছু জ্ঞান যদি তিনি কাউকে দান করেন (তবে তা ভিন্ন কথা), তাঁর বিশাল সাম্রাজ্য আসমান ও জমিনের সব কিছুই পরিবেষ্টন করে আছে। এ উভয়টির হেফাজত করার কাজ কখনও তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না। তিনি পরাক্রমশালী ও অসীম মর্যাদাবান।’-(সূরা আল বাকারা, আয়াত নং ২৫৫)।
দুনিয়াতে কিছু লোক আছে যারা আল্লাহ্র অস্তিত্ব নিয়ে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন করে এবং তারা নিজেরা নিজেদেরকে বেশ বিদ্বান বা জ্ঞানী বলে মনে করছে। আজ পৃথিবীতে শোষক আর শোষিতে যুদ্ধ চলছে। আর একদিকে মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বস্ত এক দল। অন্য দিকে কম্যুনিষ্ট বা নাস্তিকদের এক দল। সমাজতন্ত্রের সস্তা বুলি দিয়ে একদা বিশ্বের কয়েকটি রাষ্ট্রে ওই সব ব্যক্তিরা সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অপপ্রয়োগ করে ব্যর্থ হয়েছে। মূলত: মনুষ্য সৃষ্ট কোন আইন দ্বারা এ দুনিয়ায় বসবাসকারী কারো মঙ্গল আসতে পারে না। তার প্রমাণ সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীন। আজ সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে টুকরা-টুকরা হয়ে গেছে এবং চীন ভিন্নপথে হাঁটছে। মূলত: কোন নাস্তিকদের কোন ফর্মূলা দিয়ে কোন সমাধান আদৌ সম্ভব নয়। মূলত গণতন্ত্র সব চেয়ে খারাপতন্ত্র। গণতন্ত্রের নিত্য নতুন ধনীক-বণিকে সৃষ্টি হয়। একদল রাষ্ট্রক্ষমতায় যখন থাকে তখন তারা রাষ্ট্রের অর্থ-সম্পদ লুট-পাট করে বা চুরি করে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে যায়। এরপর যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকে তারা আবার পূর্বের সরকারের ন্যায় লুট-পাট বা চুরি করে ধনীতে পরিণত হয়। এভাবেই যখন কথা বলেন- তখন যেন দেশের সাধারণ মানুষের জন্য মায়া-মমতায় গদগদ হয়ে যায়, এমন সব মিথ্যের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের জোয়ার চলছে। গণতন্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষের সামান্যতম উন্নতি হতে পারে না। যা আমরা বার বার দেখে আসছি। পথ একটাই এবং তা হলো আল্লাহ্ এবং তার নির্দেশিত পথ। প্রচলিত গণতন্ত্রের মাধ্যমে যা চলছে এবং তা যদি চলতে থাকে- তবে তা একদিন রুখে দাঁড়াবে দেশবাসী।
প্রচলিত শাসন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা দ্বারা দেশের কেবল সাধারণ মানুষ নয়, কোন শ্রেণীরই সমস্যার সমাধান আদৌ সম্ভব নয়। আজ বিশ্বের প্রয়োজন আল্লাহ্র আইন প্রতিষ্ঠা করা। মানুষের আইন দ্বারা কোন সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা দ্বারা মানুষ পাচ্ছে টা কি? গণতন্ত্রের নামে হচ্ছেটা কি? এক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ক্ষমতায় থেকে লুট-পাট করে অর্থ-বিত্তের মালিক হয়ে যায়। আবার এক দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে এবং তারাও পূর্বের ন্যায় দেশ ও জনগণের অর্থ সম্পদ লুট-পাট করে অর্থ-বিত্তের পাহাড় গড়ে। জনগণের ভাগ্যের কোন পরিবর্তনই হচ্ছে না। বরং তারা দিনের পর দিন আরো গরীব হয়ে যাচ্ছে। এসব জাতীয় চোরদের বিচারও হয় না। কেননা মানুষ সৃষ্টি আইনে তাদের বিচার করা যায় না। কেননা যারা আইন করে রেখে ছিল তারাও চোর এবং চোররা চোরের পক্ষেই আইন করে রেখেছে। হাজার-হাজার কোটি টাকা চুরি করলে তারা জামিন পেয়ে যান কিন্তু যারা মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার হন তাদের বিচার নেই।
আজকে যারা ইসলামি আইন বা সমাজ ব্যবস্থার বিরোধীতা করছে, তারা কারা? ইসলামি সমাজ ব্যবস্থা যদি থাকতো তবে আজকের সমাজে এমপি, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সমাজসেবক, জনপ্রতিনিধিসহ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের অনেকেরই হাত আস্ত থাকতো না। চুরির দায়ে অনেকেরই হাত কাঁটা যেত। তাই এরা ইসলামি সমাজব্যবস্থাকে ভয় পায় এবং বিরোধীতা করছে। এখানে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হলেই ইসলামি বিচার ব্যবস্থার আসল রূপ বের হয়ে আসবে। একদা একজন মহিলাকে হাজির করা হয়েছিল রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর দরবারে এবং ওই মহিলা ছিল খুবই উঁচু বংশের একজন। ওই মহিলাকে বিচারের জন্য আনা হলে সকলেই ওই মহিলাকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য পরিকল্পনা করছিল এবং সাহস করে একজন সাহাবা নবী (সা.) এর কাছে বললেন যে, এ মহিলা উঁচু বংশের তাই তাকে ছেড়ে দেয়া যায় কি না। তাদের কথা শুনে হুজুরে পাক (সা.) তাদেরকে বললেন, এ কারণেই পূর্বের অনেক সম্প্রদায় ধ্বংস হয়ে গেছে যে, তারা গরীব মানুষের বিচার করতো ধনীদের বিচার করতো না। বিশ্ব নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) তাদেরকে বললেন, ‘যদি আমার মেয়ে ফাতিমাও এ রকম অপরাধ করতো তবে তার হাত কাটার আদেশ দিতাম।’
বর্তমানের বিচার ব্যবস্থা দ্বারা সাধারণ মানুষ সামান্যতম উপকার পাচ্ছে না, যাদের টাকা আছে তারাই বিচার পাচ্ছে এবং তাদের পক্ষে বিচার ব্যবস্থার রায় হচ্ছে।

 

আকিকা কী ও তার হুকুম কী?
                                  

 আকিকা আদায়ের সময় নির্দিষ্ট আছে কি না? আকিকা আদায়ের নিয়ম কী? নিজের আকিকা নিজেই আদায় করতে পারবে নাকি তা পিতাকেই আদায় করতে হবে? আকিকার গোশত পিতামাতা ও আত্মীয়রা খেতে পারবে? এসব বিষয়ে জানিয়ে বাধিত করবেন। সন্তান জন্মের পর আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায়ের লক্ষ্যে জন্মের সপ্তম দিনে পশু জবাই করাকে আকিকা বলে। আকিকা করা মুস্তাহাব। হাদিস শরীফে আকিকার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।

রাসুল (সা.)-কে আকিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি সন্তানের আকিকা করার ইচ্ছে করে, সে যেন তা পালন করে। ছেলের জন্য সমমানের দুইটি ছাগল। আর মেয়ের জন্য একটি।’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭৯৬১) অন্য হাদিসে আছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, সন্তানের সঙ্গে আকিকার বিধান রয়েছে। তোমরা তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত করো (অর্থাৎ পশু যবাই কর) এবং সন্তানের শরীর থেকে কষ্টদায়ক বস্তু (চুল) দূর করে দাও। (বুখারি, হাদিস: ৫৪৭২)

সন্তান জন্মের সপ্তম দিন আকিকা করা উত্তম
রাসুল (সা.) তার দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর আকিকা সপ্তম দিনে করেছেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৮৩৪) এছাড়াও জামে তিরমিজির এক হাদিসে (হাদিস: ১৫২২) সপ্তম দিনে আকিকা করার কথা বলা হয়েছে। তাই সম্ভব হলে সপ্তম দিনেই আকিকা করা উত্তম। সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে বা একুশতম দিনে করা ভালো। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আকিকা সপ্তম দিনে হওয়া উচিত। তা সম্ভব না হলে চৌদ্দতম দিনে। তাও সম্ভব না হলে একুশতম দিনে।’ (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস ৭৬৬৯) একুশ দিনের মধ্যে আকিকা করা না হলে, পরবর্তীতেও তা আদায় করা যাবে। সন্তানের আকিকা করার দায়িত্ব তার পিতার। অবশ্য অন্য কেউ বা নিজেও নিজের আকিকা করা জায়েজ আছে।

গোশত সন্তানের পিতামাতা-আত্মীয়স্বজন খেতে পারবে
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, আকিকার গোশত নিজে খাবে, অন্যকে খাওয়াবে এবং কিছু সদকা করবে। (মুসতাদরাকে হাকেম, হাদিস: ৭৬৬৯) সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা (রহ.) বলেন, আমি আতা (রহ.)-কে বলতে শুনেছি, ‘...আকিকার গোশত তার পরিবার খেতে পারবে এবং হাদিয়াও দিতে পারবে।’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তা কি সদকা করে দিতে হবে? ‘তিনি বললেন, না, তুমি চাইলে খেতে পারো এবং হাদিয়াও দিতে পারো।...’ (মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, হাদিস: ৭৯৬৯) সূত্র: ফাতহুল বারি: ৯/৫০৭; ফাতাওয়া বাজ্জাযিয়া ৩/৩৭০; রদ্দুল মুহতার: ৬/৩২৬; আলমাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ, কুয়েত: ৩০/২৭৬; তুহফাতুল মাওদুদ বিআহকামিল মাওলুদ: ৭৮)

হজের পর হাজিদের করণীয়
                                  

ইসলাম উদযাপন-কেন্দ্রিক ও অনুষ্ঠানসর্বস্ব ধর্ম নয়। নামাজ, রোজা, হজ, জাকাত ও কোরবানিসহ ইসলামের প্রতিটি ইবাদতের বাহ্যিক নিয়ম-বিধান ও আচরণ-শৈলী রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ইবাদত ও আমলেন অন্তর্নিহিত দর্শনও রয়েছে। বিত্তবান, সচ্ছল ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য জীবনে একবার হজ করা ফরজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রান্ত থেকে প্রতি বছর প্রায় ২৫ লাখ মানুষ হজ পালন করেন। তাদের এই আমল-যাত্রা কিংবা ভ্রমণেই শেষ হয়ে যায় না। পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, হজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আখিরাতের পাথেয় সঞ্চয় করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নির্দিষ্ট মাসে (শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজে) হজ অনুষ্ঠিত হয়। অতএব, এই মাসগুলোতে যার ওপর হজ ফরজ হয়, সে যেন (হজে গিয়ে) স্ত্রী সম্ভোগ, অনাচার ও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়। তোমরা যেসব সৎ কাজ করো, আল্লাহ তা জানেন। আর (পরকালের) পাথেয় সংগ্রহ করো, নিশ্চয়ই তাকওয়া বা আল্লাহভীতি-ই হলো শ্রেষ্ঠ পাথেয়।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৯৭) হাজিরা হজের মাধ্যমে তাওহিদ তথা আল্লাহর নিরঙ্কুশ একত্ববাদের স্বীকৃতি দেয়। এবং এরই আলোকে জীবন প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়। কাজেই হজ থেকে তাওহিদের দীক্ষা নিয়ে ফেরাটা গুরুত্বপূর্ণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ও তার রাসুলের পক্ষ থেকে মহান হজের দিনে মানুষের প্রতি (বিশেষ) বার্তা হলো, আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদীদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তার রাসুলের সঙ্গেও নেই।’ (সুরা তাওবা, আয়াত: ৩)


হজ কবুল হওয়ার নিদর্শন
যাদের হজ কবুল হয়, তাদের জীবনের মোড় ও কর্মের অভিযাত্রা ঘুরে যায়। ভবিষ্যতে গুনাহ থেকে বিরত থাকার আগ্রহ বাড়ে। আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি মানুষ যত্নবান হয়। হজ করার পর যার জীবনে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসেনি, তার হজ কবুল হওয়ার বিষয়টি সন্দেহমুক্ত নয়। (আপকে মাসায়েল, খ-: ৪, পৃষ্ঠা: ২৫)
এ বছর সর্বাধিক বয়সী হাজিকে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে সৌদি-কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীতমুসলিম মনীষীদের একটি বহুল আলোচিত বাণী এ ক্ষেত্রে প্রণিধানযোগ্য। তারা বলেছেন, ‘নেক কাজের প্রতিদান হলো, এর পরেও নেক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। আর পাপ কাজের প্রতিদান হলো, এর পরেও পাপ কাজ অব্যাহত করে যাওয়া।’

অনেকের হজ সন্দেহযুক্ত

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজে যান। এবছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করেছেন মোট ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। হজ ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ সর্বমোট হজযাত্রী ছিলেন ১ লাখ ২৭ হাজার ১৫২ জন। কিন্তু কয়জনই বা নিষ্পাপ হয়ে ফিরতে পারেন? 

দেশে গুণী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে; তবে সমাজের অনাচার কি কমছে? দেশ ও সমাজ তাদের মাধ্যমে কতটুকু উপকৃত হচ্ছে। তারাও কি যথাযথভাবে পরিশুদ্ধ হতে পারছেন? অনেকজনের হজ-ওমরাহ হানিমুন, শপিং, পর্যটন ও প্রমোদভ্রমণ উপলক্ষে দেশ-দেশান্তরে ছুটে চলার চেয়ে ভিন্ন নয়। মক্কা-মদিনার জিয়ারত ও পবিত্র সফর-তাদের শুভবুদ্ধি ও সুন্দর অনুভূতি জাগ্রত করতে পেরেছে? যদি না হয়, তাহলে তারা কাক্সিক্ষত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। তাদের হজ কবুল হওয়ার বিষয়টি আল্লাহ ভালো জানেন।

হজ থেকে ফেরার পর আমল
হজ থেকে ফিরে এসে নিকটস্থ মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা সুন্নাত। হজরত কাব বিন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কোনো সফর থেকে ফিরে আসতেন, তখন মসজিদে (নফল) নামাজ আদায় করতেন।’ (বুখারি শরিফ) হজ থেকে ফিরে শুকরিয়াস্বরূপ গরিব-মিসকিন ও আত্মীয়স্বজনকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া বৈধ। ইসলামি ফিকহের পরিভাষায় সে খাবারকে ‘নকিয়াহ’ বলা হয়।
জাবের বিন আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘রাসুল (সা.) যখন মদিনায় এসেছেন, তখন একটি গরু জবাইয়ের নির্দেশ দেন। জবাইয়ের পর সাহাবিরা তা থেকে আহার করেছেন।’ (বুখারি) তবে অহংকার, লোকদেখানো ও বিশেষ উদ্দেশ্য সামনে রেখে এমন দাওয়াতের ব্যবস্থা করা ইসলাম অনুমোদন করে না। (ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া, খ-: ৭, পৃষ্ঠা: ১৮৫)

ঘরে ফিরে দুই রাকাত নামাজ
হজ থেকে দেশে ফেরার পর ঘরে পৌঁছে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যখন তুমি ঘর থেকে বের হবে, তখন দুই রাকাত নামাজ পড়বে। সেই নামাজ তোমাকে ঘরের বাইরের বিপদাপদ থেকে হেফাজত করবে। আর যখন ঘরে ফিরবে, তখনো দুই রাকাত নামাজ আদায় করবে। সেই নামাজ তোমাকে ঘরের অভ্যন্তরীণ বালা-মুসিবত থেকে হেফাজত করবে।’ (মুসনাদে বাজ্জার)

হজযাত্রীদের অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা
যারা হজ করে আসছেন, তাদের অভ্যর্থনা ও শুভেচ্ছা জানানো, তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, মুসাফাহ ও কোলাকুলি করা এবং তাদের দিয়ে দোয়া করানো মুস্তাহাব। কিন্তু ফুলের মালা দেওয়া, তাদের সম্মানার্থে স্লোগান ইত্যাদি দেওয়া সীমা লঙ্ঘনের অন্তর্ভুক্ত। এসব কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। (আপকে মাসায়েল আওর ইনকি হল, খ-: ১, পৃষ্ঠা: ১৬২)

জমজমের পানি পান করানো
হজে গেলে হজযাত্রীরা জমজমের পানি সংগ্রহ করেন। বাড়িতে আসার সময় নিয়ে আসেন। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। জমজমের পানি নিয়ে এসে লোকদের পান করানো মুস্তাহাব। অসুস্থ রোগীদের গায়ে ব্যবহার করাও বৈধ। (মুয়াল্লিমুল হুজ্জাজ, পৃষ্ঠা: ৩০৩)
আয়েশা (রা.) জমজমের পানি সঙ্গে করে নিয়ে যেতেন এবং বলতেন, ‘রাসুল (সা.) জমজমের পানি সঙ্গে নিয়ে যেতেন।’ (তিরমিজি, হাদিস: ১১৫)
হজযাত্রীদের হাদিয়া-উপহার
আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, পাড়া-পড়শী ও যে কাউকে হাদিয়া-তোহফা দেওয়া সুন্নত। কিন্তু মনের আগ্রহ ছাড়া দেওয়া অনুচিত। কারণ শুধু প্রথা পালনের জন্য কোনো কাজ করা শরিয়তসম্মত নয়। হাজিদের উপহার দেওয়া ও তাদের থেকে হাদিয়া নেওয়া এক ধরনের প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে এটা নামের জন্য বা চক্ষুলজ্জার কারণে দেওয়া হয়। তাই এসব কাজ বর্জন করা উচিত। (আপকে মাসায়েল, খ-: ৪, পৃষ্ঠা: ১৬১)

‘হাজি সাহেব’ বা ‘আলহাজ’
বস্তুত মানুষ ইবাদত-বন্দেগি করে একমাত্র আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য। কেউ নিয়মিত ঠিকভাবে নামাজ পড়লে তাকে কেউ ‘নামাজি সাহেব’ বলে না অথবা এ ধরনের কোনো উপাধী ব্যবহার করা হয় না। তেমনি হজ করলেই ‘হাজি সাহেব’ বলা নিয়ম নয়। ‘হাজি সাহেব’ বা ‘আলহাজ’ হওয়ার জন্য হজ পালন করা অবৈধ।
তবে মানুষজন যদি সম্মানার্থে ‘হাজি সাহেব’ বলে ডাকেন, তাহলে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজের নামের সঙ্গে ‘হাজি’ বা ‘আলহাজ’ ব্যবহার করা অসঙ্গত। পাশাপাশি কেউ এ বিশেষণটি উল্লেখ না করলে, মনঃক্ষুণœ হওয়াও গর্হিত। (মুকাম্মাল মুদাল্লাল মাসায়েলে হজ ও ওমরাহ : ৩২১)

লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, খুলশী, চট্টগ্রাম।

শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে বিবাদ নিষ্পত্তি
                                  

বিচারের মূল উদ্দেশ্য মামলার রায় প্রদান করে বাদী-বিবাদীর মধ্যকার বিবাদ নিষ্পত্তি করা। স্বাভাবিকভাবেই যত দ্রুত ও অল্প সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করা যায় ততই উভয় পক্ষের জন্য তা কল্যাণকর। এতে অত্যাচারের শিকার ব্যক্তির ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রতীক্ষার অবসান ঘটে এবং অত্যাচারীর ত্বরিত শাস্তি হয় এবং অত্যাচারও বন্ধ হয়। কিন্তু ত্বরিতগতি অবলম্বন অর্থ শুনানি, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন, সাক্ষ্যগ্রহণ ইত্যাদি সীমিত করা বা এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার শর্তে বিচারক কোনো প্রকার গড়িমসি না করে যত দ্রুত বিচারকার্য শেষ করা যায়—এটিই দ্রুত বিচার।

শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে বিচার দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করাই স্বাভাবিক অবস্থা বা সাধারণ নীতি। বিলম্বিত বিচার প্রক্রিয়া একটি বিকল্প ব্যবস্থামাত্র। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া বিচারকার্য বিলম্বিত করা বিচারকের জন্য অনুমোদিত নয়। পূর্বসূরি আলেমরা বিশেষত, যারা ইসলামী আইন ও বিচার ব্যবস্থা বিষয়ক গ্রন্থাদি রচনা করেছেন বা বিচারব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাঁরা বিলম্বিত বিচারের ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়, ইসলামী আইনে দ্রুত বিচারই কাম্য।

দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির ব্যাপারে মূলনীতি
মামলার বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পন্ন করার জন্য বিশেষ নীতিমালা প্রণয়ন এবং বিশ্বব্যাপী প্রচলিত দ্রুত বিচার দাবি মূলত শরিয়াহ আইনে বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা থেকেই গৃহীত। শরিয়াহ আইনে দ্রুত বিচারের ক্ষেত্রে যেসব মূলনীতি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তার কয়েকটি নিচে আলোচিত হলো—

মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ (হাদিস)
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘ইসলামে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াও যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত করাও যাবে না।’ (মুস্তাদরাক হাকেম, হাদিস : ২৪০০)

এ হাদিস থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে কারো যেকোনো ধরনের অনিষ্ট সাধন করা ইসলামে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ হাদিসের বাস্তব প্রয়োগ সম্ভব। বাদী যদি অন্যায়ভাবে বিবাদীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে, তখন দ্রুত বিচারের মাধ্যমে বিবাদীর অনিষ্ট অতি দ্রুত রোধ করা সম্ভব হয়। পক্ষান্তরে বিবাদী যদি অপরাধী হয়, তবে বাদীর অধিকার দ্রুত আদায়ের মাধ্যমে তার থেকে অনিষ্ট প্রতিহত করা যায়।

জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ
                                  

 জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ শুক্রবার। এ সভায় ১৪৪০ হিজরি সনের পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি আলহাজ অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা শায়লা শারমিন স্বাক্ষরিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা ও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৭ টায় (বাদ মাগরিব) ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আকাশে কোথাও পবিত্র জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা নিচের টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বরে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। টেলিফোন নম্বরগুলো হলো: ৯৫৫৯৬৪৩, ৯৫৫৫৯৪৭, ৯৫৫৬৪০৭ ও ৯৫৫৮৩৩৭, ৯৫৫৯৪৯৩। ফ্যাক্স নম্বর: ৯৫৬৩৩৯৭ ও ৯৫৫৫৯৫১।

 

আরাফার দিবসে করণীয় আমল
                                  

বছরের শ্রেষ্ঠ রাত (সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত) হলো লাইলাতুল কাদর বা কদরের রাত, যা রমজান মাসের শেষ দশ রাতের যেকোনো একটি বেজোড় রাত। অন্য দিকে, বছরের শ্রেষ্ঠ দিন (বিশেষ করে জোহরের সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত) হলো জিলহজ মাসের ৯ তারিখ যা ইয়াওমু আরাফাত বা আরাফাতের দিন হিসেবে পরিচিত। তাই বছরের সর্বোত্তম দিন হিসেবে এ দিন স্বীকৃত। এ দিনের রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত; যেমন- এক. ক. এ দিন হলো আরাফাতের দিন যে দিনের কসম খেয়েছেন মহান আল্লাহ তার কালামে। (অনুবাদার্থে) ‘এবং কসম জোড় ও বেজোড়ের’ (সূরা ফাজর-৩)।

এ বেজোড় হলো জিলহজ মাসের ৯ তারিখ যা ইয়াওমু ‘আরাফাত নামে প্রসিদ্ধ। খ. কুরআনে এ দিনকে ‘মাশহুদ’ (দৃষ্ট) বলা হয়েছে এবং এর কসম খাওয়া হয়েছে (সূরা বুরুজ-৩)। দুই. হাদিসে ‘মাশহুদ’কে আরাফাতের দিন বলা হয়েছে (তিরমিজি)। হাদিসের আলোকে ইয়াওমু আরাফাত তথা আরাফাতের দিনকে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন বলা হয়েছে (সহিহ ইবন হিব্বান)। তিন. এ দিনকে ইয়াওমুল ‘ইতকি মিনান নার বা জাহান্নাম থেকে মুক্তির দিনও বলা হয়। হাদিসে বর্ণিত যে, আরাফাতের দিনের চেয়ে আর কোনো দিন এমন নেই যেদিন আল্লাহ বান্দাদেরকে জাহান্নাম থেকে সর্বাধিক সংখ্যায় মুক্তি দেন; তিনি সেদিন নিকটবর্তী হন অতঃপর তিনি তাঁর ফেরেশতাদের সাথে গর্ব প্রকাশ করেন এবং বলেন, তারা কী চায়? (সহিহ মুসলিম)।

এদিন করণীয় আমল 
এক. এদিনে সাওম পালন করা। হাদিস শরিফে এ প্রসঙ্গে নবী সা: ইরশাদ করেন, ‘ইয়াওমু আরাফাত তথা আরাফাতের দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তিনি এর জন্য আগের ও পরের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন’ (সহিহ মুসলিম)। সাওম পালন করার বিষয়টি যারা হজ করবে না, তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যারা হজ পালন করবেন তাদের সিয়াম পালনের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া এবং এ জন্য সঠিকভাবে ইবাদতে মশগুল হতে না পারার আশঙ্কায় কোনো কোনো আলেম তাদের ক্ষেত্রে সাওম পালন করা মাকরুহ বলেছেন। তবে সিদ্ধান্তমূলক কথা হলো- যারা সাওম পালন করেও এ দিনের ইবাদত-বন্দেগিতে দুর্বলতা অনুভব করবেন না, তারাও সাওম পালন করতে পারবেন। আর যারা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করবেন, তারা সাওম পালন না করে বিভিন্ন ইবাদতে মশগুল হবেন। আরাফাতের দিনে মূল বিষয় হচ্ছে- ইবাদতে মশগুল থাকা ও যত বেশি সম্ভব দোয়া করা।

দুই. এ দিন ফজরের সালাতের পর থেকে ১৩ তারিখ আসরের সালাত পর্যন্ত মোট ২৩ ওয়াক্ত ফরজ সালাতের পর তাকবির পড়া শুরু করবেন। তাকবিরের জন্য বিভিন্ন শব্দাবলি রয়েছে; তবে বহুল ব্যবহৃত শব্দাবলি হলো- অবশ্যই আরবিতে বিশুদ্ধ উচ্চারণ করতে হবে (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদু)। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, (অনুবাদার্থে) ‘তোমরা নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনগুলোতে আল্লাহকে স্মরণ করবে’ (সূরা বাকারাহ-২০৩)। কতবার তাকবির পড়তে হবে এর জন্য নির্ধারিত কোনো সংখ্যা বর্ণিত নেই। তাই তাকবির একবার পড়াই যথেষ্ট। অনুচ্চস্বরে তাকবির পাঠ করবেন, যেন পরে আসা মুসল্লিদের সালাতে ব্যাঘাত না ঘটে। সুর দিয়ে একই সাথে সবাই মিলে তাকবির পড়া অনেকের দৃষ্টিতে বিদয়াত। কারণ এতে যেমন পরে আসা মাসবুক মুসল্লিদের সূরা কিরাত ও তাসবিহ আদায়ে কষ্ট হয়, তেমনি তা কুরআনে বর্ণিত জিকরের আদব পরিপন্থী। কুরআনে আল্লাহ পাক জিকরের আদব প্রসঙ্গে বলেন, (অনুবাদার্থে) ‘তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চস্বরে স্মরণ করো’ (সূরা আরাফ-২০৫)। একাকী যারা সালাত আদায় করবেন তারা এবং মহিলারাও তাকবির পাঠ করবেন।

তিন. দেহের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে এ দিন যাবতীয় পাপাচার থেকে হিফাজত করবেন। ইমাম আহমাদ একটি হাদিস বর্ণনা করেন যে, ‘আরাফাতের দিন; যে ব্যক্তি এদিন নিজের কান (শ্রবণশক্তি) চোখ (দৃষ্টিশক্তি) এবং জিহ্বাকে হিফাজত করবেন, তাকে ক্ষমা করে দেয়া হবে’ (মুসনাদে আহমাদ)।

চার. একাগ্রতা, ইখলাস, নিষ্ঠা, সততা ও ঈমানের সাথে যত বেশি সম্ভব নবী সা: থেকে প্রাপ্ত দোয়া করবেন। যেমন- একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, আরাফাতের দিন নবী সা: যে দোয়াটি বেশি পাঠ করতেন তা হলো- ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু বিয়াদিহিল খাইরু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ (মুসনাদে আহমাদ)। তিরমিজির বর্ণনায় রয়েছে, নবী সা: ইরশাদ করেছেন, ‘সর্বত্তোম দোয়া হলো আরাফাতের দিনের দোয়া। আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীরা যে দোয়া করেছি তার মধ্যে সর্বোত্তমটি হলো- লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা-শারিকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয় হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির’ (সুনানে তিরমিজি)। উচ্চারণিক ভুল থেকে বাঁচার জন্য দোয়াগুলো অবশ্যই আরবিতে বিশুদ্ধ উচ্চারণে শিখতে হবে।

পাঁচ. এক কথায় বলা যায়, এ দিনের একটি মুহূর্তও যেন বেকার না যায় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। হ্যাঁ, হাজী সাহেবদের জন্য প্রয়োজনে জোহরের আগেই একটু বিশ্রাম নেয়া যেতে পারে। এরপর সালাত, তিলাওয়াত, জিকর, তাসবিহ, তাহলিল, তাকবির, তাহমিদ ও ইস্তিগফার ইত্যাদিসহ দোয়া করতে থাকবেন।

সৌদি আরবের বাইরে কোন দিন আরাফাতের দিন হিসেবে গণ্য করা হবে : বিষয়টি নিয়ে বিশ্বজুড়ে রয়েছে বেশ বিতর্ক। আসলে বিতর্কের মূল বিষয় হলো বিশ্বব্যাপী খ্রিষ্টীয় সনের মতো একই সাথে একই সময় হিজরি সন পালন করা যায় কি না। কেউ কেউ এমন ধারণা পোষণ করে এর পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখে চলেছেন। আরবি স্যাটেলাইট ক্যালেন্ডারের কথাও শোনা যাচ্ছে। এ জন্য তারা বেশ কিছু যুক্তির অবতারণা করে থাকেন, যেগুলোর আলোচনা এ স্বল্প পরিসরে সম্ভব নয়। তবে এতটুকু বলা যায়, আল্লাহ পাক যে নিয়মে চন্দ্র-সূর্যের পরিক্রমা পরিচালনার ব্যবস্থা করেছেন তাতে বোধ হয় এটা কোনো দিনই সম্ভব হবে না। দেখুন, মাগরিবের সালাত বছরের এক সময় পড়তে হয় ৫টার কিছু পর; আবার সেই একই মাগরিবের সালাত আদায় করতে হচ্ছে অন্য সময় সন্ধ্যে ৭টার পর।

পার্থক্য প্রায় দুই ঘণ্টার মতো। অনুরূপ অন্যান্য সালাতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এখন যদি বলা হয়, না একই নিয়মে বছরব্যাপী সালাতের সময় নির্ধারণ করতে হবে, তা হলে তা কি সম্ভব? না, অবশ্যই না। কারণ এটা সূর্যের পরিক্রমার সাথে সম্পৃক্ত। অনুরূপ ক্যালেন্ডারের তারিখও একই সময় নির্ধারণ এখনো অসম্ভব বলেই মনে হয়। কেননা আরবি তথা চন্দ্র মাসের সূচনা হয় চাঁদের উদয়ের সাথে। অর্থাৎ আরবি মাসের সূচনা হয় সন্ধ্যার আগমনের সাথে। রাত ১২টার পরে নয়। তাই কোনো দেশে এক ঘণ্টা বা কোনো দেশে তিন থেকে ছয় ঘণ্টা বা ১১ ঘণ্টা পরে দিনের সূচনা হবে। অন্য দিকে, যেমন অনেকে বলে থাকেন, আজ বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগেও এমন কথা বলা বুদ্ধিহীনতার পরিচায়ক। কারণ, স্যাটিলাইটের বদৌলতে নিজ চোখে দেখতে পাচ্ছি আরাফাতের ময়দান লোকে লোকারণ্য। হাজী সাহেবান হজের মূল রুকন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান পালন করছেন। সে দেশের লোকেরা আজ সাওম পালন করছে এবং অন্যান্য ইবাদত করছে। তাহলে আমরা কেন একই তারিখে আরাফাতের দিন পালন করতে পারব না?

উত্তরে বক্তব্য হলো- তাহলে এমনটি করলে কেমন হয় যে, তারা যখন যে সময় দিনের বিভিন্ন সালাত আদায় করেন আমরাও সে সময় একই সালাত আদায় করব। কারণ চোখেই দেখতে পাচ্ছি তারা আমাদের সময় সকাল প্রায় ৮টায় ফজরের সালাত আদায় করছে। চোখে দেখেও আমরা কিভাবে এর বিরোধিতা করতে পারি? তা ছাড়া তারা আগামীকাল ঈদুল আজহা পালন করবে। তাদের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও কি তা করতে পারি? আসলে কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। বিষয়টি হলো- প্রথমত. আরাফার দিন বলতে কোন দিনকে বুঝানো হয়? সর্বসম্মতভাবে সেটা ৯ জিলহজ যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। এ তারিখেই সৌদি আরবে আরাফার দিন পালিত হয়। তাই যে যেদিন ৯ জিলহজ হবে, সেদিনেই আরাফার রোজা রাখা হবে। এটাই স্বাভাবিক। দ্বিতীয়ত. মূল কথা হলো- আল্লাহর হুকুম মানা। আল্লাহ আমাদের জন্য এক বা দু’দিন পর আরাফাতের দিন বা ‘ঈদের দিন নির্ধারণ করেছেন; যেমন পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের জন্য বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সময় নির্ধারণ করেছেন যা সূর্যের সাথে সম্পর্কিত।

অতএব আমরা আমাদের দেশের হিসাব অনুযায়ী যদি আল্লাহর হুকুম পালন করি, তাহলে অসুবিধা কোথায়? এতে কি সওয়াব পাওয়া যাবে না? নাকি সওয়াবে কমতি হবে? আমরা তো আল্লাহর হুকুমই পালন করছি। এখানেই আল্লাহ পাকের কুদরতের নিশানা পরিলক্ষিত হয়। বিশ্বব্যাপী পালিত হোক ঈদ ও আরাফাতের দিন। সব মানুষ যে যেখানে আছেন, সে দেশের হিসাব অনুযায়ী পালন করবে আল্লাহর বিধান-আহকাম।

জুমু‘আর দিনের বিধান
                                  


ভূমিকা
জুমু‘আর দিন একটি বরকত পূর্ণ দিন। আল্লাহ তা‘আলা এ দিনটিকে সমস্ত দিনের উপর ফযিলত দিয়েছেন এবং উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য এ দিনটিকে নেয়ামত স্বরূপ নির্বাচন করেছেন। ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের এ দিবসটি থেকে আল্লাহ তা‘আলা দূরে সরিয়ে রেখেছেন। ফলে তারা এ দিবসটি সম্পর্কে ভ্রান্তিতে নিমজ্জিত। শনিবার ও রবিবারের তুলনায় জুমু’আর দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক বেশি। পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ দিনে আল্লাহ তা‘আলা অসংখ্য ঘটনা রাজির জন্ম দিয়েছেন এবং পৃথিবীতে অনেক কিছুই এ দিবসটিতে সংঘটিত হয়েছে। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদের-উম্মতে মুহাম্মদী-কে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু’আর দিনের প্রতি পথ দেখান।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু ও হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু আনহু উভয় সাহাবী হতে বর্ণিত, তারা বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পূর্ববর্তীদেরকে জুমু‘আ থেকে বঞ্ছিত করেন। ইয়াহুদীদের জন্য শনিবার এবং খৃষ্টানদের জন্য রবিবারকে নির্ধারণ করেন। অত:পর আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে পাঠান এবং আমাদেরকে জুমু‘আর দিবসটির প্রতি পথ দেখান। জুমু‘আর পর শনিবার এবং তারপর রোববার নির্ধারণ করেন। যেভাবে দিবসের দিক দিয়ে তারা আমাদের পিছনে আছে, কিয়ামতের দিনও তারা আমাদের পিছনে থাকবে। দুনিয়াতে আমাদের আগমন পরে হলেও কিয়ামতের দিন আমরাই প্রথম হব। সমস্ত মাখলুকের পূর্বে আমাদের ফায়সালা করা হবে”।
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“সূর্য উদয় হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়”।
জুমু‘আর দিনের বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হাদিসে এর বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। মুসলিম জ্ঞানীরা এ দিবসের বিভিন্ন ধরনের ফযিলত ও গুরুত্ব তার স্বীয় লিখনি ও কিতাব সমূহে আলোচনা করেছেন। এ দিবসের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল, জুমু‘আর সালাত। জুমু‘আর সালাত ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরয এবং মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুমু‘আর সালাতের সাথে সম্পৃক্ত।
বর্তমানে আমরা মানুষের মধ্যে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে শিথিলতা এবং জুমু‘আর দিন সম্পর্কে উদাসীনতা লক্ষ্য করি। মানুষ জুমু‘আর দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে, জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হতে দেরি করে, জুমু‘আর দিনের করণীয় ও বর্জনীয় কি তার প্রতি গুরুত্ব দেয় না এবং জুমু‘আর দিনের আদব গুলো যথাযথ পালন করে না। জুমু‘আর দিনের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোচনা করা এবং তা উম্মতে মুসলিমাকে জানিয়ে দেওয়া খুবই জরুরি মনে করি। বিশেষ করে বাংলা ভাষায় জুমু‘আর দিন সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বই খুব কম পাওয়া যায়। যার কারণে বাংলা ভাষীদের মধ্যে জুমু‘আর দিন সম্পর্কে সচেতনা খুব বেশি লক্ষ্য করা যায় না। কুরআন ও হাদিসের আলোকে জুমু‘আ সম্পর্কে একটি বই থাকা খুবই জরুরি। এজন্য আমি জুমু‘আ সম্পর্কে একটি সংকলনের চেষ্টা করি। বইটির প্রতিটি বিষয় কুরআন ও সূন্নাহের অকাট্য প্রমাণাদি থেকে সংগৃহীত।
এ বইটিতে সংক্ষেপে জুমু‘আর দিনের ফযিলত, জুমু‘আর সালাতের ফযিলত, জুমু‘আর দিনের করনীয়, বর্জনীয়, জুমু‘আর সালাতের বিধান এবং আদব সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে। এ বইটির নাম রাখা হয়েছে ‘জুমু‘আর দিনের বিধান’ করে।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা এই যে, তিনি যেন এ বইটি দ্বারা মানুষের উপকার সাধন করেন এবং আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টাকে কবুল করেন এবং তা যেন কেবল আল্লাহর জন্য করার তাওফীক দেন।
বইটির মধ্যে ভুল ত্রুটি থাকা একেবারেই স্বাভাবিক। যদি কোনো পাঠকের নিকট কোনো প্রকার ভুল ধরা পড়ে বা কোনো বিষয় সংযোজন বা বিয়োজন করার প্রয়োজন পড়ে তা হলে আমাকে সে বিষয়ে জানালে তা ধন্যবাদান্তে গ্রহণ করা হবে। আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা আল্লাহ যেন আমাকে আমার উদ্দেশ্যে সফল করেন। আল্লাহর উপরই ভরসা করি এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।
জুমু‘আর দিনের ফযিলত নাম করণ করার কারণ:
হাফেয ইবনে কাসীর রহ. বলেন, জুমু’আকে জুমু‘আ করে নামকরণ করা হয়েছে। কারণ হল, জুমু‘আ শব্দটি ‘একত্র হওয়া’ শব্দ হতে নির্গত। মুসলিমরা প্রতি সপ্তাহে এ দিনে আল্লাহর মহান আদেশ পালনের উদ্দেশ্যে মসজিদে একত্র হয়ে থাকেন। তাই এ দিনকে জুমু’আ বলা হয়। আল্লাহ তা‘আলা মুমিনদের আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে এ দিন একত্র হওয়ার নির্দেশ দেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
“হে মুমিনগণ, যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও”।
আয়াতে দ্বারা উদ্দেশ্য দৌড়ে আসা নয়। বরং, এ দ্বারা উদ্দ্যেশ্য হল, তোমরা জু মু‘আর সালাতের দিকে গুরুত্বের সাথে অগ্রসর হও। কারণ, সালাতে দৌড়ে আসতে হাদিসে নিষেধ করা হয়েছে।
হাসান রহ. বলেন, “এখানে দ্বারা উদ্দেশ্য হল, অন্তরের দৌড়। অন্যথায় সালাতে শান্তশিষ্টভাবে ও গাম্ভীর্যের সাথে আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং দৌড়ে আসতে নিষেধ করা হয়েছে”।
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম রহ. বলেন, “জুমু‘আর দিনটি ইবাদতের দিন। মাসের মধ্যে রমাদান যেমন গুরুত্বপূর্ণ, দিবস সমূহের মধ্যে জুমু‘আও অনুরূপ গুরুত্বপূর্ণ। জুমু‘আর দিনে একটি মুহূর্ত এমন আছে, সে মহুর্তে দু‘আ করলে আল্লাহ তা‘আলা দ্’ুআ কবুল করেন। জুমু‘আর দিনে সে মহুর্তটুকু রমাদান মাসের ক্বাদর রাত্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ”।
এক- জুমু‘আর দিন সর্বোত্তম দিন:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ দিনকে সর্বোত্তম দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“সূর্য উদয় হয়েছে এমন দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন জুমু‘আর দিন। এ দিন আদম আলাইহিস সালামকে সৃষ্টি করা হয়েছে, এ দিনে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয় এবং এ দিনে তাকে জান্নাত থেকে বের করা হয়। আর কিয়ামত জুমু‘আর দিনেই সংঘটিত হবে”।
দুই- এ দিনটির মধ্যে জুমু‘আর সালাত রয়েছে যা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান এবং মুসলিমদের মহান মিলন মেলা। যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়া জুমু‘আর সালাত ছেড়ে দেবে, আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তরে মোহর মেরে দেবে।
তিন- এ দিনটি দু‘আ কবুল হওয়ার দিন:
জুমু‘আর দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যে মুহূর্তে দু‘আ করলে, আল্লাহ তা‘আলা দু‘আ কবুল করেন। তবে মুহূর্তটি অজ্ঞাত রাখা হয়েছে, যাতে মানুষ পুরো জুমু’আর দিনটিকে গুরুত্ব দেয় এবং মুহূর্তটি অনুসন্ধান করতে থাকে। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“জুম‘আর দিন এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে, যদি কোনো মুসলিম বান্দা ঐ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় রত অবস্থায় আল্লাহর নিকট কোনো কিছু প্রার্থনা করেন আল্লাহ তা‘আলা তাকে তা অবশ্যই দেবেন”।
আল্লামা ইবনুল কাইয়েম রহ. জুমু‘আর দিন দু‘আ কবুলের সময়টির ব্যাপারে আলেমদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরার পর বলেন, সবচেয়ে গ্রহণ যোগ্য মতামত হল, দুটি মতো যে দুটি মতামত হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত ও প্রমাণিত।
১- ইমাম মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে সালাত শেষ করা পর্যন্ত মুহূর্তটি। কারণ, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“ইমাম মিম্বারে বসা থেকে নিয়ে সালাত শেষ করা পর্যন্ত”।
২- মুহুর্তটি হল, জুমু‘আর দিন আছরের সালাত আদায়ের পর। এটি উল্লেখিত দুটি মতের মধ্যে সর্বাধিক গ্রহণ যোগ্য মতামত।
চার- সদকা করার জন্য উত্তম দিন:
জুম‘আর দিন সদকা করা অন্যান্য দিনের তুলনায় অধিক উত্তম। আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম রহ. বলেন, সপ্তাহের অন্যান্য দিনে সদকা করার তুলনায় এ দিনে সদকা করা এমন উত্তম যেমন বছরের অন্যান্য মাসের সদকার তুলনায় রমাদান মাসে সদকা করা উত্তম। কা’আব বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বিশুদ্ধ সনদে মওকুফ হাদিস যা মারফু হাদিস বলে বিবেচিত এমন একটি হাদিস বর্ণিত, তিনি বলেন,
“জুমু‘আর দিন সদকা করা অন্যান্য দিন সদকা করার তুলনায় অধিক সাওয়াব ও গুরুত্বপূর্ণ”।
পাঁচ-জান্নাতীদের আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের দিন:
জুমু‘আ এমন একটি দিন, যে দিন আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে মুমিন বন্ধুদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন। আনাস বিন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহ তা‘আলার বাণীর তাফসীরে বলেন, “আল্লাহ তা‘আলা প্রতি জুমু‘আর দিন জান্নাতীদের জন্য প্রকাশ্যে আসবেন”।
ছয়- জুমু‘আর দিন মুসলিমদের সাপ্তাহিক ঈদের দিন:
জুমু‘আর দিন মুসলিমদের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের দিন। আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“এটি ঈদের দিন আল্লাহ তা‘আলা মুসলিমদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয় সে যেন ওযু করে উপস্থিত হয়”।
সাত- গুনাহ মাফের দিন:
এ দিন আল্লাহ তা‘আলা বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন। সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করল, যথাসাধ্য পবিত্রতা অর্জন করল, তেল লাগালো এবং ঘর থেকে আতর খোশবু লাগিয়ে ঘর থেকে বের হল, দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে সামনে গেল না, অতঃপর তার তাকদীরে যত সালাত পড়া নির্ধারিত ছিল তা আদায় করল এবং ইমামের খুতবার সময় সে চুপ থাকল, তা হলে তার এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”।
আট-এক বছর কিয়ামুল লাইল ও এক বছর রোজা রাখার সাওয়াব:
জুমু‘আর দিন পায়ে হেঁটে জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হওয়া এক বছর রোজা রাখা ও এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সম পরিমাণ সাওয়াব সমতুল্য।
আউস ইবনে আওস আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন নিজে গোসল করল, অপরকে উদ্বুদ্ধ করল, সকাল সকাল মসজিদে গমন করল, অপরকে উৎসাহ দিল এবং আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে মসজিদে এসে ইমামের কাছাকাছি বসল, কোনো অনর্থক কর্ম করল না, সে প্রতিটি কদমে এক বছর রোজা রাখা এবং এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব পাবে”।
নয়- এ দিন জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা বন্ধ থাকে:
সপ্তাহের প্রতি দিন জাহান্নামকে উত্তপ্ত করা হয়, কেবল জুমু‘আর দিন ছাড়া। জুমু‘আর দিনের সম্মানে এ দিনে জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা ও উত্তপ্ত করাকে বন্ধ করে রাখা হয়।
দশ- জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করা শুভ লক্ষণ:
জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাত্রিতে মৃত্যুবরণ করা, উত্তম পরিণতির লক্ষণ। কারণ, জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাত্রিতে যে ব্যক্তি মারা যায় সে ব্যক্তি কবরের আযাব ও মুনকার নকীরের প্রশ্ন হতে বেঁচে যায়। আব্দুল্লাহ বিন আমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে কোনো মুসলিম জুমু‘আর দিন বা জুমু‘আর রাতে মারা গেল আল্লাহ তা‘আলা তাকে অবশ্যই কবরের আযাব থেকে রেহাই দেবেন”।
জুমু‘আর সালাতের ফযিলত
এক- গুনাহ মাফ হয়:
জুমু‘আর দিন জুমু‘আর সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে ভালোভাবে ওযু করে মসজিদে গমন করলে আল্লাহ তা‘আলা গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যে ব্যক্তি সুন্দর করে ওযু করল, অতঃপর জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয়ে মনোযোগ দিয়ে জুমু‘আর খুতবা শুনল এবং চুপ থাকলো, তার জন্য এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়। আর যে ব্যক্তি পাথর স্পর্শ করল সে অনর্থক কর্ম করল”।
দুই- জুমু‘আর সালাত কবিরা গুনাহ ছাড়া অন্যান্য গুনাহের জন্য কাফফারা:
আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, জুমু‘আ এবং রামাদানের মধ্যবর্তী সময়ে যে সব গুনাহ হয়ে থাকে, পরবর্তী সালাত, জুমু‘আ ও রমাদান সে সব মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা। যদি কবিরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে”।
অপর একটি হাদিস- আবু আইয়ুব আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি- তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন গোসল করে, আতর-খোশবু লাগায়, যদি তার কাছে থাকে এবং সুন্দর জামা-কাপড় পরে, মসজিদে এসে সালাত আদায় করে এবং কাউকে সে কষ্ট না দেয়, তারপর সে জুমু‘আর সালাত আদায় করা পর্যন্ত চুপ থাকে, তা হলে তা তার এ জুমু‘আ থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত সংঘটিত গুনাহ সমূহের কাফফারা হবে”।
তিন- আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ক্ষমা করা হবে:
আবু মালেক আল-আশআরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“জুমু‘আর সালাত তার পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত মধ্যবর্তী গুনাহসমূহের এবং আরও অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহের জন্য কাফফারা। কারণ, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿مَنْ جَاءَ بِالْحَسَنَةِ فَلَهُ عَشْرُ أَمْثَالِهَا﴾গ্ধ যেকোনো নেক আমল করে আল্লাহ তা‘আলা তার সাওয়াবকে দশ গুণ বাড়িয়ে দেন”।
চার- জুমু‘আর সালাত জান্নাত লাভের বিশেষ আমল:
জুমু‘আর সালাত আদায় দ্বারা জান্নাত লাভ করা যায়। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেন,
“যে ব্যক্তি কোনো দিন পাঁচটি আমল করবে, আল্লাহ তা‘আলা তার নাম জান্নাতীদের খাতায় লিপিবদ্ধ করবেন: রোগী দেখতে যাবে, কারও জানাযায় উপস্থিত হবে, রোযা রাখবে, জুমু‘আর সালাতে গমন করবে এবং দাস মুক্ত করবে”।
পাঁচ- প্রতিটি কদমে কদমে এক বছর রোজা রাখা ও কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব:
পায়ে হেঁটে জুম‘আর সালাতে গমন করলে, প্রতি কদমে এক বছর রোজা রাখা এবং এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব পাবে। আউস ইবনে আওস আস-সাকাফী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
“যে জুমু‘আর দিন গোসল করাল ও করল, সকাল সকাল নিজে মসজিদে গমন করল, অপরকে উৎসাহ দিল এবং আরোহণ না করে পায়ে হেঁটে মসজিদে এসে ইমামের কাছাকাছি বসল, অতঃপর শুনল এবং কোনো অনর্থক কর্ম করল না, সে প্রতিটি কদমে এক বছর রোজা রাখা এবং এক বছর কিয়ামুল লাইল করার সাওয়াব পাবে”।
ছয়- জন্তু কুরবানি করার সাওয়াব:
জুমু‘আর দিন যে ব্যক্তি যত আগে জুমু‘আর সালাতে আসবে, সে তত বেশি সাওয়াব লাভ করবে। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যে ব্যক্তি জুমু‘আর দিন ফরয গোসলের মতো গোসল করে, তারপর প্রথম সময়ে মসজিদে গমন করে, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি উট কুরবানি করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি গরু কুরবানি করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি ভেড়া কুরবানি করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি মুরগি আল্লাহর রাস্তায় দান করল। তারপর যে লোকটি মসজিদে গমন করল, সে যেন আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে একটি ডিম আল্লাহর রাস্তায় দান করল। অত:পর যখন ইমাম উপস্থিত হয়, তখন ফেরেশতারাও উপস্থিত হয় এবং তার খুতবা শ্রবণ করে”।
জুমু‘আর সালাতের হুকুম
প্রিয় মুসলিম ভাই! আপনি অবশ্যই মনে রাখবেন, জুমু‘আর সালাত প্রত্যেক বালেগ মুসলিমের উপর ফরযে আইন। জুমু‘আর সালাত ফরয হওয়া কুরআন হাদিস এবং উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণিত।
এক- কুরআন দ্বারা প্রমাণ- আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে জুমু‘আর দিন আযানের পর আল্লাহর জিকিরের দিক ছুটার নির্দেশ দেন। আল্লাহর নির্দেশ পালন করা ওয়াজিব। সুতরাং, জুমু‘আর দিন আযানের পর জুমুম‘আর সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদে গমন অবশ্যই ফরয। আল্লাহ তা‘আলা জুমুম‘আর দিন আযানের পর বেচা-কেনা করতে নিষেধ করেছেন যাতে জুমু‘আর সালাত ছুটে না যায়। যদি জুমু‘আর সালাত ফরয না হত, তা হলে তিনি বেচা-কেনা করতে নিষেধ করতেন না।
দুই- হাদিস দ্বারা প্রমাণ:
প্রথম হাদিস-
অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁরা জুম‘আর সালাত থেকে বিরত থাকে, তাদের সম্পর্কে বলেন, “আমার ইচ্ছে হয়, একজনকে সালাতের দায়িত্ব দিই যাতে সে মুসল্লিদের নিয়ে সালাত আদায় করে। অত:পর আমি যাঁরা জুমু‘আর সালাত থেকে বিরত থাকে তাদের বাড়ি ঘর জালিয়ে দেই”।
দ্বিতীয় হাদিস-
অর্থ, আবু হুরাইরা ও আব্দুল্লাহ ওমর উভয় সাহাবী থেকে বর্ণিত, তারা দুই জন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাঠের মিম্বারের উপর আরোহণ করে বলতে শুনেছেন, তিনি বলেছেন, “লোকেরা হয়তো জুমু‘আর সালাত পড়া থেকে বিরত থাকবে, অথবা আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দেবেন। ফলে তারা গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হবে”।
তৃতীয় হাদিস-
অর্থ, আবুল জাআদ আদ-দামরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যে অলসতা বসত তিনটি জুমু‘আ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তা‘আলা তার অন্তরের উপর মোহর মেরে দেয়”।
চতুর্থ হাদিস-
অর্থ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রী হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হওয়া প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক বালেগ ব্যক্তির উপর ফরয”।
তিন-উম্মতের ইজমা দ্বারা প্রমাণ:
সমস্ত উম্মত এ ব্যাপারে একমত যে জুমু‘আর সালাত প্রত্যেক প্রাপ্ত বয়স্ক বালেগ ব্যক্তির উপর ফরয।
আল্লামা ইবনুল মুনযির রহ. বর্ণনা করেন যে, সমস্ত উলামা এ বিষয়ে একমত যে, জুমু‘আর সালাত আদায় করা ফরযে আইন।
আল্লামা ইবনুল আরাবী আল-মালেকী রহ. বলেন, “সমস্ত উম্মতের ঐকমত্যে জুমু‘আর সালাত ফরয”।
আল্লামা ইবনু কুদামাহ মুগনীতে লিখেন, “সমস্ত মুসলিম জুমু‘আর সালাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ে একমত”।
আল্লামা আইনি রহ. বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ থেকে আজ পর্যন্ত সমস্ত উম্মত জুমু‘আর সালাত ফরয হওয়ার ব্যাপারে একমত, কেউ এ বিষয়ে কোনো ভিন্ন মতো পোষণ করেননি এবং জুমু‘আর সালাতের ফরয হওয়াকে অস্বীকার করেননি”।
ইমাম নববী রহ. বলেন, “ইমাম শাফেয়ীর রহ. এর মতে জুমু‘আর সালাত ফরযে আইন”।
জুমু‘আর সালাতের নিয়ম
এক- জুমু‘আর সালাত দুই রাকআত। উভয় রাকআতে কিরাত বড় আওয়াজে তিলাওয়াত করবে।
আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
“মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জবানে জুমু‘আর সালাত দুই রাকআত, ঈদুল ফিতরের সালাত দুই রাকআত, ঈদুল আযহার সালাত দুই রাকআত, সফর অবস্থায় সালাত দুই রাকআত, পূর্ণ, তাতে কোনো কছর নাই। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য দ্বারা এটা সাব্যস্ত হয়েছে”। দুই- জুমু‘আর সালাতের প্রতি রাকআতে সূরা আল-ফাতেহা পড়বে এবং তারপর যেকোনো একটি সূরা পাঠ করবে। তবে সুন্নত হল, প্রথম রাকআতে সূরা আল-ফাতেহার পর সূরাতুল জুমু‘আ এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরাতুল মুনাফিকুন পড়া অথবা প্রথম রাকআতে সূরাতুল আ’লা এবং দ্বিতীয় রাকআতে সূরা আল-গাশিয়াহ পড়া।
প্রমাণ-
অর্থ, আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর দিন ফজরের সালাতে ‘আলিফ মিম তানযীল’ এবং সুরা ‘আদ-দাহার’ পড়তেন এবং জুমু‘আর সালাতে সূরাতুল জুমু‘আ এবং সূরাতুল মুনাফিকুন পড়তেন।
অপর একটি হাদিস সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর সালাতে পড়তেন”।
তিন-জুমু‘আর সালাতের পূর্বে কোনো সুন্নত সালাত নাই। তবে নফল সালাত যত চায় পড়তে পারবে। আর জুমু‘আর সালাতে পর সুন্নত সালাত দুই রাকআত বা চার রাকআত।
প্রমাণ-
অর্থ, আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “যখন তোমাদের কেউ জুমু‘আর সালাত আদায় করে, সে যেন তারপর চার রাকআত সালাত আদায় করে”।
অপর একটি হাদিসে আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“রাসূল রাদিয়াল্লাহু আনহু জুম‘আর সালাত আদায় করার পর কোনো সালাত আদায় করতেন না। তিনি চলে যেতেন এবং তারপর দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন”।
অপর একটি হাদিসে আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমু‘আর সালাত আদায় করার পর স্বীয় ঘরে দুই রাকআত সালাত আদায় করতেন”।
সুন্নাত হল, ফরয সালাত শেষ করার সাথে সাথে কোনো প্রকার কথাবার্তা বলা ও স্থান পরিবর্তন করা ছাড়া সুন্নাত সালাত আদায়ের জন্য না দাঁড়ানো। ফরয ও সুন্নাতের মাঝখানে স্থান পরিবর্তন বা কথাবার্তা বলে বিরত নেয়া সুন্নাত।
প্রমাণ-
অর্থ, ওমর বিন আতা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাফে বিন জুবাইর তাকে সায়েব এর নিকট পাঠালেন, যাতে সে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে সালাতে যা করতে দেখছেন সে সম্পর্কে সংবাদ দেন। তখন তিনি বললেন, আমি তার সাথে মাকসুরা- মসজিদে নির্মিত ছোট কামরা-তে জুমু‘আর সালাত আদায় করি। ইমাম সালাম ফেরানোর পর আমি আমার স্বীয় স্থানে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করি। তারপর যখন তিনি সালাত শেষ করেন, তখন স্বীয় ঘরে প্রবেশ করে আমাকে ডেকে পাঠালেন এবং বললেন, এমন কাজ তুমি দ্বিতীয় বার করবে না। যখন তুমি জুমু‘আর সালাত আদায় কর, তখন তুমি কথাবার্তা বলা ছাড়া অথবা মসজিদ থেকে বের হওয়া ছাড়া কোনো সালাত আদায় করবে না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এ বিষয়ে নির্দেশ দেন যে, আমরা যেন কোনো কথাবার্তা বলা বা মসজিদ থেকে বের হওয়া ছাড়া ফরযের সাথে মিলিয়ে কোনো সালাত আদায় না করি”।
জুমু‘আর খুতবা
এক- জুমু‘আর সালাতের পূর্বে খতিব দুটি খুতবা দিবে। উভয় খুতবাতে খতিব ঈমানের মৌলিক বিষয়গুলো আলোচনা করবেন। আল্লাহর প্রতি ঈমান, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, নবী, রাসূল ও আখিরাত দিবসের প্রতি ঈমানের বিষয়গুলো আলোচনা করবেন। জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে আলোচনা করবেন। আল্লাহ তা‘আলা তার প্রিয় বান্দাদের জন্য যে সব নেয়ামতের কথা বলেছেন এবং দুশমনদের জন্য যে সব শাস্তির কথা বলেছেন তা স্মরণ করিয়ে দিবেন। আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকবেন। যে সব আয়াতে আল্লাহর জিকির এবং শুকরিয়া আদায় করার নির্দেশ রয়েছে, সে সব আয়াত স্মরণ করিয়ে দিবেন। যে সব আয়াত আল্লাহকে মানুষের নিকট প্রিয় করে তুলে সে সব আয়াত সম্পর্কে আলোচনা করবেন। যাতে মানুষের অন্তর ইমান ও তাওহীদের আলোতে ভরে যায় এবং শ্রোতারা এমনভাবে বাড়ীতে ফিরে, যেন তারা আল্লাহকে ভালো বাসছেন এবং আল্লাহও তাদের ভালো বাসছেন।
দুই- খুতবা এমন দীর্ঘ না হয় যাতে মানুষ বিরক্ত হয়ে যায় আবার এত বেশি সংক্ষিপ্ত না হয় যাতে বুঝতে কষ্ট হয়। খুতবার লক্ষ্য উদ্দেশ্য যাতে হাসিল হয় সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ, খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্য হল, মানুষকে নছিহত করা, আযাব ও গজব সম্পর্কে ভয় দেখানো এবং সতর্ক করা। খতীব যিনি হবেন তাকে অবশ্যই সমাজের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হবে। খুতবায় সমাজের বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের উপর খুতবা দিতে চেষ্টা করবে। সমাজে যে বিষয়টি খুব প্রয়োজন সে বিষয়ের উপর খুতবা দিবে। সময়ের প্রতিও যতœবান হতে হবে এবং মুসল্লিদের প্রয়োজনের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
আম্মার ইবনে ইয়াসার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন,
“সালাতকে দীর্ঘ করা এবং খুতবাকে সংক্ষিপ্ত করা একজন মানুষের জ্ঞানী হওয়ার সুফল। সুতরাং তোমরা সালাতকে দীর্ঘ কর এবং খুতবাকে সংক্ষেপ কর। অনেক বক্তৃতা যাদুর সমতুল্য”।
অপর একটি হাদিসে বর্ণিত-
অর্থ, জাবের বিন সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে সালাত আদায় করি, তার সালাত ছিল মধ্য পন্থার এবং তার খুতবা ছিল মধ্য পন্থার।
তিন- খতিব জুমু‘আর দিন জুমু‘আর খুতবা দেয়ার জন্য ওয়াক্ত হওয়ার পর সাথে সাথে কাল ক্ষেপণ না করে মসজিদে চলে আসবে। খতীব জায়গায় পৌঁছার পর মিম্বারকে সামনে নিয়ে আসবে। খতীব তাহিইয়্যাতুল মসজিদ পড়বে না। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সরাসরি মিম্বারের উপর আরোহণ করতেন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিতে এসে তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়েছেন এমন কোনো প্রমাণ নাই। খতীব প্রথমে মুসল্লিদের সালাম দেবেন, তারপর আযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত মিম্বারে বসবেন। মুয়ায্যিন যখন আযান শেষ করবে তখন খুতবা দেয়ার জন্য দাঁড়াবে এবং খুতবা আরম্ভ করবেন।
সায়েব বিন ইয়াযিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগ, আবু বকর ও ওমরের যুগে জুমু‘আর দিন ইমাম যখন মিম্বারে বসত তখন প্রথম আযান দেওয়া হত। উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে যখন মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেল, তখন তিনি অপর একটি আযানের নির্দেশ দিলেন। তারপর আরেকটি আযানের প্রচলন। এখন সমস্ত মুসলিম দেশে দুই আযান একটি একামত দ্বারা জুম‘আর সালাত আদায় করা হয়।
চার- খুতবা মিম্বারের উপর উঠে দাঁড়িয়ে দেবে। যদি মিম্বার না থাকে তা হলে উঁচা জায়গায় দাঁড়িয়ে খুতবা দিবে। যাতে সব মুসল্লি খতিবের আওয়াজ শুনতে পায়। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিম্বারের উপর উঠে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন। মিম্বারটি এমনভাবে স্থাপন করবে, যাতে ইমাম যখন মেহরাবে কিবলামুখি হয়ে দাড়ায়, তখন মিম্বারটি তার হাতের ডানে থাকে।
পাঁচ- দাঁড়িয়ে খুতবা দেওয়া সুন্নত। প্রথম খুতবা দেয়ার পর কিছু সময় বসবে। তারপর আবার দাঁড়াবে এবং দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় খুতবা দিবে। প্রমাণ-
অর্থ, জাবের ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথমে দাঁড়িয়ে খুতবা দিতেন তারপর তিনি কিছু সময় বসতেন। তারপর তিনি আবার দাঁড়াতেন এবং দ্বিতীয় খুতবা দিতেন। যে বলে, তিনি বসে খুতবা দিতেন সে মিথ্যা বলল। আল্লাহর শপথ আমি তার সাথে দুই হাজারের অধিক সালাত আদায় করছি”।
অর্থ, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খুতবা দিতেন তখন তার চেহারা লাল হয়ে যেত, আওয়াজ উঁচা হত এবং খুব ক্ষুব্ধ হতেন। যেন তিনি সৈন্য বাহিনীকে এ বলে ভয় দেখাচ্ছেন, সকালবেলা তোমাদের উপর আক্রমণ হবে বা বিকেলে তোমাদের উপর আক্রমণ হবে। তিনি দুটি আঙ্গুলকে একত্রে মিলিয়ে দেখাতেন এবং বলতেন, যে অবস্থায় কেয়ামত খুব কাছাকাছি। অত:পর, মনে রাখবে, উত্তম হাদিস হল, আল্লাহর কিতাব, আর সবোত্তম আদর্শ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বস্তু হল, নব আবিষ্কৃত বিষয়, আর সমস্ত নতুন আবিষ্কৃত বস্তু গোমরাহী। তারপর তিনি বলেন, আমি মুমিনের জন্য তার জীবন থেকেও অধিক উত্তম। যে ব্যক্তি সম্পদ রেখে গেল, তা তার পরিবারের জন্য, আর যে ব্যক্তি ঋণ রেখে যায় তার দায়িত্ব আমার উপর”।
সাত- যখন খতীব কোনো বিষয়ে মুসল্লিদের সতর্ক করার প্রয়োজন মনে করবে, তখন সে মিম্বার থেকে তাদের সতর্ক করতে পারবে। তাদের কোনো ভুল-ভ্রান্তি দেখলে তিনি তাদের সংশোধন করে দিবেন। প্রমাণ-
অর্থ, জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় একলোক মসজিদে প্রবেশ করে বসে পড়ল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞাসা করল, তুমি সালাত আদায় করছ? লোকটি বলল, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, তুমি দাঁড়াও এবং সালাত আদায় কর”।
আট- জুম‘আর মসজিদে এসে কাউকে কষ্ট দেবে না। আব্দুল্লাহ বিন বছর রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন,
“একদিন আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পাশে বসা ছিলাম এমন সময় এক লোক এসে ঘাড়ে হাত দিয়ে মানুষদের ফাঁক করা আরম্ভ করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন, হে লোক! তুমি বস, তুমি লোকদের কষ্ট দিচ্ছ”।
খতীবের জন্য উপদেশ ও খতীব হওয়ার যোগ্যতা
এক- খুতবা দেওয়া দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই যেন লক্ষ্য হয়।
দুই- খতীবকে অবশ্যই আখলাকে হাসানা- সুন্দর চরিত্রের- অধিকারী হতে হবে এবং ইসলামি শরীয়তের অনুসারী হতে হবে।
তিন- মানুষকে যে সব বিষয়ে ওয়াজ করবেন তার উপর নিজে আমল করার চেষ্টা করবে।
চার- তাকে অবশ্যই সহীহ আকীদা সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। যাতে আকীদা গত কোনো বিষয়ে তার পদস্খলন না হয় এবং তার থেকে কোনো খারাপ আকীদা মানুষের মধ্যে প্রসারিত না হয়।
পাঁচ- হাদিস সম্পর্কে তার জ্ঞান থাকতে হবে। কোনো হাদিসটি সহীহ এবং কোনো হাদিসটি দুর্বল বা বানোয়াট সে সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকা খুবই জরুরি। যাতে তার খুতবা দুর্বল ও বানোয়াট হাদিস প্রচারের মাধ্যম না হয়।
ছয়- ইবাদত, মুয়ামালাত এবং আখলাকী বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে যে সব হাদিস প্রমাণিত সে সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে।
সাত- আরবি ভাষা সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। বিশুদ্ধভাবে আরবি ভাসা পড়তে, বুঝতে এবং লিখতে জানতে হবে।
জুমু‘আর সালাতের আদবসমূহ
এক- গোসল করা।
জুমু‘আর দিন জুমু‘আর সালাতের উদ্দেশ্যে গোসল করা সুন্নাত। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“প্রত্যেক বালেগ প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের উপর জুম‘আর দিন গোসল করা, মিসওয়াক করা ওয়াজিব। যদি সম্ভব হয় খোশবু বা আতর ব্যবহার করবে”। অপর একটি হাদিস আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“এটি ঈদের দিন। আল্লাহ তা‘আলা এটিকে মুসলিমদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি জুমু‘আর সালাতে উপস্থিত হয়, সে যেন গোসল করে নেয়। আর যদি খোশবু থাকে তা থেকে শরীরে লাগাবে। আর অবশ্যই তোমরা মিসওয়াক করবে”।
দুই- শরীরকে ময়লা আবর্জনা থেকে পরিষ্কার এবং দুর্গন্ধ মুক্ত করবে। শরীরে তেল, আতর ও খোশবু লাগাবে। আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
“যখন কোনো ব্যক্তি জুমু‘আর দিন সুন্দর

দৈনন্দিন কাজে সুন্নাতের চর্চা
                                  

 আমাদের দৈনন্দিন কাজে ছোট কোনো সুন্নাতের চর্চা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে আমরা অশেষ সওয়াব পেতে পারি। সে লক্ষ্যে-
১. খাওয়া ও অন্যান্য কাজ ডান হাতে বা ডানদিক থেকে শুরু করার ব্যাপারে হাদিস:
নবীপত্নী আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সা.) ওজু করতে, জুতা পরতে ও চুল আচড়াতে হলে যতোদূর সম্ভব ডানদিক থেকে শুরু করতে পছন্দ করতেন।
আরেকটি বর্ণনায় রয়েছে, মহানবী (সা.) সব কাজই ডানদিক থেকে শুরু করতেন।
নবীজীর সৎছেলে ওমর ইবনে আবু সালমাহ (রা.) থেকে বর্ণিত- রাসুল (সা.) আবু সালমাহকে সঙ্গে নিয়ে খাবার খেতেন। নবীজী তাকে (আবু সালমাহ) ডান হাতে বিসমিল্লাহ বলে খাওয়া শুরু করতে বলেছেন। -(সহিহ বুখারী)
২. ভালো ও মন্দ কাজের প্রচলনকারী সম্পর্কে হাদিস:
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত- মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তি মানুষের মধ্যে ভালো কিছুর প্রচলন করলে, পরবর্তীকালে যারা ওই ভালো কাজটি আমল (চর্চা) করবে তাদের সবার মতো প্রচলনকারীও একটি করে নেকি (সওয়াব) পাবেন। কিন্তু এতে পরবর্তী আমলকারীদের নেকির কোনো কমতি হবে না।
একইভাবে কেউ যদি ইসলামে মন্দ কিছুর প্রচলন করে, আর তারপর যদি মানুষ ওই মন্দ কাজের ওপর আমল করে তাহলে পরবর্তী আমলকারী প্রত্যেকের মতো প্রচলনকারীও গুনাহের ভাগিদার হবে। তবে এতে পরবর্তী আমলকারীদের গুনাহের কোনো কমতি হবে না। - (সহিহ মুসলিম)

সাদাকার সওয়াব কি শুধু ধনীরাই পাবে?
                                  

 সাদাকা বা দান আমাদের জন্য ওয়াজিব। অনেক দরিদ্র ব্যক্তির মনেই প্রশ্ন জাগে যে সাদাকার সওয়াব কি শুধু ধনীরাই পাবে? কারণ দরিদ্রদের কাছে তো দান করার জন্য অতিরিক্ত সম্পদ নেই!


অনেকে ভাবে, দরিদ্র জনগোষ্ঠির মতো সালাত, রোযাসহ অন্যান্য ইবাদাতের পাশাপাশি ধনীরা তাদের উদ্বৃত্ত সম্পদ থেকে অনায়াসে দান করে সাদাকার ওয়াজিব আদায় করতে পারে। কিন্তু তারা তো এ ওয়াজিব আদায় করতে পারে না।


অথচ হাদিসে রয়েছে, খুব সহজে সবাই সাদাকা আদায় করতে পারে। এ ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সবাইকে আশানি¦ত করেছেন:
আবু যার (রা.) থেকে বর্ণিত। কিছু ব্যক্তি বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! ধনীরা তো সব সাওয়াব নিয়ে গেল। আমরা যেমন সালাত আদায় করি ধনীরাও তেমনি করে। আমরা যেমন রোযা রাখি তারাও তেমনি রোযা রাখে। (কিন্তু) তারা তাদের উদ্বৃত্ত মাল থেকে দান করে (যা আমরা করতে পারি না)। উত্তরে রাসুলাল্লাহ (সা.) বললেন, আল্লাহ কি তোমাদের জন্য এমন ব্যবস্থা করেননি যার মাধ্যমে তোমরা দান করতে পার? (জেনে রাখ) প্রতিবার সুবহানাল্লাহ বলা সাদাকা (দান), আল্লাহু আকবর বলা সাদাকা, আলহামদুলিল্লাহ বলা সাদাকা, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলা সাদাকা, সৎ কাজের হুকুম করা সাদাকা, অসৎ কাজ করতে নিষেধ করা সাদাকা এবং তোমাদের স্ত্রীর সাথে মিলনও সাদাকা। তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! আমাদের কেউ যৌন আকাক্সক্ষা পূরণ করলেও তাতে সাওয়াব হয়? তিনি বললেন, আচ্ছা বলতো যদি কেউ হারাম উপায়ে যৌন আকাক্সক্ষা পূরণ করে তবে তার গুনাহ হবে কি না? এভাবে হালাল পন্থায় এ কাজ করলে তার সাওয়াব হবে। (মুসলিম)


আবু যার জুনদুব ইবনে জুনাদা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে রয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেছেন, তোমাদের সবার শরীরের প্রতিটি সংযোগ্রলের ওপর সাদাকা (ওয়াজিব) হয়। সুবাহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবর- এসবের প্রতিটি এক একটি সাদাকা। সৎ কাজের হুকুম দেওয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধ করাও সাদাকা। আর এসব চাশত-এর (দুপুরের আগের) দুই রাকাত সালাত আদায় করলে পূরণ হয়ে যায়। (মুসলিম)

মানুষের প্রতিটি ভালো কাজের বিনিময়ে সওয়াব (ভালো প্রতিদান) রয়েছে। এ ব্যাপারে একটি হাদিসে এসেছে, জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সা.) বলেছেন, প্রতিটি সৎ কাজই সাদাকা। (বুখারী)


এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেন, ‘‘কোনো ব্যক্তি বিন্দু পরিমাণ আমলে সালেহ (ভালো কাজ) করলেও তা সে দেখতে পাবে।’’ (সুরা- আয যিলযাল, আয়াত: ৭)
পবিত্র কোরআনের আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমলে সালেহ করে তা তার নিজের জন্যই।’’ (সুরা- আল জাসিয়া আয়াত: ১৫)
তাই আমরা যারা সম্পদশালী নই, তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকুই দান করবো, যদি তা শুধু পানি বা এক টুকরো পুরনো কাপড়ও হয়। যে কোনো ভালো কাজ করেই আমরা সাদাকা আদায়ের আশা করতে পারি, তা যতো ক্ষুদ্রই হোক না কেন।

জাহেলী যুগে কৃতকর্মের পরিণাম
                                  

আল হাদিস


 আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা জাহেলী যুগে যে সমস্ত খারাপ কাজ করেছি, সেজন্যে কি আমাদেরকে শাস্তি দেয়া হবে? রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, ইসলাম গ্রহণের পর যারা সৎ কাজ করেছ, তারা জাহেলী যুগে কৃত খারাপ কাজের জন্য শাস্তি পাবে না।

কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর যারা অসৎ কজে লিপ্ত হয়েছে, তারা উভয় যুগে কৃত পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করবে।

(বুখারী-কিতাবুস তিতাবাতিল মুরতাদীন)

যে বিষয়ে হজযাত্রীদের জানা জরুরি
                                  

 ইবরাহিম (আ.) কাবাঘরের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করে আল্লাহ তাআলার নির্দেশে হজের ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণা তখন পৃথিবীতে বিদ্যমান ও কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সব মানুষের কানে পৌঁছে দেওয়া হয়। কিয়ামত পর্যন্ত যারা হজ করবেন, তারা সেদিন ইবরাহিম (আ.)-এর ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বলেছিলেন, ‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির, খ-: ০৩, পৃষ্ঠা: ২৬০)


হজ ও ওমরাহর সংজ্ঞা
‘হজ’ অর্থ কোনো মহৎ কাজের ইচ্ছে করা। হজের নিয়তসহ ইহরাম ধারণ করে নির্দিষ্ট দিনে আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ও কাবা শরিফ তাওয়াফ করাকে হজ বলে। (ফাতাওয়া শামি : ২/৪৫৪) আর ‘ওমরাহ’ অর্থÑপরিদর্শন করা। ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণ করে তাওয়াফ ও সায়ি করে মাথা কামিয়ে ইহরামমুক্ত হওয়াকে ওমরাহ বলে। (ফাতহুল বারি : ৩/৫৯৭)
হজ কার ওপর ফরজ
হজ ইসলামের মৌলিক পাঁচ ভিত্তির অন্যতম। নবম হিজরি, মতান্তরে ষষ্ঠ হিজরিতে তা ফরজ হয়। প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ ও মক্কায় গিয়ে হজকার্য সম্পন্ন করে ফিরে আসার সামর্থ্য রাখে, এমন প্রত্যেক মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ। তবে নারীদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গে থাকা শর্ত। (ফাতাওয়া শামি : ২/৪৫৫)


নারীদের মাহরাম কারা
যাদের সঙ্গে কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া যায় না, তারাই মাহরাম। যেমনÑপিতা, পুত্র, আপন ও সৎভাই, দাদা-নানা, আপন চাচা ও মামা, ছেলে বা নাতি, জামাতা, শ্বশুর, দুধভাই, দুধ ছেলে প্রমুখ। তবে একা একা দুধভাইয়ের সঙ্গে এবং যুবতি শাশুড়ি জামাতার সঙ্গে যাওয়া নিষেধ। (রদ্দুল মুহতার, খ-: ০২, পৃষ্ঠা: ৪৬৪)


হজের সওয়াব ও ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীল ও গুনাহর কাজ থেকে বেঁচে থাকে, সে নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে যায়। আর প্রকৃত হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই নয়।’ (বুখারি, হাদিস নং: ১/২০৬)


হজ করতে বিলম্ব করা উচিত নয়
যে বছর হজ ফরজ হয়, সে বছরই তা আদায় করা উচিত। অযথা বিলম্ব করা গুনাহ। হজ একবার ফরজ হলে তা আর কখনো মাফ হয় না। (আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫২৮) মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি হজের ইচ্ছে করে, সে যেন তা দ্রুত আদায় করে নেয়। কেননা মানুষ কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ে, কখনো সম্পদ খরচ হয়ে যায়, কখনো সমস্যার সম্মুখীন হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ২০৭)


হজ না করার পরিণতি
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হজ ফরজ হওয়ার পর তা আদায় না করে মৃত্যুবরণ করা আর ইহুদি বা খ্রিস্টান হয়ে মৃত্যুবরণ করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ (তিরমিজি : ১/১৬৭)
হজের সময় ও তার নির্ধারিত স্থান
হজের নির্দিষ্ট সময়Ñশাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের প্রথম ১০ দিন। বিশেষত ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। এ পাঁচ দিনই মূলত হজ পালন করা হয়। হজের নির্ধারিত স্থানÑকাবা শরিফ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফাত ও মুজদালিফা। (আসান ফিকাহ : ২/২৫১)


হজ তিন প্রকার
ইফরাদ : শুধু হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই ইহরামেই হজকার্য সম্পন্ন করা।
তামাত্তু : শুধু ওমরাহর নিয়তে ইহরাম ধারণপূর্বক ওমরাহর আমল সম্পন্ন করে মাথা মু-ন করে ইহরামমুক্ত হওয়া। অতঃপর সে সফরেই হজের নিয়তে ইহরাম বেঁধে হজকার্য সম্পাদন করা।


কিরান : একসঙ্গে ওমরাহ ও হজের নিয়তে ইহরাম ধারণ করে ওই একই ইহরামে ওমরাহ ও হজ পালন করা। এ তিন প্রকারের মধ্যে উত্তম হলো ‘কিরান।’ কিন্তু ইহরাম দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে নিষেধাজ্ঞাবলি সঠিকভাবে মেনে চলতে না পারার আশঙ্কা থাকলে ‘তামাত্তু’ই উত্তম। (ফাতাওয়া শামি : ২/৫২৯)
হজ-সফরের প্রাথমিক কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর করণীয়
মানুষের অধিকারের প্রতি যতœবান হওয়া। ঋণ থাকলে তা পরিশোধ করা। ইবাদতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা শুধরে নেওয়া। তাওবা ইস্তিগফার করা। এমন সফরসঙ্গী নির্বাচন করা, যিনি নেককার ও সহযোগিতাকারী। বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত ও জিকির করা। হজের মাসালা-মাসায়েল শেখা। (ফাতাওয়া আলমগিরি : ১/২২০)


হজের নিয়ত খাঁটি হওয়া জরুরি
হজে যাওয়ার সময় নিয়ত বিশুদ্ধ করে নিতে হবে। মহান আল্লাহর হুকুম পালনার্থে তার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হজ করছি এমন নিয়ত করতে হবে। লোকে হাজি বলবে, সম্মান দেখাবে, প্রসিদ্ধি অর্জন হবে, ব্যবসা ভালো জমবে, ইলেকশনে ভালো করা যাবেÑএ ধরনের মনোভাব নিয়ে হজ করলে সাওয়াব তো হবেই না; বরং লৌকিকতার কারণে গুনাহ হবে। (মুসলিম, হাদিস : ১৯০৫)


হালাল টাকা হজ কবুলের পূর্বশর্ত
হজের জন্য যে টাকা খরচ করা হবে, তা হালাল হতে হবে। হজের মধ্যে হারাম টাকা খরচ করাও হারাম। যে হজে হারাম টাকা খরচ করা হয়, সে হজ কবুল হয় না। (রদ্দুল মুহতার : ৩/৫১৯)

 


   Page 1 of 39
     ইসলামী জগত
নামাজে ‘সিজদায়ে সাহু’ দেওয়ার নিয়ম
.............................................................................................
মুসলিমদের ঐক্য জরুরি বিশ্বশান্তির জন্য
.............................................................................................
মুসলমানরা সাহায্য চাইবে একমাত্র আল্লাহর কাছে, কোন পরাশক্তির কাছে নয়
.............................................................................................
আরবি মাসগুলোর নামের অর্থ ও নামকরণের কারণ
.............................................................................................
গুনাহ মুছে দেয় ‘তাহিয়্যাতুল অজু’র নামাজ
.............................................................................................
সকল ক্ষমতার মালিক আল্লাহ্
.............................................................................................
আকিকা কী ও তার হুকুম কী?
.............................................................................................
হজের পর হাজিদের করণীয়
.............................................................................................
শরিয়াহ আইনের দৃষ্টিতে বিবাদ নিষ্পত্তি
.............................................................................................
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা আজ
.............................................................................................
আরাফার দিবসে করণীয় আমল
.............................................................................................
জুমু‘আর দিনের বিধান
.............................................................................................
দৈনন্দিন কাজে সুন্নাতের চর্চা
.............................................................................................
সাদাকার সওয়াব কি শুধু ধনীরাই পাবে?
.............................................................................................
জাহেলী যুগে কৃতকর্মের পরিণাম
.............................................................................................
যে বিষয়ে হজযাত্রীদের জানা জরুরি
.............................................................................................
বড় ইবাদত পড়াশোনা ও অধ্যয়ন
.............................................................................................
স্বামী-স্ত্রীর জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ
.............................................................................................
মুরব্বিদের প্রতি আচরণ
.............................................................................................
তাওহিদের মর্মবাণী
.............................................................................................
নফল নামাজের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মা-বাবার সেবা করা
.............................................................................................
হজের সফরে যে ভূল থেকে দূরে থাকতে হবে
.............................................................................................
অজু ছাড়া ভুলক্রমে নামাজ পড়লে করণীয়
.............................................................................................
দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক বিভিন্ন আমল
.............................................................................................
যে সাহাবি ইসলামে প্রথম চিকিৎসক ছিলেন
.............................................................................................
হাসি-রসিকতা করেও মিথ্যা বলা পাপ
.............................................................................................
যাদের ওপর হজ ফরজ
.............................................................................................
ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যে ভেজাল মেশানো জঘন্য অপরাধ
.............................................................................................
ঘুমের কারণে ফজর নামাজ পড়তে না পারলে যা করতে হবে
.............................................................................................
দিবাগত রাত পবিত্র ‘লাইলাতুল কদর’
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
জাকাত দিতে হয় যেসব সম্পদের
.............................................................................................
রমাজনের শেষ ১০ দিনে আমলের বিশেষ গুরুত্ব
.............................................................................................
ইতিকাফকারীর করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
দুই হজ ও দুই ওমরার সওয়াব রমজানের ইতিকাফে
.............................................................................................
কোরআন তেলাওয়াতে চিন্তা, ভাবনা ও গভীর অভিনিবেশ
.............................................................................................
মাহে রমজানের সওগাত
.............................................................................................
কোরআনের অনুবাদ করতে গিয়ে মুসলিম হলেন মার্কিন যাজক
.............................................................................................
সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব ছোট-বড় সবার ওপর
.............................................................................................
নাজাতের মাস রমজান
.............................................................................................
‘যে ব্যক্তি ঈমান (বিশ্বাস) ও পরকালের আশায় রোজা রাখবে, আল্লাহ তার বিগত দিনের গোনাহ মাফ করে দেবেন’
.............................................................................................
ফিতরা সর্বনিম্ন ৭০ টাকা
.............................................................................................
রমজান মাসে ইসলাম গ্রহণকরীর সিয়ামের বিধান
.............................................................................................
আল্লাহর পথে ১ দিনের রোযার প্রতিদান
.............................................................................................
নারীদের জন্য রোজা পালনে যা করণীয়
.............................................................................................
আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল এ কথা স্বীকার না করা পর্যন্ত লড়াইয়ের নির্দেশ
.............................................................................................
ল্যাপল্যান্ডের মুসলমানরা ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন!
.............................................................................................
রমজান ইবাদতময় করে তুলতে করণীয়
.............................................................................................
রোজার জরুরি কিছু মাসআলা
.............................................................................................
ইসলামে শিশু শিক্ষার গুরুত্ব ও পথ-নির্দেশনা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]