বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   প্রবাসে বাংলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সৌদি থেকে ফিরলো আরও ১০৯ বাংলাদেশি

সৌদি আরব থেকে আরও ১০৯ বাংলাদেশিকে ফিরে আসতে হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার ফেরা সিলেটের তালেব (৩০) মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

রাতেই তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাঁচ বছর আগে শ্রমিক হিসাবে সৌদি যান তালেব। কিন্তু গত দুই মাস আগে সেখানে মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি। তবে মাত্র দুই মাস আগে সৌদি গিয়েছেলন নোয়াখালীর আজিম হোসেন। পাসপোর্টে তিন মাসের ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, বাজার করার জন্য মার্কেটে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে। গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে নিয়োগকর্তার কথা বলার পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের রুহুল আমিন, কুমিল্লার ফিরোজ হোসেন ও মানিক, শরিয়তপুরের মিলন, যশোরের মোসলেম উদ্দিন, বগুড়ার মেহেদি হাসান, গাজীপুরের রাজিবসহ ১০৯ বাংলাদেশির বেশিরভাগেরই এমন অবস্থা। দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য নিয়োগ কর্তাকে টাকা দিলেও আকামা করে দেয়নি। পুলিশ গ্রেফতারের পর নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কর্মীর দায় নিচ্ছে না। বরাবরের মতো গত বৃহস্পতিবারও ফেরত আসাদের মাঝে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগীতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালের ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন বছর শুরুর ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি সৌদি থেকে ফিরতে বাধ্য হলেন। তাদের প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোকও আছেন। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। শরিফুল হাসান গত বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫, কাতার থেকে দুই হাজার ১২, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ বাংলাদেশি শূন্য হাতে ফিরেছেন, যাদের পরিচয় ডিপোর্টি। তিনি আরও বলেন, এই মানুষগুলোর পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত।

ফেরত আসা প্রবাসীদের আমরা শুধু বিমানবন্দরে সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না, তারা যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য কাউন্সিলিং, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আর্থিকভাবেও পাশে থাকতে চাই। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। তিনি বলেন, এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

 

সৌদি থেকে ফিরলো আরও ১০৯ বাংলাদেশি
                                  

সৌদি আরব থেকে আরও ১০৯ বাংলাদেশিকে ফিরে আসতে হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের এসভি ৮০৪ বিমানযোগে তারা দেশে ফেরেন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত বৃহস্পতিবার ফেরা সিলেটের তালেব (৩০) মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

রাতেই তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাঁচ বছর আগে শ্রমিক হিসাবে সৌদি যান তালেব। কিন্তু গত দুই মাস আগে সেখানে মানসিক ভারসাম্য হারান তিনি। তবে মাত্র দুই মাস আগে সৌদি গিয়েছেলন নোয়াখালীর আজিম হোসেন। পাসপোর্টে তিন মাসের ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, বাজার করার জন্য মার্কেটে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে। গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে নিয়োগকর্তার কথা বলার পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের রুহুল আমিন, কুমিল্লার ফিরোজ হোসেন ও মানিক, শরিয়তপুরের মিলন, যশোরের মোসলেম উদ্দিন, বগুড়ার মেহেদি হাসান, গাজীপুরের রাজিবসহ ১০৯ বাংলাদেশির বেশিরভাগেরই এমন অবস্থা। দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য নিয়োগ কর্তাকে টাকা দিলেও আকামা করে দেয়নি। পুলিশ গ্রেফতারের পর নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কর্মীর দায় নিচ্ছে না। বরাবরের মতো গত বৃহস্পতিবারও ফেরত আসাদের মাঝে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগীতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালের ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন বছর শুরুর ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি সৌদি থেকে ফিরতে বাধ্য হলেন। তাদের প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোকও আছেন। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশায় ভুগছেন। শরিফুল হাসান গত বছরের পরিসংখ্যান দিয়ে জানান, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫, কাতার থেকে দুই হাজার ১২, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ বাংলাদেশি শূন্য হাতে ফিরেছেন, যাদের পরিচয় ডিপোর্টি। তিনি আরও বলেন, এই মানুষগুলোর পাশে সবার দাঁড়ানো উচিত।

ফেরত আসা প্রবাসীদের আমরা শুধু বিমানবন্দরে সহায়তা দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না, তারা যেন ঘুরে দাঁড়াতে পারে সেজন্য কাউন্সিলিং, দক্ষতা প্রশিক্ষণ ও আর্থিকভাবেও পাশে থাকতে চাই। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। তিনি বলেন, এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

 

মালয়েশিয়ায় ২০০ বাংলাদেশিসহ মোট চার শতাধিক বিভিন্ন দেশি আটক
                                  

পুরো মালয়েশিয়া জুড়ে ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের পরিচালিত অভিযানে ২০০ বাংলাদেশিসহ মোট চার শতাধিক বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, গত ৭ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি দেশটির রাজধানী কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন কনস্ট্রাকশন সাইট, শাহ আলম সেলাংগার এবং কেডাহ অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে অভিবাসীদের আটক করা হয়।

গত বছরের আগস্ট থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে ‘ব্যাক ফর গুড’ কমসূচির ঘোষণা দিয়েছিল মালয়েশিয়া সরকার। অবৈধ অভিবাসীদের দেশে ফেরার মেয়াদ শেষ হওয়ায় এখনো যেসব অভিবাসী অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় রয়েছে তাদেরকে আটক করতেই পূর্বঘোষিত এ অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির ইমিগ্রেশন অধিদপ্তর ও পুলিশ।

গত ৭ জানুয়ারি বিকেলে শাহ আলমের বাতুকাভাহ, কোতা দামানছারার পাচার রায়া, মেডান সেলেরা, রেস্টুরেন্টসহ মোট সাত জায়গায় পরিচালিত অভিযানে  ২৬ বাংলাদেশিসহ ৮২ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া কেহডার আলোস্টারের কুলিমে একটি ফ্যাক্টরিতে অভিযান চালিয়ে ৭০ বাংলাদেশিসহ ১৪৫ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আলোরস্টারে চালানো অপর এক অভিযানে ৫৬ বাংলাদেশিসহ ৭০ জনকে আটক করা হয়েছে।

পরদিন ৮ জানুয়ারি রাজধানীর বুকিত কিরিংছি ও কেপোং এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ বাংলাদেশিসহ ৩৪ জনকে আটক করা হয়। সবশেষে ১০ জানুয়ারি শাহ আলমের একটি বিল্ডিং কনস্ট্রাকশন সাইটে অভিযান চালিয়ে ৯৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়াও মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযানে প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও আটক হচ্ছে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা।

বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার
                                  

বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে মালয়েশিয়া। দেশটির মানবসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী এম কুলা সেগরান এই তথ্য জানিয়েছেন। গতকাল মালয়েশিয়ার বার্তা সংস্থা বারনামার খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

