ঢাকা, শুক্রবার , ১০ আশ্বিন ১৪২৭ , ২৫ সেপ্টেম্বর , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   এক্সক্লুসিভ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
কার ফ্রি সির্টিস:ঢাকা শহরের বাস্তবতা

কার ফ্রি সির্টিস বলতে আক্ষরিক অর্থে একবারে গাড়ি মুক্ত শহর বুঝালেও মূলতকার ফ্রি সির্টিস একটি শ্লোগান। বাস্তবে কার ফ্রি সির্টিবা গাড়ি মুক্ত শহর বলতে অযান্ত্রিক যানবাহন নির্ভর এবং গণপরিবহন নির্ভর যাতায়াতের শহরকে বুঝানো হয়।সত্তরের দশক থেকে জ্বালানী সঙ্কট মোকাবেলায় সারা ইউরোপে গাড়িমুক্ত শহর দিবসআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। মূলত জলবায়ু বিপর্যয় হতে রক্ষা পেতে এবং বায়ুদূষণ কমাতে এখন এই আন্দোলন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৪ হাজার শহরে প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে অযান্ত্রিক বাহন যেমন বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা-বেন ইত্যাদিকে চলাচলে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে পথচারিকে প্রধান্য দিয়ে থাকেন অর্থাৎ পেডেস্ট্রিয়ান ফার্স্ট পলিসি বাস্তবায়নে অঙ্গিকার বদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও উক্ত দেশগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে ডিসকারিসবাতিরিষ্কার করা হয়, এর পাশাপাশি যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে গণপরিবহন রেল, ট্রাম ও বাস এবং নদীপথে নৌকা ও লঞ্চকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও ২০০৬ সাল হতেবেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগেগাড়িমুক্ত শহর দিবস আন্দোলন শুরু করে। যদিও এখন পর্যন্ত তাঁরা দৃশ্যমান সফলতা পাননি। তবেআশার কথা হলো, সরকারী কয়েকটি সংস্থা উক্ত কার্যক্রম এর সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে বিগত চার বছর ২০১৬ সাল হতে ঢাকা শহরেও সরকারী উদ্যোগেগাড়ি মুক্ত শহর দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবং সরকারী সংস্থাগুলো আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ফলশ্রুতিতে ঢাকা শহরের ০৩ টি স্থানে এখনগাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যা কার ফ্রি স্ট্রিটবা গাড়ি মুক্তসড়ক হিসাবে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করে।
তার মধ্যে একটি স্থান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাসের সড়কের একপাশে (মানিক মিয়া এভিনিউতে) প্রত্যেক শুক্রবার সকাল ৮ টা থেকে সকাল ১১.০০ টা পর্যন্ত, ও প্রতিমাসের প্রত্যেক শুক্রবারউত্তরা সোনারগাঁ জনপদ সড়কের একপাশের ছোট্ট অংশেসকাল ৮ টা থেকে সকাল ১১.০০ টা পর্যন্ত,এবং অন্য আরেকটি মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটিপ্রতিমাসের তৃতীয় শনিবার বিকাল৩টা হতে সন্ধা ৬ টাপর্যন্ত কার ফ্রি স্ট্রিটবা গাড়ি মুক্তসড়ক পালন হয়ে থাকে। গাড়ি চলাচল মুক্ত রেখে রাস্তায় স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন খেলাধুলা,ছবি আঁকা, আবৃতি, সাইক্লিং, স্কেটিং, নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বই পড়া,মেডিটেশন,আড্ডা এবং শরীর চর্চা ইত্যাদির সুযোগ পাচ্ছে, ফলে তাঁদের একঘেয়েমী দূর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ হচ্ছে।


ঢাকা শহরের বর্তমান বাস্তবতায় গাড়ি মুক্ত শহর আন্দোলন তীব্রযানজটও বায়ুদূষণ হতে রক্ষা পেতে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ একে তো ঢাকা শহরে আয়তনের তুলনায় মানুষ অনেক বেশি। শহর ও এর আশেপাশে গাছা-পালা বা বনভূমিও তেমন একটা নেই। শহরে মানুষ বাড়ার সাথে সাথে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার প্রতিদিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তীব্রযানজট। যানজট ও বায়ুদূষণ ঢাকা শহরের জন্য ক্যান্সারের মত রূপ নিয়েছে। এই তীব্রযানজটের কারণেঅর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ কর্মঘন্টা, পুড়ছে জীবাশ্ম জ্বালানী।ফলে বায়ুদূষিত হওয়ার কারণেমানুষ অনেক ধরনের অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে, এবং বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে।যানজটের কারণে রাস্তায় আটকে পড়ে মারা যাচ্ছে অসুস্থ রোগী। এটা যেন “মরার উপর খাড়ার ঘা”। এই শহরে যেন জীবনের কোনো মূল্য নেই।


ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ গাড়িতে জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার। ফলে ঢাকা শহরের বিগতকয়েক বছরে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্র বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গত বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানুষের নাভিশ্বাস বের করে হাঁপিয়ে উঠেছে মানুষ।একে তো শহরকে বিকেন্দ্রিকরন করা হচ্ছে না, তাই সকল নাগরিক সুবিধা পাওয়া আশায় এবং অনেকে জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে পূর্ব-পুরুষের ভেটা-মাটি ছেড়ে জীবন-জীবিকা বাঁচানোর জন্য শহরে স্রোতের বেগে ছুঁটে আসছে।জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রাণ-প্রকৃতি হুমকির সম্মূখীন। এর অন্যতম প্রধান কারণজীবাশ্ম জ্বালানী (তেল, কয়লা, গ্যাসের) ব্যবহার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়া।জীবাশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে কার্বন নিঃসরনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে জলবায়ু বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে। ফলে হুমকির মধ্যে পড়ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজম্ম।


আমরা যদি অযান্ত্রিক যানবাহন ব্যবহার করে যাতায়াত করি, তাহলে শহরে এতোবায়ু দূষণের ও শব্দদূষণ থাকত না। এইজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অযান্ত্রিক যানবাহন (বাই-সাইকেল, রিকশা, রিকশ-বেন ইত্যাদি) চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ও আলাদা আলাদা লেন করে দিতে হবে। যদিও অনেক পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অনেক বছর থেকেঅযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন করা ওব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে আইনও নীতিমালা করতে বলে আসছে।এছাড়াও দূরপাল্লার যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে গণপরিবহন রেল, ট্রাম ও বাস এবং নদীপথে নৌকা ও লঞ্চকে গুরুত্ব দিয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়, তাহলেও তীব্রযানজট ওবায়ু দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তেমন দৃশ্যমান ও কার্যকর গুরুত্ব দিচ্ছে না।যানজট হ্রাসে ও বায়ুদূষণ কমাতে এবং জলবায়ু বিপর্যয় প্রতিরোধে ইতোমধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশ শহরে যাতায়াতে এরকম ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন, এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তার অন্যতম আন্তর্জাতিক উদাহরণ হচ্ছে,লুক্সেমবার্গ ও সিঙ্গাপুর।


এছাড়াও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উদাহরণ রয়েছে, যেমন:ইটালীর ভেনিস শহরটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান।সম্পূর্ণ শহরটিকে ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত করা হয়েছে, কেবলমাত্র বাসস্টপব্যতীত।নিউইয়র্কের রুসভেল্ট দ্বীপটির প্রায় পুরোটাই ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত। নেদারল্যান্ড এর গিথহর্নশহরটি ব্যক্তিগত গাড়িমুক্তহয়েছে। ২০০০ সালে কলম্বিয়ার বোগোতা শহরের মেয়র এনরিক পেনালোসা’র উদ্যোগে শহরের সর্ব প্রথম কার ফ্রি ডে পালন করাহয়। রুয়ান্ডার রাজধানী কিলগিতপ্রতি শনি ও রবিবার সকাল ৬ টা থেকে বিকাল পর্যন্ত গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধথাকে। আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আর্য়াস দেশটির রাজধানী এবংশহরের অধিকাংশটিই হাঁটার উপযোগী। ফাজিলকা ভারতের প্রথম গাড়িমুক্ত শহর। ২০০৮ সালে এবাণিজ্যিক এলাকাটি গাড়িমুক্ত শহরের মর্যাদা লাভ করে।হংকং এর ডিসকভারি বে এর সড়ক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতগাড়িমুক্ত। নেপালের ভক্তপুর শহরটি ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। প্রতি রবিবার সকাল ৬ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত জাকার্তা শহরের কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধথাকে। এ কারণে গাড়িমুক্ত থাকায় এ দিনটি তাদের কাছে হয়ে ওঠে দারুণউপভোগ্য। হাজার হাজার মানুষ এ দিনটি হাঁটা, সাইকেল চালানো, স্কেটিং,অবসর যাপন, খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে উপভোগকরেন। মূলত এ দিনটি দূষণ হ্রাসের জন্য পালন করা শুরু হয়। কিন্তু এদিনটি বর্তমানে জাকার্তাবাসীর জন্য একটি আনন্দময় দিনে পরিণত হয়েছে।নগরবাসী এ দিনে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সামাজিকীকরণের এ অনবদ্যআয়োজনে একজোট হন। আমরা যদি গাড়ীমুক্ত শহর এই আন্দোলনকে সম্মেলিত ও সমন্বিত ভাবে আরো সামনে এগিয়ে নিতে পারি তাহলে ঢাকা শহরেএতো বায়ুদূষণ, শব্দদুষণ এবং যানজট থাকবে না। তখন ঢাকা শহর মানুষ বসবাসের উপযোগী শহরে পরিনত হবে।

আ ন ম মাছুম বিল্লাহ ভূঞা, আইনজীবি

কার ফ্রি সির্টিস:ঢাকা শহরের বাস্তবতা
                                  

কার ফ্রি সির্টিস বলতে আক্ষরিক অর্থে একবারে গাড়ি মুক্ত শহর বুঝালেও মূলতকার ফ্রি সির্টিস একটি শ্লোগান। বাস্তবে কার ফ্রি সির্টিবা গাড়ি মুক্ত শহর বলতে অযান্ত্রিক যানবাহন নির্ভর এবং গণপরিবহন নির্ভর যাতায়াতের শহরকে বুঝানো হয়।সত্তরের দশক থেকে জ্বালানী সঙ্কট মোকাবেলায় সারা ইউরোপে গাড়িমুক্ত শহর দিবসআন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। মূলত জলবায়ু বিপর্যয় হতে রক্ষা পেতে এবং বায়ুদূষণ কমাতে এখন এই আন্দোলন সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর্তমান বিশ্বের প্রায় ৪ হাজার শহরে প্রতি বছর ২২ সেপ্টেম্বর এই দিবসটি পালিত হয়ে থাকে। বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ রেখে অযান্ত্রিক বাহন যেমন বাইসাইকেল, রিকশা, রিকশা-বেন ইত্যাদিকে চলাচলে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে পথচারিকে প্রধান্য দিয়ে থাকেন অর্থাৎ পেডেস্ট্রিয়ান ফার্স্ট পলিসি বাস্তবায়নে অঙ্গিকার বদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও উক্ত দেশগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহারকে ডিসকারিসবাতিরিষ্কার করা হয়, এর পাশাপাশি যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে গণপরিবহন রেল, ট্রাম ও বাস এবং নদীপথে নৌকা ও লঞ্চকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশেও ২০০৬ সাল হতেবেশ কিছু সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগেগাড়িমুক্ত শহর দিবস আন্দোলন শুরু করে। যদিও এখন পর্যন্ত তাঁরা দৃশ্যমান সফলতা পাননি। তবেআশার কথা হলো, সরকারী কয়েকটি সংস্থা উক্ত কার্যক্রম এর সাথে যুক্ত হওয়ার ফলে বিগত চার বছর ২০১৬ সাল হতে ঢাকা শহরেও সরকারী উদ্যোগেগাড়ি মুক্ত শহর দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবং সরকারী সংস্থাগুলো আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার ফলশ্রুতিতে ঢাকা শহরের ০৩ টি স্থানে এখনগাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যা কার ফ্রি স্ট্রিটবা গাড়ি মুক্তসড়ক হিসাবে ইতোমধ্যে পরিচিতি লাভ করে।
তার মধ্যে একটি স্থান জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ পাসের সড়কের একপাশে (মানিক মিয়া এভিনিউতে) প্রত্যেক শুক্রবার সকাল ৮ টা থেকে সকাল ১১.০০ টা পর্যন্ত, ও প্রতিমাসের প্রত্যেক শুক্রবারউত্তরা সোনারগাঁ জনপদ সড়কের একপাশের ছোট্ট অংশেসকাল ৮ টা থেকে সকাল ১১.০০ টা পর্যন্ত,এবং অন্য আরেকটি মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটিপ্রতিমাসের তৃতীয় শনিবার বিকাল৩টা হতে সন্ধা ৬ টাপর্যন্ত কার ফ্রি স্ট্রিটবা গাড়ি মুক্তসড়ক পালন হয়ে থাকে। গাড়ি চলাচল মুক্ত রেখে রাস্তায় স্থানীয় এলাকাবাসীর জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। বিশেষ করে, শিশু-কিশোরদের বিভিন্ন খেলাধুলা,ছবি আঁকা, আবৃতি, সাইক্লিং, স্কেটিং, নারী ও বয়োজ্যেষ্ঠদের বই পড়া,মেডিটেশন,আড্ডা এবং শরীর চর্চা ইত্যাদির সুযোগ পাচ্ছে, ফলে তাঁদের একঘেয়েমী দূর হওয়ার পাশাপাশি মানসিক বিকাশ হচ্ছে।


ঢাকা শহরের বর্তমান বাস্তবতায় গাড়ি মুক্ত শহর আন্দোলন তীব্রযানজটও বায়ুদূষণ হতে রক্ষা পেতে একটি যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ একে তো ঢাকা শহরে আয়তনের তুলনায় মানুষ অনেক বেশি। শহর ও এর আশেপাশে গাছা-পালা বা বনভূমিও তেমন একটা নেই। শহরে মানুষ বাড়ার সাথে সাথে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার প্রতিদিন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তীব্রযানজট। যানজট ও বায়ুদূষণ ঢাকা শহরের জন্য ক্যান্সারের মত রূপ নিয়েছে। এই তীব্রযানজটের কারণেঅর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অপচয় হচ্ছে লক্ষ লক্ষ কর্মঘন্টা, পুড়ছে জীবাশ্ম জ্বালানী।ফলে বায়ুদূষিত হওয়ার কারণেমানুষ অনেক ধরনের অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে, এবং বসবাসের অযোগ্য শহরে পরিণত হয়েছে।যানজটের কারণে রাস্তায় আটকে পড়ে মারা যাচ্ছে অসুস্থ রোগী। এটা যেন “মরার উপর খাড়ার ঘা”। এই শহরে যেন জীবনের কোনো মূল্য নেই।


ঢাকা শহরে বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ গাড়িতে জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহার। ফলে ঢাকা শহরের বিগতকয়েক বছরে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্র বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। গত বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি মানুষের নাভিশ্বাস বের করে হাঁপিয়ে উঠেছে মানুষ।একে তো শহরকে বিকেন্দ্রিকরন করা হচ্ছে না, তাই সকল নাগরিক সুবিধা পাওয়া আশায় এবং অনেকে জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে পূর্ব-পুরুষের ভেটা-মাটি ছেড়ে জীবন-জীবিকা বাঁচানোর জন্য শহরে স্রোতের বেগে ছুঁটে আসছে।জলবায়ু বিপর্যয়ের কারণে প্রাণ-প্রকৃতি হুমকির সম্মূখীন। এর অন্যতম প্রধান কারণজীবাশ্ম জ্বালানী (তেল, কয়লা, গ্যাসের) ব্যবহার প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়া।জীবাশ্ম জ্বালানী পুড়িয়ে কার্বন নিঃসরনের কারণে ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে জলবায়ু বিপর্যয় ঘটানো হচ্ছে। ফলে হুমকির মধ্যে পড়ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজম্ম।


আমরা যদি অযান্ত্রিক যানবাহন ব্যবহার করে যাতায়াত করি, তাহলে শহরে এতোবায়ু দূষণের ও শব্দদূষণ থাকত না। এইজন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অযান্ত্রিক যানবাহন (বাই-সাইকেল, রিকশা, রিকশ-বেন ইত্যাদি) চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট ও আলাদা আলাদা লেন করে দিতে হবে। যদিও অনেক পরিবেশবাদী ও সামাজিক সংগঠন অনেক বছর থেকেঅযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের জন্য আলাদা লেন করা ওব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার নিয়ন্ত্রনে আইনও নীতিমালা করতে বলে আসছে।এছাড়াও দূরপাল্লার যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে গণপরিবহন রেল, ট্রাম ও বাস এবং নদীপথে নৌকা ও লঞ্চকে গুরুত্ব দিয়ে যাতায়াত নিশ্চিত করা হয়, তাহলেও তীব্রযানজট ওবায়ু দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে। কিন্তু যথাযথ কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তেমন দৃশ্যমান ও কার্যকর গুরুত্ব দিচ্ছে না।যানজট হ্রাসে ও বায়ুদূষণ কমাতে এবং জলবায়ু বিপর্যয় প্রতিরোধে ইতোমধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশ শহরে যাতায়াতে এরকম ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন, এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তার অন্যতম আন্তর্জাতিক উদাহরণ হচ্ছে,লুক্সেমবার্গ ও সিঙ্গাপুর।


এছাড়াও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উদাহরণ রয়েছে, যেমন:ইটালীর ভেনিস শহরটি পর্যটকদের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান।সম্পূর্ণ শহরটিকে ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত করা হয়েছে, কেবলমাত্র বাসস্টপব্যতীত।নিউইয়র্কের রুসভেল্ট দ্বীপটির প্রায় পুরোটাই ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত। নেদারল্যান্ড এর গিথহর্নশহরটি ব্যক্তিগত গাড়িমুক্তহয়েছে। ২০০০ সালে কলম্বিয়ার বোগোতা শহরের মেয়র এনরিক পেনালোসা’র উদ্যোগে শহরের সর্ব প্রথম কার ফ্রি ডে পালন করাহয়। রুয়ান্ডার রাজধানী কিলগিতপ্রতি শনি ও রবিবার সকাল ৬ টা থেকে বিকাল পর্যন্ত গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধথাকে। আর্জেন্টিনার বুয়েন্স আর্য়াস দেশটির রাজধানী এবংশহরের অধিকাংশটিই হাঁটার উপযোগী। ফাজিলকা ভারতের প্রথম গাড়িমুক্ত শহর। ২০০৮ সালে এবাণিজ্যিক এলাকাটি গাড়িমুক্ত শহরের মর্যাদা লাভ করে।হংকং এর ডিসকভারি বে এর সড়ক সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতগাড়িমুক্ত। নেপালের ভক্তপুর শহরটি ইউনেস্কোর একটি বিশ্ব ঐতিহ্য। প্রতি রবিবার সকাল ৬ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত জাকার্তা শহরের কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধথাকে। এ কারণে গাড়িমুক্ত থাকায় এ দিনটি তাদের কাছে হয়ে ওঠে দারুণউপভোগ্য। হাজার হাজার মানুষ এ দিনটি হাঁটা, সাইকেল চালানো, স্কেটিং,অবসর যাপন, খাওয়া-দাওয়াসহ বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে উপভোগকরেন। মূলত এ দিনটি দূষণ হ্রাসের জন্য পালন করা শুরু হয়। কিন্তু এদিনটি বর্তমানে জাকার্তাবাসীর জন্য একটি আনন্দময় দিনে পরিণত হয়েছে।নগরবাসী এ দিনে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে সামাজিকীকরণের এ অনবদ্যআয়োজনে একজোট হন। আমরা যদি গাড়ীমুক্ত শহর এই আন্দোলনকে সম্মেলিত ও সমন্বিত ভাবে আরো সামনে এগিয়ে নিতে পারি তাহলে ঢাকা শহরেএতো বায়ুদূষণ, শব্দদুষণ এবং যানজট থাকবে না। তখন ঢাকা শহর মানুষ বসবাসের উপযোগী শহরে পরিনত হবে।

আ ন ম মাছুম বিল্লাহ ভূঞা, আইনজীবি

এবার ঢাকার মসজিদ ইউরোশিয়ান প্রিমিয়াম-২০২০ পুরস্কারে আর্কিটেকচার বিভাগে প্রথম
                                  

রাজধানী ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে অবস্থিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ এবারের রাশিয়ান শিল্প ও ডিজাইনের আন্তর্জাতিক ফেস্টিভাল- ইউরোশিয়ান প্রিমিয়াম ২০২০- পুরস্কারের জন্য আর্কিটেকচার বিভাগে প্রথম হয়েছে।

গত ১০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার নগরবাদী ও ডিজাইনারদের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইউরোশিয়া প্রাইজ কর্তৃপক্ষ এ পুরস্কার ঘোষণা করে। প্রতিষ্ঠানের ওয়েব পেজেও এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদের বিশিষ্ট স্থপতি রফিক আজম পুরস্কার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার নেতৃত্বেই এক দল স্থপতি মসজিদটির ডিজাইন করেন।

পার্সটুডেকে তিনি বলেন, এ বছর আমরা দুটি পুরস্কার পেয়েছি। একটি হলো- আজিমপুর কবরস্থানের মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ, যা পৌনে পাঁচ শ ডিজাইনের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। এ ছাড়া আব্দুল আলিম খেলার মাঠও পুরস্কার জিতেছে।

উল্লেখ্য, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র মোহাম্মদ হানিফের নামে বর্তমান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আজিমপুর পুরনো কবরস্থানে জাতীয় ঐতিহ্য ও মুসলিম স্থাপত্যকলার অংশ হিসেবে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট ২৩ কাঠা জমির ওপর ৩০ হাজার ২২ বর্গফুট আয়তনের মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১৮ সালের ২০ সেপ্টেম্বর।


শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কারুকার্যময় নয়নাভিরাম মসজিদটির উঁচু মিনারে রাখা মাইকের মাধ্যমে আজানের ধ্বনি যখন এর চার পাশে ছড়িয়ে পড়ে তখন ঈমানদারদের অন্তর ছুঁয়ে যায়। মসজিদে থাকা প্রশস্ত পার্কিংয়ে ৩০টির বেশি গাড়ি রাখা যায়। আলাদা অজু ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে নারী ও পুরুষের জন্য।

জানা যায়, মসজিদটিতে একসঙ্গে ১ হাজার ৫২০ জন মুসল্লি এবং ৭০ জন নারী পৃথক স্থানে নামাজ আদায় করতে পারেন। রমজান মাস ও ঈদে দুই হাজারের বেশি মানুষ এখানে নামাজ পড়তে সমবেত হন। ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতের পাশপাশি এ মসজিদে রয়েছে লিফট ও উন্নতমানের টয়লেট সুবিধা। এ ছাড়া প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ার।

ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্সে স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে প্রাধান্য দেয়ার অঙ্গীকার ৬ মেয়রের
                                  

স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে টেকসই এবং আর্থ-সামাজিক ন্যায়বিচার সম্পন্ন শহর গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। উন্নয়ন পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। কিন্তু কর্পোরেশন বা পৌরসভার এখতিয়ার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় ও সদিচ্ছা না থাকায় প্রায় সকল কার্যক্রমই ব্যহত হচ্ছে। দুদিনব্যাপী ৯-১০ সেপ্টেম্বর ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্স ঢাকা ২০২০ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে মেয়রগণ কর্পোরেশন বা পৌরসভার স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করণের দাবি তুলে ধরেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স এর প্রেসিডেন্ট ড. আকতার মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অতিথি আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনার সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম, গাংনী পৌরসভার মেয়র মোঃ আশরাফুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব এবং সম্মেলনের ঘোষণা পত্র পাঠ করেন হেলথথব্রীজ কানাডা এর আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন এবং সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এর সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বলেন, নগর পরিকল্পনায় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং পরিবেশকে প্রাধান্য দেয়া আবশ্যক। সেক্ষেত্রে সকলের জন্য সামর্থ্য অনুযায়ী বাসস্থান, যাতায়াত ব্যবস্থায় হাঁটা এবং সাইকেলকে প্রাধান্য দেয়া, বর্জ্য ব্যবস্থপনা, জলাধার সংরক্ষণ ও সবুজায়নকে প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন।

মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২০-২০২১ অথর্ বছরে ৫০৪ কোটি ৩১ লাখ ২২ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, পার্ক, ধর্মীয় উপসানালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং কর্পোরেশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনকে দৃষ্টিনন্দন নগরীতে পরিণত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগামী ৩ বছরের মধ্যে রংপুরকে বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি। ইতিমধ্যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।
মেয়র গাজী কামরুল হুদা সেলিম বলেন, আমাদের সকল উন্ন্য়ন কর্মকান্ডে প্রাণ-প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহন করা উচিত। মানিকগঞ্জ পৌরসভার ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের ১৩৩ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৬ হাজার ১৬৮ টাকার বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। কর্মপরিকল্পনায় পৌর এলাকার খাল, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাটের উন্নয়নমুলক বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালিত হবে। মেয়র মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আমাদের শহরে মশক নিয়ন্ত্রণ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাাঘাট আধুনিককরণ,বাজার ব্যবস্থাপনা সকলের ব্যবহারের উপযোগী করতে কার্যক্রম চলমান। বিশেষ করে খাল পুনঃরুদ্ধানে আমরা বদ্ধপরিকর।

দেবরা ইফরইমসন সম্মেলনের ঘোষণা পত্রে বলেন, বাসযোগ্য নগর গড়তে হেলথ প্রমোশন ফাউন্ডেশন গড়ে গঠন, যাতায়াত ব্যবস্থায় হাঁটা এবং সাইকেলকে প্রাধান্য দেয়া, অন্তর্ভুক্তি করন, একবার ব্যবহৃত প্ল্যাস্টিক নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পণ্যে ওপর সারচার্জ আরোপ, বর্জ্য ব্যবস্থপনা, জলাধার সংরক্ষণ ও সবুজায়নকে প্রাধান্য এবং সর্বপরি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগর তোলার আহ্বান জানানো হয়।

২দিন ব্যাপি সম্মেলনে দেশের ৫০টি শহর সম্পৃক্ত হয়েছিল। সেই সাথে কানাডা, ভারত, নেপাল ও ভূটানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে ৩টি প্ল্যানারী সেশন, ৯টি বিষয়ভিত্তিক প্যারালাল বা সমান্তরাল সেশন, ২টি বিশেষ সেশন আছে। এতে ২৩টি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা, ৭টি পোস্টার উপস্থাপনা, এবং ৪১ জন অতিথি আলোচক ও দেশের বিভিন্ন শহরের ৫ জন মেয়র উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিবন্ধী মানুষের গণস্থাপনায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করুন
                                  

একটি জনপ্রিয় গান প্রচার করা হতো, ১৫ কোটি মানুষের ৩০ কোটি হাত। কিন্তু ১৫ কোটি মানুষের ১৫ কোটি ব্রেন, তা স্বীকার করা হচ্ছে কি? যদি স্বীকার করা হয়, তাহলে রাষ্ট্রকে প্রতিটি মানুষকে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে, রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে, যদি উন্নত জাতিতে পরিনত হতে চায়। কাজ করার সুযোগ দিতে হলে প্রথমে প্রতিটি নাগরিকের জন্য প্রবেমগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

যদি আনতে চান সম্মৃদ্ধির সোনালী প্রভাত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩ তে সুস্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে, সর্বসাধারণ গমন করে এইরূপ বিদ্যমান সকল গণস্থাপনা, ভৌত অবকাঠামো, যানবাহন, যোগাযোগ, তথ্য, এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ সরকারি ও বেসরকারি ইমারত বা ভবন, পার্ক, স্টেশন, বন্দর, টার্মিনাল ও সড়ককে জনসাধারণের জন্য প্রাপ্য সকল সুবিধা ও সেবাসমূহে অন্যান্যদের মত প্রত্যেক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমসুযোগ ও সমআচরণ প্রাপ্তির অধিকার রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরেও সবার জন্য সকল গণস্থাপনা প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। যদিও ১৯৫২ সালের বিল্ডিং কোড অর্থাৎ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ছিল, ২০০৮ সালে উক্ত বিধিমালা আরো যুগোপযুগী করা হয়েছে।

এখনো অনেক ভবন বা গণস্থাপনায় সবার জন্য প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। বিশেষ করে গণপরিবহন /বাস এ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিসহ সকল মানুষের প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত হয়নি। হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী মানুষেরা কোনো ভাবেই গণপরিবহন ব্যবহার করতে পারে না। মূল কারণগুলো হচ্ছে নির্দিষ্ট স্থানে যাত্রি উঠা-নামা না করা, যাত্রি উঠা-নামা করতে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়াসহ, গণপরিবহনের দরজাগুলো অনেক ছোট, তাই হচ্ছে করলেও হুইলচেয়ার উঠানো যাবে না এবং গণপরিবহনে উঠা-নামার জন্য কোনো প্রকার র‌্যাম্পও নেই, আবার দরজার পাটাতনগুলো প্রায় দেড়ফুট উচুঁ। উক্ত সব সমস্যার যেন অন্ত বা শেষ নেই। কিছু গণপরিবহণ /বাসে ৯ বা ১৩ টি আসন (সিট) মহিলা, শিশু ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সংরক্ষিত হলেও সবগুলো আসনেই যদি মহিলা বসে থাকেন তখন একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারী কিভাবে তার জন্য বরাদ্ধকৃত আসনটির ব্যবহার নিশ্চিত করবে? কোন আসনগুলো শুধু প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য তা নির্দিষ্ট করা নেই। এর দায় কার? এছাড়াও দৃষ্টি-প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য গণপরিবহন /বাস এ কোন প্রকার সাউন্ড সিস্টেম নিশ্চিত না করার করার ফলেও তাদের সম্যাসায় পড়তে হচ্ছে।

তাছাড়াও চলাচলে প্রধান বাধা (প্রতিবন্ধকতা) রাস্তা পারাপারে পর্যাপ্ত জেব্রাক্রসিং ব্যবস্থা না থাকা এবং কোনো প্রকার সাউন্ড সিস্টেম নিশ্চিত না করার ফলে উক্ত মানুষগুলোর রাস্তা চলাচলে বিড়ম্ভবনার শেষ নেই। প্রতিটি মানুষেরতো আর বাসা হতে ২ বা ৩ জন মানুষ নিয়ে রাস্তায় চলাচল বাস্তবিক ভাবে সম্ভব নয়। সম্ভব কি? উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, ঢাকা কলেজ হতে নীলক্ষেত্র মোড় পর্যন্ত এই বিশাল জায়গায় কোনো জেব্রাক্রসিং এর ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে নিরাপরাধ পথচারীরা স্বাচ্ছন্দে ও নিরাপদে রাস্তা পার হতে পারছেন না। বেশ কিছু দিন হতে গণমাধ্যম সূত্রে দেখা যাচ্ছে, পর্যাপ্ত নিরাপদ জেব্রাক্রসিং নিশ্চিত না করে কিছু সরকারী সংস্থার লোক নিরাপরাধ পথচারিদেরকে ২৫ হতে ৩০ ফুট উচ্চতার ফুটওবার ব্রিজ ব্যবহার করতে বাধ্য করছে। এটি যেন মরার উপর খারার ঘা হলে দাঁড়িয়েছে। যা কিনা বাংলাদেশ সংবিধানসহ রাষ্ট্রের প্রচলিত আইনের পরিপন্থি। সবিনয় জানাতে চাই কাদেরকে (কাউনসেলিং) জ্ঞান বিতরন করা দরকার। নিম্মউক্ত আইনের যথাযর্থ বাস্তবায়নে।

বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯ (১)(২) সুযোগের সমতা, অনুচ্ছেদ ২৭ আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং অনুচ্ছেদ ৩৬ চলাফেরার স্বাধীনতা এর পরিপন্থি। এছাড়াও জাতীয় সমন্বিত বহুমাধ্যমভিত্তিক পরিবহন নীতিমালা, ২০১৩-এর ৪.৪-এ মহিলা, বয়োজ্যেষ্ঠ ও শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য পরিবহন; ৪.৪.১-এ পথচারীদের জন্য পায়ে চলার পরিবেশ মানোন্নয়ন, বিশেষত শিশু, মহিলা, বয়স্ক এবং শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের (ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জ) ব্যববহার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিতকরণ; ৪.৪.৪-এ রেলস্টেশন ও বাস স্টপে র্যার্ম্প ব্যবহার এবং নৌ-পথে বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে যাতায়াত সহজীকরণ; ৫.১.৫-এ শারীরিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পথচারীদের ফুটপাথ ওঠানামা সহজতর করার লক্ষ্যে ঢালু পথ (র‌্যাম্প) এর সংস্থানের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু তার বাস্তবায়ন নেই।

এযেন কাজির গরু কেতাবে আছে গোয়ালে নেই অবস্থার একটি ভিন্নরূপ। পৃথিবীর সকল সভ্য দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরও গণস্থাপনায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করা হয়। তাই টেকসই উন্নয়নের স্বার্থে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষ উপরিউক্ত সমস্যা সমাধানের জন্য এখনই সুদৃষ্টি প্রয়োজন।
আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঞা, আইনজীবি

ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে করনীয়
                                  

ঢাকা শহরে জনগণের অন্যতম প্রধান সমস্যা যানজট, বায়ুদূষণ এবং জলাবন্ধতা। চোখ বন্ধ করে একবার এমন একটি ঢাকা শহরের কথা কল্পনা করুন, যেখানে আর এত তীব্র-অসহনীয় যানজট এবং বায়ুদূষণ, অথবা জলাবদ্ধতা নেই,বাস্তবে তা সম্ভব কি? এই যানজট ও বায়ুদূষণের জন্য অন্যতম বেশি দায়ী ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়া। অধিকাংশ সময়ই একটি ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতরে একজন মাত্র যাত্রী বসে থাকেন। ঢাকা মহানগরীর সড়ক ব্যবস্থা উন্নয়নকল্পে হাঁটাপথ ও সাইকেলপথ রাখার কথা অনেক কাল ধরে বলা হয়ে থাকলেও কিন্তু বাস্তবে অপর্যাপ্ত হাঁটাপথগুলো অধিকাংশ সময় নির্মাণ করার জন্য খুঁড়ে রাখা হয় অথবা নির্মাণকাজের সামগ্রী দিয়ে পূর্ণ থাকে; এবং সড়কগুলোর ভেতরে উন্নত হাঁটাপথ ও সাইকেলপথ করার কোনোই ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এছাড়াও লক্ষ্য করা যায়, হাঁটাপথের তলা দিয়ে ওয়াসার নালা, টেলিফোনের লাইন, বিদ্যুৎ লাইন ইত্যাদি। আবার হাঁটাপথগুলো একবার মেরামত হলেই তার উপরে মোটরসাইকেলের অবাধ যাতায়াত করে, এবং মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিং করে রাখে এর কোনো জবাবদিহিতা নেই। তখন চলাচলে পথচারীকে অতিষ্ঠ হতে হয় এবং অনেকেই দূর্ঘটনায় আক্রান্তহচ্ছেন।

ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল এখন ঢাকা নগরীর সবচেয়ে বড় আপদ হলেও রিকশা কোন প্রকার বায়ুদূষণ করে না, তারপরও অনেক সড়কে রিকশাপথ তুলে দেয়া হয়েছে, কিন্তু কেন তা করা হয় বোধগম্য নয়? নগরীর সড়কগুলোয় সিগনাল ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য শত শত কোটি টাকা খরচ করা হলেও পথচারী নিরাপদে রাস্তা পারাপারে পর্যাপ্ত জেব্রাক্রসিং নিশ্চিত করা হয়নি। ঢাকা সড়ক পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নগরীতে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করা এবং গণপরিবহণ, বাইসাইকেল, রিকশা, ভ্যান যানগুলো চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট পথ করে দেওয়া।
যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া ঢাকাকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। পরিবেশ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্রিন পিস এক প্রতিবেদনের তথ্য মতে, বায়ুদূষণে বাংলাদেশে বছরে প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে এবং একই কারণে ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৯৬ হাজার শিশুর অকালমৃত্যু হয়েছে। এই জন্য ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার বন্ধ করে এর বিকল্প স্বরূপ গণপরিবহন (যেমন: রেল, বাস, ট্রাম ইত্যাদি) ও নদী পথের মাধ্যমে যাতায়াত নিশ্চিত করা এবং পাশাপাশি অযান্ত্রিক যানবাহন বৃদ্ধিসহ (যেমন: রিকশা, বাইসাইকেল ইত্যাদি) ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রাথমিক ভাবে সকাল ৮টা হতে ১০টা পর্যন্ত এবং বিকাল ৫ টা হতে ৭ পর্যন্ত ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের উপর সার চার্জ আরোপ করা যেতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বন্ধে আইন ও নীতিমালা করা। দক্ষতার সাথে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা এবং কয়লা ও তেলের (যেমন: ডিজেল, অক্টেন ও পেট্রোলের) উপর নির্ভরতা কমাতে হবে, এর পাশাপাশি ক্লোরোফ্লোরো কার্বন জাতীয় গ্যাস নিঃসরণকারী যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নীতিমালা করে উচ্চহারে কর আরোপ এবং বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশ সরকার বায়ুদূষণ হ্রাসে যেভাবে টু-স্টোক যানবাহন নিষিদ্ধ করেছিল, ঠিক তেমনি জলবায়ু বিপর্যয় প্রতিরোধে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এমনকি একই মানসম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হলে প্রত্যেকেই বাড়ির নিকটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখার সুযোগ পাবে, তখন যান্ত্রিক বাহনের ব্যবহার অনেক হ্রাস পাবে। আন্তর্জাতিক উদাহরণ: লুক্সেমবার্গএ সরকারী ভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে যাতায়াত বিনামূল্যে করে দেওয়া হয়েছে। এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে ব্যক্তিগত গাড়ির নিবন্ধন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পৃথিবীতে প্রতিদিন ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানী তেল ব্যবহার করা হয়। শুধুমাত্র প্লাস্টিকজাত পণ্য তৈরি করতে বছরে ১.৭ মিলিয়ান ব্যারল তেল পোড়াতে হয়। প্রতি কেজি প্লাস্টিক উৎপাদনে ২ থেকে ৩ কেজি কার্বন নিঃসরণ হয়। আমরা জানি তেল পোড়ালে কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়, যা পরিবেশকে দূষিত করে। ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে প্লাস্টিকের অত্যন্ত নেতিবাচক ভূমিকা রয়েছে। ২০০২ সাল থেকে সারাদেশে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও কর্তৃপক্ষের দেখবাল(মনিটরিং) এর যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। এবং উক্ত আইনে একবার ব্যবহৃত (ওয়ান টাইম ইউজ) প্লাস্টিকজাত পণ্যকে যেমন: প্লাস্টিক প্লেট, কাপ, বোতল, স্ট্র, চামচ, খাবার বক্স ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তাই একবার ব্যবহৃত (ওয়ান টাইম ইউজ) প্লাস্টিকজাত পণ্যকে বন্ধ করতে আইন ও নীতিমালা তৈরি করে মনিটরিং এর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে প্লাস্টিকজাত পণ্য ব্যবহারে পর যত্রতত্র ছুঁড়ে ফেলার ফলে পানি, মাটি, জলাদ্বার, জ্বলজ পরিবেশ, নদী-নালা ও সামুদ্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। প্লাস্টিকজাত দ্রব্য পঁচে মাটির সঙ্গে মিশতে সময় লাগে কমপক্ষে ৪০০ বছর। এমনকি মেশার পরও তা ফসলি জমির মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। প্লাস্টিকজাত পণ্য বৃষ্টির পানি আটকে নগরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার ও খালের পানি চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এবং এগুলোকে অচল করে দেয় ফলেঢাকা শহরের জলাবন্ধতার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করা গেলে বুড়িগঙ্গানদীসহ অন্য নদীগুলোও প্রাণ ফিরে পাবে, এবং অনেক জলাভূমি ও জলাদ্বারের জীব-বৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত হতে রক্ষা পাবে। এই জন্য আমাদের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বিকল্প হিসাবে পাটের ও কাপড়ের থলে, এ্যালুমিনিয়াম, কাঁচ, স্টিল, কাসা, পিতলের ও আমাদের ঐতিহ্যবাহী মাটির তৈজসপত্র ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
এছাড়াও আমাদের দেশে ইটের ভাটায় যখন ইট পোড়ানো হয় তখন সেখান থেকে কালো ধোঁয়ার নির্গত হয়। সেখানকার সেই কালো ধোঁয়াও বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ। ফলে বায়ুদূষণের কারণে দেখা দিচ্ছে তাপমাত্রার অস্বাভাবিক পরিবর্তন। রাজধানী ঘিরে থাকা কয়েক হাজার ইটভাটার নির্গত ধোঁয়া ঢাকাকে দূষণের অন্তিম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বায়ু দূষণের ফলে ঢাকা শহরের তাপমাত্রা আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ‘গ্লোবাল লিভঅ্যাবিলিটি ইনডেক্স’ এর তথ্য মতে, ঢাকা শহর বিশ্বে বসবাসের অনুপযোগী শহরগুলোর তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে আছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণই এর মূল কারণ। আর এমন নগরায়ণের কারণে বছর বছর বেড়েছে ঢাকার ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রাও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর গবেষণা অনুযায়ী, গত ১৮ বছরে ঢাকা শহরের ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৪ থেকে সাড়ে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়ছে। বায়ুমন্ডলে বাড়ছে যাচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড এর কারণে ওজন স্তর ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে থাকা ইটভাটার বন্ধ করা এখন জরুরী দরকার।
এছাড়াও ঢাকা শহরের জলাভূমির বেশির ভাগই এখন ভরাট করা হয়েছে। জলাভূমি মানবদেহের কিডনির মতো একটি শহরের কিডনি হিসেবে কাজ করে। শহরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখে।
পরিবেশ ভাল না থাকলে আমরা ভাল থাকতে পারব না। করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার কর্তৃক লকডাইনের আদেশের ফলে যানজট ও বায়ুদূষণ অনেকাংশে কমে গিয়েছিল বটে, কিন্তু উক্ত আদেশ শিথিল করার কারণে ঢাকা শহরকে দূষণ ও যানজট আবার বেড়ে চলেছে। ঢাকা শহরকে দূষণ কমাতে এবং বাসযোগ্য রাখতে হলে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, প্লাস্টিকজাত পণ্য ব্যবহার বন্ধ করা, ঢাকাকে ঘিরে থাকা ইটভাটার বন্ধ করা অতীব জরুরী। এগুলো বাস্তবায়নেসর্বপ্রথম মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করা, যেকোনো মূল্যে জলাভূমিগুলো রক্ষা করা এবং পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ ও বাড়ির ছাদে বাগান করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। খাদ্য তৈরিতে সবুজ গাছ বাতাস থেকে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কার্বন ডাই-অক্সাইড উপাদানটি সংগ্রহ করে। উদ্ভিদ তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে এবং গাছের পাতা বায়ু পরিশোধনের ছাঁকনি হিসাবে কাজ করে। আর এসব না করলে ঢাকা শহরের দূষণ এবং তাপমাত্রা আরও বাড়বে। কিন্তু আমরা এই গাছ-পালা নির্বিচারে কেটে ফেলছি। এতে শহরে বাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে। নবায়নযোগ্য জ্বালানীর ও সৌরশক্তি নির্ভর যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে। শিল্প-কারখানা স্থাপন, গৃহায়ণ ও রাস্তাঘাট নির্মাণে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে করে পরিবেশ দূষিত না হয় এবং এলাকার ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তাই পরিবেশ দূষণরোধে ব্যক্তিগতভাবে যেমন সচেতন হতে হবে, তেমনি সমষ্টিগত ভাবে তা প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াতে হবে।


আ ন ম মাছুম বিল্লাহ ভূঞা, আইনজীবি

নারীর অগ্রগতিতে প্রয়োজন সুষ্ঠ পরিবেশ
                                  

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হলেও বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়নের দিক থেকে সামনে এগিয়ে গিয়েছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু গবেষণা রিপোর্টে এসকল তথ্য উঠে এসেছে। বিশেষ করে লক্ষ্য করলে দেখতে পারবেন প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধান নিবার্হী বা প্রধানমন্ত্রী পদে নারী অধিষ্ঠিত আছেন। এখন জাতীয় সংসদের অনেক নারী সদস্য আছেন। মন্ত্রিসভা আছেন অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী। এছাড়াও গত প্রায় আট বছর স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন নারী, অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হয়েছেন নারী, অনেক জেলার জেলা প্রশাসক অনেক নারী, অনেক সচিবও আছেন নারী, শিক্ষা ক্ষেত্রে নারীরা অনেক দূর এগিয়েছে। তার অন্যতম উদাহরন চিকিৎসা ও আইনজীবী হিসেবে অনেক নারী প্রতিষ্ঠিত। অনেক নারী আছেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক। তারপরও এ দেশের নারী সহিংসতার কমছে না এর জন্য দায়ী আমাদের মন-মানসিকতা, রাষ্ট্রীয় ও অব্যবস্থাপনা এবং অদূরদর্শিতা এগুলো দূর করতে আমাদের সকলকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, না হলে জাতি হিসেবে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়বো এবং সারা বিশ্ব থেকে ছিটকে যাব তাই এখনই সময় নারীর ক্ষমতায়ন ও মর্যাদা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। গত ২৩ আগস্ট, রবিবার বিকাল ৪.০০ টায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর আয়োজনে “নারীর ক্ষমতায়ন” শীর্ষক অনলাইন জুম ওয়েবিনারের আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, তাহসিনা ইয়াসমিন বলেন, নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে আমাদের বেশ কিছু অর্জন আছে। রাজনীতি, গবেষনা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিক অঙ্গনে নারীদের অর্জন অনেক। আইন ও চিকিৎসা পেশায় নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়েছেন। অনেক নারী নিজের যোগ্যতায় অদিষ্টিত হয়েছেন উচ্ছ আদালতের বিচারক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মহান জাতীয় সংসদেও স্পীকার, বিশ্ববিদ্যঅলয়ের ভিসি, সচিব, ও ডিসি হয়েছেন। কিন্ত এই অর্জন গুলোকে ঝুকিতে ফেলে দিচ্ছে নানা রকম সহিংসতা। আমাদের দেশের বিজ্ঞাপনগুলোতেও নারীদেরকে হেয় করে উপস্থাপন করা হয়। উক্ত সব বিজ্ঞাপনে নারীদেও কর্মদক্ষতার থেকে বিভিন্ন পোশাক ও কিকি পশাধনী ব্যবহার করেছেন তাকে অধিকগুরত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই সব কারণে নারীরা আরো বেশি পরিমান অবজ্ঞা, অবহেলা এবং সহিংসতার বিকার হচ্ছেন। এসব বন্ধে আমাদের সকলকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে এখনই।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, নারী-পুরুষ মিলেমিশে সমাজ গঠিত হয়। কাউকে অবজ্ঞা বা অবহেলা করে সমাজকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলা বা পরিপুর্ণতা দেওয়া সম্ভব হবে না। নারীর কাজের সামাজিক, পারিবারিক ও রাষ্ঠ্রীয় স্বীকৃতি সমাজকে আরো সুন্দর করে তুলতে পারে। নারীরা সমাজে বিভিন্ন ভাবে ভ’মিকা রাখেছে তার একটি সামাজিক স্বীকৃতি এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়ে উঠে নি। আমাদের সকলকে নারীর কাজের স্বীকৃতি ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি পর্যায়েও সচেতনতার অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাক্ষতে পারে।
তেজগাঁও কলেজ এর মাকের্টিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাহবুবা বেগম বলেন, নারী হিসাবে আমাদের এখনো নিজদের আন্তমর্যাদা রক্ষায় সংগ্রাম কওে যেতে হচ্ছে। আমরা পেশাগত কাজে স্বীকৃতি ও মর্যাদা যেরকম পেয়ে থাকি, গৃহস্থালী কাজে তেমন মর্যাদা এখনো সামাজিক ও পারিবারিক ভাবে মিলছেনা। রাষ্ট্র আন্তরিক ভাবে চাইলে এই সব কাজের স্বীকৃতির জন্য কাজ করতে পারেন। এছাড়াও আমাদেও মানসিকতারও পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আমাদের মা, বোন, স্ত্রীর কাজের স্বীকৃতি দিলেই সমাজ ও রাষ্ট্রে নারী মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।
সারথী নিউজের জেলা প্রতিনিধি সোহানা শারমিন ডালিয়া বলেন, যেসব নারীর ক্ষেত্রে পরিবাওে শক্তিশালী ভাবে সার্পোট নেই, সেই সব নারীরা অন্যদের থেকে আরো বেশি ফেচনে পড়ে আছেন। এখনো নারীদের গণপরিবহন ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারি নাই। গণপরিবহন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নারীদেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও ভঞ্চনার শিকার হতে হয়। কর্মক্ষেত্রে নারীদেও অনেক অর্জন থাকলেও পারিবারি ও রাষ্ঠ্রীয় ভাবে পারিবারে গৃহস্থালী সেবামূলক কাজগুলোর নারীদের কোনো প্রকার স্বীকৃতি নেই। এ বিষয়টি নারী ক্ষমতায়ন ও মর্যাদায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা। আমাদের সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই সব বাধা দূর করা সম্ভব।
ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নেটওয়ার্ক অফিসার শান্তনু বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমান, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর মাহামুদুল হাসান এবং এছাড়াও অংশগ্রহণ করেন সাউথইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বাড়ছে দাম্পত্য কলহের হার, ভাঙ্গছে সংসার, বিচ্ছেদে এগিয়ে নারীরা
                                  

দাম্পত্য কলহের হার দিন দিন বাড়ছে। হিসেব বলছে শুধু রাজধানীতে স্বামী-স্ত্রীর কলহে প্রতি ঘণ্টায় একটিরও বেশি সংসার ভেঙে যাচ্ছে। মাসে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে ৮৪৩টিরও বেশি পরিবার। এর মধ্যে বিচ্ছেদে এগিয়ে রয়েছেন নারীরা। হিসাব অনুযায়ী, তালাক নোটিশ প্রেরণকারীদের প্রায় ৭০ শতাংশই নারী। যার মধ্যে গুলশান ও বনানীর অভিজাত পরিবারের শিক্ষিত ও বিত্তবান নারী থেকে শুরু করে কর্মজীবী নারীর সংখ্যাই বেশি। তবে সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাস্তাবে বিয়ে বিচ্ছেদের হার আরো বেশি। কারণ অনেক মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবীসহ অনেক পরিবার রয়েছেন যাদের বিচ্ছেদ পারিবারিক সালিশের মাধ্যমে ঘটে থাকে। যার হিসেব সিটি করপোরেশনে বা কিংবা কোথাও দালিলিকভাবে লিপিবদ্ধ থাকে না।

রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের হিসেব মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয়মাস হলেও লকডাউনে একমাস বন্ধ ছিল। বাকি ৫ মাসে দুই সিটিতে তালাক চেয়ে নোটিশ জমা পড়েছে ৪ হাজার ২১৬টি। এর মধ্যে উত্তর সিটিতে ২২ শ’ এবং দক্ষিণে ২০১৬টি। আবেদনকারীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ৩৫ শতাংশ আর নারীদের ৭০ শতাংশ।

এর মধ্যে জানুয়ারিতে উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬১৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪১ জন, মার্চে ৪৫৫ জন বিচ্ছেদের আবেদন করেন। সাধারণ ছুটির কারণে এপ্রিলে কোনো আবেদন করা হয়নি। মে মাসে ৫৪টি এবং জুন মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৬৩২ জনে দাঁড়ায়। একইভাবে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানুয়ারিতে ৫২৮ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪৪২ জন, মার্চে ৪৯২ জন বিচ্ছেদের আবেদন করেন। উত্তরের মতো দক্ষিণেও এপ্রিল মাসে বিচ্ছেদের কোনো আবেদন করা হয়নি। তবে মে মাসে ১১৩ জন ও জুনে ৪৪১ জন বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন।

বিচ্ছেদের আবেদন নিষ্পত্তি করেন এমন কর্মকর্তাদের মতে, স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা আবেদনে কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্বামীর সন্দেহবাতিক মানসিকতা, পরকীয়া, স্বামী প্রবাসে থাকা, যৌতুক, মাদকাসক্তি, ফেসবুকে আসক্তি, ব্যক্তিত্বের সঙ্ঘাত। অন্য দিকে স্বামীর পক্ষে আবেদনের ক্ষেত্রে-স্বামীর ইচ্ছাকে প্রাধান্য না দিয়ে নিজের ইচ্ছায় চলা, ফেসবুক আসক্তি, বদমেজাজ, সংসারের প্রতি কম মনোযোগ দেয়া, ধর্মকর্মে উদাসীনতা, বন্ধ্যাত্বসহ বিভিন্ন কারণ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ শতাংশ দম্পতি বিচ্ছেদে না গিয়ে পুনরায় সংসার করার বিষয়ে একমত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, বিবাহ বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে নারীরা বর্তমানে ঝুঁকিতে আছেন। বর্তমানে মোট জনসংখ্যার মধ্যে প্রতি হাজারে ১০.৮ শতাংশ নারী বিবাহ বিচ্ছেদ করেছেন। এর বিপরীতে প্রতি হাজারে ১.৫ শতাংশ পুরুষ বিচ্ছেদ করেছেন। আর বিচ্ছেদের আবেদনকারীদের মধ্যে যারা উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন তাদের সংখ্যা বেশি (হাজারে এক দশমিক ৭ জন)। আর অশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার হাজারে শূন্য দশমিক ৫। অন্য দিকে গ্রামাঞ্চলে বিচ্ছেদের হার যেখানে হাজারে এক দশমিক ৩ শতাংশ আর শহরে এই হার হাজারে শূন্য দশমিক ৮ জন। এক্ষেত্রে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য ২৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীরা সবচেয়ে বেশি আবেদন করছেন।

বিবিএসের সর্বশেষ গবেষণা বলছে, ঢাকার তুলনায় অন্য বিভাগীয় অঞ্চল ও জেলাশহরগুলোতে নারী-পুরুষদের বিবাহ বিচ্ছেদের হার ও আশঙ্কা উভয়ই বেশি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, গ্রামের দম্পতিরা শহরের দম্পতিদের তুলনায় বিবাহ বিচ্ছেদে বেশি আগ্রহী। এর মধ্যে দেশের বিভাগীয় পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি রাজশাহী এলাকার মানুষ (প্রতি হাজারে ১.৭ শতাংশ হারে) বিচ্ছেদের আবেদন করেন। এরপর বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে খুলনা (প্রতি হাজারে ১.৪ শতাংশ)। তবে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিবাহ বিচ্ছেদের হার দেশের অন্য বিভাগের তুলনায় কম (প্রতি হাজারে তা ০.৫ শতাংশ)। তথ্যানুযায়ী ২৫ থেকে শুরু করে ২৯ বছর বয়সী নারী-পুরুষরা সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদের জন্য আবেদন করেন।

গবেষণামতে, যারা ২৭ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে বিয়ে করেন তাদের দাম্পত্য জীবন তুলনামূলক বেশি টেকসই ও স্থায়ী হয়ে থাকে। অন্য দিকে যারা টিনএজ (১৩-১৯ বছর) বা ৩২+ বয়সে বিয়ে করে তাদের ডিভোর্সের হার বেশি। বিশেষ করে কম বয়সে বিবাহবন্ধনে যারা আবদ্ধ হয় তারা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী তালাক আবেদনের ৯০ দিনের মধ্যে কোনো পক্ষ আপস বা তালাক প্রত্যাহারের আবেদন না করলে তালাক কার্যকর হয়ে যায়।

এ বিষযে ঢাকা উত্তর সিটির আইন কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করার তিন মাস বা ৯০ দিনের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঠেকানোর জন্য করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ শালিসি বৈঠকের ব্যবস্থা করে। কিন্তু যারা আগে থেকেই বিচ্ছেদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন- তারা এই বৈঠকে আসেন না। আবার কেউ কেউ বিশেষ করে সন্তানের কথা ভেবে শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদ যাবেন না বলেও আপসে যেতে রাজি হন। তবে এর হার মাত্র ৫ শতাংশ।

‘বৈচিত্র্যময় সমাজ: অফুরন্ত সম্ভাবনা’ বই এর ডিজিটাল মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান
                                  

জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বহুলাংশে পিছিয়ে রয়েছেন। শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি মৌলিক অধিকার থেকে তারা অনেকাংশেই বঞ্চিত। প্রতিনিয়ত তাদের কঠোর পরিশ্রম ও সমাজের সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে অগ্রসর হতে হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৭ শতাংশের কর্ম অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ-সবিধার অভাবে ৩৭% ভিক্ষাবৃত্তির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। অপর দিকে হিজড়া ব্যক্তিদের মাঝে ৬৮ শতাংশের কর্ম দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা থাকলেও ৬২% কোন ধরনের সুবিধাই পান না। ফলে ভিক্ষাবৃত্তির সাথে সম্পৃক্ত ৮৩%। ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং তাদের জীবন মান উন্নয়নে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। উক্ত গবেষণার আলোকে আজ ১৮ জুলাই, ২০২০ শনিবার, সকাল ১১.০০ টা “বৈচিত্র্যময় সমাজ: অফুরন্ত সম্ভাবনা” বই এর ডিজিটাল মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে গবেষনাটি সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা নাইমা আকতার তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আস্থা রেখে তাদের নিয়োগে আগ্রহী নয়। আবার নিয়োগ পেলেও প্রবেশগম্যতার অভাব, সহকর্মীদের বিরূপ এবং প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে তারা ঝরে পরেন। হিজড়া ব্যক্তিদের অবস্থা আরো শোচনীয়। তারা পরিবার থেকে বিতাড়িত এবং সমাজে অনাকাঙ্খিত। অধিকাংশই সম্মানজনক পেশার সাথে সম্পৃক্ত হতে না পেরে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি হলে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্বাবলম্বী হয়ে সম্মানজনক জীবন যাপনে সক্ষম হবে। একই সাথে সামাজিক ন্যায়বিচারও নিশ্চিত হবে।
নগর গবেষনা কেন্দ্র এর সাধারন সম্পাদক, সালমা এ শাফি বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পরে এসেও শহরে আমরা এখন পর্যন্ত একটি প্রবশেগোম্য সম্পন্ন কোন সড়ক বা ফুটপাত তৈরি করতে পারিনি। নগরে যতগুলো অবকাঠামো নির্মান হচ্ছে সেগুলো কখনোই আলোচনার মাধ্যমে নির্মাণ হচ্ছে না যার ফলে এগুলো নির্মাণের পরে একশ্রেণীর মানুষ যারা নানা রকম প্রতিবন্ধকতা শিকার তারা আসলে এ সকল স্থাপনা এবং অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারছেন না। গবেষণায় সফল প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ব্যক্তিদের কথা উঠে এসেছে। এ থেকে বুঝা যায় শুধু মাত্র সুযোগ সুবিধা নিশ্চত করা গেলে এদেরকে সমাজের মূল শ্রোত ধারায় নিয়ে আসা সম্ভব।
এ টু আই ও ফোকাল পার্সন ডেইজি এবং এক্সেসেবেলিটি কনসালটেন্ট ভাস্কর ভট্টাচার্য্য বলেন, আমি নিজে জাপানে একটি দক্ষতা উন্নয়নমূলক ট্রেনিং অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু দেশে এসে আমার দক্ষতা এবং জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কোথায়ও কাজ পায়নি। অবশেষে বেসরকারি একটি সংস্থা আমাকে কাজ করার সুযোগ দেয়। আমি এখন সরকারের এ টু আই প্রজেক্টে কর্মরত আছি। কাজেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান এবং চাকুরী নিশ্চিত করা হলে প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ব্যক্তিগণ যদি তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করা সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে এসকল মানুষগুলো সমাজের বোঝা হিসেবে গণ্য হবে। দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশের পরিচালক, দেবরা ইফরইমসন বলেন, আমাদের দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করণে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হলে তারা স্বচ্ছন্দে কাজ করতে পারবেন। ফলে অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
সাদা কালে হিজরা সংঘ সংগঠনের সভানেত্রী অনন্যা বণিক বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠী পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ফলে তারা শিক্ষা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের আচরনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন দক্ষতা থাকা সত্বেও হিজড়া ব্যক্তিদের সুযোগ দেয়া হয় না। যেমন অনেক হিজড়া ব্যক্তির নৃত্যে দক্ষতা থাকলেও কোন সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান না।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কোন না কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সহযোগিতা, সহমর্মিতা, প্রবেশগম্যতা এবং বৈষম্যহীনতা- এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হলেই তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই যদি হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগে এগিয়ে আসে এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে উল্লেখযোগ্য সফলতা অর্জন সম্ভব।

পরিবেশ ও চাকরিকে সমন্বয় করে কাজ করার আহবান
                                  

আমরা সভাবতই চাকরি করি বা চাকরির পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা করার চেষ্টা করি। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে পরিবেশের ক্ষতি করে এরকম প্রতিষ্ঠান গুলোতে শ্রমিক বেশি থাকে এবং কাজ করে। এদিক থেকে চিন্তা করলে দেখা যায় আমরা চাকরিও চাই আবার পরিবেশের কথাও ভাবী। আমরা বহুদিন ধরে দেখে আসছি চাকরি এবং পরিবেশের সর্ম্পক তেমন ঘনিষ্ট নয়। যার ফলে পরিবেশের উপর একপ্রকার ক্ষতিকর প্রভাব পরছে। আজ ১৫ জুলাই, বুধবার বিকাল ৪.০০ টায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্লাইমেট নেটওর্য়াক এর যৌথ আয়োজনে “পরিবেশ ও চাকরিকে সমন্বয় করে কিভাবে কাজ করা যায়” শীর্ষক অনলাইন ওয়েবিনারের আলোচনা সভায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় ট্রান্সপারেন্সি ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ, সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, মো: জাকির হোসেন খান বলেন, পরিবেশকে অবমূল্যান কারনে আমরা এই দূর্যোগের সম্মুখীন হতে হচ্ছি। উদাহরনসরূপ বলা যায় প্রকৃতি মূল্য নিধারনে গাছ আমাদের পরিবেশে বড় অবদান রাখছে কিন্তু আমরা সেকথা ভুলে যাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বা অপ্রাতিষ্ঠানিক তেমন কোথাও পরিবেশ সুরক্ষা বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হয় না। আমরা শুধু ক্যাশক্রপ বা আয় করার চিন্তা করি কিন্তু পরিবেশ যে কতটা ক্ষতি হলো আমরা কখনোই গুরুত্ব দেই না। আমরা পরিবেশের যে ক্ষতি করেছি তার ফলসরূপ হিসাবে প্রকৃতি (করোনা ভাইরাস) আমাদের হারে হারে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে। আমাদের উচিত প্রকৃতি থেকে শিক্ষা গ্রহন করা। কারন পরিবেশকে দূষণ করে আমরা কখনো ভারো থাকতে পারে না ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে পরিবেশ বান্ধব চাকরির সুযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। এতে পরিবেশ দূষণ কমবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। এজন্য সরসারের উচিত পরিবেশ দূষণ ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভর্তকি ও প্রনোদনা বন্ধ করে, পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ করে ভতর্কি ও প্রনোদনা প্রদান করা।
ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রকল্প কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, পরিবেশ বান্ধব চাকরির সুয়োগ সৃষ্টির লক্ষ্যে অযান্ত্রিক যানবাহনকে প্রধান্য দেয়া উচিত। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার গুলো অযান্ত্রিক যানবাহনের নিরাপদে চলাচলের জন্য অবকাঠামোগত সুযোগ নিশ্চিত করা।
সাউথইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুবাইদা গুলশান আরা বলেন, পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যেকোন টেকসই উন্নয়ন করা উচিত কিন্তু আমাদের রাষ্ট্র সকল উন্নয়নে পরিবেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে কি? আমাদের প্রত্যেকের উচিত পরিবেশকে দূষণ না করে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
বায়োস্কপ বাংলাদেশের, সমন্বয়ক আলমগীর হোসেন তরুনদের উদ্দেষ্য করে বলেন, পরিবেশ রক্ষা করার ক্ষেত্রে নিজ উদ্দ্যেগে বা পরিবেশবান্ধব প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে কাজ করার আহবান জানান।
ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর নেটওয়ার্ক অফিসার শান্তনু বিশ্বাস এর সঞ্চালনায় আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, জাগরনী ক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবীইং বাংলাদেশ এর মাহামুদুল হাসান এবং বুয়েট ও সাউথ ইষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ।

দেশেই পালিয়ে রয়েছেন শাহেদ, গ্রেফতার হচ্ছেন না কেন
                                  

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ প্রতারণার অভিযোগ ওঠার পর ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মো. শাহেদ আত্মগোপনে গেছেন বলে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‍্যাব জানিয়েছে। বাহিনীটির কর্মকর্তারা বলেছেন, তার বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।


একইসাথে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, মো. শাহেদ দেশের ভিতরেই পালিয়ে রয়েছেন। তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা এবং দুর্নীতির তদন্ত করাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু অভিযোগ ওঠার দু’দিন পরও তাকে যে গ্রেফতার করা যায়নি, সে ব্যাপারে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মীদের অনেকে।

রিজেন্ট হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম শিবলীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বৃহস্পতিবার সকালে। তাকে হাসপাতালটির মালিক মো. শাহেদের সহযোগী হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে র‍্যাবের পক্ষ থেকে। গত দু’দিনে আরো ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রেফতারকৃতদের সকলেই হাসপাতালটির কর্মকর্তা-কর্মচারী।

চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে র‍্যাবের মামলায় এই গ্রেফতারকৃতরাও অভিযুক্ত রয়েছেন। কিন্তু মূল অভিযুক্ত মো. শাহেদ এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছেন।



মো. শাহেদ বিভিন্ন সময় শাহেদ করিম নাম ব্যবহার করেছে বলে র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেছেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মো. শাহেদকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

‘শাহেদ করিমকে গ্রেফতারের জন্য আমরা সর্বাত্নকভাবে অভিযান পরিচালনা করছি। তাকে ধরার জন্য সারাদেশেই র‍্যাব সজাগ আছে। সে যেন কোনভাবেই দেশ ত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য র‍্যাব সতর্ক অবস্থায় আছে।’

তিনি আরো জানিয়েছেন যে, প্রতারণার মামলার তদন্তের দায়িত্ব যেন র‍্যাব পায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তারা সেই অনুরোধ জানাবেন।

মো. শাহেদকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এখন জোরালো আলোচনা চলছে। বিরোধী দল বিএনপি অভিযোগ তুলেছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ত থেকে মো. শাহেদ মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে অসহায় মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন। সেজন্য তাকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার এনিয়ে সরকার এবং আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায় থেকে বক্তব্য দেয়া হয়েছে।
দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এবার সরকার স্বাস্থ্যখাতে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে।

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট দেয়াসহ নানা অভিযোগে সিলগালা করে দেয়া রিজেন্ট হাসপাতালের মালিককে নিয়ে আওয়ামী লীগ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রিজেন্ট হাসপাতাল এবং মো. শাহেদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার পদক্ষেপ নিয়েছে গোয়েন্দা শুল্ক বিভাগ।

এখন দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকও মো শাহেদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালানোর কথা বলেছে। দুদকের সচিব দিলওয়ার বখত বলেছেন, দুর্নীতির বিষয়ে তারা অনুসন্ধান করবেন।

‘পত্রপত্রিকায় যেসব তথ্য এসেছে, সেগুলো দুদকের নজরে এসেছে। দুদক তা অনুসন্ধানের ব্যাপারে প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। আশা করি শিগগিরই অনুসন্ধান শুরু করা যাবে। কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত হওয়ার পর সরকারের টাকা নিয়েও রিজেন্ট হাসপাতাল মানুষের কাছে টাকা নিয়েছে। এই অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান করবে।’

চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে দেশে আলোচনার শীর্ষে থাকা মো. শাহেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে যে খুঁজে পাচ্ছে না-এনিয়েও নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মীদের অনেকে মো. শাহেদকে গ্রেফতারের প্রশ্নে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান বলেছেন, মো. শাহেদকে ধরা যাচ্ছে না- এটা তিনি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

‘হাসপাতালের কয়েকজনকে ধরেছে। কিন্তু মালিককে পাওয়া যাচ্ছে না-এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে করছি না। কারণ করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে একজায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়া বেশ কঠিন।’

এলিনা খান মনে করেন, করোনাভাইরাসের ভুয়া পরীক্ষার জন্য কেউ মারা গেছে কিনা বা সংক্রমণ কতটা ছড়িয়েছে- মো. শাহেদ এবং রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে এ ব্যাপারেও তদন্ত করা উচিত।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, মো. শাহেদ দেশের ভিতরেই পালিয়ে রয়েছেন এবং তাকে গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সরকার ‘কোনো ছাড় দেবে না`’ বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

সূত্র : বিবিসি

 

ঈদের আগেই গণস্বাস্থ্যের বিশ্বমানের করোনা আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন
                                  

বিশ্বমানের সর্বাধুনিক আইসিইউ ইউনিট তৈরি করছে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী প্রতিষ্ঠিত গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল। ৪১ শয্যা বিশিষ্ট এই আইসিইউ ইউনিটের মধ্যে করোনা রোগীদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদাভাবে ১৫ শয্যার একটি ইউনিট করা হচ্ছে।


হাসপাতালটির দক্ষিণ পার্শ্বে এই করোনা আইসিইউ ইউনিট তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। একইসাথে করোনা ইউনিটের ভিতরে প্রবেশ ও বের হবার দরজা সম্পূর্ণ আলাদা। মূল হাসপাতালের সাথে এর কোনো সম্পর্কই থাকবে না বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। আগামী কোরবানীর ঈদের আগেই এই করোনা আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মিডিয়া উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

তিনি জানান, নীচতলায় আলাদাভাবে ১৫ সিটের এই করোনা আইসিইউ ইউনিট ছাড়াও গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের চার তলায় ২৬ শয্যাবিশিষ্ট আরো দু’টি ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। তারমধ্যে ১৮ সিটের বিশ্বমানের সর্বাধুনিক কিডনি ট্রান্সফারেন্ট একটি ইউনিট করা হচ্ছে। এতে বিশ্বের সেরা কিডনি ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা কাজ করবেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় হাসপাতালের প্রশিক্ষিত নার্সরাও থাকবেন তাদের সঙ্গে।

তাছাড়া এই কিডনি ট্রান্সফারেন্ট ইউনিটে বর্তমান সময়ের অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক (কম্পোটারাইজড) বেড ছাড়াও ব্যাংকক কিংবা সিঙ্গাপুরের হাসপাতালগুলোতে যেসব সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট রোগীরা তার চেয়েও বেশি সুবিধা পাবেন বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির অধ্যাপক ডা. নাজিব মোহাম্মদ। তিনিও এর আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডন, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের হাসপাতালে আইসিইউ ইউনিটের দায়িত্ব পালন করেছেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, বিশ্বমানের এত সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও চিকিৎসা ব্যয়টা রোগীদের ব্যয় ক্ষমতার ভিতরেই হবে। যা রাজধানীর সবচেয়ে উন্নতমানের হাসপাতালগুলোর থেকে এক তৃতিয়াংশেরও কম। বাংলাদেশের কোথাও এত কম খরচে চিকিৎসা করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।

 

আগামী ৬ মাসের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আনবে গ্লোব
                                  

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ছেন হাজারো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে অদৃশ্য এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশের বিজ্ঞানীরাই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। তবে এখনও কেউ পুরোপুরি সফলতার মুখ দেখেননি। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।

করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিভিন্ন দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এরইমধ্যে কিছুটা সফলতার মুখ দেখেছে চীন। তাদের আবিষ্কার করা ভ্যাকসিনকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে গ্লোব বায়োটিক গেলো ৮ মার্চ থেকে এই টিকা আবিষ্কারে কাজ শুরু করে। সব পর্যায় যথাযথভাবে পেরোতে পারলে আগামী ছয় থেকে সাত মাসের মধ্যে টিকাটি বাজারে আনা সম্ভব হবে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন আশা প্রকাশ করে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। এই টিকা আবিষ্কারে সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. কাকন নাগ এবং চিফ অপারেটিং অফিসার ড. নাজনীন সুলতানা।

সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশীদ বলেন, ৮ মার্চ কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণা কর্মকাণ্ড শুরু করা হয়। এই প্রেক্ষাপটে টিকাটির সুরক্ষা ও কার্যকারিতা নিরীক্ষার লক্ষ্যে আমরা ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই সুরক্ষা ও কার্যকারিতা পরীক্ষায় সরকারের সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।

তিনি আরও বলেন, এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজ অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৫,৭৪৩টি সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্স জমা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ থেকে জমা হয়েছে ৭৬টি। এসব সিকোয়েন্স বায়োইনফরম্যাটিক্স টুলের মাধ্যমে পরীক্ষা করে আমরা আমাদের টিকার টার্গেট নিশ্চিত করেছি, যা যৌক্তিকভাবে এই ভৌগোলিক অঞ্চলে অধিকতর কার্যকরী হবে বলে আশা করছি। 

এই টার্গেটের সম্পূর্ণ কোডিং সিকোয়েন্স যুক্তরাষ্ট্রের এনসিবিআই ভাইরাস ডাটাবেজে জমা দিয়েছি, যা ইতোমধ্যেই এনসিবিআই স্বীকৃতি দিয়েছে এবং প্রকাশিত হয়েছে (accession number: MT676411)। আমাদের গবেষণাগারে আবিষ্কৃত টিকাটির বিশদ বিশ্লেষণের পর ল্যাবরেটরি অ্যানিমেল মডেলে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে যথাযথ এন্টিবডি তৈরিতে সন্তোষজনক ফলাফল পেয়েছি।

নারী নির্যাতন বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান
                                  

সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ এর প্রধান শাহীন আনাম। তিনি বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে নতুন প্রজন্মকে সোচ্চার হতে হবে। এর বিরুদ্ধে শুধু নারীরা প্রতিবাদ করলে হবে না, পুরুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে। সমতা মানেই আনন্দ। এজন্য নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব, বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষের মধ্যে সমতা আনতে হবে।

আর তবেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে আয়োজিত এক মোটরসাইকেল র‌্যালিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দু’দিন আগে ‘এখনই বন্ধ করি নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা’ ব্যানারে র‌্যালির আয়োজন করে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ উইমেন রাইডার্স ক্লাব। শাহীন আনাম বলেন, দুঃখের বিষয় হলো, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা আমরা বন্ধ করতে পারিনি। কারণ, সমাজে নারীর প্রতি যে ধ্যানধারণা, এটা কিন্তু এখনও খুব একটা পাল্টায়নি। এটা পাল্টাতে হবে। সবাইকে বোঝাতে হবে যে, নারী একজন মানুষ এবং পুরুষের সমান। আমরা সব মানুষের মধ্যে সমতা চাচ্ছি। একটি সহিংসতামুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি; যা আমরা এখনও করতে পারিনি।

তিনি বলেন, এ বছর আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘জেনারেশন ইকুয়ালিটি’। এর অর্থ হলো, আমরা নতুন প্রজন্মের হাতে নারী-পুরুষের সমতার দায়িত্ব তুলে দিচ্ছি। চার দশক ধরে আন্দোলন করেও এখন পর্যন্ত আমরা নারী ও শিশুর প্রতি যে সহিংসতা, তা বন্ধ করতে পারিনি। এ সময় ‘পথে ঘাটে দিনে রাতে-চলতে চাই নিরাপদে’, ‘নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে-রুখে দাঁড়াও এক সাথে’, ‘জাগো জাগো-বিশ্ব নারী জাগো’, ‘সব বাধা ভেঙে নারীর অধিকার ফিরিয়ে আনবো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন কয়েকজন নারী রাইডার। এর আগে স্কুটিতে করে র‌্যালিটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরের দিকে যায়।

 

হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
                                  

 জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বহুলাংশে পিছিয়ে রয়েছেন। আইন তাদের স্বীকৃতি দিলেও সমাজের মানুষ তাদের সহজভাবে গ্রহণ করেনি। ফলে শিক্ষা গ্রহণ, কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি মৌলিক অধিকার থেকে তারা অনেকাংশেই বঞ্চিত। হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিভিন্ন কর্মদক্ষতা থাকার পরও চাকরী বা কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় ভিক্ষাবৃত্তি ও বেকারত্বের শিকার। অথচ এমানুষগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে তাদের মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের যে জীবন সংগ্রাম তা অনেকাংশে সহজ হবে। পাশাপাশি প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রম থেকে বের হয়ে এসে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাও বাজেট প্রনয়ন করা প্রয়োজন। যা সমাজে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে। ইনস্টিটিউট অফ ওয়েলবিং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরি বা কর্মসংস্থানের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং তাদের জীবন মান উন্নয়নে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আজ ১ মার্চ ২০২০ সকাল ১১.০০টায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর কৈবর্ত সভাকক্ষে গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদন নিয়ে ইনস্টিটিউট অফ ওয়েলবিং বাংলাদেশ এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর যৌথ উদ্যোগে ‘সবার জন্য সুযোগ: সবাই মিলে সমাজ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মতবিনিময় সভায় গবেষণাটির খসড়া প্রতিবেদনের উপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি এডভোকেসি অফিসার নাঈমা আকতার ও সহকারি প্রকল্প কর্মকর্তা শানজিদা আক্তার। মূল প্রবন্ধে গবেষণার উদ্দেশ্য, বর্তমানে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবস্থা এবং তাদের জীবন মান উন্নয়নে সুপারিশ তুলে ধরা হয়। তারা বলেন, সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বোঝা মনে করা হয়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি আস্থা রেখে তাদের নিয়োগে আগ্রহী নয়। আবার নিয়োগ পেলেও প্রবেশগম্যতার অভাব, সহকর্মীদের বিরূপ এবং প্রতিষ্ঠানের বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে তারা ঝরে পরেন। হিজড়া ব্যক্তিদের অবস্থা আরো শোচনীয়। তারা পরিবার থেকে বিতাড়িত এবং সমাজে অনাকাঙ্খিত। অধিকাংশই সম্মানজনক পেশার সাথে সম্পৃক্ত হতে না পেরে বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি হলে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা স্বাবলম্বী হয়ে সম্মানজনক জীবন যাপনে সক্ষম হবে। একই সাথে সামাজিক ন্যায়বিচারও নিশ্চিত হবে। সাদাকালো হিজড়া উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা অনন্যা বণিক বলেন, হিজড়া জনগোষ্ঠী পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে সকলক্ষেত্রেই অবহেলার শিকার। পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ফলে তারা শিক্ষা ও অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের আচরনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। বিভিন্ন দক্ষতা থাকা সত্বেও হিজড়া ব্যক্তিদের সুযোগ না দেয়ায় তারা নিজেদের প্রমাণ করতে পারে না। যেমন অনেক হিজড়া ব্যক্তির নৃত্যে দক্ষতা থাকলেও কোন সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ করার সুযোগ পান না। মুক্তির সংগ্রাম প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার এর পরিচালক মোঃ সুমন হোসেন বলেন, অনেক সময় কর্মক্ষেত্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয় না। ফলে অনেকেই কর্মক্ষেত্র থেকে ঝরে পরেন। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের প্রতিকূল পরিবেশের কারণেও তাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হেলথ ব্রীজ কানাডা এর আঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন বলেন, আমাদের দেশের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোকে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করণে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি এ মানুষগুলোকে ধৈর্য্য ধরে প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করতে হবে, তাহলে আগামী প্রজন্মের পথ চলা সহজতর হবে। সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী বলেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই কোন না কোন সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সহযোগিতা, সহমর্মিতা, প্রবেশগম্যতা এবং বৈষম্যহীনতা- এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হলেই তাদের শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ সকল মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর সহকারি নেটওয়ার্ক অফিসার মোঃ মিঠুন এর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন প্রতিবন্ধী ও হিজড়া ব্যক্তিদের বিভিন্ন সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ।

প্রবাসীদের অর্থে বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের জীবনমান
                                  

সরকারের বাস্তবমুধী নানা উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষি প্রধান নদী বেষ্টিত বরিশাল বিভাগের তিন লাখ দুই হাজার ৭৮ জন ব্যক্তি প্রবাসে শ্রমশক্তি খাটিয়ে বদলে দিয়েছেন গোটা দক্ষিণাঞ্চলবাসীর জীবনমান। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বর্তমান সরকার দেশের বাইরে বৈধপথে শ্রমশি ক্ত রফতানির কারণে একসময়ের অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলে এখন আর অনাহারি খুঁজে পাওয়া যায় না। বরং বিভিন্ন দেশের সাথে সরকারের সুসর্ম্পক থাকায় নির্দিধায় বিদেশ গমণ করে অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছে বিভাগের ছয় জেলা থেকে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা।

গ্রামগঞ্জে এখন খড়ের চালের ঘরের পরিবর্তে উঠেছে পাকা বা আধাপাকা ভবন। অনাহারির পরিবর্তে মানুষের মধ্যে ফিরে এসেছে ব্যাংকিং স্বচ্ছলতা। বরিশাল জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১১ বছরে অর্থাৎ ২০০৮ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বরিশাল বিভাগ থেকে মোট তিন লাখ দুই হাজার ৭৮ জন ব্যক্তি কর্মস্থলের জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যার মধ্যে পুরুষের সংখ্যা দুই লাখ ৪১ হাজার ৫৬০ জন এবং নারীর সংখ্যা ৬০ হাজার ৫১৮ জন। এরমধ্যে গত বছর ২০১৯ সালেই বরিশাল বিভাগ থেকে বিদেশ গেছেন ২৫ হাজার ৯৩৫ জন। সূত্রমতে, নারী ও পুরুষ উভয়ের সমন্বয়ে বিভাগের মধ্যে বরিশাল জেলায় প্রবাসীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ২৭২ জন এবং ঝালকাঠি জেলায় সবচেয়ে কম ২৭ হাজার ৪৮৫জন। এ ছাড়া পটুয়াখালী জেলায় ৩০ হাজার ৭৮৭জন, ভোলায় ৬৭ হাজার ৯৮০জন, পিরোজপুরে ৪৩ হাজার ৫২৯জন এবং বরগুনা জেলায় ৩৪ হাজার ২৫জন প্রবাসী রয়েছেন। সূত্রে আরও জানা গেছে, বরিশাল জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ৭৭ হাজার ৬৬০ জন, পটুয়াখালীতে ২০ হাজার ৩৫৫ জন, ভোলায় ৬১ হাজার ৪৯৫ জন, পিরোজপুরে ৩৬ হাজার ৬৮২ জন, বরগুনায় ২৩ হাজার ৭৮৯জন ও ঝালকাঠি জেলায় পুরুষ প্রবাসীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫৭৯ জন। এদিকে বরিশাল জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ২০ হাজার ৬১২ জন, পটুয়াখালীতে ১০ হাজার ৪৩৩ জন, ভোলায় ৬ হাজার ৪৮৩ জন, পিরোজপুরে ৬ হাজার ৮৪৭ জন, বরগুনায় ১০ হাজার ২৩৭ জন ও ঝালকাঠি জেলায় নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৫ হাজার ৯০৬ জন। তথ্যমতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বরিশাল বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে বিদেশ গমন করেছেন ২৫ হাজার ৯৪৫ জন। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৮ হাজার ২২০জন এবং নারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৭২৫ জন।

এরমধ্যে পুরুষ-মহিলা উভয়ের সমন্বয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বরিশাল জেলা থেকে বিদেশ গমনকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৭ হাজার ৫৬১ জন এবং ঝালকাঠি জেলায় সবচাইতে কম ২ হাজার ৪২৬জন। এ ছাড়া পটুয়াখালীতে ২ হাজার ৮৯০ জন, ভোলায় ৪ হাজার ৮৫৪ জন, পিরোজপুরে ৪ হাজার ৪০৭ জন ও বরগুনা জেলায় ৩ হাজার ৮০৭ জন বিদেশ গমন করেছেন। জেলা কর্মসংস্থান এবং জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক একেএম সাহাবুদ্দিন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বরিশালে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বছরে গড়ে প্রায় পাঁচ হাজারের বেশি লোক কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ গমন করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগের প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যে (সৌদি আরব) বেশি অবস্থান করছেন। এ ছাড়া মালয়েশিয়া, ওমান, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, বাহারাইন, মালদ্বীপ এবং জর্ডানে বরিশালের প্রবাসী মানুষের অবস্থান ভালো। তবে ইটালি, লন্ডন, আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডে বরিশালের প্রবাসী মানুষের অবস্থান কম।


   Page 1 of 12
     এক্সক্লুসিভ
কার ফ্রি সির্টিস:ঢাকা শহরের বাস্তবতা
.............................................................................................
এবার ঢাকার মসজিদ ইউরোশিয়ান প্রিমিয়াম-২০২০ পুরস্কারে আর্কিটেকচার বিভাগে প্রথম
.............................................................................................
ইকোসিটি স্যাটেলাইট কনফারেন্সে স্বাস্থ্য ও পরিবেশকে প্রাধান্য দেয়ার অঙ্গীকার ৬ মেয়রের
.............................................................................................
প্রতিবন্ধী মানুষের গণস্থাপনায় প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করুন
.............................................................................................
ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য রাখতে করনীয়
.............................................................................................
নারীর অগ্রগতিতে প্রয়োজন সুষ্ঠ পরিবেশ
.............................................................................................
বাড়ছে দাম্পত্য কলহের হার, ভাঙ্গছে সংসার, বিচ্ছেদে এগিয়ে নারীরা
.............................................................................................
‘বৈচিত্র্যময় সমাজ: অফুরন্ত সম্ভাবনা’ বই এর ডিজিটাল মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান
.............................................................................................
পরিবেশ ও চাকরিকে সমন্বয় করে কাজ করার আহবান
.............................................................................................
দেশেই পালিয়ে রয়েছেন শাহেদ, গ্রেফতার হচ্ছেন না কেন
.............................................................................................
ঈদের আগেই গণস্বাস্থ্যের বিশ্বমানের করোনা আইসিইউ ইউনিটের উদ্বোধন
.............................................................................................
আগামী ৬ মাসের মধ্যে করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশে আনবে গ্লোব
.............................................................................................
পার্কিং নীতিমালায় ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের আহ্বান
.............................................................................................
নারী নির্যাতন বন্ধে নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান
.............................................................................................
হিজড়া ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আহ্বান
.............................................................................................
প্রবাসীদের অর্থে বদলে গেছে দক্ষিণাঞ্চলের জীবনমান
.............................................................................................
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ‘সংশোধন’ আইন ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন
.............................................................................................
বিদেশ যাত্রায় এখন থেকে সঙ্গে রাখা যাবে ১০ হাজার ডলার
.............................................................................................
রক্তে রাঙ্গানো ফেব্রুয়ারি মাস শুরু
.............................................................................................
‘জলবায়ু বিপর্যয় রোধ করে গণহত্যা বন্ধ করুন’
.............................................................................................
সীমান্তে হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যে ঢাবি শিক্ষার্থীর অবস্থান
.............................................................................................
সড়ক নিরাপদ থাকলে মানুষের প্রাণও নিরাপদ থাকবে: ইলিয়াস কাঞ্চন
.............................................................................................
শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠলে বদলে যাবে সন্দ্বীপ
.............................................................................................
শিল্পাঞ্চলে গড়ে উঠলে বদলে যাবে সন্দ্বীপ
.............................................................................................
কক্সবাজারকে ডিজিটাল পর্যটন সুপারসিটি ঘোষণার দাবি
.............................................................................................
ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন ২২ জানুয়ারি
.............................................................................................
দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রায় পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু
.............................................................................................
দুদকের ভয়ে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে অর্থ খরচে স্থবিরতা
.............................................................................................
নোয়াখালীর হাতিয়া-নিঝুম দ্বীপে হচ্ছে বিশেষ পর্যটন জোন
.............................................................................................
সরকারি হাসপাতালগুলোতে চালু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু কর্নার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ড্রিমলাইনার সোনার তরী ও অচিন পাখি আসছে ২১ ও ২৪ ডিসেম্বর
.............................................................................................
চীনে নির্মিত দুটি ফ্রিগেট নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর
.............................................................................................
আগামী বিশ্বকে তরুণরাই নেতৃত্ব দেবে: বীর বাহাদুর
.............................................................................................
সৌদি, বাংলাদেশে হজযাত্রীর কোটা ১০ হাজার বাড়িয়েছে
.............................................................................................
ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদে সহ-সভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ
.............................................................................................
সবার জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চায় সরকার: পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
নিউইয়র্কে সাদেক হোসেন খোকার জানাযায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল
.............................................................................................
আরও ২২টি মিটারগেজ কোচ আসছে: রেলমন্ত্রী
.............................................................................................
পেনশন নিয়ে নতুন সুখবর দিল সরকার
.............................................................................................
জলবায়ু বিপর্যয়রোধে শিক্ষার্থীরাদের সাথে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা
.............................................................................................
১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন
.............................................................................................
নির্বাচনপ্রক্রিয়া দুর্নীতির আওতামুক্ত নয়: মাহবুব তালুকদার
.............................................................................................
৩ বছরে বিদেশ সফর করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের ৩ হাজার কর্মকর্তা
.............................................................................................
শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির দাবি
.............................................................................................
জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে: বিমান সচিব
.............................................................................................
জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হবে: বিমান সচিব
.............................................................................................
ডাবল লাইনের বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু জানুয়ারিতে: রেলমন্ত্রী
.............................................................................................
ছুটির নোটিশ
.............................................................................................
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প
.............................................................................................
মিরপুরের ছয়টি পার্ক ও খেলার মাঠের ত্রিমাত্রিকনকশা প্রণয়ন করলেন স্থানীয়রা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
সম্পাদক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমেদ
নির্বাহী সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আকরাম খাঁন
সহঃ সম্পাদক: হোসাইন আহমদ চৌধুরী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD