| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না: অর্থমন্ত্রী

খেলাপি ঋণ যাতে কোনোভাবেই আর বাড়তে না পারে সে বিষয়ে ব্যাংকারদের সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রয়োজনে পর্ষদে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করবেন তিনি। যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের অপরাধে সহযোগিতা দেবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেছেন।
বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে মুস্তফা কামাল বলেন, সবাইকে তিনি ‘সঠিক পথে’ নিয়ে আসবেন। “কোনো ক্ষেত্রেই যেন নন পারফরমিং লোন না বাড়ে। যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না, এটা খেলার জায়গা না। না বুঝলে হবে না ”
পরিচালক নিয়োগে অনেক সুপারিশ সামলাতে হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে না।” 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।
খেলাপি হওয়া ঋণের পরিমাণ কম দেখাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) নীতিমালা শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
খেলাপী ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত গভর্নর ফজলে কবির বলেন, “যদিও এটি জনতা ব্যাংকের একার বিষয় না, পুরো ব্যাংকিং খাতে এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ টাকা যেন আর বৃদ্ধি না হয়।”
ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শীর্ষ খেলাপীদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে, খেলাপী ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। খেলাপী ঋণের মামলা না করে আদায়ের চেষ্টা করবেন। মামলা করবেন অবশ্যই, তবে কুইক ডিসপোজেবলের জন্য নয়। ঋণ দেওয়ার সময়ই সতর্ক হয়ে দিতে হবে।”
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেশের অর্থনীতির ‘সবচেয়ে দুর্বল জায়গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একজন অসাধু অফিসার আপনাদের সাফল্য ম্লান করে দেবে। ১০টি ভাল কাজ করেন, একটি খারাপ কাজ বলবে- ‘সব নিয়ে চলে গেছে’। যিনি অন্যায় করেন আর অন্যায়কে সহায়তা করেন- অপরাধ তো একই রকম।”
মন্ত্রী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি না করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ করাতে চান তিনি।
“হাত তুলে শপথ করতে হবে যে আপনারা দুর্নীতিকে ‘নো’ বলবেন, নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে সহয়তা করবেন না। অসৎ কাজ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে।”

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা অসাধু ব্যবসায়ী, তাদের সাথে কিন্তু আমরাও থাকি। আমরা যারা আছি তাদেরকেও কিন্তু কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা তাদের পশ্রয় দিয়েছে তাদের বের করা খুব কঠিন না।”
তবে অপরাধ স্বীকার করলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সবাইকে সঠিক করে ঠিক পথে নিয়ে আসব। কেউ অপরাধ করে আসলে… ভিন্ন পথে যদি টাকা নিয়ে থাকে- তা যদি ফেরত দিতে পারে, গোপনে আমাকে বললেও মাফ করে দেব।”
লিজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই একটি বাদ দিলে কোনো প্রতিষ্ঠানেই ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না।
“প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্পেশাল অডিট করব। তবে কাউকে ছোট করার জন্য নয়, কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ নেব না।” আর্থিক খাতে অপচয় কমাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসার কথাও বলেন মুস্তফা কামাল।
“ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে। একটি কমপ্রিহেনসিভ টেকনোলজিতে আনতে হবে, যাতে সবাই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহারে অপচয় বাড়ে।”
যারা ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ‘খারাপ অবস্থানে’ চলে গেছেন, তাদের সহায়তা করারও প্রতিশ্রুতি দেন অর্থমন্ত্রী।
“একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করা অনেক কঠিন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আসি নাই । যারা ভাল ব্যবসায়ী তাদের অনেক সহায়তা করব। আমরা যা করব, সততার মধ্যে করব। এমনভাবে পলিসি করব যাতে সবাই উপকৃত হয়।“
দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধনী-গরিবের ব্যবধান যেন কমিয়ে আনতে কাজ করার কথা জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, “একদিনে এসব সম্ভব নয়, তবে আমি পারব।”
জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বক্তব্য দেন। 

যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না: অর্থমন্ত্রী
                                  

খেলাপি ঋণ যাতে কোনোভাবেই আর বাড়তে না পারে সে বিষয়ে ব্যাংকারদের সতর্ক করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, প্রয়োজনে পর্ষদে পরিবর্তন আনার ব্যবস্থা করবেন তিনি। যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা অসাধু ব্যবসায়ীদের অপরাধে সহযোগিতা দেবে, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ার করেছেন।
বুধবার ঢাকার কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে মুস্তফা কামাল বলেন, সবাইকে তিনি ‘সঠিক পথে’ নিয়ে আসবেন। “কোনো ক্ষেত্রেই যেন নন পারফরমিং লোন না বাড়ে। যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না, এটা খেলার জায়গা না। না বুঝলে হবে না ”
পরিচালক নিয়োগে অনেক সুপারিশ সামলাতে হয় জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অভিজ্ঞতা ছাড়া কোনো পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে না।” 
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৯ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা।
খেলাপি হওয়া ঋণের পরিমাণ কম দেখাতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) নীতিমালা শিথিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
খেলাপী ঋণের পরিমাণ ২০১৮ সালে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে স্বীকার করে জনতা ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থিত গভর্নর ফজলে কবির বলেন, “যদিও এটি জনতা ব্যাংকের একার বিষয় না, পুরো ব্যাংকিং খাতে এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এ টাকা যেন আর বৃদ্ধি না হয়।”
ব্যাংকারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “শীর্ষ খেলাপীদের সাথে আলোচনায় বসতে হবে, খেলাপী ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। খেলাপী ঋণের মামলা না করে আদায়ের চেষ্টা করবেন। মামলা করবেন অবশ্যই, তবে কুইক ডিসপোজেবলের জন্য নয়। ঋণ দেওয়ার সময়ই সতর্ক হয়ে দিতে হবে।”
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেশের অর্থনীতির ‘সবচেয়ে দুর্বল জায়গা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উদ্দেশে তিনি বলেন, “একজন অসাধু অফিসার আপনাদের সাফল্য ম্লান করে দেবে। ১০টি ভাল কাজ করেন, একটি খারাপ কাজ বলবে- ‘সব নিয়ে চলে গেছে’। যিনি অন্যায় করেন আর অন্যায়কে সহায়তা করেন- অপরাধ তো একই রকম।”
মন্ত্রী জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে বলে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে ব্যাংক কর্মকর্তাদের দুর্নীতি না করার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক শপথ করাতে চান তিনি।
“হাত তুলে শপথ করতে হবে যে আপনারা দুর্নীতিকে ‘নো’ বলবেন, নিজে দুর্নীতি করবেন না, অন্য কাউকে দুর্নীতি করতে সহয়তা করবেন না। অসৎ কাজ থেকে সব সময় দূরে থাকতে হবে।”

ব্যাংক কর্মকর্তাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “যারা অসাধু ব্যবসায়ী, তাদের সাথে কিন্তু আমরাও থাকি। আমরা যারা আছি তাদেরকেও কিন্তু কোনভাবে ছাড় দেওয়া হবে না। যারা তাদের পশ্রয় দিয়েছে তাদের বের করা খুব কঠিন না।”
তবে অপরাধ স্বীকার করলে ক্ষমা করে দেওয়া হবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সবাইকে সঠিক করে ঠিক পথে নিয়ে আসব। কেউ অপরাধ করে আসলে… ভিন্ন পথে যদি টাকা নিয়ে থাকে- তা যদি ফেরত দিতে পারে, গোপনে আমাকে বললেও মাফ করে দেব।”
লিজ ফাইন্যান্সিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নিরীক্ষার আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, দুই একটি বাদ দিলে কোনো প্রতিষ্ঠানেই ফোন করে কাউকে পাওয়া যায় না।
“প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানে স্পেশাল অডিট করব। তবে কাউকে ছোট করার জন্য নয়, কাউকে জেলে পাঠানোর জন্য নয়। প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত পদক্ষেপ নেব না।” আর্থিক খাতে অপচয় কমাতে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নিয়ে আসার কথাও বলেন মুস্তফা কামাল।
“ব্লকচেইন টেকনোলজি নিয়ে আসতে হবে। একটি কমপ্রিহেনসিভ টেকনোলজিতে আনতে হবে, যাতে সবাই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে। বিভিন্ন ধরনের টেকনোলজি ব্যবহারে অপচয় বাড়ে।”
যারা ব্যবসার পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে ‘খারাপ অবস্থানে’ চলে গেছেন, তাদের সহায়তা করারও প্রতিশ্রুতি দেন অর্থমন্ত্রী।
“একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুরু করা অনেক কঠিন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার জন্য আসি নাই । যারা ভাল ব্যবসায়ী তাদের অনেক সহায়তা করব। আমরা যা করব, সততার মধ্যে করব। এমনভাবে পলিসি করব যাতে সবাই উপকৃত হয়।“
দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে ধনী-গরিবের ব্যবধান যেন কমিয়ে আনতে কাজ করার কথা জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, “একদিনে এসব সম্ভব নয়, তবে আমি পারব।”
জনতা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান লুনা সামসুদ্দোহার সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বক্তব্য দেন। 

চাকরিচ্যুত হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত মহাব্যবস্থাপক
                                  

অবশেষে চাকরিচ্যুত হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত মহাব্যবস্থাপক (জিএম) প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যাংক ও সহকর্মীদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেয়ার অভিযোগ ছিল। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত থাকা অবস্থায় গত রোববার তাকে চূড়ান্তভাবে চাকরিচ্যুত করল বাংলাদেশ ব্যাংক। ওইদিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের এক আদেশের মাধ্যমে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এর ফলে তিনি চাকরি পরবর্তী কোনো সুযোগ-সুবিধা আর পাবেন না বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আদেশে বলা হয়েছে, বগুড়া অফিসের সাময়িক বরখাস্তকৃত মহাব্যবস্থাপক প্রভাষ চন্দ্র মল্লিকের বিরুদ্ধে এইচআরডি-২ থেকে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক স্টাফ রেগুলেশন ২০০৩ এর ৪৪(১)(জি) ধারার আওতায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হলো।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারেন না। কিন্তু প্রভাষ চন্দ্র মল্লিক বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না নিয়েই প্রভাব খাটিয়ে ১৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত ৮৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১১টি ব্যাংকের ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮৬ টাকা ছিল মন্দমানের খেলাপি। আরো তিনটি ব্যাংকের ১০ লাখ ১১ হাজার টাকা সন্দেহজনক মানে শ্রেণীকৃত। শুধু ব্যাংক নয়, নানা কৌশলে সহকর্মীদের কাছ থেকেও লাখ লাখ টাকা ধার নিয়ে আর ফেরত না দেয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে।

এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ৯ অক্টোবর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর এ বিষয়ে গঠিত একটি তদন্ত কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। তাতে তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়। এরই ভিত্তিতে গত রোববার তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।

নানামুখী সঙ্কটে ব্যাংক খাত
                                  

প্রবল মূলধন ঘাটতিতে ভুগছে সরকারি ব্যাংক। এই মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংক সরকারের কাছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। ঘাটতি পূরণের সবচেয়ে বেশি অর্থ চেয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। এ জন্য ব্যাংকটির প্রয়োজন ৭ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫৬ লাখ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে জনতা ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে খেলাপি ঋণের শীর্ষে থাকা এই ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি পূরণে প্রয়োজন ৬ হাজার কোটি টাকা। বেসিক ব্যাংকের দরকার ৪ হাজার কোটি টাকা। আর রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক মূলধন ঘাটতি পূরণে চেয়েছে ৭৭৫ কোটি টাকা। অন্য দিকে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের সরকারি অংশ পূরণেও প্রয়োজন আরো এক কোটি ১২ লাখ টাকা। গেল মাসে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে মূলধন ঘাটতি পূরণে এই অর্থ চাওয়া হয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 

এ দিকে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা কমিয়ে আনার ১৫ মাসের সময়সীমা শেষ হচ্ছে চলতি মাসে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানতের অনুপাত ৮৫ শতাংশ থেকে সাড়ে ৮৩ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। কিন্তু এখনো অনেক ব্যাংক নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক ওপরে রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি ইসলামী ব্যাংকের এ সীমা ৯৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় ফুরিয়ে আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ব্যাংকারেরা। তারা জানিয়েছেন, যারা ঋণ নিয়েছেন তাদের অনেকেই ঋণ পরিশোধ করছেন না। বেড়ে গেছে খেলাপি ঋণ। ফলে আলোচ্য সময়ে ঋণ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়নি বরং সুদ যুক্ত হওয়ায় তা আরো বেড়ে গেছে। বাড়তি ঋণ প্রবাহ সমন্বয় করার একমাত্র উপায় ছিল আমানত প্রবাহ বাড়ানো। কিন্তু গত এক বছরে ব্যাংকিং খাতে আমানত প্রবাহ বাড়েনি বরং কমেছে। এর ফলে অনেকের পক্ষেই বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয় করা সম্ভব হয়নি। এমনি পরিস্থিতিতে আগামী ২৫ দিনে কিভাবে সমন্বয় করা হবে তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন।

সরকারি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির ব্যাপারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজেটে মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য অর্থ বরাদ্দ রয়েছে মাত্র ১৫ শ’ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংকগুলো চেয়েছে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কখনোই দেয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে ইতোমধ্যে সরকারি ব্যাংককে মূলধন ঘাটতি পূরণে কী পরিমাণ অর্থ চলতি অর্থবছরে দেয়া হবে তার একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এই খসড়া অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে দেয়ার কথা ৮৪৯ কোটি টাকা। জনতা ১০০ কোটি টাকা, বেসিক ৫০ কোটি টাকা এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক পাবে ৫০০ কোটি টাকা। 

সূত্র জানায়, মূলধন ঘাটতি পূরণের জন্য মূলত অর্থ ছাড় করে অর্থ বিভাগ। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে কোনো চাহিদাপত্র পায়নি। পেলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামী জুনে মূলধন ঘাটতি পূরণে অর্থ ছাড় শুরু করা হবে। তবে এই অর্থের পরিমাণ কোনোভাবে ১৫ শ’ কোটি টাকার বেশি হবে না। 
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত চার অর্থবছরে সরকারি ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি মেটানোর জন্য অর্থ দেয়া হয়েছে ১০ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় খাতের ব্যাংক বেসিককে। এই ব্যাংককে মোট দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। বরাদ্দের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সোনালী ব্যাংক। এই ব্যাংককে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ০৩ কোটি টাকা। একই ভাবে জনতাকে ৮১৪ কোটি টাকা, অগ্রণীকে এক হাজার ৮১ কোটি টাকা, রূপালীকে ৩১০ কোটি টাকা, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে ৭২৯ কোটি ৮৬ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। 

তবে এবার অস্বাভাবিক মূলধন ঘাটতিতে পড়েছে রাষ্ট্রীয় খাতে দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংক জনতা। তাদের মূলধন ঘাটতি ৬ হাজার কোটি টাকা। শুধু এক বছরের ব্যবধানে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে সাড়ে তিন গুণ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ৫ হাজার ৮১৮ কোটি। এক বছরের ব্যবধানে গত বছর (২০১৮) ডিসেম্বরে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ১৭ হাজার ৩০৪ কোটি ৭৭ লাখ। ফলে এক বছরেই জনতার খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার ৪৮৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এই ঋণের পুরোটাই আবার দুইটি গ্রুপের কাছে রয়েছে। যাদের দুর্নীতির ও অনিয়মের মাধ্যমে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই ঋণ প্রদান করেছে। ফলে ব্যাংকটি গত বছর নিট লোকসান করেছে ৩ হাজার কোটি টাকা। 

এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে যখন এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তখন ব্যাংকিং খাতে ঋণপ্রবাহ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গিয়েছিল। তখন বাস্তবে বিনিয়োগ চোখে না পড়লেও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে এ বিনিয়োগ প্রবাহ। দেখা যায়, ওই বছরের নভেম্বরে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র স্থাপনের হার (এলসি খোলার হার) ৩০ শতাংশ অতিক্রম করে। আর বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ১৬ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ২০ শতাংশে উঠে যায়। আগ্রাসী এ ব্যাংকিংয়ের কারণে ঋণ আমানতের অনুপাত কোনো কোনো ব্যাংকের শত ভাগ ছেড়ে যায়। যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে ৮৫ ভাগ। ব্যাংকগুলোর এমন আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের কারণে তহবিল ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। দীর্ঘ দিন যাবৎ আমানতের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ১০ শতাংশের নিচে। সাধারণত ঋণের প্রবৃদ্ধি আমানতের চেয়ে কম হওয়ার কথা, সেখানে আমানতের প্রবৃদ্ধির চেয়ে ঋণের প্রবৃদ্ধি দ্বিগুণ হয়ে যায়। 

তহবিল ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়ার আগেই ওই সময় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই অংশ হিসেবে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ব্যাংকগুলোর জন্য এ বিষয়ে এক সার্কুলার জারি করা হয়। বলা হয়, ঋণ আমানতের অনুপাত প্রচলিত ব্যাংকগুলোকে ৮৫ শতাংশের পরিবর্তে সাড়ে ৮৩ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ৮৯ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। এর জন্য সময় দেয়া হয় প্রথম ৬ মাস। অর্থাৎ যে সব ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ থাকবে তাদের গত বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পুনর্নির্ধারিত সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে বলা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনার পর ব্যাংকিং খাতে অনেকটা আতঙ্ক বিরাজ করে। যে সব ব্যাংকের ঋণসীমা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অতিরিক্ত ছিল তাদের নতুন বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যায়। আবার রাতারাতি বাড়তি বিনিয়োগ গ্রাহকের কাছ থেকেও আদায়ও করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে কোনো কোনো ব্যাংক আমানত বাড়িয়ে ঋণসীমা সমন্বয় করার উদ্যোগ নেয়। এতে আমানতের সুদ হার বেড়ে যায়, তবে এর চেয়ে বেশি হারে ঋণের সুদহার বাড়তে থাকে। ইতোমধ্যে কোনো কোনো ব্যাংকের শিল্প ঋণের সুদহার ১৫ শতাংশ থেকে ১৮ শতাংশ পর্যন্ত উঠে যায়। যেখানে আগে ছিল সাড়ে ১২ শতাংশ।

ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ব্যবসায়ী সমাজ। কারণ নানা কারণে বিনিয়োগ ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ঋণের সুদহার বেড়ে গেলে ব্যবসায় ব্যয় আরো বেড়ে যাবে। বেড়ে যাবে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়। ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাবে। এমনি অবস্থায় সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর চাপ দিতে থাকে। এক পর্যায়ে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি সার্কুলার দিয়ে সময়সীমা ছয় মাস বাড়ানো হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা পরিপালনের সময়সীমা ছয় মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করা হয়।

কিন্তু এতেও ব্যবসায়ীরা সন্তুষ্ট না হয়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। ব্যাংকের ব্যবসায়ী পরিচালকেরা হোটেল সোনারগাঁওয়ে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরকে নিয়ে এক বৈঠকের আয়োজন করে। ওই বৈঠকে বাজারে টাকার সঙ্কট কাটাতে আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য নগদ জমার হার (সিআআর) ১ শতাংশ কমিয়ে নেন। এর ফলে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা চলে যায় ব্যাংকগুলোর হাতে। এতেও ক্ষান্ত না হয়ে ঋণ আমানতের অনুপাত বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার জারি করা সার্কুলারে তৃতীয় দফায় গত ৯ এপ্রিল পরিবর্তন আনে। ঋণ আমানতের অনুপাত নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে ৩১ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেয়া হয়, যা চলতি মাসে শেষ হচ্ছে। 
সাধারণ ব্যাংকারদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়া হলে ব্যাংকগুলো তা বিনা বাক্যে বাস্তবায়ন করবে এটাই নিয়ম। কিন্তু ব্যবসায়ীদের চাপে বার বার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় তখন প্রশ্নের মুখে পড়ে যায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

দেশের প্রথম প্রজন্মের একটি ব্যাংকের এমডি গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি করার গত ১৪ মাসে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমেনি, বরং প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেড়ে গেছে। ব্যাংকগুলো যে ঋণ দিয়েছিল তা আদায় না হওয়ায় পুঞ্জিভূত খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। কিন্তু এ সময়ে আমানত প্রবাহ বাড়েনি বরং কমেছে। আমানত প্রবাহ কমে যাওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন ওই এমডি। তিনি জানান, ব্যাংক পরিচালকদের চাপে আমানতের সুদ হার ৬ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু সঞ্চয়পত্রের সুদহার রয়েছে সাড়ে ১১ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশ। ফলে ব্যাংকে সুদহার কমে যাওয়ায় সাধারণ আমানতকারীরা ব্যাংকে আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হয়ে পড়েন। নতুন করে আমানত তো রাখেনই নাই, বরং বিদ্যমান আমানতও কেউ কেউ তুলে নিয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন।

এর বাইরে ফারমার্স ব্যাংক কেলেঙ্কারির ফলে সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতে অনেকটা আস্থার সঙ্কট দেখা দেয়। এর প্রভাবেও আমানত কমে গেছে। কিন্তু ঋণ আদায় কমে যাওয়ায় সুদে আসলে তা খেলাপি ঋণ হয়ে সামগ্রিক ঋণ বেড়ে গেছে। এর ফলে বিনিয়োগসীমা অনেকেই সাড়ে ৮৩ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে পারেনি। আবার কয়েকটি ইসলামী ব্যাংক কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দেদার ঋণ বিতরণ করেছে। এমন একটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণ আমানতের অনুপাত ৯৫ শতাংশের ওপর উঠে গেছে। এমনি পরিস্থিতিতে আগামী ২৩ দিনের মধ্যে কিভাবে বিনিয়োগসীমা নির্ধারিতসীমার মধ্যে নামিয়ে আনা হবে তা নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

ইতোমধ্যে ব্যাংকিং খাতে টাকার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। অনেক ব্যাংক এ সঙ্কট মেটানোর জন্য কলমানি মার্কেট নির্ভর হয়ে পড়েছে। কেউবা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার নিচ্ছে। এর ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের নতুন সার্কুলার। নতুন সার্কুলার অনুযায়ী অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে তার বিপরীতে সিআরআর ও এসএলআর সংরক্ষণ করতে হবে। এতে ব্যাংকিং খাতে টাকার সঙ্কট আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। অপর দিকে চাহিদার চেয়ে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ কমে গেছে। এতে ব্যাংকগুলোতে ডলার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এ সঙ্কট মেটাতে স্থানীয় মুদ্রা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ডলার কিনছে সঙ্কটে পড়া ব্যাংকগুলো। সব মিলিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাতে এক ধরনের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগসীমা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিভাবে সমন্বয় করা হবে তা নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছেন। 

তবে বাংলাংদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১৫ মাস পরে এসে আবার বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের সময় হেরফের করা হলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা আরো প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। ফলে বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের নির্ধারিত সময় কোনোভাবেই পরিবর্তন করা হবে না বলে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

 
 
এক মাসে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা
                                  

রাজধানীর বাজারগুলোতে এক মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা। এর প্রভাবে বেড়েছে লাল লেয়ার এবং পাকিস্তানি কক মুরগির দামেও। সেই সঙ্গে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ। তবে এক মাস ধরে বেশিরভাগ সবজির দাম অনেকটাই স্থিতিশীল।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, সেগুনবাগিচা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

রামপুরা ও খিলগাঁও অঞ্চলের বাজারে এখন ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকায়। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এ অঞ্চলের বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১২০ টাকা ১২৫ টাকা। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা।

ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি দাম বেড়েছে লাল লেয়ার ও পাকিস্তানি কক মুরগির। লাল লেয়ার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ থেকে ২০৫ টাকা কেজি, যা গত জানুয়ারিতে ছিল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। আর জানুয়ারিতে ২১০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকিস্তানি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।

মুরগির দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী মো. কামাল বলেন, জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে সব ধরনের মুরগির দাম বেশ কম ছিল। কিন্তু জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে এসে হঠাৎ করেই মুরগির দাম বাড়তে শুরু করে। এক মাসের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকার উপরে। বাজারে মুরগির যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, সে হারে ফার্ম থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণেই হয়ত মুরগির দাম বেড়েছে।

শুধু রামপুরা ও খিলগাঁও অঞ্চল নয়, রাজধানীর সব অঞ্চলের বাজারে মাসের ব্যবধানে মুরগির দাম বেড়েছে। সেগুনবাগিচার বাজারে জানুয়ারিতে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা, যা এখন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। একইভাবে এ বাজারে লাল লেয়ার মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকা কেজি, যা গত জানুয়ারিতে ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা। আর জানুয়ারিতে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পাকিস্তানি মুরগি এখন বিক্রি হচ্ছে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা।

এদিকে মাসের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে বেড়েছে ২০ টাকা। আর হালিতে বেড়েছে ৮ টাকা। জানুয়ারি মাসে ৮০ থেকে ৮৫ টাকা ডজন বিক্রি হওয়া ডিমের দাম এখন বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। আর মুদি দোকানে প্রতি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯ থেকে ১০ টাকায়, যা জানুয়ারিতে ছিল ৭ থেকে ৮ টাকা।

হঠাৎ করে মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ার বিষয় ওয়ার্ল্ড’স পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার (ওয়াপাসা-বিবি) সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ বলেন, উৎপাদন কম হওয়ার কারণে এখন ব্রয়লার মুররি ও ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে একটি ডিমের দাম ১০ টাকা হওয়া ঠিক না। একটি ডিমের দাম ৭ থেকে ৮ টাকার মধ্যে থাকাই যুক্তিসংগত।

এদিকে মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মাছের বাজারে। বাজারে এখন সব ধরনের মাছের দাম বেশ চড়া। রুই মাছ বাজারে ২৫০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা কেজি, পাবদা মাছ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, টেংরা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

পাঙাশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, শিং ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, বোয়াল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিতল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি।

মাছ-মাংসের দাম চড়া হলেও গত এক মাস ধরে কিছুটা হলেও স্বস্তি গেছে শাক সবজির দামে। টমেটো, বেগুন, গাজর, মুলা, শালগম, শিম, নতুন আলু, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাল শাক, পালন শাকসহ প্রায় সব ধরনের শাক-সবজি সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই রয়েছে।

২০ থেকে ৩০ টাকা কেজির মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বেগুন, শালগম, মুলা, পেঁপে ও শিম। ফুলকপি ১৫ থেকে ২৫ টাকা পিস এবং বাঁধাকপি ২০ থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। পাকা টমেটো পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা কেজি। নতুন আলু ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

স্বস্তি মিলছে পেঁয়াজ ও কাঁচামরিচেও। দেশি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচের পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায়।

পালন শাক বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকা আটি। একই দামে বিক্রি হচ্ছে লাল ও সবুজ শাক। লাউ শাক পাওয়া যাচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকায়।

তবে করলা, ধুন্দুল, লাউ, ধেড়সের দাম বেশ চড়া। করলার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায়, লাউ ৫০ থেকে ৭০, ঢেঁড়স ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ধুন্দুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ
                                  

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারছে না। এমনকি এই ব্যাংকগুলো লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকও আদায় করতে পারেনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ১ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকার মতো খেলাপি ঋণ আদায় করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি ব্যাংক। এটি বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ। তবে এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এগিয়ে আছে বিডিবিএল, সোনালী ও বেসিক ব্যাংক। অন্য দিকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি অবশিষ্ট পাঁচটি ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রূপালী ব্যাংক। আছে জনতা ও অগ্রণীও। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তির আওতায় রাষ্ট্রায়ত্ত আটটি (সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক, বিডিবিএল, বিকেবি ও রাকাব) ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা। বিপরীতে গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ব্যাংকগুলো আদায় করেছে ১ হাজার ৯৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে বার্ষিক ৯০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সোনালী ব্যাংক আদায় করেছে ৬১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা (লক্ষ্যমাত্রার ৬৮ দশমিক ২৫ শতাংশ); ৪৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জনতা ব্যাংক আদায় করেছে ১৫৮ কোটি ০৪ লাখ টাকা (৩৫ দশমিক ১২ শতাংশ); ৫০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংক আদায় করেছে ১৭৯ কোটি টাকা (৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ); ১০০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রূপালী ব্যাংক আদায় করেছে ১১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা (১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ); ১৪০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বেসিক ব্যাংক আদায় করেছে ৭৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা (৫৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ); ৯০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিডিবিএল ব্যাংক আদায় করেছে ৬৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা (৭২ দশমিক ৬৭ শতাংশ); ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিকেবি আদায় করেছে ৫৪৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা (৩৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ) এবং ৪০০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাকাব আদায় করেছে ১৭৫ কোটি টাকা (৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ)। 

এ ছাড়া অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ থেকে চলতি অর্থবছরে উল্লেখিত আটট ব্যাংকের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৫৬১ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যাংকগুলো গত বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে আদায় করেছে ২০৪ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ের হার ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অবলোপন খাত থেকে আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এগিয়ে আছে রূপালী ও বিডিবিএল এবং সবচেয়ে পিছিয়ে আছে বেসিক ব্যাংক। 

অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ খাত থেকে ২০০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সোনালী ব্যাংক ৮৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা (৪৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ); ১৩০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে জনতা ব্যাংক ১৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা (১৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ); ১৫০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অগ্রণী ব্যাংক ৪৬ কোটি টাকা (৩০ দশমিক ৬৭ শতাংশ); ৩৫ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রূপালী ব্যাংক ২৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা (৭২ দশমিক ৮ শতাংশ); ১০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বেসিক ব্যাংক ২০ লাখ টাকা (২ শতাংশ) এবং ৩০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিডিবিএল ১৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা (৬২ দশমিক ৭৭ শতাংশ) আদায় করেছে। এ ছাড়া অবলোপনকৃত খেলাপি ঋণ খাত থেকে ৪ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিকেবি ৭ কোটি ০৩ লাখ টাকা এবং ২ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাকাব ১ কোটি টাকা আদায় করেছে। 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, খেলাপি ও অবলোপনকৃত ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংকগুলোকে একটি ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’ হাতে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজন হলে বিশেষ টিম গ্রহণ করার জন্যও বলা হয়েছে। এরপর আমরা বছর শেষে ব্যাংকগুলোর পরফরম্যান্স খতিয়ে দেখবো। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে তখন ভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ওজনে কারচুপি : ৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
                                  

ওজন ও পরিমাপে কারচুপির অপরাধে ৯টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

রোববার রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও কল্যাণপুর এলাকায় বিএসটিআইর সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন-২০১৮’ লঙ্ঘন করায় এ মামলা করা হয়।

অভিযুক্ত ৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোহাম্মদপুর টাউনহল মার্কেটের মেসার্স মুকসেদের ফলের দোকান, মেসার্স জাহিদের ফলের দোকান, মেসার্স হাবুল মণ্ডলের ফলের দোকান ও মেসার্স অনন্ত জেনারেল স্টোর মুদির দোকানে বিএসটিআই থেকে ডিজিটাল স্কেলের ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট গ্রহণ না করার তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

একই এলাকার মেসার্স মুসলিম সুইটস অ্যান্ড বেকারির চানাচুরের প্যাকেট, মেসার্স হক ব্রেড অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টসের কেক পণ্যের মোড়কে ও মেসার্স আলীবাবা সুইটসের উৎপাদিত দইয়ের পাতিলে ওজন, মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় মামলা হয়।

এ ছাড়াও কল্যাণপুর এলাকার মিজান টাওয়ারে অবস্থিত মেসার্স ঢাকা মুসলিম সুইটস অ্যান্ড বেকারির কেকে এবং মেসার্স রসক সুইটসের পাউরুটির মোড়কে ওজন, মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ উল্লেখ না থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

বিএসটিআই’র এ অভিযানে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিমের নেতৃত্বে সহকারী পরিচালক মো. মোন্নাফ হোসেন, পরিদর্শক মো. রাকিবুল আলম ও মো. বিল্লাল হোসেন অংশ নেন।

অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু
                                  

কালো টাকা এবং অতিরিক্তি বিনিয়োগ বন্ধ করতে সঞ্চয়পত্র বিক্রির কার্যক্রম পরিক্ষামূলকভাবে অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতিতে শুরু করেছে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতর। অটোমেশনে ন্যাশনাল আইডি কার্ডের সঙ্গে লিংক রয়েছে। তাই কেউ সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র কিনছে কিনা সেটি সহজেই ধরা পড়বে। একইসঙ্গে সঞ্চয়পত্রে কালো টাকা বিনিয়োগরোধে ৫০ হাজার টাকার বেশি কেউ সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে তাকে চেকের মাধ্যমে টাকা পেমেন্ট করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে এ অটোমেশন (অনলাইন) পদ্ধতি চালু হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায়, সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল শাখায়, জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের ব্যুরো অফিস (গুলিস্তান) এবং বাংলাদেশ পোস্ট অফিসের প্রধান কার্যালয়।

রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) অর্থ বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ সচিবালয়ে অর্থ বিভাগের সভা কক্ষে অভ্যন্তরীণভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে এ প্রকল্প চালু করার জন্য চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি অর্থ বিভাগে পাবলিক এক্সপেনডিচার ম্যানেজমেন্ট স্ট্রেনদেনিং প্রোগ্রামের অধীনে কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাস প্রথমিকভাবে চারটি অফিস থেকে অটোমেশনের সঞ্চয়পক্র বিক্রি কার্যক্রম চলানো হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে এটি ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এরপর আগামী অর্থ বছরের শুরুতে তথা ১ জুলাই থেকে দেশব্যাপী এটি শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য ‘ন্যাশনাল সেভিং সার্টিফিকেটস অনলাইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’নামে সঞ্চয়পত্রের অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।

নতুন এ ডাটাবেজ চালু হলে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রের ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নগদ টাকা দিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা যাবে। টাকার পরিমাণ এর বেশি হলে অবশ্যই ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এ জন্য সঞ্চয়কারীর ব্যাংক হিসাব নম্বর, মোবাইল নম্বর দিতে হবে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ইতোমধ্যে যারা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করেছেন তাদেরও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ই-টিন সনদ জমা দিতে হবে। এ উদ্যোগের ফলে সঞ্চয়পত্রে প্রকৃত বিনিয়োগকারীরাই আসবে। একই সঙ্গে কালোটাকা বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করা যাবে।

সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ এতটাই বেড়ে গেছে যে, বর্তমানে বছরে এ ঋণের সুদবাবদ সরকারকে ব্যয় করতে হচ্ছে ৫৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বছরে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয় তার থেকেও এ ব্যয় এক হাজার কোটি টাকা বেশি। তাই শিগগিরই সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগের লাগাম টানতে চায় সরকার। এ জন্য এ খাতে বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে।

জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদফতরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র থেকে নিট বিনিয়োগ এসেছে ২১ হাজার ৬৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় প্রায় ৮৩ শতাংশ। সরকার চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১২ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরেছে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা।

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় নিউইয়র্কে মামলা দায়ের
                                  

রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আজ শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, মামলায় ফিলিপাইনের ম্যানিলাভিত্তিক রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) প্রধান আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থের সুবিধাভোগী আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া অর্থসহ মামলার খরচ দাবি করা হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসান যুগান্তরকে বলেন, রিজার্ভ চুরির বিষয়ে নিউইয়র্কের সময় ৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আর বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাতের প্রথম প্রহরে মামলাটি করা হবে।

গত রোববার রাতে রিজার্ভ চুরির ঘটনায় মামলা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে যান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ছাড়াও চার সদস্যের ওই প্রতিনিধিদলে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের উপদেষ্টা দেবপ্রসাদ দেবনাথ, একই ইউনিটের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রব এবং অ্যাকাউন্ট অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের মহাব্যবস্থাপক জাকির হোসেন রয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমসের নিউইয়র্ক শাখার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে।

ওই চুক্তিতে মামলার ব্যাপারে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেড বাংলাদেশ ব্যাংককে সব ধরনের সহায়তা দেবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা পরিচালনার জন্য নিউইয়র্কে দুটি ল’ ফার্ম নিয়োগ করেছে।

এর আগে বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির সাংবাদিকদের বলেন, সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আমাদের একটি প্রতিনিধিদল এখন নিউইয়র্কে অবস্থান করছে।

গভর্নর বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করাই এ মামলার উদ্দেশ্য।

২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে (নিউইয়র্ক ফেড) থাকা বাংলাদেশের রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকিং লেনদেনের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সুইফটে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এ অর্থ ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে সরানো হয়েছিল।

পাঁচটি সুইফট বার্তার মাধ্যমে চুরি হওয়া এ অর্থের মধ্যে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া ২ কোটি ডলার আটকানো যায় এবং তা ফেরতও পাওয়া যায়।

তবে ফিলিপিন্সে যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার জুয়ার টেবিল ঘুরে হাতবদল হয়। পরে ওই অর্থের দেড় কোটি ডলার জুয়ার আসর থেকে ফিলিপিন্স সরকার তুলে ফেরত দিলেও বাকি অর্থ পাওয়া যায়নি।

গভর্নর বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনা থেকে যারা লাভবান হয়েছে এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের এ মামলায় আসামি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির এ ঘটনা ফিলিপিন্সেও সাড়া ফেলেছিল। তারাও ঘটনার তদন্ত করে একটি মামলা করে।

যে ব্যাংকের মাধ্যমে এই অর্থ জুয়ার টেবিলে গিয়েছিল, সেই আরসিবিসির কর্মকর্তা মায়া সান্তোস দেগিতোকে সম্প্রতি দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত।

ওই ঘটনায় বাংলাদেশেও একটি মামলা করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা ওই মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ গত তিন বছরেও আদালতে প্রতিবেদন দিতে পারেনি।

বিনোদনের স্থান হতে পারে পার্কলেট
                                  

সড়কের পাশে, বাড়ির বর্ধিত অংশে অথবা মার্কেটের পার্কিংয়ের স্থানে ছোট বিনোদন কেন্দ্র হলো পার্কলেট। আর রাজধানী শহর ঢাকাতে অস্থায়ী এই বিনোদন কেন্দ্রে নগরীর মানুষের বিনোদনের চাহিদা কিছুটা হলেও পূরণ করতে পারে। সোমবার (২১ জানুয়ারি) কারফ্রি সিটি’স এলায়েন্স বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব ওয়েলবিইং ও ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের উদ্যোগে পার্কলেট ডিজাইন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় বক্তরা এসব কথা বলেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের আয়োজনে ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন- সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান স্থপতি মীর মোবাশ্বের আলী, পাবলিক প্লেস বিশেষজ্ঞ পরিকল্পনাবিদ সোহেল রানা, রাজউকের নগর পরিকল্পনাবিদ সাঈদ রেজাউল হক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানাসের সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের প্রোগাম ম্যানেজার, মারুফ হোসেন সভার সঞ্চালনায় সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিইংয়ের নির্বাহী পরিচালক দেবরা ইফ্রইমসন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের মারুফ হাসান।

গাউস পিয়ারী বলেন, মানুষ যন্ত্র নয়, তার বেঁচে থাকার জন্য বিনোদনের প্রয়োজন আছে। কিন্তু আমরা শহরের মানুষের বিনোদনে প্রাধান্য দিচ্ছি না। ফলে মানুষ ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। শহরের মানুষের মধ্যে আরো বেশি আন্তরিকতা ও সংযোগ তৈরি করার জন্য গাড়ি কেন্দ্রিক পরিকল্পনা বাদ দিতে হবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে, মানবিক শহর গড়তে আমাদের আরো বেশি স্থান তৈরি করতে হবে। দেবরা ইফ্রইমসন বলেন, আমরা গাড়ির জন্য পার্কিংয়ের স্থান দিতে গিয়ে বিনোদন ও শিশুদের খেলার জায়গা নষ্ট করছি। শহরে শিশুরা খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাচ্ছে না। ফলে শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশ হচ্ছে না। শিশুদের সামাজিকীকরণ ও বিনোদনের জন্য শহরগুলোতে প্রচুর পরিমাণ পার্কলেট গড়ে তোলা প্রয়োজন। মীর মোবাশ্বের আলী বলেন, ঢাকা শহর অন্যান্য শহরের তুলনায় এমনিতেই অনেক সুন্দর। এ শহরে পার্কলেট একটি সুন্দর ও মনোরম বিনোদনের জায়গা করে দিতে পারে। কমিউনিটির সবাই ছোট পরিসরে পার্কলেট গড়ে তুলে সুন্দর বিনোদনের পাশাপাশি আমাদের শহরকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে। আপনারা সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করছেন। এটা বাড়ালে একটা কিছু হবে। তবে এজন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি করপোরেশনকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আলোচনা শেষে পার্কলেট ডিজাইন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা। প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন সাউথ ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষাথী মৌকুড়ি মুহিম, দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন যৌথভাবে বুয়েটের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের প্রত্যয় রায় ও সৃষ্টি রায় চৌধুরী এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেন বুয়েটের নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনা বিভাগের তৌফিকুর জামান প্রান্ত ও মোহাম্মদ সাকলাইন মোস্তাক।

খেলাপি ঋণ কমানোর নানামুখী উদ্যোগ
                                  

ব্যাংকিং খাতে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। তবে বাস্তবে খেলাপি ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি বলে মনে করেন ব্যাংকাররা। ব্যাংকিং খাতে এ পাহাড় সমান খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য গত ৫ বছরে বিভিন্ন উদ্যোগ নয়া হলেও খেলাপি ঋণ কমেনি, বরং ফি বছরেই গাণিতিক হারে বেড়ে চলেছে। এমনই পরিস্থিতিতে নতুন অর্থমন্ত্রী আবারো খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এ বিষয়ে কৌশল নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। সূত্র জানান, খেলাপি ঋণ কমানোর নানামুখী উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বেসরকারি কোম্পানির কাছে আদায় অযোগ্য খেলাপি ঋণ বিক্রি করা।

দ্বিতীয়ত, ঋণখেলাপিরা আদালতে গিয়ে খেলাপির ওপর রিট করতে চাইলে এককালীন ৫০ শতাংশ টাকা ব্যাংকের পরিশোধ করা। এ জন্য আইন সংশোধন করা। তৃতীয়ত. ঋণ পুনর্গঠনের নামে মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ব্যবসায়ীদের ঋণ নবায়নের আবারো সুযোগ করে দেয়া। আর সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে খেলাপি ঋণের বিষয়ে তদারকি শিথিল করা। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের যে তথ্য দেবে সেটাই মেনে নেয়া। তবে এর কোনোটি বেছে নেয়া হবে, তা নির্ভর করবে অর্থমন্ত্রীর ওপর। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর ব্যাংকিং খাত থেকে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্নর। এ সময় কোনো প্রকার ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়। এর পাশাপাশি মাত্র এক ও দুই শতাংশ ডাইন পেমেন্ট দিয়ে ৫০০ কোটি টাকা ও এক হাজার কোটি টাকার অধিক ঋণখেলাপিদের ঋণ নবায়নের সুযোগ দেয়া হয়।

তাদেরকে ছাড় দেয়া হয় সুদের ক্ষেত্রেও। এ সুযোগ নিয়ে ২০১৫ সালে ১৪টি ব্যবসায়ী গ্রুপ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ওপরে খেলাপি ঋণ নবায়ন করে নেন। বড় ঋণখেলাপিরা আবার নতুন করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, খেলাপি ঋণ কমানোর এ বড় ছাড়ে ব্যাংকিং খাতে সাময়িকভাবে খেলাপি ঋণ কমে যায়। পরে তা আরো বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা ঋণ পুনর্গঠনের ছাড় নিয়ে ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণ বের করে নেন। কিন্তু পুনর্গঠন ঋণের কয়েক কিস্তি পরিশোধ করার পর তা বন্ধ করে দেন। এর ফলে পুনর্গঠন করা ১৫ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ এখন সুদে আসলে বেড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। মাঝখান থেকে আরো কয়েক হাজার কোটি টাকার নতুন ঋণ বের করে নিয়েছেন সুযোগ নেয়া ঋণ খেলাপিরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, তার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আর এক টাকাও খেলাপি ঋণ বাড়বে না। তার এ ঘোষণা বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে বাস্তবায়ন করা আদৌ সম্ভব নয়। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া বেশির ভাগ বড় বড় ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করছেন না। বিশেষ করে সরকারি ব্যাংক থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন, বেশির ভাগেরই একই অবস্থা। ব্যবসায়ীরা ঋণ পরিশোধ না করলে খেলাপি ঋণ কমানো যাবে না। যদি ঋণ পুনর্গঠনের আবারো বড় ধরনের সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে হয়তো সাময়িকভাবে খেলাপিঋণ কিছু কমবে। তবে, দীর্ঘ মেয়াদে তা কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যেমনটি হয়েছিল ২০১৫ সালে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে ঋণ পুনর্গঠনের নামে ব্যবসায়ীদের আবারো ছাড় দিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মন্দ ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। বেসরকারি কোম্পানিগুলো ব্যাংকের কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ অর্ধেক বা এর এ চেয়ে কম মূল্যে কিনে নেয়। এতে ব্যাংকের খাতায় খেলাপিঋণ কমে যায়। আর বেসরকারি কোম্পানি ঋণ খেলাপির জামানতকৃত সম্পদ বিক্রি করে অর্থ আদায় করে। বিদেশের আদলে দেশের মন্দ ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দেয়া হতে পারে। বর্তমানে কাগজ-কলমে অবলোপনসহ খেলাপি ঋণ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই মন্দ ঋণ বা আদায় অযোগ্য ঋণ। এসব ঋণ বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রি করে দিলে ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমে যাবে। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে সময়সাপেক্ষ। এটা করা হলে খেলাপি ঋণ কমানোর স্থায়ী সমাধান হবে।

তৃতীয়ত, এককালীন ডাউন পেমেন্ট বাড়ানো। সাধারণত ঋণখেলাপিরা খেলাপির ওপর উচ্চ আদালত থেকে রিট করেন। অর্থাৎ ঋণখেলাপিকে সাময়িক সময়ের জন্য ঋণখেলাপি বলা যাবে না। উচ্চ আদালত থেকে খেলাপি ঋণের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে ব্যাংক থেকে আবারো নতুন করে ঋণ বের করে নিচ্ছেন। আবার নতুন করে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করে খেলাপি হয়ে যাচ্ছেন। এভাবে এক একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের নামে হাজার হাজার কোটি টাকার খেলাপিঋণ সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ঋণ খেলাপিরা যেন সুযোগ না পান সেজন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। যেমন, যারাই উচ্চ আদালতে রিট করবেন তাদেরকে আগে খেলাপি ঋণের ৫০ শতাংশ পরিশোধ করতে হবে। এভাবে আইন সংশোধন করলে ঋণখেলাপিরা আর সচারচর উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন না। ব্যাংকিং খাত থেকে খেলাপি ঋণ কমানোর স্থায়ী সুফল পাওয়া যাবে।

এর বাইরে খেলাপি ঋণ তদারকিতে শিথিল করা হতে পারে। ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণের যে তথ্য দেবে তা মেনে নেয়া হবে। যেমনটি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে দেয়া হয়েছিল। ওইসময় খেলাপি ঋণ বেশি এমন ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মৌখিক নির্দেশ দেয়া হয়েছিল, ডাউন পেমেন্ট ছাড়া খেলাপি ঋণ নবায়ন করতে। ওইসময় ব্যাংকগুলো ছুটির দিনেও পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক ডেকে রাতারাতি খেলাপি ঋণ কমিয়ে এনেছিল। তবে খেলাপি ঋণ কমানোর এটা স্থায়ী সমাধান নয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অর্থমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী যেটা অনুমোদন দেবেনÑ সেটাই বাস্তবায়ন করা হবে।

 
 
১ হাজার ৪৫০ টাকার শাড়ি মিলছে ৯৯০ টাকায়
                                  

১ হাজার ৪৫০ টাকার হাফ সিল্ক শাড়ি মাত্র ৯৯০ টাকায় বিক্রি করছে সাতকাহন।

ঢাকা ২৪তম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের প্যাভিলিয়নের সাতকাহন স্টলে এই ছাড় দেয়া হচ্ছে।

এই মেলার অধিকাংশ স্টলেই ছাড় দিয়ে পণ্য বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের কারণে মেলা পিছিয়ে শুরু হয় ৯ জানুয়ারি। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মেলা।

২৮-৩১ ডিসেম্বর বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং লেনদেন
                                  

সাপ্তাহিক ছুটি, নির্বাচনের জন্য সাধারণ ছুটি ও ব্যাংক হলিডে মিলিয়ে ২০১৮ সালের শেষ ৪ দিন ব্যাংকের লেনদেন বন্ধ থাকবে। এ ৪ দিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও লেনদেন হবে না। এ কারণে ২৭ ডিসেম্বর হবে শেষ কার্যদিবস। এদিনই চূড়ান্ত হবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক হিসাব।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ নিয়ে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর শুক্রবার ও শনিবার। সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এ দুদিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের কারণে সাধারণ ছুটি। ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে, এ দিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হবে না। তবে এ সময়ে গ্রাহকেরা কার্ডের মাধ্যমে সীমার মধ্যে টাকা উত্তোলন করতে পারবে। টানা এ ছুটির কারণে ২৭ ডিসেম্বর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বার্ষিক হিসাব চূড়ান্ত করবে।

এদিকে টানা এ ছুটির কারণে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকা উত্তোলন বেড়ে গেছে। নির্বাচনের কারণে ব্যাংকগুলোকে টাকা উত্তোলনে সতর্কতা জোরদার করতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

শেয়ার বাড়লেও বীমায় কমছে বিদেশি বিনিয়োগ
                                  

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত গুটিকয়েক বীমা কোম্পানিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ রয়েছে। গত দুই মাসে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ প্রায় সাত লাখের মতো বেড়েছে। তবে টাকার অঙ্কে বিনিয়োগের পরিমাণ আড়াই কোটি টাকার ওপরে কমে গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক ভিত দুর্বল এবং বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মে জড়িত থাকায় দেশের বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর প্রতি খুব একটা আগ্রহ নেই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের। ফলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নামমাত্র কয়েকটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে বিদেশিদের।

তারা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন। তাদের বিনিয়োগ সাধারণত ব্লু চিপ (ভালো মৌলভিত্তি) কোম্পানিতে হয়ে থাকে। কিন্তু দেশের সিংহভাগ বীমা কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি খুব একটা শক্ত নয়। দু-একটি বাদে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের আয় ও লভ্যাংশের ক্ষেত্রে খুব একটা ধারাবাহিকতা নেই।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বর্তমানে ৪৭টি বীমা কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। এর মধ্যে মাত্র আটটি কোম্পানিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে। ওই আট কোম্পানির মধ্যে তিনটিতে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ দুই মাসের ব্যবধানে বেড়েছে। বাকি পাঁচটিতে শেয়ার ধারণ আগের অবস্থানেই রয়েছে।

তিনটি কোম্পানিতে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ বাড়ার পরও টাকার অঙ্কে বিনিয়োগ কমে গেছে। বর্তমান বাজার দরে বীমা খাতের কোম্পানিগুলোতে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ৫৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। যা দুই মাস আগে অর্থাৎ সেপ্টেম্বরে ছিল ৫৮ কোটি ৩২ লাখ ২৯ হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই মাসে বীমা খাতে বিদেশিদের বিনিয়োগ কমেছে দুই কোটি ৫৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা।

বীম প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিদেশিদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ আছে গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে। নভেম্বর মাস শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ রয়েছে বিদেশিদের হাতে। সেপ্টেম্বর মাস শেষেও প্রতিষ্ঠানটির একই পরিমাণ শেয়ার ছিল বিদেশিদের কাছে।

গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মোট শেয়ার সংখ্যা আট কোটি ছয় লাখ ৯১ হাজার ১৮৭টি। সে হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির ৬৬ লাখ ৫৭ হাজার শেয়ার আছে বিদেশিদের কাছে। বর্তমান বাজার দরে এ শেয়ারগুলোর মোট মূল্য ৩৮ কোটি এক লাখ ১৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ সাধারণ বীমা কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ৩৮ কোটি এক লাখ ১৬ হাজার টাকা।

শেয়ার সংখ্যার পার্থক্য না হলেও সেপ্টেম্বরে গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সে বিদশিদের বিনিয়োগ ছিল ৩৯ কোটি ৮০ লাখ ৯০ হাজার টাকা। দুই মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় বিদেশিদের বিনিয়োগের পরিমাণ কমে গেছে।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সেও বিদেশিদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ কম বা বেশি হয়নি। তবে শেয়ারের দাম কমে যাওয়ার কারণে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ কমে গেছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ১২ কোটি ৫৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ২ দশমিক ৮৩ শতাংশ বা ২১ লাখ ১৫ হাজার রয়েছে বিদেশিদের কাছে।

বর্তমান বাজার দরে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্সে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ৮৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। নভেম্বর মাস শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ১ শতাংশ রয়েছে বিদেশিদের কাছে। সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের দশমিক শূন্য নয় শতাংশ ছিল বিদেশিদের কাছে। সে হিসাবে এই বীমা প্রতিষ্ঠানে বিদেশিদের শেয়ার ধারণ বেড়েছে ১০ গুণের ওপরে। ফলে টাকার অঙ্কেও বেড়েছে বিনিয়োগ। সেপ্টেম্বরে সিটি জেনারেলে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল আট লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ন্যাশনালে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ১২ লাখ ১৯ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল ১২ লাখ ২৬ হাজার টাকা। সে হিসাবে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ সাত হাজার টাকার মতো কমেছে। তবে বর্তমানে বিদেশিদের কাছে কোম্পানিটির যে শেয়ার আছে, দুই মাস আগেও শেয়ার সংখ্যা তাই ছিল। বিদেশিদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির দশমিক ১৭ শতাংশ বা ৭৫ হাজার শেয়ার রয়েছে।

এছাড়া বিদেশিদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ স্থির থাকা অন্য বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ঢাকা ইন্স্যুরেন্সে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল ১৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ারের দশমিক ১৫ শতাংশ বা ৬০ হাজার শেয়ার রয়েছে বিদেশিদের কাছে।

পপুলার লাইফে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল এক কোটি ৪৪ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের দশমিক ২১ শতাংশ বা এক লাখ ২৭ হাজার শেয়ার রয়েছে বিদেশিদের কাছে।

এদিকে বিদেশিদের শেয়ার ধারণের পরিমাণ বাড়া বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রাইম ইসলামী লাইফে বর্তমানে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে ২৯ লাখ ছয় হাজার টাকা। সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল ২৪ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে শেয়ার ধারণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়েছে। নভেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের দশমিক ১৮ শতাংশ রয়েছে বিদেশিদের কাছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল দশমিক ১৭ শতাংশ।

তাকাফুল ইন্স্যুরেন্সে বিদেশিদের বিনিয়োগ আছে দুই কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। সেপ্টেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ ছিল দুই কোটি ১৭ লাখ দুই হাজার টাকা। সে হিসাবে দুই মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদেশিদের বিনিয়োগ বেড়েছে ৩৫ লাখ টাকার ওপরে। নভেম্বর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ২ দশমিক ২৩ শতাংশ রয়েছে বিদেশিদের কাছে, যা সেপ্টেম্বরে ছিল ২ দশমিক ১১ শতাংশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড পাবলিক পলিসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে জোগো নিউজকে বলেন, ‘বীমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন অস্বচ্ছ। আর্থিক অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে প্রায়ই গ্রাহকদের দাবির টাকা পরিশোধ না করা সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠে। এসব কারণে হয় তো বিদেশিরা বীমা খাতের প্রতি খুব একটা আগ্রহ দেখায় না।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, ‘বীমা খাতের কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ভালো রিটার্ন পাওয়া যায় না- এমন আশঙ্কা থেকেই হয় তো বিদেশিরা বীমা খাতের কোম্পানিতে খুব একটা বিনিয়োগ করেন না। তাছাড়া বীমা খাত বেশ বিশৃঙ্খল। এ খাতের একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকলেও সেটি খুব একটা কার্যকর নয়। ফলে বীমা কোম্পানিগুলোতে সুশাসনের অভাব রয়েছে।’

বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান
                                  

 জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। জাপানি ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিতে পারেন। বাংলাদেশ সরকারের নীতি ব্যবসাবান্ধব। গতকাল বৃহস্পতিবার দূতাবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাপান-বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি সংক্রান্ত একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস ও জাপান-বাংলাদেশ সোসাইটি যৌথভাবে সেমিনারটির আয়োজন করে। বিপুলসংখ্যক জাপানি ব্যবসায়ী ও তাদের প্রতিনিধিরা সেমিনারে অংশ নেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন জাপান-বাংলাদেশ সোসাইটির প্রেসিডেন্ট ও বাংলাদেশে অবস্থিত জাপান দূতাবাসের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাতসুশিরো হরিগুচি। জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা সেমিনারে মূল উপস্থাপনা করেন। এতে আরো বক্তব্য রাখেন জাপান-বাংলাদেশ সোসাইটির পরিচালক ও মারুহিসা কো. লি. এর প্রেসিডেন্ট হিরাইশি কিমিনবু। রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বিগত এক দশকে বাংলাদেশে অর্জিত উন্নয়নের ধারা আগত অতিথিদের কাছে তুলে ধরেন। তিনি এ সময় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়, রপ্তানি, শিক্ষারহার, বিদ্যুৎ উৎপাদন ইত্যাদি তথ্য উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রদূত আরো বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৩তম বৃহৎ অর্থনীতি এবং গড় প্রবৃদ্ধি শতকরা সাত ভাগের বেশি। বাংলাদেশ তৈরিপোশাক রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়, চাল উৎপাদনে চতুর্থ এবং মাছ ও সবজি উৎপাদনে তৃতীয়। তিনি বাংলাদেশের খাতভিত্তিক উন্নয়নচিত্র সবাইকে অবহিত করেন এবং দেশের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের বর্ণনা দেন। সেমিনারে বাংলাদেশের অর্থনীতি, দেশে বিদ্যমান ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ ও সরকার প্রদত্ত সুবিধানিয়ে আলোচনা করেন জাপান এক্সটারনাল ট্রেড অরগানাইজেশন (জেট্রো) ঢাকার প্রতিনিধি তাইকি কোগা। এছাড়া বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন শিপ হেলথ কেয়ারের নির্বাহী পরিচালক হিরোইউকি কোবাইয়াসি ও শিমিজু করপোরেশনের ঢাকা প্রতিনিধি ইয়াসুশি মিজুশিনা।

 

রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল
                                  

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পুনরায় পিছিয়ে আগামী ৯ জানুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত। 
মঙ্গলবার মামলার প্রতিবেদন জমা দেয়ার দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াসিন আহসান চৌধুরী নতুন এ দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে জালিয়াতি করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়ে যায়। স্থানান্তরিত এসব টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। 
ধারণা করা হয়, দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় এ অর্থ পাচার করা হয়েছে।
রিজার্ভের এ অর্থ চুরি যাওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। 
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী ২০১৫)-এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন, ২০০৬-এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় করা মামলায় সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।
২০১৭ সালের ১৬ মার্চ মামলাটি তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। তবে দফায় দফায় সময় নিলেও নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি পুলিশের এ তদন্ত সংস্থাটি।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে: মুডিস
                                  

খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতির কারণে বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যৎ অবস্থা ঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে বৈশ্বিক রেটিং এজেন্সি-মুডিস। প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার (২৯ নভেম্বর) তাদের ‘ব্যাংকিং সিস্টেম আউটলুক-বাংলাদেশি ব্যাংকস’ শীর্ষক রিপোর্টে বলেছে, ‘দেশটির অর্থনীতি অনেক ভালো হলেও ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নাজুক।’
মুডিসে কর্মরত একজন বিশেষজ্ঞ তেংফু লি বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক গার্মেন্ট শিল্পের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসারিত হচ্ছে। ঋণ ও রেমিটেন্সের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির কারণে আভ্যন্তরীণ ভোগ বৃদ্ধি পাবে। তবে বিখণ্ডিত ব্যাংকিং খাতে সম্পদের গুনগতমান নিম্নগামী।’ 
ব্যাংকিং খাতে, বিশেষ করে সরকারি ব্যাংকে সুশাসনের দুর্বলতার কারণে খেলাপি ঋণের পরিমাণ জুন মাসে ১০.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি জানান।
আগামি ১২ থেকে ১৮ মাসের অবস্থা পর্যালোচনা করে মুডিস বলেছে, খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে সামনের দিনগুলিতে ঝুঁকির পরিমাণ বাড়বে।
মুডিস মনে করে সামনের দিনগুলিতে থেলাপি ঋণের কারণে সুদের হার বাড়তে পারে এবং ব্যাংকিং খাতে মুনাফার হার কমতে পারে। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে কাজ করার পরিবেশ স্বাভাবিক হলেও প্রদেয় ঋণের গুনগত মান, মূলধন এবং মুনাফা নিম্নগামী। তবে ব্যাংকিং খাতে প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় মুডিস।
আনিতা এখন উদয়ন স্কুলের প্রধান শিক্ষক উম্মে সালেমা বেগমের বাসায় আছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে উম্মে সালেমা বেগম ফোন দেওয়া হলে বলেন, ‘আমি ফোনে কিছু বলতে পারবো না।’
তবে গোবিন্দ চক্রবর্তী অভিযোগ অস্বীকার করে এই প্রতিবেদকের ফোন কেটে দেন। পরে তাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগের বিষয়ে তার স্ত্রী সুতপা ভট্টাচার্যের কাছে জানতে চাইলে তিনিও অভিযোগ অস্বীকার করে তাড়াহুড়ো করে ফোন কেটে দেন। পরে তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নীলদলের পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘আমি এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে তারা যদি এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নিয়ে সুবিচার নিশ্চিত করা।’


   Page 1 of 83
     অর্থ-বাণিজ্য
যারা বোঝে না তাদের ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে রাখব না: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
চাকরিচ্যুত হলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের বিতর্কিত মহাব্যবস্থাপক
.............................................................................................
নানামুখী সঙ্কটে ব্যাংক খাত
.............................................................................................
এক মাসে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ৩০ টাকা
.............................................................................................
রাষ্ট্রায়ত্ত ৮ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায় লক্ষ্যমাত্রার ৩৮ শতাংশ
.............................................................................................
ওজনে কারচুপি : ৯ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
অটোমেশন পদ্ধতিতে সঞ্চয়পত্র বিক্রি শুরু
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় নিউইয়র্কে মামলা দায়ের
.............................................................................................
বিনোদনের স্থান হতে পারে পার্কলেট
.............................................................................................
খেলাপি ঋণ কমানোর নানামুখী উদ্যোগ
.............................................................................................
১ হাজার ৪৫০ টাকার শাড়ি মিলছে ৯৯০ টাকায়
.............................................................................................
২৮-৩১ ডিসেম্বর বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং লেনদেন
.............................................................................................
শেয়ার বাড়লেও বীমায় কমছে বিদেশি বিনিয়োগ
.............................................................................................
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগের আহ্বান
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল
.............................................................................................
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে: মুডিস
.............................................................................................
রফতানিতে স্বর্ণপদক পেল ‘আরএফএল’
.............................................................................................
‘নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সংশয় আছে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এখনো অনেক দূরে’
.............................................................................................
বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে: মুডিস
.............................................................................................
জরিমানার কবলে সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালকরা
.............................................................................................
মাশরাফিকে নিয়ে যা বললেন ভক্তরা...
.............................................................................................
অর্থমন্ত্রীর সম্পদ বেড়ে দ্বিগুণ
.............................................................................................
মূলধন বাড়াবে পাওয়ার গ্রিড
.............................................................................................
ঋণের অর্থ যথাযথ ব্যবহারে মনিটরিংয়ের তাগিদ গভর্নরের
.............................................................................................
ঢাকায় চামড়া শিল্প প্রযুক্তির প্রদর্শনী
.............................................................................................
স্টাইল ক্রাফটের শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম
.............................................................................................
বাংলাদেশ হোন্ডার উৎপাদন শুরু
.............................................................................................
সফটওয়্যার রফতানি : নগদ সহায়তা আবেদনের সময় বৃদ্ধি
.............................................................................................
অর্ধেক ভাড়ায় রিজেন্ট এয়ারওয়েজে ভ্রমণের সুযোগ
.............................................................................................
অধিকাংশ ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার অবনতি
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে টানা দরপতন
.............................................................................................
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চায় ডিসিসিআই
.............................................................................................
শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৭০ পয়সা লভ্যাংশ দেবে পাওয়ার গ্রিড
.............................................................................................
এফবিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুল ইসলাম
.............................................................................................
যেসব শর্তে কর ছাড় পাচ্ছেন ডিএসইর সদস্যরা
.............................................................................................
৬০ হাজার কোটি টাকার ৪০ প্রকল্প পাস হচ্ছে রোববার
.............................................................................................
রংপুরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্ররংপুরে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের
.............................................................................................
বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ হাইব্রিড গাড়ির যাত্রা শুরু
.............................................................................................
বাংলাদেশে বিএমডব্লিউ হাইব্রিড গাড়ির যাত্রা শুরু
.............................................................................................
পুঁজি সংগ্রহের কৌশল নিয়ে কর্মশালা
.............................................................................................
বিনিয়োগকারীদের পছন্দের শীর্ষে সায়হাম কটন
.............................................................................................
স্বাভাবিক চাকরির নিশ্চয়তা চান গ্রামীণফোন কর্মীরা
.............................................................................................
ব্যবসায় আফগানিস্তান-মিয়ানমারের চেয়েও পিছিয়ে বাংলাদেশ
.............................................................................................
রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক দেয়ায় খুশি নন অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
বাংলাদেশে অপরিশোধিত চিনি রফতানি করতে চায় ভারত
.............................................................................................
বিজিএমইএ পর্ষদে যতবার ইচ্ছে নির্বাচন করার সুযোগ
.............................................................................................
ডিএসইর সাবেক সদস্য শহিদুল্লাহ আর নেই
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে ফের দরপতন
.............................................................................................
ভাগ্য খুলছে অগ্রণী ব্যাংকের ৭০০ অস্থায়ী কর্মচারীর
.............................................................................................
এননটেক্সের ঋণ অনিয়মে জনতার পর্ষদও দায়ী
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]