| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সারাদেশ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ঝিনাইদহে বজ্রপাতে বাবা-ছেলে নিহত

কাজের সন্ধানে বেরিয়ে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় বজ্রপাতে বাবা ও ছেলে মারা গেছে। এ সময় আহত হয়েছে আরোও ৩জন। নিহত দুই শ্রমিক হলো বাবা নুর ইসলাম মৃধা(৭০) ও তার ছেলে খাইরুল ইসলাম(৪২)। তাদের বাড়ি পাবনা জেলার চাটমহোর উপজেলায় বলে জানা গেছে। তারা দুজন সহ ৫জন শ্রমিক শৈলকুপার আনন্দনগর গ্রামের মাঠে ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় গতকাল (গতকাল মঙ্গলবার) বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন ঘটনাস্থলেই বজ্রপাতে বাবা ও ছেলে মারা যায়। এ সময় আরো ৩জন আহত হয়েছে। তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলো পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিজাম উদ্দিন(৬৮), শৈলকুপার উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের দামি মালিথা(৫০) ও তার ভাতিজা সাব্বির আহমেদ(১৬)। শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নিহত দুজন বাবা ও ছেলে। তারা শ্রমিকের কাজ করতে শৈলকুপা আনন্দনগর গ্রামে এসেছিল। ধানক্ষেতে বজ্রপাতে ২জনেই মারা গেছে।

 

ঝিনাইদহে বজ্রপাতে বাবা-ছেলে নিহত
                                  

কাজের সন্ধানে বেরিয়ে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলায় বজ্রপাতে বাবা ও ছেলে মারা গেছে। এ সময় আহত হয়েছে আরোও ৩জন। নিহত দুই শ্রমিক হলো বাবা নুর ইসলাম মৃধা(৭০) ও তার ছেলে খাইরুল ইসলাম(৪২)। তাদের বাড়ি পাবনা জেলার চাটমহোর উপজেলায় বলে জানা গেছে। তারা দুজন সহ ৫জন শ্রমিক শৈলকুপার আনন্দনগর গ্রামের মাঠে ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় গতকাল (গতকাল মঙ্গলবার) বেলা ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন ঘটনাস্থলেই বজ্রপাতে বাবা ও ছেলে মারা যায়। এ সময় আরো ৩জন আহত হয়েছে। তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

আহতরা হলো পাবনার চাটমোহর উপজেলার নিজাম উদ্দিন(৬৮), শৈলকুপার উপজেলার আনন্দনগর গ্রামের দামি মালিথা(৫০) ও তার ভাতিজা সাব্বির আহমেদ(১৬)। শৈলকুপা থানার ওসি বজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নিহত দুজন বাবা ও ছেলে। তারা শ্রমিকের কাজ করতে শৈলকুপা আনন্দনগর গ্রামে এসেছিল। ধানক্ষেতে বজ্রপাতে ২জনেই মারা গেছে।

 

ফরিদগঞ্জে ফেইসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ায় এক যুবক শ্রীঘরে !
                                  

ফরিদগঞ্জ অফিস:

পূর্ব শত্রুতার জের হিসেবে একটি পরিবারের মা মেয়ের অশ্লীল ছবি তৈরী করে তা ছেড়ে দিয়েছে ফেইসবুকে। এতে লজ্জায় অপমানে ওই পরিবারের এক কলেজ পড়–য়া কন্যা তার কলেজে যাওয়া বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব বড়ালী গ্রামে। এ নিয়ে পন্যগ্রাফী নিয়ন্ত্রন আইনে ফরিদগঞ্জ থানায় রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়।


ভুক্তভোগী পরিবার ও মামলা সুত্রে জানা গেছে, পূর্ব বড়ালী গ্রামের চান মিয়ার ছেলে রুহুল আমিনের সাথে একই বাড়ির সিরাজ মিয়ার সাথে দীর্ঘ দিন থেকে রয়েছে জায়গা জমি নিয়ে দ্বন্ধ সংঘাত রয়েছে। এ নিয়ে রুহুল আমিন প্রায়শই সিরাজ ও তার পরিবারের ক্ষতি সাধন করতে উঠে পড়ে লাগে। এক পর্যায়ে গত ৯ জুলাই বিকেলে সিরাজ মিয়ার বসত ঘরে ঢুকে রুহুল আমিন কৌশলে সিরাজের স্ত্রী ও তার মেয়ের নিয়ে ওই ছবিকে পরে ফটোশপের মাধ্যমে অশ্লীল ছবি তৈরী করে রুহুল আমিনের নামে থাকা তার নিজস্ব আইডির মাধ্যমে ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়। শুধূ তাই নয়, ফেইস বুকে ছড়িয়ে দেয়া ওই ছবি এলাকার সোহেল ও আবুল কাশেমের আইডি সহ তার পছন্দের বিভিন্ন আইডিতে ট্যাগ করে। এতে করে সিরাজ ও তার স্ত্রী সন্তানদের চরম আকারে মানহানি হয়েছে বলে আইসিটি আইনে রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করতে বাধ্য হয়েছে । গ্রেফতার কৃত রুহুল আমিনের ব্যবহার করা মোবাইলটিও পুলিশ জব্দ করেছে।

উক্ত মামলার তদন্তকারী পুলিশ অফিসার এস আই সুমন্ত মজুমদার জানান, ২০১২ সালের পন্যগ্রাফী নিয়ন্ত্রন আইনে দায়ের করা মামলার আসামী রুহুল আমিনকে গ্রেফতার করে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত আসামী রুহুল আমিনকে আটক রাখার জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে ওই আসামী মামলায় ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য প্রমান পাওয়া গেছে।

গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে চার উপজেলায় ১৫৪ গ্রাম প্লাবিত
                                  

 গত কদিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, ঘাঘট ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার ১৫৪টি গ্রাম বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় জেলার ৪টি স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। ফলে ওইসব এলাকার বিভিন্ন ফসলী জমি ও রাস্তা-ঘাট তলিয়ে গেছে এবং বন্যা কবলিত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে গতকাল সোমবার সকালে পানির তোড়ে সদর উপজেলার গিদারী ইউনিয়নের বাগুড়িয়া এলাকায় বাঁধের ১শ মিটার অংশ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও পরে ফুলছড়ি উপজেলার কাতলামারি, মাঝিপাড়া ও সদর উপজেলার খোলাহাটিতে বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙ্গে যায়।

জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, জেলার চার উপজেলার পানিবন্দী নিরাশ্রয় মানুষের জন্য ৬৩টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্যা কবলিত ওইসব এলাকায় ২৪০ মে. টন চাল, নগদ ২ লাখ টাকা, ২ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এদিকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় কাপাসিয়া ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত ১শ পরিবারের মধ্যে শুকনা খাবার ও বেলকা ইউনিয়নে ১শ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে। অপরদিকে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩শ ৩০টি পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি চাল এবং ৩০ পরিবারকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। শুকনো খাবারের মধ্যে ছিল মিনিকেট চাল, সোয়াবিন তেল, মসুর ডাল, নুডুস, চিনি ও লবণ ইত্যাদি। পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১১০ সে.মি. তিস্তার ১৬ সে.মি এবং ঘাঘট নদীর পানি ৬৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
২৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ: গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির পাশাপাশি জেলার চরাঞ্চলে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো, ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ধলিপাটা ধোওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফজলুপুরের হারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুলছড়ি ইউনিয়নে জামিরা প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সদর উপজেলার চিথুলিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনা করে জেলার ২৪৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানবন্ধ রাখা হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী জানান, বন্যার কারণে বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ওইসব এলাকার রাস্তাগুলো তলিয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসা-যাওয়া নিরাপদ নয়। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমলে নিয়ে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পাবনায় যমুনা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
                                  

 পাবনার বেড়া মডেল থানা পুলিশ যমুনা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাত এক যবুকের (২৫) লাশ উদ্ধার করেছে। লাশের পরনে টি শার্ট ও হাত পা রশি দিয়ে বাধা অবস্থায় ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। বেড়া মডেল থানা ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার সময় বেড়া উপজেলার হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়নের নতুন পেচাকোলা গ্রামের পাশের যমুনা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী বেড়া থানা পুলিশকে খবর দেন।

পুলিশ দুপুর একটার সময় ওই স্থান থেকে ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে প্রেরন করেন। এব্যাপরে বেড়া থানার ওসি মো. শাহিদ মাহমুদ খান বলেন, লাশটি এলাকার নয়। এলাকার কেউ তাকে চিন্তে পারছে না। প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে কোন অপরাধীরা তাকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দিয়েছে। পানির স্্েরাতে ভাসতে ভাসতে এখানে এসেছে। তবে ময়না তদন্তের পর আসল ঘটনা জানা যাবে। আইনি প্রক্রিয়া চলবে।

বরিশালে বেড়েই চলেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা, ১৫ দিনে ১২ জনের প্রাণহানি
                                  

বরিশাল বিভাগ জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মানুষের মুত্যুর ঘটনা। বরিশাল বিভাগে চলতি জুলাই মাসে ১২ জন মারা গেছে। সর্বশেষ গত রোববার রাতে নগরীর সদর রোড এলাকার বেলভিউ মেডিকেল সার্ভিস নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুমন শীল (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মশিউর রহমান ফেরদাউস জানান, মৃত সুমন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা। সুমনের মা দিপালী রানী শীল জানান, গত রোববার ভোলা থেকে তার চিকিৎসা করানোর জন্য বরিশাল নগরীর বেলভিউ মেডিক্যাল সার্ভিসে চিকিৎসকের চেম্বারে আসে সুমন। রাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিপোর্ট দেখানোর জন্য চিকিৎসকের জন্য চেম্বারের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এ সময় সুমনের শিশু সন্তান দুষ্টুমি শুরু করলে তাকে শান্ত করতে সামনের দিকে এগিয়ে যায় সুমন। এ সময় লোহার একটি কলাপসিবল গেটে হাত লাগা মাত্রই সুমন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। কলাপসিবল গেটটি আগে থেকে বিদ্যুতায়িত ছিলো। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে একটার দিকে সুমনের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১২ জুলাই বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে চারজন মারা গেছে। তারা হলেন-গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী মহল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীনী সুরাইয়া জান্নাত খাদিজা (১৮), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে সাহেব আলী সিকদার (৫০) নামের গাছকাটা শ্রমিক মারা গেছে। নিহত সাহেব আলী পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। একইদিন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মিলন হোসেন (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রি মারা গেছে।

সে (মিলন) উপজেলার সূর্য্যপাশা গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র। ভবনের ছাদের ওপর কাজ করার সময় হাতে থাকা লোহার রড বিদ্যুতের তার স্পর্শ করলে মিলন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ওইদিনই একই উপজেলায় বাড়ির ছাদে পল্লী বিদ্যুতের পরে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মগড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক বিপ্লব খান রায়হান (২৫)। এরআগে ১১ জুলাই বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কৃষক দম্পতি মারা গেছে। কৃষক কামাল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০) নিজ বসতবাড়ি সংলগ্ন পাট ক্ষেতে বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

১০ জুলাই বানারীপাড়া থানা কমপ্লেক্স সংলগ্ন নির্মানাধীন একটি ভবনে রড তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শহিদুল ইসলাম খান (২৩) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ৯ জুলাই বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মাহাতাব হোসেন (৩৫) নামের আরেক নির্মাণ শ্রমিক। ৭ জুলাই চরফ্যাশন উপজেলার ওচমানগঞ্জ ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এনামুল হক মিয়াজী (৪০) নামের এক যুবক মারা গেছে। একইদিন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কাদের আকন (৮০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ৩ জুলাই পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জামাল হাওলাদার নামের এক শ্রমিক মারা গেছে। নির্মান কাজে ব্যবহত পানি সরবরাহের জন্য বৈদ্যুতিক মটরে সংযোগ দিতে গিয়ে সে বিদ্যুতায়িত হয়েছিলেন। এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অধিকাংশ দূর্ঘনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতাকে দায়ী করেছে নিহতের স্বজনরা। যথাযথ বিদ্যুৎ সংযোগ তার ছিড়ে পড়ার পর সঠিক সময়ে মেরামত না করায় মানুষ দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। তবে এমন অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএম প্রকৌশলী শংকর কর বলেন, বিদ্যুৎ সম্পর্কে মানুষের অধীক সচেতন হতে হবে।

যে সকল খালিস্থান থেকে বিদ্যুতের তার টানা হয়েছে এখন সেই সকলস্থানে গৃহ বা ভবন নির্মাণ হচ্ছে। যার কারণে ভবনের বেলকুনি কিংবা ছাদের উপরে বিদ্যুতের তারের অবস্থান। তাই ঘটছে দূর্ঘটনা। তিনি আরও বলেন, ঝড় কিংবা দূর্যোগে তার ছিড়ে পড়লে তৎক্ষনিক আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনা। যখন ওই ছেড়া তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে কেউ একজন মারা যায়, তখনই কেবল আমরা জানতে পারি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারাদেশব্যাপী ইউআরআইডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ (ঘর-বাড়ির ছাঁদ ও বেলকুনি ঘেষা সংযোগ তার) গ্রাহকদের বিনা খরচে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।

বরিশালে বেড়েই চলেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা, ১৫ দিনে ১২ জনের প্রাণহানি
                                  

বরিশাল বিভাগ জুড়ে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মানুষের মুত্যুর ঘটনা। বরিশাল বিভাগে চলতি জুলাই মাসে ১২ জন মারা গেছে। সর্বশেষ গত রোববার রাতে নগরীর সদর রোড এলাকার বেলভিউ মেডিকেল সার্ভিস নামে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুমন শীল (৩২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মশিউর রহমান ফেরদাউস জানান, মৃত সুমন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা। সুমনের মা দিপালী রানী শীল জানান, গত রোববার ভোলা থেকে তার চিকিৎসা করানোর জন্য বরিশাল নগরীর বেলভিউ মেডিক্যাল সার্ভিসে চিকিৎসকের চেম্বারে আসে সুমন। রাতে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রিপোর্ট দেখানোর জন্য চিকিৎসকের জন্য চেম্বারের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন তারা। এ সময় সুমনের শিশু সন্তান দুষ্টুমি শুরু করলে তাকে শান্ত করতে সামনের দিকে এগিয়ে যায় সুমন। এ সময় লোহার একটি কলাপসিবল গেটে হাত লাগা মাত্রই সুমন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়। কলাপসিবল গেটটি আগে থেকে বিদ্যুতায়িত ছিলো। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত পৌনে একটার দিকে সুমনের মৃত্যু হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১২ জুলাই বিদ্যুপৃষ্ট হয়ে চারজন মারা গেছে। তারা হলেন-গৌরনদী পৌর এলাকার চরগাধাতলী মহল্লায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীনী সুরাইয়া জান্নাত খাদিজা (১৮), পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে সাহেব আলী সিকদার (৫০) নামের গাছকাটা শ্রমিক মারা গেছে। নিহত সাহেব আলী পার্শ্ববর্তী বরগুনা জেলার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। একইদিন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মিলন হোসেন (৩৫) নামে এক রাজমিস্ত্রি মারা গেছে।

সে (মিলন) উপজেলার সূর্য্যপাশা গ্রামের আলমগীর হোসেনের পুত্র। ভবনের ছাদের ওপর কাজ করার সময় হাতে থাকা লোহার রড বিদ্যুতের তার স্পর্শ করলে মিলন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। ওইদিনই একই উপজেলায় বাড়ির ছাদে পল্লী বিদ্যুতের পরে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মগড় ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক বিপ্লব খান রায়হান (২৫)। এরআগে ১১ জুলাই বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক কৃষক দম্পতি মারা গেছে। কৃষক কামাল হোসেন (৪০) ও তার স্ত্রী মমতাজ বেগম (৩০) নিজ বসতবাড়ি সংলগ্ন পাট ক্ষেতে বিদ্যুতের ছিঁড়ে পড়ে থাকা তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান।

১০ জুলাই বানারীপাড়া থানা কমপ্লেক্স সংলগ্ন নির্মানাধীন একটি ভবনে রড তুলতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শহিদুল ইসলাম খান (২৩) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ৯ জুলাই বরিশাল নগরীর রূপাতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মাহাতাব হোসেন (৩৫) নামের আরেক নির্মাণ শ্রমিক। ৭ জুলাই চরফ্যাশন উপজেলার ওচমানগঞ্জ ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে এনামুল হক মিয়াজী (৪০) নামের এক যুবক মারা গেছে। একইদিন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কাদের আকন (৮০) নামের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ৩ জুলাই পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জামাল হাওলাদার নামের এক শ্রমিক মারা গেছে। নির্মান কাজে ব্যবহত পানি সরবরাহের জন্য বৈদ্যুতিক মটরে সংযোগ দিতে গিয়ে সে বিদ্যুতায়িত হয়েছিলেন। এদিকে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে অধিকাংশ দূর্ঘনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসিনতাকে দায়ী করেছে নিহতের স্বজনরা। যথাযথ বিদ্যুৎ সংযোগ তার ছিড়ে পড়ার পর সঠিক সময়ে মেরামত না করায় মানুষ দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের। তবে এমন অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জিএম প্রকৌশলী শংকর কর বলেন, বিদ্যুৎ সম্পর্কে মানুষের অধীক সচেতন হতে হবে।

যে সকল খালিস্থান থেকে বিদ্যুতের তার টানা হয়েছে এখন সেই সকলস্থানে গৃহ বা ভবন নির্মাণ হচ্ছে। যার কারণে ভবনের বেলকুনি কিংবা ছাদের উপরে বিদ্যুতের তারের অবস্থান। তাই ঘটছে দূর্ঘটনা। তিনি আরও বলেন, ঝড় কিংবা দূর্যোগে তার ছিড়ে পড়লে তৎক্ষনিক আমাদের কাছে কোন অভিযোগ আসেনা। যখন ওই ছেড়া তারে বিদ্যুতায়িত হয়ে কেউ একজন মারা যায়, তখনই কেবল আমরা জানতে পারি। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সারাদেশব্যাপী ইউআরআইডিএস প্রকল্পের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ (ঘর-বাড়ির ছাঁদ ও বেলকুনি ঘেষা সংযোগ তার) গ্রাহকদের বিনা খরচে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এতে করে দূর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামে আদালতে ভাইকে ইয়াবা দিতে গিয়ে ধরা
                                  

 জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরদিন আদালতে বড় ভাইকে ইয়াবা সরবরাহ করতে গিয়ে ফের পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এক ব্যক্তি। যারা পাঁচ ভাইয়ের সবাই মাদক ব্যবসায় যুক্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম আদালত ভবন থেকে নূরুল ইসলাম ওরফে নূরু (৪২) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের পর পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। চট্টগ্রাম আদালত ভবনের হাজত খানার সামনে থেকে গত রোববার বিকালে নূরুকে ২০টি ইয়াবাসহ আটক করে কোতোয়ালী থানায় সোপার্দ করে আদালতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাদকের মামলায় ১০ মাস কারাগারে থেকে শনিবার জামিনে ছাড়া পান নুরু।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন জানান, নূরু পুলিশের তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম ওরফে ডাইল করিমের ছোট ভাই। গত রোববার আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিল করিম। একদিন আগে জামিনে ছাড়া পাওয়া নূরু তাকে ইয়াবা দিতে গিয়েছিল বলে আমাদের জানিয়েছে। চট্টগ্রামের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী রেজাউল করিম। নগরীর ছোটপুল এলাকায় প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাউন্টার বানিয়ে মাদক ব্যবসা করতেন তিনি। একসময় ফেন্সিডিল বিক্রির কারণে লোকজনের কাছে ‘ডাইল করিম’ হিসেবে পরিচিতি পান রেজাউল। পুলিশের হাতে বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হয়েছে করিম। তবে জামিনে ছাড়া পেয়েই আবার ফিরে যেতেন এ পেশায়। তার হাত ধরেই চার ভাই ও এক বোনও যুক্ত হন মাদক ব্যবসায়। ওসি মহসিন জানান, গত ২০ জুন আদালতে হাজিরা দিয়ে কারাগারে যাওয়ার সময় কারারক্ষীরা ডাইল করিমকে তল্লাশি করে ইয়াবার গুঁড়া উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কারা কর্তৃপক্ষ কোতোয়ালী থানায় একটি মামলাও করেছে।

এছাড়াও করিমের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা আছে। করিমের ভাই নূরুর বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে জানিয়ে ওসি বলেন, তার অপর তিন ভাই আলাউদ্দিন, মহিউদ্দিন, সালাউদ্দিন ও বোন পারভিনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা আছে। ওসি মহসিন বলেন, নূরুর বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গণ পিটুনি, নাকি হানিফের বাবার খাওয়ানো অতিমাত্রার ঔষুধ !
                                  

ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা:


ফরিদগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জের ধরে হানিফ হত্যার রহস্য উম্মোচিত হতে শুরু করেছে। যতই দিন যাচ্চে ততই ধীরে ধীরে হত্যার প্রকৃত রহস্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিহত হানিফ তপাদারের বাড়িতে মামলা ও পুলিশ আতংকে পুরুষ শূন্য হয়ে পড়েছে।


সরেজমিন ভূক্তভোগীদের মধ্যে এলাকার বেশ কয়েকজন তাদের বক্তব্যে বলেন, সত্যিকার অর্থে এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়লে নিরুপায় হয়ে নিহত হানিফকে গণ পিটুনি দেয়। এদিকে তথ্যসূত্র থেকে জানায়ায়,হানিফের বাবা হানিফকে অতিমাত্রায় ঔষুধ খাইয়ে দিলে তারই বিষ ক্রিয়াকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করছেন এলাকাবাসী অনেকে। এলাকার লোকজনের মধ্যে চা দোকানী জাকির হোসেন জানান, আমি হানিফ থেকে এখনও ২০ হাজার টাকা পাবো । বহুবার টাকা চাইতে গিয়ে বাকবিতন্ডা হয়েছে কিন্তু পাওনা টাকা এ যাবৎ দেয়নি।
একতা বাজারের কনফেকশনারী দোকানী মোস্তফা জানান, আমার দোকানে নিহত হানিফ তপাদার ১২ টাকা বাকি খেয়েছে। টাকা চাইলে উল্টো ভয়-ভীতি দেখাতো। একদিন টাকা চাওয়ায় হানিফ পিছন দিক দিয়ে চোরা গুপ্তা হামলা চালিয়ে আমাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ি রক্তাক্ত জখম করে। এ ঘটনায় আমি ইউনিয়ন পরিষদে লিখিত বিচার চেয়ে অভিযোগ দিয়েছি। হানিফ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নোটিশকে কোন ধরণের তোয়াক্কা করেনি। এ যাবৎ পাওনা টাকা ও মারধরের কোন বিচার পাইনি।
উত্তর রাজাপুর গ্রামের মৃত আবিদ আলীর ছেলে কবির হোসেন জানায়, আমি বাড়ি থেকে বাজারে আসার পথে হানিফ এক ব্যাক্তির সাথে মারামারি করলে আমি তাদেরকে ছাড়িয়ে নেই। কেন ছাড়িয়ে নিলাম সে জন্য হানিফ ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে পিছন দিক থেকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে আমাকে রক্তাক্ত জখম করেছে। আমাকে দির্ঘদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় বিচার দিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।


একতা বাজারের ফল দোকানী হুমায়ূন কবির জানান, আমার দোকানে বিভিন্ন সময় বাকি খেয়ে আর টাকা দিত না। টাকা চাইলে আমাকে মারার জন্য হুমকি-দমকী দিত। এক পর্যায় আমাকে প্রচন্ড রকমের মারধর করে। আমি সজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়। পরিশেষে আমি স্থানীয় ভাবে বিচার চেয়ে ভয়ে কেউ বিচার করতে না চাওয়ায় কোর্টে মামলা দায়ের করি। মামলার প্রেক্ষিতে সে ৩/৪ মাস জেল খেটে পুনঃরায় জামিনে এসে আবারও আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। এছাড়া সে আরোও বেপরোয়া হয়ে এলাকায় তান্ডব চালায়।
গত রমজানে তার চাচা শফিক তপাদারের স্ত্রী রেহানাকে প্রচন্ড রকমের মারধর করে হাত ভেঙ্গে দেয়। এ ঘটনায় শফিক তপাদরের ছেলে মাইনুদ্দিন বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগ করে। থানা পুলিশ এ ব্যাপারে তেমন কোন আমলে নেয়নি। ফলে হানিফ আরো ক্ষিপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে উঠে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত হানিফ তার মা-বাবাকে প্রায়ই মারধর করতো। তার অত্যাচারে তার মা বাবা ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতো।
তাৎক্ষনিক পুলিশ আরিফ তপাদার ও মামুন তপাদার নামে দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে উল্লেখিত ঘটনা প্রবাহ বের হয়ে আসবে বলে অনেকেই জানান। উল্লেখ্য গত ৪ জুলাই/২০১৯ইং বৃহস্পতিবার উপজেলার মূল পাড়া গ্রামের তপাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিন হানিফের মা খাদিজা বেগম ও বাবা লোকমান জানান, আমার ছেলেকে মারধরের সময় আমরা কেউ ঘরে ছিলামনা। তারা আরোও জানান, ছেলেকে ওরা ঘর থেকে তুলে নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে বেদড়ক মারধর করে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। এতে গুরুতর আহত হয় । তাৎক্ষনিক তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরিস্থিতি আশংকাজনক দেখে তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে পরামর্শ দিলে চাঁদপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় হানিফ ।


অপরদিকে আসামী পক্ষ আরিফের বাবা আয়ূব আলী বলেন, গত ৪ দিন আগে নিহত হানিফ তার অসহায় ও প্রতিবন্ধী চাচা ছলেমান কে পিটিয়ে মাথা ফাঁটিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া হাতপা বেঙ্গে দিয়েছে। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে আশংকাজনক অবস্থায় ভর্তি রয়েছে। চাচা ছলেমানকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে বাড়ির লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে হানিফকে পিটিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ হারুনুরশিদ জানান, আমার ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ এসেছে, কিন্তু হানিফ কোনভাবেই তোয়াক্কা করেনি। তাই কোন বিচার করতে পারিনি। আরোও জানান, অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে নিহত হানিফের বিরুদ্ধে।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নাছিরউদ্দিন জানান, ১৩ জনকে আসামী করে শুক্রবার থানায় মামলা করেছে নিহতের বোন।
ঘটনার বিষয়ে থানা ওসি আব্দুর রকিব জানান,থানা পুলিশ আরিফ ও মামুনকে আটক করেছে। আটককৃতদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে।

চাঁদপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
                                  

 চাঁদপুর সদর উপজেলার গুলিশা গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী বেবী বেগমকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার পর ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন খোরশেদ আলম পাটওয়ারী (৬০) নামে এক ব্যক্তি। গতকাল রোববার সকালে চাঁদপুর শহরের মিশন রোড এলাকায় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রামগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। এর আগে ভোরে স্ত্রী বেবীকে নিজ বসতঘরে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন খোরশেদ। হত্যার শিকার বেবী বেগম জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাঁসা গ্রামের শেখবাড়ীর মৃত আবুল হাশেম শেখের মেয়ে। বেবী-খোরশেদ দম্পতির তিন মেয়ে রয়েছে। তাদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। নিহত বেবী বেগমের ভাই মফিজুল ইসলাম জানান, সকালে তার বোন জামাই খোরশেদ আলম ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার করেছেন হাসপাতাল থেকে এমন খবর পেয়ে দ্রুত তারা খবরটি বোনকে জানাতে যান।

বাড়িতে গিয়ে দেখেন দরজায় তালা দেওয়া। পরে তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বেবীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। ঠিক কী কারণে এ ঘটানাটি ঘটেছে তার সঠিক কারণ জানাতে পারেননি নিহতদের পরিবারের সদস্যরা। তবে এলাকাবাসী জানিয়েছে প্রায়ই খোরশেদ আলম তার স্ত্রীকে মারধর করতেন। নিহত দম্পতির তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে তারা দু’জনেই থাকতেন। চাঁদপুর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আবদুর রব জানান, কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহ বলেই মনে হচ্ছে।

চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে বেবী এবং চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল থেকে খোরশেদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Pvu`cy‡i ¯¿x‡K nZ¨vi ci ¯^vgxi AvZ¥nZ¨v

GdGbGm: Pvu`cyi m`i Dc‡Rjvi ¸wjkv MÖv‡g cvwievwiK Kj‡ni †R‡i ¯¿x †eex †eMg‡K (45) Kzwc‡q nZ¨vi ci †Uª‡bi mvg‡b Svuc w`‡q AvZ¥nZ¨v K‡i‡Qb †Lvi‡k` Avjg cvUIqvix (60) bv‡g GK e¨w³| MZKvj †iveevi mKv‡j Pvu`cyi kn‡ii wgkb †ivW GjvKvq Pvu`cyi †_‡K †Q‡o hvIqv PÆMÖvgMvgx †gNbv G·‡cÖm †Uª‡bi mvg‡b Svuc w`‡q wZwb AvZ¥nZ¨v K‡ib| Gi Av‡M †fv‡i ¯¿x †eex‡K wbR emZN‡i nvZzwo w`‡q wcwU‡q Ges aviv‡jv A¯¿ w`‡q Kzwc‡q nZ¨v K‡ib †Lvi‡k`| nZ¨vi wkKvi †eex †eMg †Rjvi dwi`MÄ Dc‡Rjvi nvumv MÖv‡gi †kLevoxi g„Z Aveyj nv‡kg †k‡Li †g‡q| †eex-†Lvi‡k` `¤úwZi wZb †g‡q i‡q‡Q| Zv‡`i mevi we‡q n‡q †M‡Q| wbnZ †eex †eM‡gi fvB gwdRyj Bmjvg Rvbvb, mKv‡j Zvi †evb RvgvB †Lvi‡k` Avjg †Uª‡bi mvg‡b Svuc w`‡q AvZ¥nZ¨vi K‡i‡Qb nvmcvZvj †_‡K Ggb Lei †c‡q `ªæZ Zviv LeiwU †evb‡K Rvbv‡Z hvb| evwo‡Z wM‡q †`‡Lb `iRvq Zvjv †`Iqv| c‡i Zvjv †f‡O †fZ‡i Xz‡K †eexi i³v³ gi‡`n †`L‡Z cvb| wVK Kx Kvi‡Y G NUvbvwU N‡U‡Q Zvi mwVK KviY Rvbv‡Z cv‡ibwb wbnZ‡`i cwiev‡ii m`m¨iv| Z‡e GjvKvevmx Rvwb‡q‡Q cÖvqB †Lvi‡k` Avjg Zvi ¯¿x‡K gviai Ki‡Zb| wbnZ `¤úwZi wZb †g‡qi we‡q n‡q hvIqvq evwo‡Z Zviv `yÕR‡bB _vK‡Zb| Pvu`cyi g‡Wj _vbvi cywjk cwi`k©K Ave`yi ie Rvbvb, Kx Kvi‡Y Ggb NUbv N‡U‡Q Zv LwZ‡q †`Lv n‡”Q| Z‡e cÖv_wgKfv‡e cvwievwiK Kjn e‡jB g‡b n‡”Q|

Pvu`cyi g‡Wj _vbvi fvicÖvß Kg©KZ©v (Iwm) †gv. bvwmg DwÏb e‡jb, Lei †c‡q `ycy‡i NUbv¯’j †_‡K †eex Ges Pvu`cyi miKvwi †Rbv‡ij nvmcvZvj †_‡K †Lvi‡k‡`i gi‡`n D×vi Kiv n‡q‡Q| Z`šÍ †k‡l AvBbvbyM e¨e¯’v †bIqv n‡e|

 

পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু
                                  

 পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে পাবনার বেড়া উপজেলায় একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজন। সুনামগঞ্জের তাহেরপুর উপজেলায় বাবা ও ছেলেসহ দু’জন। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় তিনজন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় একজন ও ফুলপুর উপজেলায় দু’জন। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় একজন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
সুনামগঞ্জ: সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বৌলাই নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- মৃত মিরাজ আলীর ছেলে হারিদুল (৪৫) ও তার ছেলে তারা মিয়া (১০)। তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


পাবনা: দুপুরে পাবনার বেড়া উপজেলায় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- বেড়া উপজেলার চাকলা ইউনিয়নের পাচুরিয়া গ্রামের কৃষক মোতালিব সরদার (৫০), তার দুই ছেলে শরিফ সরদার (১৭) ও ফরিদ সরদার (২০) এবং প্রতিবেশী রহম প্রামানিক (৬০)। পাবনা বেড়া থানার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আরিফুল ইসলাম জানান, দুপুরের দিকে বেড়া উপজেলার পাঁচুরিয়া গ্রামে একটি পুকুরে পাট পরিষ্কার করার সময় বজ্রপাতে একই পরিবারের তিনজনসহ মোট চারজনের মৃত্যু হয়েছে।


রাজশাহী: বিকেলে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় বজ্রপাতে দুরুল হুদা (৫৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। মাটিকাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আজম বলেন, সকালে মাঠে ধান লাগানোর কাজে যান দুরুল। বিকেলে হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ বাড়িতে নিয়ে যান।


ময়মনসিংহ: দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় বজ্রপাতে চৈইত কোচ (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ফুলবাড়িয়া উপজেলার বড়বিলা বিলে চৈইত ও তার বড় ভাই মনু বর্মন মাছ শিকার করছিল। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই চৈইতের মৃত্যু হয়। এ সময় মনু আহত হয়েছেন। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিকে, দুপুরে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় কৃষকসহ দু’জন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- জামাল উদ্দিন (৪০) ও সোহাগ মিয়া (২৪)। স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরে কৃষক জামাল ধানের চারা নিয়ে ফসলের মাঠে যাওয়ার সময় এবং সোহাগ মিয়া নিজের হাঁসের খামারে খাবার দিতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তারা মারা যান। ফুলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেবুন্নাহার শাম্মী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


চুয়াডাঙ্গা: বিকেলে চুয়াডাঙ্গার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় বজ্রপাতে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তারা সবাই ট্রাকে কলা বোঝাই করছিলেন বলে জানা গেছে। নিহতরা হলেন- আলফাডাঙ্গা উপজেলার মেহেরপুরের বারাদি ইউনিয়নের মকবুলের ছেলে আল আমিন (৩০), গোলাম রসুলের ছেলে হুদা (৩২) ও মো. বরকতের ছেলে হামিদুল (৩৫)। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক সোনিয়া আহমেদ বলেন, বজ্রপাতে গুরুতর আহত তিনজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।

নীলফামারীতে ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি
                                  

 নীলফামারীতে তিস্তা অববাহিকায় গত শুক্রবার রাত থেকে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। উজানের ধেয়ে আসা ঢলে প্রচন্ড ¯্রােতে কাঁপছে তিস্তাপাড়। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় তিস্তা নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল ৯ টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে তিস্তা অববাহিকায় গত শুক্রবার রাতেই রেড এলার্ট জারি করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। তিস্তাপাড়ের লোকজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে রাতব্যাপী মাইকিং করেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে সময়ের সাথে সাথে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার ১৮টি চর গ্রামের ২০ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা প্রশাসনের সুত্রমতে, তিস্তা নদীর বন্যা ভয়াবহ ধারণ করায় নদীর চর গ্রামে বসবাসকৃত পরিবারের সদস্যদের সরকারি নৌকায় তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করা হয়েছে। সব ইউপি চেয়ারম্যান তিস্তার উজান ও ভাটিতে নদীর ভেতরে বসবাস পরিবারগুলো নিরাপদ ও উঁচু স্থানে নিয়ে আসার জন্য ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন শুকনো খাবার প্রস্তুত করেছে। জেলা প্রমাসকের কার্যালয় হতে তিস্তার বন্যায় ডিমলা উপজেলায় প্রাথমিকভাবে ৫০ মেট্রিক টন চাল, ৫০ হাজার টাকা ও ৫০০ প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কাবস্থায় রয়েছে জেলা প্রশাসন বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্র সূত্র তিস্তায় ভয়াবহ বন্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, বৃহস্পতিবার তিস্তার পানি দুই দফায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭ ও ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত শুক্রবার তিস্তা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পায়।

সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ২৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু গত শুক্রবার রাত ৯ টায় আরও ১২ সেন্টিমিটার বেড়ে গিয়ে ৪৫ সেন্টিমিটার (৫২.৯৫) উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। গতকাল শনিবার সকাল ৯ টায় (৫৩.০৮) ৪৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। এর ফলে রাতেই রেড এলার্ট জারি করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। উজানের ঢল সামাল দিতে খুলে রাখা হয়েছে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট। ফলে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার তিস্তা অববাহিকার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ি, শৌলমারী ও কৈমারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার ২০ টি গ্রামের ২০ হাজার পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। ওইসব এলাকার ইউপি চেয়ারম্যানদের দাবী বর্তমানে তিস্তার হিং¯্ররূপ এলাকাবাসীকে আতঙ্কগ্রস্ত করে তুলেছে। এ ছাড়া তিস্তা বিপদসীমায় অনেক উপরে চলে যাওয়া নদীর বিভিন্ন স্থানের বাঁধে আঘাত করছে। ফলে বাঁধগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, উজানের ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা ভয়াবহ রপ ধারন করেছে। নদীর পানি বিদসীমার ৪৮ সেমি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা অববাহিকায় রেড এলার্ট জারি করে মানুষজনকে নিরাপদে সরে নেয়ার কাজ শুর হয়েছে। উজানের ঢল অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে।

 

ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
                                  

 সমাজের সকল স্তরে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ রোববার জেলা প্রশাসকদের বার্ষিক সম্মেলন শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অধিবেশনের পরে প্রধানমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন। পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলন শেষ হবে ১৮ জুলাই। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, জেলা প্রশাসক এবং বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশনা প্রদানে বিভিন্ন অধিবেশনে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী এবং সচিবগণ অংশ নেবেন।

কর্ম অধিবেশনগুলো সচিবালয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রী পরিষদ সচিব। এ বছরের ডিসি সম্মেলনে মোট ২৯টি সেশন হবে এবং সম্মেলনে ৩৩৩টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। আইন-শৃংখলা,ভূমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান,স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের কার্যক্রম জোরদার,দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য দূরীকরণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসকরা ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবগণের সঙ্গে ৬টি কর্ম অধিবেশনে যোগ দেবেন।

এইদিন বিকেলে জেলা প্রশাসকগণ রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ১৬ জুলাই ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবগণের সঙ্গে ৫টি অধিবেশনে অংশ নেবেন। এইদিন বিকালে ডিসিগণ প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ১৭ জুলাই ৮টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মন্ত্রী ও সচিবগণের সঙ্গে বৈঠক হবে। ১৮ জুলাই সমাপনী দিনে ৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ৪টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে ডিসি সম্মেলন শেষ হবে।

 

এক সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ
                                  

 গাইবান্ধা থেকে গতকাল শুক্রবারও ঢাকাগামী কোনো বাস ছেড়ে যায়নি; ফলে ঢাকাগামী যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে বাস মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে গত শনিবার সকাল থেকে গাইবান্ধা-ঢাকা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাস মালিক ও বাস স্টাফদের অভিযোগ, মালিক সমিতির নামে গাইবান্ধায় শ্রমিক ইউনিয়ন ঢাকাগামী প্রতিটি চেয়ার কোচ বাস থেকে ৪৪০ টাকা করে আদায় করছে; যেখানে ৩৬০ টাকা করে নেওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া পথে জেলার পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জে শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা নানা কারণে বাসের স্টাফদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে থাকেন। এর প্রতিবাদে পরিবহন মালিকরা বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ সকল রুটে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ স ম রুহুল হক নান্নু বলেন, মোটর শ্রমিক সংগঠনের মহাসড়কে চাঁদাবাজি ও বর্ধিত হারে চাঁদা আদায় বন্ধ, সড়কে যানবাহনের নিরাপত্তা বিধানসহ অন্যান্য বিষয়ে নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে বলে ঢাকা বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার গাইবান্ধা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ঢাকাগামী সকল বাস টার্মিনালে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। টিকিট কাউন্টারগুলোও ফাঁকা।

এদিকে ঢাকামুখী বাস বন্ধ থাকায় এ রুটে চলাচলকারী ট্রেনের উপর চাপ বেড়েছে। অনেকে গাইবান্ধা থেকে লোকাল বাস ও অটোরিকশা করে ১৯ কিলোমিটার দুরে পলাশবাড়ী উপজেলা শহরে গিয়ে রংপুর, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী বাসে করে ঢাকা যাচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন কাউন্টারের ম্যানেজার বলেন, শ্রমিক ইউনিয়ন দ্বিগুন চাঁদা দাবি করছে। তাই বাধ্য হয়ে পরিবহন মালিকরা গাড়ি চালানো বন্ধ রেখেছে।

এসআর পরিবহনের বাস চালক মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা বাস চালালে টাকা পাই। আমি সাত দিন ধরে গাইবান্ধায় বসে আছি। পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতে পারছি না। তারা কষ্টে আছে। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, গাইবান্ধার পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের অভিযোগ, ঢাকার বাস মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের বাস চালাতে দিচ্ছে না। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

 

লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু
                                  

 লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সড়কে পড়ে থাকা বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে কাজল হোসেন (১২) নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুর মুত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে উপজেলার ৩নং চরমোহনা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রৌসন আলী বেপারী বাড়ির সামনের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। কাজল একই এলাকার দুলাল মিয়ার ছেলে ও সে জন্ম থেকে মানসিক প্রতিবন্ধী ছিলো। স্থানীয়রা জানায়, তিন মাস আগ থেকে রায়পুর পল্লী বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ করে লাইন দিয়া হয় ৩নং চরমোহনা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের রৌসন আলী বেপারী বাড়ির সামনের ঘুটিতে। গতকাল শুক্রবার সকালে তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বিদ্যুতের ওই ছেঁড়া তারে জড়িয়ে প্রতিবন্ধী কাজলের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর জন্য নিহতের স্বজনরা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।

এ ব্যাপারে চরমোহনা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সফিক পাঠান জানান, রায়পুর পল্লীবিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্তব্যে অবহেলার কারণেই সড়কে পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে কাজল মারা যায়। তাদের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া এলাকাবাসী তাকে জানান, এ ছেঁড়া তাদের বিষয়টি তাৎক্ষনিক রাখালিয়া পল্লীবিদ্যুৎ অভিযোগ কেন্দ্রে অভিযোগ করা হয়। এরপর তার বিদু্যুৎ বন্দসহ তার না সরানোর কারণে এ দুর্ঘটনা হয়। রায়পুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির (ডিজিএম) শেখ মোনোয়ার মোর্শেদ জানান,, সকালে প্রচুর বাতাসের কারণে সড়কে বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে থাকা তার ছিঁড়ে যায়। ওই তারে জড়িয়ে এক শিশু মারা গেছে। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ছিঁড়া তাঁরের বিষয় কেউ তাকে কোন অভিযোগ করেনি। বিদ্যুৎ কর্মচারীদের কর্তব্যে অবহেলার কারণে হয়েছে অভিযোগটি সঠিক নয়। হয়ে থাকলে ক্ষতিয়ে দেখা দেখা হবে।

রায়পুর থানার ওসি তোতা মিয়া জানান, সকালে রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের রৌসন আলী বেপারী বাড়ির সামনে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে কাজল হোসেন (১২) নামের এক প্রতিবন্ধী শিশুর মুত্যু হয়। বিষয়টি তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যান থেকে শুনেছেন। এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। করলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কক্সবাজার সৈকত থেকে আরও ৫ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার
                                  

ঝড়ের কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে আরও পাঁচ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গত তিন দিনে মৃতদেহ উদ্ধারের সংখ্যা ১১জনে দাঁড়িয়েছে। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোছাইন জানিয়েছেন, সাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনায় এসব জেলের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে ও গতকাল শুক্রবার ভোরে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন জায়গা থেকে জেলেদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে হিমছড়ি থেকে একজন, মহেশখালীর হোয়ানক থেকে একজন এবং ওইদিন রাত ১০টা থেকে গতকাল শুক্রবার ভোররাত পর্যন্ত কক্সবাজার সৈকতের সমিতি পাড়া থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে বুধবার সকালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সি-গাল পয়েন্ট থেকে মাছ ধরার একটি ট্রলার উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সেই সাথে ছয় জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রলার থেকে আরো দুই জেলেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. খায়রুজ্জামান জানান, উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে ছয় জনের পরিচয় মিলেছে। তারা হচ্ছেন- ভোলার চরফ্যাশনের পূর্ব মাদ্রাসা এলাকার তরিফ মাঝির ছেলে কামাল হোসেন (৩৫), চরফ্যাশনের উত্তর মাদ্রাসা এলাকার নুরু মাঝির ছেলে অলি উল্লাহ (৪০), একই এলাকার ফজু হাওলাদারের ছেলে অজি উল্লাহ (৩৫), মৃত আবদুল হকের ছেলে মো. মাসুদ (৩৮), শহিদুল ইসলামের ছেলে বাবুল মিয়া (৩০) ও নজিব ইসলামের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৩২)। অপর পাঁচজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শনাক্ত হওয়া ছয়জনের মৃতদেহ স্বজনের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ট্রলারের মালিক ভোলার চরফ্যাশন এলাকার ওয়াজ উদ্দিন। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার দুইজন এখনও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার হওয়া মনির আহমদ মাঝি জানান, গত ৪ জুলাই ভোলার চরফ্যাশনের শামরাজ ঘাট থেকে তারা মাছ ধরার জন্য সাগরে পাড়ি দেয়। মোট ১৪ জন জেলে ওই ট্রলারে ছিলেন। ট্রলারটি গত ৬ জুলাই ভোরে হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে।

তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৩ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত পানিবন্দি ৩০ হাজার পরিবার
                                  

সাইফুল ইসলাম জাহাঙ্গীরঃ

গত এক সপ্তাহ ধরে টানা বর্ষন আর উজান থেকে নেমেআসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার বিপদ সীমার ২৩ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত করছে। পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হচ্ছে। তিস্তায় পানি বাড়ায় রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলায় নদী তীরবর্তী ও চরাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে পানি ঢুকে পড়ায় বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে তিস্তার তীরবর্তী ও চরাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।কাউনিয়া উপজেলা টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তিস্তা পানি হঠাৎ করে বাড়ছে। এতে ইউপির বিশ্বনাথ, চরগনাই, হয়বৎখা ও বালাপাড়া ইউপির ঢুষমারা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে। তিনি আরো বলেন শুক্রবার সকালে নদীর তীরবর্তী ১০ গ্রামের হাজারও পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। কাউনিয়ার ইউএনও মোছা. উলফৎ আরা বেগম বলেন, বন্যায় পানিবন্দী মানুষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সার্বক্ষনিক খোঁজ রাখছি। বন্যার ব্যাপারে সরকারিভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে।

জরুরী অবস্থায় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তা বেষ্টিত ইউনিয়নগুলোর চর এলাকাসহ নি¤œাঞ্চল তলিয়ে গিয়ে ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে পুকুর, মৎস খামারে মাছ, বিভিন্ন আবাদী ফসল তলিয়ে গেছে। গবাদি পশু পাখি ও ছোট শিশু এবং বৃদ্ধ মানুষ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারের প্রধান নারী-পুরুষরা।

বিশুদ্ধ পানি ও রান্নাকৃত খাবার সমস্যা কারণে অনেকে শুকনো খাবার, আবার কেউ আত্বীয়দের দেওয়া খাবার খাচ্ছে। শুধু এসব সমস্যা নয়, ঘুমানোসহ প্রসাব-পায়খানার সমস্যায় পড়েছে পানিবন্দি মানুষগুলো। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উঠেছে পানি। পানিবন্দি মানুষগুলো ভেলায় চলাচল করছে। লক্ষীটারী ইউনিয়নের পানিবন্দি এলাকা বৃহস্পতিবার পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক আসিব আহসান। তিনি দ্রুত এসব মানুষকে সহায়তার আস্বাস দেন। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, কোলকোন্দ ইউনিয়নে পশ্চিম চিলাখাল চর, চিলাখালচর, মটুকপুরচর, খলাইরচর, বিনানিবা চর, সাউদপাড়া বাঁধের ধার, উত্তর কোলকোন্দ বাঁধের ধার, কুড়িবিশ্বা বাঁধের ধারসহ নি¤œাঞ্চলের ১ হাজার ৫’শ পরিবার, মর্নেয়া ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নি¤œ এলাকার ১ হাজার পরিবার, লক্ষীটারীর বাঘের হাট, টাউরাশের চর, ইশরকুলচর, কলাগাছি চর ও বাঁধের ৮’শ পরিবার, নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, বাঘডোহরা চর ৭ ও ৮ নং ওর্য়াড, বৈরাতি বাঁধের ধারের ৫’শ পরিবার, আলমবিদিতরের হাজীপাড়া, ব্যাংকপাড়া ও বাঁধের ধারের ৩’শ পরিবার, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের ধামুর, বোল্লার পাড় ও গান্নার পাড় বাঁধের ধারের ৪’শ পরিবার এবং গজঘন্টা ইউনিয়নের চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের ৫’শ পরিবার পানিবন্দি হয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বিভিন্ন ইউনিয়নে পানিবন্দি ৮’শ ৫০ জনের মাঝে চিড়া, মুড়ি, গুড়, দেশলাই, মোমবাত শুক্রবার বিতরণ করা হয়েছে।পীরগাছা উপজেলার ছাওলা,তামম্বুলপুর ইউনিয়নের চলগুলোতে ১ হাজার মানুষ পান্দিবন্দি হয়ে পড়েছে।

অনেক জায়গায় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার বিকেলে ৩ টার দিকে কাউনিয়া পয়েন্টে ৫৫ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছে । যা বিপদ সীমার ২৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি বলেন তিস্তার নিম্নাঞ্চলের এলাকা গুলোতে পানি প্রবেশ করছে। বাঁেধ আ¤্রতি দের অনত্র সরে যেতে বলা হয়েছে।


   Page 1 of 383
     সারাদেশ
ঝিনাইদহে বজ্রপাতে বাবা-ছেলে নিহত
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে ফেইসবুকে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ায় এক যুবক শ্রীঘরে !
.............................................................................................
গাইবান্ধায় বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ভেঙে চার উপজেলায় ১৫৪ গ্রাম প্লাবিত
.............................................................................................
পাবনায় যমুনা নদীতে ভাসমান অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
বরিশালে বেড়েই চলেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা, ১৫ দিনে ১২ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
বরিশালে বেড়েই চলেছে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃতের সংখ্যা, ১৫ দিনে ১২ জনের প্রাণহানি
.............................................................................................
চট্টগ্রামে আদালতে ভাইকে ইয়াবা দিতে গিয়ে ধরা
.............................................................................................
গণ পিটুনি, নাকি হানিফের বাবার খাওয়ানো অতিমাত্রার ঔষুধ !
.............................................................................................
চাঁদপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
.............................................................................................
পাঁচ জেলায় বজ্রপাতে ১৩ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
নীলফামারীতে ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি
.............................................................................................
ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
.............................................................................................
এক সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ
.............................................................................................
লক্ষ্মীপুরে বিদ্যুতের ছেঁড়া তারে জড়িয়ে প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু
.............................................................................................
কক্সবাজার সৈকত থেকে আরও ৫ জেলের মৃতদেহ উদ্ধার
.............................................................................................
তিস্তার পানি বিপদ সীমার ২৩ সেঃমিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত পানিবন্দি ৩০ হাজার পরিবার
.............................................................................................
কোন প্রকার ঘুষ ছাড়াই রংপুরে ২৮৬ জনকে পুলিশে চাকরি
.............................................................................................
পানি বেড়ে গিয়ে সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণার দুই শতাধিক স্কুলে পাঠদান বন্ধ
.............................................................................................
নির্মাণের ১৩ বছরেও চালু হয়নি ঝিনাইদহ শিশু হাসপাতাল
.............................................................................................
ঝিনাইদহে গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে হানিফ হত্যার রহস্য !
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত
.............................................................................................
আরও একবছর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত থাকছেন জিয়াউদ্দিন
.............................................................................................
সুনামগঞ্জে বজ্রপাতে বাবা-ছেলের মৃত্যু
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে জাতির পিতা ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা, মিছিল বিক্ষোভ স্বারকলিপি পেশ
.............................................................................................
পানি কমতে থাকায় যমুনা নদীতে ব্যাপক ভাঙ্গন
.............................................................................................
বান্দরবানে পাহাড় ধসে ২ উপজেলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
.............................................................................................
টানা ভারীবর্ষণে চট্টগ্রামে সড়ক ও ভবনের নীচতলা নিমজ্জিত
.............................................................................................
রাতের আঁধারে বৃষ্টিতেই শেষ ৩১৬ কোটি টাকার কাজ
.............................................................................................
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে করতে ২০ সুপারিশ যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের
.............................................................................................
বরিশাল মেডিকেলে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধারা, বরাদ্দের অর্থ ফেরত যাচ্ছে
.............................................................................................
রাজশাহীতে পদ্মায় বাড়ছে পানি, ভাঙছে পাড়
.............................................................................................
নাটোরে ছিনতাইকারীর গুলিতে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
.............................................................................................
স্বেচ্ছায় জমি ও মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করলো এলাকাবাসী
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে ডাকাতদের হামলায় আহত ১
.............................................................................................
শেরপুরে বিধ্বস্তের ৩১ বছরেও সংস্কার হয়নি ব্রীজ ও সুইস গেইট
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মায়ের মৃত্যু
.............................................................................................
চট্টগ্রামে সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাল উদ্ধারে অভিযান শুরু
.............................................................................................
নীলফামারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে শ্রমিকের মৃত্যু
.............................................................................................
গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ
.............................................................................................
বিয়েতে রাজী না হওয়ায় মা মেয়েকে কুপিয়েছে বখাটে
.............................................................................................
দিনাজপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
.............................................................................................
রিফাত হত্যার আসামি নয়ন বন্ড বন্দুকযুদ্ধে নিহত
.............................................................................................
লক্ষ্মীপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
.............................................................................................
ফরিদপুরে নিখোঁজের ৩দিন পর লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
বাগেরহাটে ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা
.............................................................................................
সুন্দরবনে দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ
.............................................................................................
চট্টগ্রামে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত ২
.............................................................................................
ব্যক্তিমালিকানাধীন বসতভিটার উপর দিয়ে পিচ ঢালাই করে সড়ক নির্মাণ
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে রুপসা দক্ষিন ইউনিয়নের ১১২ জন গরিব মানুষের সঞ্চিত টাকা পাচ্ছে না!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]