২৪ জিলক্বদ ১৪৪১ , ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৬ জুলাই , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   আইন-আদালত -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতি করার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আজ সকালে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ চার দিনের রিমান্ড দেয়ার জন্য আবেদন করে।
পরে আদালত সাবরিনা আরিফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করার তথ্য দিয়েছিলো পুলিশ।
ওই দিনই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে তাকে বরখাস্ত করার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল।

রোববার তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তেজগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত কমিশনার মাহমুদ খান বিবিসি বাংলাকে সাবরিনা আরিফের গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেন।

‘জেকেজি`র প্রধান নির্বাহী ও তার (সাবরিনা আরিফের) স্বামীকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, ওই একই মামলায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

মাহমুদ খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ তলব করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার অনুমোদন থাকলেও পরীক্ষা না করে ভুয়া ফলাফল দেয়ার অভিযোগে ২৩ জুন জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ সম্পর্কে সাবরিনা চৌধুরীর কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও জেকেজি`র জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করে কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন তিনি।

ওদিকে, করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ ওঠার পর শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি সংবাদি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

সেখানে উল্লেখ করা হয় যে জেকেজি`র স্বত্বাধিকারী আরিফুল হক চৌধুরীর আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় জেকেজি গ্রুপকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র : বিবিসি

জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে
                                  

করোনাভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতি করার অভিযোগে জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান সাবরিনা আরিফকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

আজ সকালে আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ চার দিনের রিমান্ড দেয়ার জন্য আবেদন করে।
পরে আদালত সাবরিনা আরিফের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রোববার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর আটক করার তথ্য দিয়েছিলো পুলিশ।
ওই দিনই জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে তাকে বরখাস্ত করার অফিস আদেশ জারি করা হয়েছিল।

রোববার তাকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তেজগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত কমিশনার মাহমুদ খান বিবিসি বাংলাকে সাবরিনা আরিফের গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেন।

‘জেকেজি`র প্রধান নির্বাহী ও তার (সাবরিনা আরিফের) স্বামীকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, ওই একই মামলায় তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।’

মাহমুদ খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ তলব করে এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলার সাথে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার অনুমোদন থাকলেও পরীক্ষা না করে ভুয়া ফলাফল দেয়ার অভিযোগে ২৩ জুন জেকেজি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী আরিফুল হক চৌধুরীসহ প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ সম্পর্কে সাবরিনা চৌধুরীর কোন বক্তব্য পাওয়া না গেলেও জেকেজি`র জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘অপপ্রচার’ বলে উল্লেখ করে কয়েকদিন আগে সংবাদপত্রে একটি বিজ্ঞপ্তি দেন তিনি।

ওদিকে, করোনাভাইরাস পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগ ওঠার পর শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর একটি সংবাদি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

সেখানে উল্লেখ করা হয় যে জেকেজি`র স্বত্বাধিকারী আরিফুল হক চৌধুরীর আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় জেকেজি গ্রুপকে কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সূত্র : বিবিসি

করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণা: ডা. সাবরিনা গ্রেফতার
                                  

করোনাভাইরাস পরীক্ষার টেস্ট না করেই রিপোর্ট ডেলিভারি দেয়া জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা এ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে গ্রেফতারের পর তেজগাঁও বিভাগীয় উপ-পুলিশ (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জেকেজি হেলথ কেয়ারের করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবরিনা তারই স্ত্রী।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাবরিনাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি টেলিফোনে যুগান্তরকে বলেন, ডা. সাবরিনাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ময়ূর লঞ্চের মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
                                  

বুড়িগঙ্গা নদীতে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড লঞ্চ ডুবে হতাহতের ঘটনায় ঘাতক লঞ্চের মালিক-মাস্টারসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ‘অবহেলাজনিত মৃত্যু’ ঘটানোর অভিযোগ এনে মঙ্গলবার ভোর রাতে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বাদী নৌ-পুলিশের এসআই শামছুল আলম।

মামলার আসামিরা হলেন, ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদ, মাস্টার আবুল বাশার, মাস্টার জাকির হোসেন, স্টাফ শিপন হাওলাদার, শাকিল হোসেন, হৃদয় ও সুকানি নাসির মৃধা। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও পাঁচ-ছয়জনকে সেখানে আসামি করা হয়েছে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই বাছির উদ্দিন বলেন, মামলায় দণ্ডবিধির ২৮০, ৩০৪ (ক), ৩৩৭ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।

এমএল মর্নিং বার্ড নামের ওই লঞ্চটি সোমবার সকালে মুন্সিগঞ্জের কাঠপট্টি থেকে যাত্রী নিয়ে সদরঘাটের দিকে আসছিল। শ্যামবাজারের কাছে বুড়িগঙ্গায় ময়ূর-২ নামের আরেকটি বড় লঞ্চের ধাক্কায় সেটি ডুবে যায়।দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের পাশাপাশি নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএর কর্মীরা সেখানে উদ্ধার অভিযানে শুরু করে। সোমবার দুপুর পর্যন্ত উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার করেন। এছাড়া স্থানীয়রা আরও দুজনকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

করোনাভাইরাসে দেশে প্রথম বিচারকের মৃত্যু
                                  

করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রথম একজন বিচারকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার মারা যাওয়া এই বিচারকের নাম ফেরদৌস আহমেদ।

লালমনিহাটের এই জেলা জজ জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ছিলেন।

ফৌরদৌস আহমেদের মৃত্যুর খবর জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেছেন, করোনাভাইরাসে এটাই প্রথম কোনো বিচারকের মৃত্যু।

ফেরদৌস আহমেদ ঢাকার সিএমএইচে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রাতে মারা যান। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে প্লাজমাও দেওয়া হচ্ছিল।

আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জামালপুরে শহরে জানাজার পর পারিবারিকভাবে সেখানেই দাফন করা হবে বিচারক ফেরদৌসকে।

বিচারকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

প্রধান বিচারপতি এক শোক বার্তায় বলেন, ‘ফেরদৌস আহমেদ ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে আদালতে বিচারকাজ পরিচালনা এবং দায়িত্ব পালনের সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি করোনাভাইরাস সৃষ্ট মহামারীর সময়েও জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করে গেছেন। মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফেরদৌস আহমেদ একজন অকুতোভয় সৈনিক ছিলেন। ১৯৮৪ সালে বিচার বিভাগে মুন্সেফ (সহকারী জজ) হিসেবে যোগদান করেন ফেরদৌস আহমেদ।’

এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বলে বলা হয়েছে শোক বার্তায়।

প্রসঙ্গত, ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে বিচারকাজ পরিচালনা ও দায়িত্ব পালনের মধ্যেও সারা দেশে মঙ্গলবার নাগাদ নিম্ন আদালতের ২৬ জন বিচারক কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন।

এ ছাড়া সর্বোচ্চ আদালতের ২৬ এবং নিম্ন আদালতের ৭১ জনসহ মোট ৯৭ জন আদালত কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

জাল নথিতে হাইকোর্ট থেকে হত্যা মামলার ৫ আসামির জামিন
                                  

তথ্য গোপন ও জাল নথি দাখিল করে হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়েছেন হত্যা মামলার পাঁচ আসামি। জালিয়াতির বিষয়টি নজরে আনা হলে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের একক ভার্চুয়াল বেঞ্চ আজ বুধবার আসামিদের জামিন বাতিলের আদেশ দেন। একইসঙ্গে আসামিরা যদি জামিনে ইতিমধ্যে কারাগার থেকে বেরিয়ে যান তাহলে সাত দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর আত্মসমর্পণ না করলে আসামিদের গ্রেপ্তার করতে খুলনার এসপিকে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

এদিকে আসামিদের পক্ষ জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নেয়া আইনজীবীকে শোকজ করেছে আদালত এবং ভার্চুয়াল কোর্টে মামলা পরিচালনা করা থেকে তাকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। জামিন বাতিল হওয়া আসামিরা হলেন, সোহাগ শেখ, সেলিম শেখ, জুয়েল শেখ, লুৎফর শেখ ও আব্দুল্লাহ মোল্লা।

আজ জামিন জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনালে ড. মো.বশির উল্লাহ।

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার পরবিলার টিপু শেখকে অতর্কিত হামলা করে খুন করা হয়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার ৩২ আসামির মধ্যে ৫ আসামি হাইকোর্টে জামিন চান। গত ১৮ মে হাইকোর্টের ভার্চুয়াল আদালত আসামিদের জামিন মঞ্জুর করে। তাদের আইনজীবী ছিলেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

ড. মো. বশির উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী সুলতান মাহমুদ জানতে পারেন আসামিরা জালিয়াতি করে জামিন নিয়েছেন। তিনি বিষয়টি আমাদের অবহিত করেন। এরপর খবর নিয়ে দেখলাম ভূয়া এজাহার সৃজন এবং তথ্য গোপন করে জামিন হাসিল করেছে আসামিরা।

তিনি বলেন, মামলার চার্জশিট হয়েছে। অথচ হাইকোর্টে দাখিল করা জামিন আবেদনে বলা হয়েছে মামলা তদন্তাধীন। আদালতের সঙ্গে এরচেয়ে বড় জালিয়াতি আর হতে পারে না।

করোনা ঝুঁকি এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে মুক্তি পেল শিশুরা
                                  

করোনাকালে দেশের তিন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে গাদাগাদি করে বাস করছে শিশুরা। যারা বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়ে আদালতের নির্দেশ এখানে আটক রয়েছেন। করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের মুক্তির বিষয়ে উদ্যোগ নেয় সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সমাজ সেবা অধিদপ্তর তিন শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা শিশুদের তালিকা প্রস্তুত করে। সেই তালিকা পাঠানো হয় আইন মন্ত্রণালয়ে। পাশাপাশি দেশের শিশু আদালতগুলোতে। এরপরই মামলার গুণাগুণ বিচার করে শিশু আদালতের ভার্চুয়াল কোর্টগুলো এ পর্যন্ত ৩৭৮ শিশুকে জামিন দিয়েছেন। এদের মধ্যে জামিনে মুক্ত ৩৩৭ জন শিশুকে হস্তান্তর করা হয়েছে পরিবারের কাছে। আর শিশুদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর কাজে সমাজসেবা অধিদপ্তরকে সহায়তা করেছে ইউনিসেফ।

 

সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে শিশু ধারণ ক্ষমতা ৬০০ জন। ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর পূর্ব পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করছিলো ১ হাজার ১৪৭ জন শিশু। গত ১৬ কার্যদিবসে ৩৭৮জন শিশুকে জামিন দিয়েছে আদালত। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরেও এখন কেন্দ্রগুলোতে ৯০৬ জন শিশু রয়েছে। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার চেয়ে তিনশত শিশু বেশি রয়েছে। জানা গেছে, বর্তমানে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ৩০০ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে রয়েছেন ৫৭৯ জন। যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে১৫০ জনের বিপরীতে অবস্থান করছে ২৩৮ জন। আর গাজীপুরের কোনাবাড়ি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে১৫০ জন মেয়ে শিশু থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে সেখানে রয়েছে ৮৯ জন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠান শাখার উপ-পরিচালক এম.এম মাহমুদুল্লাহ ইত্তেফাককে জানান, ধারণ ক্ষমতার দ্বিগুণ শিশু রয়েছে। আদালতের জামিনে মুক্ত হয়েছে অনেকে। যার কারণে আমরা কিছুটা স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলতে পারছি। কারণ করোনা ভাইরাস অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। কেন্দ্রের কোন শিশু যাতে আক্রান্ত না হয় সেজন্য সবধরনের ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার বেশি শিশু থাকায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তবে নতুন কোন শিশু আদালতের মাধ্যমে উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হলে তাদেরকে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হচ্ছে।

ইউনিসেফের শিশু সুরক্ষা কর্মকর্তা শাবনাজ জাহেরিন ইত্তেফাককে বলেন, করোনাকালে বিচারাধীন যেসব শিশু জামিনে মুক্তি পেয়েছে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেহেতু তারা জামিনে আছে এবং মামলার বিচার শেষ হয়নি সেজন্য সময়মত আদালতে হাজিরা দিতে পারে সেজন্য অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন,অনেকেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন কিন্তু তাদের পরিবারের কেউ নিতে আসেনি। তাদেরকে শেল্টার হোমে রাখার জন্য আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।

করোনা ভাইরাসজনিত উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের তিনটি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে বন্দি শিশুদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নেয় সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল কমিটি ফর চাইল্ড রাইটস। কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইমান আলীর নেতৃত্বাধীন কমিটি ভার্চুয়াল কোর্ট পরিচালনায় শিশু আদালতের বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক থাকা শিশুদের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে সমাজ সেবা অধিদপ্তরকে বলা হয়। স্পেশালকমিটি তাদের নেয়া এইসব পদক্ষেপগুলো সময়ে সময়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে অবহিত করে তার অভিমত গ্রহণ করে পরবর্তী কর্মপন্থা ঠিক করেন। শিশুদের পুরো সুরক্ষার বিষয়টি দেখভাল করছে এই কমিটি। পাশাপাশি ভার্চুয়াল কোর্টের বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে ইউনিসেফ। একইসঙ্গে সমাজসেবা অধিদপ্তর কোর্ট অনুযায়ী শিশুদের তালিকাও প্রস্তুত করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। পরবর্তীকালে শুনানি গ্রহণ করে এবং মামলার গুণাগুণ বিচার করে অভিযুক্ত শিশুদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছে শিশু আদালতগুলো।

নিয়মিত আদালত চালুর দাবি আইনজীবীদের
                                  

স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত আদালত চালুর দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে সুপ্রিমকোর্টের বেশ কিছু সাধারণ আইনজীবী। আজ সোমবার সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির এক নম্বর হলরুমে জড়ো হয়ে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

এ ছাড়া সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন নিয়মিত আদালত চালুর দাবিতে তার নিজ বাসভবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত আদালত চালুর জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ‘করোনাকালে বিচারপ্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ আইনজীবীরাও ভোগান্তিতে রয়েছেন। সরকার ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করেছে। কিন্তু এই ভার্চুয়াল কোর্ট সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কোনো উপকারে আসছে না। সেজন্য দেশের সব আদালত অবিলম্বে খুলে দেওয়া হোক।’

 

 

আজ সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরায় নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন খন্দকার মাহবুব এ দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে নির্দিষ্ট নীতিমালা করে দেওয়া হোক। কয়টি মামলা, কোন কোর্ট শুনবে, কি ধরনের মামলা শোনা হবে ইত্যাদি। হাইকোর্টের কোর্ট রুম অনেক বড়। সেখানে আমরা দুই তিনজন করে আইনজীবী থাকলে, আমি মনে করি সরকার যে উদ্দেশ্যে কোর্ট বন্ধ রেখেছে সে উদ্দেশ্য ব্যহত হবে না। তবে হাইকোর্টে অনেক সংখ্যক বিচারপ্রার্থী যাতে না আসে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এটা সীমিত করতে হবে।’

খন্দকার মাহবুব বলেন, ‘করোনার এই ব্যাধি কবে শেষ হবে তা কেউ বলতে পারে না। তাই দীর্ঘ দিন ধরে আদালত বন্ধ থাকতে পারে না। এতে বিচারপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আইনজীবীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’ বিষয়টি বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি অবিলম্বে কোর্ট খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে আজ দুপুর ১২টার দিকে আইনজীবী সমিতির এক নম্বর হল রুমে সাধারণ আইনজীবীরা এক বৈঠকে মিলিত হন। এতে আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদি, সাবেক সহসম্পাদক সৈয়দ মামুন মাহবুব, আমিনুর রহমান চন্দনসহ দলমত নির্বিশেষে প্রায় ৭০ থেকে ৮০জন আইনজীবী অংশ নেন।

বক্তৃতায় তারা বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত আদালত চালু করতে হবে। ভার্চুয়াল আদালত চালু থাকায় সাধারণ আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কোনো উপকার হচ্ছে না। তা ছাড়া করোনা পরিস্থিতি কবে শেষ হবে সেটা নিশ্চত নয়। তাই করোনাকালে সবার নিরাপত্তার বিষয়টি যেমন ভাবতে হবে তেমনি জীব-জীবিকার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

বৈঠকে সমিতির সাবেক সহসম্পাদক সৈয়দ মামুন মাহবুব বলেন, ‘ভার্চুয়াল কোর্ট আমাদের কোনো উপকারে আসছে না। সরকার যেখানে সব কিছু খুলে দিয়েছে, সেক্ষেত্রে আদালত খুলে দিতে সমস্যা কোথায়। অবশ্যই নিয়মিত আদালত চালু করতে হবে।’ৎ

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাকালে বার সমিতির সহকারি লাইব্রেরিয়ান মারা যাওয়ার পর একটি মহল গুজব ছড়িয়েছে। লাইব্রেরিয়ান সহকারি করোনায় মারা গেছে বলে প্রচার চালিয়েছে। কিন্তু আসলে তা নয়, সে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছে। এভাবে গুজব ছড়িয়ে সবাইকে আতঙ্কগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যেটা সমিতি ও দেশের কারও কল্যাণে আসবে না।’

এদিকে আইনজীবীদের এই বৈঠক আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত মূলতবি করেছে। এরই মধ্যে আদালত খুলে দেওয়ার দাবিতে আইনজীবী সমিতি ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। আদালত খুলে দেওয়া না হলে ১৪ জুনের পর পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তারা জানান।

প্রসঙ্গত, গত ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত চালু হয়। ভার্চুয়াল আদালতে জামিন আবেদন ও ছোট-খাটো জরুরি বিষয়সমূহের শুনানি হচ্ছে।

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে বেতন আদায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
                                  

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে সারাদেশে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন আদায় কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।

রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পক্ষে সোমবার এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। রিটে শিক্ষা সচিব, শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি), দেশের সব শিক্ষা বোর্ডেও চেয়ারম্যান (মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) ও আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদি (রেসপনডেন) করা হয়েছে।

রিটের পক্ষে অ্যাডভোকেট সাইফুর রহমান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেতন আদায় স্থগিত রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের পক্ষে গত ১৯ মে বিবাদিদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় রিটটি করা হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক পেশাজীবী ও চাকরিজীবী। বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন বিলে বিলম্ব ফি মওকুফ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণের বিষয়ে বলা হয়েছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বেনিফিট গ্রহণ করা যাবে না। সরকার বিভিন্ন সেক্টরে প্রণোদনা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষদের জীবিকা নির্বাহ করাটা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সন্তানদের মাসিক বেতন পরিশোধে নোটিশ দেয়া হচ্ছে। এসব কারণেই এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে আদায়যোগ্য মাসিক বেতন স্থগিত রাখতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা প্রয়োজন।

সূত্র : বাসস

ভার্চুয়াল শুনানি নিয়ে ১৫ দিনে সাড়ে ২৭ হাজার আসামির জামিন
                                  

সারা দেশের নিম্ন আদালতে গত পাঁচ কার্যদিবসে সাড়ে ছয় হাজারের বেশি আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। সবমিলে গত ১১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসে নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল শুনানি নিয়ে প্রায় সাড়ে ২৭ হাজার আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৩১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ৫ কার্যদিবসে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন আদালতে ৩৮৫৮টি জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়। এরমধ্যে শুনানি শেষে ৩৪২৯টি আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। এই সময় ১৭১৪ জন আসামিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে এ সময়ে ১৮৯৭টি জামিন আবেদন খারিজ করা হয়েছে। এছাড়া একই সময় চট্টগ্রাম বিভাগে ৩৮৭৯টি, রংপুর বিভাগে ১১২৭টি, বরিশাল বিভাগে ৬১২টি, রাজশাহী বিভাগে ২২৯১টি, খুলনা বিভাগে ১৬৩৬টি, সিলেট বিভাগে ১০২৪টি এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১০২৬টি জামিনের আবেদন দাখিল করা হয়।

এসব আবেদনের ওপর শুনানি শেষে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৩১ জন, রংপুর বিভাগে ৪০০ জন, বরিশাল বিভাগে ২৩২ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৭২ জন, খুলনা বিভাগে ৮৫৮ জন, সিলেট বিভাগে ৪৫৩ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৮৩ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ কার্যদিবসে ৪৭ হাজার ৬২৭টি জামিনের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২৭ হাজার ৪৮০ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। এরমধ্যে গত ২৮ মে পর্যন্ত মোট ১০ কার্যদিবসে ৩৩ হাজার ২৮৭টি আবেদনের নিষ্পত্তি করে ২০ হাজার ৯৩৮ আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়। আর ৩১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত গত পাঁচ কার্যদিবসে ১৪ হাজার ৩৪০টি জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে ৬৫৪২ জনের জামিন মঞ্জুর করা হয়।

করোনা সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে আদালত বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সারা দেশে আদালতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ক্রমেই সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়ছে। এরইমধ্যে সরকার সাধারণ ছুটির মেয়াদ ৩০ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছে। গত ১০ মে নিম্ন আদালতে কেবল ভার্চুয়াল জামিন শুনানি করতে নির্দেশ দেন  সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এরপর থেকে নিম্ন আদালতে ভার্চুয়াল আদালতে জামিন শুনানি শুরু হয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১১ মে থেকে ভার্চুয়াল আদালত কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথমে কেবল সীমিত আকারে নির্দিষ্ট কিছু আদালতে জামিন আবেদনের শুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৩০ মে`র পর আদালতের সংখ্যা ও এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এসব আদালতে শুনানি গ্রহণ করা হচ্ছে।

এর আগে ভার্চুয়াল আদালত চালু করতে রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারির জন্য অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করা হয় সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে। এই আবেদন পাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির নির্দেশনার আলোকে আইন মন্ত্রণালয় গত ৯ মে ভার্চুয়াল উপস্থিতিকে সশরীরে উপস্থিতি হিসেবে গণ্য করে আদালতে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ নামে গেজেট প্রকাশ করে। এই অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে ভার্চুয়াল উপস্থিতি নিশ্চিত করার মাধ্যমে আদালতকে মামলার বিচার, বিচারিক অনুসন্ধান, দরখাস্ত বা আপিল শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক গ্রহণ, আদেশ বা রায় দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।

পরদিন ১০ মে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফুলকোর্ট সভায় সুপ্রিম কোর্টসহ সারাদেশে ভার্চুয়াল আদালত চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ফুলকোর্ট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওইদিনই ভার্চুয়াল আদালত পরিচালনার জন্য আপিল বিভাগ, হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালতের জন্য আলাদা আলাদা `প্র্যাকটিস নির্দেশনা` এবং আইনজীবীদের জন্য `ভার্চুয়াল কোর্টরুম ম্যানুয়াল` প্রকাশ করা হয়। এসব নিয়ম মেনেই সারা দেশে আদালত পরিচালিত হচ্ছে। 

উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি পণ্য বিক্রির নির্দেশ
                                  

দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে টিসিবির ১০ টাকা দামের চাল ও অন্যান্য টিসিবি পণ্য উপজেলা পর্যায়ে ও পৌর এলাকায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের মধ্যে বিক্রির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবির) চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।

বুধবার বিচারপতি জেবিএম হাসানের হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

একইসাথে আদালত টিসিবির পণ্য দেশের উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় বিক্রির বিষয়ে কী কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা প্রতিবেদন আকারে জানার জন্য আগামী ১১ জুন জানাতে বলা হয়েছে।

আদেশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান রিটকারী আইনজীবী হুমায়ুন কবির পল্লব।

এর আগে গত সোমবার শুনানি শুরু করে আরো বিস্তারিত শুনানির জন্যে বুধবার (৩ জুন) দিন ঠিক করেন আদালত। আজ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ভার্চুয়াল শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন রিটকারি আইনজীবী ব্যারিস্টার মোঃ হুমায়ন কবির পল্লব। অন্যদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুর্টি অ্যার্টনি জেনারেল সমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

এর আগে জনস্বার্থে গত ১৬ মে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে ই-মেইলের মাধ্যমে "ল এন্ড লাইফ ফাউন্ডেশনের" পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোঃ হুমায়ন কবির পল্লব রিটটি দায়ের করেছিলেন।

আবরার হত্যা : জিয়নের জামিন আবেদন নাকচ
                                  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেফতাহুল ইসলাম জিয়নের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন ঢাকার একটি আদালত।
ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এবং ভার্চ্যুয়াল কোর্টের বিচারক আবু জাফর কামরুজ্জামান আজ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আসামি জিয়নের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। রাষ্ট্রপক্ষে সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউটর আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয়পক্ষে শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে আদেশ দেন।

গত ২২ মার্চ ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার নথি পৌঁছালে বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান অভিযোগ গঠনের জন্য ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় অভিযোগ গঠন শুনানি এখনো হয়নি।

গত বছর ১৩ নভেম্বর মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন পুলিশ।
মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে এজাহারভুক্ত ১৯ জন ও এজাহার বহির্ভূত ৬ জন। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত চলাকালে মামলায় অভিযুক্ত ২৫ জনের মধ্যে ২১ জনকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, বুয়েট ছাত্র মেহেদী হাসান রাসেল, মুহতাসিম ফুয়াদ, মেহেদী হাসান রবিন, অনিক সরকার, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, ইফতি মোশাররফ, অমিত সাহা, মুনতাসির আল জেমি, মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, নিহত আবরারের রমমেট মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ, মোয়াজ আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত ও এস এম মাহমুদ সেতু।
এছাড়া মোর্শেদ অমত্য ইসলাম নামে পলাতক এক আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেফতারদের মধ্যে ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, অমিত সাহা, মিজানুর রহমান মিজান, শামসুল আরেফিন রাফাত ও এস এম মাহমুদ সেতু ছাড়া বাকি সবাই এজাহারভুক্ত আসামি।
এরমধ্যে ৮ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তারা হলেন- ইফতি মোশাররফ সকাল, মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, অনিক সরকার, মুজাহিদুর রহমান, মেহেদি হাসান রবিন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মনিরুজ্জামান মনির ও এএসএম নাজমুস সাদাত।

এখন পলাতক রয়েছেন আরো তিন আসামি। তারা হলেন- মোর্শেদুজ্জামান জিসান, এহতেশামুল রাব্বি তানিম ও মোস্তবা রাফিদ। এরমধ্যে মোস্তবা রাফিদের নাম এজাহারে ছিল না।
গত বছর ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছাত্রের হাতে নির্দয় নির্মম ও বর্বরোচিত পিটুনি নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যান বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ।
এ ঘটনায় পরদিন নিহত আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় একটি মামলা করেন।

সূত্র : বাসস

ভার্চুয়াল শপথে কারিগরি ত্রুটি, রাতে সশরীরে শপথ ১৮ বিচারপতির
                                  

কারিগরি ত্রুটির কারণে দুই দফায় শপথ নিলেন স্থায়ী নিয়োগ পাওয়া হাইকোর্টের ১৮ বিচারপতি। বিকালে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রথম দফায় নেওয়া শপথ রাতে গড়ায় দ্বিতীয় দফায়। শনিবার রাত সাড়ে নয়টায় ১৮ বিচারপতিকে সুপ্রিম কোর্টে ডেকে নিয়ে নিজ খাস কামরায় শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ সময় সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিচারপতিদের দুই দফায় শপথ নেওয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আজ রবিবার সকালে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র মোহাম্মদ সাইফুর রহমান কর্তৃক ই-মেইলে পাঠানো ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে শনিবার বিকাল ৩ টায় ১৮ বিচারপতিকে শপথ পড়ান প্রধান বিচারপতি। উক্ত শপথ অনুষ্ঠানে কারিগরি ত্রুটির কারণে শপথগ্রহণকারী কোন কোন বিচারপতি শপথগ্রহণ স্পষ্টভাবে শ্রুত না হওয়ায় প্রধান বিচারপতি পুনরায় তাদের শপথ পাঠ করানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। এরপর রাত সাড়ে নয়টায় প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় প্রধান বিচারপতি তাদের সশরীরে শপথ পাঠ করান।

শপথ নেয়া ১৮ বিচারক হলেন: বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার, বিচারপতি এ,এস,এম আব্দুল মোবিন, বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বিচারপতি ফাতেমা নজীব, বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, বিচারপতি এস.এম কুদ্দুস জামান, বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান, বিচারপতি খিজির হায়াত, বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার, বিচারপতি মোহাম্মদ আলী, বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীম, বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, বিচারপতি মো. খায়রুল আলম, বিচারপতি এস.এম মনিরুজ্জামান, বিচারপতি আহমেদ সোহেল, বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম। এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের নিয়োগ কার্যকর হলো। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সুপ্রিমকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর।

২০১৮ সালের ৩০ মে এই ১৮ জনকে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। দুই বছর অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তাদেরকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নতুন নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার রাতে নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই নিয়োগ শপথগ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পরদিন শনিবার বিকালে হাইকোর্টের ১৮ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে তাদের এই শপথ বাক্য পাঠ করানো হয়। কিন্তু ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে নেওয়া ওই শপথ অনুষ্ঠানে কারিগরি ত্রুটির কারণে কোন কোন বিচারপতি শপথ বাক্য ঠিকমত শুনতে পারেননি। যার কারণে দ্বিতীয় দফায় রাতে সশরীরে বিচারপতিদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সুপ্রিম কোর্ট।

অনলাইনে শপথ নিলেন স্থায়ী হওয়া ১৮ বিচারপতি
                                  

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ১৮ বিচারপতি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাসা থেকে শপথ নিয়েছেন।

শনিবার বিকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নিজ বাসবভন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। আর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর তার অফিস থেকে শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় ১৮ বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ দিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে এ নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়োগ বিচারপতিদের শপথ গ্রহণের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।

স্থায়ী হওয়া ১৮ বিচারপতি হলেন- মো. আবু আহমেদ জমাদার, এএসএম আব্দুল মোবিন, মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ফাতেমা নজীব, মো. কামরুল হোসেন মোল্লা, এসএম কুদ্দুস জামান, মো. আতোয়ার রহমান, খিজির হায়াত, শশাঙ্ক শেখর সরকার, মোহাম্মদ আলী, মহিউদ্দিন শামীম, মো. রিয়াজ উদ্দিন খান, মো. খায়রুল আলম, এসএম মনিরুজ্জামান, আহমেদ সোহেল, সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান ও কেএম হাফিজুল আলম।

ভার্চুয়াল আদালতে ১০ কার্যদিবসে ২০ হাজার ৯৩৮ জনের জামিন
                                  

সারাদেশে ভার্চুয়াল আদালতে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১০ কার্যদিবসে ২০ হাজার ৯৩৮ জন জামিন পেয়েছেন।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার মো. সাইফুর রহমান জানান, ১১ মে থেকে ১০ কার্যদিবসে ৩৩ হাজার ২৮৭টি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১১ মে একজন জামিন লাভ করেন। ১২ মে ১৪৪ জন জামিন পান। ২০ মে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৩১টি জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং ৪ হাজার ৪৮৪ জন জামিন লাভ করেন।

সর্বশেষ ২৮ মে ৩ হাজার ৮২টি শুনানি শেষে ১ হাজার ৪৭৭ জন জামিন লাভ করেন।

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে আদালতের কার্যক্রম ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ১১ মে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম চালু হয়।

সংগ্রাম সম্পাদককে জামিন দেননি হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ
                                  

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে জামিন দেননি হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ।

আজ বুধবার বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে ভিডিও কনফারেন্সে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্ত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও মোমতাজ উদ্দিন ফকির।

এ বিষয়ে শিশির মনির জানান, আদালত জামিন দেননি। আবেদনটি নিয়ে নিয়মিত বেঞ্চে (ছুটি শেষে আদালত খোলার পর) যেতে বলেছেন।

গত ৫ মে কারাবন্দী দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদের জামিন আবেদনের শুনানি গ্রহণ করতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বরাবরে আবেদন করা হয়।

আবেদনে বলা হয়, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ ৮০ বছর বয়স্ক একজন প্রবীণ নাগরিক। গত ডিসেম্বর মাস থেকে তিনি কারাগারে আটক আছেন তিনি শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। এছাড়া তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি ক্রমান্বয়ে হারিয়ে ফেলছেন। চিকিৎসকগণ তাকে অতিসত্বর ডান চোখে ক্যাটারেক্ট সার্জারির পরামর্শ দিয়েছেন। শ্বাসকষ্টের রোগী হওয়াতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়ে জামিন লাভের সুযোগ পাচ্ছেন না।

আবুল আসাদের শারীরিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে তার জামিন আবেদন শুনানির উদ্যোগ নিতে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করা হয়।

এরপর ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রথম আবেদনকারী হিসেবে গত ১১ মে আবুল আসাদের জামিন আবেদন করা হয়।

জামিন আবেদনের উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলা হয়, দৈনিক সংগ্রামে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লিখেছেন, এটা আদালত অবমাননা হতে পারে, রাষ্ট্রদ্রোহ না।

গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকায় জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লাকে ‘শহীদ’ লেখা হয়। এর পরের দিন ১৩ ডিসেম্বর সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদকসহ সাত-আটজনকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারের ক্ষমতা পেল আদালত
                                  

মহামারী করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভিডিও কনফারেন্সসহ অন্যান্য তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আদালতের কার্যক্রম চালানোর বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।

মন্ত্রিসভা গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশের খসড়ায় অনুমোদন দেয়ার পর শনিবার লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ এই গেজেট প্রকাশ করেছে।

কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে সবার সশরীরে উপস্থিতিতে আদালত পরিচালনার সুযোগ না থাকায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে যার যার অবস্থানে থেকে বিচার কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে সরকারকে অনুরোধ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী আদালতে মামলার পক্ষ-বিপক্ষ বা তাদের পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবীদের সশরীরে উপস্থিতি থেকে মামলার বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হয়। ভিডিও কনফারেন্সে বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় তার প্রয়োজন হবে না।

দীর্ঘ সময় ধরে আদালত বন্ধ থাকায় মামলাজট বাড়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীরা বিচারপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ডিজিটাল মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম করার অধ্যাদেশের খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করে আইন মন্ত্রণালয়।


   Page 1 of 77
     আইন-আদালত
জেকেজির চেয়ারম্যান সাবরিনা ৩ দিনের রিমান্ডে
.............................................................................................
করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণা: ডা. সাবরিনা গ্রেফতার
.............................................................................................
ময়ূর লঞ্চের মালিকসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
করোনাভাইরাসে দেশে প্রথম বিচারকের মৃত্যু
.............................................................................................
জাল নথিতে হাইকোর্ট থেকে হত্যা মামলার ৫ আসামির জামিন
.............................................................................................
করোনা ঝুঁকি এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের উদ্যোগে মুক্তি পেল শিশুরা
.............................................................................................
নিয়মিত আদালত চালুর দাবি আইনজীবীদের
.............................................................................................
এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে বেতন আদায় স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট
.............................................................................................
ভার্চুয়াল শুনানি নিয়ে ১৫ দিনে সাড়ে ২৭ হাজার আসামির জামিন
.............................................................................................
উপজেলা পর্যায়ে টিসিবি পণ্য বিক্রির নির্দেশ
.............................................................................................
আবরার হত্যা : জিয়নের জামিন আবেদন নাকচ
.............................................................................................
ভার্চুয়াল শপথে কারিগরি ত্রুটি, রাতে সশরীরে শপথ ১৮ বিচারপতির
.............................................................................................
অনলাইনে শপথ নিলেন স্থায়ী হওয়া ১৮ বিচারপতি
.............................................................................................
ভার্চুয়াল আদালতে ১০ কার্যদিবসে ২০ হাজার ৯৩৮ জনের জামিন
.............................................................................................
সংগ্রাম সম্পাদককে জামিন দেননি হাইকোর্টের ভার্চুয়াল বেঞ্চ
.............................................................................................
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে বিচারের ক্ষমতা পেল আদালত
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে র‍্যাবের মামলায় ১১ আসামি, কার্টুনিস্টসহ কারাগারে ২
.............................................................................................
৫ মে পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম বন্ধ
.............................................................................................
রবিবার থেকে স্বল্প পরিসরে আদালত চলবে
.............................................................................................
অমানবিক বাড়ি মালিকদের সম্পদের তথ্য নিচ্ছে দুদক
.............................................................................................
স্বাস্থ্যকর্মীদের বাড়ি ছাড়তে বললে আইনি ব্যবস্থা: দুদক চেয়ারম্যান
.............................................................................................
বিনা সুদে ঋণ পাবেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা
.............................................................................................
সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ দিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধু হত্যা: আব্দুল মাজেদের মৃত্যু পরোয়ানা জারি
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর খুনি আব্দুল মাজেদ কারাগারে
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর খুনি ক্যাপ্টেন (অব.) আব্দুল মাজেদ গ্রেফতার
.............................................................................................
সব আদালতে সাধারণ ছুটি ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ল
.............................................................................................
জামিন ও নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ালেন প্রধান বিচারপতি
.............................................................................................
কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসিসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
.............................................................................................
শর্ত ভঙ্গ করলে খালেদা জিয়ার মুক্তির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়ে যাবে: এটর্নি জেনারেল
.............................................................................................
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন: প্রথমদিনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ড. ইউনূসের আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা, ৭ হাজার টাকা অর্থদন্ড
.............................................................................................
অর্থ আত্মসাতের মামলায় ২ ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে
.............................................................................................
ভিপি নূরকে ৩ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট দিতে হাইকোর্টের নির্দেশ
.............................................................................................
আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন ফখরুলসহ ৩ বিএনপি নেতা
.............................................................................................
একসাথে ৩ আসামির জবানবন্দি, শরীয়তপুরের বিচারককে হাই কোর্টে তলব
.............................................................................................
৭ দেহরক্ষীসহ জিকে শামীমমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি দুপুর ২টায়
.............................................................................................
এনামুল বাছিরের পদোন্নতির রুল খারিজ
.............................................................................................
ভুল আসামির সাজা খাটার বিষয়ে অনুসন্ধানের নির্দেশ হাইকোর্টের
.............................................................................................
চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে খালেদার জামিন আবেদন
.............................................................................................
আবরার হত্যা মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইবুনালে নিতে বাবার আবেদন
.............................................................................................
প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য বিচারক একজন: আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
জেলা জজদের আর্থিক ক্ষমতাবৃদ্ধি ও আইনজীবীদের ‘ইথিকস’ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
জুয়া খেলা নিষিদ্ধে হাইকোর্টের রায় চেম্বারে বহাল
.............................................................................................
সরকারি চাকরি আইনে বরখাস্তের ৪২ ধারার বিধান নিয়ে হাইকোর্টে রুল
.............................................................................................
বিসিএসে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নিয়ে হাইকোর্টের রুল
.............................................................................................
২১ ফেব্রুয়ারির পাশাপাশি ৮ ফাল্গুন জাতীয়ভাবে মূল্যায়নের জন্য রিট
.............................................................................................
ঝিনাইদহে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
.............................................................................................
জামিন জালিয়াতি চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD