বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আইন-আদালত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বিভিন্ন দেশে উচ্চ আদালতের ভাষা

আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঞা: বিশ্বজগতের প্রাণিকূলের বেঁচে থাকার দুটি অপরিহার্য উপাদান হলো শ্বাস-প্রশ্বাস আর ভাষা। প্রাণীভেদে ভাষারও ভিন্নতা বিদ্যমান। সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যেমন মানুষ, তেমনি মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো তার ভাষা। ভাষাবিহীন মানুষ মৃত প্রায়। সমাজ, জাত, ধর্ম-বর্ণ, দেশভেদে ভাষার ভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেকটা মানুষের সুখ-দু:খ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, হতাশার অভিব্যক্তি একই রকমের হয়ে থাকে। এখানে নেই কোন ভিন্নতা।
বিশ্বের সাতশ’ কোটিরও অধিক মানুষ হাজারো ভাষার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাদের ভাবের আদান-প্রদান করে চলেছে। ন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৭ হাজার ৩শ’ ৭৮টি ভাষা এবং প্রায় ৩৯ হাজার ৪শ’ উপভাষা রয়েছে। সারা বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ব্যবহৃত ভাষা হিসেবে বাংলা’র অবস্থান সপ্তম স্থানে। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা পত্রটিও মোট ৩২২টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য পৃথিবীতে জীবন উৎসর্গের অসংখ্য নজীর থাকলেও মাতৃভাষা রক্ষার জন্য রক্তক্ষয়ী ইতিহাস একমাত্র বাংলা ভাষারই রয়েছে। রফিক, সালাম, বরকত ও জব্বারের মতো বেশ কয়েকজন শহীদের রক্তের বিনিময়ে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা সগর্বে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে কানাডা প্রবাসী রফিক ও সালাম নামের দুই বাংলাদেশীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের এক অধিবেশনে ২১ ফেব্রয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলা অনন্য মর্যাদায় আসীন হয়।
স্রোতের অভাবে অসংখ্য নদী যেমন বিলীন হয়ে যায়। তেমনি দিনের পর দিন অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গহ্বরে। আবার অসংখ্য ভাষা তার স্বকীয়তা দিয়ে মানুষের মুখে মুখে টিকে থাকে যুগ যুগান্তরে। বর্তমানে মিশ্র সংস্কৃতি তথা বিশ্বায়নের আগ্রাসনে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষা অস্তিত্বের সংকটে পতিত হয়েছে।
উদাহরণটা ইংল্যান্ডকে দিয়েই শুরু করা যাক। ইংল্যান্ডের সর্বস্তরের ভাষা ইংরেজি। আদালতের ভাষাও ইংরেজি। আদালত অঙ্গনের এমন কিছু বিষয় আছে যেখানে লাতিন শব্দ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, জনগণ এই লাতিন শব্দগুলোর অর্থ অনুধাবন করতে পারে না, সে কথা চিন্তা করে লর্ড ইলফ তাঁর অ্যাকসেস টু জাস্টিসে সুপারিশ করেন যে, আদালতের ভাষা থেকে অবোধ্য ও স্বল্প ব্যবহৃত লাতিন শব্দ বাদ দেয়া হোক। নেপাল বিশ্বের উন্নত দেশের মধ্যে পড়ে না, প্রায় আমাদের সমগোত্রীয় দেশ। সেখানে ১২ জুন ১৯৯৫ সাল থেকে সর্বোচ্চ আদালতসহ সর্ব রাষ্ট্রকর্মে জনগণের ভাষা নেপালিতে সম্পন্ন হয়।
মালয়েশিয়ার ফেডারেল সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৬৩ সালের জাতীয় ভাষা আইনের ৮ ধারা অনুসারে, আদালতের রায় বাহাস মালয়েশিয়ার লেখার বাধ্যবাধকতা থাকায় আদালতের পূর্বানুমতি নিয়েও যদি কোন মামলার আরজি বাহাস অন্য কোন ভাষায় লেখা হয় তা অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দেয়া হয়!
দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১টি ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। তার মধ্যে মাত্র দুটি ভাষা আদালতে ব্যবহৃত হয়। রায় প্রকাশিত হবার পরে বা মামলার শুনানিকালে মামলার বিষয়বস্তু ও রায় অন্য ভাষাগুলোতে দোভাষীরা অনুবাদ করে দেন। তুরস্কের আদালতের ভাষা এখন কুর্দি ও তুর্কি।
কানাডা সুপ্রিম কোর্টেও প্রতিটি রায় ইংরেজি ও ফরাসি ভাষাতে অফিসিয়াল রিপোর্টে ছাপানো বাধ্যতামূলক। কানাডার সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় রায় প্রধান করেন যে, ভাষা বেছে নেওয়ার অধিকার অভিযুক্তের ‘সাবস্টেনটিভ রাইট’। প্রসিডিউরাল নয়। অন্য এক মামলায় কানাডিয়ান সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ভাষার অধিকার সব মামলার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিষ্ঠার সঙ্গে দেখতে হবে। ভাষার অধিকার নেতিবাচক কিংবা পরোক্ষ অধিকার নয়।
সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, জাপান, ফ্রাস, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, চীন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের উচ্চ আদালতের ভাষা তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা বা মাতৃভাষা, ইংরেজি নয়। তবে যেসব দেশে মাতৃভাষায় তাদের রায় প্রদান করেন, তারা প্রত্যেকেই অনুবাদকের দ্বারা সেই রায়টি অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করিয়ে দেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮৩৭ সালে বাংলার আদালতগুলোতে দেশীয় ভাষায় বিচারকার্য শুরু হয়, যদিও মামলার রায় দেয়া হতো ইংরেজিতে। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ ও ৩২ উভয় ধারাতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি জবানবন্দি প্রদান করবে তার ভাষাতে তা লিপিবন্ধ করতে হবে। অন্যকোন ভাষায় কোনভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। ১৯৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৭ (১) ধারার ভাষ্যমতে, প্রত্যেকটি সাক্ষীর সাক্ষ্য দায়রা জজ বা হাকিম কর্তৃক তাহার নিজ হাতে ও তাহার মাতৃভাষায় লিখিত হইবে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় হয়েছে। এই সব মামলার রায় কি বলা হয়েছে। জনগণ হিসাবে তা জানার অধিকার সবারই আছে। বিজ্ঞ আদালত ইংরেজি ভাষায় রায় প্রদান করার কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষই মামলাগুলোর রায় বিষয়ে কি কি বলা হয়েছে তা কিছুই জানেন না। যদিও সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ধারা-৭৪ মতে, মামলার রায় হচ্ছে সরকারি দলিল (পাবলিক ডকুমেন্ট)। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমানে কোন বিচারকের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়, তার পরও কেন রায়গুলো ইংরেজি ভাষায় প্রদান করা হয়।
নদীর স্রোতের মতো চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভাষা ধাবিত হয় আগামীর পথে। স্রোতের অভাবে অসংখ্য নদী যেমন বিলীন হয়ে যায়। তেমনি চর্চ্চার অভাবে দিনের পর দিন অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গহ্বরে। ইতোমধ্যে বাংলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কালক্রমে বাংলার মতো অন্যতম প্রাচীন ভাষাও হারিয়ে ফেলতে পারে তার স্বকীয়তা।
তাই কবিতার ভাষায় বলতে চাই,
যুগে যুগে জনে জনে, বাংলা থাকুক সবার প্রাণে
বাংলা ছুটুক গল্প গানে, বাংলা বাঁচুক সবার মনে

আমাদের দেশে শুধুমাত্র ফেব্রয়ারী মাস আসলেই বিভিন্ন ব্যক্তির মুখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাষা প্রেম দেখা যায়। বাংলা ভাষার পেছনে বাঙ্গালী জাতির যে আত্নত্যাগ তার মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকুক। এর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিচারকার্যের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাজের সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন করা হোক। শুধুমাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলার সর্বোত্তম ব্যবহার ও চর্চ্চা হোক ঘরে ঘরে, জনে জনে।

আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঞা

বিভিন্ন দেশে উচ্চ আদালতের ভাষা
                                  

আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঞা: বিশ্বজগতের প্রাণিকূলের বেঁচে থাকার দুটি অপরিহার্য উপাদান হলো শ্বাস-প্রশ্বাস আর ভাষা। প্রাণীভেদে ভাষারও ভিন্নতা বিদ্যমান। সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি যেমন মানুষ, তেমনি মানুষের জন্য শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো তার ভাষা। ভাষাবিহীন মানুষ মৃত প্রায়। সমাজ, জাত, ধর্ম-বর্ণ, দেশভেদে ভাষার ভিন্নতা থাকলেও প্রত্যেকটা মানুষের সুখ-দু:খ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, হতাশার অভিব্যক্তি একই রকমের হয়ে থাকে। এখানে নেই কোন ভিন্নতা।
বিশ্বের সাতশ’ কোটিরও অধিক মানুষ হাজারো ভাষার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তাদের ভাবের আদান-প্রদান করে চলেছে। ন্যাশনাল এনসাইক্লোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বে ৭ হাজার ৩শ’ ৭৮টি ভাষা এবং প্রায় ৩৯ হাজার ৪শ’ উপভাষা রয়েছে। সারা বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষের ব্যবহৃত ভাষা হিসেবে বাংলা’র অবস্থান সপ্তম স্থানে। জাতিসংঘের ১৯৪৮ সালের মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা পত্রটিও মোট ৩২২টি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে।
মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য পৃথিবীতে জীবন উৎসর্গের অসংখ্য নজীর থাকলেও মাতৃভাষা রক্ষার জন্য রক্তক্ষয়ী ইতিহাস একমাত্র বাংলা ভাষারই রয়েছে। রফিক, সালাম, বরকত ও জব্বারের মতো বেশ কয়েকজন শহীদের রক্তের বিনিময়ে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলা ভাষা সগর্বে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। ১৯৯৮ সালে কানাডা প্রবাসী রফিক ও সালাম নামের দুই বাংলাদেশীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের এক অধিবেশনে ২১ ফেব্রয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে আমাদের প্রাণের ভাষা বাংলা অনন্য মর্যাদায় আসীন হয়।
স্রোতের অভাবে অসংখ্য নদী যেমন বিলীন হয়ে যায়। তেমনি দিনের পর দিন অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গহ্বরে। আবার অসংখ্য ভাষা তার স্বকীয়তা দিয়ে মানুষের মুখে মুখে টিকে থাকে যুগ যুগান্তরে। বর্তমানে মিশ্র সংস্কৃতি তথা বিশ্বায়নের আগ্রাসনে বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষা অস্তিত্বের সংকটে পতিত হয়েছে।
উদাহরণটা ইংল্যান্ডকে দিয়েই শুরু করা যাক। ইংল্যান্ডের সর্বস্তরের ভাষা ইংরেজি। আদালতের ভাষাও ইংরেজি। আদালত অঙ্গনের এমন কিছু বিষয় আছে যেখানে লাতিন শব্দ ব্যবহার করা হয়। কিন্তু, জনগণ এই লাতিন শব্দগুলোর অর্থ অনুধাবন করতে পারে না, সে কথা চিন্তা করে লর্ড ইলফ তাঁর অ্যাকসেস টু জাস্টিসে সুপারিশ করেন যে, আদালতের ভাষা থেকে অবোধ্য ও স্বল্প ব্যবহৃত লাতিন শব্দ বাদ দেয়া হোক। নেপাল বিশ্বের উন্নত দেশের মধ্যে পড়ে না, প্রায় আমাদের সমগোত্রীয় দেশ। সেখানে ১২ জুন ১৯৯৫ সাল থেকে সর্বোচ্চ আদালতসহ সর্ব রাষ্ট্রকর্মে জনগণের ভাষা নেপালিতে সম্পন্ন হয়।
মালয়েশিয়ার ফেডারেল সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৬৩ সালের জাতীয় ভাষা আইনের ৮ ধারা অনুসারে, আদালতের রায় বাহাস মালয়েশিয়ার লেখার বাধ্যবাধকতা থাকায় আদালতের পূর্বানুমতি নিয়েও যদি কোন মামলার আরজি বাহাস অন্য কোন ভাষায় লেখা হয় তা অবৈধ ও অসাংবিধানিক বলে খারিজ করে দেয়া হয়!
দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১টি ভাষা রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা পেয়েছে। তার মধ্যে মাত্র দুটি ভাষা আদালতে ব্যবহৃত হয়। রায় প্রকাশিত হবার পরে বা মামলার শুনানিকালে মামলার বিষয়বস্তু ও রায় অন্য ভাষাগুলোতে দোভাষীরা অনুবাদ করে দেন। তুরস্কের আদালতের ভাষা এখন কুর্দি ও তুর্কি।
কানাডা সুপ্রিম কোর্টেও প্রতিটি রায় ইংরেজি ও ফরাসি ভাষাতে অফিসিয়াল রিপোর্টে ছাপানো বাধ্যতামূলক। কানাডার সুপ্রিম কোর্ট একটি মামলায় রায় প্রধান করেন যে, ভাষা বেছে নেওয়ার অধিকার অভিযুক্তের ‘সাবস্টেনটিভ রাইট’। প্রসিডিউরাল নয়। অন্য এক মামলায় কানাডিয়ান সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ভাষার অধিকার সব মামলার ক্ষেত্রে অবশ্যই নিষ্ঠার সঙ্গে দেখতে হবে। ভাষার অধিকার নেতিবাচক কিংবা পরোক্ষ অধিকার নয়।
সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ডেনমার্ক, জাপান, ফ্রাস, জার্মানি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, চীন, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের উচ্চ আদালতের ভাষা তাদের রাষ্ট্রীয় ভাষা বা মাতৃভাষা, ইংরেজি নয়। তবে যেসব দেশে মাতৃভাষায় তাদের রায় প্রদান করেন, তারা প্রত্যেকেই অনুবাদকের দ্বারা সেই রায়টি অন্যান্য ভাষায় অনুবাদ করিয়ে দেন।
বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৮৩৭ সালে বাংলার আদালতগুলোতে দেশীয় ভাষায় বিচারকার্য শুরু হয়, যদিও মামলার রায় দেয়া হতো ইংরেজিতে। ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৪ ও ৩২ উভয় ধারাতে উল্লেখ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি জবানবন্দি প্রদান করবে তার ভাষাতে তা লিপিবন্ধ করতে হবে। অন্যকোন ভাষায় কোনভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। ১৯৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৭ (১) ধারার ভাষ্যমতে, প্রত্যেকটি সাক্ষীর সাক্ষ্য দায়রা জজ বা হাকিম কর্তৃক তাহার নিজ হাতে ও তাহার মাতৃভাষায় লিখিত হইবে। বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বেশ কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় হয়েছে। এই সব মামলার রায় কি বলা হয়েছে। জনগণ হিসাবে তা জানার অধিকার সবারই আছে। বিজ্ঞ আদালত ইংরেজি ভাষায় রায় প্রদান করার কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষই মামলাগুলোর রায় বিষয়ে কি কি বলা হয়েছে তা কিছুই জানেন না। যদিও সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ এর ধারা-৭৪ মতে, মামলার রায় হচ্ছে সরকারি দলিল (পাবলিক ডকুমেন্ট)। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বর্তমানে কোন বিচারকের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়, তার পরও কেন রায়গুলো ইংরেজি ভাষায় প্রদান করা হয়।
নদীর স্রোতের মতো চড়াই উৎরাই পেরিয়ে নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ভাষা ধাবিত হয় আগামীর পথে। স্রোতের অভাবে অসংখ্য নদী যেমন বিলীন হয়ে যায়। তেমনি চর্চ্চার অভাবে দিনের পর দিন অনেক ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে কালের অতল গহ্বরে। ইতোমধ্যে বাংলার বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা হারিয়ে গেছে। এভাবে চলতে থাকলে কালক্রমে বাংলার মতো অন্যতম প্রাচীন ভাষাও হারিয়ে ফেলতে পারে তার স্বকীয়তা।
তাই কবিতার ভাষায় বলতে চাই,
যুগে যুগে জনে জনে, বাংলা থাকুক সবার প্রাণে
বাংলা ছুটুক গল্প গানে, বাংলা বাঁচুক সবার মনে

আমাদের দেশে শুধুমাত্র ফেব্রয়ারী মাস আসলেই বিভিন্ন ব্যক্তির মুখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভাষা প্রেম দেখা যায়। বাংলা ভাষার পেছনে বাঙ্গালী জাতির যে আত্নত্যাগ তার মর্যাদা অক্ষুন্ন থাকুক। এর একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিচারকার্যের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কাজের সর্বস্তরে বাংলার প্রচলন করা হোক। শুধুমাত্র ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাংলার সর্বোত্তম ব্যবহার ও চর্চ্চা হোক ঘরে ঘরে, জনে জনে।

আ. ন. ম. মাছুম বিল্লাহ ভূঞা

মাদারীপুরে কুপিয়ে হত্যা: হাইকোর্টে একজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজন খালাস
                                  

 মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার রিয়াজ মোল্লাকে (২৪) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কাজল মুন্সীকে বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত চারজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন- জাহাঙ্গীর মুন্সী, শহিদুল মুন্সী, সুমন মুন্সী ও জসিম মুন্সী। ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানি শেষে গতকাল সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথ ও বিচারপতি মোহাম্মদ মাহবুব উল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে গতকাল সোমবার রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ।

এ ছাড়া আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোমতাজ বেগম ও আতিয়ার রহমান। পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ড. মো. বশির উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৩ সালের ৬ মার্চ মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার মোল্লার হাট-বাজার এলাকায় রিয়াজ মোল্লাকে (২৪) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ওইদিনই কালকিনি থাকায় নিহতের বাবা কাজল মুন্সীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ওই মামলায় ২০১৪ সালের ১৯ জুন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কাজল মুন্সীকে মৃত্যুদণ্ড দেন। অপর চার আসামি জাহাঙ্গীর মুন্সী, শহিদুল মুন্সী, সুমন মুন্সী ও জসিম মুন্সীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরা আপিল করেন এবং মুত্যৃদন্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্ট আসে। ডেথ রেফারেন্স এবং আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট উপর্যুক্ত রায় দিলেন।

 

৩০ জুন পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া যানবাহনের কাগজ হালনাগাদের সুযোগ
                                  

 আগামি ৩০ জুন পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া মূল কর বা ফি জমা দিয়ে খেলাপি মালিকদের যানবাহনের কাগজপত্র হালনাগাদ করার সুযোগ দিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এই সুযোগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, গাড়ির কাগজপত্র (ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন ও রুট পারমিট) এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের জরিমানা ছাড়া মূল কর/ফি জমা দিয়ে আগামি ৩০ জুন পর্যন্ত হালনাগাদ করা যাবে।

অর্থ বিভাগ গত ৮ জানুয়ারি এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। আগামীতে খেলাপি যানবাহন মালিকদের আর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না বলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অগ্রিম ঘোষণা প্রচার করবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

রিফাত হত্যার তিন সাক্ষীকে জেরা করলেন আসামিপক্ষের ১০ আইনজীবী
                                  


বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তিন সাক্ষী। গতকাল রোববার রগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। তিন সাক্ষী হলেন রিফাতের প্রতিবেশী আবদুল হাই, সজল এবং হারুন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তিন সাক্ষীকে জেরা করেন আসামিপক্ষের ১০ আইনজীবী। এ নিয়ে মামলার ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করলেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ভুবন চন্দ্র হালদার বলেন, গতকাল রোববার রিফাত হত্যা মামলার তিন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। আজ সোমবার একই আদালতে আরও তিন সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন। পাশাপাশি অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদেরও সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত দিন আগামীকাল। গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক; দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি প্রিন্স মোল্লা, মারুফ মল্লিক এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে। গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার শিশু আদালত। রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন রাকিবুল হাসান রিফাত ফরাজি, আল কাইউম ওরফে রাব্বি আকন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত, রেজওয়ান আলী খান হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয়, মো. হাসান, মো. মুসা, আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি, রাফিউল ইসলাম রাব্বি, মো. সাগর এবং কামরুল ইসলাম সাইমুন।


অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিরা হলেন মো. রাশিদুল হাসান রিশান ফরাজী, মো. রাকিবুল হাসান রিফাত হাওলাদার, মো. আবু আবদুল্লাহ রায়হান, মো. ওলিউল্লাহ অলি, জয় চন্দ্র সরকার চন্দন, মো. নাইম, মো. তানভীর হোসেন, নাজমুল হাসান, রাকিবুল হাসান নিয়ামত, মো. সাইয়েদ মারুফ বিল্লাহ মহিবুল্লাহ, মারুফ মল্লিক, প্রিন্স মোল্লা, রাতুল সিকদার জয় এবং আরিয়ান হোসেন শ্রাবণ।

 

 

দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার এনু, রিমান্ডে রুপন
                                  

আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা রুপন ভূঁইয়াকে পাঁচ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত। গতকাল রোববার রুপনের সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক নেয়ামুল আহসান গাজী। শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশ পাঁচদিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন বলে দুদকের আইনজীবী মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর জানান। অপরদিকে রুপনের ভাই এনামুল হক এনুকে দুদকের আলাদা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর (শ্যোন অ্যারেস্ট) আবেদন মঞ্জুর করেছেন একই বিচারক। এনামুল গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রুপন একই থানা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক। গত বছর ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার কয়েকটি ক্লাবের সঙ্গে ওয়ান্ডারার্সে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৪ সেপ্টেম্বর গেন্ডারিয়ায় প্রথমে এনু ও রুপনের বাড়িতে এবং পরে তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে পাঁচটি সিন্দুকভর্তি প্রায় ৫ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এরপর দুদক তাদের সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধান শেষে গত বছর ২৩ অক্টোবর ৩৫ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদকের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা আলাদা মামলা হয়। এনামুল হক এনুর বিরুদ্ধে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরীর করা মামলায় ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে দুদকের আরেক সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে যে মামলা করেন তার এজাহারে বলা হয়েছে, রুপন অসৎ উদ্দেশ্যে অবৈধ পন্থায় নামে-বেনামে ১৪ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮২ টাকার আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। সর্বশেষ ২০১৯-২০ করবর্ষে তার দাখিল করা আয়কর রিটার্নেও কোনো স্থাবর সম্পদের তথ্য দেননি তিনি। তবে ব্যবসার পুঁজি বাবদ ২ কোটি ৬২ লাখ ২৮ হাজার ৮৫২ টাকাসহ ৩ কোটি ৮ লাখ ৬ হাজার ৯১১ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ব্যবসার পুঁজি এবং ‘এনু রুপন স্টিল কর্পোরেশন’র শেয়ার বাবদ প্রদর্শিত ২ কোটি ৭১ লাখ ৮২ হাজার ৪৮১ টাকা অর্জনের সপক্ষে কোনো বৈধ আয়ের উৎস দেখাননি। এটা তার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্রদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: আইনমন্ত্রী
                                  

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, আমাদের ছাত্র সমাজকে দেশ গড়ার প্রত্যয়ে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে হবে। গতকাল শনিবার নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে নবীন শিক্ষার্থীদের স্প্রিং সেমিস্টারের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়া প্রেফন্টেন, ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম ইসমাইল হোসেন, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম এ হাসেম, এম এ কাসেম, রেহানা রহমান প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম বলেন, নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষার্থীদের এই যাত্রা যেন নির্বিঘ্ন হয় সে জন্য অভিভাবকদের সজাগ দৃষ্টি কামনা করছি। আমরা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানে বদ্ধপরিকর। বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত বেনওয়া প্রেফন্টেন বলেন, ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়ন কেবল নিজের পড়াশোনা এবং ক্যারিয়ারের জন্যই নয়, সারাজীবনের জন্যও প্রস্তুত হতে হবে।

কেবল একটি চাকরি সন্ধানের জন্য জ্ঞান এবং দক্ষতা অর্জন না করে, একজন ভালো মানুষ হওয়ার জন্য ব্যক্তিগত গুণাবলি বাড়িয়ে তুলতে হবে। এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অনুষদের অধীন ১৬টি বিভাগে স্নাতক (সম্মান) কোর্সে ভর্তি হয়েছেন প্রায় তিনহাজার শিক্ষার্থী। ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য ৪৮ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।

 

দুদকের মামলায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু
                                  

 সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের এক মামলায় ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার একটি আদালত অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর দিন ঠিক করে দেয়। অবিভক্ত ঢাকার সর্বশেষ মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক ভোটের প্রচারে থাকার মধ্যে আদালতে বিচার শুরুর আদেশ হল।

সম্পদের তথ্য-বিবরণী চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক ও তার বোন সারিকা সাদেককে আলাদা নোটিস দিয়েছিল। নোটিসে তাদের নিজের নামে এবং তাদের উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ‘স্বনামে বা বেনামে’ বা তাদের পক্ষে অন্য কোনো নামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ-সম্পত্তির দায়-দেনা, আয়ের উৎসসহ বিস্তারিত বিবরণ সাত কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়।

কিন্তু তারা তা না দেওয়ায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সামছুল আলম ২০১০ সালের ২৯ ও ৩০ আগস্ট রমনা থানায় দুটি মামলা করেন। ইশরাক ও সারিকা দুদকের নোটিস চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন, তা আদালতে খারিজ হয়ে যায়। দুই বছর আগে দুদক অভিযোগপত্র অনুমোদন দেওয়ার পর আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন ইশরাক ও সারিকা। তখন তাদের নিম্ন আদালতে যেতে নির্দেশনা দেয় হাই কোর্ট।

দুই বছর আগে দুর্নীতির একটি মামলায় সাদেক হোসেন খোকারও ১০ বছরের সাজার রায় দেওয়া হয়েছিল। ওই রায়ের আগে থেকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খোকা গত বছর মারা যান।

রিট খারিজ, ৩০ জানুয়ারিই হচ্ছে ঢাকার দুই সিটির ভোট
                                  

 সরস্বতী পূজার কারণে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ বদলানোর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। আদালতের এই আদেশের ফলে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিই ঢাকার দুই সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে। আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষের করা এক রিট আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.খায়রুল আলমের হাই কোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।

রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ আদালতে নিজেই শুনানি করেন। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ও সহসভাপতি সুব্রত চৌধুরীও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম। ৩০ জানুয়ারি ভোটের তারিখ রেখে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে ইসি। সে অনুযায়ী প্রার্থীরা প্রচারও চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি স্বরস্বতী পূজা থাকায় ভোটের তারিখ পরিবর্তনের জন্য আদালতে এই রিট আবেদন করেন আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। তার যুক্তি ছিল, ইসির ঘোষিত নির্বাচনের তারিখ সংবিধানে বর্ণিত প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালনের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে ‘সাংঘর্ষিক’। আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দিয়ে আদালত আদেশে বলেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৯ জানুয়ারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ক্যালেন্ডারেও ২৯ তারিখ ছুটির কথা বলা আছে। আর নির্বাচন কমিশন ৩০ তারিখ ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে।

তার দু’দিন পর এসএসসি পরীক্ষা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভোটের তারিখ পেছানোর কোনো সুযোগ নেই, তাই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হল। রিটকারী আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ আদেশের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা আপিল বিভাগে যাব। তিনি বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে আমরা সংক্ষুব্ধ, মর্মাহত ও ব্যথিত। আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবো। আগামীকাল (আজ বুধবার) আপিল বিভাগে যাবো। আশা করি আপিল বিভাগে ন্যায়বিচার পাবো।

হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল
                                  

সমালোচনার মুখে হাসপাতালগুলোতে সাংবাদিকদের প্রবেশ ও তথ্য সংগ্রহ বিষয়ে দেওয়া নির্দেশনাটি প্রত্যাহার করে নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। তাদের নতুন নির্দেশনায় হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয় বাদ দিয়ে দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞার স্বাক্ষরে নতুন নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়।

নতুন নির্দেশনায় দেখা গেছে, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে গত ১২ জানুয়ারি দেওয়া নির্দেশনায় যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল তা বাদ দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. আবু রায়হান মিঞা স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছিল গবেষণা, জরিপ, অন্য কোনও তথ্য বা সংবাদ সংগ্রহের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। সংগৃহীত তথ্য বা সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। বিনা অনুমতিতে হাসপাতালের ভেতরে রোগী বা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের কোনও স্থিরচিত্র বা ভিডিওচিত্র ধারণ করতে পারবেন না। সংগৃহীত তথ্য প্রকাশের আগেই বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। তবে এ নির্দেশনা জারির পরপর এটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদও প্রকাশিত হয়। তারপরই মন্ত্রণালয় তাদের আগের নির্দেশনা থেকে সরে আসে। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম এ নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে আজ বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজনের ঘোষণা দেয়।

তবে তার আগেই মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিলো। সাংবাদিকদের প্রতি দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তৌফিক মারুফ আগামীকালের (আজ বুধবার) প্রতিবাদ সভা আপাতত বাতিল করা হলো বলে জানিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে শীর্ষক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া সরকারের লক্ষ্য। নিরাপদ চিকিৎসার জন্য রোগীর সঙ্গে আসা দর্শনাথীদের নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কেননা, তাদের স্বাস্থ্যবিষয়ক অজ্ঞতা এবং রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ রোধে করণীয় বিষয়ে জ্ঞানের অভাবে অধিকাংশ সময়ই কাক্সিক্ষত পরিবেশ বা পরিস্থিতির অবনতি হয়। এ অবস্থায় দেশের সব সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে নির্দেশক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রত্যেক হাসপাতালে দর্শনার্থী পাস চালু করতে হবে এবং প্রতিটি পাসের জন্য নিরাপত্তা জামানত চালু করা যেতে পারে। রোগীর অসুস্থতা বিবেচনায় একজন রোগীকে সহায়তা করার জন্য সর্বোচ্চ দুইজন দর্শনার্থীকে পাস দেওয়া যেতে পারে। হাসপাতাল ত্যাগের আগেই পাস ফেরত দিয়ে দর্শনার্থী নিরাপত্তা জামানত ফেরত নিতে পারবেন। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মচারীরা বৈধ পরিচয়পত্র দৃশ্যমানভাবে বহন করবেন। আগত দর্শনার্থীদের জন্য পাস ইস্যু করার সময় নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, পরিদর্শনের কারণ ইত্যাদি তথ্য-সংবলিত রেজিস্ট্রার সংরক্ষণ করা যেতে পারে। দর্শনার্থী বিষয়ক নিয়মাবলি রোগী বা রোগীর সাহায্যকারীকে অবহিত করতে হবে। এ ছাড়া দর্শনার্থী বিষয়ক নিয়মাবলি সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন জায়গায় রাখতে হবে। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার পর সমালোচনা হয়, গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারপরই মন্ত্রণালয় তাদের আগের নির্দেশনা থেকে সরে আসে।

 

ড. ইউনূসকে শ্রম আদালতে তলব
                                  

ফৌজদারি মামলায় গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের চেয়ারম্যান হিসেবে নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে তলব করেছে ঢাকার শ্রম আদালত। তাকে আগামি ৬ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে সমন জারির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতের বিচারক রহিবুল ইসলাম। ওই আদালতের পেশকার মিয়া মো. জামাল উদ্দিন তথ্যটি জানিয়ে গতকাল সোমবার বলেন, আসামি সমন পেয়ে আদালতে হাজির না হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিধান রয়েছে।

গত ৫ জানুয়ারি আদালতে মামলাটি করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) তরিকুল ইসলাম। মামলায় ইউনূস ছাড়াও গ্রামীণ কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজনীন সুলতানা, পরিচালক আবদুল হাই খান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (জিএম) গৌরি শংকরকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের কারণে গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের চাকরিচ্যুত তিন কর্মীর পৃথক তিনটি মামলায় একই আদালত গত ৯ অক্টোবর ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল। এরপর ৩ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি। নতুন মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল একজন পরিদর্শক প্রতিষ্ঠানটি গ্রামীণ কমিউনিকেশন্স পরিদর্শন করে বিভিন্ন ত্রুটি দেখতে পেয়ে সেসব সংশোধনের নির্দেশনা দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে পর ৭ মে ডাকযোগে বিবাদী পক্ষ জবাব দেয়। এরপর মামলার বাদী একই বছরের ১০ অক্টোবর প্রতিষ্ঠানটিতে পরিদর্শনে গিয়ে ১০টি বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পান এবং ২৮ অক্টোবর তা অবহিত করেন। তবে বিবাদী পক্ষ সময়ের আবেদন করেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জবাব দাখিল করেনি।

এতে বিবাদীরা বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬, বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ধারা ৩৩ (ঙ) এবং ৩০৭ মোতাবেক দন্ডনীয় অপরাধ করেছেন বলে মামলায় বাদী অভিযোগ করেছেন। গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের বিরুদ্ধে যেসব বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বিধি মোতাবেক শ্রমিক/কর্মচারীদের নিয়োগপত্র, ছবিসহ পরিচয়পত্র ও সার্ভিস বই না দেওয়া; শ্রমিকের কাজের সময় এর নোটিস পরিদর্শকের কাছ থেকে অনুমোদিত নয়, কোম্পানিটি বার্ষিক ও অর্ধবার্ষিক রিটার্ন দাখিল করেনি, কর্মীদের বৎসরান্তে অর্জিত ছুটির অর্ধেক নগদায়ন করা হয় না। এছাড়া কোম্পানির নিয়োগবিধি মহাপরিদর্শক কর্তৃক অনুমোদিত নয়, ক্ষতিপূরণমূলক সাপ্তাহিক ছুটি ও উৎসব ছুটি প্রদান-সংক্রান্ত কোনো রেকর্ড/রেজিস্টার সংরক্ষণ করা হয় না, কোম্পানির মুনাফার অংশ ৫% শ্রমিকের অংশগ্রহণ তহবিল গঠনসহ লভ্যাংশ বণ্টন করা হয় না, সেফটি কমিটি গঠন করা হয়নি, কর্মীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করালেও কোনো ঠিকাদারি লাইসেন্স এবং কারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নেওয়া হয়নি।

 

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘অ্যান্টি র‌্যাগিং স্কোয়াড’ গঠনের নির্দেশ
                                  

বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং বন্ধে ‘অ্যান্টি র‌্যাগিং স্কোয়াড’ ও তা মনিটরিংয়ের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে র‌্যাগিংয়ের হাত থেকে শিক্ষার্থীদের মর্যাদা রক্ষায় বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার এই সংক্রান্ত এক রিটের প্রাথমিক শুনানির পর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। এর আগে, ২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং বন্ধসহ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কমিটি গঠন চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানসহ তিন জনকে লিগ্যাল নোটিশ দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিবকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই নোটিশে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সহায়তায় জন্য ‘অ্যান্টি র‌্যাগিং কমিটি’ গঠন ও তা মনিটরিংয়ের জন্য ‘অ্যান্টি র‌্যাগিং স্কোয়াড’ গঠনে সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। কিন্তু ওই নোটিশের জবাব না পেয়ে চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ইশরাত হাসান।

আইনজীবীদের দায় মুক্তির বিধান নিয়ে রুল
                                  

 বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যান্ড লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার অর্ডারস অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ অনুযায়ী আইনজীবীদের সুরক্ষার বিধান সংযোজনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এছাড়াও বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যান্ড লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার অর্ডার অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ এ আইনজীবীদের সুরক্ষার বিধান সংযোজন করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ছয়জন বিবাদীকে এসব রুলের জবাব দিতে বলা হয়। এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল রোববার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট এএম আমিন উদ্দিন ও সম্পাদক এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। এর আগে ১২ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জেআর খান রবিনের পক্ষে ব্যারিস্টার খন্দকার মোহাম্মদ মুশফিকুল হক এ রিট দায়ের করেন। আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও মন্ত্রণালয়ের আইন প্রণয়ন বিষয়ক সংক্রান্ত সচিব, জাতীয় সংসদের সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে রিটে বিবাদী করা হয়। আইনজীবী জেআর খান রবিন বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট রুলস (হাইকোর্ট বিভাগ) ১৯৭৩ এর বিধি-৮ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট মামলার সত্যায়িত অনুলিপি যুক্ত করে আদালতে যেকোনও ব্যক্তি হলফ সম্পাদনের মাধ্যমে মামলা দায়ের করতে পারেন।

এ সুযোগে দালাল চক্র ও জালিয়াত চক্র অনেক সময় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সুবিধামতো মামলার কাগজ তৈরি করে যেকোনও একজন তদবিরকারীকে দিয়ে কাগজগুলো আইনজীবীদের কাছে পাঠান। আর আইনজীবী এসব কাগজ সংযুক্ত করে সরল বিশ্বাসে অনেকক্ষেত্রে নামেমাত্র ফি নিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এসব কাগজ জাল বলে আদালতে প্রমাণিত হলে তখন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। যদিও এসব তৈরি করা কাগজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অবগত থাকেন না বা দেখেও কাগজের সত্যতা প্রতীয়মান করা সম্ভব হয় না।

অনেকক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয় না। এসব ঘটনায় মামলা হলে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সন্দেহের তীর থাকে তদবিরকারক ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। অনেক আইনজীবীকে মিথ্যা মামলার জালে পড়ে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। তাই বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যান্ড লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার অর্ডার অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ১৭ ও ১৮ অনুযায়ী বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, ট্রাইব্যুনাল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের কমিটি, বার কাউন্সিলের নিযুক্তীয় কর্মকর্তারা ও কর্মচারীদের দায়মুক্তির বিধান থাকলেও আইনজীবীদের মামলা সংক্রান্ত সরল বিশ্বাসে করা কোনও কাজের জন্য দায়মুক্তির বিধান নেই, যা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এসব কারণে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অ্যান্ড লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার অর্ডার অ্যান্ড রুলস ১৯৭২ এ আইনজীবীদের দায় মুক্তির বিধান সংযোজিত হলে আইনজীবীরা হয়রানির হাত থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করেন রিটকারী আইনজীবী।’

১৫০ দিনের বেশি সময় ওএসডি করে রাখা অবৈধ: হাইকোর্ট
                                  

কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) রাখা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে যাঁরা ১৫০ দিনের বেশি সময় ধরে ওএসডি আছেন, তাদের স্বপদে ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আদেশ দিয়েছেন আদালত। এ বিষয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির পর গতকাল বুধবার বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনীক আর হক।

রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত। তবে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে জানিয়ে অমিত দাশগুপ্ত বলেন, যেসব সরকারি কর্মকর্তা ১৫০ দিনের বেশি সময় কর্মকর্তা অন স্পেশাল ডিউটিতে (ওএসডি) আছেন, তাদের স্বপদে পুনর্বহালের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে ১৫০ দিনের বেশি সময় ওএসডি রাখা অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও একজন সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এ কমিটি ১৫০ দিনের বেশি অতিরিক্ত সময় ওএসডি আছেন যারা, তাদের আইনানুগ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে ৯০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবে। ২০১২ সালের ৩১ মে জনস্বার্থে সাবেক সচিব এম আসাফ উদ-দৌলা আদালতে এ সংক্রান্ত একটি রিট দায়ের করেছিলেন।

ওই রিট আবেদনের পর একই বছরের ৪ জুন বিধি লঙ্ঘন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ওএসডি করে রাখার প্রবণতা কেন অবৈধ ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১০ বছরে ওএসডি (বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা কর্মকর্তাদের খতিয়ান চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। পরে সরকারের পক্ষ থেকে তালিকাও আদালতে দাখিল করা হয়।

বায়ুদূষণ রোধে ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের প্রতিবেদন হাইকোর্টে
                                  

 রাজধানীর বায়ুদূষণ রোধে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের সব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হয়েছে উল্লেখ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। গতকাল সোমবার পরিবেশ অধিদফতর ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয় বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ মঙ্গলবার) প্রতিবেদনটি হাইকোর্টে দাখিল করা হবে। এর আগে ঢাকায় কী কারণে বায়ুদূষণ হচ্ছে এবং দূষণেরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন সেসব বিষয়ে একটি গাইডলাইন তৈরি করতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পরিবেশ সচিবের নেতৃত্বে ওই কমিটি গঠন করে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেছিলেন আদালত। পাশাপাশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জের সব অবৈধ ইটভাটা আগামি ১৫ দিনের মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করতে প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। এক রিট আবেদনের শুনানিতে ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মনিজল মোরসেদ। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।

সে রিটের শুনানি নিয়ে ওই একই বছরের ২৮ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণ বন্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। রুল জারির পাশাপাশি বায়ুদূষণরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অন্তর্র্বতীকালীন আদেশও দেন। ১৫ দিনের মধ্যে রাজধানীর যেসব এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে যেসব এলাকা ঘেরাও করে পরের দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়াও পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ও ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তাদেরকে আদেশ পালন করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়। এরপর ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা পরিমাপ করে এবং দূষণ রোধে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
                                  

ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে ৪ কোটি টাকার ভুয়া ঋণ সৃষ্টি করে অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুদকের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ ( ) ১১ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

রবিবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ তাদের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।পরোয়ানা কার্যকরের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে ২২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে আদালত।ন বিচারপতি এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন। এসকে সিনহা ছাড়া মামলার অপর আসামিরা হলেন, ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, ব্যাংক গ্রাহক টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, একই এলাকার নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা, রনজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

ফারমার্স ব্যাংকের দুইটি অ্যাকাউন্ট থেকে চার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

ব্যবসায়ী শাহজাহান ও নিরঞ্জন ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে চার কোটি টাকা ঋণ পেয়েছিলেন। সেই টাকা রণজিৎ চন্দ্র সাহার হাত ঘুরে বিচারপতি সিনহার বাড়ি বিক্রির টাকা হিসেবে দেখিয়ে তার ব্যাংক হিসেবে ঢুকেছে বলে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে দুদক। গত ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক।

হাইকোর্টের আইনজীবী হতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হবে
                                  

সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে তালিকাভুক্তির জন্য এখন প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হবে। এর আগে হাইকোর্টের সনদের পরীক্ষার ক্ষেত্রে কেবল লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা হতো। এবার এমসিকিউ যুক্ত করা হলো। পাশপাশি হাইকোর্টে তালিকাভুক্তির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখও ঘোষণা করা হয়েছে। আইনজীবীদের সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও আইন পেশার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গত সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

বার কাউন্সিলের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বার কাউন্সিলের ভারপ্রাপ্ত সচিব আফজাল-উর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় এমসিকিউ যুক্ত করা হয়েছে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে প্রার্থীকে ১০০ নম্বরের মধ্যে নূন্যতম ৫০ নম্বর পেতে হবে। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টা। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আইনজীবী সনদপ্রাপ্ত যে সকল এডভোকেটের বৈধ রেজিস্ট্রেশন কার্ড রয়েছে তারা প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাদেরকে ১২ হাজার টাকা এবং ফরম ফি বাবদ ১ হাজার টাকা বার কাউন্সিলের অনুকূলে সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে।

পাশপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন- বৈধ রেজিস্ট্রেশন কার্ডের সত্যায়িত কপি, সকল শিক্ষা সনদ ও নম্বরপত্র, বার কাউন্সিল সনদ/প্রভিশনাল সনদ, স্ব স্ব আইনজীবী সমিতিতে যোগদানের তাখিরসহ সদস্য সনদ, ৫টি দেওয়ানী, ১০টি রিট ও ১০টি ফৌজদারি মামলার তালিকা, সদ্য তোলা ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজের সত্যায়িত ছবি ইত্যাদি জমা দিতে হবে। এছাড়া গত লিখিত পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ ও মৌখিক পরীক্ষায় যাদের লিখিত পরীক্ষার ফল বাতিল করা হয়েছে এবং যাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ডের মেয়াদ ২০২০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল থাকবে তারাও প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ফরম পূরণ করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে প্রার্থীকে পরীক্ষার ফি বাবদ ২ হাজার টাকা এবং ফরম ফি বাবদ ১ হাজার টাকা বার কাউন্সিলের অনুকূলে সংস্থার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

 


   Page 1 of 73
     আইন-আদালত
বিভিন্ন দেশে উচ্চ আদালতের ভাষা
.............................................................................................
মাদারীপুরে কুপিয়ে হত্যা: হাইকোর্টে একজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজন খালাস
.............................................................................................
৩০ জুন পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া যানবাহনের কাগজ হালনাগাদের সুযোগ
.............................................................................................
রিফাত হত্যার তিন সাক্ষীকে জেরা করলেন আসামিপক্ষের ১০ আইনজীবী
.............................................................................................
দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার এনু, রিমান্ডে রুপন
.............................................................................................
দেশ গড়ার প্রত্যয়ে ছাত্রদের প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
দুদকের মামলায় বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ইশরাকের বিচার শুরু
.............................................................................................
রিট খারিজ, ৩০ জানুয়ারিই হচ্ছে ঢাকার দুই সিটির ভোট
.............................................................................................
হাসপাতালের তথ্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাতিল
.............................................................................................
ড. ইউনূসকে শ্রম আদালতে তলব
.............................................................................................
সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘অ্যান্টি র‌্যাগিং স্কোয়াড’ গঠনের নির্দেশ
.............................................................................................
আইনজীবীদের দায় মুক্তির বিধান নিয়ে রুল
.............................................................................................
১৫০ দিনের বেশি সময় ওএসডি করে রাখা অবৈধ: হাইকোর্ট
.............................................................................................
বায়ুদূষণ রোধে ঢাকাসহ পাঁচ জেলায় অবৈধ ইটভাটা বন্ধের প্রতিবেদন হাইকোর্টে
.............................................................................................
অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এসকে সিনহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
.............................................................................................
হাইকোর্টের আইনজীবী হতে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হবে
.............................................................................................
এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন সংশোধনের খসড়া অনুমোদন
.............................................................................................
বাংলাদেশ আইন সমিতির সম্মেলন আজ
.............................................................................................
ফখরুল-খসরু-রিজভীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ ২২ জানুয়ারি
.............................................................................................
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গুলশানে ভ্রাম্যমাণ আদালত
.............................................................................................
ব্যারিস্টার সুমনকে হাইকোর্ট সতর্ক বার্তা
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি, আইনজীবীদের প্রবেশে কড়াকড়ি
.............................................................................................
ঋণ জালিয়াতির মামলায় এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র
.............................................................................................
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড নিয়ে হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
হাকিমপুরী জর্দা বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ
.............................................................................................
স্বেচ্ছায় মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দান করতে পারবেন, কেনাবেচা নিষিদ্ধ: হাইকোর্ট
.............................................................................................
সিসি ক্যামেরা বসানোর পরও অনিয়ম বন্ধ করা যাচ্ছে না: প্রধান বিচারপতি
.............................................................................................
দেশে আজ গণতন্ত্র নেই বলেই আইনের শাসন নেই : সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক
.............................................................................................
খালেদার জামিনের পরবর্তী শুনানি ৫ ডিসেম্বর
.............................................................................................
বিচারপতির ছেলেকে আইনজীবী ঘোষণা: রিট শুনতে হাইকোর্টের অপারগতা
.............................................................................................
না. গঞ্জে মাদক মামলায় ২ জনের ১৪ বছর ও ৩ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড
.............................................................................................
বিশেষ শিশু আদালত গঠনের প্রক্রিয়া চলমান: প্রধান বিচারপতি
.............................................................................................
রাজশাহীতে হেরোইন রাখার দায়ে মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন
.............................................................................................
স্থাপনা থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম পরিবর্তনে ফের হাইকোর্টের নির্দেশ
.............................................................................................
নাইমুল আবরারের মৃত্যুর ঘটনায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট
.............................................................................................
চ্যারিটেবল মামলায় জামিন চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল
.............................................................................................
আবরার হত্যা মামলা: ২৫ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল
.............................................................................................
নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রিপরিষদের সুপারিশ কেন বেআইনি নয় : হাইকোর্ট
.............................................................................................
চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় ৬ জনের ১০ বছর করে কারাদন্ড
.............................................................................................
ব্যাংক ঋণে অনিয়ম দূরে ৯ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের
.............................................................................................
রাজশাহীতে মাদক বিক্রেতার যাবজ্জীবন
.............................................................................................
ভ্রাম্যমাণ আদালতে দন্ড ৫ দিনের মধ্যে আদেশের সত্যায়িত অনুলিপি দিতে হবে
.............................................................................................
১৯৭২ সালের মন্ত্রিসভা বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর
.............................................................................................
আর্থিক খাতে অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে রুলের শুনানি শেষ, রায় ৩ নভেম্বর
.............................................................................................
গ্রাম আদালতের রায়ে চাঁদপুরের ১৫টি পরিবার দীর্ঘ বিশ বছর পর চলাচলের রাস্তা পেল
.............................................................................................
নাচোলের প্যানেল মেয়র বাবুর ১ বছর কারাদন্ড
.............................................................................................
চুয়াডাঙ্গায় স্বর্ণ পাচার মামলায় ২ জনের যাবজ্জীবন
.............................................................................................
চাঁপাইনবাবঞ্জে মাদক মামলায় দু’জনের ১৪ বছর কারাদন্ড
.............................................................................................
ফরিদপুরে হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি
.............................................................................................
গ্রামীণফোনের কাছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]