| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পদে পদে উচ্চ হারে কর মুঠোফোন ব্যবহারে

 নতুন বাজেট প্রতি পদে পদে উচ্চ হারে কর নিয়ে হাজির হয়েছে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের সামনে। সিম কেনা, কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, সিম হারিয়ে গেলে পরিবর্তন, অপারেটর বদলানোÑসব ক্ষেত্রেই উচ্চ হারে কর দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু সেবার মান উন্নত হচ্ছে না, বরং অবনতির অভিযোগ প্রবল।
নতুন করকাঠামোয় মুঠোফোনে কথা বলার জন্য ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ২২ টাকার মতো যাবে সরকারের ঘরে। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার মধ্যে মোট কর সাড়ে ১৬ টাকা। সিম কেনায় কর ২০০ টাকা। হারিয়ে গেলে সেটা পরিবর্তনেও কর ২০০ টাকা। নতুন করে বাড়ল মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (এমএনপি) মাধ্যমে অপারেটর বদলের ব্যয়। অপারেটররা বলছে, ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে এ ব্যয় ২৫৮ টাকা হয়েছে।


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। ওই দিন থেকেই মুঠোফোন ব্যবহারে ব্যয় বেড়ে যায় সাধারণ মানুষের। জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর সহজে কর আরোপ ও আদায় করা যায়। এ কারণে এ খাতে কর বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আনুপাতিক হারে সেবার মান বাড়ছে না। অবকাঠামোতে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উচ্চ হারে কর দিয়ে আমরা নিম্নমানের সেবা পাচ্ছি। এ ধরনের কর আরোপের ফলে বেশি চাপে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ নিয়ে লার্ন এশিয়ার গবেষণাও আছে।’
বাজেটে কত বাড়ল


নতুন বাজেটে কর বেড়েছে সব ক্ষেত্রেই। সিম কেনায় ১০০ টাকার কর বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। এনবিআর যেহেতু পুরোনো সিম বদলানোর ক্ষেত্রেও কর নেয়, সেহেতু ২০০ টাকা আরোপ হবে সেখানেও। মুঠোফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে কথা বলার ক্ষেত্রে মোট কর দাঁড়াল ২৭ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। তাতে সুফল তেমন একটা পাননি গ্রাহকেরা।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আহমেদ ফয়সাল বলেন, বাজেটের পরই ৪৮ টাকায় তিন দিন মেয়াদে দুই গিগাবাইটের একটি প্যাকেজের দাম ৫৪ টাকা করেছে গ্রামীণফোন। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারে মাসে ৬০ টাকা ব্যয় বেড়ে গেল।
অর্থমন্ত্রী ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন
এদিন থেকেই মুঠোফোন ব্যবহারে ব্যয় বেড়ে যায় সাধারণ মানুষের
কর বাড়ানো হলেও আনুপাতিক হারে সেবার মান বাড়ছে না


এমএনপি সেবা চালু হয় গত বছরের অক্টোবরে। তখন অপারেটর বদলে মোট ব্যয় ছিল ১৫৮ টাকা, যার ১০৮ টাকা ছিল কর। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেষ্টা করে এটি কমিয়ে ৫৮ টাকায় নামিয়ে আনে। অপারেটররা জানিয়েছে, নতুন বাজেটের পর তা বেড়ে ২৫৮ টাকা হয়েছে। এর মধ্যে সিম কর দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) সাড়ে ৭ টাকা। এ ছাড়া বাজেটে মোবাইল অপারেটরগুলোর মোট আয়ের ওপর নূন্যতম কর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।
বাজেটে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে মোট শুল্ককর দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশ। এতে বিদেশি মুঠোফোন আরও খরুচে হলো। অবশ্য এ ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে এনবিআর।
এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব এস এম ফরহাদ বলেন, ‘যত সময় যাচ্ছে, ততই গ্রাহক ও অপারেটরের ওপর কর বাড়ছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির পথে বাধা।’
‘কফিনে শেষ পেরেক’


এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর নতুন করে যেসব কর আরোপ করা হয়েছে, তা এ খাতের জন্য কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নতুন করহার গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত করার পাশাপাশি এ খাতের প্রবৃদ্ধি আটকে দেবে।
অন্যদিকে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তাইমুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে সিম করের অর্থ ভর্তুকি দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু করের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আমাদের পক্ষে সম্পূর্ণ অর্থ ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হবে না।’

পদে পদে উচ্চ হারে কর মুঠোফোন ব্যবহারে
                                  

 নতুন বাজেট প্রতি পদে পদে উচ্চ হারে কর নিয়ে হাজির হয়েছে মুঠোফোন ব্যবহারকারীদের সামনে। সিম কেনা, কথা বলা, ইন্টারনেট ব্যবহার, সিম হারিয়ে গেলে পরিবর্তন, অপারেটর বদলানোÑসব ক্ষেত্রেই উচ্চ হারে কর দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কিন্তু সেবার মান উন্নত হচ্ছে না, বরং অবনতির অভিযোগ প্রবল।
নতুন করকাঠামোয় মুঠোফোনে কথা বলার জন্য ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ২২ টাকার মতো যাবে সরকারের ঘরে। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার মধ্যে মোট কর সাড়ে ১৬ টাকা। সিম কেনায় কর ২০০ টাকা। হারিয়ে গেলে সেটা পরিবর্তনেও কর ২০০ টাকা। নতুন করে বাড়ল মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটির (এমএনপি) মাধ্যমে অপারেটর বদলের ব্যয়। অপারেটররা বলছে, ৫৮ টাকা থেকে বেড়ে এ ব্যয় ২৫৮ টাকা হয়েছে।


অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন। ওই দিন থেকেই মুঠোফোন ব্যবহারে ব্যয় বেড়ে যায় সাধারণ মানুষের। জানতে চাইলে টেলিযোগাযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার জ্যেষ্ঠ পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর সহজে কর আরোপ ও আদায় করা যায়। এ কারণে এ খাতে কর বাড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আনুপাতিক হারে সেবার মান বাড়ছে না। অবকাঠামোতে বিনিয়োগ কম হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘উচ্চ হারে কর দিয়ে আমরা নিম্নমানের সেবা পাচ্ছি। এ ধরনের কর আরোপের ফলে বেশি চাপে পড়ে নিম্ন আয়ের মানুষ। এ নিয়ে লার্ন এশিয়ার গবেষণাও আছে।’
বাজেটে কত বাড়ল


নতুন বাজেটে কর বেড়েছে সব ক্ষেত্রেই। সিম কেনায় ১০০ টাকার কর বেড়ে ২০০ টাকা হয়েছে। এনবিআর যেহেতু পুরোনো সিম বদলানোর ক্ষেত্রেও কর নেয়, সেহেতু ২০০ টাকা আরোপ হবে সেখানেও। মুঠোফোন সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ফলে কথা বলার ক্ষেত্রে মোট কর দাঁড়াল ২৭ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছিল। তাতে সুফল তেমন একটা পাননি গ্রাহকেরা।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী আহমেদ ফয়সাল বলেন, বাজেটের পরই ৪৮ টাকায় তিন দিন মেয়াদে দুই গিগাবাইটের একটি প্যাকেজের দাম ৫৪ টাকা করেছে গ্রামীণফোন। ফলে ইন্টারনেট ব্যবহারে মাসে ৬০ টাকা ব্যয় বেড়ে গেল।
অর্থমন্ত্রী ১৩ জুন ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন
এদিন থেকেই মুঠোফোন ব্যবহারে ব্যয় বেড়ে যায় সাধারণ মানুষের
কর বাড়ানো হলেও আনুপাতিক হারে সেবার মান বাড়ছে না


এমএনপি সেবা চালু হয় গত বছরের অক্টোবরে। তখন অপারেটর বদলে মোট ব্যয় ছিল ১৫৮ টাকা, যার ১০৮ টাকা ছিল কর। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) চেষ্টা করে এটি কমিয়ে ৫৮ টাকায় নামিয়ে আনে। অপারেটররা জানিয়েছে, নতুন বাজেটের পর তা বেড়ে ২৫৮ টাকা হয়েছে। এর মধ্যে সিম কর দাঁড়িয়েছে ২০০ টাকা এবং মূল্য সংযোজন কর (মূসক বা ভ্যাট) সাড়ে ৭ টাকা। এ ছাড়া বাজেটে মোবাইল অপারেটরগুলোর মোট আয়ের ওপর নূন্যতম কর শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।
বাজেটে স্মার্টফোন আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়। ফলে এ ক্ষেত্রে মোট শুল্ককর দাঁড়ায় ৫৭ শতাংশ। এতে বিদেশি মুঠোফোন আরও খরুচে হলো। অবশ্য এ ক্ষেত্রে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার যুক্তি তুলে ধরে এনবিআর।
এদিকে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব এস এম ফরহাদ বলেন, ‘যত সময় যাচ্ছে, ততই গ্রাহক ও অপারেটরের ওপর কর বাড়ছে। এটা ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরির পথে বাধা।’
‘কফিনে শেষ পেরেক’


এ বিষয়ে জানতে চাইলে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, বাজেটে টেলিযোগাযোগ খাতের ওপর নতুন করে যেসব কর আরোপ করা হয়েছে, তা এ খাতের জন্য কফিনে শেষ পেরেক ঠোকার মতো একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নতুন করহার গ্রাহকদের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত করার পাশাপাশি এ খাতের প্রবৃদ্ধি আটকে দেবে।
অন্যদিকে বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তাইমুর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ সময় ধরে সিম করের অর্থ ভর্তুকি দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু করের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আমাদের পক্ষে সম্পূর্ণ অর্থ ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হবে না।’

১০০ সদস্যের মাইলফলকে এআইআইবি
                                  

 এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সদস্য দেশের সংখ্যা একশ’তে পৌঁছেছে।
শনিবার লুক্সেমবার্গে চীনভিত্তিক এ দাতাসংস্থার দুদিন ব্যাপী চতুর্থ বার্ষিক সভার শেষ দিনে তিনটি নতুন দেশকে নতুন সদস্য করায় সংস্থাটির সদস্য সংখ্যা একশ এর মাইলফলক ছুঁয়েছে।
এআইআইবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, লুক্সেমবার্গে বার্ষিক সভায় আফ্রিকার তিনটি দেশ বেনিন, জিবুতি এবং রুয়ান্ডাকে এআইআইবির নতুন সদস্য করা হয়েছে।
২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ৫৭টি দেশ নিয়ে চীনের নেতৃত্বাধীন এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
বাংলাদেশ শুরু থেকেই এআইআই’র সদস্য।


লুক্সেমবার্গ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুন বলেন, এআইবিবির সদস্যভূক্ত এই ১০০টি দেশের জনসংখ্যা বিশ্বের মোট জনগোষ্ঠীর ৭৮ শতাংশ। আর বিশ্ব অর্থনীতির জিডিপি প্রবৃদ্ধির ৬৩ শতাংশ।
এই দেশগুলোর টেকসই উন্নয়নে এআইআইবি সহায়তা করবে বলে জানান সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট।
পানি-পয়ঃনিষ্কাশনে ১০ কোটি ডলার পাচ্ছে বাংলাদেশ


লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মোট ৩০ কোটি ডলাররে এই প্রকল্পে বিশ্ব ঋণ দিচ্ছে ব্যাংক ১০ কোটি ডলার। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেবে।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত এআইআইবি‘র ওই সভায় যোগ দিয়েছেন।
শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এআইআইবি‘র বার্ষিক সভায় যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের কাছে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।
মুস্তফা কামাল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতি এবং সামাজিক উন্নয়ন দুই খাতেই বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশ এখন ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৪ সাল নাগাদ এ প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ঘরে উন্নীত হবে বলে আমরা আশা করছি।”
দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধিতে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী যুগের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে জ¦ালানি, যোগাযোগ ও সামাজিক অবকাঠামো, বিশেষ করে শিক্ষা খাতে বিপুল অর্থ-সহযোগিতার প্রয়োজনের কথা এআইআইবি প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী।


জিন লিকুন বাংলাদেশের ‘অসাধারণ উন্নয়নের’ প্রশংসা করে এআইআিইবি‘র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়।
২০২০ সালের বার্ষিক সভা চীনের বেইজিংয়ে
লুক্সেমবার্গের সভায় ঘোষণা দেয়া হয়, ২০২০ সালের সংস্থাটির বার্ষিক সভা চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। চীন এআইআইবির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

 

পানি-পয়ঃনিষ্কাশনে এআইআইবি দিচ্ছে ২০ কোটি ডলার
                                  

এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) বোর্ড সভায় বাংলাদেশের পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।


শুক্রবার লুক্সেমবার্গে চীনভিত্তিক এ দাতাসংস্থার দুদিন ব্যাপী চতুর্থ বার্ষিক সভার শুরু হয়েছে।
সভার আগের দিন বৃহস্পতিবারে সংস্থাটির এক বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত এআইআইবি‘র ওই সভায় যোগ দিয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা ৩০ কোটি ডলার।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এআইআইবি‘র বার্ষিক সভায় যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের কাছে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন।
মুস্তফা কামাল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতি এবং সামাজিক উন্নয়ন দুই খাতেই বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশ এখন ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৪ সাল নাগাদ এ প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ঘরে উন্নীত হবে বলে আমরা আশা করছি।”


দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধিতে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী যুগের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে জ¦ালানি, যোগাযোগ ও সামাজিক অবকাঠামো, বিশেষ করে শিক্ষা খাতে বিপুল অর্থ-সহযোগিতার প্রয়োজনের কথা এআইআইবি প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেন।


জিন লিকুন বাংলাদেশের ‘অসাধারণ উন্নয়নের’ প্রশংসা করে এআইআিইবি‘র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়।
বাংলাদেশের এই উন্নয়নচিত্র সরাসরি দেখার জন্য তিনি ‘অল্প দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেন’ বলেও জানানো হয়।


এদিকে একই দিনে ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ প্রকল্পটির জন্য ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

 

পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক
                                  

 বাংলাদেশের ৩০টি পৌরসভায় উন্নত পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সুযোগ বাড়াতে ১০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তা অনুমোদন করেছে বিশ্বব্যাংক।
‘বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন’ শিরোনামে প্রায় ২১ কোটি ডলারের এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থাটির প্রতিশ্রুত অংশ বৃহস্পতিবার অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।


এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই সব পৌরসভার পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন পরিষেবার ক্ষমতা তৈরি হবে। এর অধীনে ছোট শহরগুলির প্রায় ৬ লাখ বাসিন্দাকে পাইপলাইনে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে।
এজন্য এই ৩০টি পৌরসভায় পানি শোধন সুবিধা, পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা, পাইপলাইনে সঞ্চালন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ও ঘরে মিটারসহ সংযোগসহ সাবিক পানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।


বাংলাদেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ পরিবারের উন্নত উৎস থেকে পানি পাওয়ার সুযোগ থাকলেও ১০ শতাংশের বেশি মানুষ পাইপলাইনের পানি পায় না। প্রায় অর্ধেক পৌরসভায় পাইপলাইনে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলেও তার সুবিধা শুধু শহরের কেন্দ্রস্থলের গুটিকতক মানুষ ভোগ করতে পারে।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ প্রকল্প পৌরসভাগুলোর পয়ঃনিষ্কাশন ও নালা ব্যবস্থাকে উন্নত করবে। মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন, গণশৌচাগার ও গুরুতর পয়ঃনিষ্কাশন অবকাঠামো তৈরিতে এপ্রকল্প বিনিয়োগ করবে। এর আওতায় মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের (মেথর) প্রশিক্ষণ দেওয়া ও সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার (আইডিএ) দেওয়া সহজ শর্তের এ ঋণ ৩০ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে প্রথম পাঁচবছর ঋণের কিস্তি দিতে হবে না। সোয়া এক শতাংশ সুদ ও পৌনে এক শতাংশ সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে এই ঋণের বাংলাদেশকে বাড়তি ২ শতাংশ অর্থ পরিশোধ করতে হবে।


মোট ২০ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ডলারের এই প্রকল্পের বাকি অর্থের মধ্যে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) দেবে ১০ কোটি ডলার। বাকি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার ডলারের বাংলাদেশ সরকার যোগান দেবে। বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদপ্তর এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

 

বাংলাদেশের সাফল্য দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচনে
                                  

 বিশ্বের যে তিনটি দেশ সবচেয়ে দ্রুত গতিতে সব ধরনের দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য পূরণে এগিয়ে যাচ্ছে, তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি প্রকাশিত ‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স ২০১৯’ এ উঠে এসেছে বাংলাদেশের সাফল্যের এই চিত্র।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজিতে যে ১৭টি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে, তার প্রথমটি হল দারিদ্র্য বিমোচন। ২০৩০ সালের মধ্যে সব জায়গা থেকে ‘বহুমাত্রিক’ দারিদ্র্য দূর করার কথা বলা হয়েছে সেখানে।


আর সেই লক্ষ্য অর্জনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো কতটা এগোতে পারল, তা বোঝার একটি কৌশল এই ‘মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স’ বা এমপিআই।
কেবল মাথাপিছু আয়কে দারিদ্র্যের নির্ণায়ক হিসেবে বিবেচনা না করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মোট দশটি মানদ-ে দারিদ্র্যকে পরিমাপ করা হয় এই সূচকে।
দশটি মানদ-ের মধ্যে কোনো পরিবারে যদি এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে, তাহলে ওই পরিবার বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মধ্যে রয়েছে বলে ধরা হয়।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর হার, জীবনযাত্রার মানের ক্ষেত্রে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ, সম্পদের মালিকানা ও বিছানা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে স্কুলে উপস্থিতি ও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার হারকে মানদ- হিসেবে বিবেচনা করা হয় এই গবেষণায়।
ইউএনডিপি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ যৌথভাবে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
দশটি মানদ-ে পৃথিবীর ১০১ টি দেশের দারিদ্র্যের দশা চিহ্নিত করার পাশাপাশি প্রতি বছর কোন মানদ-ে কতটা পরিবর্তন আসছে, তা বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে এবারের প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১০১টি দেশের ১৩০ কোটি মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে জর্জরিত। এই সংখ্যা দেশগুলোর মোট জনসংখ্যার ২৩.১ শতাংশ। তাদের মধ্যে দুই তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।


বহুমাত্রিক দারিদ্র্যে থাকা এই ১৩০ কোটি মানুষের মধ্যে অর্ধেকের বয়স ১৮ বছরের নিচে, এক তৃতিয়াংশের বয়স ১০ বছরের কম।
বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের রূপটি আরও স্পষ্ট বোঝার জন্য ১০টি দেশের তথ্য আলাদা করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। সবগুলো অঞ্চল, সবগুলো অর্থনৈতিক শ্রেণি থেকে বাছাই করা এ দেশগুলোতে ২০০ কোটি মানুষের বসবাস।
দশটি দেশই জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য-এসডিজির প্রথম লক্ষ্য পূরণে অগ্রগতি দেখিয়েছে। এর মধ্যে আটটি দেশ বহুমাত্রিক দরিদ্রের সংখ্যা কমিয়ে সূচকে সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে গত এক বছরে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দশ দেশের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুত বহুমাত্রিক দরিদ্র মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারছে ভারত, কম্বোডিয়া ও বাংলাদেশ।
মাল্টিডাইমেনশনাল পভার্টি ইনডেক্স ২০১৯’ বলছে, বাংলাদেশে এখনও দুই কোটি ৬৭ লাখ মানুষ ‘বহুমাত্রিক’ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে, যা মোট জনসংখ্যার ১৬.৭ শতাংশ। এক বছর আগে এই হার ছিল ১৮ শতাংশের মত।


যে দশটি মানদ-ে এই সূচক তৈরি হয়েছে তার নয়টিতেই বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতি হয়েছে। বহুমাত্রিক দারিদ্র্য কমার গতি গ্রাম ও শহর- দুই ক্ষেত্রেই প্রায় সমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহুমাত্রিক দারিদ্র্য কমিয়ে আনতে পারলেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে অসমতা এখনও ব্যাপক।
বহুমাত্রিক দারিদ্র্য সূচকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পয়েন্ট সমান- ০.১৯৮। কিন্তু পাকিস্তানে অসমতা বাংলাদেশের চেয়ে বেশি বলে জানানো হয়েছে প্রতিবেদনে।

ঢাকায় এসেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি
                                  

 তিনদিনের সফরে ঢাকায় এসেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক-ইয়োন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ঢাকা এসেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। চার দেশ সফরের অংশ হিসেবে প্রথমেই ঢাকা এসেছেন লি নাক ইয়োন।

তিনি ১৩-২১ জুলাই সময়ে বাংলাদেশ, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান ও কাতার সফর করবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও কোরিয়া বাণিজ্য বিনিয়োগ প্রোমশন এজেন্সির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। এ ছাড়া কোরিয়া ন্যাশনাল ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমি ও বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমির মধ্যে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সকালে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি নাক ইয়োন। ওইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

একইদিন সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী। তিনি ঢাকা সফরে সাভারের ইপিজেড এলাকাও পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। তিনদিনের সফর শেষে এদিনই ঢাকা ত্যাগ করবেন লি নাক ইয়োন।

 

সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনে ২০ কোটি ডলার দিচ্ছে এআইআইবি
                                  

 এশীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যাংকের (এআইআইবি) বোর্ড সভায় বাংলাদেশের পৌরসভা এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। গত শুক্রবার লুক্সেমবার্গে চীনভিত্তিক এ দাতাসংস্থার দুদিন ব্যাপী চতুর্থ বার্ষিক সভার শুরু হয়েছে। সভার আগের দিন বৃহস্পতিবারে সংস্থাটির এক বোর্ড সভায় বাংলাদেশের জন্য এ ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল লুক্সেমবার্গে অনুষ্ঠিত এআইআইবি‘র ওই সভায় যোগ দিয়েছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘মিউনিসিপ্যাল ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন’ শীর্ষক একটি প্রকল্পে এ ঋণ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা বা ৩০ কোটি ডলার। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এআইআইবি‘র বার্ষিক সভায় যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের কাছে বাংলাদেশের ব্যাপক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন। মুস্তফা কামাল বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্থনীতি এবং সামাজিক উন্নয়ন দুই খাতেই বাংলাদেশ ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। বাংলাদেশ এখন ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

২০২৪ সাল নাগাদ এ প্রবৃদ্ধি দুই অংকের ঘরে উন্নীত হবে বলে আমরা আশা করছি। দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধিতে উন্নীত হওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী যুগের প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে জ¦ালানি, যোগাযোগ ও সামাজিক অবকাঠামো, বিশেষ করে শিক্ষা খাতে বিপুল অর্থ-সহযোগিতার প্রয়োজনের কথা এআইআইবি প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরেন। জিন লিকুন বাংলাদেশের ‘অসাধারণ উন্নয়নের’ প্রশংসা করে এআইআিইবি‘র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়। বাংলাদেশের এই উন্নয়নচিত্র সরাসরি দেখার জন্য তিনি ‘অল্প দিনের মধ্যে বাংলাদেশ সফরের আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেন’ বলেও জানানো হয়। এদিকে একই দিনে ওয়াশিংটনে বিশ্ব ব্যাংকের বোর্ড সভায় এ প্রকল্পটির জন্য ১০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়।

শাহজালালে ৩৮টি স্বর্ণের বারসহ বিমানের ট্রাফিক হেলপার আটক
                                  

 হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৪ কেজি ওজনের ৩৮পিস স্বর্ণের বারসহ বাংলাদেশ বিমানের ট্রাফিক হেলপারকে আটক করেছে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। আটককৃতের নাম এমদাদ হোসেন চৌধুরী। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা। বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন্স অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন শিমুল এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে থাইল্যান্ড থেকে ঢাকায় আসা থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটের (টিজি ৩২১) কিছু মালামাল প্যালেটে করে বিমানবন্দরের ইম্পোর্ট কার্গোতে যায়। সেখান থেকেই গোপনে ৩৮ পিস স্বর্ণের বার নিজের হেফাজতে নেন বাংলাদেশ বিমানের ট্রাফিক হেলপার এমদাদ হোসেন চৌধুরী। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন এপিবিএন’র এই কর্মকর্তা।

চট্টগ্রামে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে আধুনিক কসাইখানা
                                  

 চট্টগ্রাম মহানগরীর পুরাতন চান্দগাঁও থানা এলাকায় ৮৮ শতক জায়গায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হবে আধুনিক কসাইখানা। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের আর্থিক সহায়তায় ও লাইভ স্টক এ- ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (এলডিপি) আওতায় কসাইখানাটি নির্মিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) আধুনিক এ কসাইখানা নির্মাণে জমি দিচ্ছে। গতকাল শনিবার বিকেলে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের দপ্তরে মেয়রের সঙ্গে প্রকল্প পরিচালক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী ওয়াছি উদ্দিনের মধ্যে এ বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময়ে সিটি মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে মানসম্মত কোনো কসাইখানা নেই।

অথচ আইনে স্বাস্থ্যকর কসাইখানায় পশু জবাইয়ের ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আছে। তাছাড়া মহানগরে নির্ধারিত কসাইখানায় পশু জবাই হয় না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এই কসাইখানা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কসাইখানাটি নির্মাণের পর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

চলতি বছরের অক্টোবর মাসে কসাইখানা নির্মাণের কাজ শুরু হবে আশা প্রকাশ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক কাজী ওয়াছি উদ্দিন বলেন, ইতোমধ্যে কসাইখানা নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জায়গার ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কসাইখানাটি নির্মিত হলে এতে ঘন্টায় একসঙ্গে একশটি পশু জবাই করা যাবে। জবাইকৃত পশুর বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈব সার প্রস্তুত করা হবে। মতবিনিময়কালে চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রেয়াজুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মেয়র কসাইখানার জন্য প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শনে যান।

 

বাংলাদেশের এসএমই খাতে কোরিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর
                                  

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং চামড়াসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। এ দেশের উন্নয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশীদারিত্ব উল্লেখ করার মত। এটি অব্যাহত রেখে গুণগত শিল্পায়নের ধারা জোরদারের মাধ্যমে উভয় দেশই লাভবান হতে পারে। বাংলাদেশে নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত হু ক্যাং-ইল গতকাল বুধবার শিল্পমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলে মন্ত্রী এই আহ্বান জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, যুগ্মসচিব ইয়াসমিন সুলতানাসহ বাংলাদেশে দক্ষিণ কোরিয়ার দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের শিল্পখাতে কোরিয়ার বিনিয়োগ, শিল্প প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনায় স্থান পায়। দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও শিল্পায়নের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, একসময় দক্ষিণ কোরিয়ার মাথাপিছু আয় বাংলাদেশের চেয়ে কম থাকলেও শিল্পায়ন, উদ্ভাবন ও পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতি বর্তমান অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তিনি বাংলাদেশের পরিশ্রমী জনগণের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে এ দেশ অল্প সময়ের ব্যবধানে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছতে সক্ষম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে উদীয়মান শিল্পখাতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিনিয়োগ অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। রাষ্ট্রদূত কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি সম্পর্কে শিল্পমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

তিনি কোরিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস ফোরামে অংশগ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। শিল্পমন্ত্রী মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে শিল্পখাতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্জন সম্পর্কে ধারণা নেয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতকে পরামর্শ দেন। তিনি রাষ্ট্রদূতের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং ফোরামে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত করেন।

একনেকে ৭৭৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন
                                  

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৭ হাজার ৭৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত মোট ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।

একনেক বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রকল্পের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, একনেক সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৭ হাজার ৭৪৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৬ হাজার ৪১৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, বৈদেশিক সহায়তা হিসেবে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া যাবে ১ হাজার ১৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১০টি নতুন প্রকল্প এবং ৩টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে বলে তিনি জানান। এম এ মান্নান বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৫৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারা, পটিয়া, হাটহাজারী এবং চট্টগ্রাম শহরের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার অবকঠামো উন্নয়ন করা হবে। বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানি ২০২২ সালের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের সড়ক-মহাসড়কগুলো প্রশস্ত ও পুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি ধীরগতির যান চলাচলের জন্য আলাদা লেন এবং মহাসড়কে বাস-বে তৈরির পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যাতে টয়লেটসহ আনুসঙ্গিক প্রয়োজনীয় সুবিধাদি দিতে পাওে সেজন্য জমি নির্ধারণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী ডাক বিভাগকে আধুনিকায়নের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অনলাইনে আর্থিক সেবাসহ অন্যান্য সেবা কর্মকা- পরিচালনা করতে হবে। যাতে তারা নিজেরাই আয় করতে পারে। তা না হলে ডাক বিভাগ আগামীতে আর থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগারগাঁও এ নতুন জিপিও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। সেটি যেন সবুজ পার্ক হয়। সেখানে যেন মানুষ অবসরে ঘুরতে যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এখন থেকে যে জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেই জেলার কলেজসমূহকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভূক্ত করতে হবে। একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জানান, কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় ন্যাচারাল পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। একনেক অনুমোদিত অন্য প্রকল্পসমূহ হলো-বগুড়া-নাটোর জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্তকরণে উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৭০৭ কোটি টাকা। ঢাকা-উথুলি-পাটুরিয়া জাতীয় মহাসড়ক আমিনবাজার হতে পাটুরিয়ার ঘাট পর্যন্ত বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকা ডেডিকেটেড লেনসহ সার্ভিস লেন ও বাস- বে নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬৯৬ কোটি ৩১ লাখ টাকা। লাকসাম-বাইয়ারা বাজার-ওমরগঞ্জ-নাঙ্গলকোট জেলা মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬১ কোটি টাকা। মর্ডানাইজেশন অব সিটি স্ট্রিট লাইট সিস্টেম এ্যাট ডিফারেন্ট এরিয়া আন্ডার চিটাগাং সিটি করপোরেশন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২৬০ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগের অধীনস্ত জরাজীর্ণ ডাকঘরগুলোর সংস্কার পুনর্বাসন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২২৫ কোটি টাকা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ৯৮৭ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর আধুনিকায়ন ও শক্তিশালীকরণ এবং ১৩টি জেলা কার্যালয় স্থাপন প্রকল্পের খরচ হবে ২২৬ কোটি টাকা। বিএডিসির বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন এবং নতুন গুদাম নির্মাণের মাধ্যমে সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৩১১ কোটি টাকা। এছাড়া নদীর তীর সংরক্ষণের মাধ্যমে মেঘনা নদীর ভাঙ্গন হতে ভোলা জেলার তজুমুদ্দিন উপজেলা সদর সংরক্ষণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ৬০৯ কোটি টাকা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্ক, কক্সবাজারের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১২৬ কোটি টাকা। ব্রাক্ষণবাড়ীয়া জেলার ৯টি ব্রীজ নির্মাণ প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১২০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।

আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে
                                  

টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে আঞ্চলিক বাণিজ্য বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ানো একান্ত জরুরি। অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ানো গেলে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়ানো সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বাণিজ্যের আঞ্চলিক বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটলেও আমাদের এই অঞ্চলে তার পরিমাণ খুবই কম। শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার সঙ্গে সঙ্গে আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। আঞ্চলিক বাণিজ্য নিয়ে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্য খুবই কম। বর্তমানে বিশ্বে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ ৮৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অথচ দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। বিশ্বে যেখানে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হচ্ছে সেখানে গত ২৫ বছরে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের বাণিজ্যের পরিমাণ ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে আটকে আছে। অথচ কিছু বাণিজ্য বাধা দূর করতে পারলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বাণিজ্য তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব। এটা বর্তমান আঞ্চলিক বাণিজ্য ২৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৬৭ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।


মূলত বেশ কিছু কারণে সৃষ্ট বাধার জন্য বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়ছে না। দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ চার ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। এগুলো হলোÑ উচ্চ শুল্ক, আধা শুল্ক ও অশুল্ক বাধা, কানেকটিভিটি খরচ এবং সীমান্তে আস্থার সংকট। অথচ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সাফটা চুক্তি রয়েছে। ফলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক থাকার কথা নয়। অথচ এ অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি শুল্ক রয়েছে। সরাসরি শুল্কের বাইরেও আছে আধা বা প্যারা ট্যারিফ। ২০০৪ সালে যখন সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া) চুক্তি হয়, তখন বিশ্ববাণিজ্য দক্ষিণ এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের অংশগ্রহণ ছিল ৫ শতাংশ। সাফটা করার উদ্দেশ্যই ছিল এ অঞ্চলের বাণিজ্য বাড়ানো। কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সাফটা চুক্তির পর দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য না বেড়ে বরং কমে গেছে। বর্তমানে তা কমে হয়েছে আড়াই শতাংশ। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিশ্ববাণিজ্যে এশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের অবদান ২৫ শতাংশ। অন্য দিকে, ইউরোপের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের অবদান ৬৩ শতাংশ। অথচ ১৯৪৭ সালের আগে এটি ছিল ৩০ শতাংশ। একটা বিষয় বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, এ অঞ্চলের গড় শুল্ক হার অন্যান্য অঞ্চলের দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্য ব্যয়ও সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ পৃথিবীর অন্য যে কোনো অঞ্চলের চেয়ে এ অঞ্চলে আমদানিতে সবচেয়ে বেশি বাধা দেওয়া হয়। দেশগুলো উচ্চহারে নিয়ন্ত্রণমূলক ও সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে এ অঞ্চলে বাধা সৃষ্টি করে রাখছে। পাশাপাশি সংবেদনশীল পণ্যের তালিকায় ফেলা হয়েছে এক তৃতীয়াংশ পণ্যকে। ফলে পণ্যের সংখ্যা কমে গিয়ে বাণিজ্যের পরিমাণও কমছে।


বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটা সুস্পষ্ট যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য বাধা দূর করতে পারলে এই অঞ্চলের বাণিজ্য তিনগুণ বাড়ানো সম্ভব। বিশ্বায়নের যুগে এককভাবে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব। বাস্তবতার নিরিখে ক্রমেই আঞ্চলিক বাণিজ্যে পরিবর্তন আসছে। যেমন, সীমান্ত হাট চালুর ফলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে স্বল্প আকারে অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালিত হলেও মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ছে। এতে সম্পর্কের উন্নতি ঘটছে। সীমান্ত এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি হচ্ছে।


টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য আঞ্চলিক বাণিজ্য বৃদ্ধি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে অবশ্যই প্রতিবেশীদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানোর কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বাণিজ্য এখনো বাজারের ওপর নির্ভর করছে না। এখানে মূলত কাজ করছে রাজনীতি। এ ছাড়াও নিরাপত্তা, আমলাতন্ত্র বাণিজ্যকে নিয়ন্ত্রণ করছে। আঞ্চলিক বাড়াতে এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে শক্তিশালী কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা বন্ধ হয়ে গেছে। আঞ্চলিক যৌথ উদ্যোগের সাফল্য এবং ব্যর্থতা যা হয়েছে তা রাজনৈতিক কারণেই হয়েছে। ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানে নিরাপত্তা বড় বিষয়। এসব দেশে রাজনীতির ভূমিকাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এজন্য আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে। বাজারগুলোতে সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্য অনেকটা সহজ হয়ে উঠবে। ভ্যালু চেইন সৃষ্টি করা গেলে এক দেশের পণ্যের প্রতি অন্য দেশের ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হবেন।


বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এসব রাজ্যে পণ্য পরিবহনেও বিদ্যমান ব্যবস্থা অনেকটা অনুকূল। যে কারণে এসব রাজ্যে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য অনেকটা বজায় রাখা সম্ভব।প্রতিবেশী দেশ নেপালের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক যোগাযোগ লেনদেন আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। নেপালে বাংলাদেশের পণ্য সামগ্রী রপ্তানি আয় বেড়েই চলেছে। আর হ্রাস পাচ্ছে আমদানি। নেপালে বাংলাদেশের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ভোগ্যপণ্য, খাদ্য দ্রব্য, শৌখিন, গৃহস্থালি পণ্য ও নির্মাণ সামগ্রীর বিরাট চাহিদা রয়েছে। এজন্য নেপালে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার বিস্তৃতির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে দিনে দিনে।


প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, মিয়ানমার ও ভুটানের সাথে বাংলাদেশের আঞ্চলিক বাণিজ্য প্রসারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের উৎপাদিত ও প্রক্রিয়াজাত বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্য, পানীয়, রাসায়নিক দ্রব্য, সিরামিকস পণ্য, ওষুধ, আসবাবপত্র, স্টিল ও আয়রন সামগ্রী, সাবান, মেলামাইন, প্লাস্টিকজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, পোশাক সামগ্রী, খেলনা, পাটজাত দ্রব্য ইত্যাদির বিরাট বাজার রয়েছে এসব দেশে।

ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দিতে পারছে না
                                  

 প্রায় দেড় বছর ধরে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ছিল নিম্নমুখী। আর গত ৫৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন প্রবৃদ্ধি ছিল এই বছরের এপ্রিল মাসে। এই সময়ে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহ ছিল মাত্র ১২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। বর্তমানে সামান্য গতি পেয়েছে বেসরকারি খাতে ঋণ বিতরণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন বলছে, গত মে মাসে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ। তবে, ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, ঋণ বিতরণে সামান্য গতি দেখা গেলেও চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ করা যাচ্ছে না। তারা বলছেন, একদিকে প্রয়োজনীয় আমানত না আসায় ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের ঋণের চাহিদা মেটাতে পারছে না, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর ঋণ আমানত অনুপাত (এডিআর) নতুন সীমায় নামিয়ে আনার একটি চাপও রয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মে মাস শেষে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৯১৮ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৯২ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত এক বছরে বেসরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে এক লাখ ৮ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা।


কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়েও আমানত পাওয়া যাচ্ছে না। এ বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে মাত্র চার হাজার ১৭ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার। যদিও বর্তমানে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রচলিত ধারার ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত সংগ্রহ করলে তার বিপরীতে সর্বোচ্চ ৮৩ টাকা ৫০ পয়সা ঋণ দিতে পারে। আর ইসলামি ধারার ব্যাংক ১০০ টাকা আমানতের বিপরীতে ৮৯ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে। তবে, বেশ কিছু ব্যাংক ১০০ টাকার বিপরীতে ১০০ টাকাই বিতরণ করেছে। কোনও কোনও ব্যাংক ১০০ টাকার বিপরীতে ১০৫ টাকাও ঋণ বিতরণ করেছে।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সিনিয়র রিসার্স ফেলো তৌফিকুল ইসলামবলেন, ‘বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়তে হবে। তার আগে ব্যাংকগুলোকে চাহিদা অনুযায়ী আমানত পেতে হবে। তা না হলে ব্যাংক ঋণ দিতে পারবে না। আর ঋণ বিতরণ না হলে কাক্সিক্ষত বিনিয়োগও হবে না।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশে কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য অংশ হয় বেসরকারি খাতের মাধ্যমে।’
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। গত মে মাসে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর জুনে প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪ শতাংশ দূরে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত মার্চ শেষে ব্যাংকিং খাতে আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২০৬ কোটি টাকা। আগের বছরের মার্চে যা ছিল ৯ লাখ ২৫ হাজার ২৭৯ কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে মাত্র ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অথচ বেসরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে ব্যাংকে তারল্য কমেছে ১৬ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা। এই বছরের মার্চে তরল সম্পদ (লিকুইড অ্যাসেট) দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৮ কোটি টাকা। গত বছরের মার্চে যা ছিল ২ লাখ ৬৪ হাজার ২৬৭ কোটি টাকা।


ব্যাংকিং পদ্ধতি অনুসারে, ঋণের টাকা নগদ হিসেবে গ্রাহকের হাতে তুলে দেওয়া হয় না। অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে পরিমাণ ঋণ বিতরণ করা হয়, ওই পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে যোগ হয়। আবার ব্যাংকগুলো নতুন নতুন গ্রাহকের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করে। ফলে স্বাভাবিকভাবে ঋণের তুলনায় আমানতের প্রবৃদ্ধি বেশি থাকার কথা। কিন্তু এখন ঘটছে উল্টো।


জানা গেছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন ব্যাংকগুলো ছাড়া অধিকাংশ ব্যাংকের হাতে বিনিয়োগ করার মতো টাকা নেই। কোনও কোনও ব্যাংক ১২ থেকে ১৪ শতাংশ সুদ দিয়ে আমানত সংগ্রহ করছে। কোনও কোনও ব্যাংক পাঁচ বছরে টাকা দ্বিগুণ করার আশ্বাসে আমানত সংগ্রহ করছে। এরপরও আশানুরূপ আমানত বাড়াতে পারছে না ব্যাংকগুলো।


এ প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলামবলেন, ‘ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়া ছাড়াও সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ও ব্যাংকের সুদের পার্থক্য থাকায় ব্যাংক আমানত পাচ্ছে না। ঋণখেলাপিদের শাস্তি হলে ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে। তখন এমনিতেই আমানত বাড়বে।’ ঋণ বাড়ানোও সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

একসঙ্গে তিতাসে ৩২০ জনকে বদলি
                                  

 তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড গত ২ দিনে তাদের ৮১ প্রকৌশলীসহ ৩২০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল বদলে দিয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী ৪ থেকে ২৪ বছর প্রতিষ্ঠানটির বিতরণ এলাকার একই অফিসে কাজ করছিলেন। অভিযোগ আছে, একই কর্মস্থলে বছরের পর বছর থাকায় তারা শক্তিশালী ঘুষ-দুর্নীতির সিন্ডেকেটে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সম্প্রতি এ ব্যাপারে একটি প্রতিবেদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর জ¦ালানি বিভাগের আদেশে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শুরু করে তিতাস।


রবিবার বদলি করা হয় ১৩৩ জনকে। আর গত বৃহস্পতিবার ১৮৭ জনকে বদলি করে তিতাস। এর আগে এত বেশিসংখ্যক কর্মীকে একসঙ্গে বদলি করার নজির নেই প্রতিষ্ঠানটিতে।
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল রবিবার সন্ধ্যায়জানান, যারা বছরের পর বছর একই জায়গায় আছেন তাদের বদলি করা হচ্ছে। এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। অনেকে বদলি চান, হয় না। আবার অনেককে বদলি করলে যান না। তিনি বলেন, ‘দুদকের সুপারিশ ছিল, আমাদের বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। ৪ থেকে ২৪-২৫ বছরও কেউ কেউ একই জায়গায় চাকরি করছিলেন। দুর্নীতি কমাতে অর্থাৎ দুর্নীতির পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সেজন্য এই উদ্যোগ নেওয়া জরুরি ছিল।’
এমন উদ্যোগ আরও আগে নেওয়া দরকার ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘কেউ দায়িত্ব নেয়নি। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে একটি ধারণাও তৈরি হয় যে, তিনিও বদলি হতে পারেন। একই জায়গায় বছরের পর বছর থাকা যাবে না।’


তিতাস সূত্র বলছে, রবিবার বদলি হওয়াদের মধ্যে আছেন সুপারভাইজার, বিক্রয় সহকারী, কম্পিউটার অপারেটরসহ বেশ কিছু পদের কর্মচারী। আর বৃহস্পতিবার বদলির আদেশ হওয়া কর্মীদের মধ্যে আছেন ৮১ জন প্রকৌশলী এবং ১০৬ জন কম্পিউটার অপারেটর। বদলি হওয়া কর্মীদের বেশিরভাগই কারিগরি ক্যাডারের। যেহেতু বিল আদায় থেকে সব কাজই কম্পিউটারের মাধ্যমে করা হয়, তাই কম্পিউটার অপারেটরদের ভূমিকাকে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।


সম্প্রতি দুদক জ¦ালানি মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানায়, তিতাসের কর্মীরা একই কর্মস্থলে অনেক দিন কাজ করে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত এপ্রিলে তিতাসের অপেক্ষাকৃত ওপরের সারির কর্মকর্তাদের বদলি করা হয়। ওই সময় প্রতিষ্ঠানটির কাঠামোর বাইরে গঠিত ১৮টি ভিজিল্যান্স টিম বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এবার মধ্যম শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল বদলে দিলো প্রতিষ্ঠানটি।


তিতাস বলছে, দুদকের প্রতিবেদন ধরে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে। এর আগে ট্রুথ কমিশনে যাওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা পাঠানো হয়েছে জ¦ালানি বিভাগে। এরপর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যেন দুর্নীতি না করতে পারে সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের অংশ হিসেবেই এই বদলি করা হয়েছে বলে তিতাসের প্রশাসন বিভাগের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

 

করদাতা বাড়াতে মোবাইল এ্যাপস চালু করবে এনবিআর
                                  

 কর ফাঁকি রোধ এবং করদাতার সংখ্যা বাড়াতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটও্যার ও মোবাইল এ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে করজালের বাইরে থাকা বিপুল সংখ্যক মানুষকে করজালে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে বলে আশা করছে রাজস্ব প্রশাসন।
এনবিআর সূত্র জানায়, সফটওয়্যারের মাধ্যমে আয়কর বিভাগের ৬৪৯টি করাঞ্চলকে মোবাইল এ্যাপসের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এই এ্যাপস ব্যবহার করে যে কেউ কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যক্তির কর পরিশোধ সনদ বৈধ কিংবা কার্যকর অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ কি-না তা যাচাই করতে পারবেন। কার্যকর না হলে এই এ্যাপসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট করাঞ্চলে অভিযোগ করারও সুযোগ রয়েছে।


এ বিষয়ে এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, মোবাইল এ্যাপস ব্যবহার করে একজন ক্রেতা বা সাধারণ নাগরিকের যখন কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর পরিশোধ সনদের বিষয়ে অভিযোগ করার সুযোগ থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো কর প্রদানে সতর্ক হয়ে যায়। এই বিবেচনা থেকে এনবিআর ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটও্যার ও মোবাইল এ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এই মোবাইল এ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে সত্যিকার অর্থে যেন কর ফাঁকি রোধ হয় এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ে এজন্য আয়কর আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনা হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, আয়কর অধ্যাদেশ, ১৮৪ (সি) উপধারায় কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা সেবা প্রদানে নিয়োজিত ব্যাক্তির কর সনাক্তকরণ নম্বরের (আইএন) সনদপত্র নিজস্ব কার্যালয়ে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামুলক। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটি পরিপালন করা হচ্ছে না। তাই এই বিধান পরিবর্তন করে কর পরিশোধ সনদপত্র ঝুলিয়ে রাখার বিধান করার চিন্তা করছে এনবিআর। একইসাথে সেটি যেন কঠোরভাবে পালন করা হয় সেই উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে।


এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, যে মোবাইল এ্যাপস তৈরি করা হচ্ছে, তাতে কেবল কর পরিশোধ সনদ যাচাইয়ের সুযোগ থাকবে। অন্য কোন বাড়তি তথ্য থাকবে না।
কর্মকর্তারা বলেন, কোন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিকভিত্তিতে নিয়োজিত চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবিসহ অন্যান্য পেশায় যারা আছেন, তারা নিয়মিত কর না দিলে কর পরিশোধ সনদ আপনাআপনি বাতিল হয়ে যায়। সুতরাং অকার্যকর সনদ মানেই তিনি কর পরিশোধন করেননি। এ কারণে এর চেয়ে বাড়তি তথ্য এ্যপাস-এ দেয়ার প্রয়োজন নেই।


উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ইটিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। কিন্তু এর মধ্যে আয়কর বিবরনী (রিটার্ন) দাখিল করেন মাত্র ২০ লাখ। অর্থ্যাৎ অর্ধেক ইটিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল করেন না। রাজস্ব প্রশাসন আশা করছে-ওয়েবভিত্তিক নিজস্ব সফটও্যার ও মোবাইল এ্যাপস চালু করা গেলে ইটিআইএনধারী ও রিটার্ন দাখিল জমাদানকারীর মধ্যে যে ব্যবধান আছে,সেটা অনায়াসে কমে আসবে এবং অল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক মানুষকে করজালে নিয়ে আসা যাবে। এতে কর ফাঁকিও অনেকাংেশ কমে আসবে। করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে এনবিআরের নানামূখী উদ্যোগে নিয়ে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া গতকাল বলেন, দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর মাত্র ১ শতাংশ এখন কর দেন। আমরা এই অবস্থার পরিবর্তন চাই। তাই আগামি ২ বছরের মধ্যে দেশে করদাতার সংখ্যা ১ কোটিতে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।


তিনি বলেন,‘এ লক্ষে আমরা কাজও শুরু করেছি। কর জরিপ চলছে। এর পাশাপাশি কর অফিস ও জনবল বাড়ানো হবে। সর্বোপরি অনলাইন কর ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।’ এনবিআর চেয়ারম্যান মনে করেন প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ানো যাবে,কর ফাঁকি রোধ করার পাশাপাশি করদাতার সংখ্যাও তত বৃদ্ধি পাবে। সেই লক্ষে প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল বন্দরে ৪০৩৯ কোটি টাকার রাজস্ব আয়
                                  

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য থেকে সদ্যসমাপ্ত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪ হাজার ৩৯ কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছে, যা এর আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৭ কোটি টাকা বেশি। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই বন্দর থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪ হাজার ২২ কোটি টাকা।


এ বিষয়ে বেনাপাল কাস্টমস্ কমিশনার বেলাল হোসাইন চৌধুরী গতকাল সোমবার বলেন, গত অর্থবছরে উচ্চ শুল্কের পণ্য আমদানি যেমন ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, পাশাপাশি বেড়েছে কম শুল্কের পণ্য আমদানি। যেমন কম শুল্কের পণ্যের মধ্যে পাথর আমদানি বেড়েছে ৪০০ গুন। এসব কারণে রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি। তবে এসব প্রতিকূলতা স্বত্ত্বেও ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় গতবছর রাজস্ব আয় বেড়েছে।


তিনি বলেন,রাজস্ব আয় বাড়াতে ইতোমধ্যে পণ্য খালাসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো হয়েছে। একদিনেই অধিকাংশ পণ্য খালাস করা হচ্ছে। পাশাপাশি শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ ও চোরচালান প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য,দেশে বর্তমানে ২৩টি স্থলবন্দরের মধ্যে চলমান ১৩ বন্দরের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে বেনাপোল বন্দরের কাস্টমস হাউজ থেকে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় এ পথে ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের আগ্রহ রয়েছে যথেষ্ট।


বন্দর সূত্র জানায়,প্রতিবছর এ বন্দর দিয়ে গড়ে ৩৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যা থেকে সরকারের ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়। বন্দরে আমদানি পণ্যের ধারণ ক্ষমতা ৪২ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে বন্দরে ২৮টি পণ্যাগার, ৮টি ওপেন ইয়ার্ড,একটি ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল,একটি রফতানি ট্রাক টার্মিনাল ও ১টি ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে।


   Page 1 of 92
     অর্থ-বাণিজ্য
পদে পদে উচ্চ হারে কর মুঠোফোন ব্যবহারে
.............................................................................................
১০০ সদস্যের মাইলফলকে এআইআইবি
.............................................................................................
পানি-পয়ঃনিষ্কাশনে এআইআইবি দিচ্ছে ২০ কোটি ডলার
.............................................................................................
পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনে ১০ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক
.............................................................................................
বাংলাদেশের সাফল্য দ্রুত দারিদ্র্য বিমোচনে
.............................................................................................
ঢাকায় এসেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী লি
.............................................................................................
সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনে ২০ কোটি ডলার দিচ্ছে এআইআইবি
.............................................................................................
শাহজালালে ৩৮টি স্বর্ণের বারসহ বিমানের ট্রাফিক হেলপার আটক
.............................................................................................
চট্টগ্রামে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে হচ্ছে আধুনিক কসাইখানা
.............................................................................................
বাংলাদেশের এসএমই খাতে কোরিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর
.............................................................................................
একনেকে ৭৭৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৩ প্রকল্পের অনুমোদন
.............................................................................................
আঞ্চলিক বাণিজ্য বাড়াতে হবে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে
.............................................................................................
ব্যাংকগুলো চাহিদা অনুযায়ী ঋণ দিতে পারছে না
.............................................................................................
একসঙ্গে তিতাসে ৩২০ জনকে বদলি
.............................................................................................
করদাতা বাড়াতে মোবাইল এ্যাপস চালু করবে এনবিআর
.............................................................................................
বেনাপোল বন্দরে ৪০৩৯ কোটি টাকার রাজস্ব আয়
.............................................................................................
এক ইলিশেই ১০ হাজার ৩০০ টাকা
.............................................................................................
শিগগিরই মংলা বন্দরে পণ্য আনা-নেয়া শুরু করবে নেপাল : রাষ্ট্রদূত
.............................................................................................
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
.............................................................................................
অনেক চ্যালেঞ্জ নতুন ভ্যাট আইনে
.............................................................................................
১১ হাজার ৮০৬ ভরি সোনা সাদা করলেন চুয়াডাঙ্গার ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
ব্যাংক ডিপোজিট সেবা চালু করেছে মানিগ্রাম
.............................................................................................
বিশ্ব ব্যাংকের নতুন আবাসিক প্রতিনিধি আফ্রিকার দেশ ক্যামেরুনের টেম্বন
.............................................................................................
ই-কমার্সে ৭.৫ এর বদলে ৫ শতাংশ ভ্যাট থাকছে
.............................................................................................
ফের বাড়ল গ্যাসের দাম,এক চুলায় ৯২৫, দুই চুলা ৯৭৫ টাকা
.............................................................................................
সুইস ব্যাংকে বেড়েছে বাংলাদেশিদের টাকা
.............................................................................................
১ জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে মূল্য সংযোজন কর আইন
.............................................................................................
রেলের উন্নয়নে এক লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮১ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে
.............................................................................................
ই-কমার্সে ভ্যাট প্রত্যাহার চায় ই-ক্যাব
.............................................................................................
মোবাইলের কলরেটে বাড়তি কর বাতিলের দাবি
.............................................................................................
বছরে ১০ লাখ মোটরসাইকেল উৎপাদন করা হবে
.............................................................................................
বৈধ করা হলো ২৫ কোটি টাকার স্বর্ণ
.............................................................................................
বন্ড সুবিধায় আনা পণ্য বিক্রি হচ্ছে খোলা বাজারে, ক্ষতির মুখোমুখি ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
২০১২ সালের ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়াবে: ক্যাব
.............................................................................................
তেল-চিনির পাশাপাশি বেড়েছে ডিম-আদা-রসুনের দাম
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে সূচক বেড়েছে
.............................................................................................
বিকাশ-রকেটে ব্যালেন্স দেখলে গ্রাহকের টাকা যাবে না
.............................................................................................
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ফের লোকসানে
.............................................................................................
ডিএসই অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ চায়
.............................................................................................
গুঁড়ো দুধ বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে
.............................................................................................
বিকাশ-রকেটে ব্যালান্স দেখতে ৪০ পয়সা
.............................................................................................
বাজেটে ইতিবাচক পদক্ষেপের পরও দরপতন
.............................................................................................
বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে খরচ কমবে প্রবাসীদের
.............................................................................................
স্মার্টফোনের দাম বাড়ছে
.............................................................................................
প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ ৩২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা
.............................................................................................
মানহীন আরও ২২টি পণ্য বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ বিএসটিআইর
.............................................................................................
বেনাপোল বন্দরে একদিনে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়
.............................................................................................
খুলেছে বেনাপোল বন্দর
.............................................................................................
ছুটির পর পুঁজিবাজারে চাঙাভাবে লেনদেন শুরু
.............................................................................................
বেসিক কেলেঙ্কারির তদন্ত ৯ বছরেও শেষ হয়নি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]