কুলা সেগরান বলেন, ‘নতুন একটি চুক্তির জন্য নতুন কিছু শর্ত নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এই আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নিয়োগদাতা কোম্পানি কর্মীর সব খরচ বহন করবে। যাতায়াতের বিমান ভাড়া, ভিসা ফি, শারীরিক পরীক্ষা, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং লেভি চার্জ প্রদান করবে। চলতি মাসেই একটি ওয়ার্কিং কমিটি বাংলাদেশ সফর করবে। খুব সামান্য কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি হতে বাকি রয়েছে। এগুলোর নিষ্পত্তি হলেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলে যাবে।’

২০১৮ সালে বাংলাদেশে থেকে কর্মী নেওয়া স্থগিত করে মালয়েশিয়া। গত রবিবার বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত খরচে কর্মীদের যাওয়া নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার পক্ষে নন।

এ বিষয়ে সেগরান বলেন, অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাংলাদেশ থেকে কর্মী প্রেরণ বন্ধ করতে এ পদ্ধতি অবশ্যই দরকার। কর্মীদের কাছ থেকে বেশি অর্থ নিয়ে তাদের শোষণ করার অনেক ঘটনা রয়েছে।

সৌদি থেকে ফিরলেন ১৫ নারীসহ আরও ১০৬ বাংলাদেশি
                                  

 গৃহকর্তার নির্যাতন ও পুলিশের ধরপাকড়ের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ১৫ নারীসহ আরও ১০৬ বাংলাদেশি। গত শনিবার রাত ১১টা ২০ ও ১টা ৩০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের দুটি ফ্লাইটযোগে দেশে ফেরেন এসব কর্মী।

এ নিয়ে চার দিনে ২৪৭ বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ফেরত আসা নারীকর্মীদের গল্প আগে ফিরে আসা নারীদের মতোই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেলিনা আক্তার ও শামিমা বেগম জানান, গৃহকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরব গিয়ে নিয়োগকর্তা কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হতে হয় তাদের। নির্যাতন সইতে না পেরে সেখান থেকে পালিয়ে আশ্রয় নেন জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সেফহোমে। একই সমস্যা নিয়ে হোমে থাকা নারায়ণগঞ্জের সোনিয়া আক্তার ও খাদিজা, সিরাজগঞ্জের রাশেদাসহ ১৫ নারীর সঙ্গে দেশে ফিরেন। শহিদ মিয়া (৪০) আড়াই বছর আগে সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে টাইলস ফিটিংয়ের কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন সৌদি। ভাগ্য এতটাই খারাপ যে কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে তাকে ধরে কাজের পোশাকেই দেশে ফেরত পাঠানো হয়। মাত্র চার মাস আগে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার হানিফ গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সৌদিতে তার পাসপোর্টের তিন মাসের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ শেষ হলে মালিক আর আকামা তৈরি করেননি। কর্মস্থল থেকে রুমে ফেরার পথে পুলিশ ধরলে দেশে পাঠানো হলো তাকে।

একইসঙ্গে ফিরেছেন টাঙ্গাইলের হামিদুল্লাহ, কুমিল্লার তোফাজ্জল, সিলেটের শুভ দেবনাথ। দেশে ফেরা কর্মীদের অভিযোগ করেন, আকামা তৈরির জন্য কফিলকে (নিয়োগকর্তা) টাকা প্রদান করলেও কফিল আকামা তৈরি করে দেয়নি। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও দায়-দায়িত্ব নিচ্ছে না বরং কফিল প্রশাসনকে বলেন ক্রুশ (ভিসা বাতিল) দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দিতে। বরাবরের মতো গত শনিবার ফেরত আসাদের মাঝে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হয়। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে ২৪ হাজার ২৮১ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়। আর নতুন বছরের শুরুর চার দিনে ফিরলেন ২৪৭ জন। ফেরত আসাদের বর্ণনা প্রায় একই রকম। প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন।

তিনি বলেন, যাঁরা কয়েক মাস আগে গিয়েছিলেন তাদের কেউই খরচের টাকা তুলতে পারেননি। তারা সবাই ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায়। এইভাবে ব্যর্থ হয়ে যাঁরা ফিরছেন তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। পাশাপাশি এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সে জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

ইরাকে বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্কতা
                                  

ইরাকের চলমান অস্থিতিশীল পরিবেশের কারণে দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। গতকাল শুক্রবার ইরাকে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রধান মো. অহিদুজ্জামান লিটন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইরাকের চলমান নিরাপত্তাহীন অস্থিতিশীল পরিবেশের কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরাকে সব বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত কর্মস্থল ও বাসস্থান ব্যতীত যত্রতত্র যাতায়াত, সব সভা-সমাবেশ ও গোলযোগপূর্ণ পরিবেশ এড়িয়ে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এতে আরো বলা হয়, প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা প্রদানের জন্য সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা বাংলাদেশ দূতাবাস খোলা থাকবে।

উল্লেখ্য, গতকাল শুক্রবার সকালে মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের এলিট ফোর্স ‘কুদস বাহিনী’র প্রধান জেনারেল কাসেম সোলেইমানি মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হন। এরই মধ্যে সোলেইমানিকে হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরই মধ্যে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।

মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা অবৈধরা ৫ বছর ব্ল্যাকলিস্টেড
                                  

স্পেশাল পাসে যেসব বাংলাদেশী ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন তারা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে কোনোভাবেই আর মালয়েশিয়া যেতে পারবেন না। দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ এসব অবৈধদের ব্ল্যাকলিস্ট করে ১০ আঙুলের ছাপ (ফিংগার প্রিন্ট) নিয়ে পাস ইস্যু করছে।

শনিবার দুপুরে কুয়ালালামপুর শিপাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে (বোয়িং-৭৩৭) দেশে ফেরা শ্রমিকদের কয়েকজন উড়োজাহাজের ভেতরে এ প্রতিবেদকের কাছে এ তথ্য জানান।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৈধ হওয়ার জন্য তারা তাদের কোম্পানির মালিক এবং মালয়েশিয়া সরকার মনোনীত এজেন্ট মাইজিসহ তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পাসপোর্ট এবং নগদ ৮ থেকে সাড়ে ৮ হাজার রিংগিট করে দেয়ার পরও দীর্ঘদিন তাদের পালিয়ে থাকতে হয়েছে। এই সময়ের মধ্যেও তাদের ভাগ্যে জুটেনি বৈধতার কাগজ। কোম্পানি মালিক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের পরিস্থিতি ভালো না, দেশে ফিরে যেতে হবে। না গেলে পরবর্তীতে জেল জরিমানা হলে তখন তারা কিছুই করতে পারবেন না। যার কারণে বাধ্য হয়ে তারা মাহাথির মোহাম্মদ সরকারের ঘোষিত ‘ব্যাক ফর গুড’ কর্মসূচির অংশ হিসাবে ৭০০ রিংগিট জরিমানা, নির্ধারিত দামের তিন গুণ দামে বিমানের টিকিট কেটে এবং ঘুষসহ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার রিংগিট খরচ করে দেশে ফিরে যাচ্ছেন।

কুয়ালালামপুর জালান ইপোর সাবা মিনান্তি রেস্টুরেন্টের কর্মী নাঈম দেশে ফিরছিলেন উড়োজাহাজের ২৫/এফ সিটের যাত্রী হিসেবে। এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপে তিনি বলেন, আমি প্রায় চার বছর আগে মালয়েশিয়া এসেছিলাম ট্যুরিস্ট ভিসায়। বড় ভাই জনির ইচ্ছায় ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে না ফিরে এখানে থেকে যাই। ভাইয়ের কোম্পানির একটি বাগানে ১২ শ’ রিংগিট বেতনে কাজ নিই। অবৈধভাবে এত দিন থাকলেও কখনো পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই মালয়েশিয়া সরকারের রি-হায়ারিং প্রোগ্রামে সাড়া দিয়ে বৈধ হওয়ার আশায় মালয় এজেন্টের কাছে পাসপোর্ট, ছবি আর তিন হাজার রিংগিট দিয়েছিলাম ইমিগ্রেশন মনোনীত তিনটি এজেন্টের একটিতে। নাম মাইজি (এমওয়াইইজি)। কিন্তু আজ পর্যন্ত আমাকে বৈধ হওয়ার কাগজ দিতে পারেনি। টাকা ফেরত চাইলে এ ব্যাপারে টালবাহানা শুরু করে।

তবে টাকা (রিংগিট) জমা হওয়ার পর আমাকে ফিংগার প্রিন্টের একটি কাগজ দিয়ে বলেছে, এই কাগজের মেয়াদ থাকবে এক বছর। এটা দিয়ে ভিসা লাগানো যাবে। এজেন্টের কথামতো ইমিগ্রেশনে গেলে আমাকে ফেরত দিয়ে বলে, এই কাগজ দিয়ে ভিসা লাগানোর সুযোগ নেই। এরপরই আমি হতাশ হয়ে পড়ি। তারপর থেকে অবৈধভাবেই কাজ করতে থাকি।

এক প্রশ্নের জবাবে নাঈম বলেন, মাহাথির মোহাম্মদ সরকার গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে চার মাসের জন্য সাধারণ ক্ষমার (ব্যাক ফর গুড কর্মসূচি) কর্মসূচি দিলে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। কারণ ভিসা লাগাতে পারি নাই, এজেন্ট টাকা মেরে দিয়েছে। কী আর করব? শুনছি এবার ধরা পড়লে না-কি মালয়েশিয়া সরকার কঠিন শাস্তি দিবে। তাই ভয়েই দেশে ফিরে যাচ্ছি। তার মতে, মালয়েশিয়া সরকারের ব্যাক ফর গুড কর্মসূচিতে শুধু বাংলাদেশীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ভাষা এবং কাজ জানা এসব শ্রমিকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশির ভাগ কোম্পানিও বন্ধ হয়ে যাবে। ইতোমধ্যে অনেক কোম্পানিতে পুলিশ ইমিগ্রেশন অভিযান চালিয়ে বহু শ্রমিককে ধরে নিয়ে গেছে। এখন ওই সব কোম্পানি কর্মীর অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশী ভাইয়েরা খুবই বিপদের মধ্যে আছেন। কারণ দেশে ফিরতে তিন গুণ দামে টিকিট কিনতে হয়েছে। আবার ইমিগ্রেশনে সিরিয়াল দিতে হয়েছে। চার দিন লাইনে দাঁড়িয়ে টোকেন নিতে হয়েছে। এর তিনদিন পর গেলে আমাকে স্পেশাল পাস (সুরাত) দিয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে টিকিট কেটেও স্পেশাল পাস সংগ্রহে ব্যর্থ হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ আছে। শুনেছি মালয়েশিয়া সরকার অবৈধদের দেশ ত্যাগে আর একদিনও সময় বাড়াবে না। এ ক্ষেত্রে যারা ধরা পড়বে তাদের ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। যারা অভিযানে ধরা পড়বে তারা জেল এবং রোতান (বেত্রাঘাত) থেকে রেহাই পেতে চাইলে প্রত্যেককে ১০ হাজার রিংগিট করে জরিমানা দিয়ে তারপরই দেশে ফিরতে হবে। এমন পরিস্থিতির শিকার শুধু নাঈম নন, তারমতো কুয়ালালামপুর শিপাং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একই ফ্লাইটে দেশে ফেরা বেশির ভাগের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে একই বক্তব্য।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকাগামী ফ্লাইটের কেবিন ক্রু ওয়াসিক যাত্রীদের খাবার পরিবেশন করার ফাঁকে এ প্রতিবেদককে বলেন, আজকের ফ্লাইটে সিট ১৬২টি। এর মধ্যে ৭টি সিট খালি যাচ্ছে। আমরা শুনেছি ইমিগ্রেশনের কাগজপত্র জটিলতার কারণে তারা আসতে পারেননি। আউটপাসে যারা ফিরছেন তাদের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করবে। টিকিট কেটেও যাত্রীরা স্পেশাল পাস কী কারণে পাচ্ছেন না- জানতে চাইলে নাঈমের পাশের সিটে বসা আজিজুর রহমান বলেন, টিকিট কাটার পরও সিরিয়াল না পাওয়ার কারণে অনেকেই স্পেশাল পাস সংগ্রহ করতে পারছে না। দিন যত যাবে এই সমস্যা তত বাড়বে। তিনি বলেন শুক্রবার যদি আমি স্পেশাল পাস না পেতাম তাহলে আজ আমি এই ফ্লাইটে দেশে আসতে পারতাম না।

উল্লেখ্য, এবার ব্যাক ফর গুড কর্মসূচিতে প্রায় ৫০-৫৫ হাজার অবৈধ বাংলাদেশী দেশে ফিরছেন। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহ: শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে মিশনের (শ্রম) অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীরা অবৈধদের দেশে ফিরে যেতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালান। এরই ফল হিসেবে এবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ বাংলাদেশী দেশে ফিরছেন। হাইকমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, কেউ দালালের খপ্পরে পড়ে যেন মালয়েশিয়াতে না আসেন সে ব্যাপারে তারা সবাইকে সতর্ক থাকারও পরামর্শ দিচ্ছেন। এ দিকে ব্যাক ফর গুড কর্মসূচ শেষ হওয়ার পর পরই মালয়েশিয়া সরকার বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়ার কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে নতুন বছরের জানুয়ারি মাসের দ্বিতীয় অথবা তৃতীয় সপ্তাহে শ্রমবাজার নিয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ নিয়ে হাইকমিশন থেকে প্রতিনিয়ত দেশটির সরকারের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রবাসে বাড়ছে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা
                                  

প্রতিদিন দেশে আসছে অন্তত ১১ জন প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ। গত ১১ বছরে দেশে এসেছে প্রায় ৩৪ হাজার ৩শ ৮৫ জন শ্রমিকের মরদেহ। এরমধ্যে গত ৯ মাসেই এসেছে ৩ হাজার ৬শ ৬৮ জনের মরদেহ। 

এ কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক কিংবা দুর্ঘটনা বলা হলেও, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রকৃত কারণ জানা যায় না। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশ গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন অনেক শ্রমিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গেল কয়েক বছরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে, যা এখনো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। বন্ধ থাকা অনেক শ্রমবাজার নতুন করে চালু করা যায়নি। এদিকে বিশাল সংখ্যক শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনায় ভবিষ্যতে রেমিটেন্স বাড়ানো এবং শ্রমবাজারে বাংলাদেশের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই এখনই সমস্যার কারণ উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এজন্য কর্মস্থলে নিরাপত্তা সুরক্ষার পাশাপাশি কাজের শর্ত সম্পর্কে কর্মীকে আগেই অবহিত করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।

এদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরির জন্য অভিবাসীর মর্যাদা ও পরিবারের সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের ন্যায় বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন করা হবে। এবারের অভিবাসী দিবসের স্লোগান হচ্ছে ‘সামাজিক মেলবন্ধনের জন্য অভিবাসন’। দিবস উদযাপনে র‌্যালির আয়োজন ছাড়াও ১৯ ডিসেম্বর দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। এদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১৪টি দেশের ৪২ জন অনাবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বাণিজ্যিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সম্মাননা দেয়া হবে। বিদেশগামী কর্মীদের জন্য প্রবর্তিত জীবন বিমা কর্মসূচির উদ্বোধন, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, অভিবাসন মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ থাকবে নানা আয়োজন।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশ থেকে আসা মরদেহের সংখ্যা বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ১১ জন শ্রমিকের মরদেহ দেশে আসছে। ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১১ বছরে দেশে বিদেশ থেকে মরদেহ এসেছে ৩৪ হাজার ৩৮৫ জনের। এগুলোর মধ্যে ২০০৯ সালে ২ হাজার ৩১৫, ২০১০ সালে ২ হাজার ৫৬০, ২০১১ সালে ২ হাজার ৫৮৫, ২০১২ সালে ২ হাজার ৮৭৮, ২০১৩ সালে ৩ হাজার ৭৬, ২০১৪ সালে ৩ হাজার ৩৩৫, ২০১৫ সালে ৩ হাজার ৩০৭, ২০১৬ সালে ৩ হাজার ৪৮১, ২০১৭ সালে ৩ হাজার ৩৮৭ ও ২০১৮ সালে এসেছে ৩ হাজার ৭৯৩ জনের মরদেহ দেশে এসেছে। আর চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বিদেশ থেকে এসেছে প্রায় ৩ হাজার ৬৬৮ জনের মরদেহ। এরমধ্যে ৬২ শতাংশ প্রবাসী মারা গেছেন স্ট্রোকে। স্বাভাবিক মৃত্যু পাওয়া গেছে মাত্র ৫ শতাংশ প্রবাসীর। বাকিদের মৃত্যু হয়েছে হৃদরোগে, দুর্ঘটনা, হত্যা বা আত্মহত্যার কারণে। এর বাইরে অনেক প্রবাসীর মরদেহ বিদেশেই দাফন করা হয়। বিশেষ করে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি দেখা যায়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, স্বাভাবিক মৃত্যু হলে কোনো প্রশ্ন থাকে না কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। মধ্যপ্রাচ্যে তাপমাত্রা গ্রীষ্মকালে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। ফলে কিছু কর্মী হিটস্টোকে মারা যায়। এজন্য আমাদের হার্ট ফাউন্ডেশন বলেছে কর্মী প্রেরণের আগে তাদেরকে সে দেশ সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা দিলে এ সংখ্যা কিছুটা কমে আসবে।

তিনি আরও বলেন, এর বাইরে দেখা গেছে আত্মহত্যা করছে আমাদের কর্মীরা। রোড এক্সিডেন্টেও মারা যাচ্ছে। তবে আত্মহত্যা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন রয়েছে। এ বছরে গত ১১ মাসে ১৯ জন ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। তাদের তালিকা সেসব দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে দেয়া হয়েছে। তাদের কাছে আত্মহত্যার সঠিক কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। তারা এটার তদন্ত করবে। এছাড়া আমাদের মৃত কর্মীর পোস্টমর্টেম রিপোর্ট নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। এই রিপোর্ট কেউ না চাইলে দেয় না। নরমালি যেখানে মারা যায় সেখাই এ রিপোর্ট করতে হয়। আমরা চেষ্টা করছি এখন থেকে মৃত ব্যক্তির পোস্টমর্টেমের রিপোর্ট নেয়ার নিময় চালু করতে। যেন এই রিপোর্ট আমার দেশে চেক করতে পারে।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক গাজী মোহাম্মদ জুলহাস বলেন, শুধু মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে স্ট্রোক করেই যে শ্রমিকেরা মারা যাচ্ছে বিষয়টি তা নয়। দুর্ঘটনা, অসাবধানতাও এর জন্য দায়ী। তবে প্রবাসে শ্রমিক পাঠানোর আগে সে দেশের পরিবেশ সম্পর্কে অবহিত করেই পাঠানো হয়। বোর্ড প্রবাসীদের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে। আইন অনুযায়ী শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফেরার পর দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা ও পরবর্তী সময়ে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে দেয়া হয়।

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা একাধিক সংস্থা বলছে, প্রবাসে গিয়ে শ্রমিকরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের পাশাপাশি অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় মেটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয় তাদের। এতে তারা প্রচুর মানসিক চাপে থাকে। ফলে বেশিরভাগ প্রবাসীর মৃত্যু হয় স্ট্রোকে, হৃদরোগ আর দুর্ঘটনায়। আর নারীদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয় নির্যাতন অথবা আত্মহত্যায়। কিন্তু প্রকৃত সত্য বের হচ্ছে না। এজন্য অস্বাভাবিক মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগী হওয়া উচিত। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করাটা জরুরি।

এ প্রসঙ্গে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, গত ১৪ বছরে ৪০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ দেশে ফিরেছে। এর মধ্যে ৬১ শতাংশ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশের মধ্যে শুধুমাত্র সৌদি আরব থেকে এসেছে ৩১ শতাংশ শ্রমিকের মরদেহ। দিন দিন কেন এই মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হচ্ছে তা নিয়ে কোনো ধরনের গবেষণা নেই সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ে। যদি আগে থেকে বিদেশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হতো, তবে অন্তত ১০ শতাংশ মৃত্যু কমানো সম্ভব হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেন, স্বাভাবিক মৃত্যু হলে অন্য কথা কিন্তু অস্বাভাবিক মৃত্যু হলে রাষ্ট্রের কিছু করণীয় নেই এটা আমি মনে করি না। দায়সারাভাবে পরিবারকে মৃত্যুর কারণ বলে দেয়াটা খুব অসম্মানজনক। মৃত্যুর কারণ অবশ্যই সরকারিভাবে যাচাই করা এবং তা প্রতিরোধে উদ্যোগী হওয়া উচিত। এজন্য বিদেশ যাওয়ার আগে, যথাযথ প্রশিক্ষণ নেয়া আর অভিবাসন নীতিমালা অনুসারে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও চাকরির শর্ত সম্পর্কে কর্মীদের অবহিত করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১০ বছরে সবচেয়ে বেশি মরদেহ এসেছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, জর্ডান, কাতার ও লেবাননে বেশিরভাগ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে এরমধ্যে সৌদি আরবে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। গেল বছর হাজারেরও বেশি শ্রমিক দেশটিতে নানাভাবে মারা যায়। এছাড়া মালয়েশিয়া থেকেও আসছে শ্রমিকদের মরদেহ। সুখের আশায় প্রবাসে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন নারী কর্মীরা। সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থা যারা দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসন নিয়ে কাজ করছে, তাদের কাছেও নেই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো গবেষণা।

এজেন্সির অভিনব স্টাইলে প্রতারণা এখনো অব্যাহত,নিঃস্ব বিদেশগামী শ্রমিকরা
                                  

সৌদি আরব, কাতার, কুয়েতসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী (নারী ও পুরুষ) পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার পরও রিক্রুটিং এজেন্সির অভিনব স্টাইলে প্রতারণা এখনো অব্যাহত আছে। এমন দিন নাই, যেদিন এজেন্সি বা তাদের মনোনীত দালালদের হাতে গ্রামের অসহায় মানুষ প্রতারিত হচ্ছেন না। অথচ তাদের কেউ কেউ বিদেশ যাওয়ার স্বপ্নে জমি বিক্রি এবং স্বজনদের কাছ থেকে ধারে কিংবা সুদে টাকা নিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির হাতে তুলে দিয়ে দেশেই প্রতারিত হয়ে পথে পথে ঘুরছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও জনশক্তি ব্যুরোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদেশ গিয়ে প্রতারিতরা দেশে ফিরে প্রথমে স্থানীয়ভাবে এলাকায় দালালদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারে বিচার বসাচ্ছেন। যারা স্থানীয়ভাবে বিচার বসিয়েও টাকা উদ্ধার করতে পারছেন না তারা আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আছেন, রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের অফিসে দফায় দফায় ধরনা দিয়েও উপায় না পেয়ে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করছেন। এভাবে প্রতিদিন জনশক্তি ব্যুরোতে প্রতারিত শ্রমিকের অভিযোগের সংখ্যা বাড়ছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরোর পরিচালক (কর্মসংস্থান) ডিএম আতিকুর রহমান নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে শ্রমিকদের অভিযোগ জমা পড়ছে আমরা সেগুলো ব্যুরোর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দিয়ে অনুসন্ধান করাচ্ছি। প্রথম ধাপে সমস্যা সমাধানের জন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হচ্ছে। তবে যাদের অভিযোগ গুরুতর তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সার্ভার ব্লক করে দেয়া হচ্ছে।

অভিযোগ ঘেঁটে দেখা গেছে, কেউ বিদেশে গিয়ে জেল খেটে দেশে ফিরে টাকা উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন, কেউ শারীরিক নির্যাতনের কারণে কর্মীকে দেশে ফেরত আনতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অনেকে আবার বিদেশে যাওয়ার আগেই রিক্রুটিং এজেন্সিকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন বলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জনশক্তি ব্যুরোর পরিচালকের (কর্মসংস্থান) দফতরে রিক্রুটিং এজেন্সি ও তাদের দালালদের নাম উল্লেখ করে যেসব অভিযোগ জমা পড়ছে তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিদিন কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে তা উল্লেখ করে প্রতিদিনের একটি মনিটরিং ফাইলের প্রতিবেদন সদ্য যোগ দেয়া জনশক্তি ব্যুরোর মহাপরিচালক সামছুল হকের দফতরে পাঠানো হচ্ছে। পদক্ষেপ নেয়া ছকের মধ্যে প্রত্যেক মাস, অভিযোগকারী শ্রমিকের নামের তালিকা, অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যা, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে কর্মী ফেরত আনার সংখ্যা ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের পরিমাণের (লক্ষ টাকায়) তথ্য উল্লেখ থাকছে। সেই মোতাবেক জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অভিযোগ সেলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে বিদেশে গিয়ে এবং যাওয়ার আগে এক হাজার ৮২৫ জন প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে কর্মসংস্থান সেলের পরিচালক ডি এম আতিকুর রহমানের নির্দেশে সহকারী পরিচালকরা মোট ৬৬৬টি (নারী-পুরুষ) অভিযোগের নিষ্পত্তি করেন। একই সাথে এজেন্সির কাছ থেকে তিন কোটি এক লাখ ১৩ হাজার টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের কাছে দেয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের দোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল ব্যুরোর মহাপরিচালকের দফতরে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেন। তিনি সেখানে উল্লেখ করেন, আমি এনআরবি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করি। আরো আনুষঙ্গিক ৫০ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তারা আমাকে এখনো সৌদি আরব পাঠায়নি। আমাকে তারা তিনটি বিমানের ভুয়া টিকিট দেয়। প্রত্যেকবার ফ্লাইট দেয়ার কথা বলে ঢাকায় নিয়ে আসে। কিন্তু ফ্লাইটের দিন বলে টিকিট বাতিল হয়ে গেছে। আমার ভিসার মেয়াদ আর ১১ দিন বাকি আছে। আমি সৌদি আরব না যেতে পারলে আমার ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা টালবাহানা করছে। অফিসে গেলে ম্যানেজার আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করছেন। আমি অনেক কষ্টে ব্যাংক থেকে টাকা লোন করে এনআরবি রিক্রুটিং এজেন্সিকে দিয়েছি। কিন্তু এখন ব্যাংকের সুদের টাকা দিতে হিমসিম খাচ্ছি। তিনি বলেন, আমি যাতে সৌদি আরব যেতে পারি বা আমার যাবতীয় টাকা ফেরত পেতে পারি তার ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানান অভিযোগে।

শুধু এনআরবি রিক্রুটিং এজেন্সি নয়, এমন অভিযোগের তালিকায় রয়েছে আল জুবায়ের ওভারসিজ, দ্য গাজীপুর এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আরাকান ইন্টারন্যাশনাল, সিএ ট্রেডিং করপোরেশন, মজুমদার ওভারসিজ, এমপি ট্রাভেলস লিমিটেড, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশন, আল সিকদার ইন্টারন্যাশনাল, কোয়ালিটি ওভারসিজ, এলিগেন্ট ওভারসিজ লিমিটেড প্রমুখ।
গতকাল এনআরবি রিক্রুটিং এজেন্সির ম্যানেজার রফিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এই অভিযোগটি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সহকারী পরিচালক প্রবীর দত্ত তদন্ত করছেন।

গতকাল জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার একজন নেতা এ প্রতিবেদককে বলেন, আসলে আমরা যারা বিদেশে শ্রমিক পাঠিয়ে থাকি তাদের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে যে যেভাবে পারছে ইচ্ছামতো অভিযোগ দিচ্ছে। কারণ আমরা হচ্ছি লাইসেন্সের মালিক। বায়রার সব সদস্যের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ দেয়া ঠিক না জানিয়ে ওই নেতা বলেন, অনিয়ম দুর্নীতির সাথে যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির নাম থাকবে তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়া হলে আমরা এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয় তথা ব্যুরোকে সব ধরনের সহায়তা করব। তারপরও আমরা চাই এই সেক্টরে যাতে বিশৃঙ্খলা কমে আসে।

লিবিয়ায় ৩ কর্মীর মরদেহসহ ১৫২ কর্মী দেশে ফিরেছে
                                  

লিবিয়ায় ড্রোন হামলায় নিহত তিন কর্মীর মরদেহসহ ১৫২ কর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে মিসরাতা বিমানবন্দর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষ থেকে বলা হয়, লি‌বিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এবং লিবিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের তত্ত্বাবধানে ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইএমও) সক্রিয় সহায়তায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

১৫২ জনের মধ্যে ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার করা ও ত্রিপোলিতে ড্রোন হামলায় মারাত্মকভাবে আহত ১০ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।

দুবাইয়ে প্রবাসীদের এনআইডি কার্যক্রম শুরু
                                  

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে সংশ্লিষ্ট দেশেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সরবরাহের লক্ষ্যে এবার দুবাইতে কার্যক্রম শুরু করলো নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণ এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয় গতকাল সোমবার।

আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ. কে. আবদুল মোমেন প্রধান অতিথি হিসাবে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলামসহ বিশিষ্ট প্রবাসী নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন। এখন থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইনে ংবৎারপবং.হরফ.িমড়া.নফ এ ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে পারবেন। পরে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রবাসেই বায়োমেট্রিক সংগ্রহসহ স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে সেগুলো হলো- বৈধ পাসপোর্টের কপি; বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে দ্বৈত নাগরিকত্ব সনদের কপি বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র; বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে শনাক্তকারী একজন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্টের কপি; বাংলাদেশে বসবাসকারী রক্তের সম্পর্কের কোনো আত্মীয়ের নাম, মোবাইল নম্বর ও এনআইডি নম্বরসহ অঙ্গীকারনামা; বাংলাদেশে কোথাও ভোটার হয়নি মর্মে লিখিত অঙ্গীকারনামা; সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের প্রত্যয়নপত্র।

গত ৫ নভেম্বর মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়। এরই মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি এবং স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের দ্বার উন্মোচিত হয়। পরে পর্যায়ক্রমে যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে কার্যক্রম শুরু হবে। বিভিন্ন দেশে প্রায় দেড় কোটির মতো প্রবাসী বাংলাদেশি অবস্থান করছেন।

সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ৬১ কর্মী
                                  

 আরও ৬১ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব সরকার। নিয়মভঙ্গের অভিযোগে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। গত রোববার রাতে এই শ্রমিকরা দেশে পৌঁছেছেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক তানভির হোসেন বলেন, বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ইকামা থাকলেও বৈধ স্পন্সর না থাকা প্রভৃতি কারণ দেখিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

২০১৭ সালে পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ৩০৮ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি যান। পরের বছরে যান দুই লাখ ৫৭ হাজার ৩১৭। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত গিয়েছেন দুই লাখ ৩৪ হাজার ৭১ জন। ব্র্যাক মাইগ্রেশনের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরে প্রায় ১৮ হাজার কর্মী দেশটি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আরও বহু কর্মী নিজ উদ্যোগে ফিরে এসেছেন। তাদের সংখ্যাটি অজানা।

 

সৌদি থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৫৩ বাংলাদেশি
                                  

 বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৫৩ জন শ্রমিক। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রকল্প সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। ব্র্যাক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরেন তারা। বরাবরের মতো প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়।

ফেরত আসা শ্রমিক কুমিল্লার শাহজাহান মিয়া জানান, তিনি দেড় মাস আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু ধরপাকড়ের শিকার হয়ে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে হলো তাকে। কুষ্টিয়ার রুহুল আমিন শুধু শূন্য হাতে ফিরেছেন তাই নয়, তার পায়ের স্যান্ডেলটিও ছিল না। ১১ মাসেও খরচের টাকা তুলতে পারেননি। একবারে খালি হাতে ফিরতে হলো। ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, চলতি বছর এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। সাধারণ ফ্রি ভিসার নামে গিয়ে এক নিয়োগকর্তার বদলে অন্য জায়গায় কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে ফেরত আসতে হচ্ছে।

অনেকে খরচের টাকাও তুলতে পারছেন না। এদিকে সৌদি আরবের বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, নির্দোষ কাউকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি জানতে পারলে তারা সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। দূতাবাসের এ তৎপরতার পাশাপাশি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দায়িত্ব নিতে হবে।

সৌ‌দি আরবে ধরপাকড় : একদিনেই ফিরলেন ২০০ বাংলাদেশী
                                  

সৌ‌দি আরবে বাংলাদে‌শী শ্রমিকদের ধরপাকড় ও দেশে ফেরত পাঠানো অব্যাহত রয়েছে। কাজের বৈধ অনুমোদন (আকামা) থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার রাতে দুই শ` বাংলাদেশীকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি থেকে ফিরতে হয়েছে।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারা বিমানযোগে দেশে ফেরেন। বরাবরের মতো এবারও দেশে ফেরা কর্মীদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় বিমানবন্দরে জরুরি খাবার-পানিসহ নিরাপদে বাড়ি পৌঁছানোর জন্য সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম। ‌

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছ‌র ১৬ হাজারের বে‌শি বাংলাদেশী সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছে। এর মধ্যে চলতি মাসেই ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতায় ৮০৪ জন জনকে ব্র্যাক সহযোগিতা করেছে। এর মধ্যে একদিনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক কর্মী এলেন গতকাল শুক্রবার।

জানা যায়, সংসারে সচ্ছলতা আনতে মাত্র পাঁচ মাসে আগে বহু স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরব গিয়েছিলেন কুড়িগ্রামের আকমত আলী। ‌কিন্তু তার সে স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্ন। তার অভিযোগ, আকামার মেয়াদ আরো ১০ মাস থাকলেও তাকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফেরত আসা গোপালগঞ্জের ছেলে সম্রাট শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আট মাসের আকামা ছিলো তার। নামাজ পড়ে বের হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কোনো কিছু না দেখেই দেশে পাঠিয়ে দেয়।

ফেরত আসা সাইফুল ইসলামের বাড়ী নারায়ণগঞ্জে। তার অভিযোগ, আকামার মেয়াদ দেখানোর পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়। সাইফুল বলেন সবে মাত্র নয় মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন, আকামার মেয়াদও ছিলো ছয় মাস।

চট্টগ্রাম জেলার আব্দুল্লাহ ব‌লেন, আকামা তৈরির জন্য আট হাজার রিয়াল জমা দিয়েছেন কফিলকে, কিন্তু পুলিশ গ্রেফতারের পর কফিল কোনো দায়িত্ব নেয়নি।

‌ফেরত আসা কর্মীরা সরকারকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার দা‌বি জানান। আর কাউকে যেন তাদের মতো পরিস্থিতির শিকার হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য করা না হয় সে দা‌বিও করেন তারা।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ফেরত আসা কর্মীরা যেসব বর্ণনা দিচ্ছেন সেগু‌লো মর্মা‌ন্তিক। সাধারণ ফ্রি ভিসার নামে গিয়ে এক নিয়োগকর্তার বদলে আরেক জায়গায় কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়লে অনেক লোক ফেরত আসতো। কিন্তু এবার অনেকেই বলছেন, তাদের আকামা থাকার পরেও ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ করে যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অনেককে ফিরতে হচ্ছে যারা খরচের টাকার কিছুই তুলতে পারেননি।

তিনি আরো বলেন, রিক্রু‌টিং এজেন্সিগুলোকেই এই দায় নিতে হবে। পাশাপাশি নতুন করে কেউ যেন গিয়ে এমন বিপদে না পড়ে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের দেওয়া আগুনে বাংলাদেশির মৃত্যু
                                  

 দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হয়ে ইমরান (২৮) নামে বাংলাদেশি এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরে। গতকাল বুধবার ভোরে সাউথ আফ্রিকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে ডাকাতের দেওয়া আগুনে দগ্ধ হন ইমরান। ইমরানের খালাতো ভাই আবদুস সালাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, সাউথ আফ্রিকার ওরেঞ্জফার্ম এলাকায় দোকান করতো ইমরান। সোমবার রাতে বন্দুকধারী একদল ডাকাত এসে হানা দেয় তার দোকানে। ডাকাতি শেষে দোকান আটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ডাকাতরা।

এ সময় আবদুর রহিম নামে শিবচরের আরও এক যুবক দগ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে অন্য প্রবাসীরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় গতকাল বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে আহত রহিম চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইমরানের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকা। নিহত ইমরান উপজেলার দ্বিতীয়াখ- ইউনিয়নের মুজাফফরপুর খলিফাকান্দি এলাকার দুদু মিয়া খলিফার ছেলে।

নিহত ইমরানের খালাতো ভাই আবদুস সালাম বলেন, ডাকাতি করতে এসে ওর গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় ডাকাতরা। ওখানকার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু বুধবার ভোরে আমরা তার মৃত্যুর খবর পাই।

সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি
                                  

সৌদি আরবের মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ১১ জনই বাংলাদেশি। গত ১৬ অক্টোবর দেশটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মদিনা থেকে ১৯০ কিলোমিটার দূরে আল আকহাল নামের এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে।

গতকাল শনিবার বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দার শ্রম কল্যাণ উইংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ওই দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ১১ জনই বাংলাদেশি। শ্রম কল্যাণ উইংয়ের প্রথম সচিব কে এম সালাহউদ্দিন স্বাক্ষরিক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাসটিতে ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন আহত হন যাদের কেউ বাংলাদেশি নন। দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩৬ জন। তাঁদের দেহ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মদিনার আল-মিকাত হাসপাতালে নিহতদের ডিএনএনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বজনরা যোগাযোগ করলে ওই হাসপাতাল এ শনাক্ত করার ব্যাপারে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে ওই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাসটি রিয়াদ হতে যাত্রা শুরু করেছিল। বাস কোম্পানিসূত্রে জানা যায় এর মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে কেবল নাম সংগ্রহ করা গেছে ১০ জনের। ওই ১৩ জনের মধ্যে দুজন মদিনায় নেমে যান। বাকি ১১ জন মক্কাগামী ওই বাসের যাত্রী ছিলেন বলে বাস কোম্পানিটি জানিয়েছে।

রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাস কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই ১৩ জন প্রবাসী বাংলাদেশির ইকামা নম্বর ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস কর্তৃপক্ষ এ জাতীয় তথ্য প্রদান করতে পারেনি। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় দেখা যায় ডিএনএ পরীক্ষা ব্যতীত মৃত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত আছে। গত ১৬ অক্টোবর সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রাজধানী রিয়াদ থেকে আসা উমরাহ যাত্রীবাহী একটি বাস মদিনা জেয়ারাহ শেষে মক্কার উদ্দেশে আসার পথে মদিনা শহর থেকে আনুমানিক ১৯০ কিলোমিটার দূরে আল আকহাল নামক স্থানে রাস্তা সংস্কারের কাজে নিয়োজিত একটি ভারি যান ধাক্কা দিলে বাসটিতে আগুন লেগে যায়।

অন্যদিকে মদিনার ট্রাফিক অফিস জানায় বাসটির চালক ছিলেন সিরিয়ার নাগরিক। সেই সঙ্গে বাসটির কোনো বিমার আওতায় না থাকায় কোনো ধরনের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। জেদ্দা বাংলাদেশ কনস্যুলেট থেকে এখনো কারো নাম প্রকাশ না করলেও একটি বিশেষ সূত্রে ছয়জনের নাম পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন, মোকতার হোসেন, হুমায়ুন কবির, নাসির, রুহুল আমিন, মানু মিয়া, সাকিব। বাকি পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

সৌদি থেকে ২ দিনে দেশে ফিরলেন ২৫০ বাংলাদেশি
                                  

 সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন বাংলাদেশি কর্মীদের দেশে ফেরা অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবার রাতেও সৌদি এয়ারলাইনসে ১২০ জন বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফেরেন আরো ১৩০ জন। অর্থাৎ দুই দিনে ২৫০ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দেশে ফেরত যাওয়া বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম খাবরসহ জরুরি সহায়তা প্রদান করেছে।

সৌদি আরব থেকে ফেরত আসা কর্মীদের অভিযোগ, সৌদি আরবে বেশ কিছুদিন ধরে ধরপাকড়ের শিকার হচ্ছে বাংলাদেশি শ্রমিকরা। সেই অভিযানে বাদ যাচ্ছে না বৈধ কর্মীরাও। গত শুক্রবার রাতে ফেরত আসা ঢাকার দোহার উপজেলার আনোয়ার হোসেন জানান, সৌদি আরবে একটি দোকানে তিনি কাজ করতেন। তাঁর আকামার মেয়াদ ছিল আরো ১১ মাস। কিন্তু দোকান থেকে ধরে তাঁকে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেরত আসা কর্মীদের অনেকে অভিযোগ করেন, তাঁরা কর্মস্থল থেকে বাসায় ফেরার পথে পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে। সে সময় নিয়োগকর্তাদের ফোন করা হলেও তারা দায়িত্ব নেয়নি।

আকামা থাকা সত্ত্বেও কর্মীদের ডিপোর্টেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আবার দীর্ঘদিন অবৈধভাবে থাকার কারণেও অনেককে আটক করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। চলতি বছর সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১-১২ হাজার বাংলাদেশি কর্মী এরইমধ্যে দেশে ফিরেছেন।


   Page 1 of 14
     প্রবাসে বাংলা
সৌদি থেকে ফিরলো আরও ১০৯ বাংলাদেশি
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় ২০০ বাংলাদেশিসহ মোট চার শতাধিক বিভিন্ন দেশি আটক
.............................................................................................
বাংলাদেশ থেকে বিনা খরচে কর্মী নেওয়ার পরিকল্পনা মালয়েশিয়ার
.............................................................................................
সৌদি থেকে ফিরলেন ১৫ নারীসহ আরও ১০৬ বাংলাদেশি
.............................................................................................
ইরাকে বাংলাদেশিদের বাংলাদেশ দূতাবাসের সতর্কতা
.............................................................................................
মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরা অবৈধরা ৫ বছর ব্ল্যাকলিস্টেড
.............................................................................................
প্রবাসে বাড়ছে বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা
.............................................................................................
এজেন্সির অভিনব স্টাইলে প্রতারণা এখনো অব্যাহত,নিঃস্ব বিদেশগামী শ্রমিকরা
.............................................................................................
লিবিয়ায় ৩ কর্মীর মরদেহসহ ১৫২ কর্মী দেশে ফিরেছে
.............................................................................................
দুবাইয়ে প্রবাসীদের এনআইডি কার্যক্রম শুরু
.............................................................................................
সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ৬১ কর্মী
.............................................................................................
সৌদি থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৫৩ বাংলাদেশি
.............................................................................................
সৌ‌দি আরবে ধরপাকড় : একদিনেই ফিরলেন ২০০ বাংলাদেশী
.............................................................................................
দক্ষিণ আফ্রিকায় ডাকাতের দেওয়া আগুনে বাংলাদেশির মৃত্যু
.............................................................................................
সৌদিতে দুর্ঘটনায় নিহত ৩৬ জনের মধ্যে ১১ জন বাংলাদেশি
.............................................................................................
সৌদি থেকে ২ দিনে দেশে ফিরলেন ২৫০ বাংলাদেশি
.............................................................................................
সৌদি আরবে ছুরিকাঘাতে বাংলাদেশি খুন, গ্রেপ্তার ৩
.............................................................................................
দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
ওমানে অমানুষিক নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন বরিশালের নার্গিস
.............................................................................................
লন্ডনে ভিসা জালিয়াতির চক্রের চার বাংলাদেশিকে সাজা থেকে অব্যাহতি
.............................................................................................
দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা
.............................................................................................
মেক্সিকোতে ১৭ বাংলাদেশি উদ্ধার
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জের কৃতি সন্তান কাতারের ব্যবসায়ী জালাল আহাম্মেদের সম্মাননা অর্জন
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা
.............................................................................................
বেঁচে যাওয়া ১৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন
.............................................................................................
সৌদি আরবে চালু হচ্ছে ‘গ্রিন কার্ড’
.............................................................................................
ভূমধ্যসাগরে নিহতদের মধ্যে ২৭ বাংলাদেশির লাশ শনাক্ত
.............................................................................................
মন্ত্রণালয়ের অসহযোগিতায় প্রবাসী কর্মীর লাশ দেশে পদে পদে হয়রানি শিকার হচ্ছে স্বজনরা
.............................................................................................
ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি
.............................................................................................
দু’দিনে দেশে ফিরলেন ৩৭৫ বাংলাদেশী
.............................................................................................
পরিচয় নিশ্চিত হলো সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশিদের
.............................................................................................
কাতারে শত শত কর্মী কফিল খুঁজে না পেয়ে পথে পথে ঘুরছেন
.............................................................................................
বাগদাদে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারে বাংলাদেশীদের আকুতি
.............................................................................................
যুক্তরাষ্ট্রে শক্তিশালী টর্নেডোর আঘাতে নিহত ৮
.............................................................................................
লন্ডনে এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার
.............................................................................................
দেশে ফিরল মালয়েশিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ যুবকের মরদেহ
.............................................................................................
আহত ফায়ারম্যান সোহেল রানা মারা গেছেন
.............................................................................................
মালয়েশিয়ায় বাস দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশিসহ নিহত ১১
.............................................................................................
ইউরোপে পাড়ি জমাতে ভূমধ্যসাগরেই সিলেটী তরুণদের স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ
.............................................................................................
ওমানে বাংলাদেশীসহ এক হাজার প্রবাসী গ্রেফতার
.............................................................................................
নজরুলের জীবন অবলম্বনে নাটক ‘নীলকণ্ঠ নজরুল’ যুক্তরাষ্ট্রে মঞ্চস্থ
.............................................................................................
দুর্নীতিগ্রস্ত সিনারফ্লাক্সের জালে আটকা ৭০ হাজার কর্মীর ভাগ্য
.............................................................................................
কুয়েতে চাকরি হারাচ্ছেন ৩ হাজার ১৪০ প্রবাসী
.............................................................................................
‘ল্যাটিন আমেরিকায় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষার সময় এখনই’
.............................................................................................
জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................
মুম্বাইয়ে জাতীয় শোক দিবস ও বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী পালন
.............................................................................................
সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘নিবিড় যোগাযোগ বলয় গঠন’
.............................................................................................
এক ক্লিকেই ডলার যাবে বাংলাদেশে
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা
.............................................................................................
সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ বাংলাদেশি নিহত
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]