ঢাকা,বৃহস্পতিবার,৭ কার্তিক ১৪২৭,২২,অক্টোবর,২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   প্রবাসে বাংলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খুদে বিজ্ঞানী সুবর্ণ

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাড়ে ৮ বছর বয়সী সুবর্ণ আইজ্যাক বারীকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী অধ্যাপক ও খুদে আইনস্টাইন বলা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়া এই খুদে বিজ্ঞানীকে গত ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়।

বিশ্বজুড়ে আলোচিত খুদে বিজ্ঞানী সুবর্ণের কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে সম্মাননার স্বীকৃতিপত্র দিয়েছেন নিউইর্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো। করোনার কারণে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সেটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

সুবর্ণের পরিবার জানিয়েছে, প্রতিনিধিদল স্বীকৃতিপত্র পৌঁছে দেয়ার সময় গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুবর্ণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি কবে নাগাদ এ সাক্ষাৎ করছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এ স্বীকৃতিপত্রে বিশ্বের কনিষ্ঠ বিজ্ঞানী সুবর্ণের গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে অসামান্য অর্জন, সন্ত্রাস-বিরোধী প্রচারে অংশগ্রহণ, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেতনতার ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে ‘চাইল্ড প্রডিজি’ হিসেবে পরিচিত বলেও বলা হয়।

এ ছাড়া ভ্রাতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও সহানুভূতির দ্বারা গভীর চরিত্র এবং মূল্যবোধের সিঁড়ি আলাদা করায় নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে সুবর্ণকে সম্মাননা জানানোর বিষয়টি তুলে ধরেন গভর্নর। তার ‘দ্য লাভ’ বইয়ে সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা জাগাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন তিনি।

সুবর্ণ নিউইয়র্কে বসবাসকারী একটি বাংলাদেশি পরিবারে ২০১২ সালের এপ্রিল ৯ জন্মগ্রহণ করেন। খুব অল্প বয়সে পিএইচডি পর্যায়ের গণিত, পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি পান তিনি। এরপর তাকে শুভেচ্ছা জানান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যক্তিরা।

অক্সফোর্ড ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানায় সুবর্ণকে। ২০১৮ সালে তাকে খুদে বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সুবর্ণকে বিজ্ঞানী হিসেবে ভারতের দিল্লিতে ‘গ্লোবাল চাইল্ড প্রডিজি অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী। পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে তাকে দেশটির মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সুবর্ণর বাবা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি রাশীদুল বারী এবং মা শাহেদা বেগম। এই দম্পতি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। রাশীদুল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে পিএইচডি করে নিউ ইয়র্কের ব্রোনক্স কলেজের গণিতের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এই পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান সুবর্ণ।

নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খুদে বিজ্ঞানী সুবর্ণ
                                  

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সাড়ে ৮ বছর বয়সী সুবর্ণ আইজ্যাক বারীকে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী অধ্যাপক ও খুদে আইনস্টাইন বলা হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাওয়া এই খুদে বিজ্ঞানীকে গত ১৭ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়।

বিশ্বজুড়ে আলোচিত খুদে বিজ্ঞানী সুবর্ণের কাজের প্রতি সম্মান জানিয়ে সম্মাননার স্বীকৃতিপত্র দিয়েছেন নিউইর্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমো। করোনার কারণে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে সেটি তার বাড়িতে পৌঁছে দেয়া হয়।

সুবর্ণের পরিবার জানিয়েছে, প্রতিনিধিদল স্বীকৃতিপত্র পৌঁছে দেয়ার সময় গভর্নরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সুবর্ণকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে তিনি কবে নাগাদ এ সাক্ষাৎ করছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এ স্বীকৃতিপত্রে বিশ্বের কনিষ্ঠ বিজ্ঞানী সুবর্ণের গণিত ও পদার্থ বিজ্ঞানে অসামান্য অর্জন, সন্ত্রাস-বিরোধী প্রচারে অংশগ্রহণ, শান্তি প্রতিষ্ঠায় সচেতনতার ব্যবহারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বে ইতিবাচক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় তাকে ‘চাইল্ড প্রডিজি’ হিসেবে পরিচিত বলেও বলা হয়।

এ ছাড়া ভ্রাতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও সহানুভূতির দ্বারা গভীর চরিত্র এবং মূল্যবোধের সিঁড়ি আলাদা করায় নিউইয়র্কের পক্ষ থেকে সুবর্ণকে সম্মাননা জানানোর বিষয়টি তুলে ধরেন গভর্নর। তার ‘দ্য লাভ’ বইয়ে সব ধর্মের মধ্যে সম্প্রীতি ও সহনশীলতা জাগাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলেও মনে করেন তিনি।

সুবর্ণ নিউইয়র্কে বসবাসকারী একটি বাংলাদেশি পরিবারে ২০১২ সালের এপ্রিল ৯ জন্মগ্রহণ করেন। খুব অল্প বয়সে পিএইচডি পর্যায়ের গণিত, পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করে বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি পান তিনি। এরপর তাকে শুভেচ্ছা জানান সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে বিভিন্ন খ্যাতনামা ব্যক্তিরা।

অক্সফোর্ড ও পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চিঠি লিখে শুভেচ্ছা জানায় সুবর্ণকে। ২০১৮ সালে তাকে খুদে বিজ্ঞানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। সুবর্ণকে বিজ্ঞানী হিসেবে ভারতের দিল্লিতে ‘গ্লোবাল চাইল্ড প্রডিজি অ্যাওয়ার্ড’ দিয়েছেন নোবেল বিজয়ী কৈলাশ সত্যার্থী। পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে তাকে দেশটির মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

সুবর্ণর বাবা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি রাশীদুল বারী এবং মা শাহেদা বেগম। এই দম্পতি বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। রাশীদুল কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে পিএইচডি করে নিউ ইয়র্কের ব্রোনক্স কলেজের গণিতের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এই পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান সুবর্ণ।

বাহরাইনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
                                  

বাহরাইনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও ২ সহোদর।

সোমবার স্থানীয় সময় আনুমানিক দুপুর আড়াইটায় হামেলা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

নিহত ৩ হলেন- কুমিল্লা সদরের মোহাম্মদ এলাহি, বরিশালের ঝালকাঠির রমজান ও টাঙ্গাইলের মধুপুরের চান মিয়া, তবে অপরজনের পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া গুরুতর অবস্থায় কুমিল্লার দুই সহোদর শহিদুল ইসলাম ও এনায়েতকে স্থানীয় বিডিএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের স্থানীয় সালমানিয়া মেডিকেল কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আহত ২ জনসহ ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই একই কোম্পানিতে কাজ করতেন। তারা রাজধানী মানামায় বাস করতেন। ঘটনার দিন কাজ থেকে ঘরে ফেরার সময় প্রাইভেটকারের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার রং সাইডে গেলে পেছন থেকে গাড়ি সজোরে ধাক্কা দেয়। ফলে গাড়ি দুটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয় ও দুই সহোদর গুরুতর আহত হয়।

সিঙ্গাপুরে ‘প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ারিজম অ্যান্ড ফিনালথ্রপি’ পুরস্কার পেলেন এক বাংলাদেশি
                                  

সিঙ্গাপুরে ভালো কাজ ও প্রবাসীদের সচেতনতামূলক সামাজিক কল্যাণমূলক বিভিন্ন কাজের সম্মান স্বরূপ ‘প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ারিজম অ্যান্ড ফিনালথ্রপি’ পুরস্কার পেয়েছেন ওমর ফারুকী শিপন নামের এক বাংলাদেশি। আজ শনিবার রাষ্ট্রপতির ভবনে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি হালিমা ইয়াকোবের হাত থেকে তিনি এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি ‘পিপলস অফ গুড’-এ মনোনীত হয়ে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

সিঙ্গাপুরে প্রতি বছর ভালো কাজে সম্মান দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ পুরস্কার প্রদান করা হয়। তবে এ বছর চারটি পর্যায়ে রাষ্ট্রপতির সর্বোচ্চ সম্মানে সর্বমোট ৩০ জনকে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। চারটি পর্যায় হলো- পিপলস অফ গুড,‘অর্গানাইজেশনস অফ গুড, লিডারস অফ গুড ও স্পেশিয়াল কম্যান্ডেশন। পিপলস অফ গুড-এ পাঁচজন, অর্গানাইজেশনস অফ গুড-এ ৯ জন, লিডারস অফ গুড-এ সাতজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। বাকি ৯ জনকে ‘স্পেশিয়াল কম্যান্ডেশন’-এ ভালো কাজের সম্মান স্বরূপ দেওয়া হয় রাষ্ট্রপতির বিশেষ পুরস্কার।

সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর প্রবাসী বাংলাদেশিরা খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন৷ সেই সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন গুজব ছড়াতে থাকে। ঠিক তখন এগিয়ে আসেন ওমর ফারুকী শিপন। তিনি সিঙ্গাপুরের জনশক্তি মন্ত্রনালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সিঙ্গাপুরের দৈনিক পত্রিকা স্ট্রেইটস টাইমস, সিএনএ ও মাদারশিপ এসজি সংবাদপত্রের সংবাদগুলো বাংলায় প্রকাশ করতে শুরু করেন৷ সিঙ্গাপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনও তাকে বিভিন্ন সময় তথ্য দিয়ে প্রচার করতে সহায়তা করেছেন।



ওমর ফারুকী শিপনের সত্য সংবাদে প্রবাসীদের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময় তার ফেজবুক পেজে চিকিৎসক ও সমাজসেবকদের নিয়ে লাইভ অনুষ্টানে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। সেই অনুষ্টানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও অনেক উপকৃত হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিদিন তিনি ১৪০ থেকে ২০০ জন বংলাদেশির ফোন কলে নানান সমস্যার কথা শোনেন এবং তার উত্তর দেন।

ওমর ফারুকী শিপন চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম আবদুল জলীল মোল্লা ও মাতার নাম দেলোয়ারা বেগম। ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। বর্তমানে তার পরিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানায় বসবাস করছেন৷ তিনি ২০১০ সালে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান এবং এখন পর্যন্ত বহুজাতিক একটি কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।

প্রবাসীদের জীবনের নানান ঘটনা নিয়ে তার লেখা Migrant life; Stories of reverist ইংরেজি ভাষায় ২০১৯ সালে প্রকাশিত হয়৷ বইটি বর্তমানে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

ওমর ফারুক শিপনের ভালো কাজ ও কৃতিত্বে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে সিঙ্গাপুরে আরও বাংলাদেশি ভালো কাজের প্রতিদান অর্জন করবে সেই প্রত্যাশা সিঙ্গাপুরে অবস্থিত সব প্রবাসীদের।

বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ইতালি
                                  

বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ইতালি সরকার। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে বলে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ইতালিতে অবস্থানরত বৈধ ভিসাধারী বাংলাদেশিদের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এটা ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষ চেক করবে, তার পর ভিসা নবায়ন করবে।

ইতালি এখনো নিয়মিত ভিসা ইস্যু চালু করেনি। শুধু যাদের বৈধ ভিসা রয়েছে, তাদের জন্যই ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে।

 

ঢাকার সৌদি দূতাবাস ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ কর্মীদের পাসপোর্ট জমা নিচ্ছেনা
                                  

ঢাকার সৌদি দূতাবাস ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া বাংলাদেশী কর্মীদের পাসপোর্ট জমা না নিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দূতাবাস থেকে এজেন্সি মালিকদের বলা হয়েছে, ভিসা রিনিউ করা হবে না, আগে ভিসা বাতিল করাতে হবে। আর এই প্রক্রিয়া গেলে প্রত্যেক বিদেশগামী কর্মীকে ভিসা ক্রয়, মেডিক্যাল পরীক্ষা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও বিএমইটির খরচসহ অতিরিক্ত আরো দেড় লাখ টাকা খরচ করতে হবে, যা কর্মীদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা।


সৌদি আরবের ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত জনশক্তি প্রেরণকারী ব্যবসায়ীরা নাম না প্রকাশ করে বলছেন, একবার তো প্রতি কর্মীর জন্য তারা প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ করেই ফেলেছেন। এখন আবার নতুন করে দেড় লাখ টাকা খরচ (এজেন্সি) করতে হবে তাদের। এতে তারা (এজেন্সিগুলো) নতুনভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তাই তারা চাচ্ছেন, শুধু পুনরায় মেডিক্যাল পরীক্ষা করেই যাতে শ্রমিকদের সৌদি আরবে পাঠানো যায় সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার ও ঢাকার সৌদি দূতাবাস প্রধানের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে জনশক্তি প্রেরণকারী একজন ব্যবসায়ী নয়া দিগন্তকে বলেন, গত মার্চ মাসের আগ পর্যন্ত যে ভিসাগুলো স্ট্যাম্পিং করা ছিল, ম্যানপাওয়ারও হয়েছিল; কিন্তু কোভিডের কারণে ফ্লাইট বন্ধ থাকায় আমরা তাদের পাঠাতে পারিনি। সেই ভিসার মেয়াদ এখন শেষ হয়ে গেছে। একজন কর্মীর ভিসার মেয়াদ থাকে তিন মাস। এখন আমরা চাচ্ছি, এসব কর্মীর নতুন করে শুধু মেডিক্যাল করিয়ে দিলেই হবে। এটা হচ্ছে আমাদের বক্তব্য।


কিন্তু অ্যাম্বেসির বক্তব্য হচ্ছে, এই ভিসা আগে কেনসেল করাতে হবে। কেনসেল করানোর পর এই ভিসা কফিলের কাছে ফেরত যাবে। কফিল ভিসার ফি দুই হাজার রিয়াল ফেরত নেবে। এরপর যদি কফিলের লোকের কোনো প্রয়োজন হয় তাহলে সে আবার ফি জমা দিয়ে লোক নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে ভিসার আবেদন করবে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার লাইসেন্সে যে ভিসাটা প্রসেসিং করতে পারব সেটাকে আমরা ওকালা বলে থাকি। এটি করতে ওই দেশের রিক্রুটিং এজেন্সিকে আমার ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়। মেডিক্যাল করাতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করাতে আড়াই হাজার টাকা। এ ছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর ফি, ভিসা ফি ২২ ডলারসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ ছাড়া ভিসা তো বিভিন্ন জনে বিভিন্ন দামে কেনে। সেই হিসাবে একটি ভিসার দাম পাঁচ হাজার রিয়াল। সেই হিসাবে এক লাখ টাকা খরচ হয়। সব মিলিয়ে আমাদের একজন শ্রমিকের ভিসা প্রসেসিং বাবদ দেড় লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। যেটি আমরা গত মার্চ মাসেই করেছি। এখন আপনাদের দাবি কি- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যেসব ভিসার মেয়াদ এক্সপেয়ার হয়ে গেছে সেগুলোকে সাশ্রয় মূল্যে শুধু মেডিক্যাল করে নতুন করে অ্যাম্বেসি যেনো ভিসা রিনিউ করে দেয়।

পাসপোর্ট কি অ্যাম্বেসিতে জমা দিচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অ্যাম্বেসি পাসপোর্ট বই জমাই নিচ্ছে না। বলছে তোমার বই নতুন করে প্রসেস করো। নতুন করে আবার ভিসা প্রসেস করতে গেলে তাহলে আমাদের প্রতি কর্মীর জন্য দেড় লাখ টাকা খরচ হবে। আর এই টাকা কিন্তু কর্মীর পকেট থেকেই যাবে। প্রসেসিং হওয়া এমন ২০০ ভিসা আমার কাছে এখন রয়েছে। বায়রা বলেছিল, তাদের কাছে ৮৫ হাজার এমন ভিসা রয়েছে। এর মধ্যে সৌদিগামী বেশি। এর আগে মন্ত্রণালয় ও দূতাবাস সংশ্লিষ্টরা সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, ঢাকায় আটকে থাকা সব শ্রমিকরাই সৌদি আরবে যেতে পারবে। কিন্তু সেই জটিলতার সমাধান কিন্তু এখনো আমরা দেখতে পাচ্ছি না। এ নিয়ে টেনশনে আছি। শুনতেছি আজকালের মধ্যে নতুুন কোনো সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সেটির অপেক্ষায় আছি।

