| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সড়কে মর্মান্তিক মৃত্যু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করুন

সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু যেন দেশের মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রতিকার নেই। দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে, প্রিয়জনের অকালমৃত্যুতে একটি পরিবারে চিরদিনের জন্য শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বাস মালিক-শ্রমিকদের কোনো বিকার নেই। গত বছর ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পঞ্চম দফায় ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলছে এখন। এরইমধ্যে জেব্রা ক্রসিংয়ে গত মঙ্গলবার বাবার সামনেই বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আবরার। সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রবেশের গেটের সামনে প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। আবরারের মৃত্যুর পর বিইউপিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দায়ী বাসচালকের সর্বোচ্চ শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ আটটি দাবি জানিয়ে দিনভর প্রগতি সরণি অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বুধবারও সড়ক অবরোধ করে তারা। প্রথম দিনের বিক্ষোভ নর্দ্দায় প্রগতি সরণিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন অংশে।
রাজধানীর গণপরিবহনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সড়ক-মহাসড়ক, এমনকি রাজধানীতেও অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। দেখার যেন কেউ নেই, আইন প্রয়োগের কোনো বালাই নেই। রাজধানী ঢাকায় যানবাহন, বিশেষ করে পাবলিক বাস চলাচলে কোনো নিয়মনীতি আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস নেই। সিটিং সার্ভিসের নামে সব বাসে ‘হাফ পাস নেই’ লেখা স্টিকার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে শিক্ষার্থীরা চলাচল করবে কিভাবে। সামান্য কয়েকজন বাস মালিক ও শ্রমিকের কাছে কি এই দেশ ও দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে? ঢাকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেই। ফিটনেসবিহীন বাস রাজপথে চালানোর অভিযোগে বাস মালিকের বিরুদ্ধেও তো মামলা হওয়া উচিত।
রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় হত্যার ঘটনায় টানা ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠলে তাদের ৯ দফা দাবি মানার আশ্বাস দেয় সরকার; ঘরে ফেরে শিক্ষার্থীরা। গত প্রায় আট মাসে শিক্ষার্থীদের ৯ দাবির মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। সাবেক নৌমন্ত্রী ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন। বাকি দাবিগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের সমন্বয়হীনতা ও ধারাবাহিক কর্মসূচির অভাবে দাবিগুলোর জোর যেন ফিকে হয়ে গেছে। কেন এমন হয়? কিসের জোরে বাস মালিক ও শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করার সাহস দেখাতে পারে?
সড়কে এই হত্যাকা- বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হোক। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

সড়কে মর্মান্তিক মৃত্যু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করুন
                                  

সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু যেন দেশের মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো প্রতিকার নেই। দুর্ঘটনায় একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে, প্রিয়জনের অকালমৃত্যুতে একটি পরিবারে চিরদিনের জন্য শূন্যতা সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু বাস মালিক-শ্রমিকদের কোনো বিকার নেই। গত বছর ২৯ জুলাই বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর পঞ্চম দফায় ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা সপ্তাহ’ চলছে এখন। এরইমধ্যে জেব্রা ক্রসিংয়ে গত মঙ্গলবার বাবার সামনেই বাসচাপায় প্রাণ হারিয়েছেন আবরার। সকালে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রবেশের গেটের সামনে প্রগতি সরণিতে সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত সুপ্রভাত পরিবহনের বাসের চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। আবরারের মৃত্যুর পর বিইউপিসহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দায়ী বাসচালকের সর্বোচ্চ শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করাসহ আটটি দাবি জানিয়ে দিনভর প্রগতি সরণি অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। বুধবারও সড়ক অবরোধ করে তারা। প্রথম দিনের বিক্ষোভ নর্দ্দায় প্রগতি সরণিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও বুধবার সকাল থেকে তা ছড়িয়ে পড়েছে ঢাকার বিভিন্ন অংশে।
রাজধানীর গণপরিবহনে কোনো শৃঙ্খলা নেই। সড়ক-মহাসড়ক, এমনকি রাজধানীতেও অবাধে চলছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন। দেখার যেন কেউ নেই, আইন প্রয়োগের কোনো বালাই নেই। রাজধানী ঢাকায় যানবাহন, বিশেষ করে পাবলিক বাস চলাচলে কোনো নিয়মনীতি আছে বলে মনে হয় না। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাস নেই। সিটিং সার্ভিসের নামে সব বাসে ‘হাফ পাস নেই’ লেখা স্টিকার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলে শিক্ষার্থীরা চলাচল করবে কিভাবে। সামান্য কয়েকজন বাস মালিক ও শ্রমিকের কাছে কি এই দেশ ও দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে? ঢাকার পাবলিক ট্রান্সপোর্টে শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো কার্যকর উদ্যোগও নেই। ফিটনেসবিহীন বাস রাজপথে চালানোর অভিযোগে বাস মালিকের বিরুদ্ধেও তো মামলা হওয়া উচিত।
রাজধানীর শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় হত্যার ঘটনায় টানা ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠলে তাদের ৯ দফা দাবি মানার আশ্বাস দেয় সরকার; ঘরে ফেরে শিক্ষার্থীরা। গত প্রায় আট মাসে শিক্ষার্থীদের ৯ দাবির মধ্যে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ জাতীয় সংসদে অনুমোদন হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। সাবেক নৌমন্ত্রী ক্ষমা প্রার্থনাও করেছেন। বাকি দাবিগুলো এখনো প্রক্রিয়াধীন। প্রধানমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হলেও তাদের সমন্বয়হীনতা ও ধারাবাহিক কর্মসূচির অভাবে দাবিগুলোর জোর যেন ফিকে হয়ে গেছে। কেন এমন হয়? কিসের জোরে বাস মালিক ও শ্রমিকরা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর কার্যালয়ের নির্দেশনা অমান্য করার সাহস দেখাতে পারে?
সড়কে এই হত্যাকা- বন্ধ করতে উদ্যোগ নেওয়া হোক। লাইসেন্সবিহীন চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হোক
                                  

চিকিৎসা একটি সার্বক্ষণিক পেশা। একজন চিকিৎসককে রোগীদের ব্যাপারে সব সময় মনোযোগী থাকতে হয়। কখনো কখনো কোনো রোগীকে দিন-রাত পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। চিকিৎসা পেশাকে ব্রত হিসেবে নিয়ে যাঁরা এই ক্ষেত্রে কাজ করতে আসেন, তাঁদের নিষ্ঠা নিয়ে কখনো প্রশ্ন ওঠার কথা নয়। কিন্তু সরকারি হাসপাতালের বেশির ভাগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে এত বেশি মনোযোগী যে হাসপাতালের রোগীদের ব্যাপারে তাঁদের কোনো মনঃসংযোগ নেই। অন্যদিকে কেউ কেউ নিয়ম মেনে অফিস সময় শেষ করে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে বাইরে চলে যান। অনেকেই একাধিক চেম্বার করেনÑএমন অভিযোগ আছে। দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে এর আগে সংবাদমাধ্যেমে প্রকাশিত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসকরা যে নিজেদের কর্মস্থলের চেয়ে ক্লিনিক কিংবা প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যাপারে বেশি মনোযোগী, পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা, পছন্দের ক্লিনিক বা বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে তাঁদের বেশির ভাগের আগ্রহ বেশিÑএমন খবর সেসব প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। হাতে গোনা কয়েকটি বাদ দিলে দেশের বেশির ভাগ সরকারি হাসপাতালে কোনো শৃঙ্খলা আছে বলে মনে হয় না। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এই চিত্র সবার চোখেই ধরা পড়ে। গ্রামে থাকার ব্যাপারে চিকিৎসকদের অনীহা, ঢাকা কিংবা শহরাঞ্চলে থাকার প্রবণতাও লক্ষণীয়। এ অবস্থার অবসান হওয়া দরকার। চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসমুখী নয়, হাসপাতালমুখী হতে হবে।
চিকিৎসাসেবা আর দশটি পেশার মতো নয়। মহৎ পেশা হিসেবে গণ্য এই পেশাটি সার্বিক অর্থেই ব্রতসাধনার মতো। কিন্তু বাজার অর্থনীতির সস্তা সময়ে এই মহৎ পেশাটিকেও অনেকাংশে বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। ফলে সেবা নয়, বাণিজ্যই যেন চিকিৎসকদের কাছে প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। এর সুযোগ নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও গড়ে উঠেছে প্রচুর ক্লিনিক। এসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের কোনো নিজস্ব ডাক্তার-নার্স নেই। সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সরাই সেখানে কাজ করেন। একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের বাইরে গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারি হাসপাতালে বসেই যেন চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি হাসপাতালে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা থাকলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রতিও চিকিৎসকরা দৃষ্টি দিতে পারবেন। ঢাকার দুটি বড় হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের ব্যবস্থা আছে। তার ইতিবাচক ফলও পাওয়া গেছে। আমরা আশা করব, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

পেট কাটলেন নার্স, ডাক্তার বললেন ‘ঝামেলা আছে সেলাই করে দাও’
                                  

মাগুরা পলি ক্লিনিকে নার্স দিয়ে অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠেছে ক্লিনিকের মালিক ডা. মো. মুক্তাদির রহমানের বিরুদ্ধে। বর্তমানে ওই নারী ফরিদপুর মেডিকেলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাগুরা সদর উপজেলার আবালপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী তনু বেগমের (৩৮) জরায়ুতে টিউমার ধরা পড়ে। গত ১৩ জানুয়ারি তিনি পলি ক্লিনিকে ভর্তি হন। এ সময় রোগীর কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই বলা হয় এখনই অপারেশন না করলে তার মৃত্যু হতে পারে। ১৪ জানুয়ারি শনিবার সকাল ৯টার দিকে ডা. মো. মুক্তাদির রহমান নিজে অপারেশন না করে ক্লিনিকের দুই সেবিকাকে অস্ত্রোপচার করতে বলেন।

অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) ওই দুই নার্স অস্ত্রোপচার করতে গেলে রোগী তনু বেগম ডাক্তার কোথায় জানতে চান। এ সময় নার্সরা ‘ডাক্তার এখনই আসবেন’ বলে জানালেও নিজেরাই অস্ত্রোপচার করেন। পরে ওই নারীর জরায়ু ও টিউমারে অতিরিক্ত চর্বি দেখে ভয় পেয়ে ডাক্তারকে ফোন করলে প্রায় ১৫ মিনিট পর ডাক্তার সেখানে যান। কিন্তু রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে নার্সদের বলেন ‘ঝামেলা আছে সেলাই করে দাও’।

পরে ডা. মুক্তাদির রহমান ওটি থেকে বের হয়ে রোগীর স্বামীকে বলেন, আপনাদের রোগীর অপারেশন এখানে হবে না। রোগীর অবস্থা খুবই খারাপ। এখনই ফরিদপুর নিয়ে যেতে হবে। সেখানে আমার পরিচিত ডাক্তাররা ব্যবস্থা নেবে।

রোগীর স্বামী রাজ্জাক বলেন, ডা. মুক্তাদির রহমান আমাদের ফরিদপুরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখি আমাদের ফরিদপুর ডায়াবেটিস হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, আপনারা রোগীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

মেডিকেলে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দেখে বলেন, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এই মুহূর্তে তাকে অপারেশন করা যাবে না। এরপর থেকে তনু বেগম সেখানেই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সিজারিয়ান রোগীদের পলি ক্লিনিকে পাঠানো হয়। পরে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে অপারেশন করা হয়। এ ধরনের ঘটনা ডা. মুক্তাদির রহমান এর আগেও একাধিকবার পলি ক্লিনিকে ঘটিয়েছেন বলেও তারা অভিযোগ করেন।

এ ব্যাপারে পলি ক্লিনিকসহ ডাক্তার মুক্তাদির রহমানের শাস্তি দাবি করেছেন রোগীর স্বামী আব্দুর রাজ্জাক।

এ ব্যাপারে ডা. মো. মুক্তাদির রহমান মুঠোফোনে বলেন, আসলে মাগুরায় এসব রোগীর অপারেশন হয় না। আমরা শুধু উপরের চামড়াটাই কেটেছিলাম। রোগীকে সেলাই করে পাঠিয়ে দিয়েছি। অপারেশন আমার নার্সরাই করে থাকে। আমি সময় পাই না।

বাড়ছে উত্তাপ-উত্তেজনা
                                  

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের মনোনীত প্রার্থী চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে। নিজেদের জন্য ২৪০ আসন রেখে জাতীয় পার্টি ছাড়া অন্য ছয় শরিক দলের ১৬ প্রার্থীকে নৌকার চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আসন ভাগাভাগির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেছে। অন্যদিকে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টও তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনের মাঠে প্রার্থীদের পদচারণা শুরু হবে। ওদিকে দলের অভ্যন্তরে চলছে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজ। এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো কী প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে আসতে চায়, তা স্পষ্ট হবে নির্বাচনী ইশতেহারে। নির্বাচনী ইশতেহারে অংশীজনদের চাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হচ্ছে। নির্বাচনী এলাকাগুলোতে এরইমধ্যে দল ও প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কর্মী-সমর্থকদের সংগঠিত করার কাজও এগিয়ে রাখা হচ্ছে। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই পুরোদমে শুরু হবে প্রচারাভিযান। দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক বাছাইয়ে বাতিল হয়ে যাওয়া প্রার্থীদের আপিলও চলছে। অনেকেই আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। অনেককে হতাশও হতে হয়েছে। আবার নির্বাচনী উত্তেজনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটতে শুরু করেছে। ঘটেছে হতাহতের ঘটনাও।
দেশে সব ধরনের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হলেও এবারের নির্বাচনে চিত্র একেবারেই ভিন্ন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি অংশ নেয়নি। এবার বিএনপি যেমন ২০ দলীয় জোটের প্রধান শরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তেমনি দলটি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গেও রয়েছে। এ অবস্থায় দেশের নির্বাচনমুখী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ হতে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহলের ধারণা। তবে রাজনৈতিক দলগুলোকে অবশ্যই নির্বাচনের মাঠে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার আগেই উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোই বলে দিচ্ছে, অনেকেরই ধৈর্যচ্যুতি ঘটতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকদের বুঝতে হবে, কোনোভাবেই নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। সব দলের অংশগ্রহণে এবার একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে যাচ্ছে। দেশের মানুষের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলও এ নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে আছে। কাজেই নির্বাচন অর্থবহ করে তোলার দায়িত্ব সবার। নির্বাচন কমিশন যেমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেসব এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবস্থা নেবে, তেমনি প্রশাসনও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চললে পরিবেশ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অনুকূলে থাকবে। আমরা আশা করি, ভোটের দিন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

নির্বাচনের পরিবেশ
                                  

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এ মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার পরই সব রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনী লড়াইয়ে উঠেপড়ে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় এলেই জনমনে নানামুখী শঙ্কা দেখা দেয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক অশান্তিরও সৃষ্টি হয়। উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বলা হলেও কখনো কখনো নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সহিংসনির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। এ মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। তফসিল ঘোষণার পরই সব রাজনৈতিক দল ও জোট নির্বাচনী লড়াইয়ে উঠেপড়ে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় এলেই জনমনে নানামুখী শঙ্কা দেখা দেয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক অশান্তিরও সৃষ্টি হয়। উৎসবমুখর পরিবেশের কথা বলা হলেও কখনো কখনো নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতা আতঙ্ক জাগায়। বিগত নির্বাচনের আগেও দেখা গেছে, নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় পুড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হয় দেশের সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা হয়। এমনিতেই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। নির্বাচন এলে সেই নিরাপত্তাহীনতা আরো বেড়ে যায়। অথচ বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শের কথা আমরা বরাবর বলে এসেছি, তারও মূলমন্ত্র অসাম্প্রদায়িকতা। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যখন আঘাত আসে, সেই আঘাত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাতের শামিল। আমরা সব সময় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন সহাবস্থান করবে, একইভাবে সব রাজনৈতিক মতবাদের মানুষও তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে থাকবে। কিন্তু আজকের দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা এই যে সেখানে পেশিশক্তির ব্যবহার অনেক সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। অবৈধ টাকার প্রভাবে কলুষিত হয় রাজনীতি। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষীরা পেশিশক্তিকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এ অবস্থা বিবেচনায় রেখেই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির এ নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীরা যে নতুন করে সংগঠিত হতে চাচ্ছেÑএমন খবর গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এসেছে। তা ছাড়া কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দেওয়া জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাসে জঙ্গি আস্তানার খবর পাওয়া গেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তার মানে এই নয় যে জঙ্গিরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। তারা যে সংগঠিত হয়ে দেশের শান্তি বিনষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ অবস্থায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। এখন থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। আমরা আশা করব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।তা আতঙ্ক জাগায়। বিগত নির্বাচনের আগেও দেখা গেছে, নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সহিংসতায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় পুড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বলি হতে হয় দেশের সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা হয়। এমনিতেই দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। নির্বাচন এলে সেই নিরাপত্তাহীনতা আরো বেড়ে যায়। অথচ বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে আদর্শের কথা আমরা বরাবর বলে এসেছি, তারও মূলমন্ত্র অসাম্প্রদায়িকতা। দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যখন আঘাত আসে, সেই আঘাত মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আঘাতের শামিল। আমরা সব সময় একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। দেশের সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন সহাবস্থান করবে, একইভাবে সব রাজনৈতিক মতবাদের মানুষও তাদের রাজনৈতিক আদর্শ ও বিশ্বাস নিয়ে থাকবে। কিন্তু আজকের দিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা এই যে সেখানে পেশিশক্তির ব্যবহার অনেক সময় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নির্বাচনের সময় সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো তৎপর হয়ে ওঠে। অবৈধ টাকার প্রভাবে কলুষিত হয় রাজনীতি। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষীরা পেশিশক্তিকে ক্ষমতায় যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। এ অবস্থা বিবেচনায় রেখেই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির এ নির্দেশনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীরা যে নতুন করে সংগঠিত হতে চাচ্ছেÑএমন খবর গণমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে এসেছে। তা ছাড়া কিছুদিনের জন্য গা ঢাকা দেওয়া জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো নতুন করে তৎপরতা শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েক মাসে জঙ্গি আস্তানার খবর পাওয়া গেছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে। তার মানে এই নয় যে জঙ্গিরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। তারা যে সংগঠিত হয়ে দেশের শান্তি বিনষ্ট করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ অবস্থায় আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করতে হবে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো যাতে কোনোভাবেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেদিকে কড়া দৃষ্টি রাখতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন।

নির্বাচনের আর বেশিদিন বাকি নেই। এখন থেকেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে। আমরা আশা করব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

ক্ষতিপূরণ পেতে ভোগান্তি
                                  

বিদেশে কর্মরত প্রায় এক কোটি বাংলাদেশীর কঠিন শ্রমের কল্যাণে অর্জিত প্রবাসী আয়ে দিন দিন সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের জাতীয় আয় ও সমৃদ্ধি। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সে তুলনায় যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা তারা পান না না স্বদেশে না বিদেশে। বাস্তবতা হলো বিদেশে কর্মরতদের অধিকাংশই শ্রমিক শ্রেণীর। কায়িক শ্রমের সঙ্গে জড়িত একেবারে মাথার ঘাম পায়ে ফেলার অবস্থা আর কি! দক্ষ ও আধা দক্ষ কিছু শ্রমিক থাকলেও তাদের সংখ্যা খুব কম। যা হোক, প্রতিনিয়ত কায়িক শ্রমে জর্জরিত এসব শ্রমিক কালেভদ্রে দেশে এলে তেমন সমাদর পান না শাহ্ জালাল অথবা শাহ্ আমানত বিমানবন্দরে। সে অবস্থায় বিদেশ-বিভুঁইয়ে শ্রমজীবীদের কি রকম দুরবস্থার মুখোমুখি ও হেনস্তা হতে হয় তা সহজেই অনুমেয়। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের কল্যাণে প্রায় প্রতিদিনই অসহায় এসব শ্রমজীবীর সুখ-দুঃখের খবর আমাদের গোচরে এসে থাকে। এর পাশাপাশি পাওয়া যায় কর্মস্থলে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুসহ সড়ক দুর্ঘটনা অথবা অন্যবিধ কারণে মৃত্যুর খবরাখবরও। এর বাইরেও রয়েছে মর্মান্তিক মৃত্যুর পর প্রাপ্ত দেনা-পাওনার হিসাব ও ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগ। এই হিসাব পেতে এবং মেলাতেই নিহত ও আহতদের স্বজনদের কেটে যায় বছরের পর বছর। প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর শুধু সৌদি আরবেই প্রবাসী শ্রমিক মৃত্যুর হার মাসে প্রায় ৩০টি। মধ্যপ্রাচ্যসহ অন্য সব দেশ মিলিয়ে প্রতি মাসে দুই শতাধিক শ্রমিকের মরদেহ এসে থাকে ঢাকায়। বিমান বাংলাদেশ এ হতভাগাদের দেশে ফিরিয়ে আনে বিনা ভাড়ায়। কেননা সৌদি আরবসহ প্রায় দেশেই দুর্ঘটনা বা অন্যবিধ কারণে অকাল মৃত্যু হলেও ক্ষতিপূরণসহ দেনা-পাওনা আদায় দুরূহ ও সময়সাপেক্ষ। এসব ক্ষেত্রে আইনি নানা বাধ্যবাধকতা ও জটিল হিসাব-নিকাশ রয়েছে, যেগুলো আমলাতান্ত্রিক ও দেন-দরবারের বিষয়। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে এ ক্ষেত্রে জনবল সঙ্কটসহ চেষ্টা-তদ্বিরের ঘাটতির বিষয়টিও সুবিদিত। প্রবাসীর লাশ বাংলাদেশে পৌঁছালেও ভোগান্তির অন্ত থাকে না স্বজনদের। দুঃখভারাক্রান্ত চিত্তে তারা প্রিয়জননের লাশ নিতে যেখানেই ধর্ণা দেন না কেন, পদে পদে ভোগান্তি। এমনকি শাহজালাল বিমানবন্দর কার্গো হাউস থেকে লাশ দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা পেতেও ভোগান্তির শেষ নেই, ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি দূর অস্ত। তবে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাতে ওই দেশে নিহত শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া সহজীকরণসহ স্বল্প সময়ে যাতে নিশ্চিত করা যায়, তার চেষ্টা চলছে।

এর পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিক ও কর্মীদের জন্য বীমা করার পথও প্রশস্ত হচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে জাতিসংঘ প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণে জীবন বীমা (ইন্স্যুরেন্স) করার জন্য তাগিদ দিয়ে আসছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে। সম্প্রতি প্রবাসী কলাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী জেনেভায় এতদসম্পর্কিত জাতিসংঘ কনভেনশনে অনুসমর্থন দিয়েছে বাংলাদেশের পক্ষে। ফলে প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তায় বিভিন্ন ধরনের বীমা করার পথ সুগম হয়েছে। আরও যা আশার কথা তা হলো, এর জন্য আপাতত নতুন করে অর্থ বরাদ্দের আবশ্যকতা নেই। প্রবাসী কল্যাণ তহবিলে বিদেশে কর্মরতদেরই প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা পড়ে আছে। বিদেশে কোন কর্মী মৃত্যুবরণ করলে আপাতত এই তহবিল থেকে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা হয়। যা হোক, প্রবাসীদের জন্য বীমা কোম্পানি চালু করা হলে প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবসহ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসনসহ নানা ক্ষেত্রে সাহায্য-সহযোগিতা করা যাবে। মনে রাখতে হবে যে, প্রবাসী কর্মী ও শ্রমজীবীরা নানা দেশে নানা রকম ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। তাদের প্রতিনিয়ত কষ্টার্জিত অর্থেই দিন দিন সচল ও সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি।

জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
                                  

দেশে গুম-খুনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বাড়ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। সাধারণ মানুষ তো বটেই, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সদস্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। তার ওপর সামনে রয়েছে জাতীয় নির্বাচন। সাধারণভাবে দেখা যায়, এ সময় অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় দেখা যায়, জঙ্গি-সন্ত্রাসীরাও এই সুযোগে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামের মিরসরাই, নরসিংদীর মাধবদীসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছে বেশ কিছু জঙ্গি। তাদের স্বীকারোক্তিতেও উঠে এসেছে এমন তথ্য। অস্ত্র ব্যবসায়ীরাও তৎপর হয়ে উঠেছে। গত ৭ অক্টোবর কক্সবাজার থেকে ঢাকায় আসার পথে গ্রেপ্তার হয়েছে দুই অস্ত্র ব্যবসায়ী। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আটটি আগ্নেয়াস্ত্র। সীমান্ত পথেও অস্ত্র আসছে বলে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়। গোয়েন্দা তথ্যেও জানা যায়, অনেক চোরাচালানকারী এখন মাদক ও অস্ত্রের চোরাচালান একসঙ্গেই করছে। এমন পরিস্থিতিতে শিগগিরই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সাঁড়াশি অভিযান অত্যন্ত জরুরি। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এরইমধ্যে অস্ত্রধারী, চোরাকারবারি ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে।
পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, সীমান্ত পথে চোরাচালান বর্তমানে ভয়াবহ পর্যায়ে চলে গেছে। সারা দেশে মাদকের ছড়াছড়ি থেকেও তা কিছুটা অনুমান করা যায়। প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা মাদকের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরকদ্রব্যও আসছে। সীমান্ত রক্ষায় আমাদের আয়োজন ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে যেমন ঘাটতি রয়েছে, তেমনি রয়েছে সড়কসহ অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা। তদুপরি সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও কম নয়। ফলে কার্যকর চোরাচালান প্রতিরোধের কাজটি খুব একটা সফল হচ্ছে না। দ্রুত এই পরিস্থিতির উন্নয়ন করতে হবে। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিককালে আমাদের সবচেয়ে সুসম্পর্ক বিরাজ করছে। আঞ্চলিকভাবে সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে নানা ধরনের ঘোষিত-অঘোষিত সমঝোতা রয়েছে। অথচ পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, দেশে আসা অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটা বড় অংশই আসে ভারতীয় সীমান্ত পথে। অনেকেই মনে করেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সঙ্গে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কার্যকর সহযোগিতাই পারে অস্ত্র চোরাচালান উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে আনতে। দ্রুত এই সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের মধ্যেও এখন অস্ত্র তৈরি হচ্ছে বলে খবর পাওয়া যায়। এসব প্রচেষ্টা অঙ্কুরেই বিনাশ করতে হবে। তা সত্ত্বেও দেশের ভেতরে যে পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে মানুষ উদ্বিগ্ন। তাই এসব অস্ত্র উদ্ধারে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এ ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। প্রয়োজনে এই যৌথ অভিযানে সেনাবাহিনীরও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।
আমরা চাই না, জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক। তাই জননিরাপত্তার বিষয়টিতে সরকারকে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। আমরা আশা করি, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি বন্ধ করতে সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

পরিবেশের প্রধান শত্রু প্লাস্টিক
                                  

প্লাস্টিক এখন সারা দুনিয়ায় পরিবেশের জন্য এক নম্বর শত্রু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাটিদূষণ, জলাশয়ের চরিত্র বদলে দেওয়া, পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা, জলজ প্রাণী ধ্বংস করাসহ বহুবিধ ক্ষতি হচ্ছে এই প্লাস্টিক দিয়ে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, প্লাস্টিকের এই অবাধ প্রবাহ বন্ধ করা না গেলে আগামি দু-তিন দশকের মধ্যে বিশ্ব এক বিপর্যয়কর অবস্থায় চলে যাবে। তাই দুনিয়াব্যাপী প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে অনেক ধরনের প্লাস্টিকের দ্রব্য সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রকৃতিতে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে সেগুলো ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন সচেতনতা কোথায়? না সরকারিভাবে, না ব্যক্তিপর্যায়েÑপ্লাস্টিকের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এমন অবস্থায় একটি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের প্রধান ও রাষ্ট্রদূত রেঞ্চা টিয়েরিংকসহ ইইউ মিশনের কর্মীরা। তাঁরা গত বৃহস্পতিবার ঢাকার হাতিরঝিল লেক এলাকায় ঘুরে ঘুরে ১০ বস্তা ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক-পলিথিনদ্রব্য সংগ্রহ করেছেন।
বাংলাদেশে আইনত পলিথিনের ব্যাগ উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ; কিন্তু সেটি কাগজে-কলমে। বাস্তবে আমরা বাজারে বা দোকানে গিয়ে এক হালি ডিম কিনলেও তা পলিথিন ব্যাগে দেওয়া হবে। বাসায় নিয়ে পলিথিনটা যেখানে-সেখানে ফেলে দিই। খাদ্যদ্রব্য কিনলেও প্লাস্টিক বা পলিথিনে দেওয়া হবে। যেখানে বসে খাব, সেখানেই ফেলে দেব প্লাস্টিকের কাপ বা ব্যাগ। তা না হলে হাতিরঝিল লেক এলাকায় ১০ বস্তা পলিথিন জমবে কেন? উন্নত দেশগুলোতেও প্লাস্টিকের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার রয়েছে। ক্রমেই সেগুলো কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। মানুষ তা মেনে চলছে। অনেক দূর হেঁটে গিয়েও নির্দিষ্ট স্থানে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলছে। কেউ অন্যথা করলে শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু আমাদের সেই সচেতনতা কোথায়? আইন মানানোর উদ্যোগ কোথায়?
প্রতি বর্ষায় জলাবদ্ধতা এখন ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর প্রধান ভোগান্তি। এর মূল কারণ প্লাস্টিক জমে ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং বৃষ্টির পানি নামতে না পারা। তখন সাধারণ মানুষ সরকারকে দোষ দেয় আর সরকার যত্রতত্র পলিথিন ফেলার জন্য মানুষকে দোষ দেয়। চলতে থাকে দোষারোপের খেলা। কিন্তু এতে ভোগান্তির কোনো হেরফের হয় না। এটা ঠিক, জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রধান দায় সরকারের। কিন্তু আমাদের দায়ও অস্বীকার করার উপায় নেই। কেন আমরা পলিথিনের ব্যবহার কমাতে পারছি না? যত্রতত্র পলিথিন ফেলার বদ-অভ্যাসটি কেন ত্যাগ করতে পারছি না। ইইউ রাষ্ট্রদূত যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, আমরা কি তা অনুসরণ করতে পারি না? আমাদের বাসস্থান, আমাদের এলাকা অন্য কারো নয়, আমাদেরই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে রোহিঙ্গারা
                                  

মানবিক দিক বিবেচনা করেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজার এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে অবস্থান করছে। তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনেকেই আশ্রয়শিবির ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে। একটি অংশের চেষ্টা রয়েছে এ দেশের মূল জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যাওয়ার। এমনিতেই কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গাদের বসবাসের কারণে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিশে যেতে চাইলে তারও বিরূপ প্রভাব পড়বে। আশ্রয়শিবির ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার সময় অনেকেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়ার পর তাদের আবার আশ্রয়শিবিরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে দেশের বিভিন্ন জেলায়ও রোহিঙ্গাদের আটক করা হয়েছে। সবচেয়ে আতঙ্কের কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের অনেক দেশে ছড়িয়ে পড়ছে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গারা অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছে অনেক রোহিঙ্গা। এখন তাদের সহায়তায় অনেকে অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করছে। বিদেশে আগে থেকে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও একটি গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি সাজিয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে সহায়তা করছে বলে আইওএমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের।
বাংলাদেশের জনশক্তি বিদেশে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করে। দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, তার একটি বড় অংশ আসে জনশক্তির মাধ্যমে। কিন্তু এই সেক্টরেও অনেক সুযোগসন্ধানী গোষ্ঠী সক্রিয়। ফলে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়। বিদেশে গিয়ে অবৈধ হয়ে যাওয়ার উদাহরণও কম নেই। এ অবস্থায় রোহিঙ্গারা যদি অবৈধভাবে বিদেশে গিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করে, তবে তার দায় অনেকটাই বাংলাদেশের ওপর এসে পড়বে। এমনিতেই বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়ার পর ওই এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়েছে। আইওএম ও তার অংশীদাররা মানবপাচার ও শোষণের অন্তত ৯৯টি ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবপাচারকারীরাও রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সক্রিয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি রোহিঙ্গা পুরুষদের কেউ কেউ দাস জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে।
এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি করাতে হবে। সব সংকট থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন। কাজটি যত দ্রুত করা যাবে ততই মঙ্গল। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যত বেশিদিন এখানে অবস্থান করবে সমস্যা তত বাড়বে। আমরা আশা করব, বাংলাদেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও রোহিঙ্গা পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

খুরা রোগের টিকা
                                  

খুরা রোগ ছোঁয়াচে প্রকৃতির মারাত্মক একটি রোগ। বিভক্ত খুরের পশুদের এ রোগ হয়। এটি ভাইরাসজনিত। বাংলাদেশে গবাদি পশুর মধ্যে গরু এ রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়; কখনো মড়ক আকারে দেখা দেয়। যেকোনো ঋতুতেই এ রোগ দেখা দিতে পারে, সাধারণত বর্ষার শেষে এর প্রাদুর্ভাব বেশি। খুরা রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়; জিহ্বা, মাড়ি, মুখগহ্বর ও খুরে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। ক্ষতের কারণে মুখ থেকে লালা ঝরে এবং সাদা ফেনা বের হয়। কখনো ওলানে ফোসকা পড়ে। এ রোগে বয়স্ক গরুর মৃত্যু কম হলেও বাছুরকে রক্ষা করা খুবই কঠিন।
বাংলাদেশে গবাদি পশুর খুরা রোগের কারণে প্রতিবছর ১২৫ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। সুসংবাদ হলো, এ রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশি গবেষকরা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণার ক্ষেত্রে এ উদ্ভাবন মাইলফলক হয়ে থাকবে। উদ্ভাবিত টিকা বাংলাদেশে বিদ্যমান খুরা রোগের তিন ধরনের ভাইরাসের সব ধরনের সংক্রমণ থেকে গবাদি পশুকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম হবে। এটি সাশ্রয়ীও। বাজারে প্রচলিত টিকার চেয়ে এর মূল্য অনেক কম পড়বে। আমদানীকৃত প্রতিটি টিকার দাম পড়ে কমপক্ষে ১২০ টাকা। উচ্চমূল্যের কারণে খামারিরা তাদের গবাদি পশুকে টিকা দিতে চায় না। উদ্ভাবিত টিকার দাম পড়বে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অবশ্য এটিকে বাজারজাত করতে আরো বছর দেড়েক সময় লাগবে। এ টিকার বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হলে খুরা রোগের চিকিৎসা ব্যয় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমবে। পরে এর দাম আরো কমবে।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে এক দল গবেষক গবাদি পশুর খুরা রোগ প্রতিরোধের জন্য এ টিকা উদ্ভাবন করেছেন। গবেষকদলে মোট ১৭ জন ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ গবেষণা পরিচালিত হয়। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্ভাবিত টিকার বিষয়ে অবহিত করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এটি উদ্ভাবন করতে ছয় বছরের বেশি সময় লেগেছে। এরইমধ্যে এর পেটেন্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদ গবেষণায় বাংলাদেশের সুনাম রয়েছে। উচ্চফলনশীল ধানের জাত ও বিভিন্ন জাতের সবজি উদ্ভাবনে বাংলাদেশি বিজ্ঞানী-গবেষকরা অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন এবং রাখছেন। পশু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে তাঁদের। খুরা রোগের টিকা উদ্ভাবন সে ধারায় নব সংযোজন। এটি খামারিদের হাতে পৌঁছলে প্রাণিসম্পদের সুরক্ষা আরো নিশ্চিত হবে। ক্ষতির পরিমাণ অনেক কমবে। যত দ্রুত এটিকে বাজারজাত করা যাবে ততই মঙ্গল।

চিকিৎসা বীমা
                                  

বাংলাদেশে দরিদ্রদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে তাদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প চালু করেছে সরকার দুই বছর আগে। এবার সরকারী চাকরিজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য চালু করা হচ্ছে চিকিৎসা বীমা। অত্যন্ত সুসংবাদ বৈকি সশ্লিষ্টদের জন্য। বলা যায়, যুগান্তকারী উদ্যোগ। চিকিৎসা বীমার আওতায় কোন সরকারী চাকরিজীবী কিংবা পরিবারের সদস্য অসুস্থ হলে তার পুরো চিকিৎসার ব্যয় বহন করা হবে। অবশ্য এজন্য প্রত্যেক চাকরিজীবীর বেতন থেকে অল্প পরিমাণ অর্থ কেটে নেয়া হবে। কর্তনযোগ্য এই অর্থের পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। সরকারকে এজন্য সাধুবাদ জানাতেই হয়।
অসুখ-বিসুখ মানবজীবনে একটি স্বাভাবিক বিষয় হলেও আক্রান্তদের জন্য তা অত্যন্ত পীড়াদায়ক। দেশে নানাবিধ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। যথাযথ চিকিৎসা পেলে অনেক অসুস্থজন সুস্থ হতে পারেন। এমনকি মরণব্যাধিতে আক্রান্তজনও সুস্থ হওয়ার পথ পেয়ে যেতে পারেন চিকিৎসার কল্যাণে। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছতে না পারলে বেঁচে থাকা দুঃসাধ্য প্রায়। চাকরিজীবীদের সীমিত আয়ে কিংবা দরিদ্রজনের জীবনে বাস্তবসম্মত চিকিৎসা প্রাপ্তি ক্ষীণপ্রায়। এমনিতে দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের প্রাদুর্ভাব, নতুন চিকিৎসা পদ্ধতিÑ বিবিধ কারণে চিকিৎসাসেবার খরচ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব কারণে হতদরিদ্র থেকে নি¤œ আয়ের কিংবা মধ্যম আয়ের চাকরিজীবীরা বহু ক্ষেত্রেই নূন্যতম অর্থের অভাবে সঠিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারে না। এমনকি অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে সর্বস্বান্তও হয়ে পড়ে। এ দেশে মানুষের মাথাপিছু স্বাস্থ্যব্যয় ২৭ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এশিয়া মহাদেশের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার পেছনে সবচেয়ে বেশি নিজের তহবিলের টাকা ব্যয় করতে হয়। নানাবিধ জটিলতার কারণে দেশের বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা পদ্ধতিতে দরিদ্র মানুষ যেমন, তেমনি নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরাও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। ব্যক্তি পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে প্রতিবছর বাংলাদেশে চার শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমায় পা রাখছেন। অপরদিকে সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আকস্মিক দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার ব্যয় বহনের মতো পৃথক কোন হাসপাতাল নেই। ফলে বাধ্য হয়েই তাদের প্রাইভেট ক্লিনিক বা হাসপাতালে নিজ খরচে চিকিৎসা নিতে হয়। এর ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে পরিবারগুলো আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসার জন্য মাসিক দেড় হাজার টাকা ভাতা অত্যন্ত অপ্রতুল অবশ্যই। আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে তাদের এবং পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা বীমার আওতায় আনা হচ্ছে। অবশ্য এজন্য সকলকে নির্ধারিত হারে ‘প্রিমিয়াম’ প্রদান করতে হবে। এর ফলে যখন যার চিকিৎসার প্রয়োজন হবে তখন তিনি প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা পাবেন। এ ছাড়া যার চিকিৎসার প্রয়োজন পড়বে না তিনি ওই বীমার কোন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন না। কিন্তু প্রিমিয়াম যথারীতি প্রদান করতে হবে। এ প্রক্রিয়ায় একজনের অর্থে অন্যরাও চিকিৎসা পাবেন। বিশেষত নি¤œবিত্তের চিকিৎসায় উচ্চবিত্তের আর্থিক ও অংশগ্রহণমূলক সহায়তায় বাধ্যবাধকতা থাকবে। চিকিৎসা বীমা চালু হলে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের প্রত্যেকের চিকিৎসার খরচ জোগানো হবে। পাশাপাশি ইতোপূর্বে চালু হওয়া দরিদ্রদের জন্য ‘স্বাস্থ্য বীমা’ নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে বৈকি। তথাপি এই কমিউনিটি স্বাস্থ্য বীমা গতানুগতিক বাণিজ্য বীমা হতে আলাদা। তা আলাভজনক বীমা ব্যবস্থা, যা সমাজের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর জন্য আর্থিক সুরক্ষা ও দরিদ্রদের গুণগত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে। ছয় বছর আগে উপকূলীয় অঞ্চল চকরিয়াতে চালু হওয়া প্রকল্পের অভিজ্ঞতা থেকে দুই বছর আগে টাঙ্গাইলে পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়। ক্রমান্বয়ে দেশের বৃহত্তর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা যায়। এটা বাস্তব যে, একটি দেশের টেকসই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে পারে একমাত্র সুস্থ, সবল ও কার্যক্ষম জাতি। সুতরাং সরকার গৃহীত দুটি বীমারই অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। উদ্যোগ যেন ফলপ্রসূ হয় দৃষ্টি সেদিকে রাখাই সঙ্গত।

মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা
                                  

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও নানা পরিসংখ্যানে পাওয়া তথ্য বলছে, দেশে মাদকসেবীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ আসক্ত হচ্ছে মাদকে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। প্রায় প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মাদক কারবারিদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। উদ্ধার করা হচ্ছে ইয়াবাসহ নানা ধরনের মাদক। নতুন নতুন রুটে মাদকের চালান আসছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক কারবারি নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হন চার র‌্যাব সদস্য। আহত র‌্যাব সদস্যদের প্রথমে চট্টগ্রাম সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। পরে তিনজনকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা সিএমএইচে। ওদিকে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভের পাশের একটি ধানক্ষেতের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ইয়াবাভর্তি ব্যাগ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ। ব্যাগে ৪৪ হাজার ইয়াবা পাওয়া গেছে। গাজীপুরের টঙ্গীতে গ্যাস সিলিন্ডারে ভরে ফেনসিডিল পাচার করার সময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
এক দিনের এই ঘটনাগুলোই বলে দিচ্ছে চলমান অভিযানের মধ্যেও মাদকের কারবার থেমে নেই। র‌্যাবের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, গত পাঁচ মাসের অভিযানে তাঁর বাহিনী সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক জব্দ করেছে। কিন্তু এটাও সত্য যে গত পাঁচ মাসের অভিযানে এই প্রথম বড় ধরনের দুর্ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে র‌্যাব। অর্থাৎ মাদক কারবারিরাও মরিয়া হয়ে উঠতে চাইছে। আর এ কারণেই সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হতে হবে। মাদক বন্ধে সবার আগে সীমান্ত পুরোপুরি নিñিদ্র করতে হবে। কোনোভাবেই যেন মাদক ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মনে রাখতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের সঙ্গে আছে। সাধারণ মানুষের পূর্ণ নৈতিক সমর্থন থাকলে যেকোনো কঠিন কাজও সহজ হয়ে যায়। মাদকের অপব্যবহার রোধ করতে না পারলে দেশের সমূহ যে ক্ষতি হবে, তা কোনোভাবেই রোধ করা যাবে না। কারণ মাদকের অপব্যবহার শুধু মাদকেই সীমাবদ্ধ থাকে না। মাদক থেকে আরো অনেক অপরাধের জন্ম হয়।
দেশের সর্বত্র মাদকের কেনাবেচা বন্ধ করার কোনো বিকল্প নেই। তার সঙ্গে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক সচেতনতা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকেও এ ব্যাপারে কাজে লাগাতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের কর্মপরিকল্পনা সম্প্রতি চূড়ান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। কর্মপরিকল্পনায় প্রতিদিন প্রতিটি ক্লাসে প্রথম পিরিয়ডে তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মাদকবিরোধী বক্তব্য দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া মাদকবিরোধী কমিটি প্রতি মাসে একবার সভা করবে এবং মাসে দুবার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা হবে।
দেশ ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর মাদকের সহজলভ্যতাও নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। আর সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করতে হবে।

 

পানিও নিরাপদ নয়
                                  

‘বাংলাদেশের পানি সরবরাহ, পয়োনিষ্কাশন, স্বাস্থ্য ও দারিদ্র্যের বিশ্লেষণ’ শীর্ষক যে প্রতিবেদন গত বৃহস্পতিবার বিশ্বব্যাংক ঢাকায় প্রকাশ করেছে, তাতে ভয়াবহ তথ্য মিলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বিভিন্ন উপায়ে সরবরাহ করা খাবার পানির ৪১ শতাংশ ডায়রিয়ার জীবাণু বহন করছে। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা ৮০ শতাংশ পানিতে আছে ক্ষতিকর জীবাণু। সারা দেশের ১৩ শতাংশ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি রয়েছে। বৈশ্বিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৈরি করা এ প্রতিবেদন বলছে, পানির দূষণ ও নিম্নমান অনেক অর্জনকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গৃহস্থালিতে স্যানিটেশনব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। তবে দেশের মাত্র ৫২ শতাংশ ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানায় টয়লেট আছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা আছে মাত্র অর্ধেকের মতো স্কুলে। আর ১০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে টয়লেট আছে একটি, যা জাতীয় গড়ের অর্ধেক। বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সতর্ক করে বলেছেন, পানি ও স্যানিটেশন বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে অনেক পিছিয়ে দিতে পারে। শৈশবে বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা কাক্সিক্ষত মানে উন্নীত না হওয়ায় অনেক সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। শিশুদের অপুষ্টির শিকার হওয়ার প্রবণতার সঙ্গে পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশনে দুর্বলতার সরাসরি সংযোগ রয়েছে। সবচেয়ে ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে শহরাঞ্চলের পানি নিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইপলাইনে সরবরাহ করা ট্যাপের ৮০ শতাংশ পানিতে ক্ষতিকর জীবাণু ই-কোলাই রয়েছে।
পানির অপর নাম জীবন। সুস্থ থাকার জন্য একজন মানুষকে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হয়। রাজধানীসহ অনেক স্থানেই পানি ফুটিয়ে পান করা হয়। কারণ ওয়াসার পানিতে ভরসা রাখা যায় না। এখন পাইপলাইনে সরবরাহ করা ৮০ শতাংশ পানিতে যখন ই-কোলাই জীবাণুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে তখন তা সারা দেশের জন্যই অশনিসংকেত। রাজধানীতে ওয়াসার পানির ওপর ভরসা রাখতে না পেরে অনেকেই জারের পানি পান করে থাকে। অফিসে তো বটেই, নিরাপদ ভেবে অনেকে বাসাবাড়িতেও জারের পানি ব্যবহার করে। গত জানুয়ারিতে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, জারের পানিও নিরাপদ নয়। ঢাকায় এমন অনেক পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আছে, যাদের কোনো লাইসেন্স নেই। আর যাদের লাইসেন্স আছে, তারাও মানসম্মত ও নিরাপদ পানি সরবরাহ করে না। বেশির ভাগ জারের পানিতে মনুষ্যবর্জ্যে থাকা কলিফর্ম জীবাণু পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। নিরাপদ পানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পানির কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না।

মুদ্রাপাচার বেড়েই চলেছে
                                  

বর্তমান সময়ে মানুষে মানুষে যোগাযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে অর্থ লেনদেনের পরিধিও। সেই বর্ধিত চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রকম লেনদেন ব্যবস্থা। দেশে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা লেনদেন ব্যবস্থা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। আর এই সুযোগে বাড়ছে মুদ্রাপাচারের পরিমাণও। এর প্রধান কারণ, প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থা যে হারে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না মুদ্রাপাচার রোধে গৃহীত উদ্যোগ। বাড়ছে না নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের গবেষণায়ও উঠে এসেছে এমন তথ্য।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মুদ্রাপাচার শুধু একটি অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না, একটি দেশের উন্নয়নও ব্যাহত করে। অনেক ক্ষেত্রে দেশটিকে পিছিয়ে দেয়। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে মুদ্রাপাচার ক্রমেই বাড়ছে। সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে মুদ্রাপাচার বেড়েছে ২০ শতাংশ, পাচার হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। শুধু সুইজারল্যান্ডেই নয়, অন্যান্য দেশেও মুদ্রাপাচারের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেখানে বাড়ি কিনেছে। ১২৬টি দেশের মধ্যে এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ওয়াশিংটনভিত্তিক অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইনটিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে দেশ থেকে ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক প্রবণতা রোধ করা না গেলে বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রচেষ্টাই একসময় মুখ থুবড়ে পড়বে।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রধান নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রাপাচার রোধে তাদের বিশেষায়িত শাখাও রয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষতা নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। মুদ্রাপাচার রোধে আরো কিছু সংস্থা কাজ করছে। তাদের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশই মুদ্রাপাচার রোধে যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। ভারতে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে মুদ্রাপাচার অর্ধেকে নেমে এসেছে। নেপালে চার ভাগের এক ভাগে নেমেছে, এমনকি পাকিস্তানেও মুদ্রাপাচার অনেক কমেছে। তাহলে আমরা পারছি না কেন? আমাদের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ভারতসহ অনেক দেশের চুক্তি রয়েছে, যার ফলে সুইস ব্যাংকে রাখা সেসব দেশের আমানতকারীদের তথ্য দেশগুলো পেয়ে যায়। বাংলাদেশ এখনো সে ব্যবস্থা করতে পারছে না কেন? বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের তালিকায় এর আগে শীর্ষে ছিলেন রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজনীতিবিদদের ছাড়িয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা, যাঁরা জনগণের অর্থে সরকারের দেওয়া প্রচুর সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এ দেশে ব্যবসা করেন। পাচারের তালিকায় তারপরই রয়েছেন দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তারা। উন্নয়নকে গতিশীল করতে হলে তাঁদের রুখতেই হবে।

মুদ্রাপাচার বেড়েই চলেছে
                                  

বর্তমান সময়ে মানুষে মানুষে যোগাযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে অর্থ লেনদেনের পরিধিও। সেই বর্ধিত চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রকম লেনদেন ব্যবস্থা। দেশে অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা লেনদেন ব্যবস্থা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। আর এই সুযোগে বাড়ছে মুদ্রাপাচারের পরিমাণও। এর প্রধান কারণ, প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন ব্যবস্থা যে হারে বাড়ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়ছে না মুদ্রাপাচার রোধে গৃহীত উদ্যোগ। বাড়ছে না নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থাগুলোর দক্ষতা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের গবেষণায়ও উঠে এসেছে এমন তথ্য।
আমাদের মনে রাখতে হবে, মুদ্রাপাচার শুধু একটি অর্থনীতিরই ক্ষতি করে না, একটি দেশের উন্নয়নও ব্যাহত করে। অনেক ক্ষেত্রে দেশটিকে পিছিয়ে দেয়। বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে মুদ্রাপাচার ক্রমেই বাড়ছে। সুইজারল্যান্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকে মুদ্রাপাচার বেড়েছে ২০ শতাংশ, পাচার হয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। শুধু সুইজারল্যান্ডেই নয়, অন্যান্য দেশেও মুদ্রাপাচারের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম প্রকল্পের আওতায় সাড়ে তিন হাজারের বেশি বাংলাদেশি সেখানে বাড়ি কিনেছে। ১২৬টি দেশের মধ্যে এই প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশ রয়েছে তৃতীয় স্থানে। ওয়াশিংটনভিত্তিক অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা গ্লোবাল ফিন্যানশিয়াল ইনটিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে দেশ থেকে ছয় লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। এই ধ্বংসাত্মক প্রবণতা রোধ করা না গেলে বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রচেষ্টাই একসময় মুখ থুবড়ে পড়বে।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রধান নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ ব্যাংক। মুদ্রাপাচার রোধে তাদের বিশেষায়িত শাখাও রয়েছে; কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের দক্ষতা নিয়ে রয়েছে অনেক প্রশ্ন। মুদ্রাপাচার রোধে আরো কিছু সংস্থা কাজ করছে। তাদের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। আমাদের প্রতিবেশী অনেক দেশই মুদ্রাপাচার রোধে যথেষ্ট সাফল্যের পরিচয় দিচ্ছে। ভারতে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে মুদ্রাপাচার অর্ধেকে নেমে এসেছে। নেপালে চার ভাগের এক ভাগে নেমেছে, এমনকি পাকিস্তানেও মুদ্রাপাচার অনেক কমেছে। তাহলে আমরা পারছি না কেন? আমাদের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি গভীরভাবে ভাবতে হবে। সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ভারতসহ অনেক দেশের চুক্তি রয়েছে, যার ফলে সুইস ব্যাংকে রাখা সেসব দেশের আমানতকারীদের তথ্য দেশগুলো পেয়ে যায়। বাংলাদেশ এখনো সে ব্যবস্থা করতে পারছে না কেন? বাংলাদেশ থেকে অর্থপাচারের তালিকায় এর আগে শীর্ষে ছিলেন রাজনীতিবিদরা। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রাজনীতিবিদদের ছাড়িয়ে গেছেন ব্যবসায়ীরা, যাঁরা জনগণের অর্থে সরকারের দেওয়া প্রচুর সুযোগ-সুবিধা নিয়ে এ দেশে ব্যবসা করেন। পাচারের তালিকায় তারপরই রয়েছেন দুর্নীতিবাজ সরকারি কর্মকর্তারা। উন্নয়নকে গতিশীল করতে হলে তাঁদের রুখতেই হবে।

মাদকে মৃত্যুদন্ড
                                  

সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। দেশে মাদকের ভয়াবহ আগ্রাসন, বিশেষ করে ইয়াবার প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে এ রকম একটি কঠোর আইনের আবশ্যকতা ছিল বৈকি। উল্লেখ্য, আগের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ছিল ২-১৫ বছরের দন্ড মাদকের পরিমাণ ও তারতম্য ভেদে। পুরনো আইনে বিশেষ করে ইয়াবার প্রবল আগ্রাসন ঠেকানো যাচ্ছে না কিছুতেই। বর্তমানে মাদক কারবারি ও চোরাচালানকারীদের ভয়াবহ অপতৎপরতা এমনকি ক্রসফায়ারেও একেবারে নির্মূল করা যাচ্ছে না। সে অবস্থায় মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তবে আইন শুধু করলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত, সৎ, নিরপেক্ষ ও কঠোর হতে হবে। দেশব্যাপী ইয়াবার বিষাক্ত ছোবলের রেশ শেষ না হতেই ভয়াবহ নতুন মাদক খাতের কথা শোনা যাচ্ছে। খাতের ইংরেজি পরিভাষা এনপিএস বা নিউ সাইকোট্রফিক সাবসটেনসেস। দেখতে অনেকটা চা পাতার মতো। পুরনো মাদক আফিম, ভাং ও গাঁজার সঙ্গে মিল রয়েছে অনেকাংশে। যুব সমাজের সমধিক প্রিয়। দীর্ঘদিন সেবনে ভয়াবহ একাকিত্ব ও সমাজবিচ্ছিন্নতা দেখা দেয়। মানসিক বৈকল্যে ভোগে সেবনকারী। কর্মস্পৃহা হারিয়ে ফেলে। দেখা দেয় আত্মহননের প্রবণতা। গণমাধ্যমের চাপে সম্প্রতি এটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার।
সরকার ইয়াবাসহ যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য আমদানি-রফতানি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। মাদক নির্মূলে সারাদেশে চলছে ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান। এ ক্ষেত্রে শুধু জেল-জরিমানাই নয়, ক্রসফায়ারে তিন শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর খবরও আছে। দুঃখজনক হলো, এরপরও মাদক আমদানি ও ব্যবহারের ব্যাপকতা কমছে না। এতে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশকে টার্গেট করেই কোন আন্তর্জাতিক শক্তিশালী চক্র কাজটি করে যাচ্ছে, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে মরিয়া। এর পেছনে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের হাত থাকাও বিচিত্র নয়। যে কোন মূল্যে এই ‘বিষচক্র’ ভাঙতে হবে। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেট এবং এর কাঁচামাল প্রবেশ করে থাকে কক্সবাজার জেলার মাধ্যমে। আরও সঠিক অর্থে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত পথে। পার্বত্য অঞ্চল দিয়েও ইয়াবার অনুপ্রবেশ বিচিত্র নয়। সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ স্থানীয় পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানে প্রায় প্রতিদিন তা ধরা পড়ে বিপুল পরিমাণে। বাস্তবতা হলো, সীমান্তে কঠোর তৎপরতা এবং গোয়েন্দা নজরদারির পরও এর প্রায় অবাধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে সঙ্গত কারণেই ধারণা করা যায় যে, এর পেছনে শক্তিশালী স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটসহ বিত্তশালী ব্যক্তিদের হাত রয়েছে। ইয়াবা পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের সম্পৃক্ততার অভিযোগে জেল-জরিমানার খবরও আছে। দুঃখজনক হলো এরপরও ইয়াবার ছোবল ঠেকানো যাচ্ছে না। সে অবস্থায় এলাকার জনগণ যদি সততা ও সদিচ্ছার মনোভাব নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে প্রতিরোধে তাহলে সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ইয়াবার চোরাচালান ঠেকানো অবশ্যই সম্ভব। মিয়ানমার থেকে ইয়াবা চোরাচালানের সঙ্গে সেখান থেকে আগত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের একটা যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা থাকা বিচিত্র নয়। বাংলাদেশ নিতান্ত মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও দেখা যাচ্ছে যে, তারা স্থানীয়ভাবে নানা অপরাধ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এমনকি ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক পাচারের ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। এটা তাদের রোজগারের অন্যতম একটি মাধ্যমও হতে পারে।
একদা তরুণ সমাজ বিপুলভাবে জড়িয়ে পড়েছিল ফেনসিডিল আসক্তিতে। পরে দেশে এই পণ্যটি নিষিদ্ধ করেও সুফল মেলেনি তেমন। বরং বাংলাদেশ পরিবেষ্টিত ভারতের সীমান্তসংলগ্ন অনেক স্থানে রাতারাতি গজিয়ে উঠেছিল ফেনসিডিল কারখানা। দু’দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে ব্যাপক আলাপ-আলোচনার পর ফেনসিডিলের বিস্তার ও আসক্তি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে দুঃখজনক হলো-এর পরিবর্তে বিপুল বিক্রমে থাবা বসিয়েছে ভয়াবহ মাদক ইয়াবা। গণমাধ্যমের বিপুল প্রচার-প্রচারণা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার পরও এর বিরুদ্ধে তেমন প্রতিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সুতরাং এনপিএস, ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ মাদকের সর্বাত্মক প্রতিরোধে সরকারকে আরও তৎপর এবং কঠোর হতে হবে। জঙ্গী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির মতো নিয়মিত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এ ক্ষেত্রে শৈথিল্য প্রদর্শনের কোন সুযোগ নেই।


   Page 1 of 11
     সম্পাদকীয়
সড়কে মর্মান্তিক মৃত্যু ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করুন
.............................................................................................
ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হোক
.............................................................................................
পেট কাটলেন নার্স, ডাক্তার বললেন ‘ঝামেলা আছে সেলাই করে দাও’
.............................................................................................
বাড়ছে উত্তাপ-উত্তেজনা
.............................................................................................
নির্বাচনের পরিবেশ
.............................................................................................
ক্ষতিপূরণ পেতে ভোগান্তি
.............................................................................................
জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
.............................................................................................
পরিবেশের প্রধান শত্রু প্লাস্টিক
.............................................................................................
বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে রোহিঙ্গারা
.............................................................................................
খুরা রোগের টিকা
.............................................................................................
চিকিৎসা বীমা
.............................................................................................
মাদকবিরোধী কর্মপরিকল্পনা
.............................................................................................
পানিও নিরাপদ নয়
.............................................................................................
মুদ্রাপাচার বেড়েই চলেছে
.............................................................................................
মুদ্রাপাচার বেড়েই চলেছে
.............................................................................................
মাদকে মৃত্যুদন্ড
.............................................................................................
বিশ্বমানের চিকিৎসা
.............................................................................................
গুজবের পিছে ছুটছে মানুষ
.............................................................................................
মিয়ানমারের নতুন উসকানি
.............................................................................................
স্বর্ণ নীতিমালা
.............................................................................................
শিশু যখন শ্রমিক
.............................................................................................
বেহাল স্বাস্থ্যসেবা
.............................................................................................
সম্ভাবনার কাঁকড়া শিল্প
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
.............................................................................................
ক্ষতিকর এনার্জি ড্রিংকস
.............................................................................................
মির্জাপুরে কাঠ পোড়ানো চুল্লি
.............................................................................................
হুমকিতে তিন-চতুর্থাংশ মানুষ
.............................................................................................
বেহাল সড়ক ও সেতু
.............................................................................................
সর্বোচ্চ মৃত্যু বাংলাদেশে
.............................................................................................
নতুন মাদক খাত
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
.............................................................................................
সম্পর্কে নতুন মাত্রা
.............................................................................................
ডিজিটাল নিরাপত্তা বিল ২০১৮ বিতর্কিত ধারাগুলো পর্যালোচনা করুন
.............................................................................................
পরিবেশদূষণ বড় ঘাতক
.............................................................................................
ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া
.............................................................................................
ভুলে ভরা এনআইডি
.............................................................................................
পদ্মার ভয়াবহ ভাঙন
.............................................................................................
বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যসেবা
.............................................................................................
ক্যান্সার শনাক্তে প্রযুক্তি
.............................................................................................
নদীতে বিলীন হচ্ছে জনপদ
.............................................................................................
ক্যান্সার শনাক্ত করার প্রযুক্তি
.............................................................................................
কর্মজীবী নারীর সমস্যা
.............................................................................................
চালকরা এখনো বেপরোয়া, সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামান
.............................................................................................
চামড়াশিল্পে দুঃসময়
.............................................................................................
মাদক সমস্যার সমাধান
.............................................................................................
তাঁতশিল্পের ভবিষ্যত
.............................................................................................
রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার
.............................................................................................
বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনা
.............................................................................................
ব্যাংকঋণের সুদের হার
.............................................................................................
বাড়ছে অপহরণের ঘটনা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]