| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ওপার বাংলা -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশিকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা

মাদকদ্রব্য ব্যবসার নাম করে কৌশলে ভারতীয় অংশে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশি এক মাদক ব্যবসায়ী ও বিজিবির সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রাজাপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরের একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম কবির (৪২)। উপজেলা সীমান্তের রাজাপুর গ্রামের মজিবর রজমান মান্দারের ছেলে। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, কবির হোসেন একজন মাদক চোরাচালানি। পাশাপাশি বিজিবির সোর্স হিসেবেও কাজ করতেন। বেশ কিছু দিন ধরে ভারতীয় মাদকদ্রব্য বিজিবিকে দিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ কারণে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীরা তার ওপর নাখোশ ছিল।

 

গত রবিবার বিকাল ৩টার দিকে মাদক ব্যবসার নাম করে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ডেকে নিয়ে যায়। সাড়ে ৩টার দিকে সেখানকার একটি কলাবাগানে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে জখম করে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কবিরকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হেলেনা আক্তার নিপা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর স্বজনরা লাশ নিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশিকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
                                  

মাদকদ্রব্য ব্যবসার নাম করে কৌশলে ভারতীয় অংশে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশি এক মাদক ব্যবসায়ী ও বিজিবির সোর্সকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রবিবার বিকালে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রাজাপুর সীমান্তের বিপরীতে ভারতের অভ্যন্তরের একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম কবির (৪২)। উপজেলা সীমান্তের রাজাপুর গ্রামের মজিবর রজমান মান্দারের ছেলে। জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, কবির হোসেন একজন মাদক চোরাচালানি। পাশাপাশি বিজিবির সোর্স হিসেবেও কাজ করতেন। বেশ কিছু দিন ধরে ভারতীয় মাদকদ্রব্য বিজিবিকে দিয়ে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন। এ কারণে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীরা তার ওপর নাখোশ ছিল।

 

গত রবিবার বিকাল ৩টার দিকে মাদক ব্যবসার নাম করে ভারতীয় মাদক ব্যবসায়ীরা কৌশলে তাকে ভারতের অভ্যন্তরে ডেকে নিয়ে যায়। সাড়ে ৩টার দিকে সেখানকার একটি কলাবাগানে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা কেটে জখম করে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে স্বজনরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কবিরকে উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. হেলেনা আক্তার নিপা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর পর স্বজনরা লাশ নিয়ে তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

দিদি, আসেন ইলিশ খাওয়াব, মমতাকে হাসিনা
                                  

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে খুলনা-কলকাতা রেলপথে ‌‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (৯ নভেম্বর) সকাল পৌন ১২টায় ঢাকায় শেখ হাসিনা ও দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদি নিজ নিজ কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এ ট্রেনের উদ্বোধন করেন।

‘বন্ধন এক্সপ্রেস’ উদ্বোধন শেষে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্ধন শুধু দুই দেশের রেলের নয়, দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধন সৃষ্টি করে সার্বিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এতে দুই দেশের জনগণই লাভবান হবে।’

এ সময় তিনি নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। ভিডিও কনফারেন্সে থাকা মমতার উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দিদি, ইলিশ মাছ আছে। আসেন খাওয়াব।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মানুষকে অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বাংলায় বলেন, আমাদের মৈত্রী ও বন্ধন আরও সুদৃঢ় হলো।

মোদি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতোই সম্পর্ক থাকা দরকার। দেখা-সাক্ষাৎ হওয়া দরকার। বন্ধন এক্সপ্রেস ও ননস্টপ মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে যাত্রীদের সুবিধা হবে বলে জানান মোদি। তিনি বলেন, এতে যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা বাঁচবে।’

মসজিদ মাদরাসা ও স্কুল জ্বালিয়ে দিচ্ছে মগসেনারা
                                  

মগ সেনারা নতুন করে অগ্নিসংযোগ করেছে আরাকানের লোদাইং এলাকায়। সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে লোদাইংয়ের উত্তরপাড়া, দক্ষিণ পাড়া, পশ্চিমপাড়া, ডেইলপাড়া, মাঝের পাড়া ও পূর্বপাড়ায় তারা ব্যাপকভাবে অগ্নিসংযোগ করেছে বলে জানিয়েছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকরা। 

তাদের একজন নুর মোহম্মদ আরোও জানিয়েছে, সেখানে সেনারা মসজিদ মাদরাসা মক্তব ও স্কুলেও অগ্নিসংযোগ করেছে। এছাড়াও আরাকানের মংডুর ৬নং ওয়ার্ডে মঘসেনা ও স্থানীয় রাখাইনেরা রোহিঙ্গাদের সামাজিক প্রতিনিধিদের (স্থানীয় ভাষায় ‘ওক্কাডা’) মিটিংয়ের নামে ডেকে নিয়ে নিজেদের ঘরগুলোতে অগ্নিসংযোগ করতে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেখানকার একজন রোহিঙ্গা। তিনি মিটিংয়ের একটি ছবিও পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে কতিপয় আর্মি বেঁচে যাওয়া অক্ষত রোহিঙ্গাদের ডেকে এনে মিটিং করছেন। উক্ত মিটিংয়ে তাদের জানানো হয়েছে, তারা যেন প্রতিজনে ১০/১৫টি ঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। ইতোমধ্যে কুইঞ্চরা বিল পাড়াটি অগ্নিসংযোগ করে সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে মিয়ানমার থেকে নৌপথে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় গতকাল বুধবার ভোরের দিকে রোহিঙ্গাদের ১১টি নৌকা ডুবে যায়। বঙ্গোপসাগর ও নাফ নদীর মোহনায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর সকাল ১০টা পর্যন্ত পাঁচজন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফজলুল হক এ কথা জানান। তিনি বলেন, বদরমোকাম এলাকার উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। নৌকাডুবির পর অনেকে সাঁতরে তীরে উঠেছেন। পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সাঁতরে তীরে উঠা কয়েকজন রোহিঙ্গার বরাত দিয়ে ফজলুল হক বলেন, শতাধিক রোহিঙ্গা এখনো নিখোঁজ রয়েছে। মোহনা অতিক্রম করার সময় নৌকা উল্টে যায়। একেকটি নৌকায় ২৫ থেকে ৩০ জন যাত্রী ছিল, যা ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বেশি।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাঈনুদ্দিন খান বলেন, ‘স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে রোহিঙ্গাদের ১১টি নৌকাডুবির ঘটনা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’

খাদ্য সংকট ও আশ্রয়হীন রোহিঙ্গারা : সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সবকিছু হারিয়ে প্রাণ নিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা এখন খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গত কয়েকদিনে টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়া এসব রোহিঙ্গা অনাহারে অর্ধাহারে ছুটছে অনিশ্চিত গন্তব্যে। শুধুমাত্র সোমবার রাতেই টেকনাফের নাফ নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশ করেছে। ঢুকে পড়া এসব রোহিঙ্গা সর্বত্রই গন্তব্যহীনভাবে এদিক সেদিক ছুটাছুটি করছে। তাদের আপাতঃ লক্ষ্য নয়াপাড়া ও লেদা এলাকার নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত শরনার্থী ক্যাম্পসহ আশপাশের এলাকা। তবে ঠাঁই মিলছেনা সেখানেও। এভাবে চলতে থাকলে খাদ্য ও আশ্রয় সংকটে এপারেও পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

গত মঙ্গলবার (৫ সেপ্টেমবর) টেকনাফের মোচনী, নয়াপাড়া, লেদা, হোয়াইক্যংয়ের রইক্ষ্যং, উলুবনিয়া, কান্জর পাড়া, মিনাবাজার, লম্বাবিল ও সাবরাংয়ের শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ঢুকে পড়া বেশীর ভাগ নারী শিশুসহ রোহিঙ্গারা একটু মাথা গোঁজার ঠাঁইয়ের জন্য বিক্ষিপ্তভাবে গন্তব্যহীনভাবে ছুটে চলছে। এদের অনেকে আবার যানবাহনের মাধ্যমে নয়াপাড়া ও লেদা এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার কেউ উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী ক্যাম্পে ঢুকছে। এসব ক্যাম্প ও আশপাশে যারা আশ্রয় পাচ্ছেনা তারা টেকনাফ উখিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় বস্তা, পলিথিন ও বাঁশ নিয়ে ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে নতুন নতুন বসতি গড়ে তুলছে।

এরমধ্যে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের রইক্ষ্যং এলাকায় পাহাড়ি ভূমি দখল করে অন্তত ৩৫ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। নয়াপাড়া, মোছনী, লেদা, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, শামলাপুর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে অন্তত ৮০ হাজার রোহিঙ্গা। এছাড়া টেকনাফের বিভিন্ন আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে রয়েছে আরো ২০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গা।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান জানিয়েছেন, সোমবার রাত ও মঙ্গলবার সকালে সমুদ্র উপকুল পয়েন্ট দিয়ে টেকনাফে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গার সংখ্যা অন্তত ৪০ হাজার হতে পারে বলে তিনি অনুমান করছেন।

৫  সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রইক্ষ্যং এবং নয়াপাড়া ও লেদা শরনার্থী অভিমুখে রোহিঙ্গাদের ঢল অব্যাহত ছিল। অধিকাংশ নারীর কোলে শিশু।

টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে রোহিঙ্গাদের ঢল। ভার কাঁধে নিয়ে দলে দলে ছুঁটছে আশ্রয়ের জন্যে। অনেককে শতবর্ষী পিতা-মাতা, শশুড়-শাশুড়ীকে ভার করে এপারে নিয়ে আসতে দেখা গেছে।

পালিয়ে আসা নয়াপাড়া, লেদা ক্যাম্পে ও আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নেওয়া গোলবাহার, রহমত উল্লাহ, ফাতেমা খাতুন, নুর বেগমসহ একাধিক রোহিঙ্গা জানিয়েছেন তারা খাদ্য ও পোশাক সংকটে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন যে যেভাবে পারেন  রোহিঙ্গাদের শুকনো খাবার, খিঁচুড়ি সরবরাহ করছে। আবার ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের চাঁদা তুলে খাদ্য সরবরাহ করছে ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গারা।

অপরদিকে সীমান্তের জিরো পয়েন্টসহ দুই দেশের দুই পারে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে বলে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা জানিয়েছে।

মিয়ানমারের মংডুর উদংয়ের গ্রাম থেকে আসা আমান উল্লাহর (৪৫) পুরো পরিবারের ৭ জন রয়েছে। রয়েছে ৯০ বছর বয়সী মাতা শামারু বিবি। তিনি জানান, মিয়ানমারের নাইক্ষ্যংদিয়া থেকে নারী পুরুষসহ একটি বোটে ৪০ জন বাংলাদেশে পাড়ি দেন। এপারের পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের লেঙগুরবিল সৈকত থেকে অনুপ্রবেশ করে। প্রতিজন ৭ হাজার টাকা করে বোটটি ভাড়া করেন।

এদিকে মঙ্গলবার বিকালে শাহপরীরদ্বীপ, সাবরাং ও টেকনাফের উপকূলের কাছাকাছি রোহিঙ্গা শতশত ফিশিং বোট রাত নামার অপেক্ষায় রয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

রাখাইন জ্বলছে এখনো : গত সোমবার রাত, মঙ্গলবার ও বুধবার দিনেও রাখাইনের কয়েকটি এলাকায় অগ্নিসংযোগ করেছে বর্মী সেনারা। এর মধ্যে রাইম্মাঘোনা, মাঙ্গালা, মনিরঘোনা এলাকার আগুনের লেলিহান শিখা সীমান্তের এলাকার লোকজন প্রত্যক্ষ করেছেন।

সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইনে গণহত্যা!
                                  

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যখন জাতিসংঘের আসন্ন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা’র কথা তোলার ঘোষণা দিচ্ছে, তখন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশে-বিদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (এআরএসএ বা আরসা) হামলার আশঙ্কার তথ্য প্রচার করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আরসার সদস্যসংখ্যা মাত্র ৫০০। ওই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযানের নামে দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেড় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ভিটেমাটিছাড়া করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে মিয়ানমার।

এদিকে বাংলাদেশ গত ১২ দিনের মধ্যে গতকাল বুধবার চতুর্থবারের মতো ঢাকায় মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে রাখাইন পরিস্থিতির ও রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মিয়ানমারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত অং মিন্টের হাতে দেওয়া এই পত্রে অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ প্রশ্ন তুলেছে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী মিয়ানমারের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স অং মিন্টকে এসংক্রান্ত একটি প্রতিবাদপত্র হস্তান্তর করেছেন। পত্রে বাংলাদেশ উত্তর রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা প্রশমনে মিয়ানমারের কাছে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। এ ছাড়া মিয়ানমারের বাসিন্দাদের বাংলাদেশমুখী স্রোত ঠেকাতে অনতিবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং এ ধরনের নজিরবিহীন জনস্রোতের প্রকৃত কারণ সমাধানে ঢাকা নেপিডোকে অনুরোধ করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের বাসিন্দাদের বাংলাদেশে প্রবেশের নজিরবিহীন স্রোতের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি এবং প্রাণরক্ষায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে প্রবেশের বিষয়েও উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সামরিক অভিযানের সময় মিয়ানমার তার বেসামরিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় যথার্থ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাংলাদেশ দুঃখ করে বলেছে, এর ফলেই বিপুলসংখ্যক মানুষ মরিয়া হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশ রাখাইন রাজ্যের নৃগোষ্ঠী, ধর্ম-নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের সব সদস্যের সুরক্ষায় মিয়ানমারের অনতিবিলম্বে ও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে, যাতে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিই বাংলাদেশে মরিয়া হয়ে আশ্রয় নিতে বাধ্য না হয়। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে ঢোকা মিয়ানমারের সব বাসিন্দাকে ফিরিয়ে নিতে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নিতেও ঢাকা আহ্বান জানিয়েছে। সীমান্তের কাছে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর মানববিধ্বংসী মাইন পেতে রাখার খবরেও বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছে।

 

জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, মিয়ানমারের অন্তত এক লাখ ২৫ হাজার বাসিন্দা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে এবং আরো এক লাখ বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। অতীতে বিভিন্ন সময় সামরিক অভিযান ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় থেকে মিয়ানমারের প্রায় চার লাখ বাসিন্দাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জন্য নতুন করে আসা মিয়ানমারের বাসিন্দাদের অতিরিক্ত চাপ বহন করা অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ জোর দিয়ে বলেছে, কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাখাইন রাজ্যের ধারাবাহিক সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার শিকার হওয়া উচিত হবে না।

বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হবে : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিজিবি, পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা বাসিন্দাদের মধ্যে যারা আহত হয়ে এ দেশে এসেছে, তাদের চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। তারা যেন এ দেশের মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যেতে না পারে সে জন্য বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের পরিচয় নিবন্ধন করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোহিঙ্গারা এ দেশে আসার পর দেশে অপরাধের হার বেড়েছে। সমস্যা আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলেই মনে করছে সরকার। এ কারণে নতুন আসা রোহিঙ্গাদের যাবতীয় তথ্য রাখার জন্য গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রোহিঙ্গা সেল খোলা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখা থেকে পরিচালিত হবে সেলটি। এ সেলে নিয়মিত খবরাখবর পাঠাবে কক্সবাজার এলাকায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি, কোস্ট গার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা। প্রতিদিন কত রোহিঙ্গা আসছে, তাদের মধ্যে কতজন অসুস্থ, কতজন নারী, কতজন পুরুষ এসেছে সেসব তথ্য আসবে প্রতিনিয়ত। পরে এই তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের বৈঠক হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মিটিংয়ে অন্যান্য আলোচনার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মানবিক সহায়তার দিকগুলোর দিকে দৃষ্টি রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। ’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আরো জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে প্রত্যেক রোহিঙ্গার ১০ আঙুলের ছাপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে চোখের ছবিও (আইরিশও) তোলা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো। কিন্তু এর আগে যাতে তারা এ দেশে এসে অন্য কোথাও চলে গিয়ে বাংলাদেশি সেজে যেতে না পারে সে জন্যই এমন ব্যবস্থা বলে জানান তিনি। রোহিঙ্গাদের কেউ যদি অন্য কোথাও গিয়ে কোনো অপরাধ করে সে ক্ষেত্রে ধরা পড়লেও বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে জানা যাবে যে সে বাংলাদেশি নয়, রোহিঙ্গা। তাদের এর আওতায় আনতে পারলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য সুবিধা হবে। এ ছাড়া যদি কোনো রোহিঙ্গা দীর্ঘ মেয়াদেও এ দেশে থাকে সে ক্ষেত্রে তাকে নজরদারি করাও সহজ হবে। বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হওয়ার পর তাদের মনেও অপরাধ করতে গিয়ে ভয় থাকবে।

ওই কর্মকর্তা আরো জানান, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা এখন অনেক সহজ হয়েছে। মোবাইল ফোনের সিম কেনার পর বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা হয়ে থাকে। সুতরাং রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করাও জটিল কোনো বিষয় নয়। তিনি আরো জানান, যদি তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর পর আবারও আসে, তাহলেও বায়োমেট্রিক পদ্ধতির কারণে ধরা পড়বে। নতুন ও পুরনো সব রোহিঙ্গারই বায়োমেট্রিক নিবন্ধন করার পর একটি ডাটা বেইস তৈরি করবে সরকার।

‘গণহত্যা’ : দৃশ্যত রোহিঙ্গা মুসলমানদের পুরোপুরি মিয়ানমার ছাড়া করার নীতি গ্রহণ করেছে মিয়ানমার। অং সান সু চির তথাকথিত গণতান্ত্রিক সরকারকে সামনে রেখে জাতিগত নিধন ও গণহত্যায় মেতেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গত অক্টোবরেও মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ মিয়ানমারে ‘তদন্তদল’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও সেই দলের মুখোমুখি হওয়ার সৎসাহস দেখায়নি সু চির সরকার। গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার যে বেপরোয়া নির্মূল অভিযান শুরু করেছে তাকে আরো ভয়াবহ ও মানবতাবিরোধী বলছেন সেখান থেকে আসা রোহিঙ্গারা। পরিস্থিতি জানতে সেখানে সাংবাদিকসহ বিদেশিদের যেতে দিচ্ছে না মিয়ানমার।  

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একটি উপগ্রহ-চিত্র তুলে ধরে বলেছে, রোহিঙ্গা মুসলমান অধ্যুষিত একটি গ্রামেই সাত শরও বেশি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসলীলার মাত্রা আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি।

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো নিপীড়নকে বিশ্বের বিশ্লেষকদের অনেকে গণহত্যার মতো অপরাধ হিসেবেই দেখছেন। দাবি উঠেছে সু চির নোবেল পদ প্রত্যাহারেরও। সু চির বর্তমান ভূমিকার নিন্দায় ওয়াশিংটন পোস্ট সম্পাদকীয় ছেপেছে। প্রভাবশালী মার্কিন দৈনিকটি বলেছে, “সু চি নোবেল পুরস্কার গ্রহণের সময় যে বক্তব্য রেখেছিলেন তা পুনর্বার পাঠ করে দেখতে পারেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক বিশ্ব গড়ে তোলা যেখানে থাকবে না কোনো বাস্তুহীন, ঘরহীন, আশাহীন মানুষ। সে বিশ্ব হবে সত্যিকারের এক অভয়ারণ্য, যার বাসিন্দাদের থাকবে শান্তিতে বসবাসের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা। ’ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিশ্বটা আজ মোটেই এ রকম নয়। ”

প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে কলামিস্ট জর্জ মনবিয়ট নিবন্ধ লিখেছেন ‘অং সান সু চির নোবেল পদক ছিনিয়ে নাও, তিনি এর যোগ্য নন’ শিরোনামে। তিনি লিখেন, ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে গৃহীত ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ এ পাঁচটি অপরাধের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর যেকোনো একটি যখন ‘কোনো জাতীয়, নৃতাত্ত্বিক, সম্প্রদায়বিশেষ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে করা হয়, তখন তা গণহত্যা বলে বিবেচিত হবে। অং সান সু চি দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের পর রোহিঙ্গাদের ধ্বংস করার সুস্পষ্ট এবং প্রায়শ প্রকাশ্য উদ্দেশ্য নিয়েই পাঁচ অপরাধের অন্তত চারটি কমবেশি নিরবচ্ছিন্নভাবে করে যাচ্ছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী। ’

বিখ্যাত সংবাদ সাময়িকী নিউজ উইক গতকালই ‘ইজ জেনোসাইড অকারিং এগেইনস্ট দ্য রোহিঙ্গা ইন মিয়ানমার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে লন্ডনের মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক উইলিয়াম স্কাবাস বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারে যে আচরণ করা হচ্ছে তা নিঃসন্দেহে মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। সিমন-স্কট সেন্টার ফর প্রিভেনশন অ জেনোসাইড (যুক্তরাষ্ট্রের হলোকাস্ট মেমোরিয়াল মিউজিয়ামের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান) এর প্রগ্রাম ম্যানেজার আন্দ্রিয়া জিটলম্যান বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালেই রোহিঙ্গাদের প্রতি মিয়ানমারের আচরণ গণহত্যার শামিল হয়ে থাকতে পারে বলে উদ্বেগ ব্যক্ত করে। মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি গণহত্যা অপরাধের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব ২৬০ (৩) এর অধীনে গণহত্যাকে এমন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যা প্রতিরোধে সকল রাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। এই গণহত্যার সংজ্ঞা শুধু ‘হত্যা’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং একটি জাতি, ধর্মীয় সম্প্রদায় বা নৃতাত্ত্বিকগোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে বা হচ্ছে—এমন কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। গণহত্যার সংজ্ঞায় বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো—(ক) পরিকল্পিতভাবে একটি জাতি বা গোষ্ঠীকে নির্মূল করার জন্য তাদের সদস্যদের হত্যা বা নিশ্চিহ্নকরণ, (খ) তাদের নিশ্চিহ্ন করবার জন্য শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিসাধন, (গ) পরিকল্পিতভাবে একটি জাতিকে ধ্বংসসাধনকল্পে এমন জীবননাশী অবস্থা সৃষ্টি করা যাতে তারা সম্পূর্ণ অথবা আংশিক নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, (ঘ) এমন কিছু ব্যবস্থা নেওয়া যাতে একটি জাতি বা গোষ্ঠীর জীবন ধারণে শুধু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিই নয়, তাদের জন্ম প্রতিরোধ করে জীবনের চাকাকে থামিয়ে দেওয়া এবং (ঙ) একটি জাতি বা গোষ্ঠীর শিশু সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে তাদের জন্মপরিচয় ও জাতিগত পরিচয় মুছে ফেলা।

ধৈর্য হারাচ্ছে বিশ্ব সম্প্রদায় : আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা যায়, রোহিঙ্গাদর প্রতি মিয়ানমারের আচরণ সারা বিশ্বেই শান্তিকামী জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে নজর রাখছেন এবং বিবৃতি দিচ্ছেন। তিনি নজিরবিহীনভাবে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে চিঠি লিখে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং এ নিয়ে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে তিনি নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেন, উত্তেজনা প্রশমন এবং বিষয়টির সামগ্রিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়কে আরো উদ্যোগী হয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। চলমান সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালাতে গিয়ে অনেকের প্রাণহানির কথাও উল্লেখ করে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের অমীমাংসিত সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এটি আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠছে।

ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেদেরিকা মগেরিনি গতকাল রাতে এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত ভয়াবহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২৫ আগস্টের সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে চলমান অভিযানে সম্পৃক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব হলো সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন এবং নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন পুরোপুরি মেনে চলার আহ্বান জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে ফেদেরিকা মগেরিনি বলেন, আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমার সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি অনতিবিলম্বে ও পূর্ণোদ্যমে সেই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউএসএ টুডে পত্রিকায় গতকাল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অং সান সু চি নোবেল জয় করেছেন। আর এখন তিনি নিজেই গণহত্যায় অভিযুক্ত। ’ ওই প্রতিবেদনেই বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাককেইন গত মঙ্গলবার সু চিকে পাঠানো চিঠিতে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট মোকাবেলায় দ্রুত মানবাধিকারের বাধ্যবাধকতা পূরণের আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারে চলমান সহিংসতাকে তিনি ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিকল্পিত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, ‘এগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। ’

ম্যাককেইন জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে রাখাইন অঞ্চলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গত মঙ্গলবার ঢাকায় ঝটিকা সফর করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেতনো মারসুদি। রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি জাতিসংঘে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ সহায়তা নিয়ে গত রাতে বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় এসেছেন তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিনি এরদোয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগ্লু। জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার তাঁরা কক্সবাজার এলাকায় গিয়ে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম তাঁদের সঙ্গে থাকবেন। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও তুরস্কের ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

‘কৌশলী ভূমিকা’ : মিয়ানমারের সঙ্গে সংঘাত এড়াতে ও রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানে কৌশলী ভূমিকা নিয়েছে বাংলাদেশ। জানা গেছে, বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন এবং দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে রোহিঙ্গাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে মিয়ানমারের ভেতর রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ার প্রস্তাব আসছে বৈশ্বিক বিভিন্ন মহল থেকে। এ বিষয়ে বাংলাদেশেরও জোরালো সমর্থন রয়েছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের জন্য ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়া সম্ভব না হলে সেখানে অবস্থানরত সাড়ে তিন লাখ রোহিঙ্গার সবাই নিধনযজ্ঞের শিকার হতে বা প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে পারে।

এ পর্যন্ত ১৪ হাজারের মতো রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে সক্ষম হয়েছে বলে জানা যায়। তবে ভূমি দিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা এখন নো ম্যানস ল্যান্ডে (দুই দেশের সীমান্ত রেখার মাঝামাঝি ৩০০ গজ) আশ্রয় নিয়েছে বলে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে। তাদের স্থানীয়রা ও বিভিন্ন এনজিওর কর্মীরা খাবার দিচ্ছে। তবে তা পর্যাপ্ত নয়। ওই এলাকায় নারী ও শিশুদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজারে বিজিবির ৪৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট  কর্নেল মনজুর আহসান খান গতকাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা যাতে দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। যারা এসে পরে তাদের আমরা ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত অনেককে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের ব্যাটালিয়নের আওতায় মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে ৫৩ কিলোমিটারের মতো। এর বেশির ভাগ এলাকাই দুর্গম। ’

শক্তিশালী বন্ধুদের দ্বারস্থ মিয়ানমার : রোহিঙ্গা মুসলমান জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের নির্মূল অভিযান থামার কোনো লক্ষণ নেই। উল্টো এ অভিযান বিষয়ে জাতিসংঘের ব্যবস্থা নেওয়া ঠেকাতে চীন ও রাশিয়ার মতো নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের দ্বারস্থ হচ্ছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাউং তুনকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানায়।

থাউং তুন বলেন, ‘নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যু যাতে না ওঠে সে জন্য আমরা বন্ধুভাবাপন্ন কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছি। চীন আমাদের বন্ধু এবং রাশিয়ার সঙ্গেও আমাদের একই ধরনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। তাই ইস্যুটিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। ’

আরাকানে জ্বলছে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি : চলছে গণহত্যা ও ধর্ষণ
                                  

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, চলছে গণহত্যা ও ধর্ষণ। হেলিক্প্টার থেকে শত শত রাউন্ড মর্টার ও গুলি বর্ষণও করা হচ্ছে। নিহতদের শোকে বাকরুদ্ধ আত্মীয়স্বজন। চারদিকে কান্নার শব্দ। স্বজনের লাশ পেছনে ফেলে রুদ্ধশ্বাসে পালাচ্ছে মানুষ। আবার পালাতে চেষ্টা করা হলে পিছন থেকে করা হচ্ছে গুলি। যারা গোলাগুলির শিকার হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

গত বৃহস্পতিবার থেকেই অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আরো হিংস্ত্র হয়ে উঠেছে। খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ সবকিছুরর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দিনে রাতে হ্যালিকপ্টার থেকে মর্টার, বোমা হামলা ও মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ শব্দে মুর্ছা যাচ্ছে রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। যেন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত আরকানে। উগ্রপন্থা দমনের অজুহাতে বোমা ও মর্টার হামলা করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। `জঙ্গিগোষ্ঠীর` সদস্য দাবি করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আরাকানের মুসলিম অধ্যূষিত এলাকার তরুণদের। আর বাংলাদেশ জিরো পয়েন্টে বাড়ছে রোহিঙ্গা আশ্রায় প্রাথীর সংখ্যা।

রোহিঙ্গারা বলছেন, যুদ্ধ নয় গণহত্যার নতুন অধ্যায় শুরু করেছে সে দেশের সরকারি বাহিনী। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ও রাখাইন সম্প্রদায়। এইসব বাহিনী এবারে একচেটিয়াভাবে রোহিঙ্গাদেরকে গণহত্যা করে রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধদের পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করছে উদ্যোগ নিয়েছে। হাজার বছরের রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাসকে ধুলোয় মুছে দিতে গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী কাজ করছে জাতিসঙ্ঘের আহ্বানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে।

ফলে মিয়ানমারের সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর হাত থেকে নির্মম নির্যাতন থেকে বাদ পড়ছে না মায়ের কোলের শিশু। মায়ের কোল থেকে শিশু ছুড়ে ফেলা হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনে। পদদলিত করে দুই দিনের শিশু খুন করতে কুণ্ঠাবোধ করছে না তারা। নারী ধর্ষণ করছে গণহারে। এইসব রোহিঙ্গার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারীধর্ষণ, লুন্ঠনের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে সহায় সম্পত্তি ফেলে মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজছে সহায়হীন অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ সীমান্তের নাফ নদীর পাড়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু জড়ো হয়েছে প্রাণ বাঁচাতে। আকাশের নিচে মাটির বিছানায় অন্ন-বস্ত্রহীন নিরূপায় হয়ে চেয়ে আছে একটু সহায়তা পাওয়ার আশায়।

কোনো মা সন্তান হারিয়ে, কোনো সন্তান মা হারিয়ে আর্তনাদ করছে। মায়ের বুকে দুধ না পেয়ে কুলের শিশু ক্ষণেক্ষণে কেঁদে মাকে বলার চেষ্টা করছে। মায়েরা অসহায় হয়ে পড়েছে। অসহায় হয়ে পড়েছে এইস নারীদের মাতৃত্ব। বয়োবৃদ্ধরা চোখে মুখে চরম হতাশার চিত্র। তাদের ছেলে, মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের চিন্তায় গাল বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে।

রাখাইন রাজ্যের ঢেঁকিবনিয়ার উত্তরপাড়ার আহমদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, রোববার খুব ভোরে সেনাবাহিনীর একটি দল গ্রামে ঢুকে স্থানীয় জহির, করিম ও আব্দুর শুক্কুরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা পালিয়ে পাশের পাহাড়ে আশ্রয় নেন। পরে ওই তিন তরুণের ওপর বর্ববর নির্যাতন চালিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় জঙ্গলে ফেলে দেয়া হয়।

ঢেঁকিবনিয়া পূর্বপাড়ার আবছার কামাল জানান, সেনাবাহিনী সন্ধ্যার পর বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে। যেসব বাড়িতে মানুষ পাচ্ছে না সেসব বাড়ি বোমা মেরে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আর যাকে পাচ্ছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।

অপরদিকে রাথদং জেলার সোহাগপ্রাং রোহিঙ্গা পল্লীতে নারকীয় হত্যালীলা চালিয়েছে মিয়ানমারের বর্বর বাহিনী । পুলিশ, লুন্টিং, সেনা ও বিজিপি সম্মিলিতভাবে এ বর্বরতা চালিয়েছে । সোমবার দিবাগত রাতের শেষভাগে এ নৃশংসতা চালিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে । কয়েক শ` সৈন্য গ্রামটি ঘেরাও করে চিরুণী অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা পুরুষদের আটক করে। আটককৃত পুরুষদের দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে গণহত্যা চালায়। রোহিঙ্গা নারীদের ধরে নিয়ে গিয়ে গ্রামের একটি স্কুলঘরে গণধর্ষণ করেছে। উঠতি বয়সের কন্যা শিশুও রক্ষা পায়নি সেনাদের ধর্ষণ থেকে। অনেকেই ধর্ষণে বাধা দেয়ায় তাদেরকে হত্যা করা হয়।

সূত্র আরো জানিয়েছে, হত্যার পর গাড়িতে তুলে অনেক লাশ নিয়ে গেছে । তবে বেশ কিছু লাশ এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে । এই সময় এই সব রোহিঙ্গা পল্লীতে অগ্নিসংযোগ করে। পুড়ে মরেছে গবাদিপশুও। গ্রামটি এখন জনশূন্যে ও নিস্তব্ধ । এরপর আশেপাশের সব রোহিঙ্গা পল্লী ঘিরে রেখেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ইতিমধ্যে আরাকানের প্রত্যেক মুসলিম পল্লীতে নিধনযজ্ঞ চালানোর জন্য ইতিমধ্যে অমুসলিমদের সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন । এভাবে বর্ববরতা চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো আরাকান রোহিঙ্গাশূন্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে টেকনাফের নাফনদীর পানিসীমানা অতিক্রম করার সময় ৪৭৫ রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। রাতে নাফনদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানো এসব রোহিঙ্গার বেশিরভাগ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।
টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে পৃথক অভিযানে ৪৭৫ জন রোহিঙ্গাকে পানিসীমানা অতিক্রম করার সময় প্রতিহত করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। গত ৫ দিনে ১০১৬ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

উত্তরপ্রদেশে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২৩
                                  

ভারতের উত্তরপ্রদেশে মুজাফফরনগরের খুয়াতলি রেলস্টেশনের কাছে একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৪০০ যাত্রী।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উৎকল এক্সপ্রেস নামে ওই ট্রেনটির ১৪ বগি উল্টে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে। খবর এনডিটিভি।
খবরে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের মুজাফফরনগরের খুয়াতলি রেলস্টেশনের কাছে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি উড়িষ্যার পুরি থেকে উত্তরাখ-ের হরিদ্বারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। ট্রেনটির কয়েকটি বগি অন্য বগির ওপর উঠে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেনের বগির নিচে অনেকেই আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ওই রেললাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকাজ চলছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ট্রেনের ধ্বংসাবশেষের নিচ থেকে অন্তত শতাধিক ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
এদিকে দেশটির রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিতে পারব না : মমতা
                                  

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিস্তার পানি বণ্টনের ক্ষেত্রে তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বঞ্চিত করে, বেইমানি করে বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিতে পারব না। আমি বাংলাকে ভালোবাসি। বাংলাদেশকেও ভালোবাসি। তবে রাজ্যকে বঞ্চিত করে তিস্তার জল দিতে পারব না বাংলাদেশকে।

পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত আলিপুরদুয়ার জেলার বীরপাড়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক জনসভায় এ কথা বলেন মমতা। তিনি বলেন, আগামী দিনে দিল্লি দখল করবে তৃণমূল। তাই তৃণমূলকে এত ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তবে সিবিআই দিয়ে তৃণমূলকে ভয় দেখিয়ে কোনো কাজ হবে না। তৃণমূল ভয় পায় না।

এদিকে গতকাল তিনদিনের পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ। মমতা তার বক্তব্যে অমিত শাহকে কটাক্ষ করে বলেন, সকালে যাচ্ছেন গরিবের বাড়িতে, আর রাতে পাঁচতারকা হোটেলে। আপনারা কেউ বিজেপিকে সমর্থন দেবেন না। ওরা বিভেদের রাজনীতি করে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করে। সাম্প্রদায়িকতা ছড়ায়। ওরা অস্ত্র নিয়ে মিছিল করে। ওদের ঠাঁই বাংলায় নেই।

মমতা আরও বলেন, বিজেপিকে মদদ দিচ্ছে সিপিএম। আপনারা বাংলাকে সর্বনাশ করতে দেবেন না। বিজেপিতে যাবেন না। মমতা সিপিএমকে কটাক্ষ করে বলেন, দিল্লি­থেকে এল রাম, সঙ্গে সিপিএম-বাম।

 

কলকাতা মিশন থেকে বাংলাদেশের ভিসা অনলাইনে
                                  

দিল্লি, মুম্বাই, আগরতলায় বাংলাদেশের মিশনগুলি থেকে অনলাইনে ভিসা দেওয়া শুরু হয়েছিল আগেই। এবার কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনে অনলাইনে ভিসার আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আচমকাই কোনও ঘোষনা ছাড়াই গত শুক্রবার থেকে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে হাতে লেখা ভিসার পরিবর্তে চালু করা হয়েছে মেশিন রিডেবেল ভিসা ভিসাও। হাইকমিশন সূত্রে বলা হয়েছে, ভিসা পদ্ধতি সহজ করতেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। গত মাসেই কলকাতা মিশনের কর্মীদের মেশিন রিডেবেল ভিসা দেবার ব্যাপারে প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছিল। প্রযোজনীয় যন্ত্রপাতিও এসে গিয়েছিল। কিন্তু এই ব্যবস্থা চালু করার ব্যাপারে পররাষ্ট্র মন্ত্রকের তাগাদার ফলে কোনো রকম ঘোষণা ছাড়াই আচমকাই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।ফলে প্রথম দিনে বহু ভিসার আবেদনকারী অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে জানা গেছে।  হাইকমিশন সুত্রে জানানো হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় শুধু মাত্র অনলাইনেই ভিসার জন্য আবেদন জানানো যাবে। হাতে লেখা ভিসার আবেদন গ্রহন করা হবে না। এজন্য দুটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে।  তবে অনলাইনে ভিসার আবেদনপত্র পূরণ করার পরে তার প্রিন্ট বার করে স্বাক্ষর-সহ মিশনের ভিসা কাউন্টারে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১১ টার মধ্যে জমা দিতে হবে। সঙ্গে দিতে হবে পাসপোর্ট, ২ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপি ও ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। বর্তমানে কলকাতা মিশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৪৫০ ভিসা দেওয়া হয়। তবে কিছুদিন ধরে বাংলাদেশে যেতে আগ্রহী পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভিসার আবেদন পত্রও জমা পড়ছিল অনেক বেশি। ফলে ভিসা দিনের দিন পাওয়ার পরিবর্তে কয়েকদিন সময় লেগে যাচ্ছিল।

ভারতে ২ কোটি অবৈধ বাংলাদেশী বাস করছে : ভারতীয় মন্ত্রী
                                  

ভারতে প্রায় দুই কোটি বাংলাদেশী বসবাস করছে বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বুধবা রাজ্যসভায় লিখিত প্রশ্নের উত্তরে একথা জানান তিনি।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশী নাগরিকরা বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই ভারতে ঢুকছে বলে নানা সূত্রে খবর পাচ্ছে সরকার। যেহেতু নির্বিচারে, চুপি চুপি ওদের অনুপ্রবেশ ঘটেই চলেছে, তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়া বাংলাদেশীদের ব্যাপারে সঠিক পরিসংখ্যান রাখা সম্ভব নয়। তবে এ ধরনের বেআইনি বিদেশি নাগরিকদের বের করে দেয়ার প্রক্রিয়াও লাগাতার চলছে বলে জানান রিজিজু।

ঘটনাচক্রে ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বিজেপির তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় এলে ‘বাংলাদেশীদের’ বের করে দেয়া হবে। নির্বাচনী প্রচারসভায় তিনি বলেছিলেন, স্রেফ ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে ব্যবহার করতে ওদের লাল কার্পেট বিছিয়ে স্বাগত জানাচ্ছেন রাজনৈতিক নেতারা। কিন্তু ১৬ মে-র পর এ ধরনের বাংলাদেশীদের চলে যেতে হবে, তারা বাক্সপ্যাটরা গুছিয়ে তৈরি থাকুন।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এবিপি আনন্দসহ কয়েকটি ভারতীয় মিডিয়ায় অভিযোগ করা হয়েছে, বেআইনি বাংলাদেশী অনুপ্রবেশের বোঝা সবচেয়ে বেশি বহন করতে হচ্ছে আসাম, পশ্চিমবঙ্গ-এই দুই রাজ্যকেই, এমনটাই দাবি বিজেপির। আসামে ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত ৬ বছর ধরে বেআইনি অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে। বিজেপির ২০১৪-র নির্বাচনী ইস্তেহারে বলা হয়েছিল, তারা সীমান্ত দেখভাল ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে উন্নত করবে, বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা চালু করা হবে। তারা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উত্তর পূর্বাঞ্চলে বেআইনি অনুপ্রবেশ, অভিবাসনের সমস্যার দিকে নজর দেবে, স্পষ্ট নীতি তৈরি করে তৃণমূল স্তরে তা যথাযথভাবে রূপায়ন করবে।

কাতার থেকে ফিরতে হচ্ছে কয়েক হাজার বাংলাদেশী শ্রমিককে
                                  

কাতার থেকে কয়েক হাজার ‘অবৈধ’ কর্মীকে বাংলাদেশে ফিরতে হবে৷ কিছু দিন আগে অবৈধভাবে বসবাসরত বিদেশিদের তিন মাসের ‘সাধারণ ক্ষমা’ ঘোষণা করেছে কাতার কর্তৃপক্ষ৷ আর তারমধ্যেই সরকারের অনুমতি নিয়ে সেদেশ ছাড়ার সুযোগ থাকছে অবৈধদের৷
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের খুব বেশি শ্রমিক অবৈধভাবে কাতারে অবস্থান করেন না৷ এই সংখ্যা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১৫ হাজার হতে পারে৷ তাছাড়া বৈধভাবে বর্তমানে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার শ্রমিক বৈধভাবে কাতারে যাচ্ছে৷ আর বৈধভাবেই সেদেশে অবস্থান করছেন তিন লাখেরও বেশি শ্রমিক৷ ফলে অবৈধরা ফিরে এলেও সেখানকার শ্রম বাজারে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না৷ তবে সরকারের উচিত যদি কোনো সুযোগ থাকে তাদের সেখানে বৈধ করার তাহলে সেটা করতে হবে৷ কারণ তারা সেখানে আইন শৃঙ্খলা ও ভাষাসহ সবকিছুতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা৷
বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তারা এখনো আমাদের অফিসিয়ালি কিছু জানায়নি৷ জানালে আমরা বিষয়টি ভেবে দেখব৷`` কিছু শ্রমিক ফিরে এলেও শ্রম বাজারে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই মনে করেন তিনি৷
সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘কাতার সরকার অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা দিয়ে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সেদেশ ত্যাগ করতে বলেছে৷ এ সময়ের মধ্যে অবৈধভাবে অবস্থান করা বিদেশিরা কাতার ছেড়ে গেলে কোনো জরিমানা দেয়া লাগবে না, এবং তারা পুনরায় কাতারে প্রবেশ করতে পারবেন৷ কিন্তু সাধারণ ক্ষমার মেয়াদের মধ্যে দেশত্যাগ না করলে, তাদের বিরুদ্ধে জেল ও জরিমানা শাস্তি হতে পারে৷``
তিনি বলেন, ‘‘এপর্যন্ত প্রায় দু`শ বাংলাদেশি সাধারণ ক্ষমার আওতায় কাতার ত্যাগ করেছেন৷ আরও এক হাজার তিন শ` জনকে আমরা ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করেছি, যাতে করে তারা নির্বিঘ্নে কাতার ত্যাগ করতে পারেন৷ অন্য দেশগুলোর অবৈধ অবস্থানকারীরাও কাতার ত্যাগ করছে৷``
জানা গেছে, সাধারণ ক্ষমায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে অবৈধদের নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে৷ কাতার সরকারের পক্ষ থেকে এটি দ্বিতীয়বারের মতো ‘সাধারণ ক্ষমা` ঘোষণা করা হলো৷ যেসব বিদেশি আইন অমাণ্য করে কাতারে অবস্থান করছেন, তারা কোনো ধরনের আইনি জটিলতা ছাড়া দেশত্যাগ করতে পারবেন৷ অবৈধ অভিবাসীরা কাতারের সিআইডি ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেশে যাওয়ার ‘এক্সিট পারমিট` নেয়ার সুযোগ পাবেন৷

সৌদি আরব, লেবানন ও জর্ডানের শ্রমবাজার খুলে যাওয়ায় কাতারও বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে৷ তাদের ২০২২ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের জন্য অবকাঠামো নির্মাণে বিপুলসংখ্যক কর্মীর প্রয়োজন হচ্ছে৷ তাই অন্যান্য দেশ থেকে কর্মী নিয়োগের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও তারা দুই থেকে আড়াই লাখ কর্মী নিতে পারে৷ চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি কাতার সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন নাসের বিন খলিফা আল থানি ও প্রশাসনিক উন্নয়ন, শ্রম ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী ড. ঈসা সাদ আলজাফালি আল নুয়াইমির কাছ থেকে এই আশ্বাস পেয়েছেন৷
এদিকে, অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা রিফিউজি এন্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্স ইউনিটের (রামরু) সমন্বয়কারী অধ্যাপক সি আর আবরার ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‘অল্প কিছু শ্রমিক ফিরে এলেও শ্রমবাজারে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না৷ তবে যারা ওখানে কাজ করে তারা ওখানকার আইন শৃঙ্খলা ও ভাষা সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছে৷ ফলে তাদের যদি বৈধ করার সুযোগ দেয়া যায় তাহলে খুব ভালো হয়৷``
তিনি বলেন, পাশাপাশি তারা কিভাবে অবৈধ হলো সেটাও খতিয়ে দেখবে হবে৷ যদি তারা বৈধভাবে সেখানে গিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে অবৈধ হয় তাহলে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে সরকারকে৷ এবং তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে৷``
সূত্র : ডয়চে ভেলে

ভারতে মারাত্মক দুর্ভোগে বাংলাদেশীরা
                                  

ভারতে ৫০০ ও ১০০০ রুপি নোট বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেখানে যাওয়া বাংলাদেশীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা বহু রোগী ও তাদের পরিবারের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটেছে। আবার কেউ ৫০০, ১০০০ টাকার নোট ভাঙাতে না পেরে হতাশ হয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
পশ্চিমবঙ্গের একটি পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ইএম বাইপাস লাগোয়া দু’টি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছেন বহু বাংলাদেশী মানুষ। তাঁদের বেশিরভাগেরই নাজেহাল অবস্থা। যশোরের মিজাউর রহমান তার স্ত্রীকে নিয়ে বুধবার কলকাতায় এসেছেন। পঞ্চসায়রের কাছে এক বেসরকারি হাসপাতালে তাঁদের ডাক্তার দেখানোর কথা। সেইমতো অ্যাপয়েন্টমেন্টও করা ছিল। এদিন বিকালে গেস্ট হাউসের সামনেই তাদের সঙ্গে দেখা। হনহন করে চলেছেন হাসপাতালের দিকে। কী সমস্যা, জিজ্ঞাসা করতেই এক রাশ অভিযোগ নিয়ে রহমান সাহেব বললেন, কী মুশকিলেই না পড়লাম। সকালে গড়িয়ার একটি ব্যাংকে গিয়ে পুরানো নোটের বদলে নতুন টাকা পাই। দু’জনে যাওয়ায় মোট আট হাজার টাকা হাতে পেয়েছিলাম। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই তা আবার ফিরিয়ে নেয় ব্যাংক। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানায়, আমাদের বিমানবন্দরে যেতে হবে। সেখান থেকে টাকা বদলানো যাবে। কী আর করব। বাধ্য হয়েই ফিরে এলাম গেস্ট হাউসে। এদিন আর ডাক্তার দেখানো হল না। এবার ইন্ডিয়া আসাটাই বৃথা হয়ে গেল। শুক্রবার দেশে ফিরে যাব। এরকম হয়রানি আর কখনও হয়নি।

একই হাল বাংলাদেশ থেকে আসা সাবির রহমানেরও। তিনি বললেন, সকাল থেকে ব্যাংকে দাঁড়িয়েছিলাম। কিন্তু এত লাইন, টাকাই তোলা হল না। খাওয়া আর যাতায়াতের টাকা ছাড়া হাতে অবশিষ্ট কিছু নেই। ফলে যে কারণে এসেছিলাম, তা আর হল না। আজই ফিরে যাব। একই অভিজ্ঞতা সে দেশ থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অসংখ্য রোগী ও তাদের পরিজনের। সেখানে দাঁড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হওয়ার জোগাড়। বেলা শেষে কয়েকজন আবার টাকা জোগাড় করলেও, সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ঢুকতে না পারায়, ডাক্তারকে ধরতে পারেননি। সেই ডাক্তার চলে গিয়েছেন অন্যত্র। কবে আবার তার অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিলবে, তা নিয়ে চিন্তিত তারা।

অন্যদিকে, বাইপাস লাগোয়া মুকুন্দপুরের আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের চিত্র একটু আলাদা। তবে হয়রানি ও ভোগান্তির ছবিতে একই। হাসপাতালের ভিতরে বড় বড় পোস্টার লাগিয়ে বলা হয়েছে, ৫০০ এবং ১০০০ টাকার নোট অচল। তাতে বহু বাংলাদেশি যথেষ্ট ফ্যাসাদে পড়েছেন। কেউ কেউ অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে টাকা জোগাড় করেছেন। পড়শি দেশের নাগরিক সাহানারা বেগম শোনালেন তাঁর হয়রানির কথা। তিনি বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ১০০ টাকার নোট ছিল না। তবে আগে জেনে যাওয়ায় এদিক ওদিক থেকে ১০ টাকার বান্ডিল জোগাড় করেছি। তবে ১০০ টাকা বাটা দিয়ে ৭০ টাকা পেয়েছি। টাকা ভাঙাতে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও করতে হয়েছে। ওই টাকা জোগাড় করতেই আমাদের সারাদিন চলে গিয়েছে। ঢাকার বাসিন্দা আফজল হোসেনের বক্তব্য, ডাক্তার দেখাতে এসে জানতে পারি, এখানে ৫০০, ১০০০ টাকার নোট বাতিল হয়ে গিয়েছে। আমাদের কাছে তার নীচের কোনও কারেন্সি ছিল না। তারপর এদিক-ওদিক থেকে কোনওমতে টাকা জোগাড় করেছি। কিছু টাকা এক্সচেঞ্জও করেছি। এরকম হয়রানির পর ডাক্তার দেখানোর মানসিকতা কী থাকে! কিন্তু উপায় কী।

হিলারির নির্বাচনী প্রচারণায় সরব বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
                                  

রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকানরা। নিউ ইয়র্ক থেকে বাসে করে অনেকে প্রতিদিন পেন্সেলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে গিয়ে হিলারির পক্ষে ক্যাম্পেইন করছেন । মাঠে নেমেছেন ফ্লোরিডায় অবস্থানকারী বাংলাদেশি মুসলিম ভোটাররা।

এবারে এ পালে হাওয়া লাগিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতারা। হিলারি ক্লিনটনকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানাতে সোমবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকা আয়োজিত এক মিডিয়া ডায়লগে যোগ দিয়ে বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতারা হিলারি ক্লিনটনকে বিজয়ী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি উদার্ত্ত আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পত্রিকা আয়োজিত ওই ডায়লগে দর্শক সারি থেকে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান ।

এসময় শওকত মাহমুদ বলেন, হিলারি ক্লিনটন হচ্ছেন সভ্যতার পক্ষের প্রতিদ্ধন্ধি, হিলারি ইমিগ্রান্ট কমিউনিটির অধিকার রক্ষার প্রার্থী। হিলারিই হচ্ছেন প্রথম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যিনি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হবার আগেই দুইবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। সুতরাং সভ্যতার পক্ষের প্রার্থীকেই বাংলাদেশিদের বিজয়ী করে আনতে হবে।

সম্প্রতি হিলারি ক্লিনটনের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তাঁর সাথে একান্তে কথা বলার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে শওকত মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এনির্বাচনে হিলারি ক্লিনটনকে যে সহযোগিতা করে যাচ্ছে -এজন্য তিনি বাংলাদেশি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রিয় নেতা মাহিদুর রহমান বলেন, ইমিগ্রান্ট কমিউনিটিকে রক্ষা করতে হলে হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেয়ার বিকপ্ল নেই।

এসময় কেন্দ্রিয় বিএনপির সহ- আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি গিয়াস আহম্মেদ, সাবেক সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান জিল্লু, সাবেক সহ-সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু , জসীম ভূইয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির অনেক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এখানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ডায়লগে আরো বক্তব্য রাখেন সপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের , সাপ্তাহিক বাঙালী পত্রিকার সম্পাদক কৌশিক আহম্মেদ, সাপ্তাহিক পরিচয়ের সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বর্ণমালার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, সাপ্তাহিক জন্মভূমির সম্পাদক রতন তালুকদার , সপ্তাহিক প্রবাসের সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সিনিয়র সাংবাদিক মইনুদ্দিন নাসের, এটর্নি মইন চৌধুরী, সাপ্তাহিক আজকালের প্রধান সম্পাদক জাকারিয়া মাহমুদ জিকুসহ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।
এসময় তারা বলেন , এনির্বাচন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গড়ে উঠা রাজনৈতিক সংস্কৃতির মূলে আঘাত হেনেছে। এনির্বাচন নির্ধারণ করে দিবে মুসলিম ইগিগ্রান্টরা আগামী দিনে এদেশে কিভাবে তাদের জীবন যাপন করবেন। এ প্রথমবারের মতো নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সম্পাদকরা একযোগে হিলারি ক্লিনটনকে ভোট দেবার জন্য বাংলাদেশি কমিউনিটির সকল ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান।


   Page 1 of 1
     ওপার বাংলা
ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশিকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা
.............................................................................................
দিদি, আসেন ইলিশ খাওয়াব, মমতাকে হাসিনা
.............................................................................................
মসজিদ মাদরাসা ও স্কুল জ্বালিয়ে দিচ্ছে মগসেনারা
.............................................................................................
সন্ত্রাস দমনের নামে রাখাইনে গণহত্যা!
.............................................................................................
আরাকানে জ্বলছে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি : চলছে গণহত্যা ও ধর্ষণ
.............................................................................................
উত্তরপ্রদেশে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২৩
.............................................................................................
বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিতে পারব না : মমতা
.............................................................................................
কলকাতা মিশন থেকে বাংলাদেশের ভিসা অনলাইনে
.............................................................................................
ভারতে ২ কোটি অবৈধ বাংলাদেশী বাস করছে : ভারতীয় মন্ত্রী
.............................................................................................
কাতার থেকে ফিরতে হচ্ছে কয়েক হাজার বাংলাদেশী শ্রমিককে
.............................................................................................
ভারতে মারাত্মক দুর্ভোগে বাংলাদেশীরা
.............................................................................................
হিলারির নির্বাচনী প্রচারণায় সরব বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]