২৪ জিলক্বদ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জুলাই , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   রাজধানী -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
লকডাউন আরও কঠোর করার আহ্বান তাপসের

আরও কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস।

আজ দুপুরে নগর ভবনে ওয়ারী লকডাউন নিয়ে কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটির ২য় পর্যালোচনা সভা শেষে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন ও জনগণকে অনুরোধ জানান ডিএসসিসি মেয়র।

তাপস বলেন, ‘আরও কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করুন, যে বাড়িতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী রয়েছে সেই বাড়ির বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না।’মেয়র আরও বলেন, ‘ই-কমার্স প্লাটফর্মের সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নামের তালিকা প্রদান করতে হবে এবং তালিকার বাইরের কেউ সেখানে যাতায়াত করতে পারবেন না। প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালসসহ সকল সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ থাকবে।’

এ সময় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ লকডাউন কার্যকরে জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতার অনুরোধ করেন মেয়র।

লকডাউন আরও কঠোর করার আহ্বান তাপসের
                                  

আরও কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়নের অনুরোধ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস।

আজ দুপুরে নগর ভবনে ওয়ারী লকডাউন নিয়ে কেন্দ্রীয় বাস্তবায়ন কমিটির ২য় পর্যালোচনা সভা শেষে সংশ্লিষ্টদের এ নির্দেশনা দেন ও জনগণকে অনুরোধ জানান ডিএসসিসি মেয়র।

তাপস বলেন, ‘আরও কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করুন, যে বাড়িতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী রয়েছে সেই বাড়ির বাসিন্দারা বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না।’মেয়র আরও বলেন, ‘ই-কমার্স প্লাটফর্মের সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির নামের তালিকা প্রদান করতে হবে এবং তালিকার বাইরের কেউ সেখানে যাতায়াত করতে পারবেন না। প্যাসিফিক ফার্মাসিউটিক্যালসসহ সকল সরকারি-বেসরকারি কার্যালয় বন্ধ থাকবে।’

এ সময় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ লকডাউন কার্যকরে জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতার অনুরোধ করেন মেয়র।

রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না রোববার
                                  

রাজধানীর বেশ কয়েকটি এলাকায় রোববার সারা দিন গ্যাস থাকবে না। সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টানা ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।


শনিবার তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরের জন্য বেশ কিছু এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে শহীদ তাজউদ্দীন অ্যাভিনিউয়ে উভয় পাশের এলাকা, বনানী সমগ্র এলাকা, মহাখালী ডিওএইচএস, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট আবাসিক এলাকা, পূর্ব নাখালপাড়া সংলগ্ন এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে গ্যাসের এই সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

করোনা পরীক্ষায় ওয়ারীর ৫০ শতাংশই পজেটিভ
                                  

ওয়ারী লকডাউন এলাকায় যারা করোনা পরীক্ষা করছেন, তাদের ৫০ শতাংশের মধ্যেই করোনা সংক্রমণ পাওয়া যাচ্ছে। আজ নগর ভবনে অনুষ্ঠিত লকডাউন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এলাকাবাসীকে ধৈর্য্য ও সহনশীলতার সাথে লকডাউন বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।


মেয়র বলেন, গত তিন দিনে ওয়ারী এলাকায় করোনা সংক্রমণের যে হার দেখেছি সেটা লকডাউনের যৌক্তিকতাকে আরও তুলে ধরেছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি নমুনা সংগ্রহের প্রায় ৫০ ভাগের বেশি মানুষের সংক্রমণ ধরা পড়ছে। তাই লকডাউন কঠোরভাবে পালন করতে হবে। তাহলে আমরা এলাকাটাকে করোনামুক্ত করতে পারব। তারপর সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে আমরা সেটা পালন করবো।’

ব্যারিস্টার তাপস বলেন, ‘আমরা আরও একটু কঠোরভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। আমরা বুঝি এলাকাবাসীর অনেক সমস্যা হচ্ছে। তাদের জীবিকা নির্বাহসহ ব্যবসা বাণিজ্য ও চলাফেরার অনেক অসুবিধা হচ্ছে। আমি অনুরোধ করবো আপনারা ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে সেটা পালন করবেন। এই করোনা মহামারি থেকে বেরিয়ে আসতে হলে যেসব নির্দেশনা ও বিধি দেয়া হয়েছে, সেগুলো সবাইকে পরিপালন করা খুবই আবশ্যক।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, লকডাউন এলাকার যেসব ত্রুটি বিচ্যুতি ধরা পড়ছে, সেটা আমলে নিচ্ছি। এজন্য আমরা প্রতি সপ্তাহে একটি করে সমন্বয় সভা করবো। বিষয়টি কঠোরভাবে পালন করা হবে।



করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ৪ জুলাই ভোর ৬টা থেকে ২১ দিনের জন্য রাজধানী ওয়ারী এলাকার একাংশে লকডাউন চলছে। লকডাউন চলবে আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত।

ওয়ারীর যেসব রোড ও গলি লকডাউনের অধীনে রয়েছে সেগুলো হলো- টিপু সুলতান রোড, যোগীনগর রোড ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক (জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন)। গলিগুলো হলো- লারমিনি স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, র‌্যাংকিন স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট। বাসস

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
                                  

করোনা টেস্ট না করে সার্টিফিকেট প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করেছে র‍্যাব।

তিনি জানান, মামলায় ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা নং -৫। এতে সোমবার রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা শাখা থেকে আটক ৮জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আর রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদসহ ৯ জনকে পলাতক আসামি হিসাবে এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সোমবার র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদলত পরিচালনা করা হয়। সেখানে ভুয়া করোনা টেস্টের রিপোর্ট ও করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের প্রমাণ মেলে।

মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকেই সিলগালা করেন সারওয়ার আলম। স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে সন্ধ্যায় ওই হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয় ।

মঙ্গলবার ঢাকার যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে
                                  

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (ডিইই) প্রকল্পের আওতায় পাইপলাইন স্থানান্তরের কাজের জন্য মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা সেনানিবাসের আবাসিক এলাকা, মহাখালী ডিওএইচএস, বনানীর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণির উভয় পাশে, পূর্ব নাখালপাড়া ও বনানী এলাকার সব আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প গ্রাহক এবং সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের পাঠানো ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন স্থানান্তরিত হবে এবং ডিইই প্রকল্পের আওতায় থাকা গ্রাহকদের সংযোগের সাথে যুক্ত করে দেয়া হবে। ইউএনবি

ভাড়াটিয়া এখন ‘সোনার হরিণ’
                                  

মাত্র ৩ মাসে চিত্রটা সম্পূর্ণ বদলে গেল। আগে খালি বাসা পাওয়া যেত না আর এখন বাসা খালি পড়ে আছে, কিন্তু ভাড়াটিয়া পান না বাড়ির মালিক। সংকটটা শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নেই, ভাড়াটিয়া যারা আছেন তাদের কাছ থেকে ভাড়াও পাচ্ছেন না বাড়িওয়ালা। এই অপরাধে চাইলে তাদেরকে বের করেও দিতে পারছেন না। কারণ বের করে দিলে কোনোভাবেই জুটবে না নতুন ভাড়াটিয়া। কারো কারো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দুই মাস টু-লেট ঝুলিয়ে একটি কলও পাননি।

ভাড়াটিয়ারা এমন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে ওঠার পেছনে সঙ্গত কারণ আছে। অধিকাংশ উচ্চবিত্তই রাজধানী ঢাকায় নিজেদের ফ্ল্যাটে বসবাস করে থাকেন। অন্যদিকে ভাড়া বাসায় থাকেন মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্নবিত্তরা, মাসের শুরুতে বেতন হলেই যারা বাড়িওয়ালাকে টাকা দিতে পারেন। করোনার ভয়াল থাবায় এই মধ্যবিত্তদের অনেকেই চাকরি হারিয়েছেন, না হারালেও বেতন পাচ্ছেন না গত কয়েক মাস। এমতাবস্থায় বাসা ছেড়ে দেওয়া ছাড়া গত্যান্তর থাকে না তাদের।

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহরানে সুলতান বাহার বলেন, করোনাভাইরাসের শুরুতেই আমরা এই আশঙ্কা করেছিলাম। তাই সংগঠনের পক্ষ থেকে বারবার বিবৃতি দিয়েছি, সরকারের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু ভাড়াটিয়ার পাশে দাঁড়ায়নি কেউই। তাই এমন সংকট সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টা অনুমিতই ছিল।

তিনি আরো বলেন, আমরা শুধু ভাড়াটিয়াদের জন্য আবেদন জানাইনি। বলেছিলাম বাড়ির বিদ্যুত বিল, গ্যাস বিলসহ আনুষঙ্গিক বিলগুলো মওকুফ করতে। তাতে উভয় পক্ষই ভালো থাকতো। তা না করায় এখন সংকটে আছে সবাই। সরকারের কাছে আবেদন, ভাড়াটিয়াদের জন্য কিছু একটা করুন। অনেক চাকরিজীবীরাই অর্ধেক বেতন পাচ্ছেন। সেটা বিবেচনায় বাসা ভাড়াটাও অন্তত অর্ধেক মওকুফ করা যেতে পারে।

ঢাকা ছাড়ছে মানুষ
                                  

রাজধানীর চিরসাথী ট্রাফিক জ্যাম নেই। বায়ুদূষণ কমে সবুজ বেড়েছে। তবুও প্রতিদিন বোবা কান্নায় শহর ছাড়ছে মানুষ। অন্তঃহীন, অনিশ্চিত ভবিষ্যতের পরও গ্রামে ফিরছে সবাই। শহরের বাড়িগুলোতে টু-লেটের সংখ্যা বাড়ছে। কারো কারো চাকরি চলে গেছে। ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসাও বন্ধ। ঝুঁকির মুখে বেসরকারি খাতের চাকরি আছে তো বেতন নেই। আবার কারো বেতন কমে গেছে। এসএমই সেক্টরে ধস নেমেছে।

এক হিসাবে দেখা যায়, এরই মধ্যে ৫০ হাজারের বেশি লোক ফিরে গেছে গ্রামে। উঠতি মধ্যবিত্তের একটা অংশ কম ভাড়ার বাসায় চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে কম ভাড়ার মেসে উঠেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া অনেকগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে খাবার খরচ, শিক্ষা, যাতায়াত, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ বিল, গ্রামে থাকা মা-বাবার দেখভাল আর মোবাইল বিল খরচ করে পকেটে আর কিছুই থাকে না। প্রতি মাসের শেষ কটা দিন ধারদেনা করে চলে, কোনো সঞ্চয় নেই, তাই এই বাড়িভাড়ার চাপেই শহর ছাড়ছে মানুষ। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে নিম্নবিত্তের কাতারে নেমে যাবেন বলেও আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।পরিসংখ্যান মতে, দেশে ৯০ লাখ মানুষ আনুষ্ঠানিক খাতে চাকরি করেন। এর মধ্যে ১৫ লাখ সরকারি খাতে। বাকি ৭৫ লাখ মানুষ বেসরকারি খাতে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন ছয় কোটি ৮ লাখ মানুষ।

অপর দিকে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, করোনায় দেশে নতুন করে এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ গরিব হয়েছেন। দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যুক্ত হওয়া নতুন এ সংখ্যার ফলে এখন দেশে গরিব মানুষ পাঁচ কোটির বেশি। বিরাজমান পরিস্থিতিতে সংস্থাটির গবেষণা পরিচালকের আশঙ্কা, অর্থনীতির যে স্থবির অবস্থা, তা যদি আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকে, তাহলে ৩০ শতাংশ মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে।

গবেষণা সংস্থাটি বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যবিত্তের ওপর মূল চাপ কতটা পড়বে কিংবা তারা কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তা নির্ভর করবে অর্থনীতি কতটা ঘুরে দাঁড়ায় তার ওপর। চলতি জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা বুঝা যাবে। বিআইডিএস গবেষকদের মতে, বাজেটে একটা প্রাক্কলন করা হয়েছে চলতি বছরের দ্বিতীয় কোয়ার্টার থেকে তৃতীয় কোয়ার্টারের মধ্যে অর্থনীতি ৫০ শতাংশ ঘুরে দাঁড়াবে। যদি তা হয় তাহলে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া যাবে। আর যদি ঘুরে না দাঁড়ায় তাহলে মধ্যবিত্তের জন্য আরো কঠিন পরিস্থিতি আসবে। জুন পর্যন্ত তথ্য তুলে ধরে বিআইডিএসের জরিপে বলা হচ্ছে, বেসরকারি খাতের চাকরির আয় এরই মধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। একটি অংশের চাকরি আছে, কিন্তু বেতন নেই। আবার কারো বেতন কমে গেছে। এসএমই সেক্টরে ধস নেমেছে। এসব কারণে অসচ্ছল ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। যার সংখ্যা হবে দেড় কোটি থেকে আড়াই কোটির মতো।

এতে আরো বলা হয়, করোনায় এক কোটি ৬৪ লাখ মানুষ নতুন করে গরিব হয়েছে, যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। তাই এখন দেশে গরিব মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটির বেশি। এ অবস্থায় চলতি বছরের তৃতীয় কোয়ার্টারের ওপরই নির্ভর করবে আমাদের অর্থনীতি কতটা ঘুরে দাঁড়াবে আর মধ্যবিত্ত কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সংস্থাটি বলছে, দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া দেড় থেকে আড়াই কোটির মতো নতুন দরিদ্রের অধিকাংশই অসচ্ছল ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার। কারণ এ সময় তাদের মজুরি শ্রমের কোনো সুযোগ ছিল না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদেরও কোনো ব্যবসা ছিল না। তবে মধ্যবিত্তের হিসাবটা একটু জটিল। তাদের মূল আশ্রয়স্থল হলো তারা মাসিক বেতনের ভিত্তিতে চাকরি করে। ব্যাংকের সাথে মধ্যবিত্তদের একটা লেনদেন আছে। তাদের মোটামুটি একটা সঞ্চয় আছে। কিন্তু অর্থনীতির যে স্থবির অবস্থা, এ রকম যদি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতে থাকে, তাহলে ৩০ শতাংশ মধ্যবিত্তের একটা বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা জরিপ অনুযায়ী করোনার আগে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ২০.৫ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। আর চরম দরিদ্র ছিল ১০ শতাংশ। অপর দিকে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, এক জনের দৈনিক আয় এক ডলার ৯০ সেন্ট হলে ওই ব্যক্তিকে দরিদ্র ধরা হয় না। এর নিচে হলে দরিদ্র। মধ্যবিত্তের আয় সম্পর্কিত বিশ্বব্যাংকের হিসাবটি একটু বেশি। তাদের মতে, প্রতিদিন যাদের আয় ১০ থেকে ৫০ ডলার তারা মধ্যবিত্ত।

অন্য দিকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, এক ব্যক্তির ক্রয়ক্ষমতা (পিপিপি) যদি প্রতিদিন দুই ডলার থেকে ২০ ডলারের মধ্যে হয় তাহলে তাকে মধ্যবিত্ত বলা যায়। এই হিসাবে বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত হলো তিন কোটি ৭ লাখ। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দুই থেকে চার ডলার প্রতিদিনের আয় হলেই মধ্যবিত্ত। সেই হিসাবে যার মাসিক আয় ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা সেই মধ্যবিত্ত। এটা দেশের জনগোষ্ঠীর ৩০ ভাগ। ১৬ কোটি মানুষের হিসাবে সংখ্যাটি দাঁড়ায় চার কোটি ৮০ লাখ।

ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোরশেদ বলছেন, দিনে ১.৯ ডলারের দ্বিগুণ যাদের আয় তাদের আমরা বলি নিম্ন মধ্যবিত্ত। এরাই এখন সবচেয়ে বেশি সঙ্কটের মুখে আছেন। তারাই হয়তো দরিদ্রের কাতারে নেমে গেছেন। কিন্তু যারা মধ্যবিত্ত, তারা এখনো টিকে আছেন। তাদের সংখ্যা হয়তো ঠিকই থাকবে। হয়তো ব্যক্তির পরিবর্তন হবে। কারণ নতুন পরিস্থিতিতে পেশার পরিবর্তন হবে। নতুন ধরনের ব্যবসা আসবে, কাজ আসবে। কেউ ভালো অবস্থায় যাবেন। আবার কেউ খারাপ অবস্থায় পড়বেন।

কিন্তু বিআইডিএসের জরিপ বলছে, করোনায় ফর্মাল সেক্টরে কাজ করা ১৩ শতাংশ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। যাদের আয় ১১ হাজার টাকার কম তাদের ৫৬.৮৯ শতাংশ পরিবারের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ৩২.১২ শতাংশের আয় কমে গেছে। যাদের আয় ১৫ হাজার টাকার মধ্যে তাদের ২৩.২ শতাংশের আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ৪৭.২৬ শতাংশের আয় কমে গেছে। আর যাদের আয় ৩০ হাজার টাকার বেশি তাদের ৩৯.৪ শতাংশের আয় কমেছে এবং ৬.৪৬ শতাংশের আয় বন্ধ হয়ে গেছে।

লকডাউনে ওয়ারী, স্থাপন করা হবে নমুনা সংগ্রহ বুধ
                                  

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন ওয়ারী এলাকায় শনিবার সকাল থেকে ২১ দিনের জন্য লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বেশি হওয়ায় এ এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।


ওয়ারী এলাকার টিপু সুলতান রোড, জাহাঙ্গীর রোড, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের (জয়কালি মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন) বাইরের সড়ক, লালমনি রোড, হেয়ার রোড, ওয়ার রোড, র‌্যাঙ্কিন স্ট্রিট এবং নবাব স্ট্রিটের অভ্যন্তরীণ এলাকায় আজ সকাল ৮টা থেকে কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর থাকছে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আগমী ২৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউনের বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।

এর আগে মঙ্গলবার ডিএসসিসির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ওয়ারীকে লকডাউনের আওতায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান।

তিনি বলেন, এখানে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। সেই সাথে এলাকায় নমুনা সংগ্রহ বুথের পাশাপাশি একটি আইসোলেশন কেন্দ্রও স্থাপন করা হবে।



‘এখানে সবকিছু বন্ধ থাকবে,’ উল্লেখ করে মেয়র বলেন, তবে ফার্মেসি ও মুদির দোকান খোলা থাকবে।

ওয়ারীতে মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করছে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) ২০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান।

শুক্রবার বিকালে ওয়ারী পরিদর্শনে গিয়ে ইউএনবির ফটো সাংবাদিক দেখতে পান, স্থানীয় কমিটির সদস্যদের সাথে সমন্বয় করে ডিএসসিসির প্রতিনিধিরা এলাকার সব প্রবেশ পথে বাঁশ দিয়ে প্রতিরোধক তৈরি করছেন।

এর আগে ওয়ারীতে লকডাউন কার্যকর করতে গত ৩০ জুন ডিএসসিসিকে চিঠি দেয় স্থানীয় সরকার বিভাগ। এতে তিনটি বাইরের সড়ক ও চারটি অভ্যন্তরীণ সড়ককে লকডাউনের আওতায় আনতে বলা হয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২২ জুন ডিএসসিসির ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ওয়ারীকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ১০ জুন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাজাবাজার এলাকায় ২১ দিনের লকডাউন দেয়া হয়, যা সম্প্রতি শেষ হয়েছে।

এদিকে, সপ্তাহে নতুন করে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) করা র‌্যাংকিংয়ে শুক্রবার বাংলাদেশ ৮ম স্থানে উঠে এসেছে।

সূত্র : ইউএনবি

 

১৩৮ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট, ল্যাপটপ, ট্রাঙ্ক ডাস্টবিনে
                                  

করোনায় সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে ওরা হোস্টেল ও মেস ছেড়ে বাড়ি গিয়েছিল। এ কারণে তারা বাসা ভাড়া দিতে পারেনি। আর এই কারণে বাড়ির মালিক তাদের রুম থেকে সব মালামাল ময়লা ফেলার ডাস্টবিন ও বাড়ির নিচের গ্যারেজে ফেলে দেয়।

রাজধানীর কলাবাগানের ৪/এ, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিট (রুবী ভবন-কামরুন নাহার) ও পূর্ব রাজাবাজার এলাকার আলিফ হোস্টেলে গত বুধবার রাতে এমন ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কলাবাগান থানায় দুইটি মামলা হয়েছে। এই দুই মামলায় পুলিশ বাড়ির মালিক মুজিবুল হক কাঞ্চন ও আলিফ হোস্টেলের মালিক সৈকতকে খুঁজছে।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানান, কলাবাগান থানাধীন ৪/এ, ওয়েস্ট অ্যান্ড স্ট্রিটের রুবী ভবনের একটি ফ্ল্যাটে ঢাকা কলেজের আট জন ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী থাকতেন। সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর তারা বাড়ি চলে যায়।

বুধবার রাতে বাড়ি থেকে ফিরে দেখেন যে, বাড়ির মালিক ফ্ল্যাট থেকে সব জিনিসপত্র ফেলে দিয়েছে। তাদের এসএসসি ও এইচএসসির সনদ, মার্কশিট, ল্যাপটপসহ মূল্যবান জিনিস তারা খুঁজে পাচ্ছে না।

পরে বৃহস্পতিবার সকালে তারা গ্রিন রোডের একটি ডাস্টবিন থেকে কিছু জিনিস খুঁজে পায়। এ ঘটনায়র পর তারা কলাবাগান থানায় গিয়ে বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে।

ভুক্তভোগী ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী সজীব বলেন, ঢাকা শহরের বাড়িওয়ালারা এমন অমানুষ হতে পারে আমার জানা ছিল না। শিক্ষাজীবনের অর্জনকৃত সনদগুলো সব ছুড়ে ফেলে দিয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিউমার্কেট জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনার বলেন, বাড়ির মালিককে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

অপর ঘটনা ঘটে পূর্ব রাজাবাজার এলাকার আলিফ হোস্টেলে। ঐ হোস্টেলে করোনার কারণে শিক্ষার্থীরা ভাড়া দিতে পারেননি। অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গিয়েছে। এ অবস্থায় হোস্টেল মালিক সৈকত ও কেয়ারটেকার খোরশেদ বুধবার রাতে ১৩০ জন শিক্ষার্থীর মালামাল ফেলে দেন। শিক্ষার্থীদের ট্রাঙ্ক ও ভারী মালামাল হোস্টেলের গ্যারেজে ফেলে দেওয়া হয়।

আর জামা পোশাক ও বইপত্র পান্থপথের একটি ডাস্টবিনে ফেলে দেয়। ঐ ডাস্টবিন থেকে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে বেশ কিছু মালামাল উদ্ধার করে। ডাস্টবিনটি কলাবাগান থানা এলাকায় পড়েছে বলে ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে না: ডিএনসিসি
                                  

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসাবে না ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের উদ্দেশে দেয়া এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে বিভিন্ন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছ থেকে ফোন আসছে যে আমরা যদি ঢাকার পশুর হাট বন্ধ করে দেই তবে তাদের কী হবে! এটিই কিন্তু এখন বাস্তবতা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কিন্তু একটি বছর অপেক্ষা করে থাকে এ কোরবানির পশুর হাটের জন্য। তাদের অনেকেই পশু পালন করে বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করেন। একই সাথে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য পশু কোরবানিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন। আবার এটিও সত্য যে আমাদের শহরে ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে যদি পশুর হাট বসে সেটি কিন্তু জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ জন্য কিছু কিছু সিদ্ধান্ত আমি পরিবর্তন করতে বলেছি।’

‘হাট ইজারা দিয়ে হয়তো কোটি টাকা আয় করা যাবে, কিন্তু টাকার চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। তাই আমি ঢাকার বাইরে তুলনামূলক কম ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় হাট বসানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছি যাতে ব্যাবসায়ীরা পশু বিক্রিও করতে পারেন আবার জনস্বাস্থ্যও বিবেচনায় রাখা যায়,’ যোগ করেন তিনি।

মেয়র বলেন, ‘আমাদের তেজগাঁও, আফতাবনগর, ভাষানটেক এলাকায় বড় হাট বসে প্রতিবার। সেখান থেকে আমাদের অনেক টাকা আয়ও হতো। কিন্তু এ বছর করোনা বিবেচনায় আমরা এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যের কথা ভেবে এ স্থানে হাট বসতে দেব না। সেই সাথে উত্তরা ১০, ১১ ও ১২ এ তিনটি সেক্টরে বড় হাট বসত। গত বছর এ হাটে ইজারা মূল্য পাওয়া গিয়েছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। কিন্তু এ বছর এখানেও আমরা হাট বসতে দেব না।’

আতিকুল ইসলাম জানান, উত্তরাবাসীর জন্য উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন এলাকায় বড় হাট বসবে। তারা সেখান থেকে পশু কিনতে পারবেন এবং ওই এলাকায় মানুষের বসবাসও কম। এছাড়া মোহাম্মদপুরের বাসিন্দাদের জন্য বসিলায় একটা হাট দেয়া হবে। হাট থাকবে পূর্বাচল ব্রিজ সংলগ্ন মস্তুল ডুমনী ও ১০০ ফুট সড়কের সাইদ নগর এলাকায়, কাউলায়। গাবতলীতে স্থায়ী যে পশুর হাট আছে সেটি থাকবে।

‘তবে ঢাকা উত্তরের সব হাটেই মেনে চলতে হবে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি। আমি অনুরোধ করব যাতে শারীরিকভাবে দুর্বল, অসুস্থ, বয়স্ক এবং শিশুরা পশুর হাটে না আসে এবার। ইজারদারদের বলা থাকবে যাতে পশুর হাটে নূন্যতম ৫ ফুট দূরে দূরে গরু রাখার ব্যবস্থা করে তারা। হাটে পর্যাপ্ত বেসিন এবং হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে, জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে একটু পর পর মাইকিং করতে হবে। আমাদের পক্ষ থেকে সব হাটে ম্যাজিস্ট্রেট টহল থাকবে। ইজারাদারদের সতর্ক থাকতে হবে, আমাদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। অন্যথায় ইজারা বাতিল করা হবে,’ যোগ করেন মেয়র।

কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে মেয়র বলেন, বরাবরের মতো এবারও ডিএনসিসি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ করতে প্রস্তুত। তিনি নগরবাসীকে অনুরোধ করে বলেন, ‘আপনারা সিটি করপোরেশন কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি দেবেন, কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য ড্রেনে ফেলবেন না। ইনশাআল্লাহ আমরা এবারও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা উত্তরের সব বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হব।’

দোকানপাট-শপিংমল খোলার সময়সীমা বাড়লো
                                  

দেশজড়ে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এর মধ্যেই দোকান-পাট ও শপিংমল খোলার সময়সীমা ফের বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত দোকান-পাট, শপিংমলগুলো সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

আজ মঙ্গলবার তথ্যটি নিশ্চিত করে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, আগের নির্দেশনা অনুযায়ী দোকান-পাট, শপিংমলগুলো সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা রাখার কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশনার মেয়াদ আজ শেষ হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় তিনি বলেন, হাট-বাজার, দোকানপাটে ক্রয়-বিক্রয়কালে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। শপিংমলের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ স্যানিটাইজার রাখতে হবে। আগত যানবাহনগুলোকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে। আর আবশ্যিকভাবে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব বন্ধ করতে হবে।

এর আগে দেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি অবনতির দিকে যেতে থাকলে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে সরকার। এরপর বেশ কয়েক দফায় ছুটি বাড়ানো হয়। সর্বশেষ গত ৩০ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ছিল।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস সাধারণ ছুটির পর এখন সীমিত পরিসরে চলছে অফিস। প্রথম দফায় ৩০ জুন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে অফিস চালানোর সিদ্ধান্ত হয়। তবে সে মেয়াদ আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে যেভাবে সীমিত পরিসরে কর্মকাণ্ড চলছে, আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত সেভাবেই চলবে। জনগণকে এ ব্যাপারে সচেতন করতে প্রচার-প্রচারণা চালাবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও তথ্য মন্ত্রণালয়।

ডুবন্ত লঞ্চ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার
                                  

অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য। কেউ বিশ্বাসও করতে চাইবে না যে প্রায় ৫০ ফুট পানির নিচে ডুবন্ত লঞ্চ থেকে দীর্ঘ ১৩ ঘণ্টা পর আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার বুড়ীগঙ্গায় দুর্ঘটনায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চে। ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ন পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসে; ঠিক তখনই ওই ব্যক্তি নিজ চেষ্টায় লঞ্চের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন। বিষয়টি নিয়ে সবার মধ্যে কৌতুহল তৈরি হয়।

ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানিয়েছেন, উদ্ধার ব্যক্তির নাম সুমন ব্যাপারী। তিনি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সজল বেপারীর ছেলে। সুমন পেশায় ফল ব্যাবসায়ী। তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মিডফোর্ড) হাসপাতালের ক্যাজুয়েলিটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান। চোখের ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করেন।

নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, তারা যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিকে বিভিন্ন বিষয় জানতে চাইলে তিনি চোখের ইশারায় কথার জবাব দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা এবং অক্সিজেন লেভেল নিচে নেমে গেছে।

পানির নিচে তলিয়ে গেলেও এ ব্যক্তি কীভাবে বেঁচে গেলেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যেখানে আটকা পড়িছিলেন সেখানে হয়তো কিছুটা বাতাস ছিল। যার মাধ্যমে সুমন শ্বাস নিতে পেরেছিলেন। যখন টিউবের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় লঞ্চটি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন লঞ্চটি সামান্য ভেসে ওঠার পর ওই ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসেন এবং উদ্ধার কর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নৌকায় তোলেন।

তবে এভাবে লঞ্চের ভিতর বেৎচে থাকা নতুন নয়। এর আগে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকায় দুই ব্যক্তি এবং নারায়ণগঞ্জে একটি ডুবন্ত বলগেট থেকে এক ব্যক্তিকে জীবন্ত উদ্ধার করা হয়েছিল।

ঢাকা ছাড়ছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা
                                  

স্ত্রী সালমা ও তিন সন্তান নিয়ে ১৮ বছর ধরে ঢাকার মিরপুরে বসবাস করতেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের বাসিন্দা আব্দুল আউয়াল (ছদ্মনাম)। রাজধানীর গুলশানে ছিল তার ব্রেড ও বিস্কুট তৈরির (বেকারি) কারখানা। মিরপুরের বাসা আর গুলশানের কারখানা দুটোই ছিল ভাড়া নেওয়া। সর্বশেষ কারখানার ভাড়া ছিল মাসে ৯০ হাজার টাকা আর বাড়ির ভাড়া ছিল ১৫ হাজার টাকা। করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্ত্রী সালমা ও সন্তানদের তিন মাস আগেই গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন ৫৫ বছর বয়সি আউয়াল। অন্যদিকে করোনার কারণে পর্যুদস্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু কোনোমতেই ব্যবসা ঠেকাতে পারলেন না। আবার ব্যবসা না টিকলে কি হবে, মাস শেষে তাকে ঠিকই গুনতে হয় বাড়ি ভাড়ার ১৫ হাজার টাকা আর কারখানার ভাড়া ৯০ হাজার টাকা। এ তো গেলো শুধু ঘর ভাড়ার খরচ। তার বাইরে আছে কারখানার কারিগরদের বেতন, সংসারের মাসিক খরচ। ব্যবসা টেকাতে না পেরে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর এক মাস পরই কারখানার কারিগরদের বিদায় করে দিতে বাধ্য হন তিনি। আশায় ছিলেন পরিস্থিতির উন্নতি হলে আবার পুরোদমে ব্যবসা শুরু করবেন। কিন্তু আয়-উপার্জন শূন্যের কোঠায় নেমে যাওয়ায় কারখানা ধরে রাখা তো দূরের কথা, মিরপুরের বাসাটাও ছেড়ে দিতে বাধ্য হন আউয়াল। সর্বশেষ তিনিও চরম অনিশ্চয়তা নিয়ে চলতি মাসের শুরুতে ফিরে গেছেন নিজ ভিটায়। আর কিছু না হোক, অন্তত বাসা ভাড়াটা তো আর দিতে হবে না, এই ভরসায়। 

আউয়াল সাহেবের মতো এমন অনেক মানুষ, যারা কি না বহুদিন ধরে জীবনের প্রয়োজনে, জীবিকার প্রয়োজনে ঢাকায় বসবাস করছিলেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, তারা এরই মধ্যে ঢাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা শহরের অনেক বাড়িতেই বেড়ে গেছে ঝুলে থাকা টু-লেট-এর বিজ্ঞাপন। অনেক বাড়িতেই ভাড়াটিয়া নেই বলে একাধিক ফ্ল্যাট খালি আছে।

 

করোনার কারণে নিম্নআয়ের মানুষ যতটা বিপদে পড়েছে, তার চেয়ে বেশি বিপদে ও বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। সরকারের করোনাকালীন নানা সহায়তা কর্মসূচির তালিকায় নিম্নআয়ের মানুষ নাম ওঠাতে পারলেও নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণি কোনো তালিকায় নেই। তারা না পারছে নিজেদের সামাজিক অবস্থান ধরে রাখতে, না পারছে কারো কাছে হাত পাততে। তাদের অনেকেরই এখন ভেতরে ভেতরে গুমরে মরার দশা।

 

পরিসংখ্যান মতে, দেড় হাজার বর্গকিলোমিটারের এ নগরীতে প্রায় ২ কোটি মানুষ বসবাস করে যাদের প্রায় ৮০ শতাংশই ভাড়া বাসার বাসিন্দা। কিন্তু গত মার্চে দেশে করোনা ভাইরাস হানা দেওয়ার পর খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির স্বপ্ন ভাঙতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ব্র্যাকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৩৬ শতাংশ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। তিন শতাংশের চাকরি থাকলেও বেতন পান না। দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করেন তাদের ৬২ শতাংশই কাজের সুযোগ হারিয়েছে। সে সঙ্গে ঢাকা জেলার মানুষের আয় কমেছে ৬০ শতাংশ।

 

রাজধানীর কাঁঠালবাগানের ২১০ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয়তলায় সপরিবারে ভাড়া থাকতেন অ্যাডভোকেট আব্দুল জলিল। দুই সন্তানের মধ্যে বড়টি তৃতীয় শ্রেণিতে ও ছোটটি প্লে-তে পড়াশোনা করছে। করোনার মহামারিতে নিম্ন-আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে তার রোজগার থেমে যায়। মাসের ১৫ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ও সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে তিনি অন্ধকারে পড়ে যান। টানা তিন মাস রোজগারহীন অবস্থায় সংসার চালানোর পর ২০ জুন তিনি ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়ির মালিককে তিনি তার ভাড়া প্রদানের অপারগতা জানিয়ে পরদিনই চলে যান কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নিজ বাড়িতে। অনলাইনে স্কুলের পড়াশোনা হচ্ছে বলে তার কোনো সমস্যা নেই। গ্রামের বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা চালাবে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ঢাকায় আসবেন সপরিবারে

করোনার এই পরিস্থিতিতে ভাড়াটিয়াদের অধিকার নিয়ে কাজ করছে এমন সংগঠন নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান শান্তা ফারজানা বলেন, করোনা ক্রান্তিলগ্নে বাংলাদেশের মানুষ একদিকে যেমন নিরন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে অন্যদিকে বাড়ি ভাড়া সংকটে ভুক্তভোগী। এমতাবস্থায় নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবির চেয়ারম্যান মোমিন মেহেদীর নেতৃত্বে নেতৃবৃন্দ অনশন করেছিলেন। তাতেও সরকারের টনক না নড়ায়, রোড মার্চ করে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। নতুনধারার চারটি দাবির অন্যতম দাবি ছিল গ্যাস-বিদ্যুত্-পানির বিল মওকুফ করে বাড়িওয়ালাদের সহযোগিতার মাধ্যমে ভাড়াটিয়াদের সমস্যা সমাধান করা। প্রধানমন্ত্রী চাইলেই সরকারি ভর্তুকির মধ্যদিয়ে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া বিশেষ করে মধ্যবিত্ত আর নিম্নবিত্তদের সহযোগিতা করতে পারেন।

ব্র্যাকের গবেষণা রিপোর্ট অনুযায়ী চাকরি হারানো ৩৬ শতাংশ ব্যক্তির বেশিরভাগ অংশই ঢাকার ভাড়া বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে শুরু করেছেন। চলতি জুন মাসে গোটা রাজধানী জুড়ে ভাড়াটিয়াদের বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ছে। পিকআপ, ভ্যানগাড়ি বা ট্রাকে করে মালামাল ভরে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন এসব পরিবার। আবার অনেকেই বেশি টাকায় ভাড়া নেওয়া বড় ফ্ল্যাট ছেড়ে দিয়ে ছোট ফ্ল্যাট বা সাবলেটে ভাড়ায় উঠছেন। আবার কেউ কেউ পরিবারের সদস্যদের মালামালসহ গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে নিজে মেসে উঠছেন খরচ কমানোর জন্য।

ব্যাচেলর ভাড়াটিয়াদের সংগঠন বাংলাদেশ মেস সংঘের মহাসচিব আয়াতুল্লাহ আখতার বলেন, বর্তমান শোচনীয় পরিস্থিতিটা রাষ্ট্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সবাই ভুক্তভোগী। একে তো ব্যাচেলরদের অর্থ সংকট সবসময় থাকে। করোনার এই পরিস্থিতিতে ব্যাচেলরদের দুর্বিষহ দিন কাটাতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়কে বিবেকবোধ জাগ্রত করতে হবে। উভয়পক্ষকে সহনশীল হতে হবে। বাড়ির মালিকরা মানবিক দিক বিবেচনা করে ভাড়া কম নিলে ব্যাচেলর, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা ঢাকায় থাকতে পারবেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন
                                  

রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংক এরিয়ার ভেতরে ভোগ্যপণ্যের দোকানের পাশের খালি জায়গায় রাখা কাগজপত্রে আগুণ লাগে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা পানি ছিটিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে তা নিভিয়ে ফেলেন।

যদিও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

কেরানীগঞ্জের ৭টি ইউপিকে রেডজোন ঘোষণা, সেনা টহল জোরদার
                                  

ঢাকার কেরানীগঞ্জে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ জনে। এর ফলে জেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সাতটিকে রেডজোন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার রাত থকে রেডজোন এলাকায় লকডাউন বাস্তবায়ন করতে পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি সেনা সদস্যদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে সেনা সদস্যরা লকডাউন এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

জিনজিরা, শুভাঢ্যা, আগানগর, শাক্তা, কালিন্দী, কোন্ডা ও রোহিতপুর ইউনিয়ন পরিষদকে রেডজোন ঘোষণা করে লকডাউন করা হয়েছে। কলাতিয়া, বাস্তা ও তারানগর ইউপিকে ইয়োলো জোন করা হয়েছে। এছাড়া হযরতপুর ও তেঘুরিয়া ইউপিকে গ্রিন জোনের আওতায় রাখা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে নতুন করে ৩৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৪ জনে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৯৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

শুক্রবার সকাল থেকে রেডজোন এলাকায় লকডাউন কার্যকর করতে মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সচেতন করছেন সেনা সদস্যরা। এছাড়া বাবুবাজার সেতু ও পোস্তগোলা সেতুতে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমিত দেবনাথ জানান, আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত কেরানীগঞ্জে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। রেডজোন এলাকাগুলো লকডাউনের আওতায় থাকবে। লকডাউনে থাকা এলাকাবাসীকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সহায়তা দিতে ইতিমধ্যে সাতটি ইউপির চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব ভাগ করে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য দুজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও সেনা সদস্যরা রেডজোন এলাকায় নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন।

সূত্র : ইউএনবি

আজ মধ্যরাত থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা লকডাউন
                                  

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে লকডাউন করা হচ্ছে। সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, স্থানীয় থানাসহ সমন্বিতভাবে এই লকডাউন কার্যকর করা হবে বলে জানা গেছে।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুকতারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ‘বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় লকডাউন কার্যকর করা হবে। আমরা লোকাল প্রশাসন হিসেবে লকডাউন কার্যকরে সহযোগিতা করবো।’

রাজধানীজুড়ে এলাকাভিত্তিক লকডাউনের অংশ হিসেবে এই লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মতে, যেসব এলাকায় করোনা শনাক্তের হার বেশি সেসব এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ‘রেড জোন’ এলাকাগুলো ভিন্নমাত্রার লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

 

 

   Page 1 of 111
     রাজধানী
লকডাউন আরও কঠোর করার আহ্বান তাপসের
.............................................................................................
রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না রোববার
.............................................................................................
করোনা পরীক্ষায় ওয়ারীর ৫০ শতাংশই পজেটিভ
.............................................................................................
রিজেন্ট হাসপাতালের মালিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
মঙ্গলবার ঢাকার যেসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে
.............................................................................................
ভাড়াটিয়া এখন ‘সোনার হরিণ’
.............................................................................................
ঢাকা ছাড়ছে মানুষ
.............................................................................................
লকডাউনে ওয়ারী, স্থাপন করা হবে নমুনা সংগ্রহ বুধ
.............................................................................................
১৩৮ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট, ল্যাপটপ, ট্রাঙ্ক ডাস্টবিনে
.............................................................................................
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসবে না: ডিএনসিসি
.............................................................................................
দোকানপাট-শপিংমল খোলার সময়সীমা বাড়লো
.............................................................................................
ডুবন্ত লঞ্চ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার
.............................................................................................
ঢাকা ছাড়ছেন নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা
.............................................................................................
বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন
.............................................................................................
কেরানীগঞ্জের ৭টি ইউপিকে রেডজোন ঘোষণা, সেনা টহল জোরদার
.............................................................................................
আজ মধ্যরাত থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা লকডাউন
.............................................................................................
করোনায় মারা গেলেন বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মুজিবুর রহমান
.............................................................................................
রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে অগ্নিকাণ্ড
.............................................................................................
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক করোনায় আক্রান্ত
.............................................................................................
আইসিইউর জন্য হাহাকার, অতঃপর এম্বুলেন্সে মৃত্যু!
.............................................................................................
করোনায় বিআরবি হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানের মৃত্যু
.............................................................................................
আইসিইউ খালি তবু ফেরত যাচ্ছে করোনা রোগী
.............................................................................................
‘রেড জোন’ এলাকায় থাকবে সাধারণ ছুটি
.............................................................................................
ঢাকা মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে দুই দিনে আরো ৩৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকের মৃত্যু
.............................................................................................
মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী পূর্ব রাজাবাজারে লগডাউন বাস্তবায়ন
.............................................................................................
ঢাকা মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে আরো ১৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় আরও এক চিকিৎসকের মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় স্কয়ারের চিকিৎসক মির্জা নাজিম উদ্দিনের মৃত্যু
.............................................................................................
পুরান ঢাকায় কেমিক্যাল গোডাউনে আগুন, দগ্ধ ২
.............................................................................................
করোনা ভাইরাসে প্রায় সাড়ে ৭ লাখের বেশি আক্রান্ত ঢাকাতেই
.............................................................................................
বাংলামোটরে বাস চাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
.............................................................................................
খিলগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ
.............................................................................................
ন্যাশনাল ব্যাংকের চুরি যাওয়া ৬০ লাখ টাকা উদ্ধার
.............................................................................................
ঢামেকে করোনা ইউনিটে ২৪ ঘন্টায় ২৯ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
শিল্পপতি আব্দুল মোনেম আর নেই
.............................................................................................
১দিনে ঢাকা মেডিকেলের করোনা ইউনিটে ২৩জনের মৃত্যু
.............................................................................................
করোনায় শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি চেয়ারম্যানের মৃত্যু
.............................................................................................
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাসায় চারজন করোনা আক্রান্ত
.............................................................................................
বিএসএমএমইউতেও ডা. জাফরুল্লাহর করোনা পজেটিভ
.............................................................................................
`ইউনাইটেড হাসপাতালের ১১টি অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের ৮টিই মেয়াদোত্তীর্ণ`
.............................................................................................
ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৫
.............................................................................................
ঈদ শেষে দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়ছে কর্মমুখী মানুষের ভিড়
.............................................................................................
ঢাকার উপর দিয়ে বয়ে গেল ঘণ্টায় ৮৩ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়া
.............................................................................................
করোনায় নিলুফার মঞ্জুরের মৃত্যু
.............................................................................................
ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর স্ত্রীর মৃত্যু
.............................................................................................
করোনা ভাইরাসে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু
.............................................................................................
শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে জনসমুদ্র, ফেরি চলাচল বন্ধ
.............................................................................................
করোনায় সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তার মৃত্যু
.............................................................................................
মেয়রের দায়িত্ব নিয়েই শীর্ষ দুই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করলেন তাপস
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD