| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য-তথ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মায়েদের জন্য উপকারী খাবার

 প্রকৃতিতে রয়েছে এমন কিছু খাবার যা স্তন্যদানকারী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় পুষ্টিবিদ রুজুতা দিভাকরের দেওয়া কয়েকটি খাবারের তালিকা এখানে দেওয়া হল।
আজোয়াইন: মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে এটা সাহায্য করে।


কাঠবাদাম: কাঠবাদাম প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। স্তন্যদানকারী মায়ের দৈনিক ১,২৫০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিল: তিলে আছে নানান স্বাস্থ্যগুণ। এর ভেষজ গুণের জন্য বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিল ডায়াবেটিসের পাশাপাশি হৃদরোগ এবং আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আর মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।


হেলেঞ্চা ধরনের শাক: সন্তান জন্মদানের পরে অধিকাংশ নারীর শরীরে লৌহের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হেলেঞ্চা, হিঞ্চে, কলমিসহ বাগানে হয় এরকম ঝাঁঝাঁলো শাক। এগুলো উচ্চ লৌহ ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। তবে মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থায় এটা না খাওয়া ভালো। কেননা এটা সন্তান জন্মদানের সময় প্রভাব রাখে।
নারিকেল: এতে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং কোলেস্টেরল নেই। এতে আছে চারটা কলার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম। এছাড়াও আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং লরিক অ্যাসিড। এটা শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে যা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য জরুরি।


মেথি: মেথিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নারীদের দুগ্ধগ্রন্থিকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
                                  

 প্রকৃতিতে রয়েছে এমন কিছু খাবার যা স্তন্যদানকারী মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
স্বাস্থ্য-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় পুষ্টিবিদ রুজুতা দিভাকরের দেওয়া কয়েকটি খাবারের তালিকা এখানে দেওয়া হল।
আজোয়াইন: মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতে এটা সাহায্য করে।


কাঠবাদাম: কাঠবাদাম প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। স্তন্যদানকারী মায়ের দৈনিক ১,২৫০ মি.গ্রা. ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিল: তিলে আছে নানান স্বাস্থ্যগুণ। এর ভেষজ গুণের জন্য বহু বছর ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তিল ডায়াবেটিসের পাশাপাশি হৃদরোগ এবং আর্থ্রাইটিস থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে। আর মায়ের বুকের দুধ বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।


হেলেঞ্চা ধরনের শাক: সন্তান জন্মদানের পরে অধিকাংশ নারীর শরীরে লৌহের ঘাটতি দেখা দেয়। এই সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে হেলেঞ্চা, হিঞ্চে, কলমিসহ বাগানে হয় এরকম ঝাঁঝাঁলো শাক। এগুলো উচ্চ লৌহ ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ। তবে মনে রাখতে হবে গর্ভাবস্থায় এটা না খাওয়া ভালো। কেননা এটা সন্তান জন্মদানের সময় প্রভাব রাখে।
নারিকেল: এতে ক্যালরির পরিমাণ কম এবং কোলেস্টেরল নেই। এতে আছে চারটা কলার চেয়ে বেশি পটাশিয়াম। এছাড়াও আছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং লরিক অ্যাসিড। এটা শরীর আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে যা স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য জরুরি।


মেথি: মেথিতে থাকা বিভিন্ন উপাদান নারীদের দুগ্ধগ্রন্থিকে প্রভাবিত করে। অর্থাৎ দুধ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি নিয়ে যত ধারণা
                                  

 টেলিভিশন দেখা থেকে শুরু করে গাজর খাওয়া- চোখের ক্ষতি বা ভালোর জন্য প্রচলিত এরকম বহু বিষয় রয়েছে।
এটা করা ঠিক না, ওটা খাওয়া উপকারী। চোখের দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখার নানান উপায় আমরা জেনেছি নানান উৎস থেকে। তবে তার সবগুলোই সঠিক নয়। তাই চোখের সুস্বাস্থ্য নিয়ে ভুল ধারণাগুলো চিহ্নিত করা জরুরি, যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই অঙ্গের সঠিক যত্ন নেওয়া সম্ভব হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে জানানো হল এমন কিছু প্রচলিত ধারণা সম্পর্কে।
ধারণা: মৃদু আলো পড়লে চোখের ক্ষতি হয়।


অল্প আলোতে পড়লে চোখের উপর চাপ পড়ে, দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু দৃষ্টিশক্তি কমে যায় না। পড়ার সময় খেয়াল রাখতে হবে যতটুকু আলো আছে তা যেন সরাসরি যে পৃষ্ঠাটি পড়ছেন তার উপর পড়ে। আলো উৎস ঘাড়ের পেছনে হলে শরীরের ছায়ার কারণে সমস্যা হবে। আবার যতটুকু ওই পৃষ্ঠার উপর পড়বে তা প্রতিফলিত হবে। এই প্রতিফলিত আলো চোখের জন্য ক্ষতিকর।


ধারণা: গাজর খেলে দৃষ্টিশক্তি বাড়ে।
একথা ভুল নয়, কারণ গাজরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে। তবে সবুজ পত্রল শাকসবজি এবং তাজা ফল গাজরের চাইতেও উপকারী। ভিটামিন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে ভরপুর থাকে এগুলো, যা চোখের ছানি পড়া ও অন্যান্য চোখের সমস্যা থেকে সুরক্ষা দেবে। তবে একবার দৃষ্টিশক্তি লোপ পেলে সেটা ফিরিয়ে আনতে পারে না কোনো খাবারই।
ধারণা: সবসময় চশমা পরা ভালো না।


চোখের ডাক্তার যদি চশমা ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে থাকেন তবে তা ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে যেকোনো কিছু পড়ার সময়। ডাক্তারের পরামর্শ উপেক্ষা করে চশমা ছাড়া পড়লে চোখের উপর বাড়তি চাপ পড়বে এবং দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাবে। তাই যতটা সময় সম্ভব চশমা ব্যবহার করতে হবে। সঠিক পাওয়ারের চশমা পরলে কখনই চোখের ক্ষতি হয় না।
ধারণা: সারাদিন কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ নষ্ট হয়।
এতেও চোখের উপর প্রচ- ধকল যায়, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি কমে যায় না। তবে একটানা কয়েক ঘণ্টা তাকিয়ে থাকলে সমস্যা হতে পারে। তাই প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পরে ১০ মিনিটের বিরতি নিতে হবে। এতে চোখ বিশ্রাম পাবে।


ধারণা: চোখ ট্যারা করলে সেভাবেই থেকে যাবে।
এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। চোখের পেশি চোখের মনিকে সবদিকে নড়াচড়া করার স্বাধীনতা দেয়। তাই দুই চোখের মনি একসঙ্গে নাকের দিকে টেনে আনলে তা কখনই সেই জায়গায় আটকে যায় না।

বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে
                                  

বিরামহীন বৃষ্টি যখন বাইরে, অন্দরের পরিবেশও হয়ে পড়ে স্যাঁতসেঁতে। বৃষ্টির দিনে ঘরের ভ্যাপসা গন্ধ ও স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে মেনে চলুন কিছু টিপস।
কয়েকটি লেবুর স্লাইস ২২৫ ডিগ্রিতে প্রি-হিট করা ওভেনে বেক করুন। এবার ওভেনের দরজা খুলে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। ঘরের স্যাঁতসেতে গন্ধ চলে যাবে।


অল্প কয়েকটি এলাচ, দারুচিনি ও তেজপাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। ফুটে গেলে আঁচ হালকা করে বেশ কিছুক্ষণ চুলায় বসিয়ে রাখুন। রান্নাঘরে বেশ একটা ফুরফুরে ভাপ ছড়িয়ে পড়বে।
রান্নাঘর থেকে কাঁচা মাছের গন্ধ তাড়াতে চাইলে চুলায় অল্প অলিভ অয়েল দিন। ১ টুকরা দারুচিনি তেলে ফেলে আঁচ কমিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ।
বর্ষাকালে কাপড় শুকাতে চায় না সহজে। রাতে ঘুমানোর সময় ঘরের মধ্যে রশি টাঙিয়ে কাপড় মেলে দিন। ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে যাবে।
সিংকের নেটে ১ কাপ ভিনেগার ও বেকিং সোডা মিশিয়ে ঢেলে দিন। আধঘন্টা পর পানি ঢেলে দিন। পোকামাকড় দূর হবে।
ওয়ারড্রবের কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে ন্যাপথালিন রেখে দিন। মাঝে মাঝে রোদে দিন উঠিয়ে রাখা কাপড়।


শুকনো ও ভেজা ময়লা আলাদা বাক্সে রাখুন। যেসব জিনিস সহজে পচে যায়, সেগুলোকে নিয়মিত বাইরে ফেলার ব্যবস্থা করুন। প্রতিবার নোংরা বাইরে ফেলে আসার পর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ক্লিনার দিয়ে ডাস্টবিন ধুয়ে, রোদে শুকিয়ে নিন। পাশাপাশি প্রতিবার ডাস্টবিন ব্যবহার করার আগে ডাস্টবিনের ভিতর অর্ধেক কাপ বোরক্স ছড়িয়ে নিন। আর সরাসরি বিন-এ নয়, ময়লা ফেলুন বিন-এর ভেতরে রাখা ডিসপোজাল গার্বেজ ব্যাগে।
এঁটো বাসন রাতেই ধুয়ে ফেলুন।


বাসন পরিষ্কার করার স্পঞ্জ প্রতি সপ্তাহে বদলে ফেলুন।

৭ কারণে হাত-পা অবশ হতে পারে
                                  

 অফিসে এক পায়ের ওপর আরেক পা উঠিয়ে কাজ করছেন, অনেকক্ষণ পর মনে হচ্ছে উপরের পাটি অবশ অবশ লাগছে। অথবা একটানা দীর্ঘক্ষণ হাত, পা বা শরীরের কোনো অংশের ওপর চাপ পড়লে ওই অংশ সাময়িকভাবে অবশ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নায়ুগুচ্ছে কোনো কারণে চাপ পড়লে সংকুচিত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শরীরের সেই অংশে অনুভূতি কাজ করে না তখন অবশ লাগে।
চিকিৎসকদের মতে, শারীরিক দুর্বলতা, কোনো সংক্রমণের প্রভাবেও অবশ হতে পারে। কখনো কখনো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও এমনটা হতে পারে।


আসুন জেনে নেই অবশ হওয়ার কারণগুলো
১. দীর্ঘক্ষণ হাতের ওপর ভর দিয়ে শোয়া বা পায়ের ওপর পা তুলে রাখার ফলে অবশ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে এমনটা বারবার হতে থাকলে এবং শরীরের অন্যান্য অংশেও এরকম হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। এই সমস্যায় স্নায়ুতন্ত্রের মায়োলিন সিথ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
২. যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের অনেকের মধ্যেই পেরিফেরাল স্নায়ুরোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রকোপ বেশি থাকে। পেরিফেরাল স্নায়ুর সমস্যায় পায়ের পাতা ঘন ঘন অবশ হয়ে যেতে পারে। পরবর্তীকালে এই অবশভাব শরীরের ওপরের অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। এগুলো অবহেলা করবেন না, ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত চেকআপে থাকবেন।
৩. স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অবশের সঙ্গে সঙ্গে হাত, পা ও শরীরের অন্যান্য অংশে তীব্র ব্যথা এবং জ¦ালা হতে পারে। স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরালজিয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। শরীরের যে কোনো অংশেই এই সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে কোনো সংক্রমণের কারণে বা বয়সের কারণে হতে পারে এই রোগ।
৪. মস্তিষ্কে যদি রক্ত সরবরাহ পর্যাপ্ত না হয় সে ক্ষেত্রে স্ট্রোক হয়। বিশেষ করে রক্তনালী কোনো কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে এমন হয়। স্ট্রোকের প্রথম লক্ষণ হলো বাঁ হাত অবশ হয়ে যাওয়া এবং তা ক্রমশ হাতের তালু পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।
৫. `লাইম ডিজিজে`র কারণে শরীরের কোনো কোনো অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এটি একটি পতঙ্গবাহিত রোগ যা দ্রম্নত ছড়িয়ে পড়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে জ¦র, ক্লান্তি, ঘাড়, পেশী ও জয়েন্টের ব্যথা ইত্যাদি। সময় মতো এর চিকিৎসা করা না হলে স্নায়ুর আরও নানা জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৬. প্রাথমিকভাবে সিস্টেমিক ডিজিজে হাত, পাসহ শরীরের একাধিক অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এই রোগে কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। সিস্টেমিক ডিজিজে হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে যেতে পারে। এর জন্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী টিউমার বা স্নায়ুর নানা সমস্যা হতে পারে।
৭. ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যার কারণে হাত, পাসহ শরীরের একাধিক অংশ অবশ হয়ে যেতে পারে। এটি মস্তিষ্কের এমন এক ধরনের সমস্যা, যার কারণে স্মৃতির সমস্যা দেখা দিতে পারে, পেশীতে ব্যথা বা ঘন ঘন মেজাজ হারানোর সমস্যাও হতে পারে।

অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডার সমস্যা
                                  

গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠান্ডার সমস্যা বেশি দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং তাকে সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। এ সময় ঠান্ডা লেগে শিশুর মামস হতে পারে। মামস অনেক সময় অল্প দিনে সেরে যায়। কিন্তু বেশি দিন গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইনজেকশন দেয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞের পরমার্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।
গরমে চুলের গোড়া ঘেমে যায়, সঙ্গে ধুলাবালির আক্রমণ তো রয়েছেই। তাই রোগপ্রতিরোধে প্রথমেই শিশুর চুলের প্রতি বিশেষ যতœ নিন। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে চুলের ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়। এক বছর বা তার কম বয়সে শিশুদের গরমের সময় মাথা অবশ্যই ন্যাড়া করে দিতে হবে। আর চুল একান্তই লম্বা রাখতে চাইলে তার প্রতি আরো একটু যতœশীল হোন। গোসলের পর চুল ভালোভাবে মুছে দিন। বড় ফাঁকওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুলটা ঠিকভাবে আঁচড়ে দিন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে তা ভালোভাবে বেঁধে দিন। শিশুর চুলে তাদের উপযোগী ও ভালোমানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তাদের জন্য আলাদা চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। সপ্তায় দুই দিন শিশুর চুলে শ্যাম্পু করা ভালো।

প্রয়োজনীয় কিছু পরমার্শ
ক. গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে এবং ধুলাবালি থেকে যতটা সম্ভব দূরে রাখতে হবে।
খ. বাইরে বের হলে শিশুর জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি সব সময় সঙ্গে রাখতে হবে।
গ. শিশু ঘেমে গেলে ঘাম মুছে দিতে হবে। শরীরের ঘাম শুকিয়ে গেলে শিশুর ঠান্ডা লাগতে পারে।
ঘ. গরমে যতটা সম্ভব শিশুকে নরম খাবার খাওয়ানো ভালো।
ঙ. শিশুর ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে, যেনর্ যাশ-জাতীয় সমস্যা না হয়।

চ. গরমে শিশুকে প্রচুর পানি খাওয়াতে হবে, যেন প্র¯্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে।
ছ. সদ্যোজাত শিশুকে সব সময় ঢেকে রাখতে হবে, যেন তাদের শরীর উষ্ণ থাকে। তবে খেয়াল রাখতে হবে সে যেন ঘেমে না যায়।
বিভিন্ন ধরনের অ্যালার্জেন যেমন ধুলাবালি, ধোঁয়া, ফুলের রেণু, কল কারখানার নির্গত বিষাক্ত গ্যাস, গাড়ির ধোঁয়া, বিশেষ কিছু খাবার, ওষুধ ইত্যাদি অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সৃষ্টি করে। যে কোনো সুস্থ ব্যক্তিরও অ্যালার্জি হতে পারে। সামান্য উপসর্গ থেকে শুরু করে মারাত্মক উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি হঠাৎ তীব্র আকারে আক্রমণ করতে পারে। নিউইয়র্কে গবেষকরা বলেছেন, যানবাহনে, রাজপথে হাঁচি উদ্রেককারী অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে। ক্যালিফোর্নিয়া ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজির মতে, প্রস্তরফলক, ইট প্রভৃতি দ্বারা আস্তর করার পথে বিভিন্ন উৎস থেকে কমপক্ষে ২০টি অ্যালার্জেন পাওয়া যায়। ফুটপাতের ধূলিকণাকে বর্ণনা করেন এভাবে যে এগুলো হচ্ছে মৃত্তিকার ধুলা, গাড়ির গচ্ছিত নিঃশেষিত পদার্থ, টায়ারের ধুলা, গাছপাতার খন্ড এবং অন্যান্য যৌগিক পদার্থের জটিল সংমিশ্রণ। পথের ধুলা শহরবাসীদের অ্যালার্জি/অ্যাজমায় প্রবলভাবে গ্রহণ করে। কারণ রাজপথ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন, লোকজন প্রভৃতির মাধ্যমে এগুলো দ্রম্নতবেগে বায়ুমন্ডলে মিশে যায়। তাদের মতে শতকরা ১২ ভাগ শহরবাসী নিঃশ্বাসের সঙ্গে এমন বায়ুবাহিত অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে।
গবেষকদের মতে রাজপথে খুব নিকটতম বসবাসকারীদর পথের ধুলার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অ্যালার্জি ও অ্যাজমার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং রাস্তার ১০০ মিটারের মধ্যে বসবাসকারী শিশুদের মধ্যে কাশি, হুইজ, রার্নিনোজ এবং নির্ণীত অ্যাজমার প্রকোপ অধিক। অ্যাজমা ও অ্যালার্জি নিঃসন্দেহে একটি যন্ত্রণাদায়ক স্বাস্থ্যসমস্যা, তাই অ্যালার্জি ও অ্যাজমা যাতে না হয় সেদিক লক্ষ্য রাখা উচিত। অ্যালার্জির সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। কী কারণে এবং কোন কোন খাবারে অ্যালার্জি দেখা দেয় তা শনাক্ত করে পরিহার করে অ্যালার্জি থেকে রেহাই পাওয়া সম্ভব। অ্যালার্জি সৃষ্টি হয় তখন, যখন ইমোনোগোবিন-ই-এর পরিমাণ রক্তে বেড়ে যায়। যার ফলে অ্যালার্জেন অ্যান্টিবডির বিক্রিয়ার পরিমাণ বেশি হয় এবং এ বিক্রিয়ার ফলে নিঃসৃত হিস্টাসিনের পরিমাণ বেশি হয় যা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। মোট কথা ধুলাবালি, ধোঁয়া, গাড়ির বিষাক্ত গ্যাস, কল কারখানার সৃষ্ট পদার্থ, বৃষ্টিতে ভেজা, শীতের কুয়াশা, ফুলের রেণু, বিশেষ কয়েকটি খাবার যেমন- চিংড়ি, ইলিশ, বোয়াল, গজার, গরুর মাংস, হাঁসের ডিম, পাকা কলা, আনারস, নারিকেল, কসমেটিকস ও অগণিত জানা-অজানা জিনিস আমাদের শরীরে কাশি, শ্বাসকষ্ট অ্যালার্জি ও অ্যাজমার সৃষ্টি করতে পারে।
অ্যাজমা বা হাঁপানি
দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ এবং তার প্রতি সংবেদনশীলতাই অ্যাজমা বা হাঁপানি। এর উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয় হাঁচি, কাশি, বুকে চাপা ভাব, শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণে বাধা।
হাঁপানির কারণ
বংশগত এবং পরিবেশগত কারণে হাঁপানি হলেও এ দুটি উপাদান কিভাবে সৃষ্টি করে তা পরিষ্কারভাবে জানা সম্ভব হয়নি। তবে প্রদাহের কারণে শ্বাসনালি লাল হয়, ফুলে যায়, সরু হয় এবং ইরিটেন্ট বা উদ্দীপকের প্রতি অতিসংবেদনশীল হয় যার ফলে হাঁপানির উপসর্গ দেখা যায়। নিম্নবর্ণিত বিভিন্ন উপাদানের কারণে হাঁপানির উপসর্গ সাধারণত দেখা যায়।
হাঁপানি উপসর্গের উপাদান (ট্রিগার)-
ইনফেকশন, সাধারণত ভাইরাসজনিত উপসর্গ। যেমন- কোল্ড, ফ্লু ইত্যাদি
অ্যালার্জেন বিশেষত ধুলাবালি, পরাগরেণু, গৃহপালিত পশুপাখির ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ ইত্যাদি
ব্যায়াম বা শরীরিক পরিশ্রম, বিশেষত শীতকালে
আবেগ। যেমন- উত্তেজনা, ভয়, রাগ
ইরেটেন্ট, প্রধানত বায়ুদূষণ
ধূমপান (হাঁপানি রোগী নিজে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের ধূমপান পরিহার করতে হবে)
আবহাওয়ার পরিবর্তন
খাবার। যেমন- কৃত্রিম রং এবং কিছুকিছু খাবার
ওষুধ। যেমন- এসপিরিন ও অন্যান্য ঘঝঅওউঝ এবং বেটা বকার।
হাঁপানির উপসর্গ-
ঘড়ঘড় করে শব্দসহ শ্বাস-প্রশ্বাস
শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হওয়া
বুকে ব্যথা এবং
কাশি ইত্যাদি।
চিকিৎসা
হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। সঠিক চিকিৎসা এবং ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে হাঁপানি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যেসব উত্তেজকের (ট্রিগার) কারণে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায় রোগীকে সেগুলো শনাক্ত এবং পরিহার করতে হবে।
এ ছাড়াও সব হাঁপানি রোগীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি নজর রাখতে হবে-
ধূমপান এবং তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শ পরিহার করতে হবে
ঠান্ডা বাতাস হাঁপানির তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। এ সময় ওষুধের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে হবে
ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রম নিরুৎসাহিত করা উচিত নয়। ব্যায়াম শরীরকে ভালো রাখে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও অন্যান্য জটিল রোগবালাই থেকে শরীরকে রক্ষা করে। সঠিক ওষুধ ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যায়ামের সময় বা পরে হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা পরিহার করা সম্ভব
বাড়ির পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং বাড়িতে অবাধ বিশুদ্ধ বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে

 

প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়ায় আম
                                  

 বাড়তি ওজন যেমন ক্ষতিকর, তেমনি উচ্চতা ও বয়স অনুযায়ী কম ওজন থাকাটাও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। ওজন বাড়াতে চাইলে বিভিন্ন ফল খেতে পারেন। এগুলোতে থাকা প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও চিনি ওজন বাড়াবে প্রাকৃতিকভাবে ।


পাকা আম আম
আমে প্রচুর পরিমাণে কপার, ভিটামিন বি, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ই পাওয়া যায়। মিষ্টি এই ফলটিতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আরও অনেক পুষ্টিকর উপাদান। এতে থাকা ফ্রুকটোস উচ্চ ক্যালোরি ও কার্বের জোগান দেয় শরীরে, ফলে বাড়ে ওজন। এক কাপ আমে ৯৯ ক্যালোরি পাওয়া যায়। ওজন বাড়াতে চাইলে তাইলে নিশ্চিন্তে খেতে পারেন রসালো এই ফল।


কলা
কার্ব এবং ক্যালোরিযুক্ত কলাপ প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন বাড়াতে কার্যকর। সকালের নাস্তায় ওটমিল বা টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন কলা।

নারকেল
ক্যালোরি, ফ্যাট ও কার্ব সমৃদ্ধ নারকেলে আরও পাওয়া যায় পর্যাপ্ত ফসফরাস ও কপার। নারকেল ও নারকেলের পানি দুটোই খেতে পারেন ওজন বাড়াতে চাইলে।

শুকনা ফল
ওজন বাড়ানোর জন্য শুকনা ফল খুবই কার্যকর। ভারি খাবারের মাঝের সময়ে স্ন্যাকস হিসেবে খেতে পারেন শুকনা ফল। এসব ফলে উচ্চমাত্রায় প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এ ছাড়া ঝটপট এনার্জির জোগান দিতে পারে শুকনা ফল।
তথ্য: টাইমস অব ইন্ডিয়া

পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের স্নায়ু ‘পুনর্বহাল’ সম্ভব!
                                  

 পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের দেহের অভ্যন্তরের স্নায়ুগুলোকে `পুনর্বহাল` করে বা `জোড়া লাগিয়ে` আবারো তাদের হাত ও বাহু নাড়ানোর ব্যবস্থা করা গেছে, এমনটাই বলছেন একজন অস্ট্রেলিয়ান শল্য চিকিৎসক। রোগীরা এখন নিজেরাই নিজেদের খাবার খেতে পারছেন, মেক-আপ বা প্রসাধনী ব্যবহার করতে পারছেন, টাকা গোনা বা কম্পিউটারে টাইপও করতে পারছেন। ব্রিসবেনের ৩৬ বছর বয়সী পল রবিনসন বলছেন, এই উদ্ভাবনী অস্ত্রোপচার তাকে এমন এক ধরনের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে যেটি তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।

সম্পূর্ণ স্বাভাবিক কাজকর্ম করার ক্ষমতা হয়তো এর মাধ্যমে আনা সম্ভব নয়, তবে ডাক্তাররা বলছেন এতে করে জীবনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। এই পদ্ধতিটি কিভাবে কাজ করে? মেরুদ-ে কোন আঘাত প্রাপ্তির ফলে মস্তিষ্ক থেকে কোন সংকেত শরীরের অন্য কোন অংশে আর যেতে পারে না। আর এই অবস্থার ফলেই পক্ষাঘাত বা প্যারালাইসিস হয়। যাদের বিশেষ করে কোয়াড্রিপ্লেজিয়া এফেক্ট ঘটে প্যারালাইসিসের ক্ষেত্রে তাদের বেশিরভাগ অঙ্গই সাড়া দেয় না। তবে কিছু ক্ষেত্রে তাদের উপরের বাহুর পেশী নাড়াচাড়া করার মতো অবস্থা থাকে। তখন মেরুদ-ের সাথে সেইসব সচল স্নায়ুগুলোর সংযোগ ঘটানো হয়। ফলে পেশীগুলো আবারো সাড়া দিতে পারে। মেলবোর্নের অস্টিন হেলথ এর ডা. নাতাশা ভ্যান জিল বলছেন, আমার বিশ্বাস করি নার্ভ ট্রান্সফার সার্জারি প্যারালাইসিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যে একটি দুর্দান্ত বিকল্প। প্রতিদিনের কাজগুলো করতে হাতের কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে দেবার সম্ভাবনা তাদের জীবনে আরো স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনে। পল রবসন ছিলেন এমন একজন রোগী। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাইকেল দূর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার ঘাড়ের কাছের মেরুদ-। তাকে ফিরে যেতে হয়েছিল তার মা-বাবা`র কাছে এবং তার খাবার খাওয়ার মতো কাজগুলোর জন্যে তাদের সাহায্যের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, আমার হাত বা হাতের আঙ্গুলগুলো নাড়াতে পারতাম না, বাহুতেও কোন শক্তি ছিল না। আর কাঁধ দূর্বল হয়ে পড়েছিল। সেবছরের ক্রিসমাসের দুই দিন আগে অস্ত্রোপচার করে তার স্নায়ু পুনঃসংযোগ ঘটানো হয়। এরপর আবার হাত নাড়ানোর পর্যায়ে যেতে তাকে নিতে হয় ফিজিওথেরাপি। পল বিবিসিকে বলেন, সম্প্রতি আমি আমার নিজের বাড়িতে ফিরে গেছি এবং একা স্বাধীনভাবে থাকতে শুরু করেছি। আমি কখনোই ভাবতে পারিনি যে এটি আবার সম্ভব হবে। পল এখন হুইলচেয়ারে রাগবি খেলা শুরু করেছেন এবং পড়ালেখা করছেন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ। তবে কেউই এই চিকিৎসা পদ্ধতির পর হয়তো কনসার্টে পিয়ানো বাজাতে পারবে না, বলছেন ডাক্তাররা। ডা. ভ্যান জিল বলছেন, আমরা হাতের একেবারে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারিনি। দুটি বিষয়ে এখানে নিশ্চিত করা হয়, একটি হলো হাত খোলা এবং বন্ধ করা। সেই সাথে কনুই সামনে বাড়ানো কোনো কিছু ধরার জন্যে। ডা. ভ্যান জিল আরো বলেন, আপনি আপনার হাত খুলতে পারবেন, কোন কিছুর জন্যে সামনে বাড়াতে পারবেন এবং এরপর সেটি ধরতে বা কোন কিছুতে খোঁচা দিতে পারবেন। আমরা খুব সুক্ষ্ম সমন্বয়ের চেষ্টা এখানে করিনি। তবে এর ফলে বহু মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে। এটি কি সব ধরনের পক্ষাঘাতগ্রস্তদের ক্ষেত্রে কাজে আসে? সেটি নির্ভর করছে কী ধরনের আঘাত - তার ওপর। যদি আঘাতটি মেরুদ-ের খুব উপরের অংশে হয় যার ফলে পুরো শরীর পক্ষাঘাতগ্রস্থ হয়েছে, তবে সেটিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নয়। গবেষকরা বলছেন, পৃথিবীজুড়ে অন্তত আড়াই লাখ মানুষের এমন ধরনের আঘাত থাকে যাকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। সুতরাং এই সমস্যায় আক্রান্তদের একটি বড় অংশের জন্যেই সুখবর রয়েছে বলে মনে করেন ডা. নাতাশা ভ্যান জিল।

এটি কি সবসময়েই সফল হয়? না। ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ৫৯ জনের মধ্যে ১৬ জনের ক্ষেত্রে এই স্নায়ু প্রতিস্থাপন সফল হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্ত্রোপচারের সফলতা নির্ভর করে কতদ্রুত এই চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। বলা হয়, আঘাতের ৬ মাস থেকে এক বছরের মধ্যে এই অস্ত্রোপচার করলে সবচেয়ে বেশি সাফল্য মেলে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

 

বুঝেশুনে শিশুর যত্ন নিন
                                  

 সন্তান জন্মের পর মায়েদের দিনের অনেকটা সময় শিশুকে কোলে কাঁখে রাখতে হয়, কোলে নিয়ে বসে দুধ খাওয়াতে হয়, উবু হয়ে গোসল করানো বা জামাকাপড় পরানোর কাজও করতে হয়। প্রসবের পর, বিশেষ করে অস্ত্রোপচারে শিশুর জন্মের পর এসব কাজ করতে গিয়ে অধিকাংশ মায়েরই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা, দুর্বলতা, ব্যথাজনিত উপসর্গ দেখা যায়। একটু বুঝেশুনে বিজ্ঞানসম্মতভাবে শিশুকে কোলে ওঠানো-নামানো আর যত্নাআত্তি করতে পারলে প্রতিদিনের জীবনযাপনে মায়েদের স্বস্তি হয়, কাজ করতেও সুবিধা হয়।



দেহভঙ্গির অবস্থান: অবশ্যই মনে রাখবেন, কোমর এবং পিঠের অংশকে সুরক্ষার জন্য দেহভঙ্গির অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মেরুদ-ের অবস্থানকে সুসংহত রাখতে কোমর ভাঁজ না করে হাঁটুর ওপর ভর করে বসে শিশুকে কোলে নেবেন।

শিশুকে বহন করা: দীর্ঘ সময় শিশুকে বহন করার জন্য কোনো বাহন বা বাহক ব্যবহার করতে পারেন, যেটা আপনার শরীরের সঙ্গে বেল্টের মাধ্যমে সংস্পর্শে থাকবে। আজকাল মায়ের শরীরের সঙ্গে এঁটে থাকার বেল্ট, প্যারামবুলেটর, পুশ চেয়ার ইত্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। তাই অনেকক্ষণ ধরে বা বাইরে গেলে দীর্ঘ সময় কোলে নিয়ে থাকার দরকার নেই। এক হাতে কোলে নিয়ে বহন করবেন না বা দুলিয়ে রাখবেন না। শিশুকে কোলে নিয়ে বেশিক্ষণ হাঁটবেন না।

শিশুকে ধরে রাখা: শিশুকে কাঁধ থেকে নিচে নামানোর সময় পেছন দিয়ে কোমর ভাঁজ করবেন না বা উবু হবেন না। বরং হাঁটু দুটো ভাঁজ করে শিশুকে ধরে নামাবেন। শিশুকে অপ্রয়োজনে কোলে নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। ডায়াপার বা জামাকাপড় পরিবর্তনের সময় যথেষ্ট উঁচু ও সমান্তরাল জায়গায় (যেমন বিছানায়) রেখে যথাসম্ভব পিঠ না বাঁকিয়ে কাজটি সারুন। নিচু হয়ে কাজ করতে গেলে ব্যথা হবে। গোসল করাতে হলে নিজে একটি টুল বা মোড়ায় বসে বাথটাবে শিশুকে গোসল করান, যাতে পিঠ না বাঁকাতে হয়।

কোমরের যত্ন নিন: শিশুকে কোমরে বা কাঁখে বেশি বহন করবেন না। এতে কোমরের মাংসপেশি দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এজন্য মাঝেমধ্যে কোমরের দুই পাশেই বহনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখুন।

শক্তি ফিরিয়ে আনুন: কোমরের মাংসপেশিকে সবল রাখতে নিয়মিত কোমরের কিছু শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করুন। কাজের সুবিধার জন্য কোমরে বেল্ট ব্যবহার করতে পারেন।

বাড়িতে থাকুক একটি তুলসি গাছ
                                  

তুলসি গাছের উপকারিতার কথা বলে আর শেষ করা যাবে না। আগেকার দিনে প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতেই একটি করে তুলসি গাছ ছিল। ফ্ল্যাট বাড়ির চলে বাড়িতে গাছের সংখ্যা এখন শূন্যের কোটায়। তবুও নিজের প্রয়োজনে গাছ লাগানোর চর্চা শুরু হয়েছে। সেই চর্চায় থাকুক একটু তুলসি গাছ। জেনে নিন গাছের যত্ন আর গাছের উপকারিতার কথা।

তুলসি গাছের যত্ন


১) তুলসি গাছে প্রতিদিন পানি দিতে হয়।
২) গাছের গোড়ায় রান্না ঘরের সবজির খোসা, চাপাতা, ডিমের খোসা দিন সপ্তাহে একদিন।
৩) ঘরে রোদ না এলে একদিন অন্তত গাছটিকে রোদে রাখুন।

তুলসি গাছের উপকারিতা
১) বমি কিংবা মাথা ঘোরা বন্ধে তুলসি পাতার রসের মধ্যে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলে বিশেষ উপকার পাওয়া যায়।
২) সকালবেলা খালি পেটে তুলসি পাতা চিবিয়ে রস পান করলে খাবার রুচি বাড়ে।
৩) ঘা যদি দ্রুত কমাতে চান তাহলে তুলসি পাতা এবং ফিটকিরি একসঙ্গে পিষে ঘায়ের স্থানে লাগান, দ্রুত কমে যাবে।
৪) শরীরের কোন অংশ যদি পুড়ে যায় তাহলে তুলসির রস এবং নারকেলের তেল ফেটিয়ে লাগান, এতে জ¦ালাপোড়া কমে যাবে।
৫) পেট খারাপ হলে তুলসীর ১০ টা পাতা সামান্য জিরার সঙ্গে পিষে ৩-৪ বার খেলেই পেট ঠিক হয়ে যাবে।

ইচ্ছে হলেই ওষুধ নয়
                                  

 অসুখ হলে ওষুধ খেতে হয়। এ কথা আমরা সবাই জানি; কিন্তু সঠিক নিয়মে ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনেকেই অনুভব করি না। ওষুধ খেতে আমরা যতটা তৎপর, ওষুধ খাওয়ার নিয়ম মানতে ততটাই উদাসীন। আমাদের এ অবহেলা জীবন রক্ষাকারী ওষুধকে করে তুলতে পারে জীবনবিনাশী বিষ।


ইচ্ছামতো ওষুধ নয়
ওষুধ গ্রহণের ক্ষেত্রে আমরা প্রথমেই যে অনিয়মটা করি, তা হলো চিকিৎসকের পরামর্শ না নেয়া। আমরা নিজেরাই নিজেদের চিকিৎসা করি, কখনো আত্মীয়, কখনো বন্ধুর পরামর্শ নিই, কখনো চিকিৎসকের চেয়ে ওষুধ বিক্রেতার ওপর বেশি নির্ভর করি। `অমুক ওষুধে তমুক ভালো হয়েছিল, তাই আমিও ভালো হব` এমন চিন্তা আমাদের মধ্যে কাজ করে। অথচ, লক্ষণ এক হলেই অসুখ এক হবে এমন কোনো কথা নেই। আবার একই রোগে একই ওষুধের মাত্রা রোগীভেদে ভিন্ন হতে পারে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড বা শক্তি বাড়ানোর জন্য ভিটামিন খাই ভাতের চেয়ে বেশি। এসবের মারাত্মক, কখনো জীবনবিনাশী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ অজ্ঞ।
যদিওবা কখনো (বাধ্য হয়ে) চিকিৎসকের পরামর্শ নিই, ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বেঁধে দেয়া বিধিনিষেধ মানি কম। সময়মতো ওষুধ খাওয়া, খাওয়ার আগে, না পরে তা বুঝে খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান করা, এসব আমরা খেয়াল রাখি না। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রার ক্ষেত্রে আমরা পুরোপুরি উদাসীন থাকি। সবচেয়ে ভয়াবহ হলো ওষুধ বন্ধ করে দেয়া। `জ¦র ভালো হয়ে গেছে, অ্যান্টিবায়োটিক আর কী দরকার` ভেবে নিজেরাই ওষুধ বন্ধ করে দিই। আবার অন্যদিকে কয়েক দিনে জ¦র ভালো না হলে `ওষুধ ঠিক নাই` ভেবে তা বন্ধ করে দিই এবং অন্য চিকিৎসকের কাছে নতুন ওষুধের প্রত্যাশায় যাই। যেসব অসুখে দীর্ঘদিন বা আজীবন ওষুধ খেতে হয়, সেখানে আমরা অসুখ নিয়ন্ত্রণে এলেই তা বন্ধ করে দিই, বুঝতে চাই না যে রোগ ভালো হয়নি, নিয়ন্ত্রণে আছে কেবল। একসময় লোকমুখে `ক্যান্সারের ওষুধ` শুনে বাতের ওষুধ বন্ধ করার ঘটনা প্রচুর দেখা যেত। ওষুধ শুরুর মতো বন্ধ করার সময়ও আমরা নিয়ম মানি না। যেসব ওষুধ হঠাৎ বন্ধ করা যায় না, তা নিজেরাই হঠাৎ বন্ধ করে দিই।


ওষুধ নিয়ে অনাচারে কী ক্ষতি হতে পারে?
প্রথম কথা, যে রোগের জন্য ওষুধ সেবন করা তার উপশম হবে না, বরং খারাপ হতে পারে। ওষুধ প্রতিরোধী জীবাণুর আবির্ভাব এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার জীবাণুর বিরুদ্ধে এদের অকার্যকর করে দিচ্ছে। সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে যে রোগ শুরুতেই ভালো করা যেত, অপব্যবহারের কারণে তা আর সম্ভব হচ্ছে না, নতুন দামি ওষুধ দরকার হচ্ছে, কখনো তাতেও কাজ হচ্ছে না। বিশেষভাবে বলা যায় যক্ষ্ণার কথা, যেখানে কমপক্ষে ছয় মাস ওষুধ খেতে হয়, অথচ অনেকেই কয়েক মাস খেয়ে `ভালো হয়ে গেছি` মনে করে তা বন্ধ করে দেয়। তখন তা মারাত্মক মাল্টি-ড্রাগরেজিস্ট্যান্স টিবিতে পরিণত হয়, যা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। আর্থিক দিকটাও বিবেচনা করা জরুরি। যে চিকিৎসা এখন সুলভে হচ্ছে, অবিবেচকের মতো ওষুধ খেলে তা পরবর্তী সময়ে ব্যয়বহুল হয়ে যেতে পারে।


শুধু জীবাণু সংক্রমণ নয়, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি অসুখেও মাঝেমধ্যে ওষুধের ব্যবহার উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি করে।
নিয়মিত ওষুধ খেলেও যদি সেবনবিধি না মানা হয়, তবে অনেক ওষুধই অকার্যকর হয়ে যায়। খালি পেটে খাওয়ার ওষুধ ভরা পেটে খেলে তা না খাওয়ার মতোই হবে। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই এক ওষুধ অন্য ওষুধের উপস্থিতিতে কাজ করে না। অজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে এসব ওষুধ একত্রে খেলে লাভ তো হবেই না, বরং ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা আছে।
মনের মতো ওষুধ খাওয়ার আরেক সমস্যা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। একজন চিকিৎসক ভালোমতোই জানেন, কোনো ওষুধের কী সমস্যা আর তাই তা কাকে দেয়া যাবে, কাকে যাবে না। নিজে থেকে ওষুধ খেলে এসব বিবেচনা সম্ভব নয়, তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা বেশি। ব্যথার ওষুধ খেয়ে পেট ফুটো হওয়ার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। মোটা হওয়ার জন্য স্টেরয়েড খেয়ে অনেকেই মারাত্মক কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হন, যা সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হয়। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করেও অনেকে বিপদে পড়েন, বিশেষ করে স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করলে এডিসনিয়ান ক্রাইসিস হতে পারে, যা থেকে রোগী মারাও যেতে পারে।
সাধারণ ওষুধ, যার অনেক প্রেসক্রিপশন ছাড়াই পাওয়া যায়, বিশেষ অবস্থায় তাও হতে পারে ক্ষতিকর। আমরা অনেকেই জানি না যে ভিটামিন `এ` বা কৃমির ওষুধের মতো সাধারণ ওষুধ গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি করে। লিভারের রোগীর জন্য প্যারাসিটামলজাতীয় ওষুধ হতে পারে ক্ষতির কারণ।
এই অবস্থার জন্য দায়ী আমরা সবাই। রোগী যেমন চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া বাহুল্য ভাবছেন, চিকিৎসক তেমনি রোগীকে অনেক সময় সঠিক পরামর্শ দেন না। চিকিৎসক রোগীকে ওষুধ দেয়ার সময় সেই ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা, তা রোগীকে বলা উচিত। তাহলে রোগীও সচেতন থাকবে ওষুধ খাওয়ার ব্যাপারে।


এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রোগীদের যা মেনে চলা উচিত তা হলো-
শুধু চিকিৎসক পরামর্শ দিলেই ওষুধ সেবন করা যাবে।
* বিশেষ অবস্থায় (যেমন গর্ভাবস্থা, লিভারের রোগ ইত্যাদি) সাধারণ ওষুধ যা প্রেসক্রিপশন ছাড়া পাওয়া যায়, তাও চিকিৎসকের পরামর্শেই ব্যবহার করতে হবে।
* শুধু ফার্মাসিস্টের কাছ থেকে ওষুধ কেনা উচিত। কেনার সময় তার মেয়াদকাল দেখে নিতে হবে। মনে রাখবেন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আপনার রোগ সারানোর পরিবর্তে ক্ষতি করতে পারে।
* চিকিৎসক ওষুধ খাওয়ার যে নিয়ম বলে দেবেন (কতটুকু ওষুধ, কতক্ষণ পরপর, কত দিন, খাবার আগে না পরে ইত্যাদি), তা মেনে সেবন করতে হবে। প্রয়োজনে তা লিখে রাখুন বা মনে রাখতে অন্যের সাহায্য নিন। নিজে থেকে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করা যাবে না।
* অনেকে একবার চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র নিয়ে বারবার সেই ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনেন। এ ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে প্রথম ব্যবস্থাপত্রে যে ওষুধ যত দিন খেতে বলা হয়েছে, তত দিনই খাওয়া যাবে। আবার একই অসুখ হলেও সেই একই ওষুধ কাজ নাও করতে পারে।
* সামান্য কারণেই ব্যথার ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই খাওয়া শুরু করবেন না।
* নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। সুস্থবোধ করলেও কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
* একই সঙ্গে অ্যালোপ্যাথিক ও অন্যান্য পদ্ধতির চিকিৎসা চালালে তা চিকিৎসককে জানানো উচিত।
* ওষুধ সব সময় আলো থেকে দূরে, ঠান্ডা, শুষ্ক স্থানে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কিছুকিছু ওষুধ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়। নির্ধারিত তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়, এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন।
* অনেক সময় দোকানিরা প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ না দিয়ে শুধু বিক্রি করার জন্য অন্য কোম্পানির অন্য ওষুধ দিয়ে থাকেন, বলেন `একই ওষুধ`। এ ক্ষেত্রে রোগীদের সতর্ক থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রে উলিস্নখিত নামের ওষুধ কেনা উচিত।
* বাচ্চা ও বয়স্কদের বেলায় আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। তাদের বেলায় ওষুধের মাত্রা, চোখের ড্রপ বা মলম এবং ইনজেকশনের প্রয়োগবিধির (যেমন মাংসে বা শিরায়) ব্যাপারে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।


এর সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ বিক্রেতার কর্তব্য প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ বিক্রি করা, শুধু ব্যবসায়িক স্বার্থে যেনতেনভাবে যে কোনো ওষুধ বিক্রি না করা। কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করা, দোকানে ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে কিনা, তা পর্যবেক্ষণ করা ও সার্বিক তত্ত্বাবধান করা।
ওষুধের অপব্যবহার, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের রেজিস্ট্যান্স থেকে নিজেদের এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে এখনই পদক্ষেপ নেয়া দরকার।

 

বর্ষায় ত্বক সুস্থ রাখতে করনীয়
                                  

 বর্ষাকালে স্যাঁতসেঁতে ও ভেজা আবহাওয়ার কারণে ত্বক বা ত্বকের খোসপাঁচড়া, ছত্রাক সংক্রমণ, স্ক্যাবিস-জাতীয় ত্বকের নানা ধরনের অসুখ হয়ে থাকে। ভেজা শরীর ভালোভাবে না মুছলে, ভেজা কাপড় ভালোভাবে না শুকিয়ে গায়ে দিলে, ঘর স্যাঁতসেঁতে ইত্যাদি কারণে ত্বকের সমস্যা হয়।


এ সময়ে যেসব চর্মরোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, তার মধ্যে ঘামাচির পরই ছত্রাকজনিত চর্মরোগ অন্যতম। কারণ, ঘর্মাক্ত এবং ভেজা শরীরই হলো ছত্রাক জন্মানোর উর্বর ক্ষেত্র।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্ম ও যৌন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মাসুদা খাতুন বলেন, বর্ষাকালে লাগাতার বৃষ্টির কারণে প্রায়ই রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তার এসব ময়লা পানি ত্বকে লাগলে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। এ সময় ত্বক বৃষ্টি বা ঘামে ভেজা থাকলে সহজেই ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করতে পারে। বৃষ্টির পানি লাগলে দ্রুত তা পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে ও শরীর ভালোভাবে মুছে দিতে হবে। আর যাঁরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে ততটা সচেতন নন, তাঁদেরই এই রোগগুলো বেশি হতে দেখা যায়।


ছত্রাকের আক্রমণ
শীতপ্রধান দেশের চেয়ে গ্রীষ্মপ্রধান দেশের বেশি লোক এই ছত্রাকজনিত রোগে আক্রান্ত হয়। রোগটির চিকিৎসা দেওয়া হলে খুব সহজেই ভালো হয়ে যায়। কিন্তু হতাশার দিক হচ্ছে যে কিছুদিন যেতে না-যেতেই পুনরায় দেখা দেয়। আবার বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই একটু ভালো হওয়া মাত্রই রোগী ওষুধটি বন্ধ করে দেন। আবার যাঁরা ঠিকমতো ওষুধ ব্যবহার করেন, তাঁরাও কিন্তু ঠিকমতো ব্যবহার্য কাপড়চোপড় পরিষ্কার করেন না বা রাখেন না, ফলে খুব সহজেই কাপড়চোপড় থেকে পুনরায় ছত্রাক দেহে প্রবেশ করে এবং সে কারণেই রোগটি কিছুদিনের মধ্যে পুনরায় দেখা দিতে পারে।


কী কী ধরনের ছত্রাক রোগ এ সময়ে হতে পারে?
মূলত তিনটি ভাগে ভাগ করা যেতে পারে। যেমন: ১. দাদ ২. ছুলি ও ৩. ক্যানডিডিয়াসিস। এই তিন ধরনের ছত্রাক-প্রজাতিই মূলত ত্বকের বাইরের অংশকে আক্রমণ করে এবং সেই আক্রমণ স্যাঁতসেঁতে, নোংরা, ঘর্মাক্ত দেহে সবচেয়ে বেশি হতে দেখা যায়।


দাদ শরীরের যেকোনো স্থানে দেখা দিতে পারে। তবে দেখা গেছে সাধারণত তলপেট, পেট, কোমর, পাছা, পিঠ, মাথা, কুঁচকি ইত্যাদি স্থানে বেশি আক্রান্ত হয়।
টিনিয়া ভারছিকলার বা ছুলিও একটি ছত্রাকজনিত রোগ। মানুষ গরমকালে এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়, শীতকালে আবার এমনিতেই যেন মিলিয়ে যায়। আবার গরম এলে ঘাড়ের চামড়া ভেজা থাকে। সেখানেই সাধারণত বেশি হয়ে থাকে, যা দেখতে হালকা বাদামি, সাদা গোলাকৃতির মতো দেখা যায়। বুকে, গলার দুই পাশে ঘাড়ে, পিঠে, বগলের নিচে, এমনকি সারা শরীরে হতে পারে। এতে ত্বক দেখতে সাদা হয়। তাই অনেকেই আবার একে শ্বেতি ভাবতেও শুরু করেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শ্বেতির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।


ক্যানডিডিয়াসিসও একটি ছত্রাকজনিত চর্মরোগ। যাঁদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, যেমন শিশু, বৃদ্ধ কিংবা রোগাক্রান্ত, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করেছেন কিংবা যাঁদের ত্বকের ভাঁজ পানিতে অথবা ঘামে সব সময় ভেজা থাকে, তাঁদেরই রোগটি বেশি হয়; যাঁরা সব সময় পানি নড়াচড়া করেন, তাঁদের আঙুলের ফাঁকে, হাতের ভাঁজে, শিশুদের জিহ্বা, নারীদের যোনিপথে এবং গর্ভবতী নারীরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এতে ত্বকের আক্রান্ত স্থান একটু লালচে ধরনের দেখা যায় এবং সঙ্গে প্রচুর চুলকানি হয়ে থাকে।
ছত্রাক থেকে দূরে থাকা যায় কীভাবে?
বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছত্রাক সংক্রমণ প্রায় ১০০ ভাগ নিরাময় করা সম্ভব। তবে সেটা আবারও হতে পারে। কারণ ত্বকে ফাঙ্গাস বেড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সেখানে ফাঙ্গাস বেড়ে উঠতে চেষ্টা করবে। তাই ফাঙ্গাস প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, সেগুলো হচ্ছে পা, আঙুলের ফাঁক, নখের গোড়া ভালো করে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। আর ত্বক পরিষ্কার বা ধোয়ার পর শুষ্ক টাওয়েল দিয়ে ভেজা স্থান মুছে শুষ্ক করে ফেলতে হবে। বিশেষ করে আঙুলের ফাঁক, ঊরুসন্ধির ভাঁজ, বগল, ঘাড়, মাথার চুল ইত্যাদি পুরোপুরি শুকনা না করলে সেখানে ফাঙ্গাস বেড়ে উঠতে পারে।


হতে পারে ত্বকের ছোঁয়াচে রোগ
স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া ত্বকের একটি ছোঁয়াচে রোগ। যে কেউ যেকোনো সময় এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে বর্ষাকালে এর প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যায়। চুলকানি হলো প্রধান উপসর্গ আর রাতে সেই চুলকানি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এমনকি ক্ষতের সৃষ্টি হয়ে ঘা হতে পারে।


কীভাবে ছড়ায়?
অপরিচ্ছন্ন জীবনযাপন, এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে বিছানায় শুলে কিংবা ব্যবহৃত কাপড় অন্য কেউ ব্যবহার করলে খুব সহজেই এ রোগ ছড়াতে পারে। কারণ, জীবাণুটি ব্যবহৃত কাপড়ের মধ্য দুই দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। শিশু-কিশোরেরাই এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।
অন্যান্য রোগও কমবেশি হয়ে থাকে। তবে কিছু সাধারণ নিয়মকানুন যেমন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিয়মিত গোসল ইত্যাদি মেনে চললে এসব রোগ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে।


এ সময়ের সচেতনতা
এ সময় ভারী জামা-কাপড় না পরে হালকা রঙের সুতি পাতলা জামা পরুন। ঘামে ভিজে গেলে দ্রুত পাল্টে নিন। ভেজা কাপড় পরে থাকলে ছত্রাক সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি।
নিয়মিত প্রয়োজনে দিনে দুবার গোসল করুন। জীবাণুনাশক সাবান ব্যবহার করতে পারেন। ঘামে বা বৃষ্টিতে ভিজলে ত্বক ধুয়ে শুকিয়ে নিন।
এ সময় সারা দিন জুতা-মোজা না পরে বরং খোলা স্যান্ডেল পরা ভালো। তবে খালি পায়ে হাঁটবেন না। রাস্তায় এখন যত্রতত্র নোংরা পানি জমে থাকে। পায়ের ত্বককে এই নোংরা পানি থেকে বাঁচিয়ে রাখুন। কেননা, এই পানিতে রয়েছে হাজার রকমের জীবাণু।


ভেজা চুল ভালো করে শুকিয়ে নিয়ে তবে বাঁধবেন, নইলে মাথার ত্বকে সমস্যা হতে পারে।
বাড়িতে কারও ছত্রাক সংক্রমণ হয়ে থাকলে শিশুদের তাঁর কাছ থেকে দূরে রাখুন।

মহৌষধ অশ্বগন্ধা
                                  

অশ্বগন্ধা ছোট, শক্ত কাঁটাবিশিষ্ট, খাড়া ও শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট একটি গাছ। এটির পাতাগুলো দেখতে অনেকটা খচ্চরের কানের মতো এবং বিপরীত দিকে ৮.১২ সেন্টিমিটার পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। ঝোপঝাড় ও উচ্চতায় এবং কাণ্ডের গঠন অনেকটা বেগুন গাছের মতো। পাতা ও ডাঁটার গায়ে রয়েছে সূক্ষ্ম লোম। বীজগুলো বেগুনের মতোই লালচে বর্ণের। গাছটিতে ছোট ছোট ফুল ধরে। আমাদের দেশের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশগুলোয় অশ্বাগন্ধা জন্মিলেও গ্রীষ্মপ্রধান দেশে বেশি জন্মে।

প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে অশ্বগন্ধা ব্যবহার হয়ে আসছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে প্রায় তিন হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে অশ্বগন্ধা ট্র্যাডিশনাল হার্বস হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে বলে জানা যায়। এ পর্যন্ত অশ্বগন্ধা নিয়ে দুইশর বেশি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। এসব গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য মতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধার কার্যকারিতা পাওয়া যায়।

যেমন-রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়; শক্তি, সামর্থ্য ও জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করে; মানসিক উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও অবসাদ দূর করে; বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়িয়ে তোলে; ব্রেইন সেল ধ্বংস থেকে রক্ষা করে; শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য রক্ষা করে; ব্লাড সুগার স্বাভাবিক রাখে; হেপাটিক গ্লাইকোজেন ও হিমোগ্লোবিন লেভেল বৃদ্ধি করে; অকাল বার্ধক্য রোধে ভূমিকা রাখে; হাঁপানি, অ্যালার্জি এবং কফ নিরাময়ে কাজ করে; যৌনশক্তি বাড়িয়ে তোলে এবং হরমোন বাড়ায়।

অশ্বগন্ধা মদ্যপানের আসক্তি কমায়, কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা যায়, অশ্বগন্ধা ক্যানসার কোষ বৃদ্ধি প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কাঁঠালের পাঁচ গুণ
                                  

 গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে অন্যতম হলো কাঁঠাল। বর্তমান সময়ে বাজারে সহজেই কিনেতে পাওয়া যায় এই ফলটি। জাদুকরী ফল কাঁঠালের গন্ধে অনেকেই নাক সিঁটকান। আর এই ফলটিকে যথাসম্ভব দূরেই রাখেন। তারা অন্তত এবার জেনে নিন এই ফলের কী কী গুণ রয়েছে, যা আপনাকে একবার হলেও এই ফলের প্রতি আগ্রহী করে তুলবে।


রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:
ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর কাঁঠাল। তাই রোজ এক থেকে দু-কোয়া কাঁঠাল খেলে সহজেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। আপনার সুস্থতা আপনার হাতেই থাকবে।


শক্তি থাকে ভরপুর:
প্রতি একশ গ্রাম কাঁঠালে আপনি পাবেন ৯৪ কিলোক্যালোরি শক্তি। এতে থাকা কার্বোহাইড্রেট আপনাকে সবসময় রাখবে প্রাণবন্ত। তাই রোজ কাঁঠাল খেলে যতই পরিশ্রম করুন, তার ক্লান্তি ততটা বোধ করবেন না একেবারেই।


হৃদযন্ত্রের সুস্থতায়:
আমাদের শরীরে পটাশিয়াম আর সোডিয়ামের ব্যালেন্স ঠিক না থাকলে খুবই সমস্যা হয়। কাঁঠালে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। যা, শরীরের সোডিয়ামকে ব্যালেন্সে রাখে। তারই সঙ্গে আপনার হৃদযন্ত্রের পেশিগুলোকেও সচল রেখে, তাদের কাজে একটা ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে এই পটাশিয়াম। তাই আপনার হৃদযন্ত্রও থাকে সুস্থ-সবল।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:
ক্যান্সার প্রতিরোধের কোনো উত্তর আমরা এখনও সে অর্থে পাইনি। তবে যে সব টক্সিক পদার্থ এই রোগকে ত্বরান্বিত করে, সেগুলোকে এই কাঁঠাল দূরে রাখতে সহায়তা করে। কারণ কাঁঠালে থাকে ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্ল্যাভনয়েডসের মতো যৌগ। এই যৌগগুলি শরীরে ক্যান্সার বাসা বাঁধতে দেয় না।
তারুণ্য বজায় রাখে:
চারপাশের ধুলা-ময়লা থেকে আমাদের ত্বক সুরক্ষিত নয়। তাই খুব তাড়াতাড়ি আমাদের মধ্যে বার্ধক্য চলে আসে। আর এই বার্ধক্যকে বাড়িয়ে দেয় হাই অক্সিডেটিভের মতো মৌল। এগুলো দূষণের সাথে বিক্রিয়া করে ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। কাঁঠাল এই মৌলর সাথে যুদ্ধ করেই আমাদের ত্বককে রাখে তরতাজা।

 

জামের ১০ উপকার
                                  

 জাম বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নামে পরিচিত। ব্ল্যাক প্লামূ জাম্বুলূ জাম্বোলানূ জাম্বাসূ মালাবার প্লামূ রজামানূ নেরেডুূ কালা জামুনূ নাভালূ জামালিূ জাভা প্লাম ইত্যাদি নামে এটি পরিচিত। এই ফল জুন আর জুলাই মাসে পাওয়া যায়। জেনে নেওয়া যাক এই ফল খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।
জামে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। আর আয়রন থাকার ফলে রক্তে হিমোগ্লোবিন বেড়ে যায়। ফলে রক্ত পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন তাদের জন্য জাম খুবই ভালো।


জামে ভিটামিন `এ` আর `সি` আছে। এছাড়াও এতে থাকে বিভিন্ন মিনারেল, যা আমাদের চোখ এবং ত্বকের জন্য খুব উপকারী।
জাম খেলে পেট ঠান্ডা হয়, ফলে দ্রুত হজম হয়ে যায়। যাদের অম্বলের সমস্যা আছে, তারা বেশি করে জাম খেলে উপকার পাবেন। অ্যাসট্রিনজেন্ট প্রপার্টি থাকার ফলে জাম ত্বক অয়েল ফ্রি রাখে। এছাড়াও অ্যাকনে আর কালো ছোপ দূর হয়।


জামে উপস্থিত অক্সিলিক অ্যাসিডূ গ্যালিক অ্যাসিডূ ম্যালিক অ্যাসিডূ ট্যানিনূ বেটুলিক অ্যাসিড ইনফেকশন দূরে রাখে। এছাড়াও জাম অ্যান্টি ম্যালেরিয়াল এবং অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়ালও।
আগেই বলেছি এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রপার্টি আছেূ এর সাহায্যে দাঁত এবং মাড়ি ভালো থাকে। এছাড়াও মুখের দুর্গন্ধ দূরে রাখতেও সাহায্য করে।
জামে উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন সি থাকে। ফলে শরীর ইমিউনিটি বাড়িয়ে দেয়। শরীরকে কমন সিজনাল ডিজিজ এর হাত থেকে রক্ষা করে। জামের মধ্যে উপস্থিত পটাসিয়াম হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে উচ্চ রক্ত চাপ কমিয়ে কার্ডিও ভাসকুলার ডিজিজ দূরে রাখে।


যাদের ডায়বেটিস হয়েছে তাদের জন্য জাম খুব ভালো। এতে অ্যান্টি ডায়েবেটিক প্রপার্টি আছে যা রক্তে চিনির মাত্রা কমায়।
এই ফলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ার ফলে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে। এছাড়াও অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া বা বারবার মূত্রত্যাগ যা ডায়বেটিসের লক্ষণ এগুলো ও নিয়ন্ত্রণে রাখে। শুধু ফল নয়ূ এই গাছের পাতাূ ডালূ ফলের বিচি সব কিছু দিয়েই ডায়েবেটিসের ট্রিটমেন্ট করা হয়।

 

তিলের তেল দিয়ে চুলের যত্ন
                                  

 চুল ঝরে পড়া, আগা ভেঙে যাওয়া, কিংবা উকুন হওয়ার মতো সমস্যাগুলো নিয়ে সংকটে নেই এমন মানুষ কমই আছে। সেকারণেই নিজের যত্নের সময় সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হয় চুলকে। জেনে নিন কী করে তিলের তেল দিয়ে চুলের যত্ন করবেন।


মাথায় উকুন হলে সংকটের শেষ নেই। তিলের তেলের মধ্যে নিম পাতা নিয়ে, একটু মাইক্রোওভেন বা চুলায় গরম করে নিয়ে মাথার স্ক্যাল্প এ ঘসে ঘসে লাগান। পুরো চুলে ভালো করে লাগাতে হবে নইলে উকুন দূর হবে না। দু ঘণ্টা পরে শ্যাম্পু করে ফেলুন। নিয়মিত করলে উকুন দূর হবে প্লাস চুলে ঝলমলে ভাব আসবে।


চুলে খুশকির সমস্যা থাকলে বা কোনো রকম ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে থাকলে রোজ রাতে তিলের তেল মাথায় দিয়ে সকালে শ্যাম্পু করবেন। তিলের তেলের সঙ্গে এক চামচ মেথি ফুটিয়ে নিলে আরো ভালো হয়।


চুল ড্যামেজ হয়ে থাকলে, একটা পাকা অ্যাভোকাডো নিয়ে তাতে মেশান তিলের তেল। এবার পুরো চুলে লাগিয়ে এক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে দু’বার করলে ভালো উপকার পাবেন।

রাতের খাবারের পর হাঁটলে ওজন কমে
                                  

 সহজ ব্যায়াম হিসেবে হাঁটাহাঁটির বিকল্প নেই। আর রাতের খাবার খাওয়ার পর এই অভ্যাস বাড়তি ওজন ঝরাতে সাহায্য করে।
শরীরচর্চার ক্ষেত্রে যে কসরত করা সহজ এবং আনন্দের সেটাই বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে ব্যায়ামের অভ্যাস ধরে রাখা সহজ হয়।


হাঁটা সহজ একটি কসরত, যা প্রতিদিনই করা যায়
আর রাতের খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস গড়তে পারলে যেসব উপকার পাওয়া যায় সেসব জানানো হল স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ক্যালরি পোড়ানো এবং হাঁটা: আধা কেজি চর্বি ঝরাতে খরচ করতে হবে প্রায় ৩,৫০০ ক্যালরি। অপরদিকে দেড় কিলোমিটার হাঁটলে প্রায় ১০০ ক্যালরি খরচ হয়, জোরে এবং আরও দীর্ঘসময় হাঁটলে খরচের মাত্রা বাড়তে পারে। হাঁটা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে প্রতি ঘণ্টায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার গতিতে হাঁটার চেষ্টা করা উচিত। আর দৈনিক হাঁটার অভ্যাস করতে পারলেই ওজন কমানো সম্ভব।


খাওয়া পর হাঁটা নিয়ে প্রচলিত ধারণা: খাওয়ার পর হাঁটলে পেশি ব্যথা ও হজমে সমস্যা হতে পারে বলে প্রচলিত ধারণাটি পুরোপুরি সত্য নয়। মানুষের হজমতন্ত্র সাধারণত হৃদযন্ত্রের সরবরাহ করা রক্তের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ গ্রহণ করে। তবে খাওয়ার পর এই রক্ত সরবরাহের মাত্রা দ্বিগুন হয়ে যায়। এই কারণে খাওয়ার পর ভারী কোনো কাজ করলে পেশিতে ব্যথা হয়ে থাকে। তবে খাওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট মৃদু গতিতে হাঁটলে এমন সমস্যা হয় না। বরং তা হজমে আরও সহায়ক হয়।


শুরুটা যেভাবে: গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল হাঁটাহাঁটির মাধ্যমে ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই নিয়মিত হতে হবে। শুরু করতে পারেন রাতের খাওয়ার পর ১০ মিনিট করে হাঁটার মাধ্যমে। ক্রমেই সময় বাড়াতে হবে, লক্ষ্য হবে আধা ঘণ্টা হাঁটার। কতটা নিয়মিত আর কতক্ষণ হাঁটছেন তার উপরই নির্ভর করবে সাফল্য।
শুধু খাওয়ার পরই হাঁটতে হবে এমন কোনো কথা নেই। অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে হেঁটে আসার চেষ্টা করা যেতে পারে। মাঝে মাঝে লিফ্টের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে পারেন। যত বেশি শারীরিক পরিশ্রম করা হবে ততই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।


অভ্যাস ধরে রাখতে: ব্যস্ত জীবনযাত্রার মাঝে শরীরচর্চার অভ্যাস ধরে রাখা সহজ নয়। আর শুধু হাঁটাহাঁটির মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখাও সহজ নয়, সঙ্গে চাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও। শরীরচর্চার অনুপ্রেরণা ধরে রাখার জন্য শরীরচর্চার সঙ্গী থাকা ভালো। এতে একজন ফাঁকি দিতে চাইলেও আরেকজন তা থামাতে পারবে।


যেকোনো ধরনের শরীরচর্চা ছোট থেকে শুরু করা উচিত। সেই সঙ্গে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে এবং তাতে স্থির থাকতে হবে। শারীরিক পরিশ্রমের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মেনে চলার দিকেও নজর দিতে হবে। শষ্যজাতীয় খাবার, ফল, শাকসবজি ইত্যাদি বেশি করে খেতে হবে। প্রক্রিয়াজাত চিনি ও চর্বি খাদ্যাভ্যাস থেকে যতটা সম্ভব দূর করতে হবে।
ওজন কমানোর লক্ষ্য অর্জন হয়ে যাওয়ার পরও হাঁটাহাঁটি চালিয়ে যেতে হবে।


   Page 1 of 85
     স্বাস্থ্য-তথ্য
মায়েদের জন্য উপকারী খাবার
.............................................................................................
দৃষ্টিশক্তি নিয়ে যত ধারণা
.............................................................................................
বর্ষায় স্যাঁতসেঁতে ভাব দূর করতে
.............................................................................................
৭ কারণে হাত-পা অবশ হতে পারে
.............................................................................................
অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠান্ডার সমস্যা
.............................................................................................
প্রাকৃতিকভাবে ওজন বাড়ায় আম
.............................................................................................
পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের স্নায়ু ‘পুনর্বহাল’ সম্ভব!
.............................................................................................
বুঝেশুনে শিশুর যত্ন নিন
.............................................................................................
বাড়িতে থাকুক একটি তুলসি গাছ
.............................................................................................
ইচ্ছে হলেই ওষুধ নয়
.............................................................................................
বর্ষায় ত্বক সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
মহৌষধ অশ্বগন্ধা
.............................................................................................
কাঁঠালের পাঁচ গুণ
.............................................................................................
জামের ১০ উপকার
.............................................................................................
তিলের তেল দিয়ে চুলের যত্ন
.............................................................................................
রাতের খাবারের পর হাঁটলে ওজন কমে
.............................................................................................
ঘরোয়া উপায়ে গ্যাস্ট্রিক দূর করুন
.............................................................................................
মানসিক সমস্যা হতে পারে অপর্যাপ্ত ঘুমে!
.............................................................................................
কুসুম গরম পানিতে কমবে ওজন!
.............................................................................................
সারা দিন কম্পিউটার-মুঠোফোনে চোখ রাখলে যেসব ক্ষতি হতে পারে
.............................................................................................
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে যা করবেন
.............................................................................................
ওজন কমাবে পালংশাক
.............................................................................................
গাড়ি চালানোর সময় মনে রাখতে হবে
.............................................................................................
তেলের নানাগুণ রূপ-লাবণ্য বৃদ্ধিতে
.............................................................................................
দুই কোটি ২০ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে আজ
.............................................................................................
যা জানা জরুরি রক্তদানের আগে
.............................................................................................
মনের ক্ষুধা বনাম পেটের ক্ষুধা
.............................................................................................
এলার্জি ও শ্বাসকষ্ট হলে ভয় পাওয়ার কারণ নেই
.............................................................................................
স্ট্রোক, প্যারালাইসিস প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা
.............................................................................................
সাধারণ পুষ্টিহীনতা এবং সমাধান
.............................................................................................
ত্বকের খুঁত ঢাকতে প্রাইমার
.............................................................................................
চল্লিশের পরও নারীর তারুণ্য ধরে রাখবে যেসব খাবার
.............................................................................................
গরমে খাবার সংরক্ষণ পুষ্টিগুণ ঠিক রেখে
.............................................................................................
রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান দূর করতে করনীয়
.............................................................................................
চার কাজে জেনে নিন আপনি কতটুকু সুস্থ
.............................................................................................
প্রাকৃতিক দূর্যোগে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের প্রয়োজনীয়তা
.............................................................................................
এইডস প্রতিরোধে কলা
.............................................................................................
ঘরেই চাষ হোক অ্যালোভেরা
.............................................................................................
রক্তচাপ কমে গেলে যা করবেন
.............................................................................................
রোজায় সুস্থ থাকতে যেসব খাবার
.............................................................................................
গরমে ডিহাইড্রেশন
.............................................................................................
চশমা ব্যবহারকারীর জন্য ৭ পরামর্শ
.............................................................................................
৭২ ঘণ্টায় দূষণমুক্ত ফুসফুস
.............................................................................................
ডায়াবেটিস রোগীদের পায়ের বিশেষ যত্ন
.............................................................................................
ঢ্যাঁড়সের যত উপকার
.............................................................................................
হেঁচকি উঠলে যা করতে
.............................................................................................
খালি পেটে ঘুমালে কি হতে পারে
.............................................................................................
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে যা করতে হবে
.............................................................................................
পাইলস চিকিৎসায় অসাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি
.............................................................................................
মিষ্টি কুমড়ার পুষ্টিগুন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]