ইমিগ্রেশন পলিসি অনুসরণ না করে ১০৪ জনকে ফেরত, যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিবে দুবাই
                                  

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইমিগ্রেশন পলিসি অনুসরণ না করে ১০৪ জনকে বাংলাদেশ থেকে দুবাই নিয়ে যাওয়ায় তাদের প্রবেশ করতে না দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায় দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় রোববার রাতে প্রত্যেক যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ বাবদ টিকেটের ক্রয়মূল্য এবং অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদানের জন্য ফ্লাই দুবাইকে নির্দেশ দিয়েছেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট।

জানা গেছে, গত ৯ অক্টোবর ফ্লাই দুবাই-এর দুটি ফ্লাইট যোগে ঢাকা থেকে যাত্রা করে ৫১ জন এবং চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করে ৫৩ জন। ১১ অক্টোবর দুবাই বিমানবন্দর থেকে তাদের আবারও বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। ওই যাত্রীরা দুবাই থেকে সড়কপথে আল আইন ও আবুধাবি যেতে ইচ্ছুক ছিলেন।

ঢাকায় ফেরত আসা যাত্রীদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের ম্যাজেস্ট্রেট কোর্টের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে যে, তাদের ফেরত আসার জন্য ফ্লাই দুবাইয়ের গাফিলতিই দায়ী। তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইমিগ্রেশন পলিসি অনুসরণ করে থাকলে যাত্রীদের দুবাইগামী ফ্লাইটে বোর্ডিং করা যেত না।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ভোগান্তির শিকার যাত্রীদের উপস্থিতিতে শুনানির পর ফ্লাই দুবাই কর্তৃপক্ষকে ফেরত আসা মোট ১০৪ জন যাত্রীর প্রত্যেককে আগামী ১৮ অক্টোবরের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বাবদ টিকেটের ক্রয়মূল্য এবং অন্যান্য খরচ বাবদ আরও ৩ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। এয়ারলাইন্সটি এই আদেশ অনুসরণের লিখিত অঙ্গীকার করেছে।

ইতালি প্রবাসীদের আন্দোলনে নামার ঘোষণা
                                  

বিভিন্ন দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন মহামারির কারণে দেশে এসে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীরা। টানা কয়েক দিনের আন্দোলনের পর এর সুফলও মিলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন ইতালি প্রবাসীরা। তিন দফা দাবি নিয়ে রোববার থেকে তাদের এই কর্মসূচি শুরু হচ্ছে।

প্রবাসীরা জানান, কর্মস্থলে ফিরে যেতে না পেরে হতাশায় ভুগছেন তারা। অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। টানা আট-নয় মাস ধরে অলস সময় কাটিয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশিদের ইতালি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানো নিয়েও কোনো ঘোষণা নেই।


সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতিতে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ইতালি প্রবাসীরা। তাই তিন দফা দাবি নিয়ে রোববার সকালে রাজধানী ঢাকায় ইতালির দূতাবাসের সামনে মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শুরু হবে। এরপর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে আরো একটি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।

মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হবে। সেগুলো হলো-

১) যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে।
২) বাংলাদেশ থেকে ইতালির ফ্লাইট চালু করা।
৩) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ইতালি প্রবাসীদের সহায়তা করা।

আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বেড়েছে
                                  

সৌদি আরব থেকে ছুটিতে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বেড়েছে। আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত এ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে গত ৩০ সেপ্টেম্বরের পর ভিসা বাতিল হয়ে যাওয়া কর্মীদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো। এর আগে মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে টানা দুই সপ্তাহ ঢাকায় বিক্ষোভ করে প্রবাসী কর্মীরা।

আজ বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ভিসা বাড়ানোর তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে দিয়েছে সৌদি আরব।

কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ছুটিতে যাওয়ার সময় সব প্রবাসী কর্মীকে ‘এক্সিট রি-এন্ট্রি ভিসা’ বা পুনরায় প্রবেশের ভিসা নিয়ে যেতে হয়। ছুটি যত দিনের, এ ভিসাও তত দিনের থাকে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফিরে যেতে হয়। নিয়োগকর্তা (কফিল) ছুটি বাড়ালে ভিসার মেয়াদও বেড়ে যায়। কারও যদি ইকামার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তাও বাড়িয়ে নিতে হয়। এসব কাজ অনলাইনে করতে পারেন কফিল। কিন্তু করোনার জন্য বিভিন্ন দেশের লাখো কর্মী আটকা পড়েছেন। তাঁদের সবারই ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তাই হাজার হাজার কফিলের পক্ষ হয়ে এর আগে সৌদি সরকার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বাড়িয়ে দেয়। এবার তা ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ল।

প্রবাসীরা বলছেন, উড়োজাহাজের টিকিট না পাওয়ায় অনেকেই নির্ধারিত সময়ে যেতে পারেনি। অনেকে নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেও কেউ কেউ হতাশ হয়ে পড়েন। সবার কফিল ভালো নয়। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছিল তারা। এখন সরকারের পক্ষ থেকে সবার মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর উড়োজাহাজের টিকিট ও ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবিতে রাস্তায় নামেন প্রবাসী কর্মীরা। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে সৌদি সরকারকে চিঠি দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এরপর সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, সবাইকে আলাদা করে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে।

৬ মাসে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক ফেরত
                                  

বিদেশ থেকে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদেরও দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। গত ৬ মাসে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক ফেরত এসেছেন।


এ দিকে সৌদি আরব পাড়ি জমানো নারী শ্রমিকদের মধ্যে অনেকেই গৃহকর্তা-গৃহকর্ত্রী বা তাদের সন্তানদের হাতে নানা অজুহাতে নির্যাতিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে পাড়ি জমানো নদী আক্তার নামে এক তরুণীর গৃহকর্তার বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। গত ২১ আগস্ট তরুণীর মৃত্যু হলেও তার লাশ এখনো সে দেশের মর্গে পড়ে আছে।

হতভাগ্য তরুণীর লাশ দেশে আনতে নিহতের বাবা মো: দুলাল শেখ প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংসস্থান মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অনেক দফতরেই লিখিত আবেদন দিয়েছেন। কিন্তু অদ্যাবধি তার লাশ দেশে আনার কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। উল্টো প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নদী আক্তারের লাশ স্থানীয়ভাবে দাফন করার অনুমতি চেয়ে নিহতের বাবার কাছ থেকে লিখিত অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু তিনি সেটি ফিরিয়ে দিয়েছেন।



গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সৌদি আরবের মদিনায় রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হওয়া নদী আক্তারের বাবা মো: দুলাল শেখ নয়া দিগন্তকে বলেন, আমার মেয়েকে বাংলা মটরের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি (লাইসেন্স নম্বর-২৬৫) থেকে ১৮ মাস আগে সৌদি আরবে পাঠিয়েছিলাম। এর মধ্যে সে ৫ মাসের বেতন আমাদেরকে পাঠিয়েছিল। বাকি টাকা চেয়েও আমার মেয়ে পায়নি। উল্টো মালিক বেতন না দিয়ে তাকে নির্যাতন করত বলে আমাদের জানাত নদী। এরমধ্যে চলতি বছরের আগস্টে ঢাকার রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক লালন সাহেব আমাদের টেলিফোন করে জানান, আপনার মেয়ে সৌদি আরবে মারা গেছেন। কিভাবে মারা গেছে- জানতে চাইলে তিনি তার কোনো জবাব দেননি।

তিনি বলেন, মারা যাওয়ার ১১দিন আগেও আমার মেয়ে সুস্থ অবস্থায় টেলিফোনে আমার সাথে কথা বলেছিল। তার দাবি, নদী আক্তারকে গৃহকর্তা বা তার অন্য কেউ নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। এ নিয়ে আমি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু অদ্যাবধি আমার মেয়ের লাশ দেশে আনার কোনো পদক্ষেপ এখনো নেয়া হয়েছে কিনা তা আমি জানতে পারিনি। এরমধ্যে গত মাসে মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি আসে আমার কাছে। তাতে লেখা আছে ‘আমার মেয়ে নদী আক্তার সৌদি আরবে আত্মহত্যা করেছে। এ নিয়ে তদন্ত চলছে’। সৌদি আরবেই নদী আক্তারের লাশ দাফন করার জন্য তারা আমার কাছে লিখিত অনুমতিও চেয়েছিল। আমি বলেছি, আমি তো আমার মেয়ের লাশই দেখলাম না। ওই দেশে দাফনের অনুমতি দেবো কিভাবে?

গত ২৭ আগস্ট নদী আক্তারের লাশ দেশে আনতে নিহতের বাবা দুলাল শেখ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে লিখিত আবেদনে উল্লেখ করেন, নদী আক্তারের পাসপোর্ট নম্বর-বিওয়াই-০২৪১৪৮১। মা বিউটি বেগম। শিমনগর, মেঘনা কুমিল্লা। সে ২১ আগস্ট মারা গেছে বলে জেনেছি। এখন মদিনার একটি হাসপাতাল মর্গে তার লাশ সংরক্ষিত রয়েছে। তার লাশ স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিকে সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে গত ৬ মাসে ফেরত আসা ১৭ হাজার ১৮২ জন নারী শ্রমিকের মধ্যে সৌদি আরব থেকেই এসেছেন ছয় হাজার ২৫ জন। এরপরের অবস্থানে আছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তারপর কাতার ও লেবানন।

গতকাল প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদের সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামানের পাঠানো ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়, বিদেশ ফেরত ও আটকেপড়া কর্মীদের সহযোগিতা প্রদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের লক্ষ্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সব কর্র্মীর নিবন্ধনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সৌদি প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না
                                  

বৈশ্বিক করোনায় দেশে আটকে পড়া সৌদি প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না। দিন যত যাচ্ছে ক্রমেই বাড়ছে সংকট। গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে সমস্যা নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। গতকালও টিকিট-টোকেন ও চাকরি বাঁচানোর দাবিতে সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সামনে জমায়েতকালে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হন প্রবাসীরা। এসময় নারী প্রবাসীসহ আহত হন অনেকে। টিকিট-টোকেন নিতে ভেতরে ঢুকতে না পেরে হোটেল সোনারগাঁওয়ের গেট ভাঙচুর করেন প্রবাসীরা। পরে বিকাল পর্যন্ত অবরোধ করেন তারা। নানা আশ্বাস দিয়েও মানানো যাচ্ছে না কারওয়ান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ও মতিঝিলের বিমানের টিকিটের জন্য অপেক্ষারত প্রবাসীদের। সচিবালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকায় সৌদি দূতাবাসের সামনেও বিক্ষোভ করেছেন তারা। তাদের সকলের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ।

জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ইকামা ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও সৌদি আরবে ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সি ও বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সরকারিভাবে মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা আসলে মুখে মুখে। সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কারও মেয়াদ বাড়েনি এবার। সবাইকে আলাদা করে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ নবায়নের মাধ্যমে ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধিতে কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে। যা পূরণ করে একজন বাংলাদেশির পক্ষে নির্ধারিত সময়ে কাজে ফেরা প্রায় অসম্ভব। আবার অনেকের সব কিছু ঠিক থাকার পরও টিকিট পাচ্ছেন না। এতে তাদের যাত্রা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘সে দেশের কফিল (নিয়োগকর্তা) না চাইলে ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করবে না সৌদি কর্তৃপক্ষ। কারণ সেখানে ফিরে তো তাদের কফিলের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কফিল যাদের চাচ্ছেন না, শুধু তারা যেতে পারবেন না, বাকিরা তো যাচ্ছেন।’ এরই মধ্যে ইকামা ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর নামে অনেক সৌদি মালিকের বিরুদ্ধে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন সৌদি ফেরত প্রবাসীরা। আবার টাকা নিয়েও অনেক সৌদি মালিক ছুটি ও ইকামার মেয়াদ বাড়ায়নি, এমন অভিযোগ প্রবাসীদের। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ না বাড়ায় সৌদি কফিলদের ওপরই নির্ভর করছে সৌদিফেরত এসব প্রবাসীদের পুনরায় কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়টি।

প্রবাসীরা বলছেন, সবার কফিল ভালো নয়। তাই স্বয়ংক্রিয়ভাবে না বাড়ালে সবার মেয়াদ বাড়বে না। ইকামার জন্য সৌদি সরকারের বিভিন্ন ফি আছে। আবার অনেক প্রবাসী টাকার বিনিময়ে কফিলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ থাকেন। এক বছরের ইকামার জন্য অনেক প্রবাসী কফিলকে ৫ থেকে ৬ হাজার রিয়াল (১ লাখ টাকার বেশি) দিয়ে থাকেন। তাই কর্মীর অনুপস্থিতিতে ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর ঝুঁকি নিতে চাইবেন না কফিলরা।

৩০ সেপ্টেম্বর ইকামার মেয়াদ শেষ হওয়া নারায়ণগঞ্জের ভূইঁগড়ের আবদুল আলিম এবং তার চাচাতো ভাই রমিজ উদ্দিন ভুঁইয়া তাদের কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে কফিল তাদের কাছে তিন হাজার রিয়াল চেয়েছেন। আবদুল আলিম ইত্তেফাককে বলেন, ‘করোনায় সাত মাস ধরে দেশে বসে আছি। সংসার চালাতে হচ্ছে ধার দেনা করে। এর মধ্যে এত টাকা কোথায় পাবো?’ একই কথা বললেন নরসিংদী শিবপুরের তাকাসুর রহমান, খুলনার টুটপাড়ার মো.সেলিম। তারা বলেন, সৌদি মালিকরা ইচ্ছামতো অর্থ চাচ্ছেন। করোনা মহামারির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সরকার যদি সৌদি সরকারকে বুঝিয়ে কোন একটি ব্যবস্থা না করে তবে আমাদের পথে বসতে হবে। সমস্যা সমাধানে আবারও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন সিদ্ধান্তের বিষয়টি হালনাগাদ করে সমস্যা সমাধানের জন্য ঢাকায় সৌদি দূতাবাস ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলছে। বায়রার একজন কর্মকর্তা জানান, ভিসা নবায়নের সুযোগ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে শর্ত কঠিন। সৌদি দূতাবাসের নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আমরা ভিসা নবায়নের জন্য সৌদি দূতাবাসে আবেদন করলে তারা কফিলের কাগজ চাচ্ছে। কফিল যদি সেখানকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়িত কাগজ না পাঠান তাহলে ভিসা নবায়ন করবে না তারা। ছুটি ও ইকামার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সৌদি কফিলদের অনেকেই বাড়তি টাকা দাবি করছেন। সৌদি আরব বলছে, ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তারা ইকামার মেয়াদ বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু ছুটির মেয়াদ বাড়াতে হলে কর্মীদের তাঁর কফিলকে রাজি করাতে হবে।

এদিকে ভিসা, ইকামা ও ফ্লাইটের টিকিটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে দেশে অবস্থান করা প্রবাসী কর্মীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ জন্য শিগগিরই গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এক কর্মকর্তা বলেন, দেশে অবস্থান করা সৌদিসহ মধ্যেপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মীদের কার কী সমস্যা তার সঠিক তথ্য মন্ত্রণালয়ে নেই।

সৌদি প্রবাসীদের ওপর লাঠিচার্জ:রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে টাকেন নিতে গিয়ে লাঠিপেটার শিকার হলেন সৌদি প্রবাসীরা। প্রতিদিনের মতো গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সামনে ভিড় করেন তারা। এ সময় টোকেন নিতে ভেতরে ঢুকতে না পেরে হোটেল সোনারগাঁওয়ের গেট ভাঙচুর করেন সৌদিগামীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। জানা যায়, গতকাল ৪৫০ জনকে টোকেন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ১০ হাজারের বেশি লোকসমাগম হয়। তাদের ফরম দেওয়া হয়। সবাই ভিসার মেয়াদ, পাসপোর্ট নম্বর ও মোবাইল নম্বর লেখেন। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ভিসার মেয়াদ বিবেচনায় দেড় হাজার টোকেন দেওয়ার কথা জানায় সাউদিয়া এয়ারলাইন্স।

জার্মানে শতাধিক বাড়ির মালিক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবরাজ
                                  

পুরো বিশ্বজুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য বাংলাদেশি। তারা ওই দেশগুলোতে বেশ সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন। গড়ে তুলেছেন ব্যবসা-বাণিজ্য, বাড়ি-গাড়ি। পাশাপাশি সততার সঙ্গে কাজ করে অর্জন করেছেন সুনাম। তাদের মধ্যেই একজন জার্মান প্রবাসী যুবরাজ তালুকদার। তিনি সেখানকার বন শহরে বসবাস করেন এবং আবাসন খাতের একজন সফল ব্যবসায়ী।

তবে এই খাতে ব্যবসা করলেও তিনি কোনো বাড়ি কিংবা জমি বিক্রি করেন না, শুধু কিনেন। এরপর সেগুলো নিজের মতো করে সাজিয়ে ভাড়া দিয়ে দেন। এভাবেই মাত্র ৫০ বছর বয়সে বন শহরের শতাধিক বাড়ির মালিক বনে গেছেন যুবরাজ তালুকদার।



ডয়চে ভেলেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এই বাংলাদেশি জানান, বড় কোনো বিনিয়োগ নিয়ে এই খাতে ব্যবসা শুরু করেননি। যা গড়েছেন সম্পূর্ণ নিজের কামানো টাকায় এবং চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে।

তিনি জানান, ১৬ বছর বয়স থেকেই লেখাপড়ার পাশাপাশি স্থানীয় একটি হোটেল কাজ করতেন। সেখান থেকে পাওয়া অর্থ এবং পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে চাকরি করে যে বেতন পেয়েছিলেন, সেগুলো জমাতেন। কারণ এখান থেকে কোনো টাকাই তার বাবা নিতেন না, তাই সবগুলোই সঞ্চয় করতে পেরেছেন। সেই টাকা দিয়েই ১৯৯১ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সে নিলামের মাধ্যমে একটি বাড়ি কিনেন। যার খরচ পড়েছিল সাড়ে ৬ হাজার ইউরো।

যুবরাজ তালুকদার মূলত পুরনো ঘরবাড়ি বিভিন্ন ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিলামে ক্রয় করেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো সংস্কার করে ভাড়া দেন। বিশেষ করে, ১৯৬০-১৯৭০ সালের দিকে বানানো বাড়িগুলো তিনি কিনেন। এক্ষেত্রে এক হাজার বর্গফুটের একটি বাড়ি সংস্কার করতে ব্যয় হয় নূন্যতম ৪০ হাজার ইউরো। আর সেই কাজ কোনো কোম্পানিকে দিয়ে না করিয়ে নিজেই করেন। তার কর্মী আছে ছয় জন, তারাই এ কাজে সব ধরনের সহায়তা করেন। এতে অর্ধেক খরচ বেঁচে যায়।

মাঝে-মধ্যে ২০০-৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক বাড়ি কিনে সেগুলো বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে সংস্কার করেন। এগুলো বেশি পুরনো হওয়ায় বাড়ির বাইরের অংশের ডিজাইনে কোন পরিবর্তন করা যায় না। শুধু ভেতরটা নিজেদের মতো করে বদলে নেয়া যায়। আর বাংলাদেশি এই প্রবাসী সেটাই করেন। তারপর তা ভাড়া দিয়ে দেন।

আবাসন খাতের পাশাপাশি এই ব্যবসায়ী কোলন-বন বিমানবন্দরের কাছে একটি ইতালীয় রেস্তোরাঁও চালু করেছেন। এ ছাড়া কোলনের একটি আদালতে অনারারি জাজ হিসেবেও নিয়োগ পেয়েছেন।

গত ৬ মাসে দেশে ফিরে এসেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী
                                  

গত ৬ মাসে দেশে ফিরে এসেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশী। গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিশ্বের ২৯টি দেশ থেকে এসব প্রবাসী বাংলাদেশীরা দেশে ফিরেছেন। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডেস্কের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল আলম জানিয়েছেন, গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে যারা ফেরত এসেছে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১৮ জন পুরুষ এবং ১৬ হাজার ৬৪০ জন নারী রয়েছেন।

তিনি জানান, বিদেশ ফেরত কর্মীদের মধ্যে বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে কাজ না থাকা, কাজের বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, আকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব প্রবাসী কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। অনেকে আবার বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউট পাশ নিয়েও দেশে ফেরত এসেছেন।


ফেরত আসা কর্মীদের অনেকে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট দেশে ফিরে যেতে পারবেন বলে সূত্র জানায়।

দেশে ফেরা কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরেছেন ৪৪ হাজার ৬১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ৪১ হাজার ৪৬০ জন। আর নারী কর্মী ফিরেছেন ৩ হাজার ১৫৬ জন।

সৌদি আরব থেকে ৩৯ হাজার ১৮৮ জন প্রবাসী কর্মী ফেরত এসেছেন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৩ হাজার ৪১২ জন, আর নারী কর্মী রয়েছেন ৫ হাজার ৭৭৬ জন। সৌদি ফেরত কর্মীদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে এবং কাজ না থাকায় ছুটি নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

বিভিন্ন মেয়াদে কারা ভোগ করে আউটপাস নিয়ে ওমান থেকে দেশে ফেরত আসেন ১০ হাজার ৭১৩ জন। করোনা ভাইরাসের প্রেক্ষিতে কাজ না থাকায় টুরিস্ট নির্ভর দেশ মালদ্বীপ থেকে ফিরেছেন ১০ হাজার ৪৮৩ জন প্রবাসী কর্মী। আকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কুয়েত থেকে দেশে ফিরেছেন ৯ হাজার ৯৯৭ জন। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন ২ হাজার ৭৯৪ জন। বাহরাইন থেকে ফিরেছেন ৯২১ জন।

কাজ না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসেছেন ৭১ জন প্রবাসী। কাতার থেকে ফিরেছেন ১৪ হাজার ৯১১ জন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছেন ৭ হাজার ৫৬৮ জন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফিরেছেন ১০০ জন। কাজ না থাকায় থাইল্যান্ড থেকে ফিরেছেন ৩২ জন, মিয়ানমার থেকে ৩৯ জন, জর্ডান থেকে ২ হাজার ১৯৭ জন এবং ইরাক থেকে ফিরেছেন ৮ হাজার ৩২ জন।

কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছেন ১২১ জন এবং শ্রীলংকা থেকে ৫৪৮ জন।

অন্যদিকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ইতালি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৫১ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে। এই ১৫১ জন প্রবাসী গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে ইতালি গেলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। পরে দেশে ফিরলে সবাইকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল।

এছাড়া লেবানন থেকে ৫ হাজার ৮০১ জন, রাশিয়া থেকে ১০০ জন, মরিশাস থেকে ৪৫২ জন, তুরস্ক থেকে ৬ হাজার ১৪২ জন, নেপাল থেকে ৫৫ জন, হংকং থেকে ১৬ জন, কম্বোডিয়া থেকে ১০৬ জন, জাপান থেকে ৮ জন, লন্ডন থেকে ৫৩ জন, লিবিয়া থেকে ৩১৫ জন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ১২৮ জন প্রবাসীকর্মী দেশে ফেরত এসেছেন।

বিদেশ প্রত্যাগত এসব কর্মীদের পুনর্বাসন প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বাসসকে বলেন, বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে সরকার ৭০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন এবং তাদেরকে পুনঃ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আবারো বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে বিদেশ প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসন ও প্রবাসে কর্মরতদের নিরাপদ অভিবাসনসহ তাদের সার্বিক কল্যাণে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

মন্ত্রণালয় গৃহীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বিপদগ্রস্থ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তার জন্য প্রায় ১০ (দশ) কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য প্রদান, কোভিড-১৯ এ মৃত প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশির পরিবারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৩ লাখ টাকা আর্থিক সাহায্য প্রদান; করোনা ভাইরাসের প্রভাবে বিদেশ ফেরৎ কর্মীদেরকে কোয়ারেন্টিন পালন শেষে নগদ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা; বিদেশ প্রত্যাগত অভিজ্ঞ কর্মীদের যথাযথ স্বীকৃতি ও সনদায়নের উদ্যোগ; বিদেশ ফেরত অসহায়, ক্ষতিগ্রস্ত, দরিদ্র কর্মী ও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীর পরিবারের সদস্যদেরকে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীসহ দেশে চলমান সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় মানবিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বাসসকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনের জন্য ৭০০ কোটি টাকার তহবিল গঠনসহ বিভিন্ন ধরণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর আওতায় কোভিড-১৯ এ ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরত কর্মীদের ৪ শতাংশ সরল সুদে বিনিয়োগ ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এ জন্য ২শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী কর্মীদের পুনর্বাসনে সহজ শর্তে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ দেয়া হচ্ছে। ঋণ প্রদানের বিষয়ে গত ১২ জুলাই প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সাথে ওয়েজ অর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী বলেন, বিদেশ ফেরত কর্মীরা অভিজ্ঞতার বিবেচনায় দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আমরা প্রবাসী কর্মীদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছি। তাদের সামগ্রিক সুরক্ষায় সরকারের সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।’

সূত্র : বাসস

ভিসা জটিলতায় যাত্রা আটকে গেল ২৯ হাজার ৮৯৮ জন সৌদি প্রবাসীর
                                  

করোনা ভাইরাসের কারণে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত এসেছেন ৩৩ হাজার ২১৬ প্রবাসীকর্মী। এর আগেও ওই দেশ থেকে কয়েক হাজার কর্মী ফিরেছেন বিভিন্ন কারণে। তারা এখন ফিরতে চান তাদের কর্মস্থলে। বাংলাদেশ ও সৌদির বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জটিলতায় কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে এতদিন অনিশ্চয়তায় ছিলেন তারা। এর পর টিকিটের জন্য শুরু হয় প্রাণপণ লড়াই। এবার ভিসা জটিলতায় যাত্রা আটকে গেল ২৯ হাজার ৮৯৮ জনের। কারণ গতকাল বুধবার শেষ হয়ে গেছে তাদের ভিসার মেয়াদ।

এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ভিসা পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সৌদিতে কর্মস্থলে ফিরতে ইচ্ছুকরা। তাই দ্রুত বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছেন তারা। টানা আন্দোলন-বিক্ষোভের পর গত সাত দিনে সৌদি আরব ফিরেছেন মাত্র তিন হাজার ৩১৮ জন। সৌদি আরব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পর অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে সে দেশে ফেরা শুরু হয়।

গতকাল গালফ অঞ্চলের ছয় দেশ এবং মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রবাসী ও শ্রমিক ইস্যুতে বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন বলেন, সৌদি ফিরতে ইচ্ছুক প্রায় ২৫ হাজার জনকে সে দেশে যেতে পুনরায় ভিসা নিতে হবে। দেশটিতে যাদের



চাকরি আছে কিন্তু করোনায় দেশে আসার পর ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে যায়, তাদের আবারও ভিসা নিয়েই দেশটিতে ফিরতে হবে। সৌদি কর্তৃপক্ষ নতুন করে ভিসা ইস্যু করবে বলে আমাদের জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, যারা গত মার্চে ভিসা নিয়েছিলেন, এর পর আর যেতে পারেননি; কিন্তু কফিল (চাকরিদাতা) আছে, তাদেরও ভিসা নিতে হবে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৫ হাজার জনকে নতুন করে ভিসা নিতে হবে।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ২৬ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট শুরুর পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে সৌদি আরবে গেছেন ৯১০ জন। তবে দেশটির অনুমতি না পাওয়ায় এখনো শিডিউল বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু করতে পারেনি বিমান। তবে বাণিজ্যিক ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিটধারী যাত্রীদের কোনো অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই বিশেষ ফ্লাইটে সৌদিতে নিচ্ছে বিমান। ২৬ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করে বিমান। এর মধ্যে ২৬ সেপ্টেম্বর ২৬০ জন, ২৭ সেপ্টেম্বর ২৬৪ জন, ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৮৬ জন সৌদি আরব গেছেন।

এদিকে ২৩ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট চালুর পর সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সে সৌদি গেছেন দুই হাজার ৪০৮ জন প্রবাসী। ২৩ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮টি ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ারলাইন্সটি। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর ২৫০ জন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০৫ জন, ২৬ সেপ্টেম্বর দুটি ফ্লাইটে ৫১৩ জন, ২৭ সেপ্টেম্বর দুটি ফ্লাইটে ৬৭৭ জন, ২৮ সেপ্টেম্বর ৩৮৮ জন, ২৯ সেপ্টেম্বর ৩৭৫ জন সৌদি আরবে গেছেন।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান জানান, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১১টি ফ্লাইটে তিন হাজার ৩১৮ জন সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

এদিকে গত কয়েক দিনের মতো গতকালও সকাল ৮টা থেকেই কারওয়ানবাজারের সোনারগাঁও হোটেলে সাউদিয়া (সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স) কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান নেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। অন্যান্য দিনের তুলনায় গতকাল সংখ্যা বেশি হলেও তারা সড়ক থেকে সরে ফুটপাতে অবস্থান নেন। অবিলম্বে সৌদি যাওয়ার টিকিট এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানান তারা। দ্রুত সৌদি পৌঁছাতে সাউদিয়া ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের কার্যকর পদক্ষেপও দাবি করেন তারা।

সেখানে অপেক্ষারত কয়েকজন জানান, এখন যাদের টিকিট দেওয়া হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগের ভিসার মেয়াদ আগামী মাস পর্যন্ত আছে। অথচ অনেকের আজই ভিসার মেয়াদ শেষ হবে, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে না। এখনো তারা টিকিট পাচ্ছেন না। এ ধরনের জটিলতায় বিপাকে রয়েছেন অনেকেই। টিকিটপ্রত্যাশী মোস্তফা জামান বলেন, আমার ভিসার মেয়াদ আজই (গতকাল) শেষ। অথচ এখনো আমি টোকেন পাইনি। গত সপ্তাহের মঙ্গলবার থেকে টোকেনের জন্য চেষ্টা করছি। শুনছি আগামী ৪ অক্টোবর টোকেন দেওয়া হবে। টোকেন পেলেও টিকিট পেতে আরও সপ্তাহখানেক লেগে যাবে। কী করব ভেবে কূল পাচ্ছি না ভাই।

এমন বিড়ম্বনায় পড়া কয়েকজন জানান, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য নির্ধারিত ট্র্যাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু এজেন্সিগুলো দূতাবাসে যোগাযোগ করতে বলছে। আবার দূতাবাসে গেলে কোনো সহায়তা মিলছে না। সব মিলিয়ে টিকিট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। অন্যদিকে অনেকে টিকিটের জন্য টোকেন পেলেও গতকাল ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এমনই একজন গাজীপুরের মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, আমি টোকেন পেয়েছি কিন্তু এখনো টিকিটের জন্য সিরিয়াল পাইনি। আমার ভিসার মেয়াদ আজ (বুধবার) শেষ। বৃহস্পতিবারও যদি টিকিট কাটার সিরিয়াল পাই, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে আমি যেতে পারব না।

ফের রাস্তায় নেমেছেন সৌদি গমনেচ্ছু প্রবাসীরা
                                  

নানা জটিলতা শেষে অবশেষে সৌদি আরব ফেরা শুরু করেছেন করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে দেশে এসে আটকে পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তবে এখনো অনেকেরই উড়োজাহাজের টিকিট এবং ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা কাটেনি। নতুন এক সিদ্ধান্তে যাদের ভিসার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বরে শেষ হচ্ছে, তাদের ভিসা নবায়নের সুযোগ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। তবে ভিসা নবায়নে সৌদি আরবের কঠিন শর্তে আবারও অনেকের সৌদি যাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। নবায়নের জন্য এমন কিছু শর্ত রাখা হয়েছে, যেটি পূরণ করে একজন বাংলাদেশির সৌদি ফেরা এক প্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ সকল সমস্যা নিরসনের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ফের রাস্তায় নেমেছেন সৌদিগমনেচ্ছু প্রবাসীরা। সকাল ১০টার দিকে তারা রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকার কাছে প্রধান সড়কে অবস্থান নেন। পরে সাড়ে ১০টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন তারা। কিন্তু অবরোধের কারণে কারওয়ান বাজার থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

সংগঠিতভাবে ব্যানার হাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি এবং টিকিট দেওয়া নিয়ে হয়রানি বন্ধের দাবিতে সার্ক ফোয়ারার সামনে সড়ক অবরোধ করে সৌদি প্রবাসীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা সরে গেলে ধীরগতিতে যান চলাচল শুরু হয়।

পুলিশের ঢাকা মহানগর ট্রাফিক বিভাগের (পশ্চিম) এডিসি মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, সড়ক অবরোধের সময় কারওয়ান বাজার থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত দীর্ঘ এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

এর আগে গতকাল সোমবারও কারওয়ান বাজারে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা।

ঢাকার সৌদি দূতাবাস থেকে ভিসা নবায়নে যেসব শর্ত পূরণের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কফিলের আবেদন সংবলিত চিঠির কথা বলা হয়েছে, যা সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক সত্যায়িত হতে হবে। আকামার মেয়াদ লেখা থাকতে হবে সৌদি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (জাওয়াজাত) আবেদনের প্রিন্ট কপিতে। পাসপোর্ট ও রি-এন্ট্রি ভিসার মূলকপি রাখতে হবে সঙ্গে। থাকতে হবে মেয়াদসহ আকামার মূলকপি। এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে বের হওয়ার মূল কপি থাকার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে ভিসা নবায়ন শর্তে।

অপরদিকে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের কর্তৃপক্ষের শিডিউল অনুযায়ী, আজ টোকেনধারী আরও ৫০০ জনকে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। যাদের টোকেন নম্বর ১৯০০ থেকে ২৩০০, শুধুমাত্র তাদেরই টিকেট দেওয়া হবে। তবে ৩ হাজারের পরের সিরিয়ালের টোকেন নম্বর যাদের, তারাও টিকিটের জন্য সকাল থেকে ভিড় করেছেন। যেসব প্রবাসী রিটার্ন টিকিট করে সৌদি আরব থেকে দেশে এসে করোনার কারণে আটকা পড়েন, তারাই এ টিকিট পাচ্ছেন।

প্রবাসীদের ফেরাতে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সাউদিয়া ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ফ্লাইট সংখ্যা বাড়িয়েছে উভয় এয়ারলাইন্সই। বিমানকে সপ্তাহে ১২টি বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে সৌদি সরকার। ফলে রিয়াদ ও জেদ্দা রুটের সঙ্গে নতুন রুট হিসেবে দাম্মামেও ফ্লাইটের শিডিউল ঘোষণা করেছে বিমান।

শিডিউল অনুযায়ী, জেদ্দাগামী ২২ মার্চ থেকে ২৪ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৩০ সেপ্টেম্বর, ২৫ মার্চ থেকে ২৮ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ১ অক্টোবর, ২৯ মার্চ থেকে ৩১ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৪ অক্টোবর, ১ এপ্রিল থেকে ৪ এপ্রিলের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৫ অক্টোবর, ৫ এপ্রিল থেকে ৮ এপ্রিলের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৬ অক্টোবর। রিয়াদগামী ১৬ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ১ অক্টোবর, ২১ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ ফিরতি টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৩ অক্টোবর, ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চের ফিরতি টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৫ অক্টোবর। নতুন রুট দাম্মামগামী ১৬ মার্চ থেকে ১৯ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ১ অক্টোবর, ২১ মার্চ থেকে ২৪ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীদের ফ্লাইট ৩ অক্টোবর, ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চের রিটার্ন টিকিটধারীরা ৫ অক্টোবর।

বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মহিবুল হক বলেছেন, সৌদি এয়ারলাইনসকে আরও দুটি ফ্লাইট বেশি পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিমান সৌদির বিভিন্ন রুটে আরও ১২টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি পেয়েছে।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ২৫২ জন প্রবাসীকে নিয়ে সৌদির উদ্দেশে ঢাকা থেকে ফ্লাইট
                                  

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ২৫২ জন প্রবাসীকে নিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা ৫৭ মিনিটের দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ফ্লাইটটি। সৌদির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি অবতরণ করে।

সৌদি ফেরা প্রবাসীদের মধ্যে কেউ ছুটিতে এসে ১০ মাস বা কেউ আমার ৫ মাসের মতো দেশে আটকে ছিল। অনেকের ভিসার মেয়ার এ মাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার রিটার্ন টিকিট নিয়ে এসেও কোনো সুবিধা করতে পারেননি। কেউবা সৌদি অবস্থানরত আত্মীয় বা বন্ধুদের মাধ্যমে নতুন করে টিকিট কেটেছেন। এর মধ্যে ছিল আবার করোনাভাইরাসের নেগেটিভ সনদের খ্ড়গ। যে কারণে অনেক প্রবাসীরই ফ্লাইট ধরতে দেরি হয়ে যায়।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর কয়েক হাজার প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। যে কারণে সৌদি আরব থেকে ছুটিতে আসা প্রবাসীরা টিকিট ভোগান্তিতে পড়ে গত তিন দিন ধরে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন।



এদিকে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্সকে আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার সিদ্ধান্ত দিয়েছে সৌদি আরব। তবে যাত্রীদের আসন বরাদ্দ শুরু করার আগে সৌদি আরবে ল্যান্ডিং পারমিশন আবশ্যক হলেও সেটির অনুমতি পায়নি, যে কারণে এখনো টিকিট বিক্রি শুরু করতে পারেনি বিমান।

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় গত ২৪ মার্চ সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করে দেয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। পরবর্তীতে ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয় সংস্থাটি। তবে সৌদি সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটিতে এতদিন বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ ছিল। সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে তারা সীমিতভাবে বিমান চলাচল শুরু করে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান জানিয়েছেন, প্রবাসীরা সৌদি ফিরতে সাউদিয়া যে কয়টি ফ্লাইটের অনুমোদন চাইবে, তারা দিতে প্রস্তুত আছেন। এ ছাড়া বিমান বাংলাদেশও যেন সৌদিতে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারে, সে দিকটিও তারা দেখছেন। সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়াতে চাইলে অনুমতি দেবে বলেও জানান তিনি।

সৌদিগামী প্রবাসীদের বিমান টিকিট রি-কনফার্ম করার দাবিতে সড়ক অবরোধ
                                  

রাজধানীর কাওরান বাজারের হোটেল সোনারগাঁওয়ের সামনে ছুটিতে এসে আটকেপড়া সৌদিগামী প্রবাসীরা বিমান টিকিট রি-কনফার্ম করার দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ করেন তারা। ফলে সড়কের দু পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ সময় তারা সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ টিকিট সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলেন।

এর আগে গতকাল সোমবার সকালে সৌদিগামীরা টিকিট রি-কনফার্ম করার জন্য লাইনে গিয়ে দাঁড়ান। এর মধ্যে কেউ কেউ আসেন নতুন টিকিট বুকিং করার জন্য। কিন্তু এভাবে এয়ারলাইন্স অফিসের সামনের পুরো রাস্তায় টিকিটপ্রত্যাশীদের ভিড় জমে যায়। সময় বাড়ার সাথে সাথে বিদেশগামীদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে টিকিট রি-কনফার্ম করানোর বিষয়টি না করায় একপর্যায়ে শ্রমিকরা ধৈর্যহারা হয়ে পড়েন। এরপরই তারা রাস্তা বন্ধ করে পাসপোর্ট উঁচিয়ে হইচই শুরু করেন। এতে সোনারগাঁও হোটেলের (ভিআইপি সড়ক) দুই পাশ ছাড়াও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।



শুধু সাউদিয়া এয়ারলাইন্স অফিসের সামনে নয়, একই অবস্থা হয়েছে গতকাল সোমবার সকালে মতিঝিলের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বলাকা ভবনের সামনেও। সেখানেও ক্ষুব্ধ প্রবাসীরা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। কেউ কেউ উত্তেজিত হয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্য খারাপ ভাষায় কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে আসে।

ক্ষুব্ধ আটকেপড়া প্রবাসীদের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা যদি যথাসময়ে কাজে যোগ দিতে না পারি তাহলে আমাদের চাকরি হারাতে হবে। এর মধ্যে অনেকের ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে যাচ্ছে। এসব কি হচ্ছে। আমরা কোনো কিছু বুঝি না। আমরা টিকিট চাই।

জানা গেছে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সৌদিয়া এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিলেও, সৌদি আরব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বেবিচক গত রোববার সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিলের জন্য বিমানকে দুষছেন বিক্ষোভকারীরা। দুপুরে ক্ষুব্ধ বিদেশগামীদের কয়েকজন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

এ প্রসঙ্গে গতকাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটির চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টেলিফোন ধরেননি।

গতকাল একটি ট্র্যাভেল এজেন্সির স্বত্বাধিকারী নাম না প্রকাশের শর্তে বিদেশগামীদের বিক্ষোভ করা প্রসঙ্গে নয়া দিগন্তকে বলেন, কি করবে তারা। তাদের কারোর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। রিটার্ন টিকিটের ডেট চলে যাচ্ছে। কিন্তু সাউদিয়া এয়ারলাইন্স রিটার্ন টিকিট কনফার্ম করতে গড়িমশি করছে। নতুন টিকিটও বুকিং নিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে তারা এপথ বেছে নিয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সারা দেশে যতগুলো ট্র্যাভেল এজেন্সি আছে তার মধ্যে কে জি ও এস নামের অদ্যাক্ষরের তিনটি ট্র্যাভেল এজেন্সির মালিক সিন্ডিকেট করে বেশির ভাগ টিকিট দামে বিক্রি করছে। এর মধ্যে অনেক টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা-রিয়াদের যে টিকিট এর দাম ২২ হাজার টাকা সেটি বিক্রি হচ্ছে এক লাখ টাকার উপরে। এটা কি করে সম্ভব? একই চিত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সেও। ঢাকা-দুবাই ওয়ানওয়ে টিকিটের দাম ১৭ হাজার টাকা। সেটি এখন ৬০-৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিমানকে ফ্লাইট না দেয়ার কারণে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বাতিল করা প্রসঙ্গে স্বনামধন্য ব্যবসায়ী বলেন, এটি কূটনৈতিকভাবে আলোচনা করে সমাধান বের করতে হবে। ফ্লাইট বাতিল করে জনগণকে কষ্ট দেয়ার কোনো মানে হয় না।


   Page 1 of 17
     প্রবাসে বাংলা
নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত খুদে বিজ্ঞানী সুবর্ণ
.............................................................................................
বাহরাইনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
সিঙ্গাপুরে ‘প্রেসিডেন্টস ভলান্টিয়ারিজম অ্যান্ড ফিনালথ্রপি’ পুরস্কার পেলেন এক বাংলাদেশি
.............................................................................................
বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য ফ্লাইট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে ইতালি
.............................................................................................
ঢাকার সৌদি দূতাবাস ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ কর্মীদের পাসপোর্ট জমা নিচ্ছেনা
.............................................................................................
ইমিগ্রেশন পলিসি অনুসরণ না করে ১০৪ জনকে ফেরত, যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিবে দুবাই
.............................................................................................
ইতালি প্রবাসীদের আন্দোলনে নামার ঘোষণা
.............................................................................................
আটকে পড়া প্রবাসী কর্মীদের ভিসার মেয়াদ আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বেড়েছে
.............................................................................................
৬ মাসে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ১৭ হাজারেরও বেশি নারী শ্রমিক ফেরত
.............................................................................................
সৌদি প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না
.............................................................................................
জার্মানে শতাধিক বাড়ির মালিক বাংলাদেশি প্রবাসী যুবরাজ
.............................................................................................
গত ৬ মাসে দেশে ফিরে এসেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৮ জন প্রবাসী
.............................................................................................
ভিসা জটিলতায় যাত্রা আটকে গেল ২৯ হাজার ৮৯৮ জন সৌদি প্রবাসীর
.............................................................................................
ফের রাস্তায় নেমেছেন সৌদি গমনেচ্ছু প্রবাসীরা
.............................................................................................
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রায় ২৫২ জন প্রবাসীকে নিয়ে সৌদির উদ্দেশে ঢাকা থেকে ফ্লাইট
.............................................................................................
সৌদিগামী প্রবাসীদের বিমান টিকিট রি-কনফার্ম করার দাবিতে সড়ক অবরোধ
.............................................................................................
স্পেনে ফের সংক্রমণ, প্রবাসী বাংলাদেশিদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে
.............................................................................................
সৌদি আরবগামী প্রবাসী বাংলাদেশীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে শঙ্কিত
.............................................................................................
কুয়েতের একটি ফ্ল্যাট থেকে বাংলাদেশি মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
সৌদি কারাগারে আটক ১৫ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশী দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবীকারী প্রবাসী মুস্তাক খানের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
দেশে ফিরলেন মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশি তরুণ রায়হান কবির
.............................................................................................
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকা পড়া ১২৭ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরৎ
.............................................................................................
করোনায় জীবিকা সংকটে ৭০% বিদেশফেরত প্রবাসী বাংলাদেশি
.............................................................................................
লেবাননে আটকে পড়া ৭১ বাংলাদেশি প্রবাসীকে দেশে আনা হয়েছে
.............................................................................................
কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যু
.............................................................................................
সৌদি থেকে ফিরলেন আরো ৪১৭ বাংলাদেশি
.............................................................................................
সংকটের মধ্যেই দুই দেশ থেকে ফিরেছেন ৩০৪ জন বাংলাদেশি
.............................................................................................
জেদ্দা থেকে ফিরলেন ৪০৯ জন
.............................................................................................
পাঠাও’র সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিমের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার
.............................................................................................
ইতালি ফিরলেন ১৩৭২ বাংলাদেশি
.............................................................................................
আবুধাবি থেকে দ্বিতীয় ধাপে ফিরলেন ১৫২ বাংলাদেশী
.............................................................................................
সৌদিতে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে লাখো বাংলাদেশি
.............................................................................................
সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরলেন ২৬২ বাংলাদেশি
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ আপাতত স্থগিত
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় অবৈধ শ্রমিকদের আবারো বৈধতা দেয়ার চিন্তা
.............................................................................................
সৌদিতে বাংলাদেশি প্রকৌশলীর করোনায় মৃত্যু
.............................................................................................
সৌদি আরব-কাতারে বাড়ছে করোনা রোগী, ঝুঁকিতে প্রবাসীরা
.............................................................................................
আজ কাতার থেকে ফিরছেন আটকেপড়া ৪১৪ বাংলাদেশি
.............................................................................................
কুয়েতে রিমান্ডে বাংলাদেশি সাংসদ কাজী শহীদ ইসলাম ওরফে পাপুল
.............................................................................................
লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশি হত্যায় আরো ৪ জন গ্রেফতার
.............................................................................................
লিবিয়ায় গুলি করে ২৬ বাংলাদেশিকে হত্যা
.............................................................................................
দেশে ফিরতে হাজারো কুয়েত প্রবাসীর রাতভর বিক্ষোভ
.............................................................................................
কুয়েতে ক্যাম্পে থাকা সাড়ে ৪ হাজার বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান
.............................................................................................
সিঙ্গাপুরে একদিনে ৫৭০ বাংলাদেশীর করোনা শনাক্ত
.............................................................................................
কাতারে করোনায় ৫ শতাধিক বাংলাদেশী আক্রান্ত, মৃত্যু ৩
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যের ছায়া মন্ত্রী হলেন টিউলিপ সিদ্দিক
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু
.............................................................................................
ব্রিটেনে আটকা পড়া বাংলাদেশীদের হাই কমিশনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ
.............................................................................................
করোনাভাইরাস: যুক্তরাষ্ট্রে পিতাসহ মুন্সীগঞ্জের চিকিৎসকের মৃত্যু
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী
সম্পাদক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমেদ
নির্বাহী সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম রানা
বার্তা সম্পাদক : মোঃ আকরাম খাঁন
সহঃ সম্পাদক: হোসাইন আহমদ চৌধুরী
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD