বৃহস্পতিবার , ১৬ রবিঃ আউয়াল ১৪৪১ | ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
দ্বিখন্ডিত শহরে দুর্ভোগও দ্বিগুণ

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে নগরবাসীর প্রত্যক্ষ সেবক। মানুষের বসবাস ও চলাচলে যাতে বিঘ্নি সৃষ্টি না হয় সেটি দেখার দায়িত্বে এই সংস্থার। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীকে দুই ভাগ করা হয়। কিন্তু শহরবাসীর দুর্ভাগ্য যে, সিটিকে দ্বিখন্ডিত এবং মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও দুর্ভোগ যেনো দ্বিগুণ বেড়েছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। ঢাকায় ঘর থেকে বের হলেই যানজট, ময়লা-আবর্জনা, খানাখন্দ দুর্বিষহ করে তুলেছে মানুষের জীবন। দুর্ভোগই যেন নিয়তি হয়ে গেছে। প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লার অলিগলি পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি রাস্তারই বেহালদশা। খানাখন্দে ভরপুর থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। তারপরও যথেষ্ট কোনো উদ্যোগ নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের।
নগরের ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মশানিধন ও ফুটপাত মুক্ত করতে ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই সংস্থাগুলোর। সেবার নামে সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানাভাবে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। হোল্ডিং ট্রাক্স থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ট্রেডলাইসেন্স, আয়কর দিলেও সেবা দিতে পারছে না সরকারের সংস্থাগুলো। অথচ হোল্ডিং ট্রাক্স, আয়কর ও ট্রেডলাইসেন্স নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানা ও মামলা করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেরও লেজে-গোবর অবস্থা। মশার উপদ্রবে নগর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মশা দমন, মশক প্রজননস্থল যেমন- ডোবা, নালা, বিল, ঝিল, নর্দমায় নিয়মিত কীটনাশক ছিঁটানোর কথা থাকলেও সেসব বিষয় সিটি কর্পোরেশন শুধু বক্তৃতা, সেমিনার, লিফলেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে পথে পা রাখার উপায় নেই। নানা সেবা সংস্থার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, মেরামতের নামে সড়কে পিচ-সুরকি ফেলে রাখা আর পানি জমে কাদা-আবর্জনায় সয়লাব রাস্তাঘাট যেন নাগরিকদের নিত্যসঙ্গী। বিভিন্ন এলাকার কিছু রাস্তা দিনের পর দিন নোংরা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় কোনটা রাস্তা আর কোনটা ড্রেন-নর্দমা তা বুঝার উপায় নেই।
মূল সড়কগুলোতে খুব সকালে নিযুক্ত ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে ময়লা ঝাড়–দারদের যৎকিঞ্চিৎ ঝাড়– দিতে দেখা গেলেও ভেতরের সড়কগুলোতে কোনোদিন তাদের দেখা গেছে, তা বলা যাবে না। সেকেলে পন্থায় ঝাড়– দ্বারা ধূলিকণা ঝাড়– দেয়া হলেও বাতাসে উড়ে সেই ময়লা মানুষের নাকে, কানে আসবাবপত্রের ওপর পড়ছে, একই সাথে সেটি যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
মূলতঃ একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া ঢাকার দুই সিটির সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সরকার, সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী সবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

 

দ্বিখন্ডিত শহরে দুর্ভোগও দ্বিগুণ
                                  

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন হচ্ছে নগরবাসীর প্রত্যক্ষ সেবক। মানুষের বসবাস ও চলাচলে যাতে বিঘ্নি সৃষ্টি না হয় সেটি দেখার দায়িত্বে এই সংস্থার। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে রাজধানীকে দুই ভাগ করা হয়। কিন্তু শহরবাসীর দুর্ভাগ্য যে, সিটিকে দ্বিখন্ডিত এবং মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও দুর্ভোগ যেনো দ্বিগুণ বেড়েছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নাগরিক সেবার কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে। ঢাকায় ঘর থেকে বের হলেই যানজট, ময়লা-আবর্জনা, খানাখন্দ দুর্বিষহ করে তুলেছে মানুষের জীবন। দুর্ভোগই যেন নিয়তি হয়ে গেছে। প্রধান সড়ক থেকে পাড়া-মহল্লার অলিগলি পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি রাস্তারই বেহালদশা। খানাখন্দে ভরপুর থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়। তারপরও যথেষ্ট কোনো উদ্যোগ নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং ঢাকা দুই সিটি কর্পোরেশনের।
নগরের ভাঙা রাস্তা, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মশানিধন ও ফুটপাত মুক্ত করতে ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নেই সংস্থাগুলোর। সেবার নামে সরকারি সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নানাভাবে মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলছে। হোল্ডিং ট্রাক্স থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যের ট্রেডলাইসেন্স, আয়কর দিলেও সেবা দিতে পারছে না সরকারের সংস্থাগুলো। অথচ হোল্ডিং ট্রাক্স, আয়কর ও ট্রেডলাইসেন্স নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে না পারলে জরিমানা ও মামলা করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমেরও লেজে-গোবর অবস্থা। মশার উপদ্রবে নগর জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। মশা দমন, মশক প্রজননস্থল যেমন- ডোবা, নালা, বিল, ঝিল, নর্দমায় নিয়মিত কীটনাশক ছিঁটানোর কথা থাকলেও সেসব বিষয় সিটি কর্পোরেশন শুধু বক্তৃতা, সেমিনার, লিফলেটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। বাসাবাড়ি থেকে বেরিয়ে পথে পা রাখার উপায় নেই। নানা সেবা সংস্থার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, মেরামতের নামে সড়কে পিচ-সুরকি ফেলে রাখা আর পানি জমে কাদা-আবর্জনায় সয়লাব রাস্তাঘাট যেন নাগরিকদের নিত্যসঙ্গী। বিভিন্ন এলাকার কিছু রাস্তা দিনের পর দিন নোংরা পানিতে নিমজ্জিত থাকায় কোনটা রাস্তা আর কোনটা ড্রেন-নর্দমা তা বুঝার উপায় নেই।
মূল সড়কগুলোতে খুব সকালে নিযুক্ত ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে ময়লা ঝাড়–দারদের যৎকিঞ্চিৎ ঝাড়– দিতে দেখা গেলেও ভেতরের সড়কগুলোতে কোনোদিন তাদের দেখা গেছে, তা বলা যাবে না। সেকেলে পন্থায় ঝাড়– দ্বারা ধূলিকণা ঝাড়– দেয়া হলেও বাতাসে উড়ে সেই ময়লা মানুষের নাকে, কানে আসবাবপত্রের ওপর পড়ছে, একই সাথে সেটি যেমন অস্বস্তিকর, তেমনি স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
মূলতঃ একটি দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া ঢাকার দুই সিটির সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সরকার, সংস্থা, বিশেষজ্ঞ ও ভুক্তভোগী সবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

 

অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন দ্রুততম সময়ে সমঝোতায় আসা প্রয়োজন
                                  

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। এর মধ্যে একমাত্র গঙ্গা ছাড়া আর কোনো নদীর পানিবণ্টন নিয়ে এখন পর্যন্ত দুই দেশ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে একমত হওয়া গেলেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে চুক্তি সম্পাদন করা যায়নি। অথচ দুই দেশের অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন ও অন্যান্য দিক নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একটি যৌথ নদী কমিশন (জেআরসি) রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর পর গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত জেআরসির সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং তাতে উল্লেখযোগ্য কিছু অগ্রগতিও হয়েছে। বৈঠকে অভিন্ন সাতটি নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে মোটামুটি সমঝোতায় আসা গেছে বলে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামি দুই মাসের মধ্যে নদীগুলোর হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করে চুক্তি সম্পাদনের পথে এগোবে দুই দেশ। বৈঠকের পর ভারতীয় পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাকি নদীগুলোর পানিবণ্টন প্রশ্নেও দ্রুত সমঝোতার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী। তা ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা না করে ভারত অভিন্ন নদীতে সংযোগ প্রকল্প বা প্রবাহ বিঘিত হয় এমন কোনো উদ্যোগ নেবে না। প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতিম দেশ হিসেবে ভারতের কাছে আমাদের প্রত্যাশাও তাই।
জেআরসির বৈঠকে যে নদীগুলোর পানিবণ্টন বিষয়ে মোটামুটি একমত হওয়া গেছে সেগুলো হলো : ফেনী, ধরলা, দুধকুমার, মনু, খোয়াই, গোমতী ও মুহুরি। বাংলাদেশের পরিবেশ, কৃষি ও নৌ চলাচলে প্রতিটি নদীই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ে নদীগুলোর যৌক্তিক পানিবণ্টন নিশ্চিত করা হোক। বাকি ৪৬টি নদীর ব্যাপারেও জেআরসি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলে আমরা আশাবাদী। গঙ্গার ভাটিতে থাকা পদ্মা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের যে পরিকল্পনা রয়েছে, সে বিষয়েও জেআরসির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। ব্যারাজ নির্মাণের বিষয়ে ভারতের কোনো আপত্তি নেই বলেও বৈঠকে জানানো হয়েছে। বৈঠকে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়েও কথা হয়েছে এবং সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে চুক্তি সম্পাদনের আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। যে রকম অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে, তাতে কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশের একটি বড় অংশ তলিয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে বর্ষায় বন্যা এবং শীতকালে নদীগুলোতে পানি না থাকায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের উত্তরাঞ্চলে মরুকরণপ্রক্রিয়াও ক্রমেই বাড়ছে। তাই অস্তিত্বের প্রয়োজনেই বাংলাদেশকে দ্রুত অভিন্ন নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সর্বাত্মক সহযোগিতা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। শুধু পানিবণ্টনই নয়, আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে যৌথ নদীগুলোর সঠিক ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে হবে এবং তা এমনভাবে করতে হবে, যাতে দুই দেশই লাভবান হয়। আমরা আশা করি, আগামি অক্টোবরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় এ ক্ষেত্রে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পাব।

ঘরে ফিরছে মানুষ ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করুন
                                  

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে ঈদ যাত্রা। আজ শুক্রবার এবং আগামীকাল শনিবার সরকারি ছুটি। ঈদের মূল ছুটি রবিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত। কিন্তু এবারও নাজুক সড়ক-মহাসড়ক ঈদ যাত্রায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যেমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, এবার বন্যায় সওজ অধিদপ্তরের ৮০১ কিলোমিটার মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মহাসড়কের সংস্কারকাজ শেষ না হওয়া এবং পশুবাহী ট্রাকের বিশৃঙ্খল চলাচলের কারণে বিভিন্ন মহাসড়ক ও রাজধানীর সড়কগুলোর স্থানে স্থানে তীব্র যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আজ শুক্রবার থেকে পুরোদমে হাট জমতে শুরু করলে যানজট ও বিশৃঙ্খলা আরো বেড়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশ্য গতকালের মধ্যেই সব মহাসড়কের নাজুক অংশ সংস্কার করার কথা রয়েছে। কিন্তু কাজের ধীরগতিই আশঙ্কার মূল কারণ। স্থায়ী সংস্কারকাজ না করে ইট-বালু ফেলে কোথাও কোথাও সংস্কার করা হচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে এই অংশগুলো নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা আবারও সমস্যার সৃষ্টি করবে।
সমস্যা আরো আছে। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ে। নিকটজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে মানুষ। স্বাভাবিক কারণেই এ সময় আন্ত জেলা বাস কম্পানিগুলো তাদের ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয়। ঘরমুখো মানুষের ভিড় সামাল দিতে চালু হয় বিশেষ সার্ভিস। এ সময় বিআরটিসিও বিশেষ সার্ভিস চালু করে। কিন্তু ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দেওয়া অনেক সময় সম্ভব হয় না। আবার ঈদের সময় দেখা যায়, আঞ্চলিক রুটের অনেক বাস চলে আসে মহাসড়কে। এসব বাস মহাসড়কে যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক জায়গায় সড়ক-মহাসড়কের পাশে কোরবানির পশুর হাট বসে। ফলে এই হাটগুলোও যানজটের কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। এসব হাটে কোরবানির পশুবাহী ট্রাক ঢোকা ও বের হওয়ার পথে যানজটের সৃষ্টি হবেই। উদাহরণ হিসেবে ঢাকার গাবতলী পশুহাটের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। এই হাটের কারণে আমিনবাজার ব্রিজের দুই পাশে লম্বা যানজটের সৃষ্টি হয়।
তবে যেকোনো মূল্যে ঈদ যাত্রা নির্বিঘœ করতে হবে। ভাঙাচোরা রাস্তা যেন কোনো দুর্ঘটনার কারণ না হয় সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। রাস্তা মেরামত করা গেলে ঈদ যাত্রার দুর্ভাবনা থাকবে না। সেই সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশকে সক্রিয় করতে হবে।

নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা
                                  

সিয়াম সাধনার মাস রমজানের মাঝামাঝি থেকেই ঈদ উৎসবের যে আমেজ জনগোষ্ঠীর মাঝে সাড়া জাগায় তার সর্বশেষ অবস্থা দৃশ্যমান হয় ঘরমুখো মানুষের দীর্ঘযাত্রাপথ পাড়ি দেয়ার মাধ্যমে। ঈদযাত্রার শুরুতেই প্রথম ধাপ কষ্ট পোহাতে হয় টিকেট সংগ্রহের মধ্য দিয়ে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথে যাত্রার যে লক্ষ্যমাত্রা সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিয়ম ও বিধিতে টিকেট বিক্রি শুরু করে। আগাম টিকেট বিক্রির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকলেও হরেকরকম বিপত্তিও মোকাবেলা করতে হয় যাত্রীদের। সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা, কিছুক্ষণের মধ্যে টিকেট শেষ বলে কর্তৃপক্ষের দরজা বন্ধ করে দেয়া ঈদযাত্রার এক মহাবিড়ম্বনা। এরপর কালোপথে চড়া দামে টিকেট কেনা সেও এক অলিখিত নিয়ম। সরকার প্রতি বছর ঈদ উৎসবে যারা শেকড়ের সন্ধানে গ্রামের বাড়ি যেতে চায় তাদের ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত পরিবহন সংযুক্ত করে। তারপরও কিছু অসাধু চক্র টিকেট সঙ্কট তৈরি করে তাদের রমরমা ব্যবসাকে জিইয়ে রাখে। যাত্রীদেরও কোন উপায় থাকে না এমন অপকৌশল থেকে রেহাই পাওয়ার। টিকেট পাওয়ার আনুষঙ্গিক পর্ব পার হওয়ার পর সামনে এসে যায় গ্রামে যাওয়ার দীর্ঘ পথযাত্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি। এমন যাত্রা প্রায়শই সুখকর কিংবা আরামদায়ক হয় না। দীর্ঘ যানজট, যাত্রী হয়রানি, চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো সব মিলিয়ে এমন এক অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হয়, যাতে ঈদের আনন্দই মাটি হওয়ার যোগাড়। উৎসবপ্রিয় জাঁতি হিসেবে বাঙালীর যে নিজস্ব পরিচিতি আছে তা ঈদ আনন্দে নানা মাত্রিকে দৃশ্যমানও হয়। নজরকাড়া শপিং মলে যে মাত্রায় কেনাকাটার আকর্ষণীয় আয়োজন তা সত্যিই মুগ্ধ করার মতো। মহাসমারোহে পণ্যসম্ভারের বাহারি উৎসবে উপচে পড়া ভিড়ে ক্রেতা আর দর্শনার্থীর যে চমৎকার অভিযোজন তা সত্যিই এক অভিনব পরিবেশ। তেমনই আনন্দঘন আবহ একসময় কেটে যায়। সংশ্লিষ্টরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে আপন গন্তব্যে ছুটে যেতে। ঈদ উৎসবের ছুটির সঙ্গে আরও বাড়তি ছুটি নিয়ে বেশ কিছু সময় গ্রামের বাড়িতে কাটিয়ে আসা সেও যেন এক অভাবনীয় আনন্দ যোগ। কিন্তু দীর্ঘ যাত্রাপথের দুর্ভোগ পোহানো তাকেও তো কোনভাবে উপেক্ষা করা যায় না। মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি, অদক্ষ চালক, অপরিকল্পিত সড়ক-মহাসড়কের দুর্ভোগ সব মিলিয়ে যে অসহনীয় সঙ্কটের আবর্তে পড়তে হয় তা যেন এক বিভীষিকাময় দুঃসহ সময় পার করা। তবে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কের চন্দ্রা মোড়ের যে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ তা অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। মেঘনা-গোমতীতে উড়াল সড়ক, সেতু এবং আন্ডার পাস উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী ঈদ যাত্রাপথে যে যুগান্তকারী উপহার দিলেন তার প্রিয় দেশবাসীকে তা ঈদের আগেই সুফল দিতে শুরু করেছে। যে জায়গায় তীব্র যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষমাণ থাকতে হতো সেখানে দৃশ্যপট একেবারে ভিন্নমাত্রার। একইভাবে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের কেন্দ্র চন্দ্রার মোড়ও ছিল যানজটের এক অকল্পনীয় সারি। সেখানেও উড়াল সড়ক, সেতু এবং আন্ডার পাস তৈরি হওয়ায় জনদুর্ভোগ আর অসহনীয় হওয়ার সুযোগ থাকছে না। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাতে আইনি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাত্রাপথকে নিরাপদ ও নির্বিঘ করতে এমন সব বিধি-ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হলেও জনসচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরী। বিশেষ করে চালকদের সংযত আচরণ, আইন মেনে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ- এসবও সব সময় মাথায় রাখতে হবে। ঈদের ছুটি দীর্ঘ হলেও পেশাজীবীরা আরও বাড়তি ছুটি নিয়ে দেশের বাড়িতে আনন্দে কাটাতে চায়। এরপর ফেরার পালা। সে যাত্রাও যেন মোটেই দুর্বিষহ না হয় তেমন প্রত্যাশা থাকল। সব মিলিয়ে উৎসব, আনন্দ আর আয়োজনে ঈদযাত্রার সুবর্ণ সময়গুলো মানুষ নিশ্চিন্তে নির্বিঘেœ কাটাক এমন শুভ কামনা রইল।

দুর্যোগে করণীয়
                                  

দুর্যোগ বলে-কয়ে আসে না। দুর্যোগ তো কেবল প্রাকৃতিক নয়, দুর্ঘটনাবশতও মানুষ দুর্যোগে পতিত হয়। দুর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দুর্যোগকবলিত হলে যেন ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায় সে জন্য সব সময় সতর্কতা অবলম্বনই বুদ্ধিমানের কাজ। আমাদের মানসিকতা এমন যে, সব দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে আমরা এক ধরনের স্বস্তি ও শ্লাঘা অনুভব করি। এ ক্ষেত্রে বরং আত্মসমালোচনাও জরুরী। দুর্যোগ প্রতিরোধে আমার পক্ষ থেকে আমি কী উদ্যোগ নিয়েছি- এমনটা একটিবারের জন্যও কি আমরা ভেবে দেখি? ভবন মালিকদেরও ভূমিকা থাকে। তাঁর মালিকানাধীন ভবনটি ভূমিকম্প সহনীয় কিনা, সেখানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা আছে কিনা- এসব হলো প্রাথমিক শর্ত। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় এটুকুও বহু ভবন মালিক পূরণ করেন না। 

প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভায় কিছু নির্দেশনা দেন। সেগুলো আমরা জানি না এমন নয়। জেনেও যেন অন্ধকারে থাকি। শুনেও গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ না করে উপেক্ষা করে যাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অগ্নিকা-, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সব সময় সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুর্যোগ ও দুর্ঘটনা মোকাবেলায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোন দুর্ঘটনা ঘটলে কী কী করণীয় সেসবের প্রচার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান করবে। কোন দুর্যোগ এলে জাতীয় পর্যায়ে আমাদের করণীয় কী? যেসব নির্দেশনা আছে তার ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। এ ছাড়া দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও সবাইকে নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আমরা আশা করতে পারি প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের মর্মার্থ সবাই অনুধাবনে সক্ষম হবেন।
ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ যার পূর্বাভাস আগে থেকে জানা যায় না। এ ছাড়া একে আটকানোর কোন পথও নেই। এ অবস্থায় সচেতনতা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কোন গত্যন্তর নেই। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ অনেক দূর অগ্রসর হলেও এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ভূমিকম্পকে মোকাবেলা করার মতো প্রস্তুতিতে আমাদের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। যথেষ্ট প্রস্তুতি থাকলে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানো যায়। আর এজন্য প্রয়োজন জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। জাতীয় উদ্যোগ নিতে হবে ভূমিকম্পের সময় ও তারপর কী করণীয় সে সম্পর্কে মানুষকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে। ভূমিকম্প মোকাবেলায় প্রয়োজন সরকারী ও বেসরকারী পর্যায়ে ব্যাপক প্রচারাভিযান। মানুষকে বোঝাতে হবে যে, ভূমিকম্প হলে উত্তেজিত না হয়ে সাবধানে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ভূমিকম্প মোকাবেলায় তৈরি মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ অনুসরণে বাড়ি তৈরির পরামর্শ এসেছে বৃহস্পতিবারের সভায়- এটি ভাল খবর।



প্রসঙ্গত, বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করার পরিকল্পনা অবশ্যই নিতে হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে আগে তালগাছ বা খেজুর গাছ বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করত। এখন গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং শহরাঞ্চলে গাছের ডালপালা ছেটে ফেলায় বজ্রপাতের ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে গেছে। তাই মোবাইল ফোনের টাওয়ার ছাড়াও যেসব টাওয়ার বেশ উঁচু সেগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আর্থিংয়ের মাধ্যমে বজ্রপাত থেকে মানুষ রক্ষা পেতে পারে।

যে বাড়িতে আমরা থাকি এবং যে কর্মস্থলে আমরা কাজে নিযুক্ত থাকি উভয় ভবনে দুর্যোগ প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে সেটি জানা জরুরী। যে দুর্যোগই আসুক না কেন তথ্য জানা থাকলে এবং নিজের অবস্থান ও করণীয় সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে নিজে এবং অন্যান্যের দুর্যোগ থেকে রক্ষা করার পথ সুগম হবে- এতে কোন সংশয় নেই।

পুঁজিবাজারে দরপতন
                                  

   ধস ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন    

পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জরুরি বৈঠক করেছেন; কিন্তু ফলোদয় হয়নি। দরপতন থামেনি, বরং আরো বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন এক বছর আগে যেখানে ছিল, সেখানেই ফিরে গেছে। গত বুধবার লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতন হয়েছে, লেনদেন কমেছে। কেন এ রকম হচ্ছে? সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা পরিকল্পিতভাবে লেনদেনে নিষ্ক্রিয় থাকছে, যার ফলে দরপতন ঘটছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তারা সন্দিহান, বিক্ষুব্ধ। তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।

ডিএসইর হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বুধবার পর্যন্ত সাত দিনে পুঁজিবাজারের মূলধন ব্যাপক হারে কমেছে। গত ১ এপ্রিল ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ১৩ হাজার ২৬০ কোটি সাত লাখ টাকা; বুধবার তিন লাখ ৯২ হাজার ৮৯৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ সাত দিনে মূলধন কমে ২০ হাজার ৩৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেদিন ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সূচক কমে ৫৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৫৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হয় ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সূচক কমে ৯৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সূচক কমেছিল ৯৯ পয়েন্ট।


উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিএসইর শীর্ষস্থানীয় ব্রোকাররা দরপতন ঠেকানোর উপায় ঠিক করার লক্ষ্যে জরুরি বৈঠকে বসেছিল গত মঙ্গলবার। বৈঠকে তারল্যসংকট, নঞর্থক আইপিও (ব্যাড আইপিও), লভ্যাংশ ও বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতাপ্রসূত বিক্রয় (প্যানিক সেল) বাড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেদিন বিকেলেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কশিমন (বিএসইসি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। কিন্তু দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং পতন আরো ত্বরান্বিত হয়েছে। অব্যাহত পতনের ফলে ব্রোকাররা, বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিক্ষুব্ধ। তারা বলছে, বিএসইসি দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট নয়। তারা দায়িত্বে অবহেলা করছে; সরকারপ্রধানের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। ফলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১০ সালের মতো আরেকটি বড় ধস দেখা দেবে।


পুঁজিবাজারের স্বাস্থ্যের ওপর রাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধস নামলে অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারের তৎপর হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।পুঁজিবাজারে দরপতন
ধস ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন
পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য করণীয় নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জরুরি বৈঠক করেছেন; কিন্তু ফলোদয় হয়নি। দরপতন থামেনি, বরং আরো বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন এক বছর আগে যেখানে ছিল, সেখানেই ফিরে গেছে। গত বুধবার লেনদেন হয়েছে মাত্র ৩০০ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দরপতন হয়েছে, লেনদেন কমেছে। কেন এ রকম হচ্ছে? সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীরা পরিকল্পিতভাবে লেনদেনে নিষ্ক্রিয় থাকছে, যার ফলে দরপতন ঘটছে। পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা নিয়েও তারা সন্দিহান, বিক্ষুব্ধ। তারা আস্থাহীনতায় ভুগছে।


ডিএসইর হিসাব পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত বুধবার পর্যন্ত সাত দিনে পুঁজিবাজারের মূলধন ব্যাপক হারে কমেছে। গত ১ এপ্রিল ডিএসইতে বাজার মূলধন ছিল চার লাখ ১৩ হাজার ২৬০ কোটি সাত লাখ টাকা; বুধবার তিন লাখ ৯২ হাজার ৮৯৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ সাত দিনে মূলধন কমে ২০ হাজার ৩৮০ কোটি ২৪ লাখ টাকা। সেদিন ডিএসইতে লেনদেন হয় ২৭৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সূচক কমে ৫৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৩৬৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা আর সূচক কমেছিল ৫৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে সিএসইতে লেনদেন হয় ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা। সূচক কমে ৯৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন ছিল ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, সূচক কমেছিল ৯৯ পয়েন্ট।


উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ডিএসইর শীর্ষস্থানীয় ব্রোকাররা দরপতন ঠেকানোর উপায় ঠিক করার লক্ষ্যে জরুরি বৈঠকে বসেছিল গত মঙ্গলবার। বৈঠকে তারল্যসংকট, নঞর্থক আইপিও (ব্যাড আইপিও), লভ্যাংশ ও বিনিয়োগকারীর আস্থাহীনতাপ্রসূত বিক্রয় (প্যানিক সেল) বাড়ার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সেদিন বিকেলেই পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কশিমন (বিএসইসি) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে। কিন্তু দফায় দফায় বৈঠক করা হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি, বরং পতন আরো ত্বরান্বিত হয়েছে। অব্যাহত পতনের ফলে ব্রোকাররা, বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিক্ষুব্ধ। তারা বলছে, বিএসইসি দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট নয়। তারা দায়িত্বে অবহেলা করছে; সরকারপ্রধানের সঙ্গেও প্রতারণা করছে। ফলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০১০ সালের মতো আরেকটি বড় ধস দেখা দেবে।


পুঁজিবাজারের স্বাস্থ্যের ওপর রাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকাংশে নির্ভরশীল। পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধস নামলে অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও নেতিবাচক। বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে সরকারের তৎপর হওয়া জরুরি বলে আমরা মনে করি।

কৃষিতে কৃষকের অরুচি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি
                                  

বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তিমূলে কৃষি তথা শস্য উৎপাদন। এখনো কৃষিপ্রধান জীবিকা, যদিও জাতীয় অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা শীর্ষস্থানে নেই। ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিচ্ছে কৃষি খাত; অথচ কৃষির ভূমিকা ও কৃষকের আর্থিক এবং সামাজিক অবস্থান ক্রমাবনতিশীল। জিডিপিতে কৃষির অবদান ও কৃষকের আয়ের দিকে খেয়াল করলে তা অনুধাবন করা যায়। ১৯৪১-৫০ সালে জিডিপিতে কৃষির অবদান ছিল ৭০ শতাংশ, ১৯৬১-৭০ সালে ৫৫ শতাংশ, ১৯৮১-৯০ সালে ৩২ শতাংশ, ২০০১-১০ সালে ছিল ১৮ শতাংশ। ক্রমহ্রাসমান প্রবণতা; ২০১৭-১৮ সালে নামে ১৪.২৩ শতাংশে। শুধু যে জিডিপিতে অবদান কমেছে তা নয়, কৃষকের আয়েও ভাটার দশা চলছে। কৃষি এখন আর কাউকে আশ্বস্ত বা সমৃদ্ধ করছে না।
একটি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮৩ শতাংশের বেশি কৃষকের আয় পরিবারের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। এ কারণে ৬৫ শতাংশের বেশি কৃষক সময়ে সময়ে অন্য পেশায় যুক্ত হতে চায়, হয়ও। গত মঙ্গলবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে অ্যাকশনএইড ও খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের এই জরিপ-প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, ৬৫.৪৮ শতাংশ কৃষক কৃষিকাজ করলেও বিভিন্ন সময়ে অন্য পেশায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। কারণ কৃষি থেকে যে আয় হয় তা পারিবারিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। ৮৯৯ জন কৃষকের ওপর জরিপটি চালানো হয়েছে। তাদের ৮৩.১৫ শতাংশই এ কথা বলেছে। ১৯৩ জন কৃষকের মাসিক আয় মাত্র এক হাজার টাকা, ১০৫ জনের আয় এক হাজার এক টাকা থেকে চার হাজার টাকা, ১৫৫ জনের চার হাজার এক থেকে সাত হাজার টাকা, ১৫৪ জনের সাত হাজার এক থেকে ১০ হাজার টাকা, ৮০ জনের ১০ হাজার এক থেকে ২০ হাজার টাকা, ২১ জনের ২০ হাজার এক থেকে ৪০ হাজার টাকা এবং ২২ জনের মাসিক আয় ৪০ হাজার টাকার বেশি। জরিপকৃতদের ৬০৭ জনেরই মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার নিচে। আত্মপরিচয়-সংকট, মর্যাদাহীনতা, শুধু বাজার ও একক শস্য উৎপাদনের নিরিখে বিবেচনা করা, অলাভজনকতা, কৃষিজমির নির্বিচার দখল ও অকৃষি খাতে ব্যবহার, জমির মালিকানা-জটিলতা, পারিবারিক কৃষির জন্য সহায়ক নীতি-কর্মসূচির অভাব, রাষ্ট্রীয় প্রণোদনা ও বাজেটের অভাব, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত নানা ধাপে নির্ভরযোগ্য আন্ত সম্পর্ক না থাকা প্রভৃতি কারণে এ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
সরকার কৃষি খাতকে খাদ্য উৎপাদনের প্রধান খাত বলছে; অথচ এ খাতে নিয়োজিতদের প্রতি তার নজর খুবই কম। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার স্বার্থেই কৃষকের সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে এবং কৃষি খাতে বিশেষ নজর দিতে হবে। কৃষিজমি সুরক্ষা ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে, কৃষিকাজে যুবসমাজের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; ক্ষুদ্র কৃষকের জন্য শস্যবীমা এবং সার্বিকভাবে পেনশন স্কিম, বীজবীমা ও বিভিন্ন প্রকারের ভর্তুকির ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রকল্পে সরাসরি অর্থ ছাড় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করুন
                                  

প্রকল্পের কাজের ধীরগতি উন্নয়নের পথে একটি বড় বাধা। অর্থবছরের শেষ দিকে গিয়েও দেখা যায়, বেশির ভাগ প্রকল্পের নির্ধারিত কাজ অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হয় না। অনেক প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যায়। এর জন্য অনেক ক্ষেত্রেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা প্রশাসনের অহেতুক কালক্ষেপণ। সেই সমস্যাটি কাটিয়ে ওঠার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকল্পের বরাবরে সরাসরি অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। প্রকল্প পরিচালকদের স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে যেতে পারে। অনিয়ম উৎসাহিত হতে পারে। এ বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে বিবেচনা করতে হবে।
বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় এখানে বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ অনেক বেশি হওয়ার অভিযোগ আছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের বিদেশ ভ্রমণ, গাড়িবিলাসের বিষয়টি বহুল আলোচিত। তার পরও দেখা যায়, তিন বছরের প্রকল্প ছয় বছরেও শেষ হয় না। মাঝখানে একাধিকবার বরাদ্দ বাড়ানোর ঘটনা ঘটে। দুর্নীতির অভিযোগও বিস্তর। এ অবস্থায় প্রকল্প পরিচালকদের আরো বেশি আর্থিক স্বাধীনতা দেওয়া হলে তাতে অর্থের অপব্যবহার আরো বাড়বে কি না সেটি বিবেচনা করে দেখতে হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় যাতে না হয় সে জন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিটি কাজের সর্বোচ্চ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আরো কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। অনেক সময় রাজস্ব আদায়ে ঘাটতির জন্য বরাদ্দ কাটছাঁট করতে হয়। অধিক প্রয়োজনীয় অন্য প্রকল্পগুলোর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অর্থ পুনর্বণ্টনের প্রয়োজন হয়। অর্থ সরাসরি ছাড় হয়ে গেলে সে কাজগুলো সঠিকভাবে করা যাবে কি না তাও বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশে নানা ক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। কিন্তু একটি অনুন্নত দেশ হওয়ায় যেটুকু উন্নয়ন হচ্ছে প্রয়োজন রয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। এসব উন্নয়নকাজের গতি যত ত্বরান্বিত হবে জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সেগুলো তত বেশি ভূমিকা রাখবে। তাই উন্নয়নকাজের গতি ত্বরান্বিত করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু তা করতে গিয়ে অপচয়কে যেন উৎসাহিত না করা হয়, সেদিকেও দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা আশা করি, প্রকল্পের অনুমোদন থেকে শুরু করে সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি কাজে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ঝুঁকিতে দুই কোটি শিশু এদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করুন
                                  

দুর্যোগ-দুর্বিপাকের দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিচিতি বহু পুরনো। বন্যা, ঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখানে নিয়মিত ব্যাপার। সেই সংকট ক্রমেই আরো প্রকট হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে। যুক্ত হচ্ছে সংকটের নতুন নতুন মাত্রা। গত শুক্রবার জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, তাতেও উঠে এসেছে সংকটের গভীরতা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি শিশু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের পরিবারগুলো ক্রমবর্ধমান হারে অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুতে পরিণত হচ্ছে। শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিশুরা ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছে। ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের বিদ্যমান উদ্যোগগুলোর কথা স্বীকার করে তা আরো সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বাংলাদেশে প্রধানতম ঝুঁকি হচ্ছে বন্যা। বেশির ভাগ নদী ভরাট হয়ে গেছে কিংবা নদীর গভীরতা এত কমে গেছে যে বর্ষায় বৃষ্টি ও উজানের পানি নদী দিয়ে নামতে পারে না। তখন আশপাশের জনপদগুলো ভাসিয়ে দেয়। এভাবে প্রতিবছর বাংলাদেশের একটি বড় অংশ বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। এতে প্রতিবছরই হাজার হাজার কোটি টাকার ফসল নষ্ট হয়। ঘরবাড়ি ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবারগুলো আর্থিক অনটনে পড়ে। তা ছাড়া এসব এলাকার সুপেয় পানির প্রধান ও একমাত্র উৎস নলকূপগুলো দূষিত হয়ে পড়ে। দেখা দেয় ব্যাপক হারে ডায়রিয়া ও অন্যান্য রোগ। শিশুরাই আক্রান্ত হয় সবচেয়ে বেশি। ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু বন্যার কারণেই প্রবল ঝুঁকিতে আছে এক কোটি ২০ লাখ শিশু। উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে ৪৫ লাখ শিশু। লবণাক্ততার কারণে গর্ভবতী মায়েরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে খরার কারণে আরো প্রায় ৩০ লাখ শিশু প্রবল ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের একটি বড় অংশই পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত হয়ে বড় বড় শহরে আশ্রয় নেয়। এসব শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়, পারিবারিক অনটনে এদের পুষ্টির চাহিদা মেটে না, শিশুশ্রম বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যোগ দিতে বাধ্য হয়, পাচারের শিকার হয়। এমন পরিস্থিতিতে মেয়েশিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায়ই তারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয় এবং পরিবারগুলো তাদের অপরিণত বয়সে বিয়ে দিয়ে দেয়। দেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশুকে এমন ঝুঁকির মধ্যে রেখে আমাদের উন্নয়নকে কতটা গতিশীল করা যাবে।
আজকের শিশুরা আগামি দিনের বাংলাদেশÑএটা কথার কথা নয়। দেশের এক-তৃতীয়াংশ শিশু যদি অপুষ্টিতে থাকে, রোগাক্রান্ত ও দুর্বলভাবে বেড়ে ওঠে কিংবা অশিক্ষিত ও অদক্ষ থাকে, তাদের কাছে দেশ কী আশা করতে পারে। এই শিশুরা যাতে বাস্তুচ্যুত না হয়, শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং সুস্থতা ও স্বাভাবিকতা নিয়ে বেড়ে উঠতে পারে, রাষ্ট্রকেই তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ভয়ংকর পরিণতি থেকে রক্ষা পেতে হবে
                                  

সাত-আট দশক আগে সাধারণ রোগজীবাণুর সংক্রমণেও অনেক মানুষ অসহায়ভাবে মারা যেত। কারণ তখন এত অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক ওষুধ ছিল না। এখন প্রচুর অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রোগজীবাণুতে বহু মানুষ মারা যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ বেশির ভাগ জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে গেছে। অর্থাৎ অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েও এখন লাভ হয় না, জীবাণু মরে না। এমনটি হয়েছে মূলত অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে। অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন, দু-এক দিন খেয়ে একটু ভালো লাগলে আর ওষুধ না খাওয়া এবং এমনি আরো কিছু কারণে জীবাণুরা ক্রমেই অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে। এখনো এই প্রবণতা রোধ করা না গেলে আমরা ক্রমেই এক ভয়ংকর পরিণতির দিকে এগিয়ে যাব। সাত-আট দশক আগের মতো আবারও সাধারণ রোগজীবাণুতে অসংখ্য মানুষ মারা যাবে।
এমনিতেই দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি ভালো নয়। নকল ওষুধ, ভেজাল ওষুধে বাজার সয়লাব। চিকিৎসা সহজলভ্য নয়, মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। তার ওপর অ্যান্টিবায়োটিক যদি সম্পূর্ণরূপে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে, তাহলে কী হবে? জীবাণুর তো কোনো অভাব নেই। বিশুদ্ধ বলে সরবরাহ করা জারের পানিতেও ব্যাকটেরিয়া থাকে প্রচুর পরিমাণে। ওয়াসার সরবরাহ করা পানির তো কথাই নেই। এসব জীবাণুর আক্রমণ মানুষ রুখবে কিভাবে? অথচ এখনো অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগই নেই। পৃথিবীর কোথাও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক কেনা যায় না। আমাদের দেশে ওষুধের দোকানে যে কেউ চাইলেই অ্যান্টিবায়োটিক পেয়ে যায়। কোনো কার্যকারিতা না থাকলেও অনেকে ভাইরাস বা সর্দিজ¦রেও দোকান থেকে কয়েকটা অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট কিনে খেয়ে নেয়। অনেক ডাক্তার সাহেবও চোখ বন্ধ করে হাই ডোজ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে দেন। শুধু তা-ই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে, হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলেও যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হচ্ছে। এসব প্রাণীর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরেও চলে আসছে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব। রোগজীবাণু গড়ে তুলছে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধক্ষমতা।
কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের নির্দিষ্ট কোর্স সম্পন্ন না করলে জীবাণু ধ্বংস হয় না, বরং সেই ওষুধের বিরুদ্ধে জীবাণুটি প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করে। দ্বিতীয়বার একই অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সেই জীবাণু ধ্বংস করা যায় না। এভাবেই আজকের এ অবস্থা তৈরি হয়েছে। এ থেকে রক্ষা পেতে হলে প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধ করতে হবে। বোতল বা প্যাকেটে এমনভাবে অ্যান্টিবায়োটিক বাজারজাত করতে হবে, কেউ যাতে সম্পূর্ণ কোর্সের অ্যান্টিবায়োটিক কিনতে বাধ্য হয়। কোনো দোকানে প্যাকেট খুলে খুচরা বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা আশা করি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর, চিকিৎসক ও ভোক্তাসংগঠনগুলো মিলে এ ব্যাপারে জাতীয় করণীয় নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি ওষুধের বাজার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং অ্যান্টিবায়োটিক অপব্যবহারের বিপদ সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ মজুরি কমিশনের সুপারিশ আমলে নিন
                                  

মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে খুলনা-যশোর অঞ্চলের ৯টিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট-অবরোধের তৃতীয় দিনে খুলনায় আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। শ্রমিকদের অবরোধের কারণে বৃহস্পতিবারও যান চলাচল ও ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে খুলনা অঞ্চলে। নরসিংদীতে পাটকল শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার রেললাইনে আগুন দিয়ে ট্রেন অবরোধ করে। এ সময় ট্রেনের অন্তত ৫০টি দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করে। রাজশাহী ও ডেমরায়ও শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করে। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মজুরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, দাবি মানা না হলে আগামি দিনে আরো কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। ওদিকে গত বুধবার সাভারে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে একটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে ৪৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। নারায়ণগঞ্জে দুটি কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা। বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের ডাকে ৭২ ঘণ্টার কর্মসূচি গত তিন দিনে পালিত হয়েছে। শ্রমিকদের দাবির মধ্যে ছিল সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ২০১৫-এর সুপারিশ বাস্তবায়ন, অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ও মৃত শ্রমিকদের বীমার বকেয়া প্রদান, বরখাস্ত করা শ্রমিকদের কাজে পুনর্বহাল, শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগ স্থায়ী করা, মৌসুমে পাট ক্রয়ে অর্থ বরাদ্দ, উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিলগুলোকে পর্যায়ক্রমে বিএমআরই করা। সরকারের পক্ষ থেকে এসব দাবি পূরণের আশ্বাসও ছিল। এ ছাড়া জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন তো রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি আট হাজার ৩০০ ও সর্বোচ্চ ১১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করে নতুন মজুরিকাঠামো সুপারিশ করেছিল, তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিতও হয়েছিল। সরকারি কর্মচারীদের ২০১৫ সালের বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই মজুরি স্কেল করা হয়। আলাদা শিফট ডিউটি ভাতা, রাতের ডিউটির জন্য নাইট শিফট ডিউটি ভাতা ও নববর্ষ ভাতাসহ আরো অনেক সুযোগ-সুবিধার উল্লেখ ছিল জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশনের সুপারিশে।
এসব দাবি আদায়ের জন্য এখন শ্রমিকদের পথে নামতে হবে কেন? বিশেষ করে পাট নিয়ে যখন বাংলাদেশ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে, তখন কেন পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতার দাবিতে ধর্মঘটে যেতে হয়? দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো লাভজনক নয়, এমন কথা সব সময় বলা হয়ে থাকে। অন্যান্য দেশে, এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশেও যদি পাটকল লাভজনক হতে পারে, তাহলে বাংলাদেশে হবে না কেন? পাটকলের আধুনিকায়ন নিয়ে কি বাংলাদেশে কোনো চেষ্টা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে কিভাবে পাটপণ্য উৎপাদন করা যায়, তা নিয়ে কি কোনো জরিপ আছে? এসব বিষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। তার আগে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণ, সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি ও উৎপাদনশীলতা কমিশন ২০১৫-এর সুপারিশ বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নিন।

 

রমজানে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে
                                  

রমজান মাস শুরুর আগেই দেশের বাজারে রোজাদারদের জন্য আবশ্যক বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার লক্ষণ দেখা দেয়। অতঃপর পুরো মাসে বর্ধিত মূল্যে সেসব পণ্য কিনতে হয়। অথচ মধ্যপ্রাচ্যে এবং বিশ্বের অন্যত্র মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে রোজার সময় জরুরি পণ্যগুলোর দাম কমে; না কমলেও স্থির থাকে। রমজানে আবশ্যক পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কথা বলে ব্যবসায়ীরা। তবে সার্বিক বিচারে তাদের এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে গত ছয় মাসে তেল, চিনি, ছোলা, পেঁয়াজ, ডালসহ বেশ কিছু পণ্যের দরে তেমন অস্থিরতা দেখা যায়নি। বরং কিছু পণ্যের দাম পড়েছে। দেশে এসবের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে; ফলে স্বাভাবিক আছে এসবের বাজারদর। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট রমজান মাসে দর বাড়িয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে মজুদ ও সরবরাহ ভালো থাকা সত্ত্বেও দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ টাকা বেড়েছে। এবার দেশে পেঁয়াজের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজের দামও স্বাভাবিক। তাহলে দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ কী? অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে উঠেছে, এ মূল্যবৃদ্ধি তারই লক্ষণ। শুধু পেঁয়াজ নয়, মাছ, মাংস, ডিম ও সবজির দাম বেড়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বছরে ভোজ্য তেলের চাহিদা ১৮ লাখ টন; গত ৯ মার্চ পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে ১৪.৬৯ লাখ টন। আরো ১৭.৬৬ লাখ টন আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছে, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও স্থানীয় বাজারে সয়াবিনের দাম বাড়ার কারণ নেই। রমজানের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় মজুদ রয়েছে। বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের হিসাবে বছরে চিনির চাহিদা ১৮ লাখ টন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩৬ হাজার টন উৎপাদিত হয়েছে; ৯ মার্চ পর্যন্ত আমদানি করা হয়েছে ১০.৭৩ লাখ টন; আরো ১২.৪৭ লাখ টন চিনি আমদানি করা হবে। চিনি ব্যবসায়ীরাও বলছে, মজুদ পর্যাপ্ত, দাম বাড়ার কারণ নেই। উল্লেখ্য, গত বছরের তুলনায় দুটি পণ্যের আমদানিমূল্য কমেছে। রমজানে বেগুন, মরিচসহ কিছু পণ্যের দাম স্থির থাকে না। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এসবের সরবরাহ ঠিক থাকে না; ফলে দাম বাড়ে। রমজানে মাছ, মাংস, আদা-রসুনের দাম স্থির থাকবে কি না তাও নিশ্চিত নয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দরে অস্থিরতা সৃষ্টি করে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। তারা এ সুযোগ পায় বাজার তদারকি সংস্থা যথাসময়ে যথাকাজ করে না বলে; দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িত থাকে বলে। ভোক্তা আচরণও একটি কারণ। সিন্ডিকেট অকেজো রাখতে পারলে দর নিয়ন্ত্রিত রাখা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বাজার স্থির রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। আশা করি তদারককারীরা যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যাপারে আন্তরিক হবে।

শিল্পায়নে বাধা
                                  

ব্যাংক ঋণ শিল্পায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তা হওয়ার কথা ছিল না। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই অবস্থান পরিবর্তনের কথা গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন। বলেছেন ব্যাংকের সুদের হার কমানোর প্রক্রিয়া উদ্ভাবন করতে হবে। এটা তো বাস্তব যে, বাংলাদেশের শিল্পকে বহুমুখী করা সময়ের দাবি। কিন্তু সে দাবির প্রতি কারও যেন ভ্রুক্ষেপ নেই। শিল্পোদ্যোক্তাদের নতুন নতুন প্রযুক্তি এবং উদ্ভাবনী চিন্তা নিয়ে যেখানে দেশে ও বিদেশে বাজার সৃষ্টি করা সঙ্গত, সেখানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা কোন যুক্তিযুক্ত পন্থা হতে পারে না। দেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের নতুনভাবে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীভাবে শিল্পায়ন ঘটানো যায় সে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত। সেখানে পুরনো ধারা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা অবশ্য বলে থাকে ব্যাংক ঋণের সুদের হার এ ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধক। সে জন্যযথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প কিছু নেই। কিন্তু এটাও তো সত্য, ঋণ নিয়ে যদি ঋণের অর্থ যথা সময়ে ফেরত দেয়া এবং সুদ পরিশোধ করা হয়, তবে বাধা সঙ্কুচিত হতে যেমন বাধ্য, তেমনি ব্যাংকগুলোর সচল অবস্থান নড়বড়ে হতে পারে না। আর তখন ব্যাংকগুলোও সুদের হার কমিয়ে আনতে পারে। কিন্তু এদেশীয় শিল্পোদ্যোক্তাদের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণ শোধ না করা। এই প্রবণতা কোন ক্ষেত্রকেই বিকশিত করার সহায়ক নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঋণের উচ্চ সুদের হার নিয়ে অতীতে ব্যাংক মালিকদের সঙ্গে বৈঠক এবং আলোচনা করেছেন। আগে সরকারী প্রতিষ্ঠানের সত্তর ভাগ অর্থ সরকারী ব্যাংকে আর ত্রিশভাগ অর্থ বেসরকারী ব্যাংকে রাখা হতো। ব্যাংক মালিকরা দাবি তোলেন যে, এই হার যদি সমান সমান অর্থাৎ ৫০ ভাগ করা হয় তাহলে সুদের হার একক ‘ডিজিটে’ নামিয়ে আনা হবে। সরকার তাতে সম্মতিও প্রদান করে।
সুদের হার নয় শতাংশে নামিয়ে আনলেও সকল ব্যাংক তা করেনি। বরং বাড়াতে বাড়াতে তা ১৪, ১৫ ও ১৬তে নিয়ে গেছে। কেন তারা করেনি সে বিষয়ে কোন ব্যাখ্যাও প্রদান করেনি। অথচ এই ব্যাংক মালিকদের শিল্প-কলকারখানা রয়েছে। তারাও ব্যবসা-বাণিজ্য করছে। সেই তারাই সিদ্ধান্ত মেনে ঋণের হার একক ডিজিটে আনার পক্ষপাতী কেন নয়, তা আসলেই বোধগম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বেসরকারী খাতকে সবচেয়ে বেশি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। দেশে সত্তর লাখের মতো শিল্প-কারখানা বেসরকারী খাতে রয়েছে। প্রতিবছর সেখানে একজন লোকও কাজের সুযোগ পেলে সত্তর লাখ লোক কাজ পেতে পারে। বাস্তবে তার কিছুই দেখা যায় না। বর্তমান সরকার সবচেয়ে বেশি ব্যাংক-বীমা করার সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যকে গতিশীল করার জন্য। মানুষের মধ্যে ব্যাংকের ব্যবহারের প্রবণতাও সরকারই তৈরি করে দিয়েছে। এটা তো সর্বজনবিদিত যে, বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীবান্ধব। ব্যবসায়ীরা যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে ও ব্যবসা-বাণিজ্য ভালভাবে করতে পারে এবং দ্রুত শিল্পায়ন হয় সে লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ নিয়েছে গত দশ বছরে। দেশে এমন বহু পণ্য রয়েছে যা উৎপাদন ও বাজারজাত করে শিল্পায়ন এবং কৃষিকে রক্ষার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটানো যায়। দেশে যুগোপযোগী শিল্পনীতি রয়েছে। সেই নীতি অনুযায়ী শিল্পায়নের জন্য আরও বেশি প্রচেষ্টা এবং শ্রমঘন শিল্প গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক। ব্যাংক ঋণ নিয়ে বিদ্যমান ‘জটিলতা’ অবিলম্বে দূর করে দেশকে শিল্প-বাণিজ্যে আরও এগিয়ে নিতে হবে। মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার পথে সব প্রতিবন্ধক দূর করতে হবে।

সড়কে মর্মান্তিক মৃত্যু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করুন
                                  

সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু যেন দেশের মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রতিকার নেই। দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে, প্রিয়জনের অকালমৃত্যুতে একটি পরিবারে চিরদিনের জন্য শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বাস মালিক-শ্রমিকদের কোনো বিকার নেই। গত বছর ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পঞ্চম দফায় ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলছে এখন। এরইমধ্যে জেব্রা ক্রসিংয়ে গত মঙ্গলবার বাবার সামনেই বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আবরার। সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রবেশের গেটের সামনে প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। আবরারের মৃত্যুর পর বিইউপিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দায়ী বাসচালকের সর্বোচ্চ শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ আটটি দাবি জানিয়ে দিনভর প্রগতি সরণি অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বুধবারও সড়ক অবরোধ করে তারা। প্রথম দিনের বিক্ষোভ নর্দ্দায় প্রগতি সরণিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন অংশে।
রাজধানীর গণপরিবহনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সড়ক-মহাসড়ক, এমনকি রাজধানীতেও অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। দেখার যেন কেউ নেই, আইন প্রয়োগের কোনো বালাই নেই। রাজধানী ঢাকায় যানবাহন, বিশেষ করে পাবলিক বাস চলাচলে কোনো নিয়মনীতি আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস নেই। সিটিং সার্ভিসের নামে সব বাসে ‘হাফ পাস নেই’ লেখা স্টিকার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে শিক্ষার্থীরা চলাচল করবে কিভাবে। সামান্য কয়েকজন বাস মালিক ও শ্রমিকের কাছে কি এই দেশ ও দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে? ঢাকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেই। ফিটনেসবিহীন বাস রাজপথে চালানোর অভিযোগে বাস মালিকের বিরুদ্ধেও তো মামলা হওয়া উচিত।
রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় হত্যার ঘটনায় টানা ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠলে তাদের ৯ দফা দাবি মানার আশ্বাস দেয় সরকার; ঘরে ফেরে শিক্ষার্থীরা। গত প্রায় আট মাসে শিক্ষার্থীদের ৯ দাবির মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। সাবেক নৌমন্ত্রী ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন। বাকি দাবিগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের সমন্বয়হীনতা ও ধারাবাহিক কর্মসূচির অভাবে দাবিগুলোর জোর যেন ফিকে হয়ে গেছে। কেন এমন হয়? কিসের জোরে বাস মালিক ও শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করার সাহস দেখাতে পারে?
সড়কে এই হত্যাকা- বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হোক। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হোক
                                  

চিকিৎসা একটি সার্বক্ষণিক পেশা। একজন চিকিৎসককে রোগীদের ব্যাপারে সব সময় মনোযোগী থাকতে হয়। কখনো কখনো কোনো রোগীকে দিন-রাত পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। চিকিৎসা পেশাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে যাঁরা এই ক্ষেত্রে কাজ করতে আসেন, তাঁদের নিষ্ঠা নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের বেশির ভাগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে এত বেশি মনোযোগী যে হাসপাতালের রোগীদের ব্যাপারে তাঁদের কোনো মনঃসংযোগ নেই। অন্যদিকে কেউ কেউ নিয়ম মেনে অফিস সময় শেষ করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে বাইরে চলে যান। অনেকেই একাধিক চেম্বার করেনÑএমন অভিযোগ আছে। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে এর আগে সংবাদমাধ্যেমে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসকরা যে নিজেদের কর্মস্থলের চেয়ে ক্লিনিক কিংবা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে বেশি মনোযোগী, পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা, পছন্দের ক্লিনিক বা বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে তাঁদের বেশির ভাগের আগ্রহ বেশিÑএমন খবর সেসব প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। হাতে গোনা কয়েকটি বাদ দিলে দেশের বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালে কোনো শৃঙ্খলা আছে বলে মনে হয় না। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এই চিত্র সবার চোখেই ধরা পড়ে। গ্রামে থাকার ব্যাপারে চিকিৎসকদের অনীহা, ঢাকা কিংবা শহরাঞ্চলে থাকার প্রবণতাও লক্ষণীয়। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসমুখী নয়, হাসপাতালমুখী হতে হবে।
চিকিৎসাসেবা আর দশটি পেশার মতো নয়। মহৎ পেশা হিসেবে গণ্য এই পেশাটি সার্বিক অর্থেই ব্রতসাধনার মতো। কিন্তু বাজার অর্থনীতির সস্তা সময়ে এই মহৎ পেশাটিকেও অনেকাংশে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। ফলে সেবা নয়, বাণিজ্যই যেন চিকিৎসকদের কাছে প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। এর সুযোগ নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গড়ে উঠেছে প্রচুর ক্লিনিক। এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের কোনো নিজস্ব ডাক্তার-নার্স নেই। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরাই সেখানে কাজ করেন। একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে বসেই যেন চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রতিও চিকিৎসকরা দৃষ্টি দিতে পারবেন। ঢাকার দুটি বড় হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা আছে। তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। আমরা আশা করব, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

পেট কাটলেন নার্স, ডাক্তার বললেন ‘ঝামেলা আছে সেলাই করে দাও’
                                  

মাগুরা পলি ক্লিনিকে নার্স দিয়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের মালিক ডা. মো. মুক্তাদির রহমানের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী তনু বেগমের (৩৮) জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়ে। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি পলি ক্লিনিকে ভর্তি হন। এ সময় রোগীর কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই বলা হয় এখনই অপারেশন না করলে তার মৃত্যু হতে পারে। ১৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টার দিকে ডা. মো. মুক্তাদির রহমান নিজে অপারেশন না করে ক্লিনিকের দুই সেবিকাকে অস্ত্রোপচার করতে বলেন।

অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ওই দুই নার্স অস্ত্রোপচার করতে গেলে রোগী তনু বেগম ডাক্তার কোথায় জানতে চান। এ সময় নার্সরা ‘ডাক্তার এখনই আসবেন’ বলে জানালেও নিজেরাই অস্ত্রোপচার করেন। পরে ওই নারীর জরায়ু ও টিউমারে অতিরিক্ত চর্বি দেখে ভয় পেয়ে ডাক্তারকে ফোন করলে প্রায় ১৫ মিনিট পর ডাক্তার সেখানে যান। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে নার্সদের বলেন ‘ঝামেলা আছে সেলাই করে দাও’।

পরে ডা. মুক্তাদির রহমান ওটি থেকে বের হয়ে রোগীর স্বামীকে বলেন, আপনাদের রোগীর অপারেশন এখানে হবে না। রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। এখনই ফরিদপুর নিয়ে যেতে হবে। সেখানে আমার পরিচিত ডাক্তাররা ব্যবস্থা নেবে।

রোগীর স্বামী রাজ্জাক বলেন, ডা. মুক্তাদির রহমান আমাদের ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, আপনারা রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মেডিকেলে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখে বলেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই মুহূর্তে তাকে অপারেশন করা যাবে না। এরপর থেকে তনু বেগম সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সিজারিয়ান রোগীদের পলি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অপারেশন করা হয়। এ ধরনের ঘটনা ডা. মুক্তাদির রহমান এর আগেও একাধিকবার পলি ক্লিনিকে ঘটিয়েছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে পলি ক্লিনিকসহ ডাক্তার মুক্তাদির রহমানের শাস্তি দাবি করেছেন রোগীর স্বামী আব্দুর রাজ্জাক।

এ ব্যাপারে ডা. মো. মুক্তাদির রহমান মুঠোফোনে বলেন, আসলে মাগুরায় এসব রোগীর অপারেশন হয় না। আমরা শুধু উপরের চামড়াটাই কেটেছিলাম। রোগীকে সেলাই করে পাঠিয়ে দিয়েছি। অপারেশন আমার নার্সরাই করে থাকে। আমি সময় পাই না।


   Page 1 of 11
     সম্পাদকীয়
দ্বিখন্ডিত শহরে দুর্ভোগও দ্বিগুণ
.............................................................................................
অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন দ্রুততম সময়ে সমঝোতায় আসা প্রয়োজন
.............................................................................................
ঘরে ফিরছে মানুষ ঈদ যাত্রা নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করুন
.............................................................................................
নিরাপদ হোক ঈদযাত্রা
.............................................................................................
দুর্যোগে করণীয়
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে দরপতন
.............................................................................................
কৃষিতে কৃষকের অরুচি সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি
.............................................................................................
প্রকল্পে সরাসরি অর্থ ছাড় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করুন
.............................................................................................
ঝুঁকিতে দুই কোটি শিশু এদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করুন
.............................................................................................
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ভয়ংকর পরিণতি থেকে রক্ষা পেতে হবে
.............................................................................................
বাড়ছে শ্রমিক অসন্তোষ মজুরি কমিশনের সুপারিশ আমলে নিন
.............................................................................................
রমজানে বাজারদর স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে
.............................................................................................
শিল্পায়নে বাধা
.............................................................................................
সড়কে মর্মান্তিক মৃত্যু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করুন
.............................................................................................
ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হোক
.............................................................................................
পেট কাটলেন নার্স, ডাক্তার বললেন ‘ঝামেলা আছে সেলাই করে দাও’
.............................................................................................
বাড়ছে উত্তাপ-উত্তেজনা
.............................................................................................
নির্বাচনের পরিবেশ
.............................................................................................
ক্ষতিপূরণ পেতে ভোগান্তি
.............................................................................................
জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
.............................................................................................
পরিবেশের প্রধান শত্রু প্লাস্টিক
.............................................................................................
বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে রোহিঙ্গারা
.............................................................................................
খুরা রোগের টিকা
.............................................................................................
চিকিৎসা বীমা
.............................................................................................
মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা
.............................................................................................
পানিও নিরাপদ নয়
.............................................................................................
মুদ্রাপাচার বেড়েই চলেছে
.............................................................................................
মুদ্রাপাচার বেড়েই চলেছে
.............................................................................................
মাদকে মৃত্যুদন্ড
.............................................................................................
বিশ্বমানের চিকিৎসা
.............................................................................................
গুজবের পিছে ছুটছে মানুষ
.............................................................................................
মিয়ানমারের নতুন উসকানি
.............................................................................................
স্বর্ণ নীতিমালা
.............................................................................................
শিশু যখন শ্রমিক
.............................................................................................
বেহাল স্বাস্থ্যসেবা
.............................................................................................
সম্ভাবনার কাঁকড়া শিল্প
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
.............................................................................................
ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিংকস
.............................................................................................
মির্জাপুরে কাঠ পোড়ানো চুল্লি
.............................................................................................
হুমকিতে তিন-চতুর্থাংশ মানুষ
.............................................................................................
বেহাল সড়ক ও সেতু
.............................................................................................
সর্বোচ্চ মৃত্যু বাংলাদেশে
.............................................................................................
নতুন মাদক খাত
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
.............................................................................................
সম্পর্কে নতুন মাত্রা
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ বিতর্কিত ধারাগুলো পর্যালোচনা করুন
.............................................................................................
পরিবেশদূষণ বড় ঘাতক
.............................................................................................
ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
.............................................................................................
ভুলে ভরা এনআইডি
.............................................................................................
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]