বৃহস্পতিবার , ১৬ রবিঃ আউয়াল ১৪৪১ | ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
২০০ টাকা ছাড়ালো পেঁয়াজের কেজি

ঈশ্বরদীর খুচরা বাজারে আজ বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা। বুধবার পাইকারি আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার দাম বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে।

খুচরা বাজারে বুধবার পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৬০ টাকা। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হলেও বেলা ১২টার দিকে দাম কেজিতে ১০ বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে। অর্থাত্ ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মণ প্রতি ৪০০ টাকা বেড়ে গেছে।

ঈশ্বরদীর বাজারে বিদেশ হতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আড়তদার শহীদ জানান, যেসব পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে সেগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে আসছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজের মজুদও প্রায় শেষ। ঘূর্ণিঝড়ে পেঁয়াজ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর এক লাফে দাম বেড়ে যাওয়াটা ব্যবসায়ীদের নতুন আরেকটি অজুহাত মাত্র। যথাযথ নজরদারির অভাবে প্রশ্রয় পেয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ প্রচুর থাকলেও মোকামে ঘাটতি কথা বলে এই চক্র সকল ধরনের পেঁয়াজ পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এ মৌসুমে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসছে না পেঁয়াজের দাম।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব রায়হান বলেন, পেঁয়াজের দাম সারা দেশেই উর্দ্ধমূখি। এ বিষয়ে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

২০০ টাকা ছাড়ালো পেঁয়াজের কেজি
                                  

ঈশ্বরদীর খুচরা বাজারে আজ বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা। বুধবার পাইকারি আড়তগুলোতে দেশি পেঁয়াজ ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার দাম বেড়ে ১৮০ টাকা হয়েছে।

খুচরা বাজারে বুধবার পেঁয়াজের কেজি ছিল ১৬০ টাকা। এদিকে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে পাইকারি আড়তে পেঁয়াজের কেজি ১৮০ টাকা বিক্রি হলেও বেলা ১২টার দিকে দাম কেজিতে ১০ বেড়ে ১৯০ টাকা হয়েছে। অর্থাত্ ৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মণ প্রতি ৪০০ টাকা বেড়ে গেছে।

ঈশ্বরদীর বাজারে বিদেশ হতে আমদানিকৃত পেঁয়াজ দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আড়তদার শহীদ জানান, যেসব পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে সেগুলো ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে আসছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজের মজুদও প্রায় শেষ। ঘূর্ণিঝড়ে পেঁয়াজ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। তাই দাম বেড়েছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের পর এক লাফে দাম বেড়ে যাওয়াটা ব্যবসায়ীদের নতুন আরেকটি অজুহাত মাত্র। যথাযথ নজরদারির অভাবে প্রশ্রয় পেয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ প্রচুর থাকলেও মোকামে ঘাটতি কথা বলে এই চক্র সকল ধরনের পেঁয়াজ পাইকারি ও খুচরা বাজারে কেজিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে এ মৌসুমে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসছে না পেঁয়াজের দাম।

এ ব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিহাব রায়হান বলেন, পেঁয়াজের দাম সারা দেশেই উর্দ্ধমূখি। এ বিষয়ে আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছি। মোবাইল কোর্ট অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

চলতি মৌসুমে ১০ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী
                                  

 চলতি ২০১৯-২০ মৌসুমে সরকার ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান ও চাল সংগ্রহ করবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী একথা জানান। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে আসন্ন অভ্যন্তরীণ আমন সংগ্রহ ২০১৯-২০ মৌসুমে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ও আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৫০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংগ্রহের জন্য প্রতিকেজি ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ টাকা, সিদ্ধ চালের মূল্য প্রতিকেজি ৩৬ টাকা ও আতপ চালের মূল্য প্রতিকেজি ৩৫ টাকা। আওয়ামী লীগের আরেক সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে খাদ্যশস্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে গত ১০ বছরে জাতীয় বাজেটে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। বিগত দশ বছরে বরাদ্দ অর্থ দিয়ে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং বিদেশ থেকে আমদানির মাধ্যমে চাল ও গম সংগ্রহ করা হয়েছে।

পেঁয়াজের দাম চড়া থাকবে আরও কয়েক মাস
                                  

 দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির পক্ষে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে মন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মো. আছলাম হোসেন সওদাগারের এক প্রশ্নের উত্তরে শিল্পমন্ত্রী একথা জানান। বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত না থাকায় তার পক্ষে উত্তর দেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, বন্যার কারণে হঠাৎ করে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। ফলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের বাজার গরম হয়ে যায়। তবে অতিসত্তর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। আমরা মিয়ানমার ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছি। ভারতের সঙ্গে এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলা শুরু হয়েছে। পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। যাতে কেউ বেশি দামে বিক্রি করতে না পারে। আর কয়েক মাসের মধ্যেই পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।

জেলা-উপজেলা পর্যায়ে মোবাইল টিম কাজ করছে। এদিকে বিএনপির সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা পোশাকখাতে অটোমেশনের কারণে চাকরি চলে যাওয়ায় যে বেকারত্ব তৈরি হচ্ছে, সেটা ঠেকাতে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান। সেটির জবাবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমরা ডাইভারসিফিকেশনে যাচ্ছি। সারাদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছি। আধুনিক এই শিল্পায়নের যুগে অটোমেশন তো হবেই। সেইসঙ্গে নতুন নতুন কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে। এটা কোনো সমস্যা না। কেউ বেকার হবে না। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

সারাদেশে আয়কর মেলা শুরু হচ্ছে কাল
                                  

 করসেবা প্রদান ও কর সচেতনতা বাড়াতে দশমবারের মত সারাদেশব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে মেলা শুরু হবে।

রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরে সপ্তাহব্যাপী মেলা চলবে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত। রাজধানীর মেলা হবে মিন্টো রোডের অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে। এ ছাড়া সব জেলা শহরে চার দিন এবং ৪৮টি উপজেলায় দুই দিন মেলা হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে ৮টি গ্রোথ সেন্টারে এক দিন ভ্রাম্যমাণ মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এবারের মেলার শ্লোগান হচ্ছে ‘সবাই মিলে দেব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর’ এবং প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘কর প্রদানে স্বতঃস্ফ’র্ত অংশগ্রহণ, নিশ্চিত হোক রুপকল্প বাস্তবায়ন’। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা রাজস্ব ভবন সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূইয়া এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত করদাতারা এবারের মেলায়ও আয়কর বিবরণীর ফরম দাখিল থেকে শুরু করে কর পরিশোধের জন্য ব্যাংক বুথ পাবেন। তাঁদের জন্য মেলায় সহায়তাকেন্দ্রে অপেক্ষা করবেন কর কর্মকর্তারা। একই ছাদের নিচে সব সেবা মিলবে। করদাতা শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনলেই হবে। তিনি জানান, মেলায় ই-টিআইএন নিবন্ধন ও আয়কর বিবরণী গ্রহণ,কর পরিশোধ,আয়কর বিবরণী পূরণে সহায়তা এবং কর শিক্ষা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে। চেয়ারম্যান বলেন, কর-রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে আয়কর মেলা অনুপ্রেরণামূলক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে করদাতারা উৎসবমূখর পরিবেশে আয়কর বিবরণী দাখিল ও কর পরিশোধ করতে পারেন। তাই প্রতিবছর মেলার পরিধি বিস্তৃত হচ্ছে। করদাতাদের সুবিধার্তে এবারের মেলায় কর সংক্রান্ত সকল তথ্য সম্বলিত একটি ওয়েবসাইট এবং কর পরিশোধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে বলে তিনি জানান। ওয়েবসাইট থেকে আয়কর বিবরণী ফরম ও চালান ফরম ডাউনলোড করার পাশাপাশি সব ধরনের নিদের্শিকা পাওয়া যাবে। তাই করমেলার ন্যায় অধিকাংশ সুবিধা ঘরে বসেই ভোগ করতে পারবেন করদাতারা।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মোশাররফ হোসেন বলেন, যারা বেশি আয়কর দেন, তারা যেন স্বচ্ছতার সাথে সেটি পরিশোধ করেন, এজন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। যেসব একাউন্টিং ফার্ম তাদের করের হিসাব করেন, সেসব ফার্মের হিসাব কার্যক্রম অডিট করা হবে। যদি কোন ফার্ম হিসাবের ক্ষেত্রে অনিয়ম করেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, চলতি করবর্ষে ৩০ লাখ আয়কর বিবরণী দাখিল হবে বলে প্রত্যাশা করছে এনবিআর। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে, যা আগামী দিনে রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে বলে জানান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়।

ওইসব হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও নথি পাওয়া গেছে, যা আগামী দিনে রাজস্ব বাড়াতে সহায়তা করবে। তবে যেসব তথ্য পেয়েছি তা জনসমক্ষে বলতে চাচ্ছি না। দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে চার কোটি মানুষ সামর্থ্যবান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সামর্থ্যবানদে মধ্যে আয়কর দেন সব মিলিয়ে এক কোটি লোক। আমরা এটি বাড়াতে চাচ্ছি। আগামীতে আয়কর থেকে রাজস্ব আহরণ ৪০ শতাংশ করতে চাই, এ লক্ষ্যেই কাজ করছি। মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, জর্দা ব্যবসায়ী গাউস মিয়া প্রতিবছর সেরা করদাতা হন। এটি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কেউ কর দিয়ে সেরা করদাতা হতেই পারেন। তবে আগামীতে এসব বিষয়ে আরও বেশি যাচাই-বাছাই করা হবে। আয়কর বিবরণী প্রস্তুতকারী অ্যাকাউন্টিং ফার্মগুলোকে শাস্তির আনা হবে উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আয়কর বিবরণী স্বচ্ছতা বাড়াতে অ্যাকাউন্টিং ফার্মগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে কাজ করছি। আগামীতে যেসব ফার্ম কোম্পানি রিপোর্টিংয়ে অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, এবারের মেলাও বরাবরের মত নতুন করদাতারা ইলেকট্রনিক কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতে পারবেন। আবার পুনঃনিবন্ধন করে ই-টিআইএন নিতে পারবেন পুরনো করদাতারা। এ ছাড়া মেলায় ই-পেমেন্টের জন্য পৃথক বুথ থাকবে। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য থাকবে আলাদা বুথ। এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জাতীয়ভাবে সেরা করদাতাগণকে ট্যাক্স কার্ড ও সম্মাননা প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া যায়।

 

সংসদে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন
                                  

বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিল, ২০১৯ এর ওপর যুব ওক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির রিপোর্ট সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব রিপোর্টটি উপস্থাপন করেন।

রিপোর্টে বিলটি সংশোধিত আকারে পাসের সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধ্যাদেশ ১৯৮৩ রহিত করে সময়োপযোগী আইন পুনঃপ্রণয়ন করতে প্রয়োজনীয় বিধানের প্রস্তাব করে গত ১২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল বিলটি উত্থাপন করেন। বিলে বিদ্যমান অধ্যাদেশের অধীন প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তাবিত আইনের অধীন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে বিধানে প্রস্তাব করা হয়। এর প্রধান কার্যালয় ঢাকা জেলার সাভার উপজেলায় স্থাপন করা হবে। তবে প্রতিষ্ঠান ও সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে দেশের যে কোন স্থানে এর আঞ্চলিক বা শাখা কার্যালয় অথবা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা যাবে।

বিলে ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এর প্রশাসন পরিচলনার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রীকে চেয়ারম্যান করে ২২ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড গঠনের প্রস্তাব করা হয়। বিলে প্রতিষ্ঠানের কার‌্যাবলি, পরিচালনা বোর্ডের সভা, বোর্ডের ক্ষমতা, মহাপরিচালক নিয়োগ, কর্মচারী নিয়োগ, কমিটি গঠন, ক্ষমতা অর্পণ, তহবিল,বাজেট প্রণয়ন, বিধি-প্রবিধি প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিলে মোট ৪২টি দেশীয় খেলাধুলাকে তফসিলে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

 

msm‡` evsjv‡`k µxov wk¶v cÖwZôvb we‡ji wi‡cvU© Dc¯’vcb

GdGbGm: evsjv‡`k µxov wk¶v cÖwZôvb wej, 2019 Gi Ici hye Iµxov gš¿Yvjq m¤úwK©Z msm`xq ¯’vqx KwgwUi wi‡cvU© msm‡` Dc¯’vcb Kiv n‡q‡Q| MZKvj †mvgevi KwgwUi mfvcwZ Ave`yjøvn Avj Bmjvg R¨vKe wi‡cvU©wU Dc¯’vcb K‡ib| wi‡cv‡U© wejwU ms‡kvwaZ AvKv‡i cv‡mi mycvwik Kiv nq| evsjv‡`k µxov wk¶v cÖwZôvb Aa¨v‡`k 1983 iwnZ K‡i mg‡qvc‡hvMx AvBb cybtcÖYqb Ki‡Z cÖ‡qvRbxq weav‡bi cÖ¯Íve K‡i MZ 12 †m‡Þ¤^i hye I µxov cÖwZgš¿x Rvwn` Avnmvb iv‡mj wejwU DÌvcb K‡ib| we‡j we`¨gvb Aa¨v‡`‡ki Aaxb cÖwZwôZ evsjv‡`k µxov wk¶v cÖwZôvb cÖ¯ÍvweZ AvB‡bi Aaxb cÖwZwôZ n‡q‡Q e‡j weav‡b cÖ¯Íve Kiv nq| Gi cÖavb Kvh©vjq XvKv †Rjvi mvfvi Dc‡Rjvq ¯’vcb Kiv n‡e| Z‡e cÖwZôvb I miKv‡ii c~e©vby‡gv`bµ‡g †`‡ki †h †Kvb ¯’v‡b Gi AvÂwjK ev kvLv Kvh©vjq A_ev cÖwk¶Y †K›`ª ¯’vcb Kiv hv‡e| we‡j µxov wk¶v cÖwZôvb I Gi cÖkvmb cwiPjbvi Rb¨ hye I µxov gš¿Yvj‡qi fvicÖvß gš¿x‡K †Pqvig¨vb K‡i 22 m`‡m¨i cwiPvjbv †evW© MV‡bi cÖ¯Íve Kiv nq| we‡j cÖwZôv‡bi Kvi¨vewj, cwiPvjbv †ev‡W©i mfv, †ev‡W©i ¶gZv, gnvcwiPvjK wb‡qvM, Kg©Pvix wb‡qvM, KwgwU MVb, ¶gZv Ac©Y, Znwej,ev‡RU cÖYqb, wewa-cÖwewa cÖYq‡bi ¶gZvmn mswkøó wel‡q weav‡bi cÖ¯Íve Kiv n‡q‡Q| we‡j †gvU 42wU †`kxq †Ljvayjv‡K Zdwm‡j AšÍf©~³ Kivi cÖ¯Íve Kiv n‡q‡Q|

 

 

অধিকাংশ চিনিকলের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ: শিল্পমন্ত্রী
                                  

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের আওতাধীন ১৫টি চিনিকলের মধ্যে অধিকাংশের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এসব চিনিকল পর্যায়ক্রমে সুষমকরণ, আধুনিকীকরণ ও প্রতিস্থাপন (বিএমআর) প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিএমআর অব কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বিডি লিমিটেডের (১ম সংশোধিত) প্রকল্পটি বাস্তবায়নধীন। গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদে শফিকুল ইসলাম শিমুলের (নাটোর-২) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, সারা বছর চিনিকল চালু রাখার লক্ষ্যে ও মৌসুমি ‘র’ সুগার আমদানিপূর্বক হোয়াইট সুগার উৎপাদনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নাটোর জেলায় অবস্থিত নর্থ বেঙ্গল চিনিকলে কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে অমৌসুমে বিদ্যুৎ ও হোয়াইট সুগার উৎপাদনের জন্য একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন। কলেবর বৃদ্ধি করে চিনিকলের উপজাত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পটিকে ডিস্টিলারি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর কারখানার চিনি আহরণ বৃদ্ধি পাবে, চিনির গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে, চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে এবং উপজাতভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে চিনিকলের আয় বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী বলেন, দেশে সুগার বিট হতে চিনি উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক একটি পাইলট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় উৎপাদিত সুগারবিট হতে পরীক্ষামূলকভাবে চিনি উৎপাদনে যান্ত্রিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ‘ঠাকুরগাঁও চিনিকলের পুরাতন যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন এবং সুগার বিট থেকে চিনি উৎপাদনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজন (১ম সংশোধিত) শীর্ষক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া কলেবর বৃদ্ধি করে কো-জেনারেশন পদ্ধতিতে ও অমৌসুমীর বিদ্যুৎ ও আমদানিকৃত হোয়াইট সুগার উৎপাদন এবং চিনিকলের উপজাত ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পটিতে ডিস্টিলারি বায়োগ্যাস ও বায়ো কম্পোস্ট অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর কারখানার চিনি আহরণ হার বৃদ্ধি পাবে, চিনির গুণগতমান বৃদ্ধি পাবে, চিনি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং উপজাত ভিত্তিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে চিনিকলটি আয় বৃদ্ধি পাবে। চৌদ্দটি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। যা বাস্তবায়িত হলে মিলজোন এলাকা পরিবেশবান্ধব হবে। আয় বৃদ্ধির জন্য চিনিকল সমূহের উপজাত প্রেসমাড এবং ডিস্ট্রিলারি উপজাত স্টেন্টওয়াস ব্যবহার করে কেরু এ- কোম্পানি উপজাতভিত্তিক বায়োফার্টিলাইজার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বায়োফার্টিলাইজার উৎপাদন ও বিপণন চলমান। এছাড়াও ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অনুমোদিত প্রকল্প হিসেবে দু`টি প্রকল্প হিসেবে প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা আছে।

এগুলোর ১৩টি চিনিকলে পুরাতন সেন্টিফিউগাল মেশিন, জুস ক্লারিফায়ার এবং রোটারি ভ্যাকুয়াম ফিল্টার এর জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপন। রাজশাহী চিনিকলে ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বোতলজাতকরণ এবং পাল্প প্ল্যান্ট স্থাপন। ৫টি চিনিকলে সুগার রিফাইনারি স্থাপন শীর্ষক ৩টি প্রকল্প সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত আছে।

পেঁয়াজের দাম বেশি নেয়ায় চার ব্যবসায়ীকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
                                  

মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি ও কারসাজির অপরাধে চার পাইকারি ব্যবসায়ীকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর পুরান ঢাকার শ্যামবাজারে অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার তদারকি টিম। অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আবদুল জব্বার ম-ল।

এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয় ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরা সার্বিক সহযোগিতা করেন। আবদুল জব্বার ম-ল বলেন, পুরান ঢাকার শ্যামবাজারের পাইকারি পেঁয়াজের আড়তদারদের মালিক সমিতি আমদানি করা পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে। সমিতির বেধে দেয়া দাম অনুযায়ী তুরস্ক, মিশর এবং চীন থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যাবে। মিয়ানমারের পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ৮০-৮৫ টাকা কেজি দরে বেচা যাবে। কিন্তু বেশকিছু আড়ত নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। তারা দাম নিয়ে কারসাজি করতে আইন অনুযায়ী মূল্য তালিকা প্রদর্শন করেনি।

এসব অপরাধে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে নগর বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকা, আমানত ভান্ডারকে ২০ হাজার টাকা, নিউ বাণিজ্যালয়কে ২০ হাজার টাকা এবং নির্ধারিত মূল্য অপেক্ষা অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির অপরাধে আলহাজ বানিজ্যালয়কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও বলেন, পেঁয়াজের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মিত বাজার অভিযান করা হচ্ছে। কিছুকিছু ব্যবসায়ী অনৈতিকভাবে পেঁয়াজের মূল্য বাড়াচ্ছে, তাদেরকে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করছি। ভবিষ্যতে তারা এ ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে।

 

বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার আহ্বান বিডা চেয়ারম্যানের
                                  

দেশে বেশি বিনিয়োগ আসলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ কর্মসংস্থান ও মাছাপিছু আয় বাড়বে। এজন্য উন্নত দেশ বিনির্মাণে সবাইকে বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম।

গতকাল বুধবার ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা সহজে ব্যবসা করার সূচকে উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য অভিনন্দন জানাতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে এ আহ্বান জানান তিনি। সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের আরও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান দরকার। সে সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সবার মাথাপিছু রোজগারও বাড়াতে হবে। এসব কিছু তখনই সম্ভব, যখন দেশে অধিকহারে বিনিয়োগ আসবে। বিশ্বব্যাংকের ইজ অফ ডুয়িং বিজনেসের সূচক-২০২০ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আটধাপ অগ্রগতি করেছে। এতে সহযোগিতা করায় যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদফতর (আরজেএসসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিরাজুল ইসলাম।

একটি দেশে ব্যবসা করা কতটা কঠিন কিংবা সহজ সেই সূচক প্রতি বছর তৈরি করে বিশ্বব্যাংক। মে থেকে শুরু করে পরের বছর এপ্রিল পর্যন্ত বাণিজ্য সহজীকরণে সরকারের নেয়া উদ্যোগ বিশ্লেষণ করে এ তালিকা করা হয়। গত ২৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আট ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান ১৯০টি দেশের মধ্যে ১৬৮তম। আট ধাপ অগ্রগতির পাশাপাশি উন্নতিতে সেরা ২০ দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এ বছর বাংলাদেশ ১০০ নম্বরে স্কোর করেছে ৪৫।

পোশাক শিল্পে কাজ পেতে দাম কমানোয় রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব: বাণিজ্যমন্ত্রী
                                  

দেশে তৈরি পোশাক শিল্পে কাজ পাওয়ার জন্য দাম কমিয়ে দেওয়ায় রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আর গত তিন মাস ধরে চলা এই নেতিবাচক ধারা কাটাতে ব্যবসায়ীরা ব্যাংক ঋণে সুদের হার কমানো, আয়কর প্রত্যাহার, বন্দরের জট কমানো, নগদ সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মন্ত্রীর কাছে। গার্মেন্ট শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা নিয়ে গতকাল বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক বৈঠকের পর মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ব্যবসায়ীদের একটা সমস্যা আছে, সেটা তাদের দোষ।

তারা নিজেরা নিজেরা আন্ডারকাট করে প্রাইসটা এমন অবস্থায় নিচ্ছে, যাতে করে দামও পাচ্ছে না। প্রাইসের ওপর সেটার প্রভাব পড়ছে। নিজেও যে একজন গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে টিপু মুনশি বলেন, “আমি জানি যে সেই ধরনের একটি সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় কাজ পাওয়ার জন্য তারা দাম কমিয়ে দিচ্ছে। সেটার প্রভাব পড়ছে মোট রপ্তানি আয়ের ওপর। বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। কিন্তু চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) এ খাতের রপ্তানি আয় গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে গেছে, যা নিয়ে সরকারও উদ্বিগ্ন। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু সমস্যা আমাদের হয় ক্লিয়ারেন্সের জন্য, জাহাজিকরণের জন্য অনেক সময় লাগে, বন্দরে দীর্ঘসময় থাকে। এছাড়াও অনেক কারণ রয়েছে।

এসব ব্যাপারে কথা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর ডলার কেনা ও বিক্রির মধ্যে দামের যে পার্থক্য আছে, সেটাও ব্যবসায়ীরা তুলে ধরেছেন বলেন জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সুদ হারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন, একনেকের বৈঠকে বিশাল আলোচনা হয়েছে। কীভাবে সেটি কমানো যায়। আরেকটি বিষয় আলোচনা হয়েছে, ট্যাক্স রেভিনিউ কালেকশন দরকার দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যেটা আমাদের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ সাজেস্ট করেছেন, এই ট্যাক্স যেটা আনা হয়, তার পরিধি যাতে বাড়ানো হয়। করযোগ্য যারা ট্যাক্সেশনের বাইরে রয়েছে, সেটা কভার করলে রেগুলার যারা ট্যাক্স দেয়া তাদের ওপর চাপ কমবে। বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এসব সুপারিশ ‘আমলে নেওয়া হবে’ জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেটার জন্য সবদিকেই চেষ্টা করতে হবে। ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে যে সাহায্য চেয়েছে, সেগুলো কনসিডারেশনে নিলে আমাদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করি।

নগদ সহায়তার দাবির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেটুকু নগদ সহায়তা পাচ্ছি তাতে কিছু ট্যাক্সেশনের ব্যাপার এসেছে। এনবিআরের চেয়ারম্যান বলেছেন, সেটা ঠিক করে দেবেন। যেটা ট্যাক্স এসেছে, সেটা কমাবে বলে মনে হয়েছে। অন্যদের মধ্যে অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার, বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দিন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (এনবিআর) মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম, বিজিএমইএ এর সভাপতি রুবানা হকসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো এবং এনবিআরের কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

 

সব ধরনের প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার তাগিদ এডিবির
                                  

সব ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার তাগিদ দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার নগরীর হোটেল ওয়েস্টিনে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় একটি আঞ্চলিক ফোরামের আয়োজন করে সংস্থাটি। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান ফোরামটি উদ্বোধন করেন। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রায় শতাধিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রকল্প পরিচালক এই ফোরামে অংশ নেয়।

ফোরামটি পাবলিক সেক্টর অ্যাকাউন্টিং এবং আর্থিক রিপোর্টিং সিস্টেমের উন্নতি, ঝুঁকি-ভিত্তিক নিরীক্ষণে রূপান্তর, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে। একইভাবে সুপ্রিম অডিট সংস্থাগুলো ও উপার্জনভিত্তিক অ্যাকাউন্টিং সম্পর্কিত কাজ অঞ্চলগুলোর অভিজ্ঞতা ভাগভাগি করে নেবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ স্বাগত বক্তব্যে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সক্ষমতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। তবেই এসব প্রকল্পের সুফল মিলবে। ফলে দেশ ও জাঁতি উপকৃত হবে। জনসেবামূলক কাজের উন্নতি করতে হবে। এসব কাজে জবাবদিহিতা জোরদার করাও জরুরি। দারিদ্র্য হ্রাস ত্বরান্বিত করতে ও টেকসই উন্নয়ন অর্জনের জন্য শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আমাদের ব্যয় করা প্রতিটি ডলার যথাযথভাবে জবাবদিহি করা হয়েছে। একইভাবে জনসাধারণের ব্যয়ের ক্ষেত্রে আমাদের সবার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে।

এ অঞ্চলে আরও উন্নত জনসাধারণের আর্থিক ব্যবস্থাপনা দরকার। সরকারি কার্যক্রমের দক্ষতা ও স্বচ্ছতা উন্নত করতে হবে। প্রকল্প ও সব ধরনের কাজে সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা জরুরি। চূড়ান্ত দারিদ্র্য নিরসনে অবদান রেখে যাচ্ছে এডিবি। সংস্থাটি একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্ত, স্থিতিশীল এবং টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগর গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১৮ সালে এটি ২১ দশমিট ৫ বিলিয়ন ডলার পরিমাণে নতুন ঋণ অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সংস্থাটি এ অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ করে যাচ্ছে।

 

পেঁয়াজ নিয়ে ভালো খবর দিতে পারলেন না বাণিজ্যমন্ত্রী
                                  

 বেশ কিছুদিন থেকে দফায় দফায় বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। তবে গতকালও পেঁয়াজের দামের বিষয়ে কোনো সুখবর দিতে পারলেন না বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বরং তিনি বলেছেন, পেঁয়াজের বাজারদর স্বাভাবিক হতে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। গতকাল সোমবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার জুলিয়া নিবলেট। পরে বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জাবাবে এসব কথা বলেন।


বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ (গতকাল) আমাদের কাছে যে রিপোর্ট এসেছে তাতে করে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আজ চট্টগ্রামে একটা ফুল টিম গেছে। একজন উপসচিবকে সেখানে পাঠানো হয়েছে। খাতুনগঞ্জে গিয়ে তারা বাজার মনিটরিং করছেন। সবদিক দিয়েই আমরা দেখাছি।’
‘তবে ভারত পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত অথবা আমাদের নিজস্ব পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত আর আমদানির বড় লট না আসা পর্যন্ত বাজারটা একটু চড়া-ই থাকবে। আমরা আশা করছি আগামি ১০, ১২ নভেম্বরের মধ্যে আমদানির বড় লটটা এসে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে ১০ হাজার টন লটের পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। ১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে ৫০ হাজার টনের লটটা আসতে শুরু করবে। তখন বাজার তার কিছুটা প্রভাব পড়বে।’


টিপু মুনশি বলেন, ‘ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বেঙ্গালুরু থেকে ৯ হাজার টন পেঁয়াজ আসবে। তবে ভারতের যে অঞ্চল থেকে আমাদের পেঁয়াজ আসে সেই নাসিক থেকে নিষেধাজ্ঞা এখনও প্রত্যাহার হয়নি। আমরা যোগাযোগ করছি, তারা যেন নিষেধাজ্ঞাটা প্রত্যাহার করে নেয়। তবে আরও ১৫ থেকে ২০ দিন বাজারে পেঁয়াজের দামের প্রভাব থাকবে বলেও জানান তিনি। বলেন, আমাদেরও একটা আর্লি পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। তবে এখনও সেই আকারে ওঠেনি, এ মাসের শেষ দিকে নিজস্ব পেঁয়াজ উঠবে।
টিপু মুনশি বলেন, এস আলম গ্রুপ, সিটি গ্রুপ ও মেঘনা গ্রুপ ১০ থেকে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করবে। তা ইতোমধ্যে জাহাজে উঠে গেছে, যেকোনো সময় তা দেশে পৌঁছে যাবে। আর এস আলম ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আনার পরিকল্পনা করেছে, সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে তা দেশে আসবে। গত রোববার মিয়ানমার থেকে এক হাজার টন পেঁয়াজ এসেছে। মিয়ানমারই আমাদের সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট দিচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, আমাদের তিন থেকে চার হাজার টন পেঁয়াজ দেশে ঢোকা দরকার, আমাদের দৈনিক চাহিদা ছয় হাজার টন। সব পেঁয়াজ তো বাইরে থেকে আসবে না, কিছু পেঁয়াজের উৎপাদন আমাদের রয়েছে। আর বাইরের মার্কেট থেকে পেঁয়াজ ঢুকছে। আশাকরি দুই-একদিনের মধ্যে আরও ভালো রিপোর্ট পাব। মিয়ানমার থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ আমদানি করে সেগুলো ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হচ্ছে- এমন প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটার ব্যাপারে কনফিউশন রয়েছে। আমাদের কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে তাতে দাম পড়েছে ৪১ থেকে ৪২ টাকা। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে এটা নাকি বেড়ে ৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সঠিক দামটা জানার জন্য আমরা লোক পাঠিয়েছি।’ ‘এখানে একটা বড় ধরনের ইনফরমেশন গ্যাপ হয়ে যায়, সেটা হচ্ছে যেহেতু ডিউটি নেই তখন কাস্টমস একটা দর ধরেই ছাড় করে দেয়। ওই দামটা যদি ধরা হয়, তাহলে সেটা হবে ভুল তথ্য।

এজন্য আমাদের কর্মকর্তাদের জানতে বলেছি সঠিক দাম কত? যদি ৭০ টাকা হয়, তাহলে ঢাকা পর্যন্ত আসতে আসতে ৯০ টাকা হয়ে যাবে। যদি ৪০, ৪২ হয় তাহলে হয়তো ৬০ টাকা হবে। সঠিক হিসাব না পেলে কিছু বলা যাচ্ছে না।’ এদিকে রাজধানীর বাজারে দফায় দফায় বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। পেঁয়াজের বাজারে কারসাজির মাধ্যমে প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকা করে গত চার মাসে ভোক্তাদের তিন হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কনসাস কনজুমার্স সোসাইটি (সিসিএস) নামের একটি সংগঠন। গত রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পেঁয়াজ সিন্ডিকেটের মূল্য নৈরাজ্য’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।

দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ১২০, খুচরা বাজারে ১৪০ টাকা
                                  

পাইকারি ও খুচরা উভয় বাজারে পেঁয়াজের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের কেজি এখন ১২০ থেকে ১৩০ টাকার ঘরে। আর খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায়। সে হিসেবে কোথাও কোথাও পেঁয়াজের দাম দেড় শতকের ঘর স্পর্শ করলেও তা কিছুটা কমে এসেছে। গতকাল সোমবার কারওয়ান বাজার ও কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে ক্রেতা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম এখন ১২০ থেকে ১২৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে৷ গত এক সপ্তাহ আগে ১৩০ টাকাতেও বিক্রি হচ্ছিল এই পেঁয়াজ। সে হিসেবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম কমেছে অন্তত ৫ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজও ১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে। গত সপ্তাহেও এই দামে বিক্রি হচ্ছিল। আর মিসরের পেঁয়াজের দাম বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগেও এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজিতে। সে হিসেবে মিসরের পেঁয়াজ কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে।


কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আবদুস সালাম বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমছে। আগের চেয়ে এখন ৪ থেকে ৫ টাকা কমে পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে।’ আরেক বিক্রেতা অন্তর বলেন, ‘দেশি পেঁয়াজের দাম কিছুটা কমলেও মিসরের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। ভারতীয় পেঁয়াজ না থাকায় মিসরের পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।’ কারওয়ান বাজারের লাকসাম বাণিজ্যালয়ের মালিক মো. হাবিবুর রহমান মোস্তফা বলেন, ‘বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো ওঠানামা করছে। দেশি পেঁয়াজের দাম কমলেও মিসরের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে আনায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’ কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ফার্মগেটের বাসিন্দা সোহেল রানা বলেন, ‘দাম বাড়ায় আগের চেয়ে এখন পেঁয়াজ কম কিনি। তারপরও তো আগের চেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে। বাজার খরচ সামাল দিতে গিয়ে এতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’


এদিকে, মহাখালীর বউবাজারে দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৪০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কিছুকিছু দোকানে ১৩০ টাকা কেজিতেও বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় পেঁয়াজের কেজিও ১৪০ টাকা।
এ বাজারের পেঁয়াজের বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম স্থির রয়েছে। আগের মতোই দেশি পেঁয়াজ ১৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।’ বিজয় স্মরণীর কলমিলতা বাজার ও ফার্মগেট ইন্দিরা রোডের মাহবুব প্লাজার নিচ তলার বাজারটিতেও একই দামে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে। এদিকে বাজারে নতুন সবজি উঠলেও বেশিরভাগ সবজি ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। সিম ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা ও টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচামরিচের কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ৬০ ও গাজর ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেটের কারণে ৪ মাসে ভোক্তার ক্ষতি ৩ হাজার কোটি টাকা
                                  

২ জুলাই থেকে ৩১ অক্টোবর চার মাসে মোট ২৪ বার পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করেছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যটি এখন দরিদ্র মানুষের কাছে রীতিমতো দুর্লভ বস্তু। এসময়ের মধ্যে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

পেঁয়াজের এই সিন্ডিকেট প্রতিদিন ৫০ কোটি টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছে। তারা যে পরিমাণ অর্থ হাতিয়েছে, তা দিয়ে আরেকটি বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানিয়েছে কনসাস কনজ্যুমারস সোসাইটি নামে একটি সংগঠন। সংবাদ সম্মেলনে কনসাস কনজ্যুমারস সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক পলাশ মাহমুদ বলেন, গত ১ জুলাই পেঁয়াজের দাম ছিল ৩০ টাকা। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে মাত্র একদিনের (২ জুলাই) ব্যবধানে পেঁয়াজের মূল্য কেজিপ্রতি বেড়ে যায় ১৫ টাকা। এরপর থেকে নানা অজুহাতে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। বিক্রেতাদের অজুহাতের মধ্যে ছিলে আমদানি-খরচ বৃদ্ধি ও সরবরাহ কমে যাওয়া। গত চার মাসে মোট ২৪ বার পেঁয়াজের দাম ওঠা-নামা করেছে। তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি ভোক্তা কিছু সিন্ডিকেটের কাছে বন্দি।

ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে ১৩ সদস্যের একটি সিন্ডিকেট শনাক্ত হয়েছে। চার মাস সময়ের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী অন্তত পাঁচবার স্বীকার করেছেন যে, সিন্ডিকেটের কারণেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু, তিনি এটা স্বীকার করলেও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যা ভোক্তাদের হতাশ, ব্যথিত ও ক্ষুদ্ধ করেছে। পলাশ মাহমুদ বলেন, চার মাসে ভোক্তার ক্ষতি হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসময়ের মধ্যে শুধু জুলাই মাসে সিন্ডিকেট ৩৯৭ কোটি ৬৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আগস্টে ৪৯১ কোটি ৪৩ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে ৮২৫ কোটি ২৬ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা, অক্টোবরে ১৪০০ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। অর্থাৎ দিনে প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র। গত চার মাসে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৪০০ গুণ। এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে দ্বিতীয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, এ সিন্ডিকেটের কারণে শুধু ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন না, সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারে নানাবিধ উন্নয়ন প্রকল্প, দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের বিষয়ে যে সুনাম তৈরি হয়েছে, এ সিন্ডিকেটের কারণে তা ম্লান হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আসছ, যার ক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ২৬ থেকে ৪২ টাকা, গড়ে ৩৪ টাকা। সে হিসাবে যে পরিমাণ বিদেশি পেঁয়াজ আসছে, তার বিক্রয় মূল্য ৫০ টাকার বেশি হওয়া অস্বাভাবিক। সম্প্রতি খুচরা বাজারে পেঁয়াজের মূল্য কেজিপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। ক্ষেত্র বিশেষ সেটা ১৫০ টাকাও ছাড়িয়েছে কোথাও কোথাও। দেশের ইতিহাসে পেঁয়াজের এটাই সর্বোচ্চ দাম।

এ কারণে নিত্যপণ্যটি এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় বাইরে চলে গেছে আর দরিদ্র মানুষের কাছে তা রীতিমতো দুর্লভ বস্তুতে পরিণত হয়েছে। এসময় সিন্ডিকেট থেকে ভোক্তাকে রক্ষা ও সরকারের সুনাম রক্ষায় চারটি দাবি উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মতো মূল্য সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা, দ্রুত সময়ের মধ্যে পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণ করা, পেঁয়াজ ছাড়াও যেকোনো পণ্যে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি হলে সরকার থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সর্বোচ্চ মূল্য ঘোষণা করা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে অংশীজনদের নিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরে একটি সেল গঠন ও সার্বক্ষণিক তদারকি করা। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কনসাস কনজ্যুমারস সোসাইটির মিডিয়া সেলের প্রধান জয়কৃষ্ণ জয়, ঢাকা কালেকশন সেলের শরিফুল ইসলাম।

অক্টোবরে রেমিট্যান্সে রেকর্ড
                                  

এই বছরের অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা ১৬৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। একক মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে এ বছরে মে মাসে রোজার ঈদকে কেন্দ্র করে ১৭৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা একক কোনও মাসের হিসাবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

গতকাল রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আগের মাস সেপ্টেম্বরে ১৪৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা। এবার অক্টোবরে রেমিট্যান্সের পরিমাণ গত বছরের অক্টোবরের চেয়ে ৩২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে।

এ নিয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা, জনশক্তি রফতানি বৃদ্ধি এবং বিশ্ববাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্য বাড়ায় রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক ড. জায়েদ বখত বলেন, রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দিয়ে সরকার একটি ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে প্রবাসীরা দেশে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। তারাই মূলত রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ।

 

১০ বছরে কোটিপতি ৪ গুণ
                                  

দশ বছরে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৪ গুণ। সবচেয়ে কোটিপতি বেড়েছে ২০১০ সালে। বর্তমানে দেশে ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি পৌনে দুই লাখের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে এক কোটি টাকার অধিক আমানতকারী ও ঋণগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে আমানতকারী ৮০ হাজার ৩৯৬ জন এবং ঋণগ্রহীতা ৯৬ হাজার ৩৬০ জন। অন্য দিকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন (আমানতকারী ১৯,১৬৩ ও ঋণগ্রহীতা ২৫,২০৬)।

অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে প্রতিবেদনে শুধু ব্যাংকিং খাতের কোটিপতির সংখ্যা স্থান পেয়েছে। কিন্তু ব্যাংকিং খাতের বাইরে হিসাব করলে দেশে মোট কোটিপতির সংখ্যা আরো কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাম্প্রতিক ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অনেকের ঘরে কোটি কোটি টাকা গচ্ছিত পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা ছিল এক লাখ ৬৬ হাজার ৭২৮ জন। এর মধ্যে আমানতকারী ৭৫ হাজার ৫৬৩ জন এবং ঋণগ্রহীতা ছিল ৯১ হাজার ১৬৫ জন। সর্বশেষ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জুন ২০১৯) কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ১০ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে আমানতকারী বেড়েছে চার হাজার ৮৩৩ জন এবং ঋণগ্রহীতা বেড়েছে পাঁচ হাজার ১৯৫ জন।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০৮ সালের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা ছিল ৪৪ হাজার ৩৬৯ জন (আমানতকারী ১৯,১৬৩ ও ঋণগ্রহীতা ২৫,২০৬)। আর ২০১৮ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশের ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৭২৮ জন। সে হিসাবে গত এক দশকে দেশে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ ২২ হাজার ৩৫৯ জন। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে কোটিপতি বেড়েছে প্রায় চার গুণ। বছরে গড়ে কোটিপতি বেড়েছে ১২ হাজার ২৩৫ জন।

২০০৯-২০১৩ বছর শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতি ছিল ৯৮ হাজার ৫৯১ জন (আমানতকারী ৪৯,৬৪০ ও ঋণগ্রহীতা ৪৮,৯৫১)। আলোচ্য সময়ে কোটিপতি বেড়েছে ৫৪ হাজার ২২২ জন। অন্য দিকে ২০১৪-২০১৮ শেষে ব্যাংক খাতে কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ ৬৬ হাজার ৭২৮ জন (আমানতকারী ৭৫,৫৬৩ ও ঋণগ্রহীতা ৯১,১৬৫)। এ সময়ে কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে ৬৮ হাজার ১৩৭ জন।

বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে প্রতিটি সরকারের আমলেই কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিবার রাষ্ট্র ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে একশ্রেণীর নব্য কোটিপতির উত্থান ঘটছে। একক বছর হিসাবে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি বেড়েছে ২০১০ সালে। ওই বছর কোটিপতি বেড়েছে ১৩ হাজার ৮৯২ জন। অন্য দিকে ব্যাংক খাতে কোটিপতি ঋণগ্রহীতার সংখ্যা কোটিপতি আমানতকারীর তুলনায় সব সময়েই বেশি। এর একমাত্র ব্যতিক্রম ২০১৩ সালে। আলোচ্য বছরে কোটি টাকার অধিক ঋণগ্রহীতার চেয়ে আমানতকারী বেশি ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব তফসিলি ব্যাংকের কাছ থেকে প্রাপ্ত হিসাবের ভিত্তিতে যে প্রতিবেদন তৈরি করে সেটাই কোটিপতির সংখ্যা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি। তবে অবৈধ বিত্তের মালিকরা স্বনামে-বেনামে একাধিক অ্যাকাউন্টে কিংবা নিজস্ব কোনো ব্যবস্থায় টাকা রাখতে পারেন। তাদের শনাক্ত করা কঠিন। জানা গেছে, ১৯৭৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে কোটিপতি ছিল ২৫৯ জন (আমানতকারী ৪৭ ও ঋণগ্রহীতা ২১২)। জিয়া সরকারের আমলে (ডিসেম্বর ১৯৮০) এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫৪ জন (আমানতকারী ৯৮ ও ঋণগ্রহীতা ৩৫৬)।

এরশাদ সরকারের আমল শেষে (ডিসেম্বর ১৯৯০) কোটিপতির সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৮ জন (আমানতকারী ৯৪৩ ও ঋণগ্রহীতা ২,১২৫)। খালেদা জিয়ার প্রথম শাসনামল শেষে (জুন ১৯৯৬) কোটিপতি বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ১২০ জন (আমানতকারী ২,৫৯৪ ও ঋণগ্রহীতা ৪,৫২৬)। শেখ হাসিনার প্রথম শাসনামল (জুন ১৯৯৬-সেপ্টেম্বর ২০০১) শেষে কোটিপতি বেড়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৫৮২ জন (আমানতকারী ৫,১৬২ ও ঋণগ্রহীতা ৮,৪২০)।

কাঁচামাল দেশে উৎপাদিত হলে ওষুধ সহজলভ্য হবে
                                  

 দেশে ওষুধের বাজারের আকার বেড়েছে। মোট চাহিদার ৯৮ শতাংশ ওষুধ এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ওষুধ কোম্পানিগুলো ভ্যাকসিন, ক্যান্সারের প্রতিষেধক, ইনসুলিনসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ওষুধ তৈরি করছে। দেশে এসব ওষুধের কাঁচামাল উৎপাদন হলে তা আরও সহজলভ্য হবে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই): প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসির। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, আমরা এখন ১৫০টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছি। যার মোট গ্রোথ রেট ১০ শতাংশ। তবে আমরা কাঁচামাল আমদানি নির্ভর হয়ে গেছি। মোট ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। সেক্ষেত্রে দেশে কাঁচামাল উৎপাদিত হলে ওষুধ আরও সহজলভ্য হবে। পাশাপাশি বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতাও আরও সহজ হবে। অধ্যাপক রবিউল বলেন, দেশে ওষুধের ৪১ প্রকার কাঁচামালের মধ্যে ৩ থেকে ৪ শতাংশ দেশের ৮ কোম্পানির উৎপাদিত। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রচুর বিনিয়োগ করতে হবে এবং আরও গবেষণার প্রয়োজন। দেখতে হবে কিভাবে আরও বিনিয়োগ ও গবেষণার মাধ্যমে কাঁচামাল উৎপাদন করা যায়। কারণ কাঁচামাল আমদানির কারণেই প্রায় ৪০ শতাংশ ব্যয় হয়ে যায়। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিশ্বের সঙ্গে আমাদর প্রতিযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। এপিআই ডেভেলপ করতে বাইরের দেশ থেকে প্রয়োজনে এক্সপার্ট আনতে হবে। এখনই সময় সরকারের কাছ থেকে সব ধরনের সুযোগ নেওয়ার। কারণ ওষুধ শিল্পের ব্যাপারে সরকার আন্তরিক। ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) রুহুল আমিন বলেন, আমাদের সাধ্যের মধ্যেই এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের জমি নেই, দক্ষ জনবলও নেই। তাই বলে হাত গুটিয়ে বসে থাকারও সময় নেই। আমাদের ৪৫ বিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজারে প্রবেশ করতে হবে সহজভাবে। এজন্য কোম্পানিগুলোর যা যা সুযোগ-সুবিধা দরকার আমাদের জানালে ব্যবস্থা করবো। এখন অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রিডিয়েন্ট (এপিআই) কারখানাগুলোকে সরকারি-বেসরকারি জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করার সময় এসেছে।

তার এ সুবিধা নিতে পারেন। তিনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বেছে নেয়। আমাদেরও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও সে দায়িত্ব নিতে হবে। তারা গবেষণা করে এসব সমস্যার সমাধান করতে পারে। সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব.) ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন মল্লিক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হাফিজুর রহমান, অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালের চেয়ারম্যান মো. জিয়া উদ্দিন, ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য দেন।

 


   Page 1 of 100
     অর্থ-বাণিজ্য
২০০ টাকা ছাড়ালো পেঁয়াজের কেজি
.............................................................................................
চলতি মৌসুমে ১০ লাখ টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হবে: খাদ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
পেঁয়াজের দাম চড়া থাকবে আরও কয়েক মাস
.............................................................................................
সারাদেশে আয়কর মেলা শুরু হচ্ছে কাল
.............................................................................................
সংসদে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলের রিপোর্ট উপস্থাপন
.............................................................................................
অধিকাংশ চিনিকলের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল অনেক আগেই শেষ: শিল্পমন্ত্রী
.............................................................................................
পেঁয়াজের দাম বেশি নেয়ায় চার ব্যবসায়ীকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা
.............................................................................................
বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার আহ্বান বিডা চেয়ারম্যানের
.............................................................................................
পোশাক শিল্পে কাজ পেতে দাম কমানোয় রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
সব ধরনের প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার তাগিদ এডিবির
.............................................................................................
পেঁয়াজ নিয়ে ভালো খবর দিতে পারলেন না বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ১২০, খুচরা বাজারে ১৪০ টাকা
.............................................................................................
পেঁয়াজ নিয়ে সিন্ডিকেটের কারণে ৪ মাসে ভোক্তার ক্ষতি ৩ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
অক্টোবরে রেমিট্যান্সে রেকর্ড
.............................................................................................
১০ বছরে কোটিপতি ৪ গুণ
.............................................................................................
কাঁচামাল দেশে উৎপাদিত হলে ওষুধ সহজলভ্য হবে
.............................................................................................
ব্যাংক ঋণ পরিশোধে পুরুষের তুলনায় নারীরা এগিয়ে: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
পায়রা বন্দরে ৩৫টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের সফল অপারেশনাল কার্যক্রম
.............................................................................................
বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী কানাডা
.............................................................................................
জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে বাড়তে যাচ্ছে আকাশপথের ভাড়া
.............................................................................................
৩০ পৌরসভায় সুপেয় পানি-স্যানিটেশন সুবিধায় বিশ্বব্যাংকের ১০ কোটি ডলারের ঋণ
.............................................................................................
ধান-চাল কেনায় কোনও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না: খাদ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
একনেকে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন
.............................................................................................
দাম বাড়িয়ে প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে পেঁয়াজ সিন্ডিকেট: ন্যাপ
.............................................................................................
চীনের অর্থায়নে কেনা হচ্ছে রেলের ২০০ কোচ
.............................................................................................
বগুড়ায় শতকোটি টাকায় হচ্ছে বিদ্যুতের ৯টি সাব-স্টেশন
.............................................................................................
বিশ্বব্যাংকের ‘ডুইং বিজনেস ২০২০’ তালিকায় আট ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
পরিমাপে কারচুপির দায়ে ৯ পেট্রল পাম্পের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
নওগাঁয় ফ্লাটে আগুন, দগ্ধ হয়ে তরুণের মৃত্যু
.............................................................................................
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য ফ্রান্সের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
.............................................................................................
নবায়নযোগ্য উৎস থেকে শতভাগ বিদ্যুৎ পেতে দরকার ২শ গিগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতা
.............................................................................................
১ কোটি ৩৯ লাখ শ্রমশক্তি যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছে না
.............................................................................................
পেঁয়াজের দাম কমেনি বেড়েছে মরিচেরও
.............................................................................................
ব্রাজিল থেকে আগেই মাংস আমদানি নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
একনেকে এক লাখ ২৫ হাজার ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ১০ প্রকল্প অনুমোদন
.............................................................................................
৩ মাসে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ৪.৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার
.............................................................................................
ট্যাক্স আদায়ে ধনীদের প্রতি নির্দয় হতে হবে : অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
ভবিষ্যতে চাহিদা হিসাব করেই বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে: সচিব
.............................................................................................
ঋণ খেলাপি বন্ধে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ব্যাংকিং সংস্কার কমিশন গঠনের পরামর্শ
.............................................................................................
কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৪৭ শতাংশ
.............................................................................................
ব্রিটিশ বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান শিল্পমন্ত্রীর
.............................................................................................
তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এক শতাংশ নগদ সহায়তা দেবে সরকার
.............................................................................................
প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১৪টি নির্দেশনা
.............................................................................................
১০ বছরে দেশে নতুন কোটিপতি ৫৭ হাজার
.............................................................................................
পেঁয়াজের দাম নির্ধারণ করে দিতে চায় সরকার
.............................................................................................
রেমিটেন্সে ২২ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়েছে: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
চট্টগ্রামে ৫০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন
.............................................................................................
পেঁয়াজের সরবরাহ-মূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার নজরদারি
.............................................................................................
৪৮ ব্যবসায়ী পাচ্ছেন সিআইপি সম্মাননা
.............................................................................................
বাংলাদেশ ফাইভ-জির প্রস্তুতি নিচ্ছে: টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]