ঢাকা, মঙ্গলবার , ৭ আশ্বিন ১৪২৭ , ২২ সেপ্টেম্বর , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সারাদেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ফরিদগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৮ দিন পর, পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু

এস.এম রাকিব:

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রাণ হারায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন পাভেল। প্রাথমিক অবস্থায় তার মৃত্যুটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরে নিলেও ঘটনার ৮ দিন পর বেরিয়ে আসে মৃত্যুর অন্তরালের ঘটনাগুলো। আসলেই কি পাভেলের স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য। পাভেলের বাবার দাবি, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মারা যায় তার আদরের সন্তান। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নবগঠিত ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালের ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের দেওয়া ভুল ইনজেকশন শরীরে পুশ করায় হৃদকম্পনে পাভেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর পড়ালেখাজনিত কারণে সুস্থ শরীরে হাসিমুখে ঢাকা যায় পাভেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ একটি মেসে দীর্ঘদিন ধরে থাকছিলো সে। ঢাকা গিয়েই জ্বরে আক্রান্ত হয় পাভেল। জ্বর যখন কোনোভাবেই কমছিলো না তখন ৭ সেপ্টেম্বর পাভেলের বাবা ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের স্বত্বাধিকারী মাও: তাজুল ইসলামকে ফোন দেয় পাভেলের বন্ধু রাশেদ হোসেন। রাশেদ জানায় যে, কোনোভাবেই কমছে না পাভেলের জ্বর। তাকে বাড়ি নেওয়া জরুরি। সেদিনই পাভেলের বন্ধুরা পাভেলকে দুপুর দেড়টায় ময়ূর লঞ্চে করে বাড়ি পাঠায়। পাভেলের বাবা চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে বাড়ি নিয়ে আসে তাকে।

পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় পাভেলকে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক মোজাম্মেল হোসেন প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন করোনা নয় বরং ভাইরাস জ্বরে ভুগছে পাভেল। তবে জ্বর যে টাইফয়েডে রূপ নেয়নি তাও চেকাপ রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত করেন তিনি। সে অনুযায়ী ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন ট্যাবলেট সেফ-৩ ২০০ মিলিগ্রাম, সাপোজিটরি ও কিছু গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ দেন। নিশ্চিত করেন ভয়ের কারণ নেই। নিয়মিত ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।

এ ঘটনার পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পাভেলের জ্বরের সাথে যুক্ত হলো শ্বাসকষ্ট। প্রায় ১০৪ ডিগ্রি জ্বর আর শ্বাস কষ্ট নিয়ে ৯ তারিখ রোববার আবারো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (চতুরা হাসপাতাল) ডাঃ মোজাম্মেল হোসেনের কাছে নেওয়া হলে তিনি নেবুলাইজার দেন পাভেলকে। নেবুলাইজারে শ্বাস কষ্ট কমলেও তখনও জ্বর ছিলো ১০৪ ডিগ্রির মত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে একটি পৃথক নেবুলাইজার কিনলেন পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম। নেবুলাইজার ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট পুরোপুরি কমলেও জ্বর কিছুতেই কমছিলো না। ১১ তারিখ সারাদিন বাসাতেই ছিলো পাভেল। চলছিলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ।

পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জ্বরের পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে যায়। পরামর্শের জন্য ফোন করেন মোজাম্মেল ডাক্তারকে। মোবাইল বন্ধ ছিলো তার। দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মোজাম্মেল ডাক্তারকে ফোনে না পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন ডাঃ মোজাম্মেল হাসপাতালে নেই, বর্তমানে চট্টগ্রাম আছেন। পাভেলের বাবা তখন সিদ্ধান্ত নেন পরদিন শনিবার ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে আসা চিকিৎসক খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে দেখাবেন। তিনি রাতেই কল করে ছেলের অসুস্থতার কথা জানান দোলন ডাক্তারকে। খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লাইফ জেনারেল হাসপাতালে তার চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।

সারারাত জ্বর আর বর্ধিত হৃদকম্পনের সাথে যুদ্ধ করে যায় ইমরান হোসেন পাভেল। তার মা, বাবা, ছোট ভাই, বোন কারও চোখেই ঘুম নেই। সকলের প্রত্যাশা রাত পোহাবে কখন? ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় পাভেলকে নিয়ে যায় ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের চেম্বারে। পূর্ব রাতে কল করে আসা পাভেলের শারীরিক সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জেনেও ডাক্তার দোলনের সাক্ষাৎ পাননি তারা। রোগীদের সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় দেখা পান দোলন ডাক্তারের! ততক্ষণে পাভেলের অবস্থা আরও নাজুক। ডাক্তারের নিজের দেওয়া সাক্ষাত সময়ের সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাভেলের শরীরের কম্পন চলে আসে। অতঃপর দোলন ডাক্তার জরুরি দুটি সাপোজিটরি একসাথে শরীরে পুশ করেন। তাৎক্ষণিক তাকে হসপিটাল থেকে একটি ইউআরপি বস্নাড টেস্ট ও এঙ্রে করানোর পরামর্শ দেন।

হসপিটালের এঙ্-রে রুমে চেকআপ ম্যান না থাকায় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আরও ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাকে। শেষ বিকেলে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পাভেলের প্রেসক্রিপশনে দুটি ইনজেকশান ও এক পাতা নাপা রেপিড ট্যাবলেট লিখে দেন। ইনজেকশান দুটি হলো অ্যাসিফিন ২ গ্রাম, যা প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন এবং জেন্টামাইসিন ৮০ গ্রাম, যা প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন। দোলন ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের উপরে `রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে` লেখা থাকলেও ভর্তি করানো হয়নি হাসপাতালে।

হাসপাতাল থেকে পাভেলের বাবা তার বাসার নিকটস্থ এবি ফার্মেসীতে ঔষধের জন্য যান এবং এবি ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী কল্লোলকে ইনজেকশন পুশ করতে বলেন। কল্লোল জানান, ইনজেকশনগুলো রগে দিতে হবে, তাই ক্যানুলা লাগাতে হবে। আপনি বিষয়টি ডাক্তারকে জানান। পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম দোলন ডাক্তারকে ফোন করেন। বললেন, আপনার প্রেসক্রিপশনের উপরে লিখা ছিলো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে। এখন ভর্তি যেহেতু করায়নি, ছেলের হাতে ইনজেকশনের ক্যানুলাও নেই, তাহলে আমি লাইফ জেনারাল হাসপাতালে নিয়ে আসি ভর্তির জন্য। প্রতি উত্তরে ডাঃ দোলন বলেছিলেন, বিষয়টি ততটা গুরুতর নয়। আপনি কারো হেল্প নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে ইনজেকশন দিয়ে দিন। রোগী বাসায়ই থাকুক।

পাভেলের বাবা সন্ধ্যায় ছেলেকে আল-মদিনা হাসপাতালে নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাসপাতালের নার্স দিয়ে ইনজেকশান দুটি পুশ করান। তখনও তার শরীরে জ্বর ১০৪ ডিগ্রির উপরে। বাবার সাথে পাভেল বাড়ি আসে। ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাত যত বাড়ছে তত সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অবনতি হচ্ছে পাভেলের শারীরিক অবস্থার। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার দোলন ডাক্তার ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে আর দেখানো সম্ভব হয়নি। পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে গেলে পরামর্শের জন্য তার কাছে বহুবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সারাদিন পাভেলের মা-বোন পাভেলের সেবা করেছেন। প্রত্যাশা ছিলো ইনজেকশনে বুকের ব্যথা কমবে। কিন্তু দৈনিক ৫ বার দুটি ইনজেকশান পুশ করায় পাভেলকে যে আরো অসুস্থ করে তুলছিলো তা জানা ছিলো না পাভেলের বাবা-মায়ের। রোববার রাত বাড়ার সাথে সাথে পাভেলের চিৎকার তত বাড়ছিলো। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বারবারই বলছিলো, আমার বুকে ব্যথা বাড়ছে। হৃদকম্পন বাড়ছে, দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি এখন কী করবো? তখনও একের পর এক কল দিয়ে যাচ্ছিলেন দোলন ডাক্তারের মোবাইলে। কিন্তু তার নম্বর বন্ধ। কল যাচ্ছিলো না। একদিকে ছেলের কান্না বাবার কানে এসে কাঁটার মত বিঁধছিলো। অপর দিকে দোলন ডাক্তারের নম্বরে কল দিতেই দুঃখিত বলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলা হচ্ছিলো।

রোববার রাত ২টায় পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম তখন পাগল প্রায়। সিদ্ধান্ত নিলেন সন্তানকে ঢাকা নিয়ে যাবেন। বাসা থেকে বের হয়ে সম্ভাব্য কয়েকজনকে ফোন করলেন অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর আছে কি-না জানতে। কেউ সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর দিতে পারেননি। একদিকে দোলন ডাক্তারের মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা। ততক্ষণে ফজরের আজান হয়। আশেপাশে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় পাভেলের বাবা পায়ে হেঁটে রওনা হলেন সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে। পথিমধ্যে তার এক নিকটাত্মীয় পরামর্শ দিলেন অ্যাম্বুলেন্স না পেলে সকাল ৬টায় প্রথম ট্রিপের লঞ্চে কেবিনে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি তা-ই করলেন। একটি সিএনজি অটোরিকশা সংগ্রহ করে ছেলেকে নিয়ে রওনা হলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। পাভেলের শরীরে তখনও জ্বর ১০৪ ডিগ্রির মত।

সকাল ৬টার লঞ্চ এমভি রফরফ-এর ১১১ নং কেবিনে পাভেলকে শুইয়ে দেন তাজুল ইসলাম। পুরো পথে পাভেল জ্বরের ঘোরে কাতরাচ্ছে আর তাজুল ইসলাম তার শয্যা পাশে বসে দোলন ডাক্তারকে কল করে যাচ্ছিলেন। নদীতে ভাসতে ভাসতে লঞ্চ যখন মুন্সিগঞ্জে পৌঁছলো তখনই পাভেলের বুকে তীব্র ব্যথা উঠলো। ছেলের চিৎকারে বাবা নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলেন না। এবার প্রেসক্রিপশনের নম্বর অনুযায়ী কল করলেন লাইফ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি নম্বরে। বললেন, ডাঃ দোলনের বিকল্প কোনো নম্বর আছে কি-না। তার ছেলে ভীষণ অসুস্থ, তাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে জানানো হলো, আপনি ঢাকা যান। ঢাকা গিয়ে পৌঁছলে আমরা দোলন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে জানাবো আপনার কী করতে হবে।

মুন্সিগঞ্জের পর লঞ্চ যখন ঢাকার কাছাকাছি। তখন পাভেল বুকের ব্যথায় অনবরত কাতরাচ্ছে। বাবার কাছে শেষবারের মত জুস খেতে চাইলো সে। বাবা লঞ্চের নিচে গেলেন জুস আনতে। গিয়ে দেখা হলো পাভেলের স্কুল শিক্ষক হাসান গাজীর সাথে। তাকে জানালেন ছেলের অসুস্থতার কথা। জুস নিয়ে দু`জন কেবিনে প্রবেশ করলেন। বুকের তীব্র যন্ত্রণার ভেতরও পাভেল তার শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেনি। মাথা একপাশ করে স্পষ্ট সালাম দিলেন হাসান স্যারকে। কে জানতো এই সালামটিই তার জীবনের শেষ সালাম হবে? স্যার সালাম নিলেন। বাবা সন্তানকে পরম স্নেহে জুস খাওয়ালেন। তৃষ্ণার্ত সন্তান বাবার হাতে জুস খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো। তখনও বুকের ব্যথা কমেনি, তাপমাত্রা কমে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। সদরঘাটে অপেক্ষারত পাভেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। ঘাটে গেলেই তাকে নিয়ে যাবে মিটফোর্ড হাসপাতালে। পাভেলের বাবা তখনও অনবরত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ০১৭১৭৫৪১৪২৩ নম্বরে কল করেই যাচ্ছিলেন। জবাব আসছিলো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। লঞ্চ যখন সদরঘাটের কাছাকাছি। পোস্তগোলা ব্রীজের কাছে। আর মিনিট পাঁচেক পরই ঘাটে ভিড়বে লঞ্চ। তখনই পাভেল বুকের ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলেন। বাবার দিকে এক নজর তাকালেন আর মাথা ফেলে দিলেন বালিশের এক পাশে। পাভেল এখন আর কাতরাচ্ছে না, বুকে কোনো কম্পন নেই, মুখে শব্দ নেই, জুস খাবার আকুতি নেই, নাক দিয়ে বের হচ্ছে না নিঃশ্বাস। বাবা নিশ্চিত তার সন্তান আর পৃথিবীতে নেই। সন্তানের লাশ সামনে রেখে বাবা তাজুল ইসলাম তখন চোখে কুয়াশা দেখছেন। ঝাপসা হয়ে আসছিলো তার দু`চোখ। মৃদুভাবে তবুও ডেকেই চলছেন, পাভেলরে? পাভেল? ও পাভেল..? কথা ক বাবা।

ততক্ষণে লঞ্চ ঘাটে ভিড়লো। বাবার বিশ্বাস হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা মিরাকল কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে তুলবেন। হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে সে। জ্বরে বেঁহুশ হয়ে গেছে, হাসপাতালে নিলে ঠিকই জ্ঞান ফিরবে। কত শত ভরসা নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাবা লঞ্চ থেকে সদরঘাটে নামলেন। পাভেলের সহপাঠীরা শিক্ষক হাসান গাজীসহ নিয়ে গেলেন সদরঘাটের নিকটস্থ মিডফোর্ড হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের ডাক্তার দেখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন, রোগী মারা গেছেন! বাবা তাজুল ইসলাম তখন নিজের ভিতরের কান্নাগুলো আর আটকে রাখতে পারলেন না। লুটিয়ে পড়লেন লাশের উপর। বারবার মনে পড়ছিলো সন্তানের শেষ কথোপকথনটি, `আব্বা আমাকে একটু জুস খাওয়ান।`

মুহূর্তেই পাভেলের মৃত্যু সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাভেলের মা সন্তানহারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে গত প্রায় ১ সপ্তাহ হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। গতকাল হাসপাতাল থেকে ফিরেই সাংবাদিকদের জানান সন্তান হারানোর দুঃসময়ের মুহূর্তগুলোর কথা। দাবি করেন অস্বাভাবিকভাবে নয় ডাক্তার খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়।

পাভেলের মৃত্যু সংবাদ যখন সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে তখন সকাল ১১টার পরে পাভেলের বাবার নম্বরে কল করেন ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন। তখন কথা বলতে পারেননি তিনি। তারপর থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন সান্ত্বত্মনা সূচক একটি ফোনও দেননি পাভেলের অভিভাবককে। সেই আক্ষেপও ফুটে ওঠে পাভেলের বাবার কথায়।

এ বিষয়ে পাভেলের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক হাসান গাজী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, পাভেলের বাবার কাছে শুনেই তাকে দেখতে লঞ্চের কেবিনে যাই। ছেলেটার বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টে দম নিতে পারছে না, তবুও আমাকে সালাম দিতে ভুলেনি। বিছানা থেকে উঠে বালিশে হেলান দিয়ে আমাকে সালাম জানালো, একটু পর ঘামিয়ে উঠলো, বাইরে গিয়ে চেয়ারে বসতে চাইলো, কিছুক্ষণ পর নাকে মুখে লালা বের হয়ে মৃত্যুর কোলে হেলে পড়লো। তবুও আমরা সান্ত্বনা সূচক হাসপাতালে নেই। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করার সাথে সাথেই পাভেলের বাবা জ্ঞান হারান। চোখের সামনে ঘটা সে দৃশ্য বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

পাভেলের বাবা বলেন, আমি সারাজীবন পত্রিকার বান্ডেল খুলেছি। অজানা সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে বন্টন করে মানুষকে জানিয়েছি, আর আজ আমার সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আমি পত্রিকা বন্টন করে মানুষকে জানাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার শয্যাশায়ী সন্তানের চেহারা দিকে তাকাচ্ছি আর ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে কল দিচ্ছি। তিনি মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। শনিবার সাড়ে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে কেন তিনি আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি দিলেন না? আমার ছেলের হার্টে একটি ছিদ্র আছে জেনেও কেন দোলন ডাক্তার তাকে এত পাওয়ারি ইনজেকশন দিলেন? কেন একজন কার্ডিওলজিস্টের কাছে হস্তান্তর করলেন না? কেন ভালো একটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ না দিয়ে বাড়িতে রেখে দিনে ৫ বার দু`টি ইনজেকশন পুশ করার পরামর্শ দিলেন তা আমার জানা নেই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আর যেন আমার মত কোনো বাবার বুক খালি না হয়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, সাধারণত টাইফয়েড হলে আমরা এসিফিন ২ গ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটি হায়ার এন্টিবায়োটিক। তবে পাভেলকে কোন্ প্রেক্ষাপটে, কোন্ রিপোর্টের আলোকে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন জেন্টামাইসিনের পাশাপাশি এই ঔষধ দিয়েছেন তা রিপোর্ট না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন নিঃসন্দেহে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। যেহেতু ছেলেটির হার্টে প্রবলেম ছিলো তা তিনি জানতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কমছিলো না, সেক্ষেত্রে তাকে কোনো কার্ডিওলজিস্টের কাছে রেফার করাটাই যুক্তিযুক্ত ছিলো। আমি হলে তা-ই করতাম। চাঁদপুর সদর হাসপাতালেও কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক আছেন। সেখানে তাকে তাৎক্ষণিক রেফার করলে ছেলেটি প্রোপার ট্রিটমেন্টই পেতো। ভুল চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মারা গেছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার্ডিওলজিস্ট বা বিশেষায়িত ডাক্তারদের বোর্ড গঠন করলে তারা রায় দিতে পারবেন। সকল রিপোর্ট না দেখে, রোগীর গতিবিধি না বুঝে বর্তমান চিকিৎসাকে ভুল চিকিৎসা বলা ঠিক হবে না।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ছেলেটির সর্বশেষ রিপোর্টের কপি হাতে পেলে তা পর্যালোচনা করে বলা যাবে সে যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছে কি-না। আগামীকাল (আজ) আমার কাছে তার সমস্ত রিপোর্ট নিয়ে আসলে আমি তা দেখে মন্তব্য করতে পারবো। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।

ফরিদগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৮ দিন পর
      -------পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু 
এস.এম ইকবাল:
 
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রাণ হারায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন পাভেল। প্রাথমিক অবস্থায় তার মৃত্যুটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরে নিলেও ঘটনার ৮ দিন পর বেরিয়ে আসে মৃত্যুর অন্তরালের ঘটনাগুলো। আসলেই কি পাভেলের স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো?
 
এমন প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য। পাভেলের বাবার দাবি, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মারা যায় তার আদরের সন্তান। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নবগঠিত ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালের ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের দেওয়া ভুল ইনজেকশন শরীরে পুশ করায় হৃদকম্পনে পাভেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর পড়ালেখাজনিত কারণে সুস্থ শরীরে হাসিমুখে ঢাকা যায় পাভেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ একটি মেসে দীর্ঘদিন ধরে থাকছিলো সে। ঢাকা গিয়েই জ্বরে আক্রান্ত হয় পাভেল। জ্বর যখন কোনোভাবেই কমছিলো না তখন ৭ সেপ্টেম্বর পাভেলের বাবা ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের স্বত্বাধিকারী মাও: তাজুল ইসলামকে ফোন দেয় পাভেলের বন্ধু রাশেদ হোসেন। রাশেদ জানায় যে, কোনোভাবেই কমছে না পাভেলের জ্বর। তাকে বাড়ি নেওয়া জরুরি। সেদিনই পাভেলের বন্ধুরা পাভেলকে দুপুর দেড়টায় ময়ূর লঞ্চে করে বাড়ি পাঠায়। পাভেলের বাবা চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে বাড়ি নিয়ে আসে তাকে।
 

পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় পাভেলকে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক মোজাম্মেল হোসেন প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন করোনা নয় বরং ভাইরাস জ্বরে ভুগছে পাভেল। তবে জ্বর যে টাইফয়েডে রূপ নেয়নি তাও চেকাপ রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত করেন তিনি। সে অনুযায়ী ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন ট্যাবলেট সেফ-৩ ২০০ মিলিগ্রাম, সাপোজিটরি ও কিছু গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ দেন। নিশ্চিত করেন ভয়ের কারণ নেই। নিয়মিত ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
 

এ ঘটনার পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পাভেলের জ্বরের সাথে যুক্ত হলো শ্বাসকষ্ট। প্রায় ১০৪ ডিগ্রি জ্বর আর শ্বাস কষ্ট নিয়ে ৯ তারিখ রোববার আবারো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (চতুরা হাসপাতাল) ডাঃ মোজাম্মেল হোসেনের কাছে নেওয়া হলে তিনি নেবুলাইজার দেন পাভেলকে। নেবুলাইজারে শ্বাস কষ্ট কমলেও তখনও জ্বর ছিলো ১০৪ ডিগ্রির মত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে একটি পৃথক নেবুলাইজার কিনলেন পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম। নেবুলাইজার ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট পুরোপুরি কমলেও জ্বর কিছুতেই কমছিলো না। ১১ তারিখ সারাদিন বাসাতেই ছিলো পাভেল। চলছিলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ।
 

পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জ্বরের পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে যায়। পরামর্শের জন্য ফোন করেন মোজাম্মেল ডাক্তারকে। মোবাইল বন্ধ ছিলো তার। দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মোজাম্মেল ডাক্তারকে ফোনে না পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন ডাঃ মোজাম্মেল হাসপাতালে নেই, বর্তমানে চট্টগ্রাম আছেন। পাভেলের বাবা তখন সিদ্ধান্ত নেন পরদিন শনিবার ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে আসা চিকিৎসক খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে দেখাবেন। তিনি রাতেই কল করে ছেলের অসুস্থতার কথা জানান দোলন ডাক্তারকে। খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লাইফ জেনারেল হাসপাতালে তার চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।
 

সারারাত জ্বর আর বর্ধিত হৃদকম্পনের সাথে যুদ্ধ করে যায় ইমরান হোসেন পাভেল। তার মা, বাবা, ছোট ভাই, বোন কারও চোখেই ঘুম নেই। সকলের প্রত্যাশা রাত পোহাবে কখন? ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় পাভেলকে নিয়ে যায় ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের চেম্বারে। পূর্ব রাতে কল করে আসা পাভেলের শারীরিক সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জেনেও ডাক্তার দোলনের সাক্ষাৎ পাননি তারা। রোগীদের সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় দেখা পান দোলন ডাক্তারের! ততক্ষণে পাভেলের অবস্থা আরও নাজুক। ডাক্তারের নিজের দেওয়া সাক্ষাত সময়ের সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাভেলের শরীরের কম্পন চলে আসে। অতঃপর দোলন ডাক্তার জরুরি দুটি সাপোজিটরি একসাথে শরীরে পুশ করেন। তাৎক্ষণিক তাকে হসপিটাল থেকে একটি ইউআরপি বস্নাড টেস্ট ও এঙ্রে করানোর পরামর্শ দেন।
 

হসপিটালের এঙ্-রে রুমে চেকআপ ম্যান না থাকায় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আরও ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাকে। শেষ বিকেলে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পাভেলের প্রেসক্রিপশনে দুটি ইনজেকশান ও এক পাতা নাপা রেপিড ট্যাবলেট লিখে দেন। ইনজেকশান দুটি হলো অ্যাসিফিন ২ গ্রাম, যা প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন এবং জেন্টামাইসিন ৮০ গ্রাম, যা প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন। দোলন ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের উপরে `রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে` লেখা থাকলেও ভর্তি করানো হয়নি হাসপাতালে।
 

হাসপাতাল থেকে পাভেলের বাবা তার বাসার নিকটস্থ এবি ফার্মেসীতে ঔষধের জন্য যান এবং এবি ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী কল্লোলকে ইনজেকশন পুশ করতে বলেন। কল্লোল জানান, ইনজেকশনগুলো রগে দিতে হবে, তাই ক্যানুলা লাগাতে হবে। আপনি বিষয়টি ডাক্তারকে জানান। পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম দোলন ডাক্তারকে ফোন করেন। বললেন, আপনার প্রেসক্রিপশনের উপরে লিখা ছিলো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে। এখন ভর্তি যেহেতু করায়নি, ছেলের হাতে ইনজেকশনের ক্যানুলাও নেই, তাহলে আমি লাইফ জেনারাল হাসপাতালে নিয়ে আসি ভর্তির জন্য। প্রতি উত্তরে ডাঃ দোলন বলেছিলেন, বিষয়টি ততটা গুরুতর নয়। আপনি কারো হেল্প নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে ইনজেকশন দিয়ে দিন। রোগী বাসায়ই থাকুক।
 

পাভেলের বাবা সন্ধ্যায় ছেলেকে আল-মদিনা হাসপাতালে নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাসপাতালের নার্স দিয়ে ইনজেকশান দুটি পুশ করান। তখনও তার শরীরে জ্বর ১০৪ ডিগ্রির উপরে। বাবার সাথে পাভেল বাড়ি আসে। ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাত যত বাড়ছে তত সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অবনতি হচ্ছে পাভেলের শারীরিক অবস্থার। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার দোলন ডাক্তার ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে আর দেখানো সম্ভব হয়নি। পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে গেলে পরামর্শের জন্য তার কাছে বহুবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সারাদিন পাভেলের মা-বোন পাভেলের সেবা করেছেন। প্রত্যাশা ছিলো ইনজেকশনে বুকের ব্যথা কমবে। কিন্তু দৈনিক ৫ বার দুটি ইনজেকশান পুশ করায় পাভেলকে যে আরো অসুস্থ করে তুলছিলো তা জানা ছিলো না পাভেলের বাবা-মায়ের। রোববার রাত বাড়ার সাথে সাথে পাভেলের চিৎকার তত বাড়ছিলো। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বারবারই বলছিলো, আমার বুকে ব্যথা বাড়ছে। হৃদকম্পন বাড়ছে, দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি এখন কী করবো? তখনও একের পর এক কল দিয়ে যাচ্ছিলেন দোলন ডাক্তারের মোবাইলে। কিন্তু তার নম্বর বন্ধ। কল যাচ্ছিলো না। একদিকে ছেলের কান্না বাবার কানে এসে কাঁটার মত বিঁধছিলো। অপর দিকে দোলন ডাক্তারের নম্বরে কল দিতেই দুঃখিত বলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলা হচ্ছিলো।
 

রোববার রাত ২টায় পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম তখন পাগল প্রায়। সিদ্ধান্ত নিলেন সন্তানকে ঢাকা নিয়ে যাবেন। বাসা থেকে বের হয়ে সম্ভাব্য কয়েকজনকে ফোন করলেন অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর আছে কি-না জানতে। কেউ সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর দিতে পারেননি। একদিকে দোলন ডাক্তারের মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা। ততক্ষণে ফজরের আজান হয়। আশেপাশে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় পাভেলের বাবা পায়ে হেঁটে রওনা হলেন সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে। পথিমধ্যে তার এক নিকটাত্মীয় পরামর্শ দিলেন অ্যাম্বুলেন্স না পেলে সকাল ৬টায় প্রথম ট্রিপের লঞ্চে কেবিনে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি তা-ই করলেন। একটি সিএনজি অটোরিকশা সংগ্রহ করে ছেলেকে নিয়ে রওনা হলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। পাভেলের শরীরে তখনও জ্বর ১০৪ ডিগ্রির মত।
 

সকাল ৬টার লঞ্চ এমভি রফরফ-এর ১১১ নং কেবিনে পাভেলকে শুইয়ে দেন তাজুল ইসলাম। পুরো পথে পাভেল জ্বরের ঘোরে কাতরাচ্ছে আর তাজুল ইসলাম তার শয্যা পাশে বসে দোলন ডাক্তারকে কল করে যাচ্ছিলেন। নদীতে ভাসতে ভাসতে লঞ্চ যখন মুন্সিগঞ্জে পৌঁছলো তখনই পাভেলের বুকে তীব্র ব্যথা উঠলো। ছেলের চিৎকারে বাবা নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলেন না। এবার প্রেসক্রিপশনের নম্বর অনুযায়ী কল করলেন লাইফ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি নম্বরে। বললেন, ডাঃ দোলনের বিকল্প কোনো নম্বর আছে কি-না। তার ছেলে ভীষণ অসুস্থ, তাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে জানানো হলো, আপনি ঢাকা যান। ঢাকা গিয়ে পৌঁছলে আমরা দোলন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে জানাবো আপনার কী করতে হবে।
 

মুন্সিগঞ্জের পর লঞ্চ যখন ঢাকার কাছাকাছি। তখন পাভেল বুকের ব্যথায় অনবরত কাতরাচ্ছে। বাবার কাছে শেষবারের মত জুস খেতে চাইলো সে। বাবা লঞ্চের নিচে গেলেন জুস আনতে। গিয়ে দেখা হলো পাভেলের স্কুল শিক্ষক হাসান গাজীর সাথে। তাকে জানালেন ছেলের অসুস্থতার কথা। জুস নিয়ে দু`জন কেবিনে প্রবেশ করলেন। বুকের তীব্র যন্ত্রণার ভেতরও পাভেল তার শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেনি। মাথা একপাশ করে স্পষ্ট সালাম দিলেন হাসান স্যারকে। কে জানতো এই সালামটিই তার জীবনের শেষ সালাম হবে? স্যার সালাম নিলেন। বাবা সন্তানকে পরম স্নেহে জুস খাওয়ালেন। তৃষ্ণার্ত সন্তান বাবার হাতে জুস খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো। তখনও বুকের ব্যথা কমেনি, তাপমাত্রা কমে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। সদরঘাটে অপেক্ষারত পাভেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। ঘাটে গেলেই তাকে নিয়ে যাবে মিটফোর্ড হাসপাতালে। পাভেলের বাবা তখনও অনবরত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ০১৭১৭৫৪১৪২৩ নম্বরে কল করেই যাচ্ছিলেন। জবাব আসছিলো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। লঞ্চ যখন সদরঘাটের কাছাকাছি। পোস্তগোলা ব্রীজের কাছে। আর মিনিট পাঁচেক পরই ঘাটে ভিড়বে লঞ্চ। তখনই পাভেল বুকের ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলেন। বাবার দিকে এক নজর তাকালেন আর মাথা ফেলে দিলেন বালিশের এক পাশে। পাভেল এখন আর কাতরাচ্ছে না, বুকে কোনো কম্পন নেই, মুখে শব্দ নেই, জুস খাবার আকুতি নেই, নাক দিয়ে বের হচ্ছে না নিঃশ্বাস। বাবা নিশ্চিত তার সন্তান আর পৃথিবীতে নেই। সন্তানের লাশ সামনে রেখে বাবা তাজুল ইসলাম তখন চোখে কুয়াশা দেখছেন। ঝাপসা হয়ে আসছিলো তার দু`চোখ। মৃদুভাবে তবুও ডেকেই চলছেন, পাভেলরে? পাভেল? ও পাভেল..? কথা ক বাবা।
 

ততক্ষণে লঞ্চ ঘাটে ভিড়লো। বাবার বিশ্বাস হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা মিরাকল কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে তুলবেন। হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে সে। জ্বরে বেঁহুশ হয়ে গেছে, হাসপাতালে নিলে ঠিকই জ্ঞান ফিরবে। কত শত ভরসা নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাবা লঞ্চ থেকে সদরঘাটে নামলেন। পাভেলের সহপাঠীরা শিক্ষক হাসান গাজীসহ নিয়ে গেলেন সদরঘাটের নিকটস্থ মিডফোর্ড হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের ডাক্তার দেখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন, রোগী মারা গেছেন! বাবা তাজুল ইসলাম তখন নিজের ভিতরের কান্নাগুলো আর আটকে রাখতে পারলেন না। লুটিয়ে পড়লেন লাশের উপর। বারবার মনে পড়ছিলো সন্তানের শেষ কথোপকথনটি, `আব্বা আমাকে একটু জুস খাওয়ান।`
 

মুহূর্তেই পাভেলের মৃত্যু সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাভেলের মা সন্তানহারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে গত প্রায় ১ সপ্তাহ হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। গতকাল হাসপাতাল থেকে ফিরেই সাংবাদিকদের জানান সন্তান হারানোর দুঃসময়ের মুহূর্তগুলোর কথা। দাবি করেন অস্বাভাবিকভাবে নয় ডাক্তার খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়।
 

পাভেলের মৃত্যু সংবাদ যখন সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে তখন সকাল ১১টার পরে পাভেলের বাবার নম্বরে কল করেন ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন। তখন কথা বলতে পারেননি তিনি। তারপর থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন সান্ত্বত্মনা সূচক একটি ফোনও দেননি পাভেলের অভিভাবককে। সেই আক্ষেপও ফুটে ওঠে পাভেলের বাবার কথায়।
 

এ বিষয়ে পাভেলের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক হাসান গাজী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, পাভেলের বাবার কাছে শুনেই তাকে দেখতে লঞ্চের কেবিনে যাই। ছেলেটার বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টে দম নিতে পারছে না, তবুও আমাকে সালাম দিতে ভুলেনি। বিছানা থেকে উঠে বালিশে হেলান দিয়ে আমাকে সালাম জানালো, একটু পর ঘামিয়ে উঠলো, বাইরে গিয়ে চেয়ারে বসতে চাইলো, কিছুক্ষণ পর নাকে মুখে লালা বের হয়ে মৃত্যুর কোলে হেলে পড়লো। তবুও আমরা সান্ত্বনা সূচক হাসপাতালে নেই। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করার সাথে সাথেই পাভেলের বাবা জ্ঞান হারান। চোখের সামনে ঘটা সে দৃশ্য বলে বোঝানো সম্ভব নয়।
 

পাভেলের বাবা বলেন, আমি সারাজীবন পত্রিকার বান্ডেল খুলেছি। অজানা সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে বন্টন করে মানুষকে জানিয়েছি, আর আজ আমার সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আমি পত্রিকা বন্টন করে মানুষকে জানাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার শয্যাশায়ী সন্তানের চেহারা দিকে তাকাচ্ছি আর ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে কল দিচ্ছি। তিনি মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। শনিবার সাড়ে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে কেন তিনি আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি দিলেন না? আমার ছেলের হার্টে একটি ছিদ্র আছে জেনেও কেন দোলন ডাক্তার তাকে এত পাওয়ারি ইনজেকশন দিলেন? কেন একজন কার্ডিওলজিস্টের কাছে হস্তান্তর করলেন না? কেন ভালো একটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ না দিয়ে বাড়িতে রেখে দিনে ৫ বার দু`টি ইনজেকশন পুশ করার পরামর্শ দিলেন তা আমার জানা নেই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আর যেন আমার মত কোনো বাবার বুক খালি না হয়।
 

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, সাধারণত টাইফয়েড হলে আমরা এসিফিন ২ গ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটি হায়ার এন্টিবায়োটিক। তবে পাভেলকে কোন্ প্রেক্ষাপটে, কোন্ রিপোর্টের আলোকে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন জেন্টামাইসিনের পাশাপাশি এই ঔষধ দিয়েছেন তা রিপোর্ট না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন নিঃসন্দেহে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। যেহেতু ছেলেটির হার্টে প্রবলেম ছিলো তা তিনি জানতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কমছিলো না, সেক্ষেত্রে তাকে কোনো কার্ডিওলজিস্টের কাছে রেফার করাটাই যুক্তিযুক্ত ছিলো। আমি হলে তা-ই করতাম। চাঁদপুর সদর হাসপাতালেও কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক আছেন। সেখানে তাকে তাৎক্ষণিক রেফার করলে ছেলেটি প্রোপার ট্রিটমেন্টই পেতো। ভুল চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মারা গেছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার্ডিওলজিস্ট বা বিশেষায়িত ডাক্তারদের বোর্ড গঠন করলে তারা রায় দিতে পারবেন। সকল রিপোর্ট না দেখে, রোগীর গতিবিধি না বুঝে বর্তমান চিকিৎসাকে ভুল চিকিৎসা বলা ঠিক হবে না।
 

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ছেলেটির সর্বশেষ রিপোর্টের কপি হাতে পেলে তা পর্যালোচনা করে বলা যাবে সে যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছে কি-না। আগামীকাল (আজ) আমার কাছে তার সমস্ত রিপোর্ট নিয়ে আসলে আমি তা দেখে মন্তব্য করতে পারবো। তবে বিশ্ববিদ্যাল

ফরিদগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৮ দিন পর, পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু
                                  

এস.এম রাকিব:

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রাণ হারায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন পাভেল। প্রাথমিক অবস্থায় তার মৃত্যুটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরে নিলেও ঘটনার ৮ দিন পর বেরিয়ে আসে মৃত্যুর অন্তরালের ঘটনাগুলো। আসলেই কি পাভেলের স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য। পাভেলের বাবার দাবি, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মারা যায় তার আদরের সন্তান। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নবগঠিত ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালের ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের দেওয়া ভুল ইনজেকশন শরীরে পুশ করায় হৃদকম্পনে পাভেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর পড়ালেখাজনিত কারণে সুস্থ শরীরে হাসিমুখে ঢাকা যায় পাভেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ একটি মেসে দীর্ঘদিন ধরে থাকছিলো সে। ঢাকা গিয়েই জ্বরে আক্রান্ত হয় পাভেল। জ্বর যখন কোনোভাবেই কমছিলো না তখন ৭ সেপ্টেম্বর পাভেলের বাবা ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের স্বত্বাধিকারী মাও: তাজুল ইসলামকে ফোন দেয় পাভেলের বন্ধু রাশেদ হোসেন। রাশেদ জানায় যে, কোনোভাবেই কমছে না পাভেলের জ্বর। তাকে বাড়ি নেওয়া জরুরি। সেদিনই পাভেলের বন্ধুরা পাভেলকে দুপুর দেড়টায় ময়ূর লঞ্চে করে বাড়ি পাঠায়। পাভেলের বাবা চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে বাড়ি নিয়ে আসে তাকে।

পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় পাভেলকে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক মোজাম্মেল হোসেন প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন করোনা নয় বরং ভাইরাস জ্বরে ভুগছে পাভেল। তবে জ্বর যে টাইফয়েডে রূপ নেয়নি তাও চেকাপ রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত করেন তিনি। সে অনুযায়ী ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন ট্যাবলেট সেফ-৩ ২০০ মিলিগ্রাম, সাপোজিটরি ও কিছু গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ দেন। নিশ্চিত করেন ভয়ের কারণ নেই। নিয়মিত ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।

এ ঘটনার পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পাভেলের জ্বরের সাথে যুক্ত হলো শ্বাসকষ্ট। প্রায় ১০৪ ডিগ্রি জ্বর আর শ্বাস কষ্ট নিয়ে ৯ তারিখ রোববার আবারো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (চতুরা হাসপাতাল) ডাঃ মোজাম্মেল হোসেনের কাছে নেওয়া হলে তিনি নেবুলাইজার দেন পাভেলকে। নেবুলাইজারে শ্বাস কষ্ট কমলেও তখনও জ্বর ছিলো ১০৪ ডিগ্রির মত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে একটি পৃথক নেবুলাইজার কিনলেন পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম। নেবুলাইজার ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট পুরোপুরি কমলেও জ্বর কিছুতেই কমছিলো না। ১১ তারিখ সারাদিন বাসাতেই ছিলো পাভেল। চলছিলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ।

পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জ্বরের পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে যায়। পরামর্শের জন্য ফোন করেন মোজাম্মেল ডাক্তারকে। মোবাইল বন্ধ ছিলো তার। দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মোজাম্মেল ডাক্তারকে ফোনে না পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন ডাঃ মোজাম্মেল হাসপাতালে নেই, বর্তমানে চট্টগ্রাম আছেন। পাভেলের বাবা তখন সিদ্ধান্ত নেন পরদিন শনিবার ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে আসা চিকিৎসক খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে দেখাবেন। তিনি রাতেই কল করে ছেলের অসুস্থতার কথা জানান দোলন ডাক্তারকে। খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লাইফ জেনারেল হাসপাতালে তার চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।

সারারাত জ্বর আর বর্ধিত হৃদকম্পনের সাথে যুদ্ধ করে যায় ইমরান হোসেন পাভেল। তার মা, বাবা, ছোট ভাই, বোন কারও চোখেই ঘুম নেই। সকলের প্রত্যাশা রাত পোহাবে কখন? ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় পাভেলকে নিয়ে যায় ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের চেম্বারে। পূর্ব রাতে কল করে আসা পাভেলের শারীরিক সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জেনেও ডাক্তার দোলনের সাক্ষাৎ পাননি তারা। রোগীদের সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় দেখা পান দোলন ডাক্তারের! ততক্ষণে পাভেলের অবস্থা আরও নাজুক। ডাক্তারের নিজের দেওয়া সাক্ষাত সময়ের সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাভেলের শরীরের কম্পন চলে আসে। অতঃপর দোলন ডাক্তার জরুরি দুটি সাপোজিটরি একসাথে শরীরে পুশ করেন। তাৎক্ষণিক তাকে হসপিটাল থেকে একটি ইউআরপি বস্নাড টেস্ট ও এঙ্রে করানোর পরামর্শ দেন।

হসপিটালের এঙ্-রে রুমে চেকআপ ম্যান না থাকায় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আরও ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাকে। শেষ বিকেলে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পাভেলের প্রেসক্রিপশনে দুটি ইনজেকশান ও এক পাতা নাপা রেপিড ট্যাবলেট লিখে দেন। ইনজেকশান দুটি হলো অ্যাসিফিন ২ গ্রাম, যা প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন এবং জেন্টামাইসিন ৮০ গ্রাম, যা প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন। দোলন ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের উপরে `রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে` লেখা থাকলেও ভর্তি করানো হয়নি হাসপাতালে।

হাসপাতাল থেকে পাভেলের বাবা তার বাসার নিকটস্থ এবি ফার্মেসীতে ঔষধের জন্য যান এবং এবি ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী কল্লোলকে ইনজেকশন পুশ করতে বলেন। কল্লোল জানান, ইনজেকশনগুলো রগে দিতে হবে, তাই ক্যানুলা লাগাতে হবে। আপনি বিষয়টি ডাক্তারকে জানান। পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম দোলন ডাক্তারকে ফোন করেন। বললেন, আপনার প্রেসক্রিপশনের উপরে লিখা ছিলো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে। এখন ভর্তি যেহেতু করায়নি, ছেলের হাতে ইনজেকশনের ক্যানুলাও নেই, তাহলে আমি লাইফ জেনারাল হাসপাতালে নিয়ে আসি ভর্তির জন্য। প্রতি উত্তরে ডাঃ দোলন বলেছিলেন, বিষয়টি ততটা গুরুতর নয়। আপনি কারো হেল্প নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে ইনজেকশন দিয়ে দিন। রোগী বাসায়ই থাকুক।

পাভেলের বাবা সন্ধ্যায় ছেলেকে আল-মদিনা হাসপাতালে নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাসপাতালের নার্স দিয়ে ইনজেকশান দুটি পুশ করান। তখনও তার শরীরে জ্বর ১০৪ ডিগ্রির উপরে। বাবার সাথে পাভেল বাড়ি আসে। ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাত যত বাড়ছে তত সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অবনতি হচ্ছে পাভেলের শারীরিক অবস্থার। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার দোলন ডাক্তার ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে আর দেখানো সম্ভব হয়নি। পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে গেলে পরামর্শের জন্য তার কাছে বহুবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সারাদিন পাভেলের মা-বোন পাভেলের সেবা করেছেন। প্রত্যাশা ছিলো ইনজেকশনে বুকের ব্যথা কমবে। কিন্তু দৈনিক ৫ বার দুটি ইনজেকশান পুশ করায় পাভেলকে যে আরো অসুস্থ করে তুলছিলো তা জানা ছিলো না পাভেলের বাবা-মায়ের। রোববার রাত বাড়ার সাথে সাথে পাভেলের চিৎকার তত বাড়ছিলো। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বারবারই বলছিলো, আমার বুকে ব্যথা বাড়ছে। হৃদকম্পন বাড়ছে, দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি এখন কী করবো? তখনও একের পর এক কল দিয়ে যাচ্ছিলেন দোলন ডাক্তারের মোবাইলে। কিন্তু তার নম্বর বন্ধ। কল যাচ্ছিলো না। একদিকে ছেলের কান্না বাবার কানে এসে কাঁটার মত বিঁধছিলো। অপর দিকে দোলন ডাক্তারের নম্বরে কল দিতেই দুঃখিত বলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলা হচ্ছিলো।

রোববার রাত ২টায় পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম তখন পাগল প্রায়। সিদ্ধান্ত নিলেন সন্তানকে ঢাকা নিয়ে যাবেন। বাসা থেকে বের হয়ে সম্ভাব্য কয়েকজনকে ফোন করলেন অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর আছে কি-না জানতে। কেউ সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর দিতে পারেননি। একদিকে দোলন ডাক্তারের মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা। ততক্ষণে ফজরের আজান হয়। আশেপাশে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় পাভেলের বাবা পায়ে হেঁটে রওনা হলেন সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে। পথিমধ্যে তার এক নিকটাত্মীয় পরামর্শ দিলেন অ্যাম্বুলেন্স না পেলে সকাল ৬টায় প্রথম ট্রিপের লঞ্চে কেবিনে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি তা-ই করলেন। একটি সিএনজি অটোরিকশা সংগ্রহ করে ছেলেকে নিয়ে রওনা হলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। পাভেলের শরীরে তখনও জ্বর ১০৪ ডিগ্রির মত।

সকাল ৬টার লঞ্চ এমভি রফরফ-এর ১১১ নং কেবিনে পাভেলকে শুইয়ে দেন তাজুল ইসলাম। পুরো পথে পাভেল জ্বরের ঘোরে কাতরাচ্ছে আর তাজুল ইসলাম তার শয্যা পাশে বসে দোলন ডাক্তারকে কল করে যাচ্ছিলেন। নদীতে ভাসতে ভাসতে লঞ্চ যখন মুন্সিগঞ্জে পৌঁছলো তখনই পাভেলের বুকে তীব্র ব্যথা উঠলো। ছেলের চিৎকারে বাবা নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলেন না। এবার প্রেসক্রিপশনের নম্বর অনুযায়ী কল করলেন লাইফ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি নম্বরে। বললেন, ডাঃ দোলনের বিকল্প কোনো নম্বর আছে কি-না। তার ছেলে ভীষণ অসুস্থ, তাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে জানানো হলো, আপনি ঢাকা যান। ঢাকা গিয়ে পৌঁছলে আমরা দোলন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে জানাবো আপনার কী করতে হবে।

মুন্সিগঞ্জের পর লঞ্চ যখন ঢাকার কাছাকাছি। তখন পাভেল বুকের ব্যথায় অনবরত কাতরাচ্ছে। বাবার কাছে শেষবারের মত জুস খেতে চাইলো সে। বাবা লঞ্চের নিচে গেলেন জুস আনতে। গিয়ে দেখা হলো পাভেলের স্কুল শিক্ষক হাসান গাজীর সাথে। তাকে জানালেন ছেলের অসুস্থতার কথা। জুস নিয়ে দু`জন কেবিনে প্রবেশ করলেন। বুকের তীব্র যন্ত্রণার ভেতরও পাভেল তার শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেনি। মাথা একপাশ করে স্পষ্ট সালাম দিলেন হাসান স্যারকে। কে জানতো এই সালামটিই তার জীবনের শেষ সালাম হবে? স্যার সালাম নিলেন। বাবা সন্তানকে পরম স্নেহে জুস খাওয়ালেন। তৃষ্ণার্ত সন্তান বাবার হাতে জুস খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো। তখনও বুকের ব্যথা কমেনি, তাপমাত্রা কমে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। সদরঘাটে অপেক্ষারত পাভেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। ঘাটে গেলেই তাকে নিয়ে যাবে মিটফোর্ড হাসপাতালে। পাভেলের বাবা তখনও অনবরত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ০১৭১৭৫৪১৪২৩ নম্বরে কল করেই যাচ্ছিলেন। জবাব আসছিলো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। লঞ্চ যখন সদরঘাটের কাছাকাছি। পোস্তগোলা ব্রীজের কাছে। আর মিনিট পাঁচেক পরই ঘাটে ভিড়বে লঞ্চ। তখনই পাভেল বুকের ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলেন। বাবার দিকে এক নজর তাকালেন আর মাথা ফেলে দিলেন বালিশের এক পাশে। পাভেল এখন আর কাতরাচ্ছে না, বুকে কোনো কম্পন নেই, মুখে শব্দ নেই, জুস খাবার আকুতি নেই, নাক দিয়ে বের হচ্ছে না নিঃশ্বাস। বাবা নিশ্চিত তার সন্তান আর পৃথিবীতে নেই। সন্তানের লাশ সামনে রেখে বাবা তাজুল ইসলাম তখন চোখে কুয়াশা দেখছেন। ঝাপসা হয়ে আসছিলো তার দু`চোখ। মৃদুভাবে তবুও ডেকেই চলছেন, পাভেলরে? পাভেল? ও পাভেল..? কথা ক বাবা।

ততক্ষণে লঞ্চ ঘাটে ভিড়লো। বাবার বিশ্বাস হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা মিরাকল কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে তুলবেন। হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে সে। জ্বরে বেঁহুশ হয়ে গেছে, হাসপাতালে নিলে ঠিকই জ্ঞান ফিরবে। কত শত ভরসা নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাবা লঞ্চ থেকে সদরঘাটে নামলেন। পাভেলের সহপাঠীরা শিক্ষক হাসান গাজীসহ নিয়ে গেলেন সদরঘাটের নিকটস্থ মিডফোর্ড হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের ডাক্তার দেখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন, রোগী মারা গেছেন! বাবা তাজুল ইসলাম তখন নিজের ভিতরের কান্নাগুলো আর আটকে রাখতে পারলেন না। লুটিয়ে পড়লেন লাশের উপর। বারবার মনে পড়ছিলো সন্তানের শেষ কথোপকথনটি, `আব্বা আমাকে একটু জুস খাওয়ান।`

মুহূর্তেই পাভেলের মৃত্যু সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাভেলের মা সন্তানহারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে গত প্রায় ১ সপ্তাহ হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। গতকাল হাসপাতাল থেকে ফিরেই সাংবাদিকদের জানান সন্তান হারানোর দুঃসময়ের মুহূর্তগুলোর কথা। দাবি করেন অস্বাভাবিকভাবে নয় ডাক্তার খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়।

পাভেলের মৃত্যু সংবাদ যখন সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে তখন সকাল ১১টার পরে পাভেলের বাবার নম্বরে কল করেন ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন। তখন কথা বলতে পারেননি তিনি। তারপর থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন সান্ত্বত্মনা সূচক একটি ফোনও দেননি পাভেলের অভিভাবককে। সেই আক্ষেপও ফুটে ওঠে পাভেলের বাবার কথায়।

এ বিষয়ে পাভেলের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক হাসান গাজী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, পাভেলের বাবার কাছে শুনেই তাকে দেখতে লঞ্চের কেবিনে যাই। ছেলেটার বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টে দম নিতে পারছে না, তবুও আমাকে সালাম দিতে ভুলেনি। বিছানা থেকে উঠে বালিশে হেলান দিয়ে আমাকে সালাম জানালো, একটু পর ঘামিয়ে উঠলো, বাইরে গিয়ে চেয়ারে বসতে চাইলো, কিছুক্ষণ পর নাকে মুখে লালা বের হয়ে মৃত্যুর কোলে হেলে পড়লো। তবুও আমরা সান্ত্বনা সূচক হাসপাতালে নেই। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করার সাথে সাথেই পাভেলের বাবা জ্ঞান হারান। চোখের সামনে ঘটা সে দৃশ্য বলে বোঝানো সম্ভব নয়।

পাভেলের বাবা বলেন, আমি সারাজীবন পত্রিকার বান্ডেল খুলেছি। অজানা সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে বন্টন করে মানুষকে জানিয়েছি, আর আজ আমার সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আমি পত্রিকা বন্টন করে মানুষকে জানাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার শয্যাশায়ী সন্তানের চেহারা দিকে তাকাচ্ছি আর ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে কল দিচ্ছি। তিনি মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। শনিবার সাড়ে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে কেন তিনি আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি দিলেন না? আমার ছেলের হার্টে একটি ছিদ্র আছে জেনেও কেন দোলন ডাক্তার তাকে এত পাওয়ারি ইনজেকশন দিলেন? কেন একজন কার্ডিওলজিস্টের কাছে হস্তান্তর করলেন না? কেন ভালো একটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ না দিয়ে বাড়িতে রেখে দিনে ৫ বার দু`টি ইনজেকশন পুশ করার পরামর্শ দিলেন তা আমার জানা নেই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আর যেন আমার মত কোনো বাবার বুক খালি না হয়।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, সাধারণত টাইফয়েড হলে আমরা এসিফিন ২ গ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটি হায়ার এন্টিবায়োটিক। তবে পাভেলকে কোন্ প্রেক্ষাপটে, কোন্ রিপোর্টের আলোকে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন জেন্টামাইসিনের পাশাপাশি এই ঔষধ দিয়েছেন তা রিপোর্ট না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন নিঃসন্দেহে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। যেহেতু ছেলেটির হার্টে প্রবলেম ছিলো তা তিনি জানতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কমছিলো না, সেক্ষেত্রে তাকে কোনো কার্ডিওলজিস্টের কাছে রেফার করাটাই যুক্তিযুক্ত ছিলো। আমি হলে তা-ই করতাম। চাঁদপুর সদর হাসপাতালেও কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক আছেন। সেখানে তাকে তাৎক্ষণিক রেফার করলে ছেলেটি প্রোপার ট্রিটমেন্টই পেতো। ভুল চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মারা গেছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার্ডিওলজিস্ট বা বিশেষায়িত ডাক্তারদের বোর্ড গঠন করলে তারা রায় দিতে পারবেন। সকল রিপোর্ট না দেখে, রোগীর গতিবিধি না বুঝে বর্তমান চিকিৎসাকে ভুল চিকিৎসা বলা ঠিক হবে না।

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ছেলেটির সর্বশেষ রিপোর্টের কপি হাতে পেলে তা পর্যালোচনা করে বলা যাবে সে যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছে কি-না। আগামীকাল (আজ) আমার কাছে তার সমস্ত রিপোর্ট নিয়ে আসলে আমি তা দেখে মন্তব্য করতে পারবো। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর এমন মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।

ফরিদগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৮ দিন পর
      -------পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু 
এস.এম ইকবাল:
 
গত ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মিডফোর্ড হাসপাতালে নেওয়ার সময় প্রাণ হারায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন পাভেল। প্রাথমিক অবস্থায় তার মৃত্যুটি একটি স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে ধরে নিলেও ঘটনার ৮ দিন পর বেরিয়ে আসে মৃত্যুর অন্তরালের ঘটনাগুলো। আসলেই কি পাভেলের স্বাভাবিক মৃত্যু ছিলো?
 
এমন প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর বহু তথ্য। পাভেলের বাবার দাবি, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসায় মারা যায় তার আদরের সন্তান। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী নবগঠিত ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালের ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের দেওয়া ভুল ইনজেকশন শরীরে পুশ করায় হৃদকম্পনে পাভেলের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়।
 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর পড়ালেখাজনিত কারণে সুস্থ শরীরে হাসিমুখে ঢাকা যায় পাভেল। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটস্থ একটি মেসে দীর্ঘদিন ধরে থাকছিলো সে। ঢাকা গিয়েই জ্বরে আক্রান্ত হয় পাভেল। জ্বর যখন কোনোভাবেই কমছিলো না তখন ৭ সেপ্টেম্বর পাভেলের বাবা ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের স্বত্বাধিকারী মাও: তাজুল ইসলামকে ফোন দেয় পাভেলের বন্ধু রাশেদ হোসেন। রাশেদ জানায় যে, কোনোভাবেই কমছে না পাভেলের জ্বর। তাকে বাড়ি নেওয়া জরুরি। সেদিনই পাভেলের বন্ধুরা পাভেলকে দুপুর দেড়টায় ময়ূর লঞ্চে করে বাড়ি পাঠায়। পাভেলের বাবা চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে বাড়ি নিয়ে আসে তাকে।
 

পরদিন ৮ সেপ্টেম্বর ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয় পাভেলকে। হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক মোজাম্মেল হোসেন প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হন করোনা নয় বরং ভাইরাস জ্বরে ভুগছে পাভেল। তবে জ্বর যে টাইফয়েডে রূপ নেয়নি তাও চেকাপ রিপোর্ট দেখে নিশ্চিত করেন তিনি। সে অনুযায়ী ডাঃ মোজাম্মেল হোসেন ট্যাবলেট সেফ-৩ ২০০ মিলিগ্রাম, সাপোজিটরি ও কিছু গ্যাস্ট্রিকের ঔষধ দেন। নিশ্চিত করেন ভয়ের কারণ নেই। নিয়মিত ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
 

এ ঘটনার পরদিন ৯ সেপ্টেম্বর পাভেলের জ্বরের সাথে যুক্ত হলো শ্বাসকষ্ট। প্রায় ১০৪ ডিগ্রি জ্বর আর শ্বাস কষ্ট নিয়ে ৯ তারিখ রোববার আবারো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (চতুরা হাসপাতাল) ডাঃ মোজাম্মেল হোসেনের কাছে নেওয়া হলে তিনি নেবুলাইজার দেন পাভেলকে। নেবুলাইজারে শ্বাস কষ্ট কমলেও তখনও জ্বর ছিলো ১০৪ ডিগ্রির মত। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে একটি পৃথক নেবুলাইজার কিনলেন পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম। নেবুলাইজার ব্যবহারে শ্বাসকষ্ট পুরোপুরি কমলেও জ্বর কিছুতেই কমছিলো না। ১১ তারিখ সারাদিন বাসাতেই ছিলো পাভেল। চলছিলো ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ।
 

পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার জ্বরের পাশাপাশি জন্মগত হৃদরোগী পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে যায়। পরামর্শের জন্য ফোন করেন মোজাম্মেল ডাক্তারকে। মোবাইল বন্ধ ছিলো তার। দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা করেও মোজাম্মেল ডাক্তারকে ফোনে না পেয়ে হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন ডাঃ মোজাম্মেল হাসপাতালে নেই, বর্তমানে চট্টগ্রাম আছেন। পাভেলের বাবা তখন সিদ্ধান্ত নেন পরদিন শনিবার ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে আসা চিকিৎসক খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে দেখাবেন। তিনি রাতেই কল করে ছেলের অসুস্থতার কথা জানান দোলন ডাক্তারকে। খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পরদিন ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় লাইফ জেনারেল হাসপাতালে তার চেম্বারে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেন।
 

সারারাত জ্বর আর বর্ধিত হৃদকম্পনের সাথে যুদ্ধ করে যায় ইমরান হোসেন পাভেল। তার মা, বাবা, ছোট ভাই, বোন কারও চোখেই ঘুম নেই। সকলের প্রত্যাশা রাত পোহাবে কখন? ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় পাভেলকে নিয়ে যায় ফরিদগঞ্জ লাইফ জেনারেল হাসপাতালে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের চেম্বারে। পূর্ব রাতে কল করে আসা পাভেলের শারীরিক সংকটাপন্ন অবস্থার কথা জেনেও ডাক্তার দোলনের সাক্ষাৎ পাননি তারা। রোগীদের সিরিয়ালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে বিকেল সাড়ে ৩টায় দেখা পান দোলন ডাক্তারের! ততক্ষণে পাভেলের অবস্থা আরও নাজুক। ডাক্তারের নিজের দেওয়া সাক্ষাত সময়ের সাড়ে ৫ ঘণ্টা পর অপেক্ষায় থাকতে থাকতে পাভেলের শরীরের কম্পন চলে আসে। অতঃপর দোলন ডাক্তার জরুরি দুটি সাপোজিটরি একসাথে শরীরে পুশ করেন। তাৎক্ষণিক তাকে হসপিটাল থেকে একটি ইউআরপি বস্নাড টেস্ট ও এঙ্রে করানোর পরামর্শ দেন।
 

হসপিটালের এঙ্-রে রুমে চেকআপ ম্যান না থাকায় অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আরও ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় তাকে। শেষ বিকেলে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন পাভেলের প্রেসক্রিপশনে দুটি ইনজেকশান ও এক পাতা নাপা রেপিড ট্যাবলেট লিখে দেন। ইনজেকশান দুটি হলো অ্যাসিফিন ২ গ্রাম, যা প্রতি ১২ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন এবং জেন্টামাইসিন ৮০ গ্রাম, যা প্রতি ৮ ঘণ্টা পর পর ১ বার করে শরীরে পুশ করতে বলেন। দোলন ডাক্তারের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের উপরে `রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে` লেখা থাকলেও ভর্তি করানো হয়নি হাসপাতালে।
 

হাসপাতাল থেকে পাভেলের বাবা তার বাসার নিকটস্থ এবি ফার্মেসীতে ঔষধের জন্য যান এবং এবি ফার্মেসীর স্বত্বাধিকারী কল্লোলকে ইনজেকশন পুশ করতে বলেন। কল্লোল জানান, ইনজেকশনগুলো রগে দিতে হবে, তাই ক্যানুলা লাগাতে হবে। আপনি বিষয়টি ডাক্তারকে জানান। পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম দোলন ডাক্তারকে ফোন করেন। বললেন, আপনার প্রেসক্রিপশনের উপরে লিখা ছিলো রোগী হাসপাতালে ভর্তি হবে। এখন ভর্তি যেহেতু করায়নি, ছেলের হাতে ইনজেকশনের ক্যানুলাও নেই, তাহলে আমি লাইফ জেনারাল হাসপাতালে নিয়ে আসি ভর্তির জন্য। প্রতি উত্তরে ডাঃ দোলন বলেছিলেন, বিষয়টি ততটা গুরুতর নয়। আপনি কারো হেল্প নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে ইনজেকশন দিয়ে দিন। রোগী বাসায়ই থাকুক।
 

পাভেলের বাবা সন্ধ্যায় ছেলেকে আল-মদিনা হাসপাতালে নিয়ে হাতে ক্যানুলা লাগিয়ে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হাসপাতালের নার্স দিয়ে ইনজেকশান দুটি পুশ করান। তখনও তার শরীরে জ্বর ১০৪ ডিগ্রির উপরে। বাবার সাথে পাভেল বাড়ি আসে। ঘুমানোর চেষ্টা করে। কিন্তু রাত যত বাড়ছে তত সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে অবনতি হচ্ছে পাভেলের শারীরিক অবস্থার। পরদিন ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার দোলন ডাক্তার ঢাকায় অবস্থান করায় তাকে আর দেখানো সম্ভব হয়নি। পাভেলের হৃদকম্পন বেড়ে গেলে পরামর্শের জন্য তার কাছে বহুবার যোগাযোগ করা হয়, কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সারাদিন পাভেলের মা-বোন পাভেলের সেবা করেছেন। প্রত্যাশা ছিলো ইনজেকশনে বুকের ব্যথা কমবে। কিন্তু দৈনিক ৫ বার দুটি ইনজেকশান পুশ করায় পাভেলকে যে আরো অসুস্থ করে তুলছিলো তা জানা ছিলো না পাভেলের বাবা-মায়ের। রোববার রাত বাড়ার সাথে সাথে পাভেলের চিৎকার তত বাড়ছিলো। বাবাকে জড়িয়ে ধরে বারবারই বলছিলো, আমার বুকে ব্যথা বাড়ছে। হৃদকম্পন বাড়ছে, দম নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি এখন কী করবো? তখনও একের পর এক কল দিয়ে যাচ্ছিলেন দোলন ডাক্তারের মোবাইলে। কিন্তু তার নম্বর বন্ধ। কল যাচ্ছিলো না। একদিকে ছেলের কান্না বাবার কানে এসে কাঁটার মত বিঁধছিলো। অপর দিকে দোলন ডাক্তারের নম্বরে কল দিতেই দুঃখিত বলে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলা হচ্ছিলো।
 

রোববার রাত ২টায় পাভেলের বাবা তাজুল ইসলাম তখন পাগল প্রায়। সিদ্ধান্ত নিলেন সন্তানকে ঢাকা নিয়ে যাবেন। বাসা থেকে বের হয়ে সম্ভাব্য কয়েকজনকে ফোন করলেন অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর আছে কি-না জানতে। কেউ সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর দিতে পারেননি। একদিকে দোলন ডাক্তারের মোবাইলে সংযোগের চেষ্টা অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর সংগ্রহের চেষ্টা। ততক্ষণে ফজরের আজান হয়। আশেপাশে কোনো গাড়ি না পাওয়ায় পাভেলের বাবা পায়ে হেঁটে রওনা হলেন সদর হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে। পথিমধ্যে তার এক নিকটাত্মীয় পরামর্শ দিলেন অ্যাম্বুলেন্স না পেলে সকাল ৬টায় প্রথম ট্রিপের লঞ্চে কেবিনে করে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। তিনি তা-ই করলেন। একটি সিএনজি অটোরিকশা সংগ্রহ করে ছেলেকে নিয়ে রওনা হলেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। পাভেলের শরীরে তখনও জ্বর ১০৪ ডিগ্রির মত।
 

সকাল ৬টার লঞ্চ এমভি রফরফ-এর ১১১ নং কেবিনে পাভেলকে শুইয়ে দেন তাজুল ইসলাম। পুরো পথে পাভেল জ্বরের ঘোরে কাতরাচ্ছে আর তাজুল ইসলাম তার শয্যা পাশে বসে দোলন ডাক্তারকে কল করে যাচ্ছিলেন। নদীতে ভাসতে ভাসতে লঞ্চ যখন মুন্সিগঞ্জে পৌঁছলো তখনই পাভেলের বুকে তীব্র ব্যথা উঠলো। ছেলের চিৎকারে বাবা নিজেকে স্থির রাখতে পারছিলেন না। এবার প্রেসক্রিপশনের নম্বর অনুযায়ী কল করলেন লাইফ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি নম্বরে। বললেন, ডাঃ দোলনের বিকল্প কোনো নম্বর আছে কি-না। তার ছেলে ভীষণ অসুস্থ, তাকে নিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে জানানো হলো, আপনি ঢাকা যান। ঢাকা গিয়ে পৌঁছলে আমরা দোলন ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে জানাবো আপনার কী করতে হবে।
 

মুন্সিগঞ্জের পর লঞ্চ যখন ঢাকার কাছাকাছি। তখন পাভেল বুকের ব্যথায় অনবরত কাতরাচ্ছে। বাবার কাছে শেষবারের মত জুস খেতে চাইলো সে। বাবা লঞ্চের নিচে গেলেন জুস আনতে। গিয়ে দেখা হলো পাভেলের স্কুল শিক্ষক হাসান গাজীর সাথে। তাকে জানালেন ছেলের অসুস্থতার কথা। জুস নিয়ে দু`জন কেবিনে প্রবেশ করলেন। বুকের তীব্র যন্ত্রণার ভেতরও পাভেল তার শিক্ষককে শ্রদ্ধা জানাতে ভুলেনি। মাথা একপাশ করে স্পষ্ট সালাম দিলেন হাসান স্যারকে। কে জানতো এই সালামটিই তার জীবনের শেষ সালাম হবে? স্যার সালাম নিলেন। বাবা সন্তানকে পরম স্নেহে জুস খাওয়ালেন। তৃষ্ণার্ত সন্তান বাবার হাতে জুস খেয়ে কিছুটা শান্ত হলো। তখনও বুকের ব্যথা কমেনি, তাপমাত্রা কমে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। সদরঘাটে অপেক্ষারত পাভেলের বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা। ঘাটে গেলেই তাকে নিয়ে যাবে মিটফোর্ড হাসপাতালে। পাভেলের বাবা তখনও অনবরত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ০১৭১৭৫৪১৪২৩ নম্বরে কল করেই যাচ্ছিলেন। জবাব আসছিলো সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। লঞ্চ যখন সদরঘাটের কাছাকাছি। পোস্তগোলা ব্রীজের কাছে। আর মিনিট পাঁচেক পরই ঘাটে ভিড়বে লঞ্চ। তখনই পাভেল বুকের ব্যথার যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলেন। বাবার দিকে এক নজর তাকালেন আর মাথা ফেলে দিলেন বালিশের এক পাশে। পাভেল এখন আর কাতরাচ্ছে না, বুকে কোনো কম্পন নেই, মুখে শব্দ নেই, জুস খাবার আকুতি নেই, নাক দিয়ে বের হচ্ছে না নিঃশ্বাস। বাবা নিশ্চিত তার সন্তান আর পৃথিবীতে নেই। সন্তানের লাশ সামনে রেখে বাবা তাজুল ইসলাম তখন চোখে কুয়াশা দেখছেন। ঝাপসা হয়ে আসছিলো তার দু`চোখ। মৃদুভাবে তবুও ডেকেই চলছেন, পাভেলরে? পাভেল? ও পাভেল..? কথা ক বাবা।
 

ততক্ষণে লঞ্চ ঘাটে ভিড়লো। বাবার বিশ্বাস হাসপাতালে নিলে ডাক্তাররা মিরাকল কোনো প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে তুলবেন। হয়তো জ্ঞান হারিয়েছে সে। জ্বরে বেঁহুশ হয়ে গেছে, হাসপাতালে নিলে ঠিকই জ্ঞান ফিরবে। কত শত ভরসা নিয়ে পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী বস্তু সন্তানের লাশ কাঁধে নিয়ে বাবা লঞ্চ থেকে সদরঘাটে নামলেন। পাভেলের সহপাঠীরা শিক্ষক হাসান গাজীসহ নিয়ে গেলেন সদরঘাটের নিকটস্থ মিডফোর্ড হাসপাতালে। জরুরি বিভাগের ডাক্তার দেখে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন, রোগী মারা গেছেন! বাবা তাজুল ইসলাম তখন নিজের ভিতরের কান্নাগুলো আর আটকে রাখতে পারলেন না। লুটিয়ে পড়লেন লাশের উপর। বারবার মনে পড়ছিলো সন্তানের শেষ কথোপকথনটি, `আব্বা আমাকে একটু জুস খাওয়ান।`
 

মুহূর্তেই পাভেলের মৃত্যু সংবাদটি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পাভেলের মা সন্তানহারানোর শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে নিয়ে গত প্রায় ১ সপ্তাহ হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলেন তার বাবা তাজুল ইসলাম। গতকাল হাসপাতাল থেকে ফিরেই সাংবাদিকদের জানান সন্তান হারানোর দুঃসময়ের মুহূর্তগুলোর কথা। দাবি করেন অস্বাভাবিকভাবে নয় ডাক্তার খালেদ ইমতিয়াজ দোলনের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়।
 

পাভেলের মৃত্যু সংবাদ যখন সোস্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে তখন সকাল ১১টার পরে পাভেলের বাবার নম্বরে কল করেন ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন। তখন কথা বলতে পারেননি তিনি। তারপর থেকে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন সান্ত্বত্মনা সূচক একটি ফোনও দেননি পাভেলের অভিভাবককে। সেই আক্ষেপও ফুটে ওঠে পাভেলের বাবার কথায়।
 

এ বিষয়ে পাভেলের মৃত্যুর প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক হাসান গাজী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, পাভেলের বাবার কাছে শুনেই তাকে দেখতে লঞ্চের কেবিনে যাই। ছেলেটার বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টে দম নিতে পারছে না, তবুও আমাকে সালাম দিতে ভুলেনি। বিছানা থেকে উঠে বালিশে হেলান দিয়ে আমাকে সালাম জানালো, একটু পর ঘামিয়ে উঠলো, বাইরে গিয়ে চেয়ারে বসতে চাইলো, কিছুক্ষণ পর নাকে মুখে লালা বের হয়ে মৃত্যুর কোলে হেলে পড়লো। তবুও আমরা সান্ত্বনা সূচক হাসপাতালে নেই। ডাক্তার মৃত ঘোষণা করার সাথে সাথেই পাভেলের বাবা জ্ঞান হারান। চোখের সামনে ঘটা সে দৃশ্য বলে বোঝানো সম্ভব নয়।
 

পাভেলের বাবা বলেন, আমি সারাজীবন পত্রিকার বান্ডেল খুলেছি। অজানা সংবাদ পত্রিকার মাধ্যমে বন্টন করে মানুষকে জানিয়েছি, আর আজ আমার সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ আমি পত্রিকা বন্টন করে মানুষকে জানাতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার শয্যাশায়ী সন্তানের চেহারা দিকে তাকাচ্ছি আর ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলনকে কল দিচ্ছি। তিনি মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। শনিবার সাড়ে ৫ ঘণ্টা অপেক্ষায় রেখে কেন তিনি আমার ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি দিলেন না? আমার ছেলের হার্টে একটি ছিদ্র আছে জেনেও কেন দোলন ডাক্তার তাকে এত পাওয়ারি ইনজেকশন দিলেন? কেন একজন কার্ডিওলজিস্টের কাছে হস্তান্তর করলেন না? কেন ভালো একটি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ না দিয়ে বাড়িতে রেখে দিনে ৫ বার দু`টি ইনজেকশন পুশ করার পরামর্শ দিলেন তা আমার জানা নেই। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। আর যেন আমার মত কোনো বাবার বুক খালি না হয়।
 

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডাঃ আশরাফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, সাধারণত টাইফয়েড হলে আমরা এসিফিন ২ গ্রাম দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এটি হায়ার এন্টিবায়োটিক। তবে পাভেলকে কোন্ প্রেক্ষাপটে, কোন্ রিপোর্টের আলোকে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন জেন্টামাইসিনের পাশাপাশি এই ঔষধ দিয়েছেন তা রিপোর্ট না দেখে বলা যাচ্ছে না। তবে ডাঃ খালেদ ইমতিয়াজ দোলন নিঃসন্দেহে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসক। যেহেতু ছেলেটির হার্টে প্রবলেম ছিলো তা তিনি জানতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে জ্বর কমছিলো না, সেক্ষেত্রে তাকে কোনো কার্ডিওলজিস্টের কাছে রেফার করাটাই যুক্তিযুক্ত ছিলো। আমি হলে তা-ই করতাম। চাঁদপুর সদর হাসপাতালেও কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক আছেন। সেখানে তাকে তাৎক্ষণিক রেফার করলে ছেলেটি প্রোপার ট্রিটমেন্টই পেতো। ভুল চিকিৎসায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র মারা গেছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কার্ডিওলজিস্ট বা বিশেষায়িত ডাক্তারদের বোর্ড গঠন করলে তারা রায় দিতে পারবেন। সকল রিপোর্ট না দেখে, রোগীর গতিবিধি না বুঝে বর্তমান চিকিৎসাকে ভুল চিকিৎসা বলা ঠিক হবে না।
 

চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ সাখাওয়াত উল্যাহ বলেন, ছেলেটির সর্বশেষ রিপোর্টের কপি হাতে পেলে তা পর্যালোচনা করে বলা যাবে সে যথাযথ চিকিৎসা পেয়েছে কি-না। আগামীকাল (আজ) আমার কাছে তার সমস্ত রিপোর্ট নিয়ে আসলে আমি তা দেখে মন্তব্য করতে পারবো। তবে বিশ্ববিদ্যাল

ফরিদগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়ায়, প্রবাসীর বাড়ি ভাংচুর করলো ইউপি সদস্য, আহত - ২
                                  

এস. এম রাকিব:

ফরিদগঞ্জে চাঁদার টাকা দিতে অনিহা প্রকাশ করায়, স্থানীয় ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে প্রবাসীর বসত ঘর ভাংচুর এবং হামলায় আহত হয়েছে দুই জন।

জানাযায়, উপজেলার ১১ চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম একলাশপুর গ্রামের মাহমুদ উল্লাহ পাটওয়ারী বাড়ির ইতালি প্রবাসী মো. হাছান স্থানীয় বেপারি বাজারে জায়গা ক্রয় করে। ক্রয়কৃত জায়গা থেকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাসেল মিয়া ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় ইউপি সদস্য রাসেল ও তাঁর ভাই জাকিরসহ সাঙ্গপাঙ্গরা প্রতিনিয়ত হাছান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদেরকে হুমকি দিয়ে আসছে। দাবিকৃত চাঁদার টাকাকে কেন্দ্র করে ১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে হাছান তাঁর ঘরের সামনে বসে মোবাইলে কথা বলছিল। একপর্যায়ে পেছন দিক থেকে রাসেল ও তাঁর ভাই জাকিরসহ ৫-৬ জন হাছানের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। হাছানের চিৎকারে তাঁর ভাতিজা রুবেল এগিয়ে আসলে তাঁকেও বেদম মারধর করে। পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যাওয়ার পরও রাসেল মেম্বাররা ক্ষান্ত না হয়ে হাছানের বসত ঘর (বিল্ডিংয়ে) ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে, এতে হাছানের বিল্ডিং এর গ্লাস ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতঃপর হাছান ও রুবেলের অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এলাকাবাসী জানায়, হাছানের বড় ভাই আবুল বাসারের সাথে রাসেল মেম্বার গংদের সাথে দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল এবং উভয় পক্ষের একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রাসেলের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিব বলেন, আমরা খবর পেয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে রাতেই ফোর্স পাঠিয়েছি। এ ঘটনায় রাসেল মেম্বারের পক্ষে একটি অভিযোগ হয়েছে। তবে শুনেছি রাসেল মেম্বার হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষোভ প্রকাশ
                                  

এস.এম রাকিব:

ফরিদগঞ্জ উপজেলা মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভায় পরিষদের বিভিন্ন অনিয়ম ও সমন্বয়হীনতার কারনে উপজেলা চেয়ারম্যান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

১৭ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদের অডিটরিয়মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান বলেন, সরকার যখন বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে তখন কিছু অসাধু লোক জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে দেশের সম্পদ বিনষ্ট করছে।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে সারাদেশে এককোটি গাছের চারা রোপনের নির্দেশনা এবং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অথচ ফরিদগঞ্জে কারনে অকারনে অবাধে কাটা হচ্ছে গাছ। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, টেন্ডার প্রক্রিয়া না মেনে জনৈক স’মিল ও কাঠ ব্যবসায়ীর যোগসাজসে সরকারী রাস্তা ও প্রতিষ্ঠানের গাছ বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কয়েকজন ব্যক্তি অর্থ বিত্তের মালিক হয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে দেশকে। পরিষদে সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা জনগনের রায় নিয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে এসেছি। অজনগনের কাছে তাই আমাদের

জবাবদিহীতা একটু বেশীই প্রত্যাশা করে। পরিষদের অর্থে কিছু দৃশ্যমান কাজ হওয়া উচিৎ। অন্যাণ্য উপজেলার তুলনায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার রাস্তাঘাট পরিমানে বেশী খারাপ। গাড়ীতো দুরে থাক অনেক রাস্তা দিয়ে আমি পায়ে হেটে যেতেও কষ্ট হচ্ছে। অতীব গুরুত্বপূর্ন এবং জনবহুল এলাকার রাস্তাগুরি প্রয়োজনে ছোট ছোট স্কীম দিয়ে সংস্কার করা উচিৎ। আমি চেষ্টা তদবীর করেছিলাম এডিবির বরাদ্দের পরিমান বাড়িয়ে আনার জন্য, অথচ পরিষদের ভূলের কারনে গত জুনে প্রায় উনিশ লক্ষ্য টাকা ফেরৎ গেছে। সমন্বয়হনিতার কারনে বাড়তী ফান্ড আনা দুরে থাক, মুল ফান্ডই ফেরৎ যায়। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান জি এস তছলিমের প্রস্তাবনায় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত লে. কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীর সম্মানে এক মিনিট নিরবতা পালন ও প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, এক সময় ফরিদগঞ্জকে রাজাকার মান্নানের এলাকা হিসাবে চিনতো, এখন মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত লে. কর্নেল (অবঃ) আবু ওসমান চৌধুরীর নামে চিনবে।এসময় ফরিদগঞ্জ থেকে চান্দ্রা সড়কটি আবু ওসমান চৌধুরীর নামে নামকরন করার সম্মতি জ্ঞাপন করেন তিনি। প্রেসক্লাব সভাপতি কামরুজ্জামানের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে ফরিদগঞ্জ বাজারের নিয়মিত জানজট নিরসনে বাজার থেকে কেরোয়া লিংক রোডের মোড়টি প্রসস্থ্য নদীর উপর আরো একটি ব্রিজ নির্মান এবং বাইপাস সড়ক করার বিষয়ে কায়করী পদক্ষেপ গ্রহন করবেন বলেও বক্তব্য রাখেন। মাসিক সমন্বয় সভার পর আর কোন বিষয়ে সমন্বয় থাকে না উল্লেখ করে তিনি সকলের উদ্দ্যেশ্যে সকলের সহযোগিতা ও সমন্বয় চেয়েছেন , তা না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়া যাবে না।

উক্ত অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি হরি বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা একটি বড় উপজেলা, চাহিদার সীমাবদ্ধতা না থাকলেও সরবরাহের ক্ষেত্রে এবং নিয়মনীতির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলেও সকল অপরাধ বা দূর্নীতি একত্রে দূর করা একটু কঠিন। আমারা প্রশাসনের সকলস্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পরিবার পরিজন হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই দূর্যোগ মূহুর্তে দায়িত্ব পালনে কোন কার্পন্য করছি না। সুষ্ঠ ও সঠিক কার্যক্রম চারিয়ে যেতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

থানা (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা আব্দুর রকিব বলেন, সারাদেশে মাদকের অস্থিরতা একটু বেশী ইতিমধ্যে আমরা একাধিক ইয়াবার চালানসহ অনেককে গ্রেফতার ও মামলা দিয়ে হাজতে প্রেরন করেছি। গতরাতেও ২১৪৫পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছি।

শেষ পর্বে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে জাতীয় ভিটামিন æএ” প্লাস ক্যাম্পেইন ২০২০ অনুষ্ঠিত হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আশরাফ আহাম্মেদ চৌধুরী বলেন, দেশে এখন শিশু মৃত্যুর হার অনেক কম। প্রতিবৎসর ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কারনে বিভিন্ন রোগ ও প্রতিবন্ধিতার হারও কমে এসছে। তিনি ভিটামিন এ ক্যাপসুলের গুনাগুন সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কর্মসূচী পালন করা হবে বলেও জানান।

 

এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজুদা বেগম, সমাজ সেবা কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতিময় ভৌমিক, কৃষি কর্মকর্তা আশিক জামিল, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার, প্রেসক্লাবের সভাপতি কামরুল ইসলাম ছাড়াও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, ফরিদগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সবশেষে সভাপতি সকলকে ধন্যবাদ দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।

ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর ধর্ষন মামলার দুই আসামী গ্রেফতার
                                  

এস.এম রাকিব:

ফরিদগঞ্জ উপজেলার পৌরসভার কেরোয়া এলাকার গৃহবধূ ধর্ষন মামলার অভিযুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দুপরে অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রকিবের নির্দেশে ফরিদগঞ্জ থানার মামলা-নং২৬ তাং- ১৭/০৯/২০২০ খ্রিঃ ধারা- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০( সং/২০০৩) এর ৯(১)/৩০ সংক্রান্তে এজাহার ভূক্ত আসামি মোঃ ইয়াসিন হোসেন(২১), পিতা- মোঃ আনোয়ার উল্যাহ ও মোঃ রাজা(২০), পিতা- আঃ হান্নান কেরোয়া(মকবুল বেপারী বাড়ি) থেকে গ্রেফতার করা হয়।

উল্লেখ্যঃ মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ২০ আগষ্ট রাতে পৌর এলাকার কেরোয়া গ্রামের মুকবুল বেপারী বাড়ীর প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের স্ত্রীকে কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক ধর্ষন এবং মোবাইলে ভিডিও ধারন করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করার হুমকি প্রদান করে।

ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের সত্ত্বাধিকারী তাজুল ইসলামের বড় ছেলে পাবেলের দাফন সম্পন্ন
                                  

এস.এম রাকিব হোসেন:

ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের সত্ত্বাধিকারী মাওঃ তাজুল ইসলামের বড় ছেলে জগন্নাথ বিশ^ বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন পাবেল ইন্তেকাল করেছে। ইনালিল্লাহি------ রাজিউন।

এক সপ্তাহ যাবত টাইফয়েড জ¦রে আক্রান্ত হয়ে বাড়ীতে থাকার পর সোমবার সকালে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন।

ইমরান হোসেন পাবেল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্নাস ৩য় বর্ষের ছাত্র ছিল। তার পিতা ফরিদগঞ্জ সংবাদপত্র এজেন্ট ও ম্যাগাজিন হাউজের স্বত্ত¦াধিকারী মাও. তাজুল ইসলাম। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। পাবেল ফরিদগঞ্জ এ.আর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও গৃদকালিন্দিয়া হাজেরা হাসমত ডিগ্রি কলেজ থেকে এ.এস.সি ও এইচ.এস.সিতে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সহিত উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঢাকা জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয় কলেজে ভর্তি হয়। বর্তমানে ব্যবস্থাপনায় অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলো।

 

পরিবারের পক্ষ থেকে জানায়, ছোটবেলা থেকেই পাভেলের হার্টের সমস্যা ছিলো। সামান্য জ¦র হওয়ার পর স্থানীয় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ছিল। সোমবার সকালে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়ার পথে মৃত্যু বরন করেন। পরে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা সদরস্থ তাদের নিজ বাসায়। বিকালে ওয়াপদা মাঠে প্রথম জানাযার পর উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের চরমান্দারী গ্রামে দ্বিতীয় জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

এদিকে ইমরান হোসেন পাবেলের মৃত্যুতে পৌর মেয়র মাহফুজুল হক, এ. আর পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল, প্রেসক্লাব ফরিদগঞ্জ এর সভাপতি এমকে মানিক পাঠানসহ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ফতুল্লায় ছিনতাইকারীদের হাতে এক ইজিবাইক চালক খুন
                                  

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ছিনতাইকারীদের হাতে এক ইজিবাইক চালক খুন হয়েছেন। খুনের পর ইজিবাইক নিয়ে পালানোর সময় ৩ ছিনতাইকারীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।


নিহত চালক বেলাল মিয়া (৩০) রংপুর জেলার পীরগঞ্জ থানার কাদিরাবাদ এলাকার মৃত.সেকান্দার আলীর ছেলে।

ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকার শাহী মসজিদের পাশে হালিম মিয়ার বাড়িতে স্ত্রী নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করে অটোরিকশা চালিয়ে উপার্জন করতেন।



রোববার রাত সাড়ে ১২টায় ফতুল্লার বক্তাবলী ফেরিঘাট এলাকায় হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সঞ্জয় সরকার জানান, রাত প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে একদল ছিনতাইকারী চালক বেলালকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফেলে দেয়। এরপর ইজিবাইক নিয়ে পালানোর সময় বেলালের এক বন্ধু দেখে তিনজনকে আটক করে। তখন বেলালের বিষয় জানতে চাইলে আটক তিনজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এসময় এলাকাবাসী ডাক চিৎকারে এগিয়ে এসে ছিনতাইকারীদের আটক করে চাপ দিলে তারা নদীর তীরে নিয়ে বেলালের লাশ পড়ে থাকতে দেখিয়ে দেয়। এরপর থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতদের নাম পরিচয় এখনো সনাক্ত করা হয়নি।

ফরিদগঞ্জের হত্যা মামলার আসামি মালদ্বীপে পালানোর সময় গ্রেফতার
                                  

এম. এইচ রাকিব মিয়াজি:

ফরিদগঞ্জ উপজেলার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চাচা ফজলু রহমানকে হত্যার প্রধান আসামি মহসীন হোসেন(২৮)কে মালদ্বীপে পালানোর সময় আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে আটক করে। শনিবার সকালে তাকে ফরিদগঞ্জ থানায় আনা হয়।

জানা গেছে, উপজেলার ১১নং চরদুঃখিয়া পূর্ব ইউনিয়নের পূর্ব আলোনিয়া গ্রামে ফজলুর করিম ও তার ভাই জিন্নাহর সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধকে কেন্দ্র করে গত ৩ এপ্রিল দুই পরিবারের লোকজন ঝগড়ার একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারিতে লিপ্ত হয়।

এরই একপর্যায়ে ভাতিজা মহসিন তার চাচা ফজলুল করিমকে ধারালো ছেনি দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। লোকজন ফজলুলকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহতের ভাতিজাদের না পেলেও তার ভাই জিন্নাহকে আটক করে; কিন্তু ঘটনার পরপরই মহসীন পালিয়ে যায়।

গত ৪ মাস পালিয়ে থেকে তিনি কৌশলে মালদ্বীপ পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে।

শুক্রবার মালদ্বীপে যাওয়ার জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উপস্থিত হয় মহসীন।

গোপন সূত্রে সংবাদ পেয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. শহিদ হোসেন বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় মহসীনকে আটক করে। পরে শনিবার সকালে তাকে ফরিদগঞ্জ থানায় নিয়ে আসে।

এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, ফজলুল করিম খুনের ঘটনায় মহসীনসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।
ভালো ক্রিকেটারের কদর এমনই হয়। আইসিসির দেওয়া নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে আগামী অক্টোবরের ২৯ তারিখ। কিন্তু তার আগেই লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) নিলামে উঠছেন সাকিব আল হাসান।

আসছে নভেম্বরের ১৪ তারিখ শুরু হবে এলপিএল। এর নিলাম হবে অক্টোবরের প্রথমদিন। এজন্য ১৫০ জন বিদেশি ক্রিকেটারকে রেখেছে কর্তৃপক্ষ। যে তালিকায় সাকিব ছাড়াও আছে শহিদ আফ্রিদি, ক্রিস গেইল, রবি বোপারা, ড্যারেন স্যামি, ড্যারেন ব্রাভো, মুনাফ প্যাটেল, ভারনন ফিল্যান্ডার, কলিন মুনরোদের মতো ক্রিকেটাররা।

প্রতিটি দল ১৯ জন ক্রিকেটার নিতে পারবে। এর মধ্যে থেকে স্থানীয় ১৩ জনের পাশাপাশি থাকবে ৬ বিদেশী। টুর্নেমেন্টে যেহেতু ৫ দল অংশ নেবে, তাই সবমিলিয়ে ৩০ জন বিদেশি ক্রিকেটারের সুযোগ হবে এলপিএল খেলার।

মোট ২৩টি ম্যাচ হবে এবারের টুর্নামেন্টে। খেলা হবে পাল্লেকেল্লে, ডাম্বুলা এবং হাম্বানটোটায়। ৬ ডিসেম্বর ফাইনালের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এলপিএলের প্রথম আসর।

ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব গোপন করায় গত অক্টোবরে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন সাকিব। এরপর বেশিরভাগ সময় কাটান যুক্তরাষ্ট্রেই। তবে চলতি মাসের শুরুতেই দেশে ফেরেন এই অলরাউন্ডার।

তিনটি টেস্ট খেলতে এই মাসের শেষের দিকেই শ্রীলঙ্কা যাবে বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচ শুরু হবে অক্টোবরের ২৪ তারিখ। তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড চাইছে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই মাঠে ফিরুক সাকিব।

এজন্য ফিটনেসটা খুব জরুরি, সেটা ভালোই জানা আছে সাকিবের। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা শেষ না হওয়ায় আপাতত দলের সাথে অনুশীলন করতে পারছেন না তিনি। তাই বিকেএসপিতে একাই শুরু করে দিয়েছেন ক্রিকেটে ফেরার লড়াই।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র
                                  

সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধান প্রকৌশলী নুর আজিজুর রহমান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে আরিফুল হক চৌধুরীর গলাব্যাথা আর নুর আজিজুর রহমানের জ্বর থাকায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা দেন। মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা শেষে রাতে তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

নুর আজিজুর রহমান জানান, তিনি ভালো আছেন সামান্য জ্বর ছাড়া কোনো উপসর্গ নেই। সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও জানান, গতকাল পর্যন্ত তার গলা ব্যাথা ছিল। আজ বেশ ভালো আছেন। দুজনই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের শুরুর দিক থেকেই মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বিরামহীনভাবে কাজ করছিলেন। লকডাউনের সময় বাসাবাড়িতে আটকে পড়া অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করে তিনি ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি নগরীর চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শনে তাকে সবসময় দেখা যেত।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়েই তিনি এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিদর্শন করতেন। বৃহস্পতিবার সিসিকের এই দুই কর্তা ব্যক্তি একই সঙ্গে করোনায় আক্রান্ত হলেন।

এর আগে মেয়র আরিফের স্ত্রী সামা হক চৌধুরীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। এছাড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলামের পুরো পরিবারের শরীরে শনাক্ত হয়েছিল এ ভাইরাস।

ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের মাঝে চেক বিতরণ
                                  

এস.এম ইকবাল: 

ফরিদগঞ্জে ক্যান্সার, কিডনী, লিভারসিরোসিস, স্ট্রোকেপ্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্ত ২৩ জনের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা হারে সাড়ে ১১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।

 বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এড. জাহিদুল ইসলাম রোমান এই চেক বিতরণ করেন।

 এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলী হরি, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শাহাদাত হোসেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তছলিম আহমেদ, সাংবাদিক নুরুন্নবী নোমান প্রমূখ।

চাঁদপুরে অন্যের জন্য কাঁটতে গিয়ে বাঁশ নিজেই হলেন লাশ
                                  

এস. এম ইকবাল, চাঁদপুর প্রতিনিধি:

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক রুস্তম খাঁনের (৮০) দাফনের জন্য বাঁশ কাটতে গিয়ে সাপের কামড়ে নাতি জামাল খাঁন (২৫) এর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার রাতে হাজীগঞ্জ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড ধেররা উত্তরপাড়া খাঁন বাড়ীতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

সাপের কামড়ে মৃত জামাল খাঁনের বাবা মমিন খাঁন বলেন, আমাদের বাড়ীর মুরব্বী রুস্তম খাঁন। তিনি গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর বুধবার বিকালে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। রাতে তার দাফনের জন্য বাড়ীর কবরস্থানে বাঁশ কাটতে যায় আমার ছেলে জামাল খাঁন। বিষধর সাপ তাকে দংশন করে । পরে তাকে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখান থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যায়।

খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ পৌর মেয়র আসম মাহবুব-উল-আলম লিপন ও প্যানেল মেয়র রায়হানুর রহমান জনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত জামাল খাঁনের পরিবারকে সমবেদনা জানান।

পুকুর থেকে এমপির বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার
                                  

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বড় ভাইয়ের লাশ পুকুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকালে সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ি এলাকায় সাংসদের নিজ বাড়ি সংলগ্ন পুকুরে লাশ ভেসে ওঠার পর পুলিশ গিয়ে আবু ওয়াফা মো. শাহাবুদ্দিনের (৬৫) লাশ উদ্ধার করে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সংসদ সদস্যের বাড়ির আশপাশের এলাকায় খোঁজ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ওসি বলেন, ‘সকালে বাড়ির এলাকার ভেতরে থাকা পুকুরে উনার লাশ ভেসে উঠে। ওই বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ থেকে দেখা গেছে, সাংসদের বড় ভাই পুকুরপাড়ে গেলে সেখানে তিনি পড়ে যান। তিনি বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থও ছিলেন। দুর্ঘটনাবশত এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের ধারণা। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।’

কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভূয়া বিল তৈরি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
                                  

কানাইঘাট (সিলেট) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা :  কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নানা অনিয়ম দুর্নীতির ঘটনা বেরিয়ে আসছে। করোনাকালীন সময়ে মে-জুন রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকলেও কানাইঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্টাফদের রেস্টুরেন্টে খাবারের ভূয়া বিল তৈরি করে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫’শ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গতকাল বুধবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কানাইঘাট বাজারের নিউ পানসী রেস্টুরেন্ট ও নাঈম এন্ড ফাহিম রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল মন্নান এ অভিযোগ দায়ের করেন।


অভিযোগে আব্দুল মন্নান উল্লেখ করে, করোনার দুর্যোগকালীন লকডাউনের সময় মে ও জুন মাসে কানাইঘাট বাজারের সকল রেস্টুরেন্ট পাশাপাশি তার মালিকানাধীন দুইটি রেস্টুরেন্ট বন্ধ ছিল। অথচ মে ও জুন মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৭ জন স্টাফ আমার নাঈম এন্ড ফাহিম রেস্টুরেন্টে খাবার খেয়েছেন মর্মে আমার রেস্টুরেন্টের নামে ভূয়া ক্যাশ মেমো তৈরি করে আমার স্কুল পড়ুয়া ছেলে নাঈমকে ম্যানেজার দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে তার ভূয়া স্বাক্ষর ও সীল ব্যবহার করে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫’শ টাকার বিল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদ ও অফিস সহকারী শামীম আহমদ স্বাক্ষর দিয়ে সরকারের কোষাগার থেকে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন। আব্দুল মান্নান বলেন আমি দীর্ঘদিন ধরে হোটেল ব্যবসার সাথে জড়িত, সুনামের সাথে ব্যবসা করে আসছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এমন জালজালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমার রেস্টুরেন্টের ভূয়া ক্যাশ মেমো প্রস্তুত করে সীল সাক্ষর জালিয়াতি করে যে অপকর্ম করেছেন তা তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এ অভিযোগ দায়ের করেছি। পাশাপাশি অভিযোগের অনুলিপি সিলেটের জেলা প্রশাসক, জেলা সিভিল সার্জন ও দুর্নীতি দমন কমিশন, সিলেট অফিসের ডিডি বরাবরে ডাকযোগে পাঠিয়েছি। আসা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, যাতে করে এ ধরনের জালিয়াতির ঘটনা আর কখনো না ঘটে।


অভিযোগের ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডাঃ শেখ শরফ উদ্দিন নাহিদের মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বারিউল করিম খান বলেন, আব্দুল মন্নানের অভিযোগের কপি পেয়েছি। তদন্ত করে সেটা দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কানাইঘাটে ভূয়া ডাক্তারকে মোবাইল কোর্টে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
                                  

কানাইঘাট প্রতিনিধিঃ কানাইঘাটের সড়কের বাজারে এক ভূয়া ডাক্তারকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, সড়কের বাজারে ভিলেজ ফর হেলথ্ মেডিকেল হল নামে চেম্বার খোলে কোন ধরনের মেডিকেল ডাক্তারি সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন, এস.এ এনাম নামে একজন ভূয়া ডাক্তার।

এমন সংবাদের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ১ম শ্রেণির ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ বারিউল করিম খান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবুল হারিছকে নিয়ে কথিত ডাক্তার এস.এম এনাম হোসেন মুজাক্কির এর চেম্বারে যান। এ সময় এনামকে তার চিকিৎসা সনদপত্র দেখানোর জন্য ইউএনও বারিউল করিম খান বললেও তিনি তার কোন ডাক্তারী সনদপত্র দেখাতে পারেন নি। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২০১০ইং সনের বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল আইনে ভূয়া ডাক্তার এস.এম এনাম হোসেন মুজাক্কিরকে মামলা দায়েরের মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভূয়া ডাক্তার এস.এম এনাম হোসেন মুজাক্কির দীর্ঘদিন থেকে সড়কের বাজারে চেম্বার খোলে এলাকার অসংখ্য রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এ ধরনের প্রতারক ও ভূয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযান আরো জোরদার করার দাবী জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও একই দিনে সড়কের বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি আইসক্রিম ফ্যাক্টরির মালিককে ভোক্তা অধিকার আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী কর্মকর্তা।

সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে চাঁদপুরে মাবনবন্ধন
                                  

এস. এম ইকবাল, চাঁদপুর প্রতিনিধি:

বিজয় টিভির ধামরাই প্রতিনিধি মো.জুলহাস উদ্দিনকে নির্মমভাবে হত্যা এবং কক্সবাজারে সময় সংবাদের প্রতিনিধি সুজাউদ্দীন রুবেলকে হত্যাচেষ্টাসহ সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিবাদে চাঁদপুরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর বুধবার সকাল ১১টায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধনে বিভিন্ন স্তরের অর্ধশতাধিক সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে উল্লেখিত ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবন, শহীদ পাটওয়ারী, বি এম হান্নান, শরীফ চৌধুরী, ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাধারণ সম্পাদক এএইচএম আহসান উল্লাহ, সহ-সভাপতি রহিম বাদশা, লক্ষন চন্দ্র সূত্রধর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোহেল রুশদী, টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি আল-ইমরান শোভন, সাধারণ সম্পাদক রিয়াদ ফেরদৌস, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ লতিফ প্রমুখ।

মানববন্ধনে জাতীয় ও স্থানীয় গনমাধ্যমের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কানাইঘাটে সম্মিলিত সামাজিক জোটের ৩য় মতবিনিময় সভা সম্পন্ন
                                  

লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়ন এবং রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের পর এবারে কানাইঘাট সদর ইউনিয়নেও সম্পন্ন হল কানাইঘাটের সম্মিলিত সামাজিক জোটের মতবিনিময় সভা। সম্মিলিত সামাজিক জোটের আত্মপ্রকাশের পর সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এ নিয়ে মোট তিনটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হল। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে ছোটদেশ নয়াবাজারে কানাইঘাট সদর ইউনিয়নের সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় সামাজিক জোটের তৃতীয় মতবিনিময় সভা। সভায় আগত বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীলবৃন্দ তাদের স্থানীয় সমস্যাগুলোর পাশাপাশি পুরো উপজেলার সমস্যাগুলোও তোলে ধরেন।

 

বক্তারা বলেন- পুরো উপজেলায় যে হারে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে সে হারে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠছে না। সম্মিলিত সামাজিক জোটের উদ্যোগে যদি শক্তিশালী প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলা যায় তাহলে অচিরেই এই উপজেলা থেকে অপরাধের মহামারী দূর হয়ে যাবে। অশ্লীলতা ও অপরাধ দূরীকরণে ইসলামী তথা ধর্মীয় মূল্যবোধকে জাগ্র্রত করার কথাও বলেন তারা। নয়াফৌদ ক্রিকেট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমাদুর রহমানের পরিচালনায় এবং কানাইঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আসিফ আযহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য প্রদান করেন আল-হেরা ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মাওলানা হাবীবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য রাখেন ডেনমার্কের আলবর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও কানাইঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম চৌধুরী। উচ্চ শিক্ষার্থে ডেনমার্ক গমণ উপলক্ষে তাকে সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সংবর্ধনাও প্রদান করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আল-আমীন ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংস্থার সভাপতি হাফিজ এহসানে এলাহী, সমাজসেবী জালাল উদ্দিন, কানাইঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম. আফতাব উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাতবাক ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আহমদ ইমরান, কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি তোফায়েল আহমদ ছালিম, কানাইঘাট সদর ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ শরীফ, মইনার পাহাড় স্টুডেন্ট ফোরামের সভাপতি আব্দুল্লাহ সায়েম, কানাইঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা সম্পাদক মো. কামিল আহমদ, উমরগঞ্জ ইসলামিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন , প্রত্যয় ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সদস্য জয়নুল আবেদীন প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মো. কামিল আহমদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কানাইঘাট স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের পৌর শাখার আট নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সোহেল আহমদ, মো. নাহেল আহমদ, মো. নুরুল আম্বিয়া, আবু সুফিয়ান, আবু হাসান, মাহফুজুর রহমান, মাসুদ আহমেদ, মো. আব্দুল আহাদ, খালেদ মোশাররফ, মো. আম্বিয়া আহমদ প্রমুখ।

বার্তা প্রেরক,

আসিফ আযহার

ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় জরাজীর্ন রাস্তা মেরামত করছেন মেয়র মাহফুজুল হক
                                  

এম. এইচ রাকিব মিয়াজী:


গেল কয়েকদিনের অতি বৃষ্টির ফলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা মেরামত করছেন মেয়র মাহফুজুল হক।

গতকাল পৌর এলাকার ৫ ওয়ার্ডের পশ্চিম চরবড়ালী এলাকার যে সকল রাস্তায় বৃষ্টির পানি জমে রাস্তার ক্ষতি হয়েছে, সে সকল স্থানে মেয়র মাহফুজুল হক নিজে উপস্থিত থেকে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তা ইট, বালি দিয়ে মেরামত করেন।

এ সময় মেয়র মাহফুজুল হক বলেন, যে সকল ওয়ার্ডে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারনে রাস্তা ঘাটের ক্ষতি হয়েছে ক্রমান্বয়ে সকল রাস্তা মেরামত করা হবে। যাতে করে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে না হয়। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে রুপান্তর করতে। এ ক্ষেত্রে সকল শ্রেনী পেশার জনগণের সহযোগীতা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ফরিদগঞ্জ পৌর সভায় প্রতিটি রাস্তা টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পৌরসভায় দৃশ্যমান অনেক প্রকল্প চলমান অবস্থায় রয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক মেরুকরনের স্বপ্নদ্রষ্টা বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার আধুনিক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গ্রাম হবে শহর প্রকল্প বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে আমি সামান্য কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। পৌর সভার সকল কাজ অব্যাহত রাখতে আগামী দিনে আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক আবাসিক মেডিকেল অফিসার আসাদুজ্জামান জুয়েল, পৌর সভার আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।


   Page 1 of 437
     সারাদেশ
ফরিদগঞ্জে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৃত্যুর ৮ দিন পর, পরিবারের দাবি ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে চাঁদার টাকা না দেওয়ায়, প্রবাসীর বাড়ি ভাংচুর করলো ইউপি সদস্য, আহত - ২
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের আইনশৃঙ্খলা সভায় উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষোভ প্রকাশ
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর ধর্ষন মামলার দুই আসামী গ্রেফতার
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জ ম্যাগাজিন হাউজের সত্ত্বাধিকারী তাজুল ইসলামের বড় ছেলে পাবেলের দাফন সম্পন্ন
.............................................................................................
ফতুল্লায় ছিনতাইকারীদের হাতে এক ইজিবাইক চালক খুন
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জের হত্যা মামলার আসামি মালদ্বীপে পালানোর সময় গ্রেফতার
.............................................................................................
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে বিভিন্ন রোগে আক্রান্তদের মাঝে চেক বিতরণ
.............................................................................................
চাঁদপুরে অন্যের জন্য কাঁটতে গিয়ে বাঁশ নিজেই হলেন লাশ
.............................................................................................
পুকুর থেকে এমপির বড় ভাইয়ের লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভূয়া বিল তৈরি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
.............................................................................................
কানাইঘাটে ভূয়া ডাক্তারকে মোবাইল কোর্টে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা
.............................................................................................
সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে চাঁদপুরে মাবনবন্ধন
.............................................................................................
কানাইঘাটে সম্মিলিত সামাজিক জোটের ৩য় মতবিনিময় সভা সম্পন্ন
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকায় জরাজীর্ন রাস্তা মেরামত করছেন মেয়র মাহফুজুল হক
.............................................................................................
চাঁদপুরে ঠিকাদারের গাফিলতির কারনে অসহায় বৃদ্ধার বাড়ি নদীগর্ভে
.............................................................................................
সেক্টর কমান্ডার আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে ফরিদগঞ্জের বিশিষ্টজনদের শোক প্রকাশ
.............................................................................................
আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যুতে যুবলীগ নেতা আ. রহিম রুবেলের শোক
.............................................................................................
রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে সম্মিলিত সামাজিক জোটের মতবিনিময় সভা সম্পন্ন
.............................................................................................
ভারতে এক দিনে আক্রান্ত ৮৬ হাজার, মোট ছাড়ালো ৪০ লাখ
.............................................................................................
মসজিদে বিস্ফোরণ এসি নয় গ্যাস লাইন থেকে : ফায়ার সার্ভিস
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে অতি বৃষ্টির কারনে ক্ষতি হওয়া রাস্তা খুঁজে খুঁজে মেরামত করছেন মেয়র মাহফুজুল হক
.............................................................................................
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ
.............................................................................................
ফরদিগঞ্জে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা খাজা আহাম্মদরে ইন্তকোল
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে মেয়র প্রার্থী হাজী কামরুল হাছান সাউদের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান দেশ বরেণ্য রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল আর নেই
.............................................................................................
চাঁদপুরে মোহনায় ছোট নৌযানে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রয়েছে মৃত্যুঝুঁকি
.............................................................................................
কানাইঘাটে সম্মিলিত সামাজিক জোটের মতবিনিময় সভা সম্পন্ন
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক সেনা সদস্যর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
করোনার সঙ্গে প্রায় দুই সপ্তাহ লড়াই করেও হেরে গেলেন কুষ্টিয়ার ওসি
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে বিদ্যুৎ পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে পুলিশের অভিযানে ৩ মাদক ব্যবসায়ী আটক
.............................................................................................
কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরীর মৃত্যু গুজব, যা জানাল পরিবার
.............................................................................................
নওগাঁয় সাংবাদিকের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
.............................................................................................
৫০ বছর আগের সেতুটি মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ : দুর্ঘটনার আশঙ্কা
.............................................................................................
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির ফলে খুলনার উপকূলীয় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত
.............................................................................................
দেশের সকল সমুদ্রবন্দরসমূহে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
.............................................................................................
না ফেরার দেশে ভাস্কর মৃণাল হক
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে ২১ আগস্ট শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া
.............................................................................................
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক
.............................................................................................
১০ গ্রাম প্লাবিত পদ্মার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে
.............................................................................................
ভাঙ্গুড়ায় গ্রাম আদালতে বিচার প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহন শীর্ষক কর্মশালা
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধে হামলার ঘটনায় বৃদ্ধার মৃত্যু
.............................................................................................
জামালপুর আওয়ামী লীগ নেতার গুদাম থেকে ২৭ মেট্রিক টন সরকারি চাল
.............................................................................................
চাঁদপুরে ১২২ কোটি টাকায় ৯টি মডেল মসজিদ হচ্ছে
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে শোক দিবস পালিত
.............................................................................................
প্রেসক্লাব ফরিদগঞ্জ এর জাতীয় শোক দিবস পালন
.............................................................................................
চালু হলো করোনায় বন্ধ হয়ে থাকা আরও ১৩ জোড়া ট্রেন
.............................................................................................
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৩ কিশোর নিহত, তত্ত্বাবধায়কসহ গ্রেফতার ৫ জন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
সম্পাদক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমেদ
নির্বাহী সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আকরাম খাঁন
সহঃ সম্পাদক: হোসাইন আহমদ চৌধুরী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD