| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ধান কেনায় আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপির

 কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ  শনিবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি এ দাবি জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান কেনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করছি।

যা দিয়ে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। উল্লেখ্য, এবারের বোরো মৌসুমে সরকার সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবছর বোরো উৎপাদন ১ কোটি ৯৬ লাখ টন হয়েছে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। সরকার ধান- চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ীরা চাল কল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে চাল কল মালিকরা চাল তৈরি করে সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে মুনাফা করছে ১০ টাকা। আর কৃষক উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে লোকসান গুনছে ১০- ১২ টাকা। মির্জা ফখরুল বলেন, বোরো ধানের উৎপাদন হবে প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন। আর সরকার সংগ্রহ করবে মাত্র ১৩ লাখ টন, যা উৎপাদনের মাত্র ৬.৫ শতাংশ।

ধান অথবা চাল সংগ্রহের পরিমাণ কমপক্ষে বোরো উৎপাদনের ১৫ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি। সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপী ঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। অথচ এই খেলাপী ঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা উপকৃত হবেন। সরকারি পর্যায়ের ধান চাল গুদামজাতের ক্ষমতা প্রায় ২১.৮ লাখ মেট্রিক টন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বেসরকারি গুদাম ভাড়া করে সেখানে ধান চাল সংগ্রহ করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম) আওতা বাড়িয়ে অধিক পরিমাণ চাল বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে যেন কৃষকের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সদ্ব্যবহার করা যায়। খাদ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল কিনতে ৩ থেকে ৫ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছে বলেও দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তাদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিসহ। কিন্তু কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় দেড় ১ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।

ধান কেনায় আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপির
                                  

 কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কিনতে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।আজ  শনিবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের প্রতি এ দাবি জানান। মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকের কাছ থেকে বেশি পরিমাণ ধান কেনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করছি।

যা দিয়ে সরকার অতিরিক্ত প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। উল্লেখ্য, এবারের বোরো মৌসুমে সরকার সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন ধান-চাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবছর বোরো উৎপাদন ১ কোটি ৯৬ লাখ টন হয়েছে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। সরকার ধান- চাল সংগ্রহের মাধ্যমে দলীয় ব্যবসায়ীরা চাল কল মালিকদের মুনাফা পাইয়ে দিচ্ছে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে চাল কল মালিকরা চাল তৈরি করে সরকারের কাছে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে মুনাফা করছে ১০ টাকা। আর কৃষক উৎপাদিত ধান বাজারে বিক্রি করে প্রতি কেজিতে লোকসান গুনছে ১০- ১২ টাকা। মির্জা ফখরুল বলেন, বোরো ধানের উৎপাদন হবে প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন। আর সরকার সংগ্রহ করবে মাত্র ১৩ লাখ টন, যা উৎপাদনের মাত্র ৬.৫ শতাংশ।

ধান অথবা চাল সংগ্রহের পরিমাণ কমপক্ষে বোরো উৎপাদনের ১৫ শতাংশ করার দাবি জানাচ্ছি। সরকার ব্যাংক লুটপাটকারীদের দুধকলা দিয়ে পুষছে অভিযোগ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, বর্তমানে ব্যাংক ব্যবস্থায় খেলাপী ঋণের পরিমাণ প্রায় এক লাখ কোটি টাকা। অথচ এই খেলাপী ঋণের মাত্র ১০ শতাংশ বরাদ্দ দিলে সরকার আরও প্রায় ৩৬ লাখ মেট্রিক টন ধান কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে পারে। এতে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা উপকৃত হবেন। সরকারি পর্যায়ের ধান চাল গুদামজাতের ক্ষমতা প্রায় ২১.৮ লাখ মেট্রিক টন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কৃষকদের সহায়তা দিতে সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বেসরকারি গুদাম ভাড়া করে সেখানে ধান চাল সংগ্রহ করতে হবে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর (সোশ্যাল সেফটি নেট প্রোগ্রাম) আওতা বাড়িয়ে অধিক পরিমাণ চাল বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে যেন কৃষকের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের সদ্ব্যবহার করা যায়। খাদ্য বিভাগের অসাধু কর্মকর্তারা কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি চাল কিনতে ৩ থেকে ৫ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছে বলেও দাবি করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করার জন্য তাদের ধান কেনার অনুমতি দিয়ে সরকার কৃষকদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করছে।

তিনি বলেন, দেশের ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগানদাতা কৃষক পরিবারের অবস্থা আজ খুবই নাজুক ও দুর্বিসহ। কিন্তু কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে হতাশাগ্রস্ত। দেশের প্রায় দেড় ১ কোটি কৃষক পরিবারের আজ ত্রাহি অবস্থা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।

নতুন অর্থবছরে জাতীয় সংসদের বরাদ্দ ৩২৮ কোটি টাকা
                                  

আসন্ন ২০১৯-২০ অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য ৩২৮ কোটি ২২ লাখ টাকার বাজেট চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ২৯ কোটি ৬ লাখ টাকা বেশি। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদ সচিবালয় কমিশনের ৩০তম বৈঠকে এই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে কমিশনের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। নতুন অর্থবছরের বাজেটে সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিনা সুদে গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দিতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ খাতে সাড়ে ৬ কোটি টাকার মতো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে।

সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার ২২ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের সকলেই এই ঋণ পাবেন। ঋণ ছাড়াও গাড়ির জ¦ালানি ও অন্যান্য খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা তারা পাবেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে বিরোধীদলীয় উপনেতা রওশন এরশাদ, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক অংশ নেন। বিশেষ আমন্ত্রণে চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, সার্বভৌম প্রতিষ্ঠান জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্টদের বেতনভাতাসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতিবছরই কমিশন বৈঠকে বাজেট বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে তা অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের নতুন পদ সৃষ্টি, প্রকল্প প্রণয়নসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন বৈঠক শেষে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বরাদ্দ অনুমোদনের তথ্য জানান। বৈঠকে সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগে নতুন পদ সৃষ্টিসহ পদোন্নতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবনাগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। এ ছাড়া সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেরামতসহ সংসদ ভবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে সংসদের লেক সংস্কারের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব। এছাড়া বৈঠকে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দফতরের আপ্যায়ন ভাতা মাসে ১২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জনপ্রতি আপ্যায়ন ভাতা ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকাসহ কয়েকটি খাতে ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে স্পিকার জানান। বর্তমানে স্পিকার ঢাকার বাইরে গেলে ১৯৯৬ সালে কেনা একটি নিশান পেট্রোল এসইউভি ব্যবহার করেন। কমিশন এই গাড়িটির পরিবর্তে একটি নতুন গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া সংসদের জন্য নতুন ১০টি পাজেরো গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত হয়।

সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জন্য বিনা সুদে গাড়ি কেনার ঋণ দিতে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কমিশন বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, এই খাতে সাড়ে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকার মত অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের উপসচিব পদ মর্যাদার ২২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের সকলেই এই সুদমুক্ত ঋণ পাবেন। ঋণ ছাড়াও গাড়ির জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাবদ মাসে ৫০ হাজার টাকা তারা পাবেন। যার জন্য বছরে এক কোটি ৩২ লাখ টাকা খরচ হবে। বৈঠকে সংসদ ভবনের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, মেরামতসহ সংসদ ভবনের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সংসদের লেক সংস্কারের সচিত্র প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব। সংসদ লেকের সংস্কার কার্যক্রমে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে স্পিকার সাংবাদিকদের জানান। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের সংশোধিত বাজেট ২৯৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। অবশ্য আসন্ন অর্থবছরের বাজেট চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৪ কোটি ৩১ লাখ টাকা কম। চলতি বছরের মূল বাজেট ছিল ৩৩২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির এসি বাস চালু
                                  

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস সেবার উদ্বোধন করলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।  বুধবার সকালে গুলিস্তানে এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার পর বিআরটিসির এসি বাসে করেই বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে সচিবালয়ে যান তিনি।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদ ভূইয়া জানান, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে ১৫টি এসি বাস চলবে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম থেকে হানিফ ফ্লাইওভার হয়ে চাষাড়া-ম-লপাড়া পর্যন্ত যাত্রী বহন করবে এসব বাস। ঢাকা থেকে চাষাড়া জনপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা।

আর ঢাকা থেকে মন্ডলপাড়া ভাড়া হবে ৫৫ টাকা। এই সেবা চালুর ফলে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের যাত্রীরা উন্নত সেবা পাবে এবং বিআরটিসির কার্যক্রমে আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন চেয়ারম্যান।

অব্যবস্থাপনায় শুরু ঈদে ট্রেনের আগ্রিম টিকেট বিক্রি
                                  

 ঈদুল ফিতর সামনে রেখে বিভিন্ন গন্তব্যের মানুষের জন্য ট্রেনের আগাম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে। যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবারই প্রথম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে চারটি জায়গা থেকে টিকেট বিক্রির ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ই-টিকেটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল।

সে অনুযায়ী  বুধবার সকাল ৯টা থেকে কাউন্টারগুলোতে ৩১ মের টিকেট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সকাল থেকেই রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকেট কাটতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন অনেকে। ই-টিকেট সংগ্রহ করতে না পেরে সকালে অনেকেই ছুটছেন স্টেশনের দিকে। কমলাপুর স্টেশনে কাউন্টারে আগের রাত থেকে অপেক্ষমাণ টিকেটপ্রত্যাশীদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন তারা। বেলা সাড়ে ১০টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে টিকেট বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শনের পর ই-টিকেটিংয়ের অব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতা স্বীকার করে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, সেবাদাতা সংস্থা সিএনএসবিডিকে পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ই-টিকেটিং সেবা ঠিক না হলে অবিক্রিত টিকিটগুলো ২৭ মে কাউন্টারে দেওয়া হবে।

সিএনএসবিডি কাক্সিক্ষত যাত্রী সেবা দিতে ব্যর্থ হলে সেপ্টেম্বরে তাদের সঙ্গে যে চুক্তি হওয়ার কথা তা আর কথা হবে না। এর আগে বেলা ১০টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে আসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল। তারা যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ শুনেন। তারপর তারা রেল স্টেশন ম্যানেজারসহ রেলের ও সিএনএসবিডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। সাড়ে ১২টার দিকে তারা চলে যান যাওয়ার আগে দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, টিকেট না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়ে আমরা এসেছি। তবে অভিযোগগুলো অ্যাপের মাধ্যমে ও অনলাইনে টিকেট কিনতে না পারার; কাউন্টারে টিকেট বিক্রি নিয়ে তেমন অভিযোগ নেই। এ বিষয়ে আমরা সিএনএসবিডির কাছ থেকে কোনো সদুত্তর পাইনি। আগামি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশনে আমাদের প্রতিবেদন জমা দিব। সকাল থেকে অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট কেনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শান্তিনগরের গৃহিণী আসমা আরা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাউন্টারে এসেছেন। তিনি বলেন, আমরা ঈদের আগে দিনাজপুর যাব। একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের জন্য সকাল থেকে চেষ্টা করছি। পারলাম না। অ্যাপে ঢোকাই যাচ্ছে না। এজন্য আমি এখানে চলে এসেছি। বাসায় ছেলেকে বলে এসেছি সে যেন মোবাইলে চেষ্টা করে টিকেট কেনার। অনলাইনে টিকেট কিনতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের ফেসবুক পেইজেও অনেকে এ বিষয়ে উষ্মা জানিয়েছেন। মাহবুব কবির মিলন নামে একজন বলেন, সকাল নয়টা থেকে রেলওয়ের অ্যাপ খালি ঘুরছে আর ঘুরছে। টিকেট বিক্রির দায়িত্বে থাকা সিএনএসবিডির অনলাইন অব্যবস্থাপনা এজন্য দায়ী। ফাইয়াজ হোসেন নামে একজন বলেন, এই চোরের দেশে আর কি আশা করা যায়? কোনো বছর ঈদেই আমরা অনলাইনে টিকেট পাই না। সিএনএস নামক বিশ্বচোর, রেলওয়ে নামক বিশ্ববাটপারের কারসাজিতে। মাননীয় রেলসচিব, মাননীয় রেলমন্ত্রী! আপনারা সৎ ও কর্মনিষ্ঠ বলেই আমরা মন থেকে বিশ্বাস করি। তাহলে কেন আপনারা এই দুর্ভোগ থেকে আমাদের মুক্তি দিচ্ছেন না? এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিএনএসবিডির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনির উজ-জামান চৌধুরী বলেন, স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি ব্যবহারকারী টিকেট নিতে চেষ্টা করছে। ফলে সার্ভারের উপর স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যেটা সার্ভার নিতে পারছে না। একারণে অনেকেই ইন্টারনেট থেকে ও অ্যাপের মাধ্যমে টিকেট নিতে পারেননি। তবে টিকেট বিক্রি বন্ধ নেই। তার দাবি, গতকাল বুধবার কাউন্টারের জন্য বরাদ্দ ২০ হাজার ২৩৫টি টিকেটের মধ্যে বেলা ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত ১০ হাজার ৫৪০টি টিকেট বিক্রি হয়েছে, যা বরাদ্দকৃত টিকেটের ৫২ শতাংশ।

আর ই-টিকেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ ১১ হাজার ১৪৫টির মধ্যে একই সময় পর্যন্ত ৬ হাজার ৩৮০টি টিকেট বিক্রি হয়েছে, যা মোট বরাদ্দের ৫৭ শতাংশ। ঢাকা থেকে ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটা বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকেট বিক্রি হবে। কমলাপুর স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াতকারী ১৬টি ট্রেনের ১৪ হাজার ৯৫টি টিকেট বিক্রি হবে। এর মধ্যে কাউন্টার থেকে পাঁচ হাজার ৯৪৪টি এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপসে আট হাজার ১৫১টি টিকেট বিক্রি হবে। বিমান বন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ৭টি আন্তঃনগর ট্রেনের চার হাজার ৮৭৯টি টিকেট বিক্রি হবে। এর মধ্যে দুই হাজার ৫৪৮টি অনলাইনে এবং দুই হাজার ৩৩১টি টিকেট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে। তেজগাঁও স্টেশন থেকে জামালপুরগামী পাঁচটি ট্রেনের তিন হাজার ৪৪৪টি টিকেট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ৬৪৪টি অনলাইনে এবং ৬১৪টি কাউন্টারে বিক্রি হবে। বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি ট্রেনের এক হাজার ২৫৮টি টিকেট বিক্রি হবে। ৬৪৪টি টিকেট অনলাইনে বাকি ৬১৪টি টিকেট কাউন্টারে দেওয়া হবে।

ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের চার হাজার ৫৪৮টি টিকেট বিক্রি হবে। এরমধ্যে দুই হাজার ২৫১টি টিকেট অনলাইনে এবং দুই হাজার ২৯৭টি টিকেট কাউন্টারে বিক্রি হবে।  বুধবার বিক্রি হয় ২৫ হাজার ৫৭১টি টিকেট। বিশেষ ট্রেনের টিকেট বিক্রি হবে ২৪ মে থেকে।

চাহিদা মেটাতে আমদানি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের মসলা
                                  

 বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে রান্না ও ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের মসলাপণ্য আমদানি করা হয়। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রতি বছর আমদানি করা হয় গড়ে প্রায় দেড় লাখ টন মসলাপণ্য। এদেশে রান্না ও ওষুধ তৈরিতে কমপক্ষে ৪৪ ধরনের মসলাপণ্য ব্যবহৃত হয়। বছরে মসলাপণ্যের চাহিদা প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টন। অথচ বিশাল চাহিদার বিপরীতে বিদেশ থেকে মাঝারি ও নিম্নমানের মসলাপণ্য আমদানি করা হচ্ছে। মূলত সবচেয়ে ভালোমানের মসলার ক্রেতা এদেশের বাজারে নেই। তাই মাঝারি ও নিম্নমানের মসলাপণ্যের মধ্যেও আবার একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ভেজালের মিশ্রণ ঘটায়। মাঝারি ও নিম্নমানের এবং ক্ষেত্রবিশেষে ভেজালমিশ্রিত ওসব মসলাপণ্যই নামিদামি বিভিন্ন কারখানায় যাচ্ছে। আর নামীদামী ব্র্যান্ডের সিল লাগিয়ে পাইকারি বাজাওে তা বিক্রি হচ্ছে। মসলা ব্যবসায়ী এবং আমদানিকারক সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।


সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এদেশে যেসব মসলার বহুল ব্যবহার রয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আদা, হলুদ, মরিচ, রসুন, পেঁয়াজ, কালোজিরা, গোলমরিচ, দারচিনি, জাফরান, তেজপাতা, জিরা, জাউন, শলুক, আলুবোখারা, বিলাতি ধনিয়া, ধনিয়া, চিপস, সাদা এলাচ, কালো এলাচ, মেথি, শাহি জিরা, পার্সলে, কাজুবাদাম, পানবিলাস, দইং, কারিপাতা, পাতা পেঁয়াজ, পেস্তাবাদাম, জায়ফল, জয়ত্রি, লবঙ্গ। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশে রসুন, আদা, হলুদ, এলাচ, জিরাসহ ১২টি মসলাপণ্য আমদানি হয়। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে প্রায় ১ লাখ ৯৮ হাজার টন মসলাপণ্য আমদানি হয়েছে। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে মোট ১ লাখ ৮২ হাজার টন মসলাপণ্য। চাহিদার বাকি মসলাপণ্য ভারত থেকে স্থলপথে আসে।


সূত্র জানায়, সমুদ্রপথে সাধারণত সিঙ্গাপুর, চীন, ভিয়েতনাম, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের অধিকাংশ মসলাপণ্য আসে। তাছাড়া পাকিস্তান, সিরিয়া, আফগানিস্তান, কলম্বিয়া, মাদাগাসকার, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা থেকেও কিছু মসলাপণ্য আসে। বাংলাদেশে মোট ২৪টি দেশ থেকে মসলা ঢোকে। তবে গোলমরিচ, জিরা, এলাচ ও দারুচিনি, লবঙ্গ সবচেয়ে বেশি আমদানি ও বিক্রি হয়। ভাল মানের জিরা আসে তুরস্ক থেকে। গত সপ্তাহে খাতুনগঞ্জে ওই জিরার দাম ছিল কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৩৫৫ টাকা। ভারত থেকে আসে মাঝারি মানের জিরার দাম ৩০০ থেকে ৩০৫ টাকা। গোলমরিচ গত সপ্তাহে খাতুনগঞ্জের বাজারে বিক্রি হয়েছে ৩৫৫ টাকায়। এলাচ কেজিপ্রতি ১৬০০ থেকে ২০৫০ টাকা, লবঙ্গ কেজিপ্রতি ৭৬০ থেকে ৭৭৫ টাকা এবং দারুচিনি বিক্রি হয়েছে কেজিপ্রতি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকায়।


সূত্র আরো জানায়, মসলা আমদানিকারকরা বিদেশ থেকে সাধারণত তিন ক্যাটাগরির মসলা আমদানি করে। সেগুলো হচ্ছে কিছুটা ভাল, মাঝারি এবং নিম্নমানের। তবে নিম্নমানের বলতে সেগুলো যে খাওয়ার অনুপযোগী তা নয়। একেবারে সবচেয়ে ভাল যে মসলাটা, সেটার চাহিদা বাংলাদেশে নেই। তবে খাতুনগঞ্জে যেসব মসলাপণ্য আড়ত থেকে পাইকারদের কাছে বিক্রি করা হয় তা যদি অবিকৃতভাবে কারখানাগুলোতে যায় তাহলে মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে পাইকারী বাজার বের হয়ে মসলা ডুপ্লিকেট হয়ে যাচ্ছে। তাতে বিভিন্ন রাসায়নিক, ইটের গুঁড়া, পাথর, রঙ মেশানো হচ্ছে। ফলে মসলার মান নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। প্রাণ, স্কয়ারের মতো কারখানাও তো পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকেই মসলা কিনে প্যাকেটে ভরে বিক্রি করছে।
এদিকে সম্প্রতি হাইকোর্ট বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড এ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরীক্ষায় নিম্নমান প্রমাণিত হওয়ায় ৫২টি খাদ্যপণ্য অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই ৫২টি পণ্যের মধ্যে নামীদামী কোম্পানির গুঁড়ো মসলাও আছে। হাইকোর্টের ওই আদেশের পর মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আমদানির বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিএসটিআইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিম্নমানের মসলাপণ্যের মধ্যে ড্যানিশের হলুদগুঁড়া, প্রাণের হলুদগুঁড়া, ফ্রেশের হলুদগুঁড়া, এসিআইর ধনিয়াগুঁড়া, প্রাণের কারি পাউডার, ড্যানিশের কারি পাউডার, পিওর হাটহাজারী মরিচগুঁড়া, মঞ্জিলের হলুদগুঁড়া, সান ফুডের হলুদগুঁড়া, ডলফিনের মরিচগুঁড়া, ডলফিনের হলুদগুঁড়া, সূর্যের মরিচগুঁড়া আছে। ফলে আমদানি করা মসলা বাজারে গিয়ে যে ভেজাল হয়ে যাচ্ছে, তা রোধ করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আশপাশের এলাকা বাকলিয়ার রাজাখালী, ফুলতলী, কোরবানিগঞ্জ, চরচাক্তাই এলাকায় ভেজাল মরিচ-মসলার গুঁড়ার কারখানায় প্রতিবছর জেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে।


অন্যৗদিকে খাতুনগঞ্জ ট্রেড এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ জানান, একসময় চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভেজাল মসলা গুঁড়া তৈরির অভিযোগ উঠেছিল। পরে তাদেও বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা কঠোর অবস্থান নেয়। এখন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ওই ধরনের কাজ হচ্ছে না। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে ভেজাল মসলা প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। ওই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।


এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মসলা আমদানিকারক সমিতির সহ-সভাপতি অমর দাশ জানান, বিশ্ববাজারে এ, বি, সি, ডি থেকে মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আছে। এ, বি, সি, ডি মানের মসলাপণ্য সৌদি আরবসহ উন্নত দেশ ও ধনী দেশগুলো নিয়ে যায়। ভারত-বাংলাদেশে মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আসে। যেমন-এলাচ আসে মাঝারি মানের। জিরা ওষুধ তৈরিতে লাগে। সেটা কিছুটা ভালমানের আমদানি হয়। কারণ বাজারে ভাল জিরার চাহিদা আছে। তাছাড়া স্থলপথে ভারত থেকেও অনেক মসলা আনা হয়। ভারত যেখানে নিজেরাই মাঝারি ও নিম্নমানের মসলা আমদানি করে, সেখানে এদেশ কীভাবে ভাল মানের মসলা পাবে।

আসছে নতুন নিরাপত্তা সুতার ১০০০ টাকার নোট
                                  

নতুন নিরাপত্তা সুতাযুক্ত এক হাজার টাকা মূল্যমানের নোট আসছে। বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি সংবলিত বিদ্যমান ডিজাইন এবং গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত নোট আগামী ২৩ মে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য অফিস থেকে ছাড়া হবে। উচ্চ মূল্যমানের ব্যাংক নোটের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অধিকতর সুদৃঢ় করা এবং নোট জালকরণ প্রতিরোধের লক্ষ্যে এ নোট ছাড়া হয়েছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, নতুন নিরাপত্তা সুতাটি ইতিপূর্বে প্রচলনে থাকা নোটের নিরাপত্তা সুতা অপেক্ষা উন্নততর। এর কারিগরি প্রযুক্তিও নতুন, যা জাল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। নতুন প্রচলিত এ নোটটিতে বিদ্যমান ১০০০ টাকা মূল্যমান ব্যাংক নোটের রঙ এবং ডিজাইন অপরিবর্তিত রেখে শুধু নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশের নিরাপত্তা সুতাটি পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন এ নিরাপত্তা সুতাটি ৪ মিমি প্রশস্ত এবং নোটে নিরাপত্তা সুতার ৪টি অংশ দৃশ্যমান থাকবে। নোটটি বিভিন্ন দিকে ঘুরালে বা কাত করলে সুতার রঙ সোনালি থেকে হালকা সবুজ এবং গাঢ় সবুজ দৃশ্যমান হবে। অর্থাৎ, আলোর অবস্থান ও কৌণিক ভিন্নতার কারণে সুতাটির রঙ পরিবর্তিত হবে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সুতার ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম, সোনালি রঙে খচিত রয়েছে এবং বাংলায় সাদা রঙে ১০০০ টাকা লেখা আছে, যা কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুতার দৃশ্যমান অংশে সম্পূূর্ণ ও আংশিক আর কিছু ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুতার ভেতরে অবস্থান করবে। নতুন নিরাপত্তা সুতাটি নখের আঁচড়ে বা মুচড়িয়ে সহজে ওঠানো সম্ভব হবে না। নোটের অন্য সব নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন নোটের পাশাপাশি অন্য সব নোট প্রচলনে থাকবে।

প্রবাসীদের জন্য সুখবর থাকছে
                                  

প্রবাসীদের জন্য সুখবর আসছে বাজেটে। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়া হবে। প্রবাসীরা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন, তার ওপর ৩ শতাংশ হারে এ সুবিধা দেওয়া হবে। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে রফতানিযোগ্য বিভিন্ন পণ্যে একাধিক হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর বাইরে প্রথমবারের মতো সেবা খাত হিসেবে প্রবাসী আয়ে একই সুবিধা দেওয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যারা বৈধ পথে তথা ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাবেন, শুধু তারাই প্রণোদনা পাবেন। মূলত ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করতে প্রবাসীদের এ সুবিধা দেওয়া হবে।

সরকার আশা করছে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি অর্থাৎ প্রবাসীদের জন্য এ সুবিধা কার্যকর হলে দেশে বৈ ধপথে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে। অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, শুধু প্রণোদনা দিলে হবে না। নানা ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছেন প্রবাসীরা। এগুলো দ্রুত সমাধান করতে হবে। তাহলে রেমিট্যান্স আরও বাড়বে। অন্যদিকে, জনশক্তি রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, রেমিট্যান্স পাঠানোর ফি কমাতে হবে। তা না হলে অবৈধ পথে রেমিট্যান্স আসা বন্ধ হবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে প্রবাসীরা মোট রেমিট্যান্স পাঠান প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার অর্থাৎ ১৫ বিলিয়ন ডলার। যা স্থানীয় মুদ্রায় এক লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। ধারণা করা হয়, সমপরিমাণ রেমিট্যান্স ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অবৈধ পন্থায় বাংলাদেশে এসেছে। বিভিন্ন দেশে কতজন বাংলাদেশি কাজ করছেন, তার সঠিক রেকর্ড সরকারের কাছে নেই। তবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্নিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই সংখ্যা এক কোটির ওপরে। জানা যায়, এদের বড় একটি অংশ অবৈধ পথে দেশে রেমিট্যান্স পাঠান। 

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, রেমিট্যান্স খাতে প্রণোদনা দিতে এ খাতে তিন হাজার কোটি টাকা আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বাজেটে। বাজেট ঘোষণার পর এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করা হবে। সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয় এটি তৈরি করবে। ওই নীতিমালার আলোকে প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা দেওয়া হবে। বর্তমানে রফতানিকে উৎসাহিত করতে পোশাক, কৃষিজাত পণ্য, বস্ত্র পাট ও চামড়াজাতসহ সতেরটি খাতে বিভিন্ন হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৪ এবং সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। এখন নতুন করে প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা দেওয়া হবে ৩ শতাংশ হারে। 

প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি ব্রুনাই সফরকালে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বাংলাদেশে পাঠান এবং দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি। তাদের সুখ-দুঃখ দেখার দায়িত্ব সরকারের। দেশে ফেরার পর প্রবাসীদের কল্যাণে বাজেটে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। ওই নির্দেশ মোতাবেক আসন্ন বাজেটে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর আগেও প্রবাসীদের জন্য কিছু করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানো উৎসাহিত করতে রেমিট্যান্স ফি ১ শতাংশ নামিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন ২০১৬-১৭ বাজেটে। তখন আবুল মাল আবদুল মুহিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে ওই পদক্ষেপ কার্যকর হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলেছে, প্রবাসীদের আয়ে নগদ প্রণোদনার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত। বর্তমানে প্রণোদনা খাতে বছরে সরকারের ব্যয় হয় চার থেকে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা। নতুন করে প্রবসীদের প্রণোদনা দিলে এতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা।

জানা যায়, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তেমন সুযোগ সুবিধা পান না। বর্তমানে প্রবাসী আয় করমুক্ত। এর বাইরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণকারীদের সিআইপি মর্যাদা দেওয়া হয়। কম সুদে ব্যাংক ঋণ, রেমিট্যান্স ফি কমানোসহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এদের সুযোগ-সুবিধা দীর্ঘ সময় ধরে আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসছেন সংশ্নিষ্টরা। কিন্তু বাস্তবে এর প্রতিফলন নেই। 

যোগাযোগ করা হলে জনশক্তি রফতানিকারক সমিতি `বায়রার` মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান সমকালকে বলেন, বর্তমানে প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে ব্যাংকগুলো ৩ থেকে ৪ শতাংশ চার্জ কাটে। অতিরিক্ত চার্জের কারণে অনেকেই ব্যাংক চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফি শূন্য করা হলে বৈধ পথে টাকা পাঠাতে উৎসাহিত হবেন তারা। এতে করে রেমিট্যান্স প্রবাহ বর্তমানের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হবে। 

গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং বা `সানেমের` নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো টাকা ভোগে ব্যয় না করে লাভজনক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ করে দিতে হবে। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে সেবার মান আরও ভালো করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ফিলিপাইন, শ্রীলংকা, ভারতসহ অনেক দেশে প্রবাসীদের নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারকেও অন্যান্য দেশের মতো একই ধরনের সুযোগ দিতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে দেশে প্রবাসী আয় বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ হবে বলে মনে করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স আসে যথাক্রমে এক হাজার ২৭৬ কোটি ডলার ও এক হাজার ৪৯৩ কোটি ডলার। চলতি অর্থবছরে এপ্রিল পর্যন্ত এসেছে এক হাজার ৩৩০ কোটি ডলার। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বিশ্বব্যাংকের অভিবাসন ও উন্নয়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, শীর্ষ ১০ রেমিট্যান্স আহরণকারী দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নবম। 

৩ সেতু তৈরির পর উল্টো ৯৬০ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে জাপানিরা
                                  

দীর্ঘ দুই যুগ পর বাংলাদেশে ঘটলো বিরল ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৯৫ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্মিত হয়েছিল সেতু। ২০১৯ সালে এসে নির্ধারিত সময়ের এক মাস আগেই শেষ হচ্ছে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী দ্বিতীয় সেতুর নির্মাণ কাজ। মূল চুক্তির প্রায় ১ মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে এই তিন সেতু নির্মাণকারী জাপানি প্রতিষ্ঠান।

অন্যদিকে এই তিনটি সেতু নির্মাণে বরাদ্দের চেয়ে কম অর্থ খরচে কাজ শেষ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মো. নুরুজ্জামান বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতুর মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর মেঘনা ও গোমতীর মেয়াদ ছিল জুন-জুলাই ২০১৯ সাল পর্যন্ত। কিন্তু গুলশানে হলি আর্টিজান হামলার ঘটনার কারণে নির্মাণ কাজ ছয় মাস বন্ধ ছিল। তাই নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ শেষ করতে ছয় মাস অতিরিক্ত সময় চেয়েছিল। কিন্তু সেই ছয় মাস সময় তারা নেয়নি বরং মূল চুক্তির প্রায় ১ মাস আগে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

তিনি আরো বলেন, এর আগে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে নির্ধারিত সময়ের আগে পুরাতন মেঘনা ও গোমতী সেতুর কাজ শেষ করা হয়েছিল। সে কাজগুলোও নিয়েছিল জাপানের কোম্পানিরা। ১৯৯৫ সালের পর এবারের কৃতিত্বটাও তাদেরই। শুধু তাই নয়, বরাদ্দকৃত অর্থের চেয়েও কম খরচ করেছেন তারা। এই প্রকল্প থেকে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন সেতু নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৪৮৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে মেঘনা দ্বিতীয় সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার মধ্যে এই সেতু নির্মাণ কাজ শেষ করেছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো।

অন্যদিকে, গোমতী সেতুর জন্য দেয়া বরাদ্দ ২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা থেকে ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকায় কাজ শেষ করেছে তারা।

এ ছাড়া কাঁচপুর সেতুর জন্য বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তবে এই প্রকল্প শেষ করতে কত ব্যয় হয়েছে তা এখনও জানায়নি সেতু কর্তৃপক্ষ। সে হিসাবে এখন পর্যন্ত ৯৬০ কোটি টাকা নিশ্চিত সাশ্রয় হয়েছে।

এসব টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে কিনা সে বিষয়ে নুরুজ্জামান বলেন, নতুন ও পুরাতন সেতুগুলো সংস্কার কাজ সম্পন্নের পরই সে বিষয়ে জানা যাবে।

জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ
                                  

ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির বাজারে যেন অন্ধকার নেমে আসছে। নতুন শ্রমবাজার খোলা তো দূরের কথা, পুরনো শ্রমবাজারই একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আরব আমিরাত, কুয়েত, ইরাক, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, লেবাননসহ কয়েকটি দেশে জনশক্তির বাজার এখন প্রায় বন্ধ আছে। আর ওমান, কাতার, জর্দানের মতো শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর হার এখন তলানিতে ঠেকেছে। এ অবস্থায় কর্মী যাওয়ার পুরো চাপ সৌদি আরব, ওমান ও কাতারে। কিন্তু এই তিনটি দেশ আগের মতো শ্রমিক নিতে পারছে না। লাখ লাখ টাকা খরচ করে সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়াসহ নানা কারণে অনেকেই খালি হাতে দেশে ফিরছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দাসহ নানা কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভুগতে হচ্ছে। সম্প্রতি যেসব কর্মী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে গেছে, তারা কাজ না থাকা, ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা, আকামা না দেওয়া, প্রতারণাসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। সৌদি আরব ও মালয়েশিয়াতেই পাঁচ লাখের বেশি শ্রমিক অবৈধ হয়ে অমানবিক জীবন যাপন করছে।

এদিকে অবৈধ পথে কর্মী যাওয়া আগের চেয়ে বেড়েছে। প্রবাসী শ্রমিক, দেশে ফেরত আসা শ্রমিক ও বিএমইটির তথ্য এবং অভিবাসী বিশ্লেষকদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

শ্রম অভিবাসন বিশ্লেষক হাসান আহমেদ কিরণ বলেন, ‘দুবাইয়ে কর্মীর চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশ থেকে না নিয়ে ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে কর্মী নেওয়া হচ্ছে। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমিরাতের মতো বড় একটি শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো শুরু করতে পারিনি। আমরা মনে করি, এ জন্য শুধু কূটনৈতিক তৎপরতা দিয়েই হবে না, রাজনৈতিক তৎপরতাও লাগবে।’ তিনি বলেন, কুয়েতের শ্রমবাজারে অজ্ঞাত কারণে কর্মী পাঠানো বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ওমানে কর্মী গিয়েও ভালো বেতন পাচ্ছে না। আকামা পরিবর্তনের নামে কষ্টের শিকার হচ্ছে। ছয় থেকে সাত লাখ টাকায়

সৌদি আরব গিয়ে কষ্টে আছে শ্রমিকরা। ‘সৌদিকরণের’ কারণে স্থানীয় নাগরিকরা কাজে যোগদান করায় বাংলাদেশি অনেকেই বেকার হয়ে পড়ছে।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপরই এখনো নির্ভরশীল আমরা। সাত থেকে আট বছর ধরেই নতুন বাজার খুঁজতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার, কিন্তু আশার আলো নেই সেভাবে। একটি নতুন বাজারও খুলতে পারেনি। উল্টো পুরনো মার্কেটগুলো একের পর এক বন্ধ হয়ে গেছে নানা অনিয়ম আর দুর্নীতির কারণে।  সৌদি আরবের বাজারটি এখন নানা সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, আরব আমিরাতের বাজার ছয় ধরে বন্ধ, মালয়েশিয়ার বাজারটিও বন্ধ। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’

অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ সাইফুল হক বলেন, ‘রিক্রুটিং এজেন্সির ভিসা কেনাবেচার কারণেই মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে অভিবাসন ব্যয় অনেক গুণ বেশি। পুরো রিক্রুটমেন্ট প্রক্রিয়াটি আনইথিক্যালি চলছে। সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়ার বাজারটি বন্ধ হয়ে গেছে। আরব আমিরাতের বাজারটিও একটি সিন্ডিকেট দখলে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।’ তিনি বলেন, ‘বৈধভাবে শ্রমিক যেতে না পারলে সমুদ্রপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ দেশের বাইরে যেতে চাইবে, সরকারের উচিত এই সেক্টরের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া।’

অভিবাসন বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘এশিয়ার অন্য অনেক দেশ কম শ্রমিক বিদেশে পাঠালেও রেমিট্যান্স পাচ্ছে বেশি। কিন্তু দ্বিগুণের বেশি শ্রমিক পাঠিয়েও আমরা রেমিট্যান্স পাচ্ছি কম, কারণ অদক্ষ শ্রমিক যাচ্ছে বেশি। অদক্ষ শ্রমিক বিদেশে গিয়ে পদে পদে হয়রানি ও শোষণের শিকার হচ্ছে। কম মজুরিতে নিয়োগ, নিচু পদে কাজ করা, এমনকি চাকরিচ্যুত হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত টিকতে না পেরে অনেককেই দেশে ফিরে আসতে হচ্ছে।’

বিএমইটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে কর্মী গেছে দুই লাখ ২৬ হাজার ৭৭১ জন। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই গেছে এক লাখ ২৩ হাজার ৪৭৪ জন, যা বিদেশে যাওয়া মোট শ্রমিকের ৫৪ শতাংশ। সৌদি আরবের পরই গত চার মাসে বেশি কর্মী গেছে কাতারে, ২৮ হাজার ১৬৯ জন, যা শতকরা ১২ ভাগের বেশি। এর পরই ওমানে ২৬ হাজার ৪৪৪ জন। তবে এক বছর আগের হিসাবের চেয়ে এই দেশগুলোতে কর্মী যাওয়ার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।

বিএমইটির তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কর্মী যায় পাঁচ লাখ ৫১ হাজার ৩০৮ জন, কুয়েতে ৪৯ হাজার ৬০৪ জন, ওমানে ৪৯ হাজার ৭৪, কাতারে ৮২ হাজার ১২ জন, বাহরাইনে ১৯ হাজার ৩১৮ জন, মালয়েশিয়ায় ৯৯ হাজার ৭৮৭ এবং সিঙ্গাপুরে ৪০ হাজার ৪০১ জন।

পুরুষ কর্মীর পাশাপাশি সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে নারী কর্মীরাও যাচ্ছে। চলতি বছরের চার মাসে ৪৫ হাজার ২৯০ জন নারী কর্মী গেছে বিভিন্ন দেশে। সবচেয়ে বেশি গেছে সৌদি আরবে—প্রায় ২৯ হাজার ৯০৪ জন। নারী কর্মীদের ৬৬ শতাংশই যাচ্ছে সৌদি আরবে। জর্দান, ওমান ও কাতারেও নারী কর্মীরা যাচ্ছে, কিন্তু সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলোতে নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রতি মাসেই দেশে ফিরে আসছে নারী কর্মীরা। তাদের কাছ থেকে জানা যাচ্ছে দালালদের প্রতারণা এবং নিয়োগকর্তার ভয়ংকর নির্যাতনের কাহিনী।

চলতি মাসেই সৌদি আরব ও মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরত আসা কুমিল্লার দাউদকান্দির আব্দুর রহিম, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই এলাকার নুরুল মোল্লা এবং নরসিংদীর রায়পুরার মিজানুর রহমানসহ সাতজনের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাঁদের সবাই প্রতারণা শিকার এবং বেতন না পাওয়াসহ নানা নির্যাতনের কথা বলেছেন। তাঁরা জানান, দালালদের প্রতারণার কারণে মহাবিপদে পড়েছিলেন তাঁরা। যে কাজ কিংবা যে কম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা সেখানে না দিয়ে কঠিন ও ভিন্ন কাজ দেওয়া হয় তাঁদের। কেউ কেউ অনেক মাস কাজ করলেও মালিক ঠিকমতো বেতন দেয়নি। আকামা করার কথা বলেও আকামা করে দেয়নি, ফ্রি ভিসায় গিয়ে তাঁরা পড়েছিলেন চরম বিপাকে।

এমন নানা প্রতারণার শিকার হয়ে চলতি বছরের চার মাসেই পাঁচ হাজারের বেশি শ্রমিক খালি হাতে দেশে ফিরেছে। বিমানবন্দরে ফেরত আসা অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা ব্র্যাকের কর্মকর্তা আল আমিন নয়ন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খালি হাতে প্রতিদিনই সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা ফেরত আসছে। অসহায় এমন এক হাজারের বেশি কর্মীকে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হয়েছে।’ 

জনশক্তি রপ্তানিকারক সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব মনসুর আহমেদ বলেন, ‘সৌদিকরণের কারণে ১২ ক্যাটাগরিতে প্রবাসী শ্রমিক নিষিদ্ধ, আকামা ফি বাড়ানোর ফলে যারা ছোট ব্যবসা ও দোকান করত তারা অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে দেশে চলে আসছে। কাতারে অবরোধের কারণেও সেখানে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কর্মী নেওয়ার পরিমাণ কমে গেছে। কুয়েতের বাজার বন্ধ এবং মালয়েশিয়ার বাজারেও কর্মী পাঠানো বন্ধ।’ 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বায়রার একজন সাবেক সভাপতি বলেন, ‘নতুন বাজার খোলার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গত কয়েক বছরে কয়েক কোটি টাকা খরচ করলেও ফলাফল যেন শূন্য। এখন পর্যন্ত একটি নতুন শ্রমবাজারের দেখা মেলেনি।’

১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ ৫৫ প্রকল্পে
                                  

রাজধানীতে হিজড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে গত বছর পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছিল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এই প্রকল্পে হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নে এক কানাকড়িও খরচ হয়নি। আসছে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটেও টাকা খরচ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় আছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে। দিনের পর দিন এভাবে টাকা খরচ করতে না পারলে এডিপি থেকে প্রকল্প বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই হিজড়াদের জীবনমান উন্নয়নের প্রকল্পটি বাদ পড়া থেকে বাঁচিয়ে রাখতে আসছে বাজেটে মাত্র এক লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নামমাত্র টাকা বরাদ্দ রাখা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্প বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকে না।

ঢাকা শহরে তিনটি পাইকারি কাঁচাবাজার নির্মাণে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল এখন থেকে দুই বছর আগে। চলতি বছর জুনের মধ্যে প্রকল্পটির কাজ শেষ করার কথা থাকলেও মাত্র ১৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই প্রকল্পটিও টিকিয়ে রাখতে আসছে অর্থবছরের এডিপিতে মাত্র এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনে আসা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আগামী অর্থবছরের এডিপিতে এমন ৫৫টি প্রকল্প আছে, যেগুলোতে নামমাত্র টোকেন বরাদ্দ হিসেবে এক লাখ টাকা করে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় (এনইসি) আসছে অর্থবছরের এডিপি অনুমোদন পাওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে।

৫৫ প্রকল্পে কেন এক লাখ টাকা করে নামমাত্র বরাদ্দ রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, অনেকগুলো কারণে এসব প্রকল্পে নামমাত্র টাকা রাখা হয়েছে। প্রথমত, এ বছর জুনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো তা করতে পারবে না। দ্বিতীয়ত, প্রাপ্যতা নেই। অর্থাৎ চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে যে টাকা দেওয়া হয়েছে ওই প্রকল্পের বিপরীতে, সেটিই খরচ করতে পারেনি। তাই আসছে বাজেটে এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। যদি সমস্যা সমাধান করতে পারে, তাহলে সংশোধিত বাজেটে টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হবে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এবং মামলা-মোকদ্দমার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ হয় না। এতে বছরের পর বছর প্রকল্পের কাজ স্থবির থাকে। আবার কোনো কোনো প্রকল্প নেওয়া হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। তখন মাঠপর্যায়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়।

কমিশন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে আসা ১১ লাখ রোহিঙ্গার মধ্য থেকে এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর হাতিয়ার ভাসানচরে নেওয়ার জন্য দুই হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালে। রোহিঙ্গাদের এখন ভাসানচরে নেওয়া অনিশ্চিত। তাই আসছে বাজেটে এই প্রকল্পে নামমাত্র মাত্র এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা এ বছর জুনে। তাই প্রকল্পটি বাঁচিয়ে রাখতে আসছে বাজেটে এমন বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরী প্রকল্পটি ২০১০ সালে অনুমোদন পেয়েছিল ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়েও প্রকল্পটির কাজ শেষ হয়নি। এই প্রকল্পটিও বাঁচিয়ে রাখার জন্য বাজেটে এক লাখ টাকা রাখা হয়েছে। কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, কোনো কোনো প্রকল্পে সম্পদের সীমাবদ্ধতার কারণে যথেষ্ট পরিমাণ টাকা বরাদ্দ দেওয়া যায় না। বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রকল্পে নামমাত্র বরাদ্দ দেওয়া হয়, এটি যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে ১০০ বছরের বেশি সময় লাগবে। এতে করে একদিকে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়বে। টাকার পরিমাণও বাড়বে। কিন্তু সাধারণ মানুষ প্রকল্পের সুফল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

এদিকে ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারি বা (পিপিপি) মডেল চালুর পর এখনো সফলতার মুখ না দেখলেও আসছে অর্থবছরের এডিপিতে ৬২টি প্রকল্প ঢোকানো হয়েছে। এসব প্রকল্প পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নের আশা করছে সরকার। যদি চলতি বছর ও আগের বছরগুলোতে যেসব প্রকল্প পিপিপিতে বাস্তবায়নের জন্য রাখা হয়েছিল, সেসব প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি। অবশ্য এ বছর পরিকল্পনা কমিশন থেকে জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, আসছে বছর থেকে কোনো মন্ত্রণালয়ে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে, তার ৩০ শতাংশ অর্থ পিপিপির আওতায় প্রকল্পে খরচ করতে হবে। এ ছাড়া আসছে অর্থবছর ৩৫৫টি প্রকল্প শেষ করার জন্য নির্ধারণ করেছে পরিকল্পনা কমিশন।

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপির আকার নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে জোগান দেওয়া হবে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। বাকি ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়ার আশা করছে সরকার। পদ্মা সেতুসহ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে আসছে বাজেটে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহন খাতে, যা এডিপির ২৬ শতাংশ বা প্রায় ৫৩ হাজার কোটি টাকা।

ঋণখেলাপিরা নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন
                                  

ঋণখেলাপিদের নিয়মিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। এ ক্ষেত্রে প্রথম এক বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এই নির্দেশনার সুবাদে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও এখন থেকে ঋণ পুনঃতফসিল করার সুযোগ পাবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, খেলাপিরা ব্যাংকের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করলে নিয়মিত গ্রাহকদের চেয়েও খেলাপি গ্রাহকদের কম সুদ দিতে হবে। ঋণখেলাপিদের সুদ গুনতে হবে মাত্র ৯ শতাংশ হারে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকার গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনারোপিত সুদের সম্পূর্ণ সুদের অংশ এবং ইন্টারেস্ট সাসপেন্স অ্যাকাউন্টে রক্ষিত সুদ মওকুফ করা যাবে। তবে মওকুফকৃত সুদ পৃথক অ্যাকাউন্টে (সুদবিহীন) স্থানান্তর করতে হবে। পুনঃতফসিলের শর্তানুযায়ী সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধের পর ব্লকড হিসেবে রক্ষিত সুদ চূড়ান্ত মওকুফ হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঋণস্থিতির (মওকুফ অবশিষ্ট) কষ্ট অব ফান্ড + ৩ শতাংশ হারে সুদ প্রযোজ্য হবে। তবে সুদের হার ৯ শতাংশ-এর মধ্যে রাখতে হবে। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে মাসিক অথরা ত্রৈমাসিক কিস্তি নির্ধারণ করতে হবে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী আনুপাতিক হারে আসল এবং সুদ বিবেচনায় নিয়ে কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। ঋণ পরিশোধের জন্য ৯টি মাসিক কিস্তির মধ্যে ৬টি মাসিক কিস্তি অথবা তিনটি ত্রৈমাসিক কিস্তির মধ্যে ২টি মাসিক কিস্তি অনাদায়ী হলে এ সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়েছে, পুনঃতফসিল করার তারিখ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে সোলেনামার মাধ্যমে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পরবর্তীতে কোনো গ্রাহক প্রদত্ত সুবিধার কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে তার অনুকূলে সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং তার বিরুদ্ধে মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

পুনঃতফসিল পরবর্তীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংক কর্তৃক নতুন করে ঋণ প্রদান করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ করবে নতুনভাবে প্রদত্ত ঋণ যথানিয়মে পরিশোধ ব্যর্থ হলে প্রজ্ঞাপনের আওতায় প্রদত্ত সকল সুবিধা বাতিল বলে গণ্য হবে। এদিকে একইভাবে কোনো গ্রাহকের আবেদনের ভিত্তিতে ব্যাংক এককালীন এক্সিট সুবিধা দিতে পারবে। পুনঃতফসিল বা এক্সিট সুবিধা পাবে যেসব খাত সেগুলো হলোÑট্রেডিং খাত (গম, খাদ্য, ভোজ্যতেল ও রিফারনারী), জাহাজ শিল্প (শিপ ব্রেকিং ও শিপ বিল্ডিং) এবং লৗহ ও ইস্পাত শিল্প যেখানে ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ রয়েছে। বিশেষায়িত ব্যাংকের অকৃষি খাতের আমদানি-রপ্তানিতে সম্পৃক্ত শিল্প ঋণ। অন্যান্য খাতে ব্যাংকের বিশেষ নিরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত প্রকৃত ব্যবসায়ী যাদের ঋণ নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হয়েছে।

ফরিদগঞ্জের সুবিদপুুর পশ্চিম ইউপি’র বাজেট ঘোষনা
                                  

এস.এম ইকবাল(ফরিদগঞ্জ)চাঁদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪ নং সুবিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২০১৯-২০ অর্থ বছরের ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৪ চুয়াল্লিশ হাজার টাকার বাজেট ঘোষনা করা হয়েছে। ২০ মে (সোমবার) ইউনিয়ন পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত নাগরিক সভায় এ বাজেট ঘোষনা করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মহসিন হোসেন। বিভিন্ন তহবিলসহ অন্যান্য মিলে সর্বমোট বাজেট ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৪৪ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা।


এ সময় তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্তিশালী ইউনিয়ন পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। তাছাড়া তৃনমূল পর্যায়ে রাস্তা – ঘাট, স্কুল- কলেজসহ গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। সভা পরিচালনা করেন ইউপি সচিব মো. আমির হোসেন সোহেল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম পাটওয়ারী, রফিকুল ইসলাম মীর, নাজমুল হুদা মানু, মো. কামাল হোসেন, মো. সেলিম মজুমদার, রুহুল আমিন মুন্সী, মোহাম্মদ আলী, তথ্য সেবা কেন্দ্রের পরিচালক মো. হাবিব খান প্রমূখ।

 

অর্থসঙ্কটে ঝোঁক বাড়ছে বিদেশী ঋণে
                                  

ব্যাংকগুলোতে আবারো টাকার তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সঙ্কট মেটাতে তারা উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করছে। আর এতে বেড়ে গেছে ঋণের সুদহার। উচ্চ সুদের হাত থেকে বাঁচতে বেসরকারি উদ্যোক্তারা আবার ঝুঁকে পড়েছেন বিদেশী ঋণের দিকে। লাইবরের (লন্ডন ইন্টার ব্যাংক রেট) সাথে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ দিলেই মিলছে বিদেশী ঋণ। ফলে বিদেশী ঋণের সুদ পড়ছে সাড়ে ৬ শতাংশ। অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিদেশী ঋণের সুদ আপাতদৃষ্টিতে সস্তা মনে হলেও ডলার টাকার বিনিময় হারের হিসাব করলে কার্যকর সুদহার অনেক বেড়ে যাবে। সেই সাথে দেশের ওপর বাড়বে সুদসহ বিদেশী ঋণের দায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান মতে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি মিলে বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশী ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকার (প্রতি ডলার ৮৫ টাকা হিসেবে) মতো। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৯ বিলিয়ন বা প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকাই স্বল্পমেয়াদি (এক বছরের কম মেয়াদে) ঋণ। 

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে যাওয়ায় দায় বাড়ছে দেশের ওপর। কারণ, এসব ঋণ হলো সরবরাহ ঋণ, যা হার্ড লোন হিসেবে পরিচিত। অর্থাৎ এ ঋণের সুদ নির্ধারণ হয় বাজার রেটে। এ কারণে এসব ঋণের সুদ তুলনামূলকভাবে বেশি। আবার এসব ঋণ নেয়া হয় বিদেশী মুদ্রায়, কাজে লাগানো হয় স্থানীয় মুদ্রায় আবার পরিশোধও করা হয় বিদেশী মুদ্রায়। সুতরাং এসব ঋণ বেশি হলে দেশের ওপর চাপ বাড়ে। এ কারণে এসব ঋণ সীমার মধ্যে রাখাটাই দেশের জন্য ভালো।
কেন বৈদেশিক ঋণ বাড়ছে : বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, যখন ব্যবসায়ীদের বিদেশী ঋণ আনার অনুমোদন দেয়া হয় তখন দেশীয় ব্যাংকগুলোর তারল্যসঙ্কট চলছিল। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীদের ঋণ দেয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ ব্যাংকগুলোর হাতে ছিল না। টাকার সঙ্কটের কারণে ঋণের সুদ হারেও আকাশমুখী হয়। তখন ব্যাংকগুলোও উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ করে। তখন আমাদের সর্বোচ্চ সুদের হার ছিল ১৪ টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো ১০০ টাকা আমানত নিতে সর্বোচ্চ ১৪ টাকা ব্যয় করেছে। এ সময়কাল ছিল ২০১০-১১ অর্থবছরের দিকে। উচ্চ সুদে আমানত নিয়ে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ হারে ঋণ দিতে থাকে ব্যাংকগুলো। এতে পণ্যের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যায়। বেড়ে যায় মূল্যস্ফীতি।
ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসায়ীদের বৈদেশিক ঋণ আনার অনুমোদন দেয়। বলা চলে তখন থেকে বেসরকারি পর্যায়ে বৈদেশিক ঋণ আসতে থাকে। সর্বোচ্চ ৫ বছর মেয়াদি এসব ঋণ আনতে ব্যবসায়ীরা ক্ষেত্রবিশেষ সাড়ে ৪ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় করে। এর পর অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা তাদের তহবিল সঙ্কট মেটায়। সর্বোচ্চ ১ বছরের কম মেয়াদি এসব ঋণ আনতেও ক্ষেত্রবিশেষ সর্বোচ্চ সাড়ে ৬ শতাংশ সুদ দিয়ে আসছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর আগ্রাসী ব্যাংকিংয়ের কারণে বর্তমানে প্রতিটি ব্যাংকেরই চরম অর্থসঙ্কট চলছে। এ অবস্থায় টাকার সঙ্কট মেটাতে উচ্চ সুদে আমানত সংগ্রহ শুরু করেছে। গড়ে প্রায় প্রতিটি ব্যাংকই এখন ডাবল ডিজিটে আমানত সংগ্রহ করছে। কোনো কোনো ব্যাংক ১৪ শতাংশ পর্যন্ত সুদে আমানত নিচ্ছে। উচ্চ সুদে আমানত নেয়ায় স্বাভাবিকভাবেই ঋণের সুদহার বেড়ে গেছে। এমনি পরিস্থিতিতে কিছু কিছু উদ্যোক্তা আবারও বিদেশী ঋণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে তারা বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগ শুরু করেছে। তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রস্তাব পাঠাচ্ছে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব ঋণের সুদ আপাতত কম মনে হলেও কার্যকরী সুদহার আরো বেড়ে যাবে। যেমন একজন বিনিয়োগকারী বিদেশ থেকে সাড়ে ৬ শতাংশ হারে ১০০ কোটি ডলার (৮৪ টাকা প্রতি ডলার হিসেবে) ঋণ গ্রহণ করল। এক বছর পর প্রতি ডলার ৯০ টাকা হলে প্রতি ডলারে টাকার মান কমে প্রায় ৭ শতাংশ। ডলারে ঋণ করে টাকায় ব্যয় করলেও ডলারে পরিশোধ করায় বিনিময় হারের কারণে সুদ ব্যয় বেড়ে হবে (৬.৫+৭) সাড়ে ১৩ শতাংশ। এভাবে কেউ ৫ বা ১০ বছর মেয়াদি বিদেশী ঋণ নিলে কার্যকরী হার অনেক বেড়ে যাবে। যেমন, ২০১৬ সালে প্রতি ডলার ছিল ৭৯ টাকা, বর্তমানে যা আমদানি পর্যায়ে ৮৫ টাকায় উঠে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গত ২০১১ সালে ৯২ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। পরের বছর অর্থাৎ ২০১২ সালে ১৪৯ কোটি টাকার ঋণ নেয়ার অনুমোদন দেয়া হয়। এর পর প্রতিবছরই তা বাড়তে থাকে। এর সাথে যোগ হয় অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণ। অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের বৈদেশিক ঋণের জোগান দিয়ে আসছে। অর্থাৎ ব্যাংক বিদেশী কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নিয়ে ওই ঋণ আবার ব্যবসায়ীদের মাঝে বিতরণ করছে। ফলে বেসরকারি পর্যায়ে প্রকল্প ঋণ ও অফশোর ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক ঋণ বেড়ে যাচ্ছে।

ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত অলস টাকা রয়েছে। ব্যবসায়ীরা স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে এ থেকে যে সুদ পরিশোধ করত তা দেশেই থেকে যেতো। এতে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর কোনো চাপ বাড়ত না। এতে ব্যাংকগুলোরও তহবিল ব্যয় কমতো যা সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ত। কিন্তু এখন ব্যবসায়ীরা বিদেশী ঋণ নেয়ায় বৈদেশিক মুদ্রায় সুদ পরিশোধ করছেন। এতে এসব ঋণের সুদ বৈদেশিক মুদ্রায় চলে যাচ্ছে বিদেশে। এ ব্যয় বেড়ে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর পড়বে। ইতোমধ্যে রফতানি আয় কমে যাওয়ায় ও আমদানি ব্যয় তুলনামূলক বেশি বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ কমতে শুরু করেছে। বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ বাড়তে থাকলে রিজার্ভের ওপর চাপ আরো বেড়ে যাবে, যা অর্থনীতির জন্য মোটেও কল্যাণকর হবে না বলে তারা মনে করছেন।

৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ সমুদ্রসীমায়
                                  

সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আজ সোমবার থেকে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় সব ধরনের মাছ ধরা আগামী ৬৫ দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৩ জুলাই পর্যন্ত বহাল থাকবে এই নিষেধাজ্ঞা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ও কঠিন আবরণযুক্ত জলজ প্রাণী বসবাসের নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং মাছের মজুদ সংরক্ষণ সুষ্ঠু ও সহনশীল আহরণ নিশ্চিত করার স্বার্থে ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর এই সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এবার গত ১০ মে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মৎস্য-২ (আইন) অধিশাখা মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।

জানতে চাইলে মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক সৈয়দা শিরিন সুলতানা খাতুন গতকাল রবিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, এই নিষেধাজ্ঞাকালে মৎস্য আহরণকারী যান্ত্রিক-অযান্ত্রিক কোনো ধরনের নৌযান বঙ্গোপসাগরে যেতে পারবে না।

এদিকে একটানা ৬৫ দিন সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে কয়েক দিন ধরেই দেশের উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের মধ্যে অসেন্তাষ দেখা দেয়। জেলেরা এই সময়ে উপার্জনহীন হয়ে পড়ার শঙ্কা তুলে ধরে সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করে।

 বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ওপর টানা ৬৫ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলের হাজার হাজার জেলে আন্দোলন-সংগ্রাম করছে। উপরন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর একাধিকবার স্মারকলিপি দিয়েও কোনো ফল না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েছে।

বাগেরহাট জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় মৎস্য সমিতির শরণখোলা উপজেলা শাখার সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, ‘মৌসুমকে ঘিরে একেকজন ট্রলার মালিক খুলনা, বাগেরহাট, পাথরঘাটার মহাজন ও আড়তদারের কাছ থেকে চার-পাঁচ লাখ টাকা করে দাদন নিয়েছেন। এনজিও থেকে ঋণ এবং চড়া সুদেও টাকা এনেছেন অনেকে। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন এসব দেনা শোধ করতে অনেকে জাল-ট্রলার বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু
                                  

নৌপথে ঈদ যাত্রায় লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হচ্ছে আজ সোমবার। এ ছাড়া যাত্রীদের সুবিধার জন্য ৩০ মে থেকে ৮ জুন পর্যন্ত চলবে লঞ্চের বিশেষ সার্ভিস। গতকাল রবিবার ঢাকা নদীবন্দরের সভাকক্ষে ঈদ যাত্রার প্রস্তুতিবিষয়ক এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা, প্রশাসন ও নৌযান মালিকপক্ষের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর মাহবুব উল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় জানানো হয়, সোমবার থেকেই নৌবন্দরের টার্মিনাল ভবনে থাকা প্রতিটি লঞ্চের কাউন্টার থেকে টিকিট বিক্রি হবে। এ ছাড়া ঈদের সময় টার্মিনালে প্রবেশ ও লঞ্চে আরোহণের সময় মোবাইল কোর্টসহ কর্তৃপক্ষের মনিটরিং টিম দায়িত্ব পালন করবে। যারা অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং যাত্রী হয়রানি করবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোবাইল ব‌্যাংকিংয়ে টাকা আদান প্রধান সীমা বৃদ্ধি
                                  

লেনদেনের সীমা বাড়ালো মোবাইল ব‌্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। লেনদেনের সীমা বাড়ায় এখন দিনে আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুন টাকা উত্তোলন ও জমা করা যাবে। রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সার্কুলার জারি করে মোবাইল ব‌্যাংকিংয়ে লেনদেনের এ নতুন সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

এখন একজন গ্রাহক তার মোবাইল অ‌্যাকাউন্টে দিনে পাঁচ বারে ৩০ হাজার টাকা ক‌্যাশ ইন বা জমা করতে পারবেন। তবে মাসে ২০ বারে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ক‌্যাশ ইন করার নিয়ম অপরিবর্তিত থাকছে। এদিকে এতোদিন দিনে মাত্র দুই বারে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা জমা করতে পারতেন একজন গ্রাহক। এখন দিনে সর্বোচ্চ পাঁচ বারে ২৫ হাজার টাকা তোলা বা ক‌্যাশ আউট করা যাবে। সেই সঙ্গে মাসে ২০ বারে এক লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করা যাবে। আর প্রতি দিন দুই বারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা তোলা বা ক‌্যাশ আউট করা যেত। সেখানে মাসে ১০ বারে ৫০ হাজার টাকার বেশি উত্তোলন করা যেত না।

এছাড়াও ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অথবা পারসোনাল টু পারসোনাল অ্যাকাউন্টের (পি টু পি) টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে এখন দিনে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা এবং মাসে ৭৫ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে এতোদিন দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার এবং মাসে ২৫ হাজার টাকা পাঠানো করা যেত।

উল্লেখ্য, বিকাশ, নগদ, রকেটসহ অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অ্যাকাউন্ট রয়েছে আট কোটির মতো গ্রাহকের। এর মধ্যে শুধু বিকাশেরই রয়েছে তিন কোটি ১০ লাখ অ্যাকাউন্ট।


   Page 1 of 88
     অর্থ-বাণিজ্য
ধান কেনায় আরও ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি বিএনপির
.............................................................................................
নতুন অর্থবছরে জাতীয় সংসদের বরাদ্দ ৩২৮ কোটি টাকা
.............................................................................................
ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে বিআরটিসির এসি বাস চালু
.............................................................................................
অব্যবস্থাপনায় শুরু ঈদে ট্রেনের আগ্রিম টিকেট বিক্রি
.............................................................................................
চাহিদা মেটাতে আমদানি হচ্ছে বিপুল পরিমাণ নিম্নমানের মসলা
.............................................................................................
আসছে নতুন নিরাপত্তা সুতার ১০০০ টাকার নোট
.............................................................................................
প্রবাসীদের জন্য সুখবর থাকছে
.............................................................................................
৩ সেতু তৈরির পর উল্টো ৯৬০ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে জাপানিরা
.............................................................................................
জনশক্তি রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ ৫৫ প্রকল্পে
.............................................................................................
ঋণখেলাপিরা নিয়মিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জের সুবিদপুুর পশ্চিম ইউপি’র বাজেট ঘোষনা
.............................................................................................
অর্থসঙ্কটে ঝোঁক বাড়ছে বিদেশী ঋণে
.............................................................................................
৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধ সমুদ্রসীমায়
.............................................................................................
লঞ্চের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু
.............................................................................................
মোবাইল ব‌্যাংকিংয়ে টাকা আদান প্রধান সীমা বৃদ্ধি
.............................................................................................
আজ শুরু বাণিজ্যিকভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কার্যক্রম
.............................................................................................
রূপপুর প্রকল্পে বাবুর্চির বেতন ৮০ হাজার, গাড়ি চালকের ৯৩ হাজার!
.............................................................................................
এবার ট্রেন টিকেট ক্রয়ে দেখাতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র,প্রতিদিন বিক্রি হবে ৭২ হাজার টিকিট
.............................................................................................
১০৪০ টাকা মণে কৃষকদের ধান ক্রয় করবে সরকার
.............................................................................................
নিম্নমানের খাদ্যপণ্য কারনে সাতটির লাইসেন্স বাতিল, ১৮টি স্থগিত
.............................................................................................
বৃহস্পতিবার শুরু বিসিক ও শিল্পকলা একাডেমির জামদানি মেলা
.............................................................................................
রমজানে জালনোট রোধে ব্যাংকগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা
.............................................................................................
নির্দেশনা উপেক্ষিত : মূল্য তালিকা নেই মাংস-সবজি-ফলের দোকানে
.............................................................................................
বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড
.............................................................................................
‘তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক’ পেলেন ৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
হস্তশিল্প রফতানিতে আয় বেড়েছে
.............................................................................................
দশ মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১১.৬১ শতাংশ, কমছে না বাণিজ্য ঘাটতি
.............................................................................................
ঈদে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন
.............................................................................................
চাল রফতানির চিন্তা করছে সরকার
.............................................................................................
নয়টি দেশে ৩০ কোটি গ্রাহক নিয়ে নতুন কোম্পানি
.............................................................................................
ঋণখেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা যৌক্তিক
.............................................................................................
ফরিদগঞ্জে মাছ চাষ করে স্বাবলম্বী হতে যাচ্ছেন মনির হোসেন
.............................................................................................
রমজানে ব্যাংক লেনদেন সকাল সাড়ে নয়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত
.............................................................................................
অর্থবছরের শেষে এসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০ শতাংশ
.............................................................................................
উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ খাদ্য নিরাপত্তা: শিল্প সচিব
.............................................................................................
ডিজিটাল প্রতারণার শীর্ষে রয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং
.............................................................................................
রমজানে বিএসটিআই’র অভিযান জোরদার করা হবে: শিল্পমন্ত্রী
.............................................................................................
গ্রামীণফোনকে এসএমপি ঘোষণা নিয়ে জটিলতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ: বিটিআরসি
.............................................................................................
মার্কেন্টাইল ব্যাংক মেধাবী ব্যাংকারদের পুরস্কৃত করবে
.............................................................................................
দ্বিতীয় দিনে দরপতনে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
.............................................................................................
অর্থ সঙ্কট ও তথ্য ঘাটতি এসডিজি বাস্তবায়নে বড় বাধা: সিপিডি
.............................................................................................
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে তিনগুণ
.............................................................................................
বেসরকারী পর্যায়ে আমদানিকৃত অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনের নীতিমালা হচ্ছে
.............................................................................................
কৃষিজমি সুরক্ষায় গ্রামাঞ্চলে বহুতল ভবন নির্মাণে ঋণ দেয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
.............................................................................................
কৃষকের জন্য ‘প্রজেক্ট অ্যাগ্রো ব্যাংকিং’
.............................................................................................
সপ্তাহের প্রথম দিনে সূচক বেড়েছে
.............................................................................................
বঙ্গোপসাগরে পৌঁছেছে সামিটের এলএনজি এফএসআরইউ
.............................................................................................
টেকসই পোশাক খাতের জন্য পরিবেশ দূষণ কমানোর আহ্বান
.............................................................................................
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে কারখানা কার্যক্রম শুরু হবে জুলাইয়ে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
উপদেষ্টা: আজাদ কবির
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ হারুনুর রশীদ
সম্পাদক মন্ডলীর সহ-সভাপতি: মামুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
যুগ্ম সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বার্তা সম্পাদক: মুজিবুর রহমান ডালিম
স্পেশাল করাসপনডেন্ট : মো: শরিফুল ইসলাম রানা
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]