৭ শাবান ১৪৪১, ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ চৈত্র ১৪২৬, ২ এপ্রিল , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য-তথ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
করোনা ভাইরাসে ১০টি বিষয় খেয়াল রাখুন

ধীরে ধীরে এক জটিল সময়ে প্রবেশ করছে বিশ্ব। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীজুড়ে আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখের বেশি। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যতোটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারপরও নিশ্চয় বাসার বাইরে যেতে হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য খাবার সংগ্রহ বা ওষুধ কেনার জন্য বাইরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এমন সময়ে বাসার বাইরে যদি যেতেই হয় তবে এই ১০টি বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞরা বলছেন যতো বেশি সম্ভব হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে, যাতে হাতের মাধ্যমে নাক-মুখ বা চোখের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস দেহে প্রবেশ করতে না পারে। এ ছাড়া এন-নাইনটি ফাইভ ফেস মাস্কও ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সব পরামর্শ যতোটা মেনে চলা যাবে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ততোটাই ঠেকানো যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুতরাং সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করে এবং একটু সাবধানতা অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রাখতে পারে অনেক বড় ভূমিকা। এই লেখায় এমন কিছু বিষয়ের কথা আলোচনা করা হয়েছে, বাসার বাইরে অবস্থানের সময় এগুলো খেয়াল রাখলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কিছুটা হলেও কমে যেতে পারে।

১. আঙুলের টিপ কমিয়ে হাঁটু, পা, কনুই বা আঙুলের গিঁট ব্যবহার বাড়ান

লিফটের বাটন টিপতে এখনো কি আঙুলের সাহায্য নিচ্ছেন? অনুগ্রহ করে এখনই এই অভ্যাস বন্ধ করুন। যখন কোনো দরজা খোলার দরকার পড়ে, বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে, দরজা ধাক্কা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, তখন আঙুলের বদলে কনুই ব্যবহারের চেষ্টা করুন বা আঙুল ভাঁজ করে গিঁট দিয়ে চেষ্টা করুন।

এটিএম বুথে আঙুল দিয়ে পিন কোড দেওয়ার বদলে আঙুলের গিঁট ব্যবহার করুন। কোনো কাচের দরজা পার হতে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিন। এতে করে দরজার হাতলে কোনো জীবাণু থাকলে তা আপনার দেহে প্রবেশের আশঙ্কা কমে যাবে।

কোনো সিঙ্কের কল চালু করতে হাতের কবজি বা এলবো ব্যবহার করুন। আর কল যদি ঘুরিয়ে চালু ও বন্ধ করতে হয় আপনার জামার কোনো অংশে হাত পেচিয়ে নেন। মুহূর্তের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজের ত্বককে বিপদে না ফেলে জামায় ঝুঁকি নেওয়াটা আসলেই কম ঝুঁকিপূর্ণ। বাসায় ফেরার যতো দ্রুত সম্ভব জামা ধুয়ে ফেলুন।

২. যতো বেশি সম্ভব স্বয়ংক্রিয় সুবিধা খুঁজুন

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধরনের সুবিধা পাওয়া কঠিন। উন্নত বিশ্বে বেশির ভাগ শপিংমলের সামনের কাচের দরজা স্বয়ংক্রিয়। ফলে হাত দিয়ে খোলার বা বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না, যা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে এই সুবিধা বলতে গেলে পাওয়াই যায় না। তারপরও বিকল্প আছে কি না দেখে নিন। বিকল্প থাকলে সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। যেমন ধরুন- এই সময়ে বাসার জন্য যদি হ্যান্ড ওয়াশ ক্রয়ের কথা ভাবেন, তাহলে অটোমেটিক কোনো হ্যান্ড ওয়াশ ডিসপেনসার পাওয়া যায় কি না, দেখুন। এতে ডিসপেনসার বারবার স্পর্শ করার কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা থাকবে না।

৩. আপনার ফোন কোথায় রাখছেন, খেয়াল করুন

এই সময়ে অনেকের মধ্যে ফোন নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। তো ফোনটা বাথরুমে নিয়ে আপনি কোথায় রাখছেন? ওই জায়গা জীবাণুমুক্ত? এটা জানা কিন্তু কঠিন। সুতরাং ভালো হয় যদি ফোন এমন কোনো জায়গায় না রাখা যায়, যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা অনেক বেশি।

একই সাথে বাসার বাইরে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় টেবিলে ফোন রাখা অনুচিত। এত ফোন থেকে আপনার শরীরে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফোন এমন কোথাও রাখা যাবে না যেখানে অন্য মানুষের স্পর্শ আছে।

৪. ব্যক্তিগত শপিং ব্যাগ ব্যবহারের চেষ্টা করুন

সুপার শপের ট্রলি ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখুন। এই ট্রলি প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ সুপার শপ এই নিয়ম মানে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। সুতরাং ঝুঁকি কমাতে নিজের শপিং ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে কিছুটা হলেও জীবাণুর সংস্পর্শ কমানো যাবে।

৫. অন্য কারো সাথে কথা বলার সময় দূরত্ব বজায় রাখুন

এখন যেহেতু ভাইরাস সংক্রমণের অত্যন্ত বাজে সময়, সুতরাং যখন কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন পড়বে, অন্তত দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন। যার সাথে কথা বলছেন, তাকে বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করুন যে দূরত্ব এই মুহূর্তে কেনো জরুরি। অবশ্য এই ধরনের দূরত্ব সব সময়ই বজায় রাখা উচিত।

এর কারণ হলো কথা বলার সময় কখনো কখনো মুখ থেকে থুথু বেরিয়ে পড়ে। এই থুথু আপনার মুখে বা শরীরে এসে পড়তে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এ ছাড়া কথা বলার মুখ থেকে দৃশ্যমাণ নয় এমন লালার কণাও বেরিয়ে আসতে পারে। দূরে দাঁড়ালে এই থুথু আপনার শরীরে লাগবে না এবং ঝুঁকি কম থাকবে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন কোভিড-১৯ গোত্রের ভাইরাস বাতাসে খুব সামান্য সময় ভেসে থাকে এবং বাসাতে এদিক ওদিক যেতে পারে না। ফলে কারো মুখ থেকে ভাইরাস বাতাসে ছড়ালেও ঝুঁকি কম থাকবে যদি দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়।

৬. সম্ভাষণ করুন সাবধানে

বাংলাদেশে বন্ধুর সাথে দেখা হলে হ্যান্ডশেক করা বা জড়িয়ে ধরা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু এই অভ্যাস বদলে ফেলার সময় এসেছে। স্পর্শ না করে সম্ভাষণপর্ব সারুন। হ্যান্ডশেক তো বাদই, ফিস্ট বাম্প বা এলবো বাম্পও ঝুঁকিপূর্ণ এখন।

৭. নগদ টাকা স্পর্শ করা কমিয়ে দিন

বিশ্বের অনেক দেশে নগদ টাকার ব্যবহার সীমিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে নগদ টাকার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এ জন্য নগদ টাকার স্পর্শ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? হ্যা, বাংলাদেশে বিষয়টি প্রায় অসম্ভব। তারপরও চেষ্টা করে দেখুন। বর্তমানে শহরে তো বটে, গ্রামে-গঞ্জেও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে টাকা পরিশোধ করা যায়। কিংবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবাও এখন খুবই সহজলভ্য। চেষ্টা করে দেখুন টাকার স্পর্শ কমিয়ে এই সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারেন কি না।

৮. পকেটে এক্সট্রা টিস্যু রাখুন

ধরুন আপনি অফিসে প্রবেশ করছেন। আপনার ঠিক আগে আপনারই এক সহকর্মী কাশি দিলেন এবং এরপর হাত দিয়ে দরজা খুলে অফিসে প্রবেশ করলেন। এবার আপনি দরজাটা খুলবেন। তো সরাসরি হাত দিয়ে খুলবেন? না, অবশ্যই এই কাজ করতে যাবেন না।

এই সময়ের জন্য সাথে আলাদা টিস্যু রাখুন সেই টিস্যু হাতে জড়িয়ে দরজা খুলুন। বাংলাদেশের বাজারে হ্যান্ড টিস্যু পাওয়া যায় খুব কম মূল্যে। জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ ভেজা টিস্যুও সহজলভ্য। সুতরাং এখন থেকে এই ধরনের জিনিস নিজের সাথে রাখার অভ্যাস করুন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর সারা পৃথিবীর অভ্যাস বদলে যাবে বলে যে বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তা হয়তো সত্যিই হবে।

৯. জীবাণু লেগে থাকতে পারে এমন জিনিস নিরাপদ করে নিন, মনে রাখুন ৯ দিনের কথা

করোনা ভাইরাসের জীবাণু কোথাও লেগে থাকলে নয় দিন পর্যন্ত আপনাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সুতরাং যে জুতা পরে বাইরে যাচ্ছেন, কাঁধে যে ব্যাগ রাখছেন বা গায়ে যে টি-শার্ট, তাও জীবাণুমুক্ত করে রাখুন। জীবাণুমুক্ত করার জন্য যদি কোনো কিছু ভেজাতে বা ধুতে না চান, তাহলে নয় দিন এমন জায়গায় রেখে দিন যেখানে জিনিসগুলো কেউ স্পর্শ করবে না। তাহলে নয় দিন পর এমনিতেই আপনার জুতা, ব্যাগ বা জামা-কাপড় জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। তবে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখতে হবে।

১০. বাসায় ফিরে সবার আগে অতি অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলুন

বাসার বাইরে আপনি কী কী স্পর্শ করেছেন, তা আপনি নিজেই জানেন না। সুতরাং বাসায় প্রবেশের পরপরই সবার আগে হাত ধুয়ে ফেলুন। হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াশ ও জীবাণুনাশক ব্যাবহার করুন। মনে রাখবেন, বাসার বাইরে যতোই সাবধান হোন না কেনো, বাসায় এসে হাত না ধুয়ে বাসার অন্য লোকদের সংস্পর্শে এলে আপনার কারণে সবাই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

করোনা ভাইরাসে ১০টি বিষয় খেয়াল রাখুন
                                  

ধীরে ধীরে এক জটিল সময়ে প্রবেশ করছে বিশ্ব। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীজুড়ে আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখের বেশি। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যতোটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারপরও নিশ্চয় বাসার বাইরে যেতে হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য খাবার সংগ্রহ বা ওষুধ কেনার জন্য বাইরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এমন সময়ে বাসার বাইরে যদি যেতেই হয় তবে এই ১০টি বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞরা বলছেন যতো বেশি সম্ভব হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে, যাতে হাতের মাধ্যমে নাক-মুখ বা চোখের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস দেহে প্রবেশ করতে না পারে। এ ছাড়া এন-নাইনটি ফাইভ ফেস মাস্কও ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সব পরামর্শ যতোটা মেনে চলা যাবে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ততোটাই ঠেকানো যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুতরাং সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করে এবং একটু সাবধানতা অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রাখতে পারে অনেক বড় ভূমিকা। এই লেখায় এমন কিছু বিষয়ের কথা আলোচনা করা হয়েছে, বাসার বাইরে অবস্থানের সময় এগুলো খেয়াল রাখলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কিছুটা হলেও কমে যেতে পারে।

১. আঙুলের টিপ কমিয়ে হাঁটু, পা, কনুই বা আঙুলের গিঁট ব্যবহার বাড়ান

লিফটের বাটন টিপতে এখনো কি আঙুলের সাহায্য নিচ্ছেন? অনুগ্রহ করে এখনই এই অভ্যাস বন্ধ করুন। যখন কোনো দরজা খোলার দরকার পড়ে, বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে, দরজা ধাক্কা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, তখন আঙুলের বদলে কনুই ব্যবহারের চেষ্টা করুন বা আঙুল ভাঁজ করে গিঁট দিয়ে চেষ্টা করুন।

এটিএম বুথে আঙুল দিয়ে পিন কোড দেওয়ার বদলে আঙুলের গিঁট ব্যবহার করুন। কোনো কাচের দরজা পার হতে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিন। এতে করে দরজার হাতলে কোনো জীবাণু থাকলে তা আপনার দেহে প্রবেশের আশঙ্কা কমে যাবে।

কোনো সিঙ্কের কল চালু করতে হাতের কবজি বা এলবো ব্যবহার করুন। আর কল যদি ঘুরিয়ে চালু ও বন্ধ করতে হয় আপনার জামার কোনো অংশে হাত পেচিয়ে নেন। মুহূর্তের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজের ত্বককে বিপদে না ফেলে জামায় ঝুঁকি নেওয়াটা আসলেই কম ঝুঁকিপূর্ণ। বাসায় ফেরার যতো দ্রুত সম্ভব জামা ধুয়ে ফেলুন।

২. যতো বেশি সম্ভব স্বয়ংক্রিয় সুবিধা খুঁজুন

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধরনের সুবিধা পাওয়া কঠিন। উন্নত বিশ্বে বেশির ভাগ শপিংমলের সামনের কাচের দরজা স্বয়ংক্রিয়। ফলে হাত দিয়ে খোলার বা বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না, যা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে এই সুবিধা বলতে গেলে পাওয়াই যায় না। তারপরও বিকল্প আছে কি না দেখে নিন। বিকল্প থাকলে সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। যেমন ধরুন- এই সময়ে বাসার জন্য যদি হ্যান্ড ওয়াশ ক্রয়ের কথা ভাবেন, তাহলে অটোমেটিক কোনো হ্যান্ড ওয়াশ ডিসপেনসার পাওয়া যায় কি না, দেখুন। এতে ডিসপেনসার বারবার স্পর্শ করার কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা থাকবে না।

৩. আপনার ফোন কোথায় রাখছেন, খেয়াল করুন

এই সময়ে অনেকের মধ্যে ফোন নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। তো ফোনটা বাথরুমে নিয়ে আপনি কোথায় রাখছেন? ওই জায়গা জীবাণুমুক্ত? এটা জানা কিন্তু কঠিন। সুতরাং ভালো হয় যদি ফোন এমন কোনো জায়গায় না রাখা যায়, যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা অনেক বেশি।

একই সাথে বাসার বাইরে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় টেবিলে ফোন রাখা অনুচিত। এত ফোন থেকে আপনার শরীরে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফোন এমন কোথাও রাখা যাবে না যেখানে অন্য মানুষের স্পর্শ আছে।

৪. ব্যক্তিগত শপিং ব্যাগ ব্যবহারের চেষ্টা করুন

সুপার শপের ট্রলি ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখুন। এই ট্রলি প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ সুপার শপ এই নিয়ম মানে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। সুতরাং ঝুঁকি কমাতে নিজের শপিং ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে কিছুটা হলেও জীবাণুর সংস্পর্শ কমানো যাবে।

৫. অন্য কারো সাথে কথা বলার সময় দূরত্ব বজায় রাখুন

এখন যেহেতু ভাইরাস সংক্রমণের অত্যন্ত বাজে সময়, সুতরাং যখন কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন পড়বে, অন্তত দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন। যার সাথে কথা বলছেন, তাকে বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করুন যে দূরত্ব এই মুহূর্তে কেনো জরুরি। অবশ্য এই ধরনের দূরত্ব সব সময়ই বজায় রাখা উচিত।

এর কারণ হলো কথা বলার সময় কখনো কখনো মুখ থেকে থুথু বেরিয়ে পড়ে। এই থুথু আপনার মুখে বা শরীরে এসে পড়তে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এ ছাড়া কথা বলার মুখ থেকে দৃশ্যমাণ নয় এমন লালার কণাও বেরিয়ে আসতে পারে। দূরে দাঁড়ালে এই থুথু আপনার শরীরে লাগবে না এবং ঝুঁকি কম থাকবে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন কোভিড-১৯ গোত্রের ভাইরাস বাতাসে খুব সামান্য সময় ভেসে থাকে এবং বাসাতে এদিক ওদিক যেতে পারে না। ফলে কারো মুখ থেকে ভাইরাস বাতাসে ছড়ালেও ঝুঁকি কম থাকবে যদি দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়।

৬. সম্ভাষণ করুন সাবধানে

বাংলাদেশে বন্ধুর সাথে দেখা হলে হ্যান্ডশেক করা বা জড়িয়ে ধরা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু এই অভ্যাস বদলে ফেলার সময় এসেছে। স্পর্শ না করে সম্ভাষণপর্ব সারুন। হ্যান্ডশেক তো বাদই, ফিস্ট বাম্প বা এলবো বাম্পও ঝুঁকিপূর্ণ এখন।

৭. নগদ টাকা স্পর্শ করা কমিয়ে দিন

বিশ্বের অনেক দেশে নগদ টাকার ব্যবহার সীমিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে নগদ টাকার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এ জন্য নগদ টাকার স্পর্শ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? হ্যা, বাংলাদেশে বিষয়টি প্রায় অসম্ভব। তারপরও চেষ্টা করে দেখুন। বর্তমানে শহরে তো বটে, গ্রামে-গঞ্জেও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে টাকা পরিশোধ করা যায়। কিংবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবাও এখন খুবই সহজলভ্য। চেষ্টা করে দেখুন টাকার স্পর্শ কমিয়ে এই সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারেন কি না।

৮. পকেটে এক্সট্রা টিস্যু রাখুন

ধরুন আপনি অফিসে প্রবেশ করছেন। আপনার ঠিক আগে আপনারই এক সহকর্মী কাশি দিলেন এবং এরপর হাত দিয়ে দরজা খুলে অফিসে প্রবেশ করলেন। এবার আপনি দরজাটা খুলবেন। তো সরাসরি হাত দিয়ে খুলবেন? না, অবশ্যই এই কাজ করতে যাবেন না।

এই সময়ের জন্য সাথে আলাদা টিস্যু রাখুন সেই টিস্যু হাতে জড়িয়ে দরজা খুলুন। বাংলাদেশের বাজারে হ্যান্ড টিস্যু পাওয়া যায় খুব কম মূল্যে। জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ ভেজা টিস্যুও সহজলভ্য। সুতরাং এখন থেকে এই ধরনের জিনিস নিজের সাথে রাখার অভ্যাস করুন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর সারা পৃথিবীর অভ্যাস বদলে যাবে বলে যে বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তা হয়তো সত্যিই হবে।

৯. জীবাণু লেগে থাকতে পারে এমন জিনিস নিরাপদ করে নিন, মনে রাখুন ৯ দিনের কথা

করোনা ভাইরাসের জীবাণু কোথাও লেগে থাকলে নয় দিন পর্যন্ত আপনাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সুতরাং যে জুতা পরে বাইরে যাচ্ছেন, কাঁধে যে ব্যাগ রাখছেন বা গায়ে যে টি-শার্ট, তাও জীবাণুমুক্ত করে রাখুন। জীবাণুমুক্ত করার জন্য যদি কোনো কিছু ভেজাতে বা ধুতে না চান, তাহলে নয় দিন এমন জায়গায় রেখে দিন যেখানে জিনিসগুলো কেউ স্পর্শ করবে না। তাহলে নয় দিন পর এমনিতেই আপনার জুতা, ব্যাগ বা জামা-কাপড় জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। তবে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখতে হবে।

১০. বাসায় ফিরে সবার আগে অতি অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলুন

বাসার বাইরে আপনি কী কী স্পর্শ করেছেন, তা আপনি নিজেই জানেন না। সুতরাং বাসায় প্রবেশের পরপরই সবার আগে হাত ধুয়ে ফেলুন। হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াশ ও জীবাণুনাশক ব্যাবহার করুন। মনে রাখবেন, বাসার বাইরে যতোই সাবধান হোন না কেনো, বাসায় এসে হাত না ধুয়ে বাসার অন্য লোকদের সংস্পর্শে এলে আপনার কারণে সবাই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

কোয়ারেন্টাইন কি? কীভাবে থাকবেন, কতদিন থাকবেন?
                                  

মাস চারেক আগেও ‘করোনাভাইরাস’ নামটি কারও শোনার কথা নয়, কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনের মতো শব্দের উচ্চারণ তো এই সেদিনও মনে হয়েছে কী কঠিন! কিন্তু এই মুহূর্তে দুনিয়াজুড়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ বোধকরি এগুলোই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সবাই সাবধান হচ্ছেন, নিজ থেকেই কোয়ারেন্টাইনে যেতে চান অনেকে। কিন্তু বিষয়টা আসলে কী? কীভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়, এমন আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন না অনেকেই-

কোয়ারেন্টাইন কী?
সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য অন্যদের থেকে আলাদা থাকা কিংবা চলাচলের জায়গাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলার নাম কোয়ারেন্টাইন। এটা তারাই করবেন যারা আক্রান্ত হননি তবে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন বা রোগ ছড়িয়ে পড়া এলাকায় থেকেছেন। সোজা কথায়, যারা আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ, তাদের জন্যই কোয়ারেন্টাইন।  

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের মধ্যে পার্থক্য
রোগ ছড়ানোর ভয়ে সন্দেহভাজন রোগীকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলার নাম কোয়ারেন্টাইন। অন্যদিকে আক্রান্ত রোগীকে আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নাম আইসোলেশন।

হোম কোয়ারেন্টাইন
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতেই অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করবেন এবং নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

কীভাবে থাকবেন
শুধু আলাদা থাকার নামই কোয়ারেন্টাইন নয়, এর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রণীত কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে-

১. অবশ্যই আলাদা গোসলখানা ও টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। ঘুম বা বিশ্রামের জন্যও লাগবে আলাদা বিছানা।  

২. খুব প্রয়োজনে বাড়ির অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে হলে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. স্তন্যদায়ী মা শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারবেন তবে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

৪. দিনে বেশ কয়েকবার সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন।

৫. কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় ব্যবহৃত সবকিছু আলাদা হতে হবে। যেমন- গ্লাস, থালা, কাপ, তোয়ালে, সাবান, বিছানার চাদর, বালিশ ইত্যাদি।

৬. হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখুন এবং ভালোভাবে নাক-হাত-মুখ ধুয়ে নিন।

কতদিন থাকবেন?
প্রায় সব চিকিৎসকরাই বলছেন ১৪ দিন। তবে চীনা কিছু চিকিৎসকের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে আরো কিছু বেশি দিনের কথা। আমাদের দেশের চিকিৎসকরা অবশ্য তাদের মত পাল্টাননি। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী এখনও দুই সপ্তাহ সময়টাই স্বীকৃত।

করোনা: কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সরকারের সতর্কতা জারি
                                  

করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ গঠিত কমিটিগুলোর কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করে একটি সতর্কতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিটিতে গতকাল সোমবার ১০ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস বিশ্বময় আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। দেশে সব মিলে ৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেলেও নতুন আরো ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। কাজেই এই ভাইরাস প্রতিরোধে এখনই জনসচেতনা বৃদ্ধি করা জরুরি প্রয়োজন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সারাবিশ্বে হোম কোয়ারেন্টাইন (নিজ গৃহে সার্বক্ষণিক অবস্থান) একমাত্র কার্যকর উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে প্রত্যাগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এমতাবস্থায়, বিদেশ প্রত্যাগত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় জাতীয়, বিভাগীয়, সিটি করপোরেশন এলাকায়, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন-
১. হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিবর্গ ১৪ দিন ঘরের বাইরে বের হবেন না এবং নিজ বাড়ির নির্ধারিত একটি কক্ষে অবস্থান করবেন।
২. পরিবারের অন্যান্য সদস্য দেশে প্রত্যাগত সদস্যের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করবেন।
৩. গঠিত কমিটিসমূহ সম্প্রতি বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের বাড়ী চিহ্নিত করবেন এবং তাদের গৃহে সার্বক্ষণিক অবস্থানের বিষয়ে তদারকি করবেন।


৪. গঠিত কমিটিসমূহ হোম কোয়ারেইন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ (যেমন: পৌর মেয়র, পৌর কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সহকারী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, পরিবার কল্যাণ সহকারী, পরিবারকল্যাণ পরিদশির্কা, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সাংবাদিক) বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পৃক্ত করতে হবে।
৫. কোয়ারেন্টাইনকৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসতে পারবেন না।
৬. যদি কোয়ারেন্টাইনকৃত ব্যক্তি উপর্যুক্ত নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহায়তা গ্রহণ করবেন।
৭. প্রয়োজনে ৩নং ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।
৮. হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিগণ অস্স্থু হলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনে স্থানীয় সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৯. কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিগণ যদি নিয়ম ভঙ্গ করেন তাহলে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই আইনে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
১০. প্রতিদিন এ বিষয়ে জেলা ভিত্তিক একটি প্রতিবেদন তৈরিপূর্বক সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ই-মেইল controlroomdghs@yahoo.com ও মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ই-মেইল hsdcontrolroom@gmail.comএ প্রেরণ করবেন।

টমেটোতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
                                  

 টমেটোর তরকারি বা সালাদ খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য এই সবজি। টমেটো থেকে পাওয়া যায় না এমন উপাদানই কম। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, কিছু আঁশ এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ই ও কে রয়েছে টমেটোতে।
প্রতি ১ কাপ টমেটো কুচিতে রয়েছে
১৭০.১৪ গ্রাম পানি
১.৫৮ গ্রাম প্রোটিন
২.২ গ্রাম আঁশ
৫.৮ গ্রাম শর্করা
০ গ্রাম কোলেস্টেরল
০.৩২ গ্রাম ক্যালোরি
১৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
৪২৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম
৪৩মিলিগ্রাম ফসফরাস
২৪.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি
১৪৯৯ (ওট) ভিটামিন- এ
টমেটোর উপকারিতা
টমেটোতে থাকা পটাশিয়াম স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া লাইকোপেন নামক উপাদান কোলেস্টেরল কমায়।
টমেটোতে ক্যারোটিন লাইকোপেন, লুটিন এবং বিটা ক্যারোটিন নামক বেশ কিছু ফাইটো কেমিক্যাল থাকে যা চোখের জন্য খুবই উপকারী।
টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েডস চামড়ার জন্য খুবই ভালো। এটি চামড়ায় সরাসরি অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব পড়তে দেয় না।
ক্ষত সারাতে এবং রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে টমেটো।
মেনোপজের কারণে ঘটতে থাকা পরিবর্তনগুলো যেমন অকারণ উত্তেজনা, অস্থিরতা, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি কমাতে সাহায্য করে।
টমেটো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
শক্ত ও মজবুত হাড় পেতে টমেটোতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সরাসরি ভূমিকা রাখে।
টমেটোতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় ঠাণ্ডা, জ¦র, কাশি দূর করতে এর গুরুত্ব অনেক।
লেখক: পুষ্টিবিদ

কিডনি সুস্থ রাখতে করনীয়
                                  

 অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে কার্বোহাইড্রে খাওয়া বন্ধ করে দেন। বিশেষ করে কিটো ডায়েট অনুসরণকারীদের কার্বজাতীয় খাবার একেবারেই বাদ দিতে হয়। কিন্তু এতে ক্ষতি হয় কিডনির। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে মোট ক্যালোরির ৬০-৬৫ শতাংশ যেন কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে। তাই সারা দিনে ছোট এক বাটি ভাত বা কয়েকটি রুটি, চিড়া-মুড়ি-খই এবং কয়েক রকম শাকসবজি-ফল খান। অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটি বাদ দিন।

কাঁচা লবণ খাবেন না। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্যাকেটজাত খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এ ধরনের খাবার পরিহার করলে কিডনির রোগের আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ কমবে। বাদ দিন জাঙ্ক ফুড। নিতান্ত খেতে হলে সপ্তাহে একবারের বেশি খাবেন না। পরিমাণ মতো পানি পান করুন।

দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খাওয়া উচিৎ। তবে শরীরে অন্য কোনও রোগ আছে কি না তার উপরও নির্ভর করে এই পরিমাণ। কম পানি পান করা যেমন কিডনির জন্য ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনের বেশি পানি পান করলেও কিডনিতে চাপ পড়ে। নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন, কিডনি কর্মক্ষম থাকবে দীর্ঘদিন।

 

মানুষের দেহে করোনার জীবাণুর স্থায়িত্ব ৩৭ দিন
                                  

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার শরীরে করোনার জীবাণু ৩৭ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের চিকিৎসকেরা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন লিখেছে যা ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার ২০ দিন পরে অনেকের শ্বাসনালীতে করোনাভাইরাসের আরএনএ চীনা চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেছে।

নতুন এই গবেষণার ফলে করোনায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তিকে কতদিন আইসোলেশনে রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হলে ১৪ দিন আইসোলেশনে রাখা হয়।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে শনিবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়ালো। সেইসঙ্গে আক্রান্ত ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৯ শ` ৫৫ জন। শুক্রবারই ইতালিতে একদিনে রেকর্ড ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ইরানও শুক্রবার নতুন করে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া শুক্রবার জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৪ শ` জনের।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়। ডব্লিউএইচও কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ

টিকা নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা
                                  

 কিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে বর্তমানে অসংখ্য রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আছে টিকা। তবে কিছু মানুষ কুসংষ্কার, ভুল ধারণার কারণে টিকা এড়িয়ে চলেন।
এতে শুধু ওই ব্যক্তি হুমকির মুখে পড়েন না, তার আশপাশের মানুষগুলোও ঝুঁকিতে থাকেন।
সারাবিশ্বে অসংখ্য প্রাণঘাতি রোগের হাত থেকে রক্ষা করছে টিকা এবং এদের ব্যবহার যে নিরাপদ তা প্রমাণিত।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল টিকা নিয়ে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা সম্পর্কে।
যে জন্য টিকা সে রোগের ভয়: যুক্তহীন হলেও কিছু মানুষ মনে করেন যে রোগের জন্য টিকা নেওয়া হচ্ছে, সেই রোগই তাদের আক্রমণ করবে। অথচ টিকার কারণে ওই রোগের আক্রান্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’য়ের দেওয়া তথ্য মতে, মাত্র ১ থেকে ৫ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও ওই রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের শরীরে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়। ফলে যে রোগের জন্য টিকা নেওয়া হল, প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় সেই রোগটিতেই শিশুটি ভবিষ্যতে আক্রান্ত হতে পারে। তবে তা কখনই টিকার জন্য হয় না। বরং তাদের শরীরে টিকা কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তা হয়।
শিশুকে প্রতিবন্ধী বানায়: ১৯৯৭ সালে অ্যান্ড্রু ওয়েকফিল্ড নামক একজন ব্রিটিশ সার্জন তার এক গবেষণায় টিকা আর প্রতিবন্ধী হওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরেন। পরে তার ওই গবেষণা বাতিল ঘোষণা করা হয়, এমনকি তার লাইসেন্সও বাতিল করা হয়।


তবে ঘটনা ছড়িয়ে পড়া থামানো যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে টিকা বর্জন করতে শুরু করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে সেই ভুল সংবাদ আজও সত্য হিসেবে বিদ্যমান। টিকার কারণে কখনই টিকা গ্রহণকারী প্রতিবন্ধী হননা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে: অনেক মানুষ মনে করেন সন্তানকে টিকা দিলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাবে এবং রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারাবে। একজন সচেতন মানুষের জন্য এই খবর হাস্যকর হলেও, যিনি বিশ্বাস করেন তার বিশ্বাসের দৃঢ়তা অবাক করার মতো।
একটি শিশু একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার টিকা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে। এই ক্ষমতার উৎস হল তার শরীরে থাকা ‘অ্যান্টি-বডি’। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এ সময় দুর্বল হয় না। কারণ শরীরের প্রতিটি কোষ এ সময় ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর টিকা সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।
পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার ভয়: এই ভয়ে টিকা বর্জনকারী মানুষের সংখ্যই হয়ত সবচাইতে বেশি। এদের কাছে টিকা একটি অপ্রাকৃতিক বিষয় এবং তাদের বিশ্বাস টিকায় থাকা রাসায়নিক উপাদান বিষাক্ত হতে পারে।


টিকা নিয়ে প্রচলিত এই কুসংস্কারগুলো মানুষের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্রতিটি টিকা অসংখ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত যে তা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা নিরাপদ। মানবদেহকে রোগ থেকে বাঁচানোই টিকা তৈরির একমাত্র উদ্দেশ্য।
তারপরও অনিশ্চয়তায় থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে তারপরই সিদ্ধান্ত। তবে মনগড়া যুক্তি আকড়ে ধরে থেকে টিকা বর্জন করা আর সন্তানকে রোগের মুখে ঠেলে দেওয়া একই কথা।
ছবি: রয়টার্স।

স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি: আইইডিসিআর
                                  

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল রোববার জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ৩ জন করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগী শনাক্ত হয়েছেন। কোভিড-১৯ আক্রান্ত এই তিন ব্যক্তির মধ্যে দুজন ইতালি থেকে দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে দুজন পুরুষ, অপরজন নারী। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে পাবলিক প্লেস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে আইইডিসিআর। তবে দেশে এখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, দেশে এখন পর্যন্ত ৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি। স্কুল-কলেজ বন্ধ করার প্রয়োজন নেই। তবে আমি সবাইকে পরামর্শ দেবো প্রয়োজন না হলে জনসমাগম হয় এমন জায়গায় যাওয়ার দরকার নেই। দরকার না হলে বাইরে না গিয়ে বাড়িতে থাকাটাই শ্রেয়। আইইডিসিআর-এর নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আরও জানান, ইতালি থেকে আসা দুজন ভিন্ন পরিবারের সদস্য। তবে তাদের একজন বাসায় আসার পর সে বাসাতেও একজন নারী আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি জানান, জ¦র ও কাশি নিয়ে এই তিন ব্যক্তি গত শনিবার আইইডিসিআরের হট লাইনে যোগাযোগ করে। এরপর গত ২৪ ঘণ্টায় তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় তারা পজিটিভ প্রমাণিত হন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ এর মধ্যে। এছাড়াও আরও দুই ব্যক্তিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছে। তাদের বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে তিনি বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন। এ-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে তাদের সঙ্গে দেশ কিংবা বিদেশ থেকে যোগাযোগের জন্য হটলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। হটলাইন নম্বরগুলো হলো- ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯৩৭১১০০১১। আইইডিসিআর সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ, লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সেক্ষেত্রে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে ফোন করলে বিদেশে কিংবা দেশের বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে তারা।

এ বিষয়ে মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যারা আক্রান্ত দেশ থেকে ভ্রমণ করে এসেছেন এবং যাদের মধ্যে করোনার লক্ষণ জ¦র. কাশি, গলাব্যথা বা শ্বাসকষ্টের উপসর্গ রয়েছে, তারা আমাদের হটলাইনে যোগাযোগ করবেন অথবা নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে যাবেন। আইইডিসিআর মহাপরিচালক বলেন, আমরা আক্রান্তদের অনুরোধ করব, আপনারা গণপরিবহন ব্যবহার না করে, আপনারা যদি মৃদু অসুস্থ থাকেন, তাহলে বাড়িতেই থাকুন। আমাদের সঙ্গে হটলাইনে যোগাযোগ করুন। আমাদের টিম আপনাদের বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে এসে পরীক্ষা করবে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত কোনো বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সন্দেহ করলে আমাদের হটলাইনে তা ফোন করে বললে আমরা সেখানেও নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা করব। ৪৩টি দেশে স্থানীয় সংক্রমণের মাধ্যমে আক্রান্ত হয়েছে জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক বলেন, বাইরের দেশ থেকে আক্রান্ত রোগী দেশে আসার পর ওই রোগীর সংস্পর্শে গিয়ে যারা আক্রান্ত হয়, তাকে স্থানীয় সংক্রমণ বলা হয়।

তিনি বিদেশে যাননি কিন্তু বিদেশ থেকে আসা আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকেন, এরকম স্থানীয় সংক্রমণের ইতিহাস রয়েছে ৪৩টি দেশে। এই ৪৩টি দেশের মধ্যে ৩৩টি দেশে আমরা দেখতে পাচ্ছি নতুন রোগী রয়েছে। দশটি দেশে বেশ কিছুদিন ধরে নতুন করে আক্রান্ত হয়নি। ইতালির মতো দেশেও বাড়িতে বসে চিকিৎসা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাড়িতে বসে চিকিৎসা করা সম্ভব। বাড়িতে যদি আইসোলেশন নিশ্চিত করতে পারে বাড়িতে চিকিৎসা করা সম্ভব। সুতরাং আমরা সাবধান হব, আতঙ্কিত হব না। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। একপর্যায়ে এ ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ইতোমধ্যেই দুনিয়াজুড়ে শতাধিক দেশ ও অঞ্চলের ১ লাখ ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৯ জন। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৬০ হাজার ৯০৫ মানুষ।

 

টক দই শরীরকে সুস্থ ও তরতাজা রাখে
                                  

টক দইয়ের প্রো বায়োটিক উপাদান লিভারকে যেমন সুস্থ রাখে তেমনই এর জেরে কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ভারতীয় খানাপিনায় সারা বছর ধরেই দইয়ের আধিক্য বেশ ভালো রকম। চটজলদি ব্রেকফাস্ট বানাবেন? টক দই আর সঙ্গে কলা, আপেল, আম কিংবা আপনার পছন্দের যে কোনো ফল মিশিয়ে ঘুরিয়ে ফেলুন মিক্সারে। তৈরি আপনার `সুপার হেলদি ব্রেকফাস্ট`! লাঞ্চের জন্য বানাচ্ছেন চিকেন, মাটন বা ফিশ কারি। দুই চামচ টক দই ফেটিয়ে মিশিয়ে ফেলুন কারিতে। বদলে যাবে স্বাদ। ডিনারে রয়েছে রুটি-তরকারি। সঙ্গে থাকে এক বাটি রায়তা। তবে কেবল খাবারের স্বাদ বদলাতেই নয়, দইয়ের স্বাস্থ্যগুণও অনেকখানি।


শীতকাল মানেই খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম, সঙ্গে পার্টি আর পিকনিক তো লেগেই রয়েছে। সব মিলিয়ে শরীরকে বইতে হচ্ছে অনেক অনিয়ম। প্রতিদিনের ডায়েটে রাখুন এক বাটি টক দই। এতেই মিলবে শরীরের নানান সমস্যার সহজ সমাধান।


টক দইয়ের প্রো বায়োটিক উপাদান লিভারকে যেমন সুস্থ রাখে তেমনই এর জেরে কোলেস্টেরলও নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকেই দুধ খেতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ভরসা রাখতে পারেন দইয়ের উপর। দুধের তুলনায় দই অনেক বেশি সহজপাচ্য। জেনে নিন দইয়ের কোনো কোনো গুণ আপনাকে সাহায্য করবে শরীরকে তাজা রাখতে।

শরীরকে ডি-টক্সিফাই করতে দই
শরীরকে ডি-টক্সিফাই করতে দইয়ের জবাব নেই। শরীরের টক্সিন যত সরবে, সুস্থতার পথে ততই এগিয়ে থাকবেন আপনি। ঘরোয়া পদ্ধতিতেই কিছু শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত জল ও টক দইয়ের সাহায্যে অতি সহজেই আপনি শরীরকে ডি-টক্সিফাই করতে পারেন।
তেল-মসলাদার খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারে না? খুব রুটিন মেনে খেলেও একটু-আধটু তেল-মসলা মাঝেমধ্যে খাওয়া হয়েই যায়। টক দইয়ের ফারমেন্টেড এনজাইম খাবার হজমের জন্য কার্যকর। বদহজম দূর করতেও সমানভাবে কাজে আসবে টক দই।
গুড কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে ও খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে দইয়ের ভূমিকা অসীম। তাই কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাখতে ডায়েটে অবশ্যই রাখুন টক দই।
দইয়ে থাকা সক্রিয় `কালচার` শরীরে আক্রমণকারী রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করতে সহায়ক। তাই শরীরকে রোগমুক্ত করতেও দইয়ের জবাব নেই।
বস্নাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণেও টক দই অত্যন্ত কার্যকর।
অনেক মহিলাই ভ্যাজাইনাল ইনফেকশনে ভোগেন। তাদের ডায়েটে অবশ্যই রাখুন টক দই। দইয়ের মধ্যে থাকা ল্যাকটো ব্যাসিলাস অ্যাসিডোফিলাস ব্যাকটেরিয়া ইনফেকশন রোধে বিশেষ সহায়ক।


২৫০ গ্রাম দইয়ে প্রায় ২৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে হাড়গুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, হাড় ভঙ্গুর হতেও শুরু করে। তাই মাঝ বয়সের পর ডায়েটে অতি অবশ্যই রাখুন টক দই।
শরীরে মেদ জমছে? টক দই ডায়েটে রাখলে ঝরবে মেদের পরিমাণ।
রূপচর্চাতেও দই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে শুধু ফেসপ্যাক বানাতেই দই কাজে লাগে তা নয়- দই খেলে বাড়ে ত্বকের ঔজ্জ্বল্যও।

সজনে গাছ ৩০০ ধরনের রোগ থেকে বাঁচাবে
                                  

সজনে গাছের বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা অলিফেরা। ইংরেজিতে গাছটিকে মিরাকল ট্রি বা অলৌকিক গাছ নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পুষ্টিবিদদের মতে, সজনে গাছ ৩০০ ধরনের রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে। সজনের বাকল, শিকড়, ফুল-ফল, পাতা, বীজ এমনকি এর আঠাতেও ঔষধি গুণ আছে। জেনে নিন এই সম্পর্কে। শরীরের কোনও স্থানে ব্যথা হলে বা ফুলে গেলে সজনের শিকড়ের প্রলেপ দিলে ব্যথা ও ফোলা সেরে যায়। সজনের শিকড়ের রস কানে দিলে কানের ব্যথা ভালো হয়।
সজনের আঠা দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মাথা ব্যথা সেরে যায়।


সজনে ফলের রস দুধের সাথে মিশিয়ে খেলে মূত্র পাথরি দূর হয়। ফুলের রস হাঁপানি রোগের বিশেষ উপকারী।
সজনে পাতার রসের সাথে লবণ মিশিয়ে খেতে দিলে বাচ্চাদের পেটে জমা গ্যাস দূর হয়।
সজনে পাতা খেলে যন্ত্রণাদায়ক জ¦র ও সর্দি দূর হয়।


সজনে পাতার রসে বহুমূত্র রোগ সারে প্রতিদিন ৫০ গ্রাম সজনের রস খেলে ২১ শতাংশ ডায়াবেটিক রোগ ভালো হয়ে যায়।
সজনের কচি ফল কৃমিনাশক। এ ছাড়া এটি লিভার ও প্লীহার দোষ নিবারক, প্যারালাইসিস রোগের হিতকর।


সজনের ফল নিয়মিত রান্না করে খেলে গেঁটে বাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়
সজনের ফুল কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে। ঘাতক কোলেস্টেরল দূর করে সজনে আপনার হৃদপিণ্ডের বন্ধু হয়ে উঠতে পারে। লেখক: পুষ্টিবিদ

বুঝেশুনে পানি পান করুন
                                  

 প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করেন আপনি? বেশি না কম? কেউ বেশি খাচ্ছেন, কেউ কম খাচ্ছেন। কম পানি পানে দেহে পানিশূন্যতা দেখা দেবে নিশ্চিত। আবার কেউ অতিরিক্ত পানি পান করছেন যেটি আপনার কিডনি ফিল্টার করতে পারছে না। তাই বুঝেশুনে পানি পান করুন। কখন, কতটুকু পানি পান করলে সুস্থ থাকবেন তার একটি প্রাথমিক ধারণা নিয়ে নিন... ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে এক থেকে দুই গ্লাস পানি পান করুন।

এতে দেহ সক্রিয় থাকে। দুপুরে বা রাতে খাওয়ার অন্তত আধঘন্টা আগে পানি পান করবেন এতে হজমশক্তি বাড়ে। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস হালকা গরম পান করতে পারেন। এর ফলে ঘুম ও হজম দুটোই ভাল হবে। এছাড়াও সারা দিন যখন যেমন পিপাসা পাবে, তখনই পানি পান করবেন। সূত্র: জি নিউজ।

 

যে ৭ কারণে রোজ কমলা খাবেন
                                  

শীতকালে বাজারে প্রচুর কমলা পাওয়া যায়। কিন্তু সুস্বাধু এই ফলের গুরুত্ব না বুঝে আমরা অনেকেই এটি খাই না। ভিটামিন `সি`তে ঠাসা এই ফল রোজ খাওয়া উচিত। এখন শীত-গ্রীষ্ম ১২ মাস কমলা পাওয়া যায়।


যারা ঠাণ্ডা-সর্দিতে ভোগেন তাদের জন্য প্রধান দাওয়াই এই ফল। রোগ প্রতিরোধে কমলার চেয়ে কার্যকর ফল খুবই কম আছে।

যেসব কারণে প্রচুর কমলা খাবেন সে সম্পর্কে আসুন জেনে নিই-

* রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় কমলা। রোজ কমলা খেলে ছোটখাটো রোগবালাই এমনকি বড় রোগও ঘেঁষবে না ধারেকাছে।

* কমলায় রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়। ত্বকের বলিরেখা দূর করে তারুণ্য ধরে রাখে বহু বছর।
* আমাদের শরীরে মাঝে মাঝে ভিটামিন `সি`র ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর হয়ে পড়ে নির্জীব। কমলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন `সি` রয়েছে। ত্বকের সজীবতা ও শরীরে প্রাণশক্তি এবং কর্মস্পৃহা ধরে রাখতে কমলা খান প্রতিদিন।

* কমলায় ভিটামিন `সি`র পাশাপাশি রয়েছে ভিটামিন বি-৬ ও ম্যাগনেসিয়াম। এই উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।

* ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় কমলা।

* অনেকে চোখের সমস্যায় ভোগেন। কমলায় রয়েছে ভিটামিন `এ`। এই ভিটামিন শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে।

* কমলায় রয়েছে প্রচুর আঁশজাতীয় উপাদান, যা ব্লাডসুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

বিছানার পাশে লেবুর টুকরো!
                                  

সাইট্রাস ফল হিসেবে লেবুর অনেক গুণের কথাই জানি আমরা। লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি, ফাইবারসহ বিভিন্ন উপকারী উপাদান আছে। হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে, ওজন কমাতে, হজমের জন্য লেবু খুব উপকারী। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে অনেক রোগ দূর করতেও এর জুড়ি নেই।

লেবুর থেরাপি গুণ
রাতে ঘুমানোর আগে কয়েক টুকরো লেবু কেটে সেগুলোতে একটু লবণ ছিটিয়ে আপনার বিছানার পাশে বা জানালার পাশে রেখে দিন। এই পদ্ধতি এক ধরনের থেরাপির কাজ করবে। অনেক আগে থেকেই শক্তিশালী অ্যারোমা থেরাপি হিসেবে মনোযোগ বাড়াতে, স্ট্রেস লেভেল কমাতে লেবু ব্যবহৃত হচ্ছে। শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ভালো রাখতেও লেবু সাহায্য করে। তাই বিছানার পাশে বা ঘরে লেবু কেটে রাখলে তা এয়ার ফ্রেশনারের চাইতেও অনেক গুণে ভালো কাজ করবে। কারণ কেমিক্যাল সমৃদ্ধ এয়ার ফ্রেশনার আপনার মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে লেবুর গন্ধ আপনাকে প্রকৃতিগতভাবেই সতেজ রাখবে। লেবুর টুকরো বিছানার পাশে রাখবেন যেসব কারণে-

শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য উপকারী
লেবুর গন্ধ অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল হওয়ার পাশাপাশি শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য বেশ উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। সর্দির কারণে নাক বন্ধ হয়ে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটলে, লেবুর গন্ধ ঐ সমস্যা দূর করে করবে।

স্ট্রেস কমায়
রাতে ঘুমানোর আগে আপনার বিছানার পাশে লেবুর টুকরো রাখার আরেকটি বিশেষ উপকার হলো লেবুর গন্ধ স্ট্রেস দূর করতে পারে। আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে আপনাকে ফুরফুরে রাখতে পারে লেবুর গন্ধ। এর ফলে শরীর ও মন সতেজ হয়, ফলে রাতের ঘুমটাও ভালো হয়।

পোকামাকড় দূর করে
ঝাঁঝালো গন্ধের কারণে লেবু খুব সুফলদায়ক। প্রাকৃতিক রিপিলেন্ট হিসেবে এটি মশাসহ অন্যান্য পোকামাকড় দূর করে। তাই লেবুর টুকরো বিছানার কাছে রেখে অনেকটা নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারবেন আপনি।

বাতাসের ব্যাকটেরিয়া দূর করে
ঘরের বাতাসে সুঘ্রাণ ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি লেবুর টুকরো বাতাসের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া শুষে নিয়ে বাতাস নির্মল করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়
গবেষণায় দেখা গেছে লেবুর গন্ধ রক্তনালীগুলো সতেজ রেখে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে।

এনার্জি বাড়ায়
রাতে শোয়ার ঘরে লেবুর টুকরো রাখলে সকালে ঘুম থেকে উঠে দারুণ সতেজ ও ফুরফুরে বোধ করবেন আপনি। লেবুর ঘ্রাণ মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদন ত্বরান্বিত করে, এতে রাতে ঘুম যেমন ভালো হয়, তেমনি মুডও ভালো থাকে। রাতে বিছানার পাশে বা ঘরে রাখা লেবুর টুকরোগুলো সকালে সরিয়ে ফেলতে ভুলবেন না। কারণ একদিন পরই লেবুর সেই কার্যকারিতা আর থাকে না। সেক্ষেত্রে ঐ লেবুর টুকরোগুলো কিচেন সিংক বা মাইক্রোওয়েভ পরিষ্কার করতে অথবা ফেটে যাওয়া পায়ের গোড়ালি পরিষ্কার করতে ব্যবহার করতে পারেন। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই

খালিপেটে যেসব খাবার থেকে বিরত থাকবেন
                                  

সারা রাত পেটকে ছুটি দিয়ে সক্কাল সক্কাল কী খাই কী খাই করতে করতে এমন কিছু খাবার আমরা খেয়ে ফেলি যা আসলে আমাদের পেট এবং শরীর উভয়ের পক্ষেই ক্ষতিকর। পুষ্টি বিশেষজ্ঞ রূপালি দত্ত জানান, জাঙ্ক ফুড, কোল্ড বেভারেজ, কফি, সালাদ খালিপেটে খেলেই সর্বনাশ।

কি কি খাবেন না খালিপেটে :
১. তেল মসলাযুক্ত খাবার: খালিপেটে কখনোই স্পাইসি ফুড বা তেল-ঝাল মসলা দেওয়া খাবার খাবেন না। এতে গ্যাস-অম্বলের পরিমাণ আরও বাড়বে। গ্যাসট্রিক আলসারের সমস্যাও দেখা দেওয়া অসম্ভব নয়।
২. মিষ্টি বা ফ্রুট ড্রিঙ্কস: অনেকেই সকাল শুরু করেন একগস্নাস ফলের রস দিয়ে। এটা শরীরের পক্ষে ভীষণ ক্ষতিকর। সারা রাত বিশ্রামের পর প্যানক্রিয়াস এবং লিভারে সকাল সকাল বড় এক গস্নাস ফলের রস ভীষণ চাপ তৈরি করে। এ ছাড়া ফলের মধ্যে থাকা সুগার, খালিপেটে গ্যাস তৈরি করতে বেশি সময় নেয় না।
৩. ক্যানড সোডা: অম্বল-গ্যাস থেকে রেহাই পেতে অনেকেই ক্যানড সোডা খান। এতে হিতে বিপরীত হয়। এর মধ্যে থাকা কার্বোনেটেড অ্যাসিড খাবার হজমের বদলে আরও গ্যাস তৈরি করে। খালি পেটে খেলে তো কথাই নেই! গ্যাস থেকে মাথাঘোরা, বমি, পেটে ব্যথার দাপটে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে হয়তো আপনাকে।
৪. কোল্ড বেভারেজ: ঘুম ভেঙেই গরমাগরম চা-কফির বদলে অনেকেরই পছন্দ কোল্ড টি বা কফি। ফলাফল, পেটে মিউকাস। তার থেকে অসহ্য যন্ত্রণা। সঙ্গে গ্যাস-অম্বল, হজমের সমস্যা তো উপরি পাওনা। এর থেকে গরম চা-কফি সত্যিই বেশি উপকারী। শরীরকে চাঙ্গা করে নিমেষে।
৫. টক ফল: খালি পেটে টক ফল মানেই গ্যাসে পেট ভর্তি। সঙ্গে এসিডডিটি। কারণ, ফলের মধ্যে থাকা সাইট্রাস বা ভিটামিন সি শরীরের পক্ষে ভীষণ উপকারী হলেও খালি পেটের পক্ষে নয়।

 

দগ্ধ হলে করণীয়
                                  

অনাকাক্সিক্ষত হলেও চরম সত্য, বর্তমানে দেশে বিরাজ করছে উত্তাল রাজনীতিক পরিস্থিতি। দিনের পর দিন চলছে অবরোধ আর হরতাল। সেই সঙ্গে থাকছে পিকেটারদের গাড়ি ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ। চলন্ত গাড়িতে কখনো ছুঁড়ে দেওয়া হচ্ছে বিস্ফোরক ককটেল, কখনো পেট্রোল বোমা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দে চারদিক ছেয়ে যাচ্ছে ধোঁয়ায়। আগুনে দগ্ধ হচ্ছে নিরীহ যাত্রীদের শরীর। তারপরও কাজের তাগিদে ছুটে যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে। চলার পথে এধরনের বিপদ কারোরই কাম্য নয়। তারপরও যদি কেউ এ পরিস্থিতিতে পড়েই যান, তা হলে দ্রুত নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করতে হবে।

চলন্ত বাসের ঠিক যে অংশে কোনো বিস্ফোরণ ঘটে, তা সেখানে থাকা যাত্রীকেই বেশি আঘাত করে। একটু দূরে অবস্থান করা যাত্রীকে আঘাত করে ধীর গতিতে। কিন্তু হঠাৎ করে বোমা বিস্ফোরণের ধোঁয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। বিস্ফোরণের ধোঁয়া মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ যেমন- পেট, ফুসফুস ও কানের ভেতর প্রবেশ করে দুর্বল করে ফেলে। ধোঁয়া মস্তিষ্কে অক্সিজেন প্রবেশে বাধা দিয়ে অজ্ঞানও করে দেয়। আগুনের আঁচে চামড়া পুড়ে যায়। কখনো অঙ্গহানি করে রক্তপাত ঘটায়। অপ্রত্যাশিত এধরনের বিপদ মোকাবেলায় জেনে রাখতে পারেন কিছু প্রয়োজনীয় বিষয়-

১. দ্রুত বাস থেকে নেমে যেতে হবে।
২. ধোঁয়ামুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নিতে হবে। ধোঁয়ার কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
৩. অঙ্গহানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্ত বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. বাসে চলাচলের সময় পরনে সুতি ও পাতলা কাপড় রাখার চেষ্টা করতে হবে। আগুনে সিনথেটিকের চেয়ে সুতি কাপড় অনেক বেশি সহনশীল হয়। সুতি কাপড়ে যদি আগুন লাগেও তা দ্রুত নিভিয়ে ফেলা যায়।
৫. পায়ের জুতাটি এমন হওয়া উচিত যাতে নিজেকে রক্ষা করার প্রয়োজনে দৌড়ানো যায়।
৬. সমস্যা গুরুতর হলে আশেপাশের কারো সাহায্য নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

 

শীতকালে সুস্থ থাকার ৯টি সহজ উপায়
                                  

মৌরি, এলাচ, দারচিনি, এ ধরনের কিছু মসলা এশীয়দের কাছে খুবই পরিচিত, যা চীন এবং মিশরে ৫০০০ বছর আগে থেকে শীতকালের নানা অসুখে ব্যবহার হয়ে আসছে। যা আজকাল জার্মানদের কাছেও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এর কারণ ও ব্যবহার।

ধনে
বাঙালি রান্নায় প্রতিদিনই ধনের ব্যবহার রয়েছে একথা ঠিক তবে এর কী উপকারিতা তা কি জানি সবাই? ধনে পেট, অন্ত্র এবং নার্ভকে ঠান্ডা বা শান্ত রাখে। তা ছাড়া জটিল মাথাব্যথা অর্থাৎ মাইগ্রেন সারতেও ভূমিকা রাখে। এক চামচ শুকনো ধনে ফুটন্ত পানিতে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর তা ছেঁকে একটু মধু মিশিয়ে পান করুন, হালকা বোধ করবেন।

মৌরি
সামান্য মিষ্টি স্বাদের এই মৌরিকে আমরা খাওয়ার পর হজমের জন্য একটুখানি মুখে দেয়ার সুবাদে চিনি। জার্মানরা এই মৌরিই ব্যবহার করে বিভিন্ন কেক বা বিস্কুট তৈরি করার সময়। মৌরি পেট পরিষ্কার রাখতে এবং স্বাসনালীর ইনফেকশনের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে থাকে। শীতকালে আধা চামচ মৌরি চা ১০ মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে দিনে কয়েক বার পান করলে পেট এবং স্বাসনালীর সমস্যা দূরে থাকে।

আদা
আদার গুণের কথা আজ আর কে না জানে? আয়ুর্বেদি ওষুধের তালিকার আদার স্থান অনেক ওপরে। আদা, কাশি, পেটের সমস্যা এবং বমি-বমি-ভাব দূর করতে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। বড় এক টুকরো আদা এক লিটার পানিতে ঘন্টাখানেক ফুটিয়ে ২৪ ঘণ্টা পর ছেঁকে বোতলে ঢেলে রাখুন। তার পর কয়েকদিন ধরে অল্প অল্প করে পান করুন, যা পেটের ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলতে সাহায্য করবে। পরামর্শ: কোলনের ইন্টারনিস্ট ডাক্তার ক্লাউস ইয়ুর্গেন স্ল্যুইটার।

এলাচ
পোলাও, কোর্মা, বা মিষ্টি জাতীয় নানা খাবারে সুন্দর ঘ্রাণের জন্য এলাচ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জার্মনিতে বড়দিন উপলক্ষে তৈরি নানা কেক বিস্কুটে এলাচ দেওয়া হয়। এলাচ পেটকে শান্ত রাখে, নিঃশ্বাস দুর্গন্ধমুক্ত করে। এমনকি এই ক্ষুদ্র এলাচ দানা চিবোলে নাকি মানুষের মনও ভালো হয়ে যায়।

জায়ফল
জায়ফল অর্থাৎ শক্ত বাদামের মতো দেখতে এই মসলাটির জন্ম ইন্দোনেশিয়ায়। এর ভেতরের শক্ত দানা গুঁড়ো করে খেলে ইনফেকশন এবং বাত ও গেঁটে বাতের ব্যথায় খুবই উপকারী। জায়ফল খাওয়ায় রুচি বাড়াতেও সাহায্য করে, তবে পরিমাণে খুবই কম খেতে হয় অর্থাৎ মাত্র এক চিমটে।

লবঙ্গ
লবঙ্গ মাইগ্রেন অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায় এবং খুশখুশে কাশি দূর করে। লবঙ্গের ঝাঁঝ শরীরে উদ্দীপক হিসেবেও কাজে করে।

জাফরান
সবচেয়ে দামি মশলাগুলোর মধ্যে মিষ্টি রং-এর জাফরান একটি। যা এশীয় খাবার অর্থাৎ পোলাও, বিরিয়ানি এবং বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় খাবারে দেওয়া হয়। তা ছাড়া একগ্লাস গরম দুধে এক চিমটে জাফরান দিয়ে দু’মিনিট গরম করে পান করে নিন। যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য তাদের সাহায্য করবে। জাফরান হালকা হৃদরোগের সমস্যায়ও নাকি অনেক সময় উপকারে আসে।


দারচিনি
দারচিনি শুধু খাবারে সুন্দর মিষ্টি ঘ্রাণই ছড়ায় না। এতে রয়েছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়ার উপাদান, যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়।

গোলমরিচ
গোলমরিচ হাড়ের ব্যথা, স্ট্রেস এবং নার্ভাসনেস দূর করতে সাহায্য করে থাকে। ভালোভাবে গরম করা একমুঠো গোলমরিচ একটি কাপড়ে নিয়ে তা ব্যথার স্থানে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে বাতের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।


   Page 1 of 91
     স্বাস্থ্য-তথ্য
করোনা ভাইরাসে ১০টি বিষয় খেয়াল রাখুন
.............................................................................................
কোয়ারেন্টাইন কি? কীভাবে থাকবেন, কতদিন থাকবেন?
.............................................................................................
করোনা: কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সরকারের সতর্কতা জারি
.............................................................................................
টমেটোতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
.............................................................................................
কিডনি সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
মানুষের দেহে করোনার জীবাণুর স্থায়িত্ব ৩৭ দিন
.............................................................................................
টিকা নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা
.............................................................................................
স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি: আইইডিসিআর
.............................................................................................
টক দই শরীরকে সুস্থ ও তরতাজা রাখে
.............................................................................................
সজনে গাছ ৩০০ ধরনের রোগ থেকে বাঁচাবে
.............................................................................................
বুঝেশুনে পানি পান করুন
.............................................................................................
যে ৭ কারণে রোজ কমলা খাবেন
.............................................................................................
বিছানার পাশে লেবুর টুকরো!
.............................................................................................
খালিপেটে যেসব খাবার থেকে বিরত থাকবেন
.............................................................................................
দগ্ধ হলে করণীয়
.............................................................................................
শীতকালে সুস্থ থাকার ৯টি সহজ উপায়
.............................................................................................
ফুসফুসের সুস্থতা জরুরি রোগমুক্ত থাকতে
.............................................................................................
রক্তদূষণ রোগ ক্যানসারের চেয়ে ভয়াবহ
.............................................................................................
শরীর ব্যথা হয় ধূমপানের কারণেও!
.............................................................................................
শীতে চুলের রুক্ষতা দূর করবেন যেভাবে
.............................................................................................
শীতে শরীর গরম থাকবে যেসব খাবার খেলে
.............................................................................................
বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকায় যা রাখতে হবে
.............................................................................................
বয়স্করা মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় যা করবেন
.............................................................................................
মেরুদণ্ড ভালো রাখতে করনীয়
.............................................................................................
শীতে বাদ দেওয়া উচিৎ যেসব খাবার
.............................................................................................
যেভাবে নেবেন কানের যত্ন
.............................................................................................
চোখের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টি বাড়ায় কন্টাক্ট লেন্স
.............................................................................................
শুধু খুলনায় এক বছরে ৫৬ জন নতুন এইডস রোগী
.............................................................................................
সহজ উপায়ে খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহণের পদ্ধতি
.............................................................................................
যে কারনে রাতে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায়
.............................................................................................
এই শীতে রুক্ষ চুলকে যেভাবে বিদায় জানাবেন
.............................................................................................
অতিরিক্ত চা পানে নানান সমস্যা
.............................................................................................
দিনে কতটুকু রসুন খাওয়া প্রয়োজন?
.............................................................................................
আত্মবিশ্বাস বাড়ায় সেলফ ডিফেন্স
.............................................................................................
সকালে খালি পেটে পানি পান
.............................................................................................
যেসব বদভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার কর্মক্ষেত্রে
.............................................................................................
শীতে পালংশাক খাচ্ছেন তো?
.............................................................................................
অক্লান্ত পরিশ্রমে আপনাকে শক্তির যোগান দেবে কিছু খাবার
.............................................................................................
মুখ ও দাঁত সুস্থ সবল রাখার জন্য
.............................................................................................
কোমরে ব্যথা হলে
.............................................................................................
লালশাকের উপকারিতা
.............................................................................................
যে কারনে হাত ধোয়া জরুরি
.............................................................................................
পেটে ভর দিয়ে শোয়ার যত অপকারিতা
.............................................................................................
যেসব খাবার রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায়
.............................................................................................
স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে যে খাবর
.............................................................................................
যা হয় অতিরিক্ত পনির খেলে
.............................................................................................
মাংস খাওয়া ভালো না খারাপ
.............................................................................................
পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ১০ ফল
.............................................................................................
স্বাস্থ্যের জন্য ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন ক্ষতিকর
.............................................................................................
কব্জির ব্যথায় যা করবেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD