| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   বিবিধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ট্রেন পরিচালনার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ

 বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালানোর চুক্তি না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অর্ধশতাধিক ট্রেনের লিজ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ওসব ট্রেনের কোনো কোনোটি ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। অথচ সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনায় স্বাক্ষরিত চুক্তির নবায়ন না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণের আগে লিজ নবায়নকৃত ট্রেনের তালিকা দিতে সুপারিশ করা হয়। ওই পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন ধরনের ট্রেন পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মূল চুক্তির পর বছরে ১০ শতাংশ লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি সাপেক্ষে সংশোধিত চুক্তি করা হয়েছে। আর মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংশোধিত ও বিদ্যমান ওসব চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর নবায়ন করা হবে না। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ৫৫টি ট্রিপের (প্রত্যেকটি ট্রিপকে একটি ট্রেন হিসেবে ধরে) লিজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে রেলওয়ে খাতে প্রতি বছর বিপুল লোকসান হয়। তবে বেসরকারি খাতের ট্রেন পরিচালনাকারীরা বিপুল মুনাফা করছে। ওই কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ট্রেন পরিচালনার ব্যাপক আগ্রহী। শুধুমাত্র তদারকি জোরদারের মাধ্যমেই আয় বাড়িয়েছে লিজ নেয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তঃনগর বাদে বেসরকারি খাতে এখন ৭৩টি লোকাল ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া ওসব ট্রেন থেকে লিজগ্রহীতারা বিপুল অর্থ আয় করছে। কিন্তু লিজ প্রদানের সময় চুক্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আরোপিত শর্তের অধিকাংশই লিজগ্রহীতার পক্ষে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার।


সূত্র জানায়, ঈশ্বরদী-ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৫৫১/৫ ও ৬/৫৫৪ রাজশাহী কমিউটার ও লোকাল ট্রেনগুলো ২০১৩ সালে লিজ দেয়া হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০১৭ সাল পর্যন্ত। কিন্তু দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ মে। বিগত ২০১১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ২১১-২২২ ও ২২৫-২৩৮ লোকাল ট্রেন প্রথম লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২১ সালের জুনে ওই লিজের মেয়াদ শেষ হবে। একইভাবে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে ৫১/৫২ জামালপুর কমিউটার ট্রেন ২০১১ সালে লিজ দেয়া হয়। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ মে। ঢাকা-আখাউড়া-ঢাকা ও ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা রুটে ৩৩/৩৬, ৩৪/৩৫ তিতাস কমিউটার ট্রেন ২০১৫ সালে লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওসব ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা ও ঢাকা-ঝারিয়াঝাঞ্জাইল-ঢাকা রুটে ৪৯/৫০ নং বলাকা কমিউটার ট্রেনের তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে। তাছাড়া ২০১৬ সালে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৪৭/৪৮ নং দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনগুলো লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২২ সালের এপ্রিলে ওসব ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে। তিন দফায় বাড়ানোর পর ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৪৩/৪৪ নং মহুয়া কমিউটার ট্রেনগুলোর লিজের মেয়াদ ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হবে।


সূত্র আরো জানায়, লিজের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানোর পর খুলনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর রুটে চলাচলকারী ১৫/৫৮৫/১৬ নং ট্রেনগুলোর মেয়াদ ২০২২ সালে মে মাসে শেষ হবে। একইভাবে দুই দফা বাড়ানোর পর খুলনা-গোয়ালন্দঘাট-খুলনা রুটে চলাচলকারী ২৫/২৬ নং নকশীকাঁথা এক্সপ্রেসের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হবে। তাছাড়া খুলনা-পার্বতীপুর-খুলনা ও পার্বতীপুর-চিলাহাটি-পার্বতীপুর রুটে চলাচলকারী ২৩/২৪ নং রকেট মেইল ও ২৭/২৮ নং চিলাহাটি এক্সপ্রেসের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হবে। তাছাড়া তিন দফা বাড়ানোর পর চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ২৯/৩০ নং সাগরিকা কমিউটার ট্রেনগুলোর লিজের মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।
এদিকে আগামী বছরের পর থেকে এভাবে আর কোনো ট্রেন লিজ না দেয়ার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী জানান, ২০২০ সালের পর থেকে আর কোনো ট্রেন লিজ না দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব জনবল দিয়ে রেল পরিচালনার বিষয়েও সুপারিশ করেছে কমিটি।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ট্রেন পরিচালনার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ
                                  

 বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন চালানোর চুক্তি না বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে উল্টো। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অর্ধশতাধিক ট্রেনের লিজ চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ওসব ট্রেনের কোনো কোনোটি ২০২৫ সাল পর্যন্ত বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে। অথচ সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকেও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ট্রেন পরিচালনায় স্বাক্ষরিত চুক্তির নবায়ন না করা ও মেয়াদ উত্তীর্ণের আগে লিজ নবায়নকৃত ট্রেনের তালিকা দিতে সুপারিশ করা হয়। ওই পরিপ্রেক্ষিতে রেলপথ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটিতে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন ধরনের ট্রেন পরিচালনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মূল চুক্তির পর বছরে ১০ শতাংশ লাইসেন্স ফি বৃদ্ধি সাপেক্ষে সংশোধিত চুক্তি করা হয়েছে। আর মেয়াদ বৃদ্ধিসংক্রান্ত সংশোধিত ও বিদ্যমান ওসব চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে আর নবায়ন করা হবে না। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার আগেই ৫৫টি ট্রিপের (প্রত্যেকটি ট্রিপকে একটি ট্রেন হিসেবে ধরে) লিজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, অদক্ষতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে রেলওয়ে খাতে প্রতি বছর বিপুল লোকসান হয়। তবে বেসরকারি খাতের ট্রেন পরিচালনাকারীরা বিপুল মুনাফা করছে। ওই কারণে বেসরকারি উদ্যোক্তারা ট্রেন পরিচালনার ব্যাপক আগ্রহী। শুধুমাত্র তদারকি জোরদারের মাধ্যমেই আয় বাড়িয়েছে লিজ নেয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তঃনগর বাদে বেসরকারি খাতে এখন ৭৩টি লোকাল ট্রেন পরিচালিত হচ্ছে। বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া ওসব ট্রেন থেকে লিজগ্রহীতারা বিপুল অর্থ আয় করছে। কিন্তু লিজ প্রদানের সময় চুক্তিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আরোপিত শর্তের অধিকাংশই লিজগ্রহীতার পক্ষে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকার।


সূত্র জানায়, ঈশ্বরদী-ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে চলাচলকারী ৫৫১/৫ ও ৬/৫৫৪ রাজশাহী কমিউটার ও লোকাল ট্রেনগুলো ২০১৩ সালে লিজ দেয়া হয়। যার মেয়াদ ছিল ২০১৭ সাল পর্যন্ত। কিন্তু দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ মে। বিগত ২০১১ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ২১১-২২২ ও ২২৫-২৩৮ লোকাল ট্রেন প্রথম লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২১ সালের জুনে ওই লিজের মেয়াদ শেষ হবে। একইভাবে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে ৫১/৫২ জামালপুর কমিউটার ট্রেন ২০১১ সালে লিজ দেয়া হয়। দুই দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২১ সালের ৩১ মে। ঢাকা-আখাউড়া-ঢাকা ও ঢাকা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া-ঢাকা রুটে ৩৩/৩৬, ৩৪/৩৫ তিতাস কমিউটার ট্রেন ২০১৫ সালে লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ওসব ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ-ঢাকা ও ঢাকা-ঝারিয়াঝাঞ্জাইল-ঢাকা রুটে ৪৯/৫০ নং বলাকা কমিউটার ট্রেনের তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হবে। তাছাড়া ২০১৬ সালে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৪৭/৪৮ নং দেওয়ানগঞ্জ কমিউটার ট্রেনগুলো লিজ দেয়া হয়। তিন দফা মেয়াদ বাড়ানোর পর ২০২২ সালের এপ্রিলে ওসব ট্রেনের লিজের মেয়াদ শেষ হবে। তিন দফায় বাড়ানোর পর ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ৪৩/৪৪ নং মহুয়া কমিউটার ট্রেনগুলোর লিজের মেয়াদ ২০২৪ সালের এপ্রিলে শেষ হবে।


সূত্র আরো জানায়, লিজের মেয়াদ দুই দফা বাড়ানোর পর খুলনা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ-রহনপুর রুটে চলাচলকারী ১৫/৫৮৫/১৬ নং ট্রেনগুলোর মেয়াদ ২০২২ সালে মে মাসে শেষ হবে। একইভাবে দুই দফা বাড়ানোর পর খুলনা-গোয়ালন্দঘাট-খুলনা রুটে চলাচলকারী ২৫/২৬ নং নকশীকাঁথা এক্সপ্রেসের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হবে। তাছাড়া খুলনা-পার্বতীপুর-খুলনা ও পার্বতীপুর-চিলাহাটি-পার্বতীপুর রুটে চলাচলকারী ২৩/২৪ নং রকেট মেইল ও ২৭/২৮ নং চিলাহাটি এক্সপ্রেসের লিজের মেয়াদ ২০২২ সালের মে মাসে শেষ হবে। তাছাড়া তিন দফা বাড়ানোর পর চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী ২৯/৩০ নং সাগরিকা কমিউটার ট্রেনগুলোর লিজের মেয়াদ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে।
এদিকে আগামী বছরের পর থেকে এভাবে আর কোনো ট্রেন লিজ না দেয়ার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। রেলপথ মন্ত্রণালয় সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী জানান, ২০২০ সালের পর থেকে আর কোনো ট্রেন লিজ না দেয়ার বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে। তাছাড়া রেলওয়ের নিজস্ব জনবল দিয়ে রেল পরিচালনার বিষয়েও সুপারিশ করেছে কমিটি।

দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করছে সরকার
                                  

 সরকার দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নতুন আইন করছে। আর নতুন আইনে এদেশে কর্মরত এনজিওগুলোকে নতুন করে নিবন্ধন নিতে হবে। কারণ প্রস্তাবিত স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইনে যে কোনো এনজিওকেই প্রতি পাঁচ বছর পর পর নিবন্ধন নবায়ন করার বিধান রাখা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকার কোনো এনজিওর কার্যক্রমে সন্তুষ্ট না হলে নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। তাছাড়া খসড়া আইন অনুযায়ী সরকারি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের শর্তের খেলাপ বা আর্থিক অনিয়ম, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী কাজের কারণে সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটি স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ দিতে পারবে। খসড়া আইনের ১৪ ধারার (খ) উপধারা অনুযায়ী অনুমোদিত সব সংস্থার প্রত্যেক তিন মাসের ব্যাংক হিসাব স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে দিতে হবে। তবে আইনের ২৩ ধারা অনুযায়ী সরকার চাইলে যেকোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ বিষয়ে দায়মুক্তি দিতে পারবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থাসমূহ (রেজিস্ট্রেশন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১’-এর পরিবর্তে নতুন আইন করার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারের এ উদ্যোগে এনজিওসংশ্লিষ্ট কারো কারোর ধারণা, সরকার বিদেশি অনুদাননির্ভর সংস্থাগুলোর পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ নিতেই আইনে এমন বিধান রাখছে। বর্তমানে এদেশে আড়াই হাজারের মতো বিদেশি অনুদাননির্ভর এনজিও রয়েছে। তাছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনেও দেশি লক্ষাধিক এনজিও রয়েছে। এনজিও সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ বলছেন, নতুন করে নিবন্ধন নিতে গেলে বিদেশি সহায়তাপুষ্ট অনেক এনজিওকে ঝামেলা পোহাতে হবে।


সূত্র জানায়, উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন সামরিক সরকারের আমলের অধ্যাদেশগুলোকে আইনে পরিণত করছে সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় সরকার সময়ের সঙ্গে সংগতি এবং ভবিষ্যতের বিষয়গুলো মাথায় রেখে নতুন আইনটি করতে যাচ্ছে। আর খসড়া আইনের ৪ ধারার ৩ উপ-ধারায় বলা হয়েছে, ‘পূর্ব হইতে বিদ্যমান কোনো সংস্থা এই আইন কার্যকর হইবার তারিখ হইতে এক বৎসরের অধিককাল চালু রাখা যাইবে না, যদি না উক্ত তারিখ হইতে ৩০ দিবসের মধ্যে ৫(১) উপধারা অনুযায়ী উহার নামের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা না হইয়া থাকে।’ ৫ ধারার ১ উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি বা সমষ্টি কোনো সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলে বা কোনো বা আগে প্রতিষ্ঠিত অনুরূপ কোনো সংস্থা চালু রাখতে ইচ্ছা করলে তাকে বা তাদেরকে নির্ধারিত পদ্ধতিতে নামের ছাড়পত্র গ্রহণের জন্য নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করতে হবে।’ খসড়া আইন অনুযায়ী প্রত্যেক সংগঠনকে নিবন্ধন পাওয়ার প্রতি পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ৩ মাস আগে নিবন্ধন নবায়নের জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। খসড়া আইনের ১১ ধারার (গ) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজনে তদন্ত সম্পন্ন করিয়া নিবন্ধন নবায়ন করিবেন বা সংগত কারণ লিপিবদ্ধ করিয়া আবেদন প্রত্যাখ্যান করিতে পারিবেন।’ তাছাড়া খসড়া আইনের ৮ ও ৯ ধারায় উল্লেখ আছে, অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কার্যনির্বাহী পরিষদ ও গঠনতন্ত্রের অনুমোদন না নিলে এগুলো কার্যকর হবে না। এর ১৬ ধারায় বলা হয়েছে, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের শর্তের খেলাপ বা আর্থিক অনিয়ম, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, সংবিধান ও আইনের পরিপন্থী কাজের কারণে সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটিকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। কোনো সংস্থা নিজেকে বিলুপ্ত ঘোষণা করত চাইলে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে। সরকার সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিলুপ্তির কারণ খতিয়ে দেখে যদি দায়দেনা থাকে তাহলে সেগুলো পরিশোধের নির্দেশ দেবে।


এদিকে নতুন আইন প্রসঙ্গে বাংলাদেশ এনজিও ফোরামের সাবেক ব্যবস্থাপক (অ্যাডভোকেসি ও তত্ত্ব) সাহা দীপক কুমার জানান, এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে বিদেশি অনুদাননির্ভর সংস্থাগুলোকে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে কাঠখড় পুড়িয়ে অনুমোদন নিতে হয়। নতুন নিবন্ধন নিতে হলে চিন্তার বিষয়। মূলত পরোক্ষভাবে বেসরকারি সংগঠনগুলোকে ব্যাপকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হচ্ছে কিনা তা সরকারের সর্বোচ্চ মহল থেকে খতিয়ে দেখা উচিত।


অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে নিজেরা করির সমন্বয়ক খুশী কবির জানান, এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি। তবে যেসব বিধানের কথা শুনলাম তা সংবিধানে দেয়া সংগঠন করার অধিকারের পরিপন্থী বলে মনে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আইনে যদি সংগঠন নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলো গ্রহণযোগ্য না করা হয় তাহলে আদালতে চ্যালেঞ্জে পড়বে।
এ প্রসঙ্গে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান জানান, আশা করব সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কথা বলেই আইনটি চূড়ান্ত করা হবে। আর অংশীজনদের মতামত নিয়ে আইনটি করলে ভালো হবে।

২০ মে থেকে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ
                                  

 দেশের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ইলিশের জাটকা নিধনে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর সফল হওয়ায় এই পথে এগুচ্ছে সরকার। আগামী ২০ মে থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। শেষ হবে চলতি বছরের ২৩ জুলাই। এরইমধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য -২ (আইন) অধিশাখা এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। প্রজ্ঞাপনটিতে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরের মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এই দীর্ঘসময় বঙ্গোপসাগরের কোনো স্থানেই যান্ত্রিক এমনকি ছোট্ট ডিঙ্গি নৌকা দিয়েও মাছ আহরণ করা যাবে না। শুধু বঙ্গোপসাগর নয় বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া এবং মহেশখালী মোহনাও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। ফলে উল্লিখিত এলাকাগুলোতে কোনো ট্রলার কিংবা দাঁড়বাহী নৌকা মাছ ধরতে গেলেই আইনি ঝামেলার মুখোমুখি হতে হবে। অদূর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদকাল ছয় মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের পেশায় নিয়োজিত মাঝি-মাল্লারা ছয় মাস মাছ ধরতে পারবেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধের কারণে যাতে সাধারণ মাঝি-মাল্লারা ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেদিকেও নজর দিচ্ছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত মাঝি-মাল্লাদের পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড দেওয়া হবে। যে কার্ডের মাধ্যমে তাঁরা সরকারের কাছ থেকে রেশনিং সুবিধা পাবেন। এ ছাড়া নানা সহায়তা দেওয়া হতে পারে। যাতে তাঁরা মাছ ধরতে না গিয়ে সাগরের মৎস্য ভা-ারকে সমৃদ্ধ করতে সহায়তা করেন। জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা মৎস্য অফিসের তৈরি করা তালিকায় বর্তমানে জেলে রয়েছেন প্রায় ৪৪ হাজার জন। যাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জেলে আছে মহেশখালী উপজেলায়। এই জেলার প্রায় সাড়ে ১১ হাজার জেলে মৎস্য অফিস কর্তৃক নিবন্ধিত। অন্যদিকে সবচেয়ে কম জেলে রয়েছে রামু উপজেলায়।

এই উপজেলার দুই হাজারের বেশি মানুষ সাগরে মাছ আহরণকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নিবন্ধিত এসব জেলেদের মধ্যে থেকে বাছাই করে অপেক্ষাকৃত প্রায় ১০ হাজার জেলেকে দেওয়া হবে ভিজিএফ কার্ড। উল্লিখিত জেলের বাইরেও কক্সবাজার জেলায় অনেক জেলে রয়েছেন, যারা মৎস্য অফিস কর্তৃক নিবন্ধিত নন। মৎস্য অফিসে নিবন্ধিত না হওয়ায় তাঁরা ভিজিএফের আওতায় আসবেন না।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকতা এস. এম খালেকুজ্জামান বলেন, ভারত, মিয়ানমার ও শ্রীলঙ্কাতেও সাগরের মৎস্য আহরণের ওপর এই ধরনের আইন রয়েছে। এর আগে জাটকা নিধনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় ইলিশের প্রজনন হার বেড়েছে। এই অভিযানেও অবশ্যই সফলতা আসবে। এই দীর্ঘ সময়ে মানুষ কিভাবে সাগরের মাছ খাবে এমন প্রশ্নের জবাবে এস. এম খালেকুজ্জামান বলেন, সাগরের মাছে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে, নদী এবং পুকুরের মাছের পুষ্টিগুণও প্রায় একই। তাছাড়া বাংলাদেশের মাত্র দুই ভাগ মানুষ সাগরের মাছ খাওয়ার সুযোগ পান। ফলে এই নিষেধাজ্ঞা দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ফেলবে না। বরং এদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসহ সমুদ্রের অন্যান্য জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।

টিআইবি’র গবেষণা প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা ওয়াসা
                                  

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ -টিআইবি’র গবেষণা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাসকিম এ খান বলেছেন, টিআইবি’র এটি কোনো গবেষণা নয়, এটি একটি প্রতিবেদন। তিনি বলেন, এটি একটি সাদামাটা এবং একপেশে প্রতিবেদন। এখানে স্ট্যান্ডবাজি হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের প্রেক্ষাপটে ঢাকা ওয়াসার সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। তাসকিম এ খান বলেন, এটি কোনো প্রফেশনাল গবেষণা নয়, এটি একটি একপেশীও প্রতিবেদন। এটি তাদের মন গড়া। তিনি বলেন, টিআইবি’র প্রচারণার ধরণ, কৌশল ও অ্যাপ্রোচ দেখে এটা সহজেই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে যে, গবেষণার সুনির্দিষ্ট তিনটি উদ্দেশের রেশ ধরে আরোপিত পারসেপসন ভিত্তিক মনগড়া তথ্য দিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে জনসম্মুখে হেয় প্রতিপন্ন করাই ছিল মূল লক্ষ্য। ওয়াসার এমডি টিআইবিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, পানির সংযোগ এবং গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য অনলাইনে আবেদনের কারণে অনিয়ম ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। মিটার রিডার যাতে বাড়ির মালিকদের সঙ্গে যোগসাজশ না করতে পারে সেজন্য ইতোমধ্যে মিটার অটোমেশন পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। অচিরেই ঢাকা ওয়াসার পানির মিটারকে অটোমেশনের আওতায় আনা হবে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ভিশন ২০২১ কে সামনে রেখে আগামি ২০২১ সাল নাগাদ শতকরা ৭০ ভাগ ভূ-উপরিস্থ পানির উৎস থেকে এবং শতকরা ৩০ ভাগ ভূ-গর্ভস্থ থেকে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ঢাকা ওয়াসা কাজ করছে। এর ফলে পরিবেশবান্ধব, গণমুখী এবং টেকসই পানির ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠিত হবে। এর আলোকে তিনটি বৃহৎ পানি শোধনাগার প্রকল্প নির্মাণ কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের বিষয়ে টিআইবির প্রতিবেদনে কিছুই উল্লেখ নেই। পানির পাম্পে এসসিএডিএএস স্থাপন করে ওয়েব ও মোবাইল অ্যাপ দ্বারা গভীর নলকূপের অপারেশন, কন্ট্রোল ও মনিটরিংয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা ওয়াসার পরিচালন ব্যয় কমিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তবে টিআইবির প্রতিবেদনে জনবল ঘাটতির যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, ঢাকা ওয়াসার অভীষ্ট লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে টিআইবির অভিযোগ ভিত্তিহীন উল্লেখ্য করে তাসকিম এ খান বলেন, অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির বিষয়ে ঢাকা ওয়াসা অত্যাধুনিক ওয়াসা লিংক ১৬ হাজার ১৬২ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেখানে গ্রাহকের দায়ের করা প্রতিটি অভিযোগ কন্ঠ রেকর্ড করা হয়। জুলাই ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত ১১ হাজার ৩৬৭ অভিযোগ পাওয়ার বিপরীতে ১১ হাজার ২০৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়।

নিষ্পত্তির সংখ্যাই বলে দেয় এখানে অনিয়ম, হয়রানি, দুর্নীতি, ঘুষ বা নিয়ম বহির্ভূত অর্থ আদায় ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ঢাকা ওয়াসার নিম্নমানের পানির কারণে প্রতিবছর পানি ফুটানোতে অপচয় ৩৩২ কোটি টাকা। ঢাকা ওয়াসাকে নিয়ে টিআইবির যে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছে তা কোনো গবেষণালব্ধ তথ্য না, এটি সম্পূর্ণ হাইপোথেটিক্যাল এবং বাস্তব বিবর্জিত। ওয়াসার এমডি বলেন, ঢাকা শহরে বসবাসরত ১ কোটি ৭২ লাখ মানুষ সবাই পানি ফুটিয়ে পান করেন না এবং ফুটানোর প্রয়োজনও পড়ে না। ঢাকা ওয়াসার পানির উৎস থেকে গ্রাহকের জলাধার পর্যন্ত শতভাগ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ সরবরাহকৃত পানি নিজস্ব ল্যাবে নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করে গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়।

তিনি বলেন, ২০১৮ সালের ১১ থেকে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসা আওতার্ভুক্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৪৩টি নমুনা পানি সংগ্রহ করে ই-কুলিসহ অন্যান্য জীবাণুবিষয়ক ও ভৌত রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। ওইসব পরীক্ষায় ফলাফলে ই-কুলির ক্ষেত্রে ঢাকা ওয়াসা গভীর নলকূপ ১০০ ভাগ সরবরাহ লাইনে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ এবং গ্রাহকের জলাধার ৬০ দশমিক ২৮ শতাংশ সন্তোষজনক পাওয়া যায়। এখানে তারা সঠিক বলেননি। টিআইবির প্রতিবেদনে সুশাসন ও সক্ষমতা যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তাসকিম এ খান বলেন, আমরা ওয়াসার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করেছি এবং সক্ষমতাও বাড়িয়েছি।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের সঙ্গে ২০১৮ সালের ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন উন্নয়ন সূচক তুলনা করলে দেখা যায় যে, প্রতিবছর রাজস্ব খাতে আয় ৬৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৮ শতাংশ হয়েছে। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রে ক্রমান্বয়ে প্রতিবছর অতিরিক্ত আয় বেড়ে এ বছর দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। আবার সিস্টেম লস ৪০ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এখানেও ক্রমান্বয়ে প্রতিবছর অতিরিক্ত আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এসব বিবেচনায় এ বছর ঢাকা ওয়াসা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করেছে। সুতরাং টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে যেটি প্রকাশ হয়েছে তা একপেশে এবং উদ্দেশ্যমূলক। এটি শুধু ঢাকা ওয়াসাকে প্রতিপন্ন ও বিব্রত করার জন্য করা হয়েছে। তাই ঢাকা ওয়াসা টিআইবির এ প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছে। এসময় অনুষ্ঠানে বিএফইউজের মহাসচিব শাবান মাহমুদসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

নদী রক্ষায় ১০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত
                                  

ঢাকার চারপাশের নদীগুলো ছাড়াও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী দখল ও দূষণমুক্ত করে নাব্য ফেরাতে ১০ বছর মেয়াদী একটি মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার এ-সংক্রান্ত কমিটির সভায় মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত করা হয় বলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন। সভা শেষে নিজের দপ্তরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে গ্রাম-গঞ্জের সকল মানুষের কাছে উন্নয়নের সব সুবিধা পৌঁছে দিতে হবে। তেমনিভাবে নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোকে দূষণমুক্ত করতে হবে, নাব্য ফিরিয়ে আনতে হবে। নদীগুলোকে দখল-দূষণমুক্ত করে নাব্য ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত এই টাস্কফোর্স কমিটিতে পদাধিকারবলে চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তিনি বলেন, কমিটি এরইমধ্যে একটি খসড়া মাস্টার প্ল্যান করেছে, সেই মাস্টার প্ল্যানের ওপর আলোচনা করে আজ (গতকাল বুধবার) নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছি। একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তারা অনুমোদিত এই খসড়া এখন প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে ওঁর অনেক আন্তরিকতা, এটার বিষয়ে তিনি অনেক গুরুত্ব দেন, সেই হিসেবে নিজস্ব অনেক তথ্য জানা আছে। যদি কোথাও ইনপুট দেওয়া দরকার মনে করেন, সংযোজন করা দরকার মনে করেন, সেটা করবেন। মহাপরিকল্পনায় কী আছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, এই মাস্টার প্ল্যানকে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’, ‘স্বল্প মেয়াদী’, ‘মধ্যমেয়াদী’ এবং ‘দীর্ঘ মেয়াদী’ পরিকল্পনায় ভাগ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১০ বছর। প্রাথমিকভাবে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চলছে। আপনারা দেখছেন নদী দখলমুক্ত করা হচ্ছে, ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হবে। এরপর ওয়াসার নেতৃত্বে স্যানিটেশনের কাজ শুরু হচ্ছে। দূষিত পানি যেন নদীতে না যায় সেজন্য ঢাকার স্যুয়ারেজ লাইনও ঠিক করার কথা রয়েছে এই মহাপরিকল্পনায়। তাজুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। বর্জ্য যাতে নদীতে এখানে-সেখানে ডাম্প করা না হয় সেজন্য বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা নিতে কাজ করছি। নাব্য ফিরিয়ে আনতে ১০ বছরের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে ড্রেজিং করতে হবে। পালি পড়ে নদীর বেডগুলো উঁচু হয়ে গেছে, সেগুলোতে আগের জায়গায় নিতে হবে। পানি দূষিত হয়ে গেছে, পানি ট্রিট করতে হবে। পানিতে আর যাতে দূষিত পদার্থ না যায় সেজন্য সোর্সগুলো বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি গৃহস্থলী ও শিল্প বর্জ্য যাতে আর নদীতে না যায়, সেই ব্যবস্থা নেওয়া কথাও পরিকল্পনায় রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্জ্য সংগ্রহ করে আমরা ডিসপোজাল করে দেব। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কত টাকা লাগবে তা ওয়ার্কিং গ্রুপ নির্ধারণ করবে বলে জানান তাজুল। তিনি বলেন, ওয়ার্কিং গ্রুপ কাজগুলো ভাগ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেবে। ইতোমধ্যে সেই কাজ শুরু হয়ে গেছে। ঢাকার চারপাশ ঘিরে থাকা চার নদীসহ দেশের সকল নদ-নদী ও জলাশয় রক্ষায় বিভিন্ন সময়ে আদালতের রায় এলেও দখল ও দূষণ বন্ধ করা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটে গত মার্চে এক রিট মামলার রায়ে ঢাকার তুরাগ নদকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করে দেশের সকল নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়কে রক্ষার জন্য জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনকে ‘আইনগত অভিভাবক’ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘মাইলফলক’ ওই রায়ে নদী দখলকারীদের নির্বাচন করার ও ঋণ পাওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। নদী রক্ষা কমিশন যাতে নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে, সেজন্য আইন সংশোধন করে ‘কঠিন শাস্তির’ ব্যবস্থা করতে বলা হয় সরকারকে। পাশাপাশি জলাশয় দখলকারী ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীদের তালিকা প্রকাশ, স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের সব নদ-নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ের ডিজিটাল ডেটাবেইজ তৈরি এবং সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানায় নিয়মিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি নিতে বলা হয় হাই কোর্টের রায়ে।
এর আগে মন্ত্রী গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) আয়োজিত ‘বিশ্ব পানি দিবস ২০১৯’-এর সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। এসময় তাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহে শতকরা ৮৮ ভাগ কভারেজ অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমরা এখন একটি নিরাপদ টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য জোর চেষ্টা করে যাচ্ছি। বর্তমানে আমরা ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারে অগ্রাধিকার প্রদান করছি। ভূ-গর্ভস্থ পানি সম্পদের সীমাবদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনা করে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধিতে বিভিন্ন নীতিমালা ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইফুর রহমান। মূল নিবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. মুজিবুর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সুইডেনের রাষ্ট্রদূত চ্যারিওট্টা স্কি¬টার।

মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ পানীয় জল মানুষের একটি মৌলিক অধিকার এবং জীবন ধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পানি সম্পর্কিত লক্ষ্য অর্জনে সবার জন্য পর্যাপ্ত ও সমতাভিত্তিক পানি নিশ্চিত করা, প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অন্যান্য পানি সম্পর্কিত পরিবেশে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণকে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নিরাপদ পানির গুরুত্ব উপলব্ধি করে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট-৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর অধীনে ছয়টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জন সন্তোষজনক। তাজুল ইসলাম বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে ৭ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির উপর নির্ভরশীলতা কমানো, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, পানি ও স্যানিটেশনজনিত স্বাস্থ্য ঝুঁকিহ্রাস, দেশব্যাপী স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রসার, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবেলা প্রভৃতিকে কেন্দ্র করে এই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। সরকার সীমিত সম্পদ নিয়ে লক্ষ্য অর্জনের ঝুঁকিসমূহ মোকাবেলার চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারের কর্মকা-ে এদেশের জনগণের পূর্ণ সমর্থনের জন্যই দেশ আজ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য বলেন, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের জন্য নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরাপদ পানির ব্যবস্থাসহ ৩০ হাজার ওয়াশ ব্লক স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে। এর পর মন্ত্রী সচিবালয়ে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীসহ ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণরোধ এবং নাব্যতা বৃদ্ধির জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি সংক্রান্ত কমিটির ৬ষ্ঠ সভায় অংশ নেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম গোলাম ফারুক, পানি সম্পদ সচিবসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, নদী বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বক্তব্য রাখেন। মন্ত্রী বলেন, নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং সেখানে চলাচলের রাস্তা ও পার্ক নির্মাণ ছাড়াও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলবে।

 

নতুন সড়ক আইন দ্রুত কার্যকর হচ্ছে না!
                                  

পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের দাবির চাপে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদে আইনটি পাস করার পর প্রজ্ঞাপন হয়েছে। কিন্তু এরপর গত প্রায় সাত মাসেও বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। এতে করে শিগগিরই এ আইন বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।

নতুন এ আইন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সড়কে ‘হত্যা’ বাড়ছে। বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দিনে কমপক্ষে ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটছে। অভিযান চললেও ঢাকার সড়কে বিশৃঙ্খলা কমছে না বরং দিন দিন বাড়ছে। এক সপ্তাহ ধরে চলা অভিযানে ঢাকায় পরিবহন মালিকরা জরিমানা ও শাস্তির প্রতিবাদে বাস বন্ধ রেখে বিপর্যয় তৈরি করেছে। জিম্মি হয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা।

এরই মধ্যে নতুন সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর করতে গত বুধবার সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে এ নোটিশ পাঠানো হয়। আইন কার্যকর করতে সাত দিনের মধ্যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে বলা হয় তাতে। মন্ত্রিপরিষদসচিবসহ আট সচিবকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।

এর পরই মূলত গত বৃহস্পতিবার তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির বৈঠক হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নতুন আইন বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ নির্ধারণ ও বাস্তবসম্মত সমাধানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের নেতৃত্বে এ কমিটি করা হয়। কমিটিতে আরো আছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। কমিটি গঠনের প্রায় দুই মাস পর গত বৃহস্পতিবার প্রথম বৈঠক হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইনের যেসব ধারা নিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের আপত্তি রয়েছে সেগুলো তাঁরা দেখেছেন। এটাকে আরেকটু ভালো করে দেখে অংশীজনদের সঙ্গে শিগগিরই বৈঠক করা হবে। আইনে কিছু যোগ-বিয়োগ করতে হলে তা পর্যালোচনার পর বিবেচনা করা হবে। তিনি দাবি করেন, বিধি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।

পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন, বিভিন্ন মালিক সমিতি তাদের দাবিগুলো আগামীকাল সোমবার সরকারের কাছে তুলে ধরবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন আইনের বিভিন্ন ধারায় শাস্তি ও জরিমানা কমাতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা আইন প্রণয়নের আগে থেকেই আন্দোলন করে আসছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তারা মাঠে আন্দোলন করেছে। সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারকারী পরিবহন মালিকদের একটি চক্র দ্রুত বিধিমালা করতে বাধা দিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নতুন আইনটির প্রক্রিয়া ও প্রস্তাব ১১ বছর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল পরিবহন মালিকদের চাপে। আইনের খসড়াটি ২০১৭ সালের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর বিভিন্ন ধারা সংশোধনের দাবিতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা বিভিন্ন জেলায় ধর্মঘট পালন করে।

এরপর গত বছরের জুলাই ও আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে খুদে শিক্ষার্থীদের ৯ দিনের টানা আন্দোলনের পর ৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আইনের খসড়া অনুমোদন হয়। কিন্তু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এর বিরোধিতা করে ২৮ অক্টোবর থেকে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট করে। অবশ্য পরে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হয়। প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হয় ৮ অক্টোবর। সংসদে পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের ১(২) ধারায় বলা হয়েছে, সরকার গেজেটের মাধ্যমে যে তারিখ নির্ধারণ করবে, সেই তারিখে এই আইন কার্যকর হবে। আইন কার্যকরের তারিখ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন না হওয়ায় আইনটি কার্যকর হচ্ছে না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ও আমাদের মধ্যে বোঝাপড়া না হলে এ আইন বাস্তবায়িত হবে না।’

একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ‘আমরা আগামী সোমবার আমাদের দাবিগুলো আবার সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দেব।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান  বলেন, ‘আমরা এক মাসের মধ্যে বিধিমালা তৈরি করতে পারব। তারপর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। সেটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আইন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আমরা কোনো পক্ষের চাপে নেই।’

তবে আইনটি বিধিমালা প্রণয়নের আগেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব বলে মনে করেন আইনজীবী জোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি  বলেন, ‘ভোক্তা অধিকার আইন করার পর বিধিমালা হওয়ার আগেই তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একইভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন হওয়ার পরই সাংবাদিকদের ধরপাকড় শুরু হয়েছিল। তাহলে এই সড়ক আইনের ক্ষেত্রে বিধিমালার অজুহাত তোলাটা অযৌক্তিক। আর বিধিমালা করতে সাত মাসেও কোনো কাজ হয়নি কেন—এটাও প্রশ্ন।’

এরই মধ্যে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি ও সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানকে সভাপতি করে গঠিত ২২ সদস্যের কমিটি ১১১টি সুপারিশ তৈরি করেছে। এর মধ্যে দ্রুত সময়ে সড়ক পরিবহন আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রজ্ঞাপন জারির সুপারিশও আছে।

বায়ুদূষণে মৃত্যুতে বাংলাদেশ পঞ্চম
                                  

বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যু ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরির অন্যতম কারণ বায়ুদূষণ। দূষিত বায়ু গ্রহণের কারণে হৃদযন্ত্রের অসুখ, শ্বাসকষ্টজনিত জটিল সমস্যা, ফুসফুস সংক্রমণ ও ক্যানসারের মতো রোগে ভুগছে মানুষ। বিশ্বে যেসব কারণে মানুষের মৃত্যু ঝুঁকি তৈরি হয় বায়ুদূষণ তার মধ্যে পঞ্চম। ২০১৭ সালে ৪৯ লাখ মানুষ দূষিত বায়ুর কারণে মারা গেছ। মোট ১৪.৭ কোটি বছর সুস্বাস্থ্যে কাটানোর সুযোগ হারিয়েছে।

একটি দেশের বায়ু স্বাস্থ্যের জন্য কতটা উপযোগী তা পরিমাপ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডাব্লিউএইচও। সে অনুযায়ী ৯০ ভাগ মানুষই এমন অঞ্চলগুলোতে বাস করে যেখানকার বায়ু সুস্বাস্থ্যের উপযোগী নয়। ডাব্লিউএইচও-র সবচেয়ে নীচের লক্ষ্যমাত্রাটিও পূরণ করতে পারছে না এমন এলাকায় বাস করে অর্ধেকের বেশি মানুষ।

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ু দক্ষিণ এশিয়ায়। ডাব্লিউএইচও’র মাত্রা অনুযায়ী ২০১৭ সালে সবচেয়ে দূষিত বায়ু ছিল নেপালে। এরপর রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এই অঞ্চলে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর বায়ু আছে ভুটানে। ডাব্লিউএইচওর নীচের মাত্রাটির কাছাকাছি তাদের অবস্থান। অঞ্চল ভিত্তিতে মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণে দক্ষিণ এশিয়ার পরে আছে সাব সাহারা আফ্রিকা।

ডাব্লিউএইচওর মানদণ্ড অনুযায়ী বিশ্বের যেসব দেশের শতভাগ মানুষ মাত্রাতিরিক্ত বায়ুদূষণের মধ্যে বাস করছে তার একটি বাংলাদেশ। একই পরিস্থিতি পাকিস্তান, ভারত, চীন, নাইজেরিয়া ও মেক্সিকোতেও।
দূষিত বায়ুর কারণে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হওয়া শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষ বায়ুদূষণে মারা গেছে। প্রথম চারটি দেশের মধ্যে আছে চীন, ভারত, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়া।

বায়ুদূষণের কারণে স্বাস্থ্যহানি আর মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিবেদন বলছে এখন বিশ্বে যেসব শিশু জন্ম নিচ্ছে, গড়ে তারা কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২০ মাস কম আয়ু পাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় যা ৩০ মাস। দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তাই গড় আয়ুও বাড়বে।

স্বাস্থ্যকর বায়ু নিশ্চিত করার সবচেয়ে বেশি সুফল পাবে বাংলাদেশ। জন্ম নেয়া শিশুদের গড় আয়ু তখন ১.৩ বছর বেড়ে যাবে। এমন সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পরে থাকবে ভারত, নাইজেরিয়া ও পাকিস্তান। তাদের গড় আয়ু ১ বছর বেড়ে যাবে।

শহরের প্রত্যেকের তৈলচিত্র আঁকছেন ব্রিটিশ চিত্রকর
                                  

নিজের প্রতিকৃতি দেখতে কার না ভালো লাগে! আর তা যদি হাজারো মানুষের প্রতিকৃতির মধ্যে জাদুঘরের মতো বিশেষ এক সংগ্রহশালায় থাকে, কি অপূর্ব! শহরবাসীকে এমন সুযোগই করে দিয়েছেন ব্রিটেনের বিশিষ্ট চারুশিল্পী গ্রাহাম হার্ড-উড। স্বদেশীদের ছবি আঁকায় নিজেকে উৎসগ করে এমন প্রতিজ্ঞাই করে বসেছেন ৫৫ বছর বয়সী এই চিত্রকর। ইতিমধ্যে তিনি ১১২টি তৈলচিত্র অঙ্কনের কাজ শেষ করেছেন। আগামী এক দশকে শহরের বাকি ১,৬৮৮টি চিত্র অঙ্কন শেষ করবেন বলে আশাবাদী তিনি।

গ্রাহাম হার্ড-উড থাকেন ব্রিটেনের সবচেয়ে ছোট শহর এসটি ডেভিডস-এ, যার অধিবাসীর সংখ্যা ১,৮০০। নিজের শখ থেকেই তিনি চিত্র অঙ্কন শুরু করেছিলেন। যখন বন্ধবান্ধব আর আপনজনদের কয়েক ডজন চিত্র তিনি অংকন করে ফেললেন, তখনই হঠাৎ সিদ্ধান্ত নিলেন শহরের শেষ বাসিন্দার চিত্রটি পর্যন্ত তিনি অংকন করেই তবে ক্ষান্ত যাবেন। সেই থেকে শুরু। 

 


গ্রাহাম হার্ড-উড বলেন, এসটি ডেভিডস একটি বিশেষ বৈচিত্রময় শহর।

এখানকার অধিবাসীরা মিলেমিশে বাস করে। সবাই আমাকে গ্রহণ করেছে, এটা খুবই ভালো লাগার। এটা (চিত্রাঙ্কন) আমার আবাসভূমির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি উপায়। তিনি বলেন, আমি ছবি আঁকার কাজ শেষ করে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করবো। একটি সংগ্রহশালায় সবাই তার চিত্র দেখতে পাবে।

প্রতিটি চিত্র অংকনের জন্য একজন ব্যক্তিকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় দিতে হয়, তবে নিজের চিত্র অংকনের জন্য সবাই অনন্দের সাথে গ্রাহামকে সময় দিয়ে থাকেন। সাধারণত প্রতি দুই দিনে আঁকা হচ্ছে একেকটি চিত্র। এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল।

গ্রাহাম বলেন, চিত্রটি আঁকা শেষে দূর থেকে এটি দানবিয় মনে হবে, তবে কাছ থেকে ঠিকই আপনি বুঝতে পারবেন, এটি হুবহু আপনার প্রতিচ্ছবি। শহরের লোকজন গ্রাহামের এই অকর্ষণীয় কর্মের প্রসংশায় এখন পঞ্চমুখ। আগ্রহের সাথে নিজের চিত্র অঙ্কনে সময় দিচ্ছেন সব শ্রেণি-পেশার লোকেরা।

আবার যে কারণে হাসপাতালে `বৃক্ষ-মানব`
                                  

দীর্ঘ আট মাস পর আবারও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ফিরে এসেছেন বৃক্ষ-মানব হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আবুল বাজানদার। তার অসুখ সারে নি, হাতে আবারো আগের মতোই গজিয়ে গেছে শেকড়।

গত বছরের মে মাসে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়ি খুলনায় চলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নেয়ার কারণে হাতে আবারও আগের মতো শেকড় গজিয়ে গেছে বাজানদারের।

"বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি মোটেও সঠিক ছিল না" - সোমবার বললেন আবুল। তবে তার ফিরে যাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে তার কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল বলে উল্লেখ করছেন তিনি।

বাজানদার বলেন, "আমাকে স্যারেরা (ডাক্তাররা) যখন জানালো যে আমার হাত পুরোপুরি ঠিক হবেনা, এটা মাঝে মাঝেই গজাবে আর সেটা অপারেশন করতে হবে। এটা জেনে আমি মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই।"

এমন অবস্থায় বাজানদার চিকিৎসকদের জানান যে তিনি নতুন করে আর কোন অস্ত্রোপচার করবেন না, বাড়ি ফিরে যাবেন। যদি এই শেকড় বাড়তে থাকে, তাহলে তিনি পুনরায় চিকিৎসা নিতে আসবেন।

দীর্ঘদিন চিকিৎসা না নেয়ার কারণে আবুল বাজানদারের হাতে আবারও আগের মতো শেকড় গজিয়ে গেছে। তার এমন সিদ্ধান্তের কথা শুনে চিকিৎসকরা বিষয়টি লিখিত আকারে সই করার শর্ত জুড়ে দেন বলে জানান বাজানদার।

সেই কাগজে সই করলে পরবর্তী চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় কাউকে কিছু না জানিয়েই হাসপাতাল ছেড়ে যান তিনি।

"আমি স্যারেদের (ডাক্তারদের) বলেছি আমার রোগটা যেহেতু পুরোপুরি সারবেনা, তারা যেন আমাকে ছুটি দেন, আমি বাড়ি যাব। কিন্তু আমি সই করতে চাইনি। যদি চিকিৎসা আর না পাই এই ভয়ে। কিন্তু সবাই যে বলছে আমি পালিয়ে গেছি। আমি আসলে পালিয়ে যাইনি।"

তবে বাজানদারের এই চিকিৎসা না পারার আশঙ্কাকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডাক্তার সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, "বাজানদারের এখান থেকে চলে যাওয়ার পেছনে মান অভিমান অনেক কিছুই আছে। তার হয়তো মনে হয়েছিল এখানে তার সঙ্গে কেউ কেউ ভাল ব্যবহার করেনি। পরে এলে তাকে ভর্তি করবেনা। এসব কিছুই তার ভুল ধারণা। আমরা চিকিৎসকরা রোগকে প্রাধান্য দেই - রোগীকে না। রোগী যেই হন, যেমনই হন আমরা তার চিকিৎসা করবোই।

ছেলের ভুল হয়েছে স্বীকার করেছেন মা আমেনা বিবিও।

বাজানদারের যাবতীয় চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করায় কিছুটা স্বস্তিতে আছেন ঠিকই তবে ছেলের শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হতে থাকায় প্রতিনিয়ত উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয় তাকে। তার দাবি বাজানদারের চিকিৎসা যেন পুনরায় শুরু করা হয়।

আমেনা বিবি বলেন, "আমার ছেলে না হয় ছোট মানুষ ভুল করেছে, বাড়ি চলে গিয়েছে। আমি থাকলে স্যারেদের (ডাক্তারদের) বুঝায় বলতাম। আমি চাই আমার ছেলে চিকিৎসার মধ্যে থাকুক। তারা আমার ছেলেকে সুস্থ করে আমার কোলে ফিরায়ে দেবে আমি সেই আশাই করি।"

আবুল বাজানদার খুলনায় নিজের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও ডাক্তার সামন্ত লাল সেনের সঙ্গে তার বেশ কয়েকবার ফোনে কথা হয়। ড. সেন প্রতিবারই তাকে ফিরে আসার কথা বলেন।

আবুল বাজানদার ঠিক কি কারণে হাসপাতাল ছেড়েছিল, তার কোন অভিযোগ ছিল কিনা সে বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলেননি ডা সামন্ত লাল সেন।

তিনি বলেন, "ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মাত্র দুইশ রোগীর জনবল দিয়ে সাড়ে পাঁচশ রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের অভিযোগ থাকতেই পারে। আমি সেটা অস্বীকার করিনা। তবে আশা করি সামনে আর কোন অভিযোগ থাকবে না। এ বিষয়টা আমি খেয়াল রাখব।"

টানা দুই বছর চিকিৎসার পর আবুল বাজানদার অনেকটা সুস্থ হয়ে এলেও দীর্ঘদিন চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে না থাকায় এবার তার হাতে-পায়ে আবারও আগের মতো শেকড়ের গজিয়ে উঠতে দেখা যায়। এ অবস্থায় বাজানদারের চিকিৎসা নতুন করে শুরু করতে হবে বলে জানিয়েছেন ডা সামন্ত লাল সেন।

আগামীকাল বেলা ১১টার দিকে ৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড বাজানদারের পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে তিনি জানান। প্লাস্টিক সার্জারি, চর্মরোগ, এনেসথেশিয়া ও প্যাথলজি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বোর্ডটি গঠন করা হবে।

গত ১০ বছর ধরে হাত-পায়ে শেকড় মতো গজানোর মতো বিরল এক জেনেটিক রোগে ভুগছেন আবুল বাজানদার। মেডিকেলের ভাষায় এপিডার্মো ডিসপ্লেশিয়া ভেরুকোফরমিস ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণে তার এমনটা হয়ে থাকে।

বিষয়টি গণমাধ্যমের নজরে এলে ২০১৬ সালে ঢাকা মেডিকেলে রাষ্ট্রীয় খরচে আবুল বাজানদারের চিকিৎসা শুরু হয়।

সংসদ নির্বাচন : সাংগঠনিক ইউনিটের জরুরি সভা ডেকেছে ছাত্রলীগ
                                  

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব সাংগঠনিক ইউনিটের (জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে জরুরি সভার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।

আগামী ৪ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার সংগঠনটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে সভায় অংশগ্রহণকারী ছাত্রলীগ নেতাদের স্ব স্ব ইউনিটের যাবতীয় সাংগঠনিক সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতাসহ পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক প্রতিবেদন তৈরি করে নিয়ে আসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সভায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবার ভাসবে টাইটানিক
                                  

১৯১২ সালের ভয়ঙ্কর স্মৃতিকে সরিয়ে ফের সমুদ্রে ভাসতে চলেছে টাইটানিক। নাম দেয়া হয়েছে ‘টাইটানিক-২’।
৭+`-২০২২ সালের মধ্যেই সমুদ্রে সাঁতরাবে। এর প্রথম যাত্রা হবে চীনের জিয়াংশু থেকে দুবাই পর্যন্ত। ইতিমধ্যে টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।
১০ লাখ ডলারের বেশি তার এক একটির দাম। অস্ট্রেলীয় ব্যবসায়ী ক্লাইভ পালমারের ব্লু স্টার লাইন সংস্থা এটি তৈরি করছে।
প্রথম টাইটানিক জাহাজটিও তৈরি করেছিল এই সংস্থাই। টাইটানিক-২ যেন প্রথম টাইটানিকেরই যমজ। বাইরে থেকে দেখতে ১৯১২-এর মডেল হলেও ভেতরটা পুরো আধুনিক।
একেবারে একুশ শতাব্দীর ছোঁয়া। চলবে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল পদ্ধতিতে। থাকবে রাডার, জিপিএস সিস্টেমও। কিন্তু নিরাপত্তা ও বিনোদনের কথা মাথায় রেখে অনেক কিছু রদবদল করা হয়েছে এর। ২৭০ মিটার লম্বা, ৫৩ মিটার উচ্চতাবিশিষ্ট টাইটানিক-২ এও রয়েছে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর আসনের ব্যবস্থা। খবর গ্য গার্ডিয়ানের।

বিশ্বের অন্যতম অভিজাত জাহাজ টাইটানিক। ১৯১২ সালে বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, টাইটানিক কোনোদিনই ডুববে না। কিন্তু প্রথম যাত্রাকালেই ইতিহাসের অন্যতম ট্র্যাজেডিই ঘটে যায়। কিন্তু টাইটানিককে আজও নিজেদের স্মৃতিতে ভাসিয়ে রেখেছে মানুষ। ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরনের ছবি ‘টাইটানিক’ তাতে আরও ইন্ধন জোগায়। এরপর অনেকেই ভাবতে শুরু করেন, যদি আরও একবার ভাসিয়ে তোলা যায় এই কিংবদন্তির জাহাজটিকে। সেই স্বপ্ন থেকেই অস্ট্রেলিয়ার খনি ব্যবসায়ী ক্লাইভ পামার উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন ‘টাইটানিক-২’ নির্মাণে। আর সেই জাহাজ সত্যিই এবার ভাসতে চলেছে।
২০২২ সালেই সমুদ্রের জলে ভাসবে ‘টাইটানিক-২’। তবে ব্লু স্টার লাইনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রথম যাত্রার তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘জাহাজের নির্মাণ কাজ চলছে। কাজ শেষ হলেই যাত্রার তারিখ ঘোষণা করা হবে।’ এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হৈচৈই পড়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে জাহাজের নিরাপত্তা, লাইফ জ্যাকেট, যাত্রীর সংখ্যা, নাবিকের সংখ্যা প্রভৃতি।

টাইটানিক ট্র্যাজেডির ১১০তম বার্ষিকীতে জাহাজটি প্রথম যাত্রায় চীন থেকে দুবাই এরপর দুবাই থেকে ইংল্যান্ডের সাদাম্পটনে পৌঁছবে। তারপর পুরনো টাইটানিকের রুট ধরেই এটি পাড়ি দেবে আটলান্টিক। ডুবে যাওয়া টাইটানিকের জন্য নির্ধারিত রাস্তা ধরেই তা পৌঁছবে নিউইয়র্কে। ব্লু স্টার লাইন জানিয়েছে, এর আনুমানিক ২৪০০ যাত্রীর ব্যবস্থা থাকবে। এর বাইরে নাবিক থাকবেন ৯০০ জন। পুরনো টাইটানিক ছিল কয়লাচালিত। নতুন জাহাজটি হবে ডিজেলচালিত। এতে আরও থাকবে, হেলিপ্যাড, প্রত্যেক যাত্রীর জন্য লাইফবোট। থাকবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী মিলিয়ে মোট ৮৪০টি কেবিন।

অনুশোচনায় আত্মহত্যা করেছিলেন সেই ফটো সাংবাদিক
                                  

 প্রিয় মাঠের পাশে লাল নিশান পিকাপ ট্রাকটি থামালেন শেষবারের মতো। এখানেই ফটো সাংবাদিক কেভিন একদিন খেলা করতেন, পড়াশোনা করতেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতেন। তিনি গাড়ি চালু রেখে গাড়ির এক্সিট পাইপের সঙ্গে একটি নল লাগিয়ে তার অপর প্রান্ত চেপে ধরেন নিজের নাকে। সেই নল দিয়ে বেরিয়ে আসা কার্বন মনোক্সাইড বিষ আহরণে মনোযোগ দিলেন তিনি। এরপর আস্তে আস্তে নিভিয়ে দিলেন নিজেকে। মিশে গেলেন সন্ধ্যার আকাশের তারকাদের মাঝে।
১৯৬০ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে জন্ম গ্রহণ করেন কেভিন কার্টার। ক্রীড়া ফটো সাংবাদিকতার মধ্যে দিয়ে কর্ম জীবন শুরু করেন তিনি। 
১৯৯৩ সালের মার্চে সুদানে দুর্ভিক্ষের ছবি তোলার জন্য অ্যাসাইনমেন্ট পান কেভিন। তখন সুদানে দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা প্রতিদিনই বাড়ছে। খাদ্যের অভাবে দিনের পর দিন মানুষ মারা যাচ্ছে। কোথাও কোনো ফসলের ছিটে ফোঁটা নেই। শুধু তীব্র তাপদাহ, কোথায়ও পানি নেই। এরই মধ্যে অ্যাসাইনমেন্টের কাজে সুদানের আয়দ গ্রামে আসেন কেভিন। এখানে রোদের তাপ যেন কংকালসার মানুষের দেহকে পুড়িয়ে দেওয়ার আনন্দে মেতেছে। প্রত্যেকটি মানুষই ত্রাণের খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল। কেভিনও সেইদিন সেই অসহায় মানুষগুলোর মুখোমুখি হন।
ক্যামেরার লেন্স ঘোরাতে ঘোরাতে হঠাৎ আবিষ্কার করলেন এক কংকালসার ক্ষুধার্ত শিশুকে, যে খাদ্যের খোঁজে বেরিয়েছে। তবে এক চুল পরিমাণও হাটার শক্তি নেই শিশুটির। যেন মুখ থুবড়ে উপুড় হয়ে বসে আছে রোদ্দুরের মাঝে। আর শিশুটির ঠিক পেছনে শকুনও ওৎ পেতে আছে শিকারের অপেক্ষায়। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করে কয়েকটি শট নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন কেভিন। অদূরে একটি গাছের নিচে বসে ধুমপান করতে করতে পরবর্তী কাজের জন্য তৈরি হতে থাকেন। কেভিন শুধু ভেবেছিল স্থিরচিত্র ধারণ করাই তার কাজ।
কেভিনের সেই ছবি প্রথম ১৯৯৩ সালের ২৬ মার্চ দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর থেকে হৈ চৈ পড়ে যায়। রীতিমত সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলোও নেমে পড়ে ছবির নেপথ্যে। এই ছবির জন্য খ্যাতির চুঁড়ায় পৌঁছে গেলন কেভিন কার্টার। পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নিল তার এই কালজয়ী ছবি।

আর এই জয়ই কাল হয়ে দাঁড়ায় কেভিনের জন্য। কারণ এর পরই কি হলো সেই ক্ষুধার্ত শিশুটির? কিভাবে আপনি ফেলে আসতে পারলেন সে শিশুটিকে?- বিশ্ববাসীর এমন নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। এ কারণে ছবিটি তোলার মাত্র তিন মাস পরই আত্মহত্যা করেন তিনি।
মারা যাওয়ার আগে ছোট একটি চিরকুটে তাঁর আত্মহত্যার কারণ লিখে যান কেবিন। চিরকুটে তিনি লেখেন, ‘আমি সত্যিই, একদম সত্যিই দুঃখিত। দুঃখগুলো আমার আনন্দকে অতিক্রম করে কবেই উবে গেছে। আনন্দের কোনো চিহ্ন আর অবশিষ্ট নেই। সত্যিই আমি চরম হতাশ।’ 
কেভিন কার্টারের আত্মহত্যার কারণ হিসাবে তাঁর সাথে থাকা বিখ্যাত চিত্রসাংবাদিক জোআঁও সিলভা জানিয়েছেন, ‘কার্টার ছবি তুলে আসার আগে সেই শকুনটাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিয়ে আসেন। তবে ভয়ে তিনি বাচ্চাটিকে ধরেননি। কারণ তিনি এই ভেবে ছিলেন শিশুটি কোনো ভয়ানক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে ছবি না তুলে যদি বাচ্চাটিকে নিকটবর্তী ত্রাণশিবিরে নিয়ে গেলে শিশুটি হয়তো বেঁচে যেত এই হতাশায় ও অনুশোচনায় আত্মহত্যা করেন কেভিন! অথচ শিশুটি সেই সময় মারা যায়নি, আরো ১৩ বছর বেঁচে ছিল। নিয়ং কং নামের ছবির বাচ্চাটি মারা যায় ২০০৭ সালে।

‘১৮ বছরের আগে কোনো শিশুকে রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ নয়’
                                  

শীর্ষনিউজ, ঢাকা: ১৮ বছরের আগে কোনো শিশুকে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা হবে না। শিশুরা আরও যেসব সুপারিশ করেছে তা আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যুক্ত করতে চাই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এস এস কামাল হোসেনের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানাতে বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) বিকেলে শিশুদের উল্লাসের রোল ওঠে গুলশানের লেকশোর হোটেলের লাভিটা হল। সেখানে বসেছিল চাইল্ড পার্লামেন্টের ১৭তম আসর।
‘চাইল্ড পার্লামেন্ট’ ন্যাশনাল চিল্ড্রেন টাস্কফোর্সের এক অনন্য উদ্যোগ, যেখানে ১২ থেকে ১৮ বছরের শিশুরা সত্যিকার সংসদের আদলে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করে। এখানে শিশুরাই নিজেদের সমস্যাগুলো তুলে আনে। তারা বিভিন্ন গবেষণা ও ঘটনাকে বিশ্লেষণ করে তারপর সেই সমস্যাগুলো পার্লামেন্টের কাছে তুলে ধরে।
এই পার্লামেন্টের কাজ কী? ঠিক জাতীয় সংসদের মতো, যখন কোনো আইন হয়, নীতিমালা হয় সেগুলো যেন শিশুদের কথা মাথায় রেখে করা হয় সেটার সুপারিশ করে তারা।
শিশু স্পিকার মেফতাহুন নাহারের পরিচালনায় বসে শিশু পার্লামেন্টের ১৭তম আসর। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার মাহমুদা সিদ্দিকা এলিজা। অবিকল আসল সংসদের মতো জাতীয় সংগীত গেয়ে শুরু হয় অধিবেশন। স্পিকার আহ্বান করেন তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপনের। একে একে আসতে থাকে তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন। আসে সেগুলোর সুপারিশও, তাও শিশু সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে।
যারা শিশু সংসদের সঙ্গে পরিচিত নয়, তাদের চোখ ততক্ষণে কপালে। এইসব বিষয়ে প্রশ্ন শিশুরা তৈরি করেছে? নিজে নিজে?
জবাব আসে, হ্যাঁ। দেশের ৬৪টি জেলা থেকে আসা চাইল্ড পার্লামেন্টের শিশু, তাদের সঙ্গে আরও ১৬ জন বিশেষ এলাকার প্রতিনিধি শিশুরা এসেছে যার যার অঞ্চলের শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করতে। দেশের শীর্ষ স্থানীয় নীতি নির্ধারকদের জানাতে শিশুদের কল্যাণে আসলে কোন কোন জায়গায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এই শিশুদের পার্লামেন্টের কাজ করতে সহায়তা করেছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও সেভ দ্য চিলড্রেন।
তারকা চিহ্নিত প্রশ্নে শিশুরা মোট নয়টি সমস্যা তুলে আনে সংসদের সামনে। তারাই করে সমস্যাগুলো সমাধানের সুপারিশ। এর মধ্যে আছে শিশু হত্যা, শিশু নির্যাতন, বাল্যবিবাহ, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, মাদকের কবল থেকে শিশুদের রক্ষা করা, নির্বাচন ও রাজনৈতিক কাজে শিশুদের ব্যবহার বন্ধ করা। 
তারা দাবি করে, ২০১৩ সালের শিশু আইনের বাস্তবায়ন ও সুপারিশ করে শিশুর শিক্ষা ও সুরক্ষায় বাজেট বরাদ্দের। রাজনৈতিক ইশতিহারে বাজেট বরাদ্দ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান, প্রতিবন্ধী শিশু, পার্বত্য এলাকার শিশু, পথশিশু, যৌনপল্লীর শিশু, আদিবাসী শিশুসহ সকল পিছিয়ে পড়া শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতের সুপারিশ করা হয়। ঘটনাগুলোর দ্রুত বিচারে আনার এবং তা বাস্তবায়নের দাবিও করেন তারা।
শিশুদের এই পার্লামেন্ট পর্যবেক্ষণে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ আলম লেলিন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এবং জাতীয় পার্টির সভাপতি মণ্ডলির সদস্য ব্যারিস্টার শামিম হায়দার পাটোয়ারী।
এছাড়াও অধিবেশনে অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ওরলা এ মারফী, হেড অব চাইল্ড রাইটস অ্যান্ড প্রটেকশন তানিয়া নুসরাত জামান এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পিয়ার্স ও ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. শামীম জাহান।
শিশু এমপিদের প্রশ্ন ও সুপারিশ শেষে আলোচনার সুযোগ আসে সত্যিকার নীতি নির্ধারকদের। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন জানান, শিশুদের জন্য জুভেনাইল কোর্টের আইন পাশ হয়েছে, শীঘ্রই এর বাস্তবায়ন হবে।
আওয়ামী লীগ নেতা এস এম কামাল হোসেন শিশু সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন। অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত বাধ্যতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা তুলে দেওয়া ও আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের আহ্বার জানান নূহ আলম লেলিন।
আইনে বিশেষ পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহের বিধান থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দেন বিএনপি নেতা ড. মঈন খান। শিশুশ্রম বন্ধের জন্য ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত বাধ্যতামূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার সুপারিশ করেন শামিম হায়দার পাটোয়ারী। শিশুদের জন্য সুনির্দিষ্ট খাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা বলেন মোয়াজ্জম হোসেন আলাল।
অধিবেশন শেষে শিশু পার্লামেন্টের স্পিকার মেফতাহুন নাহার ও তার ডেপুটি স্পিকার মাহমুদা সিদ্দিকা এলিজা বসেন সংবাদ সম্মেলনে। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পেশাদারি দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
মেফতাহুন নাহার বলেন, ‘এটি চাইল্ড পার্লামেন্টের ১৭তম আসর। এর আগেও পার্লামেন্ট থেকে আমরা অনেকগুলো সুপারিশ করেছি যা নীতি নির্ধারক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়ে, যা হয়নি তা হচ্ছে বাস্তবায়ন। যতদিন তা বস্তবায়ন না হয় এবং শিশুদের সমস্যা সমাধান না হয় আমরা এমনিই পার্লামেন্টে আসব শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করতে। তাদের সমস্যা তুলে ধরতে এবং সমস্যা সমাধান চাইতে।’
শীর্ষনিউজ/এনএস

নিমেষেই অদৃশ্য হয় যে প্রাণী
                                  

শীর্ষনিউজ ডেস্ক: সমুদ্রে কিছু প্রাণী অদৃশ্য হতে পারে। বিষয়টি নানা প্রশ্ন জাগায়। আসলে কি এমন প্রাণী আছে? হ্যাঁ, কিছু প্রাণী রয়েছে যারা নিজের দেহকে এমনভাবে লুকিয়ে ফেলে, যা অদৃশ্য হওয়ার মতোই বলা যায়। প্রাণীগুলোর মধ্যে গ্লাস অক্টোপাস ও গ্লাস স্কুইড অন্যতম।
গ্লাস অক্টোপাস: সমুদ্রে দুটি উপায়ে নিজেদের লুকায় সামুদ্রিক প্রাণী গ্লাস অক্টোপাস। এটি সাগরের তলদেশে বসবাসকারী প্রাণী বালি বা পাথরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে কিংবা লুকিয়ে পড়তে পারে প্রবালের আড়ালে।
এ সময় এটি প্রায়ই কালো হয়ে যায়, যা অদৃশ্য হওয়ার নামান্তর। সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি যখন এই প্রাণীগুলো চলে আসে তখন শিকারীর কাছ থেকে লুকাতে চাইলে এক বিশেষ আলোর ঝলকানি সৃষ্টি করে। যা বায়োলিউমিনিসেন্স নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় তারা শিকারীদের সামনে বিভ্রম সৃষ্টি করে। আর শিকারীরা ভাবে শিকারটি অদৃশ্য হয়ে গেছে।
গ্লাস স্কুইড: গ্লাস পরিবারের অন্তর্ভুক্ত প্রায় ৬০ প্রজাতির স্কুইড রয়েছে। সমুদ্রের ২০০ থেকে ১০০০ মিটারের মধ্যে বসবাস করে এরা। গ্লাস স্কুইডের শরীর পুরোপুরি স্বচ্ছ, তবে এদের বড় চোখগুলো অপ্রকাশিত।
এটি তাদের জন্য একটি সমস্যা। যেহেতু নিচের সাঁতার কাটা শিকারীরা সহজেই তাদের ছাড়া দেখতে পারে, এজন্য গ্লাস স্কুইড তাদের লুকানোর জন্য ছদ্মবেশের একটি চতুর রূপ ব্যবহার করে। চোখের নিচে একটি বিশেষ কৌশলে এরা আলো তৈরি করতে পারে। সেই আলো সূর্যালোক থেকে নিচে ফিল্টারিং হয়ে আসা আলোর অনুরূপ দেখায়। তাই এটি সম্পূর্ণরূপে নিচে সাঁতার কাটা শিকারিদের কাছে তখন অদৃশ্য করে তোলে।
পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, স্কুইড বিশেষ প্রক্রিয়ায় যে আলো সৃষ্টি করে তা বিস্ময়করভাবে চার দিকের অন্য আলোর সঙ্গে মিশে যায়। তখন এমন একটি বিভ্রম তৈরি করে যা দেখে মনে হয় আলোটি চতুর্দিক থেকে আসছে। এতে প্রাণীটির একটি ছদ্মবেশ তৈরি হয়।

সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের একধাপ অবনমন
                                  

বিশ্ব প্রতিযোগিতার সক্ষমতার সূচকে একধাপ অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। বিশ্বের ১৪০টি দেশের মধ্যে এবার বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১০৩তম। গত বছর এ সূচকে বাংলাদেশের ১০২ নম্বর অবস্থানে ছিল।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিশ্ব প্রতিযোগিতার সক্ষমতা সূচক ২০১৮ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১২টি সূচকের মধ্যে বাংলাদেশের ৯টিতে অবনতি হয়েছে। উন্নতি করেছে তিনটিতে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ও গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।

ঈদুল আযহার বন্ধের নোটিশ
                                  

 

আগামী ২১/০৮/২০১৮ইং রোজ মঙ্গলবার থেকে ২৩/০৮/২০১৮ ইং রোজ বৃহস্প্রতিবার পর্যন্ত ঈদুল আযহা উপলক্ষে স্বাধীন বাংলা ডট কমের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকিবে। আগামী ২৪/০৮/২০১৮ ইং রোজ শুক্রবার থেকে সকল কার্যক্রম চলবে।


   Page 1 of 11
     বিবিধ
বেসরকারি ব্যবস্থাপনা ট্রেন পরিচালনার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ
.............................................................................................
দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থার নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করছে সরকার
.............................................................................................
২০ মে থেকে ৬৫ দিন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ
.............................................................................................
টিআইবি’র গবেষণা প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা ওয়াসা
.............................................................................................
নদী রক্ষায় ১০ বছর মেয়াদী মহাপরিকল্পনার খসড়া চূড়ান্ত
.............................................................................................
নতুন সড়ক আইন দ্রুত কার্যকর হচ্ছে না!
.............................................................................................
বায়ুদূষণে মৃত্যুতে বাংলাদেশ পঞ্চম
.............................................................................................
শহরের প্রত্যেকের তৈলচিত্র আঁকছেন ব্রিটিশ চিত্রকর
.............................................................................................
আবার যে কারণে হাসপাতালে `বৃক্ষ-মানব`
.............................................................................................
সংসদ নির্বাচন : সাংগঠনিক ইউনিটের জরুরি সভা ডেকেছে ছাত্রলীগ
.............................................................................................
আবার ভাসবে টাইটানিক
.............................................................................................
অনুশোচনায় আত্মহত্যা করেছিলেন সেই ফটো সাংবাদিক
.............................................................................................
‘১৮ বছরের আগে কোনো শিশুকে রাজনীতিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ নয়’
.............................................................................................
নিমেষেই অদৃশ্য হয় যে প্রাণী
.............................................................................................
সক্ষমতা সূচকে বাংলাদেশের একধাপ অবনমন
.............................................................................................
ঈদুল আযহার বন্ধের নোটিশ
.............................................................................................
অর্গানিক গরুর চাহিদার সাথে দামও বেশি
.............................................................................................
ঢাকা বাঁচাতে দরকার কার্যকর সমন্বিত পরিকল্পনা
.............................................................................................
নিয়মের ঊর্ধ্বে ১৪ লাখ রিকশা
.............................................................................................
বেসরকারি মেডিক্যাল, ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন ও নবায়ন ফি বাড়ছে ৫০ গুণ
.............................................................................................
ইসলামের শিক্ষা মানুষকে দেয় প্রশান্তি ও আত্ম-বিশ্বাস: নওমুসলিম জয়নাব
.............................................................................................
বেপরোয়া জবি ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণ নেই নেতাদের
.............................................................................................
কমছে কেন পেঙ্গুইনের সংখ্যা
.............................................................................................
সাগর উত্তাল, বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
.............................................................................................
এক মাসে ৩১ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে বিজিবি
.............................................................................................
দেশে এখনও ৮.৮ শতাংশ মানুষ কেরোসিনের আলোয় নির্ভরশীল
.............................................................................................
ছয় মাসে ২০২১টি শিশু নির্যাতনের শিকার
.............................................................................................
বাংলাদেশে এইডস রোগে আক্রান্ত ৮৬৫ জন
.............................................................................................
মাদক কারবারে শৃঙ্খলা বাহিনীর ২৫০ জন
.............................................................................................
বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছর
.............................................................................................
‘খাদ্য সংকটে’ শূন্যরেখার রোহিঙ্গারা
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের জন্য ১৬ কোটি টাকা সহায়তা দেবে জাপান
.............................................................................................
গ্যাস উত্তোলন ও অনুসন্ধানে সরকারি সংস্থার কচ্ছপগতিতে কাটছে না সঙ্কট
.............................................................................................
প্লাস্টিকের উৎপাদন ও ব্যবহার রোধে আইনের কঠোর প্রয়োগ দাবি টিআইবি’র
.............................................................................................
শতভাগ ঈদ বোনাস দাবি বেসরকারি শিক্ষকদের
.............................................................................................
সংরক্ষিত নেই সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের সুনির্দিষ্ট তথ্যাবলী
.............................................................................................
আরও দু’বছর কুয়েতের রাষ্ট্রদূত থাকছেন আবুল কালাম
.............................................................................................
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রাধান্য দেয়ার ওপর গুরুত্বারোপ
.............................................................................................
চলন্ত ট্রেনে ঢিল ছোঁড়া দুষ্কৃতকারীদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন করার উদ্যোগ
.............................................................................................
সরকারি চাকুরেদের বেতন বাড়ছে ভোটের আগে
.............................................................................................
অনিরাপদ পানিতে দেশে দিনে দিনে কলেরার প্রকোপের মাত্রা বাড়ছে
.............................................................................................
সর্বোচ্চ উৎপাদনেও নিয়ন্ত্রণে নেই লোডশেডিং
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের দ্বিতীয় তালিকা প্রস্তুত, নিতে রাজি হয়নি মিয়ানমার
.............................................................................................
বই সঙ্কটে আটকে রয়েছে বিপুলসংখ্যক পাসপোর্ট
.............................................................................................
সড়ক বিভাগের সচিব নজরুলকে আরও ২ বছরের চুক্তিতে নিয়োগ
.............................................................................................
বাজারের ৭৫ শতাংশের বেশি প্রাস্তুরিত দুধ সরাসরি পানের জন্য নিরাপদ নয়
.............................................................................................
আরো ৩ দিন বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
.............................................................................................
দক্ষিণ গোলার্ধে ৭৮ ফুট উঁচু ঢেউয়ের রেকর্ড
.............................................................................................
ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন পণ্যের ভেজাল রোধে ৯টি ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ
.............................................................................................
দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বর্ষণ ও শিলা বৃষ্টি হতে পারে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]