| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য-তথ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পুদিনার যত গুণ

পুদিনা যেমন খাবারের স্বাদ বাড়ায়, তেমনি এর অনেক ঔষধি গুণও রয়েছে। হজমের শক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে নিঃশ্বাসে সজীবতা নিয়ে আসতে এর জুড়ি নেই। জেনে নিন পুদিনার উপকারিতা।


শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে পুদিনা। শ্বাসকষ্টের রোগীরা নিয়মিত খেতে পারেন এটি। তবে অতিরিক্ত খেতে যাবেন না।
সর্দি-কাশিতে পুদিনা চা পান করুন। আরাম মিলবে।
নিয়মিত পুদিনা পাতা খেলে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বাড়ে। এতে অ্যাসিডিটি কমে। পাশাপাশি দূর হয় বদহজমের সমস্যাও।
পুদিনা পাতায় থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।


একটি গ্লাসে পানি নিয়ে পুদিনা পাতা, লেবুর টুকরা, শসার টুকরা ও আদা কুচি দিন। বরফের টুকরা দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। ঠা-া হলে পান করুন পুদিনা-পানি। গরমে পুদিনা-পানি শরীর রাখবে ঠান্ডা ও ঝরঝরে।
নিয়মিত পুদিনা পাতা খেলে ত্বক ও চুল সুস্থ থাকে।
নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে চিবিয়ে খান পুদিনা পাতা। তথ্য: এনডিটিভি

পুদিনার যত গুণ
                                  

পুদিনা যেমন খাবারের স্বাদ বাড়ায়, তেমনি এর অনেক ঔষধি গুণও রয়েছে। হজমের শক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে নিঃশ্বাসে সজীবতা নিয়ে আসতে এর জুড়ি নেই। জেনে নিন পুদিনার উপকারিতা।


শ্বাসনালী পরিষ্কার রাখে পুদিনা। শ্বাসকষ্টের রোগীরা নিয়মিত খেতে পারেন এটি। তবে অতিরিক্ত খেতে যাবেন না।
সর্দি-কাশিতে পুদিনা চা পান করুন। আরাম মিলবে।
নিয়মিত পুদিনা পাতা খেলে হজমে সহায়ক পাচক রসের ক্ষরণ বাড়ে। এতে অ্যাসিডিটি কমে। পাশাপাশি দূর হয় বদহজমের সমস্যাও।
পুদিনা পাতায় থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।


একটি গ্লাসে পানি নিয়ে পুদিনা পাতা, লেবুর টুকরা, শসার টুকরা ও আদা কুচি দিন। বরফের টুকরা দিয়ে ভালো করে নাড়ুন। ঠা-া হলে পান করুন পুদিনা-পানি। গরমে পুদিনা-পানি শরীর রাখবে ঠান্ডা ও ঝরঝরে।
নিয়মিত পুদিনা পাতা খেলে ত্বক ও চুল সুস্থ থাকে।
নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে চিবিয়ে খান পুদিনা পাতা। তথ্য: এনডিটিভি

হার্ট সার্জারি হলে ‘কি খাবেন, কি খাবেন না’
                                  

হার্টের সার্জারির পর ‘এটা খাবেন, ওটা খাবেন না’, হরহামেশাই এমন পরামর্শ দিয়ে থাকেন রোগীর আশপাশের অনেকেই। সাধারণত প্রচলিত কিছু ধারণার ওপর ভিত্তি করেই তারা এসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী হার্ট সংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া মানুষের মধ্যে ৮৫ শতাংশেরই হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের চিকিৎসা সেক্টরের দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা দিনকে দিন যেন বেড়েই চলছে। হার্ট অ্যাটাকে হয়তো সবার মৃত্যু হচ্ছে না। তবে যারা বেঁচে থাকছে তাদেরও মেনে চলতে হয় একটি নির্দিষ্ট রুটিন। অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের পর আগের লাইফস্টাইল পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ নতুন এক লাইফস্টাইল ফলো করতে হয় তাদের। যাতে হার্টের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে। হার্টের সার্জারির পর চিকিৎসকরা ওই রোগীকে একটি নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা দিয়ে দেয়, যা রোগীকে ফলো করতে হয়। অর্থাৎ আগের মতো যা ইচ্ছে তা খাওয়া ওই রোগীর জন্য নিষিদ্ধ। তার জন্য ঠিক করে দেওয়া হয় নতুন খাদ্য তালিকা। সার্জারির পরের কয়েকমাস ঘরে তৈরি খাবার খেতেই রোগীদের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। যাতে করে কোনো ধরনের ইনফেকশন না হয়। শাক-সবজি ও ফল।তবে ঘরে তৈরি সব খাবারই যে রোগীর জন্য উপকারী ব্যাপারটি তা-ও নয়। এজন্যও চিকিৎসক আলাদা নির্দেশনা দিয়ে থাকেন। যাতে উল্লেখ থাকে, কোন কোন খাদ্য ওই রোগীর শরীরের জন্য প্রয়োজন, কী কী এখন খাওয়া যাবে না, দ্রুত সেরে উঠতে সহায়তা করবে কোন কোন খাবার। এত পরামর্শ, খাদ্য তালিকা- এগুলো দেওয়ার মূল কারণ রোগী যাতে সার্জারির পর দ্রুত সেরে উঠতে পারে ও ভবিষ্যতে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো। হার্টের সার্জারির পর আশপাশের মানুষও রোগীদের অনেক কিছু খেতে, আবার অনেক কিছু না খেতে বলে থাকেন। তারা সাধারণত প্রচলিত ধারণার ওপর ভিত্তি করেই এসব পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে প্রচলিত ওইসব ধারণা কতটুকু সঠিক, কিংবা আদৌ সঠিক কিনা- এমন প্রশ্ন জাগে অনেকের মনেই। প্রচলিত ধারণার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া কিছু খাদ্যাভাসের যথার্থতা নিয়ে কথা বলেছেন ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বিপেন চন্দ্র ভামরে। ওইসব প্রচলিত ধারণা ও এর সঠিক দিকগুলো পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার।
‘সুপার ফুড’ খেলে হার্টের রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে?
অনেকেরই ধারণা সুপার ফুড (সবজি, ফল, মাছ ইত্যাদি) খেলে হার্টের রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে প্রকৃতপক্ষে সুপার ফুড বলে কিছুই নেই বলে জানিয়েছেন ডা. বিপিন চন্দ্র ভামরে। তার মতে, সাধারণত মানুষের ধারণা, সুপার ফুড খেলে হার্টের রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সুপার ফুড বলতে কিছু নেই। তবে হ্যাঁ! ব্লুব্যারি, আখ, মাছ, সবজি, বাদাম- এগুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তবে এর মানে এই না যে, এগুলো হার্টের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
তবে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত ডায়েট করলে হার্টের রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলেও জানান এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।
চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন?
হার্ট অ্যাটাকের পরই রোগীর আশপাশের সবাই বলতে শুরু করে, চর্বিযুক্ত খাবার আর নয়। এখন থেকে চর্বিযুক্ত খাবার বাদ। তবে একটি মানুষের শরীরে কোলেস্টেরলেরও (চর্বি) প্রয়োজন আছে বলে জানিয়েছেন ভারতীয় ওই চিকিৎসক।
তিনি জানান, একটি মানুষের শরীরে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট পরিমাণ কোলেস্টেরলের প্রয়োজন আছে। আমাদের শরীরের অনেক হরমোন-ই কোলেস্টেরল থেকে তৈরি হয়। এ ছাড়া আমাদের ব্রেন ও মাংসপেশির জন্যও কোলেস্টেরল প্রয়োজন। মোদ্দা কথা, প্রত্যেক মানুষের শরীরের জন্যই কোলেস্টেরল প্রয়োজন।
তবে কথা হচ্ছে, এর পরিমাণ। একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কোলেস্টেরলকে অবশ্যই ‘না’ বলতে হবে। অর্থাৎ বাইরের জাঙ্ক ফুড জাতীয় খাবার, অতিরিক্ত সুগার, সফ্ট ড্রিংকস, চর্বিযুক্ত পশুর মাংস (বিশেষ করে গরু), বাটার- এগুলো বর্জন করতে হবে। দৈনিক কোলেস্টেরল জাতীয় খাবার খাওয়ার মাত্রা ৩০-৩৫ গ্রামের মধ্যে রাখতে হবে।
লবণ।
লবণ ক্ষতিকর কিনা?
অনেকেরই ধারণা, লবণ তো প্রাকৃতিক খাবার। এটি হার্টের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে প্রচলিত এই ধারণা একেবারেই ভুল বলে জানিয়েছেন ভারতের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. বিপেন চন্দ্র ভামরে।
তিনি জানান, চর্বি ও সুগারের চেয়েও লবণ বেশি ক্ষতিকর। এটি শুধু ব্লাড প্রেশারই বাড়ায় না, একইসঙ্গে কিডনির জন্যেও ক্ষতিকর। অতিরিক্ত লবণ ব্লাড প্রেশার বাড়ায়। যার ফলে হার্টের ঝুঁকিও বেড়ে যায় বহুগুণ। এছাড়াও এটির কারণে কিডনি সংক্রান্ত নানা ধরনের জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।
অতএব লবণ খাওয়ার ব্যাপারেও হার্টের রোগীদের সতর্ক থাকতে হবে বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক।
হার্টের রোগীদের জন্য পরামর্শ:
প্রচলিত ওইসব ধারণার ব্যখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি হার্টের রোগীদের সার্জারির পর করণীয় সম্পর্কেও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ডা. বিপেন চন্দ্র ভামরে। তার পরামর্শগুলো হলো- সঠিক খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো, নিয়মিত ব্যায়াম করা, বাইরের খাবার ত্যাগ করা, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা, রিচ ফুড ত্যাগ করা, পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার খাওয়া, তৈলজাতীয় খাবার না খাওয়া, ঘরে তৈরি খাবার খাওয়া ইত্যাদি।
এছাড়া যাদের সিগারেট ও মদ পানের অভ্যাস রয়েছে, তাদেরকে সেগুলো ত্যাগ করার কথাও বলেছেন ওই চিকিৎসক।
তবে হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এজন্য খেয়াল রাখতে হবে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের দিকে। সেগুলো হলো- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ভুল খাদ্যাভাস, স্ট্রেস, নিয়মিত শরীরচর্চা না করা। এই সবগুলোই কেউ চাইলেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

 

ভিন্ন রকম ডায়েট
                                  

 সচরাচর ডায়েটের ফলে অনেক সময় বুকে জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। ডায়েট মানে কিন্তু অল্প পরিমাণে খাওয়া নয়, ডায়েট হলো খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর উপাদানের সমাবেশ। তবে এর কারণে এসিডিটির হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আপনি অনুসরণ করতে পারেন ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ডায়েট’। ভিন্ন রকমের এ ডায়েটের তত্ত্ব বের করেছেন দ্য জোন ডায়েট ফেমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বেরি সিয়ার্স ও হার্ভার্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ওষুধ বিশেষজ্ঞ এন্ড্রু উইল। এ ডায়েটের ফলে বুকের জ্বালাপোড়ার হাত থেকে রক্ষার পাশাপাশি উচ্চরক্তচাপ ও বাতের ব্যথার হাত থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে

গোটা শস্য
লাল চাল, ওটস এবং গমের আটাজাতীয় গোটা শস্য স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাদ্য। বিশেষ করে গমের আটায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। এ ধরনের খাবার রক্তে শকর্রার পরিমাণ কমাতে সাহায্য করে। ইচ্ছা করলে আপনি বাসমতি চালও খেতে পারেন। দিনে তিন থেকে পাঁচবার গোটা শস্যজাতীয় খাবার খেতে পারেন।

 

সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছ, অলিভ অয়েল ও তেলযুক্ত মাছে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড। এ ধরনের খাবার বুকের প্রদাহ রোধে সহায়ক। সপ্তাহে চার আউন্স করে দুই থেকে চারদিন খেতে পারেন সামুদ্রিক মাছ।

রঙিন ফল ও শাকসবজি
বেগুনি রঙের বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউজাতীয় সবজি ও পালংশাক ইত্যাদি রঙিন ফলমূল ও শাকসবজিতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্যান্সারের বিস্তার রোধের জন্য প্রয়োজন। বিশেষ করে ফুলকপির স্যুপ শরীরের জন্য বেশি উপকারী। আর এ ধরনের সবজি হাতের কাছে বাজারেই পাবেন। দিনে চার থেকে পাঁচবার এ ধরনের খাবার খাওয়া উচিত।

পলিফেলন সমৃদ্ধ তেল
শরীরের অক্সিডেশন বাড়াতে সাহায্য করে পলিফেলন। এতে পাওয়া যাবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, যাতে রয়েছে বুকের প্রদাহ দূর করার জন্য শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এ ধরনের তেল দিনে পাঁচ থেকে সাত চামচ খাওয়া ভালো।

মসলা
গোলমরিচ, পুদিনা, দারচিনি, হলুদ ইত্যাদি আপনার বুকের জ্বালাপোড়া দূর করতে সাহায্য করবে। অন্যান্য উপাদানের চেয়ে এক্ষেত্রে হলুদ সবচেয়ে বেশি কার্যকরী। খাবারে বেশি করে এ ধরনের মসলা ব্যবহার করা উচিত।

ঘুমের ওষুধে ঝুঁকি
                                  

প্রশান্তিদায়ক ঘুম আর দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন অনেকে। নিয়মিত এ ধরনের ওষুধ সেবন ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ পরিণতি। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিয়মিত ঘুমের ওষুধ খেলে শারীরিক ও মানসিক দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রিটেনের ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় দেখা যায়, দুশ্চিন্তা নিরোধক বা ঘুমের ওষুধ মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে রাতে ভালো ঘুম হলেও নিয়মিত এ ওষুধ সেবন মৃত্যুর আশঙ্কা ও কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যারা ঘুমের ওষুধ খান না, তাদের চেয়ে যারা খান, তাদের মৃত্যুঝুঁকি চার গুণ বেশি।

ঘুমের ওষুধ খাদ্যনালি, ফুসফুস, মলাশয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। মৃত্যু ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায় এমন ওষুধের মধ্যে রয়েছে বেনজোডায়াজেপিনস যেমন টেমাজেপাম; নন- বেনজোডায়াজেপিনস, যেমন এমবিয়েন (জোলাপিডাম), লুনেস্তা (ইসজোপিকলোন) ও সোনাটা (জালেপলন) ; বারবিটিউরেটস এবং সিডেটিভ অ্যান্টি-হিস্টামিনস। তবে নতুন গবেষণায় শুধু ঘুমের ওষুধ ও মৃত্যুঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়েছে, এদের মধ্যে কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়নি। আর তাই এ গবেষণা থেকেই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না আসার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।

ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যার অধ্যাপক স্কট উইচ বলেন, ‘এসব ওষুধ সতর্কতার সঙ্গে সেবন করা উচিৎ। শরীরে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া উল্লেখযোগ্য ও মারাত্মক হয়ে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘বলা যাবে না যে, এটা কার্যকর হবে না। আমাদের এ ব্যাপারে রোগীদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন এবং উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যার বিকল্প ব্যবস্থা যেমন কগন্যাটিভ বিহ্যাবিওরাল থেরাপি নিতে হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লা জোল্লা এলাকায় স্ক্রাইপস ক্লিনিক ভিটারবি ফ্যামিলি স্পি সেন্টারের ড্যানিয়েল ক্রিপকির নেতৃত্বে একদল চিকিৎসকের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের বড়ির কারণে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে চার গুণ বেশি। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, ২০১০ সালে কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৩ লাখ ২০ হাজার থেকে বেড়ে ৫ লাখ ৭ হাজার হয়েছে। আর এ অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে ঘুমের ওষুধের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের দাবি, কারণ বিশ্লেষণ করে নয়, পরিসংখ্যান ঘেঁটে এ তথ্য খুঁজে পেয়েছেন তারা। গবেষণায় আরো দেখা যায়, যারা অতিমাত্রায় ঘুমের বড়ি খান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকি যারা খান না তাদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। অতিমাত্রায় ঘুমের বড়ি খেলে ঘটতে পারে অকাল মৃত্যুর মতো ঘটনা।

শরীর সুস্থ ও সতেজ রাখার জন্য ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ডাক্তাররা বলেন, সবার প্রতিদিন ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। তবে যারা সাধারণত ওষুধ খেয়ে ঘুমাতে যান তাদের জন্য একটা চরম দুঃসংবাদ আছে।

গবেষণার জন্য চিকিৎসকরা দুটি দল বাছাই করেন। একটি দলে পেনসিলভানিয়ায় বসবাসরত সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশি লোক ছিল। এদের সবাই পূর্ণ বয়স্ক এবং তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঘুমের ওষুধ সেবন করতেন। গবেষকরা এসব ব্যক্তির মেডিকেল রিপোর্ট পর্যালোচনা করেন। আরেক দলে ছিলেন, যারা ঘুমের ওষুধ গ্রহণ করেন না। এদের সংখ্যাও ছিল ২৩ হাজার ৬০০ জনের বেশি। তাদের মধ্যে বয়স, পরিপ্রেক্ষিত ও স্বাস্থ্যগত ভিন্নতা ছিল। দুটি নমুনার ওপর আড়াই বছর ধরে গবেষণা চালানো হয়। চিকিৎসকরা সাধারণত যেসব ঘুমের বড়ি খাওয়ার ব্যাপক পরামর্শ দেন তা পর্যালোচনা করা হয়। ফলে দেখা যায়, এ সময়ে উভয় গ্রুপে সার্বিক মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম। গবেষকরা দেখতে পান, যারা প্রতি বছর ১৮ থেকে ১৩২ ডোজ ঘুমের ওষুধ নেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ গুণ বেশি। এমনকি যারা বছরে ১৮ ডোজের কম নেন তাদের মৃত্যুর ঝুঁকিও ৩ দশমিক ৫ গুণ বেশি। অতএব ঘুমের ওষুধ সেবন ভালো নয়। আর ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া ঘুমের ওষুধ নিজের ইচ্ছামতো যখন তখন সেবন করা তো ভয়ঙ্কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেলে কী করতে হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বুদ্ধিমানের কাজ আক্রান্তকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া।
যদি হাসপাতালে নিতে দেরি হয় তাহলে কুসুম গরম পানিতে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট মিশিয়ে তা আক্রান্তকে খাইয়ে দিতে হবে, যাতে তার পাকস্থলী থেকে বিষ পাতলা হয়ে গিয়ে বের হয়ে যেতে পারে।


প্রচুর পরিমাণে পানি খাওয়াতে হবে, যাতে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বিষ বের হয়ে যায়।
যদি আক্রান্ত ব্যক্তি শ্বাস নিতে না পারে তাহলে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিতে হবে। আর অবশ্যই চেষ্টা করতে হবে আক্রান্তকে যতটা সম্ভব সজাগ রাখতে। উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে পিঠে হালকা চাপ দেয়া যেতে পারে। এতে একদিকে আক্রান্ত ব্যক্তি যেমন অচেতন অবস্থায় যেতে বাধাগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে বমি হয়ে বিষ বের হয়ে যাবে। তবে চাপ দেয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যেন কোনোভাবেই হূিপ-ে আঘাত না লাগে। কারণ এ সময় সাধারণত হূিপ- দুর্বল অবস্থায় থাকে।
হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক রোগীকে স্যালাইন দেবেন। যদি আক্রান্ত ব্যক্তি অনেকক্ষণ আগে বারবিচ্যুরেট খেয়ে থাকে তাহলে মূত্রবর্ধক ওষুধ দিয়ে রোগীকে প্রস্রাব করানোর ব্যবস্থাও করবেন। সূত্র: বিএমজে ওপেন জার্নাল ও টাইমস অব ইন্ডিয়া

লিভার সমস্যায় যা করতে হবে
                                  

জন্ডিস আমাদের দেশে খুব পরিচিত। লিভারের বহুল পরিচিত অসুখটির নাম জন্ডিস। চোখ ও প্র¯্রাবের রংসহ সারাদেহ হলুদ হয়ে যাওয়া হলো জন্ডিসের উপসর্গ। আমাদের পেটের ডান পাশের ওপেরর দিকে থাকে লিভার বা যকৃত। যকৃত মানবদেহের অতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি শরীরের বিভিন্ন বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। প্রোটিন, শকরা এবং চর্বি জাতীয় পদার্থের বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং সেগুলি হতে শক্তি উৎপাদন লিভারের কাজ। লিভার থেকে বিভিন্ন হরমোন এবং এনজাইম তৈরি হয়।

এ ছাড়া লিভার থেকে প্লাজমা প্রোটিন এবং রক্ত জমাট বাঁধার বিভিন্ন উপাদান তৈরি হয়। আবার যকৃত থেকেই নিঃসৃত হয় বাইল বা পিওরস বা চর্বিজাতীয় খাবার বিপাক সহায়তা করে। লিভার আমাদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যাবশ্যকীয়। দেহের রক্ত প্রতি মুহূর্তে লিভারের ভেতর যায়। লিভার দেখে রক্তের সব উপাদান ঠিক আছে কি না এবং রক্তে ক্ষতিকর কোন পদার্থ আছে কিনা। রক্তে গ্লুকোজের স্বল্পতা থাকলে লিভার নিজের সঞ্চিত গ্লাকোজের থেকে সেটা পূরণ করে আর রক্তে গ্লুকোজ বেশি হলে তা লিভারের গ্লকোজের হিসেবে জমা হয়। লিভারকে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন বহু জিনিস আমরা খাই। এদের মধ্যে অ্যালকোহল অন্যতম। আমাদের দেশে অবশ্য অ্যালকোহলের তীব্রতা বেশি নয়। যদিও ইদানীং উচ্চবিত্ত পরিবারে তা বাড়ছে। এ ছাড়া নিম্নবিত্তদের মধ্যে অ্যালকোহল গ্রহণের তীব্রতা আশঙ্কাজনক।

এগুলো বিভিন্নভাবে লিভারের কোষকে ধ্বংস করে। কিছু ওষুধ যা আমরা খুব সহজেই ব্যবহার করি, যেমন- প্যারাসিটামলের মাত্রা বেশি হলেও লিভার কোষ আক্রান্ত হয়। অ্যালকোহলের বিপাক হয় মূলত যকৃতে। প্রথমে অ্যালকোহল পরিবর্তিত হয় অ্যাসিটালডিহাইডে। এরপর অ্যাসিটালডিহাইড পরিবর্তিত হয়ে তৈরি হয় অ্যাসিটেট। এই ক্রিয়া বিক্রিয়াতে বিভিন্ন এনজাইম ব্যবহূত হয়। এভাবে যে অ্যাসিটেট তৈরি হয় তা বিভিন্ন ক্রিয়া বিক্রিয়া শেষে ফ্যাটি অ্যাসিডে পরিনত হয়। তারপর এই ফ্যাটি অ্যাসিড মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণ লিভারে সঞ্চিত হয়। ফলে ধংস হয় লিভার কোষ। অ্যালকোহলের বিষক্রিয়ায় লিভারের যে ক্ষতি হয় ‘ফ্যাটি লিভার’ তার মধ্যে প্রধান। তবে আমার কথা এই যে এই অবস্থা পরিবর্তনশীল। অ্যালকোহল সেবন বন্ধ করলে লিভার তার পূর্বের অবস্থা ফিরে পেতে পারে। অ্যালকোহল একটি জটিল বাসায়নিক পদার্থ। এর বিপাক ক্রিয়ায় বহু টক্সিক মেটাবোলাইট তৈরি হয়। এসবের উপস্থিতিতে লিভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রদাহজনিত পরিবর্তন দেখা যায়। একে বলে অ্যালকোহলিক হেপাটাইটিস।লিভারে প্রদাহ হলে দেখা দেয় জন্ডিস, পেটে ব্যথা এবং শেষে লিভার বড়ো হয়ে যায়। দীর্ঘদিন লিভারে প্রদাহ থাকলে তা থেকে সিরোসিস হয়।

এতে লিভারের স্বাভাবিক গঠনকাঠামো নষ্ট হয়ে যায়। লিভার বিপাকীয় কার‌্যাবলি ঠিকমতো করতে পারে না। ফলে পেটে ও পায়ে পানি জমে, জন্ডিস দেখা যায় এবং আরো নানা রকম জটিলতা দেখা দেয়। অনেক জটিলতার পর্যায়ে রোগী অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তার ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ব্রেইন এবং কিডনি। ঠিক কতটুকু অ্যালকোহল থেকে লিভারের ক্ষতি হয় তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তার কারণ এর সাথে রয়েছে দেহের ওজন, আকার আকৃতি রোগ প্রতিরোধ ক্ষতি ইত্যাদির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। অনেকেই একটানা ৫-১০ বছর অ্যালকোহল সেবনের পর অসুস্থ হয়।

গেঁটে বাত : লক্ষণ ও প্রতিকার
                                  

যে কারণে গেঁটে বাত হয় : সহজ কথায়- রক্তে ইউরিক এসিডের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে এবং তা জয়েন্টে জমা হয়ে প্রদাহ সৃষ্ট হলে গেঁটে বাত হয়।
গেঁটে বাত একপ্রকার সিনড্রোম- যা ইউরেট নামের এক ধরনের লবণদানা জমে জোড়া বা সঞ্চিত সৃষ্ট প্রদাহ, যা শরীরের রক্তের পস্নাজমায় অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিডের উপস্থিতির ফলে ঘটে থাকে।


মূলত ৫টি কারণে গেঁটে বাত হয়।
যেমন:
১. যদি আমাদের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় খাসির মাংসসহ লালজাতীয় মাংস, শুকনো শিমজাতীয় দানা, মটরশুঁটি, মাশরুম, মাছের ডিম, কলিজা, কচু, লাল পুঁইশাক বা অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তে ইউরিক অ্যাসিড বাড়তে পারে।
২. এটা বংশানুক্রম বা জেনেটিক কারণে হতে পারে।
৩. আবার যাদের শরীর হালকা বা মেদহীন তাদের কঠোর ডায়েটিংয়ের জন্য ওজন অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।
৪. দীর্ঘদিন উপোস থাকার কারণে শরীরের রক্তে এই ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।
৫. যাদের কিডনির সমস্যা আছে তাদের শরীর থেকে ঠিকমতো তৈরি হওয়া ইউরিক অ্যাসিড প্র¯্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যেতে না পারার জন্যও গেঁটে বাত হতে পারে।

যাদের গেঁটে বাত বেশি হয়:
১. পুরুষদের এ রোগ হওয়ার প্রবণতা বেশি। নারীদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ পাঁচ গুণ বেশি।
২. গেঁটে বাত সাধারণত কম বয়সী পুরুষ ও বেশি বয়সী নারীদের হয়ে থাকে।
৩. মেনোপোজ হওয়ার পর নারীদের মধ্যে এ রোগ দেখা দিতে পারে।
৪. যারা প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার, যেমন: মাছ, মাংস, ডিম ইত্যাদি বেশি খান, তাদের এই রোগ বেশি হয়।

গেঁটে বাতের লক্ষণ
১. এই রোগের প্রধান প্রধান উপসর্গের মধ্যে পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের অসহনীয় ব্যথাসহ হাঁটু, গোড়ালি বা কাঁধে ব্যথা হতে পারে। এই ব্যথা সাধারণত প্রোটিনজাতীয় খাবার খেলে বেড়ে যেতে পারে।
২. হঠাৎ তীব্র ব্যথা, এমনকি ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যাওয়া।
৩. পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের গোড়া ফুলে লাল হয়ে যাওয়া।
৪. হাঁটু, কনুই বা অন্য যে কোনো জোড়া ফুলে যাওয়া। ক্রমান্বয়ে হাড় ও তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে।
৫. ইউরেট লবণের দানা জমাট বেঁধে টফি তৈরি করতে পারে। ক্রমান্বয়ে জোড়া স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে পারে।

চিকিৎসা ও এর প্রতিকার:
প্রাথমিক চিকিৎসা:
১. আক্রান্ত জয়েন্টে বরফ লাগাতে হবে এবং বিশ্রামে রাখতে হবে।
২. বেদনানাশক ওষুধ বেশ কার্যকর। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা:
১. ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে।
২. মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে বাদ দিতে হবে।
৩. প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছ, মাংস (হাঁস, ভেড়া, কবুতর, খাসি ইত্যাদি), ডিম, শিমের বিচি, কলিজা ইত্যাদি খাওয়া যথাসম্ভব কমিয়ে আনতে হবে।
৪. যেসব রোগের কারণে গেঁটে ব্যথা হয়, সেসব রোগের যথাযথ চিকিৎসা করাতে হবে। কিছু ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. রিহ্যাবিলিটেশন ও ফিজিক্যাল থেরাপি লাগতে পারে।

ডায়েট চার্টে রাখুন বাদাম
                                  

ডায়েট মানে না খেয়ে থাকা নয়, ডায়েট মানে হচ্ছে পরিমিত ও পর্যাপ্ত পুষ্টি সম্বলিত খাবার নিয়ম মেনে খাওয়া। রাত দুটোর সময় ক্ষুধা লাগলেই মুরগির টিক্কা মাসালা বা এক গামলা ভাত যেন না খান সেটিই হচ্ছে ডায়েট। তাহলে যারা রাত জাগেন তারা রাতে কী খাবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসকরা উত্তর দেন বাদাম। বাদাম উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল সম্বলিত খাবার হলেও এটি আপনার ডায়েটে শক্তির যোগান দেয়।

তাই মাঝরাতে বা হুটহাট ক্ষুধা লাগলে এক মুঠ চিনাবাদাম খেয়ে নিতে পারেন। কাঁচাটা পছন্দ করলে দারুণ হবে। ভাজাটাও খেতে পারেন। কাজু বাদামে ক্যালসিয়াম নেই বললেই চলে তবে এতে কপার, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফরাস প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই ওজন কমাতে পাতে রাখুন কাজু। আমন্ডে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা আপনার খাওয়ার ইচ্ছে বা খিদের বোধ কমিয়ে দিতে পার। তাই এটিও রাখতে পারেন আপনার ডায়েট চার্টে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ডায়েটেই যাবেন না। আর আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার ডায়েটে বাদাম থাকবেই থাকবে। সূত্র: জি নিউজ।

যেসব সবজিতে কার্বোহাইড্রেইট কম
                                  

এদের মধ্যে আছে পালংশাক, ফুলকপি, বরবটি, বেগুন ইত্যাদি।
ওজন কমানোর জন্য যারা ‘কার্বোহাইড্রেইট’ গ্রহণ কমিয়ে দেন, তাদের অনেকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নেন ডিম, মুরগির মাংস, মাছ ও অন্যান্য মাংস। তবে ক্যালরি কম এবং ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টিতে ভরপুর সবজির কথা ভুলে যান। সীমিত ‘কার্বোহাইড্রেইট’য়ের খাদ্যাভ্যাসে যুক্ত করতে বেশ কয়েকটি সবজির নাম জানানো হল পুষ্টিবিষয় একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে। নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসে ‘কার্বোহাইড্রেইট’য়ের মাত্রা হবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫০ গ্রাম থেকে সর্বনিম্ন ২০ গ্রাম। যা পূরণ করতে হবে প্রচুর পরিমাণে সবজি দিয়ে।
ক্যাপ্সিকাম: লাল, হলুদ ও সবুজ ক্যাপ্সিকাম বেশ পুষ্টিকর সবজি। এতে থাকে ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট’, সুরক্ষা দেয় ক্যান্সার থেকে, কমায় কোলেস্টেরল এবং প্রদাহ।


ব্রকলি: ‘টাইপ টু’ ডায়াবেটিস রোগীদের ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ কমায় ব্রকলি। ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতেও ব্রকলি সহায়ক। এছাড়াও এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ভিটামিন কে।
মাশরুম: সবচাইতে কম ‘কার্বোহাইড্রেইট’ আছে এমন সবজির মধ্যে মাশরুম অন্যতম। এছাড়াও প্রচুর পরিমাণে প্রদাহ ও সংক্রমণরোধী উপাদান থাকে এতে। এটি এককভাবে খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি অসংখ্য খাবারের পদে একে যোগ করা যায়।
পালংশাক: পালংশাকের স্বাস্থ্যগুণের কথা বলে শেষ করা যায় না। হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। চোখের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় এবং ভিটামিন ও খনিজের অন্যতম উৎস এই শাক।


ফুলকপি: শীতপ্রধান এই সবজি স্বাস্থ্য সচেতনদের অতিপরিচিত এক সবজি, অনেকের পছন্দের খাবারের তালিকাতেও স্থান আছে ফুলকপির বিভিন্ন পদের। ভাজাপোড়া, তরকারি, বিভিন্ন পদের খাবারের উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয় সুস্বাদু এই সবজি। ভোজ্য আঁশ আর ভিটামিন প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায় ফুলকপিতে।
অ্যাভোকাডো: ফল ও সবজি দুই সারিতেই রাখা যায় একে। আমাদের দেশে এটি সহজলভ্য নয়, দামও বেশি, তবে স্বাস্থ্যগুণে কোনো কমতি নেই। শরীরের জন্য উপকারী চর্বি থাকে এতে, এর ‘কার্বোহাইড্রেইট’ সহজে হজমযোগ্য। তেল থেকে আসা ‘ট্রাইগ্লিসেরাইড’ ও ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ‘এলডিএল’য়ের পরিমাণ কমায় অ্যাভোকাডো।
মটরশুঁটি: ভোজ্য আঁশ থাকে বেশি আর ‘কার্বোহাইড্রেইট’ থাকে কম, এমনটাই ধারণা করা হয় এই সবজি সম্পর্কে। তাই ক্যান্সার থেকে বাঁচাতে এবং মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে উপকারী হবে মটরশুঁটি।


শসা: ভিটামিন, খনিজ উপাদান ইত্যাদি ভরপুর তো থাকেই, সেইসঙ্গে আরও অনেক উপাদান থাকে এতে যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ক্যান্সার থেকেও বাঁচাবে, দূর করবে প্রদাহ ও সংক্রমণও।
বেগুন: ভিটামিন, খনিজ উপাদান এতেও কম নয়। পাশাপাশি কোলেস্টেরল কমাতে এবং হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আদর্শ সবজি বেগুন। এতে আরও আছে ‘নাসুনিন’ নামক ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’, যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং তার ক্ষয় রোধ করে।

চিত্ত চাঞ্চল্যের খিদা কমাতে করনীয়
                                  

 মন খারাপ, মানসিক চাপ, অতি আবেগ- এরকম অবস্থায় মুখরোচক খাবার খাওয়া সামলাতে রয়েছে উপায়। কারও সঙ্গে তুমুল ঝগড়া, অফিসে কোনো বাজে অভিজ্ঞতা ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে প্রচ- মন খারাপ। আর এই অবস্থায় বিশেষ কিছু খাওয়ার জন্য মন অস্থির হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি পরিচিত মনে হবে অনেকের কাছেই। চিকিৎসাবিজ্ঞান যার নাম দিয়েছে ‘ইমোশনাল ইটিং’। তবে মানসিক অস্বস্তি কাটাতে অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবারের উপর জোর দেওয়া সামলানো আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং এর পেছনে কাজ করে অনেকগুলো বিষয়। মানসিক স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল বিস্তারিত।


‘ইমোশনাল ইটিং’ কী?
মন খারাপ হলেই অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়া হল মানসিক চাপের প্ররিপ্রেক্ষিতে শরীরের ‘ফিজিওলজিকাল’ ও ‘সাইকোলজিকাল’ প্রতিক্রিয়া। মনের ভেতরে যে ঝড় বইছে তার প্রতি নিজেকে অমনোযোগী করে তুলতে বেশিরভাগ সময়ই মানুষ খাবারের আশ্রয় নেয়।


পুরুষের তুলনায় নারীরা এ ক্ষেত্রে বেশি ভুক্তভোগী। কেউ জেনে বুঝে সারাদিনের ধকল কাটাতে সুস্বাদু খাবার বেছে নেন, কেউ আবার মনের অজান্তেই। মানসিক দুরাবস্থা কাটাতে অতিরিক্ত খাওয়ার এই বদভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে নানান জটিলতা ডেকে আনতে পারে। যেমন- অতিরক্ত ওজন, খাওয়া নিয়ে অনুশোচনা, মানসিক চাপ কাটানোয় দুর্বলতা ইত্যাদি।
নিজেকে নিয়ন্ত্রণের উপায়: ক্ষোভ, হতাশা, দুঃখ- অনুভূতি যেটাই হোক, এর সঙ্গে মোকাবেলা করার জন্য মুখরোচক খাবার কেনার আগে ভাবতে হবে।
এই অবস্থায় প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত একজন বন্ধুর শরণাপন্ন হওয়া, তার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করা কিংবা অন্য গল্প করা। প্রিয় লেখকের একটি বই নিয়ে বসে পড়তে পারেন কিংবা বাইরে হাঁটতে বের হতে পারে। খাওয়ার ইচ্ছে অদম্য হয়ে উঠলে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে অল্প কিছু খেতে পারেন। আরেকটি কার্যকর উপায় হতে পারে পানি পান।
কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলা
খাবার দিয়েই কমানো যায় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে। আবার খাওয়ার অভ্যাস পাল্টেও আবেগতাড়িত খিদার অনুভূতি কমানো যেতে পারে।


* কমলালেবু হতে পারে এ ক্ষেত্রে সুন্দর সমাধান। মানসিক চাপে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে জাগে বেশি। একটা কমলায় প্রায় ৫০ ক্যালরি পাওয়া যায়। ফলে চিনি-জাতীয খাবার খাওয়ার ইচ্ছে কমাতে পারে কমলা। তাছাড়া এই ফলের খোসা ছাড়ানোর সময় যে গন্ধ বের হয়ে সেটাও মানসিক চাপে স্বস্তি দিতে পারে। আর ভিটামিন সি দেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করবে জোড়দার।
* যদি মচমচে খাবারের প্রতি বেশি আকর্ষণ জাগে তবে খাওয়া যেতে পারে বাদাম। পেস্তাবাদাম এ ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। এর খাস্তা স্বাদ কমাবে মুখরোচক খাবার খাওয়ার অনুভূতি। এছাড়াও রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি ও আঁশ। তাছাড়া রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতেও সাহায্য করে এই বাদাম।
* খাবার খেতে ব্যবহার করতে পারেন লাল রংয়ের পাত্র। কারণ লাল রং মস্তিষ্কে থেমে যাওয়ার সংকেত দেয়।
* ডান-হাতি হলে বাম হাতে আর বাম-হাতি হলে ডান হাতে খাওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে খাওয়ার গতি কমানো সম্ভব।
* মানসিক চাপে থাকার সময়, ‘স্ট্রেস হরমন কর্টিসল’য়ের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যার ফলে বাড়ে ওজন। কর্টিসলের মাত্রা কমাতে পান করা যেতে পারে চিনি ছাড়া রং চা। পাশাপাশি গভীর শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীর ছাড়তে হবে, শ্বাস প্রশ্বাসের এই ব্যায়াম মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভুল করা থেকে বিরত থাকতে ফোন, ইমেইল, ফেইসবুক আপাতত বন্ধ রাখাই ভালো হবে। মানে যতক্ষণ না কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আসে।


আসল বিষয় হল
মানসিক অস্বস্তির সময় মূল কাজ হবে নিজের অনুভূতির প্রতি মনোযোগ দেওয়া এবং তা নিয়ে চিন্তা করা। সেই সঙ্গে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং নিজের যতœ নেওয়া।
আর বাস্তব জীবনে মানসিক চাপ আসবেই। সেটা মোকাবেলা করা শিখতে হবে আর সেই উপায় হতে হবে স্বাস্থ্যকর।

লাল খাবারের যত উপকার
                                  

 টমেটো, চেরি ফল, আপেল, পেঁয়াজ, স্ট্রবেরি, বেদানা, লাল-মরিচ, লাল রংয়ের বীজজাতীয় খাবার, তরমুজ, লাল কপি, লাল ক্যাপসিকাম, লাল শাক ইত্যাদি আরও অনেক ফল ও সবজি পাওয়া যায় বাজারে যাদের রং গাঢ়। রংয়ের মিলের কারণে সবগুলোতেই কিছু পুষ্টিকর উপাদান থাকে বিভিন্ন মাত্রায়। লাল রংয়ের ফল ও সবজি বেশি খাওয়া কারণে কী রকম স্বাস্থ্যগত উপকার পাওয়া যেতে পারে তা জানানো হল পুষ্টিবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।


অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: ‘অ্যান্থোসায়ানিন’ নামক ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ মেলে লাল রংয়ের খাবারে, যার আছে শক্তিশালী প্রদাহনাষক ক্ষমতা। রক্তসঞ্চালনকারী নালী ও হাড়ের জোড়গুলোর জন্য অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও লাল রংয়ের ফল ও সবজিতে মেলে ‘লাইকোপেন’, যা আরেকটি ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ এবং খাবারের রং লাল হওয়ার কারণ। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এই ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ কার্যকর।
পটাশিয়াম: সুস্থ হৃদযন্ত্র আর নিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পটাশিয়াম। আর লাল রংয়ের ফল ও সবজিতে এই খনিজ উপাদান থাকে প্রচুর পরিমাণে।
ভিটামিন: ভিটামিন এ এবং সি’য়ের চাহিদা পূরণে মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় লাল রংয়ের ফল ও সবজি। হৃদরোগ ও বাতের ঝুঁকি এড়াতেও এই ভিটামিন জরুরি। এছাড়াও স্বাস্থ্যোজ্জল ত্বক, চুল ও নখের জন্য ভিটামিন এ এবং সি গুরুত্বপূর্ণ। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতেও লাল রংয়ের খাবারের ভূমিকা রয়েছে।
ইলেক্ট্রোলাইটস: শরীরের কোষগুলো যাতে তাদের কাজ সঠিকভাবে করতে পারে সেজন্য চাই ‘ইলেক্ট্রোলাইটস’। পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হল এমন কিছু ‘ইলেক্ট্রোলাইটস’ যা লাল রংয়ের ফল ও সবজিতে থাকে যথেষ্ট পরিমাণে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এদের ভূমিকা রয়েছে।


ফ্লাভানয়েডস: শরীরে ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ হিসেবে কাজ করে এই ‘ফ্লাভানয়েডস’, যা পাওয়া যায় গাঢ় রংয়ের খাবারে। লাল রংয়ের খাবারে থাকা ‘ফ্লাভানয়েড’-জাতীয় উপাদানটির নাম ‘কুয়েরসেটিন`, যা অ্যালার্জি ও হাঁপানির সমস্যা সমাধানে সহায়ক। ছবি: রয়টার্স।

যেসব ক্ষতি হয় চুলে রঙ করলে
                                  

আজকাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সৌন্দর্য পিপাসুদের নতুন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। চুলে রং করা তাদের মধ্যে অন্যতম। নিজেকে সাজানোর জন্য শুধু নারীরা নন, পুরুষরা চুলে রং করেন। সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য চুলে সোনালি, মেরুন, মেহগনিসহ আরও নানা রং করা হয়। এটি ফ্যাশন ধরে রাখার পাশাপাশি সাজপোশাকেও বৈচিত্র্য আনে। দেখতে সুন্দর লাগলেও এটি কিন্তু চুলের জন্য ক্ষতিকর। গবেষকরা বলেছেন, চুলে রং করলে চুলের নানা ক্ষতি হয়।

কেননা, হেয়ার কালারে উপস্থিত অক্সিডাইজিং এজেন্ট হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ও একটি অ্যালকালাইজিং এজেন্ট অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয়, যা একটি কেমিক্যাল রিঅ্যাকশনের মাধ্যমে চুলের মেলানিনকে হালকা করে নেয় ও হেয়ার কালারের রঙিন পিগমেন্টকে চুলের শ্যাফটের ভেতর ঢুকতে সাহায্য করে। এতে পরবর্তী সময়ে চুলের ওপর নানা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অনেকের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল (সেনসিটিভ) হয়ে থাকে। ফলে সামান্য রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা মাত্রই অ্যালার্জির সমস্যা শুরু হয়ে যায়। পিপিডি অনেক বেশি অ্যালার্জি উদ্রেককারী রাসায়নিক যার প্রভাবে মাথার ত্বকে চুলকানি, জ¦ালা, পুলে যাওয়া, হ্রাশ ওঠা, খুশকি সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ছাড়াও অ্যালার্জি যদি মারাত্মক পর্যায়ে চলে যায় তাহলে চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ, নাক ও মুখের চারপাশের ত্বকে অ্যালার্জির প্রকোপ দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত চুলের রঙ ব্যবহার করলে চুল ঝরে যাওয়ার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। চুল রংয়ের ক্ষতিকর রাসায়নিক চুলের ফলিকল একেবারেই নষ্ট করে দেয়। ফলে চুলের মাঝখান থেকে চুল ভেঙে যেতে শুরু করে এবং নতুন চুল গজানোতেও বাধা সৃষ্টি করে। এ ক্ষেত্রে চুলে রং করলে নানা ক্ষতির কথা উলেস্নখ্য করেছেন গবেষকরা।

এগুলো হলো-
চুলের বাইরের স্তর নষ্ট করে
চুলে রং করা মাত্র সেটি বেশ কয়েকটি বাধা পেরিয়ে তারপর চুলের অন্দরে গিয়ে পৌঁছায়। তবেই কালারটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়। গবেষকরা বলেন, এই বাধাগুলো পেরনোর সময় ধীরে ধীরে চুলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। প্রথমে চুলের একেবারে বাইরের যে দেয়াল রয়েছে সেটিকে ভেঙে দেয় অ্যামোনিয়া, তবেই হেয়ার কালারটি ভিতরে ঢুকতে পারে। আর এই দেয়ালটা ভেঙে যাওয়ার কারণে চুলের প্রথম রক্ষাকবচটা আর কর্মক্ষম তাকে না। ফলে চুলের ক্ষতি শুরু হয়ে যায়।


চুলের প্রকৃত রঙকে তুলে দেয়
চুলের প্রথম রক্ষাকবচ ভেঙে দেয়ার পর দ্বিতীয় ধাপে হেয়ার কালারে উপস্থিত বিস্নচ বা পারোঅক্সাইড ধীরে ধীরে আমাদের চুলের যে কালো রং রয়েছে তাকে ঘষে ঘষে তুলে দিতে শুরু করে। আর প্রাকৃতিক কালারের জায়গা নেয় কৃত্রিম কালার। এই পুরো প্রক্রিয়াটি যতটা সহজ মনে হয়, আদতে কিন্তু তা নয়। একদিকে চুলের রক্ষাকবচ নষ্ট, অন্যদিকে পরোক্সাইডের মতো বিষ চুলের ভেতরে প্রবেশ করছে। এমনটা হলে চুলের স্বাস্থ্য একেবারেই ভালো থাকে না।


অ্যামোনিয়া ফ্রি রঙও ক্ষতিকর
অ্যামোনিয়া ছাড়া যে রংগুলো পাওয়া যায় সেগুলো একেবারেই ক্ষতিকারক নয়? এই ধারণাও ভুল। অ্যামোনিয়া ফ্রি কালারও চুলের ক্ষতি করে। একটা সহজ বিষয় হয়, চুলের প্রাকৃতিক রং না ওঠা পর্যন্ত কৃত্রিম রং নিজের জায়গা করবে কীভাবে! আর এমনটা যখনই হবে, তখনই তো চুলের দফারফা হয়ে যাবে। প্রসঙ্গত, অ্যামিনিয়া ছাড়া যে রংগুলো পাওয়া যায় সেগুলো চুলের কিছুটা কম ক্ষতি করে, যা কোনো পার্থক্য নেই।


দীর্ঘস্থায়ী রঙের বেশি ক্ষতি
রং যত বেশি সময় চুলে রাখবেন, তত বেশি ক্ষতি হবে। রং লাগানোর পর অনেকেই দীর্ঘ সময় পর স্নান করেন। ভাবেন, যত বেশি সময় রাখবেন, তত ভালো রং হবে। তবে একথা ঠিক যে, ডাইটা বেশি সময় রাখলে চুলের রং আরও উজ্জ্বল হয়। কিন্তু সেই সঙ্গে রংয়ে উপস্থিত কেমিক্যালগুলো বেশি বেশি করে চুলের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে চুলের ক্ষতি করার সুযোগ পায়। মনে রাখবেন, চুলের কৃত্রিম রং যত উজ্জ্বল হবে, তত চুলের বেশি ক্ষতি হবে।
চোখ জ¦ালা করে
রংয়ে উপস্থিত পারোঅক্সাইড চুলের অভ্যন্তরে থাকা প্রোটিনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সালফারের জন্ম দেয়। সেই কারণেই এমন ঝাঁঝালো গন্ধ বের হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে অনেকের চোখ জ¦ালা করার মতো সমস্যা দেখা দেয়।


শরীরের ওপর প্রভাব
একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, চুলের রংয়ে উপস্থিত একাধিক কেমিক্যাল বিশেষ করে অ্যামিনোফেনল, ডায়ামিনোবেনঞ্জিন এবং ফেনিলেনডিয়ামাইন শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করে। হেয়ার কালারের কেমিক্যালে মানুষের ক্যান্সারও হতে পারে (যেমন-লিউকেমিয়া, নন-হজকিনস লিম্ফোমা, মূত্রথলির ক্যান্সার, বস্নাড ক্যান্সার ও মালটিপল মেয়েলোমা)। তাই কম সময় অন্তর অন্তর চুলে রং করার অভ্যাস ছাড়ুন। না হলে কিন্তু বিপদ বাড়বে!


চুলে রঙ করলে আরও যেসব সমস্যা হতে পারে-
# হেয়ার কালারে চুলের উজ্জ্বলতা কমে যায়। এ ছাড়া চুলপড়া, আগা ফাটা, খুসকি হতে পারে।
# হেয়ার কালারে চর্মরোগ, ফুসফুস বা চোখের ক্ষতি হতে পারে। হেয়ার কালার ব্যবহারের ফলে শ্বাসকষ্ট বাড়তে পারে।
# হেয়ার কালার মাথার ত্বকে ইরিটেশন ও অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। হেয়ার কালার ব্যবহারের কয়েক ঘণ্টা থেকে শুরু করে একদিনের মধ্যে চুলকানি, লালচে ভাব, জ¦ালাপোড়া ও অস্বস্তি হতে পারে। এ রকম অস্বস্তি হলে হেয়ার কালার ব্যবহার করা উচিত নয় একদম। তাই কালার ব্যবহার করার আগে অ্যালার্জি টেস্ট করে নেয়া দরকার।
# চুল কালার করলে চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যায়। আগা ফাটা ছাড়াও চুল মাঝে দিয়ে ফেটে ফেটে ঝরে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। ফলে চুল পাতলা হয়ে যায় আস্তে আস্তে। এ ধরনের সমস্যা হলে ফেটে যাওয়া চুল কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।
চুলের যতেœ করণীয়
চুল রং করার পর এর যতœ নেয়াও কিন্তু সমান জরুরি। তা না হলে চুলের ক্ষতি অনিবার্য। এ ক্ষেত্রে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা-
# চুলের রং রোদে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বাইরে বের হওয়ার আগে রোদ নিরোধক সিরাম ব্যবহার করুন। চাইলে চুলের স্কার্ফ কিংবা ছাতাও ব্যবহার করতে পারেন।
# রং করা চুলের জন্য ভালো মানের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার কিনতে পাওয়া যায়। চুলের যতেœ সেগুলোই ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
# রং করা চুলে সরাসরি মেহেদি লাগাবেন না। মেহেদির সঙ্গে অন্যান্য উপকরণ মেশানো থাকলে তবেই সেটা ব্যবহার করুন।
# চুলের কোনো কোনো অংশ ফাটা, খারাপ থাকতে পারে। সে চুলগুলো কেটে তারপর রং করান। তা না হলে চুল ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
# চাইলে রং করা চুলের যতেœ ১৫ দিন পরপর পার্লারে গিয়ে হেয়ার স্পা, ক্রিম ট্রিটমেন্ট ডিপ কন্ডিশনিং করাতে পারেন।
# সপ্তাহে দুবার প্রোটিন প্যাক ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে প্রোটিন প্যাক বানাতে ডিম, টক দই, অলিভ ওয়েল একত্রে মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ৪০ মিনিট রাখুন। পরে ব্যবহার করুন।

 

যেভাবে জলাতঙ্ক থেকে বাঁচবেন
                                  

 জলাতঙ্ক বার্ যাবিস প্রাণীবাহিত মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা হলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং মৃত্যুর হার শতভাগ। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি বছর জলাতঙ্কে দুই হাজার মানুষ মারা যায় এবং ৮০ হাজার লোক জলাতঙ্কের প্রতিষেধক নেয়, যাদের জলাতঙ্কবাহিত সন্দেহজনক প্রাণী কামড় দিয়ে থাকে। কারণ : জলাতঙ্ক বার্ যাবিস সাধারণতর্ যাবিস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। দুই ধরনের ভাইরাস আছে- স্ট্রিট বা ওয়াইন্ড ভাইরাস এবং ফিক্স ভাইরাস।


কোথায় থাকে : সব স্তন্যপায়ী প্রাণী জলাতঙ্ক বার্ যাবিস আক্রান্ত হতে পারে এবং ভাইরাসটি বহন করে এবং ওইসব প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে আসতে পারে। এশিয়া মহাদেশে কুকুরই প্রধান বাহক- যা এই রোগটি ছড়ায়। এ ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর মধ্যে বিড়াল, পাতিশিয়াল, শিয়াল, ভোঁদড় জাতীয় প্রাণী, ভালুক জাতীয় প্রাণী, নেকড়ে, বেঁজি এবং বাদুড়ের মধ্যে এ ভাইরাসটি থাকে। কম পাওয়া যায় খরগোশ, ইঁদুর ইত্যাদি প্রাণীর মধ্যে। উষ্ণ রক্তবাহিত প্রাণী এই ভাইরাস বহন করে। সাধারণত মুখের রস স্যালাইভায় এই ভাইরাস থাকে এবং এসব প্রাণী কামড় দিলে অন্যের শরীরে ভাইরাস সহজে প্রবেশ করে।


ইনকিউবেশন পিরিয়ড : এটা খুবই তারতম্য দেখা দেয়। সময়কাল পাঁচ-ছয় দিন থেকে কয়েক বছর হতে পারে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২০ থেকে ৬০ দিন। অর্থাৎ কামড় দেয়ার পর ২০-৬০ দিন পর উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কী হয় :
১। রোগটি শুরু হওয়ার দুই-চার দিন আগে মনে হবে সুচ বা পিন দিয়ে কেউ শরীরে আঘাত করছে।
২। ব্যথা অনুভব হবে এবং শরীর চুলকাবে। বিশেষ করে কামড়ের স্থানে এবং এটা স্নায়ু দ্বারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়াবে।
৩। হঠাৎ করে মানসিক পরিবর্তন যেমন অস্থিরতা, স্তব্ধতা, চুপচাপ, অবসাদ, জ¦রজ¦র ভাব হবে। পরিবারের প্রতি অবহেলা ও অমনোনিবেশ অথবা অতিরিক্ত সহানুভূতি বা ভালোবাসা দেখা দিবে।

রোগ হলে : জলাতঙ্ক হলে তিন ধরনের পরিবর্তন রোগীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়।
১ : স্পাস্টিক বা অতিমাত্রায় অস্থিরতা, স্পর্শ করলেই লাফ দিয়ে ওঠা, ভয় পাওয়া, শব্দ শুনলে অস্থির হওয়া, কোনো কিছু দেখলে চিৎকার দিয়ে ওঠা। মুখের ভেতরে, গলায় শ্বাসনালি, খাদ্যনালি সঙ্কোচন হয়। ফলে হাইড্রোফবিয়া হবে, যাকে বলে জলাতঙ্ক অর্থাৎ পানি পিপাসা লাগবে, কিন্তু পানি পান করতে পারবে না। পানির শব্দ, পানি কাছে আনলে ভয় পাবে। এজন্য এই রোগকে জলাতঙ্ক রোগ বলে।
২ : ডিমেনশিয়া : রোগী পাগলের মতো ছটফট করবে। অস্থির হবে, ভাঙচুর করবে, ভীত সন্ত্রস্ত করে তুলবে। এরপর অজ্ঞান হয়ে যাবে।
৩ : প্যারালাইটিক বা অবশ হয়ে যাওয়া। রোগ হওয়ার সাত থেকে ১০ দিন পর এ অবস্থা হবে। এ অবস্থা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগী মারা যাবে।
চিকিৎসা : জলাতঙ্ক একবার হলে বাঁচার আর কোনো উপায় থাকে না। এমনকি কোনো চিকিৎসাও নেই। সুতরাং রোগী যেন আরামে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তার ব্যবস্থা করা। এজন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে সিস্টেমেটিক চিকিৎসা দেয়া।
যেমন স্যালাইন দেয়া, ব্যথা হলে ব্যথার ওষুধ, এন্টির্-যাবিস ওষুধ দেয়া, রোগীকে আলো থেকে, শব্দ থেকে, বাতাস থেকে দূরে রাখা। ঘুমের ওষুধ দেয়া, স্টেরয়েড (ংঃবৎড়রফ) দেয়া, প্রেডনিসলন, মেনিটল দেয়া যেতে পারে। এন্টি-থাইমোসাইটিস গেস্নাবিউলিন, রিবাভাইরিন,র্ যাবিস ইমিউনোগ্লবিউলিন জি দেয়া। সব কিছুই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে।
প্রতিরোধ : জলাতঙ্ক রোগ দুইভাবে প্রতিরোধ করা হয় :
১। আক্রান্ত হওয়া মাত্র বা কুকুর বা অন্য জীব দ্বারা কামড় ও আঁচড় দেয়া মাত্র চিকিৎসা।
২। আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রতিরোধ।
৩। আক্রান্ত হওয়া মাত্র ক্ষতস্থান থেকের্ যাবিস ভাইরাস সরিয়ে ফেলা, যাতে স্নায়ুগুলো আক্রান্ত হতে না পারে।র্ যাবিস প্রতিষেধক টিকা দেয়া। বাংলাদেশে প্রচুর জলাতঙ্ক রোগী দেখা যায়। সুতরাং যে কোনো পশুর কামড় বিশেষ করে কুকুর বা বিড়াল কামড় বা আঁচড় দিলেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন বা টিকা দিতে হবে এবং কুকুর ও বিড়ালকে ১০ দিন দেখে রাখতে হবে। যদি এই ১০ দিন কুকুর বা বিড়াল ভালো থাকে চিকিৎসা বা ভ্যাকসিন দেয়া বন্ধ করা যেতে পারে। যদি কুকুর বা বিড়াল অসুস্থ হয়ে পড়ে, মারা যায় বা হারিয়ে যায়, তাহলে চিকিৎসা পুরো মাত্রায় দিতে হবে।
আক্রান্ত হওয়া মাত্র : ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা। সাবান পানি দিয়ে খুব ভালোভাবে পরিষ্কার করা। ক্ষতস্থানে স্পিরিট, পভিডোন আয়োডিন এবং টিংচার আয়োডিন দিয়ে পরিষ্কার করা। ক্ষতস্থান গভীর হলে সেখানকার ছিঁড়ে যাওয়া মাংস, শিরা, ময়লাবস্তু সরিয়ে ফেলা, প্রয়োজনে অবশ করিয়ে পরিষ্কার করা। কোনো সেলাই দেয়া ঠিক হবে না। যদি ক্ষতস্থান বড় হয় এবং সেলাই প্রয়োজন হয়, তাহলে স্থানটি এন্টির্ যাবিস সেরাম দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সেরাম না পাওয়া গেলে পভিডোন আয়োডিন অথবা টিংচার আয়োডিন দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে খুব ভালোভাবে। ড্রেসিং বা ব্যান্ডেজ করা যাবে না। ধনুষ্টঙ্কারের টিকা দিতে হবে। ইনফেকশন না হওয়ার জন্য একটি অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে।
পশু পর্যবেক্ষণ করা : পশুর মধ্যে কুকুর ও বিড়াল হলে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, অন্যগুলোর বেলায় প্রয়োজন নেই।
কী কী পর্যবেক্ষণ করতে হবে : কুকুর ও বিড়ালে ১০ দিন ধরে নিম্নলিখিত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তাহলেই বোঝা যাবে কুকুর বা বিড়ালটির শরীরের্ যাবিস ভাইরাস আছে কি না।
১। চলাফেরায় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে কি না। হঠাৎ ক্ষেপে যাওয়া বা ঝিমানো।
২। লক্ষ্যহীনভাবে চলাফেরা বা দৌড়ানো, কাউকে দেখে আক্রমণ বা ধেয়ে আসা।
৩। মুখে লালা ঝরা।
৪। গলার স্বর পরিবর্তন।
৫। ঘরের কোনায় বা যে কোনো স্থানে শুয়ে ঝিমানো।
৬। খাওয়ার প্রতি অনীহা বা না খাওয়া। খাদ্য নয় এমন জিনিস খাওয়া বা কামড় দেয়া- যেমন পাথর, ইট, কাঠ, কাগজ, লোহা ইত্যাদি।
৭। কুকুর বা বিড়ালটি মরে যাওয়া।
জলাতঙ্ক প্রতিষেধক নেয়া : জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে অ্যান্টির্-যাবিস ভ্যাকসিন বা টিকা এবং অ্যান্টির্-যাবিস সেরাম দিতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চিকিৎসা শুরু করতে হবে। সন্দেহ থাকলে পুরো ডোজ ভ্যাকসিন নেয়া উচিত।
বর্তমান যুগে আধুনিক চিকিৎসায় নিম্নলিখিতভাবে ইনজেকশন দেয়া হয়। এর আগে ১৪টা ইনজেকশন নাভির পাশে দিতে হতো, যা ছিল কষ্টকর। সুতরাং আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গের্ যাবিস ভ্যাকসিন দিতে হবে।
বাজারের্ যাবিস ও অ্যান্টির্-যাবিস ভ্যাকসিন পাওয়া যায়।
কিভাবে দিবেন : ইনজেকশন প্রথম দিন দেয়ার পর তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ডোজ, সাত দিনে তৃতীয় ডোজ, ১৪ দিনে চতুর্থ ডোজ, ২৮ বা ৩০ দিনে পঞ্চম ডোজ (অর্থাৎ ০, ৩, ৭, ১৪, ২৮ বা ৩০ দিনে) দিতে হবে।


আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রতিষেধক : যারা কুকুর, বিড়াল বা অন্য প্রাণী লালন-পালন করেন, তারা প্রতিষেধক হিসেবে টিকা দিতে পারেন। প্রথম ডোজ দেয়ার পর সাত দিনে দ্বিতীয় ডোজ, ২১ বা ২৮ দিনে তৃতীয় ডোজ এবং বুস্টার ডোজ দিতে হবে এক বছর পর।
দুই ধরনের ভ্যাকসিন পাওয়া যায়। চঈঊঈঠ ভ্যাকসিন তিন বছর এবং চঠ জঠ ভ্যাকসিন পাঁচ বছর পর্যন্ত প্রতিরোধ ক্ষমতা রাখতে সক্ষম।
সুতরাং আপনারা আদরের সোনামণি থেকে শুরু করে সবার জীবন রক্ষার্থে জলাতঙ্কের টিকা দিতে ভুলবেন না। বিশেষ করে যারা কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, ইঁদুরসহ অন্যান্য প্রাণী লালন-পালন করেন। আর আক্রান্ত হলে বিলম্ব না করে অবশ্যই নিয়মানুযায়ী টিকাগুলো দিয়ে নেবেন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

শুধু বয়স দায়ী নয় বলিরেখার জন্য!
                                  

আমরা মেনেই নিয়েছি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বয়সের ছাপ বা বলিরেখা পড়ে। বলিরেখা যদি ২৫ পেরোতেই পড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে এজন্য শুধু বয়স নয় কিছু অভ্যাসও দায়ী।


এরমধ্যে রয়েছে:
মুখের মেদ কমাতে অনেকে চুইং গাম চিবান, কিন্তু অতিরিক্ত চুইং গাম চিবানোর ফলে চোয়ালের পাশে বলিরেখা পড়তে পারে
ঘুম কম হচ্ছে? তাহলেও পড়তে পারে বলিরেখা
সূর্যের কড়া আলোর নিচে বেশিক্ষণ থাকলে ত্বকে কালো পোড়া ভাবের সঙ্গে সঙ্গে বলিরেখাও দেখা দিতে পারে
মেকআপ করা এবং তোলার সময় চাপ পড়তে পারে ত্বকে, যা থেকে পড়তে পারে বলিরেখা
শোয়ার অভ্যাসের ওপরও নির্ভর করে অসময়ে বলিরেখা।


বলিরেখা রুখতে যা করতে হবে:
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন ভিটামিন গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পালংশাক, মিষ্টি আলু, পেঁপে, কমলা, জলপাই ও বাদাম। সেই সঙ্গে প্রচুর পানি পান করতে হবে।
স্ট্রেসমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে, সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন


বাইরের ধুলো আর দূষণ ত্বকের ক্ষতি করে। তাই দিনে অন্তত দু’বার পানি আর ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন
মাসে দু’বার ডিমের সাদা অংশ ত্বকে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর পরিষ্কার করে ধুয়ে ফেলুন। প্রাকৃতিকভাবেই সূক্ষ্ম দাগগুলো কমে আসবে
একটু উঁচু বালিশে সোজা হয়ে শোওয়ার চেষ্টা করুন। দু’টি বালিশের ফাঁকে বা হাতের মধ্যে মুখ গুঁজে শোবেন না।

 

পুরো দিন ক্লান্ত লাগলে যা করনীয়?
                                  

 সারাক্ষণ ক্লান্ত? এই অনুভূতিটি আজকাল বেশ কমন। অবিরাম ক্লান্তি আমাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিতে পারে। মূলত আধুনিক জীবনযাত্রার কারণে অপর্যাপ্ত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, অতিরিক্ত কাজ করার জন্যই এমনটা হচ্ছে।


এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে যা করতে পারেন:
অপর্যাপ্ত ঘুম
নিশ্চয় বহুবার লক্ষ্য করেছেন যে, ঠিকমতো ঘুম না হলে ক্লান্তি বোধ করছেন। ঘুমের অভাবে পরের দিন আরও ক্লান্তি বোধ হয়। ঘুমের জন্য ঘরের পরিবেশ যেমন শান্ত রাখতে হবে। তেমনি সারাদিনের সঙ্গী হাতের স্মার্টফোনের ব্যবহারও বন্ধ করতে হবে ঘুমানোর আগে থেকেই। এছাড়াও, বিছানায় যাওয়ার কয়েকঘণ্টা আগে চা-কফি পান না করার চেষ্টা করুন। অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন।


পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ
প্রায় সবাই আজকাল ওজন কমানোর চিন্তায় ডায়েটে কম ক্যালোরি রাখতে চান। তার প্রভাবও প্রকাশ পায় ক্লান্তিতে। কম ক্যালোরি গ্রহণ করলে সারা দিনের কাজগুলো সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিতে পারে না। ফলে ক্লান্তি বোধ হয়, ডায়েট অনুসরণ করতে হলে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার রাখুন। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া ওজন কমাতে নিজে নিজে ডায়েট ঠিক করবেন না।


প্রোটিন কম গ্রহণ
প্রোটিন বিপাকের উন্নতি করে এবং আপনাকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। এটি ওজন কমাতে সহায়তা করে। কম প্রোটিন গ্রহণ আপনাকে কম উদ্যমী করতে পারে। এজন্য ডায়েটে উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার রাখুন যেমন ডিম, বাদাম এবং দুগ্ধজাতীয় পণ্য।
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান
ত্বকের স্বাস্থ্য থেকে ওজন হ্রাসসহ শুধুমাত্র পর্যাপ্ত পানি পান স্বাস্থ্য সমস্যার অর্ধেকেরও বেশি নিরাময় করে। তাই নিজেকে উজ্জীবিত রাখতে যেখানেই যান একটি ছোট পানির বোতল সঙ্গে রাখুন।


স্ট্রেস
মানসিক চাপও ক্লান্তির কারণ। স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত মেডিটেশন, খেলাধুলা বা আপনার আগ্রহের যেকোনো বিষয় নিয়ে সময় কাটান। সব সময় ইতিবাচক চিন্তা করুন ও কাজের পাশাপাশি কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।


অ্যাক্টিভ
শারীরিক কার্যক্রম কমে গেলে আমরা অলস হয়ে যাই। যার জন্য অল্পতেই ক্লান্তি পেয়ে বসে। ক্লান্তি দূর করতে অ্যাক্টিভ থাকতে হবে। একদিনেই হয়ত পুরোপুরি অ্যাক্টিভ হওয়া সম্ভব নয় তবে ধীরে ধীরে চেষ্টা করতে হবে।

ক্যানসারের ঝুঁকি খাদ্যাভাসে
                                  

ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ধূমপান বর্জন, শরীরের সঠিক ওজন ধরে রাখা, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম এবং পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে প্রয়োজন মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। কারণ, শরীরের সদর দরজা হলো মুখ। কেবল পান-তামাক খেলেই ক্যানসার হয়, তা নয়। মুখগহ্বরের অস্বাস্থ্যকর যেকোনো পরিস্থিতিই ক্যানসারের কারণ হতে পারে। মুখের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের প্রধান কারণ অপরিষ্কার মুখ। মুখের জীবাণু খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে এবং মুখের রক্তনালি দিয়ে দেহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে যেতে পারে। মুখে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ এবং দীর্ঘদিনের ক্ষতও ক্যানসারে রূপ নেয়। কাজেই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি মুখের স্বাস্থ্যের ব্যাপারেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন:
পান, জর্দা, সাদাপাতাকে না বলুন।


ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করুন।
খাদ্যতালিকায় চিনিযুক্ত খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে।
সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

ক্ষতিকর রাসায়নিকযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

দিনে দুবার সঠিক পদ্ধতিতে দুই মিনিট করে ব্রাশ করুন।
দাঁতের গোড়ায় আটকে থাকা খাবার ফ্লস করে বের করুন।
ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ও মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে।
ধারালো, নড়বড়ে ও ভাঙা দাঁত থাকলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বাঁধানো দাঁত থাকলে নিয়মিত পরীক্ষা করুন।
মুখের ভেতর কোথাও ক্ষত বা ঘা হয়েছে কি না, পরীক্ষা করুন। আয়নায় দেখে নিজেই এটি যাচাই করা যায়।
কোনো সমস্যা না থাকলেও বছরে দুবার দন্ত চিকিৎসকের মাধ্যমে মুখের ভেতর পরীক্ষা করা উচিত।
লেখক: মেডিকেল অনকোলজিস্ট, শান্তি ক্যানসার ফাউন্ডেশন
সাবেক বিভাগীয় প্রধান, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল

শিশুর মাথাব্যথা
                                  

 শিশুদের মাথাব্যথার একটি বেদনাদায়ক ব্যাপার হচ্ছে অনেক অভিভাবক এবং শিক্ষক ব্যথার সমস্যাটিকে গুরুত্ব দিতে চান না। ছোটদের আবার কিসের মাথা ব্যথা, পড়ালেখা না করার ফন্দি, এক ধরনের দুষ্টামি। এসব ভেবে তারা শিশুকে দমিয়ে রাখতে চান। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যার মাথা আছে, তার ব্যথাও থাকতে পারে। শিশুদেরও তাই মাথাব্যথা হতেই পারে। মাথাব্যথার কিছু প্রাথমিক কারণের মধ্যে অন্যতম হলো `মাইগ্রেন`। মাইগ্রেনের লক্ষণ বোঝানোর সময় আমরা `অরা` (অটজঅ) নামে একটি শব্দ ব্যবহার করি। এর বাংলা বোঝানো একটু কঠিন। তীব্র ব্যথার সময় রোগী হয়তো একটি `ঘোরে`র (দৃষ্টি কিংবা অনুভূতির ঘোর) মধ্যে থাকে। অথবা মনে হয় তাকে ঘিরে এক অব্যক্ত `আভা` ছেয়ে আছে। এই `আভা` বা, `ঘোর`ই হচ্ছে `অরা`। `অরা`বিহীন মাথাব্যথাও হতে পারে এবং এটিই সংখ্যায় বেশি। মাথার একদিক (শিশুদের উভয়দিকও হতে পারে) জুড়ে সূক্ষ্ণ কম্পমান বা ঝাঁকুনি দিয়ে ব্যথা শুরু হয়ে ৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা (অনেক শিশুদের ১-২ ঘণ্টাও থাকে) পর্যন্ত স্থায়ী হয়। অনেক সময় বমিভাব বা বমি, আলো এবং শব্দ অসহ্য লাগতে পারে। হাঁটা চলা, দৌড়, সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গেলে ব্যথা বাড়তে পারে। দৃষ্টি`র `অরা` হলে মনে হয় যেন চারদিকে নানা রঙের আলোর ঝলকানি হচ্ছে। ব্যথা চলে গেলে ঝলকানিও উধাও হয়ে যায়। এ ছাড়া আঁকাবাঁকা লাইন, উজ্জ্বল বিন্দু এসব `অরা`ও হতে পারে। অনুভূতির `অরা` হলে শিশু ভাবে তার শরীরে যেন পতঙ্গ হেঁটে চলছে। পরে একধরনের ঝিমঝিম ভাব আর অসারতা পেয়ে বসে। আরেক ধরনের `অরা`তে রোগীর কথা বলা বন্ধ হয়ে যায়, অথচ সে কিন্তু সব শুনছে। লৌকিকভাবে এটাকে অনেকে বলে `বোবায় ধরা`। মাইগ্রেন ব্যথার একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এটি বারবার ফিরে আসতে পারে।

উপরোলিস্নখিত লক্ষণগুলো ছাড়াও অনেকের মাথা ঘুরানো, কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাঁটতে গিয়ে হেলে পড়া, পেটে ব্যথা, অবশ অনুভূতি এসব নিয়েও মাইগ্রেন প্রকাশ পেতে পারে। চিকিৎসক রোগের ইতিহাস, শারীরিক লক্ষণ দেখে নিশ্চিত হন এটি মাইগ্রেন কিনা। অনেক সময় মাথায় আঘাত, মস্তিষ্কের অন্য কোনো সমস্যা, প্রদাহ, ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, চোখ বা সাইনাসের সমস্যার জন্যও মাথাব্যথা হতে পারে, যেগুলো আসলে মাইগ্রেন নয়। কিছু ক্ষেত্রে মাথার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা লাগতে পারে। তীব্র মাথাব্যথা কমানোর জন্য এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে। তবে সমস্যা হচ্ছে একেক রোগীর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিবেচনায় ওষুধ ভিন্ন হতে পারে। একজন যেই ওষুধে উপকার পেয়েছেন, সেই ওষুধ আরেকজনের জন্য অকার্যকর হতে পারে। চিকিৎসকের দক্ষতা এ ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করে। তবে শিশুদের জন্য কিছু নিয়ম এখানে জানাচ্ছি, যেটা উপকারে লাগতে পারে।

১। স্কুলে থাকাকালীন আপনার সন্তান কি মাথাব্যথা বা অন্য সমস্যা হলে শিক্ষককে জানাতে লজ্জা বা ভয় পায়? শিক্ষক কি সমস্যার গুরুত্ব দিতে অপারগ? তাহলে অবশ্যই এই ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলুন।

২। বাচ্চার এই ব্যথাকে `দুষ্টামি`, `বাজে অভ্যাস` বলে উড়িয়ে দেবেন না।
৩। কোনো বেলার খাবার বাদ পড়া, পানিশূন্যতা, কম বা বিঘিœত ঘুম এই ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।
৪। প্রচুর পানি পান করা, নিয়মিত শারীরিক অনুশীলন, নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া খুবই জরুরি।
৫। পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। যাদের পড়ালেখার চাপ বেশি তাদের ঘুমের স্বার্থে ফেসবুক, গেমস, মোবাইল, ইন্টারনেট, টেলিভিশন এসবের পেছনে সময় কাটানো বাদ দিতে হবে।
৬। ক্যাফেইন মাইগ্রেন বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কফি, কোমল পানীয় বাদ দিতে হবে। ফাস্টফুড, ভাজাপোড়া, অতিরিক্ত তেল চর্বি, চকলেট, দুধজাতীয় খাবার পরিহার করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে।
৭। ইদানীং ধূমপান এবং মদ্যপানের হার অতিরিক্ত বেড়ে যাচ্ছে। শুধু মাইগ্রেনের জন্য নয়, এই দুটি জিনিস চিরতরে বাদ দিতে হবে।
মাথাব্যথা অনেক সময় বড় কোনো সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়। তাই শিশুদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক এবং সংবেদনশীল হতে হবে। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে, বিশেষ করে জাতীয় স্নায়ুরোগ হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগরে শিশুদের মাথাব্যথার চমৎকার চিকিৎসা হয়। তাই এই সমস্যা থাকলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করুন।


   Page 1 of 87
     স্বাস্থ্য-তথ্য
পুদিনার যত গুণ
.............................................................................................
হার্ট সার্জারি হলে ‘কি খাবেন, কি খাবেন না’
.............................................................................................
ভিন্ন রকম ডায়েট
.............................................................................................
ঘুমের ওষুধে ঝুঁকি
.............................................................................................
লিভার সমস্যায় যা করতে হবে
.............................................................................................
গেঁটে বাত : লক্ষণ ও প্রতিকার
.............................................................................................
ডায়েট চার্টে রাখুন বাদাম
.............................................................................................
যেসব সবজিতে কার্বোহাইড্রেইট কম
.............................................................................................
চিত্ত চাঞ্চল্যের খিদা কমাতে করনীয়
.............................................................................................
লাল খাবারের যত উপকার
.............................................................................................
যেসব ক্ষতি হয় চুলে রঙ করলে
.............................................................................................
যেভাবে জলাতঙ্ক থেকে বাঁচবেন
.............................................................................................
শুধু বয়স দায়ী নয় বলিরেখার জন্য!
.............................................................................................
পুরো দিন ক্লান্ত লাগলে যা করনীয়?
.............................................................................................
ক্যানসারের ঝুঁকি খাদ্যাভাসে
.............................................................................................
শিশুর মাথাব্যথা
.............................................................................................
নির্ঘুম কাটঁতে কিছু খাবার
.............................................................................................
অতিরিক্ত লবণ তামাকের মতো ক্ষতিকর
.............................................................................................
চুল পড়া সমস্যা, মাত্র ১ মাসে চুল পড়া কমাবে
.............................................................................................
আনন্দের পাশাপাশি ঈদে ডেঙ্গু রোগীর যত্ন
.............................................................................................
কাঁঠাল পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য
.............................................................................................
যেসব খাবার ডেঙ্গু হলে উপকারী
.............................................................................................
পানি পান যে সময়ে জরুরি
.............................................................................................
কোয়েলের ডিমের যত গুণ
.............................................................................................
ছত্রাকজনিত রোগ ও চিকিৎসা
.............................................................................................
কীভাবে বুঝবেন বাত কেন হয়
.............................................................................................
গরমে যে খাবারগুলো খাবে না
.............................................................................................
বর্ষায় পায়ের যত্ন
.............................................................................................
আখের রসে ওজন কমবে
.............................................................................................
প্রাকৃতিক উপাদানে ঠোঁটের যত্ন নিন
.............................................................................................
যে খাবার আজীবন যৌবন ধরে রাখবে
.............................................................................................
কেন পাকা আম খাবেন?
.............................................................................................
যেভাবে মুখের দুর্গন্ধ দূর করবেন
.............................................................................................
মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
.............................................................................................
দৃষ্টিশক্তি নিয়ে যত ধারণা
.............................................................................................
বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে
.............................................................................................
৭ কারণে হাত-পা অবশ হতে পারে
.............................................................................................
অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডার সমস্যা
.............................................................................................
প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়ায় আম
.............................................................................................
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের স্নায়ু ‘পুনর্বহাল’ সম্ভব!
.............................................................................................
বুঝেশুনে শিশুর যত্ন নিন
.............................................................................................
বাড়িতে থাকুক একটি তুলসি গাছ
.............................................................................................
ইচ্ছে হলেই ওষুধ নয়
.............................................................................................
বর্ষায় ত্বক সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
মহৌষধ অশ্বগন্ধা
.............................................................................................
কাঁঠালের পাঁচ গুণ
.............................................................................................
জামের ১০ উপকার
.............................................................................................
তিলের তেল দিয়ে চুলের যত্ন
.............................................................................................
রাতের খাবারের পর হাঁটলে ওজন কমে
.............................................................................................
ঘরোয়া উপায়ে গ্যাস্ট্রিক দূর করুন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]