১২ শাওয়াল ১৪৪১ , ঢাকা, শুক্রবার, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ৫ জুন , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   স্বাস্থ্য-তথ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু করেছে বেক্সিমকো ফার্মা

বেক্সিমকো ফার্মা রেমডেসিভির বাজারজাত করা শুরু করেছে। বেমসিভির নামে বাজারজাতকৃত বেক্সিমকোর রেমডেসিভির করোনাভাইরাসের রেপ্লিকেশন বা বংশ-বৃদ্ধি রোধে প্রথম কার্যকরী ওষুধ দাবি করা হচ্ছে। এই ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এফডিএ সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে।

বেক্সিমকো বাজারজাতকরণের প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো: আলী নূর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ এবং সিএমএসডি’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: শহিদুল্লাহ।

ওষুধের প্রথম ব্যাচ হস্তান্তরের সময় বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান এমপি বলেন, সরকারী হাসপাতালের গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে বিনামূল্যে রেমসিভির দেয়া হবে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বৃহস্পতিবার জরুরী ব্যবহারের জন্য বেমসিভির ব্র্যান্ড নামে বেক্সিমকোর রেমডিসিভিরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রেমডেসিভির ব্যবহারে কোভিড-১৯ আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠার প্রমান মিলেছে। জাপান সরকারও কোভিড-১৯ এ গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে রেমডেসিভির ব্যবহারের সাময়িক অনুমতি প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য লেনসেটের তথ্য অনুসারে, রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হলে রোগীদের হাসপাতাল অবস্থান গড়ে ৫ দিন কমে যায়।

রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু করেছে বেক্সিমকো ফার্মা
                                  

বেক্সিমকো ফার্মা রেমডেসিভির বাজারজাত করা শুরু করেছে। বেমসিভির নামে বাজারজাতকৃত বেক্সিমকোর রেমডেসিভির করোনাভাইরাসের রেপ্লিকেশন বা বংশ-বৃদ্ধি রোধে প্রথম কার্যকরী ওষুধ দাবি করা হচ্ছে। এই ওষুধ যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান এফডিএ সাময়িক অনুমোদন দিয়েছে।

বেক্সিমকো বাজারজাতকরণের প্রথম দিনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো: আলী নূর, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ এবং সিএমএসডি’র পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: শহিদুল্লাহ।

ওষুধের প্রথম ব্যাচ হস্তান্তরের সময় বেক্সিমকো ফার্মার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমুল হাসান এমপি বলেন, সরকারী হাসপাতালের গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বেক্সিমকোর পক্ষ থেকে বিনামূল্যে রেমসিভির দেয়া হবে।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর বৃহস্পতিবার জরুরী ব্যবহারের জন্য বেমসিভির ব্র্যান্ড নামে বেক্সিমকোর রেমডিসিভিরের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

সাম্প্রতিক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রেমডেসিভির ব্যবহারে কোভিড-১৯ আক্রান্ত গুরুতর রোগীদের সুস্থ হয়ে উঠার প্রমান মিলেছে। জাপান সরকারও কোভিড-১৯ এ গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসা হিসেবে রেমডেসিভির ব্যবহারের সাময়িক অনুমতি প্রদান করেছে।

উল্লেখ্য লেনসেটের তথ্য অনুসারে, রেমডেসিভির প্রয়োগ করা হলে রোগীদের হাসপাতাল অবস্থান গড়ে ৫ দিন কমে যায়।

চার মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৯১
                                  

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের শনিবার (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে ২৯১ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯০ জন।

শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত আপডেটে জানানো হয়, সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কোনো ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হননি। বর্তমানে রাজধানীর হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গত বছর দেশে ডেঙ্গু জ্বরের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এ সময় মোট এক লাখ এক হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। তাদের মধ্যে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেন এক লাখ এক হাজার ৩৭ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে ১৭৯ জন ডেঙ্গুতে মারা যান।

করোনায় দেশব্যাপী দুই শতাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত
                                  

করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। আগের চেয়ে বেড়েছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। করোনা আক্রান্তদের মধ্যে রোগ লুকিয়ে রাখার প্রবণতা থাকায় চিকিৎসা দিতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী। সরকারিভাবে চিকিৎসক আক্রান্তের কোনো তথ্য দেয়া না হলেও চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দেশব্যাপী পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। তবে বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) বলছে, তাদের কাছে দুই শতাধিক চিকিৎসক আক্রান্তের তথ্য আছে। ইতোমধ্যে অনেক চিকিৎসক-নার্স আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে আছেন। আবার প্রথমে না জানলেও পরে জেনে সেল্ফ কোয়ারেন্টিনে আছেন অনেক চিকিৎসক। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে একসময় করোনাভাইরাস তো বটেই এমনকি অন্যান্য সাধারণ রোগের চিকিৎসা দেয়ার জন্য চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাবে না। গত ১৫ এপ্রিল করোনা রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা: মো: মঈন উদ্দিন মৃত্যুবরণ করেছেন এসব কারণে।

শুধু যে রোগীদের পক্ষ থেকে তথ্য গোপনের শিকার হচ্ছেন চিকিৎসকরা তা নয়; কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের কারণে রোগীরাও জানতে পারছেন না তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

সরকারিভাবে সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া না গেলেও বেসরকারি সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ) গতকাল মঙ্গলবার বলেছে, গতকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের দুই শতাধিক চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বিডিএফের ডা: নিরুপম দাস বলেছেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন মূলত মানহীন পিপিই’র কারণে। এ ছাড়া রোগীদের ভাইরাসের লক্ষণ গোপন করা থেকেও চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসক ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে দেড় শতাধিক নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ভাইরাসে।
গতকাল মঙ্গলবার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, এ হাসপাতালের কমপক্ষে ২৫ জন করোনাভাইরাসে পজিটিভ। গতকাল সকাল পর্যন্ত বলা হয়েছে, সলিমুল্লাহর ৪০ জন চিকিৎসক আক্রান্ত; কিন্তু পরে বিকেলে পিসিআর পরীক্ষায় এদের অনেকেই নেগেটিভ হয়েছেন। পরে সংখ্যাটি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী মিলে ২৫ জনের কথা বলা হচ্ছে।

গতকাল দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক আয়েশা আক্তার জানিয়েছেন, কতজন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন সঠিক তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে আমরা তা সংগ্রহের চেষ্টা করছি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন দ্রুত ছড়িয়ে পড়া, রোগীর তথ্য গোপন, অপরিকল্পিত বহির্বিভাগ, নিম্নমানের পিপিই এবং সার্বিক অব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকদের মধ্যে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা: মোজাহেরুল হক বলেন, আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এতে স্বাস্থ্য খাত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে চিকিৎসকদের প্রতি মনোযোগ দেয়া উচিত সরকারের । তাদের সুরক্ষার উত্তম ব্যবস্থা করতে না পারলে পুরো চিকিৎসাব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে।

একজন চিকিৎসক অথবা স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত হলে তাদের ১৪ দিন বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতেই হবে। অধিকতর নিশ্চিত হওয়ার জন্য আরো ১৪ দিন থাকতে হয় সাবধানে। এভাবে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হলে অথবা কোয়ারেন্টিনে চলে গেলে একসময় করোনা ছাড়া অন্যান্য চিকিৎসাসেবা দেয়ার মতো কোনো চিকিৎসক অথবা স্বাস্থ্যকর্মী পাওয়া যাবে না। অধ্যাপক মোজাহেরুল হক এ ব্যাপারে সরকারের আশু দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জানা গেছে, এর আগে চিকিৎসাধীন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হওয়ায় বন্ধ হয় রাজধানীর ডেল্টা ও আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালের কার্যক্রম। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হলে বন্ধ হয় ইনসাফ বারাকাহ কিডনি হাসপাতালের কার্যক্রম। ইমপালস হাসপাতালের গাইনি বিভাগের চার চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় ওই বিভাগের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তথ্য গোপন করে করোনা আক্রান্ত এক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন ইব্রাহিক কার্ডিয়াক হাসপাতালে। প্রথমে স্বীকার না করলেও পরে চিকিৎসকদের কাছে সত্য কথা জানায় রোগীর স্বজনরা। এরপরই বন্ধ করে দেয়া হয় হাসপাতালের সিসিইউ, কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয় ২০ জন চিকিৎসককে।

না জেনে চিকিৎসা নিতে এসে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাঁচ বিভাগের বেশ কয়েকটি ইউনিটের সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনে থাকা প্রায় অর্ধশতাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর করোনা পরীক্ষা করা হয়। সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৯ জন চিকিৎসক, বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চারজন ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ ছয়জন, কুর্মিটোলা, কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র অধ্যাপক এবং গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের একজন সহযোগী অধ্যাপক আক্রান্ত হয়েছেন রোগীরা তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নিতে আসায়।

মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ করোনায় আক্রান্ত ৪৪
                                  

পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ ৪৪ জন করোনাভসইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সোমবার হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী রাশেদুন্নবী এ তথ্য জানিয়েছে।

তিনি বলেন, সোমবার পর্যন্ত ১১ করোনা রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে ২৪ চিকিৎসক, ১০ নার্স ও ১০ স্টাফ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের আইসোলেশনে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে মিটফোর্ডে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২১। তাদের মধ্যে ১৪ চিকিৎসক, ২ নার্স ও ৫ স্টাফ ছিলেন। সূত্র : ইউএনবি

আমরা মহা সংকটে আছি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
                                  

দেশে করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাব হ্রাসের কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১০১ জনে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বলেন, ‘আমরা মহা সংকটের মধ্যে আছি।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন মারা গেছেন এবং এখন মোট মৃত্যু ১০১ হয়েছে। সেই সাথে, এক দিনের ব্যবধানে এখন পর্যন্ত রেকর্ড ৪৯২ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল দুই হাজার ৯৮৪ জনে।

অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা মহা সংকটের মধ্যে আছি। স্বাভাবিকের তুলনায় আজ করোনায় শনাক্তের সংখ্যা অনেক বেশি। আমরা গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ২ হাজার ৭৭৯টি নমুনা পরীক্ষা করেছি। যার মধ্যে ৪৯২ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমিত হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২ হাজার ৯৪৮ জনের মধ্যে করোনা সংক্রমণের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

তিনি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ১০ জনের মধ্যে আটজন পুরুষ এবং দুজন নারী। মৃত ১০ জনের মধ্যে দুজন ঢাকার এবং তিনজনের বয়স ৬০ এর ওপরে।

‘গাজীপুর ও কিশোরগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ হলো গাজীপুরের, কিশোরগঞ্জে ১৩ শতাংশ,’ যোগ করেন তিনি।

গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন।

করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার ৭৫৮। প্রাণঘাতী ভাইরাসটি গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ২৪ লাখ ৭ হাজার ৩৩৯ জন। এদের মধ্যে বর্তমানে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ২৯ জন চিকিৎসাধীন এবং ৫৪ হাজার ২১৮ জন (৪ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।

এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২৩ জন (৭৯ শতাংশ) সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯ জন (২১ শতাংশ) রোগী মারা গেছেন।

করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফিজিওথেরাপি কল সেন্টার চালু
                                  

ঘরে বসে রোগীদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা সেবা দিতে কল সেন্টার চালু করেছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মুহূর্তে সর্ব সাধারণের সেবা দিতে রোগীদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এবং হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা সেবা দিতে এই উদ্যোগ নিয়েছে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কল সেন্টার উদ্বোধন করেন হাসপাতলের ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান ডা: নাসিমা ইয়াসমিন (পিটি)।

কল সেন্টার উদ্বোধন করে ডা: নাসিমা ইয়াসমিন (পিটি) বলেন, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসতে পারছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা প্রতিরোধে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন এক্সারসাইজের (ব্যায়াম) নির্দেশনা দিয়েছে। এছাড়া অনেকেই প্যারালাইসিস, বাত, ব্যথা, ফ্রাকচার পরবর্তী জটিলতা, স্পোর্টস ইঞ্জুরি, শ্বাসককষ্টের সমস্যা, অপারেশন পরবর্তী সমস্যায় ভুগছেন। তাই তাদের নিয়মিত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা জরুরী। তাই গণস্বাস্থ্যের প্রাথমিক ভাবে তিনটি কেন্দ্রে এই সেবা শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে এই সেবা আরো বৃদ্ধি করা হবে।

 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের তালিকা মোবাইল নাম্বারসহ এলাকা অনুযায়ী প্রদান করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শুরু হওয়া কল সেন্টার সমূহে সেবা দিবেন- ডাঃ মোরশেদ আলম ০১৮৪৬৫৯৯৩৪৫ গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাভার। ডা. তারেক মোঃ শাহরিয়ার, পিটি ০১৭২৪৮৭৬১৮০, ডা.মোঃ ফিরোজ মিয়া, পিটি ০১৭১২৮২২৭৭৭, ডা. ওমর শরীফ চৌধুরী, পিটি ০১৭৬২৯৪৯৪৩৩, ডা. আশরাফুল ইসলাম, পিটি ০১৬৮৪৭৩৪১৬০ গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল, ধানমন্ডি। ডা. মোঃ রাসেল উদ্দিন, পিটি ০১৮৮৫৯৪৫১৯৩, ডাঃ শাপলা বডুয়া, পিটি ০১৮৮৯৭২৮২১৫ কক্সবাজার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, কক্সবাজার।

বিভিন্ন নার্সিং কোর্সে অধ্যয়নরত নার্সদের ছুটি বাতিল
                                  

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় বিএসসি নার্সিং, পাবলিক হেলথ নার্সিং ও মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ নার্সিং কোর্সে অধ্যয়নরত নার্সদের শিক্ষা ছুটি বাতিল করে স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগদান করার নির্দেশ দিয়েছে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর।

বৃহস্পতিবার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সিদ্দিকা আক্তার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

নির্দেশনায়, আগামী ২০ এপ্রিল (সোমবার) বিভিন্ন নার্সিং কোর্সে অধ্যয়নরত নার্সদেরকে কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে।  

বিজ্ঞপ্তিতে, দেশে চলমান করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংকট মোকাবিলায় এবং হাসপাতালগুলোতে নার্সিং সেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের আওতাধীন মাস্টার্স ইন নার্সিং সায়েন্স (এমএসএন), মাস্টার্স ইন পাবলিক হেলথ (এমপিএইচ) এবং বিএসসি নার্সিং ও বিএসসি পাবলিক হেলথে অধ্যয়নত সকল নার্স ছাত্র-ছাত্রীদের ছুটি পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত বাতিলের ঘোষণা দেয়া হয়।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট সেবা তত্ত্বাবধায়ক ও উপতত্ত্বাবধায়কদেরকে সকল অধ্যয়নত নার্স ছাত্র-ছাত্রীদের যোগদান নিশ্চিত করে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

                                                   

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নার্সদের পূর্ণ পিপিই না দেয়ার অভিযোগ
                                  

ঢাকায় কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে শুরু থেকেই সেবার সাথে জড়িত রয়েছেন এমন একজন নার্স বলছেন, যে সুরক্ষা পোশাকটি খুব দরকারি সেই পিপিই তাদের পুরোটা দেয়া হচ্ছে না। শুধু গাউন দেয়া হচ্ছে এবং খুব দরকারি এন-৯৫ মাস্কও দেয়া হচ্ছে না।

এই হাসপাতালটিতে প্রথম দেশের করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়া শুরু হয় এবং এখনো পর্যন্ত সেখানেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আক্রান্ত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

এই নার্সের পরিচয় আমরা গোপন করছি।

তিনি বলছেন, ‘আমরা একটা রোটেশন ঠিক করে নিয়েছি রোগীর ক্লোজ কন্টাক্টে কোনদিন কে যাবে। যেমন একদিন তিনজন পিপিই পরবে ও রোগীদের কাছে যাবে। আর অন্যরা নার্সিং স্টেশনে ডিউটি করবে। তারা আবার অন্যদিন পিপিই পরবে।’

এই নার্সদের রোগীর অনেক বেশি কাছে যেতে হচ্ছে যথেষ্ট সুরক্ষা সামগ্রী পরিধান না করেই। তাই প্রতিনিয়ত আশঙ্কার মধ্যে থাকতে হয় তাদের।

ওই নার্স বলেছেন, ‘রোগী হাসপাতালে এলে আমরা তাকে রিসিভ করা থেকে শুরু করে তাকে ওষুধ দেয়া, রোগীকে স্যালাইন দেয়া, এমনকি আমাদের হাসপাতালে ইসিজি টেকনিশিয়ান না থাকায় আমরা রোগীর ইসিজিও করি। ইনজেকশন দিতে হয়।’

এসব কারণে নার্সদের রোগীর খুব কাছে, রোগীর মুখের কাছেও ক্লোজ কন্টাক্টে বা অনেক কাছে যেতে হয়। যা করোনাভাইরাস সংক্রমণের বড় ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।

কিন্তু যে সুরক্ষা সামগ্রী রয়েছে যা বেশিরভাগই চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ বলে তিনি জানান।

‘চিকিৎসকদের কাছেই বেশিরভাগ এন-৯৫ মাস্ক, পিপিই ও শু কভার। চিকিৎসকেরা অনেক সময় রোগীদের স্পর্শ করেন না। কিন্তু সুরক্ষা সামগ্রীর বড্ড অভাব রয়েছে সেবিকাদের জন্য’, তিনি বলেন।

রোগী যখন আসেন তখন চিকিৎসকরা দূর থেকে রোগীর ইতিহাস নেন।

কিন্তু তাদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ওষুধ, ইনজেকশন নিয়ে এই নার্সদেরই রোগীদের কাছে যেতে হয়।

পরে ডাক্তাররা যখন নিয়মিত রাউন্ডে যান, তারা বেশিরভাগ সময় রোগীর গায়ে হাতও দেন না। কিন্তু রোগীদের সংস্পর্শে যাওয়া ছাড়া নার্সদের সেবা দেয়ার কোন উপায় নেই।

ডেথ ক্লিয়ারেন্স দিতে হলে চিকিৎসকদের যেতে হয় ঠিকই কিন্তু রোগী মারা গেলেও নার্সদের পাঠানো হয়।

নার্সদের যেসব সুরক্ষা সামগ্রী দেয়া হচ্ছে তার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলছেন, ‘আমাদের প্রথম কিছুদিন ফুল পিপিই দেয়া হতো। তবে সপ্তাহখানেক হল শুধু পিপিই গাউনটা দেয়া হচ্ছে। এন-৯৫ যে মাস্ক সেটি আমরা আর পাচ্ছি না। আমরা নরমাল মাস্ক পরে রোগীদের কাছে যাচ্ছি। গগলস প্রথম দিকে পেয়েছি, এখন আর সেটা দেয়া হচ্ছে না। সাধারণ চশমা ও সাধারণ মাস্ক দেয়া হচ্ছে। শু কাভার দেয়া হচ্ছে না। আমরা পায়ে বাইরের পলিথিন পেঁচিয়ে কাজ করছি।"

তাদেরকে বলা হয়েছে এন-৯৫ মাস্কের সরবরাহ নেই। তাদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে একের অধিক মাস্ক পরে রোগীর কাছে যেতে।

তারা এতোটাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন যে, অনেকে নিজের টাকা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অনলাইন শপে এন-৯৫ কেনার চেষ্টা করেন।

‘চিন্তা করুন কতটা অসহায় হলে এই উদ্যোগটা নিতে হয়?’ আক্ষেপের স্বরে বলেন ওই নার্স।

তিনি বলেন, ‘আমি রোগীর কাছে যেতে চাই, আমি সেবা করতে চাই সেই মানসিকতা আমার আছে কিন্তু আমি নিজে সুস্থ থাকতে চাই। সুস্থ থেকে রোগীর সেবা করতে চাই।’

এই সেবিকাদের টানা সাত দিন ১২ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয় এবং এরপর ১৪ দিন তারা একটি হোটেলে কোয়ারেন্টাইনে থাকেন।

যে হোটেলে তাদের রাখা হয়েছে সেখানকার রাঁধুনি পালিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিপাকে পড়তে হয়েছিল। এছাড়া তাদেরকে যথেষ্ট স্বাস্থ্যকর খাবার দেয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয়েছে সরকারি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই ১১ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর বেসরকারি হাসপাতালে ১৩ জন সেবিকা আক্রান্ত হয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ইসমত আরা পারভীন বলছেন, ‘সারাদেশে নার্সরা মানসম্মত পিপিই পাচ্ছেন না। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে তারা একবার ব্যবহার যোগ্য পিপিই ধুয়ে আবার ব্যবহার করছেন। ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে অনেক নার্স বিষয়টা আমাদের জানিয়েছেন।’

সূত্র : বিবিসি

করোনাভাইরাস: কোরিয়ান মডেলে বাংলাদেশে টেস্টিং বুথ
                                  

বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) সহায়তায় সারাদেশে কোভিড-১৯ পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ করতে দক্ষিণ কোরিয়ার মডেলে কিয়স্ক বসেছে বাংলাদেশে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ গতকাল রোববার বলেন, ‘আমরা অন্যান্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এ জাতীয় ধারণা নিয়ে এগিয়ে আসতে উত্সাহ দিচ্ছি। অবশ্যই, এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা আমাদের পরীক্ষা বাড়াতে বাড়তি সুবিধা দেবে।’

তিনি জানান, এই বুথের মাধ্যমে নমুনা সংগ্রহ করতে জনবলও কম লাগবে। এনজিও জেকেজি হেলথ কেয়ার নমুনা সংগ্রহ করছে এবং সেগুলো ডিজিএইচএস তাদের নিজস্ব পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সন্দেহভাজন রোগীদের কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহ করার সময় এই বুথ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রতিটি নমুনা সংগ্রহ করার পর তাদের ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম (পিপিই) বদলাতে হবে না।’

জেকেজি হেলথ কেয়ারের আহ্বায়ক ড. সাবরিনা আরিফ বলেন, ‘এ ধরনের মোট ৪৪টি নমুনা সংগ্রহ বুথ স্থাপন করা হয়েছে এবং আমরা আশা করছি সোমবার থেকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ শুরু করা হবে।’

৪৪টির মধ্যে আটটি ঢাকায়, আটটি নারায়ণগঞ্জে এবং বাকিগুলো অন্যান্য বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার মডেল অনুসরণ করে আমরা দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে মোট ৩২০টি বুথ স্থাপন করব।’

কাঁচে ঘেরা কেবিনের মতো দেখতে নমুনা সংগ্রহ বুথটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা যেখানে অবস্থান করেন সেখানকার পরিবেশ সবসময় জীবাণুমুক্ত থাকে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বুথের বাইরে দাঁড়ানো মানুষের শরীর থেকে পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন এর সঙ্গে থাকা গ্লাভস দিয়ে। ফলে তারা থাকেন পুরোপুরি নিরাপদ।

কর্মকর্তাদের মতে, প্রতিবার নমুনা সংগ্রহের পর গ্লাভস এবং যে চেয়ারে বসিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হলো তা জীবাণুমুক্ত করা হবে।

ডা. সাবরিনা বলেন, ‘এই বুথগুলো স্থাপন করা হবে স্কুল বা কলেজ প্রাঙ্গণে। সেখানে অনেক মানুষের মধ্য থেকে স্বাস্থ্যকর্মী এবং হাসপাতালকে সুরক্ষিত রাখবে এই পদ্ধতি।’

পরীক্ষার জন্য বারবার হটলাইনে কল করতে হবে না বিধায় এটা মানুষের দুর্ভোগও কমাবে। তারা নিজেরাই পরীক্ষার জন্য বুথে যেতে পারবেন।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) গত ২৮ জানুয়ারি থেকে সন্দেহজনক করোনাভাইরাস সংক্রমিতদের পরীক্ষা করা শুরু করেছিল। বাংলাদেশে গত মার্চ পর্যন্ত কেবলমাত্র আইইডিসিআরেই কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা করার সক্ষমতা ছিল।

গত কয়েক সপ্তাহে পরীক্ষার সুবিধা ঢাকায় নয়টি এবং অন্য জেলায় পাঁচটিসহ মোট ১৪টি ল্যাবে উন্নীত করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার সিওলের একটি হাসপাতাল এইচ প্লাস ইয়াংজি এই ধরনের বুথের মাধ্যমে পরীক্ষার সুবিধা চালু করেছে।

||দ্য ডেইলি স্টার

করোনা ভাইরাসে ১০টি বিষয় খেয়াল রাখুন
                                  

ধীরে ধীরে এক জটিল সময়ে প্রবেশ করছে বিশ্ব। কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীজুড়ে আট হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে দুই লাখের বেশি। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যতোটা সম্ভব সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারপরও নিশ্চয় বাসার বাইরে যেতে হয়। প্রাণ বাঁচানোর জন্য খাবার সংগ্রহ বা ওষুধ কেনার জন্য বাইরে যাওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। এমন সময়ে বাসার বাইরে যদি যেতেই হয় তবে এই ১০টি বিষয় খেয়াল রাখা অত্যন্ত জরুরি।

স্বাস্থ্য বিষেশজ্ঞরা বলছেন যতো বেশি সম্ভব হাত জীবাণুমুক্ত রাখতে, যাতে হাতের মাধ্যমে নাক-মুখ বা চোখের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস দেহে প্রবেশ করতে না পারে। এ ছাড়া এন-নাইনটি ফাইভ ফেস মাস্কও ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সব পরামর্শ যতোটা মেনে চলা যাবে, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ততোটাই ঠেকানো যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সুতরাং সাধারণ জ্ঞান প্রয়োগ করে এবং একটু সাবধানতা অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচাতে রাখতে পারে অনেক বড় ভূমিকা। এই লেখায় এমন কিছু বিষয়ের কথা আলোচনা করা হয়েছে, বাসার বাইরে অবস্থানের সময় এগুলো খেয়াল রাখলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা কিছুটা হলেও কমে যেতে পারে।

১. আঙুলের টিপ কমিয়ে হাঁটু, পা, কনুই বা আঙুলের গিঁট ব্যবহার বাড়ান

লিফটের বাটন টিপতে এখনো কি আঙুলের সাহায্য নিচ্ছেন? অনুগ্রহ করে এখনই এই অভ্যাস বন্ধ করুন। যখন কোনো দরজা খোলার দরকার পড়ে, বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে, দরজা ধাক্কা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, তখন আঙুলের বদলে কনুই ব্যবহারের চেষ্টা করুন বা আঙুল ভাঁজ করে গিঁট দিয়ে চেষ্টা করুন।

এটিএম বুথে আঙুল দিয়ে পিন কোড দেওয়ার বদলে আঙুলের গিঁট ব্যবহার করুন। কোনো কাচের দরজা পার হতে কনুই দিয়ে ধাক্কা দিন। এতে করে দরজার হাতলে কোনো জীবাণু থাকলে তা আপনার দেহে প্রবেশের আশঙ্কা কমে যাবে।

কোনো সিঙ্কের কল চালু করতে হাতের কবজি বা এলবো ব্যবহার করুন। আর কল যদি ঘুরিয়ে চালু ও বন্ধ করতে হয় আপনার জামার কোনো অংশে হাত পেচিয়ে নেন। মুহূর্তের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজের ত্বককে বিপদে না ফেলে জামায় ঝুঁকি নেওয়াটা আসলেই কম ঝুঁকিপূর্ণ। বাসায় ফেরার যতো দ্রুত সম্ভব জামা ধুয়ে ফেলুন।

২. যতো বেশি সম্ভব স্বয়ংক্রিয় সুবিধা খুঁজুন

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধরনের সুবিধা পাওয়া কঠিন। উন্নত বিশ্বে বেশির ভাগ শপিংমলের সামনের কাচের দরজা স্বয়ংক্রিয়। ফলে হাত দিয়ে খোলার বা বন্ধ করার প্রয়োজন পড়ে না, যা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিও কমিয়ে দেয়।

বাংলাদেশে এই সুবিধা বলতে গেলে পাওয়াই যায় না। তারপরও বিকল্প আছে কি না দেখে নিন। বিকল্প থাকলে সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। যেমন ধরুন- এই সময়ে বাসার জন্য যদি হ্যান্ড ওয়াশ ক্রয়ের কথা ভাবেন, তাহলে অটোমেটিক কোনো হ্যান্ড ওয়াশ ডিসপেনসার পাওয়া যায় কি না, দেখুন। এতে ডিসপেনসার বারবার স্পর্শ করার কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হয়, তা থাকবে না।

৩. আপনার ফোন কোথায় রাখছেন, খেয়াল করুন

এই সময়ে অনেকের মধ্যে ফোন নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার অভ্যাস হয়ে গেছে। তো ফোনটা বাথরুমে নিয়ে আপনি কোথায় রাখছেন? ওই জায়গা জীবাণুমুক্ত? এটা জানা কিন্তু কঠিন। সুতরাং ভালো হয় যদি ফোন এমন কোনো জায়গায় না রাখা যায়, যেখানে জীবাণু থাকার আশঙ্কা অনেক বেশি।

একই সাথে বাসার বাইরে রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় টেবিলে ফোন রাখা অনুচিত। এত ফোন থেকে আপনার শরীরে ভাইরাস প্রবেশের আশঙ্কা বেড়ে যায়। ফোন এমন কোথাও রাখা যাবে না যেখানে অন্য মানুষের স্পর্শ আছে।

৪. ব্যক্তিগত শপিং ব্যাগ ব্যবহারের চেষ্টা করুন

সুপার শপের ট্রলি ব্যবহার আপাতত বন্ধ রাখুন। এই ট্রলি প্রতিদিন জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম। কিন্তু বাংলাদেশের বেশির ভাগ সুপার শপ এই নিয়ম মানে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে। সুতরাং ঝুঁকি কমাতে নিজের শপিং ব্যাগ ব্যবহার করুন। এতে কিছুটা হলেও জীবাণুর সংস্পর্শ কমানো যাবে।

৫. অন্য কারো সাথে কথা বলার সময় দূরত্ব বজায় রাখুন

এখন যেহেতু ভাইরাস সংক্রমণের অত্যন্ত বাজে সময়, সুতরাং যখন কারো সাথে কথা বলার প্রয়োজন পড়বে, অন্তত দুই মিটার দূরত্ব বজায় রাখুন। যার সাথে কথা বলছেন, তাকে বিষয়টা বোঝানোর চেষ্টা করুন যে দূরত্ব এই মুহূর্তে কেনো জরুরি। অবশ্য এই ধরনের দূরত্ব সব সময়ই বজায় রাখা উচিত।

এর কারণ হলো কথা বলার সময় কখনো কখনো মুখ থেকে থুথু বেরিয়ে পড়ে। এই থুথু আপনার মুখে বা শরীরে এসে পড়তে পারে। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এ ছাড়া কথা বলার মুখ থেকে দৃশ্যমাণ নয় এমন লালার কণাও বেরিয়ে আসতে পারে। দূরে দাঁড়ালে এই থুথু আপনার শরীরে লাগবে না এবং ঝুঁকি কম থাকবে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন কোভিড-১৯ গোত্রের ভাইরাস বাতাসে খুব সামান্য সময় ভেসে থাকে এবং বাসাতে এদিক ওদিক যেতে পারে না। ফলে কারো মুখ থেকে ভাইরাস বাতাসে ছড়ালেও ঝুঁকি কম থাকবে যদি দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়।

৬. সম্ভাষণ করুন সাবধানে

বাংলাদেশে বন্ধুর সাথে দেখা হলে হ্যান্ডশেক করা বা জড়িয়ে ধরা খুব স্বাভাবিক একটা বিষয়। কিন্তু এই অভ্যাস বদলে ফেলার সময় এসেছে। স্পর্শ না করে সম্ভাষণপর্ব সারুন। হ্যান্ডশেক তো বাদই, ফিস্ট বাম্প বা এলবো বাম্পও ঝুঁকিপূর্ণ এখন।

৭. নগদ টাকা স্পর্শ করা কমিয়ে দিন

বিশ্বের অনেক দেশে নগদ টাকার ব্যবহার সীমিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে নগদ টাকার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে, এ জন্য নগদ টাকার স্পর্শ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? হ্যা, বাংলাদেশে বিষয়টি প্রায় অসম্ভব। তারপরও চেষ্টা করে দেখুন। বর্তমানে শহরে তো বটে, গ্রামে-গঞ্জেও ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে টাকা পরিশোধ করা যায়। কিংবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবাও এখন খুবই সহজলভ্য। চেষ্টা করে দেখুন টাকার স্পর্শ কমিয়ে এই সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারেন কি না।

৮. পকেটে এক্সট্রা টিস্যু রাখুন

ধরুন আপনি অফিসে প্রবেশ করছেন। আপনার ঠিক আগে আপনারই এক সহকর্মী কাশি দিলেন এবং এরপর হাত দিয়ে দরজা খুলে অফিসে প্রবেশ করলেন। এবার আপনি দরজাটা খুলবেন। তো সরাসরি হাত দিয়ে খুলবেন? না, অবশ্যই এই কাজ করতে যাবেন না।

এই সময়ের জন্য সাথে আলাদা টিস্যু রাখুন সেই টিস্যু হাতে জড়িয়ে দরজা খুলুন। বাংলাদেশের বাজারে হ্যান্ড টিস্যু পাওয়া যায় খুব কম মূল্যে। জীবাণুমুক্ত করার বিশেষ ভেজা টিস্যুও সহজলভ্য। সুতরাং এখন থেকে এই ধরনের জিনিস নিজের সাথে রাখার অভ্যাস করুন। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর সারা পৃথিবীর অভ্যাস বদলে যাবে বলে যে বার্তা দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তা হয়তো সত্যিই হবে।

৯. জীবাণু লেগে থাকতে পারে এমন জিনিস নিরাপদ করে নিন, মনে রাখুন ৯ দিনের কথা

করোনা ভাইরাসের জীবাণু কোথাও লেগে থাকলে নয় দিন পর্যন্ত আপনাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। সুতরাং যে জুতা পরে বাইরে যাচ্ছেন, কাঁধে যে ব্যাগ রাখছেন বা গায়ে যে টি-শার্ট, তাও জীবাণুমুক্ত করে রাখুন। জীবাণুমুক্ত করার জন্য যদি কোনো কিছু ভেজাতে বা ধুতে না চান, তাহলে নয় দিন এমন জায়গায় রেখে দিন যেখানে জিনিসগুলো কেউ স্পর্শ করবে না। তাহলে নয় দিন পর এমনিতেই আপনার জুতা, ব্যাগ বা জামা-কাপড় জীবাণুমুক্ত হয়ে যাবে। তবে অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জায়গায় রাখতে হবে।

১০. বাসায় ফিরে সবার আগে অতি অবশ্যই হাত ধুয়ে ফেলুন

বাসার বাইরে আপনি কী কী স্পর্শ করেছেন, তা আপনি নিজেই জানেন না। সুতরাং বাসায় প্রবেশের পরপরই সবার আগে হাত ধুয়ে ফেলুন। হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড ওয়াশ ও জীবাণুনাশক ব্যাবহার করুন। মনে রাখবেন, বাসার বাইরে যতোই সাবধান হোন না কেনো, বাসায় এসে হাত না ধুয়ে বাসার অন্য লোকদের সংস্পর্শে এলে আপনার কারণে সবাই ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন।

কোয়ারেন্টাইন কি? কীভাবে থাকবেন, কতদিন থাকবেন?
                                  

মাস চারেক আগেও ‘করোনাভাইরাস’ নামটি কারও শোনার কথা নয়, কোয়ারেন্টাইন কিংবা আইসোলেশনের মতো শব্দের উচ্চারণ তো এই সেদিনও মনে হয়েছে কী কঠিন! কিন্তু এই মুহূর্তে দুনিয়াজুড়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ বোধকরি এগুলোই। প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সবাই সাবধান হচ্ছেন, নিজ থেকেই কোয়ারেন্টাইনে যেতে চান অনেকে। কিন্তু বিষয়টা আসলে কী? কীভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হয়, এমন আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন না অনেকেই-

কোয়ারেন্টাইন কী?
সংক্রমণের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য অন্যদের থেকে আলাদা থাকা কিংবা চলাচলের জায়গাকে সীমাবদ্ধ করে ফেলার নাম কোয়ারেন্টাইন। এটা তারাই করবেন যারা আক্রান্ত হননি তবে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসেছেন বা রোগ ছড়িয়ে পড়া এলাকায় থেকেছেন। সোজা কথায়, যারা আক্রান্ত হতে পারেন বলে সন্দেহ, তাদের জন্যই কোয়ারেন্টাইন।  

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশনের মধ্যে পার্থক্য
রোগ ছড়ানোর ভয়ে সন্দেহভাজন রোগীকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা করে ফেলার নাম কোয়ারেন্টাইন। অন্যদিকে আক্রান্ত রোগীকে আলাদা জায়গায় রেখে চিকিৎসা দেওয়ার নাম আইসোলেশন।

হোম কোয়ারেন্টাইন
ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নিজ বাড়িতেই অন্যদের থেকে নিজেকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করবেন এবং নির্দিষ্ট কিছু স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন।

কীভাবে থাকবেন
শুধু আলাদা থাকার নামই কোয়ারেন্টাইন নয়, এর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক প্রণীত কিছু নির্দিষ্ট নীতিমালা আছে-

১. অবশ্যই আলাদা গোসলখানা ও টয়লেট ব্যবহার করতে হবে। ঘুম বা বিশ্রামের জন্যও লাগবে আলাদা বিছানা।  

২. খুব প্রয়োজনে বাড়ির অন্যদের সঙ্গে দেখা করতে হলে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন এবং মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন।

৩. স্তন্যদায়ী মা শিশুকে দুধ খাওয়াতে পারবেন তবে মাস্ক ব্যবহার করুন এবং হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিন।

৪. দিনে বেশ কয়েকবার সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন।

৫. কোয়ারেন্টাইনে থাকা অবস্থায় ব্যবহৃত সবকিছু আলাদা হতে হবে। যেমন- গ্লাস, থালা, কাপ, তোয়ালে, সাবান, বিছানার চাদর, বালিশ ইত্যাদি।

৬. হাঁচি-কাশির সময় মুখ-নাক ঢেকে রাখুন এবং ভালোভাবে নাক-হাত-মুখ ধুয়ে নিন।

কতদিন থাকবেন?
প্রায় সব চিকিৎসকরাই বলছেন ১৪ দিন। তবে চীনা কিছু চিকিৎসকের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে আরো কিছু বেশি দিনের কথা। আমাদের দেশের চিকিৎসকরা অবশ্য তাদের মত পাল্টাননি। তাছাড়া বিশ্বব্যাপী এখনও দুই সপ্তাহ সময়টাই স্বীকৃত।

করোনা: কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সরকারের সতর্কতা জারি
                                  

করোনার প্রাদুর্ভাব এড়াতে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করাসহ গঠিত কমিটিগুলোর কার্যক্রম সুনির্দিষ্ট করে একটি সতর্কতামূলক গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিটিতে গতকাল সোমবার ১০ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান সময়ে করোনা ভাইরাস বিশ্বময় আতঙ্কের সৃষ্টি করছে। দেশে সব মিলে ৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্য থেকে ৩ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি চলে গেলেও নতুন আরো ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। কাজেই এই ভাইরাস প্রতিরোধে এখনই জনসচেতনা বৃদ্ধি করা জরুরি প্রয়োজন।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় সারাবিশ্বে হোম কোয়ারেন্টাইন (নিজ গৃহে সার্বক্ষণিক অবস্থান) একমাত্র কার্যকর উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে প্রত্যাগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই ভাইরাস সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে। এমতাবস্থায়, বিদেশ প্রত্যাগত নাগরিকদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা অতীব জরুরি। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় জাতীয়, বিভাগীয়, সিটি করপোরেশন এলাকায়, পৌরসভা, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে কমিটি গঠিত হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণে সংশ্লিষ্ট কমিটি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত কার্যক্রম গ্রহণ করবেন-
১. হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিবর্গ ১৪ দিন ঘরের বাইরে বের হবেন না এবং নিজ বাড়ির নির্ধারিত একটি কক্ষে অবস্থান করবেন।
২. পরিবারের অন্যান্য সদস্য দেশে প্রত্যাগত সদস্যের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করবেন।
৩. গঠিত কমিটিসমূহ সম্প্রতি বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তিদের বাড়ী চিহ্নিত করবেন এবং তাদের গৃহে সার্বক্ষণিক অবস্থানের বিষয়ে তদারকি করবেন।


৪. গঠিত কমিটিসমূহ হোম কোয়ারেইন্টাইন নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ (যেমন: পৌর মেয়র, পৌর কাউন্সিলর, ইউপি চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য সহকারী, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার, পরিবার কল্যাণ সহকারী, পরিবারকল্যাণ পরিদশির্কা, গ্রাম পুলিশ, স্থানীয় সাংবাদিক) বিদেশ প্রত্যাগত ব্যক্তি সম্পর্কে অবহিত করে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পৃক্ত করতে হবে।
৫. কোয়ারেন্টাইনকৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ওই ব্যক্তির সংস্পর্শে আসতে পারবেন না।
৬. যদি কোয়ারেন্টাইনকৃত ব্যক্তি উপর্যুক্ত নিয়ম ভঙ্গ করেন, তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সহায়তা গ্রহণ করবেন।
৭. প্রয়োজনে ৩নং ক্রমিকে বর্ণিত ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা চেয়ারম্যান, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।
৮. হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিগণ অস্স্থু হলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এবং প্রয়োজনে স্থানীয় সিভিল সার্জন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করবেন। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
৯. কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিগণ যদি নিয়ম ভঙ্গ করেন তাহলে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ওই আইনে দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
১০. প্রতিদিন এ বিষয়ে জেলা ভিত্তিক একটি প্রতিবেদন তৈরিপূর্বক সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ই-মেইল controlroomdghs@yahoo.com ও মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ই-মেইল hsdcontrolroom@gmail.comএ প্রেরণ করবেন।

টমেটোতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
                                  

 টমেটোর তরকারি বা সালাদ খেতে যেমন সুস্বাদু, তেমনি পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনন্য এই সবজি। টমেটো থেকে পাওয়া যায় না এমন উপাদানই কম। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, কিছু আঁশ এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। এছাড়াও ক্যালসিয়াম ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি এবং ভিটামিন ই ও কে রয়েছে টমেটোতে।
প্রতি ১ কাপ টমেটো কুচিতে রয়েছে
১৭০.১৪ গ্রাম পানি
১.৫৮ গ্রাম প্রোটিন
২.২ গ্রাম আঁশ
৫.৮ গ্রাম শর্করা
০ গ্রাম কোলেস্টেরল
০.৩২ গ্রাম ক্যালোরি
১৮ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম
৪২৭ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম
৪৩মিলিগ্রাম ফসফরাস
২৪.৭ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি
১৪৯৯ (ওট) ভিটামিন- এ
টমেটোর উপকারিতা
টমেটোতে থাকা পটাশিয়াম স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া লাইকোপেন নামক উপাদান কোলেস্টেরল কমায়।
টমেটোতে ক্যারোটিন লাইকোপেন, লুটিন এবং বিটা ক্যারোটিন নামক বেশ কিছু ফাইটো কেমিক্যাল থাকে যা চোখের জন্য খুবই উপকারী।
টমেটোতে থাকা ক্যারোটিনয়েডস চামড়ার জন্য খুবই ভালো। এটি চামড়ায় সরাসরি অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাব পড়তে দেয় না।
ক্ষত সারাতে এবং রক্ত জমাট বাধতে সাহায্য করে টমেটো।
মেনোপজের কারণে ঘটতে থাকা পরিবর্তনগুলো যেমন অকারণ উত্তেজনা, অস্থিরতা, উচ্চ রক্তচাপ প্রভৃতি কমাতে সাহায্য করে।
টমেটো ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
শক্ত ও মজবুত হাড় পেতে টমেটোতে থাকা ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সরাসরি ভূমিকা রাখে।
টমেটোতে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন সি থাকায় ঠাণ্ডা, জ¦র, কাশি দূর করতে এর গুরুত্ব অনেক।
লেখক: পুষ্টিবিদ

কিডনি সুস্থ রাখতে করনীয়
                                  

 অনেকেই ওজন কমাতে গিয়ে কার্বোহাইড্রে খাওয়া বন্ধ করে দেন। বিশেষ করে কিটো ডায়েট অনুসরণকারীদের কার্বজাতীয় খাবার একেবারেই বাদ দিতে হয়। কিন্তু এতে ক্ষতি হয় কিডনির। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারে মোট ক্যালোরির ৬০-৬৫ শতাংশ যেন কার্বোহাইড্রেট থেকে আসে। তাই সারা দিনে ছোট এক বাটি ভাত বা কয়েকটি রুটি, চিড়া-মুড়ি-খই এবং কয়েক রকম শাকসবজি-ফল খান। অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে সেটি বাদ দিন।

কাঁচা লবণ খাবেন না। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্যাকেটজাত খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এ ধরনের খাবার পরিহার করলে কিডনির রোগের আশঙ্কা প্রায় ২০ শতাংশ কমবে। বাদ দিন জাঙ্ক ফুড। নিতান্ত খেতে হলে সপ্তাহে একবারের বেশি খাবেন না। পরিমাণ মতো পানি পান করুন।

দিনে অন্তত ৩ থেকে ৪ লিটার পানি খাওয়া উচিৎ। তবে শরীরে অন্য কোনও রোগ আছে কি না তার উপরও নির্ভর করে এই পরিমাণ। কম পানি পান করা যেমন কিডনির জন্য ক্ষতিকর, তেমনি প্রয়োজনের বেশি পানি পান করলেও কিডনিতে চাপ পড়ে। নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন, কিডনি কর্মক্ষম থাকবে দীর্ঘদিন।

 

মানুষের দেহে করোনার জীবাণুর স্থায়িত্ব ৩৭ দিন
                                  

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে কেউ আক্রান্ত হলে তার শরীরে করোনার জীবাণু ৩৭ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। নতুন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চীনের চিকিৎসকেরা এ সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন লিখেছে যা ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নাল প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত হওয়ার ২০ দিন পরে অনেকের শ্বাসনালীতে করোনাভাইরাসের আরএনএ চীনা চিকিৎসকেরা শনাক্ত করেছে।

নতুন এই গবেষণার ফলে করোনায় আক্রান্ত কোনও ব্যক্তিকে কতদিন আইসোলেশনে রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে করোনায় আক্রান্ত হলে ১৪ দিন আইসোলেশনে রাখা হয়।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে শনিবার পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়ালো। সেইসঙ্গে আক্রান্ত ১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ পরতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার পর্যন্ত করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৯ শ` ৫৫ জন। শুক্রবারই ইতালিতে একদিনে রেকর্ড ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ইরানও শুক্রবার নতুন করে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া শুক্রবার জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৫ হাজার ৪ শ` জনের।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়। ডব্লিউএইচও কোভিড-১৯ এর বিস্তারকে বৈশ্বিক মহামারী ঘোষণা করেছে। সূত্র: ব্লুমবার্গ

টিকা নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা
                                  

 কিৎসাবিজ্ঞানের উন্নয়নে বর্তমানে অসংখ্য রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আছে টিকা। তবে কিছু মানুষ কুসংষ্কার, ভুল ধারণার কারণে টিকা এড়িয়ে চলেন।
এতে শুধু ওই ব্যক্তি হুমকির মুখে পড়েন না, তার আশপাশের মানুষগুলোও ঝুঁকিতে থাকেন।
সারাবিশ্বে অসংখ্য প্রাণঘাতি রোগের হাত থেকে রক্ষা করছে টিকা এবং এদের ব্যবহার যে নিরাপদ তা প্রমাণিত।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে জানানো হল টিকা নিয়ে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা সম্পর্কে।
যে জন্য টিকা সে রোগের ভয়: যুক্তহীন হলেও কিছু মানুষ মনে করেন যে রোগের জন্য টিকা নেওয়া হচ্ছে, সেই রোগই তাদের আক্রমণ করবে। অথচ টিকার কারণে ওই রোগের আক্রান্ত হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।


যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’য়ের দেওয়া তথ্য মতে, মাত্র ১ থেকে ৫ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও ওই রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তাদের শরীরে গড়ে উঠতে ব্যর্থ হয়। ফলে যে রোগের জন্য টিকা নেওয়া হল, প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় সেই রোগটিতেই শিশুটি ভবিষ্যতে আক্রান্ত হতে পারে। তবে তা কখনই টিকার জন্য হয় না। বরং তাদের শরীরে টিকা কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে তা হয়।
শিশুকে প্রতিবন্ধী বানায়: ১৯৯৭ সালে অ্যান্ড্রু ওয়েকফিল্ড নামক একজন ব্রিটিশ সার্জন তার এক গবেষণায় টিকা আর প্রতিবন্ধী হওয়ার মধ্যে সম্পর্ক তুলে ধরেন। পরে তার ওই গবেষণা বাতিল ঘোষণা করা হয়, এমনকি তার লাইসেন্সও বাতিল করা হয়।


তবে ঘটনা ছড়িয়ে পড়া থামানো যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষ শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতা আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে টিকা বর্জন করতে শুরু করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে সেই ভুল সংবাদ আজও সত্য হিসেবে বিদ্যমান। টিকার কারণে কখনই টিকা গ্রহণকারী প্রতিবন্ধী হননা।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে: অনেক মানুষ মনে করেন সন্তানকে টিকা দিলে তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাবে এবং রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা হারাবে। একজন সচেতন মানুষের জন্য এই খবর হাস্যকর হলেও, যিনি বিশ্বাস করেন তার বিশ্বাসের দৃঢ়তা অবাক করার মতো।
একটি শিশু একসঙ্গে প্রায় ১০ হাজার টিকা গ্রহণ করার ক্ষমতা রাখে। এই ক্ষমতার উৎস হল তার শরীরে থাকা ‘অ্যান্টি-বডি’। আর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এ সময় দুর্বল হয় না। কারণ শরীরের প্রতিটি কোষ এ সময় ক্রমাগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আর টিকা সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করে।
পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়ার ভয়: এই ভয়ে টিকা বর্জনকারী মানুষের সংখ্যই হয়ত সবচাইতে বেশি। এদের কাছে টিকা একটি অপ্রাকৃতিক বিষয় এবং তাদের বিশ্বাস টিকায় থাকা রাসায়নিক উপাদান বিষাক্ত হতে পারে।


টিকা নিয়ে প্রচলিত এই কুসংস্কারগুলো মানুষের রোগাক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। প্রতিটি টিকা অসংখ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত যে তা মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা নিরাপদ। মানবদেহকে রোগ থেকে বাঁচানোই টিকা তৈরির একমাত্র উদ্দেশ্য।
তারপরও অনিশ্চয়তায় থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে তারপরই সিদ্ধান্ত। তবে মনগড়া যুক্তি আকড়ে ধরে থেকে টিকা বর্জন করা আর সন্তানকে রোগের মুখে ঠেলে দেওয়া একই কথা।
ছবি: রয়টার্স।


   Page 1 of 91
     স্বাস্থ্য-তথ্য
রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু করেছে বেক্সিমকো ফার্মা
.............................................................................................
চার মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২৯১
.............................................................................................
করোনায় দেশব্যাপী দুই শতাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত
.............................................................................................
মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্সসহ করোনায় আক্রান্ত ৪৪
.............................................................................................
আমরা মহা সংকটে আছি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
.............................................................................................
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ফিজিওথেরাপি কল সেন্টার চালু
.............................................................................................
বিভিন্ন নার্সিং কোর্সে অধ্যয়নরত নার্সদের ছুটি বাতিল
.............................................................................................
কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নার্সদের পূর্ণ পিপিই না দেয়ার অভিযোগ
.............................................................................................
করোনাভাইরাস: কোরিয়ান মডেলে বাংলাদেশে টেস্টিং বুথ
.............................................................................................
করোনা ভাইরাসে ১০টি বিষয় খেয়াল রাখুন
.............................................................................................
কোয়ারেন্টাইন কি? কীভাবে থাকবেন, কতদিন থাকবেন?
.............................................................................................
করোনা: কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতে সরকারের সতর্কতা জারি
.............................................................................................
টমেটোতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে
.............................................................................................
কিডনি সুস্থ রাখতে করনীয়
.............................................................................................
মানুষের দেহে করোনার জীবাণুর স্থায়িত্ব ৩৭ দিন
.............................................................................................
টিকা নিয়ে আমাদের যত ভুল ধারণা
.............................................................................................
স্কুল-কলেজ বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি হয়নি: আইইডিসিআর
.............................................................................................
টক দই শরীরকে সুস্থ ও তরতাজা রাখে
.............................................................................................
সজনে গাছ ৩০০ ধরনের রোগ থেকে বাঁচাবে
.............................................................................................
বুঝেশুনে পানি পান করুন
.............................................................................................
যে ৭ কারণে রোজ কমলা খাবেন
.............................................................................................
বিছানার পাশে লেবুর টুকরো!
.............................................................................................
খালিপেটে যেসব খাবার থেকে বিরত থাকবেন
.............................................................................................
দগ্ধ হলে করণীয়
.............................................................................................
শীতকালে সুস্থ থাকার ৯টি সহজ উপায়
.............................................................................................
ফুসফুসের সুস্থতা জরুরি রোগমুক্ত থাকতে
.............................................................................................
রক্তদূষণ রোগ ক্যানসারের চেয়ে ভয়াবহ
.............................................................................................
শরীর ব্যথা হয় ধূমপানের কারণেও!
.............................................................................................
শীতে চুলের রুক্ষতা দূর করবেন যেভাবে
.............................................................................................
শীতে শরীর গরম থাকবে যেসব খাবার খেলে
.............................................................................................
বাড়ন্ত শিশুর খাদ্য তালিকায় যা রাখতে হবে
.............................................................................................
বয়স্করা মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় যা করবেন
.............................................................................................
মেরুদণ্ড ভালো রাখতে করনীয়
.............................................................................................
শীতে বাদ দেওয়া উচিৎ যেসব খাবার
.............................................................................................
যেভাবে নেবেন কানের যত্ন
.............................................................................................
চোখের সৌন্দর্য ও প্রয়োজনীয় দৃষ্টি বাড়ায় কন্টাক্ট লেন্স
.............................................................................................
শুধু খুলনায় এক বছরে ৫৬ জন নতুন এইডস রোগী
.............................................................................................
সহজ উপায়ে খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান গ্রহণের পদ্ধতি
.............................................................................................
যে কারনে রাতে হাঁপানির তীব্রতা বেড়ে যায়
.............................................................................................
এই শীতে রুক্ষ চুলকে যেভাবে বিদায় জানাবেন
.............................................................................................
অতিরিক্ত চা পানে নানান সমস্যা
.............................................................................................
দিনে কতটুকু রসুন খাওয়া প্রয়োজন?
.............................................................................................
আত্মবিশ্বাস বাড়ায় সেলফ ডিফেন্স
.............................................................................................
সকালে খালি পেটে পানি পান
.............................................................................................
যেসব বদভ্যাস পরিবর্তন করা দরকার কর্মক্ষেত্রে
.............................................................................................
শীতে পালংশাক খাচ্ছেন তো?
.............................................................................................
অক্লান্ত পরিশ্রমে আপনাকে শক্তির যোগান দেবে কিছু খাবার
.............................................................................................
মুখ ও দাঁত সুস্থ সবল রাখার জন্য
.............................................................................................
কোমরে ব্যথা হলে
.............................................................................................
লালশাকের উপকারিতা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD