বৃহস্পতিবার , ১৬ রবিঃ আউয়াল ১৪৪১ | ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য-তথ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যেসব বদভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার কর্মক্ষেত্রে

কিছু কিছু বদভ্যাসের কারণে কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজ করেও উচ্চপদস্থদের সুনজরে পড়া যায় না। এক্ষেত্রে নিজেকে খানিকটা সংশোধন করে নিলে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। জীবনযাপন-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে কর্মক্ষেত্রে যেসব বাজে অভ্যাস উন্নতির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে সে বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়া হল।


সময়ানুবর্তিতা: যে কোনো অফিসেই কর্মীদের সময়ানুবর্তীতাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। সব মিটিংয়ে দেরি, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তাই সময় মতো কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট আগেই পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিন। কাজের সঠিক পরিকল্পনা না করা: দিনের শুরুতেই সারাদিন কী কী কাজ করতে হবে তার পরিকল্পনা করে ফেলা দরকার। এতে মোটামোটিভাবে কাজ গুছিয়ে নেওয়া যায়।


মধ্যাহ্ন বিরতি দীর্ঘ করা: কাজের মাঝে বিরতি মন সজীব করতে সহায়তা করে। তবে এর জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা মোটেও ঠিক নয়। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন। বিরতির পরে কী কী করণীয় আছে তা এই সময়েই ঠিক করে নিন।


ই-মেইল যোগাযোগে অপরিপক্কতা: কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হল ই-মেইল। ই-মেইল দেখতে বা এর উত্তর দিতে দেরি করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের তথ্য, কোনো কিছু জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ইত্যাদি ভুল করতে পারেন। তাই ই-মেইলে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করতে কম্পিউটার বা মোবাইলের ই-মেইলের নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।


অপ্রস্তুত থাকা: কোনো মিটিং বা ‘প্রেজেন্টেশন’য়ে অপ্রস্তুতভাবে যাওয়া মোটেও ঠিক নয়, এটা আপনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যা পদোন্নতির অন্তরায় হতে পারে। তাই মিটিংয়ে যাওয়ার আগে কিছুটা সময় নিয়ে আগে নিজে প্রস্তুতি নিন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সহজে ও সুন্দরভাবে মিটিং অথবা ‘প্রেজেন্টেশন’ সম্পন্ন করা যাবে।

যেসব বদভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার কর্মক্ষেত্রে
                                  

কিছু কিছু বদভ্যাসের কারণে কর্মক্ষেত্রে ভালো কাজ করেও উচ্চপদস্থদের সুনজরে পড়া যায় না। এক্ষেত্রে নিজেকে খানিকটা সংশোধন করে নিলে অনেক অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। জীবনযাপন-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে কর্মক্ষেত্রে যেসব বাজে অভ্যাস উন্নতির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে সে বিষয়ে একটা ধারণা দেওয়া হল।


সময়ানুবর্তিতা: যে কোনো অফিসেই কর্মীদের সময়ানুবর্তীতাকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। সব মিটিংয়ে দেরি, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি ইত্যাদি বিষয়গুলো আপনার ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। তাই সময় মতো কর্মক্ষেত্রে পৌঁছাতে ১৫ মিনিট আগেই পৌঁছানোর প্রস্তুতি নিন। কাজের সঠিক পরিকল্পনা না করা: দিনের শুরুতেই সারাদিন কী কী কাজ করতে হবে তার পরিকল্পনা করে ফেলা দরকার। এতে মোটামোটিভাবে কাজ গুছিয়ে নেওয়া যায়।


মধ্যাহ্ন বিরতি দীর্ঘ করা: কাজের মাঝে বিরতি মন সজীব করতে সহায়তা করে। তবে এর জন্য অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা মোটেও ঠিক নয়। তাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করুন। বিরতির পরে কী কী করণীয় আছে তা এই সময়েই ঠিক করে নিন।


ই-মেইল যোগাযোগে অপরিপক্কতা: কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হল ই-মেইল। ই-মেইল দেখতে বা এর উত্তর দিতে দেরি করলে অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের তথ্য, কোনো কিছু জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ইত্যাদি ভুল করতে পারেন। তাই ই-মেইলে সবসময় যোগাযোগ রক্ষা করতে কম্পিউটার বা মোবাইলের ই-মেইলের নোটিফিকেশন চালু করে রাখুন।


অপ্রস্তুত থাকা: কোনো মিটিং বা ‘প্রেজেন্টেশন’য়ে অপ্রস্তুতভাবে যাওয়া মোটেও ঠিক নয়, এটা আপনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে যা পদোন্নতির অন্তরায় হতে পারে। তাই মিটিংয়ে যাওয়ার আগে কিছুটা সময় নিয়ে আগে নিজে প্রস্তুতি নিন। এতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং সহজে ও সুন্দরভাবে মিটিং অথবা ‘প্রেজেন্টেশন’ সম্পন্ন করা যাবে।

শীতে পালংশাক খাচ্ছেন তো?
                                  

বাজারে এসে গেছে শীতকালীন শাক-সবজি। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় একটি হলো পালংশাক। এটি খেতে যেমন ভালো তেমন কাজেও দারুণ।

তাই পালংশাক -কে একরকম `সুপার ফুড`বলা যায়। কী নেই এতে? মিনারেল, ভিটামিন, ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস থেকে শুরু করে পিগমেন্টস।

চলুন দেখে নেওয়া যাক পালংশাকের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু গুণাগুণ:

দৃষ্টিশক্তি

পালংশাকে আছে বিটা ক্যারোটিন, লিউটেনিন এবং জ্যানথিন। ভিটামিন এ-এর ডেফিসিয়েন্সি কমায় পালংশাক। চোখের শুষ্কতা দূর করতে, চোখের আলসার সারাতে দারুণ কাজ করে পালংশাক। চোখের ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।

ব্লাড প্রেসার

ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেয় পালংশাক। উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম ও অত্যন্ত সামান্য পরিমাণ সোডিয়াম আছে পালংশাক-এ। এ ছাড়াও উপস্থিত ফোলেট হাইপারটেনশন কমায় ও রক্ত জালিকাকে রিল্যাক্স করে।

ক্যানসার প্রতিরোধী

পালংশাক-এ উপস্থিত টোকোফেরল, ফোলেট ও ক্লোরোফাইলিন ক্যানসার প্রতিরোধে ও রোগীর চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকরী। ব্লাডার, প্রস্টেট, লিভার ও ফুসফুসের ক্যানসারের প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় পালংশাক-এর ভূমিকা প্রমাণিত।

ত্বকের সুরক্ষা

বিভিন্ন ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও পিগমেন্টের উপস্থিতি ত্বককে ক্ষতিকর অতিবেগুণি রশ্মির হাত থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকের ক্যানসারের প্রতিরোধ হিসেবেও কাজ করে পালংশাক।

ডায়াবেটিস

পালংশাক এ থাকা আলফা লিপোয়িক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে ও শরীরে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়।

অ্যাজমা প্রতিরোধ

পালংশাকে এমন কিছু পুষ্টিকর পদার্থ আছে যা অ্যাজমা প্রতিরোধে সাহায্য করে। তার মধ্যে একটি হলো বিটা ক্যারটিন।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর

ফাইবার এবং প্রচুর পরিমাণে জল আছে পালংশাকে। ফলে পালংশাক কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে এবং ডাইজেস্টিভ ট্র্যাক-কে সুস্থ রাখে।

হাড়ের স্বাস্থ্য

পালংশাক-এ ভালো পরিমাণে ভিটামিন কে থাকে। মজবুত হাড়ের গঠনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উপাদান ভিটামিন কে। যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন কে আমাদের খাদ্যতালিকায় থাকলে তা ক্যালশিয়াম সংগ্রহে সাহায্য করে ও মূত্রের মাধ্যমে ক্যালশিয়ামের অতিরিক্ত বেরিয়ে যাওয়া আটকায়।

অক্লান্ত পরিশ্রমে আপনাকে শক্তির যোগান দেবে কিছু খাবার
                                  

আপনি অফিসে থাকুন বা ঘরে কাজ করতে গেলে আপনার শরীরের যে প্রচুর শক্তিক্ষয় হয় তা বলাই বাহুল্য। এই কারণে কাজের ফাঁকে এমন কিছু খাবার খান যেগুলো আপনার শরীরে শক্তি ফিরিয়ে দেবে এবং আপনার ক্লান্ত দেহের অবসন্নতা কাটিয়ে দেবে। অনেকক্ষণ ধরে এক নাগাঙে কাজ করার পর আপনার ব্রেন আর কাজ করতে চায় না। আর তখন শরীরের প্রয়োজন হয় যথেষ্ট পুষ্টিকর খাবারের। কি খাবেন কাজের ফাঁকে তার সন্ধান দিলাম আমরা।

১. চকোলেট বা চকোলেটযুক্ত দুধ
আপনার ব্যস্ততার ফাঁকে খেতে পারেন চকোলেট জাতীয় কোনো খাবার। চকোলেটে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে যা আপনার দেহে যথেষ্ট শক্তি যোগায়। ফলে আপনি অনেকটাই স্বাভাবিকবোধ করবেন। এক গ্লাস চকোলেটযুক্ত দুধে প্রোটিন রয়েছে যেটা জলের পরিবর্তে খেলে শরীরে অনেক পুষ্টি পাওয়া যায়। এটি হাড়ের ক্যালসিয়াম তৈরিতে সহায়তা করে এবং শরীরের শক্তি বাড়িয়ে দেয়। আপনি চাইলে শরীরের এ্যানার্জি ফিরিয়ে আনতে এক গ্লাস চকোলেটযুক্ত দুধ খেতে পারেন। তবে খুব বেশি পরিমানে চকোলেট খাবেন না কারণ চকোলেট শরীরের পক্ষে বেশ ক্ষতিকারক।

২. ঠা-া দই
আপনি হয়ত কাজ করতে করতে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ব্রেনকে আর কোনোভাবেই কাজে লাগাতে পারছেন না। এমতাবস্থায় খেতে পারেন এক কাপ ঠান্ডা দই। দেখবেন আপনার ব্রেন খুব তাড়াতাড়ি সচল হয়ে উঠেছে। ঠান্ডা দইতেও পাবেন প্রচুর ক্যালরি যা আপনার ব্রেনকে কাজ করতে সহায়তা করবে।

৩. মিষ্টি
মিষ্টিতে প্রোটিনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। ক্যালরিও থাকে প্রচুর। এটি আপনার ক্লান্ত অবসন্ন দেহকে খুব দ্রুত সতেজ করে তুলতে সাহায্য করে। আপনি খেয়াল করে দেখবেন মিষ্টি জাতীয় কোনো খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার দেহের রক্ত চলাচল খুব দ্রুত হবে। আপনি বেশ ফুরফুরে অনুভব করবেন। আপনার কাজের বিরতিতে একটি বা দুটি মিষ্টি খেয়ে নিতেই পারেন।

৪.উচ্চ ফাইবারযুক্ত বিস্কুট :
এমন অনেক বিস্কুট রয়েছে যেগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার রয়েছে। ফাইবার দেহের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে, পুষ্টি দেয়। আপনি কাজের ফাঁকে এই ফাইবারযুক্ত বিস্কিট খেতে পারেন। এতে কাজের এ্যানার্জীও ফিরে পাবেন। আর আপনার শরীরে কোনও ক্যালরিও যুক্ত হবে না।

৫. কফি :
কফি অনেকেরই পছন্দের একটি পানীয় যা ক্লান্তিভাব দূর করে, কাজে মনোযোগ আনে এবং শরীরের স্ট্যামিনা বাড়িয়ে দেয়। আপনার ক্লান্তিভাব দূর করতে আপনি নিমেষেই এক কাপ কফি খেতে পারেন। কারণ কফিতে থাকা ক্যাফেইন আপনাকে কাজে সহায়তা করবে আপনার ব্রেনকে অনেকক্ষণ জেগে থাকতে সহায়তা করবে। কিন্তু খুব বেশি কফি খাওয়াও আবার শরীরের পক্ষএ ভীষণ খারাপ।

৬. কলা :
কলাতে পটাশিয়াম আর প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি এবং ফাইবার রয়েছে। এই উপাদানগুলো আপনার শরীরের তাৎক্ষণিক শক্তি যোগাবে। আপনি কাজের ফাঁকে শারীরিক পুষ্টি দিতে একটি বা দুটি কলা খেতে পারেন।

 

মুখ ও দাঁত সুস্থ সবল রাখার জন্য
                                  

* খাদ্য গ্রহণের পরপর ভালভাবে কুলকুচা করা বিশেষ করে যদি খাদ্যদ্রব্য হয় শর্করা বা চিনি জাতীয়
* মুখ ও দাঁতের মাঝে কোনরকম অস্বাভাবিক অনুভূতির সৃষ্টি হলে অতি সত্তর দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
* মুখে যদি দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয় তা হলে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া
* গর্ভবতী মায়েদের বেলায় ওষুধ সেবনে বিশেষ করে টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় ওষুধ, কেননা এ জাতীয় ওষুধ আগত সন্তান এর দাঁতের ওপর একধরনের দাগের সৃষ্টি করে
* দন্তক্ষয় রোগের উপস্থিতি টের পাওয়া মাত্রই চিকিৎসা গ্রহণ একান্ত কর্তব্য
* বছরে অন্তত একবার মুখ ও দাঁত পরীক্ষা করা প্রয়োজন
* শিশুদের বেলায় রাতে শোবার সময় ফিডার দেয়া সম্পর্ণ নিষেধ
* বাচ্চাদের যতটুকু সম্ভব মিষ্টি জাতীয় খাবার থেকে দূরে রাখা অর্থাৎ কম কম খেতে দেয়া এবং খাবার পরপরই ভালভাবে কুলি করানো
* যে কোন বদ অভ্যাস যেমন আঙ্গুল চোষা, দাঁত দিয়ে নখ কাটা এমনকি শক্ত কোন জিনিস কামড়ানো (বোতলের কর্ক খোলা) থেকে বিরত রাখা
* সঠিক পদ্ধতিতে প্রতিদিন সকালে নাস্তার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা। সঠিক পদ্ধতি হলো মাঢ়ি এবং দাঁতের সংযোগ স্থলে ব্রাশকে ৪৫০ কোণ

করে ধরে উপরের দাঁত এর বেলায় উপর থেকে নিচে এবং নিচের দাঁত এর বেলায় নিচ থেকে উপরের দিকে অত্যন্ত ধীরে ধীরে দাঁতের সকল পার্র্শ্বই ব্রাশ করা, তবে ভেতরের অংশ ব্রাশ করার জন্য সামনে- পেছনে ও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অর্থাৎ যাকে বলা হয় শুধু দাঁত ব্রাশ করলেই হবে না সঙ্গে সঙ্গে জিহ্বাও পরিষ্কার করতে হবে।
যদি ব্রাশ না পাওয়া যায় তা হলে নিমের বা জয়তুনের ডালের সাধারণ দাঁতন ব্যবহার করা যেতে পারে যদিও এর দ্বারা দাঁতের সকল অংশ পরিষ্কার করা বেশ অসুবিধাজনক। নরম ব্রাশ বা দাঁতন এর সাথে টুথ পেস্ট ব্যবহার করা সর্বোত্তম। তবে মিহিদানা সংবলিত টুথ পাউডার ব্যবহার করা যেতে পারে, যদি পেস্ট বা পাউডার না পাওয়া যায় তখন কেবল মাত্র লবণ পানি বা শুধু পানি দিয়ে উল্লিখিত কর্মসম্পাদন করা যেতে পারে]।


* আহারের পর আঁশযুক্ত ফলমূল খাওয়া উচিত কেননা এ ধরনের খাবার দাঁতের ভিত মজবুত এবং পরিষ্কার করতে সহায়ক (তাই বলে দাঁতন এর পরিবর্তে নয়)
* দাঁতের ফাঁকফোকরগুলো ডেন্টাল ফ্লস (এক ধরনের সুতা) বা খিলাল (টুথপিক) দিয়ে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে খিলাল এর বেলায় একটা বিষয় অবশ্য লক্ষ্য রাখা দরকার যাতে করে কোন অবস্থায় কোন খিলাল এর ধারালো বা সুচালো অংশ না থাকে।
* টুথ পেস্ট ব্যতীত কয়লা, ছাই বা অন্য কোন কিছু দ্বারা দাঁত মাজা নিষেধ
* প্রতি তিনমাস অন্তর অন্তর টুথ ব্রাশ বদলানো উচিত
* তামাক/নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা

কোমরে ব্যথা হলে
                                  

 কেউ যদি বলে কোমর ব্যথার কথা শোনেননি, তা হলে তো অবাক হওয়ারই বিষয়। বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোন না কোন সময় কোমর ব্যথাজনিত সমস্যায় ভুগেন। আগে মানুষের ধারণা ছিল কোমর ব্যথা শুধু বয়স্কদের হয়, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে কোমর ব্যথা যেকোন বয়সেই হতে পারে। মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, কর্পোরেট পেশা, নগরায়ন, শরীরচর্চার অভাব, জীবিকার তাগিদে অত্যধিক পরিশ্রম, শ্রমিক-পেশাজীবী, কম্পিউটিং, চলাফেরা-শোয়া-বসায় ভুল অবস্থান, শারীরিক দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে কোমর ব্যথার রোগী দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।


কোমর ব্যথার কারণ
কোমার ব্যথার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ৯০ ভাগ হচ্ছে ‘মেকানিক্যাল সমস্যা’। মেকানিক্যাল সমস্যা বলতে মেরুদ-ের মাংসপেশি, লিগামেন্ট মচকানো, আংশিক ছিঁড়ে যাওয়া, দুই কশেুরুকার মধ্যবর্তী ডিস্ক সমস্যা, কশেরুকার অবস্থানের পরিবর্তন ও মেরুদ-ের নির্দিষ্ট বক্রতার পরিবর্তনকে বোঝায়। চলাফেরা, জীবিকার ধরন, খুব বেশি ভার বা ওজন বহন, মেরুদ-ের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোন কাজ করা, মেরুদ-ে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদ-ের অতিরিক্ত নড়াচড়া, একটানা বসে বা দাঁড়িয়ে কোন কাজ করা, মেরুদ-ে আঘাত পাওয়া সর্বোপরি কোমরের অবস্থানগত ভুলের জন্য হয়ে থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে বয়সজনিত মেরুদ-ের ক্ষয় বা বৃদ্ধি, অস্টিওঅ্যাথ্রাইটিস বা গেঁটেবাত, অস্টিওপোরোসিস, এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিস, মেরুদ-ের øায়বিক সমস্যা, টিউমার, ক্যান্সার, বোন টিবি, কোমরের মাংসপেশির সমস্যা, পেটের বিভিন্ন ভিসেরার রোগ বা ইনফেকশন, বিভিন্ন স্ত্রীরোগজনিত সমস্যা, মেরুদ-ের রক্তবাহী নালির সমস্যা, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, মেদ বা ভুঁড়ি, অতিরিক্ত ওজন ইত্যাদি।


উপসর্গ
কোমরের ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে পারে বা হঠাৎ প্রচ- ব্যথা হতে পারে। নড়াচড়া বা কাজকর্মে ব্যথা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে পারে। ব্যথা কোমরে থাকতে পারে বা কোমর থেকে পায়ের দিকে নামতে পারে অথবা পা থেকে কোমর পর্যন্ত উঠতে পারে। অনেক সময় কোমর থেকে ব্যথা মেরুদ-ের পেছনের দিকে দিয়ে মাথা পর্যন্ত উঠতে পারে। রোগী অনেকক্ষণ বসতে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। ব্যথার সঙ্গে পায়ে শিন শিন বা ঝিননি জাতীয় ব্যথা নামতে বা উঠতে পারে। হাঁটতে গেলে পা খিঁচে আসে বা আটকে যেতে পারে, ব্যথা দুই পায়ে বা যে কোন এক পায়ে নামতে পারে। অনেক সময় বিছানায় শুয়ে থাকলে ব্যথা কিছুটা কমে আসে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে রোগীর কোমর ও পায়ের মাংসপেশির ক্ষমতা কমে আসে এবং শুকিয়ে যেতে পারে, সর্বোপরি রোগী চলাফেরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
যেহেতু আধুনিক এই যুগেও কোমর ব্যথা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বাস্থ্য সমস্যা; তাই এ সমস্যার সমাধানে প্রতীকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।


প্রতীকার
ফার্মাকোথেরাপি: চিকিৎসকরা রোগীকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাধারণত ব্যথানাশক এনএসএআইডিএস গ্রুপের ওষুধ, মাসল রিলাজেন ও সেডেটিজ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করে থাকেন। যেহেতু ওষুধের পার্র্শ্বপ্রতিক্রিয়া বা নির্দিষ্ট মাত্রা রয়েছে সে জন্য অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করা আবশ্যক।

ফিজিওথেরাপি
কোমর ব্যথাজনিত সমস্যার অত্যাধুনিক চিকিৎসা হচ্ছে ফিজিওথেরাপি। গবেষণায় দেখা গেছে বেশিরভাগ কোমর ব্যথা রোগী অপারেশন না করে ম্যানুয়াল থেরাপি, ইন্টারফেরেনশিয়াল থেরাপি, ম্যানুপুলেশন থেরাপি, অটো-ট্রাকশন ট্রইথ ডিকম্প্রেশন থেরাপি নিয়ে সম্পর্ণ সুস্থ আছেন। তা ছাড়া চিকিৎসা চলা অবস্থায় বিভিন্ন ব্যয়াম, কোমরে নির্দিষ্ট অর্থোসিস বা ব্রেস প্রয়োগ করে থাকেন। এতে অপারেশনের জটিলতা থেকে মুক্ত থাকা যায়। ডিস্ক প্রলাল্প হলে ৪-৬ সপ্তাহ ফিজিওথেরাপি হাসপাতালে ভর্তি থেকে প্রত্যহ ৩-৪ বার ফিজিওথেরাপি নিলে রোগী সম্পর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে রোগীকে চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যয়াম ৩-৬ মাস চালিয়ে যেতে হয়।

সার্জারি
যদি দীর্ঘদিন ফার্মাকোথেরাপি ও চিকিৎসা চালানোর পরও রোগীর অবস্থার পরিবর্তন না হয় রোগীকে অবস্থা অনুযায়ী কোমর-মেরুদ-ের অপারেশন বা সার্জারির প্রয়োজন হয়।
প্রতিরোধ
কোমর ব্যথা উপরে উল্লেখিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে ভাল হওয়ার পর আবারও দেখা দিতে পারে। যেহেতু কোমর ব্যথা বার বার দেখা দিতে পারে বা যারা এখনও এ জাতীয় সমস্যায় ভোগেননি, তারা নিচের পরামর্শ মেনে চলতে পারেন। তবে ব্যয়াম করার আগে আপনার জন্য কি ব্যয়াম, তার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ ভুল ব্যয়ামের কারণে সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যয়াম শুরুর আগে কিছু ট্রেচিং ব্যয়াম করলে অনেক উপকার পাওয়া যায়।
* পায়ের কাফ মাসল্্ বা মাংসপেশির স্ট্রেচিং
দেয়ালের কোণে গিয়ে এক পা সামনে এক পা পেছন দিয়ে দাঁড়ান। পেছনের হাঁটু সোজা রেখে সামনে ঝুঁকে দুই হাত দিয়ে সামনের দুই পাশের দেয়ালের ধাক্কা দিন। এতে পায়ের কাফ মাসলে টান পড়বে।
* কোয়াড্রিসেপস বা ঊরুর সামনের মাংসপেশির স্ট্রেচিং
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে যে কোন এক হাঁটু ভাঁজ করে ওই পায়ের গোড়ালি নিতম্বের সঙ্গে লাগাতে চেষ্টা করুন। এতে ঊরুর সামনের মাংসপেশিতে টান পড়বে।
* হ্যামস্ট্রিং বা ঊরুর পেছনের মাংসপেশি স্ট্রেচিং
টুল বা বেঞ্চের ওপর এক পা সোজা করে রেখে পায়ের পাতা এক হাত দিয়ে নিজের দিকে টানতে হবে। এতে ঊরুর পেছনের মাংসপেশিতে টান লাগবে।

লালশাকের উপকারিতা
                                  

শীতের মৌসুমের শুরুতেই বাজারে পাওয়া যাচ্ছে টাটকা লাল ও সবুজ শাক। বেশিরভাগ সবুজ শাকে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ। লালশাকও গুণে অনন্য। লালশাক পুষ্টির ভালো উৎস তো বটেই, পাশাপাশি ঔষধি হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে দীর্ঘকাল ধরে। এ শাকের ডাঁটায় লাল রঙের তরল থাকায় পাতা ও ডাঁটা লাল দেখায়।

আফ্রিকান দেশগুলোয় লালশাক গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে ব্যবহৃত হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম লালশাকে ৫০ গ্রাম শক্তি, দশমিক শূন্য ৮ গ্রাম ভিটামিন বি১ এইচ, দশমিক ৫ গ্রাম ফ্যাট থাকে।

এ ছাড়া এতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, সোডিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ভিটামিন-এ, সি, ক্যালসিয়াম ও ফাইবার পাওয়া যায়। লালশাকে নিয়াসিন ও ক্যালসিয়াম থাকায় নিয়মিত খাদ্যতালিকায় এ খাবারটি রাখা উচিত। লালশাকে থাকা ফাইবার হজমক্ষমতা বাড়ায়। কোলন পরিষ্কারেও ভূমিকা রাখে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করে। সেইসঙ্গে ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল কমায়। লালশাকে প্রচুর আয়রন থাকায় রক্তপ্রবাহে উন্নতি ঘটায়।

নিয়মিত লালশাক খেলে রক্ত পরিশোধিত হয়। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ে। রক্তশূন্যতাও তাতে দূর হয়। নিয়মিত লালশাক খেলে কিডনির কার্যকারিতা ভালো থাকে। ভিটামিন ও বিভিন্ন পুষ্টির ভালো উৎস হওয়ায় লালশাক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এতে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, কে, আয়রন এবং বিভিন্ন খনিজ শরীরের যে কোনো ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। ভিটামিন-কে’র ভালো উৎস হওয়ায় লালশাক হাড় সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

লেখক : বিশিষ্ট হারবাল গবেষক ও চিকিৎসক। ০১৯১১৩৮৬৬১৭; ০১৬৭০৬৬৬৫৯৫

যে কারনে হাত ধোয়া জরুরি
                                  

পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সকলের হাত পরিচ্ছন্ন থাক।’ প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডে’ পালন করা হয়। সবাইকে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং হাত ধোয়ায় উদ্বুদ্ধ করাই এই দিবস পালনের লক্ষ্য। সুস্থ থাকার প্রাথমিক কাজই হলো খাবার গ্রহণ করার আগে ভালোভাবে সাবান বা অন্য যে কোনো এন্টিসেপটিক ব্যবহার করে সুন্দরভাবে হাত ধোয়া। অনেকেই ব্যাপারটা জানলেও বাস্তবে অনুসরণ করে কম। আবার কেউ কেউ হয়তো এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জীবনের অঙ্গ।

খাওয়ার শুরুতে যেমন হাত ধোয়া দরকার, তেমনি খাবার বানাতে বা পরিবেশন করতেও হাত ধোয়া জরুরি। আবার খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে মোছার তোয়ালেটাও পরিষ্কার থাকা উচিত। প্রতিটা ক্ষেত্রে হাত ধোয়া, হাত পরিষ্কার রাখা সুস্বাস্থ্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। এই একটি অভ্যাস আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরাট প্রভাব রাখতে পারে। হাত ধোয়া কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৮০০ সালে। ভিয়েনার একটি হাসপাতালে কাজ করতেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ইগনাল সেমেলউইজ। এই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে মাতৃমৃত্যুর হার হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আতঙ্কিত রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। ডা. সেমেলউইজ এর কারণ খুঁজতে লাগলেন। তিনি অনুসন্ধান করে দেখলেন, নবীন চিকিৎসকগণ অ্যানাটমি ক্লাসে মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে হাত ভালোভাবে না ধুয়েই প্রসূতি ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা করছেন। তিনি মতামত দিলেন যে এভাবে অপরিষ্কার হাত দিয়ে রোগীদের সংস্পর্শে আসায় সংক্রমণ বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যুর হার। তিনি উদ্যোগ নিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে জীবাণু সংক্রমণ কমে যায় এবং মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ কমে আসে। ডা. সেমেলউইজের এই কর্মসূচি হাসপাতালে হাত ধোয়ার গুরুত্বকে প্রমাণ করে। রোগ প্রতিরোধে হ্যান্ড ওয়াশিং বা হাত ধোয়ার ভূমিকা এখন শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্কুল, কলেজ, রেস্তোরাঁ সর্বত্র স্বীকৃত।

অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় নাকে-মুখে হাত দেওয়া বা হাত ভালোভাবে না ধুয়ে খাদ্য খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, টাইফয়েড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন পানি ও খাদ্যবাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। অনেকেই আবার হাঁচি, কাশি ইত্যাদি অপরিষ্কার জামা বা রুমালে মোছেন। এসবের মাধ্যমে এমনকি করমর্দনের মাধ্যমেও রোগ ছড়াতে পারে। কারণ হাতের গোড়ায় লোমকূপের জায়গায় অনেক জীবাণু থাকতে পারে। এই হাতে অন্যজনকে স্পর্শ করলে তার মধ্যেও জীবাণু ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার আরো বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া, যা মূলত পানিবাহিত। এ ছাড়া সঠিক নিয়মে হাত না ধুয়ে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তন করালে রোগাক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে অন্য শিশুতে রোগ ছড়াতে পারে। অপরিষ্কার খাবার ধরার পর সেই হাত দিয়ে শিশুকে ধরলেও রোগ ছড়াতে পারে। শিশুকে খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস করালে এই মৃত্যুর হারও সহজেই কমানো যায়। সঠিক হ্যান্ড ওয়াশিং পদ্ধতিতে ৮০ শতাংশ রোগ ঠেকানো যায়।


কীভাবে হাত পরিষ্কার রাখবেন
হাত পরিষ্কার রাখার উপায় কম-বেশি সবারই জানা। তবু কিছুকিছু উপায় লেখা হলো, শুধু অভ্যাস করলেই সহজভাবেই এগুলো করা সম্ভব।
১. কলের পানি ছেড়ে দিয়ে চলমান অবস্থায় দুই হাত ধুতে হবে।
২. যে কোনো সাবান দুই হাতে লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ড সময় ধরে আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, নখে, হাতের সামনে-পেছনে ও কবজিতে ভালোভাবে ঘষা উচিত। পরে আবার পানি ঢেলে দিলেই পরিষ্কার হবে।
৩. হাত দুটি কলের পানির নিচে ধরলেই পানি নিচে পড়বে। বেসিনের ট্যাপেও একইভাবে পরিষ্কার করা যায়।
৪. সাবানের বদলে অনেক এন্টিসেপটিক-জাতীয় তরল পদার্থ পাওয়া যায়। এগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. হাত মোছার সময় কাপড় বা তোয়ালেটাও যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কী ভুল হতে পারে
১০-১৫ সেকেন্ডের কম সময় ধোয়া
সাবান ব্যবহার না করে শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাত ঘষে সাবানের ফেনা না করে ধোয়া অথবা সাবান ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলা।
হাতের পেছনের অংশ, আঙুলগুলোর ফাঁকের জায়গা ও
নখের নিচের অংশ পরিষ্কার না করা।
খাবার তৈরি, পরিবেশন ও খাওয়ার আগে হাত না ধোয়া।
একবার ব্যবহার করা পানিতে পুনরায় হাত ধোয়া অথবা বাটিতে পানি নিয়ে সেই পানিতে একাধিক জন হাত ধোয়া। একই তোয়ালেতে সবার হাত মোছা। হাত মোছার তোয়ালে মাঝে মাঝে পরিষ্কার না করা।
হাত ধোয়ার মাধ্যমে রোগবালাই থেকে বেঁচে থাকতে হলে যা মানতে হবে তা হলোÑ
খাওয়ার শুরুতে ভালোভাবে হাত ধোয়া এবং খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে পরিষ্কার কাপড়ে বা তোয়ালেতে মুছে ফেলা।
খাবার পস্তুতকারীদেরও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ তাদের তৈরি করা খাবারই মানুষ খেয়ে থাকে।
বাথরুম বা শৌচকর্মের পর ভালোভাবে হাত ধোয়া উচিত। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার পর এমনকি স্পর্শ করার পর হাত পরিষ্কার করতে হবে।
নাক ঝাড়া, কফ ফেলা বা হাঁচি দেওয়ার পর হাত ধোয়া জরুরি।
অসুস্থ কারো সেবা, দেহের কাটাছেড়া বা ক্ষতের চিকিৎসার আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি।
ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য মেডিক্যাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাত ধোয়ার ব্যাপারে আরো সতর্কতা জরুরি। কারণ তাদের কারণে রোগীদের শরীরে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। রোগী দেখার পরে প্রত্যেক চিকিৎসককে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে, হাসপাতালে এমনকি প্রাইভেট চেম্বারেও। বিশেষ করে একজন রোগী পরীক্ষা করার পর দ্বিতীয় রোগী দেখার আগে অবশ্যই হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।


এছাড়া শিশুদের ডায়াপার বদলানোর পরে, বাইরের কাজ বা খেলাধুলার পরে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলার পরে ও হাঁচি-কাশিতে নাক ঝাড়ার পরেও হাত ধোয়া জরুরি।
এছাড়া সঠিকভাবে হ্যান্ড ওয়াশিংয়ের জন্য আঙুলের নখ ছোটো রাখা, কৃত্রিম নখ ব্যবহার না করা, হাত ধোয়ার সময় ঘড়ি, আংটি ও ব্রেসলেট খুলে রাখা এবং জামার হাতা ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে হাতা গুটিয়ে রাখা বাঞ্ছনীয়। রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ ছড়ানো থেকে নিজেকে এবং অন্যকে বাঁচাতে হ্যান্ড ওয়াশিং জরুরি একটি কাজ। নিজে এটি নিয়মিত অভ্যাস করুন এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করুন। যেহেতু সুস্থ থাকার জন্য মৌলিক উপাদান হিসেবে হাত ধোয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই হাত ধোয়াবিষয়ক সচেতনতাকে কেবল একটি দিবসের সঙ্গে সংযুক্ত না করে সারা বছরই এর প্রচারণা থাকা দরকার। পরিস্থিতির উত্তোরণে সহায়তা দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে ও স্কুলে শিশুদের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান দান করা বিশেষ করে শিক্ষকদের সচেষ্ট ভূমিকা এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। কারণ শিশুরাই অপরিচ্ছন্নতাজনিত রোগে ভোগে বেশি, যদিও বড়োদের বেলায়ও তা প্রযোজ্য। হাত পরিষ্কার রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস, যার মাধ্যমে সহজেই অসুস্থতা থেকে বাঁচা যায়।
লেখক: ইউজিসি অধ্যাপক মেডিসিন বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়।

পেটে ভর দিয়ে শোয়ার যত অপকারিতা
                                  

 শোয়া কিংবা বসার ধরনে বিশ্রাম ও ঘুমের ওপর প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি ঘাড় ও মেরুদ-ের বিভিন্ন সমস্যার অন্যতম কারণও এই বসা কিংবা শোয়ার ধরন। এদের মধ্যে একটি হল পেটের ভরে শোয়া, যা প্রায় সবাই করে থাকেন। এতে চাপ পড়ে অন্যত্রে মেরুদন্ডে এবং শ্বাসপ্রশ্বাসে। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে এই বিষয়ের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানানো হল বিস্তারিত। বই পড়া, মোবাইল-ল্যাপটপ চালানো ইত্যাদি করার সময় যারা পেটের ভরে শুয়ে থাকেন তাদের সতর্ক হওয়া উচিত।

কারণ এতে ক্ষতির শিকার হচ্ছে মেরুদন্ড এবং অন্ত্র। এভাবে শোয়ার কারণে মেরুদ-ের স্বাভাবিক বাঁক পরিবর্তীত হয়, যার কারণে ব্যথা হতে পারে ঘাড় ও পিঠে। পেটের ভরে শোওয়ার সময় ঘাড় প্রসারিত থাকে আর দুই কাঁধ গিয়ে কানের কাছাকাছি পৌছায়। শরীরের সিংহভাগ ভর পরে দুই হাতের ওপর। এই অবস্থায় বিভিন্ন হাড়ের জোড়ে অস্বাভাবিক চাপ ফেলে। আর এভাবে শোয়া যদি প্রতিদিনের অভ্যাস হয় তবে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হতে পারে ভয়ানক।দীর্ঘসময় বসে কম্পিউটার ব্যবহার করার দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিকর প্রভাবের চাইতেও এভাবে শোয়ার ক্ষতির পরিমাণ বেশি বলে দাবি করেন বিশেষজ্ঞরা। মেরুদন্ড আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখে আর এই স্নায়ুতন্ত্রই শরীরের সকল অঙ্গের স্বাভাবিক কার‌্যাবলী নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থাৎ স্নায়ুতন্ত্রে কোনো সমস্যা দেখা দিলে পুরো শরীর অক্ষম হয়ে পড়তে পারে। আর পেটের ভরে শুয়ে থাকা ঠিক সেই ঝুঁকিটাই বাড়ায়।

পিঠের নিচের অংশে অস্বাভাবিক চাপ ফেলে এভাবে শুয়ে থাকা। যা ‘সায়াটিকা’ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। পিঠের নিম্নাংশে সমস্যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগজনীত অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এছাড়াও পেটের ভরে শুয়ে থাকার সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পেশিগুলোর ওপর শরীরের ভার পড়ে। ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস পূর্ণ হতেও বাধা সৃষ্টি হয়।

করণীয়

চেয়ার কিংবা কিংবা বিছানায় আরাম করে বসে মোবাইল ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করা উচিত। বসার সময় পিঠের উপর অবিরাম চাপ যাতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক হতে হবে। আর দেখার জন্য মাথা না ঝুঁকিয়ে বরং ডিভাইসটি চোখের সমান্তরালে নিয়ে আসার অভ্যাস করতে হবে।

 

†c‡U fi w`‡q †kvqvi hZ AcKvwiZv

GdGbGm jvBd÷vBj: ‡kvqv wKsev emvi ai‡b wekÖvg I Ny‡gi Ici cÖfve †d‡j| cvkvcvwk Nvo I †giæ`‡Ði wewfbœ mgm¨vi Ab¨Zg KviYI GB emv wKsev †kvqvi aib| G‡`i g‡a¨ GKwU nj †c‡Ui f‡i †kvqv, hv cÖvq mevB K‡i _v‡Kb| G‡Z Pvc c‡o †A&š¿, †giæ`‡Ð Ges k¦vmcÖk¦v‡m| ¯^v¯’¨welqK GKwU I‡qemvB‡U GB wel‡qi Ici cÖKvwkZ cÖwZ‡e`b †_‡K Rvbv‡bv nj we¯ÍvwiZ| eB cov, †gvevBj-j¨vcUc Pvjv‡bv BZ¨vw` Kivi mgq hviv †c‡Ui f‡i ï‡q _v‡Kb Zv‡`i mZK© nIqv DwPZ| KviY G‡Z ¶wZi wkKvi n‡”Q †giæ`Ð Ges Aš¿| Gfv‡e †kvqvi Kvi‡Y †giæ`‡Ði ¯^vfvweK evuK cwieZ©xZ nq, hvi Kvi‡Y e¨_v n‡Z cv‡i Nvo I wc‡V| ‡c‡Ui f‡i †kvIqvi mgq Nvo cÖmvwiZ _v‡K Avi `yB Kvua wM‡q Kv‡bi KvQvKvwQ †cŠQvq| kix‡ii wmsnfvM fi c‡i `yB nv‡Zi Ici| GB Ae¯’vq wewfbœ nv‡oi †Rv‡o A¯^vfvweK Pvc †d‡j| Avi Gfv‡e †kvqv hw` cÖwZw`‡bi Af¨vm nq Z‡e `xN©‡gqv‡` ¶wZ n‡Z cv‡i fqvbK|`xN©mgq e‡m Kw¤úDUvi e¨envi Kivi `xN©‡gqv`x ¶wZKi cÖfv‡ei PvB‡ZI Gfv‡e †kvqvi ¶wZi cwigvY †ewk e‡j `vwe K‡ib we‡klÁiv| ‡giæ`Ð Avgv‡`i mœvqyZš¿‡K myiw¶Z iv‡L Avi GB mœvqyZš¿B kix‡ii mKj A‡½i ¯^vfvweK Kvi¨vejx wbqš¿Y K‡i| A_©vr mœvqyZ‡š¿ †Kv‡bv mgm¨v †`Lv w`‡j cy‡iv kixi A¶g n‡q co‡Z cv‡i| Avi †c‡Ui f‡i ï‡q _vKv wVK †mB SzuwKUvB evovq| wc‡Vi wb‡Pi As‡k A¯^vfvweK Pvc †d‡j Gfv‡e ï‡q _vKv| hv ÔmvqvwUKvÕ †iv‡M AvµvšÍ nIqvi m¤¢vebv evovq| wc‡Vi wbgœvs‡k mgm¨v †_‡K †KvôKvwVb¨ I gjZ¨vMRbxZ Ab¨vb¨ mgm¨vI †`Lv w`‡Z cv‡i| GQvovI †c‡Ui f‡i ï‡q _vKvi mgq k¦vmcÖk¦v‡mi Rb¨ AZ¨šÍ cÖ‡qvRbxq †cwk¸‡jvi Ici kix‡ii fvi c‡o| d‡j k¦vmcÖk¦vm c~Y© n‡ZI evav m„wó nq|

KiYxq

‡Pqvi wKsev wKsev weQvbvq Avivg K‡i e‡m †gvevBj j¨vcUc BZ¨vw` e¨envi Kiv DwPZ| emvi mgq wc‡Vi Dci Aweivg Pvc hv‡Z bv c‡o †mw`‡K mZK© n‡Z n‡e| Avi †`Lvi Rb¨ gv_v bv SzuwK‡q eis wWfvBmwU †Pv‡Li mgvšÍiv‡j wb‡q Avmvi Af¨vm Ki‡Z n‡e|

 

যেসব খাবার রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায়
                                  

 ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি কাটেনি। ডেঙ্গু পজেটিভ হলে না ঘাবড়ে রক্তের প্লাটিলেট যেন কমে না যায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। প্লাটিলেট হলো রক্ত কোষ যা অস্থিমজ্জায় উৎপন্ন হয়। প্লাটিলেট কমে গেলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। তাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে রক্তের প্লাটিলেট ঠিক রাখবে, এমন সব খাবার খান। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলবেন অবশ্যই।

পেঁপে
বেশ কিছু গবেষণায় জানা গেছে, ফল হিসেবে পেঁপে যেমন প্লাটিলেট বাড়াতে সক্ষম, তেমনি পেঁপের পাতাও বেশ উপকারী। পুরোপুরি পাকা পেঁপেতে ভিটামিন এ থাকে প্রচুর পরিমাণে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে প্রতিদিন পাকা পেঁপে খেতে পারেন, সাথে লেবুর শরবত পান করুন দিনে কয়েকবার।

ডালিম
প্রচুর আয়রন, ভিটামিন ‘সি’ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আছে ডালিমে। ব্লাড প্লাটিলেট বাড়ে নিয়মিত ডালিম খেলে। ডালিমের রস পান করতে পারেন। অথবা সালাদে, স্মুদিতে ও ব্রেকফাস্টে রাখতে পারেন এই ফল।

সবুজ শাক
পালং শাক ও অন্যান্য সবুজ শাকে প্রচুর ভিটামিন থাকে। রান্নার পাশাপাশি সালাদ ও স্যান্ডউইচের সাথে কাঁচাও খেতে পারেন এগুলো।

মিষ্টি কুমড়া
ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া রক্তের প্লাটিলেট বাড়াতে সাহায্য করে। আধা গ্লাস তাজা মিষ্টি কুমড়ার জুসের সাথে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে প্লাটিলেট সংখ্যা বাড়ে।

রসুন
উপকারী এই মসলা রক্ত পরিশুদ্ধ করে ও প্লাটিলেট বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রসুনে থাকা থ্রম্বোক্সেন এ টু প্লাটিলেট বাড়ায়। প্রতিদিনের খাবারে তাই রসুন যুক্ত করুন। দুই তিন কোষ রসুন আলাদা করেও খেতে পারেন।

শিম
ভিটামিন বি নাইন সমৃদ্ধ শিম প্লাটিলেট উন্নত করতে পারে।

কিসমিস
কিসমিসে আছে প্রচুর আয়রন। শরীরে শক্তি যোগায় ও ব্লাড প্লাটিলেট স্বাভাবিক রাখে এটি। ওটমিল বা টক দইয়ের সাথে মিশিয়ে খেতে পারেন কিসমিস।

গাজর
দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে উপকারী গাজর। পাশাপাশি রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায় এটি। গাজরের জুস খেতে পারেন নিয়মিত। এ ছাড়া সালাদ বা স্যুপ হিসেবেও খেতে পারেন গাজর।

তিলের তেল
পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ভিটামিন ‘ই’ থাকে তিলের তেলে। এটি ব্লাড প্লাটিলেট বৃদ্ধির দারুণ এক ওষুধ হিসেবেও বিবেচিত।

প্রোটিন
মুরগীর মাংস, মাছ এসব খাবার থেকে প্রোটিন পাওয়া যায় বেশি। এসব খাবারে জিংক ও ভিটামিন বি টুয়েলভও থাকে প্রচুর।
তথ্যসূত্র:বোল্ডস্কাই

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে যে খাবর
                                  

 নিরামিষভোজীদের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিলেও বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোকের ঝুঁকি। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে নিরামিষভোজীদের ডায়েট বা খাদ্যাভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিলেও বাড়িয়ে দেয় স্ট্রোকের ঝুঁকি। সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া এক গবেষণায় এমনটাই বলা হয়েছে। ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাটি, ১৮ বছর ধরে ৪৮ হাজার মানুষের ওপর পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতি এক হাজার জনের মধ্যে নিরামিষভোজীদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগীর সংখ্যা মাংসাশীদের তুলনায় ১০ জন করে কম পাওয়া গেছে। কিন্তু স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা তিনজন করে বেশি পাওয়া গেছে। ডায়েট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাস যেমনই হোক না কেন, বিভিন্ন ধরনের বৈচিত্র্যময় খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ভালো।


গবেষণায় নতুন কি পাওয়া গেছে?
এপিক-অক্সফোর্ড স্টাডি মূলত একটি দীর্ঘ মেয়াদি গবেষণা প্রকল্প- যা দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের খাদ্যাভ্যাস এবং স্বাস্থ্য নিয়ে পরীক্ষা চালায় তাদের তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করা হয়েছে এই গবেষণায়।


১৯৯৩ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অর্ধেকই ছিলেন মাংসাশী। ১৬ হাজারের কিছু বেশি ছিলেন নিরামিষভোজী। আর সাড়ে সাত হাজার অংশগ্রহণকারী জানান যে, তারা আহার হিসেবে মাছ খেতেন। অংশগ্রহণের সময় এবং ২০১০ সালে আবার নতুন করে এসব অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য, ধূমপান এবং শারীরিক কর্মকান্ডের বিষয়গুলোও আমলে নেয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে, করোনারি হৃদরোগ বা সিএইচডির সংখ্যা মেলে ২৮২০টি, স্ট্রোকের সংখ্যা ১০৭২টি, যার মধ্যে ৩০০টি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ঘটনাও রয়েছে। মস্তিষ্কের দুর্বল শিরা ছিঁড়ে গিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে এ ধরনের স্ট্রোক হয়। মাংসাশীদের তুলনায় মাছভোজীদের মধ্যে সিএইচডির ঝুঁকি ১৩ ভাগ কম ছিল। আর নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই হার ২২ ভাগ কম ছিল। কিন্তু যারা উদ্ভিদ ও শাকসবজি খেয়ে জীবন ধারণ করেন বা যারা নিরামিষভোজী, তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০ ভাগ বেশি ছিল। গবেষকদের ধারণা, ভিটামিন বি১২ এর অভাবের কারণে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে তারা বলেন যে, এর প্রকৃত কারণ খুঁজে পেতে হলে আরো গবেষণার দরকার রয়েছে। এমনও হতে পারে যে, খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে আসলে এর কোনো সম্পর্ক নেই। বরং যারা মাংস খায় না তাদের জীবনের অন্যান্য কারণের জন্যই হয়তো এই ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। প্রতিরাতে শুধু মাংস আর আলু নয় বরং বৈচিত্র্যময় খাবার খেতে হবে।


তার মানে কি নিরামিষভোজী অস্বাস্থ্যকর?
ব্রিটিশ ডায়েটিক অ্যাসোসিয়েশনের ডা. ফ্রাঙ্কি ফিলিপস বলেন যে, এটা নাও হতে পারে। কারণ এই গবেষণাটি শুধুমাত্র একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা মাত্র। `তারা শুধু পর্যবেক্ষণ করেছে যে, মানুষ কি খায় এবং তাদের বছরের পর বছর ধরে অনুসরণ করেছে, এটা শুধু সম্পৃক্ততাই জানান দেয়, কারণ বা প্রভাব সম্পর্কে বিশ্লেষণ করে না,` তিনি বলেন। `সবার জন্য বার্তা হচ্ছে, সবচেয়ে ভালো একটি পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস এবং বিভিন্ন ধরনের খাবার খাওয়া।``মাংসাশীরা সাধারণত বিভিন্ন ধরনের খাবার খায় না। কারণ তারা প্রতি রাতে খাবার হিসেবে মাংসই খায় এবং কোনো ধরনের শাকসবজি খায় না।` গবেষণা শুরুর পর থেকে কি মানুষের খাবারে পরিবর্তন এসেছে? ২০১০ সালে গবেষকরা আবার অংশগ্রহণকারীদের কাছে গিয়ে তাদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। কিন্তু ডা. ফিলিপস বলেন, নিরামিষভোজীদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তিত হয়েছিল। `এই তথ্যগুলো কয়েক দশক আগে সংগ্রহ করা হয়েছিলো,` তিনি বলেন। `স্বাভাবিকভাবেই আজ থেকে ২০ কিংবা ৩০ বছর আগে নিরামিষভোজীদের সঙ্গে আজকের নিরামিষভোজীদের পার্থক্য তৈরি হয়েছে। `নিরামিষভোজীদের খাবারের পরিধি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এগুলো এখন মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।` আমরা এখন অনেক বেশি মাত্রায় প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে অনেক বেশি জানি- যা অন্ত্রের ক্যান্সার তৈরি করে। দিনে কমপক্ষে ৫ ভাগ ফল এবং শাকসবজি খান মূল খাবার হিসেবে উচ্চমাত্রায় আঁশসম্পন্ন এবং শ্বেতসার বহুল খাবার যেমন আলু, রুটি, ভাত কিংবা পাস্তা রাখা উচিত। প্রোটিন ভুলে গেলে হবে না- চর্বিহীন মাংস, মাছ, সামুদ্রিক খাবার, ডাল, তফু কিংবা লবণহীন বাদাম খেতে হবে।


দুধ এবং দুগ্ধজাত খাবার থাকতে হবে
* উচ্চ মাত্রায় চর্বিযুক্ত খাবার, চিনি কিংবা লবণ যত কমানো যায় ততই ভালো।
* কিন্তু যারা নিরামিষভোজী তাদের নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টি গ্রহণ সম্পর্কে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
* উদাহরণস্বরূপ, যারা মাংস, দুগ্ধজাত খাবার এবং মাছ খায় তারা পর্যাপ্ত ভিটামিন বি১২ পায়- যা স্বাস্থ্যকর রক্ত এবং স্নায়ুতন্ত্রের জন্য প্রয়োজনীয়।
* যাই হোক, যদিও সকালের নাস্তার বিভিন্ন সিরিয়াল এবং ইস্টসমৃদ্ধ খাবারে ভিটামিন বি১২ থাকে তবুও নিরামিষভোজীদের মধ্যে এই ভিটামিনের অভাব দেখা দিতে পারে।
উদ্ভিদজাত খাবার থেকে আয়রনও কম পাওয়া যায়। যারা মাংস খান না তাই তাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা যাতে নিয়মিত গমের রুটি, আটা, শুকনো ফল এবং ডাল খান। এ ছাড়া গত মাসে নিরামিষভোজীদের আহ্বান জানানো হয়েছিল, তারা যাতে মস্তিষ্কের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ভিটামিন কোলিন পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করেন।

 

যা হয় অতিরিক্ত পনির খেলে
                                  

ছবি তোলার সময় ‘চিজ’ বলে যতই হাসি মুখে ছবি তোলা হোক, পনির খেতে হবে বুঝেশুনে।
‘চিজ’ বা পনিরে নানান পুষ্টিগুণ থাকার পাশাপাশি এতে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ক্যালরি।
খাদ্য ও পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে অতিরিক্ত পনির খাওয়ার ক্ষতিকারক দিক সম্পর্কে জানানো হল


কোলেস্টেরল বৃদ্ধি: পনির উচ্চ মাত্রায় স্যাচারেইটেড চর্বি সমৃদ্ধ, যা কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে। উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগ এবং ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়।

ওজন বৃদ্ধি: পনিরে থাকা পুষ্টি উপাদান শরীরে উচ্চ ক্যালরি সরবরাহ করে। উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন খাবার ওজন বৃদ্ধি করে, বিশেষ করে যদি শরীরচর্চা অভ্যাস না থাকে। ক্যালরি শরীরের জন্য খারাপ না যদি তা খরচ করা হয়। অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে চর্বি জমায়। তাই অতিরিক্ত পনির খাওয়া থেকে বিরত থাকা স্বাস্থ্যকর। 

উচ্চ রক্তচাপ: পনির সোডিয়াম সমৃদ্ধ এবং শরীরের সঠিক কার্যকারিতার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে। তবে প্রয়োজনের অরিতিক্ত সোডিয়াম শরীরের ক্ষতি করে। অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ করা সহজ। কারণ বেশিরভাগ বাইরের ভাজা পোড়া খাবারে লবণ থাকে। তাই যতটা সম্ভব পনির কম গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে। অতিরিক্ত সোডিয়াম উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি করে, যা হৃদরোগ, কিডনির রোগ এবং হাড়ক্ষয় রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

হজমে সমস্যা: অন্যান্য দুধের তৈরি খাবারের মতো পনিরও ল্যাক্টোজ সমৃদ্ধ যা অনেকের পক্ষেই হজম করা কঠিন। এই ধরনের সমস্যা আছে যাদের তারা পনির খেলে গ্যাস বা পেট ফোলাভাবের সমস্যা দেখা দেয়। এ ছাড়া পনিরে কোনো আঁশ নেই। তাই অতিরিক্ত পনির খাওয়া হলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

মাংস খাওয়া ভালো না খারাপ
                                  

 প্রক্রিয়াজাত কিংবা অপ্রক্রিয়াজাত- দুই ধরনের মাংসর ক্ষতিকর ও ভালো দিক আছে।
মাংস মানুষের খাদ্যাভ্যাসের একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। ঘরের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে রাস্তার পাশের ফুডকার্ট সবখানেই আছে মাংসের নানান পদ। আর তার প্রায় সবগুলোই মানুষের প্রিয় খাবারের তালিকায় প্রথম সারিতেই রয়েছে।


তবে এই মাংস স্বাস্থ্যগত দিক থেকে নানান ক্ষতির কারণ।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হার্ভার্ডের গবেষকরা ৮১ হাজার মানুষের খাদ্যাভ্যাস প্রায় ৮ বছর ধরে পর্যবেক্ষণ করে জানতে পেরেছেন, যারা এই আট বছরে প্রতিদিন ‘হাফ সার্ভিং’ বা তারও বেশি পরিমাণ প্রক্রিয়াজাত মাংস খেয়েছেন তাদের পরবর্তী আট বছরে মৃত্যুবরণ করার আশঙ্কা যারা এত নিয়মিত মাংস খাননি তাদের তুলনায় বেড়েছে ১৩ শতাংশ। একই পরিমাণ অপ্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার কারণে মৃত্যুর আশঙ্কা বাড়ে প্রায় নয় শতাংশ।


প্রক্রিয়াজাত আর অপ্রক্রিয়াজাত মাংসের মধ্যকার তুলনাভিত্তিক গবেষণায় দেখা যায়, প্রক্রিয়াজাত মাংসে আছে হৃদরোগ আর ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার বাড়তি ঝুঁকি। তবে অপ্রক্রিয়াজাত মাংসে এই ঝুঁকি পাওয়া যায়নি।


মাংসের ক্ষতিকর দিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ‘স্যাচারেইটেড ফ্যাট’ আর কোলেস্টেরল সুচনা মাত্র। অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার কারণে শরীরে আসা অতিরিক্ত আয়রন হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ণ। আবার প্রক্রিয়াজাত মাংসে থাকা ‘নাইট্রেটস’ এবং সোডিয়াম একে আরও বেশি ক্ষতিকারক করে তোলে।
এসব কারণেই বিশেষজ্ঞরা মাংস খাওয়া বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন হরহামেশাই।
তবে ভিন্ন কথা বলছে ২০১৭ সালের আরেকটি গবেষণা।


যেসব নারী পর্যাপ্ত মাংস খায় না তাদের শরীরের আয়রন, দস্তা, পটাশিয়াম এবং বি ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয়না।
জার্নাল অফ ক্লিনিকাল লিপিডোলজিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা বলে, ‘লিন মিট’ অর্থাৎ চর্বিহীন মাংস রক্তের লিপিড’য়ে কোনো ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে না। রক্তে চর্বি পরিমাণ বেশি হলে তা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়ায়, আর একারণেই ‘লিন মিট’য়ের এই ভালো দিক সম্পর্কে জানা জরুরি।
লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের অধ্যাপক ক্যারল ও’নিল বলেন, “স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসের একটি অংশ হতে পারে এই ‘লিন মিট”।


ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশও
গবাদি পশুপালন আর গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমণ বৃদ্ধির মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন করেছে অসংখ্য গবেষণা।
যাটজটে আটকে থাকা কয়েকটি গাড়ি পরিবেশের যতটুকু না ক্ষতি করে তার থেকে বেশি ক্ষতি করতে পারে একপাল গরু, এমনটাও দাবি করেন কিছু গবেষক।
২০১৪ সালে ‘গ্লোবাল এনভাইরোনমেন্টাল চেঞ্জ’ শীর্ষক জার্নালে প্রকাশিত এক জরিপের দাবি, “ইউরোপে গবাদি পশুপালনের হার কম হওয়ার কারণে সেখানে ‘গ্রিন হাউজ গ্যাস’য়ের নির্গমণ কমেছে ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারলে মানুষ এবং পৃথিবী দুইয়ের জন্যই মঙ্গল।
তাহলে যা করা যায়


এতকিছুর পরও মাংস খাওয়া একেবারে বাদ দিতে হবে এমনটা নয়, খেতে পারবেন তবে খাদ্যাভ্যাসের অন্যান্য উপকরণগুলো অবশ্যই স্বাস্থ্যকর হতে হবে।
প্রক্রিয়াজাত মাংস থেকে দুরে থাকতে হবে। মাংস নিয়মিত খাবার হলে চলবে না, বিশেষ দিনের বিশেষ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
আর মাংসের পরিবর্তে খেতে হবে সবজি, ফল ও শষ্যজাতীয় খাবার।

 

পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ১০ ফল
                                  

কোন ফলে পুষ্টি নেই? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়া সহজ নয়, কারণ আমরা যেসব ফল খেয়ে থাকি তাদের প্রত্যেকটিতে কিছু না কিছু পুষ্টি রয়েছে। কিন্তু কিছু ফলে পুষ্টির পরিমাণ এত বেশি যে এগুলো সুপারফুড হিসেবে খ্যাত হয়েছে। এসব পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে দেহের সমগ্র স্বাস্থ্যের উন্নয়ন হয় ও রোগ থাকে বহুদূরে। এ প্রতিবেদনে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর ১০ ফলের নাম দেয়া হলো।


* পিচ
আপনি জানেন যে কলাতে উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম রয়েছে, কিন্তু দুটি ছোট পিচেও ২৫০ মিলিগ্রাম এ প্রয়োজনীয় খনিজ পাবেন। এ খনিজ স্নায়ু ও পেশির স্বাস্থ্য উন্নত করে, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ অনুসারে। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকিউলার সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায়, পিচের খোসায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাওয়া যায়। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাদের ডায়েটে মিষ্টি যোগ করার একটি স্বাস্থ্যকর উপায় হলো পিচ।

* আনারস
মিষ্টি ও কড়া স্বাদের এ টপিক্যাল ফলটি ব্রোমিলেনে সমৃদ্ধ। ব্রোমিলেন হলো একটি প্রদাহরোধী এনজাইম যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে বলে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, বায়োমেডিক্যাল রিপোর্টসে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী।

* আঙুর
পার্পল রঙের আঙুর হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো ও প্রাচুর্যপূর্ণ স্বাস্থ্যকর ফল। আঙুর ব্লাড লিপিডের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, প্রদাহ হ্রাস করে ও ব্লাড প্রেশার কমায়, জার্নাল অব দ্য সায়েন্স অব ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারে ২০১৫ সালে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে। আঙুর হচ্ছে পটাশিয়ামেরও সমৃদ্ধ উৎস, যা মাসল ক্র্যাম্প অথবা মাংসপেশির যন্ত্রণাদায়ক সংকোচন প্রতিরোধে সহায়তা করে।

* কিউই
খসখসে বা আঁইশযুক্ত খোসার এ ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাবেন। ভিটামিন সি হচ্ছে একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা ক্যানসার থেকে সুরক্ষিত রাখে ও চোখের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটায়। কিউই ফলে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম, কিন্তু আঁশের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি- একারণে ওজন কমাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের জন্য এটি হলো আদর্শ ফল।

* আম
পুষ্টিবিদদের মধ্যে আমের জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে, কারণ এ রসালো ফলে উচ্চ মাত্রায় বিটা-ক্যারোটিন পাওয়া যায়, যাকে আপনার শরীর ভিটামিন এ-তে কনভার্ট করে রোগপ্রতিরোধ তন্ত্রকে শক্তিশালী করে ও চোখের দৃষ্টি তীক্ষ্ণ রাখে। এ ছাড়া এক বাটি আমে ৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাবেন, যা একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিনের ৫০ শতাংশেরও বেশি।

* আপেল
একটি মাঝারি সাইজের আপেলে মাত্র ৮০ ক্যালরি থাকে, কিন্তু এতে প্রচুর কোয়ারটেচিন পাবেন- এ শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টটি মস্তিষ্কের কোষের ডিজেনারেশন বা ক্ষয়সাধন প্রতিরোধ করে (মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয়ে অ্যালঝেইমারস রোগ হতে পারে)। হাইপারটেনশন নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা গেছে, আপেল খেয়ে ব্লাড প্রেশার কমানো যেতে পারে। এ ছাড়া আপেলের আঁশের সঙ্গে কোলেস্টেরল লেভেল উন্নয়নের যোগসূত্র রয়েছে। ভুলেও আপেলের খোসা ফেলে দেবেন না, কারণ এ খোসাতে রোগ প্রতিরোধী কম্পাউন্ড রয়েছে, যেমন- আপেলের খোসায় বিদ্যমান ফ্লেভানয়েড হার্টের রোগের ঝুঁকি নিচে নামাতে পারে।

* ডালিম
ডালিমের রসে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টের মেগা ডোজ রয়েছে। এ ফলটি পটাশিয়ামেরও ভালো উৎস, যা শক্তি ধরে রাখে ও হাই ব্লাড প্রেশারকে নাগালের মধ্যে আনে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, প্রতিদিন ডালিমের রস পানে হার্ট-রক্তনালির স্বাস্থ্যের উপকার হতে পারে ও প্রদাহ কমতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ডালিমের রস খাওয়ার পূর্বে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, কারণ এটি প্রেসক্রিপশন ওষুধে হস্তক্ষেপ করে কার্যকারিতা খর্ব করতে পারে।

* মোসাম্বি
ভিটামিন সি এর একটি পরিচিত উৎস হলো কমলা, কিন্তু মোসাম্বিও এই ভিটামিনের সমৃদ্ধ উৎস। একটি মোসাম্বির অর্ধেকাংশ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি এর প্রায় ৫০ শতাংশ সরবরাহ করে। এ ফলটিতে উচ্চ মাত্রায় আঁশ, ভিটামিন এ ও পটাশিয়ামও রয়েছে। মোসাম্বির ভিটামিন সি কোলাজেন উৎপাদনের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তাই এ ফলটি ক্ষতিগ্রস্ত বা তৈলাক্ত ত্বক ও চুল মেরামত করতে পারে।

* কলা
স্ন্যাক হিসেবে কলা হচ্ছে আদর্শ খাবার। কলায় উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম ও আঁশ রয়েছে, যা আপনার শরীরকে দীর্ঘসময় শক্তিপূর্ণ রাখতে পারে। এ ফলে ফ্যাট বা লবণ থাকে না বলে এটি একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক। কলার পঁচন তিন থেকে পাঁচদিন বিলম্বিত করতে রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করতে পারেন, এতে কলার খোসা বাদামী হলেও খাবারযোগ্য অংশটি ভালো থাকবে।

* ব্লুবেরি
ব্লুবেরিকে অনেকদিন ধরে সুপারফুড বিবেচনা করা হচ্ছে। এ মিষ্টি ফলটি ছোট হলেও শক্তিশালী, যেখানে প্রচুর পরিমাণে রোগ দমনকারী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ভিটামিন সি বিদ্যমান থাকে। এ ফলে অ্যান্থোসায়ানিন নামক রঞ্জকও রয়েছে, গবেষণা বলছে যে এ রঞ্জক ব্রেইনপাওয়ার বৃদ্ধি করতে পারে। একটি গবেষণায় পাওয়া গেছে, যেসব লোক বেশি পরিমাণে ব্লুবেরি খেয়েছিল তাদের গ্রুপে বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বিকাশের হার কম ছিল। ২০১৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব মলিকিউলার সায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, বয়স্ক মানুষদের অন্ধত্বের প্রধান কারণ হচ্ছে বয়স-সম্পর্কিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন।
তথ্যসূত্র : দ্য হেলদি

স্বাস্থ্যের জন্য ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন ক্ষতিকর
                                  

আমরা প্রতিটি মানুষই জীবনে কোনো না কোনো ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে থাকি। সাময়িকভাবে ব্যথানাশক ওষুধ তেমন ক্ষতিকর না হলেও দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া মারাত্মক ক্ষতিকর। অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে চলেছে।

তাছাড়াও যারা বিভিন্ন আরথ্রাইটিস বা বাত রোগে অথবা ডিজেনারেটিভ ডিজিজ বা বয়সজনিত হাড়ের ক্ষয় রোগ যেমন- রিউমাটয়েড আরথ্র্রাইটিস, এনকাইলোজিং স্পনডাইলাইটিস, অস্টিওআরথ্রাইটিস, স্পনডাইলোসিস, ইত্যাদি রোগে ভুগছেন, তাদের নিয়মিতই কোনো না কোনো ব্যথানাশক ওষুধ খেতে হয়, না খেলে ব্যথার তীব্রতা সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ খেলে আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঙ্গ যেমন- কিডনি, লিভার, পাকস্থলী ইত্যাদির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে এমনকি বিকলও হয়ে যেতে পারে। যার ফলে রোগীর বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন- তীব্র পেটে ব্যথা, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, রক্তবমি হওয়া, রোগীর পা ও মুখ ফুলে যাওয়া, চোখের নিচে পানি জমা, প্রসাব কম হওয়া বা প্রসাব বন্ধ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

একাধিক পরিসংখ্যানে দেখা যায় বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ব্যথানাশক ওষুধ বা এনএসআইডিজনিত আলসার ও কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে যা এখনই প্রতিরোধ না করলে মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। তাই যারা বিভিন্ন রকম ব্যথা-বেদনা বা আরথ্রাইটিস বা বাত রোগে ভুগছেন যেমন- হাঁটু, ঘাড়, কোমর ও কাঁধে ব্যথায় আক্রান্ত, তারা ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াবিহীন আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম শাখা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে ব্যথামুক্ত জীবনযাপন করতে পারবেন।

এখানে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ ও রোগ নির্ণয় করে, সেই অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নির্ধারণ করে থাকেন যার মধ্যে- হাইড্রোথেরাপি, ম্যানুয়াল থেরাপি, ইলেকট্রোথেরাপি ও থেরাপিউটিক ব্যায়াম ইত্যাদি উলেস্নখযোগ্য। এই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর ব্যথা কমে আসে, জয়েন্ট বা অস্থি-সন্ধির নড়াচড়া সহজ হয়, মাংসপেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে ও রোগী স্বাভাবিক চলাচল করতে পারে। অতএব ব্যথার ওষুধ পরিহার করে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিন তাহলে ব্যথার ওষুধের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব।

কব্জির ব্যথায় যা করবেন
                                  

 আজকাল অনেকেই কব্জিতে ব্যথা নিয়ে ডাক্তারের শরণাপন্ন হন। বৃদ্ধাঙ্গুলি ও তর্জনীতে বেশি ব্যথা অনুভূত হয়। কখনো বৃদ্ধাঙ্গুলের পাশ দিয়ে ওপরের দিকে ব্যথা হয়। রাতে হাত অবশ হয়ে আসে। অস্থিরতায় ঘুম ভেঙে যায়। কব্জির বা বৃদ্ধাঙ্গুলির ব্যথা অনেক কারণে হতে পারে, ডিকোয়ারভ্যান টেনো-সাইনোভাইটিস এর মধ্যে অন্যতম। আমাদের কব্জি থেকে বৃদ্ধাঙ্গুলির দিকে যে টেনডন থাকে এই টেনডনে যখন প্রদাহ হয় তখন একে ডিকোয়ারভান টেনো-সাইনোভাইটিস বলে। সাধারণত মধ্যবয়সী মহিলারা এ সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন। এ সমস্যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে।যেমন-

১. আঘাতের কারণে
২. হাত দিয়ে ভারী কিছু ওঠানোর ফলে
৩. রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কারণে
৪. একটানা লেখালেখি করলে
৫. দা, কোদাল বা কুড়াল দিয়ে কাটাকাটি করলে
৬. ড্রিল মেশিন ব্যবহার করলে

লক্ষণ:
১. এতে আক্রান্ত ব্যক্তি হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল নাড়াতে পারে না
২. কাপড়-চোপড় চিপতে ব্যথা পায়
৩. হাত দিয়ে ভারী কিছু ওঠাতে পারে না
৪. বৃদ্ধাঙ্গুলের গোড়ায় মাংসপেশি অনেক সময় শুকিয়ে যায়
৫. আঙুল বেশ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং কাজ করলে ব্যথা বাড়ে
৬. ব্যথা অনেক সময় কব্জি থেকে ওপরের দিকে উঠতে থাকে

রোগ নির্ণয়:
সাধারণত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্লিনিক্যালি এ রোগটি নির্ণয় করতে পারেন। তবুও কিছুকিছু ক্ষেত্রে কব্জির এক্স-রে ও রক্তের কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে।
চিকিৎসা:
এ ক্ষেত্রে ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বেশি জরুরি। কিছুকিছু ক্ষেত্রে ইনজেকশন দেয়ারও প্রয়োজন পড়ে।

সতর্কতা:
এ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করতে হবে। কব্জির ওপর চাপ পড়ে এমন কাজ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। যেমন-
১. হাত দিয়ে ভারী কিছু ওঠাবেন না
২. কাপড়-চোপড় চিপবেন না
৩. টিউবওয়েল চাপবেন না
৪. একটানা বেশিক্ষণ লেখালেখি করবেন না
৫. দা, কোদাল বা কুড়াল দিয়ে কাটাকাটি করবেন না
৬. ড্রিল মেশিন ব্যবহার করবেন না
৭. কাজের সময় রিস্ট-ব্যান্ড ব্যবহার করবেন
সঠিক চিকিৎসা নিন ও সতর্কতা মেনে চলুন। সুস্থ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করুন।

হার্ট সুস্থ্য রাখতে করনীয়
                                  

 বিশ্বজুড়ে বেড়ে চলা হৃদরোগসহ কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, স্ট্রোক এসবের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করে তুলতেই এই দিবস পালিত হয়। চলতি বছর এ দিবসের প্রতিপাদ্য হলো- ‘মাই হার্ট, ইয়োর হার্ট’, যার মাধ্যমে সবার হৃৎপি- সুস্থ থাকুক তা কামনা করা হচ্ছে। এ বছর ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশন হার্ট হিরোদের নিয়ে একটি কমিউনিটি করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। সব স্তরের মানুষ, যারা দীর্ঘদিন বাঁচতে চান, সুস্থ হৃৎপি-ের অধিকারী হতে চান, তারা নিচের সব প্রতিজ্ঞা করতে পারেন:
# পরিবারে স্বাস্থ্যকর খাবার রান্না করা ও খাওয়ার প্রতিজ্ঞা করা। সন্তানরা যেন বেশি শারীরিক পরিশ্রম করে, ধূমপান না করে তা নিশ্চিত করা।
# স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে রোগীদের কোলেস্টেরল লেভেল কমানো ও ধূমপান ত্যাগ করার বিষয়ে প্রতিজ্ঞা করা।
# রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারক হিসেবে জনগণের হৃৎপিন্ড সুস্থ রাখার সব নীতি বাস্তবায়ন করার প্রতিজ্ঞা করা।
# কর্মজীবী হিসেবে হৃৎপিন্ড সুস্থ রাখবে, তেমন অফিস গড়ে তোলার প্রতিজ্ঞা করা।
২০০০ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার পর থেকে ওয়ার্ল্ড হার্ট ডে পালিত হচ্ছে। সংস্থাটির সদস্য ২০০ এর বেশি দেশ। বিশ্বজুড়ে হৃদরোগে অকালে মৃত্যুর হার কমানোর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির কাজ করছে সংস্থাটি।
প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে কার্ডিও ভাস্কুলার রোগ- স্ট্রোক ও হৃদরোগে ১ কোটি ৭৯ লাখ মানুষ মারা যান। এ বিষয়টিকে সামনে রেখে বিশ্ব হার্ট দিবসে মানুষ যেন কার্ডিওভাস্কুলার রোগ থেকে সতর্ক থাকে, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া বন্ধ করে, শারীরিক পরিশ্রম করে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। এসব সতর্কতায় হৃদরোগ ও স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে অকালে মানুষ মারা যাওয়ার হার ৮০ শতাংশ কমে যাবে। তথ্যসূত্র: বোল্ড স্কাই


   Page 1 of 89
     স্বাস্থ্য-তথ্য
যেসব বদভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার কর্মক্ষেত্রে
.............................................................................................
শীতে পালংশাক খাচ্ছেন তো?
.............................................................................................
অক্লান্ত পরিশ্রমে আপনাকে শক্তির যোগান দেবে কিছু খাবার
.............................................................................................
মুখ ও দাঁত সুস্থ সবল রাখার জন্য
.............................................................................................
কোমরে ব্যথা হলে
.............................................................................................
লালশাকের উপকারিতা
.............................................................................................
যে কারনে হাত ধোয়া জরুরি
.............................................................................................
পেটে ভর দিয়ে শোয়ার যত অপকারিতা
.............................................................................................
যেসব খাবার রক্তের প্লাটিলেট বাড়ায়
.............................................................................................
স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে যে খাবর
.............................................................................................
যা হয় অতিরিক্ত পনির খেলে
.............................................................................................
মাংস খাওয়া ভালো না খারাপ
.............................................................................................
পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর ১০ ফল
.............................................................................................
স্বাস্থ্যের জন্য ব্যথা নাশক ওষুধ সেবন ক্ষতিকর
.............................................................................................
কব্জির ব্যথায় যা করবেন
.............................................................................................
হার্ট সুস্থ্য রাখতে করনীয়
.............................................................................................
বমি থেকে দূরে রাখবে আদা!
.............................................................................................
রক্তচাপে বাড়ে মাড়ির রোগ
.............................................................................................
যেভাবে বুঝবেন বৃক্ক বিপদে আছে
.............................................................................................
ত্বকের ফাঙ্গাস রোগ
.............................................................................................
রেনিটিডিনে ক্যান্সারের উপাদান
.............................................................................................
ভালো ঘুমের জন্য খেতে হবে যে খাবার
.............................................................................................
শিশুর প্রথম দাঁতের যত্ন
.............................................................................................
আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রক্তাল্পতায়
.............................................................................................
জানুন জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা সিপিআর সম্পর্কে
.............................................................................................
বাড়ছে ভুলে যাওয়া রোগ
.............................................................................................
হৃদরোগের চিকিৎসা
.............................................................................................
ক্যারিয়ার হিসেবে মেকআপ আর্টিস্ট
.............................................................................................
ব্যায়াম শুরুর আগে করনীয়
.............................................................................................
রসুন যেভাবে চুল বৃদ্ধি করে
.............................................................................................
পুদিনার যত গুণ
.............................................................................................
হার্ট সার্জারি হলে ‘কি খাবেন, কি খাবেন না’
.............................................................................................
ভিন্ন রকম ডায়েট
.............................................................................................
ঘুমের ওষুধে ঝুঁকি
.............................................................................................
লিভার সমস্যায় যা করতে হবে
.............................................................................................
গেঁটে বাত : লক্ষণ ও প্রতিকার
.............................................................................................
ডায়েট চার্টে রাখুন বাদাম
.............................................................................................
যেসব সবজিতে কার্বোহাইড্রেইট কম
.............................................................................................
চিত্ত চাঞ্চল্যের খিদা কমাতে করনীয়
.............................................................................................
লাল খাবারের যত উপকার
.............................................................................................
যেসব ক্ষতি হয় চুলে রঙ করলে
.............................................................................................
যেভাবে জলাতঙ্ক থেকে বাঁচবেন
.............................................................................................
শুধু বয়স দায়ী নয় বলিরেখার জন্য!
.............................................................................................
পুরো দিন ক্লান্ত লাগলে যা করনীয়?
.............................................................................................
ক্যানসারের ঝুঁকি খাদ্যাভাসে
.............................................................................................
শিশুর মাথাব্যথা
.............................................................................................
নির্ঘুম কাটঁতে কিছু খাবার
.............................................................................................
অতিরিক্ত লবণ তামাকের মতো ক্ষতিকর
.............................................................................................
চুল পড়া সমস্যা, মাত্র ১ মাসে চুল পড়া কমাবে
.............................................................................................
আনন্দের পাশাপাশি ঈদে ডেঙ্গু রোগীর যত্ন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]