১৮ জিলহজ ১৪৪১ , ঢাকা, রবিবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ৯ আগস্ট , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সুশাসন নিশ্চিতের শর্তে বাজেটে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ তদারকি ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন। এমন প্রায় ডজন খানেক শর্ত আরোপ করা হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রাক অনলাইন বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লিখিত প্রস্তাব দেয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর যেকোনো অনিয়মের তদারকি করতে পারবে। গুরুতর অনিয়মের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়ার অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুতর অনিয়মের কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুশাসনের আওতায় থাকে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেবে সরকার। দুই কিস্তিতে তহবিল ছাড় করা হবে বিশ্বব্যাংক থেকে। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ঋণ অনুমোদনের আগে বিশ্বব্যাংক থেকে কিছু শর্ত দেয়া হচ্ছে। এ শর্তগুলোর মধ্যে কিছু আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে পূরণ করতে হবে। বাকি শর্ত এক বছরের মধ্যে পূরণ করতে হবে।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস ও প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। তহবিল জোগানের প্রাক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর অর্পণ করতে হবে। এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করতে হবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ঋণ নেবে সরকার। আবার সরকারি ব্যাংকগুলোর সংস্কারও করতে পারে সরকার। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তেমন কিছুই করার নেই। এ কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

অপর দিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে বলেছে বিশ্বব্যাংক। বলা হয়েছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়াতে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের লিখিত প্রস্তাব দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় যতটুকু থাকবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পূরণ করা হবে। বাকি সরকারের অংশ অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ দিকে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘করোনা মহামারী মোকাবেলায় ঋণ ও বিনিয়োগে দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুর্নীতি বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বহুজাতিক সংস্থাগুলো থেকে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের ঋণ গ্রহণ করেছে। এর একটি অংশ দিয়ে করোনা মোকাবেলায় মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, হ্যান্ডগ্লাভসসহ নানা ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী আমদানি করা হয়েছে। এসব কেনাকাটায় ইতোমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যা তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য সংস্থা।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যত দ্রুত পড়েছে, অনেকটা তত দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে। অনেকটা ‘ভি’ আকৃতিতে। অর্থাৎ করোনার কোপে হঠাৎ করেই অর্থনীতি পড়ে গেছে, তেমনি বড় বিনিয়োগ, ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে বাজারে ব্যাপক হারে টাকা ছাড়ার কারণে অর্থনীতি দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোর শর্ত বাস্তবায়ন, সরকারের ঋণ, সরকারি সংস্থাগুলোর দায়দেনা এবং বিভিন্ন উপকরণের বিপরীতে ঋণের তথ্যে জনগণের সামনে প্রকাশ করা। এ ছাড়া ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ, অর্থ ব্যবহারের সব ধরনের গোপনীয়তা প্রকাশ, ঋণের বিপরীতে নিজস্ব উদ্যোগে জামানত গ্রহণ এবং তার সঠিক ব্যবহার করলেই সরকারের ঋণ গ্রহণ সীমিত থাকবে।

প্রসঙ্গত, করোনার প্রভাব মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে ১২৬ কোটি ডলারের সহযোগিতা করা হয়েছে।

সুশাসন নিশ্চিতের শর্তে বাজেটে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক
                                  

ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়াতে হবে। সরকারি ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ তদারকি ক্ষমতা অর্পণ করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন। এমন প্রায় ডজন খানেক শর্ত আরোপ করা হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তাদের প্রাক অনলাইন বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে লিখিত প্রস্তাব দেয়ার জন্য বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধিদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর যেকোনো অনিয়মের তদারকি করতে পারবে। গুরুতর অনিয়মের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্য তফসিলি ব্যাংকগুলোর চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়ার অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর গুরুতর অনিয়মের কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার কারণে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুশাসনের আওতায় থাকে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নেবে সরকার। দুই কিস্তিতে তহবিল ছাড় করা হবে বিশ্বব্যাংক থেকে। বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ঋণ অনুমোদনের আগে বিশ্বব্যাংক থেকে কিছু শর্ত দেয়া হচ্ছে। এ শর্তগুলোর মধ্যে কিছু আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে পূরণ করতে হবে। বাকি শর্ত এক বছরের মধ্যে পূরণ করতে হবে।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস ও প্রধান কার্যালয়ের প্রতিনিধিদের ভার্চুয়াল বৈঠক হয়েছে। তহবিল জোগানের প্রাক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে ব্যাংকিং খাতের সুশাসন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর অর্পণ করতে হবে। এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন করতে হবে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বলা হয়েছে, বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ঋণ নেবে সরকার। আবার সরকারি ব্যাংকগুলোর সংস্কারও করতে পারে সরকার। এখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তেমন কিছুই করার নেই। এ কারণে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকেই এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।

অপর দিকে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোর সুশাসন নিশ্চিত করতে বলেছে বিশ্বব্যাংক। বলা হয়েছে, সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মদক্ষতা বাড়াতে। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের লিখিত প্রস্তাব দিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আওতায় যতটুকু থাকবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পূরণ করা হবে। বাকি সরকারের অংশ অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেয়া হবে।

এ দিকে সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘করোনা মহামারী মোকাবেলায় ঋণ ও বিনিয়োগে দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা মহামারীর প্রভাব মোকাবেলায় অর্থের ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুর্নীতি বন্ধ করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

উল্লেখ্য, বহুজাতিক সংস্থাগুলো থেকে বাংলাদেশ ২৮০ কোটি ডলারের ঋণ গ্রহণ করেছে। এর একটি অংশ দিয়ে করোনা মোকাবেলায় মাস্ক, ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রী, হ্যান্ডগ্লাভসসহ নানা ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী আমদানি করা হয়েছে। এসব কেনাকাটায় ইতোমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যা তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) অন্যান্য সংস্থা।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি যত দ্রুত পড়েছে, অনেকটা তত দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে। অনেকটা ‘ভি’ আকৃতিতে। অর্থাৎ করোনার কোপে হঠাৎ করেই অর্থনীতি পড়ে গেছে, তেমনি বড় বিনিয়োগ, ঋণ ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে বাজারে ব্যাপক হারে টাকা ছাড়ার কারণে অর্থনীতি দ্রুতই ঘুরে দাঁড়াবে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে দাতা সংস্থাগুলোর শর্ত বাস্তবায়ন, সরকারের ঋণ, সরকারি সংস্থাগুলোর দায়দেনা এবং বিভিন্ন উপকরণের বিপরীতে ঋণের তথ্যে জনগণের সামনে প্রকাশ করা। এ ছাড়া ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতিতে হিসাব সংরক্ষণ, অর্থ ব্যবহারের সব ধরনের গোপনীয়তা প্রকাশ, ঋণের বিপরীতে নিজস্ব উদ্যোগে জামানত গ্রহণ এবং তার সঠিক ব্যবহার করলেই সরকারের ঋণ গ্রহণ সীমিত থাকবে।

প্রসঙ্গত, করোনার প্রভাব মোকাবেলায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে ১২৬ কোটি ডলারের সহযোগিতা করা হয়েছে।

বাংলাদেশের যে ৮টি রুটে পন্য পরিবহন করবে ইন্ডিয়া
                                  

বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংযোগ বাড়াতে আরো মনোযোগী হচ্ছে ভারত। সে জন্য উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে আটটি রুট চিহ্নিত করেছে নয়াদিল্লি। এই রুটগুলো ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে পণ্য পরিবহন করা হবে।

ইতোমধ্যে গত জুলাইয়ে কলকাতা থেকে পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে হয়ে আখাউড়া স্থল বন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় যায়। যা এই রুটে পরীক্ষামূলক প্রথম পণ্য পরিবহন ছিল। এর মধ্য দিয়ে ভারত সরকার আশা করছে, পরীক্ষামূলক জাহাজ চলাচলের মাধ্যমে তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে বাণিজ্য যোগাযোগ আরো উন্নত হবে।

নয়াদিল্লি বলছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে যোগাযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের সঙ্গে আটটি রুট চিহ্নিত করা হচ্ছে।

রুটগুলো হলো- চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে আখাউড়া হয়ে আগরতলা (ত্রিপুরা), চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে তামাবিল হয়ে ডাউকি (মেঘালয়), চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে শেওলা হয়ে সুতারকান্দি (আসাম) এবং চট্টগ্রাম বা মোংলা বন্দর থেকে বিবির বাজার হয়ে শ্রীমন্তপুর (ত্রিপুরা) এবং সবগুলোর বিপরীত রুট।

আকাশ, নৌ, রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে পারস্পরিক কল্যাণের স্বার্থে দুই দেশের মধ্যেই অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সুযোগ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করে ভারত সরকার। সে জন্য ২০১৯ সালেই দেশ দুটি পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরস (এসওপিএস) চূড়ান্ত করে। এ চুক্তির মধ্য দিয়ে নৌ, রেল, সড়ক বা বহুমুখী পরিবহনে বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ভারতীয় এক কর্মকর্তা বলেন, এই কার্যক্রম উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে এবং বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া ঢাকায় ভারতের মিত্র সরকার থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আরো নজর দেয়া প্রয়োজন। কারণ চীন বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সংযোগ বাড়াতে বেশি মনোযোগী হচ্ছে।

২০২০-২১ অর্থবছরের পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
                                  

সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। তারপরও করোনার এই সংকটময় পরিস্থিতিতেও পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি আয় হয়েছে। সবমিলিয়ে মোট ১০ কোটি ৩৫ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা গত অর্থবছরের জুলাই মাসের চেয়ে ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বেশি।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ পাটপণ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিজেজিইএ) চেয়ারম্যান এম সাজ্জাদ হোসাইন সোহেল বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর অভাব কিছুটা পড়েছে। কারণ সেখান থেকে বিজেএমসি পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে রপ্তানি করতো। তাদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে আমরাও রপ্তানি করতাম। তাই একটু প্রভাব পড়েছে।

তবে বেসরকারি পাটকলগুলো সক্রিয় হলে তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব জানিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি পাটকলগুলো যদি এই জায়গাটা দ্রুত নিতে পারে, তাহলে খুব বেশি সমস্যা হবে না। আবার বন্ধ মিলগুলো পিপিপির মাধ্যমে দ্রুত চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার। দেখা যাক, ভবিষ্যতে কী হয়।

এদিকে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদকৃত তথ্যে দেখা গেছে, নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে মোট ৩৯১ কোটি (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে পাট ও পাট পণ্য রপ্তানি থেকে এসেছে ১০ কোটি ৩৫ লাখ ১০ হাজার ডলার। যা মোট আয়ের তিন শতাংশেরও নিচে। তারপরও তা আগের বছরগুলোর তুলনায় বেশি।

জুলাই মাসে পাটসুতা থেকে রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৬ শতাংশ। কাঁচাপাট থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ। পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে থেকে রপ্তানি হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ডলার এবং আয় বেড়েছে ৪৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। এ ছাড়া পাটের তৈরি অন্যান্য পণ্য থেকে ৮০ লাখ ডলার রপ্তানি হয়েছে।

অন্যদিকে, গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্য থেকে মোট রপ্তানি আয় হয়েছে ৮৮ কোটি ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। যা ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চেয়ে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে পাটসুতা রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫৬ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। যা মোট রপ্তানির ৬৪ শতাংশ। এ ছাড়া কাঁচাপাট রপ্তানি থেকে ১৩ কোটি ডলার, পাটের তৈরি বস্তা, চট ও থলে রপ্তানি থেকে ১০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং পাটের তৈরি বিভিন্ন পণ্য থেকে ১৯ কোটি ডলারের মতো রপ্তানি আয় হয়েছিল।

বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জাহিদ মিয়া বলেন, দিনকে দিন বিশ্বব্যাপী পাট পণ্যের চাহিদা বেড়ে চলেছে। এখন বস্তা, চট ও থলের পাশাপাশি পাটসুতাসহ পাটের তৈরি নানা ধরনের পণ্য বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হচ্ছে।

বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস মোকবেলায় এডিবি’র ৩০ লাখ ডলারের অনুদান
                                  

বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস মোকবেলায় ৩০ লাখ ডলারের অনুদান অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটির অতিরিক্ত এই অনুদান দিয়ে বাংলাদেশ করোনা মহামারি মোকাবেলায় জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কিনতে পারবে। আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, এডিবির এশিয়া প্যাসিফিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিলে জাপান সরকারের দেওয়া অর্থ থেকে এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে এডিবির কান্ট্রি ডিরেকটর মনমোহন প্রকাশ বলেন, সরকারের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য জরুরি প্রয়োজন মেটাতে এই অর্থ সাহায্য করবে।

এ ছাড়া করোনার কারণে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক খাতে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেকটর।

তিনি বলেন, করোনার মহামারি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও এডিবির সহায়তা অব্যাহত থাকবে।

আবারো দেশের বাজারে বাড়লো সোনার দাম
                                  

১৩ দিনের ব্যবধানে দেশের বাজারে সোনার দাম বেড়েছে আবার। চার হাজার ৪৩২ টাকা ভরি প্রতি বাড়িয়ে নতুন মূল্য বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। নতুন করে প্রতি ভরি স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে আগে কখনও সোনার দাম এতো বাড়েনি।

গতকাল বুধবার রাত সোয়া নয়টায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ বৃহস্প‌তিবার থেকে স্বর্ণের এ নতুন দর কার্যকর হবে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট ও চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে ইউএস ডলার দুর্বল, তেলের দর পতন ও নানাবিধ অর্থনৈতিক সমীকরণের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার মূল্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সেই ধারাবাহিকতা দেশীয় বুলিয়ন মার্কেটে সোনার দাম বেড়েছে।

জুয়েলার্স সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সারা দেশে সোনার নতুন দর কার্যকর হবে। তাতে ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার অলংকার কিনতে লাগবে ৭৭ হাজার ২১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৭৪ হাজার ৬৭ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৬৫ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি বিক্রি হবে ৫৪ হাজার ৯৯৬ টাকায়।

এর আগে গত ২৩ জুলাই স্বর্ণের দাম ভরিতে ৫ হাজার ৮২৫ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস, যা ২৪ জুলাই থে‌কে কার্যকর হয়। তার আগে গত ২৩ জুন এবং তারও আ‌গে ২৮ মে স্ব‌র্ণের দাম বাড়িয়েছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের এ সংগঠনটি।

সহজ শর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে জাপান
                                  

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে জাপান। দেশটির কাছ থেকে বাংলাদেশ জরুরি ঋণ সহায়তা হিসেবে ৩৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩৫ বিলিয়ন ইয়েন ঋণ পেতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে দুই দেশের মধ্যে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হয়েছে।

ঢাকায় অবস্থিত জাপান দূতাবাস থেকে আজ বুধবার পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, জাপান জরুরি ঋণ সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় মাত্র ০.০১ শতাংশ সুদে ঋণ দিচ্ছে। এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকি এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতেমা ইয়াসমিন। চুক্তি অনুসারে জাইকার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এই ঋণ সহায়তা দেবে জাপান।

প্রসঙ্গত, করোনা মোকাবেলায় জাপান এর আগে বাংলাদেশকে ১৩ মিলিয়ন ডলার জরুরি সহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া গত ১৬ জুলাই দেশটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশকে ১০ মিলিয়ন ডলার দেয়। ওই অর্থ দিয়ে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় সিটি স্ক্যানার, এক্সরে মেশিন এবং হাসপাতালে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।

জুলাইয়ে রেকর্ড ২.৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা
                                  

করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও শুধু জুলাই মাসেই ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা গাজী তৌহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজপ্তিতে বলা হয়, ‘বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও শুধু জুলাই মাসে ২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।’

গত জুনের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১.৮৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পাশাপাশি বাংলাদেশের ইতিহাসে এযাবতকালের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৭.২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। গত ৩০ জুন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.০১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি ছিল সর্বোচ্চ।

‘মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেটি পৌছেছে ৩৭.২৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ডে। রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরূত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ।’

রেমিট্যান্সে দেশের এ অনন্য রেকর্ডে প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত অর্থবছরের শুরু থেকে প্রবাসীদের প্রেরিত আয়ের উপর ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত আছে যার ফলে গতবছর ১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।’

‘চলতি অর্থবছরে ৩-৫ বিলিয়ন ডলার বাড়তি অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি। সামনের দিনে রেমিট্যান্স বৈধ পথে আনতে যত কৌশল অবলম্বন করতে হয় সেটা আমরা নেব,’ যোগ করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রবাসীদের রয়েছে দেশের প্রতি অকৃতিম ভালোবাসা আর মমত্ববোধ। তাদের টাকা প্রেরণে যত বাধা রয়েছে সেগুলো দূর করা হবে।’

উল্লেখ্য যে, চিকিৎসার ফলোআপের পরে লন্ডন থেকে আজ সকালে অর্থমন্ত্রী ঢাকায় ফিরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজকর্ম শুরু করেছেন।

কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
                                  

কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানি করার অনুমতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কেস-টু-কেস ভিত্তিতে এ চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদান করা হবে।

বুধবার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এবং আমদানি ও রপ্তানির প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এ সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ প্রদান ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক শিল্পমন্ত্রীর সভাপতিত্বে গঠিত টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্ত ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্ত এবং স্টেকহোল্ডারদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা প্রয়োজন।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানির অনুমতি প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।

প্রসঙ্গত, কাঁচা ও ওয়েট-ব্লু চামড়া রপ্তানিতে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণের পরিপ্রেক্ষিতে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে উল্লিখিত চামড়া রপ্তানির আবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রদানের লক্ষে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো, আমদানি-রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর, লেদার গুডস এন্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হাইড এন্ড স্কিন মার্চেন্টস এসোসিয়েশন এবং এফবিসিসিআই এর প্রতিনিধি রয়েছেন।

ঢাকায় সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে এমিরেটস
                                  

এমিরেটস এয়ারলাইনস ঢাকায় ফ্লাইট চলাচল বৃদ্ধি করেছে। আগামী ৩ আগস্ট থেকে প্রতি সপ্তাহে ঢাকা-দুবাই-ঢাকা রুটে ৬টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর ফলে যাত্রীরা দুবাইসহ এমিরেটসের অন্যান্য গন্তব্যে ভ্রমনে অধিক অপশন ও সুবিধাজনক সংযোগ  পাবেন। 

এয়ারলাইনসটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগস্ট মাসে এয়ারলাইনসের নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হচ্ছে; ২ আগস্ট নাইরোবি এবং ১০ আগস্ট বাগদাদ ও বসরায় পুনরায় ফ্লাইট শুরু হবে।  তখন এয়ারলাইনসের বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্কে মোট  গন্তব্যের  সংখ্যা দাঁড়াবে  ৬৭টি, যার মধ্যে ৫টি মধ্যপ্রাচ্যে এবং ৭টি আফ্রিকায়। 

দুবাই ও বাগদাদের  মধ্যে সপ্তাহে ৪টি, নাইরোবি ও দুবাই এবং বসরা ও দুবাইয়ের মধ্যে সপ্তাহে ৩টি করে ফ্লাইট চলাচল করবে। ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর উড়োজাহাজ। emirates.com বা ট্র্যাভেল এজেন্টের মাধ্যমে ফ্লাইট বুক করা যাবে।  

বিদেশ ভ্রমণেছ্ছু যাত্রীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এমিরেটস সম্প্রতি একটি অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে-  এমিরেটসে ভ্রমণকালে  কোনো যাত্রী কোভিড আক্রান্ত হলে তার চিকিৎসা ব্যয় এবং কোয়ারেন্টাইনের খরচ বহন করবে এয়ারলাইনস। বিস্তারিত www.emirates.com/COVID19assistance।

এছাড়াও যাত্রী ও এমপ্লয়িদের নিরাপত্তার জন্য  ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি যাত্রীকে বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে  হাইজিন কিট,  যাতে রয়েছে মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার ও ব্যাকটেরিয়ানাশক ওয়াইপস।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকার কারণে এমিরেটসে ভ্রমণকারীদের তাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে প্রবেশের জন্য নির্ধারিত শর্তাবলী পূরণ করতে হবে। 

সরকারের নির্দেশক্রমে বাংলাদেশ  থেকে বিদেশ ভ্রমণকারী প্রতিটি যাত্রীর জন্য কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফ্লাইট ত্যাগের ৭২ ঘণ্টা পূর্বে সরকার নির্ধারিত ১৬টি হাসপাতালের যে কোনো একটিতে পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল প্রদান করতে হবে।

দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৩৭.১০ বিলিয়ন ডলার
                                  

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সোমবার পর্যন্ত ৩৭.১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। দেশের ইতিহাসে যা এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ।

মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৩০ জুন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬.০১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে যেটি ছিল সর্বোচ্চ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সেটি পৌঁছেছে ৩৭.১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেকর্ডে। গত বছরের ৩০ জুন বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩২.৭১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত ১ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে রেমিট্যান্সের অন্তঃপ্রবাহ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস মহামারির চলমান সংকটের মধ্যেও প্রবাসী আয়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। জুলাই মাসের আরও দুইদিন বাকি থাকতেই পুরো জুন মাসের চেয়েও বেশি প্রবাসী আয় দেশে আসার রেকর্ড হয়েছে।

চলতি মাসের মাত্র ২৭ দিনেই ২.২৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশের ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এত পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি।

গত জুন মাসের পুরো সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১.৮৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৯ শতাংশ এবং মে মাসের চেয়ে প্রায় ২২ শতাংশ বেশি ছিল। এখন সেই রেকর্ড ভাঙল চলতি মাসের মাত্র ২৭ দিনেই।

প্রবাসী আয়ের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকার জন্য সরকারের সময়োপযোগী ২ শতাংশ নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।

কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে লবণের কোনো ঘাটতি নেই : বিসিক
                                  

কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণের জন্য দেশে লবণের কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।

মঙ্গলবার শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ১১ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন লবণ মজুদ রয়েছে। প্রতিবছর ঈদুল আজহায় দেশব্যাপী কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য কম-বেশি ১ লাখ মেট্রিক টন লবণের প্রয়োজন হয়।

প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর সংখ্যার বিপরীতে লবণের চাহিদা ছিল ৮১ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন। ফলে মজুদকৃত লবণ দিয়ে এবারের ঈদুল আজহার চাহিদা মিটিয়ে আরও ৭ থেকে ৮ মাসের লবণের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, আর মাত্র ৪ মাস পর অর্থাৎ নভেম্বর হতে লবণ উৎপাদনের নতুন মৌসুম শুরু হবে। ফলে দেশে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই বলে বিসিক জানিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এবারের ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন লবণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশের আটটি লবণ জোনে ১৮৬টি নিবন্ধিত লবণ মিলে পুরোদমে লবণ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় চারটি, নারায়ণগঞ্জে ৩৪টি, চাঁদপুরে দুটি, চট্টগ্রামে ৫৭টি, পটিয়ায় ৩৪টি, কক্সবাজারে ৩৫টি, খুলনায় আটটি এবং ঝালকাঠিতে ১২টি মিল চালু রয়েছে। চালু লবণ মিলগুলোর মাসিক গড় উৎপাদন ক্ষমতা তিন লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন হলেও বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মিলগুলো লবণ উৎপাদন করে থাকে।

ঈদুল আজহায় সার্বিক লবণ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য বিসিক আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে নিয়েছে জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, লবণ জোনগুলোতে অবস্থিত বিসিক কার্যালয়, আঞ্চলিক কার্যালয় এবং প্রধান কার্যালয়ে পৃথক কমিটি গঠন করে তিন স্তরবিশিষ্ট মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করেছে বিসিক। এসব কমিটি মাঠ পর্যায়ে লবণের মজুদ, চলাচল ও মূল্য সংক্রান্ত তথ্যাদি নিয়মিত সংগ্রহ করে লবণের সাপ্লাই চেইন নিরবচ্ছিন্ন রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এ উপলক্ষে বিসিক প্রধান কার্যালয়ে ইতোমধ্যে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।

লবণ সংক্রান্ত সার্বিক বিষয়ে তথ্যের জন্য ০২-৯৫৭৩৫০৫ ও ০১৯১১-৮৩৮২০০ নাম্বারে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া, শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিসিকের জেলা কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলার মার্কেটিং কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় জেলা ও উপজেলাভিত্তিক ডিলার ও পাইকারি লবণ বিক্রেতাদের মোবাইল নম্বরসহ তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ তালিকা ঈদের আগেই এতিমখানা, মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল-কলেজ, হাট-বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদসহ কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরবরাহ করা হবে। সুতরাং লবণ নিয়ে কোনো কারসাজির সাথে সুযোগ নেই বলে বিসিক মনে করে।

ইতিহাসের চূড়ায় সোনার দাম
                                  

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববাজারে যেন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সোনার দাম। বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছাড়িয়ে এবার বিশ্ববাজারেও নতুন রেকর্ড গড়ল সোনা। বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা, দ্বিতীয় দফায় বিশ্বজুড়ে করোনার ব্যাপক সংক্রমণ, ডলার ক্রম দুর্বল হওয়া এবং সুদের হার নিম্নমুখী থাকায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন বিনিয়োগকারীরা। তাই নিরাপদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন তাঁরা।

গতকাল সোমবার বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে হয় প্রতি আউন্স এক হাজার ৯৪৪.৭১ ডলার, যা ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ দাম ছিল ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৯২১.১৮ ডলার। গতকাল সোনার দাম বাড়ে ১.৬ শতাংশ। গত এক মাসে বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়েছে প্রায় ১০ শতাংশ, এক বছরে বেড়েছে ৩৬.২২ শতাংশ। সেই সঙ্গে বাড়ছে রুপার দামও। গত এক মাসেই রুপার দাম বেড়েছে ৩৬ শতাংশ।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়, মহামারির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেকটাই নিশ্চল হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় দেশটির সরকার বড় অঙ্কের অর্থ ধার করে প্রণোদনা দিচ্ছে। এতে ডলারের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন। যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে এ অর্থ পূরণ করতে হবে হয় কর বাড়িয়ে না হয় আরো ডলার মুদ্রণ করে। কিন্তু এতে মূল্যস্ফীতি বাড়বে ব্যাপকভাবে। এসব কারণে সোনার চেয়ে ডলারনির্ভর সম্পদের মূল্য কমছে। ফলে আন্তর্জাতিক অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে কমছে ডলারের দাম। বিপরীতে শক্তিশালী হচ্ছে সোনা।

বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান গোল্ডম্যান স্যাকস এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ১২ মাসের মধ্যেই সোনার দাম প্রতি আউন্স দুই হাজার ডলারে উঠে আসবে। এমনকি উন্নত দেশগুলো করোনা থেকে সেরে উঠলেও সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে নিম্ন সুদের হার এবং ডলারসহ আন্তর্জাতিক মুদ্রাগুলোর অবমূল্যায়নের কারণে।

সোনার বাজার বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেটাল ফোকাস জানায়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণেই সোনার বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। লকডাউনের কারণে বিশ্বে সোনার দুই বড় বাজার চীন ও ভারতে কমেছে অলংকার বিক্রি। কিন্তু অস্থির এ সময়ে নিরাপদ হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন পশ্চিমা ব্যবসায়ীরা। সে কারণেই দাম বাড়ছে। অ্যাক্সিকর্পের প্রধান বৈশ্বিক বাজার বিশ্লেষক স্টেফেন ইনেস বলেন, ‘ডলার দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দেশে অর্থনীতি বাঁচাতে আরো প্রণোদনার দাবি তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সংগত কারণেই সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।’

এদিকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি সোনার মজুদ বাড়াচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণেও অনেক দেশ সোনা মজুদ করছে যেকোনো সংকটে ব্যবহার করার জন্য। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল জানায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ১৪৮ টন সোনা ক্রয় করে তুরস্ক রিজার্ভ হিসেবে সোনার সবচেয়ে বড় ক্রেতা দেশে পরিণত হয়েছে। এর আগে সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল রাশিয়া। সম্প্রতি হংকং ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক আদেশে চীনের ব্যাংকগুলোর ডলার ক্রয় আটকে দিয়েছেন। তাই সোনায় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে চীনও। মেটাল ফোকাস জানায়, এ বছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ৩৫০ টন সোনা ক্রয় করবে।

করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে বাংলাদেশেও দফায় দফায় বাড়ছে সোনার দাম। দেশে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বর্তমানে ৭২ হাজার ৭৮৩ টাকা। যা এ দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। 

সূত্র : লাইভমিন্ট, ফোর্বস ম্যাগাজিন, রয়টার্স।

৪২৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে নিল বিশ্বব্যাংক
                                  

বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে ‘ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিসি)  প্রকল্প থেকে ৫ কোটি ডলার বা ৪২৫ কোটি টাকা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিশ্বব্যাংক। তবে প্রকল্পের মেয়াদ আরও দুই বছর বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে তারা। এ ছাড়া বিভিন্ন কারণে সংশোধন করা হচ্ছে প্রকল্পটি। ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাব আজ উঠতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে ধীরগতির প্রকল্পের অর্থ সহায়তা কেটে সেটি ব্যয় করা হচ্ছে রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় জনগণের উন্নয়নে।

প্রল্পটির শুরু থেকে গত ৫ বছরে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৩২২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এতে আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ২৩ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ১৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এ কারণে প্রকল্পটি থেকে অর্থ প্রত্যাহার করা হয়েছে। সূত্র জানায়, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের ৭টি জেলার ৪৩টি উপজেলায় উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প ‘যতœ’ বিস্তৃত। আর এ যতœ থেকেই বিশ্বব্যাংক ৫ কোটি ডলার প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে প্রতিশ্রুত এই অর্থ কেটে নেওয়ায় প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং সুবিধাভোগীর লক্ষ্যমাত্রা (৬ লাখ) অর্জন ব্যাহত হবে না বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, দেশের মধ্যে দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা এবং মায়েদের সুনির্দিষ্ট সেবাগ্রহণের পরিপ্রেক্ষিতে নগদ অর্থ প্রদান এবং শিশুপুষ্টি ও সচেতনতা বৃদ্ধিসহ স্থানীয় পর্যায়ে সেফটি নেট প্রোগ্রামে সহায়তা বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। মূল প্রকল্পটি ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন শেষ না হওয়ায় এখন আরও দুই বছর সময় বাড়ানো হচ্ছে। নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ছে। সেইসঙ্গে প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩৭৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা এবং বিশ্বব্যাংকের সহজ শর্তের ঋণ থেকে ২ হাজার ৩৪০ কোটি টাকা থেকে ব্যয় করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে প্রথম সংশোধনীতে কোনো ব্যয় না বাড়লেও দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২ হাজার ৪৪১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এবার তৃতীয় সংশোধনী প্রস্তাবে ৪৬০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা কমিয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১ হাজার ৯৮০ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে ব্যয় কমছে ১৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। 

সূত্র জানায়, তিনটি কম্পোনেন্টে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রথম কম্পোনেন্টের আওতায় সুফলভোগীদের মাঝে নগদ অর্থ দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চারবার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে এক হাজার টাকা দেওয়া হয়। শূন্য থেকে ২৪ মাস বয়সী শিশুদের প্রতিমাসে গ্রোথ পরীক্ষার পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবার নগদ ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয়। এরপর ২৫-৬০ মাস বয়সী শিশুদের প্রতি তিন মাস অন্তর গ্রোথ পরীক্ষার পর প্রতিবার দেড় হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া অন্তঃসত্ত্বা নারী ও মায়েদের জন্য প্রতিমাসে শিশুপুষ্টি ও উন্নত শিক্ষাসংক্রান্ত কর্মশালায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিবার ৭০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

দ্বিতীয় কম্পোনেন্টের আওতায় সুফলভোগীদের মনিটরিং করতে ইউনিয়ন পরিষদের দক্ষতা উন্নয়ন, মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের দক্ষতা উন্নয়ন, পোস্টাল ক্যাশ ট্রান্সফারের জন্য ইউনিয়ন পোস্ট অফিসের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে সেফটি নেট সেল প্রতিষ্ঠা করা। এ ছাড়া তৃতীয় কম্পোনেন্টের আওতায় এমআইএস সিস্টেম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সুফলভোগীদের মনিটরিং, তাদের ২ বছর অন্তর মূল্যায়ন এবং খানা জরিপের ভিত্তিতে প্রভাব মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে।

১৬ দিনেই ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে
                                  

চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এ প্রবাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামনে ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। তাই বেশি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা। রেমিট্যান্স প্রবাহের এ ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাই মাস শেষে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয় আসতে পারে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৬ দিনে ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা (প্রতি ডলারের বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে)। 

এ ধারা অব্যাহত থাকলে একক মাস হিসেবে চলতি মাসে রেমিট্যান্স আহরণ ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যা হতে পারে একক মাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রবাসী আয়। 

এর আগে চলতি বছরের জুনে একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ করে বাংলাদেশ। ওই সময় রেমিট্যান্স এসেছে ১৮৩ কোটি ২৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার বেশি। 

এর আগে একক মাসে সর্বোচ্চ ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্সের রেকর্ড ছিল ২০১৯ সালের মে মাসে। 

গত ২০১৯-২০ অর্থবছর শেষে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৮২০ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে রেমিট্যান্স আহরণে রেকর্ড হয়। ওই সময়ে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬৪২ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। 

এই হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণ বেড়েছে ১৭৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার বা ১৫ হাজার কোটি টাকা। 

চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ঘোষণা দিয়েছিলেন, গত অর্থবছরের মতো চলতি অর্থবছরেও বৈধপথে রেমিট্যান্স বাড়াতে এ খাতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেয়া হবে। এ কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে।

ওই সময় অর্থমন্ত্রী আরও বলেছিলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ, নতুন নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ
                                  

কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রবিবার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত জুম প্ল্যাটফর্ম সভায় এ কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

তিনি বলেন, ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। গত বছর যা ছিল ৪৫-৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে গত বছর যা ছিলো ৩৫-৪০ টাকা। গরুর চামড়ার ক্ষেত্রে গত বছরের চেয়ে দাম কমানো হয়েছে ২৯ শতাংশ।

বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, সারা দেশে খাসির চামড়া ১৩-১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর যা ছিলো ১৮-২০ টাকা। পাশাপাশি বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা, যা গত বছর ছিল ১৩-১৫ টাকা।

তিনি বলেন, কাঁচা চামড়া পরিবহনে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় এজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

টিপু মুনশি বলেন, এবারও যদি চামড়ার দামে সমস্যা দেখা যায় তাহলে কাঁচা চামড়া ও ওয়েট-ব্লু লেদার বা আংশিক প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হবে।

পশুর হাটে জালনোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ
                                  

কোরবানির পশুর হাটে জালনোট প্রচলন চক্রের অপতৎপরতা প্রতিরোধে জালনোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে রাজধানীর ১৮ পশুর হাটে ১৯ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নামের তালিকা আজ রোববারের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতি বছরই অসাধু চক্র জালনোট প্রচলনের অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকে। এসব প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বস্ব হারান নিরীহ পশুব্যবসায়ী ও খামারিরা। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে এসব অসাধু চক্রের সদস্যরা ধরাও পড়ছে। তারপরও থেমে নেই জালনোট প্রচলন।

রাজধানীসহ কোরবানির পশুর হাটে জালনোট জালিয়াতি চক্রের অপতৎপরতা বন্ধে তাই উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতি বছরের মতো এবারো রাজধানীসহ সারা দেশের পশুর হাটগুলোতে জালনোট যাচাই-বাছাই করতে একাধিক জালনোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ জন্য রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন মনোনীত ১৮ পশুর হাটে ১৯টি ব্যাংকের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সাথে সারা দেশে অন্য হাটগুলোতে জালনোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিসগুলোর আওতাধীন ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। যেসব এলাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিসের বাইরে থাকবে ওই সব এলাকায় তদারকি করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সোনালী ব্যাংককে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অনুমোদিত এবার পশুর হাট রয়েছে ১৮টি। এসব হাটে জালনোট শনাক্তকরণ মেশিনের সহায়তায় অভিজ্ঞ ক্যাশ কর্মকর্তাদের দ্বারা হাট শুরুর দিন থেকে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিরতিহীনভাবে পশুব্যবসায়ীদের বিনা খরচে নোট যাচাই সংক্রান্ত সেবা প্রদান করতে হবে। এ জন্য ১৯ ব্যাংককে মনোনীত করা হয়েছে। এসব হাটে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের জন্য তালিকাভুক্ত ১৯ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের পদবিসহ নামের তালিকা আজ রোববারের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপর দিকে ঢাকার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস রয়েছে ওইসব অফিসের নেতৃত্বে গৃহীত অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর যেসব জেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিস নেই ওইসব জেলায় সোনালী ব্যাংকের নেতৃত্বে ব্যাংকগুলোকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পশুর হাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংকগুলোর ‘নোট শনাক্তকরণ করা হয়’ এমন ব্যানার টাঙাতে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

পশুব্যবসায়ীদের জালনোট শনাক্তে রাজধানীর ১৮ পশুর হাটে দায়িত্বে থাকবেন ১৯ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটির ৬ পশুর হাটে থাকবেন ৭ ব্যাংক এবং ঢাকা দক্ষিণ ১২ পশুর হাটে থাকবেন ১২ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। উত্তরের ৬ পশুর হাটের মধ্যে গাবতলী পশুর হাটে জালনোট শনাক্তকরণের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংককে। উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন থেকে বিজিএমইএ ভবন ও মেট্রোরেলের খালি জায়গায় পশুর হাটে দায়িত্ব থাকবে সোনালী ব্যাংকের। কাওলা শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গায় পশুর হাটে ইসলামী ব্যাংক (আইবিবিএল), ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনী বাজারমুখী রাস্তার উভয় পাশের খালি জায়গায় পশুর হাটে থাকবে ডাচ বাংলা ব্যাংক, ভাটারা পশুর হাটে জনতা ব্যাংক ও উত্তর খান মৈনারটেক হাউজিং প্রকল্পের খালি জায়গার পশুরহাটে থাকবে রূপালী ব্যাংক।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি পশুর হাটে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও সাউথইস্ট ব্যাংককে।


   Page 1 of 115
     অর্থ-বাণিজ্য
সুশাসন নিশ্চিতের শর্তে বাজেটে অর্থায়ন করবে বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
বাংলাদেশের যে ৮টি রুটে পন্য পরিবহন করবে ইন্ডিয়া
.............................................................................................
২০২০-২১ অর্থবছরের পাট ও পাটজাত দ্রব্য থেকে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি
.............................................................................................
বাংলাদেশকে করোনাভাইরাস মোকবেলায় এডিবি’র ৩০ লাখ ডলারের অনুদান
.............................................................................................
আবারো দেশের বাজারে বাড়লো সোনার দাম
.............................................................................................
সহজ শর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে জাপান
.............................................................................................
জুলাইয়ে রেকর্ড ২.৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে প্রবাসীরা
.............................................................................................
কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত নিলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
ঢাকায় সপ্তাহে ছয়টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে এমিরেটস
.............................................................................................
দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ৩৭.১০ বিলিয়ন ডলার
.............................................................................................
কোরবানির চামড়া সংরক্ষণে লবণের কোনো ঘাটতি নেই : বিসিক
.............................................................................................
ইতিহাসের চূড়ায় সোনার দাম
.............................................................................................
৪২৫ কোটি টাকা ফিরিয়ে নিল বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
১৬ দিনেই ১৩৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে
.............................................................................................
কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ
.............................................................................................
পশুর হাটে জালনোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ
.............................................................................................
টিকেটের মূল্য ছাড়েও যাত্রী নেই আকাশপথে
.............................................................................................
ছাগলের দাম দুই লাখ!
.............................................................................................
আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার শুরু করলো ভারত
.............................................................................................
ছুটি তিন দিন, পোশাকশ্রমিকদের বাড়ি যেতে মানা
.............................................................................................
২৫ জুলাইয়ের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন বোনাস পরিশোধের আহ্বান শ্রম প্রতিমন্ত্রীর
.............................................................................................
কোরবানি ঘিরে মসলার বাজারে বাড়ছে উত্তাপ
.............................................................................................
ভারত থেকে আসলো ৩৮০ টন শুকনো মরিচ
.............................................................................................
মহামারীর স্থবিরতা শিগগির কাটছে না
.............................................................................................
চামড়া শিল্পে খেলাপিদের বড় ছাড়
.............................................................................................
৩৬ বিলিয়ন ডলার করোনাকালেও রিজার্ভে রেকর্ড
.............................................................................................
আলু রপ্তানিতে পাকিস্তান ভারত চীনকে টপকাল বাংলাদেশ
.............................................................................................
মিরসরাইয়ে কোরবানীকে ঘিরে ৪০ হাজার পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা
.............................................................................................
বকেয়া বেতনের দাবিতে আশুলিয়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থান
.............................................................................................
আম রফতানি করে বছরে শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব
.............................................................................................
মোবাইল ফোনে কথা বলায় বর্ধিত কর প্রত্যাহার হচ্ছে
.............................................................................................
অবসরে পাঠানো হচ্ছে সরকারি পাটকল শ্রমিকদের
.............................................................................................
ঢাকা-বেইজিং বাণিজ্য যোগাযোগ বাড়ানো হবে: চীনা রাষ্ট্রদূত
.............................................................................................
বাংলাদেশে কোটিপতির সংখ্যা ৮৪ হাজার
.............................................................................................
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
.............................................................................................
তিন মাস মিটার বন্ধ, বিল এসেছে আগের মতোই!
.............................................................................................
চাকরির সুযোগ সৃষ্টিতে ২১২২ কোটি টাকা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
পোশাক কারখানায় ৪১৭ শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত, ৫ জনের মৃত্যু
.............................................................................................
আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও নগদ জমার হার কমলো
.............................................................................................
সরকারের কোষাগারে ১৬ হাজার ৪৬ কোটি টাকা জমা ১০ প্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক
.............................................................................................
বাংলাদেশের শুল্ক পণ্যের ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিল চীন
.............................................................................................
এবার বেতন কমলো এসআলম গ্রুপের ব্যাংক এআইবিএলের
.............................................................................................
টেক্সটাইলের ১৭০০ কোটি টাকা আটকা পোশাক রফতানিকারকদের কাছে
.............................................................................................
সিটি ব্যাংকে বেতন কমছে ১৬ শতাংশ
.............................................................................................
অতিরিক্ত টাকা কাটছে সিম অপারেটরগুলো
.............................................................................................
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়বে
.............................................................................................
আগামী অর্থবছরে জাতীয় সংসদের জন্য ৩৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বাজেট
.............................................................................................
৭৫ দিন পর হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি শুরু
.............................................................................................
ছয় বছরের ব্যবধানে বাজেটে বিদেশী ঋণ সহায়তা নির্ভরতা সাড়ে ৭ গুণ বৃদ্ধি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
সম্পাদক মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী

সম্পাদক কর্তৃক ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন,
ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।
প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ইউরোপ মহাদেশ বিষয়ক সম্পাদক- প্রফেসর জাকি মোস্তফা (টুটুল)
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ৩৭/২, ফায়েনাজ অ্যাপার্টমেন্ট (১৫ম তলা), কালভার্ট রোড, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০।
ফোন : ০২-৯৫৬২৮৯৯ মোবাইল: ০১৬৭০-২৮৯২৮০
ই-মেইল : swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD