ঢাকা,বৃহস্পতিবার,৭ কার্তিক ১৪২৭,২২,অক্টোবর,২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
৩০ অক্টোবর শুক্রবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) শুক্রবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য রবিবার (১৮ অক্টোবর) সফর মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

আরবি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র শাব্দিক অর্থ- মহানবীর (স.) জন্মদিনের আনন্দোৎসব। মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করেন। কারণ এ দিনই রাসুলে করীম (স.) ইন্তেকালও করেন। সেই হিসেবে আগামী ৩০ অক্টোবর ১২ রবিউল আউয়াল। বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) দিন সাধারণ ছুটি।

৩০ অক্টোবর শুক্রবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)
                                  

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দেশের আকাশে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামী সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) শুক্রবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আলতাফ হোসেন চৌধুরী।

সভায় অতিরিক্ত সচিব জানান, সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে ১৪৪২ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য রবিবার (১৮ অক্টোবর) সফর মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে রবিউল আউয়াল মাস গণনা শুরু হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর (১২ রবিউল আউয়াল) দেশে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) পালিত হবে।

আরবি ‘ঈদে মিলাদুন্নবী’র শাব্দিক অর্থ- মহানবীর (স.) জন্মদিনের আনন্দোৎসব। মুসলমানরা ১২ রবিউল আউয়াল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (স.) এর জন্ম ও মৃত্যু (ওফাত) দিবস হিসেবে পালন করেন। কারণ এ দিনই রাসুলে করীম (স.) ইন্তেকালও করেন। সেই হিসেবে আগামী ৩০ অক্টোবর ১২ রবিউল আউয়াল। বাংলাদেশে ঈদে মিলাদুন্নবীর (স.) দিন সাধারণ ছুটি।

ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
                                  

বিশ্বের যেখানেই মুসলমানদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটে আমরা মর্মাহত হই। সর্বশেষ দিল্লির ঘটনা আমাদের বেদনাহত করেছে। একজন মুসলমান অপর মুসলমানের ভাই। সে যে দেশেরই হোক না কেন। হজরত নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, `মুমিনদের পরস্পরের ভালোবাসা, অনুগ্রহ, হৃদ্যতা ও আন্তরিকতার উদাহরণ হচ্ছে একটি দেহ বা শরীরের মতো। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ আহত বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তখন সারাদেহের সব অঙ্গই নিদ্রাহীন হয়ে পড়ে এবং কষ্ট-যন্ত্রণায় জরাগ্রস্ত ও কাতর হয়ে পড়ে` (সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম)। মুমিনদের পারস্পরিক বন্ধন সম্পর্কে হজরত আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত- এক হাদিসে তিনি বলেন, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, `এক মুমিন অপর মুমিনের জন্য প্রাচীরের মতো, যার এক অংশ অপর অংশকে শক্ত গাঁথুনিতে ধরে রাখে। উদাহরণ দেখাতে গিয়ে নবী করিম (সা.) তার এক হাতের আঙুলকে অপর হাতের আঙুলের ভেতর প্রবেশ করিয়ে দেখালেন` (সহিহ বোখারি ও সহিহ মুসলিম)।

যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে এটাই ইসলামের শিক্ষা। মহানবী (সা.) মানুষকে ভালোবাসা দিয়ে ইসলাম প্রচার করেছেন। অথচ বিরোধী মক্কাবাসী তার এবং তার (সা.) অনুসারীদের ওপর নির্মম অত্যাচার করে। এর প্রতিবাদে তিনি (সা.) যুদ্ধে জড়িত হননি। অত্যাচারের সীমা যখন ছাড়িয়ে যায়, তখন তিনি (সা.) মক্কা ছেড়ে মদিনায় চলে যান। তারপরও মক্কার সেই বিরোধীরা মদিনায় গিয়ে আক্রমণ করে। তখন তিনি (সা.) আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে নির্দেশিত হন- `যাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদের (আত্মরক্ষার্থে যুদ্ধ করার) অনুমতি দেওয়া হলো। কারণ তাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে` (সুরা হাজ : ৪০)। ফলে আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ করা হয়। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যুদ্ধ করেন। তবে বিপক্ষে যুদ্ধে জড়িত নয় কিংবা বৃদ্ধ, নারী ও শিশুকে হত্যা করা হয়নি। এমনকি মক্কা বিজয়ের পর সবাইকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। পবিত্র কোরআন এবং মহানবী (সা.) সব ধর্মের অনুসারীদের নিজ নিজ রীতি অনুযায়ী ধর্মকর্ম পালনের শিক্ষা দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বলেন- জেনে রাখ, যে ব্যক্তি কোনো অঙ্গীকারবদ্ধ অমুসলমানের ওপর জুলুম করবে, তার অধিকার খর্ব করবে, তার ওপর সাধ্যাতীত কোনো কিছু চাপিয়ে দেবে বা তার অনুমতি ব্যতীত তার কোনো বস্তু নিয়ে নেবে, আমি পরকালে বিচার দিবসে তার বিপক্ষে অবস্থান করব (আবু দাউদ)। মহানবীর (সা.) মৃত্যুর অল্পদিন আগে বিদায় হজের সময় বিরাট ইসলামী সমাগমকে সম্বোধন করে তিনি (সা.) উদাত্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, `হে মানবমণ্ডলী, তোমাদের আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয় এবং তোমাদের আদি পিতাও এক। একজন আরব একজন অনারব থেকে কোনোমতেই শ্রেষ্ঠ নয়। তেমনি একজন আরবের ওপর একজন অনারবেরও কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। একজন সাদা চামড়ার মানুষ একজন কালো চামড়ার মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়, কালোও সাদার চেয়ে শ্রেষ্ঠ নয়। শ্রেষ্ঠত্বের মূল্যায়ন করতে বিচার্য বিষয় হবে, কে আল্লাহ ও বান্দার হক কতদূর আদায় করল। এর দ্বারা আল্লাহর দৃষ্টিতে তোমাদের মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যিনি সর্বাপেক্ষা বেশি ধর্মপরায়ণ` (বায়হাকি)। এই মহান শব্দগুলো ইসলামের উচ্চতম আদর্শ ও শ্রেষ্ঠতম নীতিমালার একটি দিক উজ্জ্বলভাবে চিত্রায়িত করেছে। শতধাবিভক্ত একটি সমাজকে অত্যাধুনিক গণতন্ত্রের সমতাভিত্তিক সমাজে ঐক্যবদ্ধ করার কী অসাধারণ উদাত্ত আহ্বান। যারা সামাজিক পরিমণ্ডলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে, রক্তপাত ঘটায়, ধ্বংসযজ্ঞ এবং নৈতিকতা-বর্জিত ইসলামিক কর্মকাণ্ড চালায়, তারা যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন, তারা সন্ত্রাসী। কেননা কোনো ধর্মেই সন্ত্রাসী কার্যকলাপের স্থান নেই। বিশ্বাসের স্বাধীনতা হচ্ছে সব মানুষের মৌলিক অধিকার। ইসলাম ধর্মের বিধানমতে, `ধর্ম` হচ্ছে নিজ পছন্দের একটি বিষয়। এ ধর্ম একটি সুস্পষ্ট ও শান্তির ধর্ম। এই ধর্ম গ্রহণের পরেও চাইলে কেউ এটা ত্যাগ করতে পারে, কোনো জোর নেই; তবে এর বিচার সর্বশক্তিমান আল্লাহ নিজ হাতেই করেন। ধর্মে যদি বল প্রয়োগের বিধান থাকত, তাহলে হজরত রাসুল করিম (সা.) মক্কা বিজয়ের পর অমুসলমানদের ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য বাধ্য করতেন এবং মক্কায় বসবাসের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি! এতে প্রমাণিত হয়, ধর্মের জন্য বল প্রয়োগ ইসলামের শিক্ষা নয়। ইসলামের আদর্শ হলো শত্রুর সঙ্গেও বন্ধুসুলভ আচরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।

মুসলিম আজ শত দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়ার কারণে পরস্পরের মাঝেও ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। বিভেদ বা সংঘাত নয়, সত্য প্রতিষ্ঠা এবং একক নেতৃত্বের অধীনে থেকে জীবন অতিবাহিত করার শিক্ষাই পবিত্র কোরআন ও হাদিসে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। ঐক্য প্রতিষ্ঠাই ইসলামের মূল লক্ষ্য। বর্তমানে ইসলাম সর্বত্র যে মার খাচ্ছে, এর প্রধান কারণই হচ্ছে মুসলমানদের মাঝে কোনো ঐক্য নেই, নেই কোনো একক নেতৃত্ব। সমগ্র বিশ্বকে পরিচালনা করার মতো নেই কোনো ইসলামী নেতা। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে মুসলিম ঐক্যের বিকল্প নেই।

সৌদিআরবের পবিত্র মদিনা মনোয়ারা অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে
                                  

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সৌদিআরবের পবিত্র মদিনা মনোয়ারা অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে। আগামী রোববার থেকে জিয়ারতকারীদের জন্য মদিনা শরীফে রাসুলের (সা.) রওজাও খুলে দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সেদিন থেকে আড়াই লাখ সৌদি নাগরিককে ওমরার অনুমতিও দেওয়া হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সদস্য হানি আল-ওমাইরি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মদিনা শরীফের পুরোনো স্থাপনাসহ পুরো মসজিদটি সবার জন্য খুলে দেওয়া হবে। এছাড়া মক্কার মসজিদুল হারামেও ৬০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবেন।

ওমরার জন্য নিবন্ধনকারীদের অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে বলে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক কমিটি জানিয়েছে।

এদিকে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সৌদি আরবে অবস্থান করা এবং বাইরে থেকেও ইবাদতের উদ্দেশে সব মুসলিমকে মসজিদুল হারামে ঢুকতে দেওয়া হবে। তবে আবেদন করার আগে করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। এছাড়া পবিত্র স্থানগুলাতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মেনে চলা, মাস্ক পরা, অন্যের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং শারীরিক যোগাযোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সৌদির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ধর্ষণের সমাধানে যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী
                                  

বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিজানুর রহমান আজহারী তার ফেসবুক ভেরিফাইড পেইজে রোববার একটি দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি ধর্ষণকে কোনো যৌনতা নয় বরং পুরুষের ক্ষমতার অপব্যবহার বলে চিহ্নিত করেছেন। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেছেন এ জঘন্য অপরাধের সমাধান কি হতে পারে। তার পোস্টটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো।

‘বাংলাদেশে প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষণ হচ্ছে। নারীকে বিবস্ত্র করা হচ্ছে। এই দৃশ্য ধারণ করে অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এই বর্বরতা সহ্য ক্ষমতার বাইরে। কি একটা অসুস্থ প্রজন্ম গড়ে উঠেছে এ দেশে! আমাদের পরিবারগুলোতে এভাবে ধর্ষক গড়ে উঠল আর আমরা কেউ টেরই পেলাম না? ভাবতেই গা শিউরে উঠছে। সাধারণ জনগণ না পারছে কইতে, না পারছে সইতে। বিচার চেয়ে মানববন্ধন করতে গেলে সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা। এভাবে বিচার চাইতে চাইতে ক্লান্ত জনগণ যখন বিচার করার দায়িত্ব নিজ হাতে তুলে নিবে তখন পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তাই, ধর্ষণের নজিরবিহীন শাস্তি নিশ্চিত হোক— এটাই আজ গণমানুষের দাবি।

ধর্ষণ হচ্ছে একটি সেক্সুয়াল ক্রাইম বা সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স। আদতে ধর্ষণ কোনো যৌনতা নয়, এটা পুরুষের ক্ষমতার অপব্যবহার। আর ক্ষমতার ছায়াতলেই মূলত বেড়ে ওঠে ধর্ষকরা। সাধারণত, মানুষ যেটা দেখে দেখে শিখে সেটা সে নিজে চেষ্টা করে দেখতে চায়। সিনেমাতে পরিবারের সবাই মিলে ধর্ষণের দৃশ্য উপভোগ করা সমাজে এর চেয়ে ভালো কিছু হওয়ার তো কথা ছিল না। যা হওয়ার তাই তো হচ্ছে। উঠতি তরুণ বয়সে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ক্ষমতার স্বাদ পেলে সে ক্ষমতা কে না খাটাতে চায়? দেশের আইন ও বিচারব্যবস্থা যখন ‘ক্রিমিনাল ফ্রেন্ডল ‘ হয়ে উঠে মূলত তখন অনিয়ন্ত্রিত ও মাত্রাতিরিক্ত উগ্র ক্ষমতার জোরেই এরা ধর্ষণের সাহস পায়। ক্ষমতার বলে ও আইনের ফাঁকফোকর মাড়িয়ে এরা সব সময় থাকে ধরা-ছোঁয়ার আড়ালে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া ও পরিবেশে একটি ছেলে অথবা মেয়ে গড়ে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সেই পরিপূর্ণ সেক্সুয়াল অ্যাবিলিটি লাভ করে থাকে। কিন্তু তারা বিয়ের পিড়িতে বসে আরো ১০ থেকে ১৫ বছর পর। এই লম্বা সময় ধরে যৌন ক্ষুধা নিবারণের কোন বৈধ সুযোগ তাদের হাতে নেই। উপরন্তু বিয়ের প্রশ্ন উঠলেই আসে সামাজিক যতো নিয়ম কানুনের দোহাই।



যৌনশক্তি আল্লাহ তা’আলার দেয়া এক অমূল্য সম্পদ। এই সেন্সিটিভ এনার্জিকে যদি সঠিকভাবে ব্যবহার না করা হয় তবে এর অপব্যবহার হবে এটাই স্বাভাবিক। তার উপর যদি থাকে নৈতিক অধঃপতন ও উগ্র ক্ষমতা প্রদর্শণের সুযোগ তাহলে তো ধর্ষণ ঠেকাবার আর কোনো রাস্তা খোলা নেই।

এদেশে প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেরা বেশিরভাগ সময় সেক্সুয়ালি ওভার চার্জড হয়ে থাকে। বিজ্ঞাপনে আর বিলবোর্ডে সর্বদা শোভা পাচ্ছে স্বল্প বসনা নারী যেখানে তার দেহের আকর্ষণীয় সব উঁচুনিচু ভাঁজগুলো প্রেজেন্ট করা হচ্ছে, ক্রিকেট খেলার মাঝখানে চিয়ার্সগার্লসদের বেলি ড্যান্স, মুঠোফোনে সহজলভ্য সেক্সুয়াল কন্টেন্ট, ওয়েব সিরিজ, পর্নোগ্রাফি, অশ্লীল সিনেমা আরো কতো কি। এগুলো তরুণদের মাঝে যৌন উন্মাদনা তৈরি করছে।

নারীদেহকে যারা সেক্স অবজেক্ট হিসেবে ভোগের সস্তা পণ্য করে উপস্থাপন করে এরা সবাই মূলত ধর্ষক। এই সেক্স অবজেক্ট দেখে দেখে তরুণরা ফুল্লি চার্জড হয়ে থাকে। কিন্তু হালাল পন্থায় ওই এনার্জি রিলিজ করার কি তার কোনো জায়গা আছে?? না, নেই ! ফলাফলস্বরূপ চলছে মাস্টারবেসন, বিবাহ বহির্ভূত শারিরীক সম্পর্ক, আর ক্ষমতা থাকলে বীরদর্পে ধর্ষণ। সংবাদমাধ্যম, গণমাধ্যম, ফেইসবুকের নিউজফিডে যেন একটাই নিউজ— ধর্ষণ! ধর্ষণ! আর ধর্ষণ!

প্রতিটি জাতীয় দৈনিকে যদি হত্যা ও ধর্ষণের জন্য আলাদা একটি পাতা নির্ধারিত থাকে, ওই পাতা কোনোদিন খালি থাকবে বলে মনে হয় না। প্রতিটি জেলায় প্রায় প্রতিদিন এজাতীয় ঘটনা ঘটছে। তাই, এই মহামারির প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে— বিয়েকে সহজ করুন, অশ্লীলতার সকল পথ বন্ধ করুন, উগ্র ক্ষমতার প্রয়োগ থামিয়ে দিন এবং সন্তানদের নৈতিকতা ও মানবিকতার সবক দিন।

দিনরাত তরুণসমাজকে কাছে আসার গল্প শোনাবেন, নোংরা রাজনীতির পাওয়ার গেইম শেখাবেন। আর ধর্ষণ করলে হই চই শুরু করবেন। ওয়াট অ্যা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড ! নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপন, বইপুস্তক এবং ইন্টারনেট সব যায়গায় নগ্নতা ও যৌনতায় ভরপুর থাকবে, বিয়ে কঠিন হবে, ক্ষমতার রাজনৈতিক মহড়া চলতে থাকবে আর কিছু ধর্ষককে ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলেই ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে—এ ধারণা নিছক শিশুসুলভ ধারণা বলেই আমার কাছে মনে হয়।

মানুষকে মানুষ বানানো এতো সহজ কাজ নয়। আমি প্রায়ই বলে থাকি যে, গরুর পেট থেকে বের হলেই সেটা গরু হয়, ছাগলের পেট থেকে বের হলেই সেটা ছাগল হয় কিন্তু মানুষের পেট থেকে বের হলেই সেটা মানুষ হয়ে যায় না বরং সেটাকে মানুষ বানাতে হয়। মানুষকে মানুষ বানানো না গেলে তার মধ্যে পশুসুলভ আচরণ ডেভেলপ করে। তখন তার মধ্যে আর মনুষ্যত্ব থাকে না। এমনকি কখনো কখনো তিনি পশুকেও ছাড়িয়ে যায়। আর নিবিড় পরিচর্যা, নৈতিক সুশিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা তাকে ধীরে ধীরে আলোকিত মহামানবে পরিণত করে। তাই, মানুষকে মানুষ বানাতে দরকার নৈতিক শিক্ষা ও মানবিকতার চর্চা। পরিবারে, সমাজে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রাষ্ট্রীয়ভাবে নৈতিক শিক্ষা ও মানবিকতার চর্চা করা খুব জরুরি।
এ বিষয়ে সমাধান হিসেবে আজহারী পোস্টে লিখেছেন,



যদি আমরা আসলেই সমাজ থেকে ধর্ষণ বন্ধ করতে চাই— তাহলে আমাদেরকে সামগ্রিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করে অপরাধপ্রবণতা বিরোধী ও মানবতাবান্ধব একটি সমাজব্যবস্থা কায়েম করতে হবে। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও খোদাভীতি সম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা হতে হবে। শুধু তাই নয়, আগে শাসক শ্রেণী ও অভিভাবকদের নিজেদেরকে খোদাভীতিসম্পন্ন মানুষে পরিণত করতে হবে। তবেই কেবল সামগ্রিক ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্ভব।
ধর্ষণ ঘটনার তীব্রতা বোঝাতে অনেকে লিখছেন— মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানিয়েছে। কিন্তু মধ্যযুগীয় বর্বরতা বা আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতাকে কিভাবে সমাধান করা হয়েছিল সে বয়ান দিতে গেলে তো তখন তারা কানে কুলুপ এঁটে রাখে। আসলে, মানব জাতির স্রষ্টা মহান আল্লাহ তা’আলাই ভালো জানেন যে সামাজিক ভারসাম্য অক্ষুন্ন রাখতে ব্যভিচার ও ধর্ষণের শাস্তি কেমন হওয়া উচিত।

তাই, ইসলামে ব্যভিচার ও ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মানবিক সমাজব্যবস্থা, উন্নত চারিত্রিক মূল্যবোধ ও অপরাধপ্রবণদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাপনা দিয়ে মূলত রাসূলুল্লাহ (ﷺ‬) মধ্যযুগীয় বর্বরতা বা আইয়্যামে জাহিলিয়াতের বর্বরতাকে কল্যাণে ভরপুর এক মানবিক সমাজে রূপান্তর করেছিলেন। এক সোনালি যুগের গোড়াপত্তন করেছিলেন। যে সমাজব্যবস্থা আজও গোটা বিশ্ববাসীর জন্য অনুসরণীয় ও অনুকরণীয়।

ধর্ষণ ইস্যুতে আরেকশ্রেণী আছে মিউচুয়াল কনসেন্ট নিয়া। কনসেন্ট নিয়া সম্পর্ক করলে নাকি কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে এই সম্পর্কের অবনতি ঘটলেই ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে পুরুষের বিরুদ্ধে। পুরুষরাও কম হয়রানির শিকার হচ্ছে না। যখন ফিজিক্যাল রিলেশন হয়, তখন সেটাকে প্রেম ও ভালোবাসা শব্দে ব্যক্ত করা হলেও সময়ের বিবর্তনে তা ধর্ষণ নাম ধারণ করে। পরিণামে নারী নির্যাতন মামলাও হয়। ধর্ষণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত হওয়ার পর অনেক পুরুষকে ধর্ষণের অপবাদ দিয়ে ব্ল্যাকমেইলও করছে অনেক নারীরা, এমন খবরও উঠে এসেছে। এজন্যই ইসলাম বিবাহ বহির্ভূত সকল সম্পর্ককে হারাম করেছে।
গতকাল একটি ভিডিও ক্লিপে, ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের সামনে কিছু তরুণীদের ধর্ষণবিরোধী একটি শ্লোগানে মুখরিত হতে দেখলাম। শ্লোগানটি ছিল এরকম—æএই দায়-শুধু তোর-তুই ধর্ষক”।

প্রিয় বোনদের বলতে চাই— প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের জন্য অনেকগুলো ফ্যাক্টর দায়ী। শুধু একদিকে আঙ্গুল তোলাটা ইনসাফপূর্ণ নয়। নৈতিক শিক্ষার উন্নয়ন, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও অপরাধপ্রবণ, দুশ্চরিত্র, লম্পট ও বিকৃত রুচির কিছু লোক সমাজে থাকবেই। যাদের অনিষ্ট থেকে বেঁচে থাকার জন্য আপনাদেরকেই সেইফটি ম্যাজারমেন্ট নিতে হবে। তাই, দয়া করে ঘরের বাইরে সব সময় নিজেকে শালীন পোশাকে আবৃত রাখুন। মনে রাখবেন হিজাব নারীর আভিজাত্য, সৌন্দর্য, লাজুকতা ও রুচিশীলতার প্রতীক। ইসলাম নারীকে কষ্ট দেয়ার জন্য হিজাবের বিধান দেয়নি বরং দিয়েছে রক্ষাকবচ হিসেবে।

নৈতিকতার অভাব, অশ্লীলতার প্রসার, স্বাধীন বিচারব্যবস্থার অনুপস্থিতি ও ক্ষমতার দাপট প্রদর্শনের যে অপসংস্কৃতি দেশে চলে এসেছে তাতে খুব সহসা এ ধর্ষণ মহামারি থামানোর কোনো সুযোগ নেই। এটা চলতে থাকবে। কিছু ঘটনা ভাইরাল হলে আমরা জানতে পারব আর বাকীগুলো চাপা পড়ে থাকবে।
তাই, এখন থেকেই আমরা সবাই সিরিয়াসলি সতর্ক না হলে এই ক্রাইসিস মোকাবিলা সম্ভব নয়। সর্বমহল থেকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। নৈতিক প্রজন্ম গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নাই। মানবিকতার চর্চা ও নৈতিকতার চর্চা ছাড়া ধর্ষণ ঠেকানো সম্ভব নয়। বিবেক জাগানিয়া ও মানবিক সত্তা বিকাশে সহায়ক শিক্ষাব্যবস্থা খুবই জরুরি। পারিবারিক তারবিয়াত ও প্রতিটি মুসলিম পরিবারে ইসলাম চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে আমাদের কারো আদরের ভাইটি হয়ে উঠতে পারে ধর্ষক অথবা আমাদের আদরের বোনটি হয়ে যেতে পারে পরবর্তী ভিকটিম। তখন দিশেহারা হয়ে ‘বিচার চাই’ ‘বিচার চাই’ বলা ছাড়া আর কিইবা করার থাকবে?

ইসলাম সত্য সুন্দর ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা
                                  

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদেরকে ঈমনী অমূল্য সম্পদ দিয়ে মালামাল করেছেন। আরো কৃতজ্ঞ আদায় করছি যেই মহান সত্তা ইসলামী যিন্দেগীর সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন । দরূদ ও শান্তি অবিরাম ধারা বর্ষিত হোক নবীকুল শিরোমণী মুহাম্মাদ (সা.) এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সম্মানিত সাথীদের উপর।
ইসলাম একটি শান্তিময় ও সুশৃঙ্খল জীবন বিধান। নবী মুহাম্মাদ (সা.) এর ইন্তেকালের পূর্বেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই দ্বীনকে বিশ্ববাসীর জন্য পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন। একজন মানুষের জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সুন্দর সুন্দর বিধান প্রদান করেছে। নবজাতক শিশু জন্ম গ্রহণ করার পর সন্তানের পিতা-মাতা বা তার অভিবাবকের উপর আকীকার বিধান ইসলামের সৌন্দর্যময় বিধানসমূহের মধ্য হতে অন্যতম একটি বিধান। তেমনিভাবে এজন মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তাকে কোন পদ্ধতি কবরস্থ করা হবে সেই বিষয়েও দিক নির্দেশা ইসলামের সৌন্দর্যের বহিঃপ্রকাশ। জন্ম ও মৃত্যু এই দু‘য়ের মধ্যবর্তী সময় তথা জীবনকালের প্রতিটি মুহূর্ত একজন নারী-পুরুষ কিভাবে জীবন পরিচালনা করবে সেই বিষয়েও ইসলামের নির্দেশনা পরিস্কার।

আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সকল যুগের সব মানুষের জন্য উপযুক্ত জীবনবিধান হিসেবে নাজিল হয়েছে। আল্লাহতায়ালা মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে সৃষ্টি করে কোন্ পথে চললে মানুষের কল্যাণ হবে , আর কোন্ পথে চললে হবে অকল্যাণ, তা অহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই অহী তথা জীবন বিধানের নাম হচ্ছে ‘আল ইসলাম’। মহান স্রষ্টা আল্লাহর বাণী ও হিদায়াত এবং সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মদ (সা)-এর শিক্ষা শুধুমাত্র বিশ্বাস ও নৈতিক বিধানের মধ্যেই সীমিত নয়, মানুষের জন্য প্রযোজ্য ও উপযুক্ত আইন-কানুনও এর আওতাভুক্ত। ফলে মানুষের জীবন চলার কোনো বিষয়ই এতে অনুপস্থিত নেই। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ইসলাম পূর্ণাঙ্গ বিধান হওয়ার পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করা হয়েছে। কুরআনের এমন একটি আয়াত হলো-

الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا

‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ -সূরা মায়েদা, আয়াত : ৩
ইসলামী জীবনাদর্শের বুনিয়াদ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। ঘোষণাটি হচ্ছে ইসলামী আকীদার প্রথম স্তম্ভ বা কালেমায়ে শহাদাতের প্রথমাংশ। এ অংশে আল্লাহ ছাড়া বন্দগীর যোগ্য কেহ নেই একথার স্বীকৃতি রয়েছে। মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ইসলামী আকীদা বা কালেমায়ে শাহাদাতের দ্বিতীয় অংশ। এ অংশে আল্লাহ তাআলার বন্দেগী করার জন্যে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রদর্শিত পন্থাই সঠিক বলে মেনে নেয়া।
এ কালেমা (ঘোষণা) তার উল্লেখিত দু’টো অংশসহ প্রত্যেক মু’মিনের অন্তরেই বদ্ধমূল হয়ে যায়। কারণ, ঈমানের অপরাপর বিষয় ও ইসলামের পরবর্তী স্তম্ভগুলো এ ঘোষণারই পরিণতি। স্বাভাবিকভাবেই ফেরেশতা, আসমনী কিতাব, নবীগণ (আ), আখেরাতে, তাকদীরের ভাল-মন্দ ইত্যাদি বিষয়ের প্রতি ঈমান আনয়ন এবং সালাত, সওম, যাকাত, হজ্জ, হালাল ও হারামের পার্থক্য, লেনদেন, আইন-কানুন, উপদেশ শিক্ষাদান ইত্যাদি সকল কাজকর্মই আল্লাহ তাআলার বন্দেগী ও রাসূলুল্লাহ (সা)-এর অনুসরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে।
মানব জীবনের কোনো খণ্ডিত অংশে নয় বরং তাঁর জন্ম থেকে নিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিগত, পারিবারিক, রাষ্ট্রীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রাসূলুল্লাহ সা:-এর সীরাত অনুসরণ এবং অনুকরণ করতে হবে। আল কুরআনে বলা হয়েছে-

وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا

‘রাসূল তোমাদের জন্য যা নিয়ে এসেছেন তা তোমরা গ্রহণ কর এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে তোমরা বিরত থাক।’ (সূরা হাশর: ৭)
ইসলামী সমাজ কালেমায়ে শাহাদাত ও তার চাহিদাগুলোর বাস্তব চিত্র পেশ করবে। যে সমাজে কালেমায়ে শাহাদতের রূপ পরিস্ফুট হয় না সে সমাজ ইসলামী সমাজ নয়। তাই কালেমায়ে শাহাদাত একটি পরিপূর্ণ জীবনাদর্শের ভিত্তি এবং এ ভিত্তির উপরেই মুসলিম উম্মাতের বিরাট সৌধ গড়ে উঠে। এ ভিত্তিটি সুদৃঢ়রূপে প্রতিষ্ঠিত না হলে জীবন যাত্রা প্রণালী রচিত হতেই পারে না। এ ভিত্তির পরিবর্তে অন্য কোন ভিত্তি অবলন্বল অথবা এ ভিত্তিটির সাথে অন্য কোন আদর্শের আংশিক সংমিশ্রণ ঘটিয়ে জীবন বিধান রচনার প্রচেষ্টায় যে সমাজ গড়ে উঠবে তাকে কিছুতেই ইসলামী সমাজ আখ্যা দেয়া যেতে পারে না। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন:

إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّـهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ

æআদেশ দেয়ার অধিকার একমাত্র আল্লাহর। তিনিই আদেশ করেছেন যে, তিনি ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী করা চলবে না। আর এটাই হচ্ছে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত জীবন বিধান।” (সূরা ইউসুফ: ৪০
প্রচলিত অর্থে ইসলাম কেবলমাত্র একটি ধর্মের নাম নয়। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন,”

إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّـهِ الْإِسْلَامُ ۗ

আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবনবিধান হচ্ছে আল ইসলাম”। (সূরা আল ইময়ান :১৯)
মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক তথা মানব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ও বিভাগে অল ইসলামের সুষ্পষ্ট বিধান রয়েছে। রাসূল (সা.) সেই বিধানকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি একদিকে যেমন মসজিদের ইমাম ছিলেন, অন্যদিকে তেমনি ছিলেন রাষ্ট্রপতি, সেনাপতি, বিচারপতি। আল কুরআন ও আল হাদীসে ইসলামী জীবন বিধান সংরক্ষিত রয়েছে। যারা ইসলামকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করে সেই বিধান অনুযায়ী জীবনযাপন করে তাদেরকে বলা হয় ‘মুসলিম’। একজন মুসলমান কখনো ইসলাম ছাড়া অন্য কোন মত ও পথকে গ্রহণ করতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন:

اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ

‘তোমাদের রবের পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি যা কিছু নাযিল হয়েছে তা মেনে চলো, তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কারো অনুসরণ করো না।” সূরা আল আরাফ: ৩।
অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ ﴿٢٠٨﴾

æহে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামের মধ্যে পুরোপুরি প্রবেশ করো, আর শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না।” (সূরা বাকারা: ২০৮)
কোন মুসলমান ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে, আর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে অন্য কোন মত ও পথকে গ্রহণ করবে, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না। আল্লাহ তায়ালা অন্য একটি আয়াতে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন,

وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ

æযে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন বিধান তালাশ করবে,তার কাছ থেকে তা মোটেই গ্রহণ করা হবে না, আর আখিরাতে সে ক্ষতিগ্রস্হদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।” সূরা আল ইময়ান: ৮৫
কোন ব্যক্তি শরীয়াতের বিধি-নিষেধ অমান্য করার মধ্যে মানুষের মঙ্গল ও কল্যাণ নিহিত বলে ঘোষণা করার পর কি করে দ্বীনের অনুসরণকারী হিসেবে পরিচিত হতে পারে? শরীয়াত লংঘন করার পর কারো পক্ষেই দ্বীনদার হিসেবে পরিগণিত হবার কোন উপায় নেই।
পরিশেষে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে এ জীবন বিধান যথাযথভাবে পালন করার তাওফীক দেন। আমীন!

অবশেষে আজ থেকে শুরু ওমরা পালন
                                  

অবশেষে আজ থেকে শুরু ওমরা পালন । খুলে দেয়া হলো মক্কা-মদিনার দরজা। নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারির কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার থেকে ওমরাহ হজ পালনের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র মক্কা ও মদিনা। সৌদি সরকার সীমিত পরিসরে ওমরাহ পালনের আবেদন করার জন্য যে অ্যাপ চালু করেছে, তাতে আবেদন করে পাঁচ দিনে এক লাখ আট হাজার ৪১ জন চূড়ান্ত অনুমতি পেয়েছেন।

এর আগে গত শুক্রবার সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুমতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪২ হাজার ৮৭৩ জন সৌদি আরবের এবং বাকি ৬৫ হাজার ১২৮ জন সৌদি আরবে অবস্থান করা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

সৌদি সরকার সম্প্রতি সীমিত পরিসরে ওমরাহ হজ শুরুর সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘আই-টামারনা’র মাধ্যমে ওমরাহ হজ পালনের নিবন্ধন কার্যক্রম। নিবন্ধন শুরুর প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রথম ১০ দিনের ওমরাহ পালনের নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হয়ে যায়।

সুখী জীবনের পথে ইসলামী পাঁচটি কার্যকরী টিপস!
                                  

আল্লাহ বলেন, যে মুমিন অবস্থায় নেক আমল করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, আমি তাকে পবিত্র জীবন দান করব এবং তারা যা করত তার তুলনায় তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দেব।” (আল কুরআন-১৬:৯৭)

জীবনের পথচলায় কখনো কখনো এমন কিছু দুঃখজনক মুহুর্ত সামনে আসে, যা একজন মানুষের স্বচ্ছ মনকে বিষিয়ে তোলে। অবসাদে ভরে যায় স্রষ্টা প্রদত্ত এই ছোট্ট জীবন!

কিন্তু এতকিছুর পরেও মুমিন বান্দার জন্য আল্লাহ তা’আলা এমন কিছু নি’আমত রেখেছেন যা তাকে সর্বদা সুখী হতে সাহায্য করে। আসুন জেনে নেই সুখী জীবনের পথে পাঁচটি কার্যকরী টিপস!

১) হতাশা ত্যাগ করে কৃতজ্ঞ থাকুন

কৃতজ্ঞতার ঘাটতি থেকেই হতাশার জন্ম। জীবন, জগতের দুর্বিষহ কিছু মুহুর্ত মাঝে মাঝে আমাদেরকে হতাশার দিকে ঠেলে দেয়। কিন্তু এতকিছুর একটু চিন্তা করলেই আমরা দেখতে পাব যে, আসলে কৃতজ্ঞ হওয়ার মতো অনেক বিষয়ই আমাদের সামনে আছে। বুদ্ধিমানদের জন্য পুরো দুনিয়া জুড়েই কৃতজ্ঞতার উপকরণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাই নেক কাজ করুন, কৃতজ্ঞতা আদায় করুন। আর সুখে থাকুন। এর সাথে আপনার রবের বাণী স্মরণ করুন-

æআর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন।” (আল কুরআন-১৪:৭)

২) অলসতা ত্যাগ করে কাজে মনোযোগী হন

‘অকর্মণ্য মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা’ প্রবাদটির প্রকৃত অর্থ হলো- আপনি যদি কোনোভাবে মস্তিষ্ককে খানিক ফাঁকা রাখতে চান, তবে সেই স্থানটি প্রকৃতপক্ষে কখনো ফাঁকা থাকবে না। বরং সেই জায়গাটি দখল করে নেবে স্বয়ং শয়তান। তাই সবসময় কাজে ব্যস্ত থাকাতেই প্রশান্তি! এছাড়া আপনাকে আমাকে অলসভাবে বসে থাকতেও সৃষ্টি করা হয়নি। মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন। অলসভাবে বসে থেকে পৃথিবীর কাছে ঋণী হওয়াতে কোনো কৃতিত্ব নেই! আর এতে মনের অশান্তি আরও বৃদ্ধি পায়।

কর্মমুখী হওয়ার গুরুত্ব বোঝাতে আল্লাহ বলেন, æঅতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান করো এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।” (আল কুরআন-৬২:১০)

৩) অপচয় ত্যাগ করে সদকা করুন

পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থা আমাদেরকে অপচয় করতে আর ভোগবাদী হতে প্রলুব্ধ করে। সম্পদ অর্জনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা মৃত্য পর্যন্ত আমাদের মাতিয়ে রাখে। অথচ নশ্বর এ দুনিয়াতে মানুষ বেঁচে থাকে কর্মের মাধ্যমে, অর্থের মাধ্যমে নয়। ব্রিটেনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, ‘যারা দান করে, অন্যদেরকে উপহার দেওয়ার জন্য ব্যয় করে, তারা নিজেকে অনেক বেশি সুখী মনে করে! অন্যদিকে যারা নিজের জন্য সঞ্চয় করে তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুঃখবোধ আর অশান্তির সাথে মৃত্যুবরণ করেছে।’ তাই গোপনে দান করুন; সুখী হতে চাইলে প্রত্যহ দান করুন। দান অর্থ শুধু অর্থের কুরবানী নয়, বরং হাসিমুখে কথা বলাও সদকা! দুনিয়া ও আখিরাত উভয়টিই সুন্দর করতে চাইলে সদকার বিকল্প নেই।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, æযখন আল্লাহর ছায়া ব্যতিত আর কোনো ছায়া থাকবে না, তখন আল্লাহ তা’আলা সাত শ্রেণির লোককে তাঁর আরশের নিচে ছায়া দান করবেন। (তাদের মধ্যে একজন হলো) যে ব্যক্তি এতো গোপনে সদকা করে যে, তার ডান হাত যা দান করে, বাম হাতও তা টের পায় না।”

(৪) রাগ ত্যাগ করে ক্ষমাকারী হন

জীবনে তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলো যত দ্রুত ভুলে যাওয়া যায় ততই কল্যাণ। পৃথিবীতে যা কিছু হয় তা ভালোর জন্যই হয়। ভালো মানুষ আমাদের জীবনে কল্যাণ নিয়ে আসে, আর খারাপ মানুষ দিয়ে যায় অভিজ্ঞতা। দুনিয়াতে কোনোকিছুর জন্য রেগে যাওয়া আসলে বোকামী। কারণ এতে নিজের সুখই নষ্ট হয়। চিন্তা করে দেখুন, আমাদের জীবনের প্রত্যেকটা অনুশোচনার জন্য আমাদের বেখেয়ালী রাগটাই মূলত দায়ী। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ। তাই সবাই ক্ষমা করতে পারে না। আর এ কারণে সুখীও হতে পারে না। তাই আসুন, সুখী হওয়ার জন্য হজরত আলী (রাযিঃ) এর মতো আমরাও শুধু আল্লাহর জন্যই সকলকে ক্ষমা করে যাই।

৫) নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ত্যাগ করে ইতিবাচক হন

ভালো বিষয়ের চর্চা করুন, কল্যাণকামী হন। আপনি যখন কোনো নেতিবাচক বিষয় নিয়ে ভাবেন, তখন সর্বপ্রথম আপনার নিউরনই কিন্তু অবচেতন ভাবে নেতিবাচকতাকেই গ্রহণ করছে। আর আপনার মনকে বিষয়ে তুলছে। তাই ইতিবাচক হন। এতে আপনার জীবন কল্যাণে ভরে যাবে।

ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জুমার দিন
                                  

আমলের দিক থেকে আল্লাহ তায়ালা যেসব দিনকে ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ করেছেন এর অন্যতম হলো জুমার দিন। এ দিনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেক আহকাম ও ঐতিহাসিক নানা ঘটনা। 

রাসুল (সা.) বলেছেন, “নিঃসন্দেহে জুমার দিন সেরা দিন ও আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম দিন। আল্লাহর কাছে তা ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতরের দিনের চেয়েও উত্তম।”-ইবনে মাজাহ।

অন্য হাদিসে আছে, ‘‘যেসব দিনে সূর্য উদিত হয়েছে এরমধ্যে সর্বোত্তম হলো জুমার দিন।’’ জুমার দিনকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

জুমার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘‘এক জুমা থেকে অপর জুমা উভয়ের মাঝের (গোনাহের জন্য) কাফফারা হয়ে যায়, যদি কবিরা গোনাহের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে থাকে।”-মুসলিম

রাসুল (সা.) অন্য হাদিসে বলেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালো করে গোসল করে সকাল সকাল মসজিদে আসবে এবং ইমামের নিকটবর্তী হবে এবং মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনবে ও চুপ থাকবে তার জুমার সালাতে আসার প্রত্যেক পদক্ষেপে এক বছরের নামাজ ও রোজা পালনের সওয়াব হবে।’’-তিরমিজি

চলুন জেনে নেওয়া যাক জুমার দিনের আরও কিছু আমল:

১: জুমার দিন গোসল করা। যাদের ওপর ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল সা. ওয়াজিব বলেছেন।

২: জুমার নামাজের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা।

৩: মিস্ওয়াক করা।

৪: উত্তম পোশাক পরিধান করে সাধ্যমতো সাজসজ্জা করা।

৫: মুসল্লিদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা।

৬: মনোযোগ সহকারে খুতবা শোনা এবং খুতবা চলাকালীন চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব।

৭: আগে থেকেই মসজিদে যাওয়া।

৮: সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়া।

৯: জুমার দিন ও জুমার রাতে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা।

১০: নিজের সবকিছু চেয়ে এ দিন বেশি বেশি দোয়া করা।

১১: কেউ মসজিদে কথা বললে ‘চুপ করুন‘ এতোটুকুও না বলা।

১২: মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ-রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা।

১৩: খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। কোনো ব্যক্তি যদি জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হয়, কিন্তু ইচ্ছা করেই জুমার নামাজে ইমাম থেকে দূরে বসে, তবে সে দেরিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে।

১৪: এতোটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া, যাতে অন্যের ইবাদত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে।

রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম কেনো থাকা দরকার!
                                  

কিছু ভাইকে দেখলাম প্রশ্ন উত্থাপন করছেন, যে দেশের ৯০% মুসলমান ছালাত আদায় করেনা সে দেশে রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম থাকলেই কি আর না থাকলেই কি!

তাদের এই মন্তব্য চরম ভয়ংকর।

আমি গুনাহর মাঝে আছি। একারণে কি আমি ছালাত পড়া বন্ধ করে দিব?

তেমনি, অন্য কেউ গুনাহের মধ্যে আছে। এ জন্য তার ছালাত নিয়ে কি তাকে খোটা দিব?

যখন আমি বললাম, “বহু নামাজি আছে, নামাজ পড়তে পড়তে কপালে … কিন্তু দেখবেন তার বৌ-মেয়ে …”

এ ধরনের কথা দ্বারা আমার ইগো বুষ্ট হয়। অন্যের নেক আমলের প্রতি আমার ঘৃনাটা বাহির হয়ে আসে। কিন্তু এতে সমাজের কল্যাণ নেই।
এই ধরণের কথার দ্বারা গুণাহকে নয় বরং ছালাতকে আক্রমণ করা হয়।

ভালো আর মন্দকে আমি যখন সাংঘর্ষিক করবো তখন মানুষ ভালোটা ছেড়ে দেবে এই ধারনা করে যে, মন্দে থাকলে ভালো কাজ করা যাবে না।

নামাজ পড়াটা ঐচ্ছিক না। পড়তে হবে। সারাদিন পাপের মাঝে ডুবে থাকলেও ছালাতের সময় হলে ছালাত পড়তে হবে। গুনাহগারের জন্য নামাজ মাফ হয়না।

ঠিক তেমনি সারা দেশ গুণাহে ডুবে গেলেও সরিষা সমপরিমাণ কল্যাণ যদি বাকী থাকে তাহলে আমাদেরকে সেই কল্যাণ টিকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে। অন্য গুণাহের কারণে আমি এই কল্যাণকে আক্রমণ করতে পারিনা। এটা অনেক বড় ভয়াবহ ভুল।

পুরো দেশ গুণাহে ডুবে গেলেও যদি রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম থাকে তবুও এর কল্যাণ আছে।

– আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রাজ্জাক

আজ রোববার ১০ মহররম পবিত্র আশুরার দিন
                                  

আজ রোববার ১০ মহররম। পবিত্র আশুরার দিন। ‘আশুরা’ আরবি শব্দ আশারা থেকে। আশারা অর্থ দশ আর আশুরা অর্থ দশম। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় মহররম মাসের দশম দিবসকে আশুরা বলা হয়। ১০ মহররম বিশ্বের মুসলমানদের কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। মহান আল্লাহ এই দিনে পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনেই পৃথিবী ধ্বংস হবে। আশুরার দিন আল্লাহ পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম আ:-কে সৃষ্টি করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন নবীর জীবনে এ দিনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। ৬১ হিজরির ১০ মহররমের এ দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর নাতি ও মা ফাতেমার সন্তান ইমাম হোসাইন রা: ও তার পরিবারের সদস্যরা কারবালার ময়দানে শহীদ হন। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে থেকে নির্ভীকভাবে শাহাদতের অমীয় সুধা পান করে পৃথিবীর বুকে চির অমর হয়ে আছেন হজরত ইমাম হোসাইন রা:। সেজন্য মুসলিম উম্মাহর জন্য এ দিনটি একইসাথে শোকাবহ ও তাৎপর্যময়। 

বাংলাদেশসহ মুসলিম বিশ্বে যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে। নফল রোজা, নামাজ, জিকির-আজকারের মাধ্যমে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা দিনটি পালন করবেন। হজরত মুহাম্মদ সা: আশুরার দিনসহ দু’দিন রোজা রাখার কথা বলেছেন। দেশব্যাপী বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন এ দিন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। পুরান ঢাকার হোসেনী দালানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের উদ্যোগে অন্যবার তাজিয়া মিছিল বের করা হলেও এবার করোনা মহামারীর কারণে তাজিয়া মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আশুরা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি রয়েছে। পত্রিকা অফিসগুলোতেও ছুটি থাকবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন প্রিন্টমিডিয়া বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়াও বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে। 

পবিত্র আশুরার দিনে মহান আল্লাহ পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। এই দিন হজরত নূহ আ:-এর আমলের প্লাবন শেষ হয় এবং নূহ আ:-এর জাহাজ তুরস্কের ‘জুদি’ নামক পর্বতে গিয়ে থামে। আশুরার দিন হজরত ইব্রাহিম আ: জালিম বাদশাহ নমরুদের অগ্নিকুণ্ডু থেকে নিরাপদে মুক্তি পান। এই দিন হজরত ইউনুস আ: মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। আশুরার দিনে হজরত আইয়ুব আ: দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্তি পান। এই দিন আল্লাহ জালিম বাদশা ফিরাউনকে দলবলসহ পানিতে ডুবিয়ে মেরেছেন এবং মুসা আ: ও তাঁর অনুসারীরা ফেরাউনের হাত থেকে নাজাত লাভ করেন। আশুরার দিন হজরত সুলাইমান আ: তাঁর হারানো রাজত্ব ফিরে পান। এই দিনে হজরত ইয়াকুব আ: হারানো ছেলে হজরত ইউসুফ আ:-কে ফিরে পেয়েছিলেন। এই দিনে হজরত ঈসা আ: জন্মগ্রহণ করেন এবং এই দিনেই তাঁকে দুনিয়া থেকে আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়।
দশই মহররম কারবালা প্রান্তরে বিশ্ব নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর দৌহিত্র হোসাইন রা:-এর শাহাদতের ঘটনা মুসলিম জাতির ইতিহাসে একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনা। এই ঘটনার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। মুসলিম উম্মাহ অত্যন্ত ব্যথিত হৃদয়ে কারবালার ঘটনা স্মরণ করে আবেগ আপ্লুত হয়। হজরত হোসাইন রা: অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গিয়ে সেদিন কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজন নিয়ে শাহাদতবরণ করেছিলেন। রাসূলের সা: প্রতিষ্ঠিত ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং তাঁর সাহাবিদের প্রবর্তিত শাসনব্যবস্থা খেলাফত অক্ষুণœ রাখার জন্য তিনি শাহাদতবরণ করেন। ইসলামী খেলাফতের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস না করার কারণেই কারবালার ঘটনা ঘটেছিল। কারবালার ঘটনা আমাদেরকে অন্যায় ও অসত্যের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম করার শিক্ষা দেয়। 

ইবাদত : ইসলামের প্রাথমিক যুগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল। দ্বিতীয় হিজরি সনে রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার বিধান নাজিল হলে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়। আশুরা দিবসে রোজা পালনের জন্য রাসুলুল্লাহ সা: নির্দেশ দিয়েছেন। সর্বাধিক হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা: বলেছেন, রমজানের পর সর্বাধিক উত্তম রোজা হলো মহররম মাসের রোজা আর ফরজের পরে সর্বাধিক উত্তম নামাজ হলো তাহাজ্জুদের নামাজ। (সহিহ মুসলিম ১/৩৫৮)। হাদিসের প্রায় সব কিতাবে মহররম মাসের ফজিলত এবং আশুরার রোজা সম্পর্কে একাধিক হাদিস রয়েছে। রাসুলুল্লাহ সা: এরশাদ করেন, আশুরার দিন রোজা রাখার কারণে আল্লাহ তায়ালা বান্দার বিগত এক বছরের গুনাহগুলো মাফ করে দেন। (সহিহ মুসলিম ১১৬২)। প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি রহ: হজরত ইবনে আব্বাস রা:-এর বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, যাতে রাসুলুল্লাহ সা: এরশাদ করেন, তোমরা আশুরার দিন রোজা রাখ। তবে এতে যেন ইহুদিদের সাথে সামঞ্জস্য না হয়ে যায় সেজন্য এর সাথে মিলিয়ে হয় আগের দিন কিংবা পরের দিনসহ রোজা পালন কর। (তিরমিজি ৭৫৫)।

নামাজ আদায় করুন মনোযোগী হয়ে
                                  

চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক আমাদের সাথে নামাজের মাঝে ঘটে যাওয়া রোজ কিছু ঘটনার সমস্যার সমাধান। আমরা নামাজ পড়তে গেলেই অনেক সময় আমাদের মনে ঘর-সংসারের চিন্তা এসে উপস্থিত হয়,ছেলেমেয়ের চিন্তা এসে যায়, অনেক আজেবাজে কল্পনাও এসে যায়। এইজন্য নামাযে মনোযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। নামাযে মনোযোগ সৃষ্টির করার জন্য কিছু বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন :

১. নামাযে সূরা / কিরাত, দোয়া, দরুদ ইত্যাদি যা যা পড়া হয় তার প্রত্যেকটা শব্দে শব্দে খেয়াল করে পড়া। বেখায়ালির সাথে মুখস্থ থেকে না পড়া।

২. নামাযের প্রত্যেক রুকন ও কাজ মাসাআলা অনুযায়ী হচ্ছে কি না তার প্রতি খুব খেয়াল রেখে আদায় করা।

৩. আমি আল্লাহর সামনে দাড়িয়েছি, আল্লাহ্ আমার নামাযের সব কিছু দেখছেন। কিয়ামতের দিন এই নামাযের সব কিছুর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব তার কাছে দিতে হবে। এই ধারণা জাগ্রত রাখা। তাছাড়া স্বরণে রাখতে হবে সামনে আমার আল্লাহ্ আছেন। পিছনে আজরাইল। আমি দাড়িয়ে আছি পুলসিরাত এর উপর। ডান পাশে জান্নাত আর বামে জাহান্নাম। আর অবশ্যই এটা স্বরনে রাখতে হবে, হতে পারে এটাই আমার জীবনের শেষ নামাজ। আর কখনোই আমি নামাযের সুযোগ নাও পেতে পারি। অতঃপর বিনয় ও নম্রতার সাথে ধীরস্থির ভাবে মনোযোগের সহীত নামায শেষ করা। আল্লাহ্ আমাদেরকে এভাবে নামাযের জন্য কবুল করে নিন। (আমিন)

আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয়
                                  

আজ হজ। এ উপলক্ষ্যে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী তার ফেসবুক পেজে আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয় শীর্ষক একটি পোস্ট দিয়েছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো।

এটি বছরের শ্রেষ্ঠতম দিন।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এদিবসের শপথ করেছেন।
এদিনেই বিশ্বনবী (ﷺ‬) আরাফার ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ দিয়েছিলেন।
আরাফার দিনই হচ্ছে হজ্জের দিন।
এমহিমান্বিত দিনেই ওহি নাযিল করে ইসলামকে পরিপূর্ণ ও পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আরাফার রোজা পূর্বাপর দুই বছরের পাপ মোচনকারী।
আরাফার দিবসের দোয়া হল শ্রেষ্ঠ দোয়া।
এদিনে এতবেশী সংখ্যক বান্দা বান্দীকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন, যা বছরের অন্য কোনদিন এমনটি দেন না।

এদিনে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তার বান্দা বান্দীদের প্রতি রহমত ও ক্ষমার এ দৃশ্য দেখে শয়তান এতোটাই ক্রোধান্বিত, লান্ছিত ও অপমানিত বোধ করতে থাকে যা আর অন্য কখনো হয় না।

করণীয় :
নফল রোজা, বেশী বেশী তাকবির পাঠ ও দোয়া করা।
আরাফার দিনের বিশেষ দোয়া, যেটা বিশ্বনবী (ﷺ‬) সহ সকল নবিরা পড়তেন-
‎لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর"

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক এবং একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

আজ পবিত্র হজ
                                  

আজ ৯ জিলহজ বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হাজীদের ‘উকুফে আরাফা’ বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন। বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলনের দিন। যদিও এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মাত্র ১০ হাজার লোকের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজ পালিত হচ্ছে; যেখানে প্রতি বছর বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশের ২৫ লাখের হাজীর কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাশারিকালাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠত মক্কার আরাফার আকাশ বাতাস।

এক স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টি হবে আজ মক্কার অদূরে আরাফার ময়দানে। সবার পরনে সাদা দুই খণ্ড বস্ত্র। সবার দীন বেশ। দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানাবেন সমবেত মুসলমানেরা। একে-অপরের সাথে পরিচিত হবেন, কুশল বিনিময় করবেন। সব হজযাত্রী ও বিশ্ব মুসলিমের জন্য প্রদান করা হবে খুতবা। যাতে থাকবে মুসলিম উম্মাহর জন্য দিকনির্দেশনা। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যেরও অবতারণা হবে আজ এই ময়দানে।

আজ জোহরের নামাজের ওয়াক্তের আগেই এ বছরের জন্য মনোনীত হজযাত্রীদের সমবেত করা হবে মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে। ১৪০০ বছর আগে এই ময়দানেই রাসূল সা: লক্ষাধিক সাহাবিকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ময়দানেই ইসলামের পরিপূর্ণতার ঘোষণা দিয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল। 

হাজীরা আজ আরাফাতের প্রান্তরে অবস্থান করে সেখানে অবস্থিত মসজিদে নামিরাহ থেকে প্রদত্ত খুতবা শুনবেন এবং একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ একই ইমামের পেছনে আদায় করবেন। সূর্যাস্তের পর ময়দান ত্যাগ করবেন। এ বছর হজের খুতবা দেবেন প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞ শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়া (৮৯)। 
এর আগে গতকাল হজযাত্রীদের বিশেষ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাওয়াফে কুদুম করানো হয়। এরপরই মিনার তাঁবুতে নিয়ে যাওয়া হয়। মিনা থেকেই আজ সকালে হাজীদের আরাফাতের ময়দানে নিয়ে যাওয়া হবে। 

৮ জিলহজ থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে হজের আরো অনেক করণীয় থাকলেও আজ ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়াদানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। সৌদি আরবের হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী হজের কার্যাদি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু হয়েছে গতকাল ৮ জিলহজ বুধবার মিনার তাঁবুতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে। মিনায় হাজীদের জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু রয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের থাকার জন্য আলাদা তাঁবু রাখা হয়েছে পাশাপাশি। গতকাল মিনায় তালবিয়া, জিকির, নফল নামাজ, হজের মাসলা-মাসায়েল আলোচনার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন হাজীরা। আজ ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের পর থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে হাজীদের রওনা হওয়ার নিয়ম। অন্যান্য বছর ভিড় এড়াতে হাজীরা আগের রাতেই আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হতেন এবং সেখানে গিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থা নেয়া শুরু করতেন। বাসে, হেঁটে হাজীরা আরাফায় পৌঁছান। বাকিরা হজের দিন সকালে মিনা থেকে সরাসরি আরাফার ময়দানে চলে যেতেন। এবার স্বল্পসংখ্যক হাজী হওয়ায় আজ সকালেই সবাইকে বিশেষ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে আরাফার ময়দানে নিয়ে যাওয়া হবে। সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যস্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। কেউ এই সময়ের মধ্যে এই ময়দানে অবস্থান করতে না পারলে হজ আদায় হবে না। 
এই ময়দানে জোহরের সময় পরপর জোহর ও আসরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবেন হাজীরা। মুসাফির হওয়ার কারণে নামাজ কসর করবেন (চার রাকাতের স্থলে দুই রাকাত)। নামাজের আগেই মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেবেন নির্ধারিত খতিব। এর আগে পরে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে পুরো ময়দান। আমির-ফকির, ধনী-গরিব, সাদা-কালোর ভেদাভেদ থাকবে না সেখানে। সবার পরনে একই ধরনের সেলাইবিহীন কাপড়, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তারই কাছে গুনাহ মাফ ও রহমত প্রাপ্তির আকুতি।

সূর্যাস্তের সাথে সাথেই আবার মিনায় ফেরার পথে মুজদালিফা নামক স্থানে রাতে অবস্থান নেবেন হাজীরা। ওই স্থানে রাতে অবস্থান করবেন খোলা আকাশের নিচে। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ এক সাথে আদায় করবেন। মিনায় জামারাতে শয়তানের প্রতিকৃতিতে নিক্ষেপের জন্য এখান থেকেই কঙ্কর সংগ্রহ করার নিয়ম। তবে এবার আগেই হাজীদের জীবাণুমুক্ত পাথর সরবরাহ করা হয়েছে। 

রাতে সেখানে অবস্থানের পর কাল ১০ জিলহজ শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে সূর্যাস্তের আগেই মিনার দিকে রওনা হবেন। কালই সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মিনায় গিয়ে জামারাতে বড় শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং কোরবানি করবেন। মিনায় কোরবানি করার পর হাজীরা মাথা মুণ্ডন করে অথবা চুল ছোট করে ইহরাম ভেঙে ফেলবেন। এরপর তাওয়াফে জিয়ারাহ করার জন্য মক্কায় যাবেন। তাওয়াফ করে সেখানে হেরেম শরিফ সংলগ্ন সাফা-মারওয়া নামক পাহাড়দ্বয়ের মাঝে দৌঁড়াবেন (সায়ি করবেন)। জিলহজের ১১, ১২ জিলহজ মিনার তাঁবুতে অবস্থান করেই জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করার নিয়ম। ১২ জিলহজ হজের আনুষ্ঠানিক কার্যাদির সমাপ্তি ঘটবে। কেউ ১২ তারিখ মীনা ত্যাগ না করলে ১৩ তারিখও তাকে জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। মিনার তাঁবুতে অবস্থান করেই পাঁচ দিনের হজের কার্যাদি সম্পন্ন করবেন হাজীরা। 

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা একজন হাজীর জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। হাজীরা এই দিনটিসহ পুরো হজকার্য সম্পাদনের জন্য আজীবন স্বপ্ন লালন করেন। 
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সা: বলেছেন, এমন কোনো দিবস নেই যেখানে আল্লাহতায়ালা আরাফা দিবস থেকে বেশি বান্দাহকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং আল্লাহ নিশ্চয় নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেস্তাদের সাথে গর্ব করেন, বলেন, ওরা কী চায়? (মুসলিম)। আরেক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা আরাফায় অবস্থানরতদের নিয়ে আকাশবাসীদের সাথে গর্ব করেন। তিনি বলেন, আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখ, তারা আমার কাছে এসেছে আলুথালু ও ধুলায় আবৃত অবস্থায়। (মুসনাদে আহমাদ)

আরাফাতের ময়দান দোয়া কবুলের জায়গা। এখানেই আদি পিতা আদম ও হাওয়া আ:-এর পুনর্মিলন হয়েছিল এবং তাদের দোয়া কবুল হয়েছিল মর্মে বর্ণনা পাওয়া যায়। এই ময়দান রাসূল সা:-এর বিদায় হজের ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত। সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজীরা গ্রুপে এবং আলাদা আলাদাভাবে দোয়া করতে থাকেন। দুই হাত উঁচু করে অঝোর ধারায় কান্নাকাটি করেন হাজীরা। গুনাহ মাফের আকুতি ছাড়াও জীবনের সব চাওয়াই আল্লাহর দরবারে পেশ করেন। সূর্যাস্তের পর আরাফার ময়দান ত্যাগের সময় নিজেকে নির্ভার-নিষ্পাপ জ্ঞান করে মুজদালিফার দিকে এগোতে থাকেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ছুটে যাওয়া মুসলমানরা। 

হজরত আদম আ: কর্তৃক নির্মিত পৃথিবীর প্রথম ঘর কাবাকে কেন্দ্র করেই মূলত হজের কার্যাদি। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিম আ: ও তার ছেলে ইসমাঈল আ: এই কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন। হজের বেশির ভাগ কাজই হজরত ইব্রাহিম আ:, তার স্ত্রী হাজেরা এবং ছেলে ইসমাঈল আ:-এর সম্পাদিত কাজের সাথে সম্পর্কিত। মুসলমানরা পশু কোরবানি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে ইব্রাহিম আ: কর্তৃক স্বীয় শিশুপুত্র ইসমাঈলকে কোরবানি করতে যাওয়ার মহান ত্যাগের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। হজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম এবং সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

হিজরি মাস ঘটনায় সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের এক দিনের পার্থক্য রয়েছে। এই হিসেবে আজ সৌদি আরবে ৯ জিলহজ অর্থাৎ হজের দিন হলেও বাংলাদেশ আজ ৮ জিলহজ। বাংলাদেশে আগামী শনিবার ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। পশু কোরবানি করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত গিলাফ লাগছে কাল
                                  

বার্ষিক নিয়ম মেনে প্রতি বছর হজের মৌসুমে কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত কুরআনিক ক্যালিগ্রাফির নতুন কালো গিলাফ পরানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৩০ জুলাই বা আজ বৃহস্পতিবার কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে। ২৪ জুলাই কাবা শরিফের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রতি বছরই নির্দিষ্ট সংখ্যক শিল্পী বছরব্যাপী একান্ত শ্রম ও প্রচেষ্টায় এ নতুন গিলাফ তৈরি করে থাকেন। শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ১৬০ জন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদ পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানোর কাজে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতি বছর ৯ জিলহজ এ প্রক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। 

আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের নতুন গিলাফ ইতোমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে। কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি এ গিলাফ গ্রহণ করেন।

||সৌদি গেজেট

বাংলাসহ ১০ ভাষায় হজের খুতবা
                                  

চলতি বছরে হজের খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ১০টি ভাষায় শোনানো হবে বলে জানিয়েছেন মক্কার ও মসজিদ নববীর ইমাম ড. আব্দুর রহমান সুদাইস।

ইমাম রহমান সুদাইসের করা এক টুইটের বিরাত দিয়ে অনলাইন আরব নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আরাফাত ময়দান থেকে খুতবা যে ১০ ভাষায় সরাসরি শোনানো হবে- ইংরেজি, মালে, উর্দু, ফার্সি, ফরাসি, চীনা, তুর্কি, রাশিয়ান, হাউসা এবং বাংলা।

করোনার কারণে এবার মাত্র এক হাজার যাত্রীকে হজ করার অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক আছেন, তবে বেশি সংক্ষ্যক হবে সৌদি আরবের নাগরিক। সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশি ও নাগরিক আছে তবে এর সংখ্যা কোন দেশের কত তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, সৌদি আরবের ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় দাওয়াহ ও গাইডেন্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মন্ত্রী, আলেম, মুফতি, নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী সমাজের প্রধানসহ ১২০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবারের হজ নিয়ে বার্তা ও বক্তব্য দিয়েছেন। যেখানে ২০২০ সালের হজ সীমিত সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করার সৌদি বাদশার প্রশংসা করেছে।

হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতি বছর আরবি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফাত ময়দানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। এই আরাফাতের ময়দানেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

পবিত্র হজ পালন করতে এবার হজযাত্রীদের প্রথম দলটি মক্কায় পৌঁছেছেন। হজ করতে মক্কা পৌঁছেছেন আমিরাতের আবদুল্লাহ আল কাথিরি। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার ‘সীমিত আকারে’ হজ্ব পালনের পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব।

এক ঘোষণায় সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটিতে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে এক হাজারের মতো লোক এবারের হজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অপরদিকে, কঠিন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মক্কায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উন্মুক্ত স্থানে নয়, মসজিদে হবে ঈদুল আজহার জামাত
                                  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ঈদুল আজহার নামাজের জামাতও ঈদগাহ/উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে মসজিদে আদায় করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম।


সভায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


এ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব রেখে নামাজ আদায়, নামাজ শেষে কোলাকুলি এবং হাত না মেলাতে বলা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আনিছুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, তথ্য, জনপ্রশাসন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর সংস্থার প্রতিনিধিরা এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মধ্যে আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা নুরুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আলিম রিজভী, মুফতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমুখ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত প্রদান করেন।



জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

 


   Page 1 of 43
     ইসলামী জগত
৩০ অক্টোবর শুক্রবার পালিত হবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.)
.............................................................................................
ইসলামে ঐক্যের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
.............................................................................................
সৌদিআরবের পবিত্র মদিনা মনোয়ারা অবশেষে খুলে দেওয়া হচ্ছে
.............................................................................................
ধর্ষণের সমাধানে যা বললেন মিজানুর রহমান আজহারী
.............................................................................................
ইসলাম সত্য সুন্দর ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা
.............................................................................................
অবশেষে আজ থেকে শুরু ওমরা পালন
.............................................................................................
সুখী জীবনের পথে ইসলামী পাঁচটি কার্যকরী টিপস!
.............................................................................................
ফজিলত ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জুমার দিন
.............................................................................................
রাষ্ট্র ধর্ম ইসলাম কেনো থাকা দরকার!
.............................................................................................
আজ রোববার ১০ মহররম পবিত্র আশুরার দিন
.............................................................................................
নামাজ আদায় করুন মনোযোগী হয়ে
.............................................................................................
আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয়
.............................................................................................
আজ পবিত্র হজ
.............................................................................................
কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত গিলাফ লাগছে কাল
.............................................................................................
বাংলাসহ ১০ ভাষায় হজের খুতবা
.............................................................................................
উন্মুক্ত স্থানে নয়, মসজিদে হবে ঈদুল আজহার জামাত
.............................................................................................
হাজার মাসের চেয়ে মূল্যবান লাইলাতুল কদর আজ
.............................................................................................
‘সরকারি যাকাত ফান্ডে’ যাকাত প্রদানের আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের
.............................................................................................
টিভি চ্যানেলে তারাবি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ ইফার
.............................................................................................
পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, শনিবার থেকে রোজা শুরু
.............................................................................................
আল্লামা আহমদ শফী হাসপাতালে
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত আজ
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
মসজিদে আযান, ইকামত, জামাত ও জুমা অব্যাহত থাকবে: ইফা
.............................................................................................
আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সব শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বিবৃতি
.............................................................................................
করোনা মোকাবেলায় আল্লামা শফীর পাঁচ পরামর্শ
.............................................................................................
৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
করোনার কারণে মসজিদ বন্ধ হবে না
.............................................................................................
জুমার নামাজ: যা করতে বললেন আজহারী
.............................................................................................
রাসূল (সা.) রোগ সংক্রমণ ও মহামারী নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন
.............................................................................................
মানবজাতির প্রতি কোরআনের উপদেশ
.............................................................................................
পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া ও মসজিদে কালেকশন প্রসঙ্গ
.............................................................................................
নবীজী রজব মাসে যে দোয়া বেশি পড়তেন
.............................................................................................
২২ মার্চ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
ইসলাম সমাজে শান্তি বজায় রাখতে যেসব স্বভাব ত্যাগ করতে বলে
.............................................................................................
কোরআনের অমূল্য উপদেশ মানবজাতির প্রতি
.............................................................................................
সিজদার যত উপকারিতা
.............................................................................................
জুমার দিনের আদব-শিষ্টাচার
.............................................................................................
কানটার জবাব দিবেন একাধিক মসজিদের আযান শুনলে?
.............................................................................................
জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর দেহ-অঙ্গ দান প্রসঙ্গে ইসলাম যা বলে
.............................................................................................
অত্যাচারীদের পরিণাম যেমন হবে
.............................................................................................
সুখী ও ভালোবাসাময় দাম্পত্য জীবনের কিছু পাথেয়
.............................................................................................
দ্রুত বিয়ে করতে কার্যকরী ৭ আমল
.............................................................................................
পাখিদের প্রতি নবীজীর ভালোবাসা
.............................................................................................
মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে রনি দাসের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
মসজিদ আবাদ হোক শিশুদের অংশগ্রহণে
.............................................................................................
কোরআন শরিফের কপি বেশ পুরোনো হলে যা করতে হবে
.............................................................................................
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলাম
.............................................................................................
আল্লাহ অঙ্গীকার ভঙ্গকারীকে কঠিন শাস্তি দেবেন
.............................................................................................
যেভাবে কাজা নামাজ আদায় করতে হয়
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
সম্পাদক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমেদ
নির্বাহী সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আকরাম খাঁন
সহঃ সম্পাদক: হোসাইন আহমদ চৌধুরী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD