৩ শাবান ১৪৪১, ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   এক্সক্লুসিভ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পার্কিং নীতিমালায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান

 

নারী নির্যাতন বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান
                                  

সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর প্রধান শাহীন আনাম। তিনি বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে সোচ্চার হতে হবে। এর বিরুদ্ধে শুধু নারীরা প্রতিবাদ করলে হবে না, পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সমতা মানেই আনন্দ। এজন্য নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষের মধ্যে সমতা আনতে হবে।

আর তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক মোটরসাইকেল র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দু’দিন আগে ‘এখনই বন্ধ করি নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা’ ব্যানারে র‌্যালির আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ উইমেন রাইডার্স ক্লাব। শাহীন আনাম বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা আমরা বন্ধ করতে পারিনি। কারণ, সমাজে নারীর প্রতি যে ধ্যানধারণা, এটা কিন্তু এখনও খুব একটা পাল্টায়নি। এটা পাল্টাতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে যে, নারী একজন মানুষ এবং পুরুষের সমান। আমরা সব মানুষের মধ্যে সমতা চাচ্ছি। একটি সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি; যা আমরা এখনও করতে পারিনি।

তিনি বলেন, এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘জেনারেশন ইকুয়ালিটি’। এর অর্থ হলো, আমরা নতুন প্রজন্মের হাতে নারী-পুরুষের সমতার দায়িত্ব তুলে দিচ্ছি। চার দশক ধরে আন্দোলন করেও এখন পর্যন্ত আমরা নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতা, তা বন্ধ করতে পারিনি। এ সময় ‘পথে ঘাটে দিনে রাতে-চলতে চাই নিরাপদে’, ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে-রুখে দাঁড়াও এক সাথে’, ‘জাগো জাগো-বিশ্ব নারী জাগো’, ‘সব বাধা ভেঙে নারীর অধিকার ফিরিয়ে আনবো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন কয়েকজন নারী রাইডার। এর আগে স্কুটিতে করে র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের দিকে যায়।

 

হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
                                  

 জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বহুলাংশে পিছিয়ে রয়েছেন। আইন তাদের স্বীকৃতি দিলেও সমাজের মানুষ তাদের সহজভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি মৌলিক অধিকার থেকে তারা অনেকাংশেই বঞ্চিত। হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতা থাকার পরও চাকরী বা কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় ভিক্ষাবৃত্তি ও বেকারত্বের শিকার। অথচ এমানুষগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের যে জীবন সংগ্রাম তা অনেকাংশে সহজ হবে। পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম থেকে বের হয়ে এসে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও বাজেট প্রনয়ন করা প্রয়োজন। যা সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। ইনস্টিটিউট অফ ওয়েলবিং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং তাদের জীবন মান উন্নয়নে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আজ ১ মার্চ ২০২০ সকাল ১১.০০টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কৈবর্ত সভাকক্ষে গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে ইনস্টিটিউট অফ ওয়েলবিং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে ‘সবার জন্য সুযোগ: সবাই মিলে সমাজ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদনের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি এডভোকেসি অফিসার নাঈমা আকতার ও সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা শানজিদা আক্তার। মূল প্রবন্ধে গবেষণার উদ্দেশ্য, বর্তমানে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থা এবং তাদের জীবন মান উন্নয়নে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বোঝা মনে করা হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আস্থা রেখে তাদের নিয়োগে আগ্রহী নয়। আবার নিয়োগ পেলেও প্রবেশগম্যতার অভাব, সহকর্মীদের বিরূপ এবং প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে তারা ঝরে পরেন। হিজড়া ব্যক্তিদের অবস্থা আরো শোচনীয়। তারা পরিবার থেকে বিতাড়িত এবং সমাজে অনাকাঙ্খিত। অধিকাংশই সম্মানজনক পেশার সাথে সম্পৃক্ত হতে না পেরে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি হলে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্বাবলম্বী হয়ে সম্মানজনক জীবন যাপনে সক্ষম হবে। একই সাথে সামাজিক ন্যায়বিচারও নিশ্চিত হবে। সাদাকালো হিজড়া উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা অনন্যা বণিক বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সকলক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার। পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ফলে তারা শিক্ষা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের আচরনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন দক্ষতা থাকা সত্বেও হিজড়া ব্যক্তিদের সুযোগ না দেয়ায় তারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারে না। যেমন অনেক হিজড়া ব্যক্তির নৃত্যে দক্ষতা থাকলেও কোন সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান না। মুক্তির সংগ্রাম প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার এর পরিচালক মোঃ সুমন হোসেন বলেন, অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয় না। ফলে অনেকেই কর্মক্ষেত্র থেকে ঝরে পরেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের প্রতিকূল পরিবেশের কারণেও তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হেলথ ব্রীজ কানাডা এর আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, আমাদের দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করণে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি এ মানুষগুলোকে ধৈর্য্য ধরে প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে হবে, তাহলে আগামী প্রজন্মের পথ চলা সহজতর হবে। সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কোন না কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সহযোগিতা, সহমর্মিতা, প্রবেশগম্যতা এবং বৈষম্যহীনতা- এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হলেই তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি নেটওয়ার্ক অফিসার মোঃ মিঠুন এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

প্রবাসীদের অর্থে বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের জীবনমান
                                  

সরকারের বাস্তবমুধী নানা উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষি প্রধান নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগের তিন লাখ দুই হাজার ৭৮ জন ব্যক্তি প্রবাসে শ্রমশক্তি খাটিয়ে বদলে দিয়েছেন গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর জীবনমান। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার দেশের বাইরে বৈধপথে শ্রমশি ক্ত রফতানির কারণে একসময়ের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে এখন আর অনাহারি খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং বিভিন্ন দেশের সাথে সরকারের সুসর্ম্পক থাকায় নির্দিধায় বিদেশ গমণ করে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে বিভাগের ছয় জেলা থেকে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা।

গ্রামগঞ্জে এখন খড়ের চালের ঘরের পরিবর্তে উঠেছে পাকা বা আধাপাকা ভবন। অনাহারির পরিবর্তে মানুষের মধ্যে ফিরে এসেছে ব্যাংকিং স্বচ্ছলতা। বরিশাল জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১১ বছরে অর্থাৎ ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগ থেকে মোট তিন লাখ দুই হাজার ৭৮ জন ব্যক্তি কর্মস্থলের জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা দুই লাখ ৪১ হাজার ৫৬০ জন এবং নারীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫১৮ জন। এরমধ্যে গত বছর ২০১৯ সালেই বরিশাল বিভাগ থেকে বিদেশ গেছেন ২৫ হাজার ৯৩৫ জন। সূত্রমতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের সমন্বয়ে বিভাগের মধ্যে বরিশাল জেলায় প্রবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ২৭২ জন এবং ঝালকাঠি জেলায় সবচেয়ে কম ২৭ হাজার ৪৮৫জন। এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ৩০ হাজার ৭৮৭জন, ভোলায় ৬৭ হাজার ৯৮০জন, পিরোজপুরে ৪৩ হাজার ৫২৯জন এবং বরগুনা জেলায় ৩৪ হাজার ২৫জন প্রবাসী রয়েছেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ৬৬০ জন, পটুয়াখালীতে ২০ হাজার ৩৫৫ জন, ভোলায় ৬১ হাজার ৪৯৫ জন, পিরোজপুরে ৩৬ হাজার ৬৮২ জন, বরগুনায় ২৩ হাজার ৭৮৯জন ও ঝালকাঠি জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৭৯ জন। এদিকে বরিশাল জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬১২ জন, পটুয়াখালীতে ১০ হাজার ৪৩৩ জন, ভোলায় ৬ হাজার ৪৮৩ জন, পিরোজপুরে ৬ হাজার ৮৪৭ জন, বরগুনায় ১০ হাজার ২৩৭ জন ও ঝালকাঠি জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯০৬ জন। তথ্যমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বরিশাল বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে বিদেশ গমন করেছেন ২৫ হাজার ৯৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ২২০জন এবং নারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৭২৫ জন।

এরমধ্যে পুরুষ-মহিলা উভয়ের সমন্বয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল জেলা থেকে বিদেশ গমনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার ৫৬১ জন এবং ঝালকাঠি জেলায় সবচাইতে কম ২ হাজার ৪২৬জন। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে ২ হাজার ৮৯০ জন, ভোলায় ৪ হাজার ৮৫৪ জন, পিরোজপুরে ৪ হাজার ৪০৭ জন ও বরগুনা জেলায় ৩ হাজার ৮০৭ জন বিদেশ গমন করেছেন। জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক একেএম সাহাবুদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বরিশালে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি লোক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ গমন করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে (সৌদি আরব) বেশি অবস্থান করছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, বাহারাইন, মালদ্বীপ এবং জর্ডানে বরিশালের প্রবাসী মানুষের অবস্থান ভালো। তবে ইটালি, লন্ডন, আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডে বরিশালের প্রবাসী মানুষের অবস্থান কম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ‘সংশোধন’ আইন ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন
                                  

জেলা জজের অধীন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সব মামলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বিচারক স্বল্পতা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এসব মামলার জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ‘সংশোধন’ আইন ২০২০ এর খসড়ায় এসব কথা বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক বিষয়ে জানাতে সচিবালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সংস্কার ও সমন্বয়) শেখ মুজিবুর রহমান এসব তথ্য জানান।

এই আইনের সংশোধনের কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক লাখ ৭৫ হাজার মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি। তবে ট্রাইব্যুনালের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও কেন পিছিয়ে আসা হলো, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. তরুণ কান্তি সিকদার জানান, বিচারক স্বল্পতার কারণেই মূলত ট্রাইব্যুনাল গঠন না করে জেলা জজের অধীনে একাধিক বিচারিক আদালতে মামলা পরিচালনা করা হবে। তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনালে বিচার হলে আপিলের জন্য সরাসরি হাইকোর্ট আসতে হতো। এখন জজ কোর্টের অধীন আদালতগুলোতে বিচারপ্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এতে মামলা নিষ্পত্তির বিষয়ে সময়ক্ষেপণ হবে না। ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন আইন-২০২০ এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই আইনের সফল প্রয়োগে পর্যটন শিল্প বিকাশ, বেকারত্ব দূর, আয় বৃদ্ধি হবে বলে জানানো হয়। আইনের বলে, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান হবেন একজন সচিব পদের কর্মকর্তা।
এদিকে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় যুব ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গতকাল সোমবার তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে যুব ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানানো হয় বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) শেখ মুজিবুর রহমান জানিয়েছেন। ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে ভারতকে হারিয়ে যুব টাইগাররা বিজয়ী হওয়ায় মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাদের অভিনন্দন জানানো হয়। আইসিসি অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সকল পর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অসাধারণ নৈপুণ্য ও বিজয়ের মাধ্যমে একটি পরিপূর্ণ সুসংহত দল হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

এ বিজয় বাংলাদেশকে একটি গৌরবময় এক স্থানে নিয়ে গেছে। সচিব মুজিবুর বলেন, মুজিববর্ষের সূচনালগ্নে নতুন প্রজন্মের বিশ্বকাপ জয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বির্নিমানে এক অনন্য সংযোজন, এক অসাধারণ অর্জন। মন্ত্রিসভা কমিটি মনে করে, এ অর্জন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের ক্রীড়া উন্নয়নে গৃহীত ক্রীড়া উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচির ফলপ্রসূতার পরিচায়ক। মন্ত্রিসভা এ-ও আশা করে যে প্রথমবারের মত এ অর্জন অনুর্ধ্ব ১৯ দলকে আরও দৃঢ় প্রত্যয়ী করে তুলবে এবং ভবিষতে আরও ভালো ফল আনার ক্ষেত্রে উদ্দীপনা জোগাবে। নিরলস অনুশীলনের মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল একই ধারাবাহিকতায় কাঙিাক্ষত ফলাফল অর্জন করে জাতিকে গৌরবান্বিত করবে বলেও মন্ত্রিসভা আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।
জাতির বৃহত্তর স্বার্থে চীন থেকে আর কাউকে আনা হচ্ছে না: নভেল করোনা ভাইরাসের (এনসিওভি) সংক্রমণের হাত থেকে মুক্ত থাকতে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে চীন থেকে আর কাউকে আনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সরকার। শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, করোনা ভাইরাস নিয়ে ইনফরমালি যতটুকু কথা হয়েছে তাতে আপাতত চীনে আমাদের যারা আছেন, তাদের আনার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে একটা দাবি উঠেছে। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে যে, তারা যে যুক্তিগুলো দিয়েছে যেমন- খাবারের অভাব, সাপোর্ট পাচ্ছেন না, আসলে তাদের খাবার-দাবারের কোনো অভাব নেই।

বরং তাদের সব সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে তাদের আনার কোনো জাস্টিফিকেশন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা ইতোমধ্যে যে চ্যালেঞ্জ- যে বিশেষ বিমানে নিয়ে আসলাম, সেই বিমান এবং বিমানের ক্রু-পাইলট অন্যদেশ এক্সেপ্ট করছে না। তাই আমাদের এ মুহূর্তে পরবর্তী যে লট সেটা আনার জন্য কোনো তরফ থেকে জাস্টিফিকেশন আসেনি। তার কারণে আপাতত সেটা হচ্ছে না, ফর দ্যা গ্রেটার ইন্টারেস্ট অব দ্য নেশন।

বিদেশ যাত্রায় এখন থেকে সঙ্গে রাখা যাবে ১০ হাজার ডলার
                                  

 বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখন থেকে ঘোষণা ছাড়াই ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত সঙ্গে রাখা যাবে, যা আগে ছিল পাঁচ হাজার ডলার। বিদেশে যাওয়া-আসায় সঙ্গে ডলার রাখার সর্বোচ্চ অঙ্ক দ্বিগুণ করে গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে। বিদেশ গমনাগমনে সঙ্গে রাখা অর্থের অঙ্ক বাড়িয়ে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৫ হাজার ডলার করা হয়েছিল।

এদিকে বিদেশ গমনাগমনে বছরে ১২ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়ার সীমা বেঁধে দেওয়া রয়েছে। এখন থেকে একবারে কোনো বাংলাদেশি বিদেশ যাওয়ার সময় কোনো ঘোষণা ছাড়া অনধিক ৫ হাজার মার্কিন ডলার সঙ্গে রাখতে পারবেন এবং বিদেশ থেকে আসার সময়ও একই পরিমাণ ডলার ঘোষণা ছাড়াই বহন করতে পারবেন। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ব্যাংকগুলোর নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান আনিস এ খান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্তটি খুব ভালো একটি সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমেরিকায় ১০ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এতদিন ৫ হাজার ডলার নিয়ে যাওয়া যেত।

এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী ডলার বৈধভাবে নিয়ে যাবে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘোষণা ছাড়া আনা ডলার অনিবাসী বাংলাদেশিরা ফেরত আসার পর যে কোনো সময় টাকায় ভাঙাতে পারবেন অথবা বৈদেশিক মুদ্রা হিসাবে জমা করতে পারবেন। তবে এই পরিমাণের বেশি ডলার ঘোষণা দিয়ে আনার ৩০ দিনের মধ্যে টাকায় ভাঙাতে হয়। শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে এফএমজে ফরমে ঘোষণা দিয়ে যে কোনো পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আনার সুযোগ রয়েছে। এখন ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত আনার ক্ষেত্রে কোনো ঘোষণার প্রয়োজন হবে না।

 

রক্তে রাঙ্গানো ফেব্রুয়ারি মাস শুরু
                                  

‘আমার ভাই এর রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমি কি ভুলিতে পারি’- রক্তে রাঙ্গানো সেই ফেব্রুয়ারি মাস- ভাষা আন্দোলনের মাস শুরু হয়েছে আজ শনিবার থেকে। আজ থেকে ধ্বনিত হবে সেই অমর সংগীতের অমিয় বাণী। বাঙ্গালী জাতি পুরো মাসজুড়ে ভালোবাসা জানাবে ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছিলেন তাদের। ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ফেব্রুয়ারি ছিল ঔপনিবেশিক প্রভুত্ব ও শাসন-শোষণের বিরুদ্ধে বাঙালির প্রথম প্রতিরোধ এবং জাতীয় চেতনার প্রথম উন্মেষ।

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে দুর্বার আন্দোলনে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিকের রক্তের বিনিময়ে বাঙালি জাঁতি পায় মাতৃভাষার মর্যাদা এবং আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেরণা। তারই পথ ধরে শুরু হয় বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলন এবং একাত্তরে নয় মাস পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। বস্তুত ফেব্রুয়ারি মাস একদিকে শোকাবহ হলেও অন্যদিকে আছে এর গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। কারণ পৃথিবীর একমাত্র জাঁতি বাঙালি ভাষার জন্য এ মাসে জীবন দিয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে শুরু হবে নানা কর্মসূচি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার আবার হয়ে উঠবে জমজমাট। অন্যদিকে একুশের মাসের সবচেয়ে বড় কর্মযজ্ঞ মাস ব্যাপি বইমেলা শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার থেকে। ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা দুই সিটির নির্বচনের কারণে এবার মেলার শুরু একদিন পিছিয়ে ২ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে। এদিন বাংলা একাডেমিতে বিকাল তিনটায় এই মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার বইমেলার একটি নতুন থিম নির্ধারণ করা হয়েছে। আর তা হলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ। গ্রন্থমেলা বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করা হয়েছে। স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে মেলার আঙ্গিক ও সামগ্রিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন। বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে অনেক স্থাপনা করা হয়েছে। মেলার বিভিন্ন অংশ বঙ্গবন্ধুকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যাতে তাঁর জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে।

অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে একই দিন ২ ফেব্রুয়ারি থেকে থেকে শুরু হচ্ছে দু’দিনব্যাপী ‘৩৪তম’ জাতীয় কবিতা উৎসব। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবারের অনুষ্ঠানে সাতটি দেশ থেকে কবিরা যোগ দেবেন বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে। এবার জাতীয় কবিতা উৎসবের উদ্বোধন করবেন কবি মহাদেব সাহা। এ ছাড়াও এ উৎসবে তিনজন ভাষা সংগ্রামী প্রবীন কবিকে জাতীয় কবিতা পরিষদ সন্মাননা প্রদান করা হবে। কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত জানান, উৎসবের প্রতিপাদ্য হলো ‘মুজিব আমার স্বাধীনতার অমর কাব্যের কবি।’ এটি জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদের একটি কবিতার পঙক্তি। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এ মাসে আয়োজন করেছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।

‘জলবায়ু বিপর্যয় রোধ করে গণহত্যা বন্ধ করুন’
                                  

জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রকৃতি চরম অসহিষুষ্ণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের ১ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি শিশু সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশুর এক-চতুর্থাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। শিল্পোন্নত দুনিয়ার লাগামহীন কার্বন নিঃসরণ এবং মাত্রাতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার এই অবস্থার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। শিল্পোন্নত ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর সদিচ্ছা না থাকার কারণে জলবায়ু বিপর্যয়ের ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের লাগাম কিছুতেই টেনে ধরা যাচ্ছে না। মাত্রাতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারের কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইডসহ গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের হার না কমে বরং ক্রমাগত বাড়েছে এবং এই সব গ্যাস বায়ুমন্ডলে আটকা পড়ার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতার মাত্রাকে ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
২০১৮ সালে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণের হার ২ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার ৭০০ কোটি টনের রেকর্ড ছুঁয়েছে। অন্যদিকে উষ্ণতা বাড়ার কারণে দাবানলে বনভূমি পুড়ে সেখানেও বিপর্যয়কর অবস্থা তৈরি হচ্ছে। সবকিছু মিলে উষ্ণায়নের কারণে বেড়েই চলেছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। ফলে বাড়ছে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার হার। প্রতিনিয়ত গলছে হিমবাহের বরফ, উত্তপ্ত হচ্ছে সমুদ্র, বাড়ছে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা। বাড়ছে খরা-তাপদাহ-বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক ঋতুচক্র। এসবের কারনে প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে আবাদী শস্য- ধান, গম, ভুট্টা সহ ক্ষেতের অন্যান্য ফসল; ফলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ও আরো হবে। বৈশ্বিক উষ্ণতার বৃদ্ধির কারণে অনেক প্রজাতির পতঙ্গ মারা যাচ্ছে; ফলে পরাগায়ণ না হওয়া কারণে ফুল ও ফলের উৎপাদন কমে গিয়ে কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে। জলবায়ুর বিপর্যয়ের ফলে ইতোমধ্যে বহু প্রজাতি উদ্ভিদ ও প্রাণী বিলীন হয়ে গেছে। এই বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়া এখনো চলমান।
সমুদ্র উপকূলে এসব অঞ্চলে লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে মিঠা পানির মাছ মারা যাওয়ার কারনে মাছের উৎপাদন বছরের প্রায় ৬০ ভাগ মাছের উৎপাদন কমে গেছে। ইতোমধ্যে ভূ-গর্ভস্থ পানি ও মাটির লবনাক্ততা বৃদ্ধির কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখো মানুষের কৃষি নির্ভর অর্থনীতি, জীবন জীবিকার উপর মারাত্নক প্রভাব ফেলছে। লবনাক্ততা কারনে উপকূলীয় এলাকার আদিবাসীদেরও প্রয়োজনীয় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষকে সুপেয় পানির জন্য ক্ষেত্রে বিশেষ ১০- ১২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চল ভূগর্ভস্থ পানির স্তর হ্রাস পাওয়ায় অনেক এলাকায় দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে দেশে লবণাক্ত ভূমির পরিমাণ ছিল ৮,৩০,০০০ হেক্টর, আর এখন লবনাক্ত ভূমির পরিমাণ প্রায় ৩৫ লক্ষ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। বিগত কয়েক বছরের ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসের ক্ষত নিয়ে এখনও মানবেতর জীবন-যাপন করছে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক উপকূলীয় মানুষ।
বৈশ্বিত উষ্ণতা রোধ করতে না পারলে ২০৫০ সালের মধ্যে ৩-৮ফুট পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে, তখন লবণাক্ততার পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বিপুল এলাকায়। ২০৫০ খ্রিঃ মধ্যে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের স্থল ভাগের প্রায় ২০ ভাগ পানির নিচে তলিয়ে যাবে। জলবায়ু বিপর্যয় ফলে বাংলাদেশে ১৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, এতে ১.৯৪ কোটি শিশুর প্রাণ হুমকির মধ্যে পড়বে। ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বেশির ভাগ স্থলভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাবে। বিশেষ করে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চল মরুভূমিতে পরিণত হবে। মালদ্বীপের মতো বাংলাদেশের অনেক মানুষের বাস্তু”্যুতি ঘটবে।

রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব আছে, এমন কিছু না করা, যাতে করে অন্য রাষ্ট্রের কোন ক্ষতি হয়। আন্তর্জাতিক প্রথা আইনের বলে পরিবেশ রক্ষায় রাষ্ট্রের উপর কিছু দায়দায়িত্ব অর্পিত ছিল। ঞৎধরষ ঝসবষঃবৎ অৎনরঃৎধঃরড়হ (ট্রেইল স্মেলটার সালিস, ১৯৩৮) মামলায় সিদ্ধান্ত: কোন দেশ নিজের ভূ-খন্ড এমন ভাবে ব্যবহার করতে পারে না, যাতে করে নিজ ভূ-খন্ড হতে নির্গত ধোঁয়া বা অন্য কোন কারণে অন্য ভূ-খন্ড বা অন্য ভূ-খন্ডের অধিবাসী কিংবা অন্য কোন সম্পত্তির কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঈড়হভঁ ঈযধহহবষ ঈধংব,১৯৪৯ মামলায় আদালত ধার্য করেন, যে প্রত্যেক রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে জ্ঞানত নিজের ভূ-খন্ড এমন ভাবে ব্যবহার করতে না দেওয়া যাতে অন্য রাষ্ট্রের অধিকার লঙ্ঘিত হয়।
বর্তমানে জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রভাবে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের মানুষই কোনো না কোনোভাবে প্রভাবিত। জলবায়ুর বিপর্যয়ের ফলে মানুষের অস্তিত্ব আজ চরম সংকটে। জলবায়ুর বিপর্যয়ের রোধ করতে না পারলে মানুষের খাদ্যাভাব দেখা দিবে, যার ফলে মানুষ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। উদ্বাস্তু মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে দারিদ্রতা, খাদ্যাভাব, সুপেয় পানির অভাব দেখা দিবে ফলে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে।
জলবায়ুর বিপর্যয় অর্থ্যাৎ অস্বাভাবিক পরিবর্তনের করালগ্রাস থেকে রক্ষা পেতে হলে এখনই জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। তাই পরিবেশ দূষণরোধে ব্যক্তিগতভাবে যেমন সচেতন হতে হবে তেমনি সমষ্টিগত ভাবে তা প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা চাই সরকার জলবায়ুর বিপর্যয়(ঈষরসধঃব ঈৎরংরং)স্বীকার করে, জলবায়ু বিপর্যয় জনিত জরুরী অবস্থা ঈষরসধঃব ঊসবৎমবহপু ঘোষণা করার পাশাপাশি বিশ্বনেতৃত্বেও উপর চাপ সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুক। জলবায়ু বিপর্যয় এবং বিপর্যয় মোকাবেলায় করনীয় বিষয়গুলো স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য বইগুলোতে সংযুক্ত করুন, এবং সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধ করুন। আমাদের দাবিগুলো বিশ্ববাসীকে জানানো।
সার্বিকভাবে জলবায়ুর বিপর্যয় মোকাবেলায় আমাদের থেমে থাকলে চলবে না পুরো জাতীকে ঐক্যবন্ধ করে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। আমরা যদি সচেতন না হই বা বিশ্ববাসীকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি বা এর বিরুপ প্রভাব সম্পর্কে জানান দিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করি, তাহলে ২০৫০ সালে মধ্যে বাংলাদেশের অনেকাংশ পানির নিচে নিম্মজ্জিত থাকবে। একই চেইন রিয়াকশানে পুরো পৃথিবী থেকেই প্রাণের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যেতে পারে।

আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঞা, আইনজীবি

সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান
                                  

 সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) দ্বারা বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন এক শিক্ষার্থী। গতকাল শনিবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে প্রতিবাদী এ কর্মসূচীতে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ`র শিক্ষার্থী নাসির আবদুল্লাহ। তিনি জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সীমান্তে অব্যাহতভাবে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যা করছে বিএসএফ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্ষেত্রে নির্বিকার রয়েছে। যা খুবই দুঃখজনক। এক প্রশ্নের জবাবে অবস্থানকারী এ শিক্ষার্থী জানান, এক-দুইদিনের দিনের জন্য তিনি অবস্থান কর্মসূচিতে বসেননি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তিনি অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরবেন না।


গায়েবানা জানাজা
সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে এদিন রাজু ভাস্কর্যের সামনে গায়েবানা জানাজা পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা দাবি করেন, গত ২৩ দিনে সীমান্তে ১৯ বাংলাদেশি হত্যা করা হয়েছে। যার প্রতিবাদে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ ব্যানারে গায়েবানা জানাজা পড়েন তারা । এসময় তারা ‘সীমান্তে মানুষ মরে, শেখ হাসিনা কী করে?’ , ‘দালালি আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘ভারতের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’ স্লোগান দেন। জানাজা শেষে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক খন্দকার রাকিব বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিনা বিচারে, বিনা অপরাধে অনেককে হত্যা করা হয়েছে। কোনও নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ভারত আমাদের দেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করছে। এর কোনও প্রতিকার বাংলাদেশ সরকার করছে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।`

সড়ক নিরাপদ থাকলে মানুষের প্রাণও নিরাপদ থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন
                                  

 মানুষের নিরাপত্তায় কাজ করি বলেই নিরাপদ সড়ক নিয়ে আন্দোলন করি। সড়ক নিরাপদ থাকলে রাস্তায় মানুষের প্রাণ নিরাপদ থাকবে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নওগাঁর ঐতিহ্যবাহী বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র অভিনেতা ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এ কথা বলেন। ইলিয়াস কাঞ্চন জানান, ২৭ বছর আগে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আমি আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি।

আমি জানি সড়ক দুর্ঘটনা রোধ হলেও আমার স্ত্রীকে ফিরে পাবো না। আমার সন্তানরা যে কষ্ট পেয়েছে সেটা ফিরে আসবে না। এজন্য আমি এতদিন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন করছি। যাতে আমার স্ত্রী মতো আর কাউকে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে না হয়। এ সময় ইলিয়াস কাঞ্চন শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে সকলকে অধিকতর সচেতন হওয়া ও সমাজ থেকে কুসংস্কার, মাদক, বাল্যবিবাহ দূর করতে একসঙ্গে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি মাহমুদাল ফারুকের সভাপতিত্বে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এএসএম আজাদ হোসেন, জিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের অ্যাডিশনাল চিফ কেমিস্ট অবসরপ্রাপ্ত আকরাম হোসেন, মেরিন ইঞ্জিনিয়ার অবসরপ্রাপ্ত আবদুল বারী, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ আল ফারুক, নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সভাপতি রায়হান আলম, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সাব্বির রহমান রেজভীসহ প্রমুখ উপস্থতি ছিলেন।

 

শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠলে বদলে যাবে সন্দ্বীপ
                                  

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে এবার শিল্প নগরী হবে। উপজেলাটির মুছাপুর ইউনিয়নে ১০ একর জায়গায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে একটি প্রকল্প নিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। আর এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও জমি প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে বিসিককে। উল্লেখিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেখানে খাদ্য ও খাদ্যজাত, টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বনজ এবং প্যাকেজিং খাতের শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে সেখানে।

সন্দ্বীপের নদী তীরবর্তী ঘাট থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরত্বে প্রকল্প এলাকা হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোও সম্ভব হবে। আর এমন ধরনের সু-খবরটি পেয়ে সন্দ্বীপের মানুষ ভীষণ আনন্দিত। বর্তমানে শহরমুখী মানুষগুলো সেখানে বসবাস এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সন্দ্বীপের প্রবাসীরা কেউ কেউ জমি ক্রয় করতেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এতে করে গোটা সন্দ্বীপ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আরো যাবে এমন সংবাদ এলাকাবাসীর মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। বিসিকের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) খোন্দকার আমিনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সন্দ্বীপ উপজেলায় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক হচ্ছে। এখন আমরা উদ্যোক্তা খুঁজছি।

সন্দ্বীপে কারখানা করবেন এমন ১০ জন উদ্যোক্তার সন্ধান পেলেই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। একাধিক সূত্র জানায়, সারাদেশে শিল্পমন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি প্রতিশ্রুতি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলার প্রকল্পটিও এই প্রতিশ্রুতিভূক্ত। বিগত ২০১২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই উপজেলার সরকারি হাজি আবদুল বাতেন কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, উপজেলাটিতে শিল্পনগরী গড়ে তোলার। পরে একই বছরের ২০ মার্চ বিসিকের পরিকল্পনা বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। পরিকল্পনা বিভাগের গঠিত ওই কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্বীপের প্রথম শিল্পাঞ্চল নির্মাণে ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা তৈরি করে। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যা ছাড়াও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে যায়। তবে ২০১৮ সালে সন্দ্বীপের জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন হওয়ার পর নতুন করে ভাবতে শুরু করে বিসিকের পরিকল্পনা বিভাগ। ওই সময় প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে সর্বশেষ জমি অধিগ্রহণ ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ মার্চ ডিপিপি পুনরায় গঠন করা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর। গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে জমি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পায় বিসিক। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্রও পায় বিসিক। এখন অপেক্ষা একনেক সভায় অনুমোদনের।

ওদিকে প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৬৩ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে শিল্প উদ্যোক্তাদের। এর মধ্যে এ-টাইপ ১৮ (৬ হাজার বর্গফুট) প্লট, বি-টাইপ ২০টি (সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুট), সি-টাইপ ২০টি (৩ হাজার বর্গফুট) এবং এস বা স্পেশাল টাইপ প্লট ৫টি (প্রতিটি ২ হাজার ৪০০ থেকে বিভিন্ন টাইপের) রাখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবছর সন্দ্বীপে সর্বাধিক পরিমাণ ধান, বাদাম, শুকনো মরিচ, নারকেল, শীতের সবজি, ডাল ও মৌসুমি ফল উৎপাদন হয়। পাশাপাশি সমুদ্র তীরবর্তী দ্বীপ হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের আধিক্যও রয়েছে দ্বীপটিতে। তাছাড়াও চরাঞ্চলে প্রচুর মহিষ ও গরুর দুধ পাওয়া যায় যা বিসিক শিল্পনগরীর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজতকরণ সম্ভব হবে। মূলত: কুটির শিল্পকেন্দ্রিক, কৃষিভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিসিক শিল্প নগরী এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান এবং পণ্য উৎপাদনে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে বলে আশা করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অপরদিকে উল্লেখিত সংবাদ পেয়ে সন্দ্বীপের প্রবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ চট্টগ্রামে জায়গা না ক্রয় করে সন্দ্বীপে ক্রয় করতেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এতে জমির মালিকরাও জমির দাম হাকাচ্ছেন বেশি। নতুন নতুন ইটভাটাও স্থাপন করছেন ব্যবসায়ীরা। এলাকায় এলাকায় নতুন মডেলের মার্কেট স্থাপনতো চলছেই। এদিকে সন্দ্বীপ থেকে নিকটবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের সাথে সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিও সড়ক যোগাযোগ চালুর জন্য জোরালো ভুমিকা পালন করছেন। শেষ পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ চালু এবং শিল্পনগরী গড়ে উঠলে সন্দ্বীপ এবং কোম্পানীগঞ্জের লাখ লাখ মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠলে বদলে যাবে সন্দ্বীপ
                                  

চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে এবার শিল্প নগরী হবে। উপজেলাটির মুছাপুর ইউনিয়নে ১০ একর জায়গায় শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে একটি প্রকল্প নিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)। আর এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনও জমি প্রাপ্তির বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে বিসিককে। উল্লেখিত প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সেখানে খাদ্য ও খাদ্যজাত, টেক্সটাইল, হালকা প্রকৌশল, মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, বনজ এবং প্যাকেজিং খাতের শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে অন্তত সাড়ে ৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে সেখানে।

সন্দ্বীপের নদী তীরবর্তী ঘাট থেকে মাত্র ৯ কিলোমিটার দূরত্বে প্রকল্প এলাকা হওয়ায় উৎপাদিত পণ্য দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছানোও সম্ভব হবে। আর এমন ধরনের সু-খবরটি পেয়ে সন্দ্বীপের মানুষ ভীষণ আনন্দিত। বর্তমানে শহরমুখী মানুষগুলো সেখানে বসবাস এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সন্দ্বীপের প্রবাসীরা কেউ কেউ জমি ক্রয় করতেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এতে করে গোটা সন্দ্বীপ দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আরো যাবে এমন সংবাদ এলাকাবাসীর মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে। বিসিকের মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) খোন্দকার আমিনুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, সন্দ্বীপ উপজেলায় শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার প্রকল্পটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি মোতাবেক হচ্ছে। এখন আমরা উদ্যোক্তা খুঁজছি।

সন্দ্বীপে কারখানা করবেন এমন ১০ জন উদ্যোক্তার সন্ধান পেলেই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হবে। একাধিক সূত্র জানায়, সারাদেশে শিল্পমন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি প্রতিশ্রুতি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সন্দ্বীপ উপজেলার প্রকল্পটিও এই প্রতিশ্রুতিভূক্ত। বিগত ২০১২ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি এই উপজেলার সরকারি হাজি আবদুল বাতেন কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, উপজেলাটিতে শিল্পনগরী গড়ে তোলার। পরে একই বছরের ২০ মার্চ বিসিকের পরিকল্পনা বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন। পরিকল্পনা বিভাগের গঠিত ওই কমিটি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে দ্বীপের প্রথম শিল্পাঞ্চল নির্মাণে ১১ কোটি ৭৭ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবনা তৈরি করে। কিন্তু বিদ্যুৎ সমস্যা ছাড়াও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে যায়। তবে ২০১৮ সালে সন্দ্বীপের জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন হওয়ার পর নতুন করে ভাবতে শুরু করে বিসিকের পরিকল্পনা বিভাগ। ওই সময় প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন করে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তবে সর্বশেষ জমি অধিগ্রহণ ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৯ সালের ৬ মার্চ ডিপিপি পুনরায় গঠন করা হয়। এতে প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। প্রকল্পের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর। গত বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন থেকে জমি প্রাপ্তির নিশ্চয়তা পায় বিসিক। এর আগে ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ছাড়পত্রও পায় বিসিক। এখন অপেক্ষা একনেক সভায় অনুমোদনের।

ওদিকে প্রকল্পের ডিপিপি সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৬৩ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে শিল্প উদ্যোক্তাদের। এর মধ্যে এ-টাইপ ১৮ (৬ হাজার বর্গফুট) প্লট, বি-টাইপ ২০টি (সাড়ে ৪ হাজার বর্গফুট), সি-টাইপ ২০টি (৩ হাজার বর্গফুট) এবং এস বা স্পেশাল টাইপ প্লট ৫টি (প্রতিটি ২ হাজার ৪০০ থেকে বিভিন্ন টাইপের) রাখা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রতিবছর সন্দ্বীপে সর্বাধিক পরিমাণ ধান, বাদাম, শুকনো মরিচ, নারকেল, শীতের সবজি, ডাল ও মৌসুমি ফল উৎপাদন হয়। পাশাপাশি সমুদ্র তীরবর্তী দ্বীপ হওয়ায় সামুদ্রিক মাছের আধিক্যও রয়েছে দ্বীপটিতে। তাছাড়াও চরাঞ্চলে প্রচুর মহিষ ও গরুর দুধ পাওয়া যায় যা বিসিক শিল্পনগরীর মাধ্যমে প্রক্রিয়াজতকরণ সম্ভব হবে। মূলত: কুটির শিল্পকেন্দ্রিক, কৃষিভিত্তিক শিল্পের মাধ্যমে সন্দ্বীপে বিসিক শিল্প নগরী এ অঞ্চলের কর্মসংস্থান এবং পণ্য উৎপাদনে দেশের অর্থনীতিতে বিশাল অবদান রাখবে বলে আশা করছে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অপরদিকে উল্লেখিত সংবাদ পেয়ে সন্দ্বীপের প্রবাসীদের মধ্যে কেউ কেউ চট্টগ্রামে জায়গা না ক্রয় করে সন্দ্বীপে ক্রয় করতেও দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। এতে জমির মালিকরাও জমির দাম হাকাচ্ছেন বেশি। নতুন নতুন ইটভাটাও স্থাপন করছেন ব্যবসায়ীরা। এলাকায় এলাকায় নতুন মডেলের মার্কেট স্থাপনতো চলছেই। এদিকে সন্দ্বীপ থেকে নিকটবর্তী উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের সাথে সড়ক যোগাযোগ চালু হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে লেখালেখি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিও সড়ক যোগাযোগ চালুর জন্য জোরালো ভুমিকা পালন করছেন। শেষ পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ চালু এবং শিল্পনগরী গড়ে উঠলে সন্দ্বীপ এবং কোম্পানীগঞ্জের লাখ লাখ মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবেন বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

কক্সবাজারকে ডিজিটাল পর্যটন সুপারসিটি ঘোষণার দাবি
                                  

 কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ কক্সবাজারকে ডিজিটাল পর্যটন সুপারসিটি হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। গতকাল বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে উল্রেখ করে এই পর্যটন নগরীকে ডিজিটাল পর্যটন সুপারসিটি ঘোষণার পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, মালেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের সিংহভাগ আয়ের উৎস পর্যটন খাত। অথচ আমাদের দেশে বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও এ খাতে এখনও আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। তাই বর্তমান সরকারের উচিত কক্সবাজারকে ডিজিটাল সুপারসিটি হিসেবে ঘোষণার পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের উপদেষ্টা মাজহারুল ইসলাম দেশের পর্যটন নিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাত নিয়ে মাস্টার প্ল্যান তৈরি করা দরকার। এই মাস্টার প্ল্যান আমাদের দেশের জন্য অত্যন্ত জরুরী। বাংলাদেশে পর্যটনের বিকাশ ঘটিয়েই দেশকে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তির পাশাপাশি অর্থনীতির ভিত্তিকে মজবুত করা সম্ভব।

কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি রুহুল আমিন সিকদার সংবাদ সম্মেলনে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে ২টি ভাগে ভাগ করে আলাদা পর্যটন মন্ত্রণালয় করার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের উপদেষ্টা এ টি এম গোলাম মাওলা চৌধুরী, কক্সবাজার ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি আবু ছৈয়দ, কক্সবাজার উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি গোলাম আরিফ লিটন, সহ-সভাপতি শাহ আলম, জগদীশ বড়ুয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামছুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন ২২ জানুয়ারি
                                  

২২ জানুয়ারি বুধবার ইলেকট্রনিকস পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনার উদ্বোধন করবেন।

রবিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ই-পাসপোর্ট ভবন ও ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি বলেন, এই পাসপোর্ট বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে এবং পাসপোর্টের নিরাপত্তা অধিকতর নিশ্চিতকরণসহ ই-পাসপোর্টের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণ ও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের আওতাধীন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় জার্মান কোম্পানি ভেরিডোস জিএমবিএইচ কর্তৃক ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে ৫ থেকে ১০ বছর।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আগারগাঁও, উত্তরা ও যাত্রাবাড়ী থেকে ই-পাসপোর্ট সরবরাহ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৩৫০০ টাকা, জরুরি ফি ৫৫০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৭৫০০ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ৫০০০ টাকা, জরুরি ফি ৭০০০ টাকা ও অতীব জরুরি ফি ৯০০০ টাকা।

নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে অতীব জরুরিতে ৩ দিনে, জরুরিতে ৭ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে ২১ দিনের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে। তবে পুরনো অথবা মেয়দোত্তীর্ণ পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার ক্ষেত্রে অতীব জরুরি পাসপোর্ট ২ দিনে, জরুরি পাসপোর্ট ৩ দিনে ও সাধারণ পাসপোর্ট ৭ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

এছাড়া, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরো পড়ুন : ডিআইজি মিজান ও বাছিরের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

ই-পাসপোর্টের আবেদনপত্র জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা জন্মনিবন্ধন সনদ (বিআরসি) অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক (১৮ বছরের কম) আবেদনকারী, যার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই, তার পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ডিজিটালাইজড আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে। সেটি নিবন্ধন রয়েছে। কাজেই তথ্য গোপন করে কোনও রোহিঙ্গাদের ই-পাসপোর্ট গ্রহণের সুযোগ নাই। তারপরও রোহিঙ্গারা যদি বিভিন্ন ধরনের ফাঁক-ফোকরের মাধ্যমে ই-পাসপোর্ট করতে যায় তাহলে বিভিন্ন প্রশ্নে তারা ধরা পড়বে।

তিনি বলেন, ই-পাসপোর্টের জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগবে তবে বিভিন্ন ধরনের নাজেহাল এড়াতে এটি অনলাইনে করার চেষ্টা করছি যেন অতীতের তুলনায় সহজ হয়।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে দেশের সর্বত্র ই-পাসপোর্ট চালু হবে। বাংলাদেশে প্রথম ই-পাসপোর্ট পাবে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী। প্রতিদিন ২৫ হাজার পাসপোর্ট ইস্যু করা যাবে।’

সংবাদ সম্মেলনে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। বাসস

দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু
                                  

 দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করেছে। কেন্দ্রটিকে গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সিনক্রোনাইজিং বা সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবুধাবি থেকে দেশে ফিরলে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। ুবাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানির (বিসিপিসিএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ এম খোরশেদুল আলম কেন্দ্রটির উৎপাদন শুরুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সফলভাবে কেন্দ্রটি বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। বিভিন্ন ধাপে এখন উৎপাদন বৃদ্ধি করা হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে সুবিধাজনক সময়ে কেন্দ্রটি উদ্বোধন করবেন তিনি। ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক শাহ আবদুল মাওলা বলেন, আজকে (গতকাল সোমবার) বেশ কিছুক্ষণ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালানো হয়েছে। এখন ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যাচ্ছে গ্রিডে।

দুপুরের পর আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেবো। মঙ্গলবার (আজ) আবারও চালাবো। প্রতিদিন অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে, এরপর বাড়ানো হবে। পাশাপাশি যন্ত্রপাতিগুলোও চলবে এই মাসজুড়েই। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হওয়া নিয়ে এক ধরনের উচ্ছ্বাস ছিল সবার মাঝে। কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র তো বটেই, এটি দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। সব মিলিয়ে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এর আগে দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনক্ষমতা ছিল ৪৫০ মেগাওয়াট, যা গ্যাসচালিত।

আমদানি করা কয়লায় উৎপাদনের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশ এবং চীনের সমান অংশীদারিত্বে নির্মাণ করা হয়েছে। কেন্দ্রটি রাষ্ট্রীয় নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল) এবং চীনের ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি) যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। দুই বিলিয়ন ডলার বা ১৬ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে নির্মিত এই কেন্দ্রের ঋণ সহায়তা দিয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। কেন্দ্রটি নির্মাণে এনডব্লিউপিজিসিএল এবং সিএমসি যৌথভাবে বিসিপিসিএল গঠন করেছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রথম ইউনিট ৬৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিটটি উৎপাদনে আসবে আগামি মে মাসে। উল্লেখ্য, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ।

দুদকের ভয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অর্থ খরচে স্থবিরতা
                                  

 সরকারি স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আতঙ্ক বিরাজ করছে। সব কাজকর্ম স্থবির হয়ে রয়েছে। মূলত গত এক বছরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের অভিযানই স্বাস্থ্য খাতে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তার মধ্যে কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে, কেউ গ্রেপ্তার আতঙ্কে রয়েছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার থেকে বাঁচতে কেউ কেউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, কেউ গা-ঢাকা দিয়েছে। ফলে সার্বিকভাবে সরকারি স্বাস্থ্য খাতে এক ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুদকের ভয়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা নিজেদের গুটিয়ে রেখেছে। যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর প্রয়োজন হলেও ওই প্রক্রিয়ায় হাত দেয়া হচ্ছে না।

ফলে গত অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের বড় ধরনের অর্থ ফেরত গেছে। চলতি অর্থবছরেও বরাদ্দ অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছর শেষেও বিপুল অর্থ ফেরত যাবে। ফলে মুখ থুবড়ে পড়বে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দুদকের চলমান অভিযানে স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ক্রয় প্রক্রিয়ায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সারাদেশে সরকারি হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজে যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর প্রয়োজন হয়। অথচ দুর্নীতির ভয়ে সবাই হাত গুটিয়ে বসে আছে। কেউ টেন্ডার আহ্বান করছেন না। এমনকি কেনাকাটার বকেয়া পরিশোধের জন্যও তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিংবা মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখছে না। আর ঠিকাদাররা মাসের পর মাস ঘুরেও বকেয়া বিল তুলতে পারছে না। ফলে এক ধরনের স্থবিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে অর্থবছরের ৬ মাস পেরিয়ে গেলেও মোট বরাদ্দের ১০ শতাংশ অর্থও ব্যয় করতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ অবস্থায় আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বাকি ৯০ শতাংশ অর্থ ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ বিগত বছরগুলোতে প্রথম ৬ মাসের মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ব্যয় হতো। আর শেষ ৬ মাসে বাকি অর্থ ব্যয় করা হয়। কিন্তু এবার প্রথম ছয় মাসে ১০ শতাংশ অর্থও ব্যয় হয়নি। এমন অবস্থায় আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাকি ৯০ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে অব্যয়িত অর্থ ফেরত চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থান জিরো টলারেন্স। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচনা-সমালোচনার কারণে ক্রয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার করেছে। অনেকেই এ ধরনের পদে থাকতে চাইছেন না। আবার অনেকে ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকছে কিংবা ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত করছে। তাতে করে স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন বিঘ্নিত ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


সূত্র আরো জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় এদেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ অনেক কম। এ কারণে জনপ্রতি স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৬৭ শতাংশ মানুষই নিজের পকেট থেকে ব্যয় করে। তারপরও যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়, তা ব্যয় করতে না পারা দুঃখজনক। এমন পরিস্থিতি জনগণের স্বাস্থ্যসেবা আরো ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে। আইন মেনে দুর্নীতি যাতে না হয়, সেভাবে কেনাকাটা সম্পন্ন করা হলে কোনো সমস্যা নেই। ভয়ের কোনো কারণ নেই। সততার সঙ্গে কেনাকাটা করলে দুদককে কেন ভয় করতে হবে। সুতরাং, জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি বিবেচনা করে এ ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, অন্যান্য খাতের মতো স্বাস্থ্য খাতও দুর্নীতির বাইরে নয়। তবে অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সবসময়ই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয় নিজ উদ্যোগে তদন্ত করে অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। সুতরাং, অনিয়ম করে কেউ রেহাই পায় না। কিন্তু বর্তমানে এক ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আর্থিক সংশ্লিষ্টতা আছে এমন কাজ করতে কর্মকর্তারা আগ্রহী হচ্ছেন না। তাতে করে কাজকর্মে গতিশীলতা হ্রাস পেতে পারে। সবার প্রতি আহ্বান থাকবে, স্বচ্ছতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করুন। এতে ভয়ের কিছু নেই।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, কোনো সংস্থার ভয়ে নয়, স্বাস্থ্য খাতে অপ্রয়োজনীয় কোনো যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সবাইকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ওই অনুযায়ী বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির তালিকা চাওয়া হয়েছে। তাদের পাঠানো তালিকা ধরে যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে অর্থবছরের প্রথম ৬ মাস কাজকর্মে গতি একটু কম থাকে। পরবর্তী ৬ মাস দ্রুতগতিতে কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এটি শুধু এবারই নয়, বিগত অর্থবছরেও এভাবে কাজ হয়েছে। সুতরাং বাকি ৬ মাসে দ্রুতগতিতে কাজ করে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে।

 


   Page 1 of 12
     এক্সক্লুসিভ
পার্কিং নীতিমালায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান
.............................................................................................
নারী নির্যাতন বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান
.............................................................................................
হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
.............................................................................................
প্রবাসীদের অর্থে বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের জীবনমান
.............................................................................................
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ‘সংশোধন’ আইন ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন
.............................................................................................
বিদেশ যাত্রায় এখন থেকে সঙ্গে রাখা যাবে ১০ হাজার ডলার
.............................................................................................
রক্তে রাঙ্গানো ফেব্রুয়ারি মাস শুরু
.............................................................................................
‘জলবায়ু বিপর্যয় রোধ করে গণহত্যা বন্ধ করুন’
.............................................................................................
সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান
.............................................................................................
সড়ক নিরাপদ থাকলে মানুষের প্রাণও নিরাপদ থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন
.............................................................................................
শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠলে বদলে যাবে সন্দ্বীপ
.............................................................................................
শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠলে বদলে যাবে সন্দ্বীপ
.............................................................................................
কক্সবাজারকে ডিজিটাল পর্যটন সুপারসিটি ঘোষণার দাবি
.............................................................................................
ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন ২২ জানুয়ারি
.............................................................................................
দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু
.............................................................................................
দুদকের ভয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অর্থ খরচে স্থবিরতা
.............................................................................................
নোয়াখালীর হাতিয়া-নিঝুম দ্বীপে হচ্ছে বিশেষ পর্যটন জোন
.............................................................................................
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চালু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ড্রিমলাইনার সোনার তরী ও অচিন পাখি আসছে ২১ ও ২৪ ডিসেম্বর
.............................................................................................
চীনে নির্মিত দুটি ফ্রিগেট নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
.............................................................................................
আগামী বিশ্বকে তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে: বীর বাহাদুর
.............................................................................................
সৌদি, বাংলাদেশে হজযাত্রীর কোটা ১০ হাজার বাড়িয়েছে
.............................................................................................
ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদে সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ
.............................................................................................
সবার জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার: পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল
.............................................................................................
আরও ২২টি মিটারগেজ কোচ আসছে: রেলমন্ত্রী
.............................................................................................
পেনশন নিয়ে নতুন সুখবর দিল সরকার
.............................................................................................
জলবায়ু বিপর্যয়রোধে শিক্ষার্থীরাদের সাথে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা
.............................................................................................
১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন
.............................................................................................
নির্বাচনপ্রক্রিয়া দুর্নীতির আওতামুক্ত নয়: মাহবুব তালুকদার
.............................................................................................
৩ বছরে বিদেশ সফর করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের ৩ হাজার কর্মকর্তা
.............................................................................................
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির দাবি
.............................................................................................
জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে: বিমান সচিব
.............................................................................................
জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে: বিমান সচিব
.............................................................................................
ডাবল লাইনের বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু জানুয়ারিতে: রেলমন্ত্রী
.............................................................................................
ছুটির নোটিশ
.............................................................................................
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
.............................................................................................
মিরপুরের ছয়টি পার্ক ও খেলার মাঠের ত্রিমাত্রিকনকশা প্রণয়ন করলেন স্থানীয়রা
.............................................................................................
আহসানগঞ্জ স্টেশনে ঢাকাগামী আন্ত:নগর ট্রেনের যাত্রা বিরতীর জন্য এলাকাবাসীর মানববন্ধন
.............................................................................................
কর্মস্থলে ফেরার পালা
.............................................................................................
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে স্বাধীন বাংলা ডট কম ৪ দিন বন্ধ থাকবে
.............................................................................................
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নাবিকের পরিবারকে ৮৩ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ
.............................................................................................
নারী নির্যাতন বন্ধে পাঠ্যপুস্তকে পরিবর্তন আনা দরকার: খুশি কবির
.............................................................................................
হামলার হুমকি দিয়ে বাংলায় পোস্টার প্রকাশ করেছে আইএস
.............................................................................................
দক্ষ জনশক্তি গড়তে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় চায় বিএসএইচআরএম
.............................................................................................
সড়ক দূর্ঘটনা হ্রাসে সমতলে সড়ক পারাপারে জেব্রা ক্রসিং এর দাবি
.............................................................................................
বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে বিশেষভাবে সক্ষমব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে
.............................................................................................
‘তাজমহল দেখা ও বউয়ের জন্য শাড়ি কেনা ছাড়া’ ভারতে আমলাদের প্রশিক্ষণে পাওয়ার কিছু নেই : এম হাফিজউদ্দিন খান
.............................................................................................
চীনা ঋণের ফাঁদে এবার কেনিয়া, হারাচ্ছে সমুদ্রবন্দর
.............................................................................................
চীনা ঋণের ফাঁদে এবার কেনিয়া, হারাচ্ছে সমুদ্রবন্দর
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD