৩ শাবান ১৪৪১, ঢাকা, রবিবার, ১৫ চৈত্র ১৪২৬, ২৯ মার্চ , ২০২০ বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
করোনা মোকাবেলায় হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই : টিআইবি

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশবাসীকে হোম-কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি উদ্ভূত মহাসংকট মোকাবেলায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশের সমপরিমাণ বিশেষ তহবিল গঠন এবং এই কৌশল বাস্তবায়ন ও তহবিল ব্যবহারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯’র ঝুঁকি ও এর বহুমুখী প্রভাব কোনো তাৎক্ষণিক সমাধানযোগ্য সমস্যা নয়, বরং এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় এখনই স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাসহ একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মনে করছে টিআইবি। একইসাথে অভূতপূর্ব এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রকার আর্থিক লেনদেনসহ প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

জাতির উদ্দেশ্যে ২৫ মার্চ ২০২০ প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে সম্মিলিতভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার যে ডাক দিয়েছেন, তার প্রতি একাত্মতা জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হোম-কোয়ারেন্টিনে দেশবাসীকে পাঠিয়ে নিতান্তই অপ্রতুল ও বিক্ষিপ্ত কিছু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই। এখনই সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত জাতীয় কৌশল চূড়ান্ত করতে হবে এবং একইসাথে তার বাস্তবায়নের জন্য জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের যোগানের পাশাপাশি বহুমুখী উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা ও চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ও তাদের অমূল্য অবদানের উপযুক্ত সম্মান দিতে হবে।’

রপ্তানি সংশ্লিষ্টখাতের শ্রমিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যে উদ্যোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তাকে সাধুবাদ জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ‘কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে, বরাদ্দকৃত অর্থ কোন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের হাতে যাবে এবং এক্ষেত্রে কীভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনই নির্ধারণ করতে হবে। এই সহায়তার আওতা দেশের হতদরিদ্রদের জন্য সমভাবে সম্প্রসারিত করতে হবে। একইভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন, স্বল্প বেতনের কর্মজীবী মানুষ, দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের অনেকেই ইতোমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন বা হবেন তাদেরকেও এর আওতায় আনতে হবে।’

নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংকট চলাকালীন সময়ে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ-লাইন প্রাধান্যের সাথে সচল রাখতে হবে, তা না হলে কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি কোয়ারেন্টিনই মানুষের ক্ষুধা ও মৃত্যুর কারণ হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত পুলিশের একাংশের বিভ্রান্ত ও অশোভন বলপ্রয়োগ সংকট ঘনীভূত করছে, যা বন্ধ করতে হবে।

 

এ ধরনের দুর্যোগে সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের পাশাপাশি ক্ষমতা বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ক্ষমতার উৎসও জনগণ। সীমা লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা আত্মঘাতী হয়, সরকারকে তা বিবেচনায় রাখতে হবে বলে মনে করে টিআইবি।

নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে জীবন-জীবিকার অধিকারের পাশাপাশি বাক-স্বাধীনতা এবং তথ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সকল সম্ভাবনা প্রতিহত করা সরকারের দায়িত্ব।’ অর্থনীতির চাকা পুনরায় দ্রুত সচল করার জন্য জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশ সমপরিমাণের বিশেষ তহবিল গঠন করার আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি। প্রয়োজনে মেগা-প্রজেক্টগুলোর অর্থায়ন আনুপাতিক হারে কমিয়ে এনে এই খাতে অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি দেশের ধনিকশ্রেণিকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। জনগণের করের টাকায় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের একাংশ বিভিন্ন সময়ে বহুমুখী সুবিধা আদায় করে সম্পদের বিকাশ করেছেন। আজ এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা বিশ্বাস করতে চাই তারা জনস্বার্থে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। ‘পাঁচ হাজার কোটি টাকার যে তহবিল প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তার পুরোটাই যোগানোর দায়িত্ব কী এদেশের মহা-ধনীজন অনায়াসে নিতে পারেন না?’ বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে লিপ্ত বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতায় আগ্রহী, অংশীদার এবং অনেকে লাভবান, তাদেরকেও নিজেদের স্বার্থে এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

ড. জামান বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ বিশাল সংকট মোকাবেলায় সফল হতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। তথ্যের স্বচ্ছ ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সচেষ্ট হবেন বলে আমরা আশা করি। বিশেষ করে কোন খাতে কত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, অর্থায়নের উৎস এবং কীভাবে ও কতটা কার্যকরভাবে তা ব্যয় করা হচ্ছে, সে তথ্য নিয়মিত প্রকাশ ও হালনাগাদ করতে হবে। এই সংকটকে পুঁজি করে যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি না হয় এবং কেউ যেন অন্যায্য মুনাফা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত তথ্যের ব্যাপারে আস্থাহীনতার সুযোগে গুজব ছড়াচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংক্রমণ, প্রাণহানি, চিকিৎসা প্রদান ও সুস্থ হওয়ার সংখ্যাসহ প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক সকল কার্যক্রমের তথ্য কোনো প্রকার রাখঢাক না করে প্রকাশ করাটা জরুরি। তাতে জনগণ অধিকতর সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে।’

করোনা মোকাবেলায় হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই : টিআইবি
                                  

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশবাসীকে হোম-কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি উদ্ভূত মহাসংকট মোকাবেলায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল প্রণয়ন, জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশের সমপরিমাণ বিশেষ তহবিল গঠন এবং এই কৌশল বাস্তবায়ন ও তহবিল ব্যবহারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, কোভিড-১৯’র ঝুঁকি ও এর বহুমুখী প্রভাব কোনো তাৎক্ষণিক সমাধানযোগ্য সমস্যা নয়, বরং এই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় এখনই স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনাসহ একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মনে করছে টিআইবি। একইসাথে অভূতপূর্ব এই দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল প্রকার আর্থিক লেনদেনসহ প্রতিটি পর্যায়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

জাতির উদ্দেশ্যে ২৫ মার্চ ২০২০ প্রদত্ত ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে সম্মিলিতভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার যে ডাক দিয়েছেন, তার প্রতি একাত্মতা জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘হোম-কোয়ারেন্টিনে দেশবাসীকে পাঠিয়ে নিতান্তই অপ্রতুল ও বিক্ষিপ্ত কিছু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই। এখনই সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত জাতীয় কৌশল চূড়ান্ত করতে হবে এবং একইসাথে তার বাস্তবায়নের জন্য জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থের যোগানের পাশাপাশি বহুমুখী উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা ও চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ও তাদের অমূল্য অবদানের উপযুক্ত সম্মান দিতে হবে।’

রপ্তানি সংশ্লিষ্টখাতের শ্রমিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য যে উদ্যোগ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তাকে সাধুবাদ জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলছেন, ‘কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে, বরাদ্দকৃত অর্থ কোন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের হাতে যাবে এবং এক্ষেত্রে কীভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনই নির্ধারণ করতে হবে। এই সহায়তার আওতা দেশের হতদরিদ্রদের জন্য সমভাবে সম্প্রসারিত করতে হবে। একইভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন, স্বল্প বেতনের কর্মজীবী মানুষ, দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, যাদের অনেকেই ইতোমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন বা হবেন তাদেরকেও এর আওতায় আনতে হবে।’

নির্বাহী পরিচালক বলেন, সংকট চলাকালীন সময়ে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ-লাইন প্রাধান্যের সাথে সচল রাখতে হবে, তা না হলে কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি কোয়ারেন্টিনই মানুষের ক্ষুধা ও মৃত্যুর কারণ হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত পুলিশের একাংশের বিভ্রান্ত ও অশোভন বলপ্রয়োগ সংকট ঘনীভূত করছে, যা বন্ধ করতে হবে।

 

এ ধরনের দুর্যোগে সরকার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের পাশাপাশি ক্ষমতা বাড়বে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই ক্ষমতার উৎসও জনগণ। সীমা লঙ্ঘন করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা আত্মঘাতী হয়, সরকারকে তা বিবেচনায় রাখতে হবে বলে মনে করে টিআইবি।

নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে জীবন-জীবিকার অধিকারের পাশাপাশি বাক-স্বাধীনতা এবং তথ্য ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সকল সম্ভাবনা প্রতিহত করা সরকারের দায়িত্ব।’ অর্থনীতির চাকা পুনরায় দ্রুত সচল করার জন্য জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশ সমপরিমাণের বিশেষ তহবিল গঠন করার আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি। প্রয়োজনে মেগা-প্রজেক্টগুলোর অর্থায়ন আনুপাতিক হারে কমিয়ে এনে এই খাতে অর্থের যোগান নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি দেশের ধনিকশ্রেণিকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। জনগণের করের টাকায় ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের একাংশ বিভিন্ন সময়ে বহুমুখী সুবিধা আদায় করে সম্পদের বিকাশ করেছেন। আজ এই ক্রান্তিলগ্নে আমরা বিশ্বাস করতে চাই তারা জনস্বার্থে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন। ‘পাঁচ হাজার কোটি টাকার যে তহবিল প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন তার পুরোটাই যোগানোর দায়িত্ব কী এদেশের মহা-ধনীজন অনায়াসে নিতে পারেন না?’ বলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক।

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে লিপ্ত বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও দেশ, যারা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক স্থিতিশীলতায় আগ্রহী, অংশীদার এবং অনেকে লাভবান, তাদেরকেও নিজেদের স্বার্থে এই বিশাল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে টিআইবি।

ড. জামান বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এ বিশাল সংকট মোকাবেলায় সফল হতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। তথ্যের স্বচ্ছ ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠান সচেষ্ট হবেন বলে আমরা আশা করি। বিশেষ করে কোন খাতে কত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে, অর্থায়নের উৎস এবং কীভাবে ও কতটা কার্যকরভাবে তা ব্যয় করা হচ্ছে, সে তথ্য নিয়মিত প্রকাশ ও হালনাগাদ করতে হবে। এই সংকটকে পুঁজি করে যেন কোনো ধরনের দুর্নীতি না হয় এবং কেউ যেন অন্যায্য মুনাফা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত তথ্যের ব্যাপারে আস্থাহীনতার সুযোগে গুজব ছড়াচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংক্রমণ, প্রাণহানি, চিকিৎসা প্রদান ও সুস্থ হওয়ার সংখ্যাসহ প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক সকল কার্যক্রমের তথ্য কোনো প্রকার রাখঢাক না করে প্রকাশ করাটা জরুরি। তাতে জনগণ অধিকতর সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে।’

বিকেএমইএর সব পোশাক কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ
                                  

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামীকাল শনিবার থেকে দেশের সব নিট পোশাক কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধের নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি এ কে এম সেলিম ওসমান। শুক্রবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশব্যাপী করোনা সংক্রমণের যে ক্ষতিকর প্রভাব বাংলাদেশে পড়েছে, তা থেকে দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানোই এ মুহূর্তে আমাদের সবার লক্ষ্য। মানুষ বাঁচলে শিল্প বাঁচবে এবং শিল্প বাঁচলে দেশ সমৃদ্ধ হবে। এজন্যই দেশের স্বার্থে সরকার সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে।

বিকেএমইএ থেকেও ইতোপূর্বে গত ২৫ পত্রের মাধ্যমে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী রপ্তানিমুখী শিল্পকে করোনা আক্রান্ত অর্থনৈতিক মন্দা থেকে রক্ষার জন্য বিশাল প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এই শিল্প খাতের জন্য প্রদান করেছেন। তাই এমন প্রেক্ষাপটে আমাদের কারণে কোনো শ্রমিকের যেন ক্ষতি না হয়, সেজন্য কোনোভাবেই আতঙ্কিত না হয়ে, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচানোর জন্য সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে সাদৃশ্য রেখে বিকেএমইএর সদস্যভুক্ত সকল নিট পোশাক কারখানা আপাতত ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হল।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ছুটির সময় কারখানার শ্রমিকরা যে যেখানে অবস্থান করছে সে যেন সেখানেই অবস্থান করে তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের বুঝাতে হবে, এটা কোনো ঈদ বা উৎসবের ছুটি নয়। তাই যে যেখানে অবস্থান করে, তাকে সেখানেই থাকতে হবে।

দেশে তৈরি পিপিই সরবরাহ শুরু হতে আরো এক সপ্তাহ
                                  

করোনা ভাইরাস ঠেকাতে এখন বহুল আলোচিত ইস্যু চিকিৎসক ও এ সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিতদের সুরক্ষা পোশাক ও সরঞ্জাম বা পিপিইর সংকট। আমদানিনির্ভর পিপিই দেশেই তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছেন কিছু গার্মেন্টস উদ্যোক্তাসহ এনজিও, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তবে এ পোশাকের ডিজাইনসহ বিভিন্ন করোনা প্রতিরোধী হিসেবে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন পেতে কিছুটা সময় লেগে গেছে। স্বেচ্ছাশ্রমের এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, পিপিই বিতরণ পর্যায়ে যেতে আরো সপ্তাহখানেক সময় প্রয়োজন হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, পিপিইর জন্য ফেব্রিকসহ ডিজাইন অনুমোদন পেতে আবেদনের পর অনুমোদন পেতে তিন দিন সময় লেগেছে। তবে অনুমোদনের পর কয়েকটি কারখানায় পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে। এতে এগিয়ে এসেছে তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কয়েকটি কারখানা। প্রাথমিকভাবে অন্তত ২৫ হাজার পিপিই তৈরি হবে। এর পর ধাপে ধাপে এ সংখ্যা আরো অনেক বাড়বে। কারখানাগুলো এসব পোশাক বানানোর জন্য কোনো অর্থ নেবে না। অন্যদিকে ফেব্রিক ক্রয়ের জন্য কিছু গার্মেন্টস মালিক, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছে। সবমিলিয়ে এসব পিপিই চিকিৎসকদের জন্য বিনামূল্যে সরবরাহ করা হবে।

এসব পোশাক প্রস্তুতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে তুসুকা গ্রুপের একটি কারখানা। তুসুকা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিজিএমইএর সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু বলেন, এ ধরনের পোশাকের জন্য বিশেষায়িত কাপড়ের প্রয়োজন হয়। ওয়ান নাইনটি টি টাফেডা কাপড় যা শতভাগ পলিয়েস্টার। এসব কাপড়ের জোগানও চ্যালেঞ্জিং। তবে অনেক উদ্যোক্তা এগিয়ে এসেছেন। গতকালও বন্দরে এ ধরনের কাপড়ের চালান খালাস হয়েছে। সবমিলিয়ে এটি হাতে আসতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে।

এ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িতরা জানিয়েছেন, যে পিপিই তৈরি হচ্ছে, তা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) শতভাগ মান হয়তো পূরণ করে না। কিন্তু এর মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। কেননা ডাক্তারদের বাইরেও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের বড়ো অংশের জন্যও পোশাকের প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা পিপিই মূল চিকিৎসকদের জন্য সরবরাহ করা হলেও এর সঙ্গে যুক্ত অন্যরা দেশে উৎপাদিত এসব পিপিই থেকে উপকৃত হবেন।||ইত্তেফাক

এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা নেই গ্রাহক হয়রানি চরমে
                                  

আজ স্বাধীনতা দিবসের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকবে। পরের দু’দিন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে এক টানা তিন দিন ব্যাংক লেনদেন করা যাবে না। পরের দিন অর্থাৎ ২৯ মার্চ থেকে সীমিত আকারে ২ ঘণ্টা ব্যাংক লেনদেন করা যাবে। এ কারণে গতকাল সাধারণ গ্রাহকের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে ব্যাংক থেকে বাড়তি অর্থ উত্তোলন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে নেয়া পদক্ষেপের কারণে বেশির ভাগ ব্যাংকের শাখায় প্রবেশ করা থেকে টাকা উত্তোলন পর্যন্ত বাড়তি ঝামেলা পোহাতে হয়। এ ঝামেলা এড়াতে তাই গ্রাহক ছোটেন ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে। কিন্তু বেশির ভাগ এটিএম বুথেই দুপুরের পর টাকা ছিল না। টাকা উত্তোলনের জন্য গ্রাহক এক ব্যাংকের শাখা থেকে আরেক ব্যাংকের শাখায় ছোটেন। কিন্তু সেখানেও নেটওয়ার্ক ত্রুটি দেখানো হয়। এতে টাকা না পেয়ে গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গত মঙ্গলবার জারি করা সার্কুলারে নির্দেশ দেয়া হয়, ব্যাংক লেনদেন সীমিত করায় ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে পর্যাপ্ত নোট সরবরাহ করতে হবে। একই সাথে গ্রাহক যাতে তাদের প্রয়োজন মেটানোর মতো অর্থ উত্তোলন করতে পারেন সেজন্য এটিএম বুথগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু সার্কুলার জারির একদিন যেতে না যেতেই ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে পর্যাপ্ত অর্থ না পাওয়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা উপেক্ষা করার শামিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো: সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সেসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাবে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, ব্যাংকের এটিএম বুথে যেন পর্যাপ্ত নোট রাখা হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক দু’দিনে প্রায় সাড়ে ২২ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে গত ২৪ মার্চ ১৩ হাজার ৬২২ কোটি টাকা এবং গতকাল ২৫ মার্চ ৮ হাজার ৬৫৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা সরবরাহ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো ত্রুটি রাখা হয়নি। এরপরেও যদি ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে পর্যাপ্ত না রাখে তাহলে সেটা দুঃখজনক। কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফকে করোনা পরিস্থিতে সহযোগীতার অনুরোধ অর্থমন্ত্রীর
                                  

‘পুরো বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একটি ক্রান্তিকাল পার করছে। করোনা ভাইরাসের কারণে আজ মানব সম্প্রদায়ের জীবন ও অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এমন একটি মুহুর্তে এই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়ে এই ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আই এমএফ-এর প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আজ এই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমরা সবাই জড়ো হয়েছি কিছু উপায় এবং পথ খুঁজে বের করে এই পৃথিবীর মানব সম্প্রদায়ের কাছে আশার একটি আলোক প্রদর্শন করার জন্য।’

আজ বুধবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, এফসিএ, এমপি বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সদর দপ্তরের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি এবং সহযোগীতা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে এসব কথা বলেন। শেরে বাংলনগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ ভিডিও কনফারেন্সে এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. ফজলে কবির নিজ দপ্তর থেকে এ কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেমন, বিগত ৩ বছর ধরে ধারাবাহিক ৭ শতাংশের অধিক হারে প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারাবাহিকতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৮.১৫ শতাংশ, যা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশসমূহের মধ্যে সর্ব্বোচ্চ। আমরা এই বছর ৮.২ শতাংশ আশা করছিলাম। আমাদের এই ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রধান চালিকা শক্তি হচ্ছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং সহায়ক রাজস্ব ও মুদ্রানীতি। দুর্ভাগ্যক্রমে, করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবে বাংলাদেশের ক্ষতি জিডিপি-র ১.১ শতাংশ হতে পারে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বিশ্লেষণ এই আশংকা ব্যক্ত করেছে। যখন আমরা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজির লক্ষ্যসমুহ অর্জনসহ উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার অপেক্ষায় আছি। এমন একটি সময়ে বাংলাদেশসহ, বিশ্ব অর্থনীতি করোনা ভাইরাসে বিরূপ প্রভাবের সম্মুখীন।

বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা সবাই অবগত আছেন যে এই মারাত্মক ভাইরাসের সংক্রমণ অতি দ্রুত ছড়ায়। করোনা সংক্রমণ রোধে এক মরিয়া পদক্ষেপ হচ্ছে অভূতপূর্ব লকডাউন, শাটডাউন এবং যোগাযোগ ব্যাহতকরণ। যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিবার্য়ভাবে বিরূপ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। বিশ্ব শেয়ারবাজার ইতোমধ্যে ২৮-৩৪% হ্রাস পেয়েছে। এই মন্দা দীর্ঘকাল স্থায়ী হলে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১.৫% এ নেমে যেতে পারে। বাংলাদেশও এর প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। আমরা উদ্বিগ্ন, COVID-19 সংকটটি আমাদের অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক দিক থেকে আঘাত করতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শাট ডাউনের কারণে আমাদের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাসে এ শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলোতে দীর্ঘসূত্রিতা তৈরী হচ্ছে। বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের অর্থনীতিকে অনেকটা চাঙ্গা করে রেখেছে। কিন্তু আমরা উদ্বিগ্ন যে এই করোনা ভাইরাস মহামারীজনিত কারণে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মী বিদেশ থেকে ফিরে এসেছেন বলে রেমিটেন্সের উপরেও নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন। কোন দেশের একার পক্ষে এরকম একটি দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া সম্ভব নয়। তাই এই সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার জন্য আমরা আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপকে আমাদের পাশে থাকার অনুরোধ করব। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ এবং আইএমএফকে বিনীতভাবে অনুরোধ করব যে বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাদের বৃহত্তর সহযোগীতা নিশ্চিত করবে।

উল্লেখ্য যে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বব্যাংক ১৪ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক তহবিল গঠন করেছে। পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তার জন্য ৫০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে আইএমএফ, এই অর্থের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার পাবে স্বল্প আয়ের দেশগুলো। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ থেকে একটি বড় অংশ সহযোগীতা আশা করছে সামনের দিনগুলোতে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায়।

কাঙ্খিত দর না পেয়ে পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন চাষীরা
                                  

মধুখালীতে সোমবার হাটে ব্যাপক পেঁয়াজের আমদানী হওয়ায় ৭০ টাকা কেজি দরের পেঁয়াজ মাত্র ২৫টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। পেঁয়াজ মৌসুমের প্রথম হাটে আমদানী হয় ব্যাপক। পেয়াঁজের দাম কমে যাওয়ায় বেশীর ভাগ কৃষক তাদের পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

মধুখালীতে পেঁয়াজ আমদানী হয় প্রচুর। পেঁয়াজ মৌসুমে প্রতিদিন মধুখালীতে থেকে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক পেঁয়াজ রাজধানী ঢাকা, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যাপারীরা কিনে নিয়ে যায়। রবিবারই মধুখালীতে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ কিনতে লাইন দেন ক্রেতারা। একদিনের ব্যবধানের পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা হতাশ।

উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাব মন্ডল জানান, এ বছর মধুখালীতে পেঁয়াজের আবাদ বেশী হয়েছে। চলতি বছর ২০১৯-২০ মৌসুমে মোট ৩ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের পেঁয়াজের আবাদ করা হয়। যেখানে গত বছর ২০১৮-১৯ মৌসুমে মোট ২ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছিল। গত বারের তুলনায় এবছর ৪৪০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ বেশী হয়। তাছাড়া এবার পেঁয়াজের ফলনও বেশী হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে এডিবি
                                  

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ। মনমোহন প্রকাশ ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল করোনার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে ইতোমধেই আলোচনা করেছেন। আলোচনার মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য প্রকোপ কমানোর জন্য সরকারের প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক প্রভাব ইত্যাদি বিষয় উঠে আসে।

সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধের পরেই এডিবি এই সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। গতকাল শনিবার এডিবির ঢাকা অফিসের পাঠানো এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এডিবির টিম লিডার (বহিঃসম্পর্ক বিভাগ) গোবিন্দ বার। এডিবি কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, বাংলাদেশ সরকার করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সহায়তা দেওয়ার জন্য এডিবিকে অনুরোধ করেছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী হিসাবে এডিবি এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সমন্বয়-আলোচনা করে দ্রুত অর্থায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেবো। ব্যাপক মৃত্যুর হুমকি নিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। চীন, ইতালি, ইরান, স্পেনসহ কিছুকিছু দেশ ও অঞ্চলে এর প্রকোপে মৃত আর আক্রান্তের মাত্রা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আগামীতে বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে করোনা ভাইরাস মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে বলে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ঠিক এ সময়েই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় জরুরিভিত্তিতে ৬৫০ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা) ঋণ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। এডিবির সদস্যভুক্ত ৬৮টি দেশ এই সহজ শর্তের ঋণ ব্যবহার করতে পারবে। কনসেশনাল এ ঋণে সুদের হার হবে ২ শতাংশ। এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় এই ঋণ ব্যবহার করা হবে বলে জানায় এডিবি। বাংলাদেশ চাহিদার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হবে। এডিবির ঢাকা অফিস জানায়, বুধবার এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) তাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর জন্য করোনা ইস্যুতে জরুরিভিত্তিতে চাহিদা পূরণের জন্য সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। করোন ভাইরাস বিশ্বব্যাপী বিশাল সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। এজন্য জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্তরে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

এডিবির সভাপতি মাসাতাসুগু আসাকাওয়া বলেন, আমরা আমাদের উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এক হয়ে করোনা মোকাবিলায় নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। এই অঞ্চলজুড়ে দরিদ্র, দুর্বল ও ঘন বসতিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার জন্যই এই পদক্ষেপ। এডিবিভুক্ত সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই জরুরিভিত্তিতে সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ ঘোষণা করেছি। আসাওয়াকা জোর দিয়ে আরও বলেন, শুধু সাড়ে ৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ ঘোষণা করেই এডিবি থেমে থাকবে না। করোনা মোকাবিলায় প্রয়োজনে আরও আর্থিক সহায়তা এবং নীতিগত পরামর্শ দেওয়ার জন্য প্রস্তুত এডিবি।

করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর: সিপিডি
                                  

 বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল শনিবার করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং করণীয় শীর্ষক ভার্চুয়াল মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এমন অভিমত ব্যক্ত করা হয়। ব্রিফিংয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, এরকম একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় সব সরকারেরই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এর জন্য যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা সেটার ওপর একটি বিরাট নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সঙ্গে স্বাস্থ্য তো রয়েছেই।

সবার আগে স্বাস্থ্য, তারপর অর্থনীতি। তিনি বলেন, আমাদের সম্পদ, রাজস্ব ও মুদ্রানীতির ওপর স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি নানা প্রতিঘাত-অভিঘাত থাকবে। এর জন্য আমাদের যা দরকার তা হচ্ছে- সম্পদের পুনর্বণ্টন করা, রাজস্ব বাড়ানো এবং মুদ্রানীতিতে পরিবর্তন আনা পদক্ষেপ নিতে হবে। ফাহমিদা খাতুন বলেন, যেহেতু আমদানি, রপ্তানি, রেমিটেন্স, বৈদেশিক বিনিয়োগ, বৈদেশিক সাহায্য ইত্যাদির মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, সুতরাং একটা বৈশ্বিক পর্যায় থেকে অর্থনীতির ওপর একটা অভিঘাত আসবে। আরেকটা হবে দেশের ভেতরে। বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ার কারণে একটা প্রতিঘাত আসবে। এ ছাড়া বিশ্ববাণিজ্যে যে শ্লথগতি, তার কারণেও একটা প্রতিঘাত আসবে, যার ফলে দেশগুলো কম্পিটিটিভনেস হারাবে। আর যেহেতু বিশ্বের চাহিদাও কমে যাবে, তাই বাণিজ্য সংকুচিত হয়ে আসবে। এর পাশাপাশি সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও একটা শ্লথগতি লক্ষ্য করা যাবে এবং ইতোমধ্যে তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগেও এক ধরনের স্থবিরতা দেখা দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগকারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তারা সামনের দিনে বিনিয়োগ করবেন কি করবেন না সেটা একটা বিষয়। আর এখন তো অর্থপ্রবাহের ওপরও একটা চাপ পড়বে। এর পাশাপাশি সরকারি ব্যয়ের ওপরও একটা চাপ পড়বে, কেননা সরকারকে স্বাস্থ্য খাতে ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় করতে হবে, অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। সে কারণে সরকারের যে নিয়মিত ব্যয়গুলো রয়েছে সেটার ওপর এক ধরনের চাপ পড়তে পারে।

এ ছাড়া সরকারের রাজস্ব আয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক খাতের ওপর বিরাট চাপ পড়তে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বড় বড় খাতে অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে ছোট ছোট খাতে, বিশেষ করে যারা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাদের প্রণোদনা দিতে অর্থ বরাদ্দ করা প্রয়োজন- একথা উল্লেখ করে ফাহমিদা খাতুন বলেন, রাজস্ব আহরণের বর্তমান যে হার তাতে চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এক লাখ কোটি টাকা রাজস্ব কম আহরণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি এখনকার জন্য না হলেও স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি একটি বিষয়। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সংকটের সময় যখন চাহিদা দ্রুত কমে যায়, কর্মসংস্থান হারানোর প্রবণতা বাড়ে ও মানুষের আয় কমে যায়, তখন বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতিতে তারল্য বাড়ানো। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কীভাবে তারল্য বাড়ানো যায় তার একটা ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে একটি উপায় হতে পারে ট্রেজারি বন্ড বা বিল কেনার মাধ্যমে, আরেকটা হতে পারে সুদের হার কমিয়ে।

পণ্যের দাম বেশি রাখায় যাত্রাবাড়ী আড়তে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
                                  

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী আড়তে দ্রব্যমূল্য বেশি রাখায় ৩১টি আড়ত এবং একটি হিমাগারকে ৫০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। গতকাল শনিবার র‌্যাব-১০-এর সহযোগিতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, তিনদিন আগেও প্রতি কেজি পেয়াঁজ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ২৮-৩১ টাকা। সেটা কোনো কারণ ছাড়াই গতকাল (গত শুক্রবার) বিক্রি করেছে ৬৫-৭০ টাকা। আর খুচরা বাজারে ৮০-৮৫ টাকা। ১২-১৪ টাকা কেজি দরে পাইকারি বিক্রি হতো আলু, সেটা করে ফেলল ২৫-৩০ টাকা। আজ (গতকাল শনিবার) সকালে যখন যাত্রাবাড়ী আড়তে ক্রেতা সেজে ইউনির্ফম ছাড়া ফোর্স নিয়ে প্রবেশ করলাম তখনও দেখলাম গতকালের (শুক্রবারের) চিত্র। কিন্তু যখনই বুঝল মোবাইল কোর্ট আসছে তখনই পেয়াঁজ হল ৩৫-৪০ টাকা আর আলু হল ১৪-১৬ টাকা কেজি। অতিরিক্ত মূল্যে পেঁয়াজ ও আলু বিক্রয় করায় যাত্রাবাড়ীর ৩১টি আড়তকে এবং আমদানিকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ মাছ মজুদ করায় একটি হিমাগারকে মোট ৫০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এর আগে গতকাল শনিবার সকাল ৬টায় যাত্রাবাড়ীর পেঁয়াজের আড়তে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। তখন গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, করোনার কারণে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকের মধ্যেই এক দিনে কয়েকমাসের বাজার করার প্রবণতা দেখা গেছে। এই সুযোগে আমাদের কিছু ব্যবসায়ী পণ্যের দাম ৩-৪ গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সারোয়ার আলম বলেন, এটা পেঁয়াজের সিজন। দেশে প্রচুর মজুত রয়েছে। ব্যবসায়ী, আড়তদার ও ফড়িয়ারা মিলে এই কাজগুলো করেছেন। ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যারা এই করোনা ভাইরাস বা মানুষের অতিরিক্ত কেনাকাটার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি করবে তাদের প্রত্যেককে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এছাড়াও জনগণ ও ক্রেতাদের অনুরোধ করব আপনারা একইসঙ্গে ২-৩ মাসের বাজার করবেন না। আপনারা সর্বোচ্চ ৭ দিনের বাজার করতে পারেন। সবাই এভাবে কেনাকাটা করতে গেলে দাম বাড়িয়ে ফেলবে তারা। ক্রেতাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমরা পাইকারি ও খুচরা বাজারে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। কে কত টাকা নিচ্ছে তা নজরদারি করছি। সব ক্রেতাদের অনুরোধ করছি, আপনারা ভাউচার ছাড়া কেউ পণ্য ক্রয় করবেন না। আমরা দেখতে চাই, কে কোন পর্যায়ে কত টাকা বাড়িয়েছেন।

শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা হারালেন সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা
                                  

 করোনাভাইরাসের আতঙ্কে টানা বড় পতনের মধ্যে পড়ে গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দাম কমায় তারা এ অর্থ হারিয়েছেন। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া চার কার্যদিবসের মধ্যে তিন কার্যদিবসেই শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। পতনের হাত থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীদের একপক্ষ শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার দাবি তুলেন।

পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিলে শেয়ারবাজার টেনে তুলতে সার্কিট ব্রেকারের নিয়মে পরিবর্তন আনে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস গত বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এক লাফে বাড়ে ১০ শতাংশের ওপরে। এরপরও পতনের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়নি। সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবস টানা বড় পতনের মধ্যে পড়ায় সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে। ফলে এক সপ্তাহেই শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কমে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। গত সপ্তাহের আগের তিন সপ্তাহেও শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়। এতে আগের তিন সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কমে ৩৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এ নিয়ে টানা চার সপ্তাহের পতনে বিনিয়োগকারীরা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা হারিয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করা অর্থের পরিমাণ কমার পাশাপাশি গত সপ্তাহজুড়ে কমে সবকটি মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক কমেছে প্রায় ৪ শতাংশ। আর লেনদেন কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া মাত্র ৪৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩০৪টির।

৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ৭৩৩ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। এদিকে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৫৫ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ২৫৪ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৮১ শতাংশ। বাকি দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক কমেছে ৩৮ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৫৮ দশমিক ১৫ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। আর ডিএসই-৩০ আগের সপ্তাহের তুলনায় কমেছে ৫৫ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে এ সূচকটি কমে ৮০ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। সবকটি সূচকের এমন পতনের মধ্যে ডিএসইতে লেনদেনের গতিও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয় ৩১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় ৪১৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ১০৩ কোটি ৮ লাখ টাকা বা ২৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয় ১ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় ২ হাজার ৮৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে ৮৩০ কোটি ৬ লাখ টাকা বা ৩৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ। গত সপ্তাহের মোট লেনদেনের মধ্যে ‘এ’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান দাঁড়িয়েছে ৮৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া ডিএসইর মোট লেনদেনে ‘বি’ গ্রুপের অবদান ১৪ শতাংশ। ‘জেড’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের অবদান ১ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ‘এন’ গ্রুপের অবদান দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫৩ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা সপ্তাহজুড়ে হওয়া মোট লেনদেনের ৪ দশমিক ২২শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুন্নু সিরামিকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৩১ লাখ টাকার, যা সপ্তাহের মোট লেনদেনের ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ৩৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্রামীণফোন। লেনদেনে এরপর রয়েছে- ওরিয়ন ফার্মা, লাফার্জাহোলসিম বাংলাদেশ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, ব্র্যাক ব্যাংক, ওরিয়ন ইনফিউশন, বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি এবং সী পার্ল বিচ রিসোর্ট।

চালের দাম বাড়ানোয় জরিমানা হয়েছে ৫ ব্যবসায়ীর
                                  

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে চট্টগ্রামের লোহাগড়ার বাজারগুলোতে বাড়তি দামে চাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেল ছয়টা থেকে অভিযান শুরু করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত আমিরাদ-বটতলী বাজার ও পদুয়া তেওয়ারী হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি চালের বাজারে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত অভিযান চালায়। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ( ভূমি) পদ্মাসন সিংহ। পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে চালের দাম বাড়ানোর কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পাঁচ ব্যবসায়ীকে ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

জানা গেছে, উপজেলা সদরের বটতলীর কাঁচাবাজার মিজান স্টোরকে ২০ হাজার টাকা, মদিনা স্টোরকে ৫ হাজার টাকা, ইসলাম ট্রেডিংকে ১০ হাজার টাকা, আর এস স্টোরকে ৩০ হাজার টাকা এবং পদুয়া তেওয়ারী হাটের নীলমণি রাইস এজেন্সিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌছিফ আহমেদ সাংবাদিকদেরকে জানান, করোনা ভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে কেউ যেন চালের দাম বাড়াতে না পারে তার জন্য এ অভিযান। উপজেলায় চালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়াতে না পারে তার জন্য উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলবে।

করোনার বিষয়ে কর্মীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা
                                  

 বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা মহামারির সংক্রামক থেকে বাঁচতে কর্মীদের সতর্ক করেছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক। জ¦র, ঠান্ডা, হাঁচি, কাশি রয়েছে এমন ব্যক্তি ও বহিরাগতদের সংস্পর্শে না আসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে বিশেষ সভায় এ নির্দেশনা দেয়া হয়।

গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে সভায় ডেপুটি গভর্নর, নির্বাহী পরিচালক এবং মহাব্যবস্থাপকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা এবং সচেতনতা বিষয়ক একটি ভিডিও উপস্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসে দেশেও অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। একজন মারাও গেছেন। মহামারি প্রাণনাশক এ সংক্রামক থেকে বাচঁতে কর্মীদের বেশকিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা হাঁচি-কাশি, জ¦র, সর্দির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি এসব লক্ষণ যাদের দেখা যাবে তাদের সংস্পর্শে না আসতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাহিরের অনেক লোক বিভিন্ন কাজে বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেন। তাদের মাধ্যমে যেন এ ভাইরাস না ছড়ায় সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল প্রবেশ গেটে হ্যান্ড স্যানেটাইজার ব্যবহারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুরোনো ব্যাংক নোটের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নতুন-পুরোনো দুই ধরনের নোটেই এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। এখনই বাজার থেকে পুরোনো নোট তুলে নেয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নভেল করোনাভাইরাস চীনের উহানে প্রথমে শনাক্ত হয়, যা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে। এতে প্রতিনিয়ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। সর্বশেষ করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

করোনায় বাড়ছে চালের দাম
                                  

বাজারে মোটা ও চিকন চালের দাম বাড়তির দিকে। মান ও প্রকারভেদে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সুগন্ধি চালের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দাম বাড়ছে অন্যান্য পণ্যেরও। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কায় অনেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেশি করে কিনে রাখছেন। আর এ সুযোগে বিক্রেতারাও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

কারওয়ানবাজারে এক সপ্তাহ আগে জিরাশাইল সেদ্ধ চাল বিক্রি হয়েছিল বস্তাপ্রতি ২ হাজার ১০০ টাকায়। এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এ ছাড়া মিনিকেট বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৭৫০, স্বর্ণা ১৩০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৪৮০, মোটা ২৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২৫০, গুটি ১০০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৩৫০, বাসমতী ২০০ টাকা বেড়ে বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের এ অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে সরবারহ কম বলে জানিয়েছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মিজান মাহমুদ বলেন, ‘মিলগেট থেকে চালের সরবারহ কমে গেছে। এ ছাড়া গত একসপ্তাহ ধরে অন্যান্য দিনের চেয়ে বিক্রিও বেড়ে গেছে অনেক বেশি। তাই এখন দ্রুত সময়ে বাড়তি দামে এবং পরিবহন খরচ বেশি দিয়ে চাল আনতে হচ্ছে।’

কেনাকাটায় প্রতারিত হলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ
                                  

ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিতে ‘ভোক্তা বাতায়ন’ নামে একটি হটলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। কোনো ভোক্তা পণ্য ক্রয় করে প্রতারিত হলে সঙ্গে সঙ্গে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ করতে পারবেন। সপ্তাহের সাতদিন ২৪ ঘণ্টা এ সেবা পাওয়া যাবে। গতকাল রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস-২০২০’ উপলক্ষে এই হটলাইন সেবার উদ্বোধন করেন বাণিজমন্ত্রী টিপু মুনশি। মুজিববর্ষের অঙ্গীকার-সুরক্ষিত ভোক্তা-অধিকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বভোক্তা অধিকার দিবস পালিত হচ্ছে। হটলাইন উদ্বোধন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির মূলচালিকা শক্তি হলো ব্যবসা। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক নানা সূচকে দৃশ্যমান উন্নতির ফলে এখন বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম উদীয়মান শক্তি বাংলাদেশ। আমাদের পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, বিপণন ও বিক্রয় কার্যক্রমের মান উন্নত হয়েছে। সে ধারাবাহিকতায় ভোক্তার চাহিদার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাজার ব্যবস্থা হতে হবে ভোক্তা বান্ধব ও নিরাপদ।’ টিপু মুনশি বলেন, ‘বাজার মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার সহাবস্থান, ব্যবসা মানেই ক্রেতা-বিক্রেতার মিথষ্ক্রিয়া। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছা, চেষ্টা, আইনানুগ ব্যবসা পরিচালনাই গড়ে তুলতে পারে একটি সুস্থ ও সহযোগিতামূলক উৎপাদক-ব্যবসায়ী-ভোক্তা সম্পর্ক। এ বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই যাতে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় সেজন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’ এ সময় ভোক্তাকে তাদের অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি সজাগ থেকে পণ্য ও সেবা ক্রয়ের পরামর্শ দেন তিনি। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর যাতে ভোক্তা বান্ধবের পাশাপাশি ব্যবসায়ী বান্ধব হয়ে গড়ে ওঠে সেজন্য সংস্থাটির কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেন টিপু মুনশি। সেইসঙ্গে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। এবারের বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়ন ও দিক নির্দেশনায় আড়ম্বরপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রভাব ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠান সূচিতে কিছুটা পরিবর্তন নিয়ে আনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে ভোক্তাদের জন্য জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপহার হচ্ছে ভোক্তা বাতায়ন শীর্ষক হটলাইন চালু।

এই সেবা চালুর ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ভোক্তারাও ঘরে বসেই তাদের অভিযোগ দায়েরসহ মুহূর্তের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ের তথ্য পাবেন। বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি গোলাম রহমান, ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান তপন কান্তি ঘোষসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

সড়কের জন্য এডিবির সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি
                                  

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোর হিসেবে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের উন্নয়নে বাংলাদেশকে ৪০ কোটি ডলার (প্রায় ৩ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা) ঋণ সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

এবিষয়ে গতকাল রোববার বিকেলে আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকার ও এডিবির মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও এডিবির পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন পারকাশ চুক্তিতে সই করেন। এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেইনে উন্নীতকরণে দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্যিক সহযোগিতা (সাসেক) সড়ক সংযোগ দ্বিতীয় পর্যায় নামে ১১ হাজার ৮৯৯ কোটি ১ লাখ ২১ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প ২০১৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর সড়ক জাতীয় মহাসড়কের অংশ।

এটি চার লেইনে উন্নীত হলে উত্তরঞ্চলের জেলাগুলোতে যানবাহন চলাচল বাড়বে। এ ছাড়া বাংলাবান্ধা দিয়ে ভারত ও নেপাল ও বুড়িমারি দিয়ে ভারত ও ভুটানের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। এই প্রকল্পে এডিবির ৯ হাজার ৩৫৪ কোটি ৯৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ার কথা। সেই ঋণের দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে ৪০ কোটি ডলারের ঋণ চুক্তি হলো।

 

দারাজের অফিসে র‌্যাবের অভিযান
                                  

রাজধানীর বনানীতে দারাজ ডটকম ডটবিডির অফিসে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব। তাদের ওয়েবসাইটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রির প্রমাণ রয়েছে র‌্যাবের কাছে। গতকাল রোববার বিকেলে অভিযানটি শুরু হয়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। অভিযানের বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, করোনা মোকাবিলায় সরকার নানা ধরনর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে সবার জন্য মাস্কের মূল্য নির্ধারণ। তবে দারাজের ওয়েবসাইটে সরকার নির্ধারিত দাম থেকে অতিরিক্ত দামে মাস্ক বিক্রির বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। তাই এই অভিযান চলছে। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হবে। সর্বশেষ খবরে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টায় বনানী থেকে দারাজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে তেজগাঁও এলাকায় দারাজের ওয়্যার হাউজে এসেছেন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম। এখানে অভিযান চালানো হচ্ছে।

করোনা সংক্রমণ রোধে ফেস মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ওষুধ উৎপাদনকারী ও মেডিকেল ডিভাইস উৎপাদনকারী এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে থ্রি লেয়ার সার্জিক্যাল ফেস মাস্কের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি পিস ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত মূল্যের চাইতে বেশি দামে কেউ বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুশিয়ারি দেয়া হয়।

এছাড়াও মাস্ক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক একই ডিস্ট্রিবিউটরকে একটি ইনভয়েসে ৫০০ পিসের বেশি মাস্ক সরবরাহ না করা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে এ পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ৫০ এমএল প্যাক সাইজে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়। একের পর এক জনবান্ধব অভিযানে নিজেকে সবার কাছে তুলে ধরেছেন সারোয়ার আলম। সর্বশেষ করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে তিনজন আক্রান্ত হওয়ার পর ঢাকার দোকান ও ফার্মেসিতে স্টক শেষ হয়ে যায় মাস্ক এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের। বিক্রি হচ্ছিল ৪-৫ গুণ বেশি দামে। জনগণের প্রতি এ অন্যায় বন্ধে মঙ্গলবার মিটফোর্ডে অভিযান চালান সারোয়ার আলম। পরদিন বুধবার মধ্যরাতেও অভিযান চালান তিনি। আটক করেন পাঁচ কোটি টাকার নিম্নমানের মাস্ক, মেয়াদউত্তীর্ণ ওষুধ। বে আলোচিত অভিযানের পাশাপাশি একবার হাইকোর্টের তলবের কারণে আলোচনায় আসেন এ ম্যাজিস্ট্রেট। সম্প্রতি তার ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা কেড়ে নিতে দায়ের করা রিটে আবারও আলোচিত হন তিনি। ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক ব্যক্তিকে দেয়া দণ্ডাদেশের চারমাস পার হলেও আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে করা এক রিটে ১ ডিসেম্বর তাকে হাইকোর্টে তলব করা হয়। সেখান থেকে নিস্তার পাওয়ার পর গত বুধবার ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনে তার (মোট তিনজন) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ক্ষমতা (ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা) বাতিলের নির্দেশনার আর্জি জানিয়ে একটি সম্পূরক রিট আবেদন করা হয় হাইকোর্টে।

রটের পরেই সরব হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। সারোয়ার আলমের বিরুদ্ধে এমন রিটকে অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্রান্ত বলে উল্লেখ করছেন তারা। তবে এসবের মধ্যেও দমে যাননি সারোয়ার আলম। একের পর এক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। বুধবার মিটফোর্ডে রাতভর অভিযানের পর বৃহস্পতিবার সকালে সঙ্গে কথা হয় তার। সারোয়ার আলম বলেন, ‘যাই হোক, আমি আমার কাজ, আমার অভিযান বন্ধ রাখবো না। আমি যা করি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানুষের জন্যই করি। রাষ্ট্রের কল্যাণে আমি এই কাজ করেই যাবো।’


   Page 1 of 108
     অর্থ-বাণিজ্য
করোনা মোকাবেলায় হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই : টিআইবি
.............................................................................................
বিকেএমইএর সব পোশাক কারখানা ৪ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ
.............................................................................................
দেশে তৈরি পিপিই সরবরাহ শুরু হতে আরো এক সপ্তাহ
.............................................................................................
এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা নেই গ্রাহক হয়রানি চরমে
.............................................................................................
বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আইএমএফকে করোনা পরিস্থিতে সহযোগীতার অনুরোধ অর্থমন্ত্রীর
.............................................................................................
কাঙ্খিত দর না পেয়ে পেঁয়াজ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন চাষীরা
.............................................................................................
করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে এডিবি
.............................................................................................
করোনার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর: সিপিডি
.............................................................................................
পণ্যের দাম বেশি রাখায় যাত্রাবাড়ী আড়তে ৫০ লাখ টাকা জরিমানা
.............................................................................................
শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা হারালেন সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা
.............................................................................................
চালের দাম বাড়ানোয় জরিমানা হয়েছে ৫ ব্যবসায়ীর
.............................................................................................
করোনার বিষয়ে কর্মীদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সতর্কতা
.............................................................................................
করোনায় বাড়ছে চালের দাম
.............................................................................................
কেনাকাটায় প্রতারিত হলে ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ
.............................................................................................
সড়কের জন্য এডিবির সঙ্গে ৪০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি
.............................................................................................
দারাজের অফিসে র‌্যাবের অভিযান
.............................................................................................
অস্থায়ী কেমিক্যাল গোডাউন ঝুঁকিমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব হবে: শিল্পমন্ত্রী
.............................................................................................
হিলি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে কাল থেকে
.............................................................................................
সঠিন নিয়মের বাইরে ঋণ বিতরণ করে ঝুঁকিতে ১২ ব্যাংক
.............................................................................................
বাণিজ্যে করোনাভাইরাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব: টিপু মুনশি
.............................................................................................
পাতাল রেল নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাসহ ৪ ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন
.............................................................................................
ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমেছে: পরিকল্পনামন্ত্রী
.............................................................................................
জিএসপি নিয়ে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
রমজানে ভোগ্যপণ্য আমদানি ঋণের সুদ সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ
.............................................................................................
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় নিম্নমধ্যবিত্তদের ব্যয় বাড়বে ১০০০ টাকা
.............................................................................................
প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম কমলো ৩০ ‍টাকার মতো
.............................................................................................
এবার সঞ্চয়পত্র কেনার সীমা কমানো হচ্ছে
.............................................................................................
এবার সঞ্চয়পত্র কেনার সীমা কমানো হচ্ছে
.............................................................................................
‘এদেশের আইন মেনে বিদেশি কোম্পানিকে ব্যবসা করতে হবে’
.............................................................................................
মুজিববর্ষে বাজারে আসছে ২শ’ টাকার নোট
.............................................................................................
কচুরিপানা খাওয়া যায় কিনা পরীক্ষা চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
করলা, বরবটি, পটলের কেজি ২০০ টাকা!
.............................................................................................
জাপানের সঙ্গে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের সুদহার পুনর্বিবেচনার আশ্বাস অর্থমন্ত্রীর
.............................................................................................
বাংলাদেশ প্রকৌশল গবেষণা কাউন্সিল বিল, ২০২০ এর রিপোর্ট চূড়ান্ত
.............................................................................................
সাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ
.............................................................................................
পানির দাম ৮০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব অযৌক্তিক: টিআইবি
.............................................................................................
৭৮ প্রতিষ্ঠানের ৩৮৯ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি
.............................................................................................
‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম-দুর্নীতি দেখে আদালত চোখ বন্ধ করে থাকতে পারে না’
.............................................................................................
পদ্মাসেতু হলে দক্ষিণাঞ্চলে কর্মসংস্থান বাড়বে: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
কমছে পর্যটক, আয় কমছে বিমান সংস্থার
.............................................................................................
সর্বোচ্চ ভ্যাটদাতার সম্মাননা পাচ্ছে ১০টি প্রতিষ্ঠান
.............................................................................................
চাকরির একযুগেই বিপুল সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম রেলের এজিএম জোবেদা
.............................................................................................
শিগগিরই পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকায় নামবে, আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর
.............................................................................................
ফের দরপতনের ধারায় পুঁজিবাজার
.............................................................................................
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম রফতানি আয়
.............................................................................................
কোম্পানি আইন-২০২০ সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে আসছে সরকারি ৭ প্রতিষ্ঠান: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
ভদ্রার ভাঙ্গণরোধে সরকারের ব্যয় সোয়া কোটি টাকা
.............................................................................................
নওগাঁর আত্রাইয়ের পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ শুটকি মাছ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
স্বাধীন বাংলা ডট কম
মো. খয়রুল ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত ।

প্রধান উপদেষ্টা: ফিরোজ আহমেদ (সাবেক সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়)
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: ডাঃ মো: হারুনুর রশীদ
ব্যবস্থাপনা সম্পাদক : মো: খায়রুজ্জামান
বার্তা সম্পাদক: মো: শরিফুল ইসলাম রানা
সহ: সম্পাদক: জুবায়ের আহমদ
বিশেষ প্রতিনিধি : মো: আকরাম খাঁন
যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি: জুবের আহমদ
যোগাযোগ করুন: swadhinbangla24@gmail.com
    2015 @ All Right Reserved By swadhinbangla.com

Developed BY : Dynamic Solution IT   Dynamic Scale BD