১৫ জিলহজ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ৬ আগস্ট , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলামী জগত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয়

আজ হজ। এ উপলক্ষ্যে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী তার ফেসবুক পেজে আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয় শীর্ষক একটি পোস্ট দিয়েছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো।

এটি বছরের শ্রেষ্ঠতম দিন।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এদিবসের শপথ করেছেন।
এদিনেই বিশ্বনবী (ﷺ‬) আরাফার ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ দিয়েছিলেন।
আরাফার দিনই হচ্ছে হজ্জের দিন।
এমহিমান্বিত দিনেই ওহি নাযিল করে ইসলামকে পরিপূর্ণ ও পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আরাফার রোজা পূর্বাপর দুই বছরের পাপ মোচনকারী।
আরাফার দিবসের দোয়া হল শ্রেষ্ঠ দোয়া।
এদিনে এতবেশী সংখ্যক বান্দা বান্দীকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন, যা বছরের অন্য কোনদিন এমনটি দেন না।

এদিনে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তার বান্দা বান্দীদের প্রতি রহমত ও ক্ষমার এ দৃশ্য দেখে শয়তান এতোটাই ক্রোধান্বিত, লান্ছিত ও অপমানিত বোধ করতে থাকে যা আর অন্য কখনো হয় না।

করণীয় :
নফল রোজা, বেশী বেশী তাকবির পাঠ ও দোয়া করা।
আরাফার দিনের বিশেষ দোয়া, যেটা বিশ্বনবী (ﷺ‬) সহ সকল নবিরা পড়তেন-
‎لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর"

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক এবং একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয়
                                  

আজ হজ। এ উপলক্ষ্যে প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী তার ফেসবুক পেজে আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয় শীর্ষক একটি পোস্ট দিয়েছেন। এখানে তা তুলে ধরা হলো।

এটি বছরের শ্রেষ্ঠতম দিন।
আল্লাহ তায়ালা কুরআনে এদিবসের শপথ করেছেন।
এদিনেই বিশ্বনবী (ﷺ‬) আরাফার ময়দানে ঐতিহাসিক বিদায় হজ্জের ভাষণ দিয়েছিলেন।
আরাফার দিনই হচ্ছে হজ্জের দিন।
এমহিমান্বিত দিনেই ওহি নাযিল করে ইসলামকে পরিপূর্ণ ও পূর্নাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
আরাফার রোজা পূর্বাপর দুই বছরের পাপ মোচনকারী।
আরাফার দিবসের দোয়া হল শ্রেষ্ঠ দোয়া।
এদিনে এতবেশী সংখ্যক বান্দা বান্দীকে আল্লাহ তায়ালা জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির ঘোষণা দেন, যা বছরের অন্য কোনদিন এমনটি দেন না।

এদিনে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে তার বান্দা বান্দীদের প্রতি রহমত ও ক্ষমার এ দৃশ্য দেখে শয়তান এতোটাই ক্রোধান্বিত, লান্ছিত ও অপমানিত বোধ করতে থাকে যা আর অন্য কখনো হয় না।

করণীয় :
নফল রোজা, বেশী বেশী তাকবির পাঠ ও দোয়া করা।
আরাফার দিনের বিশেষ দোয়া, যেটা বিশ্বনবী (ﷺ‬) সহ সকল নবিরা পড়তেন-
‎لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“লা ইলাহা ইল্লালাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর"

অর্থ : আল্লাহ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক এবং একক, তাঁর কোনো শরীক নেই; রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর; আর তিনি সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

আজ পবিত্র হজ
                                  

আজ ৯ জিলহজ বৃহস্পতিবার পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। হাজীদের ‘উকুফে আরাফা’ বা আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের দিন। বিশ্ব মুসলিমের মহাসম্মেলনের দিন। যদিও এ বছর করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মাত্র ১০ হাজার লোকের অংশগ্রহণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হজ পালিত হচ্ছে; যেখানে প্রতি বছর বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশের ২৫ লাখের হাজীর কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাশারিকালাকা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয়ে উঠত মক্কার আরাফার আকাশ বাতাস।

এক স্বর্গীয় আবহ সৃষ্টি হবে আজ মক্কার অদূরে আরাফার ময়দানে। সবার পরনে সাদা দুই খণ্ড বস্ত্র। সবার দীন বেশ। দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, রহমত প্রাপ্তি ও নিজের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে অশ্রুসিক্ত ফরিয়াদ জানাবেন সমবেত মুসলমানেরা। একে-অপরের সাথে পরিচিত হবেন, কুশল বিনিময় করবেন। সব হজযাত্রী ও বিশ্ব মুসলিমের জন্য প্রদান করা হবে খুতবা। যাতে থাকবে মুসলিম উম্মাহর জন্য দিকনির্দেশনা। বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এক অনুপম দৃশ্যেরও অবতারণা হবে আজ এই ময়দানে।

আজ জোহরের নামাজের ওয়াক্তের আগেই এ বছরের জন্য মনোনীত হজযাত্রীদের সমবেত করা হবে মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১০ কিলোমিটার বিস্তৃত ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে। ১৪০০ বছর আগে এই ময়দানেই রাসূল সা: লক্ষাধিক সাহাবিকে সামনে রেখে ঐতিহাসিক বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। এই ময়দানেই ইসলামের পরিপূর্ণতার ঘোষণা দিয়ে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়েছিল। 

হাজীরা আজ আরাফাতের প্রান্তরে অবস্থান করে সেখানে অবস্থিত মসজিদে নামিরাহ থেকে প্রদত্ত খুতবা শুনবেন এবং একসাথে জোহর ও আসরের নামাজ একই ইমামের পেছনে আদায় করবেন। সূর্যাস্তের পর ময়দান ত্যাগ করবেন। এ বছর হজের খুতবা দেবেন প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞ শেখ আবদুল্লাহ বিন সুলাইমান আল মানিয়া (৮৯)। 
এর আগে গতকাল হজযাত্রীদের বিশেষ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাওয়াফে কুদুম করানো হয়। এরপরই মিনার তাঁবুতে নিয়ে যাওয়া হয়। মিনা থেকেই আজ সকালে হাজীদের আরাফাতের ময়দানে নিয়ে যাওয়া হবে। 

৮ জিলহজ থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে হজের আরো অনেক করণীয় থাকলেও আজ ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়াদানে অবস্থানের দিনকেই হজের দিন বলা হয়। সৌদি আরবের হিজরি মাস গণনা অনুযায়ী হজের কার্যাদি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু হয়েছে গতকাল ৮ জিলহজ বুধবার মিনার তাঁবুতে অবস্থানের মধ্য দিয়ে। মিনায় হাজীদের জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত তাঁবু রয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের থাকার জন্য আলাদা তাঁবু রাখা হয়েছে পাশাপাশি। গতকাল মিনায় তালবিয়া, জিকির, নফল নামাজ, হজের মাসলা-মাসায়েল আলোচনার মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করেন হাজীরা। আজ ফজরের নামাজের পর সূর্যোদয়ের পর থেকে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশে হাজীদের রওনা হওয়ার নিয়ম। অন্যান্য বছর ভিড় এড়াতে হাজীরা আগের রাতেই আরাফাতের উদ্দেশে রওনা হতেন এবং সেখানে গিয়ে অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থা নেয়া শুরু করতেন। বাসে, হেঁটে হাজীরা আরাফায় পৌঁছান। বাকিরা হজের দিন সকালে মিনা থেকে সরাসরি আরাফার ময়দানে চলে যেতেন। এবার স্বল্পসংখ্যক হাজী হওয়ায় আজ সকালেই সবাইকে বিশেষ ব্যবস্থায় স্বাস্থ্যকর্মীদের তত্ত্বাবধানে আরাফার ময়দানে নিয়ে যাওয়া হবে। সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যস্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা হজের অন্যতম ফরজ। কেউ এই সময়ের মধ্যে এই ময়দানে অবস্থান করতে না পারলে হজ আদায় হবে না। 
এই ময়দানে জোহরের সময় পরপর জোহর ও আসরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করবেন হাজীরা। মুসাফির হওয়ার কারণে নামাজ কসর করবেন (চার রাকাতের স্থলে দুই রাকাত)। নামাজের আগেই মসজিদে নামিরাহ থেকে খুতবা দেবেন নির্ধারিত খতিব। এর আগে পরে হজযাত্রীদের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে পুরো ময়দান। আমির-ফকির, ধনী-গরিব, সাদা-কালোর ভেদাভেদ থাকবে না সেখানে। সবার পরনে একই ধরনের সেলাইবিহীন কাপড়, আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা, আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ এবং তারই কাছে গুনাহ মাফ ও রহমত প্রাপ্তির আকুতি।

সূর্যাস্তের সাথে সাথেই আবার মিনায় ফেরার পথে মুজদালিফা নামক স্থানে রাতে অবস্থান নেবেন হাজীরা। ওই স্থানে রাতে অবস্থান করবেন খোলা আকাশের নিচে। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ এক সাথে আদায় করবেন। মিনায় জামারাতে শয়তানের প্রতিকৃতিতে নিক্ষেপের জন্য এখান থেকেই কঙ্কর সংগ্রহ করার নিয়ম। তবে এবার আগেই হাজীদের জীবাণুমুক্ত পাথর সরবরাহ করা হয়েছে। 

রাতে সেখানে অবস্থানের পর কাল ১০ জিলহজ শুক্রবার ফজরের নামাজ শেষে সূর্যাস্তের আগেই মিনার দিকে রওনা হবেন। কালই সৌদি আরবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। মিনায় গিয়ে জামারাতে বড় শয়তানকে কঙ্কর নিক্ষেপ এবং কোরবানি করবেন। মিনায় কোরবানি করার পর হাজীরা মাথা মুণ্ডন করে অথবা চুল ছোট করে ইহরাম ভেঙে ফেলবেন। এরপর তাওয়াফে জিয়ারাহ করার জন্য মক্কায় যাবেন। তাওয়াফ করে সেখানে হেরেম শরিফ সংলগ্ন সাফা-মারওয়া নামক পাহাড়দ্বয়ের মাঝে দৌঁড়াবেন (সায়ি করবেন)। জিলহজের ১১, ১২ জিলহজ মিনার তাঁবুতে অবস্থান করেই জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করার নিয়ম। ১২ জিলহজ হজের আনুষ্ঠানিক কার্যাদির সমাপ্তি ঘটবে। কেউ ১২ তারিখ মীনা ত্যাগ না করলে ১৩ তারিখও তাকে জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করতে হবে। মিনার তাঁবুতে অবস্থান করেই পাঁচ দিনের হজের কার্যাদি সম্পন্ন করবেন হাজীরা। 

আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা একজন হাজীর জন্য পরম সৌভাগ্যের বিষয়। হাজীরা এই দিনটিসহ পুরো হজকার্য সম্পাদনের জন্য আজীবন স্বপ্ন লালন করেন। 
হাদিস শরিফে এসেছে, রাসূল সা: বলেছেন, এমন কোনো দিবস নেই যেখানে আল্লাহতায়ালা আরাফা দিবস থেকে বেশি বান্দাহকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন এবং আল্লাহ নিশ্চয় নিকটবর্তী হন ও তাদের নিয়ে ফেরেস্তাদের সাথে গর্ব করেন, বলেন, ওরা কী চায়? (মুসলিম)। আরেক হাদিসে এসেছে, আল্লাহ তায়ালা আরাফায় অবস্থানরতদের নিয়ে আকাশবাসীদের সাথে গর্ব করেন। তিনি বলেন, আমার বান্দাদের দিকে তাকিয়ে দেখ, তারা আমার কাছে এসেছে আলুথালু ও ধুলায় আবৃত অবস্থায়। (মুসনাদে আহমাদ)

আরাফাতের ময়দান দোয়া কবুলের জায়গা। এখানেই আদি পিতা আদম ও হাওয়া আ:-এর পুনর্মিলন হয়েছিল এবং তাদের দোয়া কবুল হয়েছিল মর্মে বর্ণনা পাওয়া যায়। এই ময়দান রাসূল সা:-এর বিদায় হজের ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত। সূর্য হেলে পড়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজীরা গ্রুপে এবং আলাদা আলাদাভাবে দোয়া করতে থাকেন। দুই হাত উঁচু করে অঝোর ধারায় কান্নাকাটি করেন হাজীরা। গুনাহ মাফের আকুতি ছাড়াও জীবনের সব চাওয়াই আল্লাহর দরবারে পেশ করেন। সূর্যাস্তের পর আরাফার ময়দান ত্যাগের সময় নিজেকে নির্ভার-নিষ্পাপ জ্ঞান করে মুজদালিফার দিকে এগোতে থাকেন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ছুটে যাওয়া মুসলমানরা। 

হজরত আদম আ: কর্তৃক নির্মিত পৃথিবীর প্রথম ঘর কাবাকে কেন্দ্র করেই মূলত হজের কার্যাদি। আজ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মুসলিম মিল্লাতের পিতা হজরত ইব্রাহিম আ: ও তার ছেলে ইসমাঈল আ: এই কাবা ঘর পুনর্নির্মাণ করেন। হজের বেশির ভাগ কাজই হজরত ইব্রাহিম আ:, তার স্ত্রী হাজেরা এবং ছেলে ইসমাঈল আ:-এর সম্পাদিত কাজের সাথে সম্পর্কিত। মুসলমানরা পশু কোরবানি আল্লাহর নির্দেশ পালনার্থে ইব্রাহিম আ: কর্তৃক স্বীয় শিশুপুত্র ইসমাঈলকে কোরবানি করতে যাওয়ার মহান ত্যাগের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। হজ ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের অন্যতম এবং সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর জীবনে একবার হজ করা ফরজ।

হিজরি মাস ঘটনায় সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের এক দিনের পার্থক্য রয়েছে। এই হিসেবে আজ সৌদি আরবে ৯ জিলহজ অর্থাৎ হজের দিন হলেও বাংলাদেশ আজ ৮ জিলহজ। বাংলাদেশে আগামী শনিবার ১০ জিলহজ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। পশু কোরবানি করবেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত গিলাফ লাগছে কাল
                                  

বার্ষিক নিয়ম মেনে প্রতি বছর হজের মৌসুমে কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত কুরআনিক ক্যালিগ্রাফির নতুন কালো গিলাফ পরানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ৩০ জুলাই বা আজ বৃহস্পতিবার কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে। ২৪ জুলাই কাবা শরিফের প্রধান তত্ত্বাবধায়ক শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি এই ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রতি বছরই নির্দিষ্ট সংখ্যক শিল্পী বছরব্যাপী একান্ত শ্রম ও প্রচেষ্টায় এ নতুন গিলাফ তৈরি করে থাকেন। শায়খ ড. আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ১৬০ জন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ কারিগর ও প্রযুক্তিবিদ পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফ পরিবর্তন করে নতুন গিলাফ পরানোর কাজে অংশগ্রহণ করবেন। প্রতি বছর ৯ জিলহজ এ প্রক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। 

আনুষ্ঠানিকভাবে কাবা শরিফের নতুন গিলাফ ইতোমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে। কাবা শরিফ ও মদিনার মসজিদে নববির প্রধান ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আব্দুল আজিজ বিন আব্দুর রহমান আস-সুদাইসি এ গিলাফ গ্রহণ করেন।

||সৌদি গেজেট

বাংলাসহ ১০ ভাষায় হজের খুতবা
                                  

চলতি বছরে হজের খুতবা বাংলাসহ বিশ্বের ১০টি ভাষায় শোনানো হবে বলে জানিয়েছেন মক্কার ও মসজিদ নববীর ইমাম ড. আব্দুর রহমান সুদাইস।

ইমাম রহমান সুদাইসের করা এক টুইটের বিরাত দিয়ে অনলাইন আরব নিউজ তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

আরাফাত ময়দান থেকে খুতবা যে ১০ ভাষায় সরাসরি শোনানো হবে- ইংরেজি, মালে, উর্দু, ফার্সি, ফরাসি, চীনা, তুর্কি, রাশিয়ান, হাউসা এবং বাংলা।

করোনার কারণে এবার মাত্র এক হাজার যাত্রীকে হজ করার অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। এর মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক আছেন, তবে বেশি সংক্ষ্যক হবে সৌদি আরবের নাগরিক। সৌদি আরবে বসবাসকারী বিদেশি ও নাগরিক আছে তবে এর সংখ্যা কোন দেশের কত তা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে, সৌদি আরবের ইসলামিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় দাওয়াহ ও গাইডেন্স বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মন্ত্রী, আলেম, মুফতি, নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামী সমাজের প্রধানসহ ১২০০ বিশিষ্ট ব্যক্তি এবারের হজ নিয়ে বার্তা ও বক্তব্য দিয়েছেন। যেখানে ২০২০ সালের হজ সীমিত সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করার সৌদি বাদশার প্রশংসা করেছে।

হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, প্রতি বছর আরবি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফাত ময়দানে হজের খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। এই আরাফাতের ময়দানেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।

পবিত্র হজ পালন করতে এবার হজযাত্রীদের প্রথম দলটি মক্কায় পৌঁছেছেন। হজ করতে মক্কা পৌঁছেছেন আমিরাতের আবদুল্লাহ আল কাথিরি। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন।

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবার ‘সীমিত আকারে’ হজ্ব পালনের পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব।

এক ঘোষণায় সৌদি কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটিতে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের নাগরিক এবং স্থানীয়দের সমন্বয়ে এক হাজারের মতো লোক এবারের হজে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

অপরদিকে, কঠিন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মক্কায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করলে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উন্মুক্ত স্থানে নয়, মসজিদে হবে ঈদুল আজহার জামাত
                                  

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে জনস্বাস্থ্য বিবেচনায় ঈদুল আজহার নামাজের জামাতও ঈদগাহ/উন্মুক্ত স্থানের পরিবর্তে মসজিদে আদায় করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। রোববার (১২ জুলাই) সচিবালয়ে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নুরুল ইসলাম।


সভায় যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং আনন্দমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়ন ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


এ বছর করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ঈদের প্রধান জামাত জাতীয় ঈদগাহের পরিবর্তে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া সামাজিক দূরত্ব রেখে নামাজ আদায়, নামাজ শেষে কোলাকুলি এবং হাত না মেলাতে বলা হয়।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আনিছুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়, তথ্য, জনপ্রশাসন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর সংস্থার প্রতিনিধিরা এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের মধ্যে আল্লামা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, আল্লামা মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা আনাস মাদানী, মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা নুরুল আমিন, হাফেজ মাওলানা আব্দুল আলিম রিজভী, মুফতি মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা ড. কাফিলুদ্দীন সরকার সালেহী, মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, মাওলানা মোসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী প্রমুখ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের মতামত প্রদান করেন।



জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই বা ১ আগস্ট মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে।

 

হাজার মাসের চেয়ে মূল্যবান লাইলাতুল কদর আজ
                                  

মাহে রমজানুল মোবারকের আজ ২৬ তারিখ। আজকের দিবাগত রাত বা রমজানের ২৭তম রাত সাধারণভাবে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত হিসেবে পরিচিত। আভিধানিকভাবে লাইলাতুল কদর অর্থ সম্মানের রাত। অত্যন্ত মহিমান্বিত একটি রাত এ নামে আখ্যায়িত হয়েছে। কুরআন মাজিদে একটি সূরা নাজিল হয়েছে এ প্রসঙ্গে। এতেই ঘোষণা করা হয়েছে লাইলাতুল কদরের মর্যাদা হাজার মাসের চেয়ে বেশি। তাফসিরের কিতাবগুলোতে উল্লেখ রয়েছে, একদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ভেবে অস্থির হচ্ছিলেন যে, আগের নবীর উম্মতেরা দীর্ঘ হায়াত পেত। ফলে তারা অনেক বেশি ইবাদত-বন্দেগির সুযোগ পেত। কিন্তু শেষ নবীর উম্মতের হায়াত খুবই সীমিত। অতএব তাদের পক্ষে উচ্চ মর্যাদা লাভের সুযোগ কম। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সূরা নিয়ে উপস্থিত হন হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম। ফলে শান্ত হন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবিরা।

আল্লাহতায়ালা এ রাতেই কুরআন মাজিদ নাজিল করেছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তেমনি এ রাতটির মর্যাদা হাজার মাসের চেয়ে বেশি বলেও ঘোষণা করেছেন। কিন্তু রাত কোনটি তা বলে দেননি। হাদিস শরিফেও নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি কোনটি কদরের রাত। নিঃসন্দেহে এতে অনেক রহস্য ও তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত অনুসন্ধানের তাগিদ দিয়েছেন। ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে রাতটি কাটাতে পারলে এ রাতের প্রকৃত সুফল পাওয়া যায়।

কুরআন মাজিদের বর্ণনা অনুযায়ী, এই এক রাতে ইবাদতের বিনিময়ে হাজার মাসের ইবাদতের সওয়াবের চেয়েও বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। হয়তো আল্লাহতায়ালা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চাননি মুসলমানরা একটি রাতের ভরসায় বসে থেকে সারা বছর বা সারা মাস অবহেলায় কাটিয়ে দিক। এ জন্য এটাকে রহস্যময় করে রাখা হয়েছে। তা ছাড়া পরিশ্রম ও সাধনার মাধ্যমেই মূল্যবান কিছু অর্জন করতে হয়। যে রাতের মূল্য হাজার মাসের চেয়ে বেশি, তা যদি সহজে পাওয়া যেত, তাহলে মানুষ হয়তো এটাকে বেশি গুরুত্ব দিত না। তাই তা অনির্দিষ্ট করে রেখে মানুষকে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে। কেউ কেউ রমজানের যেকোনো অংশে এ রাত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন। কিন্তু বেশির ভাগ মনীষীর মতে রমজানের শেষে দশকেই তা লুকায়িত রয়েছে। আবার কারো কারো মতে, এ রাতের তারিখ পরিবর্তনশীল। কোনো বছর একুশ, কোনো বছর তেইশ, কোনো বছর পঁচিশ, কোনো বছর সাতাইশ, আবার কোনো বছর ঊনত্রিশ তারিখের রাত লাইলাতুল কদর হয়।

কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে অনেক মনীষী রমজানের সাতাইশ তারিখের রাতকে লাইলাতুল কদর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ ব্যাপারে সাহাবিদের মধ্যে এ উম্মতের শ্রেষ্ঠ কারী হিসেবে আখ্যায়িত হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি জোর দিয়ে বলতেন, রমজানের সাতাইশতম রাতই কদরের রাত। অন্য দিকে ফিকাহ ও ইজতেহাদের জ্ঞানে চার খলিফার পরেই যার স্থান, সেই হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, এটা রমজানের বাইরেও হতে পারে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর মন্তব্য সম্পর্কে হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, আমার ভাই আবদুল্লাহ ভালো করেই জানেন, এটা রমজানের মধ্যে এবং তা সাতাইশতম রাত। কিন্তু লোকেরা এ রাতের ভরসায় বসে থাকবে এবং আলসেমিতে সারা বছর ও সারা রমজান মাস কাটিয়ে দেবে- এ ভয়ে তিনি তা লোকদের জানাতে চান না। হজরত উবাই ইবনে কাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- আপনি কিভাবে নিশ্চিত হলেন সাতাইশ রমজানের রাতটিই কদরের রাত? জবাবে তিনি বলেন, এ রাতের যেসব আলামত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন, আমরা সেগুলো সাতাইশ তারিখে পেয়েছি।

তবে মনে রাখা প্রয়োজন, কদরের রাতের যে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য তার মূল উপাদান কুরআন মাজিদ। শেষ নবীর উম্মতের জন্য জীবনব্যবস্থার চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে কুরআন মাজিদ নাজিলের সাথে রাতটি সম্পর্কিত হওয়ায় এই মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য সাব্যস্ত হয়েছে। অতএব এ রাতের সুফল পুরো মাত্রায় পাওয়ার জন্য কুরআন মাজিদের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করাই আসল উপায়।

‘সরকারি যাকাত ফান্ডে’ যাকাত প্রদানের আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের
                                  

‘সরকারি যাকাত ফান্ডে’ যাকাত প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বৃহস্পতিবার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশও তার বাইরে নয়। এই মহামারির প্রাদুর্ভাব  কমাতে সরকারি নির্দেশ মোতাবেক সকল মানুষের ঘরে থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিপুল জনগোষ্ঠী কর্মহীন ও রোজগারবিহীন অবস্থায় পতিত হয়েছে। বিশেষ করে গরীব ও নিম্ন আয়ের অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

ইতোমধ্যে সরকার অসহায়, দুস্থদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ও তাদের জন্য বিশেষ অর্থ বরাদ্দ ও ত্রাণের ব্যবস্থা করে যাচ্ছে। এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও সরকারি যাকাত ফান্ডের অর্থ বর্তমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে যারা কর্মহীন হয়ে অসহায়, মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তাদের কল্যাণে ব্যয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি যাকাত ফান্ডে প্রাপ্ত অর্থ‍ সবসময় যথাযথভাবে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ব্যয় করা হয়ে থাকে। এই অর্থ প্রতি বছর অসহায় দুস্থদের আত্মকর্মসংস্থান, শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা, বৃক্ষরোপন কার্যক্রম, প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন, দুস্থ মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়ে থাকে। সরকারি যাকাত ফান্ডে জমাকৃত অর্থ আয়করমুক্ত।

যাকাত প্রদানে সক্ষম যে কেউ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগের সাথে সামিল হতে পারেন। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি যাকাত ফান্ডে যাকাতের অর্থ প্রদান করে দেশের এই সংকটকালে আর্ত মানবতার সেবায় এগিয়ে আসার জন্য দেশের বিত্তবান ও অবস্থাসম্পন্ন ব্যক্তিদের বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

টিভি চ্যানেলে তারাবি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ ইফার
                                  

টিভি চ্যানেলে তারাবির নামাজসহ অন্যান্য নামাজ সম্প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)।
সম্প্রতি কোনো কোনো টিভি চ্যানেলে তারাবি নামাজ সম্প্রচারের মাধ্যমে ইমামকে অনুসরণ করে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে তারাবি নামাজ আদায় করার বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে জানিয়ে এই অনুরোধ করা হয়েছে।

ইফার মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, কোনো টিভি চ্যানেলে সম্প্রচারকৃত তারাবি নামাজের ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত শুনে ও রুকু-সিজদার অনুসরণে নিজ নিজ বাসা-বাড়িতে ইক্তেদা করে তারাবি নামাজ আদায় করা হলে তা কোনভাবেই সহীহ ও জায়েয হবে না মর্মে বিশিষ্ট মুফতি ও আলেমগণ মতামত প্রদান করেছেন।

বিষয়টি অনুধাবন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি পরিহারকল্পে টিভি চ্যানেলে তারাবি নামাজসহ অন্যান্য নামাজ সম্প্রচার হতে বিরত থাকার জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

ইফার বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ইসলামী শরীয়তের বিধান অনুযায়ী, জামাতে নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে কাতারের সংলগ্নতা (ইত্তেসাল) জামাত ও ইক্তেদা সহিহ হওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত। এটি মানা না হলে নামাজ সহিহ হবে না।

পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, শনিবার থেকে রোজা শুরু
                                  

বাংলাদেশের আকাশে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র মাহে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শনিবার থেকে মাসব্যাপী রোজা শুরু হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ কথা জানানো হয়। পবিত্র কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস রজমানে সংযম সাধনা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। রোজদাররা ভোর রাতে সেহরি খেয়ে পর দিন সূর্যাস্তে ইফতার পর্যন্ত পানাহার না করে সংযম পালন করবেন।

এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশের মসজিদগুলোতে এশা ও তারাবির নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ১০ মুসল্লি ও দুই হাফেজসহ মোট ১২ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। সেই সাথে বলা হয়েছে, রমজান মাসে দেশে ইফতার মাহফিলের নামে কোনো ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না।

মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আকাশে বৃহস্পতিবার পবিত্র মাহে রমজান মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় তারা শুক্রবার থেকে রোজা রাখা শুরু করেছে।

গলফ নিউজের খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়া, মিসর, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ শুক্রবার থেকে রমজান মাস পালনের তথ্য জানিয়েছে।

আল্লামা আহমদ শফী হাসপাতালে
                                  

হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে বমি, মাথা ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি।

হেফাজত আমিরের একান্ত সহকারী মোহাম্মদ শফিউল আলম বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আল্লামা শফীকে চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ের সিএসসিআর নামে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিম চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি।

পবিত্র শবে বরাত আজ
                                  

পাপ থেকে সর্বান্তকরণে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিষ্কৃতি লাভের অপার সৌভাগ্যের রাত আজ। দিবসের আলো পশ্চিমে মিলিয়ে যাবার পরই শুরু হবে কাঙ্ক্ষিত রজনি, পবিত্র শবেবরাত। হাদিস শরিফে এটাকে লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান বা মধ্য শাবানের রাত নামে অভিহিত করা হয়েছে। বর্ণিত আছে যে, রাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নূরের তাজাল্লি পৃথিবীর নিকট আসমানে প্রকাশ পায়। তখন আল্লহপাক বলতে থাকেন—আছে কি কেউ ক্ষমাপ্রার্থী, যাকে আমি ক্ষমা করব? আছে কি কেউ রিজিক প্রার্থী, যাকে আমি রিজিক প্রদান করব? আছে কি কেউ বিপদগ্রস্ত, যাকে আমি বিপদমুক্ত করব? আল্লাহ তায়ালার মহান দরবার থেকে প্রদত্ত এ আহ্বান অব্যাহত থাকে ফজর অবধি।

বস্তুত আল্লাহ সুবানাহু তায়ালার নৈকট্য ও সান্নিধ্য লাভের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান। মুসল্লিরা মহান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিমগ্ন হয়ে রাত অতিবাহিত করেন। তাত্পর্যপূর্ণ এই রাতে বিশেষ বরকত হাসিলের মানসে মুসলিম সম্প্রদায় নফল নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত, ইস্তেগফার, ইবাদত-বন্দেগি, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল ও দোয়ায় মশগুল থাকেন।

শবেবরাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ নামে অভিহিত করা হয়। ‘লাইলাতুল’ একটি আরবি শব্দ, আর ‘শব’ শব্দটি ফারসি। দুটি শব্দের অর্থই হলো রাত। অপরপক্ষে ‘বারাআত’ শব্দের অর্থ হলো নাজাত, নিষ্কৃতি বা মুক্তি। এ রাতে বান্দারা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছ থেকে মার্জনা প্রার্থনা করে থাকেন। এ কারণে এ রাতকে ‘লাইলাতুল বারাআত’ বা শবেবরাত বলা হয়। এর পক্ষকাল পরেই আসবে রহমত বরকত নাজাতের মাহে রমজান। এ কারণে এটাকে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন।

উলামা মাশায়েখগণ বলেন, এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করে সারা রাত ইবাদত ও প্রার্থনায় কাটাতে পারলে তা-ই হবে এ রাতের সঠিক মূল্যায়ন। এই রাতে শুদ্ধ মনে তওবা করার পর নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া এবং ইসলামি বিধান মেনে চলতে হবে। আর এ রাতে হালুয়া-রুটি, ফিরনি-পায়েস, খিচুড়ি, বিরিয়ানি প্রভৃতি বিতরণ বিদাআত। কারণ উত্সব নয়, কেবল প্রার্থনার রাত ‘শবেবরাত’।

পবিত্র শবে বরাত বৃহস্পতিবার
                                  

আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল বরাত। গত ২৫ মার্চ সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররমস্থ সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় ৯ এপ্রিল লাইলাতুল বরাত পালনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশে ১৪ শাবানের রাতটি শবে বরাত নামে সমধিক পরিচিত। প্রতিবারের মতো এবারো এ রাতটি যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে পালিত হবে।

তবে করোনাভাইরাসের কারণে এবার নিজ নিজ বাসায় পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত যথাযথ মর্যাদায় আদায় করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বছরে পাঁচটি পুণ্যময় রজনীর মধ্যে শবে বরাত অন্যতম একটি। শবে বরাতের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে মুক্তির রজনী। এ রাতে নিহিত রয়েছে মুসলমানদের মুক্তি ও কল্যাণের বিভিন্ন উপকরণ। তাই এ রাতকে বলা হয়েছে লাইলাতুল বরাত বা মুক্তির রজনী। এ রাতের ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে মুসলমানদের গুনাহ মাফ ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। হাদিসে এ রাতের বহু কল্যাণ ও ফজিলতের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। হজরত মুআয ইবনে জাবাল রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম সা: বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালা অর্ধ শাবানের রাতে (শবে বরাতে) সৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া আর সবাইকে মাফ করে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং-৫৬৬৫)। হজরত আলী ইবনে আবি তালিব রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলে করিম সা: বলেছেন যখন শাবানের ১৫তম রাতের আগমন ঘটবে তখন তোমরা সে রাতে কিয়াম করবে তথা রাত জেগে নামাজ পড়বে, আর দিনে রোজা রাখবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালা সে দিন সূর্যাস্তের পর থেকে প্রথম আসমানে বিশেষ তাজাল্লি বর্ষণ করেন এবং ইরশাদ করেন কেউ আছ কি আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি ক্ষমা করে দেবো। কেউ আছ কি জীবিকা প্রার্থনাকারী? তাকে আমি জীবিকা দান করব। কেউ আছ কি মুসিবতগ্রস্ত? তাকে আমি মুক্তি প্রদান করব। কেউ এমন আছ কি? কেউ এমন আছ কি? এভাবে সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ পাক তার বান্দাদেরকে ডাকতে থাকেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং-১৩৮৮)। হযরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন এক রাতে আমি রাসূল সা:কে বিছানায় পেলাম না। তাই (খোঁজার উদ্দেশ্যে) বের হলাম। তখন দেখতে পেলাম, তিনি জান্নাতুল বাকিতে আছেন।

আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, তুমি কি এই আশঙ্কা করছ যে, আল্লাহ এবং তার রাসূল তোমার প্রতি অবিচার করেছেন? আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! আমি ধারণা করেছিলাম, আপনি আপনার অন্য কোনো স্ত্রীর ঘরে তাশরিফ নিয়েছেন। তখন রাসূল সা: বলেন, শাবানের ১৫ তারিখ রাতে আল্লাহ তায়ালা দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন এবং ‘বনু কালব’ গোত্রের ভেড়াগুলোর পশমের চেয়েও বেশিসংখ্যক লোককে মাফ করে দেন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং-৭৪৪ ও সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং- ১৩৮৯)।

পবিত্র শবে বরাতের বরকতময় রজনীকে কেন্দ্র করে সাত প্রকারের আমল করার ব্যাপারে আলেমরা উৎসাহ প্রদান করেছেন- (১) বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। (২) বেশি করে পবিত্র কুরআন শরিফ তিলাওয়াত করা। (৩) বেশি বেশি ইস্তিগফার করা অর্থাৎ গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা। (৪) বেশি বেশি দান ছাদকা করা। (৫) কবর জিয়ারত করা (৬) মৃত ব্যক্তিদের কবরে ছাওয়াব পাঠানোর ব্যবস্থা করা। (৭) পরের দিন অর্থাৎ ১৫ শাবান রোজা রাখা। এ রাতে নফল নামাজের ধরাবাঁধা কোনো নিয়ম নেই। যত রাকাত ইচ্ছা এবং যেকোনো সূরা দিয়ে অন্যান্য নামাজের মতোই পড়া যাবে।

মসজিদে আযান, ইকামত, জামাত ও জুমা অব্যাহত থাকবে: ইফা
                                  

দেশের বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো বৈঠকের পর করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাদের নির্দেশনা প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। সোমবার সংস্থার মহাপরিচালক (ডিজি) আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তা তুলে ধরেন।

ইফার আগারগাঁওস্থ প্রধান কার্যালয়ে রোববার দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিরাজমান পরিস্থিতিতে জনগণের সুরক্ষা বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের লক্ষ্যে জরুরি সভায় মিলিত হন। এতে তারা নিজ নিজ মতামত উপস্থাপন করেন। এছাড়াও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফি, পটিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি আব্দুল হালীম বোখারী প্রমুখের কাছ থেকে ই-মেইলে প্রাপ্ত মতামত আলোচনা হয়। বৈঠকে তৈরী করা নির্দেশনায় বলা হয়, বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। আমাদের দেশও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। সরকার ও জনগণ চরম উদ্বিগ্ন।এ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতা তৈরি এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসমূহ মেনে চলা আবশ্যক।

শুরুতে তওবা ইস্তেগফার ও দোয়া করার করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, পৃথিবীতে যা কিছু হয় আল্লাহ তাআলার হুকুমেই হয়। এ মহামারি থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে। এজন্য কয়েকটি দোয়াও উল্লেখ করা হয়।
এরপর সতর্কতা অবলম্বন করার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়, রোগ ও ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন ইসলামের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সতর্কতা অবলম্বন তাওয়াক্কুল পরিপন্থী নয়। বরং নবীজীর (সা) সুন্নত।

মসজিদের ব্যাপারে বলা হয়, মসজিদে নিয়মিত আযান, ইকামত, জামাত ও জুমার নামাজ অব্যাহত থাকবে। তবে জুমআ ও জামাতে মুসল্লিগণের অংশগ্রহণ সীমিত থাকবে অর্থাৎ যারা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত, যাদের সর্দি, জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা ও শ্বাসকষ্ট আছে, যারা আক্রান্ত দেশ ও অঞ্চল থেকে এসেছেন, যারা উক্তরূপ মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন, যারা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত, বয়োঃবৃদ্ধ, দুর্বল, মহিলা ও শিশু, যারা অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিতরা মসজিদে যাবেন না। আর যারা মসজিদে গিয়ে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন তাদেরও মসজিদে না আসার অবকাশ আছে। যারা জুমআ ও জামাতে যাবেন তারা সকলেই যাবতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা অবলম্বন করবেন। ওযু করে নিজ নিজ ঘরে সুন্নাত ও নফল আদায় করবেন। শুধু জামাতের সময় মসজিদে যাবেন এবং ফরজ নামাজ শেষে দ্রুত ঘরে চলে আসবেন। সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, মাস্ক পড়া, জীবাণুনাশক দ্বারা মসজিদ ও ঘরের মেঝে পরিস্কার রাখাসহ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সকল নির্দেশনা মেনে চলবেন। হঠাৎ হাঁচি-কাশি এসে গেলে টিস্যু বা বাহু দিয়ে মুখ ঢেকে রাখবেন।

খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটির করণীয় হিসেবে বলা হয়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদকে জীবাণুনাশক দিয়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কার্পেট-কাপড় সরিয়ে ফেলা, জামাত সংক্ষিপ্ত করা, জুমার বয়ান, খুতবা ও দোয়া সংক্ষিপ্ত করা, বর্তমান সংকটকালে দরসে হাদীস, তাফসির ও তা’লীম স্থগিত রাখা, ওযুখানায় অবশ্যই সাবান ও পর্যাপ্ত টিস্যু রাখা, বর্তমান পরিস্থিতিতে জামাতের কাতারে ফাঁক ফাঁক হয়ে দাঁড়ানো, ইশরাক, তিলাওয়াত, যিকির ও অন্যান্য আমল ঘরে করা, ঢাকাসহ দেশের কোন মসজিদে যদি কোন বিদেশী মেহমান অবস্থানরত থাকেন তাদের বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষন করে সত্ত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফন ও জানাযার ব্যাপারে বলা হয়, হাদিসের বর্ণানুযায়ী মহামারিতে মৃত মুমিন ব্যক্তি শহীদের মর্যাদা লাভ করেন। করোনায় মৃত ব্যক্তির কাফন, জানাযা ও দাফন যথাযথ মর্যাদার সাথে করা জরুরি। করোনায় মৃত ব্যক্তির দাফনে সহযোগিতা করুন। তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ বা কোনরূপ অসহযোগিতা করা শরীয়তবিরোধী ও অমানবিক।

দান-সাদকা করার আহবান জানিয়ে বলা হয়, হাদিস শরীফে আছে দান-সাদকা দ্বারা বালা মছিবত দূর হয়। এই সংকটকালীন সময়ে আল্লাহর রহমত লাভের উদ্দেশ্যে দুস্থ ও অসহায়দের বেশি বেশি দান-সাদকা করুন। নিম্ন আয়ের মানুষের নিকট খাদ্যপণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। ।

গুজব সৃষ্টি না করা এবং আলেমদের এ আহ্বান আন্তরিকতার সাথে ব্যাপক প্রচার ও বাস্তবায়নের জন্য দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম, মসজিদ কমিটি, গণমাধ্যম, জনপ্রতিনিধি, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা/কর্মচারী/শিক্ষকসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে আহ্বান জানানো হয়।

সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমদের কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, জামেয়া ইসলামিয়া দারুল উলুমের মুহতামিম মুফতি দিলাওয়ার হোসাইন, শায়খ যাকারিয়া (র.) ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের মহাপরিচালক মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, জাতীয় মুফতি বোডের সদস্য সচিব মুফতি মোঃ নূরুল আমীন, ঢাকা নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা কাফীলুদ্দীন সরকার সালেহী, জামেয়া রহমানিয়ার মুহতামিম মাওলানা মাহফুজুল হক, চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোঃ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মদীনাতুল উলুম কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক আল আযহারী, ইদারাতুল উলূম আফতাবনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি মোহাম্মদ আলী, দারুল উলূম রামপুরার মুহতামিম মুফতি ইয়াহ্ইয়া মাহমুদ, জামিয়াতুল উলুমের মুহতামিম মুফতি মাহমুদুল হাসান, বায়তুল উলূম ঢালকানগর মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা জাফর আহমাদ, ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ, মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, নারায়ণগঞ্জের ভূমিপল্লী আবাসন জামে মসজিদের খতিব শায়খ আহমাদুল্লাহ, তেজগাঁও জামেয়া ইসলামিয়ার শায়খুল হাদিস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান ও মুফাসসির ড. মাওলানা আবু ছালেহ পাটোয়ারী, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, পেশ ইমাম মাওলানা মুহিউদ্দীন কাসেম, চকবাজার শাহী মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন, বড় কাটরা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম মাদানী, শামসুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি শারাফাত হোসাইন, মাদানীনগর মাদ্রাসার মুহতামিম মুফতি ফয়জুল্লাহ, মুফতি মাহবুবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়।
এর আগে গত ২৪ মার্চ করোনা পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন আলেমের সঙ্গে বৈঠক করে কিছু নির্দেশনা প্রকাশ করেছিল ইফা।

 

 
আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সব শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বিবৃতি
                                  

মানবিক, ধর্মীয় ও বয়স বিবেচনায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মুক্তি দিতে সরকারের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরাম। গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে শীর্ষ উলামাগণ বলেন, বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী নানান জটিল ও কঠিন রোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন। যেকোন সময়ে তার এই মরণঘাতি করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশংকা করছি আমরা। দেশ জাতির এ কঠিন মুহূর্তে তার প্রতি সদয় হওয়া সময়ের দাবী। তাই আমরা রাষ্ট্র প্রধান ও সরকার প্রধানের কাছে আল্লামা সাঈদীর আশু মুক্তি দাবী করছি।

তারা বলেন, ক্ষমতা কোনো দিন চিরস্থায়ী নয়। সামান্য একটি ভাইরাস দিয়ে আল্লাহ তায়ালা গোটা দুনিয়াকে স্তব্ধ করে দিয়েছেন। দুনিয়ার বড় শক্তিগুলোকে মানবিক হতে শিখিয়েছে। সেই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে আমাদের ফরিয়াদ বর্ষীয়ান এ মুফাসসিরে কোরআনকে মুক্তির ব্যবস্থা করুন। আমাদের সরকার ও রাষ্ট্র বর্ষীয়ান এ মুফাসসিরের প্রতি সদয় হয়ে তাকে মুক্তি দিন। মহান আল্লাহ তার গজব ‘করোনা ভাইরাস’ থেকে দেশ, জাতি ও উম্মাহকে রক্ষা করুন।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, বর্ষীয়ান আলেমে দ্বীন হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমীর হাফেজ মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী হজুর, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমীর মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, সমমনা ইসলামী দলসমূহের মহাসচিব মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দীন রব্বানী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী, হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, ড. মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব শর্ষীনার ছোট পীর মাওঃ শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, মীরের সরাইর পীর সাহেব মাওঃ আঃ মোমেন নাছেরী,টেকের হাটের পীর সাহেব মাওঃ কামরুল ইসলাম সাঈদ আনসারী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মুফতি মাওলনা আবদুর রহমান চৌধুরী, নেজামে ইসলামীর মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, মাওঃ হাফেজ আবুল হোসাইন, মুফতি মাওঃ নাসির উদ্দীন খান, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের আমির আধ্যাত্মিক গুরু শাইখ নুরুল হুদা ফয়েজী, হক্কানী ত্বরীকত মিশনের জেনারেল সেক্রেটারী আল্লামা মুস্তাক ফয়েজী, ইসলামী ঐক্য মঞ্চ সভাপতি মাওলানা ইদ্রিস, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন কমিটির মহাসচিব মাওলানা ফয়জুল্লাহ আশরাফী, বেফাকের কেন্দ্রিয় উস্তাদ মুফতি বাহউদ্দীন, মুসলিম পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি শায়েখ মাওলানা রহমান আজিজ হবিগঞ্জী, খতিব পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা সালেহ, মুফাসসির পরিষদের কেন্দ্রিয় নেতা মাওলানা জাকির হোসাইন, হক্কানী পীর মাশায়েখ পরিষদের সহ সভাপতি মাওলানা আবুল কাশেম, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী,গণসভা আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা বনী ইয়ামিন,কাসেমী পরিষদের আমীর শায়খ আবু বকর কাসেমী প্রমুখ

করোনা মোকাবেলায় আল্লামা শফীর পাঁচ পরামর্শ
                                  

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় ইমাম-খতিবদের উদ্দেশ্যে ৫টি পরামর্শ দিয়েছেন দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারীর মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। গতকাল বুধবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব পরামর্শ দেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্যতম একটি মুসলিম প্রধান দেশ। দেশে তিন লাখের অধিক মসজিদ রয়েছে। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেন। মসজিদে গিয়ে প্রশান্তি লাভ করেন। আল্লাহ তায়ালার দরবারে কান্নাকাটি করেন। মসজিদের সঙ্গে রয়েছে তাদের আত্মিক সম্পর্ক। কারণ মসজিদ হলো সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা। আল্লাহর দৃষ্টিতে পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট স্থান মসজিদ। তাই করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে চলমান পরিস্থিতিতে দেশের সকল মসজিদের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও মুতাওয়াল্লীদের সমীপে ছয়টি পরামর্শ প্রদান করা হলো। আশা করছি,পরামর্শগুলো যথাযথ আমলে নিতে চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

এক. আমাদের দেশের জনগণ করোনাভাইরাস ইস্যুতে এখনো পরিপূর্ণ সচেতন নন। এমন নাজুক পরিস্থিতিতেও ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ তোয়াক্কা করছেন না। অথচ এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আল্লাাহমুখী হওয়া। কারণ তওবা ইসতেগফার ও কান্নাকাটির মাধ্যমে আল্লাহর আজাব ও গজব থেকে আমরা বাঁচতে পারব। তাই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে বিশেষ মুনাজাত করুন। তওবা ইসতেগফার করুন। সুন্নাহসম্মত দোয়ার আমল করুন।

দুই. বাংলাদেশে লকডাউন ঘোষণা হলে ইমাম মুয়াজ্জিন ও খাদেমগণ মিলে হলেও নামাজের জামাত কায়েম করতে হবে। মসজিদ বন্ধ করা যাবে না। তবে সুন্নত ও নফল নামাজ ঘরে আদায় করার প্রতি মুসল্লিদের তাকিদ দিন। আর সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব আমল চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন।

তিন. দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে দিনমজুর ও সমাজের নিম্নবিত্তের মানুষ। তাই ইমাম খতিব, মুয়াজ্জিন ও মসজিদ কমিটির দায়িত্বশীলগণ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন। সমাজের বিত্তশালীদের সঙ্গে পরামর্শ করে অসহায় মানুষদের হাতে চাল, ডাল, তেল, আলুসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলে দিন।

চার. মসজিদে মসজিদে অজুর আগে হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করুন। ফরজ নামাজ ও জুমার বয়ানে সংক্ষিপ্ত আকারে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আলোচনা করুন। গুজব, কানকথা, ভিত্তিহীন ও তথ্যহীন আলোচনা থেকে বিরত থাকুন। বিদেশ ফেরত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের মসজিদে না এসে তাদের ঘরে নামাজ আদায়ের নির্দশে দিন।

পাঁচ. প্রত্যেক মহল্লার ইমাম ও সচেতন উলামায়ে কেরাম প্রত্যেকেই নিজ দায়িত্বে দোয়া ইউনুস, কোরআন খতম ও রোগমুক্তির জন্য বিশেষ দোয়ার আমল করুন। "লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জালিমিন।" এই আয়াত সবাইকে বেশি বেশি পড়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন এবং ঘর থেকে বের হওয়ার আগে "বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মাআস মিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি ওয়া হুওয়াস সামিউল আলিম।` উক্ত দোয়াটি নিয়মিত পড়তে বলুন।

৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত
                                  

বুধবার সন্ধ্যায় দেশের আকাশে কোথাও পবিত্র শাবান মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। এজন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার রজব মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হচ্ছে। আগামী শুক্রবার থেকে শাবান মাস গণনা শুরু হবে। সেই হিসেবে আগামী ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ।


   Page 1 of 43
     ইসলামী জগত
আরাফার দিবসের গুরুত্ব, তাৎপর্য ও করণীয়
.............................................................................................
আজ পবিত্র হজ
.............................................................................................
কাবা শরিফে স্বর্ণখচিত গিলাফ লাগছে কাল
.............................................................................................
বাংলাসহ ১০ ভাষায় হজের খুতবা
.............................................................................................
উন্মুক্ত স্থানে নয়, মসজিদে হবে ঈদুল আজহার জামাত
.............................................................................................
হাজার মাসের চেয়ে মূল্যবান লাইলাতুল কদর আজ
.............................................................................................
‘সরকারি যাকাত ফান্ডে’ যাকাত প্রদানের আহ্বান ইসলামিক ফাউন্ডেশনের
.............................................................................................
টিভি চ্যানেলে তারাবি সম্প্রচার থেকে বিরত থাকার অনুরোধ ইফার
.............................................................................................
পবিত্র রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে, শনিবার থেকে রোজা শুরু
.............................................................................................
আল্লামা আহমদ শফী হাসপাতালে
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত আজ
.............................................................................................
পবিত্র শবে বরাত বৃহস্পতিবার
.............................................................................................
মসজিদে আযান, ইকামত, জামাত ও জুমা অব্যাহত থাকবে: ইফা
.............................................................................................
আল্লামা সাঈদীকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সব শীর্ষ উলামায়ে কেরামের বিবৃতি
.............................................................................................
করোনা মোকাবেলায় আল্লামা শফীর পাঁচ পরামর্শ
.............................................................................................
৯ এপ্রিল পবিত্র শবে বরাত
.............................................................................................
করোনার কারণে মসজিদ বন্ধ হবে না
.............................................................................................
জুমার নামাজ: যা করতে বললেন আজহারী
.............................................................................................
রাসূল (সা.) রোগ সংক্রমণ ও মহামারী নিয়ে যে নির্দেশনা দিয়েছেন
.............................................................................................
মানবজাতির প্রতি কোরআনের উপদেশ
.............................................................................................
পেশাদার ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া ও মসজিদে কালেকশন প্রসঙ্গ
.............................................................................................
নবীজী রজব মাসে যে দোয়া বেশি পড়তেন
.............................................................................................
২২ মার্চ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
ইসলাম সমাজে শান্তি বজায় রাখতে যেসব স্বভাব ত্যাগ করতে বলে
.............................................................................................
কোরআনের অমূল্য উপদেশ মানবজাতির প্রতি
.............................................................................................
সিজদার যত উপকারিতা
.............................................................................................
জুমার দিনের আদব-শিষ্টাচার
.............................................................................................
কানটার জবাব দিবেন একাধিক মসজিদের আযান শুনলে?
.............................................................................................
জীবদ্দশায় বা মরণোত্তর দেহ-অঙ্গ দান প্রসঙ্গে ইসলাম যা বলে
.............................................................................................
অত্যাচারীদের পরিণাম যেমন হবে
.............................................................................................
সুখী ও ভালোবাসাময় দাম্পত্য জীবনের কিছু পাথেয়
.............................................................................................
দ্রুত বিয়ে করতে কার্যকরী ৭ আমল
.............................................................................................
পাখিদের প্রতি নবীজীর ভালোবাসা
.............................................................................................
মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলে রনি দাসের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
মসজিদ আবাদ হোক শিশুদের অংশগ্রহণে
.............................................................................................
কোরআন শরিফের কপি বেশ পুরোনো হলে যা করতে হবে
.............................................................................................
মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইসলাম
.............................................................................................
আল্লাহ অঙ্গীকার ভঙ্গকারীকে কঠিন শাস্তি দেবেন
.............................................................................................
যেভাবে কাজা নামাজ আদায় করতে হয়
.............................................................................................
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে সুস্থ থাকা সম্ভব : মার্কিন গবেষণা
.............................................................................................
যেমন ছিল মহানবী (সা.)-এর মেহমানদারি
.............................................................................................
যে সময়ে নামাজ ভেঙে দেওয়া জায়েজ
.............................................................................................
১০ নভেম্বর পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
.............................................................................................
শিশু নির্যাতন রোধে ইসলামের নির্দেশনা
.............................................................................................
যে সাতটি অভ্যাস মানুষের ধ্বংস ডেকে আনে
.............................................................................................
আজানের সময় করণীয় ও বর্জনীয়
.............................................................................................
ছোটমনিদের জন্য ইসলামিক আলোচনা
.............................................................................................
শিক্ষার্থীরা স্বস্তি পাবে ‘র‌্যাগিং প্রথা’ বন্ধ হলে
.............................................................................................
‘নিজের মন্দকাজ যদি তোমাকে পীড়া দেয়, তবেই তুমি মুমিন’
.............................................................................................
শিক্ষকের মর্যাদা দানে ইসলামের উৎসাহ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD