| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   মানবাধিকার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আধুনিক দাসত্বের ফাঁদে বিশ্বের ৪ কোটি শ্রমিক :আইএলও

বিশ্বব্যাপী ৪ কোটি শ্রমিক গেলো বছরের হিসাবে আধুনিক দাসত্বের ফাঁদে আটাকে আছে। তাদের অর্ধেক শ্রমিক ঋণের কারণে তাদের শ্রম সস্তায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এখনও বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ কোটি ২০ লাখ। জাতিসংঘের সাধারণ সভাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন গতকাল নিউইয়র্ক থেকে আধুনিক দাসত্ব এবং শিশু শ্রমিক পরিস্থিতি নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
 
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক দাস শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে নারীরা। তাদের মধ্যে ৭১ ভাগ নারী যাদের সংখ্যা প্রায় প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ। যৌনকর্মীদের ৯৯ ভাগ বাধ্যতামূলক এ পেশায় শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। জোরপূর্বক বিবাহে বাধ্য হচ্ছে ৮৪ ভাগ নারী শ্রমিক। শিশু শ্রমিকদের নিয়ে করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটি ২০ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে যাদের বয়স ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। শিশু শ্রমের ৭০ দশমিক ৯ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত। প্রতি পাঁচ জনের একটি শিশু নিয়োজিত রয়েছে সেবা খাতে। শিশু শ্রমিকদের ১১ দশমিক ৯ ভাগ শিল্পে নিয়োজিত।
 
প্রতিবেদনের বিষয়ে আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার উল্লেখ করেছেন, নাটকীয় পরিবর্তন ছাড়া এ অবস্থার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এন্ড্রু ফরেস্ট উল্লেখ করেছেন, আধুনিক বিশ্বে ৪ কোটি দাস শ্রমিকের তথ্য আমাদের লজ্জিত করে। এ অবস্থা পরিবর্তনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকার, সুশিল সমাজসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ৪৯ লাখ শ্রমিক বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এদের মধ্যে কৃষি খামার, মাছ ধরার জলযান, যৌন বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য। তারা কিছু খাবার এবং পরিধেয় বস্ত্র শ্রমের বিনিময়ে পেয়ে থাকে। জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত শ্রমিকদের ৪০ ভাগ নিয়োগকারী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। ২০১৬ সালের হিসাবে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ৫৪ লাখ বলপূর্বক বিবাহের শিকার হয়েছে। শুধু নারীরাই নয়, পুরুষদেরও জোরকরে বিবাহ দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
 
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের যে কোন সময়ে অন্তত আড়াই কোটি মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ মানুষ ব্যক্তি খাতে শ্রমের মাধ্যমে শোষণের শিকার হয়েছে। পারিবারিক কাজ, নির্মাণ খাত, কৃষি খাতেই এ সব শ্রমিকের ব্যবহার বেশি। এ সময়ে ৫০ লাখ মানুষ জোর প্রয়োগে যৌনকর্মে বাধ্য হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় চাপ প্রয়োগের ফলে শ্রম দিতে বাধ্য হয়েছেন।
 
 আইএলও উল্লেখ করেছে, বিশ্বব্যাপী ৫৪টি দেশের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বের মধ্যে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে এই আধুনিক দাসত্বের হার সবচেয়ে বেশি। দাস শ্রমিকদের ৬২ ভাগই এই অঞ্চলে বাস করছে।
আধুনিক দাসত্বের ফাঁদে বিশ্বের ৪ কোটি শ্রমিক :আইএলও
                                  
বিশ্বব্যাপী ৪ কোটি শ্রমিক গেলো বছরের হিসাবে আধুনিক দাসত্বের ফাঁদে আটাকে আছে। তাদের অর্ধেক শ্রমিক ঋণের কারণে তাদের শ্রম সস্তায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। এখনও বিশ্বব্যাপী শিশু শ্রমিকের সংখ্যা ১৫ কোটি ২০ লাখ। জাতিসংঘের সাধারণ সভাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশন গতকাল নিউইয়র্ক থেকে আধুনিক দাসত্ব এবং শিশু শ্রমিক পরিস্থিতি নিয়ে পৃথক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
 
এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আধুনিক দাস শ্রমিকদের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে নারীরা। তাদের মধ্যে ৭১ ভাগ নারী যাদের সংখ্যা প্রায় প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ। যৌনকর্মীদের ৯৯ ভাগ বাধ্যতামূলক এ পেশায় শ্রম দিতে বাধ্য হচ্ছে। জোরপূর্বক বিবাহে বাধ্য হচ্ছে ৮৪ ভাগ নারী শ্রমিক। শিশু শ্রমিকদের নিয়ে করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ১৫ কোটি ২০ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে যাদের বয়স ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যে। শিশু শ্রমের ৭০ দশমিক ৯ ভাগ কৃষি খাতে নিয়োজিত। প্রতি পাঁচ জনের একটি শিশু নিয়োজিত রয়েছে সেবা খাতে। শিশু শ্রমিকদের ১১ দশমিক ৯ ভাগ শিল্পে নিয়োজিত।
 
প্রতিবেদনের বিষয়ে আইএলও মহাপরিচালক গাই রাইডার উল্লেখ করেছেন, নাটকীয় পরিবর্তন ছাড়া এ অবস্থার মধ্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন সম্ভব নয়। ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এন্ড্রু ফরেস্ট উল্লেখ করেছেন, আধুনিক বিশ্বে ৪ কোটি দাস শ্রমিকের তথ্য আমাদের লজ্জিত করে। এ অবস্থা পরিবর্তনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সরকার, সুশিল সমাজসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী ২ কোটি ৪৯ লাখ শ্রমিক বাধ্যতামূলক শ্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এদের মধ্যে কৃষি খামার, মাছ ধরার জলযান, যৌন বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য। তারা কিছু খাবার এবং পরিধেয় বস্ত্র শ্রমের বিনিময়ে পেয়ে থাকে। জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত শ্রমিকদের ৪০ ভাগ নিয়োগকারী রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে। ২০১৬ সালের হিসাবে বিশ্বব্যাপী ১ কোটি ৫৪ লাখ বলপূর্বক বিবাহের শিকার হয়েছে। শুধু নারীরাই নয়, পুরুষদেরও জোরকরে বিবাহ দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
 
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালের যে কোন সময়ে অন্তত আড়াই কোটি মানুষ অনিচ্ছা সত্ত্বেও কাজ করতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ১৬ লাখ মানুষ ব্যক্তি খাতে শ্রমের মাধ্যমে শোষণের শিকার হয়েছে। পারিবারিক কাজ, নির্মাণ খাত, কৃষি খাতেই এ সব শ্রমিকের ব্যবহার বেশি। এ সময়ে ৫০ লাখ মানুষ জোর প্রয়োগে যৌনকর্মে বাধ্য হয়েছেন। একই সময়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ সরকারি ব্যবস্থাপনায় চাপ প্রয়োগের ফলে শ্রম দিতে বাধ্য হয়েছেন।
 
 আইএলও উল্লেখ করেছে, বিশ্বব্যাপী ৫৪টি দেশের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বিশ্বের মধ্যে এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলে এই আধুনিক দাসত্বের হার সবচেয়ে বেশি। দাস শ্রমিকদের ৬২ ভাগই এই অঞ্চলে বাস করছে।
ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা ৮৫
                                  

গত ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৫ জন। গুম হয়েছেন ৫৭ জন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের এক প্রতিবেদনে এতথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার অধিকার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

অধিকারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ছয় মাসে বিচার বর্হিভূত হত্যার শিকার হয়েছেন ৮৫ জন। এর মধ্যে ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন ৭৯ জন। গুলিতে নিহত হয়েছেন একজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছেন চারজন। পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে একজনকে।

এর মধ্যে জানুয়ারিতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৭ জন, মার্চে ২০ জন, এপ্রিল মাসে ১০ জন, মে মাসে নয়জন এবং জুনে নিহত হয়েছেন ১৩ জন।

জানুয়ারি মাসে গুম হয়েছেন ছয়জন, ফেব্রুয়ারিতে একজন, মার্চে ২১ জন, এপ্রিলে দুইজন, মে মাসে ২০ জন এবং জুনে গুম হয়েছেন সাতজন।

অধিকার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এ সময়ে কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ২২টি। গত ছয় মাসে বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন ১০ জন, আহত হয়েছেন ২৪ জন, অপহৃত হয়েছেন ১৪ জন।

গত ছয়মাসে একজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন সাংবাদিক, লাঞ্ছিত হয়েছেন দুইজন এবং হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন নয়জন।

গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৪৭ জন। আহত হয়েছেন দুই হাজার ৪৬৫ জন। এ সময়ে ৩৭১ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছেন ১২৪ জন। এসিড সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৩০ জন, যৌতুক সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১২৮ জন। গণপিটুনীতে নিহত হয়েছেন ২১ জন মানুষ।

অধিকার বলেছে, গুম রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার যা মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হন এবং গুমের পর অনেককেই হত্যা করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেরই কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

ভিকটিমদের পরিবারগুলোর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাদের ধরে নিয়ে গেছে এবং এরপর থেকে তারা গুম হয়েছেন। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে আটক ব্যক্তিটিকে জনসম্মুখে হাজির করছে অথবা কোনো থানায় নিয়ে হস্তান্তর করছে বা গুম হওয়া ব্যক্তিটির লাশ পাওয়া গেছে।

অধিকার বলেছে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার কাজে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করার কারণে এসব বাহিনীর সদস্যরা দায়মুক্তি ভোগ করছে।

এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা কোনো কিছুরই তোয়াক্কা না করে সাধারণ নাগরিকদের হয়রানি, তুলে নিয়ে আসা ও তাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে।

অধিকার রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে। গুম এবং হত্যার ব্যাপারে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেছে।

‘মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে কারাগারে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির দরকার নেই’
                                  
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক বলেছেন, কারাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির পক্ষপাতি আমি নই। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে কারাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করার কোন দরকার নেই। তিনি বলেন, বিনা বিচারে যারা দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দি রয়েছেন তাদের মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস উপলক্ষে ‘সুপ্রিম কোর্টে আইন সহায়তা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় কাজী রিয়াজুল হক এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। সুপ্রিম কোর্টের কনফারেন্স লাউঞ্জে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি এই সভার আয়োজন করে। 
 
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আইন সহায়তা সেবা প্রাপ্তি নাগরিকের অধিকার। এটা সরকারের বদান্যতা নয়। একটি গণতান্ত্রিক সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ যে তার নাগরিকদের সমস্ত অধিকারগুলো দেবে, আর এটাই মানবাধিকার। তিনি বলেন, কক্সবাজার জেলখানা পরিদর্শনে গিয়ে জানতে পেলাম সেখানে বন্দি ধারণ ক্ষমতা ৫৩০ জন। কিন্তু রাখা হয়েছে ১৮শত জনকে। এদের মধ্যে ৩০০ বন্দি রয়েছেন যারা বিভিন্ন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত। সেখানকার জেলা প্রশাসক ও জেল কর্তৃপক্ষ বলল আমাদের কারাগারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা দরকার। কিন্তু আমি এ ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার পক্ষপাতি নই। কারন যিনি বিনা বিচরে কারাগারে আটক রয়েছেন ওই ব্যক্তি তো রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসাবে সেখানে থাকতে চান না। তার তো স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার রয়েছে। কিন্তু তাকে কারাগারে রেখে তার অধিকারগুলো খর্ব করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের পয়সাও খরচ হচ্ছে।
 
তিনি বলেন, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রতি মাসে বাধ্যতামূলকভাবে একবার কারাগার পরিদর্শন করতে হয়। জেলা জজ মাসে একবার না হলেও দুই মাস অন্তর তাকেও কারাগার পরিদর্শনে যেতে হয়। পরিদর্শনের ওই রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রী এমনকি মন্ত্রিসভায় যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ করে ১০/১৫ বছর ধরে যারা বিনা বিচারে কারাগারে আটক রয়েছেন তাদের বিষয়টি কি জেলা জজ ও জেলা ম্যাজিস্টেট্রের নজরে আসেনি? বেসরকারি জেল পরিদর্শন কমিটিও রয়েছে। তাদের ভূমিকা কি? দেখা যাচ্ছে এক্ষেত্রে একটা সমন্বয়হীনতা রয়েছে। আমি মনে করি সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ বিষয়গুলো তাদের দৃষ্টিতে নিয়ে আসা। 
 
তিনি বলেন, ইতমধ্যে হাইকোর্ট থেকে বিনা বিচারের আটকদের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আদেশ দেয়া হয়েছে। এসব আদেশে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে যে দীর্ঘদিন কাউকে বিনা বিচারে কারাগারে থাকতে হবে না। কাজী রিয়াজুল হক বলেন, একটি ডাকাতির মামলায় বাবুল নামে এক ব্যক্তি বিনা বিচারে ২৫ বছর কারাগারে আটক ছিলো। কিন্তু ওই মামলায় সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর। কিন্তু তাকে ২৫ বছর জেলে থাকতে হয়েছে। পরে তিনি মামলা থেকে খালাস পান। কিন্তু এই ২৫ বছর তাকে কে ফিরিয়ে দেবে? তিনি বলেন, সামনে জাতীয় বাজেট আসছে। এনজিওগুলো থেকে বলা হচ্ছে তারা প্রজেক্ট নির্ভর কাজ করে থাকে। যখন প্রজেক্ট শেষ হয়ে যায় তখন কাজ শেষ না হলেও আর অর্থ পাওয়া যায় না। তখন সরকারের  উচিত এই প্রজেক্টগুলোকে টেনে নেয়া। 
মুসা বিন শমসেরের ‘যুদ্ধাপরাধের তথ্য’ দিলেন দুই সাংবাদিক
                                  

 তদন্ত সংস্থার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের ‘যুদ্ধাপরাধের তথ্য’ সম্বলিত নথি হস্তান্তর করেছেন সাংবাদিক সাগর লোহানী ও প্রবীর শিকদার। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে গিয়ে জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হকের হাতে , জনকণ্ঠ ও ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনসহ ২৮ পৃষ্ঠার নথি তুলে দেন তারা। মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সাগর লোহানী পরে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কাছে যেসব তথ্য উপাত্ত আছে, সেগুলো তদন্ত সংস্থার কাছে হস্তান্তর করেছি। ওঁরা গ্রহণ করেছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, এ বিষয়ে অনুসন্ধান করবেন এবং অনুসন্ধানে প্রমাণযোগ্য অপরাধ পাওয়া গেলে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে তদন্তের উদ্যোগে নেবেন। নিউজ পোর্টাল উত্তরাধিকার ৭১ এর সম্পাদক প্রবীর শিকদার বলেন, তদন্ত সংস্থা শিগগিরই মুসা বিন শমসেরের যুদ্ধাপরাধের তদন্তের উদ্যোগে নেবেন বলে তারা আশা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, উনারা যেসব ডকুমেন্টস দিয়েছেন, আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব। সত্যতা থাকলে আমরা অবশ্যই তদন্তে যাব। ফরিদপুর শহরের সাধারণ একটি পরিবার থেকে রহস্যময়ভাবে ধনকুবের হয়ে ওঠা মুসাকে তার এলাকার মানুষ ‘নুলা মুসা’ নামেই চেনে। ২০১০ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে তার যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবি ওঠে। মুসার যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানের কথা বললেও তাতে কোনো অগ্রগতির খবর দিতে পারছিল না ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এই প্রেক্ষাপটে অভিযোগ ওঠে, প্রধানমন্ত্রীর ফুপাত ভাইয়ের বেয়াই হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন জাঁকজমকপূর্ণ চলাফেরার জন্য বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে ‘বাংলাদেশের প্রিন্স’ হিসেবে পরিচয় পাওয়া মুসা। এর আগে গণমাধ্যমে, ফরিদপুরের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বলেন, মুসার যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ দিতে তারা ‘তৈরি আছেন’। মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একাত্তরে মুসা বিন শমসেরের যুদ্ধাপরাধের বিভিন্ন অভিযোগের খতিয়ানও সেখানে তুলে ধরা হয়। এর প্রেক্ষিতে সানাউল হক বলেন, অনুসন্ধানে ‘অগ্রগতি হলেই’ তারা মুসার বিরুদ্ধে মামলায় যাবেন। এই ব্যবসায়ীর যুদ্ধাপরাধের বিষয়ে কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা তদন্ত সংস্থাকে দিতে সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন তিনি। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়েই গতকাল বৃহস্পতিবার নথি হস্তান্তরের কথা বলেন সাগর লোহানী ও প্রবীর শিকদার। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খানের সঙ্গেও তারা কথা বলেন। পরে সাগর লোহানী সাংবাদিকদের বলেন, তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা আমাদের বলেছেন, শিগগিরই তারা এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেনে। প্রবীর শিকদার বলেন, “১৬ বছর আগে আমি দৈনিক জনকণ্ঠে নুলা মুসার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেছিলাম। সেই প্রতিবেদনের পর সে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার জন্য হামলা করে। তবে আমি প্রাণে বেঁচে যাই। সে সময় সংবাদকর্মীরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আমি যা লিখেছি, তা যদি সত্যি হত, তাহলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারত। সে তা না করে আমার ওপর হামলা করেছে। এই সাংবাদিক জানান, বিভিন্ন সময়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে মুসার যুদ্ধাপরাধ নিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, সেগুলো একীভূত করে তারা তদন্ত সংস্থাকে দিয়েছেন।



আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
                                  

 অস্বচ্ছ প্রক্তিয়ায় কর্মী নিয়োগ, ছাঁটাই ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে আসকের সাবেক কর্মীরা এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তোলেন। সংবাদ সম্মেলনে আসকের সাবেক আইন বিষয়ক কর্মী অ্যাডভোকেট নাহিদ শামস বলেন, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আসকের ১০৮ জন কর্মীকে একযোগে ছাঁটাই করা হয়েছে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ৩১ ডিসেম্বর এ চাকরির মেয়াদ শেষ হবে। তিনি আরও বলেন, কর্মী ছাঁটাইয়ের পর ২৯ ডিসেম্বর ৬০ জন কর্মীকে নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হলো। এ নিয়োগে আসকের মানবসম্পদ ও ম্যানুয়ালের কোনো বিধান পরিপালন করা হয়নি। এমনকি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি সংগঠনটি। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা যাচাই না করে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় আসকের এ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কর্মী নিয়োগ, ছাঁটাই ও অব্যবস্থাপনা অবসানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।


রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান
                                  

অক্টোবর মাসে রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান শুরু হবার পর থেকে গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ। তাদের অনেকেই পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে।
বাংলাদেশের সরকার মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচর নামে একটি দ্বীপে পুনর্বাসনের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
নিউইয়র্ক থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখে জারি করা এ বিবৃতিতে ওই দ্বীপটিকে অনুন্নত উপকূলীয় বন্যা-প্রবণ দ্বীপ হিসেবে উল্লেখ করে, তাদের বিচ্ছিন্ন করে সেখানে না পাঠানোর আহ্বান তুলে ধরা হয়।
কক্সবাজার এলাকা থেকে ঠেঙ্গারচরে পাঠানো হলে তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা, জীবিকা, খাবার এবং শিক্ষার সুযোগ সবকিছু থেকেই তারা বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কার কথা উঠে আসে বিবৃতিতে। তা হবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বাধ্য-বাধকতা লঙ্ঘন ।
বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস এর উদ্ধৃতি তুলে ধরো হয়। সেখানে তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশের সরকার হাস্যকর-ভাবে এমন একটি দ্বীপে রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবন-যাপন নিশ্চিত হবে বলে দাবি করছে যেখানে কোনধরনের সুযোগ-সুবিধা-হীন নেই এবং জোয়ারের সময় ও বর্ষকালে তা তলিয়ে যায়"।
মিয়ানমারের মংডুরতেএকটি মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে গত অক্টোবর মাসে অগ্নিসংযোগের পর.
বিবৃতিতে সংস্থাটি বলে, ১৯৯০ সাল থেকে মিয়ানমার থেকে আসা তিন লাখ থেকে ৫ লাখের মত মুসলিম রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে বাংলাদেশে। যাদের বেশিরভাগই অ-নিবন্ধিত।
বার্মিজ সেনাদের নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসের পর প্রায় ৬৯ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক বার্মার রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে । এসব নির্যাতনের মধ্যে ছিল বিচার-বহির্ভূত হত্যা, যৌন হামলা এবং পাইকারি-ভাবে গ্রাম ধ্বংস করার ঘটনাও।
তার মতে "এই প্রস্তাবনা একইসঙ্গে নিষ্ঠুর এবং অকার্যকর এবং এটা ত্যাগ করতে হবে"।
এ মাসের শুরুতেই সরকার ঠেঙ্গারচরে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনার কথা পুনরায় তুলে ধরে।
সূত্র : বিবিসি

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে জাতিসংঘ কমিশন
                                  
বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের একটি কমিশনের প্রতিনিধি দল। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক স্পেশাল পোর্টিয়ার ইয়াংহি লিও বাংলাদেশ সফর করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। 
 
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা ও পূর্ব থেকেই বাংলাদেশে অবস্থিত প্রায় সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গার সার্বিক অবস্থা দেখতে কমিশনের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসছে। জানা যায়, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের রোহিঙ্গাসহ সব মানুষের কল্যাণের জন্য গত সেপ্টেম্বরে গঠিত হয় জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের কমিশন।
 

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন মিয়ানমারের নাগরিক উইন ম্রা ও আই লুইন এবং লেবানিজ নাগরিক ঘাসান সালামে। এই প্রতিনিধি দল কাল শনিবার দিবাগত রাতে ঢাকা আসবেন। ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি কক্সবাজার পরিদর্শনের পর ৩১ জানুয়ারি তারা ঢাকায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। কমিশন চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে তাদের রিপোর্ট প্রকাশ করবেন বলে কথা রয়েছে। রোহিঙ্গা বিষয়ে আন্তর্জাতিক যেকোনো প্রতিনিধি দলকে বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে

ব্লগার-ধর্মনিরপেক্ষদের রক্ষায় ব্যর্থ বাংলাদেশ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
                                  

 ব্লগার, ধর্মনিরপেক্ষ, শিক্ষাবিদ ও সমকামী অধিকারকর্মীদের সহিংসতা থেকে রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ। আর তাই তাঁদের অনেককেই প্রাণ দিতে হয়েছে ধর্মভিত্তিক জঙ্গিদের হাতে। বৃহস্পতিবার ‘বাংলাদেশ : ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস, ক্ল্যাম্পডাউন অন ক্রিটিকস অ্যাকশন অন এক্সট্রিমিস্ট ভায়োলেন্স নিডস টু রেসপেক্ট রাইটস’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। প্রতিবেদনটির ২৭তম সংস্করণের ৬৬৭ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ না দিয়ে লেখার জন্য বলা হয়েছে ব্লগারসহ অন্যদের। ব্লগার, ধর্মনিরপেক্ষ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলেও খুনিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে পারেনি সরকার। এ ছাড়া বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী গত বছরের জুন মাসে মাত্র আট দিনে ১৫ হাজার মানুষকে আটক করে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বিচারে গ্রেফতার, বিচার বহির্ভূত হত্যা ও গুম বিষয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী একটি খারাপ নজির তৈরি করেছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং বিরোধী রাজনীতিকদের ব্যাপারে কঠোর হয়েছে সরকার। বিরোধী দলের অনেক সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের অনেকেই বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছে, অনেকেই কারাগারে আছে অথবা নিখোঁজ হয়েছে।

পরিবার ও সমাজে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গৃহস্থালী কাজের মূল্যায়নের আহ্বান
                                  

 বর্তমানে নারীসমাজ আর্থ-সামজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে গেছে। দেশের সামাজিক সূচকের সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতির ভূমিকা থাকলেও নারীরা আজ নিজ গৃহে অবহেলিত ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। একজন নারী গৃহে যে কাজ করেন তার আর্থিক মূল্য জিডিপির প্রায় দেড়গুণ। নারীর গৃহস্থালী এই কাজগুলো অবমূল্যায়িত হওয়ায় পরিবারে নারী নির্যাতন বন্ধে এখনও ইতবিাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। নারীর প্রতি নির্যাতন কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে গৃহস্থালী কাজের মূলায়নের পাশপাশি পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আজ ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, রোজ শনিবার বিকেল ৪.০০ ঘটিকায় ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর উদ্যোগে ধানমন্ডি লেকের অভ্যন্তরে রবীন্দ্র সরোবরে “নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গৃহস্থালী কাজের মূল্যায়ন জরুরী” শীর্ষক লিফলেট ক্যাম্পেইনে বক্তরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। লিফলেট ক্যাম্পেইনে বক্তরা বলেন, প্রতিবছর ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৬ দিন ব্যাপি নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। দিবসের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘প্রতিরোধ’, অর্থাৎ নারী নির্যাতন প্রতিরোধ। গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নারীরা গৃহে যে কাজ করেন তা সরাসরি অর্থ উপার্জনের সাথে সম্পৃক্ত না থাকায় মনে করা হয় নারীরা কোন কাজ করেন না এবং এ কারণে তারা অবহেলিত হয় এবং নির্যাতনের শিকার হন। নারীরা যদি গৃহস্থালী কাজের অবদানের প্রকৃত মর্যাদা পান তবে এ মাত্রা অনেকাংশে কমে আসবে। বক্তারা বলেন, একজন নারী দৈনিক প্রায় ৪৫ ধরণের গৃহস্থালী কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন যা ছাড়া দৈনন্দিন জীবন অসম্ভব। এমনকি সরাসরি অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত নারীরাও গৃহস্থালী কাজ করেন। আমাদের সমাজে গৃহস্থালী কাজ নারীর দায়িত্ব বলে মনে করা হয় এবং কাজগুলো অবমূল্যায়িত থেকে যায়। কিন্তু নারীর প্রতি নির্যাতন কমিয়ে আনার লক্ষ্যে গৃহস্থালী কাজে নারীর পাশাপাশি পুরুষের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নারীর প্রতি নির্যাতনের ফলে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাবের পাশাপাশি তাদের শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কাজেই নারী নির্যাতন বন্ধে নারীদের গৃহস্থালী কাজের মূল্যায়ন প্রদান, সামাজিক রীতিনীতি ও আচরনের পরিবর্তনের পাশাপাশি শিক্ষা, সাম্প্রদায়িকতা, অর্থনীতি, কৃষিক্ষেত্র, ব্যবসা, গণযোগাযোগ মাধ্যম ও স্বাস্থ্যখাতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সর্বপরি নারী ও শিশু নির্যাতন ব্যতীত একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়ে তোলার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে হবে। লিফলেট ক্যাম্পেইনে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর পরিচালক গাউস পিয়ারী, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার নাজনীন কবীর, ইওডা ইউনিভার্সিটির সিনিয়র লেকচারাল এডভোকেট রোমানা আক্তার ইভা, দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং এর ইয়থ কো-অর্ডিনেটর ম্যান্ডি ইন্দ্রাণী মুখুটি ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার অনন্যা রহমান এবং প্রকল্প কর্মকর্তা আতিকুর রহমান প্রমুখ।

মাহমুদুর রহমানের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ২ মানবাধিকার সংস্থা
                                  

বিনা বিচারে ১৩২২ দিন কারাভোগের পর সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। তার মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে অবজারভেটরি ফর দ্য প্রটেকশন অব   হিউম্যান রাইটস ডিফ্রেন্ড (এফআইডিএইচ-ওএমসিটি) ও এশিয়ান হিউম্যান রাইটস কমিশন (এএইচআরসি)। তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করতেও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দুই সংস্থা।
মানবাধিকার সংস্থা দু’টির এক যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৩ সালের ১১ই এপ্রিল বাংলাদেশের অন্যতম জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সমপাদক মাহমুদুর রহমান আটক হন। এদিন পুলিশ দৈনিক আমার দেশের অফিসে অভিযান চালায় ও অফিসটি বন্ধ করে দেয়। এরপর মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়। সাড়ে ৩ বছরে, তার বিরুদ্ধে ৭৪টি আলাদা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। আদালত তাকে বারবার জামিন দিয়েছে। কিন্তু যখনই তিনি মুক্তি লাভের দ্বারপ্রান্তে থাকেন, তখনই পুলিশ নতুন একটি ফৌজদারি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আটক রাখে। ৩রা নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ অবশেষে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সর্বশেষ মামলায় জামিনাদেশ বহাল রাখে। কিন্তু তাকে মুক্তি দিতে বিচার বিভাগ ও পুলিশ আরো ৩ সপ্তাহ সময় নেয়।
এফআইডিএইচ-এর প্রেসিডেন্ট দিমিত্রিস ক্রিস্টোপোলস বলেন, ‘স্রেফ নিজের মত প্রকাশের স্বাধীনতা চর্চার কারণে ৩ বছরেরও বেশি সময় বিনা বিচারে আটক থাকার পর, মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি আমরা স্বাগত জানাই। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই বাংলাদেশের মানবাধিকার রক্ষাকর্মী ও সাংবাদিকদের এ ধরনের হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে।’
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জামিনে মুক্তি সত্ত্বেও মাহমুদুর রহমান এখনো ৭৪টি পৃথক ফৌজদারি মামলার সম্মুখীন। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, এসব মামলা সাজানো ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু মামলায় মি. রহমানের বিরুদ্ধে এমন সব অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে যা ঘটেছে তিনি পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন। তাকে কখন আদালতে এসব মামলায় বিচারের জন্য তলব করা হবে, তা জানা যায়নি।
এএইচআরসি’র প্রতিনিধি আশরাফুজ্জামান জামান বলেন, ‘মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো বিচারিক হয়রানির স্পষ্ট নমুনা। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। আমাদের দুই সংগঠন কর্তৃপক্ষকে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল অভিযোগ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে।’
মুক্তির পর মাহমুদুর রহমানকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, কারণ আটক থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি ঘটে। ৬৪ বছর বয়সী মি. রহমান বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তাকে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়নি। ইউনাইটেড হাসপাতালের ডাক্তাররা তার শরীরে বেশকিছু সমস্যা খুঁজে পেয়েছেন যা আটক থাকা অবস্থায় তার প্রতি করা আচরণের দরুন ঘটেছে। এগুলো হলো- উচ্চ রক্তচাপ, অপুষ্টি, মারাত্মক দুর্বলতা, ডিহাইড্রেশনের কারণে মূত্রাধার সমস্যা, মারাত্মক পেটের সমস্যা, ব্যাকপেইন থেকে সৃষ্ট নিদ্রাহীনতা ও হাঁটুতে অসুবিধা। আরো স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য এখনো হাসপাতালে রয়েছেন তিনি।
ওএমসিটি’র মহাসচিব জেরাল্ড স্টাবেরক বলেন, ‘যে বিচারিক হয়রানির দরুন মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘায়িত বিনা বিচারে কারাভোগ ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তার কড়া নিন্দা জানাই। আমরা বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে উপরোল্লিখিত ঘটনায় অবিলম্বে পুঙ্খানুপুঙ্খ, কার্যকরী ও নিরপেক্ষ তদন্ত করার আহ্বান জানাই। একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষাকর্মীদেরকে স্তব্ধ করার সপষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে অপরাধীকরণের চর্চা বন্ধের আহ্বান জানাই।’

বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগকারী শিপনের জামিন
                                  

 রাজধানীর সূত্রাপুর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হয়ে বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগের পর ওই এলাকার বাসিন্দা শিপনকে জামিন দিয়েছে হাই কোর্ট। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও জেবিএম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার ওই মামলার বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করে। শিপনকে নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ওই প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে এনেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে। গতকাল মঙ্গলবার শিপনের পক্ষে তিনিই শুনানি করেন; রাষ্ট্রপক্ষের ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম জহিরুল হক। পরে কুমার দেবুল সাংবাদিকদের বলেন, আদেশে আদালত বলেছে, ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার বিচার শেষ করতে হবে। সেই পর্যন্ত শিপন জামিনে থাকবেন। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর শিপনের কোথাও আশ্রয় না থাকলে তার পুর্নবাসনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে। পর ৩০ অক্টোবর গণমাধ্যমের ওই প্রতিবেদন নজরে আসার পর আদালত ৮ নভেম্বর শিপনকে হাজির করতে কারা কর্তৃপক্ষকে সময় দিয়েছিল। ১৯৯৪ সালে পুরান সূত্রাপুরের দুই মহল্লার মধ্যে মারামারিতে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জাবেদ নামে একজন বাদী হয়ে সূত্রাপুর থানায় মামলা করেন, যাতে শিপনকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলার এফআইআরে তার বাবার নাম অজ্ঞাত থাকলেও ১৯৯৫ সালে আদালতে দেওয়া অভিযোগপত্রে তার বাবার হিসেব ৫৯, গোয়ালঘটা লেনের রফিকের নাম দেওয়া হয়। কিন্তু এর পরে মামলার কার্যক্রম আর এগোয়নি। পরে ২০০০ সালে গ্রেফতার হওয়ার পর ৭ নভেম্বর থেকে কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-তে ছিলেন শিপন।

পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারলেও মাঝেমাঝে ভুলে যাচ্ছেন খাদিজা
                                  

 পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারলেও মাঝে মাঝে ভুলে যাচ্ছেন বহুল আলোচিত রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস। গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে বিষয়টি জানান নার্গিসের বাবা মাসুক মিয়া। মাসুক মিয়া বলেন, চিকিৎসকরা জানিয়েছেন খাদিজার অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। ডাকলে সাড়া দিচ্ছে। মাঝে মাঝে আমাদের চিনতে পারলেও আবার ভুলে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সকালে খাদিজাকে বিছানা থেকে তুলে বসানো হয়েছে। এছাড়া তাকে হুইল চেয়ারে করে ১০ মিনিট ঘোরানো হয়েছে। সকালে পুডিং, পানি ও কমলালেবুর জুস খেতে দেওয়া হয়েছে। খাদিজার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসপাতালের মেডিসিন অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ারের পরিচালক মির্জা নাজিম উদ্দিন বলেন, খাদিজার শারীরিক অবস্থার আরো উন্নতি হয়েছে। তাকে তরল খাবার দেওয়া হচ্ছে। ডাক দিলে সাড়া দিচ্ছে। খাদিজার শরীরের বাম পাশের অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, বাম পাশ এখনো কাজ করছে না। দেশের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রয়োজন হবে না বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। গত ৩ অক্টোবর বিকেলে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে খাদিজাকে কুপিয়ে জখম করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ- সম্পাদক বদরুল আলম। যার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হলে প্রতিবাদে জেগে ওঠে সিলেটসহ সারা দেশ।

আট মাসে গ্রেফতার ১ হাজার মানব পাচারকারীকে
                                  

 চলতি বছরের জানুয়ারীর পর গত আট মাসে পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক হাজার পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ এ সময় ৫১৭ জন পাচারের কবলে পড়া ভিক্টিমকে উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে ২৮৬ জন নারী ও শিশু রয়েছে। পুলিশ বাহিনী মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানায়। কর্মকর্তা জানান মানব পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে জাল বিছানো হয়েছে যাতে করে কেউ বেড়িয়ে যেতে না পারে। এর ফলে চলতি বছরের জানুয়ারী-আগস্ট পর্যন্ত বিগত আট মাসে পুলিশ ৯৫১ মানব পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। আট মাসে ৫১৭ জনকে পাচারের অভিযোগে মোট ৪৮৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। পাচারের আক্রান্তদের মধ্যে ১৮৬ জন নারী ও একশ’জন শিশু। গ্রেপ্তারকৃত পাচারকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যে তিনজনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশ অফিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি মাসে দেশ থেকে ৪শ’জন নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয়ে থাকে। ইউনিসেফ-এর অপর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিগত এক দশকে বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ৩ লাখ নারী ও শিশু পাচার হয়ে ভারতে গেছে। যাদের বয়স ১২ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। বাংলাদেশ থেকে মানব পাচারের মূল কারণসমূহের মধ্যে রয়েছে দারিদ্র্যতা, লিঙ্গ বৈষম্য, সামাজিক অবহেলা, সচেতনতার অভাব, অশিক্ষা ও সুশাসনের অভাব। বাংলাদেশ হলো মানব পাচারের কেন্দ্রÑ যার সাথে মধ্যপ্রাচ্যের একটি যোগসূত্র রয়েছে। পচারকারীরা ঢাকা থেকে ভারতের মুম্বাই, পাকিস্তানের করাচি ও মধ্যপ্রাচ্যের দুবাই রুট ব্যবহার করে থাকে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১৬টি জেলার ২০টি ট্রানজিট পয়েন্ট ব্যবহার করে ভারতে মানব পাচার করা হয়। সম্প্রতি নৌ-রুটের নতুন একটি ট্রানজিট পয়েন্ট আবিষ্কার করা হয়েছে। এই নৌ-রুটে বাংলাদেশ থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে মানব পাচার করা হয়ে থাকে।

হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করার দাবীতে র‌্যালি
                                  

হাঁটা একটি জনপ্রিয় এবং সর্বজনীন যাতায়াত মাধ্যম।আমরা কমবেশি সবাই হাঁটতে পছন্দ করি। হাঁটা পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতিরজন্য উপকারী। অথচ নির্বিঘেœ হাঁটার জন্য পার্কে যেতে হয়। আমরা রাস্তায় হাঁটতে চাই। কিন্তু ব্যক্তিগত গাড়ির যত্রতত্র পার্কিং, যান্ত্রিক যানদ্বারা ফুটপাত দখল প্রভৃতি কারণে মানুষ এখন রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে।রাস্তা পারাপারের জন্য তৈরি ফুটওভারব্রীজ কয়জন মানুষ ব্যবহার করে? এই ফুটওভারব্রীজগুলো আসলে পথচারীদের জন্য শাস্তিস্বরূপ। কারণ জেব্রা ক্রসিং এ রাস্তা পার হতে যে সময় লাগে তার চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগে ফুটওভারব্রীজ পার হতে। প্রতিবন্ধী এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য ফুটওভারব্রীজ ব্যবহার করা বিপদজনক। তাই সবার জন্য হাঁটার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি। বিশ্ব কার ফ্রি দিবস উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবেদি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং (ওডই) এর উদ্যোগে“হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করুন” এই শ্লোগান নিয়ে ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬, মঙ্গলবার সকাল ৮টায় আয়োজিত হাঁটা র‌্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা একথা বলেন। র‌্যালিটি জাতীয় জাদুঘর থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। অতঃপর সেখানে বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজ করা হয়।
হেলথ ব্রীজের দেবরা ইফরইমসন বলেন,“হাঁটা মানুষের অধিকার। সরকার হাঁটাকে প্রাধান্য দিলে বায়ু দূষণ, বিভিন্ন রোগ এবং যাতায়াত খরচ অনেক কমে আসবে। তাই হাঁটা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ”দি ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিয়িং-এরম্যান্ডি ইন্দ্রাণীমুখুটি বলেন,“আমাদের ফুটপাতে যান্ত্রিকযান বেশি দেখা যায়। ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদের কথা বলা হয় অথচ হকাররা ফুটপাতের নিরাপত্তা দেয়। যান্ত্রিকযানগুলো ফুটপাত দখল করে থাকে ফলে আমরা হাঁটতে পারিনা। তাই যান্ত্রিক যানমুক্ত ফুটপাত চাই।”এনসিওর আওয়ার রাইটস-এর তালুকদার রিফাত পাশা বলেন,“আমরা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা জেব্রা ক্রসিং দিয়ে নিরাপদে এবং সহজে রাস্তা পার হতে পারবো। আমাদের জন্য ফুটওভারব্রীজ বিপদজনক এবং কষ্ট কর। তাই রাস্তা পারাপারে ফুটওভারব্রীজ নয় জেব্রা ক্রসিং চাই।”
কর্মসূচীতে আরো অংশ গ্রহণ করে মাস্তুল ফাউন্ডেশন, গ্রীণ এইড, দেয়াল কোঠা, কিউরিস ফাউন্ডেশন, সাইকেলারস অব বাংলাদেশ, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, গড়বো বাংলাদেশ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন এইচডিডিএফ, সুরসঙ্গী চক্র, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠনসহ নানা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

জঙ্গি করিমের শিশুপুত্রকে রিমান্ডে নেওয়ায় আসক ও ব্লাস্টের উদ্বেগ
                                  

 রাজধানীর আজিমপুরে পুলিশের অভিযানে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরী ওরফে আবদুল করিমের শিশুপুত্রকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)। গতকাল সোমবার বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠন দুটি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক  নূর খান স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গত ১৮ অক্টোবর ১৪ বছর বয়সী শিশুটিকে পুলিশি রিমান্ড মঞ্জুর করায় আসক  ও ব্লাস্ট উদ্বেগ প্রকাশ করছে।’ গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘জঙ্গিদের বিভিন্ন আস্তানার সন্ধান এবং জঙ্গিদের নাম ও ঠিকানা জানতে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনার জন্য পুলিশ ওই শিশুকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানালে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  ‘কিন্তু শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী কোনও শিশুকে পুলিশ রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগ সীমিত। বরং এই আইনে বলা হয়েছে, কোনও শিশুর বিচার কার্যক্রমে আদালতের কাঠগড়া ও লালসালু ঘেরা আদালত কক্ষের পরিবর্তে সাধারণ কক্ষে শিশু আদালতের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। সেই সঙ্গে বিচার চলাকালীন আইনজীবী, পুলিশ বা আদালতের কোনও কর্মচারী আদালত কক্ষে তাদের পেশাগত বা দাফতরিক কোনও ইউনিফর্ম পরিধান করতে পারবেন না। এছাড়া বিচারকালে শিশুকে তার পরিবারের সদস্য, প্রবেশন কর্মকর্তা ও আইনজীবীর কাছে বসার ব্যবস্থা করতে হবে। তদন্তকালীন সময়ে শিশুর অভিভাবক বা পরিবারের সদস্য এবং প্রবেশন কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শিশু বিষয়ক পুলিশ কর্মকর্তা শিশুর জবানবন্দি গ্রহণ করবেন।’
নূর খান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,  ‘শিশুদের বিচার প্রক্রিয়ায় যেন মানসিক চাপ না পরে সেজন্য উল্লিখিত বিধানগুলো রাখা হয়েছে। এসত্ত্বেও এভাবে একটি শিশুকে রিমান্ডে নেওয়া বাংলাদেশের সংবিধান এবং শিশু আইনের পরিপন্থী। আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে শিশুদের বিষয়ে সুচিন্তিত ও অধিকার সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ আশা করি।’

এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন ও স্থায়ীত্বশীল অর্থনৈতিক যোগান নিশ্চিতে করনীয় বিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় সেমিনার।
                                  

আজ ২ আগস্ট, ২০১৬ সকাল ১০.৩০টায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যলয়ের সহযোগিতায় ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট ও দ্যা ইউনিয়নের আয়োজনে “তামাক নিয়ন্ত্রণে এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন ও স্থায়িত্বশীল অর্থনৈতিক যোগান নিশ্চিতে করনীয়” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। তামাক কোম্পানীগুলো নানাভাবে প্রলুব্ধকরণ প্রচেষ্টা থেকে সরকারী কর্মকর্তাদের সর্তক থাকতে হবে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমেদ, মো: আবুল বাসার তালুকদার পুলিশ সুপার ডিআইজি ঢাকা, মো: সাইফুল্লাহ রাসেল জেলা কমান্ডডেন্ট বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি ঢাকা, এম কাজী এমদাদুল ইসলাম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা, ডা:নাজিব আহমেদ উপ পরিচালক স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় ঢাকা বিভাগ, জাকির হোসেন খান ডেপুটি সিভিল সার্জন ঢাকা, অতিরিক্ত উপ পরিচালক মো: আবুল কালাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, মো: তারিকউজ্জামান জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা ঢাকা, প্রোগ্রাম অফিসার শেখ মোহাম্মদ মাহবুব সোবাহান জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল, এ কে এম আজিজুল হক উপ পরিচালক জেলা তথ্য অফিস ঢাকা । ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সৈয়দা অনন্যা রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রকল্প কর্মকর্তা শারমিন আক্তার।


   Page 1 of 2
     মানবাধিকার
আধুনিক দাসত্বের ফাঁদে বিশ্বের ৪ কোটি শ্রমিক :আইএলও
.............................................................................................
ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা ৮৫
.............................................................................................
‘মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা হলে কারাগারে ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির দরকার নেই’
.............................................................................................
মুসা বিন শমসেরের ‘যুদ্ধাপরাধের তথ্য’ দিলেন দুই সাংবাদিক
.............................................................................................
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ
.............................................................................................
রোহিঙ্গাদের ঠেঙ্গারচরে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাতিলের আহ্বান
.............................................................................................
রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ঢাকায় আসছে জাতিসংঘ কমিশন
.............................................................................................
ব্লগার-ধর্মনিরপেক্ষদের রক্ষায় ব্যর্থ বাংলাদেশ: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ
.............................................................................................
পরিবার ও সমাজে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে গৃহস্থালী কাজের মূল্যায়নের আহ্বান
.............................................................................................
মাহমুদুর রহমানের মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ২ মানবাধিকার সংস্থা
.............................................................................................
বিনা বিচারে ১৭ বছর কারাভোগকারী শিপনের জামিন
.............................................................................................
পরিবারের সদস্যদের চিনতে পারলেও মাঝেমাঝে ভুলে যাচ্ছেন খাদিজা
.............................................................................................
আট মাসে গ্রেফতার ১ হাজার মানব পাচারকারীকে
.............................................................................................
হাঁটার অধিকার নিশ্চিত করার দাবীতে র‌্যালি
.............................................................................................
জঙ্গি করিমের শিশুপুত্রকে রিমান্ডে নেওয়ায় আসক ও ব্লাস্টের উদ্বেগ
.............................................................................................
এফসিটিসি আর্টিকেল ৫.৩ বাস্তবায়ন ও স্থায়ীত্বশীল অর্থনৈতিক যোগান নিশ্চিতে করনীয় বিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় সেমিনার।
.............................................................................................
দেশে জুলাই মাসে ক্রসফায়ারে নিহত ২০
.............................................................................................
পথচারীবান্ধব হাঁটার পরিবেশ সৃষ্টির আহ্বান
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]