১৬ জিলহজ ১৪৪১ , ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭, ৭ আগস্ট , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য-তথ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আজই ত্যাগ করুন দাড়িয়ে খাবার অভ্যাস

প্রচণ্ড তাড়া। অফিস ছুটতে হবে। হাতে সময় নেই। অতএব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গপাগপ করে হাতের গোড়ায় যা পাচ্ছেন তা-ই গিলছেন (Stand And Eat)। এটাই যদি রোজের অভ্যাস হয়ে থাকে শিগগিরি পাল্টান। কারণ, আপনি তো জানেনই না, তাড়াহুড়োর চোটে কত বড় সর্বনাশ করছেন নিজের। এভাবে খেলে রোজ একটু একটু করে অবসাদে (Stress) ডুবতে থাকবেন আপনি। স্বাদও পারেন না খাবারের। জানেন সেটা? এমন অজানা বিষয় সম্প্রতি জানিয়েছে জার্নাল অব কনজিউমার রিসার্চ (Journal of Consumer Research)।

শুধু কি তাই! কোন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন সেটাও নাকি স্বাদগ্রহণের পক্ষে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, জানিয়েছেন সমীক্ষকেরা। তাঁদের কথায়, দাঁড়ানোর বদলে যদি বসে শান্তিতে খান তাহলে স্বাদ আরও বেশি করে পাবেন।

 

কারণ, ভঙ্গি, শরীরের ভারসাম্যের সঙ্গে স্বাদগ্রহণের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই দাঁড়ানোর থেকে বসে খেলে সবাই খাবারে বেশি স্বাদ পান।

"অনেক সময়েই দেখা যায়, যেসব বাচ্চারা খেতে ভালোবাসে না বা খাবার দেখলেই উল্টোদিকে পালায় তাদের ভুলিয়ে খাওয়াতে গিয়ে মা-বাবা জানালা বা কোথাো দাঁড় করিয়ে ঝপাঝপ করে খাওয়াতে থাকেন। দাঁড়ানোর পদ্ধতি যদি সঠিক হয় তাহলে বাচ্চারা অনেক সময়েই চুপচাপ খেয়ে নেয় । কিন্তু তা না হলে ওদের বিরক্তি আরও বাড়ে। কিছুতেই খেতে চায় না" জানিয়েছেন সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of South Florida) অধ্যাপক, লেখক, গবেষক দীপায়ন বিশ্বাস (Dipayan Biswas)।

কেন এমনটা হয় জানেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আমাদের নীচের দিকে আকর্ষণ করে। এতে শরীরের রক্ত নীচের দিকে প্রবাহিত হয়। এবং তা তুলে সারা শরীরে ছড়িয়ে দিতে কষ্ট হয় হৃদপিণ্ডের। ফলে বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন। আর তাতেই বাড়তে থাকে হাইপো থ্যালামিক পিটুইটারি  অ্যাড্রিনালিন (HPA)। স্ট্রেস হরমোনকে বাড়িয়ে দেয়

আর শরীর অবসন্ন হলে কী করে খাবারের স্বাদ নেবেন! এমনকি, সামান্য শারীরিক সমস্যাতেই স্বাদু খাবারও বিস্বাদ হয়ে যায়।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে সমীক্ষকেরা ৩৫- জনকে পিটা চিপস খেতে দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে কিছু জন খেয়েছে দাঁড়িয়ে। বাকিরা খেয়েছেন বসে। যাঁরা দাঁড়িয়ে খেয়েছেন , তাঁরা পিটা চিপসের কোনও স্বাদই পাননি! যাঁরা আরাম করে বসে খেয়েছেন তাঁদের কাছে অমৃততুল্য চিপসের স্বাদ।

এরপরেই সমীক্ষকেরা হাতে ভারী ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে খেতে দেন ফ্রুট স্ন্যাকস (Fruit Snacks)। আগের মতোই অর্ধেকে খান দাঁড়িয়ে। বাকিরা বসে। এবার নাকি খাবারের স্বাদ সবথেকে বিস্বাদ ঠেকেছে সবার কাছে!

আজই ত্যাগ করুন দাড়িয়ে খাবার অভ্যাস
                                  

প্রচণ্ড তাড়া। অফিস ছুটতে হবে। হাতে সময় নেই। অতএব দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গপাগপ করে হাতের গোড়ায় যা পাচ্ছেন তা-ই গিলছেন (Stand And Eat)। এটাই যদি রোজের অভ্যাস হয়ে থাকে শিগগিরি পাল্টান। কারণ, আপনি তো জানেনই না, তাড়াহুড়োর চোটে কত বড় সর্বনাশ করছেন নিজের। এভাবে খেলে রোজ একটু একটু করে অবসাদে (Stress) ডুবতে থাকবেন আপনি। স্বাদও পারেন না খাবারের। জানেন সেটা? এমন অজানা বিষয় সম্প্রতি জানিয়েছে জার্নাল অব কনজিউমার রিসার্চ (Journal of Consumer Research)।

শুধু কি তাই! কোন ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন সেটাও নাকি স্বাদগ্রহণের পক্ষে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, জানিয়েছেন সমীক্ষকেরা। তাঁদের কথায়, দাঁড়ানোর বদলে যদি বসে শান্তিতে খান তাহলে স্বাদ আরও বেশি করে পাবেন।

 

কারণ, ভঙ্গি, শরীরের ভারসাম্যের সঙ্গে স্বাদগ্রহণের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তাই দাঁড়ানোর থেকে বসে খেলে সবাই খাবারে বেশি স্বাদ পান।

"অনেক সময়েই দেখা যায়, যেসব বাচ্চারা খেতে ভালোবাসে না বা খাবার দেখলেই উল্টোদিকে পালায় তাদের ভুলিয়ে খাওয়াতে গিয়ে মা-বাবা জানালা বা কোথাো দাঁড় করিয়ে ঝপাঝপ করে খাওয়াতে থাকেন। দাঁড়ানোর পদ্ধতি যদি সঠিক হয় তাহলে বাচ্চারা অনেক সময়েই চুপচাপ খেয়ে নেয় । কিন্তু তা না হলে ওদের বিরক্তি আরও বাড়ে। কিছুতেই খেতে চায় না" জানিয়েছেন সাউথ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of South Florida) অধ্যাপক, লেখক, গবেষক দীপায়ন বিশ্বাস (Dipayan Biswas)।

কেন এমনটা হয় জানেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, দাঁড়িয়ে থাকার ফলে মাধ্যাকর্ষণ শক্তি আমাদের নীচের দিকে আকর্ষণ করে। এতে শরীরের রক্ত নীচের দিকে প্রবাহিত হয়। এবং তা তুলে সারা শরীরে ছড়িয়ে দিতে কষ্ট হয় হৃদপিণ্ডের। ফলে বেড়ে যায় হৃদস্পন্দন। আর তাতেই বাড়তে থাকে হাইপো থ্যালামিক পিটুইটারি  অ্যাড্রিনালিন (HPA)। স্ট্রেস হরমোনকে বাড়িয়ে দেয়

আর শরীর অবসন্ন হলে কী করে খাবারের স্বাদ নেবেন! এমনকি, সামান্য শারীরিক সমস্যাতেই স্বাদু খাবারও বিস্বাদ হয়ে যায়।

বিষয়টির সত্যতা যাচাই করতে সমীক্ষকেরা ৩৫- জনকে পিটা চিপস খেতে দিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে কিছু জন খেয়েছে দাঁড়িয়ে। বাকিরা খেয়েছেন বসে। যাঁরা দাঁড়িয়ে খেয়েছেন , তাঁরা পিটা চিপসের কোনও স্বাদই পাননি! যাঁরা আরাম করে বসে খেয়েছেন তাঁদের কাছে অমৃততুল্য চিপসের স্বাদ।

এরপরেই সমীক্ষকেরা হাতে ভারী ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে খেতে দেন ফ্রুট স্ন্যাকস (Fruit Snacks)। আগের মতোই অর্ধেকে খান দাঁড়িয়ে। বাকিরা বসে। এবার নাকি খাবারের স্বাদ সবথেকে বিস্বাদ ঠেকেছে সবার কাছে!

জেনে নেই রক্তে অক্সিজেন মাত্রা কমলে বুঝার উপায়!
                                  

করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী বাড়িতে থাকুক বা হাসপাতালে, এ সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা। তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বা ঘনত্ব কমে যাচ্ছে কি না, খেয়াল করা। সুস্থ মানুষের অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ থেকে ৯৮ শতাংশের মধ্যে থাকে।
রক্তে অক্সিজেনের ঘনত্ব আর হৃদ্‌স্পন্দনের গতি পরিমাপ করা যায় যে যন্ত্রের মাধ্যমে, তার নাম পালস অক্সিমিটার। এই যন্ত্র না থাকলেও একটা ছোট পরীক্ষার মাধ্যমে ফুসফুসের অবস্থা বুঝে নেওয়া যায়।

■ রোগীকে প্রথমে মুখ দিয়ে সজোরে বুকের ভেতরে থাকা বাতাস ছাড়তে হবে। তারপর ধীরে ধীরে গভীরভাবে নাক দিয়ে বাতাস টেনে শ্বাস ধরে রাখতে হবে। যদি ৭ সেকেন্ড এভাবে শ্বাস ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝতে হবে অক্সিজেনের মাত্রা ৯৫ শতাংশে নেমে এসেছে। আর যদি ৫ সেকেন্ড পর্যন্ত শ্বাস ধরে রাখতে সমস্যা হয়, তাহলে বুঝতে হবে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০ শতাংশ।

■ করোনায় সংক্রমিত রোগীর জন্য দ্বিতীয় সপ্তাহটা গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের এ সময় নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। কাশির পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয়। গভীর বা লম্বা শ্বাস নেওয়ার সময়ে বুকে ব্যথা বা চাপ অনুভূত হতে পারে। এগুলো ফুসফুসে সংক্রমণজনিত প্রদাহের লক্ষণ।

■ অনেক সময় শুরুতে অক্সিজেনের ঘাটতি রোগী বুঝতে পারে না। দিব্যি সুস্থ–স্বাভাবিক মনে হয়। একে বলে ‘নীরব হাইপোক্সিয়া’।

■ রক্তে অক্সিজেন কমে গেলে শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি বেড়ে যায় (প্রতি মিনিটে ২৪-এর বেশি)। হৃদ্স্পন্দনের গতি (প্রতি মিনিটে ১০০-এর বেশি) বেড়ে যায়, বুকে ব্যথা হয় ও নিশ্বাসে সমস্যা হয়। ফলে দেহের বিভিন্ন অঙ্গে, স্নায়ুতন্ত্র, এমনকি মস্তিষ্কে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এ সময় মাথা ঝিমঝিম করা, প্রচণ্ড দুর্বল লাগা, একটু পরিশ্রম বা হাঁটাহাটিতে সমস্যা হয়। রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার লক্ষণ এগুলো।

■ অক্সিজেনের মাত্রা খুব বেশি কমে গেলে রোগীর ঠোঁট ও ত্বক নীল হয়ে যায়। এ সময় রোগীকে উপুড় করে শুইয়ে দিয়ে জোরে জোরে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে বলতে হবে। এতে কিছুটা উপকার পাওয়া যায়। কারণ, এর ফলে ফুসফুসের একটা বড় অংশে সহজে বাতাস যায় এবং রক্ত সহজে অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

খাওয়ার পর যে বদ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করবেন
                                  

দুপুরে ডায়েট মেনে খাচ্ছেন, রাতেও বেশ নিয়ম মেনেই খাওয়াদাওয়া করছেন, তা সত্ত্বেও শরীর যেন কিছুতেই ভাল যাচ্ছে না। শরীর ভাল রাখতে কী করবেন, বুঝে উঠেতেই যেন পারছেন না। এমন যদি হয়, তাহলে দুপুরে, রাতে কিংবা সকালে যে কোনও সময় ভরপেট খাওয়াদাওয়ার পর বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলুন।

যেমন খাওয়ার পর পরই কখনও ধূমপান করবেন না। খাওয়ার পর যদি আপনি ধূমপান করেন, তাহলে যে প্রয়োজনীয় জিনিস আপনার শরীরে প্রবেশ করেছিল, তার পুষ্টিগুণ কিন্তু নামতে শুরু করে দেবে। তাই খাওয়ার পর সিগারেটকে বলুন না। গবেষকদের একাংশ বলছেন, খাওয়ার পর সিগারেট খেলে তা ক্যান্সারের প্রবণতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

অনেকেরই খাওয়াদাওয়ার পর চা পানের অভ্যাস আছে। বিশেষত রাতের খাবারের পর। কিন্তু, খাওয়াদাওয়ার পর চা খেলে হজমের গণ্ডগোল হয়। অনেকেরই ধারণা রয়েছে, খাওয়ার পর ফল নাকি ভাল। কিন্তু, খাওয়াদাওয়ার পর ফল খাওয়ার অভ্যেসও সঠিক নয়। যদিও আপনার হজমের গণ্ডগোল, লিভারের সমস্যা থাকে, তাহলে কখনওই খাওয়ার পর (বিশেষ করে মিল বা ডিনার) ফল খাবেন না।

পেটপুরে খাবার পর কখনও সঙ্গে সঙ্গে ঘুমোতে যাবেন না। গবেষণা বলছে, খাওয়ার পর পরই ঘুমোতে গেলে, খাবার কম হজম হয়। ফলে, হৃদরোগের সম্ভাবনা প্রবল হয়। খাওয়ার পর স্নান করতে যাবেন না। এতেও শরীরের বেশ ক্ষতি হয়।

লিভারে যে কারণে চর্বি জমে এবং যা করণীয়
                                  

লিভারের প্রধান কাজ খাবারকে ভেঙে রক্তের সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া। ওষুধ খাওয়ার পর তা প্রক্রিয়াজাত করে শরীরকে সুস্থ করার কাজটিও লিভার করে থাকে। অর্থাৎ, লিভার না থাকলে আমরা যা খেতাম- তা খাবার কিংবা ওষুধ যেটাই হোক না কেনো, সেভাবেই বেরিয়ে আসত। এর ব্যতিরেকে খাবার কিংবা ওষুধের পক্ষে শরীরে কোনো ধরণের পুষ্টি-শক্তি যোগানো সম্ভব হতো না।

এই লিভারে যখন চর্বি জমে তখন এর কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এক সময় লিভার সিরোসিস হয়ে মানুষ কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারে। তাই সচেতন মানুষ মাত্রই যে লিভারের প্রতি যত্মশীল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কোনো লিভারে চর্বি জমে?

নানান কারণেই লিভারে চর্বি জমতে পারে। তবে যারা বেশি মদ পান করেন তাদের এ সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। এছাড়া আরো কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে-

১. অতিরিক্ত মেদ।

২. পরিশ্রমহীন আরামপ্রদ জীবনযাপন।

৩. রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া।

৪. অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিক।

৫. রক্তে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া।

৬. হেপাটাইটিস বি।

৭. এবং কিছু ওষুধের পার্শপ্রতিক্রিয়া।

কীভাবে বুঝবেন লিভারে চর্বি জমেছে?

১. লিভারে চর্বি জমার তেমন কোনো গুরুতর লক্ষণ দেখা যায় না।

২. বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রে যেটা হয়, অন্য কোনো অসুখের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে বোঝা যায়- লিভারেও চর্বি জমেছে।

৩. তবে অধিকাংশ রোগী বলেন, তারা বেশ দুর্বলতা অনুভব করেন। যে কারণে চিকিৎসকরা ধরে নিয়েছেন, দুর্বলতা অনুভব করা লিভারে চর্বি জমার একটি লক্ষণ।

৪. খুব কম সংখ্যক রোগী লিভারের জায়গায়টায় ভারভার অনুভব করেন। তখন বোঝা যায়, লিভারে চর্বি জমেছে।

কী করবেন?

এটা গুরুতর কোনো অসুখ নয়। তাই ঘাবড়াবার কোনো কারণ নেই। তবে লিভারে চর্বি জমতে থাকলে এক পর্যায়ে তা ক্যান্সারের দিকে চলে যেতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বহীন মনে করলেও চলবে না।

নিচের পাঁচটি কাজ করলেই কমতে থাকবে লিভারের চর্বি-

১. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতেই হবে।

২. ফ্যাটি খাবার ছেড়ে দিতে হবে।

৩. প্রতিদিনই শরীরের ঘাম ঝরিয়ে পরিশ্রম করতে হবে।

৪. ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৫. মদ পান ছেড়ে দিতে হবে।

ধরাছোঁয়ার বাইরে ডা. সাবরিনা
                                  

টেস্ট না করেই করোনার রিপোর্ট নিয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রতারণা প্রকাশ্যে আসার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর।


পুলিশ বলছে, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্টার চিকিৎসক হিসেবে চাকরিরত থেকেই জেকেজির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ডা. সাবরিনা। কিভাবে, কার মাধ্যমে তিনি এ কাজ হাতিয়েছেন, সে ব্যাপারে চলছে অনুসন্ধান। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সাবরিনাকে গ্রেফতার করা হবে। জানা গেছে, স্বামী আরিফ চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর সাবরিনা গা ঢাকা দিয়েছেন।

জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০টি টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে। এসব টেস্টে জনপ্রতি হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বিদেশিদের কাছ থেকে নেয় একশ’ ডলার। এ হিসাবে ভুয়া টেস্ট বাণিজ্য করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।

২৪ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতারক আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দু’জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জেকেজির কার্যালয় থেকে ল্যাপটপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার কোনোটিতে এখন পর্যন্ত ডা. সাবরিনার নাম সংযুক্ত করা হয়নি। চারটি মামলার তদন্ত করছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।

ওই থানার পরিদর্শক আবুল হাসনাত খোন্দকার বলেন, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। আমি নিজেও একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে ডা. সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে মামলায় আসামি দেখানো হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন শুক্রবার যুগান্তরকে জানান, সাবরিনার বিষয়টি হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আজই বাসায় ফিরেছি। তিনি (ডা. সাবরিনা) ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন কিনা খোঁজ নিতে হাসপাতালের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছি।’


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেকেজি ২৭ হাজার রোগীর করোনার টেস্টের রিপোর্ট দেয়। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনার আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট তারা নিজেরা তৈরি করেছে। জেকেজির ৭-৮ জন কর্মী মিলে ভুয়া এসব রিপোর্ট তৈরি করে।

প্রতিষ্ঠানটির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়া লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করত। রোগীদের ১০টি প্রশ্ন দেয়া হতো। এর মধ্যে ৫টির বেশি প্রশ্ন যদি করোনা উপসর্গের হতো তবেই তাকে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দেয়া হতো। অন্যদের দেয়া হতো নেগেটিভ রিপোর্ট। এভাবেই চলছিল তাদের করোনা পরীক্ষার প্রতারণা।

নমুনা সংগ্রহের জন্য জেকেজির হটলাইন নম্বর ছিল। ওই নম্বরে কেউ ফোন করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তার বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। আবার অনেকে জেকেজির বুথে এসে নমুনা দিতেন। বিদেশি নাগরিকদের জন্য নেয়া হতো ১০০ ডলার। আর বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। আর কোনো মাঠকর্মী বাসায় যাতায়াত করলে তার জন্য নেয়া হতো ১ হাজার টাকা। যদিও দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ভিত্তিতে বিনামূল্যে তাদের স্যাম্পল কালেকশন করার কথা ছিল।

জেকেজিতে চাকরি করতেন নার্স তানজিনা পাটোয়ারি ও তার স্বামী হুমায়ূন কবির। তানজিনার বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। ভুয়া করোনা পরীক্ষা করে কোটি কোটি টাকা কামানো দেখে তানজিনা দাবি করেন তার বেতন বাড়িয়ে দিতে হবে। বিষয়টি জেকেজির কর্ণধার আরিফ চৌধুরী জেনে তানজিনা ও তার স্বামীকে চাকরিচ্যুত করেন। পরে তারা দু’জন বাসায় বসে নিজেরাই করোনার ভুয়া টেস্টের বাণিজ্য চালান।

তানজিনা নমুনা সংগ্রহ করতেন আর ঘরে বসে তার স্বামী রিপোর্ট তৈরি করতেন। ২৩ জুন রাতে তানজিনা ও তার স্বামী গ্রেফতার হওয়ার পর বেরিয়ে আসে জেকেজির প্রতারণার রহস্য। এরপর জেকেজির গুলশান অফিসে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় প্রতারক আরিফ চৌধুরীসহ অন্যদের।

ওইদিনই প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মী আরিফকে ছাড়িয়ে নিতে তেজগাঁও থানায় জড়ো হন। তারা থানার বাইরে হট্টগোল করতে থাকেন। এ ঘটনায় পৃথক একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ডা. সাবরিনার হাত ধরেই করোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় জেকেজি। প্রথমে তিতুমীর কলেজে মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং অনেক জেলা থেকেও সংগ্রহ করা হয় নমুনা। সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে জেকেজির যে চুক্তি ছিল তা বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনা রোগী পৌনে ২ লাখ ছাড়াল
                                  

দেশে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ হাজার ৩৬০ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৫ হাজার ৪৯৪ জনে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর এমন তথ্য জানিয়েছে।

অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক(প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, এ সময়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই বৈশ্বিক মহামারী দুই হাজার ২৩৮ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

আর গত একদিনে ১৫ হাজার ৬৩২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। যাদের মধ্যে তিন হাজার ৩৬০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৯ লাখ চার হাজার ৭৮৪টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে জানিয়ে এই চিকিৎসক বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর এ পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

গত একদিনে তিন হাজার ৭০৬ রোগী সেরে উঠেছেন বলেও জানিয়েছেন নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন, এ পযন্ত ৮৪ হাজার ৫৪৪ জন সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ ৪৮ দশমিক ১৭ শতাংশ রোগী কোভিড-১৯ থেকে সেরে উঠেছেন।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তা দেড় লাখ পেরিয়ে যায় গত ২ জুলাই। সেদিন ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ।

অর্ধেক বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ
                                  

বাংলাদেশের ৫০ ভাগ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ৷ আর কমপক্ষে শতকরা ১০ ভাগ হাসপাতালের কোনো লাইসেন্সই নাই৷ গত দুই বছরে লাইসেন্স বাতিল হয়েছে মাত্র একটি হাসপাতালের৷


ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর কারণে যশোরের নূর মহল নামে ওই ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করা হয় গত বছরের ২ নভেম্বর৷ কিন্তু সেই ক্লিনিকটি এখন নাম বদলিয়ে মাতৃসেবা ক্লিনিক নামে পরিচালিত হচ্ছে৷


Ad by Valueimpression
এই তথ্য খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের৷ সংশ্লিষ্ট শাখা এবং দায়িত্বপ্রাপ্তরা কাগজপত্র দেখে এই তথ্য দিলেও তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। বহুল আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতালের লাইসেন্স ২০১৩ সালের পর আর নবায়ন হয়নি৷ কিন্তু এই হাসপাতালের সাথেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কোভিড হাসপাতালের চুক্তি করেছিলো৷ অধিদপ্তরের দাবি করেছে, উত্তরার এই হাসপাতালটিতে কয়েকবার অভিযান চালিয়ে তাদের সতর্ক করলেও তারা তা আমলে নেয়নি৷ নিয়ম অনুযায়ী এখন সব বেসরকারি হাসপাতালের রেজিষ্ট্রেশন অনলাইনে বাধ্যতামূলক৷ কোনো একটি শর্ত পুরণ না করতে পারলে অনলাইনে রেজিষ্ট্রেশন হয় না৷ তাই নবায়নও হয় না৷

লাইসেন্স কীভাবে পাওয়া যায়

লাইসেন্স দেয়া হয় ১০ বেডের হাসপাতাল বা ক্লিনিক হিসেবে এক বছরের জন্য৷ প্রতি বছর লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়৷ ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে একই নিয়ম৷ এই হাসপাতালের লাইসেন্স পেতে হলে কমপক্ষে তিন জন এমবিবিএস ডাক্তার, ছয় জন নার্স ও দুইজন ক্লিনার থাকতে হবে৷ প্রত্যেকটি বেডের জন্য ৮০ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে৷ অপারেশন থিয়েটার শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হতে হবে৷ আর সেখানে কি কি আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকতে হবে তাও বলা আছে৷ এরসঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন নাম্বার, বিআইএন নাম্বার, পরিবেশ এবং নারকোটিকস-এর লাইসেন্স লাগবে৷ অপারেশন থিয়েটারের জন্য নারকোটিকস-এর লাইসেন্স বাধ্যতামূলক৷ তবে আউটডোর, এমার্জেন্সি এবং অপারেশন থিয়েটার বাধ্যতামূলক নয়৷ হাসপাতালের ধরন অনুযায়ী শর্ত থাকে৷



আবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন উপ-পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে লাইসেন্স দেয়৷ লাইসেন্স নিতে ঢাকায় ৫০ হাজার এবং জেলা উপজেলায় ৪০ হাজার টাকা লাগে৷

১০ বেডই প্রাইভেট হাসপাতালের ইউনিট৷ এরপর বেড বেশি হলে আনুপাতিক হারে জনবল বাড়ে৷

কত হাসপাতাল-ক্লিনিক
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেবে চার হাজার ৮৪টি হাসপাতাল ও ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এপর্যন্ত অনলাইনে লাইসেন্স নিয়েছে৷ তবে লাইসেন্স আছে এমন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৫টি। রাজধানীসহ ঢাকা জেলায় আছে ২৯৪টি৷ যারা আগে ম্যানুয়ালি লাইসেন্স নিয়েছে তাদেরও আবার অনলাইনে লাইসেন্স নিতে হবে৷ এইসব হাসপাতালের অর্ধেকই লাইসেন্স নবায়ন করেনি৷ এক বছরের জন্য লাইসেন্স নবায়ন করতে লাগে পাঁচ হাজার টাকা৷ ২০১৮ সালের নভেম্বর থেকে অনলাইন পদ্ধতি চালু হয়৷ তবে বাস্তবে সারাদেশে সাত হাজারের মত প্রাইভেট হাসপাতাল ও ক্লিনিক আছে৷ যার একটি অংশের লাইসেন্সই নাই৷ কেউ কেউ আবার আবেদন করেই হাসপাতাল চালু করে দেন৷

নবায়ন না করলে কি হয়?

লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে বা নবান না করলে লাইসেন্স বাতিল করার বিধান আছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ( প্রাইভেট হাসপাতাল) ইউনূস আলী৷ তবে অধিদপ্তর লাইসেন্স বাতিল করতে পারেনা৷ পারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়৷ অধিদপ্তর মৌখিক এবং লিখিতভাবে তাদের সতর্ক করতে পারে৷ ১৫ দিন সময় দিয়ে হাসপতাল সাময়িক বন্ধের জন্য নোটিশ দিতে পারে৷ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তি দিতে পারে৷ ২০১৮ সালে ঢাকার ৩০টি প্রাইভেট ক্লিনিককে শোকজ করে ১৫ দিনের মধ্যে সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বলেছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর৷ তখন ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালনা করা হয়৷ কিন্তু সেই হাসপাতালগুলো আবারও চালু হয়েছে৷ ২০১৯ ও ২০২০ সালে কোনো হাসপাতালকে সাময়িক বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়নি৷ ২০১৯ সালে যশোরে নূর মহল ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিল করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তার আগের বছরের৷ আর সেটা বন্ধ করেছিলো মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর নয়৷

উপ-পরিচালক ইউনূস আলী বলেন, ‘শর্ত পুরণ না করলে আমরা লাইসেন্স দেইনা৷ আর লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের শোকজ করি এবং লাইসেন্স বাতিলসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করি৷’


তবে গত দুই বছরে কতটি হাসাপতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা তিনি জানাতে পারেননি৷ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পদ্ধতি হলো কেউ অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয় হয়, নিজেরা মনিটরিং করেনা বলে জানান তিনি৷ আর কেউ আবেদন করেই হাসপাতাল চালু করে দিলে তারা বন্ধ করতে বলেন মাত্র৷ তাই রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে র‌্যাব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নয়৷

এদিকে অধিদপ্তরেরই একটি সূত্র জানায়, হাসপাতালগুলোর একাংশ লাইসেন্স নেয়ার সময় ভাড়া করে চিকিৎসক, নার্স ও যন্ত্রপাতি আনে৷ পরে যা আর থাকে না৷ কোনো রকম চালানো হয়৷

বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ১০ হাজারের বেশি৷ তবে এরমধ্যে হাসপাতাল ও ক্লিনিক কতটি সে হিসাব তাদের কাছে নেই৷ সংঠনের সভাপতি ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘লাইসেন্স ছাড়াও অনেক হাসপাতাল ক্লিনিক আছে৷ আমরা তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে বার বার বলেছি৷ রিজেন্ট হাসপতাল আমাদের সদস্য নয়৷ ওই ধরনের হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা পত্রিকায় কয়েকদিন আগে বিজ্ঞাপনও দিয়েছি৷’ তবে এবার কোভিডের কারণে অনেক হাসপাতাল লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি বলে জানান তিনি৷ অনলাইনের কারণেও অনেকে নবায়ন করতে পারছেনা৷ শতভাগ সঠিক না হলে অনলাইনে নিবন্ধন এবং নবায়ন সম্ভব নয় বলে জানান তিনি৷

মহাপরিচালক সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন না। সার্বিক বিষয় নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কথা বলতে রাজি হননি৷ তিনি জানান, ‘আমি গত এক সপ্তাহ ধরে মিডিয়ার সাথে কথা বলছি না৷ এখন থেকে মিডিয়া সেল কথা বলবে৷’ কিন্তু মিডিয়া সেলে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো তথ্যই দিতে পারেনি৷

সূত্র : ডয়েচে ভেলে

 

মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব ফেলে করোনাভাইরাস
                                  

আপনি যদি মনে করেন, কোভিড-১৯ শুধুই একটা শ্বাসতন্ত্রের রোগ, তাহলে ভুল করছেন। যত দিন যাচ্ছে ততই আরো বেশি করে স্পষ্ট হচ্ছে যে, করোনাভাইরাস মানুষের মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্রে বহু রকমের সমস্যা সৃষ্টি করে।

এর মধ্যে আছে স্ট্রোক, মানসিক বিকার, প্রলাপ, বিভ্রম, ক্লান্তি, দুশ্চিন্তা। বিজ্ঞানীরা দেখছেন, করোনাভাইরাসজনিত নিউরোলজিক্যাল সমস্যার এই তালিকা যেন শেষ হচ্ছে না।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে যাদের উপসর্গ তুলনামূলকভাবে মৃদু ছিল, তাদের অনেকে অভিযোগ করছেন যে, তারা অনেক কিছু মনে রাখতে পারছেন না। কেউ বা মানসিক অবসাদ বোধ করছেন, অনেকে আবার কোনো কিছুতে আগের মতো মন:সংযোগ করতে পারছেন না। আর যারা স্ট্রোকের শিকার হয়েছেন, তাদের পরীক্ষা করে ডাক্তাররা যা দেখেছেন তা রীতিমত ভীতিকর।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর দুই‌‌বার স্ট্রোকের শিকার হয়েছিলেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ সংক্রান্ত পরিচালক পল মিলরি।

স্ট্রোকের পর তার চিকিৎসা করেছিলেন কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট ডা. অরবিন্দ চন্দ্রদেবা।

তিনি বলছিলেন, তিনি যখন বাড়ি ফিরতে হাসপাতাল থেকে বের হবেন ঠিক তখন পলকে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি আসে।

‘পলের মুখে তখন একটা ভাবলেশহীন অভিব্যক্তি। তিনি শুধু এক পাশে দেখতে পাচ্ছিলেন। তিনি কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে হয় বা তার পাসকোড কী - এসব মনে করতে পারছিলেন না।’

দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর পলের মস্তিষ্কের একটা অংশে রক্ত পৌঁছাতে পারছিল না।

ডা. চন্দ্রদেবা বলছিলেন, রক্ত জমাট বাঁধার পরিমাণ মাপার একটা সূচক আছে যাকে বলা হয় ডি-ডাইমার। সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে এটা হয় তিন শ’ও কম। কিন্তু স্ট্রোকের রোগীদের ক্ষেত্রে তা এক হাজারে উঠে যায়।

কিন্তু পল মিলরি‌র ক্ষেত্রে এটা ৮০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা প্রায় অবিশ্বাস্য।

ডা. চন্দ্রদেবা বলেন, ‘‍আমি কখনো এমন ব্যাপার দেখিনি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় তার শরীরে এমন একটা কিছু হয়, যাতে তার রক্ত জমে আঠালো হয়ে গিয়েছিল।’

ড. চন্দ্রদেবার হাসপাতাল এন এইচ এন এন-এ দুই সপ্তাহের মধ্যে ছয়জন কোভিড-১৯ আক্রান্ত লোককে ভর্তি করা হয় - যাদের স্ট্রোক হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের দেহে রক্ত গুরুতরভাবে জমাট বেঁধে গিয়েছিল।

এর একটা কারণ হলো, করোনাভাইরাস সংক্রমণের পর দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠা– যাতে দেহে ও মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।

ডাক্তাররা ভেবেছিলেন ৬৪ বছর বয়স্ক পল মিলরি দু’‌‌দফা স্ট্রোকের পর হয়তো বাঁচবেন না বা পঙ্গু হয়ে যাবেন। তার স্ত্রী ও মেয়েরাও তাই ভেবেছিলেন। কিন্তু তিনি ভালোভাবেই সেরে উঠেছেন।

তিনি এখনও একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন ভালোভাবেই কিন্তু আগের মত দ্রুতগতিতে পড়তে পারেন না এবং কখনো কখনো তিনি নানা জিনিস ভুলে যাচ্ছেন।

ল্যান্সেটের জরিপ

দি ল্যান্সেট সাইকিয়াট্রির এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া ১২৫ জন কোভিড-১৯ রোগীর মধ্যে মস্তিষ্কের জটিলতা দেখা গেছে।

এই ১২৫ জনের প্রায় অর্ধেকের রক্ত জমাট বাঁধার কারণে স্ট্রোক হয়েছে, অন্যদের ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ হয়েছে, কারো স্মৃতিভ্রংশের লক্ষণ দেখা দিয়েছে– কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে মানসিক ব্যাধি।

রিপোর্টের প্রণেতাদের একজন লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক টম সলোমন বলছেন, ‘আগে আমরা ভাবতাম করোনাভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে কিন্তু এখন এটা স্পষ্ট যে এটা মস্তিষ্কেও সমস্যা সৃষ্টি করে।’

‘এর একটা কারণ মস্তিষ্কে অক্সিজেন কমে যাওয়া, তা ছাড়া আছে রক্ত জমাট বাঁধা, এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার অতিমাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠার ফলে সৃষ্ট প্রদাহ। তা ছাড়া আমাদের এ প্রশ্নটাও করতে হবে যে ভাইরাসটি নিজেই মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে কিনা।’

কানাডিয়ান নিউরোসায়েন্টিস্ট অধ্যাপক এ্যাড্রিয়ান ওয়েন একটি অনলাইন জরিপ শুরু করেছেন, যা বিশ্বব্যাপী গবেষণা চালাবে যে করোনাভাইরাস কীভাবে বোধশক্তির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।

এন এইচ এন এন-এর নিউরোলজিস্ট মাইকেল জান্ডি বলছেন, ‘এর আগে সার্স ও মার্স ভাইরাসের সাথেও স্নায়ুতন্ত্রের রোগের সম্পর্ক দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এই নতুন করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে যা দেখছি তা আগে কখনো দেখিনি ‘

‘এর সাথে একমাত্র ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুর তুলনা চলে। ওই মহামারির পরের ১৫-২০ বছরে মানুষের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মস্তিষ্কের রোগসহ নানা সমস্যা দেখা গিয়েছিল।’

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষ দিকে ১৯১৮ সালে পৃথিবী জুড়ে এনসেফালাইটিস লেথার্জিকা নামে এক রহস্যময় রোগ ছড়িয়েছিল– যাতে প্রায় ১০ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছিল।

এর কারণ সম্পর্কে খুব বেশি তথ্যপ্রমাণ নেই। এতে আক্রান্তদের মধ্যে সংজ্ঞাহীনতা এবং পার্কিনসন্স রোগের মত সমস্যা দেখা দেয়- যাতে তাদের সারাজীবন ভুগতে হয়।

কোভিড-১৯ এবং ১৯১৮ সালের স্প্যানিশ ফ্লুর তুলনা করার ব্যাপারে সাবধান হওয়া দরকার।

কিন্তু কোভিড রোগীদের মধ্যে স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ এত বেশি দেখা যাচ্ছে যে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রতিক্রিয়া কী হবে তার অনুসন্ধান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র : বিবিসি

করোনা আক্রান্ত ক্যান্সার রোগীরাও আইভারমেক্টিনে সুস্থ হচ্ছে
                                  

করোনা আক্রান্ত ক্যান্সার রোগীরাও আইভারমেক্টিনে সুস্থ হচ্ছেন। আইভারমেক্টিন একটি অ্যান্টি প্যারাসাইটিক ওষুধ। মূলত শরীরের প্যারাসাইট বা পরজীবী ধ্বংস করতে ওষুধটির ব্যবহার হয়ে আসছিল।

রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতাল স্কয়ারের অনকোলজি ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা: সৈয়দ মোহাম্মদ আকরাম হোসেন মঙ্গলবার এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, তিনি স্কয়ার হাসপাতালের ক্যান্সার ইউনিটের ২০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ক্যান্সার রোগীকে আইভারমেক্টিন দিয়ে করোনাভাইরাস মুক্ত করেছেন।

তিনি জানান, ‘আমি এ তথ্যটা এ জন্য দিলাম যে, অন্যান্য চিকিৎসকও করোনা মুক্ত করতে যেন রোগীদের আইভারমেক্টিন ব্যবহার করতে পারেন।’

অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেইন জানান, ‘ক্যান্সারের আক্রান্ত করোনা রোগীদের চিকিৎসা কী হবে তা নিয়ে অনেক চিকিৎসকই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না।

অধ্যাপক আকরাম হোসেন বলেন, ‘অ্যান্টি প্যারাসাইটিক এ ওষুধটি ক্যান্সার রোগীদের মধ্যে প্রয়োগ করা যায় এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। এ ছাড়া করোনা শনাক্ত হওয়ার শুরুতেই ব্যবহার করতে পারলে খুব ভালো কাজ করে।’

বাংলাদেশে গত মে মাসে ধানমন্ডির ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের’ অধ্যাপক ডা: তারিকুল আলম ৬০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীর মধ্যে আইভারমেক্টিন প্রয়োগ করেছেন। তার গবেষণা সফল হলে তিনি সংবাদমাধ্যমেও তা প্রকাশ করেন। তার এ গবেষণা বিদেশী প্রচারমাধ্যমেও স্থান পায়।

এ সাফল্যের পর সম্প্রতি মহাখালী কলেরা গবেষণা কেন্দ্র আইসিডিডিআর,বি রাজধানীর চারটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে আইভারমেক্টিন নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। এ গবেষণার অর্থায়ন করছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল। আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, গবেষণাটি শেষ হলে তারা শিগগিরই গবেষণার ফল জানাবেন।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটির বায়োমেডিসিন ডিসকভারি ইনিস্টিটিউটের গবেষকরা ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখেছেন যে, আইভারমেক্টিনের এক ডোজ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরএনএ ভাইরাস করোনাকে বাধা প্রদান করতে পারে। ফলে করোনাভাইরাস চিকিৎসায় আইভারমেক্টিনের আরো অধিকতর গবেষণার সুপারিশ করেছেন। অনলাইনে মোনাশ ইউনিভার্সিটির এই গবেষণার ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন দেশে করোনা রোগীদের ওপর ব্যাপক হারে এই আইভারমেক্টিনের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে।

উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে বিশ্ববাজারে সর্বপ্রথম আইভারমেক্টিন ওষুধটি বাজারজাত করা হয়। তখন থেকে এটি ফাইলেরিয়াসিস রোগে ব্যাবহার করা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিজ্ঞানীরা অন্যান্য প্যারাসাইটিক সংক্রমণেও এটি ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়ে গবেষণা করেন। স্ক্যাবিস ও উকুননাশক হিসেবে এর ব্যবহার হলে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এফডিএ ১৯৯৮ সালে আইভারমেক্টিন অনুমোদন করে।

বাংলাদেশে ডেলটা ফার্মা প্রথমবারের মতো ‘স্ক্যাবো ৬’ নামে আইভারমেক্টিন ৬ মিলিগ্রাম ওষুধটি ট্যাবলেট আকারে উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু করে। স্ক্যাবো-৬-এর প্রতিটি ট্যাবলেটের খুচরা মূল্য পাঁচ টাকা।

চালু হলো বাংলাদেশের রক্ত দানের সোস্যাল নেটওয়ার্ক ভিত্তিক ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন
                                  

সন্তান প্রসব বা দুর্ঘটনায় আহত, করনা রোগীর প্লাজমা থেরাপিতে, ডেঙ্গু, ক্যান্সার, বা অন্য কোন জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য, অস্ত্রোপচার কিংবা থ্যালাসেমিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। বিশ্বে প্রতি বছর ১১ কোটি ৭৪ লাখ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজন অনেক বেশি। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে চাহিদার অনুপাতে রক্ত না পেয়ে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ মারা যান। আর করনা কোভিড-১৯ মহামারীর কারনে স্বেচ্ছায় রক্তদান কার্যক্রম ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের ১১ কোটি ৭৪ লাখ মানুষ রক্ত দিয়ে থাকে। তবে উচ্চ-আয়ের দেশ গুলোতে স্বেচ্ছা রক্তদানের হার প্রতি হাজারে ৩২.২% উচ্চ-মধ্য-আয়ের দেশগুলিতে ১৫.১% নিম্ন-মধ্য আয়ের দেশগুলিতে ৮.১% এবং স্বল্প আয়ের দেশগুলিতে ৪.৪% মানুষ রক্ত দিয়ে থাকেন। যা বিশ্বের জনসংখ্যার ১৬% মানুষ স্বেচ্ছা রক্ত দিয়ে থাকেন। ২০১৯ এর শেষের দিক থেকে করনা কোভিড-১৯ মহামারীর কারনে রক্ত দানের পরিমান দিন দিন কমে চলেছে। ফলে রক্তে অভাব দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২০১৩ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিচালিত জরিপে উঠে এসছে বছরে প্রায় চার লাখ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন। গেলো ২০১৯ সালে তা এসে দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ব্যাগে। ছয় বছরের ব্যবধানে দেশে রক্তের চাহিদা বেড়েছে তিন গুণের বেশি। এর মধ্যে ৩৫-৪০ ভাগ পাওয়া যায় রোগীর নিকটজন থেকে, ১৫-২০ ভাগ স্বেচ্ছাসেবী থেকে ও ১৫-২০ ভাগ পেশাদার রক্ত-বিক্রেতা থেকে। বাকি ২০-২৫ ভাগ বা প্রায় ২.৫ লাখ ব্যাগ রক্তের ঘাটতি থেকে যায়। ঘাটতি ও অনিরাপদ রক্তের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ শতাংশ বা প্রায় পাঁচ লাখ। চাহিদার অনুপাতে রক্ত না পেয়ে বছরে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ মারা যান।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পেশাদার রক্তদাতারা কাছ থেকে ১ কোটি ১৬ লাখ রক্ত সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশাদার রক্তদাতারা বেশির ভাগই মাদকসেবী। মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিয়মিত রক্ত বিক্রি করে থাকে। মাদকসেবীদের রক্ত গ্রহণ করা বিপজ্জনক। এদের রক্তে থাকে হেপাটাইটিস, এইডস, সিফিলিসসহ নানা রোগের জীবাণু। এদের রক্ত নেয়ার পর রোগী প্রাণে বাঁচলেও পরে যে মারাত্মক রোগে ভোগেন । যা রোধের উপায় পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে চাহিদার শতভাগ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং এই মহামারি চলা কালিন সময় রক্তের চাহিদার শতভাগ সরবরাহ নিশ্চির করতে এই অ্যাপ্লিকেশনের যাত্রা শুরু।

 

এইসাইটথেকেঅ্যাপটিডাউনলোডকরাযাবেঃ- https://www.peyeci.com/apps

                        

অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর সহ অন্যান্য প্লাটফর্ম গুলোতে খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে। এই অ্যাপসটি ব্যবহার করে পাওয়া যাবে রক্তদাতার সন্ধান। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি রক্তদাতা (ডোনার) হিসেবেও যুক্ত হতে পারবেন, আবার রক্ত গ্রহীতা হিসেবেও যোগ দিতে পারবেন।

 

সার্চ বোতামে চাপ দেওয়ার পর একটি তালিকা দেখা যাবে কারা কারা ওই গ্রুপের রক্তদাতা আছেন। রক্তগ্রহীতা থেকে রক্ত দিতে ইচ্ছুক কে, কত দূরত্বে আছেন, তা–ও জানা যাবে। এরপর নিবন্ধনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে কাছে থাকা ব্যক্তিকে রিকোয়েস্ট বোতাম চেপে অনুরোধ জানানো যাবে রক্ত দেওয়ার জন্য। অনুরোধ পাওয়ার পর রক্ত দেওয়ার ইচ্ছে থাকলে দাতা ও গ্রহীতা যোগাযোগ করতে পারবেন। শুধু তাই না এই অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব , পরিচিতদের রক্ত গ্রুপ জানা যাবে এবং তাদের রক্ত দেওয়ার জন্য অনুরোধ পাঠানো যাবে । অনুরোধ পাওয়ার পর রক্ত দেওয়ার ইচ্ছে থাকলে দাতা ও গ্রহীতা যোগাযোগ করতে পারবেন।   

 

ওয়াল্ড ইউনির্ভাসিটি অব বাংলাদেশ এর  বিজনেস ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র আবির হোসাইন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এর ইলেকট্রিক্যাল  এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র আসাদুজ্জামান। এবং  ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিভাগের ছাত্র ফাহিম চৌধুরী। বোরহান উদ্দিন জামি ও জোবায়ের আহাম্মেদ , এক্সপ্রিসফট এবং  নাইমা ট্রাস্ট ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে অ্যাপ্লিকেশনটি তৈরি করেন। জোবায়ের আহাম্মেদ জানান ফেসবুক এবং অন্যান সোস্যাল মিডিয়া গুলোতে রক্ত দানের জন্য অনেক গ্রুপের এডমিন সেচ্ছাসেবী এবং সদস্য বিন্দু খুব সুন্দর ভাবে কাজ করছে। তারা অনেক পরিশ্রমী এবং সততার সাথে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু অনেকেই এখনো জানেন না কোথায় কোন কোন গ্রুপ কাজ করতেছে তাছাড়া ফেসবুকে পোস্ট করে রক্ত দাতা খুজে বের করা যায় কিন্তু এইটা অনেক সময় সাপেক্ষ বেপার। তাছাড়া তিনি আরো জানান রক্তের প্রয়োজনের সময় রক্ত গ্রহিতা এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হন।

তাই তারা পরিক্ষা মুলক ভাবে এপ্লিকেশনটি চালু করেন। যদি ভালো সফলতা আসে তাহলে আরো নতুন নতুন ফিচার যুক্ত করে বাংলাদেশের সকল ফেসবুক গ্রুপ যারা রক্তদানের জন্য কাজ করতেছে তাদের নিয়ে যৌথ ভাবে কাজ করতে চান এবং যৌথ ভাবে এ সমস্যার মোকাবেলা করতে চান।

 

সরাসরিএইওয়েবসাইটেগিয়েরক্তদাতাএবংগ্রহিতাহিসাবেযুক্তহওয়াযাবেঃ-https://www.peyeci.com

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় রাখুন জিঙ্ক
                                  

মহামারি করোনাভাইরাসের এই সময়ে সবারই কমবেশি চিন্তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকরাও বারবার বলছেন, ব্যক্তিগত সচেতনতা গড়ে তোলার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে। ভিটামিন সি’র পাশাপাশি জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যতালিকায় জিঙ্কযুক্ত খাবার কম থাকলে, কোষের কার্যকারিতা কমে গিয়ে প্রোটিন তৈরিতে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় অবশ্যই জিঙ্কযুক্ত খাবার রাখা জরুরি।

মাংস

গরু ও মুরগির মাংস দুটোতেই জিঙ্ক রয়েছে। তবে চর্বির পরিমাণ বেশি থাকায় হৃদরোগ, কোলেস্টেরল, প্রেশার, সুগার বা ওবেসিটি আছে যাদের, তারা গরুর মাংসের বদলে মুরগির মাংস খেলে ভালো।

মাশরুম

লো-ক্যালরির সবজি মাশরুমেও জিঙ্ক আছে পর্যাপ্ত। আছে ভিটামিন এ, সি, ই ও প্রচুর আয়রন। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাঝে-মধ্যে মাশরুম খেতে পারেন।

ওটস

ওটস জিঙ্কের ভালো একটি উৎস। অনেকেই সকালের নাশতায় ওটস খান। আধা বাটি ওটসে ১ দশমিক ৩ মিলিগ্রাম জিঙ্ক থাকে। তার সঙ্গে ২৫০ গ্রাম লো-ফ্যাট ইয়োগার্ট থাকলে ২ দশমিক ৩৮ মিলিগ্রাম আর লো-ফ্যাট দুধ থাকলে ১ দশমিক ০২ মিলিগ্রাম জিঙ্কের জোগান হয়ে যায়।

নানা ধরনের ডাল

৫০ গ্রাম মসুরের ডালে ২ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম, ৯০ গ্রাম রাজমায় ২ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম, ৮০ গ্রাম ছোলায় ১ দশমিক ২৫ মিলিগ্রাম জিঙ্ক আছে। মুগ ডাল ও ছোলাও উপকারী। এগুলো নিয়মিত খেতে হবে।

সবজি

এমনিতেই শরীরের জন্য বেশ উপকারী সবুজ শাকসবজি। জিঙ্কের জন্য পালংশাক, ব্রোকলি ও রসুনও খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

বাদাম ও কুমড়োর বীজ

২৮ গ্রাম কাজুবাদাম আর কুমড়োর বীজে যথাক্রমে ১ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম ও ২ দশমিক ২ মিলিগ্রাম জিঙ্ক আছে। আমন্ড ও অন্যান্য বাদাম ও বীজেও প্রচুর জিঙ্ক থাকে।

করোনা ভাইরাস অতিছোঁয়াচে,সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়
                                  

করোনা ভাইরাস অতিছোঁয়াচে। একজন থেকে কাছের অনেক জনকে এবং এভাবে আক্রান্তরাও স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেকজনকে সংক্রমণ করতে পারে। ফলে অসুখটি জ্যামিতিক হারে বেড়ে অনেক লোককে সংক্রমণ করতে পারে। ভাইরাসটির বিরুদ্ধে কোনো কার্যকরী ওষুধ নেই বা কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি। তাই সংক্রমণ রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করাই ভাইরাসটির মহামারী প্রকোপ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়। ভাইরাসটি আক্রান্ত রোগীর হাঁচি, সর্দি, কাশি ও হাতের ছোঁয়ার মাধ্যমে ছড়ায়।

হাঁচি, সর্দি-কাশি থেকে যে জলীয় কণা তৈরি হয়, তা কোনো সুস্থ ব্যক্তির (যদি আধামিটার দূরত্বের মধ্যে থাকে) নাক-মুখ-চোখের ঝিল্লিতে ঢোকালে সে আক্রান্ত হয়। এই জলীয় কণাগুলো বাতাসে তিন ঘণ্টার মতো ভেসে থাকতে পারে এবং নিঃশ্বাসের সঙ্গে নাকে ঢুকে সংক্রমণ করতে পারে। এ ছাড়া ওই কণাগুলো বাতাসের ধূলিকণায় আশ্রয় নিয়ে ভারী কণায় পরিণত হয় এবং একসময় তা মানুষের নিত্য ব্যবহার্য জায়গা বা জিনিসপত্রে স্থিত হয়। ওসব জায়গা সুস্থ ব্যক্তি স্পর্শ করলে তা হাতে চলে আসে।

এ ছাড়া যত্রতত্র হাঁচি-কাশি ফেললে (যেমন দরজা, জানালা, বারান্দা, লিফট ইত্যাদি) ভাইরাসটি সেখানে স্থিত হয়। কোনো সুস্থ ব্যক্তি ওখানে হাত দিলে ভাইরাসটি হাতে লেগে যায় এবং পরবর্তীকালে অপরিষ্কার হাত ওই সুস্থ ব্যক্তির নাকে, মুখে লাগলে সে আক্রান্ত হতে পারে অথবা আক্রান্ত রোগীর হাতের স্পর্শ সুস্থ ব্যক্তির নাকে-মুখে লাগলেও সে আক্রান্ত হতে পারে। আর আক্রান্ত ব্যক্তির নাক-মুখ-হাতের ছোঁয়া লাগলে ভাইরাসটি হাতে চলে আসে ও সে কোনো সুস্থ ব্যক্তির সঙ্গে করমর্দন বা কোলাকুলি করলে ভাইরাসটি তার হাতে চলে যায়।

সংক্রমণ রোধে করণীয় : হাঁচি-কাশির মাধ্যমে অথবা হাতের স্পর্শে যাতে ভাইরাসটি না ছড়ায়, সে জন্য হাঁচি-কাশি যেখানে সেখানে যখন তখন না করে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যু নিদিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে এবং সম্ভব হলে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। হাঁচি-কাশির রোগী এড়িয়ে চলা, বিশ সেকেন্ড সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, হাত দিয়ে নাক মুখ না ঘষা, কোলাকুলি বা করমর্দন না করা ও মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। তবে এ সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন : বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা ভাইরাসটির line of transmission and spread বিবেচনা করে এটির সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন গাইডলাইন তৈরি করেছেন। সংক্রমণ রোধে আগের উপদেশমালা মেনে চলার সঙ্গে কোয়ারেন্টিনে থাকা ও সামাজিক দূরত্ব কমপক্ষে ৩ মিটার বজায় রেখে চলার উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কমপক্ষে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকলে নড়ফু ফবভবহংব সবপযধহরংস-এ ভাইরাসটি পরাস্ত হয়ে নিস্ক্রিয় হয়ে যায়। ফলে সে করোনামুক্ত হয়ে যায় এবং ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তাছাড়া কোয়ারেন্টিনের সময়ে আলাদা থাকায় ভাইরাসটি আর ছড়াতে পারে না। আর সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখলে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কাও কমে যায়।

এ নিয়মগুলো মানা কষ্টসাধ্য কাজ নয়। প্রয়োজন প্রতিব্যক্তির সচেতনতা। সমাজের সবার মধ্যে তা জাগ্রত করাও একান্ত প্রয়োজন। এভাবে প্রতিজন এবং সমাজের সব ব্যক্তির সক্রিয় অংশগ্রহণে নিয়মগুলো পালনের মাধ্যমে ভাইরাসটির বিস্তার রোধ করা সম্ভব।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

লিভার বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা

কালোজিরা ব্যবহারে সারবে করোনা দাবি মদিনার গবেষকদের
                                  

বিশ্বের প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। সেই সাথে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এই বৈশ্বিক মহামারি প্রতিরোধে করোনার টিকার বের করার জন্য হন্যে হয়ে কাজ করছেন সারা বিশ্বের গবেষকরা। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের মদিনার তাইবাহ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা দাবি করেছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সফলভাবে চিকিৎসা করেছেন তারা। এজন্য কালোজিরা ব্যবহার করা হয়েছে; যা হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর দেখানো চিকিৎসা পদ্ধতি।

ওই গবেষকদলের গবেষণাপত্র ছাপা হয়েছে মার্কিন জার্নাল ‘পাবলিক হেলথ রিসার্চ’-এ। যা চাইলে যে কেউই দেখতে পারবেন।

ওই গবেষকদলের চিকিৎসা পদ্ধতিতে বলা হয়, দুই গ্রাম কালোজিরা, এক গ্রাম চামেলি ফুল এবং এক চা চামচ মধু এক সঙ্গে মিশিয়ে করোনা থেকে সরে উঠা পর্যন্ত খেতে হবে। এই মিশ্রনটি খাওয়ার পর যে কোনো ফলের জুস কিংবা লেবু অথবা কমলা খাওয়ার জন্য রোগীদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

কালোজিরা হলো রাসূল (সা.) এর দেখানো চিকিৎসা উপকরণ। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কালোজিরা হলো সর্বরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার ওষুধ। তবে বিষ ছাড়া। আয়েশা (রা.) জিজ্ঞেস করেছেন, বিষ কী? রাসূল (সা.) বলেছেন, মৃত্যু। (সহীহ বুখারি-৫৩৬৩)

এই গবেষণা দলের প্রধান ডা. সালাহ মোহাম্মেদ এল সায়েদ বলেন, আল্লাহর অনুগ্রহে যারা এই চিকিৎসা নিয়েছেন তারাই সেরে উঠেছেন এবং তারা এটি নিজেদের বাড়িতেই তৈরি করেছেন। এই চিকিৎসা নেয়ার পর রোগীদের সেরে উঠতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লাগেনি।

গবেষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে, কালোজিরা ব্যবহারের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়। টিস্যু সুরক্ষিত থাকে, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয় না । এছাড়া মধুও ভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে। পাশপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। পাশাপাশি চামেলি ফুলের নির্যাস শরীরের তাপমাত্রা কমাতে জাদুকরি কাজ করে।

ওয়ার্ল্ডওমিটারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৭৮ লাখ ৫৫ হাজার ছয়শ ২৮ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ছয়শ ৭২৬ জন। মুসলিম ইঙ্ক।

করোনায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা খাবেন
                                  

নভেল করোনাভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক বের হয়নি। খুব দ্রুত সময়ে যে বের হবে তাও নিশ্চিত না। এ অবস্থায় করোনার বিরুদ্ধে লড়তে একমাত্র অবলম্বন হলো শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো।

চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ দিনের কোনো অসুস্থতা, অনিদ্রা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত মদ্যপান ও ধূমপান সব কিছুই রোগ প্রতিরোধ কমিয়ে দেয়। এ সময়ে সঠিক পুষ্টি না পেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর তা বিশেষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য শরীরচর্চার পাশাপাশি এমন কিছু খাবার নিয়মিত খেতে হবে যা শরীরকে মজবুত করার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধও করবে।

শরীরের রোগ প্রতিরোধ করা সাতটি খাবার : 

আম : গ্রীষ্মের অন্যতম রসাল এই ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা শরীরের ভিটামিনের অভাব পূরণের পাশাপাশি কর্মশক্তি যোগায়। এ ছাড়া রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি, যা শরীরে শক্তি তৈরি করে।

আমের আয়রন, আঁশ, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও খনিজ উপাদান শরীর সুস্থ সবল রাখতে সাহায্য করে। ক্যারোটিন চোখ সুস্থ রাখে, সর্দি-কাশি দূর করে। কাঁচা আমে ৯০ মাইক্রোগ্রাম এবং পাকা আমে ৮৩০০ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন থাকে। আম থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে এবং দাঁত, মাড়ি, ত্বক ও হাড়ের সুস্থতা রক্ষা করতেও সাহায্য করে।

লেবু : প্রাত্যহিক জীবনে আমরা সবাই কম বেশি লেবু খেয়ে থাকি। সাধারণত খাবারের স্বাদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করা হয়। লেবু আকারে ছোট ফল হলেও এর উপকারিতা প্রচুর আর পুষ্টিগুণেও ভরপুর। লেবুর উচ্চ ভিটামিন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যেকোনো ভাইরাসজনিত ইনফেকশন যেমন, ঠাণ্ডা, সর্দি, জ্বর কমাতে লেবু খুব কার্যকারী।

যারা খাবারে যথেষ্ট পটাশিয়াম গ্রহণ করেন না, তারা সহজেই বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে পড়েন। লেবুর রসে যথেষ্ট পরিমান পটাশিয়াম রয়েছে, যা হাইপারটেনশন কমাতে সহায়তা করে। যাদের হালকা শ্বাসকষ্ট আছে, তারা নিয়ম করে খাবারের আগে এক চামচ লেবুর রস খেতে পারেন। যারা মাইল্ড অ্যাজমায় ভুগছেন, লেবুর রস তাদের জন্য ওষুধের বিকল্প হিসেবেই কাজ করবে।

কমলা ও মাল্টা : কমলালেবুতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি৷ প্রতি ১০০ গ্রাম কমলালেবুর মধ্যে ৫০ মিলিগ্রামই ভিটামিন সি থাকে৷ স্বাস্থ্য সচেতনদের জন্য এই ফল শুধু খেতেই মজা নয়, এতে রয়েছে খুবই কম ক্যালোরি৷ এক গ্লাস কমলার রস প্রতিদিন সকালে পান করলে দিনের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি-এর অভাব পূরণ হয়ে যাবে৷

তরমুজ : গ্রীষ্মকালে যেসব ফল আমাদের স্বাস্থ্য রক্ষায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে তার মধ্যে তরমুজ উল্লেখযোগ্য। তরমুজের রসাল মিষ্টি স্বাদের জন্য সবার কাছে এটি অত্যন্ত প্রিয় একটি ফল। গরমের সময় তরমুজ দেহমনে প্রশান্তি আনে। শুধু তাই নয়, পুষ্টি গুণে ভরা তরমুজ দেহের পুষ্টি চাহিদাও দ্রুত পূরণ করে।

তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। যা আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে। এ ছাড়া তরমুজে যে পটাশিয়াম থাকে, তা মানব দেহে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজ হৃদরোগ, হাঁপানী, মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ (স্ট্রোক) রোগ প্রতিরোধেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শশা : পোকামাকড়ের হাত থেকে যে পলিকেমিক্যাল শশাকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে, সেই পলিকেমিক্যালগুলোই মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার সাথে লড়তে সাহায্য করে। এ ছাড়া শশায় ভিটামিন সি, বিটা-ক্যারোটিন, ম্যাঙ্গানিজ, ফ্ল্যাভেনয়েডস, ট্রিটারপেনেস, লিগনান নামের পলিফেনল অক্সিডেটিভ রয়েছে, যা স্ট্রেস কমাতে, শরীরের ব্যাড কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

টক দই : এতে আছে প্রচুর পরিমান ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি, যা হাড় ও দাঁতের গঠনে সহায়ক। টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী। এটা শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। 

এতে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা কোষ্টকাঠিন্য দূর করে ও ডায়রিয়া প্রতিরোধ করে। যারা দুধ খেতে পারেন না বা দুধ যাদের হজম হয় না, তারা অনায়াসেই টক দই খেতে পারেন। কারণ টক দইয়ের আমিষ দুধের চেয়ে সহজপাচ্য। ফলে কম সময়ে এটি হজম হয়।

পুদিনা : পৃথিবীতে এমন অনেক উদ্ভিদ আছে যেগুলোতে প্রচুর ঔষধি গুণ রয়েছে। পুদিনা পাতা তার মধ্যে অন্যতম। সাধারণ আগাছা ধরনের এই গাছটির কাণ্ড ও পাতা উপকারি। পুদিনায় রোজমেরিক অ্যাসিড নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এটি প্রাকপ্রদাহী পদার্থ তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে অ্যাজমা হয় না।

 

আগস্টে ইনহেলারে আসছে করোনার ভ্যাকসিন: অক্সফোর্ডের গবেষক
                                  

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারে বিশ্বজুড়ে পুরোদমে কাজ চলছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের তৈরি করোনার ভ্যাকসিন ইনহেলারের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবে মানুষ।

আগস্টের শুরুর দিকে এটি ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা নিয়ে ৮০ শতাংশ আত্মবিশ্বাসী তারা।

এক অনলাইন বক্তব্যে এ কথা বলেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পারসোনালাইজড মেডিসিনের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান হিল।

তিনি ইনহেলার ভ্যাকসিন প্রকল্পের নেতৃত্বে আছেন। দ্য আইরিশ পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

অধ্যাপক হিল বলেন, ‘আমরা ধারণা করছি আগস্টের প্রায় কাছাকাছি সময়ে এই ভ্যাকসিন আসতে পারে।’

এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে আক্রান্তের হার দ্রুত কমে গেলে গবেষণার গতিও কমে যাবে। কারণ যদি খুব কমসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবী ভাইরাসে আক্রান্ত হন, তবে ভ্যাকসিন পরীক্ষা করে দ্রুত নিখুঁত পর্যালোচনা করা যাবে না। ভ্যাকসিনটি কার্যকর কি না, তা বলা যাবে না।’

এদিকে যুক্তরাজ্যের ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানিয়েছে, ভ্যাকসিন কার্যকর হলেই তারা ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন তৈরি করবে।

কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী পাস্কাল সারিওট বলেন, তাদের তৈরি ‘এজেডডি১২২’ ভ্যাকসিনটি কার্যকর কি না, তা আগস্টের মধ্যেই জানা যাবে।

মাইক্রোসফটের চেয়ারম্যান ও বিলিয়নেয়ার বিল গেটস এই ভ্যাকসিন তৈরির প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ তহবিল দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যে ১০ কোটি ডোজ সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এছাড়া ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

যত্রতত্র সুরক্ষা সামগ্রী ফেলায় বাড়তে পারে ঝুঁকি
                                  

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে তিন মাস হয়েছে। এই পুরো সময়ে মানুষজনকে নানা ধরনের অভ্যাস করতে হয়েছে।

তার একটি হল সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার। রাস্তায় বের হলেই দেখা যায় চারিদিকে প্রায় সবাই সার্জিক্যাল মাস্ক, পলিথিনের হ্যান্ড গ্লাভস, সার্জিক্যাল হ্যান্ড গ্লাভস, ফেস-শিল্ড, সার্জিক্যাল ক্যাপ, পিপিই এগুলো পরে আছেন।

সবাই এর সবগুলো না পরলেও অন্তত মাস্ক ও গ্লাভস পরতে দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি ছাড়া এসব সামগ্রীর বেশিরভাগই একবার ব্যবহারযোগ্য।

এসব সামগ্রী ব্যাবহারের পর কিভাবে ফেলা উচিৎ তার নিয়ম আছে যা মেনে চলার উপরেও করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা নির্ভর করে।

যত্রতত্র সুরক্ষা সামগ্রী ফেলার ঝুঁকি
বাংলাদেশ হেলথ সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের এপিডমলজির শিক্ষক মোসাম্মাত নাদিরা পারভীন।

তিনি বলছেন, "অনেক মাস্ক ও গ্লাভস রাস্তায় পরে থাকতে দেখছি। হয়ত অনেকে ভাবছেন বাড়িতে ঢোকার আগে এগুলো ফেলে দিয়ে যাই। পরিবারের লোকদের কথা ভাবেন। চারপাশে সাধারণ মানুষ যখন এসব সুরক্ষা সামগ্রী প্রতিদিন ব্যবহারের পর ফেলে দিচ্ছেন তারা সেগুলো জীবাণুমুক্ত করেন না। সাধারণ বর্জ্যের মতোই ফেলে দেন। কিন্তু এটা খুবই ভুল হচ্ছে।"

তিনি বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাতাসে ছড়াতে পারে তাই ব্যবহৃত সুরক্ষা সামগ্রী সঠিকভাবে ফেলা দরকার।

কাপড়, প্লাস্টিক ইত্যাদি নানা ধরনের সামগ্রীর উপর করোনাভাইরাস বিভিন্ন মেয়াদে বেঁচে থাকতে পারে।

বিশেষ করে প্লাস্টিকে এর স্থায়িত্বকাল ২৪ ঘণ্টা বা তারও বেশি। যদিও এই মেয়াদ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এএসএম আলমগীর বলছেন, "গ্লাভস হাতে দিয়ে অনেকে ভাবে আমিতো গ্লাভস পরে আছি। কিন্তু সে হাত দিয়ে যেভাবে সবধরনের জিনিস ধরেন, মুখ স্পর্শ করেন তেমনি গ্লাভস পরা অবস্থাতেও সেটি করছেন। তারপর রাস্তাঘাটে মাস্ক বা গ্লাভস ফেলে দিচ্ছেন। অনেক ব্যক্তির করোনা সংক্রমণ থাকলেও কোন লক্ষণ থাকে না। সুরক্ষা বর্জ্য সঠিকভাবে না ফেলা মানে আমরা নিজেরাই একে অপরের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছি।"

মোসাম্মাত নাদিরা পারভীন আরো উল্লেখ করলেন, পরিবেশের ক্ষতির কথা। সম্প্রতি এনভায়রনমেন্ট এন্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামের একটি সংস্থা এক গবেষণার পর বলছে, ঢাকা শহরে ব্যাপকভাবে প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

তাদের গবেষণায় দেখা গেছে ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ হাজার ৫০০ টন। যার বেশিরভাগই করোনাভাইরাস সুরক্ষা সামগ্রী।

যেভাবে এসব সুরক্ষা সামগ্রী ফেলতে হবে
এএসএম আলমগীর বলছেন, সাধারণ মানুষ যেভাবে গ্লাভস, মাস্ক বাড়ির অন্যান্য আবর্জনার সাথে ফেলছেন বা রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন সেটা খুবই অবৈজ্ঞানিক।

তিনি বলছেন তারা নিজেরা যখন ল্যাবে কাজ করেন কিছুক্ষণ পরপর অ্যালকোহল দিয়ে গ্লাভস পরিষ্কার করেন যাতে কোন ধরনের জীবাণু না থাকে।

তিনি বলছেন, "যেহেতু বোঝার উপায় নেই কোন বাড়িতে কারো করোনাভাইরাস আছে কিনা তাই এসব সামগ্রী জীবাণুমুক্ত করে তারপর ব্যাগে ভরে ব্যাগের মুখ বন্ধ করে তারপর ফেলা উচিৎ।"

বাংলাদেশে প্রচুর মানুষ বর্জ্য থেকে পুনঃব্যবহার জন্য নানা সামগ্রী সংগ্রহ করেন। বর্জ্যের স্তূপ থেকে ব্যবহৃত পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভস সংগ্রহ করছেন তারা, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এমন ছবি ছাপা হয়েছে।

বিশেষ করে পিপিই`র প্রতি তাদের বেশি আগ্রহ। মোসাম্মাত নাদিরা পারভীন ফেলে দেয়া সুরক্ষা সামগ্রী পরিষ্কার করে আবার বাজারে বিক্রি করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে গ্লাভস পরিষ্কার করা সহজ।

তিনি পরামর্শ দিচ্ছেন, "গ্লাভস জীবাণুমুক্ত করার পর তা উল্টো করে খোলা উচিৎ। এরপর গ্লাভসগুলোকে যদি একটু কাঁচি দিয়ে কেটে দেয়া যায়, মাস্ক একটু আগুনে পুড়িয়ে ফেলা যায় তাহলে তা রিসাইকেল করে বিক্রি করা সম্ভব হবে না। কেউ যদি পিপিই বা সার্জিক্যাল ক্যাপ ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রেও একই কাজ করা উচিৎ।"

এএসএম আলমগীর ব্যবহৃত সুরক্ষাসামগ্রী আলাদা ব্যাগে ভরার কথা বলছেন। এতে করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তা আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারবে।

তিনি বলছেন, "বাড়িঘরে উৎপাদিত বর্জ্য ফেলতে প্রতিদিন নতুন ময়লার ব্যাগ ব্যবহার করা উচিৎ। বালতিতে রেখে সেটি ময়লার ভ্যানে তুলে না দিয়ে ব্যাগে ভরে, ব্যাগের মুখ গিট দিয়ে তবেই পাড়ার বর্জ্য সংগ্রহকারীকে দেয়া উচিৎ।"

বর্জ্য বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা আসছে
করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর হাসপাতাল বর্জ্য কিভাবে ব্যবস্থাপনা হবে সেনিয়ে নির্দেশনা দেয়া হলেও আবাসিক ভবনে তৈরি বর্জ্য কিভাবে ফেলা হবে সেনিয়ে কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

তবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ বদরুল আমিন বলছেন, নতুন যে জোনভিত্তিক লকডাউন ব্যবস্থা শুরু হবে তখন বর্জ্য বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা থাকবে।

তিনি বলছেন, "বাসাবাড়ি থেকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত হচ্ছে এই সংক্রান্ত সকল সামগ্রী আলাদা করে প্যাকেট করে দেবেন। করোনা থাকুক বা না থাকুক। ব্যক্তি পর্যায়ে এইটুকু তাদের করতে হবে। প্রতিটা ওয়ার্ডে আলাদা কন্টেইনার ডেজিগনেট করে দেয়া হবে। যারা বাড়ি থেকে ওয়েস্ট কালেক্ট (বর্জ্য সংগ্রহ) করছেন তারা প্যাকেটগুলো সেখানে রাখবেন। সেগুলো নিয়ে আমাদের ল্যান্ডফিলে পুড়িয়ে ফেলা হবে।"

তিনি বলছেন, তারা এই বিষয়ে লিফলেট বিলি ও মাইকিং করবেন। লকডাউন এলাকাতে এর থেকে বাড়তি কিছু করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলছেন, "তবে যারা আবর্জনা সংগ্রহ করবেন তারা সুরক্ষার জন্য স্বাস্থ্যবিধি যতটুকু সম্ভব মেনে, সুরক্ষা সামগ্রী পরে সকল ব্যবস্থা নিয়েই আবর্জনা সংগ্রহ ও বাকি কাজগুলো করবেন।"
সূত্র : বিবিসি


   Page 1 of 92
     স্বাস্থ্য-তথ্য
আজই ত্যাগ করুন দাড়িয়ে খাবার অভ্যাস
.............................................................................................
জেনে নেই রক্তে অক্সিজেন মাত্রা কমলে বুঝার উপায়!
.............................................................................................
খাওয়ার পর যে বদ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করবেন
.............................................................................................
লিভারে যে কারণে চর্বি জমে এবং যা করণীয়
.............................................................................................
ধরাছোঁয়ার বাইরে ডা. সাবরিনা
.............................................................................................
বাংলাদেশে করোনা রোগী পৌনে ২ লাখ ছাড়াল
.............................................................................................
অর্ধেক বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স মেয়াদোত্তীর্ণ
.............................................................................................
মস্তিষ্কে মারাত্মক প্রভাব ফেলে করোনাভাইরাস
.............................................................................................
করোনা আক্রান্ত ক্যান্সার রোগীরাও আইভারমেক্টিনে সুস্থ হচ্ছে
.............................................................................................
চালু হলো বাংলাদেশের রক্ত দানের সোস্যাল নেটওয়ার্ক ভিত্তিক ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন
.............................................................................................
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খাদ্যতালিকায় রাখুন জিঙ্ক
.............................................................................................
করোনা ভাইরাস অতিছোঁয়াচে,সংক্রমণ থেকে বাঁচার উপায়
.............................................................................................
কালোজিরা ব্যবহারে সারবে করোনা দাবি মদিনার গবেষকদের
.............................................................................................
করোনায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে যা খাবেন
.............................................................................................
আগস্টে ইনহেলারে আসছে করোনার ভ্যাকসিন: অক্সফোর্ডের গবেষক
.............................................................................................
যত্রতত্র সুরক্ষা সামগ্রী ফেলায় বাড়তে পারে ঝুঁকি
.............................................................................................
রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু করেছে বেক্সিমকো ফার্মা
.............................................................................................
চার মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৯১
.............................................................................................
করোনায় দেশব্যাপী দুই শতাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত
.............................................................................................
মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ করোনায় আক্রান্ত ৪৪
.............................................................................................
আমরা মহা সংকটে আছি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
.............................................................................................
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফিজিওথেরাপি কল সেন্টার চালু
.............................................................................................
বিভিন্ন নার্সিং কোর্সে অধ্যয়নরত নার্সদের ছুটি বাতিল
.............................................................................................
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নার্সদের পূর্ণ পিপিই না দেয়ার অভিযোগ
.............................................................................................
করোনাভাইরাস: কোরিয়ান মডেলে বাংলাদেশে টেস্টিং বুথ
.............................................................................................
করোনা ভাইরাসে ১০টি বিষয় খেয়াল রাখুন
.............................................................................................
কোয়ারেন্টাইন কি? কীভাবে থাকবেন, কতদিন থাকবেন?
.............................................................................................
করোনা: কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সরকারের সতর্কতা জারি
.............................................................................................
টমেটোতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
.............................................................................................
কিডনি সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
মানুষের দেহে করোনার জীবাণুর স্থায়িত্ব ৩৭ দিন
.............................................................................................
টিকা নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা
.............................................................................................
স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি: আইইডিসিআর
.............................................................................................
টক দই শরীরকে সুস্থ ও তরতাজা রাখে
.............................................................................................
সজনে গাছ ৩০০ ধরনের রোগ থেকে বাঁচাবে
.............................................................................................
বুঝেশুনে পানি পান করুন
.............................................................................................
যে ৭ কারণে রোজ কমলা খাবেন
.............................................................................................
বিছানার পাশে লেবুর টুকরো!
.............................................................................................
খালিপেটে যেসব খাবার থেকে বিরত থাকবেন
.............................................................................................
দগ্ধ হলে করণীয়
.............................................................................................
শীতকালে সুস্থ থাকার ৯টি সহজ উপায়
.............................................................................................
ফুসফুসের সুস্থতা জরুরি রোগমুক্ত থাকতে
.............................................................................................
রক্তদূষণ রোগ ক্যানসারের চেয়ে ভয়াবহ
.............................................................................................
শরীর ব্যথা হয় ধূমপানের কারণেও!
.............................................................................................
শীতে চুলের রুক্ষতা দূর করবেন যেভাবে
.............................................................................................
শীতে শরীর গরম থাকবে যেসব খাবার খেলে
.............................................................................................
বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকায় যা রাখতে হবে
.............................................................................................
বয়স্করা মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় যা করবেন
.............................................................................................
মেরুদণ্ড ভালো রাখতে করনীয়
.............................................................................................
শীতে বাদ দেওয়া উচিৎ যেসব খাবার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD